Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Badshah Mamun

Pages: [1] 2 3 ... 128
1
ইহুদীরা বিশ্ববাসীকে ১০ – ৩০ সেন্টিমিটারের এই ফুটবল ক্রিকেটের বল নিয়ে ব্যস্ত রেখে ১২৮০০ কিলোমিটার ব্যাসের বেশ বড় একটা ফুটবল নিয়ে খেলছে

We are busy with a lot of unnecessary work, posting on social networks, protesting etc but they are always busy with their creativity and Innovation. We are busy with play, game, fun, cultural events, criticize etc but they are busy to keep us engagement to all unnecessary work and they treated the whole world as their playing ground where they play as a TEAM with clear Focus, right Target and ensure Goal but we are seating in Gallery as a spectator and shouting with our various believes. Allah SWT says it repeatedly that we should find the right track and work to overcome. Allah SWT says repeatedly also regarding time and to give values on each & every time to perform our target but we never follow it but blame only we have not this and that etc. We read the Qur'an but we don't understand and follow it. In the Quran Allah SWT repeatedly instructed us to do Research and enjoy the beauty of Allah's (SWT) creation but we never follow it but they i.e Jewish are focused on Research and even a lot of their scientists did their higher study to know the Qur'an. Allah SWT told us why not think how Allah SWT created us from dirty water and give us full shape and think how Allah grows all sorts of trees, fruits, vegetables etc from the same soil and using the same water. Jewish educated their kids, i.e. generation in the right track and our education is moving in the wrong track. Jewish educated their kids to be Innovator, Researcher but our education to be a clerk i.e searching a job. See some facts (collected from Internet)-

ইহুদীরা মার্কিন জনসংখ্যার মাত্র ২%, আর পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.২%।অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৫০০ জনে একজন ইহুদী!কিন্তু জনসংখ্যার দিক দিয়ে ঢাকা শহরের কাছাকাছি হলেও বিশ্বে ইহুদি সম্প্রদায় থেকে যুগে যুগে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য প্রতিভাবান ব্যক্তি।প্রধান ধর্মগুলোর পর পৃথিবীতে যে মতবাদটি সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলেছে সেই কমিউনিজমের স্বপ্নদ্রষ্টা কার্ল মার্কস ইহুদি সম্প্রদায় থেকে এসেছেন।বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধ করে রাখা যাদু শিল্পি হুডিনি ও বর্তমানে ডেভিড কপারফিল্ড এসেছেন একই কমিউনিটি থেকে।এসেছেন আলবার্ট আইনস্টাইনের মত বিজ্ঞানী, যাকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয় আর প্রফেসর নোয়াম চমস্কি – র মত শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক যাকে প্রদত্ত ডক্টরেটের সংখ্যা আশিটির ও বেশি।

এর অন্যতম কারণ সাধারণ আমেরিকান রা যেখানে হাইস্কুল পাশকেই যথেষ্ট মনে করে সেখানে আমেরিকান ইহুদীদের ৮৫% বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। আমেরিকান নোবেল বিজয়ীদের মোটামুটি ৪০% ইহুদী অর্থাৎ নোবেল বিজয়ী প্রতি চার থেকে পাঁচ জনের একজন ইহুদী।

আমেরিকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসররা ইহুদী।হতে পারে ইহুদীরা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ, কিন্তু আমেরিকান রাজনীতিতে তাদের প্রভাব একচেটিয়া। আমেরিকার ১০০ জন সিনেটরের ১৩ জন ইহুদী।এর চেয়ে ভয়ংকর তথ্য হল ইহুদীদের সমর্থন ব্যতীত কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হতে পারেনা, কোন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেনা।আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী ফাণ্ড বা তহবিল সংগ্রহ একটা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। বারাক ওবামা বা ক্লিনটন নিজের টাকায় প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না। ডোনেশান এবং পার্টির টাকায় তাদের নির্বাচনী ব্যয় মিটাতে হয়েছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী ফাণ্ড দাতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে – AIPAC – America Israel Public Affairs Committee. ::

আমেরিকার এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকগুলো ইহুদীদের দখলে। ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারবে না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদাকে হাতে না-রাখলে ক্ষমতায় টেকা যাবে না। এসব কারণে শুধু জুইশ কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টে প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যেতে হয়।

আমেরিকার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে মূলতঃ কর্পোরেট হাউজগুলো। তারা প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বানাতে পারে, এবং প্রেসিডেন্টকে সরাতে পারে। এসব কর্পোরেট হাউজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় এদের মালিক কিংবা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পানিগুলোর মূল দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা চীফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার, সিইও হলেন ইহুদী কমিউনিটির মানুষ।

এই কথা মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে যেমন সত্য তেমনি জাপানিজ কোম্পানি সনির আমেরিকান অফিসের জন্যও সত্য। প্রায় অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে জুইশ আমেরিকানরা কাজ করছেন। জুইশ কমিউনিটির ক্ষমতাধর বিলিয়নেয়াররা মিলিতভাবে যে-কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারেন।

মিডিয়া জগতে যদি আপনি তাকান তাহলে দেখবেন;
CNN, AOL, HBO, Cartoon Network, New line cinema, Warner Bross, Sports illustrated, People - Gerald Levin – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।
ABC, Disney Channel, ESPN, Touchstone pictures - Michael Eisner – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।
Fox Network, National Geographic, 20th century Fox Rupert Murdoch – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।
 Top 4 famous Newspapers of USA & their editors
New York Times – Arthur Sulzberger
New York Post – Rupert Murdoch
Washington Post – K.M. Graham
Wall street journal – Robert Thomson

সব কয়টি খবরের কাগজ ই ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।
 আমেরিকার প্রভাবশালী অধিকাংশ টিভি-ই ইহুদিরা নিয়ন্ত্রণ করছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।

যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর বেস্ট ১০০ জন ফুটবলারের কতজন ইহুদী? কিংবা পৃথিবীর বেস্ট ১০০ জন ক্রিকেটারের কতজন ইহুদী?
উত্তর হচ্ছে – একজন ও না।
কেন??????

বছরের কিছু সময় টি টুয়েন্টি আর ফ্ল্যাশ মব, কিছু সময় আইপিএল আর চিয়ার্স লিডার, কিছু সময় ফিফা বিশ্বকাপ বা আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ, বাকি সময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ আর স্প্যানিশ প্রিমিয়ার লীগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ নিয়ে ব্যস্ত থাকা আমাদের মনের মধ্যে কী কখনো এই প্রশ্ন আসেনা? ক্যামনে আসবে ভাই, পয়লা বৈশাখ, পয়লা ফাল্গুন, চৈত্র সংক্রান্তি, থার্টি ফার্স্ট আছেনা? এত এত কাজের ভিড়ে এই ধরণের হাইপোথিটিকাল চিন্তা মাথায় আসবে ক্যামনে?
একটা ফুটবলের ব্যাস হয়ত ২০ – ৩০ সে.মি. বা একটা ক্রিকেট বলের ব্যাস আর ও কম হয়ত ১০ – ১২ সে.মি. ইহুদীরা বিশ্ববাসীকে ১০ – ৩০ সেন্টিমিটারের এই ফুটবল ক্রিকেটের বল নিয়ে ব্যস্ত রেখে ১২৮০০ কিলোমিটার ব্যাসের বেশ বড় একটা ফুটবল নিয়ে খেলছে – আর এই বড় ফুটবলটাই হচ্ছে  পৃথিবী।


- সবুর খান
https://www.facebook.com/sabur.khan

2
সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

সূরা আল ফাতেহা পবিত্র আল কোরআনের প্রথম সূরা। আয়াত সাতটি। মক্কায় অবতীর্ণ। ‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ শুরু, আরম্ভ, উদ্বোধন, উদঘাটন প্রভৃতি।

কুরআনুল কারিমের ১১৪টি সূরার মধ্যে প্রথম সূরাটি হলো সূরাতুল ফাতিহা। আর এ জন্য সূরা ফাতিহাকে ‘ফাতিহাতুল কুরআন’ বা কুরআনের শুরু বলে অভিহিত করা হয়।

এ সূরার আরেকটি নাম “আলহামদু শরীফ”। সূরায়ে ফাতেহার আরেকটি নাম হচ্ছে “উম্মুল কোরআন” বা কোরআনের জননী (মা)। পুরো কোরআন শরীফের সারবস্তু সূরায়ে ফাতিহায় নিহীত বা পুরো কোরআন শরীফ হলো সূরায়ে ফাতিহার ব্যাখ্যা। তাই এ সূরাকে কোরআনের মা বলা হয়েছে। 

এ সূরার আরেকটি নাম হলো “সাবউ মছানী”। অর্থাৎ এ সূরাটিতে রয়েছে অনুপম সাতটি বাণী বা আয়াত। মাছানি বলা হয় এ কারণে যে, সূরাটি একবার মক্কায় ও একবার মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। অধিকতর বিশুদ্ধমতে, মক্কা শরীফেই এ সূরাটি অবতীর্ণ হয়।

আল্লামা ইবনে জরীর (রাঃ) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, হযরত রাসূলে কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, সূরা ফাতিহা অর্থাৎ আলহামদু শরীফ হচ্ছে, উম্মুল কোরান, ফাতিহাতুল কিতাব, সাবউমাছানি। 

এ সূরার আরেকটি নাম হচ্ছে “সূরায়ে কাঞ্জ” (ভান্ডার)। হযরত আলী (রাঃ) হতে ইসহাক ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, এ সূরাটি আরশের নিম্নস্থিত ভান্ডার থেকে অবতীর্ণ হয়েছে।

আসুন জেনে নিই এই সূরার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ-

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

অনুবাদ : শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ -লামি-ন।

অনুবাদ : যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : আররহমা-নির রাহি-ম।

অনুবাদ : যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।

مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ

উচ্চারণ : মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন।

অনুবাদ : বিচার দিনের একমাত্র অধিপতি।

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

উচ্চারণ : ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কা নাসতাই’-ন

অনুবাদ : আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

উচ্চারণ : ইহদিনাস সিরাতা’ল মুসতাকি’-ম

অনুবাদ : আমাদের সরল পথ দেখাও।

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

উচ্চারণ : সিরাতা’ল্লা যি-না আনআ’মতা আ’লাইহিম গা’ইরিল মাগ’দু’বি আ’লাইহিম ওয়ালা দ্দ-ল্লি-ন।

অনুবাদ : সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।


Source: https://www.news24bd.tv/details/58642

3
নামাজে যা পড়ি তার বাংলা অর্থ

১ ) নামাজে দাড়িয়েই প্রথমে আমরা বলি,"আল্লাহু আকবার"
অর্থ – আল্লাহ্ মহান!

২ ) তারপর পড়ি সানা । সানায় আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি নিজের জন্য দুয়া করি।
"সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা
ওয়াতাবারাকাস্মুকা ওয়া তা’আলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা”
অর্থঃ হে আল্লাহ ! তুমি পাক-পবিত্র , তোমারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তোমার নাম বরকতময়, তোমার গৌরব অতি উচ্চ , তুমি ছাড়া অন্য কেহ উপাস্য নাই।

৩ ) তারপর আমরা শয়তানের প্রতারনা থেকে আশ্রয় চাই এবং বলি, "আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রাজিম"
অর্থ: বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

৪ ) আল্লাহর পবিত্র নাম দিয়ে আল্লাহর দয়া করুণার গুন দিয়ে নামাজ এগিয়ে নিয়ে যাই। এবং বলি, "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম"
অর্থঃ পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি।

৫ ) এরপর আমরা সূরা ফাতেহা দিয়ে নামাজ শুরু করি (২ রাকাত/৩ রাকাত/৪ রাকাত , ফরয/সুন্নতের নিয়ম অনুযায়ী নামাজ পড়ি )

৬ ) আমরা রুকুতে আল্লাহ্ -র উদ্দেশ্যে শরীর অর্ধেক ঝুঁকিয়ে দিয়ে মাথা নুয়িয়ে দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করি এবং ক্ষমা চাই, ৩/৫/৭ বার বলি, "সুবাহানা রাব্বি-আল আজিম"/ সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম ওয়া বিহামদিহি
অর্থ: আমার মহান রবের পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি ।

৭ ) তারপর রুকু থেকে উঠে আমরা বলি,
"সামি আল্লাহু লিমান হামিদা"
অর্থ : আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন, যে তার প্রশংসা করে ।
তারপর পরই আমরা আবার আল্লাহর প্রশংসা করে বলি, "আল্লাহুম্মা "রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ"
অর্থ : হে আল্লাহ! যাবতীয় প্রশংসা কেবল তোমারই।

