Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.

Messages - asif.gce

Pages: [1] 2 3 ... 6
Bangladeshi startups have brought in over $125.7 million over the past eight-and-a-half months. But is there a hospitable ecosystem to sustain and foster their development?

"Truck Lagbe" - a Bangladeshi startup - recently received $4 million funding in Series A from International Finance Corporation (IFC), the private sector investment wing of the World Bank. IDLC VC fund co-invested with IFC in this deal. "Chaldal" - another rising e-commerce platform - received $10 million worth of foreign funds for expansion in series C. Earlier, "Shop up" also received Tk6.4 billion ($75 million).

Over the past eight-and-a-half months, Bangladeshi startups have raised funds of $125.7 million, which is 30% of the $419 million – raised since 2010.

In light of these recent developments, it is time we take a look at the startup ecosystem in Bangladesh.

But first, what is a startup? Although it may seem quite intuitive, there is ambiguity about its definition.

Broadly speaking, a startup must satisfy the following criteria. Firstly, it has to be innovative either in product or service, market or process. Secondly, it must use technology to augment the business in a way that it has to be scalable above average.

In addition, a startup has to disrupt the existing way of doing business or meeting customer needs. Also, startups are generally light in fixed assets. Key performance Indicators of startups are also quite different from those used for evaluating traditional businesses.

One of the important indicators for measuring the performance of a new business is the break-even point (BEP) or break-even period. For startups, BEP is not important. Because BEP deters the growth of startups whereas startup growth is the name of the game.

A new set of KPIs has evolved to measure the performance of startups, namely, customer Acquisition cost (CAC), the number of monthly active users, the lifetime value of customers, average revenue per user, customer churn rate, revenue growth rate, monthly burn rate, monthly recurring revenue, gross profit margin, conversion rate etc. For a marketplace startup, gross merchandise value or GMV is also considered.

Data suggests, globally 8 out of 10 companies with the highest market capitalisation emerged from startups.

The history of startups in Bangladesh goes back to the emergence of Bkash in 2010, funded by 'Money in Motion' of USA and Brac Bank Ltd. Subsequently, IFC had financed the project in 2013 and Bill and Melinda Gates Foundation did so in 2014. Ant Financial, a sister concern of Ali Baba, provided funding to Bkash in 2018 when a few of the early investors withdrew.

Bkash's valuation soon rose to approximately $1 billion (as per the Annual Report of Brac Bank) making it the 1st unicorn of Bangladesh. It took around eight years for Bkash to reach this level.

For comparison, the market cap of Brac Bank as of 16th September 2021 (at Tk48.30 market price) is Tk67.24 billion ($781.8 million). Brac Bank was established in 2001. This is the difference between a startup and a traditional, asset-heavy, brick and mortar business.

Startups such as Bkash, Pathao and Brain station 23, recently bade goodbye to their initial investors. Although not disclosed to the public, market speculators suggest that the investors received very high returns from these ventures.

However, there is no reason to be complacent yet. Startups from competing nations are doing far better than us. For instance, startups in our neighbouring country, India got US$ 10 billion investment in 810 deals in 2020. Had the world not been affected by Covid-19, this figure would have been higher. Because in 2019 startups in India received a higher amount ($ 11.1 billion) in 755 deals.

In addition, Bangladesh ranks 116th in global Innovation index while India ranks 46th. Even Sri Lanka is ranked 101st, 15 places ahead of us implying the poor and inhospitable startup ecosystem in Bangladesh.

India's start-up investment is around 0.3% of its GDP, which is estimated at $3.05 trillion (nominal, 2021). On the other hand, Bangladesh received $39.5 million in 2020 which is .01% of its GDP of 353 billion in (nominal, 2021). That means India's Startup Investment GDP ratio is 33 times higher than ours.

Most Indian startups had begun their journey back in the mid-eighties, while the very first Bangladeshi start-up, Bkash was launched only in the 2010s. So, they are roughly 25 years ahead of us in terms of start-up development.

But that does not necessarily mean that we have to keep that distance. To bridge the gap between Bangladeshi startups and their Indian counterparts, several issues in Bangladeshi markets need to be addressed.

Bangladesh needs to sort out several issues such as IP (intellectual property) rights registration, repatriation of capital and profit by the foreign investors, efficient handling of contract and company act related disputes, industry-academia collaboration etc.

The government should also provide fiscal incentives such as tax cuts and subsidies to investors for investing in startups or venture capital funds. Bangladeshi universities are infamous for their poor research output and most pundits often point their fingers at the sheer dearth of funding.

Hence, government and relevant authorities should patronise research and development in both the government and non-government sectors as well as in academia.

And finally and most importantly comes the political will to become a "start-up nation". As the saying goes "it needs a village to raise a child" the same way it can be said "it needs a nation to develop a start-up ecosystem".

Shawkat Hossain FCMA consultant on venture capital, start up and SMEs.

Disclaimer: The views and opinions expressed in this article are those of the authors and do not necessarily reflect the opinions and views of The Business Standard.


