Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - A-Rahman Dhaly

Pages: 1 2 [3] 4 5 6
31
Islam / হজ্ব বিষয়ক ভুল-ভ্রান্তি
« on: December 21, 2016, 09:40:25 AM »
জ্বই একমাত্র ইবাদত, যার নিয়ত করার সময়ই আল্লাহ তাআলার নিকট সহজতা ও কবুলের দুআ করা হয়। অন্যান্য ইবাদত থেকে হজ্বের আমলটি যে কঠিন তা এ থেকেই স্পষ্ট। হজ্বের সঠিক মাসআলার জ্ঞান যেমন জরুরি, তেমনি তা আদায়ের কৌশল এবং পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে করণীয় বিষয়গুলোর প্রতি পূর্ণ খেয়াল রাখাও জরুরি। হজ্বে যে সকল ভুল হতে দেখা যায় তা সাধারণত উদাসীনতার কারণেই হয়ে থাকে। তাই নিম্নে সচরাচর ঘটে থাকে এমন কিছু ভুল উল্লেখ করা হচ্ছে। যেন হাজ্বীগণ এ সকল ভুল-ভ্রান্তি- থেকে বেঁচে সুষ্ঠুরূপে হজ্ব আদায়ে সক্ষম হন। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন।
ইহরামের দুই রাকাত নামাযের জন্য ইহরাম বিলম্বিত করা

ইহরাম বাঁধার আগে দুই রাকাত নামায পড়ার নিয়ম আছে। তাই অনেককে দেখা যায়, এই দুই রাকাত নামাযের সুযোগ না পাওয়ার কারণে ইহরাম বিলম্বিত করতে থাকে। এমনকি এ নামায পড়তে না পারার কারণে কেউ কেউ ইহরাম ছাড়াই মীকাতে র ভেতরে পর্যন- চলে যায় অথচ ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করা জায়েয নয়। তারা যেহেতু ইহরামের আগে দুই রাকাত নামায আদায়কে জরুরি মনে করে তাই তারা এমনটি করে থাকে। অথচ ইহরামের আগে নামায পড়া সকল মাযহাবেই মুস্তাহাব; জরুরি কিছু নয়। পক্ষান-রে ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করা নাজায়েয। সুতরাং ইহরামের আগে নামাযের সুযোগ পেলে তো তা আদায় করা চাই, কিন্তু সুযোগ না পেলে সে কারণে ইহরাম বাঁধাকে বিলম্ব করবে না।-সহীহ মুসলিম ১/৩৭৬; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস : ১২৯০০; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৯৮; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৫/৮১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৩; রদ্দুল মুহতার ২/৪৮১-৪৮২
ইহরাম বাঁধার নিয়ম সংক্রান্ত- ভ্রান্তি-সমূহ

অনেকে মনে করে থাকে যে, ইহরামের কাপড় পরে নামায পড়ার পর নিয়ত করলেই ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যায়। এ ধারণা ভুল। এগুলো দ্বারা ইহরাম সম্পন্ন হয় না। নিয়ত আরবীতে করা হোক বা বাংলাতে, সশব্দে করা হোক বা মনে মনে এর দ্বারা ইহরাম সম্পন্ন হয় না; বরং নিয়তের পর তালবিয়া পড়লে ইহরাম পূর্ণ হয়। অতএব বোঝা গেল, ইহরাম সম্পন্ন হয় দুই বস'র সমন্বয়ে : ১. হজ্ব বা উমরার নিয়ত করা ও ২. তালবিয়া পড়া।-জামে তিরমিযী ১/১০২; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ৬৫; মানাকি মোল্লা আলী কারী পৃ. ৮৯
মক্কাগামীদের জন্য জিদ্দায় ইহরাম বাঁধা

কেউ কেউ আগে থেকেই ইহরাম বাঁধা ঝামেলা মনে করে এবং ভাবে যে, ইহরাম বেঁধে নিলেই তো ইহরামের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়ে যাবে। বিমান যেহেতু জিদ্দায় অবতরণ করবে তাই জিদ্দায় ইহরাম বাঁধার ইচ্ছায় ইহরামকে বিলম্বিত করে। অথচ মীকাতের বাইরের হাজ্বীদের জন্য ইহরাম ব্যতীত মীকাত অতিক্রম করা জায়েয নেই। উপমহাদেশ থেকে গমনকারী হাজ্বীদের জন্য মীকাত হল কারনুল-মানাযিল ও যাতু ইরক যা অতিক্রম করেই জেদ্দায় যেতে হয়। যদি কেউ বিনা ইহরামে মীকাত অতিক্রম করে তবে তার জন্য পুনরায় মীকাতে ফিরে এসে ইহরাম বেঁধে যাওয়া জরুরি। যদি তা না করে তবে দম ওয়াজিব হবে। যেহেতু বিমানে থাকা অবস্থায় মীকাতের জায়গা নির্ধারণ করা কঠিন বা ঐ সময় ঘুমিয়ে পড়া, অন্যমনষ্ক থাকা ইত্যাদি হতে পারে। তাই বিমানে চড়ার আগে কিংবা বিমানে উঠেই ইহরাম বেঁধে নেওয়ার কথা বলা হয়।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস : ১৫৭০২; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৮৪; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২১; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৫/৭৬; রদ্দুল মুহতার ২/৪৭৭