৮ ) তারপর আমরা সমস্ত শরীর নুয়িয়ে দিয়ে মাথাকে মাটিতে লুটিয়ে দিয়ে আল্লাহর নিকট সিজদা দেই।
বি: দ্র: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করে, আল্লাহ তার জন্য একটি নেকী লেখেন ও তার একটি পাপ দূর করে দেন এবং তার মর্যাদার স্তর একটি বৃদ্ধি করে দেন।
"৩/৫/৭ বার "সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা"
অর্থ: আমার মহান রবের পবিত্রতা বর্ণনা করছি

৯ ) দুই সিজদার মাঝখানে আমরা বলি, "আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ার হামনী, ওয়াহদীনি, ওয়াজবুরনি, ওয়াআ'ফিনী, ওয়ার-ঝুকনী, ওয়ারফা'নী”
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমায় মাফ কর, আমাকে রহম কর, আমাকে হেদায়েত দান কর, আমাকে শান্তি দান কর এবং আমাকে রিজিক দাও ।

১০ ) এভাবে নামাজ শেষে , মধ্য (২ রাকাত , ৪ রাকাত ভিত্তিতে ) বৈঠক আর শেষ বৈঠকে তাশাহুদে, আল্লাহর প্রশংসা করি । রাসুল (সাঃ) এর প্রতি দুরুদ পেশ করে নিজেদের জন্য দুয়া করি । দুআ মাসুরা পড়ি ।

তাশাহুদ :
"আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্ সালাওয়াতু, ওয়াত্ তাইয়িবাতু। আস্সালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সালিহীন। আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আননা মুহাম্মাদান আদুহু ওয়া রাসুলুহু"
অর্থঃ “সকল তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য,সকল সালাত আল্লাহর জন্য এবং সকল ভাল কথা ও কর্মও আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপানার প্রতি শান্তি,আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপরে এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল"
দুরুদ :
"আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও
ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন
কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি
ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ,
অাল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন
কামা বারাক্তা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা
ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”
অর্থ:-হে আল্লাহ! আপনি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ও উনার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।
দুআ মাসুরা :
"আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি যুলমান কাছিরা, ওয়ালা ইয়াগ ফিরূজ যুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম"
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আমার উপর অত্যাধিক অন্যায় করেছি গুনাহ করেছি এবং তুমি ব্যতীত পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। ক্ষমা একমাত্র তোমার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আমার প্রতি রহম কর। নিশ্চই তুমি ক্ষমাশীল দয়ালু।

১১ ) ২ কাঁধে সালাম দিয়ে আমরা
নামাজ শেষ করি ।
আল্লাহ নামাজে আমরা কি পড়ি তার অর্থ বোঝার তৌফিক দান করুন। আমীন ❤

Collected.

4
Bridge / Re: পদ্মা সেতু-Padma Bridge
« on: June 27, 2022, 09:42:14 AM »
যা যা করা নিষেধ পদ্মা সেতুর ওপরে

রাত পোহালেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু। বহুকাল থেকে দেখে আসা স্বপ্ন রূপ নেবে বাস্তবে। সেতুর ওপর দিয়ে কয়েক মিনিটেই দেওয়া যাবে প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি।

এ নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছেন পদ্মাপাড়ের আশপাশ থেকে শুরু করে দক্ষিণের ২১ জেলার মানুষ।

তবে এ উচ্ছ্বাসের মধ্যেই সর্বোচ্চ খেয়াল পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব রক্ষার।

এ জন্য এটি ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা পালনে কড়াকড়ি আরোপ করবে সড়ক পরিবহণ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।


বৃহস্পতিবার এক গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জারি করা নির্শদেনায় বলা হয়— ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ২৬ জুন সকাল ৬টা থেকে সরকার নির্ধারিত টোল প্রদান সাপেক্ষে সেতু পারাপার হওয়া যাবে।

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব রক্ষার্থে যেসব নিয়ম মানতে হবে—

১. পদ্মা সেতুর ওপর অনুমোদিত গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার/ঘণ্টা।

২. পদ্মা সেতুর ওপর যে কোনো ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা/হাঁটা সম্পূর্ণ নিষেধ।

৩. বিশেষভাবে জানানো যাচ্ছে যে, তিন চাকা বিশিষ্ট যানবাহন (রিকশা, ভ্যান, সিএনজি, অটোরিকশা ইত্যাদি), পায়ে হেঁটে, সাইকেল বা নন-মটোরাইজড গাড়িযোগে সেতু পারাপার হওয়া যাবে না।

৪. গাড়ির বডির চেয়ে বেশি চওড়া এবং ৫.৭ মিটার উচ্চতার চেয়ে বেশি উচ্চতার মালামালসহ যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার করা যাবে না।

৫. সেতুর ওপরে কোনো ধরনের ময়লা ফেলা যাবে না।

পদ্মা সেতু একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা, বিধায় সেতু পারাপারে সর্বসাধারণকে উপরোক্ত নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সড়ক ও সেতুর ক্ষতি কমাতে নির্ধারিত ওজনসীমা মেনে চলারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দৈনিক ৭৫ হাজার যানবাহন পার হবে এ সেতু দিয়ে। এতে উপকারভোগী হবেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার তিন কোটি মানুষ।

Source: https://www.jugantor.com/padma-bridge/565913/%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%A7-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%93%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%87

5
Bridge / Re: পদ্মা সেতু-Padma Bridge
« on: June 27, 2022, 09:39:42 AM »
পদ্মা সেতু ঘিরে যত বিধি-নিষেধ

শনিবার উদ্বোধন হয়ে গেল পদ্মা সেতুর। রবিবার ২৬ জুন এই সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এই সেতুর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকারের সেতু দপ্তর থেকে বেশ কিছু বিধিনিষেধ জারি করা হল। গত ২৩ জুন, বৃহস্পতিবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

কী কী বলা হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে? দেখে নেওয়া এক এক করে।

এই সেতু পারাপার করার সময় গাড়ি থামানো যাবে না। গাড়ি থেকে নেমে সেতুর উপর দিয়ে হাঁটা বা ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সেতুর উপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানো যাবে।

পদ্মা সেতুর উপর যে কোনও ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো নিষেধ।

তিন চাকাবিশিষ্ট যানবাহন (রিকশা,ভ্যান,সিএনজিচালিত অটোরিকশা ইত্যাদি) সেতুর উপর চালানো যাবে না।

গাড়ির দুপাশ দিয়ে যদি মাল বেরিয়ে থাকে, সেই গাড়ি সেতুতে ওঠানো যাবে না।

৫.৭ মিটারের চেয়ে বেশি উচ্চতার পন্যবাহী যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে যেতে পারবে না।

সেতুর ওপরে কোনও ধরনের ময়লা ফেলা যাবে না।

পায়ে হেঁটে বা সাইকেল নিয়ে সেতু পারাপার করা যাবে না।

সেতুর উপর ছবি তোলাও যাবে না।

এই নির্দেশিকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই সেতু বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। সেই কারণে সেতুর নিরাপত্তার স্বার্থে এই নির্দেশিকাকে স্বাগত জানানো উচিত। কিন্তু অনেকেই সেতুর উপর দিয়ে হাঁটা বা ছবি তোলার আনন্দ উপভোগ করতে না পারার জন্য হতাশ।


Source: https://www.deshrupantor.com/national/2022/06/25/367651

6
Bridge / Re: পদ্মা সেতু-Padma Bridge
« on: June 27, 2022, 09:30:49 AM »

7
Bridge / Re: পদ্মা সেতু-Padma Bridge
« on: June 27, 2022, 09:28:19 AM »
স্বপ্নের পদ্মা সেতু ৷
❤🇧🇩❤
* দৈর্ঘ্য : ৬.১৫ কি:মি: ৷
* স্থলভাগে সেতুর অংশ সহ দৈর্ঘ্য : ৯.৮৩ কি:মি:৷
* প্রস্ত : ২১.৬৫ মি: ৷
* মোট পিলারের সংখ্যা : ৪২টি ৷
* স্প্যানের সংখ্যা : ৪১টি ৷
* প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য: ১৫০ মি: ৷
* স্প্যানগুলোর মোট ওজন: ১,১৬,৩৮৮ টন ৷
* প্রতিটি পিলারে নিচে পাইলের সংখ্যা: ৬টি ৷
* পাইলের ব্যাস: ৩ মি: ৷
* পাইলের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য: ১২৮ মি: ৷
* মোট পাইলের সংখ্যা: ২৬৪টি ৷ ( ভায়াডাক্টের পাইলসহ ২৯৪টি)
* জমি অধিগ্রহণ: ৯১৮ হেক্টর ৷
* ব্যবহৃত স্টিলের পরিমাণ : ১,৪৬,০০০ মে: টন ৷
* নির্মাণ কাজ শুরু : ৭ই ডিসেম্বর ২০১৪ ৷
* মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু : মাওয়া প্রান্তে ৬ নম্বর পিলার ৷
* সক্ষমতা : দৈনিক ৭৫ হাজার যানবাহন ৷
* পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা: ১৮ মি: ৷
* পদ্মা সেতুর আকৃতি: ইংরেজি S অক্ষরের মতো ৷
* ভুমিকম্প সহনশীলতা : রিক্টার স্কেলে ৮ মাত্রার ৷
* এপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য: ১২ কি:মি: ৷
* নদীশাসন: ১৬.২১ কি:মি: ৷
* সেতুর আয়ুষ্কাল: ১০০ বছর ৷
* সেতুর মোট ব্যয়: ৩০,১৯৩.৩৯ কোটি
* ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে এমন জেলার সংখ্যা: ২১টি ৷
* সরাসরি উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩ কোটি মানুষ ৷
* যেসব দেশের বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা কাজ করেছেন : চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা,   
জার্মানি, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ন্যাদারল্যান্ড,সিঙ্গাপুর, জাপান, ডেনমার্ক, ইতালি, মালয়েশিয়া,
কলম্বিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, নেপাল ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
* প্রকল্পের অঙ্গ ভিত্তিক ব্যয় বিভাজন:
@ মূল সেতুর ব্যয়: ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন টাওয়ার ও গ্যাস লাইনের ব্যয়সহ ১১,৯৩৮.৬৩ কোটি         
টাকা ৷
@ নদীশাসন কাজ: ৮,৭০৬.৯১ কোটি টাকা ৷
@ অ্যাপ্রোচ রোড: ২টি টোল প্লাজা, ২টি থানা বিল্ডিং ও ৩টি সার্ভিস এরিয়াসহ ১৮৯৫.৫৫ কোটি টাকা ৷
@ পুনর্বাসন ব্যয়: ১,১১৬.৭৬ কোটি টাকা।
@ ভূমি অধিগ্রহণ: ২৬৯৮.৭৩ কোটি টাকা ৷
@  পরিবেশ: ২৬.৭২ কোটি ৷
@  অন্যান্য  বেতন ভাতা, পরামর্শক, সেনা নিরাপত্তা ইত্যাদি: ১৩৪৮.৭৮  কোটি ৷
@ প্রকল্পের মোট অনুমোদিত ব্যয়: ২৭,৭৩২.০৮ কোটি টাকা ৷
* সেতু উদ্বোধন: ২৫ জুন ২০২২।

তথ্যসূত্র:
পিআইডি বিডির টাইমলাইন, পদ্মা সেতু প্রকল্প অফিস, ক্যাবিনেট ডিভিশন, সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার কপি।