কিছু মানুষের হাতে নাকি জাদু আছে। তাঁরা যাতেই হাত দেন, তা সোনা হয়ে যায়। ওয়ারেন বাফেট এর জীবনী আসলে সেই কথাকেই প্রমাণ করে।

পৃথিবীর সর্বকালের সেরা ইনভেস্টর ও উদ্যোক্তাদের একজন তিনি। জেদের বশে লোকসানের মুখে বন্ধ হতে যাওয়া বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে কিনে নিয়ে তাকে পৃথিবীর সেরা ১০টি কোম্পানীর একটি বানিয়েছেন।

বিশ্ব ইতিহাসে শেয়ার প্রতি সর্বোচ্চ মূল্য ওয়ারেন বাফেটের কোম্পানীর। প্রতিটি ক্লাস ‘এ’ শেয়ারের মূল্য ৩ লাখ ডলারের বেশি!

ডেইরি কুইন, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, ইউএস এয়ারলাইনস, কোকাকোলা (৯.৪% শেয়ার), ব্যাংক অব আমেরিকা (৬.৮% ), এ্যাপল (৫.২২%), আমেরিকান এক্সপ্রেস (১৭.৬%) আইবিএম (৮ কোটি ১০ লাখ শেয়ার) – সহ এমন বহু কোম্পানীর কলকাঠি নাড়ার মত অংশীদারিত্ব আছে তাঁর ও তাঁর কোম্পানীর।

২০১৩ সালে তাঁর দৈনিক আয় ছিল ৩৭ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।  বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদ ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।  জ্যাক মা, ইলন মাস্ক এর মত বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তাদের চেয়ে এই সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ।

প্রশ্ন জাগতেই পারে, এত বিশাল সাফল্য একজন উদ্যোক্তা কিভাবে পেলেন? এই পথই বা কতটা কঠিন ছিল?

চলুন জেনে নিই ওয়ারেন বাফেট এর জীবন কাহিনী থেকে:

এক নজরে ওয়ারেন বাফেট:

পুরো নাম: ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেট

বয়স: ৮৮ (২০১৮)

যে কারণে বিখ্যাত: বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এর মালিক, সফল উদ্যোক্তা, মানবসেবী

উচ্চতা: ৫ফুট ৮ ইঞ্চি

পিতা ও মাতা: হাওয়ার্ড ও লেইলা বাফেট

বাড়ি: ওমাহা, নাব্রাসকা, যুক্তরাষ্ট্র

মোট সম্পদ: ৯০ বিলিয়ন বা ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার

ওয়ারেন বাফেট এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী:
ছেলেবেলা ও শিক্ষা:

১৯৩০ সালে আমেরিকার নাব্রাসকা প্রদেশের ওমাহায় স্টক ব্রোকার (পরবর্তীতে কংগ্রেস ম্যান) হাওয়ার্ড বাফেট ও লেইলা বাফেট এর ঘরে জন্ম নেন তাঁদের এক মাত্র পুত্র ওয়ারেন বাফেট। ৩ ভাইবোনের মাঝে ওয়ারেন ছিলেন দ্বিতীয়।

ওয়ারেন বাফেট কাহিনী
[বালক ওয়ারেন বাফেট]
ওয়ারেন বাফেটের প্রথম স্কুল ছিল, ওমাহার ‘রোজ এলিমেন্টারি স্কুল’। যখন ওয়ারেন বাফেটের বয়স ১২ বছর, তখন তাঁর বাবা হাওয়ার্ড নাব্রাসকার কংগ্রেসম্যান নির্বাচিত হন।  কংগ্রেস ম্যান আমাদের দেশের সংসদ সদস্যের মত একটি পদ।  মূলত তাঁদের ভোটেই আইস পাশ হয়।  হাওয়ার্ড বাফেট পর পর ৪বার এই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে হাওয়ার্ড তাঁর পরিবার সহ ওয়াশিংটন ডিসি তে চলে আসেন, এবং ওয়ারেন প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে সেখানেই এ্যালিস ডেল জুনিয়র হাইস্কুল এ ভর্তি হন।  পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালে তিনি উডরো উইলসন হাইস্কুল থেকে স্কুল গ্রাজুয়েট হিসেবে বের হন।  স্কুল ইয়ার বুকে তাঁর ছবির নিচে লেখা ছিল “ছেলেটা অংক পছন্দ করে, ভবিষ্যতে একজন স্টক ব্রোকার হবে”

স্কুলে পড়ার সময়েই বাফেট ও তাঁর এক বন্ধু মিলে ২৫ ডলার দিয়ে একটি স্পিনবল মেশিন কিনে এক নাপিতের দোকানের পাশে স্থাপন করেন।  টাকার বিনিময়ে অনেকেই এই খেলা খেলে সময় কাটাতেন।  পরে সেই মেশিনের লাভ থেকে তাঁরা আরও দুইটি মেশিন কিনে ফেলেন।  ব্যবসা জমে উঠলে তাঁরা পুরো ব্যবসাটি ১২০০ ডলারে বিক্রী করে দেন।  মাত্র ৭৫ ডলার বিনিয়োগ করে ১২০০ ডলার – সাথে ব্যবসার লাভ তো ছিলই! বালক বয়স থেকেই এমন ব্যবসার মাথা ছিল ওয়ারেন বাফেটের।

