Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Sultan Mahmud Sujon

Pages: [1] 2 3 ... 105
1
চাকরির জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া থেকেই শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত পদের জন্য নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করার চেষ্টা। নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা, কর্মনৈপুণ্য, সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দিতে হয় প্রতিটি ধাপেই। জীবনবৃত্তান্ত আগে থেকে তৈরি করা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত পদটির উপযোগী করেই তা হালনাগাদ করে নিতে হয়। কর্মনৈপুণ্যসংক্রান্ত জ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান যেমন লিখিত পরীক্ষার জন্য জরুরি, তেমনি সাক্ষাৎকার পর্বেও এগুলো কাজে লাগতে পারে। সাক্ষাৎকার পর্বটি নিয়োগকর্তার সঙ্গে আপনার প্রথম আনুষ্ঠানিক আলাপের সুযোগ। তাই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণও বটে। আর চাকরির মৌখিক সাক্ষাৎকারে আপনার পোশাক–আশাক থেকে শুরু করে আচার–আচরণ—সব বিষয়েই সচেতন থাকতে হয়। সাক্ষাৎকার পর্বে হতে হবে আত্মবিশ্বাসী। যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন, সেটি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিন বিস্তারিতভাবে।

খেয়াল রাখুন

• আনুষ্ঠানিক পোশাক ও অনুষঙ্গ বেছে নিন চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য। ইস্তিরি করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি পোশাকে যাবেন। আপনার লুক যেন ‘আনুষ্ঠানিক’ হয়।

• সাক্ষাৎকারের নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছে প্রয়োজনে সেখানে পুনরায় সতেজ হয়ে নিন। জুতার উপরিভাগে রাস্তার কাদা ছিটে এলে মুছে ফেলুন।

• সাক্ষাৎকার দিতে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সঙ্গে রাখুন প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র। এ ছাড়া পানি, টিস্যু পেপার, চিরুনি রাখা ভালো। তবে সাক্ষাৎকার কক্ষে এসব নিয়ে গিয়ে বোঝা বাড়াবেন না।

সাক্ষাৎকার কক্ষে

• ডাক পড়লে অনুমতি নিয়ে ঢুকবেন।

• ভেতরে ঢুকে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাবেন, সালাম দেবেন।

• ইতিবাচক দেহভঙ্গি বজায় রাখুন।

• ভদ্রতা বজায় রাখুন।

• অনুমতি নিয়ে ঋজু, সাবলীল ভঙ্গিতে বসবেন।

• সবার চোখে চোখ রেখে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে কথা বলবেন। হালকা হাসিও থাকুক মুখে।

• সবশেষে ধন্যবাদ দিয়ে বের হয়ে আসবেন।

আলাপ-আলোচনায়

• প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজের অভিজ্ঞতা কিংবা অভিজ্ঞতা না থাকলে ওই পরিস্থিতিতে আপনি কী করতেন, তা বলতে হতে পারে। বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ চাই এসব ক্ষেত্রে।

• আগে কোথাও চাকরি না করলেও নিজেকে অনভিজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করবেন না। ছাত্রাবস্থায় করা খণ্ডকালীন চাকরি, শিক্ষানবিশি, প্রশিক্ষণ কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতা সামনে আনতে পারেন। এসব তথ্য জীবনবৃত্তান্তেও যোগ করে রাখুন আগেই।

• নিজের সম্পর্কে বলতে হলে পারিবারিক তথ্যে বেশি গুরুত্ব দেবেন না, বরং নিজের নাম বলার পরেই কর্মনৈপুণ্যসংক্রান্ত তথ্যে নিজেকে তুলে ধরুন। পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাজীবন সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেন।

• প্রশ্ন করার সুযোগ পেলে বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করুন। সেখানে কাজ করলে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ নিতে হতে পারে বা কত দিনের মধ্যে যোগ দিতে হতে পারে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়েও (নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বলা না থাকলে) প্রশ্ন করতে পারেন।

যা করবেন না

• খুব জাঁকজমক পোশাক পরবেন না।

• পোশাকের হাতা গুটিয়ে রাখবেন না।

• ঝুঁকে বা হেলান দিয়ে বসবেন না।

• মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেবেন না।

• চিন্তিত বা ভয় পাওয়া ভাব প্রকাশ করবেন না।

(অনুলিখিত)


Source: https://www.prothomalo.com/feature/adhuna/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A7%8E%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%80-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A7%80-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BE

2
কোভিড আর ডেঙ্গু হাতে হাত রেখে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তাই করোনার সময়ে যদি তীব্র জ্বর, মাথাব্যথায় আক্রান্ত হন, ডেঙ্গুর কথা ভুলে যাবেন না। বর্ষায় ঢাকাসহ বড় বড় শহরের জলাবদ্ধতায় হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। কেননা, জমাটবদ্ধ পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য সেরা জায়গা। জেনে নেওয়া যাক করোনা আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলোর মিল–অমিল।

* করোনা আর ডেঙ্গু—দুটিই মূলত ভাইরাসজনিত জ্বর (ভাইরাল ফিভার)। দেড় বছর ধরে চলছে করোনাকাল। আর বর্ষা মৌসুমে বাড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ। আর এবারের বর্ষায় যেন ডেঙ্গু আর করোনাভাইরাসে আক্রান্তের প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিদিন করোনায় আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শত শত মানুষ। আপনার জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথার মতো লক্ষণ থাকলে আপনার করোনা বা ডেঙ্গু অথবা করোনা ও ডেঙ্গু দুটিই হতে পারে।






* কোভিড ও ডেঙ্গু—দুই ধরনের সংক্রমণেই জ্বর থাকবে। জ্বরের মাত্রার তারতম্য হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, গা ম্যাজম্যাজ করা, ক্ষুধামান্দ্যর মতো প্রাথমিক উপসর্গ থাকে দুটিতেই। করোনা বারবার ধরন পাল্টাচ্ছে, তাই উপসর্গও বদলে যাচ্ছে। কখনো তীব্র অরুচি আর স্বাদহীনতা প্রকট হয়ে দেখা দেয়। কখনো উপসর্গ বলতে কেবল ডায়রিয়া আর জ্বর। আবার কখনোবা কেবল মাথাব্যথা। করোনায় অনেকে ঘ্রাণ পায় না। ডেঙ্গু জ্বরে ঘ্রাণ থাকবে।

* তবে করোনায় এখনো জ্বরের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি আর দাঁত-নাক বা অন্য জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ হয়নি। রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যেতে পারে। এটাও কেবল ডেঙ্গুতেই হয়। আবার দ্রুত অক্সিজেনের লেভেল কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া করোনার প্রকট লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম। ডেঙ্গুতে এসব লক্ষণ বিরল। হয় না বললেই চলে।
 * করোনার ভ্যাক্সিন থাকলেও ডেঙ্গুর কোনো ভ্যাকসিন নেই। যেহেতু ডেঙ্গু ভাইরাস চার ধরনের। তাই একই সঙ্গে চারটি ভাইরাসের প্রতিরোধে কাজ করে, এমন ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।

* সাধারণ লক্ষণগুলো থাকলেই সবার আগে করোনা আর ডেঙ্গু দুটিরই পরীক্ষা করাতে হবে। চার ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসে মূলত দুই ধরনের জ্বর হয়। ক্লিনিক্যাল ডেঙ্গু জ্বর ও হেমোরেজিক ফিভার। ডেঙ্গু জ্বর অন্যান্য ভাইরাল ফিভারের মতো নিজে থেকেই সাত দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর ভয়াবহ হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে ১০৪ থেকে ১০৬ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। চরম বিষাদগ্রস্ততা দেখা দিতে পারে। অরুচি, বমি বমি ভাব এবং ত্বক লাল হতে পারে। এই জ্বর ৩ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়। শরীরের চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ত্বকে রক্তক্ষরণজনিত উপসর্গ দেখা যায়।



* ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা না থাকলেও এ সময় প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা, বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রচুর তরল খাবার খাওয়া উচিত। জ্বর কমানোর জন্য কোনোমতেই প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ খাওয়া যাবে না। জ্বরের সঙ্গে রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য ভেজা কাপড়ে বারবার শরীর মুছে দিতে হবে।

নানান উপায়ে এড়িয়ে চলুন ডেঙ্গুকে
গোদের ওপর বিষফোড়া বলে যে একটা বাগধারা আছে। এমন সময়কে ব্যাখ্যা করার জন্য সেটি একদম ঠিকঠাক। একে তো চলছে মহামারিকাল, বিধিনিষেধ।  প্রায় প্রতিদিনই ঢাকায় গড়ে দেড় শ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে। বিশেষ করে শহরের দিকে বৃষ্টির সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। এখন তাই করোনাভাইরাসের মোকাবিলা করার সঙ্গে সঙ্গে লড়তে হবে ডেঙ্গু থেকে বাঁচার জন্যও। জেনে নেওয়া যাক ডেঙ্গু এড়িয়ে চলার সহজ কিছু উপায়।

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে:
১. ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। নিজের আবাসস্থল, কর্মস্থান পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখুন। মহামারিকালের বিধিনিষেধে অনেকেই ঘরে বারান্দায় বাগান করেছেন। সেই সব টব বা বোতলের জমা পানি ডেঙ্গুর প্রিয় আবাসস্থল। তাই দুই দিন পরপর সব জমা পানি ফেলে দিন।


 ২. বাথরুমের বালতি, গামলা, মগেও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখুন। বাসা বন্ধ রেখে অন্য কোথাও গেলে বালতি, গামলা, জগ, মগ, টব, ডাবের খোল, ফেলে রাখা টায়ার, যেকোনো পরিত্যক্ত টায়ারে যেন পানি জমা না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। সেগুলো উপুড় করে রেখে যেতে পারেন। তাতে অন্যান্য ময়লাও ঢুকবে না। অ্যাকুরিয়াম, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনারের নিচে, মুখ খোলা পানির ট্যাংকে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।



৩. নিজের অ্যাপার্টমেন্টে, এলাকায় বা পাড়ায় কমিটি করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে। মশার ওষুধ ও লার্ভিসাইড ছিটাতে হবে।