সেলাইবিহীন কাপড় বা চপ্পলের জন্য ইহরাম বিলম্বে বাঁধা

কেউ কেউ ইহরামের কাপড় না পরে বিমানে উঠে যায়। অথবা মদীনা থেকে গাড়িতে উঠে পড়ে। এরপর যখন গাড়ি বা বিমানের মধ্যে পরিধানের কাপড় বদলিয়ে ইহরামের কাপড় পরা কষ্টকর হয় কিংবা কাপড় লাগেজে থেকে যায়। তখন তারা সেলাইবিহীন কাপড় পরতে না পারার কারণে ইহরাম বিলম্বিত করতে থাকে। এমনকি ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করে ফেলে। ফলে দম ওয়াজিব হয়ে যায়। অথচ মীকাত অতিক্রমের আগে সেলাইযুক্ত কাপড়ের অবস্থায়ই যদি ইহরাম বেঁধে নিত এবং গাড়ি বা বিমান থেকে অবতরণের পরেই ইহরামের কাপড় পরে নিত তবে তার অন্যায়টা দম ওয়াজিব হওয়ার মতো বড় হত না। ইহরাম অবস্থায় এ কয়েক ঘণ্টা (১২ ঘণ্টার কম) সেলাই করা কাপড় পরে থাকার কারণে একটি পূর্ণ সদকা ফিতর আদায় করে দিলেই চলত।-জামে তিরমিযী ১/১৭১; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৩০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪২; রদ্দুল মুহতার ২/৫৪৭

ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করা যাবে না

কেউ কেউ মনে করে, যে কাপড়ে ইহরাম বাঁধা হয়েছে সে কাপড় হালাল (ইহরাম শেষ) হওয়ার আগ পর্যন- বদলানো যাবে না। এটা একটা ভুল ধারণা। ওই কাপড় নাপাক না হলেও বদলানো যাবে।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস : ১৫০১০, ১৫০১১; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৯৮; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ৭১

তাওয়াফের সময় ছাড়াও ইযতিবা করা

অনেককে দেখা যায়, ইহরামের প্রথম থেকেই ইযতিবা (বাম কাঁধের উপর চাদর রেখে ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে পরিধান করা) করে থাকে এবং হালাল হওয়া পর্যন- এ অবস্থায় থাকাকে শরয়ী হুকুম মনে করে। এটি ভুল। এভাবে নামায পড়লে নামায মাকরূহ হবে। আবার কেউ কেউ তাওয়াফের সময় ইযতিবা করে এবং এ অবস্থায় সায়ীও করে থাকে এবং তাওয়াফের মতো সাঈতেও তা করা শরয়ী বিধান মনে করে। অথচ সাঈতে ইযতিবা’র বিধান নেই। এমনকি সকল তাওয়াফেও এটি সুন্নত নয়; বরং যে তাওয়াফের পর সাঈ করতে হয় শুধু সেই তাওয়াফেই ইযতিবা করতে হয়। সুতরাং নফল তাওয়াফে ইযতিবা নেই। কেননা নফল তাওয়াফের পর সাঈ নেই।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৫; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ১২৯; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৫/২১৭

এ সংখ্যার প্রচ্ছদ
হজ্ব এবং কুরবানী বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ

    মুসলমানদের মাঝে ঈমান ও ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ঐক্য সৃষ্টির চেষ্টা করুন একই দিনে ঈদের বিষয় দায়িত্বশীলদের উপর ছাড়ুন
    হজ্জ্বঃ হাদীস ও আছারের আলোকে
    বদলী হজ্বের মাসায়েল
    নফল হজ্ব কখন করব, কীভাবে করব
    হজ্বের প্রস্ত্ততি
    হজ্ব বিষয়ক ভুল-ভ্রান্তি
    হজ্জ্ব: যা দান করে আত্মত্যাগ ও আত্মনিবেদনের শিক্ষা
    হজ্বে আছে ইবরাহীমী আনুগত্যের প্রশিক্ষণ
    ইহরামের চাদরকেই ইহরাম মনে করা
    কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে হজ্ব ও উমরার গুরুত্ব ও ফযীলত
    কুরবানীর মাসায়েল
    কুরবানী ও ঈদের পয়গাম
    কুরবানী বিষয়ক কিছু হাদীস
    কুরআন ও সুন্নাহয় কুরবানী
    কুরবানী ও কুরবানীর তাৎপর্য : ইবাদত সম্পর্কে বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়
    আশরায়ে যিলহজ্ব ও আইয়ামে তাশরীক : তাওহীদের উচ্চারণে পরিশুদ্ধ হোক আমাদের জীবন
    ঈদুল আযহা : আমাদের ঈদ, ওদের ...
    কোরবানীর সময়সীমা : একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর
    কুরআন ও হাদীসের আলোকে আশারায়ে যিলহজ্ব : গুরুত্ব, ফযীলত ও বিশেষ আমল
    দুটি প্রশ্ন ও তার উত্তর : ইয়াওমে আরাফার রোযা ও কোরবানির সাথে আকীকা
    কুরবানীর শরীক সংখ্যা কি বেজোড় হওয়া জরুরি


