Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mohammad Nazrul Islam

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 10
32
Common Forum / গজল
« on: May 16, 2019, 10:46:36 AM »
মুহাম্মদ নাম যত জপি- ততই মধুর লাগে
নামে এতো মধু আছে, কে ? জানিত আগে।।

-ঐ নামের-ই, মধু রাহি-
আমার মন-ভ্রমরা বেড়ায় গাহি-
আমার ক্ষুধা তৃষ্ণা নাহি- ঐ নামের অনুরাগে।।

ঐ নাম আমার প্রিয়-ত-ম,
ঐ, নাম জপি ম-জ-নু সম-
ঐ, নামে পাপিয়া গাহে, প্রাণের-ই গোল-বাগে।।

ঐ- নামে, মোস্তফা রাহি -চাই না হতে, শাহেন-শাহী
নিত্য ঐ নাম ইয়া-ইলাহী, যেন হৃদয় মাঝে জাগে।।



33
Thank you madam

34
Common Forum / ভালবাসা-
« on: May 13, 2019, 12:20:36 AM »

ভালবাসা মানে-ই
আশার রচনা-
নিরন্তর চিত্তের
কামনা-বাসনা।।

ভালবাসা মানে-ই
নিথর মনের-
শিখা অনির্বান
যুগে যুগে বঞ্চিতদের
মুক্তির জয় গান।।

ভালবাসা মানে-ই
জীবনের মমার্থ
ইন্দ্রের দ্বার দেখা
দুর নিলিমার পরে-
সপ্ত রংঙ্গের রেখা।।

ভালবাসা মানে-ই
যুগল রাখী বন্দন
জীবনের পর-
ভবঘুরের ফিরে আসা,
চির শান্তির ঘর।।

ভালবাসা মানে-ই
শাহজাহানের ভাল লাগা
মমতাজের আহব্বান,
জীবন চলার পথে-
সমবেদনার গান।।

ভালবাসা মানে-ই
সূরার পেয়ালায়-
নূরজাহানের ছবি,
হৃদয়ের তরে চির বঞ্চিত
এক সম্রাট কবি।।

ভালবাসা মানে-ই
পিতার মমতা মাখা ডাক-
আনন্দে ভরা মুখ,
বোনের স্নেহ-ছায়-
মায়ের আচলেঁ মুছা মুখ।।

ভালবাসা মানে-ই
অসহায়ের সহায়,
চির শান্তির ডাক,
উদয়ের পথে-
অরুণ চঁক্র বাকঁ।।

35
Common Forum / আগমন
« on: May 07, 2019, 12:09:24 AM »
স্বর্গ থেকে নেমে এলো
স্বর্গের দেবী মোর,
তন্দ্রা নয়নে আধাঁর ভূবনে
ফুটিল কি ভোর?

ঐ ডাকে পাথী সব
জাগে উঠে ফুল-খুকী,
অরুন-বারুনে-
সমিরের উকিঁ-ঝুকিঁ।।

খোল খোল দ্বার
রাখিও না আর-বাহিরে দাঁড়িয়ে
সপ্ত রেনুকার বেনু-
এসেছে সে পা‘রিয়ে ।।

36
Common Forum / ইন্দ্রের পরাজয়-
« on: May 06, 2019, 11:43:18 PM »

কাজ বাকী দিবা শেষে-
পূর্বাকাশে উঠিল সন্ধ্যা তারা,
কোলাহল চিরে সচলা পথ
আধাঁরে পড়িল সারা।।

প্যাচাঁ তাই, অ্যাপ-ছায়
চলিল নিন্দ্রা তুরে-
শংঙ্খ-নিনাদে করুণ ড্যাহতি
বাজিল ইন্দ্রপুরে।

জীবনের গীত গাওয়া
যত ছিল চাওয়া-পাওয়া
সূর্য্য দিগল বারি-ধারা
ডুবিল বুঝি অসীম অনন্তে-।।

এসো সখি, বস মন-মন্দিরায়
প্রেমের আচঁল খানা-পতি,
ঐ ডাকেঁ যুই শাখে-
ডাহুক কানা-পাতি।।