 ৪. সূর্যোদয়ের পরের আধা ঘণ্টার আর সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের আগের আধা ঘণ্টা, এই দুই সময়ে এডিস মশা খাবারের জন্য সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়। তাই এই দুই সময়ে বেশি সাবধানে থাকতে হবে।


 ৫. ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। রোগীকে সব সময় মশারির মধ্যে রাখা ভালো। কেননা, এই রোগীকে যদি সাধারণ মশাও কামড়ায়, সে–ও ডেঙ্গুর বাহক হয়ে যাবে। ফলে ওই মশা আবার যাকেই কামড়াবে, সে–ই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হবে।


 ৬. মশার প্রথম টার্গেট হলো হাত আর পা। তাই হাত পা ঢেকে রাখে, এমন পোশাক পরুন। বাচ্চাদের যথাসম্ভব লম্বা জামা–কাপড় পরাতে হবে। ফুলহাতা শার্ট, গেঞ্জি বা জামা, ফুলপ্যান্ট, পায়জামা পরাতে হবে।  শরীরের খোলা জায়গায় মশা প্রতিরোধক ক্রিম লাগানো যেতে পারে।

৭.  ময়লা রাখার পাত্র প্রতিদিন পরিষ্কার করুন। সেটিও নাগরিক জীবনে এডিস মশার আরেকটি প্রিয় স্থান। ব্যবহারের পর ময়লার পাত্রের মুখ ঢেকে রাখতে হবে। এ ছাড়া ঘরের কোণা, ছায়াময় স্থান, একটু স্যাঁতসেঁতে জায়গা, রান্নাঘরের বেসিন বা বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।


 ৮. বর্ষার মৌসুমে দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হবে। আর জানালা খোলা রাখলেও নেট দিয়ে রাখতে ভুলবেন না। এ ছাড়া ডেঙ্গুবাহী এডিশ মশা থেকে বাঁচতে দিনে ও রাতে সব সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকরী মশার কয়েল কিংবা স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

Source: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%81-%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A8

3


পেঁপে আমাদের অতিপরিচিত একটি ফল। এর একটি বিশেষ দিক হলো এটি একাধারে ফল ও সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। শুধু স্বাদের দিক থেকেই নয়, অসাধারণ পুষ্টিগুণের কারণেও পেঁপে পৃথিবীজুড়ে বেশ জনপ্রিয়। পেঁপেতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার বা আঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৯ এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তা ছাড়া অল্প পরিমাণে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে এবং কয়েক ধরনের ভিটামিন বি। এখন কথা হলো পেঁপে কীভাবে খেলে বেশি ভালো হবে? কাঁচা নাকি পাকা?

কাঁচা পেঁপে
কাঁচা পেঁপে আমাদের দেশে সাধারণত সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, আছে ভিটামিন, খনিজ এবং উদ্ভিজ্জ ফ্যাট। তা ছাড়া কাঁচা অবস্থায় এতে সাইমোপ্যাপেইন এবং প্যাপেইন এনজাইম থাকে। এই দুটি এনজাইম প্রোটিন ফ্যাট এবং কার্বোহাইড্রেটকে ভাঙতে সাহায্য করে। কাঁচা পেঁপে কেন খাবেন?

পেট পরিষ্কার রাখতে
কাঁচা পেঁপের আঁশ আমাদের হজম এবং পরিপাক প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এতে করে মলাশয়, অন্ত্র এবং পরিপাক নালি থেকে বর্জ্যপদার্থ সহজে বের হয়ে যেতে পারে। কাঁচা পেঁপে বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাগুলোকে প্রতিহত করতে সাহায্য করে।

ত্বককে রাখে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল
কাঁচা পেঁপে যেহেতু দেহের ভেতরকার দূষিত পদার্থ নিষ্কাশনে সাহায্য করে তাই এটি আমাদের ত্বকের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। যাদের ব্রণের সমস্যা আছে তাদের নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

কোষ পুনর্গঠন
কাঁচা পেঁপেতে প্রোটিন, ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট এবং উপকারী এনজাইম থাকায় এটি নানাভাবে কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। ডায়েটে কাঁচা পেঁপে রাখলে তা কোষের প্রদাহ রোধ করে কোষের প্রতিরক্ষায় সাহায্য করতে পারে।

কীভাবে খাবেন?
কাঁচা পেঁপে এমনিতে টুকরো করে কাঁচা চিবিয়ে, সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে বা তরকারি হিসেবে রান্না করে খেতে পারেন।

পাকা পেঁপে
পাকা পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসহ নানা রকমের পুষ্টি উপাদান, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পাকা পেঁপে আপনার শারীরিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ক্যানসার প্রতিরোধে
পাকা পেঁপেতে উপস্থিত ফ্লেভানয়েড, বিটা ক্যারোটিন, লুটেইন, ক্যারাটিনয়েডসহ আরও বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার কোষ প্রতিরোধে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফুসফুস এবং অন্যান্য ক্যানসারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা কমায়।

চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

গবেষণা বলছে, নিয়মিত পাকা পেঁপে খেতে চোখের বয়সজনিত ত্রুটি এবং ক্ষতিগ্রস্ততার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। কেননা পাকা পেঁপেতে আছে বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন এ, যা আমাদের চোখের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যাবশ্যকীয় দুটি উপাদান।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়
পাকা পেঁপেতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি। এই উপাদানগুলো আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন রোগব্যাধির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। পাকা পেঁপে খুবই স্বাস্থ্যকর একটি ফল। পরিবারের সুস্থতায় তাই সকালের নাশতায় রাখতে পারেন কয়েক টুকরো পাকা পেঁপে।

হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে
পাকা পেঁপেতে থাকা ভিটামিন এ, সি এবং ই–এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। মানবদেহের কোলেস্টেরল অক্সিডাইজড হয়ে গেলে সেটা ব্লকেজ তৈরি করে; ফলে হৃৎপিণ্ডের নানা অসুখ দেখা দেয়। পেঁপের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কোলেস্টেরলের অক্সিডাইজড হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে হৃৎপিণ্ড নানা ধরনের জটিলতার হাত থেকে রক্ষা পায়।

কীভাবে খাবেন?
পাকা পেঁপে টুকরো করে খাওয়া যায়। তা ছাড়া ফ্রুট সালাদ বানিয়ে বা জুস করেও খেতে পারেন। তবে যেভাবেই খান না কেন অতিরিক্ত মিষ্টি না যোগ করাই ভালো। কেননা পাকা পেঁপে এমনিতেই কিছুটা মিষ্টি হয়ে থাকে।

পেঁপে হোক কাঁচা কিংবা পাকা দুই-ই আমাদের শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। পরিবেশনের বেশিক্ষণ আগে পেঁপে কেটে রাখা উচিত নয়, এতে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। গর্ভাবস্থায় পেঁপে খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলে ডাক্তাররা মনে করেন। এ ছাড়া আপনার যদি বিশেষ কোনো শারীরিক জটিলতা থাকে ডায়েটে পেঁপে অন্তর্ভুক্ত করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।


Source: https://www.prothomalo.com/life/nutrition/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A7%87

4
করোনার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনও বদলে গেছে অনেকটাই। আবার শুরু লকডাউনের জীবন। যেখানে রোজ সকালে অফিসে যাওয়ার তাড়া নেই। বরং অফিসই চলে এসেছে ঘরের মধ্যে। সময়মতো ল্যাপটপ খুলে বসে পড়লেই হলো। সারা দিনের যাবতীয় কাজ থেকে শুরু করে অফিস মিটিং, কনফারেন্স—সবই চলছে বাড়িতে বসেই। সমস্যা হলো অনেক সময়ই অফিসের আবহটা ঠিক বাসার মধ্যে পুরোপুরি আনা সম্ভব হয় না। অনেকে বাড়ির পোশাকেই অফিসের কাজ করছেন, এমনকি যেমন–তেমনভাবে বসে পড়ছেন ভিডিও মিটিংয়ে। বাড়ির পোশাকেই ভিডিও মিটিংয়ে বসা যেমন পেশাদারত্বের পরিচয় নয়, তেমনি খেয়াল রাখতে হবে কিছু ম্যানার বা আদবকেতার দিকেও।

নিশ্চয়ই ভাবছেন, বাড়িতে বসে কাজ হচ্ছে যখন, এত ফরমালিটি মেনে লাভ কী। এমনিতে বাড়ির পোশাকে অফিসের কাজ করলে তেমন ক্ষতি নেই, কিন্তু ভিডিও মিটিংয়ের সময় বাড়তি সতর্ক আপনাকে হতেই হবে।

বাড়ির পোশাক যতই আরামদায়ক হোক না কেন অফিসের অনলাইন মিটিংয়ে একটু পরিবর্তন আনা জরুরি। অফিসের ভিডিও মিটিংয়ে বসার আগে নিজেকে একটু পরিপাটি করে নিন। সালোয়ার–কুর্তা, স্কার্ট-টপ পরে বসতে পারেন। মোটামুটি আপনি যে ধরনের পোশাকে অফিস যান, সেই ধারাটা ধরে রাখলেই যথেষ্ট। অনেক সময় মেকআপ করার প্রয়োজন নেই। শুধু চুলটা আঁচড়ে নিন ভালোভাবে। আবার কখনো কখনো প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা মেকআপ করা যেতে পারে। যেমন মুখে ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন, হালকা কমপ্যাক্ট বুলিয়ে নিতে পারেন তার ওপরে। ঠোঁটে দিন লিপগ্লস।

এ তো গেল পোশাক আর মেকআপের কথা। এবার আসা যাক জায়গা নির্বাচনের বিষয়ে। এমন জায়গায় বসে ভিডিও মিটিং করুন, যেখানে বাড়ির লোকজন আসবেন না। প্রয়োজনে আগে থেকেই তাদের বলে রাখতে হবে। জায়গাটায় যেন যথেষ্ট আলো থাকে। বিশেষ খেয়াল রাখুন ব্যাকগ্রাউন্ডের দিকে। অনেকেরই বাড়িতে জিনিসপত্র এলোমেলো থাকে, অগোছালো পরিবেশ দেখা যায় বাড়িজুড়ে। এ ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে ঘরের যে অংশটুকু দেখা যাবে। অন্তত সেই অংশটি একটু গুছিয়ে নিতে ভুলবেন না। অপ্রয়োজনীয় আজেবাজে জিনিস সরিয়ে দিন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে।