মাসিক আলকাউসার
যিলক্বদ ১৪৩০ . নভেম্বর ২০০৯

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ৫ . সংখ্যা: ১১

32
রশ্ন : আমরা জানি, কোরবানী তিন দিন করা যায় : ১০, ১১ ও ১২ যিলহজ্ব্। কিন্তু একটি বইয়ে দেখলাম, কোরবানীর সময় চারদিন : ১০ যিলহজ্ব, এরপর আরো তিন দিন। ঐ বইয়ে এটাকেই সঠিক বলা হয়েছে এবং জুবাইর ইবনে মুতয়িম রা.-এর সূত্রে একটি হাদীসের উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছে। আর তিন দিনের কথাটাকে বলা হয়েছে ভিত্তিহীন।

ঐ বইয়ের আলোচনা পড়ে সংশয়ে পড়ে গেছি। সঠিক সমাধান জানতে চাই।

ড. আযাদ

উত্তরা, ঢাকা

উত্তর : কোরবানীর সময় তিন দিন : ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ্ব। এটি সহীহ ‘মারফূ হুকমী’ হাদীসে স্পষ্টভাবে আছে, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার। তদ্রূপ সাধারণ মারফূ হাদীস দ্বারাও তা প্রমাণিত।

সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিমসহ হাদীসের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐ বিখ্যাত হাদীস বিভিন্ন সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যাতে তিন রাতের পর ঘরে কোরবানীর গোশত রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র মানুষের সহায়তা। কারণ ঐ বছর ঈদুল আযহার সময় আশপাশ থেকে অনেক দরিদ্র মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। সহীহ বুখারীতে ঐ হাদীসের পাঠ এই-

من ضحى منكم فلا يصبحن بعد ثالثة وبقي في بيته منه شيء.

  -সহীহ বুখারী, কিতাবুল আযাহী, বাব : ১৬, হাদীস : ৫৫৬৯

সহীহ মুসলিমে হযরত জাবির রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের পাঠ এই-

كنا لا نأكل من لحوم بدننا فوق ثلاث مني، فارخص لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال : كلوا وتزودوا ...

-সহীহ মুসলিম, কিতাবুল আযাহী, হাদীস ৫০৬৭

এ হাদীস থেকে বোঝা যায়, শরীয়তের দৃষ্টিতে কুরবানীর সময় তিন দিন। তবে এই সময়ের পরও কোরবানীর গোশত সংরক্ষণের যে সাধারণ বৈধতা ছিল একটি বিশেষ সামাজিক প্রয়োজনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা রহিত করে দিয়েছিলেন পরে আবার তার অবকাশ প্রদান করেন। ঐ অবকাশের। হাদীসগুলোতে কোথাও একথা নেই যে, তিনি কোরবানীর গোশত সংরক্ষণের অবকাশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চতুর্থ দিনও কোরবানী করার অনুমতি দিয়েছেন।

قال الإمام أبو بكر الرازي الجصاص : فدلت هذه الأخبار على أن جواز الأضحية مقصور على هذه الأيام، لأنه إذا كان منهيا عن تبقية اللحم أكثر من ثلاث والذبح لا محالة قبل ذلك علمنا أن الذبح مقصور على ثلاث.

وقد روي في بعض ألفاظ حديث علي رضي ا لله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى أن يبقى عندكم من نسككم شيء بعد الثلاث، فهو على الحي والمذبوح جميعا، لأن اللفظ يتناولهما. انتهى

وقال الإمام ابن قدامة الحنبلي في المغني : ولنا أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن ادخار لحوم الأضاحي فوق ثلاث، ولا يجوز الذبح في وقت لا يجوز ادخارالأضحية إليه. انتهى

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী, জাসসাস ৭/৩৩২-৩৩৩; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ১৩/৩৮৭

সাহাবায়ে কেরামও সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোরবানীর সময় তিন দিন বলাবাহুল্য, এটা তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকেই গ্রহণ করেছেন। কারণ ইবাদতের সময়সীমা তো নিছক যুক্তি-বুদ্ধির দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে না। তাই এ ধরনের বর্ণনাকে পরিভাষায় ‘মারফূ হুকমী’ বলে, যা মারফূ হাদীসেরই একটি প্রকার।

সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য

১. হযরত আনাস রা. বলেন, ‘যবেহ (কোরবানী) করা যায় ঈদের (দিনের) পর আর দুই দিন।’

الذبح بعد العيد يومان

এই বর্ণনার সনদ সহীহ। দেখুন : আহকামুল কুরআন, তহাবী, ২/২০৬; আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৯/২৯৭; আলমুহাল্লা, ইবনে হাযম ৭/৪৯৯

২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, ‘ঈদুল আযহার (দিনের) পর আযহা (কুরবানী) দুই দিন।’

الأضحى يومان بعد يوم الأضحى.

এই বর্ণনার সনদ সহীহ, বরং আসাহহুল আসানীদ (শ্রেষ্ঠ সনদ)-এর অন্যতম। দেখুন : আল মুয়াত্তা, ইমাম মালিক باب الضحية عما في بطن المرأة، وذكر أيام الأضحى   হাদীস : ২০৩৮

৩. আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, ‘আযহা (কোরবানী) তিন দিন।’ অন্য বর্ণনায় আছে, ‘কোরবানী করা যায় ইয়াওমুন নহর (কোরবানীর দিন)-এর পর আরও দুই দিন।’

الأضحى ثلاثة أيام، وفي لفظ : النحر يومان بعد يوم النحر، وأفضلها يوم النحر.