ছেড়ে দিয়ে সব গান
মনের কাছে পাত কান
শুণ, সূর লহরিতে ল‘য়
দত্যলোকে হয় বুঝি-
এবার ইন্দ্রের পরাজয়।।

37
মানব সৃজন সৃষ্টির প্রসারতা। মহাপ্রভু বিভূতিভূষণ, তার আদি সত্ত্বা প্রকাশে সৃষ্টির আশ্রয়ে অন্যদাশংকর। নিরন্তন সত্য- প্রকাশেই-বিকাশ, ছলনাতেই চলনা, কর্মক্ষমতা অকর্মন্যের ধারাপদে সৃষ্ট। তাই অনাদি অক্ষয়, ক্ষুদ্রতরে সচলা, বিমলার প্রানচাঞ্চল্য- বিমূহীত পুরোধা। সিন্দুর বিকাশ বিন্দুর গিরি-শৃংগে, মিলনের মহত্ত্বে সলিল।

সত্যঞ্জয়, সমগ্র প্রাণী জগতের প্রাপ্তি-তৃপ্তি মধুসুধনের হৃদি ভাসনা। তাই, নব-ঘন-বারি বিন্দু মধুকুঞ্জে মদিরার প্রেমে মাতুয়ারা। বিষ্ণুপ্রিয়া, নদীয়ার ঘাটে মহাপ্রভুকে পাবার আশে সর্বদা প্রেম লহরি তুলছে-এসো ‘হে গৌরচন্দ্র;  ভাই নিতাইকে সঙ্গে করি; এই আসরে সংর্কীতনে আজ সবায় মিলে নৃত্য করি

জগত সংসারের- কর্ম-নৃত্য বা বিলাশ কলা, কামনার রসায়ণে মার্ধুয্যপ্রাপ্ত। এটি মাধবের মনোহর গীত-বিতান। আদি সত্ত্বার প্রকাশ-বিকাশ, কামনার ছলচাতুরিতে। যার স্থিরতা প্রেম বিলাশে- তাই সৃষ্টি জগতের অমুঘ উচ্চারণ-আমি তোমাকে ভালবাসি।

এ কথা আজ ধ্রুব সত্য, শ্রষ্টার অস্থিত্ব প্রেম সর্বস্ব। তাই সৃষ্টির সূচনা থেকে অনন্ত- অব্দি শ্রষ্টা প্রেম বিলাশে সচল-অবিচল। সৃষ্টির সমগ্র মহিমা-ই, এ ধারায় দিব্যমান। তাই কামনাকে বাদ দিয়ে ধামিণী রক্ষা সম্ভব নয়। (পর্ব-১)




38
Common Forum / শুভ-নববর্ষ
« on: December 31, 2018, 10:07:13 PM »
‘কালের কীর্ত্তনে নব-উদ্দ্যাম, নতুনের আগমন
বিকাশিত হও সঞ্চিত সুধা করিতে আহোরণ’

গতিময় পৃথিবী, চিরন্তন ধারায় ছন্দময়। চিত্তবিকাশ/যৌবন লালসায় যুগ-বিভাজনে স্থীর। গহণ পথের এই বিকাশমান ধারা যুগ যুগ ধরেই নতুনত্বের ডাক দেয়-প্রকৃতির নিয়মেই। এই প্রসারতা,  প্রকৃতির জীবন-যৌবনের সমুন্বয়ের এক নতুন বার্তা। পৃথিবীর এই নতুনবার্তার আরও একটি নতুন সংযোজন ২০১৯ সাল। শুভ-নববর্ষ।

আজ রাত দ্বি-প্রহরে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ-কোটি মানুষ মেতে উঠবে নতুন প্রেরনায়- নতুনের ডাকে। পিছনে ফেলে আসা দিনের গ্লানি-ক্লান্তি ভুলে নতুন বছরকে নতুন করে দেখবে, আশান্বিত হবে। প্রাতঃ জীবনে-অনাগত নতুন স্বরোবর, ভরিয়ে দিবে আর্ত-প্রীতমের তৃষ্ণার্ত হৃদয়কে।