8
Bridge / পদ্মা সেতু-Padma Bridge
« on: June 27, 2022, 09:26:04 AM »
পদ্মা সেতু-Padma Bridge



১. পদ্মা সেতুর অফিশিয়াল নাম= "পদ্মা বহুমুখী সেতু।" (The Padma Multipurpose Bridge)
২. পদ্মা সেতুর প্রকল্পের নাম= "পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প।" (The Padma Multipurpose Bridge Project)
৩. বিশ্ব ব্যাংকের সাথে ঋণচুক্তি হয় ২৮ এপ্রিল ২০১১ সালে (১২০ কোটি মার্কিন ডলার)
৪. বিশ্বব্যাংক চুক্তি বাতিল করে ৩০ জুন ২০১২ সালে।
৫. পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর। (চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭ জুন ২০১৪)
৬. পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম।
৭. পদ্মা সেতু সংযোগকারী স্থান মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় এবং শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত।( পদ্মা সেতুর অবস্থান ০৩ টি জেলায়-মুন্সিগঞ্জ মাদারীপুর শরীয়তপুর)
৮. পদ্মা সেতু সংযোগ স্থাপন করবে ২৯ টি জেলার সাথে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমের ২১ জেলার সাথে।
৯. পদ্মা সেতু নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড এর আওতাধীন চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।
১০. পদ্মা সেতুতে থাকবে গ্যাস-বিদ্যুৎ অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পরিবহন সুবিধা।
১১. পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক ১৪ কিলোমিটার।
১২. পদ্মাসেতু প্রকল্পে নদীশাসন হয়েছে দুই পাড়ে ১২ কিলোমিটার।
১৩. পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজ পায় চীনের সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন।
১৪. পদ্মা সেতুর নকশা করেন= AECOM ( Architecture, Engineering, Consulting, Operation and Maintenance)
১৫. পদ্মা সেতুর পাইল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেয় কাউই (COWI)
১৬. পদ্মা সেতুর তদারকির দায়িত্বে রয়েছে কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
১৭. পদ্মা সেতু দ্বিতলবিশিষ্ট, কংক্রিট এবং স্টিলের তৈরি ( যা বিশ্বে প্রথম)
১৮. পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার (২০২০০ ফুট)
১৯. পদ্মা সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৯.৩০ কিলোমিটার ( ৩.১৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক)
২০. পদ্মা সেতুর প্রস্থ  ১৮.১০ মিটার (৫৯.৪ ফুট, ৭২ ফুটের চার লেনের সড়ক)
২১. পিলার ৪২ টি। (প্রতিটি পিলারের জন্য পাইলিং ৬  টি, তবে মাটি জটিলতার কারণে ২২ টি পিলারের পাইলিং হয়েছে ০৭টি করে, মোট পাইলিং ২৮৬ টি, পাইলিং এর গভীরতা ৩৮৩ ফুট।)
২২. স্প্যান ৪১ টি। (প্রতিটি ১৫০ মিটার)
২৩. প্রতিটি স্প্যানের ওজন ৩২০০ টন। স্প্যান বহনকারী জাহাজ তিয়ান-ই। (ধারণক্ষমতা ৩৬০০ টন)
২৪. প্রথম স্প্যান বসানো হয় ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর (৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের উপর)
২৫. ৪১ তম অর্থাৎ শেষ স্প্যান বসানো হয় ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ( বিশ্ব মানবাধিকার দিবস) (১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের উপর দুপুর ১২.০২ মিনিটে)
২৬. ৪১ টি স্প্যান বসাতে সময় লাগে ৩ বছর ২ মাস ১০ দশ দিন।
২৭. পদ্মা সেতুতে রেল লাইন স্থাপন হবে নিচতলায় অর্থাৎ স্প্যানের মধ্য দিয়ে। ( মিটারগেজ ও ব্রডগেজ এক‌ই ‌‌ সময় যেকোনো একটি ট্রেন চলাচল করতে পারবে)
২৮. পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট ৩.১৮ কিলোমিটার।
২৯. পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট পিলার ৮১ টি।
৩০. ভূমিকম্প সহনশীল মাত্রা ৯ রিখটার স্কেল।
৩১. পদ্মা সেতুর স্থানাঙ্ক ২৩.৪৪৬০ ডিগ্রী (উত্তর), ৯০.২৬২৩ ডিগ্রি (পূর্ব)।
৩২. পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা ৬০ ফুট ( ১৮ মিটার)
৩৩. পদ্মা সেতুর কাছাকাছি সামরিক সেনানিবাস= পদ্মা সেনানিবাস।
৩৪. পদ্মা সেতুর কাছাকাছি থানা (২টি)= পদ্মা সেতু উত্তর, পদ্মা সেতু দক্ষিণ।
৩৫. দীর্ঘতম সড়ক সেতু পদ্মা সেতু ( পূর্বে ছিল যমুনা সেতু ৪.৮ কিলোমিটার, পিলার ৫০ টি, স্প্যান ৪৯ টি)
৩৬. পদ্মা সেতু, নদীর উপর নির্মিত বিশ্বের প্রথম দীর্ঘতম সেতু।
৩৭. পদ্মা সেতু, বিশ্বের ১১তম দীর্ঘ সেতু।
৩৮. বৃহতম সড়ক সেতুর তালিকায় ২৫ তম (এশিয়ায় ২য়)
৩৯. পদ্মা সেতুর শেপ হবে "S" আকৃতির।
৪০. পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ করেছে প্রায় ৪ হাজার মানুষ।
৪১. পদ্মা সেতুর প্রয়োজনে ৯১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
৪২. পদ্মা সেতুতে মোট ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।
৪৩. টোল আদায় করে ব্যয় উঠাতে সময় লাগবে ৩৫ বছর।
৪৪. আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১০০ বছর।
৪৫. জিডিপি বৃদ্ধি পাবে ১.২৩ শতাংশ
৪৬. পদ্মা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (BBA=The Bangladesh Bridge Authority)
৪৭. পদ্মা সেতুর ওয়েবসাইট এড্রেস= www.padmabridge.gov.bd
৪৮.পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে এই গুজব উঠে জুলাই, ২০১৯।
৪৯. সেতু উদ্বোধন ২৫ জুন ২০২২। (বাংলা=১১ আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ) ( আরবি= ২৫ জিলকদ, ১৪৪৪ হিজরি)

9
Blended Learning / Blended Learning in Bangladesh: Roadmap Ahead
« on: June 23, 2022, 09:41:54 AM »
Blended Learning in Bangladesh: Roadmap Ahead

Learning shall not be any more only face-to-face, merely chalk and talk, from the books and teachers alone. Post-pandemic. Education now and ahead is all set to be blended: blending the physical with the digital, the creative with the logical, the structured with the organic, the mentor-led with self-learning.

Blended Learning Policy Ahead:

Bangladesh has already taken the first step, and is just one measure away from its leap of faith in blended learning. It embarked upon the process of formally creating a blended learning policy for the nation, with a Task Force created for this purpose led by the minister of education, Dr Deepu Moni MP, and with many leading educationists and all top functionaries of education-focused bureaucracy in it, and a key role being played by the a2i program adviser with ICT Division, Anir Chowdhury. The Task Force has already submitted the report and draft policy to the Prime Minister’s Office and it is expected that a policy to this effect to bring about blended learning from school to university shall be legislated or promulgated through executive initiative. Perhaps it shall be the first-ever such a policy on blended learning in Asia, and would envisage a complete overhaul of education in this country over the next decade which would be perhaps with an expenditure totalling some 2 lacs crores taka.

What does Blended Learning Entail?

The Blended Learning framework begins with the perspective of teachers evolving to mentors and students becoming modern-day learners. Mentors guide, support and inspire with their own proprietary learning resources (ppts, films, podcasts, infographics, books, cases and chapters) and also with aggregated learning resources found in open sources. They surely cover the structured syllabi, but also motivate good learners towards organic deep dive learning and self-learning.

Learners learn to internalize and practice knowledge acquired through projects, use it for life and productivity, and learn today from mentors, peers, experiences, digital resources and from books alike. Learning begins even before the class, through self-learning and flipped classroom, and evaluations are done in multiple ways during and at the end of the course (formative and summative assessments). Blended makes this entire experience seamlessly from online to physical, classroom to laboratory to the field, and finally further learnt through self-learning digitally.

Blended learning is multi-dimensional

Institutional dimension: This dimension regards the organization’s preparedness in terms of administrative and academic matters and student services. The policy hence shall look into this which will encompass physical infrastructure, human resources and rules and compliances in place.

Pedagogical dimension: This dimension analyzes the consistency between course content and the learners’ needs. In addition, the appropriate method to deliver the content is chosen. The most accepted form today is about Outcome Based Education where every program and courses therein shall have specific learning objectives and outcomes which can be demonstrated or quantified, and delivered partly digitally and partly physically.

Technological dimension: This dimension examines aspects related to technological infrastructure (e.g., infrastructure planning as well as accessibility to necessary hardware and software). This calls for bridging the digital divide and bringing all stakeholders to a minimum level of access to device and broadband. This is indeed a battle for any society and government to ensure this in a developing nation. Interestingly, the University Grants Commission (UGC) of Bangladesh had taken some distinctive initiatives during the pandemic period in higher education in this regard, which include providing devices, zoom connection et al to the mentors to conduct online sessions better and keep quality delivery. But considering the entire nation, and from schools to the university, digital divide is a reality, and a major outlay of funds will be needed here.

Interface design: An interface is concerned with the overall look and feel of a blended learning program, such as page, site, and content design, and navigation that enables learners to use and switch between different delivery methods. One of the remarkable blended learning practices in Bangladesh in recent times has been that of the Blended Learning Centre (BLC) of the Daffodil International University, where all lecture videos, selected other video links, podcast links, pdfs, published work, lecture notes on a given theme is given in advance before the class (only lecture video added later) for advance learning and later revision.

Evaluation: This dimension focuses on the blended learning program’s usability. It includes assessing the learners as well as the instructor and learning environment. It will include formative assessment being done while one is learning a course, summative assessment done at the end. Here the evaluation is done online (through proctored or open book evaluation), in studio or lab for practical outcomes, on ground and in person as well, which can be written or viva face-to-face. It also evaluates the learning content through learners’ and peer feedback. Globally such seamless multi-dimensional blended evaluation has already taken centre-stage. It will be interesting to see how an aspiring Bangladesh evolves this through its learning institutes.

Management: This dimension denotes maintaining the learning environment and managing content delivery. So, customized Learning Management Systems (LMS) needed ideally, or at least using the easily available Google Class, MS Teams and other tools.

Resource support dimension: This dimension handles online support and the resources required to create meaningful learning environments. This can include Massive Open Online Courses (MOOCs), paid online courses (like Coursera), proprietary content of the mentors, aggregate open-source content as available in the internet, books, and many other sources. In an economically highly stratified nation like Bangladesh, resource support to the less privileged is an absolute necessity.

Ethical considerations: Such considerations are related to cultural and geographical diversity, etiquette, equal opportunity, and legal issues. Such issues are important in diverse developing nations with strong cultural, religious and ethical considerations, Bangladesh surely being included.

Train the Trainers:

In Bangladesh context, additionally, the policy is expected to envisage a major teachers’ professional development in all scenarios: no-tech (for smaller classes and in remote areas), low-tech (where electronic media like television and radio can be of great help), and high-tech (where high speed broadband availability with good quality laptops combine to bring the full force of digital learning), and all these seamlessly integrated with synchronous face-to-face learning.

The training and development of the teachers and professors will require first to understand competency levels and essential standards of the mentors, and at all levels of education, from school to university. The training manuals for effective mentoring and multi-dimensional assessment of the learners shall have to be developed. For higher education, industry integration in learning is also a major necessity.

Such training of the mentors shall be required even in Madrasahs where modern technology, courses and Islamic values and practices shall converge to create the new age learners. The mentors’ capacity enhancement must include preparing online courses through audio, video, infographics, power-point presentations, and case-studies or illustrations.

Innovations & Disruptions Needed:

The policy also needs to incorporate evidence-based research and development on blended pedagogy and creation of blended education accelerator to innovate on current educational practices from school to university. Just putting current learning resources online is not enough. Without disruptive new practices, cosmetic changes cannot revolutionize education, first on paper and then on ground.

Some of the new disruptive approaches could these. Application of Artificial Intelligence and Machine Learning to accelerate higher education, customize learning to a learner’s natural interests, and modernise the process is another necessity in the policy. EdTech integration for pace and quality, instructional design components to enhance interest of learners, and bringing in playfulness and aesthetics in education are some other needs as well.

To modernize education for a mid-level developed nation, Bangladesh surely has to completely solve the energy problem, encourage decentralized solar energy production and consumption, bring in full coverage of 5G telecom-internet connectivity, and make device availability easy and cheap from hinterland to the heartland of the country. Inclusive infrastructure at all levels of education through smart class, internet and campus network, tollfree learning helpline, low-cost learning devices, simulation lab & digital studio support for mentors and learners, etc, can lead to actualizing the vision of an advanced blended learning ecosystem in the country. World-over, virtual labs and studios are also in vogue now and are useful in times of limited access to campus infra-structure. This modernization process needs the bulk of the resources.

Going Beyond Digital-Physical Blending:

There is another important aspect of blended learning. We must consciously blend the right (the creative) and the left (the rational) brains through our education, and actively encourage learners to take science or commerce-based courses with liberal arts-based ones. Similarly, blending learning with applying and playing also necessary in our campuses.

For a large population, as in Bangladesh, even community based shared learning is a good start with inclusive infrastructure. Skills-focus at all levels is needed. Sharing learning resources, having common learning repository in a region or among multiple institutions, and collaborating rather contesting are other important and necessary measures to take education to the next level, towards which the policy needs active focus. Community outreach, peer-to-peer learning, assessment less by memory more by application, employability as a critical outcome and institutional assessment criterion, alternative learning systems, et al, shall also make critical components of such a Blended Learning Policy for Bangladesh.

Hope the nation gets the policy surely before or on World Teachers’ Day on October 5, 2022.

Author
Prof Ujjwal K Chowdhury
Strategic Adviser and Professor
Daffodil International University

Source: https://www.daily-sun.com/printversion/details/628019/Blended-Learning-in-Bangladesh:-Roadmap-Ahead

10
Online Education / Blended Learning in Bangladesh: Roadmap Ahead
« on: June 23, 2022, 09:41:11 AM »
Blended Learning in Bangladesh: Roadmap Ahead

Learning shall not be any more only face-to-face, merely chalk and talk, from the books and teachers alone. Post-pandemic. Education now and ahead is all set to be blended: blending the physical with the digital, the creative with the logical, the structured with the organic, the mentor-led with self-learning.