এ বর্ণনা বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে। ইবনুত তুরকুমানী রাহ. তহাবীর সনদকে ‘জাইয়েদ’ বলেছেন। দেখুন : আহকামুল কুরআন তহাবী আল জাওহারুন নাকী, (সুনানে কুবরা বাইহাকীর সাথে মুদ্রিত) ৯/২৯৬

৪. আবু হুরায়রা রা. বলেন, ‘আযহা (কোরবানী) হচ্ছে তিন দিন।’

الأضحى ثلاثة أيام

-আলমুহাল্লা, ইবনে হাযম-ইলাউস সুনান ১২/২৩২-১৩৩

৫. আলী ইবনে আবী তালিব রা. থেকে বর্ণিত, ‘কোরবানী তিন দিন।’

النحر ثلاثة أيام، وفي لفظ النحر ثلاثة أيام أفضلها أولها.

-আলমুয়াত্তা, ইমাম মালিক, প্রাগুক্ত  ; আহকামুল কুরআন, তহাবী ২/২০৫; ই’লাউস সুনান ১২/২৩২

৬. ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, ‘কোরবানী শুধু এই তিন দিনই করা যায়।’

إنما النحر في هذه الثلاثة الأيام

-আলমুহাল্লা, ইবনে হাযম-ইলাউস সুনান ১২/২৩২

সাহাবায়ে কেরামের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ইমাম তহাবী রাহ. ঐ মূলনীতি উল্লেখ করেছেন, যার ভিত্তিতে পরিষ্কার প্রতীয়মান হয় যে, বিষয়টি তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই গ্রহণ করেছেন এবং যে কারণে এই বর্ণনাগুলো ‘মারফু হুকমী’র পর্যায়ভুক্ত হয়। দ্র. আহকামুল কুরআন, তহাবী ২/২০৮

একই কথা অতি সহজ ও সংক্ষেপে বলেছেন ইমাম আবু বকর রাযী আলজাসসাস রাহ.। তাঁর আলোচনায় মূল পাঠ উদ্ধৃত করা হল।

فإن مقادير الأوقات التي تتعلق بها صحة الفروض لا تعلم من طريق المقاييس، وإنما طريقها التوقيف أو الاتفاق. وقد حصل الاتفاق والسنة في الثلاث. فأثبتناها ولم نثبت ما فوقها، لعدم الدلالة عليه. انتهى

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৭/৩৩৩

আরো দেখুন : আহকামুল কুরআন জাসসাস ৩/২৩৪ সূরা হজ্বের আলোচনায়।

বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, ‘আযহা (কোরবানী) তিন দিন। ইওয়ামুন নাহর ও তার পর দুই দিন।’ অন্য বর্ণনায়, ‘আযহা (কোরবানী) তিন দিন : ইয়াওমুন নাহ্র ও তার পর দুই দিন। আর আইয়ামুত তাশরীক হচ্ছে ইয়াওমুন নাহর-এর পর তিন দিন।’

الأضحى ثلاثة أيام : يوم النحر ويومان بعده. رواه الإمام أبو حنيفة في كتاب الآثار رقم ٧٨٦ وقال محمد : وبه نأخذ، وهو قول أبي حنيفة. وفي رواية أبي يوسف عنه زيادة ...وأيام التشريق ثلاثة أيام بعد يوم النحر.

-কিতাবুল আছার, ইমাম আবু হানীফা, (ইমাম মুহাম্মাদ রাহ.-এর বর্ণনা) হাদীস : ৭৮৬; (ইমাম আবু ইউসুফ রাহ.-এর বর্ণনা) হাদীস : ৩০৬

ইমাম আবু হানীফা,  ইমাম মালিক, ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান, ইমাম যফর ইবনুল হুযাইল, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহিমুাহুল্লাহ) প্রমুখ বিখ্যাত মুজতাহিদ ইমামগণের  সিদ্ধান্তও তাও। সুতরাং একে ‘ভিত্তিহীন’ বলা চরম মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

 কোনো কোনো আহলে ইলম কুরবানীর সময় চার দিন হওয়ার কথাও বলেছেন। আতা ইবনে আবী রাবাহ, হাসান বসরী, ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহিমাহুমুল্লাহ) থেকে তা বর্ণিত হয়েছে। সেটিও একটি ইজতিহাদী মত। ইমাম শাফেয়ী রাহ. এই মত গ্রহণ করেছেন।

তবে এই দুই মতের কেউই অপর মতকে ভিত্তিহীন বলেননি। শরীয়তের যে বিষয়গুলোতে উভয় দিকে দলীল থাকার কারণে আহলে ইলমের মাঝে ইজতিহাদগত মতভেদ হয়েছে সেসব বিষয়ে একটি মত গ্রহণ করে অন্য মতকে ভিত্তিহীন বলা অপরিপক্কতার পরিচয় বহন করে। এটা সাম্প্রতিক সময়ের শুযুয ও বিচ্ছিন্নতা, যা সালাফের যুগে ছিল না। এ উপসর্গের বিষয়ে সতর্কতা কাম্য।