এই শুভক্ষণে, চিরঅবস্থ্য, আর অনাগত শুভ-কামনায় আমার হৃদি-আরতি রইল, মান্যবর,ও স্নেহধণ্য সকলের প্রতি। বাসনা রইল, প্রনয়-দীপ্ত ভালবাসায় ভরে উঠুক, কল্প-প্রমিলার ধরিত্রী। জীবন যৌবন-হোক ভালবাসার রসায়নে বিস্তৃর্ণ-বিকাশমান, স্বর্গলোকের…ইন্দ্রাণীর আলিঙ্গনের অভিপ্রায়ে...।

খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে আমার হৃদয় নিংরানো ভালবাসা আর শুভ-কামনায় রইল আনাগত রবিকরের প্রতি । আজকের এইদিনে ভ্রাতৃ-প্রীতম ভালবাসা আর শ্রদ্ধার্ঘ জানাই আমার সহকর্মী সর্ব সাধারনকে। পিছনে ফেলে আসার প্রাপ্তি/ভ্রান্তি সকলকে নতুনের ডাকে বিকাশিত করুক জীবন-জয়গানের স্রোত ধারা এই আশাবাদে আবারও শুভ-নববর্ষ।

কবির ভাষায়-

নিশী অবসানপ্রায়, ওই পুরাতন
বর্ষ হত গত।
আমি আজি ধূলিতলে এই জীর্ণ জীবন
করিলাম নত।
বন্ধু হও,শত্রু হও, যেখানে-যে কেহ রও,
ক্ষমা করো আজিকার মতো।
পুরাতন বরষের সাথে
পুরাতন আপরাধ যত।

# মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম #

39
Common Forum / ধূ‘সর কুয়াশা
« on: November 26, 2018, 01:49:27 PM »
ধূ‘সর কুয়াশা
                -
সত্য কথা লিখব কি করে? 
রীতি নীতির কাছে বশ্যতা স্বীকার করে-
ছ্যাঁ‘তুর নামে চলতে হয় আমাদের।।
 
ঝঁক ঝঁকে তলোয়ারকে ভোঁতা বানাতে হয়;
জ্ঞাণীদের ভয়ে, ধিক্কারের শংকায় ;
লুকিয়ে ফেলতে হয় লেংটির ভাজেঁ ।।

স্মৃতির কথাগুলো ধূ‘সর অমানিষ্যায়;
লীলাবতীর ব‘গলে ঢাকা পড়ে থাকে
বঞ্চনার দিঘল দীঘিতে ।।

কালের ভাবনা এখন কালান্তরে-
জীবন জ্ঞীগাসায়;
মরণোত্তর স্লোগানে।।

প্রলাপের ঝুঁকে, ভুল-বাগীতায়
কবিতা হয়ে যায়;,
বর্গীদের তামাশার খোরাক।।

জীবনের জয় গান নয়
প্রাণের স্পন্দন চলবে না; 
চলবে বায়ূ নিঃস্বরণ…..।।

40
Common Forum / [b]‘এক ফোঁটা শিশির’[/b]
« on: October 16, 2018, 02:51:50 PM »
‘এক ফোঁটা শিশির’
এক ফোঁটা শিশিরের গল্প লিখব,
যে জলবৃন্ত শাখে সখি:
ক্ষণ বিন্দু-বারী, একেঁ ছিল
তৃণের, হৃদয়ে মরিচিকার রাখি।।

প্রভাত আলোয় মুক্ত-মালা,
ছিল যার জীবর-পদ-আশা;
সময়ের বাকেঁ, বেদিনের ডাকে-
অগ্নিগর্ভে,  হারালো ভাষা।

রাজ-রাজন, মহৎ-মহাজন,
হাসিঁ উঠিল সবে---;
হিরা-মুক্তা-মানিকের নামে
মেকির সাজন হবে্-ই হবে!!