ভিডিও মিটিংয়ে কানেক্টিভিটির সমস্যা হতে পারে, আরও নানা যান্ত্রিক সমস্যা হতে পারে। একেবারে শেষ মুহূর্তে লগইন করলে হয়তো এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি সামলানো সম্ভব না–ও হতে পারে। তাই মিটিং শুরুর অন্তত আধঘণ্টা আগে লগইন করে অপেক্ষা করুন। অফিসের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলা খুবই জরুরি। অফিস টাইম ৯টায় শুরু হলে ঠিক সময়েই কাজ শুরু করতে হবে। অফিস টাইমের আগেই গোসল ও সকালের নাশতা সেরে নিতে হবে। কারণ, বাড়িতে বসে কাজ করা মানেই ঘরের কাজ ও অফিস দুটোই একসঙ্গে নয়। অফিস শিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

ভিডিও মিটিংয়ে বসে দাঁতে নখ কাটা, গা এলিয়ে বসে থাকা একেবারেই উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, সশরীর অফিস মিটিংয়ে যেভাবে উপস্থিত থাকতে হয়, ঠিক একইভাবে অনলাইন মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা উচিত।

খুব প্রয়োজন না হলে চেয়ার ছেড়ে উঠে যাওয়াও ঠিক নয়। মিটিং চলাকালে চা, কফি বা পানি ছাড়া কিছু খাওয়া উচিত নয়। কোনো কিছুতে বিরক্তি এলে সেটা যেন চেহারায় ছাপ না থাকে। বিশেষ করে ভ্রু কুঁচকে থাকে কি না খেয়াল করুন। কম্পিউটারের ক্যামেরা আর মাইক্রোফোন ঠিকমতো কাজ করছে কি না সেটাও আগে থেকে দেখে নিতে হবে। হাতের কাছে পানির বোতল বা গ্লাস রাখুন। নোটবই আর কলম নিয়ে বসুন। আর হ্যাঁ, মোবাইল ফোন অবশ্যই সাইলেন্ট রাখবেন এ ক্ষেত্রেও।

মিটিং চলাকালে হাঁচি যেন না আসে সেদিকটায় খেয়াল রাখুন। অন্য যেকোনো সময়ের অফিস মিটিংয়ে এ বিষয়গুলো হয়তো হলেও কেউ খেয়াল করত না। কিন্তু জুম মিটিংয়ে ভ্রু কুঁচকে থাকা, হাঁচি দেওয়া সবার দৃষ্টিতে চলে আসবে সহজেই, যা মিটিংয়ে আপনার ইমেজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ম্যানার মেনে চললেই দেখবেন সতেজ–সুন্দরভাবে কাটবে হোম অফিসের সময়।

জরুরি অবস্থা চলে গেলে বা শিথিল হলে আগের মতোই অফিসে গিয়ে কাজ করতে পারবেন। তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলের অনুমতিক্রমে অফিসে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে তৈরি থাকতে হবে। পৃথিবী সুস্থ হয়ে উঠুক। কাজের পরিবেশ ফিরে আসুক—এ কামনা সবারই।

5
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আমাদের ক্রমশ ধরে ফেলছে। এআই অ্যালগরিদম এখন আমাদের হরহামেশাই দাবা, পোকার কিংবা মাল্টিপ্লেয়ার ভিডিও গেমে হারিয়ে দিচ্ছে। মানুষের এমন সব ছবি তৈরি করছে, যা প্রকৃত ছবির সঙ্গে পার্থক্য বের করা কঠিন। সংবাদ লেখার পাশাপাশি এআই প্রোগ্রাম এখন ভালোবাসার গল্প লিখছে। অনেক তরুণ চালকের চেয়ে ভালো গাড়ি চালাতে পারছে। এআই যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতে মানুষের জন্য যথেষ্ট আশঙ্কার কারণ রয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন উল্টোটা। তাঁদের মতে, এআইয়ের পক্ষে সাধারণ মানুষের সমকক্ষ হয়ে ওঠা এখনই সম্ভব নয়। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিখুঁত হয়ে ওঠেনি। এর উদাহরণ হিসেবে ‘ওবোট’ নামের একটি প্রোগ্রামের কথা বলা যায়। সায়েন্স টাইমসে সাংবাদিক ক্যারেন ব্রাউন ওবোট সম্পর্কে লিখেছেন, এআই চালিত স্মার্টফোন অ্যাপ ওবোটের লক্ষ্য হচ্ছে কম খরচে কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া। সংলাপ ব্যবহার করে ব্যবহারকারীকে মানসিক আচরণের সাধারণ পদ্ধতিগুলো শেখাতে পারে এটি। তবে অনেক মনোবিদ সন্দিগ্ধ যে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগে যে আন্তসংযোগ ঘটে, সে ধরনের অনুভূতি কি এআই প্রোগ্রাম কখনো দিতে পারে।

শিকাগোভিত্তিক থেরাপিস্ট লিন্ডা মাইকেলস বলেন, এআইভিত্তিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে তৈরি করা অ্যাপগুলোর এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় থেরাপির কাজ এ ধরনের অ্যাপে সমাধান করা যায় না। মানুষের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো রোবটের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করে না। রোবটের পক্ষ থেকে মানুষের মধ্যে সেই অনুভূতি তৈরির পথও নেই। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো মানুষকে এমন একটি পরিস্থিতিতে রাখা হলো যে তিনি উপকারী এআইকে সহযোগিতা করতে পারেন। কিন্তু দেখা যাবে, তিনি তা ঠিকমতো করছেন না।

জার্মানির মিউনিখের লুডভিগ ম্যাক্সিমিলান বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক অফেলিয়া ডেরয় বলেন, ‘সাধারণত মানুষ ও রোবটের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় কিছু একটার অভাব দেখা দেয়। আমরা মূলত সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গেও এআইয়ের তুলনায় স্বচ্ছন্দ বোধ করি।’ কেন এমনটি ঘটে, তা খতিয়ে দেখতে অফেলিয়া ও তাঁর নিউরোসায়েন্টিস্ট সহকর্মীরা মিলে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এখানে গবেষকেরা ব্যক্তির সঙ্গে অপরিচিতের জুটি গড়েন।

কখনো মানুষের সঙ্গে অপরিচিত কোনো মানুষ, আবার মানুষের সঙ্গে রোবটের জুটি গড়া হয়। এরপর প্রতিটি জুটিকে মুরগি ও হরিণ শিকারের মতো কিছু খেলা খেলতে দেওয়া হয়। এতে তাঁরা দেখেন, সাধারণত এআইয়ের সঙ্গে আস্থার ঘাটতি থাকে। কারণ, এআইচালিত রোবট কেবল যুক্তি মেনে চলে ও অনুভূতিহীন। এটা নিজের যুক্তির বাইরে চিন্তা করতে অক্ষম এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে চায় না। তাই মানুষের পক্ষেও এআইকে এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া রোবট সহযোগিতার জন্য আগ্রহী থাকলেও মানুষ রোবটের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য ততটা আগ্রহী হয় না।

গবেষক অফেলিয়া বলেন, এআই সহযোগিতা মনোভাবপূর্ণ হলেও অনেকে এর সঙ্গে নির্দ্বিধায় বিশ্বাসভঙ্গ করে। এর জন্য কোনো অপরাধ বোধেও ভোগে না, যেটা তারা মানুষের ক্ষেত্রে করে। ‘আপনি রোবটে উপেক্ষা করতে পারেন এবং তাতে আপনার মধ্যে শর্ত লঙ্ঘনের কোনো অনুভূতিও কাজ করবে না।’  ‘এটাই বাস্তব জগতে জটিলতা তৈরি করতে পারে। আমরা যখন এআই নিয়ে ভাবি, তখন আমাদের ভবিষ্যৎ দুনিয়ার অনুষঙ্গ হিসেবে অ্যালেক্সা ও সিরিকে নিয়ে ভেবে থাকি। এসব সফটওয়্যারের সঙ্গে আমরা একধরনের ভুয়া অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি করতে পারি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ যোগাযোগ হবে শুধু একটি সময়ের জন্য এবং শব্দহীন আলাপচারিতা। ধরুন, কোনো হাইওয়েতে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং একটি আপনার সামনে যেতে চাইছে। যদি দেখেন গাড়িটি চালকহীন, তখন আপনি ওই গাড়িকে যেতে দিতে চাইবেন না। এবং তখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি আপনার এই অচালকসুলভ আচরণ ধরতে না পারে, তখন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

গবেষক ডেরয় বলেন, ‘সমাজে যেকোনো পর্যায়ে সহযোগিতা বজায় রাখতে হলে কিছু নির্দিষ্ট রীতিনীতি গড়ে তুলতে হয়। ভুল করে অপরাধবোধ মানুষকে সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলতে শেখায়। আর এর মধ্যে অন্যদের সঙ্গে আপস করা এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে মানুষ। কিন্তু আমরা এখনো সংবেদনহীন রোবট ও বটগুলোর জন্য সামাজিক বা নৈতিক রীতিনীতি তৈরি করতে পারিনি।’



নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন মিন্টু হোসেন

Source: https://www.prothomalo.com/education/science-tech/%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%9F-%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7-%E0%A6%B9%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%89%E0%A6%A0%E0%A6%9B%E0%A7%87

6


জাতিসংঘ সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহের এ বছরের (১৭-২৩ মে) প্রতিপাদ্য ‘জীবনের জন্য সড়ক’। এটি সামনে রেখে বড় বড় শহর এবং পথচারীবহুল এলাকাগুলোয় যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। পথচারীবহুল বলতে মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও আবাসিক এলাকাসংলগ্ন সড়ককে বোঝানো হয়েছে। ৮০টির বেশি বড় শহরে পরিচালিত সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩০ কিলোমিটার করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে যানজট ও বায়ুদূষণও কমে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন উচ্চ আয়ের দেশের পাশাপাশি আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার তুলনামূলক কম আয়ের অনেক দেশ যানবাহনের গতিসীমা ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