আর কোরবানীর সময় চার দিন হওয়ার বিষয়ে জুবাইর ইবনে মুতইম রা.-এর সূত্রে বর্ণনাকৃত যে রেওয়ায়েতের কথা প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে তার সনদ ‘মুনকাতি’ ও বিচ্ছিন্ন। তাছাড়া ঐ বর্ণনার আলোচিত অংশটি অনেক ইমামের মতে ‘মা’লূল’ অর্থাৎ তা এ হাদীসের শক্তিশালী বর্ণনাগুলোতে পাওয়া যায় না। বিস্তারিত : আহকামুল কুরআন তহাবী ২/২০৬; আহকামুল কুরআন জাসসাস ৩/২৩৪-২৩৫;আলইসতিযকার ১৫/২০৩-২০৪; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ১৩/৩৮৭; আলমাজমূ শরহুল মুহাযযাব ৮/৩৬১; আলজাওরুন নাকী (সুনানে কুবরার সাথে) ৯/২৯৬; নাসবুর রায়াহ ৪/২১২-২১৩; ইলাউস সুনান ১২/২৩১

আশা করি আপনার প্রশ্নের জবাবের জন্য এটুকু আলোচনা যথেষ্ট। 

মুহাম্মাদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ



 মাসিক আলকাউসার
যিলহজ্ব ১৪৩৩ . নভেম্বর ২০১২

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ০৮ . সংখ্যা: ১০

33
কিছু লোককে বলতে শোনা গেছে, যে পশুতে সাতজন শরীক হতে পারে তাতে শরীকের সংখ্যা বেজোড় হওয়া জরুরি। সুতরাং একটি গরুতে এক, তিন, পাঁচ বা সাতজন শরীক হতে পারবে। দুই, চার বা ছয়জন শরীক হতে পারবে না।

এটা বিলকুল গলত কথা। একটি গরু যেমন এক ব্যক্তি একা কুরবানী করতে পারে তেমনি দুই থেকে সাত পর্যন্ত যে কোনো সংখ্যক শরীক একত্র হয়েও কুরবানী করতে পারে। এতে কোনো বাধা নেই। তেমনি শরীকের সংখ্যা জোড় না হয়ে বেজোড় হওয়ার মাঝেও এমন আলাদা কোনো ফযীলত নেই, যার কারণে পাঁচ শরীকের স্থলে ছয় শরীক বা ছয় শরীকের স্থলে সাত শরীক একত্র হয়ে কুরবানী করতে উৎসাহ দেওয়া যায়.

মাসিক আলকাউসার

মুহাররম-১৪৩৩ . ডিসেম্বর-২০১১

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ০৭ . সংখ্যা: ১১

34
কোনো কোনো এলাকার মানুষ মনে করে, মা যদি গর্ভাবস্থায় থাকেন তাহলে তার আগের সন্তানের খৎনা করানো যাবে না। করলে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হবে। এটি একটি কুসংস্কার মাত্র। এগুলো বিশ্বাস করা যাবে না।
কোনো কোনো মানুষ তো এও মনে করে যে, চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সময়ও গর্ভবতী নারী কিছু কাটাকাটি করলে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়। এ সবই কুসংস্কার।

 মাসিক আলকাউসার
রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ . ডিসেম্বর ২০১৬

চলতি সংখ্যা . বর্ষ: ১২ . সংখ্যা: ১১

35
সাধারণত পুরুষরাই হাঁস মুরগি ইত্যাদি জবাই করে থাকেন। মহিলাদের জবাই করার তেমন প্রয়োজন হয় না। ফলে কোনো কোনো মানুষ মনে করেন, কোনো মহিলা মুরগি বা কোনো পশু জবাই করলে তা খাওয়া হালাল নয়। তাদের এই ধারণা ঠিক নয়। পুরুষের জবাইকৃত পশু যেমন হালাল তেমনি মহিলার জবাইকৃত পশুও হালাল।

বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকলে অনেক সময়ই মহিলাদের হাঁস-মুরগি জবাই করতে হয়। এতে কোনো অসুবিধা নেই।


মাসিক আলকাউসার
রবিউস সানি ১৪৩৫ . ফেব্রুয়ারি ২০১৪

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১০ . সংখ্যা: ০২

36
কোনো কোনো এলাকায় মনে করা হয়, যে ঘরে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় বা ভূমিষ্ঠ শিশুর মা যে ঘরে অবস্থান করেন সে ঘর চল্লিশ দিন পর্যন্ত নাপাক থাকে, এখানে নামায পড়া যাবে না। এটি একেবারেই অমূলক ধারণা, যা মূর্খতা বৈ কিছুই নয়। পাক নাপাকের সম্পর্ক তো নাপাকি লেগে থাকা না থাকার সাথে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া বা ভূমিষ্ঠ সন্তানের মায়ের অবস্থানের সাথে এর কোনোই সম্পর্ক নেই।

মাসিক আলকাউসার
রবিউস সানি ১৪৩৫ . ফেব্রুয়ারি ২০১৪

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১০ . সংখ্যা: ০২

37
অনেক মানুষকে দেখা যায়, মাসবুক অবস্থায় যদি ইমামের সাথে দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেলে তাহলে মনে করে যে তার নামায বাতিল হয়ে গিয়েছে। ফলে আবার নতুন করে শুরু থেকে নামায পড়ে।