অধির নিরালায় নির্বাক তৃণলতা,
জীবনে বেদনার আখঁর মাখি;
 -ধুধুরিয়া বুঁকে- নিল
সারা জীবনের কাঁন্না আকিঁ।

অনিন্দন আশা যার- জলস সভার
-তবু তৃষ্ণা জগানিয়া প্রাণ;
 স্মৃতির চয়ণে অতটুকু কনিকা ছিল-
তৃণলতার জীবেন-এক মহার্ঘঃ দান।

-মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম








41
Common Forum / চিন্তায়- নিনাদ বৃংহতি !!!
« on: September 04, 2018, 03:18:15 PM »
আজ অব্দি আমরা গুজব ও সংর্কীণতা সীমাবদ্ধ। চিন্তার পরিধি চাহিদার বেঁড়াজালে ঘুরপাক খাচ্ছে। নিজেকে তথাকথিত সার্বিক সমাজে মানানসঁই করতেই ব্যাতি-ব্যাস্ত সময় পার করছি। জীবনের চাহিদা বেঁচে থাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে। পরিবারে- স্ত্রী,/পুত্র, কর্মে/ ধর্মে, চাকুরী /ব্যবসা, এবং নিতি কথায় আবদ্ধ হয়ে পড়ছি। মূল্যবান সময়ের সমাপ্তি ঘটছে –সমাজের বৃত্তবানদের দিকে আঙ্গুলী নিদের্শনা করে, আমিও এমনটি হতে চাই..এ যেন এক ধর্মের দারা, কর্মের খোরাসন---।

সংসার লংকাপুরীতে, আগুন লেগেছে, চলছে কম্ভূকর্ণের সঞ্চয়/সঞ্চয়ীতায়-ধব্বংশ যজ্ঞের নিনাদ বৃংহতি; সময় কাঁটছে, শব-স্তুতির শ্বশান ঘাটে স্বর্গীয় ধুপ দৃস্টি অবলোকন আর হরি র্কীত্তণের ধুমে..। অথচ ধুপঁবিকারে উল্লেখ-- ‘মঙ্গল আকাং ব্যাক্তম চরাচর…

সভ্য সমাজের আধুনিকা, ফেসবুকে স্ট্যাটাজ দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছে তার স্মার্টনেস ও সৌন্দর্যের কথা-অঙ্গ..ভঙ্গিতে মীরা বাঈদ । কোমর দুলিয়ে লীলা-র্কীত্তন করে বিনোদীনি সারা দুনিয়াকে জানাচ্ছে- লীলাতে মজিলে পড়ে খেলাটা বুঝবিরে.. মন---?

আদর্শবান মাষ্টারের ছেলে গাঁজা-ভাং খেয়ে মাতলামি করতে করতে বলছে‘ মহব্বত কি ছুটি-কাহানি বড়; বড় চোট খাইয়ি জোয়ানি পেরো--। বেকারত্বে যাতাকলে পৃষ্ট যুবক, চিন্তায় অস্থির। স্বপ্নকাতুতে বিলাশ ভাবনায়। যত টাকা লাগে চাকুরী চাই?

বিধবা মায়ের রাতের ঘুম হারাম হয়েছে, মাতুব্বরদের থাবা হতে নিজের সম্ভ্রম ও বসতঃবাটিকে রক্ষায়; তাই, নিত্য দিন ধন্না দিচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। চৌকিদার চামু হাতের লাটি ঘুরাতে ঘুরাতে বলছে ‘স্যার জন সেবায় ব্যস্ত, অণ্যদিন আসেন..

স্বগীীয় কায়দা মিম্বরে বসে ইমাম সাহেব ওয়াজ নসিহত করছেন ‘সৎ পথে চল, নামাজ পড়, রোজা কর । অথচ তার ছেলে ‘মোরগী মিলন; সারা দিন ঘুমায় আর রাত হলেই-চটি চাটে। মোয়াজ্জিন আযান দিতে পারেনি ‘বৌও ভাত রানতে দেরী করেছে বলে..