স্পিনবল মেশিনের ব্যবসা ছাড়াও ওয়ারেন স্কুলে পড়ার সময়েই চুইং গাম বিক্রী, কোকাকোলার বোতল বিক্রী, বাসায় বাসায় পত্রিকা বিলি করা– ইত্যাদি অনেক কাজ করেই টাকা রোজগার করার চেষ্টা করতেন। নিজের দাদুর দোকান থেকে চিপস কিনে কিছুদূর হেঁট দিয়ে ৫ সেন্ট লাভে বিক্রী করার ঘটনাও তিনি ঘটিয়েছিলেন বাল্যকালে।

ওয়ারেন বাফেটের জীবনী
[হাইস্কুল পড়ুয়া ওয়ারেন বাফেট]
ছোটবেলা থেকে টাকা কামানোর প্রতি এই ঝোঁকের কারণ তিনি ৭ বছর বয়সে ওমাহা পাবলিক লাইব্রেরিতে একটি বই পড়েছিলেন।  বইটির নাম “One Thousand Ways to Make $1000” – এরপর থেকেই মূলত তাঁর মাথায় উদ্যোক্তা হওয়ার ঝোঁক চাপে।

স্কুলে তাঁকে অংকের জিনিয়াস বলা হত, কারণ তিনি বিশাল বিশাল সব অংকের হিসাব হাতেই করতে পারতেন – অন্যরা যা ক্যালকুলেটর ছাড়া চিন্তাও করতে পারত না।

১০ বছর বয়সে তিনি নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শন করেন। ১১ বছর বয়সে নিজের জন্য ৩টি ও তাঁর বোন ডরিস এর জন্য ৩টি “সিটিজ সার্ভিস” এর শেয়ার কেনেন।  এবং কিছু লাভ করেন।

১৫ বছর বয়সেই ওয়ারেন বাফেট এর মাসিক আয় ছিল প্রায় ২০০ ডলার।  সময়টা তখন ১৯৪৫।  সেই সময়ে হাজারখানেক ডলার হলে বছর চলে যেত।  বাফেট হাইস্কুলে পড়ার সময়েই বাবার ব্যবসায় তাঁর নিজের জমানো ১২০০ ডলার বিনিয়োগ করে বাবার সাথে পার্টনারশিপে ৪০ একরের একটি কৃষি খামার কেনেন!

হাইস্কুল শেষ করেই বাফেট সিদ্ধান্ত নেন, তিনি আর পড়াশুনা করবেন না। পুরোপুরি ব্যবসায় মনযোগ দেবেন।

কিন্তু তাঁরা বাবা এতে বাধা দেন, ফলে ১৯৪৭ সালে বাফেট ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ায় ভর্তি হন।  সেখানে দুই বছর পড়ে ইউনিভার্সিটি অব নাব্রাসকায় ট্রান্সফার হন, এবং ১৯ বছর বয়সে সেখান থেকে ব্যবসা প্রশাসনে বিএসসি শেষ করেন।

এরপর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তিনি কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির অধীন কলম্বিয়া বিজনেস স্কুল এ ভর্তি হন।  সেখান থেকে ১৯৫১ সালে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করে বের হন।

কলেজ থেকে পাশ করে বের হওয়ার আগেই তাঁর হাতে ৯৮০০ ডলার জমা ছিল।  আজকের দিনের হিসাবে তা ১০১০০০ ডলার।  বাংলা টাকায় প্রায় ৮৫ লাখ টাকা!

ব্যবসা ও ক্যারিয়ার:
বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এর আগে:

কলেজ থেকে বের হয়ে তিনি ১৯৫১ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত Buffett-Falk & Co. এ একজন ইনভেস্টমেন্ট সেলস ম্যান হিসেবে কাজ করেন।  ১৯৫৪ থেকে ৫৬ পর্যন্ত Graham-Newman Corp. এ একজন সিকিউরিটি এ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত তিনি Buffett Partnership, Ltd. এর একজন জেনারেল পার্টনার হিসেবে কাজ করেন।  অবশেষে ১৯৭০ সাল থেকে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এর চেয়ারম্যান ও সিইও হন।

১৯৫২ সালের এপ্রিলে বাফেট জানতে পারেন তাঁর গুরু বেনজামিন গ্রাহাম GEICO ইন্সুরেন্স এর বোর্ড অব ডিরেক্টরদের একজন।  শোনা মাত্র তিনি এক শনিবারে ওয়াশিংটনের ট্রেন ধরে গেইকোর হেডকোয়ার্টারে গিয়ে দরজা না খোলা পর্যন্ত কড়া নাড়তে থাকেন।  তাঁর সাথে প্রথমেই সেখানকার এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর দেখা হয়, এবং তিনি কোম্পানীর ভাইস প্রেসিডেন্ট লোরমির ডেভিসন এর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান।