এ আমলটি ভুল। মাসআলা না জানার কারণেই হয়তো তারা এমনটি করেন। এক্ষেত্রে নিয়ম হল, দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেললেও, যদি নামায ভেঙে যায় এমন কোনো কাজ না করা হয় তাহলে উঠে যাবে এবং বাকী রাকাত আদায় করবে। শেষে সাহু সিজদা আদায় করবে।

আর একথা তো সবারই জানা যে, মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফেরাবে না। বরং ইমামের দুই দিকে সালাম ফেরানো হলে উঠে বাকী রাকাত আদায় করবে।

আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে মাসআলা জেনে আমল করার তাওফীক দান করুন।     -আবু আহমাদ

মাসিক আলকাউসার
যিলহজ্ব ১৪৩৫ . অক্টোবর ২০১৪

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১০ . সংখ্যা: ০৯

38
কোনো কোনো মানুষ মনে করেন, কাপড়ে নাপাকি লাগলে বা নাপাকির ছিটা লাগলে কাপড়ের এক কোণা ধুলেই পবিত্র হয়ে যাবে। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। বরং কাপড়ের যে অংশে নাপাকি লেগেছে সে অংশই ধুতে হবে। নইলে কাপড় পবিত্র হবে না।

মাসিক আলকাউসার
সফর ১৪৩৬ . ডিসেম্বর ২০১৪

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১০ . সংখ্যা: ১১

39
অনেক মানুষের ধারণা, কুকুরের শরীর নাপাক। সুতরাং কুকুরের গায়ে যদি নিজের শরীর বা কাপড় লেগে যায় তাহলে তা নাপাক হয়ে যাবে।

আর কুকুরের শরীর যদি ভেজা থাকে তাহলে নাপাকী আরো বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় যদি কুকুরের গায়ের সাথে নিজের শরীর বা কাপড় লাগে তাহলে আরো বেশি নাপাক হবে।
এটি একটি ভুল ধারণা। কুকুরের লালা নাপাক কিন্তু কুকুরের শরীর নাপাক নয়। সুতরাং কুকুর যদি কারো শরীর অথবা কাপড় ছুঁয়ে দেয় তাহলে তা নাপাক হবে না, যদিও কুকুরের শরীর ভেজা থাকে। আর কুকুরের গায়ে যদি নাপাকী লেগে থাকে সেটা ভিন্ন কথা।


মাসিক আলকাউসার
রবিউল আউয়াল-রবিউস সানী ১৪৩৭ . জানুয়ারি ২০১৬

40
কারো কারো ধারণা, স্বামীর জন্য তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখা জায়েয নেই। তেমনি কেউ কেউ মনে করে, স্ত্রীর জন্যও তার মৃত স্বামীর চেহারা দেখা জায়েয নেই। তাদের এ ধারণা ভুল। মৃত স্ত্রীর চেহারা যেমন স্বামী দেখতে পারবে, তেমনি স্ত্রিও তার মৃত স্বামীর চেহারা দেখতে পারবে।


মাসিক আলকাউসার
জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৭ . মার্চ ২০১৬

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১২ . সংখ্যা: ০৩

41
কিছু কিছু মানুষ মনে করেন, আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া যাবে না বা তার জন্য মাগফিরাতের দুআ করা যাবে না।

আত্মহত্যা মহাপাপ এবং এর শাস্তিও খুব ভয়াবহ- একথা সবাই জানে। কিন্তু তার জানাযা পড়া যাবে না বা তার জন্য মাগফিরাতের দুআ করা যাবে না- এ ধারণা ঠিক নয়। তার জানাযাও পড়া হবে তার জন্য মাগফিরাতের দুআও করা যাবে।

তবে এমন ব্যক্তির জানাযায় শীর্ষস্থানীয় দ্বীনী ব্যক্তিত্ব না গিয়ে সাধারণ লোক দিয়ে জানাযার নামায পড়িয়ে নেওয়াই উত্তম। -শরহু মুসলিম, নববী ৭/৪৭ (৯৭৮ নং হাদীসের অধীনে); সুনানে কুবরা, বায়হাকী ৪/১৯

 মাসিক আলকাউসার
শাওয়াল ১৪৩৭ . জুলাই ২০১৬

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১২ . সংখ্যা: ০৬

42
কোনো কোনো মানুষকে দেখা যায়, যদি জামাতের শেষ বৈঠকের সময় উপস্থিত হন তাহলে জামাতে শরীক না হয়ে নিজে নিজে আলাদা নামায পড়তে দাঁড়িয়ে যান। তাদের ধারণা, জামাত তো শেষই হয়ে গেছে এখন আর শরীক হয়ে কী হবে!
এটি একটি ভুল আমল। শেষ বৈঠকের সময় উপস্থিত হলেও জামাতে শরীক হয়ে যাবে এবং ইমামের সালাম ফেরানোর পর উঠে নামায আদায় করবে। কারণ, শেষ বৈঠকে শরীক হলেও জামাতের মৌলিক সওয়াব পাওয়া যাবে। -আততামহীদ ৭/৬৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৯