অফিসের বড়কর্তা, পিয়নের ডাকাকে সারা দিতে পারচ্ছে না ঘুমকাতুরে চোখ নিয়ে , কাল বৌয়ের সাথে ঝগড়া হয়েছে সোনার নেকলেস কিনে দিতে পারেনি বলে। কমচাঁদের জ্ঞান ফিরতেই ভীড় ভীড় করে বলছে, সোহাগী লতার ‘এ্যাঁ.. সোহাগী লতা;… এ্যা..ধ্যার্মে আয়--গা। আজ হ্যাম বহুত খুসহো—তুমবি..।

শিক্ষকের চিন্তা, —ছাত্র কথা শুনে না-এ দেশ ভাল হবার নয়; চিরাতে পানি নেই। কাজেই ভাল দেশে ষ্টাইপেন চাই।

রাজনীতিকেরা দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিতে চাইছে..। ‘সুদূরে নেতার কন্ঠে ভেঁসে আসছে- স্বাধীন দেশে স্বাধীনতায় মূর্খ। আমরা শুধু রাজনীতি ব্যতিত সবায়কে স্বাধীনতা দিব- চলছে জনতার উল্লাস।

টুকাই মানু চিৎকার করে বলছে- আমার দাবি, ‘রাজনীতিকে-ই আগে স্বাধীনতা দিতে হবে। আমি রাজনীতি করতে চাই…। জন-কোলাহলে মানুর চিৎকার, চেঁচামেচি হারিয়ে যাচ্ছে আকাশের দূর লীলিমায়..।

চিন্তাহীন দুঃখিরাম ভাবছে, দুঃখের সীমা নাই। চিরজীবন দুঃখ করে -- তরীতে পারি নাই। আজ বুঝেছি দুঃখের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। গুণ গুণ করে গান ধরছে-- যদি তরিতে ভাসনা থাকে—ধর ...রে... মন নেতার সঙ্গ; ভজরে আনন্দের গৌরাঙ্গ-----।







44
বাংলাদেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপুর্ণ দিক গুলোর মধ্যে ‘ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ড, এক বিশেষ আতংক। প্রতি বছর ‘ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ডে এদেশের অগনিত মানুষ-প্রাণীকুলের প্রাণহানী, ব্যক্তিক কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। প্রতিনিয়তই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান শহর গুলোতে ‘ভূমিকম্প ও অগ্নি-কান্ডের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা সত্যিকারেই ভাবনার বিষয়। জরিপে উল্লেখ, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়দেশ গুলোর মধ্যে বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশী ভুমিকম্প প্রবণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে চলেছে।

প্রাকৃতিক বা মানুষ্য সৃষ্ট, প্রাণ-ঘাতিক এই সমস্যা থেকে সহজ-বাচাঁর উপায় এবং বিপদকালীন সময় সমস্যা মোকাবেলাকরণের করনীয় সম্পর্কে ‘ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের’ উদ্দ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘অগ্নি নির্বাপক ও ভূমিকম্পে করণীয়’ সম্পর্কীত এক বিশেষ সেমিনার। ২৫ এপ্রিল, বুধবারের এই বিশেষ সেমিনারে, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীত ট্রেজারার জনাব হামিদুল হক খান ‘ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ডের কারণ ও বিপদকালীন সময়ে মানুষের করনীয় সম্পর্কে একটি নাতি দীর্ঘ আলোচনা রেখে সেমিনারের শুভ-সূচনা করেন।

সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসাবে ‘ভুমিকম্প ও অগ্নিকান্ডের’ কারণ, বাংলাদেশে ভুমিকম্পের ফল্ট চিহিৃতকরণ, অত্যাধিক ঝুকিঁপুণ এলাকা সম্পর্কে সম্মক-ধারনাসহ বিপদকালীন সময়ে করণীয় সম্পর্কে বিস্তার আলোচনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মোহাম্মদপুর জোনের পরিদর্শক জনাব সাব্বির আহম্মদ।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের অ-সচেতনতা এবং অজ্ঞতার কারণেই প্রতি বছর বাংলাদেশে ‘অগ্নিকান্ড ও ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ব্যাক্তি কিংবা রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ। অথচ আমরা এ বিষয়ে একটু সচেতন হলেই এই অনাকাঙ্থিত জীবনহানী থেকে রক্ষা পেতে পারি।