Blended Learning Policy Ahead:

Bangladesh has already taken the first step, and is just one measure away from its leap of faith in blended learning. It embarked upon the process of formally creating a blended learning policy for the nation, with a Task Force created for this purpose led by the minister of education, Dr Deepu Moni MP, and with many leading educationists and all top functionaries of education-focused bureaucracy in it, and a key role being played by the a2i program adviser with ICT Division, Anir Chowdhury. The Task Force has already submitted the report and draft policy to the Prime Minister’s Office and it is expected that a policy to this effect to bring about blended learning from school to university shall be legislated or promulgated through executive initiative. Perhaps it shall be the first-ever such a policy on blended learning in Asia, and would envisage a complete overhaul of education in this country over the next decade which would be perhaps with an expenditure totalling some 2 lacs crores taka.

What does Blended Learning Entail?

The Blended Learning framework begins with the perspective of teachers evolving to mentors and students becoming modern-day learners. Mentors guide, support and inspire with their own proprietary learning resources (ppts, films, podcasts, infographics, books, cases and chapters) and also with aggregated learning resources found in open sources. They surely cover the structured syllabi, but also motivate good learners towards organic deep dive learning and self-learning.

Learners learn to internalize and practice knowledge acquired through projects, use it for life and productivity, and learn today from mentors, peers, experiences, digital resources and from books alike. Learning begins even before the class, through self-learning and flipped classroom, and evaluations are done in multiple ways during and at the end of the course (formative and summative assessments). Blended makes this entire experience seamlessly from online to physical, classroom to laboratory to the field, and finally further learnt through self-learning digitally.

Blended learning is multi-dimensional

Institutional dimension: This dimension regards the organization’s preparedness in terms of administrative and academic matters and student services. The policy hence shall look into this which will encompass physical infrastructure, human resources and rules and compliances in place.

Pedagogical dimension: This dimension analyzes the consistency between course content and the learners’ needs. In addition, the appropriate method to deliver the content is chosen. The most accepted form today is about Outcome Based Education where every program and courses therein shall have specific learning objectives and outcomes which can be demonstrated or quantified, and delivered partly digitally and partly physically.

Technological dimension: This dimension examines aspects related to technological infrastructure (e.g., infrastructure planning as well as accessibility to necessary hardware and software). This calls for bridging the digital divide and bringing all stakeholders to a minimum level of access to device and broadband. This is indeed a battle for any society and government to ensure this in a developing nation. Interestingly, the University Grants Commission (UGC) of Bangladesh had taken some distinctive initiatives during the pandemic period in higher education in this regard, which include providing devices, zoom connection et al to the mentors to conduct online sessions better and keep quality delivery. But considering the entire nation, and from schools to the university, digital divide is a reality, and a major outlay of funds will be needed here.

Interface design: An interface is concerned with the overall look and feel of a blended learning program, such as page, site, and content design, and navigation that enables learners to use and switch between different delivery methods. One of the remarkable blended learning practices in Bangladesh in recent times has been that of the Blended Learning Centre (BLC) of the Daffodil International University, where all lecture videos, selected other video links, podcast links, pdfs, published work, lecture notes on a given theme is given in advance before the class (only lecture video added later) for advance learning and later revision.

Evaluation: This dimension focuses on the blended learning program’s usability. It includes assessing the learners as well as the instructor and learning environment. It will include formative assessment being done while one is learning a course, summative assessment done at the end. Here the evaluation is done online (through proctored or open book evaluation), in studio or lab for practical outcomes, on ground and in person as well, which can be written or viva face-to-face. It also evaluates the learning content through learners’ and peer feedback. Globally such seamless multi-dimensional blended evaluation has already taken centre-stage. It will be interesting to see how an aspiring Bangladesh evolves this through its learning institutes.

Management: This dimension denotes maintaining the learning environment and managing content delivery. So, customized Learning Management Systems (LMS) needed ideally, or at least using the easily available Google Class, MS Teams and other tools.

Resource support dimension: This dimension handles online support and the resources required to create meaningful learning environments. This can include Massive Open Online Courses (MOOCs), paid online courses (like Coursera), proprietary content of the mentors, aggregate open-source content as available in the internet, books, and many other sources. In an economically highly stratified nation like Bangladesh, resource support to the less privileged is an absolute necessity.

Ethical considerations: Such considerations are related to cultural and geographical diversity, etiquette, equal opportunity, and legal issues. Such issues are important in diverse developing nations with strong cultural, religious and ethical considerations, Bangladesh surely being included.

Train the Trainers:

In Bangladesh context, additionally, the policy is expected to envisage a major teachers’ professional development in all scenarios: no-tech (for smaller classes and in remote areas), low-tech (where electronic media like television and radio can be of great help), and high-tech (where high speed broadband availability with good quality laptops combine to bring the full force of digital learning), and all these seamlessly integrated with synchronous face-to-face learning.

The training and development of the teachers and professors will require first to understand competency levels and essential standards of the mentors, and at all levels of education, from school to university. The training manuals for effective mentoring and multi-dimensional assessment of the learners shall have to be developed. For higher education, industry integration in learning is also a major necessity.

Such training of the mentors shall be required even in Madrasahs where modern technology, courses and Islamic values and practices shall converge to create the new age learners. The mentors’ capacity enhancement must include preparing online courses through audio, video, infographics, power-point presentations, and case-studies or illustrations.

Innovations & Disruptions Needed:

The policy also needs to incorporate evidence-based research and development on blended pedagogy and creation of blended education accelerator to innovate on current educational practices from school to university. Just putting current learning resources online is not enough. Without disruptive new practices, cosmetic changes cannot revolutionize education, first on paper and then on ground.

Some of the new disruptive approaches could these. Application of Artificial Intelligence and Machine Learning to accelerate higher education, customize learning to a learner’s natural interests, and modernise the process is another necessity in the policy. EdTech integration for pace and quality, instructional design components to enhance interest of learners, and bringing in playfulness and aesthetics in education are some other needs as well.

To modernize education for a mid-level developed nation, Bangladesh surely has to completely solve the energy problem, encourage decentralized solar energy production and consumption, bring in full coverage of 5G telecom-internet connectivity, and make device availability easy and cheap from hinterland to the heartland of the country. Inclusive infrastructure at all levels of education through smart class, internet and campus network, tollfree learning helpline, low-cost learning devices, simulation lab & digital studio support for mentors and learners, etc, can lead to actualizing the vision of an advanced blended learning ecosystem in the country. World-over, virtual labs and studios are also in vogue now and are useful in times of limited access to campus infra-structure. This modernization process needs the bulk of the resources.

Going Beyond Digital-Physical Blending:

There is another important aspect of blended learning. We must consciously blend the right (the creative) and the left (the rational) brains through our education, and actively encourage learners to take science or commerce-based courses with liberal arts-based ones. Similarly, blending learning with applying and playing also necessary in our campuses.

For a large population, as in Bangladesh, even community based shared learning is a good start with inclusive infrastructure. Skills-focus at all levels is needed. Sharing learning resources, having common learning repository in a region or among multiple institutions, and collaborating rather contesting are other important and necessary measures to take education to the next level, towards which the policy needs active focus. Community outreach, peer-to-peer learning, assessment less by memory more by application, employability as a critical outcome and institutional assessment criterion, alternative learning systems, et al, shall also make critical components of such a Blended Learning Policy for Bangladesh.

Hope the nation gets the policy surely before or on World Teachers’ Day on October 5, 2022.

Author
Prof Ujjwal K Chowdhury
Strategic Adviser and Professor
Daffodil International University

Source: https://www.daily-sun.com/printversion/details/628019/Blended-Learning-in-Bangladesh:-Roadmap-Ahead

11
শয়তান কি ডিপ্রেশন তৈরী করতে পারে?

উত্তর: শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য অনেক ধরণের কৌশল অবলম্বন করে। তার মাঝে একটি হলো এক ধরণের ডিপ্রেশন তৈরী করা, আপনি যেমন প্রশ্ন করেছেন। কারণ, শয়তানের উদ্দেশ্য হলো আপনাকে আল্লাহর ইবাদাত করা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। আর এ উদ্দেশ্য পূরণের প্রয়োজনে যত ধরণের উপায় অবলম্বন করা দরকার সে করে থাকে।

তার মাঝে একটি ব্যাপার যা মানুষকে আল্লাহর ইবাদাত করা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে তা হলো- নিজের সমস্যা-সঙ্কটে বালা-মুসিবতে মানসিকভাবে এমনভাবে বিষণ্ণ হয়ে পড়া যে সে চুপচাপ বসে থাকে কোনোকিছুই করে না।

আর এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্নের অবকাশ নেই যে, এ ধরণের মানসিক সমস্যাগুলোর অনেকগুলো হয় শয়তান তৈরী করেছে বা এগুলোর অবস্থা আরো খারাপ করেছে শয়তান। আমার মনে এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন নেই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং আমার বিনীত অভিমত বহু মানসিক রোগ শয়তানের তৈরী।

এ কারণে ঈমানদাররা মানসিক এ যুদ্ধগুলোতে বেঈমানদের চেয়ে ভালো করে। সাধারণভাবে বলতে গেলে, ধার্মিক মানুষেরা অধার্মিকদের চেয়ে বেশি আশাবাদী। কারণ, আল্লাহ আমাদের ধার্মিক হওয়ার জন্য সৃষ্টি করেছেন, তাই না? সাধারণভাবে বলতে গেলে, ধার্মিক মানুষদের জীবন নিয়ে উত্তম মনোভঙ্গি রয়েছে। তারা ধর্মহীনদের চেয়ে ভালোভাবে দুঃখ-কষ্ট মোকাবেলা করতে পারে। 

তো, আপনার প্রশ্নের উত্তর, হ্যাঁ, শয়তান বহু কৌশল অবলম্বন করে থাকে। তার মাঝে একটি হলো মানসিক সমস্যা তৈরী করা।

 প্রশ্ন: এখন তাহলে শয়তানের এ কৌশলের বিরুদ্ধে কিভাবে জয় লাভ করবো?

উত্তর: যেভাবে আপনি ধর্মীয় কাজে অলসতার উপর জয় লাভ করেন। যেভাবে আপনি অন্তরের গাফলতির উপর জয়লাভ করেন। যেভাবে আপনি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক না থাকাকে পরাজিত করেন।

সবার আগে— ইবাদাত বৃদ্ধি করুন। ইবাদাতের মাধ্যমে অটোমেটিক্যালি আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক তৈরী হয়। কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন বৃদ্ধি করুন। জিকির করা বৃদ্ধি করুন। বেশি বেশি নামাজ পড়ুন। এই কাজগুলো তাৎক্ষণিকভাবে আপনার অন্তরে প্রশান্তি নিয়ে আসবে।

দ্বিতীয়তঃ ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করুন। এর ফলে দ্বীনের ব্যাপারে আপনার আরও উত্তম বুঝ তৈরী হবে। জ্ঞান বৃদ্ধি পেলে আপনার ঈমান বৃদ্ধি পাবে। দ্বীনের ব্যাপারে, রাসূলুল্লাহ (স) এর ব্যাপারে কোনো বক্তব্য শুনলে আপনার ঈমান শক্তিশালী হয়ে উঠবে। 

এছাড়াও নিশ্চিত করুন যে, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিকির-আযকারগুলো আপনি নিয়মিত পড়েন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়, প্রবেশ করার সময়, খাওয়ার সময়, ঘুমাতে যাওয়ার সময়, জেগে উঠার সময় এভাবে সর্বাবস্থায় দুআগুলো পাঠ করুন যেন নিজেকে শয়তানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারেন। এভাবে যত বেশি জিকির এবং দুআগুলো পাঠ করবেন শয়তান আপনার উপর তত কম শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে।

আমাদের রাসূল (স) বলেছেন— "আল্লাহর জিকির হলো 'হিসনুল হাসিন' একটি সংরক্ষিত দুর্গ যা তোমাদেরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করবে।" মনে করুন,  চারপাশে শক্ত দেয়াল তুলে আপনার প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আল্লাহর জিকির ঠিক এ কাজটাই করে। আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকা মানে আপনি 'হিসনুল হাসিন' সংরক্ষিত দুর্গের ভেতরে আছেন।

আর অবশ্যই আল্লাহর নিকট দুআ করতে হবে। আল্লাহ বলেন- وَ اِمَّا یَنۡزَغَنَّکَ مِنَ الشَّیۡطٰنِ نَزۡغٌ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰهِ - "শয়তানের পক্ষ থেকে যদি তুমি কুমন্ত্রণা অনুভব কর, তাহলে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর।" (৪১:৩৬)

আর হতাশা থেকে রক্ষা পেতে আরেকটি সহজ কাজ করতে পারেন—ধার্মিক মুসলিমদের সাথে চলা ফেরা করুন। একা থাকবেন না। সৎ মানুষদের সঙ্গে থাকুন। যারা আপনাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিবে এবং তাঁর কাছাকাছি নিয়ে আসবে।

— ড. ইয়াসির ক্বাদী

https://www.facebook.com/NAKBangla

12
Multimedia Section / South Asian media and entertainment: An overview
« on: June 16, 2022, 11:26:08 AM »
South Asian media and entertainment: An overview

Media and entertainment have grown phenomenally in the last two decades in South Asia, though the pandemic had inflicted a body blow, the sector is now fast recovering again. When we talk about this sector, it includes journalism in all forms, entertainment in all forms, brand communication in all forms, the rise of the digital medium and the emerging technologies revolutionizing the sector now.