বাণিজ্যকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সড়ক ও যানবাহন উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণত দ্রুতগতির প্রযুক্তিকে উৎসাহিত করা হয়।
সাধারণত ব্যয়বহুল এসব প্রযুক্তি সড়ক যোগাযোগ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি সড়কে জীবনহানি ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ে; পরিণতিতে যা দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের ওপর এবং দীর্ঘ মেয়াদে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। এসব ঘটনায় প্রাণহানিকে কেন্দ্র করে একাধিক আন্দোলন হয়েছে। তবে ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন আগের সব আন্দোলনকে ছাড়িয়ে যায়। সে বছরের ২৯ জুলাই শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মিম এয়ারপোর্ট রোডে একটি বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারায়। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রসমাজ। সড়কের অব্যবস্থাপনা নিরসনের দাবিতে অভূতপূর্ব আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

২০২০ সালে সুইডেনে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে জাতিসংঘ গৃহীত স্টকহোম ঘোষণার যথাযথ বাস্তবায়ন বাংলাদেশের সড়কগুলোয় প্রতিবছর হাজার হাজার প্রাণহানি রোধে নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে। ঘোষণাটিতে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে পথচারীবহুল এলাকাগুলোয় সর্বোচ্চ গতি ৩০ কিলোমিটারে সীমিত রাখার আহ্বান বিশেষভাবে উল্লেখ্য। যেসব গবেষণা ও প্রয়োগের মধ্য দিয়ে পাওয়া ফলাফল জাতিসংঘের এই আহ্বানের ভিত্তি, তার একটি সারাংশ নিচে দেওয়া হলো।

স্বল্প গতি জীবন বাঁচায়, কিন্তু মোট সময় বাড়ায় না


সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিসীমায় তানজানিয়াতে ২৫ শতাংশ, কানাডার টরন্টোতে ২৮ শতাংশ, কলম্বিয়ার বোগোটায় ৩২ শতাংশ, ইংল্যান্ডের লন্ডনে ৪২ শতাংশ এবং ব্রিস্টলে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় দেখা গেছে, যানবাহনের গতিসীমা ১ কিলোমিটার বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

বেশির ভাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দাও স্বল্প গতির পক্ষে। পরিমিত গতি যানজট কমাতে সহায়ক। ১১টি দেশে ইংল্যান্ডভিত্তিক চাইল্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভ সংস্থার পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ মানুষ যানবাহনের গতি সীমিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সড়কের ধরন, যান চলাচল এবং এলাকার ধরনের ওপর ভিত্তি করে কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনটির আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশের পরিবহন বিধিমালা প্রণয়ন পর্যায়ে রয়েছে। বিধিমালায় বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন গতিসীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে স্টকহোম ঘোষণা, বিশেষ করে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩০ কিলোমিটার বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে। ঢাকা মহানগরের মেয়রদের ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ
সাধারণভাবে মনে করা হয়, কম গতি চলাচলের মোট সময় বাড়িয়ে দেয়। বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। গবেষণায় দেখা গেছে, যান চলাচলে মোট কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করে মূলত ট্রাফিক সিগন্যাল, যানজট ও মোড়গুলোয় কতক্ষণ সময় লাগছে, তার ওপর। তুলনামূলক কম গতিতে যান চলাচলের ভূমিকা এখানে নেই বললেই চলে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, শহরে চলাচলের ক্ষেত্রে ৩০ কিলোমিটার ও ৫০ কিলোমিটার—এই দুই গতিসীমায় চলাচল করেও কোনো গন্তব্যে পৌঁছতে কিন্তু প্রায় একই সময় লাগছে।

দূষণ কমায় ৩০ কিলোমিটার গতিসীমা

মোটরযানের গতি এবং তা থেকে নির্গত ধোঁয়া থেকে দূষণের সম্পর্ক বেশ জটিল। এটি নির্ভর করে যানের ধরন, তাপমাত্রা, রাস্তার নকশা ও বিন্যাস এবং নির্মাণ-বৈশিষ্ট্যের ওপর। বারবার ওঠানামা না করে গাড়ি একই গতিতে চললে কম দূষণ হয়। লন্ডনে ২০ কিলোমিটার গতিসীমা এলাকা এবং বেলজিয়ামে ৩০ কিলোমিটার গতিসীমা এলাকায় পরিচালিত সমীক্ষায় এ ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পাওয়া যায়নি।

স্বল্পগতির স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত উপকারিতার দিকটিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। স্বল্প গতিসীমার রাস্তায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা কম বলে গাড়িতে না চেপে মানুষ সাইকেল এবং হেঁটে চলাচল করতে উৎসাহী হয়। এতে কার্বন নিঃসরণ কমে, নিশ্চিত হয় সুস্বাস্থ্য।

২০১৭ সালে বিশ্বব্যাংক পরিচালিত এক গবেষণা অনুযায়ী ঢাকা শহরে মোটরযান চলাচলের গড় গতি ঘণ্টায় সাত কিলোমিটার, এক দশক আগেও যা ছিল ২১ কিলোমিটার। ২০১৬ সালে ব্র্যাক ও কোপেনহেগেন কনসেনশাস সেন্টারের সহায়তায় পরিবহন বিশেষজ্ঞ রবার্ট গেলাহার ঢাকা শহরে একটি সমীক্ষা চালান। এতে দেখা যায়, মেট্রোরেলসহ বাংলাদেশ সরকারের সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মহানগরে যানবাহনের গড় গতি বেড়ে ১৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার হবে। কিন্তু মহানগরের যেখানে যানজট কম বা নেই, চালকদের মধ্যে সেখানে গতি বাড়ানোর মারাত্মক প্রবণতা লক্ষ করা যায়। অন্যান্য নগর বা মহাসড়কেও একই প্রবণতা বিদ্যমান। কাছেই স্কুল, হাসপাতাল বা ধর্মীয় স্থান আছে—এমন সতর্কতামূলক সাইনপোস্ট থাকলেও তা উপেক্ষা করে উচ্চগতিতে গাড়ি চালান তাঁরা।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সড়কের ধরন, যান চলাচল এবং এলাকার ধরনের ওপর ভিত্তি করে কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনটির আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশের পরিবহন বিধিমালা প্রণয়ন পর্যায়ে রয়েছে। বিধিমালায় বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন গতিসীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে স্টকহোম ঘোষণা, বিশেষ করে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩০ কিলোমিটার বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে। ঢাকা মহানগরের মেয়রদের ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ৩০ কিলোমিটারের নিয়মটি তাঁরা রাজধানীর জন্য প্রয়োগ করতে পারেন। করা হলে বড় মাপের প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সেটি অবহিত করতে হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশকেও সক্রিয় হতে হবে। নিয়মটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে এ শহরে জীবনহানি, অঙ্গহানি এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস পাবে বলে আমরা আশা রাখি।


● আহমেদ নাজমুল হোসাইন ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক

Source: https://www.prothomalo.com/opinion/column/%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A-%E0%A6%97%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%95-%E0%A7%A9%E0%A7%A6-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0

7


কোভিড-১৯-এর টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার পরও অনেকে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে তাঁদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক কম। টিকা নেওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত ২০০ জনের ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে ৮৮ শতাংশের বেশি রোগীর শ্বাসকষ্ট ছিল না। ৯২ শতাংশ রোগীর অক্সিজেন লাগেনি।

গবেষণাটি করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) একদল গবেষক। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই গবেষণা চালানো হয়। যাঁদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়, তাঁরা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছিলেন।

সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশের নেতৃত্বে এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শারমিন চৌধুরী, শিক্ষক ইফতেখার আহমেদ এবং চার ভেটেরিনারি চিকিৎসক ত্রিদীপ দাশ, প্রাণেশ দত্ত, সিরাজুল ইসলাম ও তানভীর আহমদ নিজামী।

গবেষণা সম্পর্কে অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণকারীরা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলেও যাঁরা টিকা গ্রহণ করেননি, তাঁদের তুলনায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বললেই চলে। তাঁদের মৃত্যুঝুঁকিও কম। তাই টিকা নিয়ে নিজেদের সুরক্ষিত করা জরুরি।

সিভাসু কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষাগারে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ১৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫২ জনের (সাড়ে ২৮ শতাংশ) করোনা পজিটিভ হয়। এর মধ্যে ২০০ জন ছিলেন টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণকারী।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ২০০ জনের মধ্যে ১৬৫ জনকে (৮২.৫ শতাংশ) হাসপাতালে যেতে হয়নি। ৩৫ জনকে (১৭.৫ শতাংশ) হাসপাতালে ভর্তি হতে হলেও তাঁদের মারাত্মক কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।

কোভিড আক্রান্ত কিছু রোগীর মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। সিভাসুর গবেষণায় এসেছে, টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে ১৭৭ জনের (৮৮.৫ শতাংশ) কোনো শ্বাসকষ্ট হয়নি। ১৮৪ জনের (৯২ শতাংশ) অক্সিজেন দিতে হয়নি। যাঁদের শ্বাসকষ্ট ও অতিরিক্ত অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে, তাঁদের বার্ধক্যজনিতসহ নানা সমস্যা ছিল।

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সাধারণত প্রাথমিক উপসর্গ হচ্ছে জ্বর, হাঁচি ও কাশি। গবেষণায় দেখা যায়, টিকা গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে ৮৯ জনের (৪৪.৫ শতাংশ) ও ১৮২ জনের (৯১ শতাংশ) কাশি ও হাঁচি ছিল না। বাকি যাঁদের ছিল, তিন থেকে সাত দিনের মাথায় তা চলেও গেছে। ১১৩ জনের (৫৬.৫ শতাংশ) স্বাদ ও ১১১ জনের (৫৫.৫ শতাংশ) ঘ্রাণে কোনো পরিবর্তন ছিল না।