তিনি, এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদাহারণ টেনে বলেন, সর্বাধিক সচেতনতা ও বিপকালীন সময়ে করনীয় সম্পর্কে ‘বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’ তাদের সাধ্যমত মানুষদের ‘ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ডের কারণ ও করনীয় সম্পর্কে বিভিন্ন সেমিনা ও বাস্তবভিত্তিক ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


তিনি বলেন, স্বল্প জায়গায় অধিকবসতি ও বিশেষ করে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত বিল্ডংকোড না মেনে যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। এই সকল ভবন নির্মানে নেই কোন মান-সম্মত কর্ম-পরিকল্পনা ও জরুরী র্নিগমনপথ। ফলে অনাকাংঙ্খিত বিপদে মানুষ এই সকল ভবন গুলোতে আটকা পড়ে অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি সাভারে ঘটে যাওয়া ‘রানা প্লাজার’ ব্যাপক প্রাণহাণী ও ধ্বংসাত্বক ইতিহাস টেনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে ভবন নির্মানের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তৎপর বিপদকালীন সময় করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখাসহ তিনি এক বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন।

উক্ত প্রশিক্ষণে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীগণ অংশ গ্রহন করেন। তিনি বলেন, দেশের যে কোন বিপদে জনসচেতনাই বিপদ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়। ভূমিকম্প কিংবা অগ্নিকান্ড চিরতরে সমাধান না করা গেলেও জন সচেতনতার মাধ্যমে আমরা এই বিপদ থেকে বহুলাংশেই রক্ষা পেতে পারি। এই ব্যাপারে তিনি উপস্থিত সকলকে আরো বেশী সচেতন ও সংবেদনশীল হওয়ার আহব্বান জানান।

45
‘বৈশাখী উৎসবের ঐতিহাসিক ধারা বিবেচনায় রেখে অপরিপক্ক জ্ঞান ও অসম্পূর্ণ মন-ভাবনায় কয়েক দিন আগে ‘অন্তরে বৈশাখের ইতিবৃত্ত’ নামে একটি লেখা দাঁড়া করাতে চেষ্টা করেছিলাম। লেখাটি আলোচনা-সমালোচনার দোষে দুষ্ট ছিল। এ ব্যাপারে আমার শ্রদ্ধাভাজন সুহৃদ, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব জনাব মোশারফ হোসেন সাহেব ‘বৈশাখী উৎসবে ধর্মের সংশ্রাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন’ যা সত্যিই ভাবনার বিষয়।‘বিনা পাকালে গড়িয়ে কাচিঁ, করছি নাঁচা-নাঁচির মতই- এ ব্যপারে আরো দুই-চারটি কথা জনাবের পদতলে সবিনয়ে নিবেদন করলাম।

আগেই বলা হয়েছে বৈশাখ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। সংস্কৃতি সর্ম্পকে বলা যায়, কোন স্থানের মানুষের ভাষা আচার-ব্যবহার জীবিকা, সঙ্গীত, নৃত্য, সাহিত্য, সামাজিক সম্পর্কীত শিক্ষা-দীক্ষা, ও ধর্মীয় রীতি-নীতির মাধ্যমে যে, অভিব্যক্তি প্রকাশ করা হয় তাই সংস্কৃতি। তাই, সংস্কৃতিকে way of life বলা হয়। জাতি ও জাতীয়তার সাথে সংস্কৃতির সম্পর্ক নিরবিচ্ছিন্ন । একই সংস্কৃতির পরিমন্ডলে বিভিন্ন ধর্মের লোক থাকতে পারে, কিন্তু ঐক্যব্দ্ধ জাতি গঠনে একটি অভিন্ন সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। পুস্তকের ভাষায়, একই সংস্কৃতির সহজাত স্রোত-ধারায় বহু-ধর্মীয় সংমিশ্রনে, একটি অভিন্ন জাতীয়তা তৈরী হয় যা চিরাচরিৎ ধর্মীয় ধারনাকে বহুলাংশে মানবিক করে তুলে।