[লোরমির ডেভিসন]
পরবর্তীতে এই ব্যক্তি বাফেটের অন্তরঙ্গ বন্ধু ও উ‌ৎসাহ দাতা হয়ে ওঠেন।  ডেভিসন পরে বলেছিলেন, বাফেটের সাথে ১৫ মিনিট কথা বলার পরই তিনি বুঝেছিলেন, এই ছেলে একজন ‘অন্যরকমের অসাধারণ’ ব্যক্তি।

বাফেট ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর বাবা হাওয়ার্ড, এবং তাঁর গুরু বেন গ্রাহাম – দু’জনেই তাঁকে একাজ করতে মানা করেন।  তিনি এমনকি গ্রাহামের জন্য বিনামূল্যে কাজ করারও প্রতিশ্রুতি দেন।  কিন্তু গ্রাহাম তারপরও তাঁকে না করে দেন।

এরপর বাফেট আবার তাঁর বাড়ি ওমাহাতে ফিরে আসেন, এবং স্টক ব্রোকার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ডেল কার্নেগী এর পাবলিক স্পিকিং কোর্স এ ভর্তি হন।

পাবলিক স্পিকিং কোর্স থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস ও ব্যবসা থেকে পাওয়া জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি ইউনিভার্সিটি অব নাব্রাসকায় “Investment Principles” বিষয়ক একটি নৈশ ক্লাসে শিক্ষা দেয়া শুরু করেন।  মজার ব্যাপার, তাঁর বেশিরভাগ ছাত্রের বয়স তাঁর দ্বিগুণেরও বেশি ছিল!

ওয়ারেন বাফেট কাহিনী
[ক্লাসে লেকচার দিচ্ছেন তরুন ওয়ারেন]
এই সময়ে তিনি একটি গ্যাস স্টেশন কিনে ব্যবসার চেষ্টা করেন, তবে তাঁর সেই উদ্যোগ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।
১৯৫৪ সালে বাফেটের বিরাট এক স্বপ্ন পূরণ হয়। বেনজামিন গ্রাহাম নিজেই তাঁকে একটি ব্যবসায়ে কাজ করার প্রস্তাব দেন।  তাঁর বা‌ৎসরিক বেতন ধরা হয় ১২০০০ ডলার (বর্তমান হিসাবে প্রায় ১,০৯,০০০ ডলার)।  এই চাকরির ফলে গুরুর খুব কাছে থেকে কাজ করার ও শেখার সুযোগ হয় তাঁর।

বেনজামিন গ্রাহাম দারুন কড়া একজন বস ছিলেন, কিন্তু তাঁর কাছ থেকে বাফেট জীবনের সেরা লিসন গুলোর অনেকটাই পেয়েছিলেন। ১৯৫৬ সালে গ্রাহাম অবসর নেন।  সেই সাথে বাফেটও তাঁর পদ ছেড়ে দেন, এবং নিজের জমানো ১৭৪,০০০ ডলার (বর্তমানে প্রায় ১.৫৭ মিলিয়ন) দিয়ে নিজের ফার্ম বাফেট পার্টনারশিপ লিমিটেড শুরু করেন।

Image result for benjamin graham
[বেনজামিন গ্রাহাম: বাফেট সারাজীবন এঁকে গুরু মেনে এসেছেন]
১৯৫৭ সালের মধ্যেই বাফেট ৩টি ব্যবসার অংশীদার হয়ে যান।  ১৯৫৯ সালের মধ্যেই তাঁর কোম্পানী ৬টি পার্টনারশিপে রূপ নেয়, এবং পরের বছর তা ৭টি পার্টনারশিপে দাঁড়ায়। ১৯৬২ সালের মধ্যে তিনি একজন মিলিওনেয়ার হয়ে যান।

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে অধ্যায়:

১৮৩৯ সালে অলিভার চেস একটি টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠা করেন। নাম ছিল ‘ভ্যালি ফলস কোম্পানী’।  ১৯২৯ সালে ভ্যালি ফলস ১৮৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বার্কশায়ার কটন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানীর সাথে এক হয়ে যায়।  দুই কোম্পানী মিলে নাম হয় “বার্কশায়ার ফাইন স্পিনিং এ্যাসোসিয়েটস”।

১৯৫৫ সালে বার্কশায়ার ফাইন স্পিনিং এ্যাসোসিয়েটস ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত “হ্যাথাওয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানী” নামের প্রতিষ্ঠানটির সাথে এক হয়ে যায়।