টিকা গ্রহণকারী রোগীদের গড়ে অক্সিজেন স্যাচুরেশন পাওয়া যায় ৯৬ দশমিক ৮ শতাংশ। যাঁদের শ্বাসকষ্ট হয়েছিল, তা গড়ে পাঁচ দিনের বেশি ছিল না। তাঁদের সর্বনিম্ন অক্সিজেন স্যাচুরেশন পাওয়া যায় ৯০ শতাংশ। যাঁরা টিকা গ্রহণ করেননি, তাঁদের বেশির ভাগের সর্বনিম্ন অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল ৮৫ শতাংশ।

যে ২০০ জনের ওপর গবেষণা চালানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণের পরও আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কেবল একজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সেবা নিতে হয়েছে। ছয় দিন পর তিনি মারা যান। ৪৮ বছর বয়সী এই রোগী আগে থেকে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।

সিভাসুর প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক শারমিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিকা গ্রহণকারী আক্রান্তদের সঙ্গে টিকা না নিয়ে আক্রান্তদের কয়েকজনের সঙ্গে আমরা তুলনা করেছি। টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা তুলনামূলক অনেক কম ছিল। তাঁরা অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত ছিলেন।’

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে বয়স ও লিঙ্গভেদে ১২৯ (৬৪.৫ শতাংশ) জন আগে বিভিন্ন স্বাস্থ্যজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। যার মধ্যে ৩৬ জন উচ্চ রক্তচাপ, ৩২ জন ডায়াবেটিস ও ৫ জনের অ্যালার্জি ছিল। ৫১ জন ছিলেন একাধিক রোগে আক্রান্ত।


গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্তদের অধিকাংশ টিকা নেওয়ার গড়ে ৩২ দিন পর আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁদের শরীরের গড় তাপমাত্রা ছিল ১০১°ডিগ্রি। লিঙ্গ ও বয়সভেদে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯৯°ডিগ্রি থেকে ১০৪°ডিগ্রি।

এ গবেষণা সম্পর্কে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, গবেষণাটি অবশ্যই ইতিবাচক। এটা আরও বড় পরিসরেও হতে পারে। এতে টিকায় মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, ‘এমনিতে আমরা যেসব রোগী পাচ্ছি, তাতে দেখা যায় টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে করোনা হলেও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কম দেখা দিচ্ছে। টিকার দ্বিতীয় ডোজও সবাইকে নিতে হবে।’


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%93-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%AE

8



এইউ থেকে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। তোমাদের অনেকের চেয়ে এই ক্যাম্পাসে আমি বেশি সময় কাটিয়েছি। কয়েক ব্লক পরেই আমি থাকি। ৪০ বছর ধরে সকালে বা সন্ধ্যায় এই ক্যাম্পাসে জগিং করি। এখন যেহেতু ‘অনারারি গ্র্যাজুয়েট’ স্বীকৃতি পেয়েই গেছি, তোমাদের ওয়াশরুম ব্যবহার করতে অপরাধবোধ কিছুটা কম হবে।

সমাবর্তন এবং ‘সারা জীবন ছাত্র থাকার ধারণা’ দুটো পরস্পরবিরোধী বিষয়। যেহেতু আজ তোমরা সমাবর্তন পাচ্ছ, স্বাভাবিকভাবেই ভাবতে পারো, আজকের পর থেকে তোমরা আর সত্যিকার অর্থে ছাত্র নও। জেনে রাখো, এটা ভুল। আমার ক্ষেত্রে যেমন সমাবর্তনের পরই আমি বুঝতে পেরেছি, ছাত্রজীবন তো কেবল শুরু। যে বিষয়েই পড়ো, যে পেশাই বেছে নাও, যদি নিজের কাছে সৎ থাকতে চাও আর তোমার সবটুকু সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চাও, তোমাকে আজীবন ছাত্র থাকতে হবে। শিগগিরই বুঝতে পারবে, তুমি যতটা জানতে চাও, ততটা কখনোই তোমার জানা হবে না। জ্ঞানের খাঁড়া দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সব সময় আরও জানার এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। আমি এখনো নতুন কিছু শেখার তাড়না অনুভব করি, শেখার প্রক্রিয়াটা উপভোগ করি।

যেকোনো সময় তুমি এমন পরিস্থিতিতে পা রাখতে পারো, যা এখনো অনাবিষ্কৃত, এমনকি সুপ্রতিষ্ঠিত ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে। অতএব অপ্রত্যাশিত কিছুর প্রত্যাশা করো এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, অভাবনীয় সুযোগগুলো কাজে লাগাও। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে একটা ঘটনা বলি, যেটা নাটকীয়ভাবে আমার জীবন বদলে দিয়েছিল। ১৯৬৮ সালে নিউইয়র্ক হাসপাতাল করনেল মেডিকেল সেন্টার থেকে ইন্টার্নাল মেডিসিনে আমার প্রশিক্ষণ শেষ করি। সে বছরই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সামনে গণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছিলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও টিকার শক্তিতে আমরা ‘সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়ে গেছি’ এবং এখন আমাদের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক অন্য কোনো ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়া উচিত, অন্য বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করা উচিত। ভাগ্যের কী পরিহাস, তখন আমি মাত্রই একটা ফেলোশিপ নিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথে (এনআইএইচ) সংক্রামক রোগ নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করেছি। মনে আছে নিউইয়র্ক থেকে বেথেসডা, এমডির এনআইএইচে যাওয়ার পথে ভাবছিলাম, আমি কি পেশাজীবনে ভুল পথে পা বাড়ালাম? আমি কি এমন একটা কাজের ক্ষেত্রে প্রবেশ করলাম, যা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে? এ যেন স্কি ইনস্ট্রাক্টর হওয়ার জন্য মায়ামি যাত্রা। আমার পেশার জন্য ভাগ্যক্রমে এবং পৃথিবীর জন্য দুর্ভাগ্যক্রমে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ভুল ছিলেন। ১৯৮১ সালে এইডসের মহামারি শুরু হলো, যা শুধু আমার পেশাজীবন নয়, আমার সমগ্র জীবনই বদলে দিয়েছিল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, এইচআইভি বা এইডস দিয়েই সংক্রামক রোগের হুমকি শেষ হয়ে যাবে না।

আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের পেশাজীবনের পথ যা-ই হোক না কেন, সমাজের নানা সমস্যা থেকে আমরা চোখ সরিয়ে নিতে পারি না। সমাজের অনেক অংশ এখনো দারিদ্র্য, মাদকাসক্তি, সহিংসতা, স্বাস্থ্যবৈষম্য, অপর্যাপ্ত শিক্ষা, ভেদাভেদ এবং হতাশায় ভুগছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের শহরেও এমন অনেকে আছে। তোমাদের মধ্যে অনেকে এসব সমস্যা সমাধানে সরাসরি নিজের জীবন উৎসর্গ করবে। আবার অনেকের পক্ষেই সেটা সম্ভব হবে না। কিন্তু জনসাধারণের সেবা করতে হলে যে সরকারি চাকরিই করতে হবে, এমন তো নয়। যে পেশায়ই থাকো না কেন, জনসেবা করার সুযোগ তোমার থাকবে। দয়া করে এটা মাথায় রেখো এবং জীবনের অংশ করে নিয়ো।

তোমরা একটা অনন্যসাধারণ প্রতিষ্ঠান থেকে সমাবর্তন নিচ্ছ। আমেরিকান ইউনিভার্সিটির তরুণেরাই আমাদের সমাজের ভবিষ্যৎ নেতা। কিন্তু নেতৃত্বগুণ তৈরি হয় ধাপে ধাপে, যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই তোমরা শুরু করে দিয়েছ। বলছি না আনুষ্ঠানিক কোনো পদ নিয়ে তোমাকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নেতৃত্বের অনেক ধরন থাকে। নীরবে নিভৃতেও নেতৃত্ব দেওয়া যায়। এক মুহূর্তের জন্যও কখনো ভেবো না, নেতৃত্ব দেওয়ার বয়স তোমার হয়নি। (সংক্ষেপিত)

সূত্র: অনুষ্ঠানের ভিডিও



Source: https://www.prothomalo.com/feature/shapno/%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%A8-%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81-%E0%A6%B9%E0%A7%9F-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%B2-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8

9



অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হলো কিছু ভিটামিন, মিনারেল ও এনজাইম, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যালের (দেহের কোষ, প্রোটিন ও DNA ক্ষতি করে এমন কিছু) বিরুদ্ধে লড়াই করে, শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে শরীরে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হলো বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, ই, লাইকোপেন, লুটেইন সেলেনিয়াম ইত্যাদি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ যে খাবারগুলো বেশি করে খেতে হবে:
বিটা ক্যারোটিন: উজ্জ্বল রঙের ফল, সবজি। যেমন গাজর, পালংশাক, আম, ডাল ইত্যাদি।

ভিটামিন এ: গাজর, পালংশাক, মিষ্টি আলু, মিষ্টিকুমড়া, জাম্বুরা, ডিম, কলিজা, দুধজাতীয় খাবার।

ভিটামিন ই: কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, বাদাম তেল, বিচিজাতীয় ও ভেজিটেবল অয়েল, জলপাইয়ের আচার, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি।

ভিটামিন সি: আমলকী, লেবু, কমলা, সবুজ মরিচ, করলা ইত্যাদি।

এ ছাড়া যে খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো। এ খাবারগুলো আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে তো বাড়িয়ে তুলবেই, সেই সঙ্গে আরও বিভিন্নভাবে আপনার শরীরকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করবে।

সামগ্রিকভাবে উদ্ভিজ্জ খাবারই হলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সবচেয়ে ভালো উৎস, বিশেষ করে বেগুনি, নীল, কমলা ও হলুদ রঙের শাকসবজি ও ফল।

প্রয়োজনীয় খাবারের তালিকা:
সবজি: করলা (বিটা ক্যারোটিনসমৃদ্ধ), পারপেল/লাল পাতা কপি, বিট, ব্রোকলি, গাজর, টমেটো, মিষ্টি আলু, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি।

শাক: যেকোনো ধরনের ও রঙের শাক।

ফল: কমলালেবু, মালটা, পেঁপে, আঙুর, আম, কিউই, আনার, তরমুজ, বেরি, জলপাই, আনারস ইত্যাদি।