আর ধর্মীয় সজ্ঞায় বলা হয়েছে- শতানের উপর জয়যুক্ত হওয়া এবং আত্মায় সত্যের আসন প্রতিষ্ঠা করাই ধর্ম। নিয়ম পালেন সাথে, জীবনের কদর্যতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রত্যেকটি মানুষের পবিত্র দায়িত্ব। সংস্কৃতিতে কদর্যতা থাকলেও বিবর্তন-যুগধারায় তা মানবিক পথে ধাবমান। তাই, জ্ঞানীরা বলেন, ধর্ম জীবন হলো মৌলিক আর সংস্কৃতি তার দর্শন। দর্শনহীন ধর্ম অসম্পূর্ণ।

বৈশাখের সাথে ইসলাম ধর্মের সংশ্রাব অর্থহীন। মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থের কোথাও বৈশাখী উৎসব পালনের কথা উল্লেখ নাই। তবে বাঙ্গালী জাতির সংস্কৃতি ‘বৈশাখী উৎসব’ আংশিক ভাবে হলেও ভারতবর্ষে মুসলাম শাসকদের ‘শাসন ব্যবস্থাকে দীর্ঘায়িত ও সুসংহত করেছে এ কথা সকলেরই মানতে হবে। বিশেষ করে বিনদেশী শাসক সম্রাট আকবরের অভিনব ‘‘তারিখ ই-ইলাহি ’ আয়োজনে, অর্থনৈতিক বা সংস্কৃতির অন্তরালে ধর্মীয় সহিষ্ণু ভাবনায় ভাবতবর্ষে মুঘল শাসন/ ইসলামী শাসন সু-প্রতিষ্ঠা করার সুদুর প্রসারী রাজনৈতিক কূট-কৌশল ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

ইতিহাস ধারাপদ থেকে জানা যায়, মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলা -উড়িষ্যায় ইলাহি সন, মৌসুমি বা ফসলি সন ও বিলায়েতি সনের চালু ছিল। ঘরে ঘরে ফসল তোলার সাথে খাজনা আদায়ের ব্যাপক প্রচলন ছিল। এজন্য সম্রাট আকবর জ্যোতিষশাস্ত্রবিদ আমির ফতেউল্লাহ সিরাজিকে দিয়ে হিজরি সনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে ‘তারিখ ই-ইলাহি উদ্ভাবন ও এর প্রচলন করেন যা পরবর্তীতে ‘বৈশাখী উৎসব’ হিসাবে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক-প্রচার ও প্রতিষ্ঠা পায়।

বৈশাখী উৎসব আজ বাংলা ভাষা-ভাষী বাঙ্গালীদের প্রাণের উৎসব। বৈশাখ শব্দটির উৎপত্তিতেই সনাতন ধর্মের হৃদয়ত্বতা রয়েছে। বাংলা ভাষার প্রাণকোষ বাংলা-ব্যাকরণে বৈশাখ শব্দটির উল্লেখ পওয়া যায় এ ভাবে- বৈশাখ+ষ্ণ, অস্তার্থে।২। মন্থণ দন্ড।বিশাখা+ষ্ণ।বি;পু।বিশাখা নক্ষত্রযুক্ত পুর্ণিমা।

ইতিহাস বিদূত, বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠিরা বহুকাল আগে থেকেই বৈশাখী উৎসব পালন করে আসছে। মূলতঃ আদি জাতি-গোষ্ঠীরা বৈশাখী উৎসবকে ‘বৈসাবি’ উৎবস হিসাবে পালন করত। বর্ণ বেদে তারা আলাদা আলাদা ভাবে, আলাদা আলাদা নামে এই উৎসব পালন করত। যেমন মারমা -রা সাংগ্রাই, ত্রিপুরা-রা বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যা-রা বিষু এবং চাকমা-রা বিজু’ উৎসব হিসাবে পালন করত। এই সকল উৎসবকে সম্মিলিত ভাবে বৈসাবি বলা হয় যা আজও তাদের সমাজে ‘চেতনা-ধর্মী’ উৎবস হিসাবে বহমান রয়েছে।