Rising from a poor base of less than Rs.40,000 crores INR in India for this sector, it has grown to a robust Rs.2 lacs crores approximately now, around 29 billion dollars, almost 1 per cent of the 3 trillion economy of India. Digital, animation, gaming and radio are in double digits growth, while print is stagnated below 1 per cent, and television, still the leader in the segment, and cinema have both been below 10 per cent. In the next five years, year on year growth is pegged at 14 per cent (FICCI Frames Report), while the overall economy will be way below 10 per cent growth-rate.

Bangladesh has the second largest overall economy and media industry as well, in South Asia. In 2016, industry was of 27 billion taka, annual growth 12 per cent, according to Shikdar Akhtar Uz Zamaan, Grameenphone. In 2021, roughly 48 billion taka. Between 2010 & 2016, TV grew by 200 per cent, print by 150 per cent, radio by 350 per cent, while internet by 1500 per cent, according to Sujan Mohammad, PRAN RFL Group. In 2021, there were 11.4 m internet users; 20+ TV Channels (all may not be running well, and there were only 7 channels in 2020), NGOs’ Radio Network, and 26 Major newspapers while portals innumerable. Bangladesh ranked 144 in Press Freedom Index. Media Industry lacks research & data tools, according to Mazhar Chowdhury, MD, Havas Media Bangladesh, speaking in a brand meet before pandemic. Bangladesh Brand Forum & Media Forum good platforms, with 170 million media consumers in the country. But sadly the total revenue of media and entertainment in Bangladesh is still below 0.5 per cent of the total economy of nearly 380 billion dollars.

It is interesting to note here that while in the most evolved two liberal democracies like US and UK, the media industry as a percentage of the total GDP of the nation today is around 3.6 per cent and 2.7 per cent respectively, it is 0.9 per cent in India, 0.4 per cent in Bangladesh and only 0.2 per cent in Nepal from what the industry insiders say. In case of Nepal, unlike the other two South Asian nations, the leader in the market, Kantipur Group, almost controls close to 50 per cent of the media economy for quite some time now. While there is nothing wrong with that, the point of concern is that the industry itself is almost in its infancy, yet.

Among many reasons why media and entertainment industry as a whole is weak in South Asia, one major one is the lack of efficiently trained manpower, specially in contemporary media and emerging technologies. While there is no dearth of good stories to tell, there surely is an acute crisis of multi-skilled multi-media talent, the need of the day.

Though there are several outstanding schools of media education in India today (Symbiosis, Whistling Woods, Asian College of Journalism, IIMC, Jamia Milia, Amity, MICA, FTII, et al), there are very few in Bangladesh (except a few notable ones like ULAB, Dhaka and Rajshahi Universities, Daffodil University), the scarcity is still more poignant in other South Asian nations.

If we have to identify what are the top ten things that the South Asian media schools hardly focus on, addressing which the industry will be immensely benefitted going ahead, then these are the top ten.

First, there is still lack of proper recognition that media industry has completely converged in its platforms (print, television, radio, events and internet are all now merging on to the handset), in its audience interests (primary audience interests of readers, viewers, listeners are gradually merging with second audience interests of marketers, advertisers and sponsors), and in its operations (content at the core of communication, technology to deliver it to the target audiences, and management with monetization to keep the industry rolling). Educational curricula do not reflect this convergence. Today’s media education is less competent to produce the multi-media Communication Officers of tomorrow for organizations and corporate houses.

Second, there are hardly deep dive discussions on media management, media business and media revenues. How do portals, newspapers, radio, television and events earn are rarely discussed largely because the teachers themselves were never taught these. The mentors are comfortable to remain in the large dreary desert of unending theories, models and history (a basic grounding of these is necessary though). While there is great content coming out, the business side is still lorded by regular sales and marketing guys, often to the detriment of quality of content sold.

Third, that there is a vast emerging Creator Economy in front of us is hardly understood if you are in a typical South Asian media institute. Creator economy is a software facilitated economy that allows creators to earn revenue from their creations whether they are on YouTube, Tiktak, Reels, Instagram, Facebook, Twitch, Spotify, Substack, OnlyFans, Patreon or wherever. The creative industries today spread across video games, live events, video entertainment, retail, etc. There are an estimated 50 million and more creators in the world, but less than 2 million really earn enough to run their livelihoods. Ratio is poorer in South Asia.

Fourth, coming to brand communication, while media education still meanders around traditional above the line advertising, below the line events, and media attention seeking public relations, the reality of the industry is increasingly different. The branding world is moving towards content marketing of branded content, online reputation management, engaging story-telling through acts and not ads, blended and e-events with a higher footfall, and merging all of these to create engaging Brand Stories and not brand publicity of olden days. Engagement is the new media currency, hardly comprehended by the shenanigans of media education.

Fifth, entertainment is going through an unforeseen paradigm shift due to the use of emerging technologies like immersive virtual reality, augmented and mixed reality (healthcare or engineering too). Golman Sachs estimates a 95 billion dollar market of AR-VR-MR technologies impacting gaming, entertainment, et al. Earlier people knew by reading, then observed through pictures and video, heard on radio, and today they are immersed, participants in the content through the use of AR-VR. Consumers are not just viewing content, they are placed inside it. Smartphones enlarged scope of photography, and today immersive technologies are ensuring higher quality content at lower costs and faster production. Gamified learning is another frontier. Virtual prototyping shortens time and cost of iteration in content development. The timeline is heavily reduced from content to production to commercialization. But these do not constitute even one course in usual media education.

Sixth, there is the large area of Artificial Intelligence and Machine Learning of the fourth industrial revolution now impacting media and entertainment big time. They are bringing in three remarkable functions: recommendations, voice recognition and media automation. Content can be personalized to a unit consumer now through content classification and categorization, specially in music, stories and news. AI-ML can contribute to identifying false information, using social media for sentiment analysis (social media listening), virtual personal chatbots, targeted digital advertising, metatagging subtitles and automated transcription leading to understanding content of any language. These do not appear in media learning at all.

Seventh, social media interactions have started getting some mention in media courses, but sparingly, and never anything on avatars and metaverse. Avatar in metaverse is user’s identity in that universe which is an alternative virtual world. While computers or phones are two-dimensional, a metaverse is an internet experience in a three dimensional space (there is a debate on single versus multiple metaverses like Atari, Snoop Dogg, Steve Aoki).

Eighth, journalism has decidedly moved to multi-media and mobile journalism, more particularly in the post pandemic times. One single story shall now be reported first as a tweet for social media, then an audio story for electronic and digital media, a photographic story for print and digital, then a flash in words online, then a full video story for television, then a report for the daily next day, a detailed studio-based discussion merged with a field story for the television, and may be a deep dive story for the weekend print supplement or magazine. These field skills will need corroborative news-room production skills, as is illustrated by Washington Post convergent newsroom for years now. But ask yourself, is journalism taught this way in our schools? This rise of web-led news media also needs a serious media literacy movement to combat mis-dis-mal information spreading its tentacles in every digitally networked society today.

Ninth, the digital media has virtual democratized visual story-telling today. From and 10 seconds internet recall add to 3 minutes branded content through an act, from 10 minutes short documentary to 40 minutes featurette to 150 minutes feature: all are films today, and the world of OTT based web entertainment and television serial expand the audio-visual world further. But video production learning still needs to navigate this diversity of story-telling content to such an extent.

Tenth, the fast-emerging world of diverse digital assets in media is rarity on campus-based learning in South Asia still. Non Fungible Token (NFT) has emerged to be blockchain based digital assets, which actually are small pieces of software with 14 lines of code stored in a blockchain network, and they store information, music, images, etc. NFTs prevent copying of digital content, allow investors to achieve sole ownership of digital assets like original painting, limited edition music etc. (as used by Kings of Leon band and many others). Film funding through NFTs is possible now giving digital certificates proving part ownership and box-office shares to the owners of NFTs protected by a complex web of digital passwords. But then these are alien to entertainment education.

Not mentioning all that are already there in media schools, these are the ten areas which need urgent attention and integration to help grow the media economy to the next frontier (as in many nations of the West), and not just create another battalion of unemployable and non-entrepreneurial media degree-holders.

Writer:

Prof Ujjwal K Chowdhury
Strategic Adviser and Professor
Daffodil International University
Email: ujjwalk.chowdhury@gmail.com

Source: https://businesspostbd.com/opinion-todays-paper/2022-06-16/south-asian-media-and-entertainment-an-overview-2022-06-16



13
সন্তানকে ভালো মানুষ বানাতে দুটি বিষয়ে নজর দিতে হবে

সন্তানের জন্য দুটি বিষয়কে নিশ্চিত করতে পারলে আপনি নাকে তৈল দিয়ে ঘুমাতে পারবেন ইনশা আল্লাহ।


14
ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ: উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা (দ্বিতীয় পর্ব)

মানবসম্পদের ওপর রাষ্ট্র যদি বিনিয়োগ করতে চায় তবে সেই সুযোগ করে দেয় ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ (ইউএইচসি)। কারণ দক্ষ মানবসম্পদই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারে। এ কারণে বিষয়টি চলমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করার ইস্যুটিকেই সামনে নিয়ে আসে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করা হয় মূলত কতজন মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে, সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছে কিনা, চিকিৎসার ব্যয় ও মান কেমন এবং আরও উন্নত ও বৈষম্যহীন সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে কিনা এসবের ওপর ভিত্তি করে।

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আর্থিক বিপর্যয় এড়াতে উন্নত দেশগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা স্কিম চালু আছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আছে একটি জটিল ঘরানার মাল্টি-পেয়ার তথা বহুপক্ষীয় প্রদানকারী ব্যবস্থা। অন্যান্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও কয়েক দশক ধরে চলছে সিঙ্গেল-পেয়ার কিংবা দুয়ে মিলে হাইব্রিড সিস্টেম।

আর এ ধরনের কয়েকটি চলমান ব্যবস্থা নিয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনা করা হলে হয়তো সেটা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি যুৎসই কৌশল ঠিক করে ইউএইচসি লক্ষ্য অর্জন করতে নীতিনির্ধারকদের পথ দেখাবে।

সিঙ্গেল-পেয়ার সিস্টেম কীভাবে কাজ করে?

সিঙ্গেল-পেয়ার তথা একপক্ষীয় প্রদানকারী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত খরচ বহন করে সরকার। এ অর্থের যোগান আসে কর থেকে। প্রতিটি দেশেই তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই সিঙ্গেল-পেয়ার সিস্টেমটাকে সাজানো হয়েছে।

সিঙ্গেল-পেয়ার সিস্টেম ও ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজকে অনেক সময় প্রায় সমার্থক বিবেচনা করা হলেও দুটো এক নয়। সিঙ্গেল-পেয়ার সিস্টেম ছাড়াও ইউএইচসি অর্জন করা সম্ভব।

বিশ্বের ১৭টি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এখন সিঙ্গেল-পেয়ার সিস্টেম চালু আছে। দেশগুলো হলো—  নরওয়ে, জাপান, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, সুইডেন, বাহরাইন, ব্রুনাই, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল, সাইপ্রাস, স্পেন ও আইসল্যান্ড।

যেহেতু জনগণের স্বাস্থ্যসেবার খরচ সরকার বহন করছে, তাই যাবতীয় খরচ ও সুবিধার আদর্শ মান ঠিক করার ক্রয়ক্ষমতাও আছে সরকারের। জাতীয় নেটওয়ার্কে থাকা সেবা প্রদানকারীদের যাবতীয় সেবা ও খরচের নিয়ন্ত্রণও করে সরকার।

এই ব্যবস্থার প্রশাসনিক খরচও কম, কারণ এখানে সরকার এমন একটি মূল্য পরিশোধ করে যা উৎপাদন মূল্যের কাছাকাছি থাকে। এতে করে আউট-অব-পকেট তথা ওওপি খরচটাও কমে আসে কিংবা একেবারে থাকেই না। এতে করে কাউকে দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে নিঃস্ব হতে হয় না।