মসলা: আদা, রসুন, হলুদ, দারুচিনি, গোলমরিচ।

অন্যান্য: শিম বিচি, মটরশুঁটি, বিচিজাতীয় খাবার, বার্লি, ওটস, লাল চাল ও আটা, বাদাম।

টক দই: এটি প্রোবায়োটিকস, যা শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে শাকসবজি, ফল, বাদামজাতীয় খাবার শরীরে নিউটোভ্যাক্স ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডি প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, যা স্টেপটোকোক্কাস নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

চা: গ্রিন টি, লাল চায়ে এল-থেনিন এবং ইজিসিজি নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনেক যৌগ তৈরি করে শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

এ ছাড়া ভিটামিন বি-৬, জিংক-জাতীয় খাবার (বিচিজাতীয়, বাদাম, সামুদ্রিক খাবার, দুধ ইত্যাদি) শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির কোষ বৃদ্ধি করে। তাই এ ধরনের খাবার বেশি খেতে হবে।

উচ্চ মানের আমিষজাতীয় খাবার (ডিম, মুরগির মাংস ইত্যাদি) বেশি করে খেতে হবে।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের খুব ভালো কাজ পেতে হলে খাবার রান্নার সময় অতিরিক্ত তাপে বা দীর্ঘ সময় রান্না না করে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে।

ওপরের খাবারগুলো ছাড়াও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে উচ্চ আমিষযুক্ত খাবার বেশি করে খেতে হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ও টিস্যু দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং পাশাপাশি নতুন টিস্যু তৈরি হবে। এর সঙ্গে দরকার পর্যাপ্ত ঘুম। অপর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম শরীরে কর্টিসল হরমোনের চাপ বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তাই পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।

যে খাবার বাদ দিতে হবে
সব ধরনের কার্বনেটেড ড্রিংকস, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, তামাক, সাদাপাতা, খয়ের ইত্যাদি। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বাধা দিয়ে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম, চিনি ও চিনির তৈরি খাবার (যা ভাইরাসের সংক্রমণে সহায়তা করে)।

এ লেখার উদ্দেশ্য সঠিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে প্রত্যেকের শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা করা, যাতে শুধু করোনাভাইরাস নয়, সব ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় আপনি শারীরিকভাবে সক্ষম থাকতে পারেন।

লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ ও বিভাগীয় প্রধান, পুষ্টি বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল।




Source: https://www.prothomalo.com/life/nutrition/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8

10


বঙ্গোপসাগর থেকে উড়ে আসা সাদা মেঘের ছায়া আর বসন্তের ফুরফুরে হাওয়ার খেলা চলছে প্রকৃতিতে। সূর্য এখনো তেতে ওঠেনি। নেই শীতও। এমন দারুণ সময়ে বুকভরে নিশ্বাস নিতে কার মন না চায়? কিন্তু ঢাকায় নিশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢোকা এ বাতাস মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, রাজধানীর বাতাসকে এখন বিষিয়ে তুলছে যানবাহনের ধোঁয়া। বায়ুদূষণের জন্য অর্ধেক (৫০%) দায়ই মূলত তরল জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়ার। ৪০ ভাগ দূষণের উৎস খড়, কাঠ, তুষের মতো জৈব বস্তুর ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম বস্তুকণা। বাকি ১০ শতাংশ দূষিত বস্তুকণা আসে ইটভাটায় কয়লা পোড়ানোর ধোঁয়া থেকে।

এ থেকে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর বায়ুদূষণের উৎসের একটি বড় বদল ঘটে গেছে। এক যুগ ধরে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটাকে মনে করা হতো। কিন্তু এই জরপি বলছে, ঢাকার বাতাসে দূষিত বস্তুর উৎস হিসেবে ইটভাটার স্থান দখল করেছে যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও বায়ু মান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান অধ্যাপক আবদুস সালামের নেতৃত্বে করা এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বাতাসে এই সব কটি সূক্ষ্ম বস্তুকণা মিলে তৈরি করছে কালো কার্বন, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই কালো কার্বন বছরের অর্ধেকের বেশি সময়জুড়ে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোয় চলা অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামতকাজের কারণে প্রচুর ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে। কালো কার্বন ওই ধুলায় ভর করে উন্মুক্ত স্থানের পাশাপাশি বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই ঘরের ভেতরে থাকলেও নিশ্বাসের সঙ্গে তা শরীরে ঢুকে পড়ছে।

অধ্যাপক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, সরকার অবৈধ ইটভাটাগুলো ভেঙে ফেলছে, বন্ধ করে দিচ্ছে—এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এখন বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন। এগুলোর বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি দেশে এখন প্রচুর বড় অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চলছে। সেগুলোতে ঠিকমতো ধুলা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

রাস্তায় বের হলেই দেখা যাবে ভুরভুর করে কালো ধোঁয়া ছেড়ে দিব্যি সবার মুখ অন্ধকার করে ছুটে যাচ্ছে বাস। খোদ ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের গায়ে কালো ধোঁয়া ছেড়েও চলে যাচ্ছে বাস। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। যানবাহনের সব ধোঁয়াই দূষণের জন্য দায়ী। কালো ধোঁয়ায় দূষণের পরিমাণ বেশি। আর কালো ধোঁয়ার বড় উৎস মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির সংখ্যা পাঁচ লাখের মতো। যেগুলো থেকে কালো বিষাক্ত ধোঁয়া বের হয়। প্রতিবছর ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে এ ধরনের যানবাহন বাড়ছে। ২০২০ সালের হিসাবে, দেশে নিবন্ধিত মোটরযান আছে ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭৮টি। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার ৩৬টি গাড়ি রয়েছে রাজধানীতে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ক্যামিকেল সোসাইটি দক্ষিণ এশিয়ায় কালো কার্বনের উৎস পরিমাপ শীর্ষক এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে। স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়, নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অব এয়ার রিসার্চ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের আটজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি করা হয়। তাতেও দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ুদূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী কালো কার্বন। আর এর ৫২ শতাংশ আসে জৈব জ্বালানি অর্থাৎ জ্বালানি তেল পোড়ানো ধোঁয়া থেকে।

আবার বিশ্বের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের হিসাবে ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে ঢাকার বায়ুর মান ১২ শতাংশ বেশি খারাপ হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু প্রকল্প থেকে ২০১২ সালে সর্বশেষ রাজধানীর বায়ুদূষণের উৎস নিয়ে একটি জরিপ করা হয়। তাতে দেখা যায়, ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য দায়ী উৎসগুলোর মধ্যে ইটভাটার অবদান প্রায় ৫৮ শতাংশ। ধুলা ও ধোঁয়া থেকে আসে ২৫ শতাংশ, জৈব বস্তু পোড়ানো থেকে আসে সাড়ে ৭ শতাংশ। বাকি দূষণের কারণ শিল্পকারখানাসহ অন্যান্য উৎস।

ওই গবেষণার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিবেশ অধিদপ্তর সারা দেশে ইটভাটার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযান চালায়। সরকারি ওই সংস্থাটির ২০২০ সালের হিসাবে, সারা দেশে ৮ হাজার ৩৩টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে সাত হাজার ইটভাটা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। আর পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই ২ হাজার ৫১৩টি ইটভাটার। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র—এ দুটি শর্তই পালন করেনি, এমন ইটভাটা রয়েছে তিন হাজারের বেশি।

গত দুই বছরে এ ধরনের প্রায় দুই হাজার ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে এক হাজার ইটভাটা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে মোট ৪৫ কোটি টাকা। এসব অভিযানের পর ইটভাটাগুলো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার পরিমাণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক রুহিনা ফেরদৌসী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা সত্যি বায়ুদূষণের উৎস হিসেবে ইটভাটার চেয়ে অন্যান্য উৎসের অবদান বাড়ছে। তাই আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলার বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করব।’

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের উচিত বায়ুদূষণের সব কটি উৎস বন্ধে সমান উদ্যোগ নেওয়া। কিন্তু ইটভাটা ছাড়া দূষণের অন্য উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে খুব বেশি উদ্যোগ দেখা যায় না। বিশ্বের বড় শহরগুলোয় সারা দিনের ধুলোগুলো রাতে পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হয়। আমাদের এখানে দিনের বেলা শুধু কোনোমতে ঝাড়ু দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর মতো বড় নির্মাণ অবকাঠামো তৈরির সময় ধুলা নিয়ন্ত্রণে বালু ও সিমেন্ট সব সময় ঢেকে রাখা হতো। কিন্তু রাজধানীর কোনো অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ধুলা নিয়ন্ত্রণেরর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। গাড়ির ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণেও শিথিলতা। আইনুন নিশাত বলেন, ‘বায়ুদূষণের এসব উৎস নিয়ন্ত্রণে কী করতে হবে, তা আমরা সবাই জানি। এটা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজের কাজটা তো করতে হবে।’


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/environment/%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%95-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%A7%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0

11


গবেষকেরা মনে করেন, মাইগ্রেন অ্যাটাকের কারণ হলো মস্তিষ্কে রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতা। আবার জেনেটিক বা বংশগত কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া আরও যে কারণগুলোর জন্য মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:


(১) স্ট্রেস
(২) অ্যাংজাইটি
(৩) নারীদের হরমোনের পরিবর্তন
(৪) অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করা
(৫) ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
(৬) পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা বেশি ঘুম হওয়া
(৭) হঠাৎ আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তন হওয়া
(৮) প্রকট সুগন্ধি
(৯) অতিরিক্ত আলো অথবা ফ্ল্যাশ লাইট
(১০) অতিরিক্ত চা ও কফি
(১১) ধূমপান
(১২)সময়মতো খাবার না খাওয়া
(১৩) প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়া।



আমাদের জীবনযাপনের কিছুটা পরিবর্তন আনলে মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব - প্রাথমিকভাবে যা করতে হবে