যুগ-যুগান্তরের ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, বৈশাখ বা বৈসবী উৎসব পালনের সাথে বৈদিক জাতি-গোষ্ঠির পুরাণ, বেদ কিম্বা সনাতন ধর্মের সংশ্রাব রয়েছে। হিন্দুরা বহুকাল আগ থেকেই বৈশাখী উৎসবকে তাদের ধর্মীয় উৎসব হিসাবে পালন করে।

হিন্দু চান্দ্র পঞ্জিকায় ১২টি মাস রয়েছে -চৈত্র, বৈশাখ, জৈষ্ট, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিণ, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পোষ, মাঘ ফাল্গুন। এই মাস গুলি নাম খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রত্যেকটি মাসের নাম এসেছে সেই মাসের পূর্ণিমার দিনে চলমান নক্ষত্রের নাম থেকে।

পৌরানিক উপাখ্যানে উল্লেখ পাওয়া যায়, চন্দ্র দেবতা হলেন স্বর্গের দেব মণ্ডলীর অন্যতম । চন্দ্র দেবের পিতার নাম অত্রি মুনি এবং মাতার নাম অনুসূরযা । হরিবংশ পুরান অনুযায়ী, চন্দ্র দেবতার বিয়ে হয়েছিল প্রজাপতি দক্ষ রাজার ২৭ কন্যার সাথে । প্রজাপতি দক্ষ ২৭ কন্যার নাম ছিল– অশ্বিনী , ভরণী , কৃত্তিকা , রোহিনী , মৃগশিরা , আদ্রা , পুনর্বসু , পুষ্যা , অশ্লেষা , মঘা , উত্তরফাল্গুনী , পূর্বফাল্গুনী , হস্তা , চিত্রা , স্বাতী , বিশাখা , অনুরাধা , জ্যেষ্ঠা , মূলা , পূর্বাষাঢ়া, উত্তরাষাঢ়া , শ্রবনা , যনিষ্ঠা , শতভিষা , পূর্বভাদ্রপদ , উত্তরভাদ্রপদ , রেবতী । ২৭ কন্যাই চন্দ্র দেবকে খুব ভালোবাসতেন।

কিন্তু চন্দ্রদেব কেবল রোহিনী কেই ভালোবাসতেন । বাকী ছাব্বিশ কন্যা মনের দুঃখে পিতা দক্ষের কাছে নালিশ জানান । এতে দক্ষ ,ক্ষিপ্ত হয়ে চন্দ্রদেবতাকে ক্ষয় রোগে আক্রান্তের অভিশাপ দেন । চন্দ্রদেবতা রোগে জর্জরিত হলে ব্রহ্মা , বিষ্ণু, দেবগণের কথা মতো সাগর তটে শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে মহাদেবের তপস্যা আরম্ভ করলেন । মহাদেব সন্তুষ্ট হয়ে চন্দ্রদেবের সম্মুখ উপস্থিত হন। ফলে চন্দ্র দেব আংশিক ভাবে শাপ মুক্ত হন ।

তৎপর তিনি চন্দ্রকে বর দেন, পূর্ণিমার পরদিন থেকে কৃষ্ণ পক্ষের প্রতিপদ থেকে চতুর্দশী পর্যন্ত চন্দ্রদেব ক্ষয় হতে থাকবেন , অমাবস্যার দিন সম্পূর্ণ ক্ষয় হবেন । আবার অমাবস্যার পরদিন থেকে শুক্ল পক্ষের প্রতিপদ থেকে চতুর্দশী পর্যন্ত একটু একটু করে বাড়তে থাকবেন , পূর্ণিমা তে পূর্ণ রূপ হবেন । এর পর চন্দ্র দেবতাকে মহাদেব শিরে ধারন করলেন । (পর্ব-১) চলবে—-

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 10