প্রথম দিকে হ্যাথাওয়ে ম্যানুফ্যাকচারিং বেশ লাভজনক একটি টেক্সটাইল কোম্পানী ছিল।  কিন্তু ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে পুরো টেক্সটাইল ইনডাস্ট্রির খারাপ অবস্থার প্রভাব এর ওপর পড়তে থাকে।  ফলে একটা সময়ে এটি বার্কশায়ার স্পিনিং এ্যাসোসিয়েটস এর সাথে এক হতে বাধ্য হয়।  নতুন কোম্পানীটির নাম হয় “বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে”।

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে
[প্রথম যুগের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে হেডকোয়ার্টার]
১৯৫৫ সালে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে প্রতিষ্ঠার পর ১৫টি টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিতে ১২০০০ কর্মী নিয়ে কাজ চলতে থাকে।  এবং বছরে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার লাভ হতে থাকে।

কিন্তু ৬০ এর দশক শুরু হতে হতে ১৫টির মাঝে ৭টি মিল বন্ধ হয়ে যায়।  সেই সাথে বিপুল পরিমান কর্মীও ছাঁটাই হয়।  – এই সময়েই ইনভেস্টিং জিনিয়াস ওয়ারেন বাফেট মঞ্চে প্রবেশ করেন।

১৯৬২ সালে বাফেট বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এর স্টক কেনা শুরু করেন।  কারণ তিনি দেখেছিলেন, কোম্পানীটির একটি করে মিল বন্ধ হয়, শেয়ারের দাম পড়ে যায়।  তিনি লক্ষ্য করেন, আমেরিকার টেক্সটাইল ব্যবসা একদমই পড়ে যাচ্ছে, এবং এর সাথে জড়িত কোম্পানীগুলোর আর্থিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকবে।  কিন্তু এমন পুরনো ঐতিহ্যবাহী কোম্পানীর নামও অনেক কিছু।

এভাবে কিনতে কিনতে কোম্পানীর উল্লেখযোগ্য পরিমান শেয়ার বাফেটের হাতে চলে যায়। এবং কোম্পানীর মালিক পক্ষ নড়েচড়ে বসে।  কারণ, এত শেয়ার একজনের হাতে থাকলে তা বিপদের কারণ হতে পারে।

১৯৬৪ সালে কোম্পানীর চেয়ারম্যান সিবারি স্ট্যানটন বাফেটকে কফি খাওয়ার দাওয়াত দেন, এবং শেয়ার প্রতি ১১​১⁄২   ডলারে বাফেটের সব শেয়ার কিনে নেয়ার মৌখিক প্রস্তাব দেন।

লাভজনক হওয়ায় বাফেট সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান।  কিন্তু কাগজ কলমে টেন্ডার সই হওয়ার সময়ে বাফেট দেখেন, চুক্তিমত শেয়ার প্রতি ১১​১⁄২   ডলার মূল্যের জায়গায় ১১​৩⁄৮ মূল্য ধরা হয়েছে।

পরে বাফেটের কাছে জানা যায়, এটিকে তাঁর প্রতারণা মনে হয়।  রেগে গিয়ে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেন যে তিনি শেয়ার তো বিক্রী করবেনই না, এর বদলে আরও শেয়ার কিনে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়েকে নিয়ন্ত্রণ করবেন, এবং স্ট্যানটনকে তার নিজের কোম্পানী থেকেই বের করে দেবেন।

তিনি নামে-বেনামে আরও শেয়ার কেনা শুরু করলেন, এবং একটা সময়ে গিয়ে তাঁর হাতে এত শেয়ার জমে গেল যে তিনি কোম্পানীর সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডার হয়ে বসলেন।  এবং প্রতিজ্ঞামত স্ট্যানটেনকে কোম্পানী থেকে বের করে দিয়ে নিজের মনোনীত একজনকে চেয়ারম্যান পদে বসান।

জেদের বশে কাজটি করার পর বাফেট তাঁর ভুল বুঝতে পারেন।  তিনি আসলে একটি ব্যর্থ কোম্পানী কিনেছেন।  যদিও কোম্পানীটিকে তিনি ইতিহাসের অন্যতম সফল একটি কোম্পানীতে পরিনত করেছেন, কিন্তু তাঁর ভাষ্যমতেই, এই ভুলটি না করে যদি তিনি সরাসরি ইন্সুরেন্স ও অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করতেন, তবে তিনি জীবনে আরও কয়েকশ গুণ বেশি সম্পদ অর্জন করতে পারতেন।  অর্থা‌ৎ তাঁর সর্বকালের সেরা ধনী হওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিল!

বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে হোডকোয়ার্টার
[বর্তমানের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে হোডকোয়ার্টার]
যাই হোক, প্রথম দিকে বাফেট বার্কশায়ারের মূল ব্যবসা টেক্সটাইল চালালেন।  কিন্তু কোনও উন্নতি না হওয়ায় ১৯৬৭ এর দিকে তিনি তাঁর আগ্রহের ব্যবসা ইন্সুরেন্স এ মনোযোগ দিতে শুরু করেন।  এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করা শুরু করেন।

১৯৭৯ সালে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে শেয়ার প্রতি ৭৭৫ ডলারে বছর শুরু করে, এবং ১৩১০ ডলারে শেষ করে।  এর ফলে বাফেটের মোট ব্যক্তিগত সম্পদ দাঁড়ায় ৬২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

১৯৮৮ সালে বাফেট কোকাকোলা কোম্পানীর শেয়ার কিনতে শুরু করেন, এবং ধীরে ধীরে ১.০২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনে ফেলেন, যা কোম্পানীটির প্রায় ৭% মালিকানা।

এভাবেই ধীরে ধীরে ইন্সুরেন্স থেকে এয়ারলাইন, রেল, কয়লা, খাদ্য, পানীয় – সব দিকেই বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে, অর্থা‌ৎ ওয়ারেন বাফেট এর হাত প্রসারিত হতে থাকে।  এর মধ্যে আমেরিকা ও বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রথম শ্রেণীর কোম্পানীতে বিনিয়োগ করাও আছে।  ১৯৮৫ সালে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এর শেষ টেক্সটাইল মিলটি বন্ধ হয়ে যায়।

কোম্পানীটির বর্তমান ভ্যালু ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।   এছাড়া কোম্পানীর একাউন্টে জমা নগদ অর্থের পরিমান ১১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার!

১৯৬৫ সাল থেকে ওয়ারেন বাফেট প্রতি বছর শেয়ার হোল্ডারদের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি প্রকাশ করেন।  গড়ে চিঠিগুলোর ব্যাপ্তি হয় ৩০ পৃষ্ঠার মত।  কথিত আছে, এই চিঠির মাধ্যমেই পরবর্তী বছর কোম্পানী কিভাবে কাজ করবে, এবং এর অবস্থা কি দাঁড়াবে – তার ইঙ্গিত থাকে।  ২০১৪ সালে বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের মালিকানা গ্রহণের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫০টি চিঠি নিয়ে একটি বই প্রকাশ হয়।  বইটি তরুণ উদ্যোক্তা, বিশেষ করে যারা ইনভেস্টর হতে চান, তাঁদের জন্য একটি অমূল্য জ্ঞানভান্ডার।


ব্যক্তিগত জীবন:

১৯৫২ সালে ওয়ারেন বাফেট সুসান থম্পসন নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেন।  পরের বছর তাঁদের প্রথম সন্তান সুসান এলিস বাফেট এর জন্ম হয়। ১৯৫৪ সালে ২য় সন্তান হাওয়ার্ড গ্রাহাম বাফেট জন্মগ্রহণ করেন।  হাওয়ার্ড গ্রাহামের নাম রাখা হয়েছিল ওয়ারেনের বাবা হাওয়ার্ড ও গুরু বেনজামিন গ্রাহামের নামানুসারে।  এর ৪ বছর পর ১৯৫৮ সালে সুসান ও ওয়ারেন বাফেটের ৩য় সন্তান পিটার এ্যান্ড্রু বাফেটের জন্ম হয়।

ওয়ারেন বাফেট এর জীবনী
[ওয়ারেন বাফেট এর তিন সন্তান: (বাঁ থেকে) হাওয়ার্ড, সুসান এলিস, ও পিটার]
২০০৪ সালে সুসান বাফেট এর মৃত্যুর পর ২০০৬ সালে ওয়ারেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু এ্যাস্ট্রিড মিনক্‌সকে বিয়ে করেন।  বিয়ের সময়ে এ্যাস্ট্রিড এর বয়স ছিল ৬০ আর বাফেট বিয়ের উ‌ৎসবের পাশাপাশি তাঁর ৭৬তম জন্মদিনও উদযাপন করছিলেন।  এ্যাস্ট্রিড, ওয়ারেন আর সুসানের মাঝে এতই নিবিড় সম্পর্ক ছিল যে, দীর্ঘদিন ধরে ক্রিসমাসে তাঁরা তিনজন একসাথে সাইন করে বন্ধু ও আত্মীয়দের ক্রিসমাস কার্ড পাঠাতেন!


গাড়ি, বাড়ি, শখ:

বিশ্বের সর্বকালের সেরা ধনীদের একজন হলেও ওয়ারেন বাফেট বলতে গেলে দারুন সাধারণ জীবনযাপন করেন।  হলিউডের ধনাঢ্য মাল্টি মিলিয়নেয়ার তারকারা যখন তাদের চেহারার মত বাড়ির জৌলুস দেখাতে ব্যস্ত, তখন ওয়ারেন বাফেট তাঁর ১৯৫৮ সালে ৩১৫০০ ডলারে কেনা বাড়িতেই থাকেন।  বর্তমানেও এই বাড়ির মূল্য ১ মিলিয়ন ডলারের কম! বিশ্বের সেরা ইনভেস্টরের ভাষায়, “এটা আমার জীবনের ৩য় সেরা বিনিয়োগ(!)”