এই ব্যবস্থার বিরোধিতাকারীদের যুক্তি হলো, এই ব্যবস্থায় সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার অনেক সময় সেবা পুরোপুরি পাওয়া না-ও যেতে পারে। এমনকি এ ব্যবস্থা জড়িয়ে যেতে পারে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়, যা নিঃসন্দেহে বাড়িয়ে দেবে ট্যাক্স।

একটি দুই স্তর ব্যবস্থা

এমন একটি ইউএইচসি অর্জন করা সম্ভব যেখানে সিঙ্গেল-পেয়ার ব্যবস্থায় মৌলিক স্বাস্থ্যসেবাগুলো দেবে সরকার এবং যারা সামর্থবান তারা বেসরকারি কাভারেজ ব্যবস্থা নেবে। কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপানসহ আরও কিছু দেশে এই ব্যবস্থা আছে।

জার্মানিতে ইউএইচসি আছে দুটো ব্যবস্থায়— স্ট্যাচুটারি হেলথ ইন্সুরেন্স সিস্টেম (এসএইচআইএস) ও প্রাইভেট হেলথ ইন্সুরেন্স (পিএইচআই)। এসএইচআই হলো একটি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা যেখানে ১০০টিরও বেশি অলাভজনক স্বাস্থ্য বিমা প্ল্যান রয়েছে, যেগুলো বেরসকারি তত্ত্বাবধানে ‘সিকনেস ফান্ড’ পরিচালনা করছে। এই তহবিলে কর্মী ও নিয়োগকর্তারা সমানভাবে অর্থের যোগান দেয়, সঙ্গে থাকে আয়কর রেয়াত সুবিধা। দেশটি আবার জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মেডিক্যাল টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি রয়েছে।

জাপানেও আছে একই ধরনের স্ট্যাচুটারি হেলথ ইন্সুরেন্স সিস্টেম তথা এসএইচআইএস। দেশটির ৯৮ শতাংশ জনসংখ্যাই এর আওতায় আছে। সেখানকার বাসিন্দারাও প্রায় হাজারখানেক হেলথ ইন্সুরেন্স প্ল্যান থেকে প্রিমিয়াম পরিশোধের মাধ্যমে যেকোনও একটি বেছে নিতে বাধ্য। দেশটিতে আবার সাপ্লিমেন্টাল বেরসকারি বিমাও রয়েছে।

২০১১ সালে দুটো সরকারি বিমা প্ল্যানের মাধ্যমে ইউএইচসি অর্জন করেছে চীন। একটি হলো শহরের চাকরিজীবীদের জন্য, আরেকটি হলো গ্রামীণ জনগণ ও শহরের বাসিন্দাদের স্কিমের একীভূতকরণ— যার আওতায় আছে কর্মহীন নাগরিক কিংবা স্ব-নিয়োজিত ব্যক্তিরা। দ্বিতীয় সারিতে শিশুরাও আছে। এক দিক দিয়ে চীন ব্যতিক্রম, তা হলো— দেশটির ৯৫ শতাংশ নাগরিক ইউএইচসি’র আওতায় এলেও সেখানকার আউট-অব-পকেট খরচটা বেশিই রয়ে গেছে। ২০১৮ সালে যা ছিল মোট স্বাস্থ্য-ব্যয়ের ২৮ শতাংশ।

দেশটির স্বাস্থ্য ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থাটি একাধিক প্রোগ্রামের আওতাধীন।

চীনের সরকারও দেশটিতে ডাক্তারের সংখ্যা বাড়াতে মেডিক্যালে শিক্ষার্থীদের পড়তে উৎসাহ যোগাচ্ছে। দেশটির সবকটি মেডিক্যাল স্কুলই সরকারি এবং মেডিক্যাল পড়াশোনায় ব্যাপক হারে ভর্তুকি দেওয়া হয়। চীনের গ্রামগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও শিক্ষার্থীদের উচ্চহারে টিউশন ফি মওকুফ করা হয়। কারও কারও জন্য ভর্তির যোগ্যতাও শিথিল করা হয়। এই ব্যবস্থায় যেসব মেডিক্যাল শিক্ষার্থী থাকবে, তাদেরকে অবশ্যই গ্রাজুয়েশনের পর গ্রাম কিংবা প্রান্তিক এলাকাগুলোতে কমপক্ষে ছয় বছর কাজ করতে হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্যসেবাও ইউনিভার্সাল এবং বিশ্বের সেরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে একটি। এ দেশে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মানে কোনও পার্থক্য নেই। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে না হলেও এটি ব্যয়বহুল নয়। এ খাতে সরকারের ভর্তুকির পাশাপাশি তামাক কোম্পানির কাছ থেকে আদায় করা সারচার্জ ও চাকরিজীবীদের করের টাকা যায় ন্যাশনাল হেলথ ইন্সুরেন্স প্ল্যান-এ। নাগরিকদেরও প্রতিমাসে তাদের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ পরিশোধ করতে হয় এই জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা পরিকল্পনায়। পাশাপাশি বেসরকারি বিমাও আছে। দুটো পলিসির খরচও প্রায় এক এবং যাবতীয় খরচের বিপরীতে নাগরিকদের পরিশোধ করতে হয় মাত্র ২০ শতাংশ।

ফ্রান্সের ইউএইচসি সরকারের অধীনে। ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে ওওপি খরচও সরকার পরে পরিশোধ করে দেয়।

বাধ্যতামূলক বেসরকারি স্বাস্থ্য বিমার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের ইউএইচসি চালু আছে। নেদারল্যান্ডসের নাগরিকদের মৌলিক একটি বিমা ক্রয় করতে হয়। তা না করলে তাদের জরিমানাও গুনতে হয়। চিকিৎসাসেবায় বেশ এগিয়ে আছে লুক্সেমবার্গ। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রযুক্তিতেও এগিয়ে তারা।

নাগরিকদের সুস্বাস্থ্যের দৌড়ে এ দেশগুলো আছে সবার ওপরে।

থাইল্যান্ডে জনগণের একটি বড় অংশ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত হলেও তারা একটি জাতীয় স্বাস্থ্য বিমার পরিকল্পনা করতে পেরেছে, যা কিনা তিনটি পৃথক স্কিমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

স্কিমগুলো মৌলিকভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরে একই খরচে একই সেবা প্রদান করে থাকলেও এগুলো আলাদাভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাদের লক্ষ্য হলো সকল সুবিধাভোগীর জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যের প্রাথমিক রক্ষাকবচ হিসেবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, চিকিৎসা নিয়ে প্রাথমিক মাথাপিছু ব্যয়ে সীমারেখা টানা ও ওষুধ ও মেডিক্যাল সেবাগুলোর খরচ নিয়ন্ত্রণ করা।

ভারতের স্বাস্থ্যসেবার তহবিল প্রায়ই বেশ কম দেখা যায় এবং দেশটি তার জিডিপির মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ স্বাস্থ্যে ব্যয় করে। ভারতের সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্য-বিমা স্কিমের মধ্যে ২০০৮ সালে চালু হয় ‘রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’। স্বল্প আয়ের লোকদের চিকিৎসা খরচের বোঝা হালকা করতেই চালু হয় এ ব্যবস্থা। ২০১৬ সাল নাগাদ দেশটির ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ বিমার আওতায় আসে। তবে তাদের ওওপি খরচ কিন্তু উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি।

৩৭ শতাংশ ভারতীয় এখন কোনও না কোনও বিমার আওতায় আছে। তথাপি, ২০১৮ সাল নাগাদ দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত স্বাস্থ্য উদ্যোগ ‘পিএম-জয়’ (প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা) হলো ইউএইচসি অর্জনে দেশটির এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া, যে বিমা-উদ্যোগের আওতায় ভারতের স্বল্প আয়ের ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠী এসেছে। এ উদ্যোগের আওতায় দেশটি তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ঢেলে সাজাতে শুরু করেছে।

প্রসঙ্গ সিঙ্গাপুর ও নৈতিকতার সংকট

নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে প্রকাশিত দৈবচয়নের ভিত্তিতে করা একটি গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছিল, স্বাস্থ্য বিমা কাভারেজের পরিসর বাড়ানোর পর দুই বছরে জরুরি বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়েছিল ৪০ শতাংশ।

এদিক দিয়ে সিঙ্গাপুর ব্যতিক্রম। স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সময় নাগরিকদের নৈতিকতার কথা মাথায় রাখতে বলে দেশটির সরকার। সিঙ্গাপুর তার জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যয় করছে স্বাস্থ্যসেবায় এবং এরইমধ্যে মেডিসেইভ, মেডিফান্ড ও মেডিশিল্ড সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তারা ইউএইচসি অর্জন করেছে।

সিঙ্গাপুরের সব নাগরিককেই বাধ্যতামূলকভাবে তাদের আয়ের ৪ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে হয় মেডিসেইভ নামের হেলথ সেভিংস একাউন্টে। মেডিসেইভের টাকা শুধু স্বাস্থ্যসেবা বাবদ ব্যয় করা যাবে। এই অর্থের ওপর কর নেই, উপরন্তু মুনাফা পাওয়া যায় এবং উত্তরাধিকার সূত্রে এ তহবিলের মালিকানাও পাওয়া যায়।

এখানে নৈতিকতার সংকটটি দেখা দেয় তখনই, যখন নাগরিকরা এটা বুঝতে পারে যে, এ তহবিল ব্যবহার করা মানে নিজের কষ্টার্জিত অর্থই খরচ করা, বিমার টাকা নয়।

মেডিশিল্ড হলো একটি সহজসাধ্য মেডিক্যাল ইন্সুরেন্স স্কিম, যেটা মেডিসেইভ হিসাবধারীদের বড় অঙ্কের বিল পরিশোধে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে ব্যক্তির বয়স বা স্বাস্থ্যের অবস্থা যেমনই হোক না কেন, এই ব্যয় নির্বাহ করবে দেশটির সেন্ট্রাল প্রভিডেন্ট ফান্ড বোর্ড।

অপরদিকে মেডিফান্ড হলো অনুদান নির্ভর তহবিল। সিঙ্গাপুরের দরিদ্রদের জন্য সরকার এই তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছে। এই তহবিল থেকে আসা সুদ-মুনাফাও চলে যায় হাসপাতালগুলোর কাছে, যা দিয়ে তারা স্থানীয় কমিউনিটিকে সেরা মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে।

চিকিৎসার সমাজতন্ত্রকরণ

যুক্তরাজ্য তাদের ইউএইচসি অর্জন করেছে সিঙ্গেল-পেয়ার ব্যবস্থাকে সঙ্গে নিয়ে। এই চিকিৎসা ব্যবস্থা বাস্তবিক অর্থেই সমাজতান্ত্রিক, যে ব্যবস্থায় যাবতীয় হাসপাতালের মালিকানা সরকারের অধীনে। সরকারই সেখানে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়, চিকিৎসার খরচ যোগায় এবং ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা প্রদান করে। আয়কর থেকে গঠিত তহবিলের মাধ্যমে এ ব্যবস্থাটির কাভারেজ ব্যাপক এবং বেশিরভাগ সেবাই নাগরিকদের বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

ব্যবস্থাটি মূলত গড়ে উঠেছে তিনটি গাইডলাইনের ওপর ভিত্তি করে—প্রথমত, সবার চাহিদাই পূরণ হবে, সেবা দেওয়া হবে বিনামূল্যে এবং সেবা প্রদান নির্ভর করবে চিকিৎসা চাহিদার ওপর, ব্যক্তির সামর্থ্যের ওপর নয়।

যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা অবশ্য চাইলে বেসরকারি স্বাস্থ্য বিমাও ক্রয় করতে পারেন। এটা রাখা হয়েছে যাতে কেউ চাইলে বেসরকারি হাসপাতালে নিজের পছন্দমতো কোনও চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন বা অপেক্ষার তালিকায় না থেকে দ্রুত সেবা পেতে পারেন। তবে মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেসরকারি বিমাগ্রহীতা আছে মাত্র ১০ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যাবতীয় খরচের ৮০ ভাগই বহন করে যুক্তরাজ্য সরকার। একই ব্যবস্থা চালু আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্পেন ও হংকংয়ে।

এসব ব্যবস্থার মধ্যে মিল কোথায়?

ইউএইচসি’র সারকথা হলো কাভারেজ নিশ্চিত করা, ওওপি খরচ কমানো, সবার জন্য বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও সহজে সময়োপযোগী চিকিৎসা দেওয়া। সব উন্নত দেশে সরকারই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে। সঙ্গে আছে বেসরকারি বিমা কোম্পানির মাধ্যমে বাড়তি কাভারেজ ও সরকারিভাবে চালু করা বিশেষ বিপর্যয়কালীন তহবিলের সেফটি-নেট।

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই দেশগুলোতে অ্যাক্রিডিটেশন ও হেলথ ইনফরমেশন ব্যবস্থাও চালু আছে।

সেবার মান নিশ্চিত করা, রোগীর নিরাপত্তা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে অ্যাক্রিডিটেশন তথা সরকারি সংস্থার দেওয়া স্বীকৃতির ব্যবস্থা। আর একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবা প্রদানকারীরা তাদের স্বাস্থ্যসেবার বিপরীতে পেমেন্ট দাবি করতে পারেন সহজে। এতে সেবার ডুপ্লিকেশন হয় না এবং স্বচ্ছতাও বজায় থাকে।

ইউএইচসির তহবিল আসে কোথা থেকে?