(১) দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা যাবে না।
(২) কখনো সকালের নাশতা অবহেলা করা যাবে না।
(৩) প্রতিবেলা সুষম খাবার খেতে হবে।
(৪) কাঠবাদাম, কাঠবাদামের দুধ, পার্সলিপাতা, মৌরি, রসুন, আদা ও তাজা আনারস খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
(৫)অ্যামাইনো অ্যাসিড টাইরামিনযুক্ত খাবারগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে প্রসেস করা মাংস, মাখন, হার্ড চিজ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার, এভোকাডো, কলা, বাঁধাকপি, বেগুন, আলু, টমেটো, রাসবেরি, চকলেট, রেড প্লাম, ইস্ট, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়।
(৬) প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে।
(৭) প্রতিদিন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, রিবোফ্লোবিন (ভিটামিন বি২), নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩), ভিটামিন বি৫ ও ভিটামিন বি৬ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।
(৮) এসেনশিয়াল অয়েলের মধ্যে প্রিমরোজ অয়েল সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
(৯) অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, ভাজাপোড়াজাতীয় খাবার এবং অ্যাসিডিটি তৈরি হয়, সে রকম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, ধারণা করা হয় যে অ্যাসিডিটির সঙ্গে মাইগ্রেনের ব্যথার সম্পর্ক আছে।


যে খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন - ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার:

দুধ, দই, বিনস, ব্রকলি, তিসি, তিল, কমলালেবু, পেঁপে, পোস্তদানা, ব্রাজিল নাটস, সিলারি, টফু, পালং শাক, ঢ্যাঁড়স, কাঁটাসহ সব ধরনের ছোট মাছ, রুই, বাটা, ফলি, কাতলা, শিং, কাঁকড়া, মাগুর, সরপুঁটি, বোয়াল, কই ও মৃগেল মাছ।

ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার:

গাঢ় সবুজ শাকসবজি, বিনস, ব্রকলি, নাটস, হোল গ্রেইন, তিসি, তিল, কলা, সি ফুড, চিনাবাদাম, ওয়েস্টার, ঢেঁকিছাঁটা চাল, ভুট্টা, চিড়া, আটা, মুগডাল, মাষকলাইয়ের ডাল, ছোলার ডাল, পেঁয়াজকলি, মুলা, গুঁড়া দুধ, বরবটি, পানপাতা, কাজুবাদাম, নারকেল, পাকা আম, জিরা, আদা, চা, কফি, কোকো।

ভিটামিন বি২ সমৃদ্ধ খাবার:


দুধ, টুনা মাছ, ব্রকলি, কাঠবাদাম, ডিম, মাশরুম, সব ধরনের শাক, সব ধরনের ডাল, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, কলিজা ইত্যাদি।


ভিটামিন বি৩ সমৃদ্ধ খাবার:


চীনবাদাম, আখরোট, কাঠবাদাম, তিল, সূর্যমুখীর বীজ, ডাবলি বুট, সবুজ মুগডাল, আপেল, খেজুর, আম, ডুমুর, কলা, ডিম, টুনা মাছ, মুরগির মাংস, গরুর মাংস, মাশরুম, মিষ্টি আলু, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি।

ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার:

দুধ, টুনা মাছ, স্যামন মাছ, ডিম, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, মুরগির কলিজা, গাজর, পালং শাক, শজনেপাতা, রসুন, সূর্যমুখী বীজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি।

লেখক: পুষ্টিবিদ, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য


12
দেশে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৮১ হাজার ২৯টি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সাংসদ এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। ওবায়দুল কাদের জানান, মালিকদের এসএমএসের মাধ্যমে ফিটনেস করার তাগাদা, সার্কেল অফিস থেকে নবায়নের ব্যবস্থার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড, ডাম্পিংসহ নানামুখী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেনের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক মহামারির কারণে মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে কাজের অগ্রগতি কিছুটা ব্যাহত হলেও থেমে থাকেনি। অন্য সময় রাতদিন কাজ হলেও কোভিডের কারণে রাতে কাজ বন্ধ ছিল। এ সময় কিছু বিদেশি প্রকৌশলী ও পরামর্শক এবং দেশীয় এক হাজার শ্রমিক চলে যাওয়ায় কাজের গতি কমে যায়।

রাজশাহী-৩ আসনের আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় ৩ হাজার ৯৪৩ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৪ হাজার ৮৮২ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১৩ হাজার ৫৫৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক রয়েছে।

জাতীয় পার্টির সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত রেলওয়ের ৮৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি সম্পন্ন হয়েছে।

বিএনপির সাংসদ মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী জানান, পাটকলশ্রমিকদের পাওনা বাবদ ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় সমপরিমাণ পাওনা সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করা হচ্ছে। পাট ব্যবসায়ীদের বকেয়া পাওনা ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পরিশোধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A8-%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A7%AB-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%96-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80

13


আজকের স্বপ্নবাজ তরুণ যারা নিজের প্যাশনকে ফলো করে চারপাশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায়, তাদের জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেস। শুরু হতে যাচ্ছে ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের প্রথম সিজনের দ্বিতীয় চ্যাপ্টার, যেখানে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য থাকবে পরামর্শ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার উদাহরণ। এই সিজনে উদ্যমী তরুণ যারা নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে হতে চায় সফল উদ্যোক্তা, তাদের পরামর্শ দেবেন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস। ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের এই চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর যুব কার্যক্রম ও ইভেন্টসের প্রধান মুনির হাসানের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি এ কথা বলেন।   

ক্লেমন সব সময় সতেজতা ও নতুনত্বকে প্রচার করে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাঠাও রাইড শেয়ারিংয়ের ভাবনাটাও সতেজ বা নতুন ছিল। কীভাবে এই ভাবনা এসেছিল ইলিয়াসের মাথায়? ইলিয়াস বলেন, নতুন আইডিয়া নিয়ে ব্যবসায় শুরু করতে হবে বা উদ্যোক্তা হতে হবে—এমনটা ভেবে কাজ করা যায় না। উদ্যোক্তা হতে হলে আগে নিজেদের জীবনের কিছু বড় সমস্যা খুঁজে বের করতে হয় এবং সেই সমস্যার সমাধানটাই আসলে নতুন উদ্যোগের আইডিয়া হয়ে যায়। মাথায় অনেক নতুন আইডিয়া থাকলেই সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায় না। সমস্যার সমাধান দিতে পারলেই উদ্যোগ সফল হয়।

ইলিয়াস আরও বলেন, ‘প্রথমে সমস্যা নিয়ে চিন্তা করেছিলাম যেমন রাস্তায় অনেক ট্র্যাফিক, যাতায়াতের সমস্যা এটার সমাধান কীভাবে করা যায়। তখন রাইড শেয়ারিংয়ের ভাবনা মাথায় আসে। শুরুতেই আমাদের মোবাইল অ্যাপ ছিল না। একটা ভিজিটিং কার্ডে ফোন নম্বরে কল করে রাইড শেয়ার করা হতো। সীমিত রিসোর্স নিয়েই কাজ শুরু করতে হয়েছিল।’

ইলিয়াসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, পাঠাওয়ের শুরুর দিকের অবস্থা কেমন ছিল? এমন কোনো বিষয় কি আছে, যেটা এখনো মানুষের অজানা? ইলিয়াস বলেন, ‘পাঠাও শুরুর প্রথম এক-দেড় বছর খুব কষ্টের ছিল। তখনো পাঠাওকে কেউ চিনত না। মানুষ রাইড শেয়ারিং ধারণার সঙ্গে পরিচিত ছিল না। মোটরসাইকেলে একজনের পেছনে বসে এক জায়গায় যাবে—এ মানসিকতা ছিল না। তারপর লোকজন মোবাইলে অ্যাপ ইনস্টল করতে চাইত না। হয়তো তারা সার্ভিসটাকে পছন্দ করছে, কিন্তু প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। এ রকম অনেক বাধার মধ্য দিয়ে আমাদের আসতে হয়েছে।’

সমস্যার সমাধান করতে একটা আইডিয়া নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেই কি সফল উদ্যোক্তা হওয়া যাবে? ইলিয়াস তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পাঠাও আসলে তাঁর ৫ নম্বর ভেঞ্চার। শুরুর দিকের আইডিয়াগুলো সফল হয়নি। বারবার পরিকল্পনাকে বাজারের চাহিদা অনুসারে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করেই ৫ নম্বরে এসে পাঠাও সফল হয়।

অনেকেই ভাবেন অনেক ফান্ডিং বা অর্থ না থাকলে স্টার্টআপ শুরু করা যায় না। আসলেই কি তাই? হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘উদ্যোক্তা হতে গেলে আসলে অনেক বেশি ফান্ডিং বা রিসোর্সের দরকার নেই। শুধু সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক সমস্যার সঠিক সমাধান, সঠিক কর্মী ও দল নিয়ে কাজ করলেই সফল হওয়া যায়। পাঠাও শুরু হয়েছিল মাত্র চারজন কর্মী নিয়ে। পাঠাওয়ের প্রথম ১০ জন কাস্টমার ছিল আসলে আমাদের বন্ধু বা পরিচিত লোকজনের মধ্য থেকেই।’

আজকের তরুণ-তরুণী যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদের জন্য পরামর্শ হিসেবে হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, প্রথমে সমস্যা খুঁজে তার একটা সঠিক সমাধান বের করতে হবে। এরপর ভাবতে হবে সমাধানটা কোনো পথে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটার জন্য কি মোবাইল অ্যাপ লাগবে, নাকি কল সেন্টারের মাধ্যমে করা যাবে, সেসব ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর অবশ্যই ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে, অবস্থা বুঝে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে। শুরুটা করতে হবে নিজের বন্ধু বা পরিচিতজনদের সঙ্গেই। প্রথম কাস্টমারও হবে বন্ধুদের মধ্য থেকেই। এভাবেই ছোট পরিসরে শুরু করে ধীরে ধীরে সফল হওয়া যাবে।

এভাবেই আড্ডা এগিয়ে চলে। ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের এই সিজনে হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস পরামর্শ দেবেন এবং অভিজ্ঞতা জানাবেন আজকের তরুণদের, যারা উদ্যোক্তা হতে চায়। কীভাবে একটা স্টার্টআপের আইডিয়া করা যায়, কীভাবে একটা দল তৈরি করা যায়, কীভাবে ফান্ডিং করতে হয়, কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়—এসব বিষয় নিয়ে আগামী পর্বগুলোয় কথা বলবেন ইলিয়াস। ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের আগামী পর্বগুলো দেখতে এবং আরও সতেজ আপডেট জানতে চোখ রাখুন ক্লেমন এবং প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।