ওয়ারেন বাফেট বাড়ি
[ওয়ারেন বাফেট এর বাড়ি; ১৯৫৮ থেকে তিনি এখানেই বাস করেন]
নাব্রাসকার ওমাহায়, শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ৬৫৭০ স্কয়ার ফিটের বাড়িটিতে ৫টি বেডরুম আছে।  বিবিসির এক সাংবাদিক তাঁকে একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “কেন আপনি আরও দামী কোনও বাড়িতে উঠছেন না?” প্রবীন বিলিওনেয়ারের জবাব ছিল, “আমি এখানে সুখে আছি। অন্য কোথাও যদি এর চেয়ে বেশি শান্তি পাই, তবে সেখানে চলে যাব”।

গাড়ির ক্ষেত্রেও বাফেটকে ‘কৃপণ’ বলতে হবে।  যেখানে মিলিয়নেয়ার হলেই মানুষ লক্ষ ডলারের মার্সিডিজ, ল্যাম্বারগিনি – ইত্যাদি বিলাসবহুল গাড়ি হাঁকিয়ে নিজের জৌলুস দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে – সেখানে বাফেট ৪৫০০০ ডলার বাজার মূল্যের একটি ক্যাডিলাক XTS চালিয়েই সন্তুষ্ট।  এই গাড়িটি তিনি ২০১৪ সালে মেয়ের জোরাজুরিতে কিনেছেন।  এর আগে তিনি ক্যাডিলাক DTS এ চড়তেন।  তাঁর মেয়ের এই গাড়ি পছন্দ না হওয়ায় তিনি মডেল বদলান।  কিন্তু গাড়ির দাম ৫০০০০ পার করেনি।  গাড়ি তিনি ব্যবহার করেন প্রয়োজনে, সম্পদের প্রদর্শনী করার জন্য নয়।  ফোর্বস ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষা‌ৎকারে বাফেট একবার বলেছিলেন “আমি বছরে ৩৫০০ মাইলের বেশি ড্রাইভ করি না।  তাই নতুন গাড়ি কিনতে আমার একটু সময় লাগে”

আসলে বড় বড় বিলিয়নেয়ার বা ব্যবসায়ীরা, টাকা দিয়ে সুখ কিনবেন বলে কাজ করেন না, তাঁরা কাজ করেন প্যাশন থেকে।  সুখটা তাঁরা খুঁজে পান কাজের মাঝে, টাকা একটা বাড়তি পাওয়া।  বাফেটের সাধারণ জীবনযাপনই তার প্রমাণ।  তাঁর জনহিতকর কাজের ফিরিস্তি শুনলে ব্যাপারটা আপনার কাছে আরও পরিস্কার হয়ে যাবে।

বাফেটের অন্যতম শখ মিউজিক।  ছোট গীটারের মত ইউকেলিলি বাদ্যযন্ত্রে তিনি বেশ পারদর্শী।  সেইসাথে গানও গেয়ে থাকেন।  তাঁর কোম্পানীর অথবা পারিবারিক ইভেন্টে মাঝেমাঝেই তিনি ইউকেলিলি বাজিয়ে গান করেন।  এই বাদ্যযন্ত্র শেখার পেছনে একটি মজার ইতিহাস আছে, যা আপনি এই লেখার পরের একটি অংশে জানবেন।


সেবা মূলক কাজ:

২০০৬ সালে ওয়ারেন বাফেট ঘোষণা দেন, তিনি তাঁর মোট সম্পদের ৮৩% জনহিতকর কাজে দান করে যাবেন।  তাঁর বর্তমান সম্পদের হিসাব অনুযায়ী যা ৮০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি!

ওয়ারেন বাফেট উক্তি ১
একই বছরের জুন মাসে তিনি তাঁর মালিকানাধীন বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এর ১০ মিলিয়ন ‘ক্লাস- বি’ শেয়ার বিল গেটস ও তাঁর স্ত্রীর প্রতিষ্ঠিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘বিল এ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ কে দান করেন।  ডলারের হিসেবে তা ছিল ৩০.৭ বিলিয়ন ডলার।  পৃথিবীর জানা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দানের ঘটনা এটি!

এছাড়াও তিনি তাঁর মেয়ে সুসান এ্যালিসের দাতব্য সংস্থা, এবং ছেলে গ্রাহাম ও পিটারের দাতব্য সংস্থায়ও বড় অংকের অর্থ দান করেছেন।

ওয়ারেন বাফেট এর জীবন কাহিনী থেকে কিছু চমকপ্রদ তথ্য:
# ওয়ারেন বাফেট ও তাঁর স্ত্রী সুসান বাফেটের দাদা পরস্পরকে চিনতেন।  এমনকি সুসানের দাদা ওয়ারেনের দাদার জন্য একটি ইলেকশন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছিলেন।  যদিও সেই ক্যাম্পেইন ব্যর্থ হয়েছিল।