মাসিক আলকাউসার
যিলকদ ১৪৩৭ . আগস্ট ২০১৬

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১২ . সংখ্যা: ০৭

43
সন্তানের সুন্দর নাম রাখা পিতা-মাতার কর্তব্য। পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের হক। তবে সুন্দর নাম বলতে- তা হতে হবে ইসলামসম্মত নাম। নাম অসুুন্দর বা আপত্তিকর হওয়ার কারণে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সাহাবীর নাম পরিবর্তন করে সুন্দর অর্থবহ নাম রেখেছেন।

এক সাহাবীর নাম ছিল আব্দুল হাজার (পাথরের বান্দা)। নবীজী শুনলেন- তাকে আব্দুল হাজার বলে ডাকা হচ্ছে।  তাকে ডেকে বললেন, তোমার নাম কী? সে বলল, আব্দুল হাজার। তখন নবীজী বললেন, বরং তুমি আব্দুল্লাহ (আল্লাহ্র বান্দা)। -আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস ৮১১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ২৫৯০১

নামের অনেক গুরুত্ব। নামের মাধ্যমেই ব্যক্তির ব্যাপারে আমরা প্রাথমিক ধারণা পাই- সে মুসলিম না অমুসলিম। নামের অসঙ্গতির কারণে কখনো কখনো ব্যক্তির সাথে অযাচিত আচরণও হয়ে যায়। তাই আমাদের জীবনে নামের অনেক গুরুত্ব।

এমনিভাবে নামের সাথে সংস্কৃতি ও আদর্শের বিষয়টিও জড়িত। সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে কোন্ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখা হচ্ছে- সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানের নাম রাখার সময় আমরা সুন্দর অর্থবহ নাম বা বড় ব্যক্তি বা প্রিয় ব্যক্তিত্বের নামের বিষয়টি খেয়াল রাখি। কোনো নবীর নামে সন্তানের নাম রাখি বা কোনো সাহাবী-তাবেয়ী কিংবা বড় কোনো বুযুর্গের নামে সন্তানের নাম রাখি। নবীজী থেকে আমরা এ বিষয়ে নির্দেশনা পাই। নবীজীর সন্তান ইবরাহীম জন্ম নিলে নবীজী ইরশাদ করলেন,وُلِدَ لِي اللَّيْلَةَ غُلَامٌ، فَسَمَّيْتُهُ بِاسْمِ أَبِي إِبْرَاهِيمَ.

রাতে আমার একটি পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছে। আমি আমার পিতার নাম অনুসারে (ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নামানুসারে) তার নাম রেখেছি- ইবরাহীম। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৩১৫

এ হল সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে ইসলামের আদর্শ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হল, আমাদের সমাজের কিছু মুসলিম ভাই দ্বীনী বিষয়ে অজ্ঞতা বা স্বীয় দ্বীন ও সংস্কৃতির প্রতি হীনম্মন্যতার কারণে কিংবা বিজাতীয় কালচার বা ব্যক্তির প্রতি দুর্বলতার কারণে- তারা সন্তানের নাম রেখে দেন কোনো বিজাতির নামানুসারে; রুশো, নিউটন, ফ্যন্সি ইত্যাদি। এটি বড়ই দুঃখজনক বিষয়। আর এটি যদি হয় ইসলামী নামের প্রতি অবজ্ঞা বশত তাহলে তো ঈমানের খতরা।

কিয়ামতের দিন তো ব্যক্তিকে তার ও তার পিতার নামসহ ডাকা হবে। এখন কোনো কাফের খেলোয়াড়, অভিনেতা বা ইসলামের দুশমনের নামে সন্তানের নাম রাখা হল, তো কিয়ামতের দিন তাকে সকল সৃষ্টির সামনে ঐ কাফেরের নামে ডাকা হবে! সেদিন আমার সন্তানের কেমন লজ্জায় পড়তে হবে? আর এটা কেমন কথা, আমার সন্তান মুসলিম আর আমি তার নাম রেখে দিব কোনো অমুসলিমের নামানুসারে!

কারো নামে সন্তানের নাম রাখার একটি উদ্দেশ্য তো থাকে নেক ফাল; আল্লাহ যেন সন্তানকে অমুকের মত নেক বানান। কিন্তু কাফেরের নামানুসারে নাম রাখার দ্বারা একজন মুমিনের কী উদ্দেশ্য হতে পারে? ঐ কাফেরের মত হওয়া? নাউযু বিল্লাহি মিন যালিক!

তবে আমাদের এ আলোচনার দ্বারা এও উদ্দেশ্য নয় যে, ইসলামসম্মত নামই সবকিছু; সন্তানের ইসলামসম্মত নাম রাখলাম তো সব দায়িত্ব আদায় হয়ে গেল, তার দ্বীনী তরবিয়ত ইত্যাদি নিয়ে আর ভাবতে হবে না। বরং আমাদের উদ্দেশ্য হল, সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে আমাদের অবহেলা এবং এক্ষেত্রে ইসলামের কিছু নির্দেশনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

সুতরাং সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে আমরা বিষয়গুলো খেয়াল রাখব। আল্লাহ আমাদের সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে নবীজীর সুন্নাহ্ অনুসরণের তাওফিক দিন, তাদেরকে ইসলামী আদর্শের উপর গড়ে তোলার তাওফিক দিন এবং আমাদেরকে জীবনের প্রতিটি বিষয়ে ইসলামী আদর্শের উপর টিকে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন 