14


সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসনকেন্দ্রের (পঙ্গু হাসপাতাল) অস্ত্রোপচারকক্ষের সামনের করিডরে গত শনিবার চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৬ জন। প্রত্যেককে জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, ১২ জনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়কে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশই এখন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলেছেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাগুলো মূলত ঘটে বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা, বারবার লেন পরিবর্তন, ট্রাফিক আইন না মানা ও চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনে কথা বলার কারণে। হেলমেট ব্যবহার না করা ও নিম্নমানের হেলমেটের কারণে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতির কারণে পথচারীদেরও দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। তেমনই একজন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম। গত শনিবার সন্ধ্যায় তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের পাশের ক্রিসেন্ট লেক এলাকায় হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাস্তা পার হওয়ার সময় তাঁকে একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় তাঁর ডান পা ভেঙেছে।

সরেজমিন পঙ্গু হাসপাতাল

হাড়ভাঙা চিকিৎসায় দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান পঙ্গু হাসপাতাল। এর পুরো নাম জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার বেলা একটা পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৩৪ জন চিকিৎসা নেন। তাঁদের ১৬ জনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। কেউ চালক, কেউ আরোহী এবং কেউ পথচারী।

জরুরি বিভাগের পাঁচটি নিবন্ধন বই ঘেঁটে জানা গেল, নতুন বছরের প্রথম ১৬ দিনে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৪৮২ জন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ৫৮৫ জন। তাঁদের কতজন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত, তা উল্লেখ নেই। তবে নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল গণি মোল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, নিটোরে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রায় ৩৫ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। তিনি বলেন, রাজধানীর বাইরে থেকে রোগী বেশি আসে। সম্প্রতি শরিকি যাত্রা বা রাইড শেয়ারিংয়ে থাকা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত মানুষ আসার সংখ্যাও বাড়ছে।

হাত ভেঙে নিটোরে রোববার চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম। এই তরুণ অকপটে স্বীকার করেন, শনিবার রাতে বন্ধুর সঙ্গে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতি বেশি ছিল। তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি রাস্তায় বালুর কারণে।

বেপরোয়া চালনা নিয়ে সাধারণ মোটরসাইকেলচালকেরাও চিন্তিত। অফিস থেকে রাতে বনানী থেকে মিরপুরের বাসায় ফেরেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. নাঈম হাসান। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল ও গাড়ি গতির প্রতিযোগিতায় নামে। সাধারণ মোটরসাইকেলচালকদের জন্য এটি বড় একটি ভয়ের কারণ।

কত যান, কত দুর্ঘটনা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বলছে, দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৩১ লাখের বেশি, যা মোট যানবাহনের ৬৮ শতাংশ। শুধু ঢাকাতেই নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ৮ লাখের মতো। এর বাইরে একটি বড় অংশের মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত। বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর হিসাবে, দেশে বছরে প্রায় ৫ লাখ নতুন মোটরসাইকেল বিক্রি হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর সংকলন করে বুয়েটের এআরআই ও নিসচা। নিসচার হিসাবে, ২০২০ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ২৩২টি, যার ১ হাজার ১২৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এর মধ্যে ২৯ শতাংশ ট্রাক ও ২২ শতাংশ বাস দুর্ঘটনার। বুয়েটের এআরআইয়ের হিসাবে, ২০১৬ সালে ২৮৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩৩৬ জন মারা যান। ২০২০ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮টিতে, মারা যান ১ হাজার ৯৭ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০০৬ সালের একটি গবেষণা বলছে, ভালো মানের একটি হেলমেট পরলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হওয়ার ঝুঁকি কমে ৭০ শতাংশ। আর মৃত্যুঝুঁকি কমে ৪০ শতাংশ। বড় শহরের বাইরে হেলমেট না পরার প্রবণতার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মো. সোহেল রানা বলেন, হেল‌মেট না পরার কার‌ণে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হ‌চ্ছে। পাশাপা‌শি নানা স‌চেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হ‌চ্ছে।

শরিকি যাত্রা বেড়েছে

ঢাকায় কয়েক বছরে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এ খাতের কোম্পানিগুলোর নিবন্ধনের বাইরে অনেকে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করেন।

বুয়েটের এআরআই ২০২০ সালে রাইড শেয়ারিংয়ের ৪৫০ মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীর ওপর একটি জরিপ করে। এতে উঠে আসে, ৫০ শতাংশ আরোহী চালকের চালানো নিয়ে অনিরাপত্তায় ভোগেন। একই সংস্থার করা আরেক জরিপে এসেছে, চালকের ৩০ শতাংশ অতি নিম্নমানের হেলমেট পরেন। মাত্র ২ শতাংশ ক্ষেত্রে আরোহীদের ‘ফুলফেস’ হেলমেট দেওয়া হয়। এআরআইয়ের পর্যবেক্ষণ বলছে, রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের চালকদের প্রতিযোগিতা ও ফাঁক গলে আগে যাওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ।

রাইড শেয়ারিং অ্যাপের বাহনগুলোর দুর্ঘটনার সংখ্যা কত, তা জানতে তিনটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছে গত রোববার ই-মেইল পাঠায় প্রথম আলো। উবার দুর্ঘটনার সংখ্যা না জানালেও প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। তারা বলেছে, দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের জন্য ২ লাখ টাকা ও হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা বিমা–সুবিধা দেওয়া হয়। উবার জানিয়েছে, তারা সেরা মানের হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহ দেয়।

পাঠাও ই-মেইলের উত্তর দেয়নি। তবে সহজ ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা মালেক কাদির মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, রাইড শেয়ারিং অ্যাপে ব্যবহার করা চালকদের দুর্ঘটনা ঘটেছে, এমন তথ্য তাঁদের কাছে নেই।

হেলমেটের নামে প্লাস্টিকের বাটি!

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালক (মান) সাজ্জাদুল বারি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বিএসটিআইয়ে হেলমেটের মান পরীক্ষা করার সুবিধা আপাতত নেই।
যদিও বাজারে বিক্রি হওয়া সব হেলমেট বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান অনুযায়ী উৎপাদন ও আমদানি হওয়ার কথা। বিএসটিআইয়ের নজরদারি না থাকায় বাজারে হেলমেটের বদলে বিক্রি হওয়া একাংশ মূলত প্লাস্টিকের বাটি।

সার্বিক বিষয়ে বুয়েটের এআরআইয়ের পরিচালক মো. হাদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, চালক ও আরোহীর ভালো মানের হেলমেট পরা, রাইড শেয়ারিংয়ে চালকদের প্রতিযোগিতা কমানো, সচেতনতা বাড়ানো এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগই সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে পারে।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A7%A9%E0%A7%AB-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87

15
মাস্ক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ও মজার বেশ কিছু তথ্য
১. ১৯৭১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন মাস্ক। ১৭ বছর বয়সে তিনি কানাডায় চলে যান। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

২. এখন পর্যন্ত মাস্ক আটটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন—টেসলা, স্পেস এক্স, হাইপারলুপ, ওপেন এআই, নিউরালিঙ্ক, দ্য বোরিং কোম্পানি, জিপ ২, পে পল।

৩. ছেলেবেলা থেকেই মাস্ক প্রযুক্তির পোকা। শোনা যায়, ৯ বছর বয়সেই তিনি গোটা এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা পড়ে ফেলেছিলেন। কম্পিউটার কোডিং তিনি নিজে নিজেই শিখেছেন। ১২ বছর বয়সে তিনি ‘ব্লাস্টার’ নামে এক ভিডিও গেম বানিয়ে ফেলেন। সেই গেম তিনি বিক্রিও করেছিলেন।

৪. ১৫ বছর বয়সে মাস্ক মার্শাল আর্ট ও রেসলিং শেখেন। শৈশবে মাস্ক ব্যাপক বুলিং বা উৎপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এমনকি একবার স্কুলের ছাত্ররা তাঁকে নির্মমভাবে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল।

৫. বলা হয়, আয়রন ম্যানের টনি স্টার্ক চরিত্র তাঁর আদলেই তৈরি। এমনকি আয়রন ম্যান ২-এ মাস্ক ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এ ছাড়া মাস্ক দ্য সিম্পসন, বিগ ব্যাং থিওরি, সাউথ পার্ক-এর মতো সিরিজে অভিনয় করেছেন।

৬. মাস্ক ইউপেন থেকে স্নাতক করেছেন এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। কিন্তু পিএইচডিতে ভর্তি হওয়ার দুই দিনের মধ্যে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে জিপ ২ করপোরেশন চালু করেন।

৭. স্পেস এক্স রকেটের সিংহভাগ মালিক ও প্রধান নির্বাহী হওয়ার পরও মাস্ক বেতন নেন না।

৮. একবার হতাশ হয়ে টেসলা বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন এলন মাস্ক।

৯. ছাত্রজীবনে একসময় মাস্ক দিনে এক ডলারে খাদ্য ব্যয় নির্বাহ করতেন। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে মাস্ক সেই কাহিনি শুনিয়েছিলেন, কীভাবে সুপারস্টোর থেকে ছাড়ে খাবার কিনে তিনি জীবন ধারণ করেছেন। বলেছিলেন, ‘তখন আমি মূলত হটডগ আর কমলা খেতাম। কিন্তু হটডগ আর কদিন খাওয়া যায়।’ এ ছাড়া পাস্তা, কাঁচ মরিচ বা ক্যাপসিকাম ও সস খেয়েও কীভাবে প্রাণ ধারণ করেছেন, সেই কাহিনিও শুনিয়েছেন।

১০. মাস্কের ছয় সন্তান। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তাঁর পাঁচ সন্তান। ২০২০ সালে তাঁর ষষ্ঠ সন্তান জন্ম নেয়। এই ছেলের নাম এক্স এই এ-১২ মাস্ক।

Pages: [1] 2 3 ... 105