স্বাস্থ্য বিষয়ক অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ হলো, ইউএইচসি অর্জনে সরকারকে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ ব্যয় করতে হবে স্বাস্থ্যে। পাবলিক হেলথ-এর যাবতীয় ব্যয় মূলত করদাতাদের টাকা থেকেই আসে। সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটা চলে সরকারি, বেসরকারি, এনজিও ও উন্নয়ন খাতের যৌথ অর্থায়নে।

সরকারি তহবিল

এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খরচের তহবিল আসে নানা ধরনের কর থেকে। এখানে প্রদায়কের তালিকায় থাকতে পারে— ব্যক্তিপর্যায়ের আয়কর, সম্পত্তির কর, ভ্যাট, আবগারি শুল্ক, তামাকের ওপর কর, অ্যালকোহলের ওপর আরোপকৃত কর, করপোরেট কর, বাণিজ্য শুল্ক, ওয়েজ আর্নার ট্যাক্স ইত্যাদি। যে দেশগুলো বিশেস করে মেডিকেয়ার সেবা প্রদান করছে তাদের তহবিলের যোগান আসে পেরোল ট্যাক্স থেকে। আর ওটা শুধু স্বাস্থ্যসেবার পেছনেই ব্যয় করা যাবে।

বেসরকারি তহবিল

বেসরকারি তহবিল গঠনে দুই ধরনের উৎস আছে। একটি হলো ওওপি খরচের মতো সরাসরি পরিশোধ— এই ব্যবস্থায় যে দেশগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা স্কিমের ঘাটতি আছে, সেখানে এই ওওপি সাধারণত বেশ মোটা অঙ্কের হয়। আরেকটা উৎস হলো বেসরকারি কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় বিমার জন্য স্বেচ্ছায় অর্থ পরিশোধ। দ্বিতীয় ব্যবস্থাটি সরকার, এনজিও বা স্থানীয় কমিউনিটির তত্ত্বাবধানেও হতে পারে।

বহিঃ তহবিল

উন্নয়ন সংস্থা, বিদেশি বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স; যেসব ফান্ড সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে প্রবাহিত হয় সেগুলোও ইউএইচসির উৎস। এর বেশিরভাগই খরচ হয়ে থাকে বিভিন্ন পাবলিক প্রোগ্রাম, অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যের মানবসম্পদ উন্নয়নে।

ওওপি খরচ ৭৪ শতাংশ থেকে ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনতে ২০১২-২০৩২ সাল ব্যাপী একটি ২০ বছরের পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশের। স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ ২৬ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা স্কিমের খরচকে ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩২ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বহিঃ তহবিলের ওপর নির্ভরশীলতাও ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে আনতে চায় সরকার। আর্থিক ঝুঁকির নিরাপত্তার পরিসর বড় করার মাধ্যমে ইউএইচসি অর্জনেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।

লেখক: অর্গানিকেয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। এমবিবিএস, এমবিএ ও হেলথ কেয়ার লিডারশিপে স্নাতকোত্তর।

Source: https://www.banglatribune.com/

15
ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ ও হেলথ সিস্টেম (প্রথম পর্ব)

২০৩২ সাল নাগাদ ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ (ইউএইচসি) অর্জন করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ৮-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এ লক্ষ্য নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী। বহু দশক ধরে সমাজকল্যাণ সংক্রান্ত পরিস্থিতির ক্রমাগত বিবর্তন প্রক্রিয়ায় ইউএইচসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যে দেশগুলো স্বেচ্ছায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শুরু করেছিল, তারা তাদের প্রত্যেক নাগরিককেই বাধ্যতামূলক এ প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত করেছে।

প্রতিরোধমূলক, প্রচারমূলক, নিরাময়মূলক, পুনর্বাসনমূলক এবং উপশমকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করে ইউএইচসি। কোনও আর্থিক টানাপোড়েন ছাড়াই এতে পাওয়া যায় সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা। লক্ষ্যটিকে অবশ্যই চলমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলনীতির সঙ্গে একীভূত হতে হবে, যেখানে কিনা সাধারণ মানুষেরা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও জরুরি ওষুধ পাবে। এই খরচটাও থাকবে হাতের নাগালে এবং একটি বৃহৎ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রশাসনের কাছে এই পদ্ধতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের জবাবদিহিও থাকবে।

ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার কী? এটি অর্জনে মূল উপাদানগুলো কী?

একটি পরিস্থিতি কল্পনা করুন—একটি মধ্যম আয়ের পরিবারের মূল উপার্জনকারী ব্যক্তিটি হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় একেবারে মুমূর্ষু অবস্থায় চলে গেলেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে এমআরআই, অস্ত্রোপচার, পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার ও পুনর্বাসনসহ সব মিলিয়ে পরিবারটির ওপর চেপে বসে খরচে সুবিশাল বোঝা। চিকিৎসার খরচ মেটাতে পরিবারটিকে একে একে সম্পত্তিও বিক্রি করতে হয়। মানুষকে এ ধরনের পরিস্থিতির হাত থেকে বাঁচানোই মূলত ইউএইচসির লক্ষ্য।

ইউএইচসির মূলনীতি হলো সরাসরি ‘আউট-অব-পকেট’ খরচ কমানো। যাকে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে ওওপি। খরচ কমানোর পাশাপাশি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার পরিসর আরও উন্মুক্ত করাও এর নীতি।

ওওপি হলো চিকিৎসা-ব্যয়ের একটি অংশ, যা চিকিৎসাধীন ব্যক্তি বা তার পরিবারের সঞ্চয় থেকে মেটানো হয়। যেসব দেশে স্বাস্থ্যবিমা বড় আকারে চালু আছে, সেখানে সেখানে ওওপি হলো উপকারভোগীর আয়ের একটি অংশ, যা তিনি আর ফেরত পাবেন না। এটার আরেক নাম ডিডাকটিবলস বা কো-পেমেন্ট।

বাংলাদেশে এমন কোনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বা বিমার স্কিম চালু নেই। এখানকার ওওপি’র প্রাথমিক খরচটা হলো মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৪ শতাংশ। এই পরিমাণটা নিঃসন্দেহে বেশ বড়, যেখানে ভারতে ওওপি হলো ৫৪.৭৮ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৩.৮১ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৩৪.৫৭ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৪২.৯৫ শতাংশ ও থাইল্যান্ডে ৮.৬৭ শতাংশ।

এই বিপুল পরিমাণ ওওপি খরচের কারণে চিকিৎসাসেবার ব্যয় মেটাতে দরিদ্র পরিবারগুলোকে টাকা ধার করতে হয়, সম্পদ বিক্রি করতে হয়, সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণ নিতে হয়। এই ব্যাপারটাকে বলে রেট্রোগ্রেসিভ—অর্থাৎ এতে কম আয়ের মানুষ আরও দারিদ্র্যের দিকে যায়। এমনকি এ কারণে অনেক আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারকেও দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা বা পেলিয়েটিভ কেয়ারের জন্য সম্পত্তি বিক্রি বা ঋণ নিতে হয়। একটি দরিদ্রপন্থী নীতি এবং নগর সুরক্ষা প্রকল্প এই ধরনের আর্থিক বোঝা অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।

ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার অর্জনের মূল ভিত্তি হলো স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সময় যেন সরাসরি ব্যয়ের বোঝা এড়ানো যায়। এটি সম্ভব হতে পারে একটি স্বাস্থ্যবিমা স্কিম ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে।

তবে খরচকে নিয়ন্ত্রণ করার যত চেষ্টাই করা হোক, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা বেড়ে চলার কারণে স্বাস্থ্যসেবার খরচও বেড়ে চলেছে। খরচ বৃদ্ধির কারণের তালিকায় আরও আছে দামি প্রযুক্তি, চিকিৎসা সংক্রান্ত পণ্য ও সেবার আধুনিকায়ন এবং এই খাতে নানা অংশীজনের অন্তর্ভুক্তি।

আধুনিক রাষ্ট্রচালিত স্বাস্থ্যবিমা, বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা বা ‍দুয়ে মিলে হাইব্রিড ব্যবস্থা থাকা দেশগুলোতেও স্বাস্থ্যসেবার খরচটাকে সাধ্যের মধ্যে রাখতে ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্যে যেতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবায় চলমান পেমেন্ট সিস্টেমগুলো কেমন?

যেসব দেশে ইউএইচসি ব্যবস্থাটা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত, সেসব দেশে নানা ধরনের একক-প্রদানকারী তথা সিঙ্গেল-পেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত স্বাস্থ্যসেবার প্রদত্ত অর্থটা জনগণের তরফ থেকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে পরিশোধ করে সরকার। আর ওই অর্থটা আসে মূলত করদাতাদের কাছ থেকেই। যেখান থেকে স্বাস্থ্য খাতের জন্য তহবিল রাখা হয়। ইউএইচসির এটাই সর্বজনস্বীকৃত পন্থা, যেখানে প্রত্যেকেরেই একটি মানসম্পন্ন সেবায় প্রবেশাধিকার রয়েছে—খরচ নিয়ে কোনও ধরনের দুশ্চিন্তা ছাড়াই।

‘অসুস্থতার তহবিল’ নামের একটি ব্যবস্থা আছে যা কিনা অলাভজনক স্বাস্থ্যবিমা করাটা অনেকটা বাধ্যতামূলক ও সেটা বেসরকারিভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। এখানে বেতনভোগী ও চাকরিদাতারা তাদের আয়ের অংশ দিয়েই এই তহবিল গড়ে তোলেন এবং সেখানে সরকারও একটি অংশ ভর্তুকি দেয়।

মাল্টি-পেয়ার তথা বহু-প্রদানকারী পদ্ধতি হলো বিভিন্ন পেমেন্ট মেথডের মিশ্রণ। সরকারি সিঙ্গেল-পেয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি থাকে তৃতীয় পক্ষের বেসরকারি ইনশিওরার ও হেলথ ইন্সুরেন্স এক্সচেঞ্জ। এক্ষেত্রে মুক্তবাজারে বেসরকারি ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোকে প্রতিযোগিতা করতে হয়। ওরা তখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিদাতাদের কাছে নিজেদের নানা প্রস্তাব তুলে ধরে। আর ওই প্রতিষ্ঠানই তখন তার কর্মীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয়ভার গ্রহণ করে। এই ব্যবস্থাটি এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, নিত্যনতুন সেবা ও উচ্চমান সম্পন্ন সেবার প্রসারে কাজ করে।

এরপরই আসে ওওপির খরচের প্রসঙ্গ। যেসব রাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তার কোনও স্কিম চালু নেই, সেখানে এই আউট-অব-পকেট তথা ওওপি ব্যবস্থাই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

আবার, যেসব দেশে স্বাস্থ্যবিমা চালু আছে, সেখানেও ওওপি ব্যবস্থা আছে, যেখানে উপকারভোগীরা বড় পরিসরে স্বাস্থ্যসেবার খরচ মেটাতে বাড়তি খরচ ও কো-পেমেন্ট পরিশোধ করে। ওওপি হলো মূলত স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক ব্যবস্থার একটি সূচক। এটা যদি খুব বেশি হয়, তবে লোকজন স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার প্রতি অনীহা প্রকাশ করে; আবার এটি যদি সাধ্যের মধ্যে থাকে, তবে স্বাস্থ্যসেবা সবার নাগালেই থাকে।

কোন দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সবচেয়ে খরুচে, সেটা কেন?

বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে জটিল ও ব্যয়বহুল মাল্টি-পেয়ার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটি তাদের জিডিপির ১৮ শতাংশ ব্যয় করে স্বাস্থ্যসেবার পেছনে। ২০১৯ সালে যেটা ছিল ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এ বিপুল পরিমাণ খরচ সত্ত্বেও দেশটির শতভাগ জনগণ স্বাস্থ্যসেবার কাভারেজের আওতায় আসেনি, এসেছে ৯১ দশমিক ৪ শতাংশ।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, দেশটিতে ১৯৩০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যবিমার সূচনা হয়েছিল। ১৯৪৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের আইডিয়া ছিল জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা হবে সিঙ্গেল-পেয়ার ভিত্তিক তথা বিমার টাকা পরিশোধ করবে একটি মাত্র সরকারি সংস্থা। কিন্তু তাতে ভেটো পড়ে দুটো কারণে—প্রথমত, কর বেড়ে যাওয়ার ভয় ও দ্বিতীয়ত, সমাজতন্ত্রের একটি ভুল উপসংহারে আসার শঙ্কা (ফলস অ্যানালজি)। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালে প্রণীত হয়েছিল মেডিকেয়ার ও মেডিকএইড নামের দুটো সোশাল ইন্সুরেন্স প্রোগ্রাম। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ বছর বয়সী বা তদূর্ধ্ব নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে মেডিকেয়ার এবং মেডিকএইড সেবা দিচ্ছে দেশটির স্বল্প আয়ের নাগরিকদের।

মেডিকেয়ার হলো একটি সিঙ্গেল-পেয়ার ব্যবস্থা, যা কর্মী, নিয়োগকর্তা এবং স্ব-নিযুক্ত ব্যক্তিদের আয়কর থেকে তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় সরকার অর্থায়ন করে। যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন আবার এটা আশা করে না যে, অবসরের পর তাদের সন্তানরা তাদের দেখভাল করবে। তাই চাকরিতে থাকা অবস্থাতেই তাদের করের একটি অংশ ও নিয়োগকর্তা থেকে দেওয়া একটি অংশ চলে যায় স্বাস্থ্যসেবার ট্রাস্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে। অ্যাকাউন্ট থাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ট্রেজারিই ওই অ্যাকাউন্টের ধারক। বয়স ৬৫ পার হলেই উপকারভোগীর জন্য উন্মুক্ত করা হয় ওই তহবিল।

অপরদিকে, কম আয়ের জনগণের জন্য যৌথভাবে মেডিকএইড তহবিলের জোগান দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার।

এসবের বাইরে, দেশটির সবচেয়ে বড় সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা হিসেবে আছে ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স-এর অধীনে ভেটেরানস হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ভিএইচএ)। যা প্রতিবছর ৯০ লাখ মার্কিন বয়স্ক নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে।

ভিএইচএ হলো সিঙ্গেল-পেয়ার সিস্টেম, যার তহবিলের জোগান দেয় শুধু কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৯ সালে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ৭৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, মেডিকেয়ার ও মেডিকএইডের আওতায় আছে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ জনগণ।

কর্মসংস্থারভিত্তিক যে বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলো আছে, তাদের আওতায় আছে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ জনগণ। এদের জন্য কাজ করে বিমার তৃতীয় পক্ষ। আর দেশটিতে এমন বেসরকারি বিমা কোম্পানি আছে সহস্রাধিক। তারা একেক কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য একেক ধরনের পলিসি ডিজাইন করে। তবে এগুলোর ৮০ শতাংশই হলো কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তাদের স্পন্সর করা স্বাস্থ্যবিমা। এই সুবিধাটা কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের করযোগ্য আয়ের বাইরে থাকে এবং এই প্ল্যানের আওতায় আরও অনেক স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত করা যায়, যখন এর সুবিধাভোগীরা বাড়তি কো-পেমেন্ট বা ডিডাকটিবলস পরিশোধ করতে সম্মত হয়।

কয়েক দশক ধরে নানা ধরনের সংশোধন করার পরও মেডিকেয়ার ও মেডিকএইড এখনও লাখ লাখ মানুষকে বিমার আওতায় আনতে পারেনি। বারাক ওবামার শাসনামলে এই গ্যাপ পূরণে খসড়া করা হয়েছিল অ্যাফোরডেবল কেয়ার অ্যাক্ট ২০১০-এর। সেই ‘ওবামাকেয়ার’-এর তহবিল এসেছিল রাজ্যগুলোর মেডিকএইড-এর বাড়তি বরাদ্দ, নামিদামি স্বাস্থ্য-বিমার আবগারি শুল্ক, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি থেকে পাওয়া শুল্ক, ব্র্যান্ডেড ওষুধ থেকে পাওয়া কর ইত্যাদি থেকে।

২০১২ সালে দেশটিতে বিমার বাইরে ছিল ৪ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ। ওবামাকেয়ার চালুর পর ২০২০ সালে সংখ্যাটা কমে ২ কোটি ৮০ লাখে দাঁড়ায়।

এই সুবিশাল স্বাস্থ্যসেবা খরচের প্রদায়ক কারা?

চিকিৎসকের মোটা অঙ্কের বেতন, হাসপাতাল সেবার উচ্চ ব্যয়, দামি ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত প্রশাসনিক খরচ; যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতের খরচ বেড়ে যাওয়ার বড় কয়েকটি কারণ হলো এগুলো। দেশটিতে আবার ফি-ফর-সার্ভিস নামের একটি পলিসিও রয়েছে, যা কিনা মূলত একটি পরিমাণ-নির্ভর পেমেন্ট ব্যবস্থা। এতে করে স্বাস্থ্য খাতের সেবার যত ব্যবহার হবে, আনুপাতিক হারে খরচও তত বাড়তে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ খাতে উচ্চহারে খরচের যৌক্তিকতা কী?

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে কেবল ওষুধের পেছনেই খরচ হয়েছিল ৩৭০ বিলিয়ন ডলার। ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের আয়ের ২৫ শতাংশ খরচ করে নতুন ওষুধের গবেষণা ও উন্নয়নে কিংবা প্রচলিত ওষুধের নতুন সংস্করণ বের করার পেছনে। ২০১৯ সালে এ খাতেই খরচ ছিল ৮৩ বিলিয়ন ডলার।

দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (এনআইএইচ) নামের সংস্থাটিও করদাতাদের বিলিয়ন ডলার খরচ করে নতুন ওষুধ বা মেডিক্যাল যন্ত্র আবিষ্কারের পেছনে। এ ধরনের গবেষণাগুলো বেশি হয় ওষুধ কোম্পানি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এনআইএইচ ও বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যালগুলো থেকে এ গবেষণা বাবদ বরাদ্দ পায়। গত কয়েক দশকে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে এনআইএইচ-এর তুলনায় ওষুধ কোম্পানিগুলোর বাজেট বেড়েছে দারুণ গতিতে। ২০২০ সালে এ খাতে এনআইএইচ-এর বাজেট ছিল ৪১ বিলিয়ন ডলার, ওষুধ কোম্পানিগুলোর ছিল ৯১ বিলিয়ন ডলার।

গত বিশ বছরে আবিষ্কৃত নতুন ওষুধগুলোর এক-তৃতীয়াংশ তৈরি করেছে ছোটখাটো ও সম্ভাবনাময় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো। ওই কোম্পানিগুলোর আয় তুলনামূলক কম এবং তারা নতুন ওষুধ তৈরির গবেষণার জন্য বড় কোম্পানি ও ভেঞ্চার বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ বরাদ্দ পেয়ে থাকে। বড় কোম্পানিগুলো এই ছোট কোম্পানিগুলো কাছ থেকে সেই ফর্মুলা কিনে বাজারজাতের অনুমোদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত চালায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর নিয়মানুযায়ী সাধারণত তিনটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা ক্ষেত্রবিশেষ চারটিরও প্রয়োজন হয়। আবার অনেক সময় ফার্মাসিউটিক্যালগুলোকে এটাও প্রমাণ করতে হয় যে তাদের নতুন ওষুধটি বাজারে থাকা প্রচলিত একই ধরনের ওষুধের চেয়ে আরও বেশি কার্যকর।

ধারণা করা হয় যে গড়ে কোম্পানিগুলো একটি নতুন ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পেছনে ৮০ কোটি থেকে ১৪০ কোটি ডলার ব্যয় করে। আর এর আগে গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করে প্রায় ১০০ কোটি ডলার।

ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর এই গবেষণা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি মূলত ভবিষ্যতের মুনাফার ওপর ভিত্তি করে চালিত হয়। আর ওই মুনাফা নির্ভর করে ওই ওষুধটি সারা দুনিয়া থেকে কী পরিমাণ আয় করলো, গবেষণা ও উন্নয়নে কতটা খরচ হলো এবং ওষুধের চাহিদা ও যোগান সংক্রান্ত নীতিমালার ওপর। একবার একটি ওষুধ বাজারজাতকরণের অনুমতি পেলে পরবর্তী ২০ বছর ওটার প্যাটেন্ট থাকে উৎপাদনকারী কোম্পানির। এই সময়ে ওষুধটির একচেটিয়া ব্যবসা থাকে ওই কোম্পানির দখলে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারও গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করে এবং মেডিকেয়ার, মেডিকএইড, ভিএইচএস ও অ্যাফোরডেবল কেয়ার অ্যাক্ট-এর জন্য ওষুধ কেনে। এ ওষুধ সরকার কেনে অবসরে যাওয়া ব্যক্তি, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও অল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য।

সরকারের এমন ওষুধ কেনার ফলে ফার্মাসিউটিক্যালগুলোর যে আয় হয় তাতে তারা নতুন ওষুধ আবিষ্কারে আরও আগ্রহ পায়। আর এটা পরিষ্কার যে, যেহেতু ব্যবসায়িক কৌশলটা হলো ওষুধ উৎপাদনের যাবতীয় খরচ তুলে আনা, তাই, ওষুধের দামও হয় তুলনামূলক বেশি।

অ্যাক্রিডিটেশন (স্বীকৃতি)-এর ভূমিকা কী?

স্বাস্থ্যসেবা খাতে অ্যাক্রিডিটেশন তথা স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কিছু আদর্শমান নির্ধারণ করে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও স্বীকৃতি পেতে সেই সব আদর্শমান মেনে চলতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে শুধু হাসপাতালগুলোর জন্য এমন পাঁচটি বড় মাপের অ্যাক্রিডিটেশন সংস্থা আছে। হাসপাতালগুলো ঠিক করে তারা কোন ধরনের অ্যাক্রিডিটেশন নেবে। স্বীকৃতি নির্ভর করে রোগীর নিরাপত্তা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও মানোন্নয়নের ওপর। এই ধরনের স্বীকৃতি পেলে প্রতিষ্ঠানের পারফরমেন্সও শক্তিশালী হয়। তবে প্রক্রিয়াটির জন্য দুই-তিন বছর লেগে যায় এবং স্বীকৃতির সনদ ধরে রাখতে কয়েক বছর পর পর এর রিভিউ করতে হয়। এ প্রক্রিয়াতেও খরচ বাড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধির এটিও একটি কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এই ধরনের অ্যাক্রিডিটেশনকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে সরকারের তরফ থেকে অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার কাজটা সহজ হয়। আর এর ফলে প্রতিষ্ঠানও তাদের ক্রমাগত মানোন্নয়নে সচেষ্ট থাকে এবং বরাদ্দ প্রাপ্তির জন্য নিজেদের যোগ্যতা ধরে রাখে।

হেলথ ইনফরমেশন সিস্টেম কি খরচ বাড়ায়?

স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থা তথা হেলথ ইনফরমেশন সিস্টেম (এইচআইএস) হলো এমন এক প্রণালি, যার মধ্য দিয়ে মেডিকেয়ার কিংবা কর্মসংস্থার সংক্রান্ত যাবতীয় বিমা দাবির নিষ্পত্তি করা হয়। সেবা প্রদানের প্রমাণ প্রক্রিয়াকরণ করে এটি। অনেক এইচআইএস আবার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সেন্টার ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকএইড (সিএমএস)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকে। এতে করে সেবার বিপরীতে সরাসরি অর্থের দাবি করা যায়।  ব্যাপক পরিসরে একটি সমন্বিত এইচআইএস ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে বেশ ব্যয়বহুল।

উপরের আলোচনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও জটিল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে একটি অগোছালো বিশ্লেষণ, যেখানে রোগী, সেবা প্রদানকারী, অর্থদাতা ও নীতিনির্ধারকরাই হলেন অংশীজন। তাদের মূল চ্যালেঞ্জটা হলো খরচ। এই ক্রমবর্ধমান খরচে লাগাম পরাতে তারা একটি মান-ভিত্তিক পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। এ পদ্ধতিতে সেবা প্রদানকারীদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয়, যাতে তারা তাদের সুবিধাভোগীদের মানসম্পন্ন প্রাথমিক যত্ন নিশ্চিত করে। যার ফলে সুবিধাভোগীদের জন্য দামি হাসপাতাল সেবা, জরুরি সেবা বা বিশেষজ্ঞদের যত্নের প্রয়োজন কমে আসে।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গেল-পেয়ার সিস্টেমে— বিশেষ করে ভিএইচএ সেবা প্রদানকারীরাই অন্যদের চেয়ে উপকারভোগীদের বেশি সন্তোষজনক সেবা দিতে পারছে।

এ ধরনের একটি জটিল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তৈরি করতে আরও বহুদূর যেতে হবে বাংলাদেশকে। তবে বাইরে কী হচ্ছে না হচ্ছে সেটা জেনে রাখাও কিন্তু জরুরি। 

লেখক: অর্গানিকেয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। এমবিবিএস, এমবিএ ও হেলথ কেয়ার লিডারশিপে স্নাতকোত্তর।

Source: https://www.banglatribune.com/

Pages: [1] 2 3 ... 128