 মাসিক আলকাউসার
মুহাররম ১৪৩৮ . অক্টোবর ২০১৬

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১২ . সংখ্যা: ০৯

44
ফজরের সুন্নত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা ফজরের সুন্নত ছেড়ে দিও না; যদিও সৈন্যবাহিনী তোমাদেরকে তাড়া দেয়। -মুসনাদে আহমদ ২/৪০৫

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা., আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ও আবু দারদা রা.-এর মতো বিশিষ্ট সাহাবীদের থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেলেও সুন্নত পড়ে নিতেন।

সুতরাং ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেলেও বারান্দায় বা জামাতের কাতার থেকে দূরে সরে খুঁটির আড়ালে সুন্নত পড়ে নিবে। তবে এ জন্য শর্ত হল, আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, সুন্নত শেষ করে দ্বিতীয় রাকাত পাওয়া যাবে। কিন্তু কিছু মানুষকে দেখা যায়, কোনো বিবেচনা ছাড়াই সুন্নতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়। কাউকে কাউকে তো এমনও দেখা যায়, দ্বিতীয় রাকাতের সূরা ফাতিহা শেষ হওয়ার পরও সুন্নতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়। অথচ দ্বিতীয় রাকাতে সাধারণত একটু ছোট কেরাত পড়া হয়। ফলে দ্বিতীয় রাকাতও পাওয়া যায় না। এটি ঠিক নয়।

জামাত শুরু হওয়ার পর সুন্নতে দাঁড়ানোর জন্য আগে বিবেচনা করে নিবে- দ্বিতীয় রাকাত পাওয়া যাবে কি না। স্বাভাবিকভাবে যদি অনুমান করা না যায়- প্রথম রাকাত চলছে না দ্বিতীয় রাকাত, তাহলে ঘড়ির সাহায্য নিবে। কারণ, জামাত শুরু হওয়ার সময় দেখে বোঝা সম্ভব- এখন প্রথম রাকাত চলছে না দ্বিতীয় রাকাত।

আর (নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী) যদি ফজরের সুন্নত আদায় করে দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে সুন্নত না পড়ে জামাতে শরীক হয়ে যাবে এবং সুর্যোদয়ের পর এ সুন্নত আদায় করে নিবে। -আলজামিউস সগীর ৯০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪০; ফাতহুল মুলহিম ৪/৮৯-৯২; ফয়যুল বারী ২/১৯৮

উল্লেখ্য, যোহরের সুন্নতের ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়- সময় বিবেচনা ছাড়াই সুন্নতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়। এটিও ঠিক নয়।
আর যোহরের সুন্নতের বিষয়টি ফজরের সুন্নতের চেয়ে ভিন্ন। এক্ষেত্রে জামাত দাঁড়িয়ে গেলে সুন্নতের নিয়ত করার অবকাশ নেই। এমনকি চার রাকাত সুন্নতের জন্য দাঁড়ানোর পর যদি দেখা যায় জামাত শুরু হয়ে গিয়েছে, তাহলে দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হয়ে যাবে এবং ফরযের পর দুই রাকাত সুন্নত পড়ে পূর্বের চার রাকাত সুন্নত পড়ে নিবে।



মাসিক আলকাউসার
রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ . ডিসেম্বর ২০১৬

চলতি সংখ্যা . বর্ষ: ১২ . সংখ্যা: ১১

45
একটি ভুল ধারণা : যে ঘরে সন্তান ভ‚মিষ্ট হয় সে ঘর কি চল্লিশ দিন নাপাক থাকে?


কিছু মানুষের ধারণা, যে ঘরে সন্তান ভূমিষ্ট হয় সে ঘর চল্লিশ দিন পর্যন্ত নাপাক থাকে। চল্লিশ দিন পর্যন্ত সে ঘরে নামায আদায় করা যাবে না। এটি একেবারেই একটি ভুল ধারণ। এর কোনো ভিত্তি নেই।

সন্তান ভ‚মিষ্ট হওয়ার সাথে পাক-নাপাকের কী সম্পর্ক? ঘরের কোথাও যদি নাপাকী লাগে তাহলে সে স্থান নাপাক। নাপাকী পরিষ্কার করে নিলেই তা সাথে সাথেই পাক হয়ে গেল। এর সাথে চল্লিশ দিনেরও কোনো সম্পর্ক নেই।

নেফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা চল্লিশ দিন। এখান থেকে হয়ত কেউ একথা আবিষ্কার করেছে। নিফাসের রক্ত নাপাক, এ থেকে এ কথা কীভাবে বুঝে আসে যে, নেফাসওয়ালী মহিলা যে ঘরে অবস্থান করেন অথবা যে ঘরে সন্তান ভ‚মিষ্ট হয় সে ঘরই নাপাক! নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক!! আল্লাহ আমাদের এ ধরনের কথা থেকে হেফাযত করুন।


- মাসিক আলকাউসার
রবিউল আউয়াল-রবিউস সানী ১৪৩৭ . জানুয়ারি ২০১৬

পুরোনো সংখ্যা . বর্ষ: ১২ . সংখ্যা: ০১

Pages: 1 2 [3] 4 5 6