# সুসানের সাথে পরিচয়ের আগে, ১৯৪৯ সালে বাফেট বেটি গ্যালাগার নামে এক তরুণীর প্রেমে পড়েন।  বেটি তখন একজন একজন ইউকেলিলি বাদকের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন।  এই দেখে, ওয়ারেনও ইউকেলিলি বাজানো শিখলেন।  কিন্তু বেটি তাঁকে এরপরও নিরাশ করেছিল।  তবে এরপর যখন তিনি সুসানের সাথে পরিচিত হলেন, তখন দেখা গেল সুসানও ইউকেলিলির ভক্ত।  সুসানের সাথে বিয়ের পেছনেও ইউকেলিলির যথেষ্ঠ ভুমিকা ছিল! বাফেট এখনও পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ইভেন্টগুলোয় মাঝেমাঝেই এই বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান করে থাকেন।

# ২০১২ সালের এপ্রিলে একটি রেগুলার চেকিং এর সময়ে ধরা পড়ে যে তাঁর মূত্রথলীতে ক্যান্সার হয়েছে।  তবে দুই মাসের মধ্যেই এর চিকি‌ৎসা করে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

# এতবড় বিলিওনেয়ার হয়েও তিনি সকালের নাস্তার পেছনে কোনওভাবেই ৩.১৭ ডলারের বেশি খরচ করেন না

# বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের নাম বেশ কয়েকবার বদলাতে চেয়েও তিনি বদলাননি, কারণ এই নাম তাকে ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়।

# ১৯৬৭ সালে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে একবারই মাত্র তাদের শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করে।  এরপর আর কখনওই শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করা হয়নি।

# প্রতি বছর বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের বা‌ৎসরিক শেয়ারহোল্ডার সম্মেলন বসে ওমাহার কান্ট্রি লিংক সেন্টারে। প্রায় ২০০০০ লোক সেই মিটিং এ জমা হয়! এটাকে ওমাহায় অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় দু’টি বা‌ৎসরিক অনুষ্ঠানের একটি ধরা হয়।  অন্যটি হল ‘বেসবল কলেজ ওয়ার্ল্ড সিরিজ”।  এই সম্মেলন বা মিটিং এ যে কোনও শেয়ারহোল্ডার বাফেটকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারে।

# বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ারহোল্ডারদের দেখানোর জন্য ২০০৪ সালে একটি সিনেমা নির্মিত হয়।  যেখানে টার্মিনেটর সিনেমার আদলে আর্নল্ড শোয়ার্জনিগার ভবিষ্য‌ৎ থেকে বর্তমানে আসেন ওয়ারেন বাফেটকে থামানোর জন্য। সিনেমায় আর্নল্ড এর সাথে স্বয়ং ওয়ারেন বাফেটকেও একটি দৃশ্যে অভিনয় করতে দেখা যায়। প্রতি বছর বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এর বা‌ৎসরিক শেয়ার হোল্ডার সম্মেলন এর শুরুতে এই সিনেমাটি দেখানো হয়।

# সুসানকে বিয়ে করার আগে আগে বাফেটের শ্বশুর বাফেটকে আলাদা ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, “তুমি ব্যর্থ হতে যাচ্ছ।  ডেমোক্রেটরা কখনওই তোমার পরিকল্পনা সফল হতে দেবে না।”  নিশ্চই ভাবছেন, এখন বেঁচে থাকলে শ্বশুর মশাই কি বলতেন!

buttet quote 2.png
# প্রায় প্রতি বছর দাতব্য কাজে তহবিল সংগ্রহের জন্য ওয়ারেন বাফেট ই-বের মাধ্যমে তাঁর সাথে দুপুরের খাবার খাওয়ার একটি নিলাম ডাকেন।  উঠতি ব্যবসায়ীরা তাঁর কাছ থেকে শেখার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না।  এই নিলামে একবার প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত দর হাঁকা হয়েছিল!

# তিনি জীবনে কোনওদিন টুইট করেননি।  ওয়ারেন বাফেটের অফিসিয়াল টুইটার এ্যাকাউন্টে সাড়ে ১২ লাখ ফলোয়ার থাকলেও সেখানে মাত্র ৯টি পোস্ট করা হয়েছে।  তাঁর নিজের মালিকানাধীন মিডিয়া CNBC কে দেয়া এক সাক্ষা‌ৎকারে তিনি বলেছেন, সেই ৯টি টুইটও তাঁর নিজের করা নয়।  যেই বন্ধু তাঁর একাউন্ট খুলে দিয়েছিলেন, তিনিই এই টুইটগুলো করেছেন!

# ওয়ারেন বাফেট তাঁর জেগে থাকা সময়ের ৮০% কাটান পড়াশুনা করে! তাঁর সাফল্যের রহস্যের কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তাঁর পাশে থাকা বইয়ের স্তুপের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, “আমি দিনে ৫০০ পৃষ্ঠা পড়ি!”

# বাফেটের মোট ২০টি স্যুট আছে।  এগুলোর একটিও তিনি নিজের টাকায় কেনেননি! একবার চীন সফরের সময়ে হোটেলের লবিতে দু’টি লোক হঠা‌ৎ কোত্থেকে এসে তাঁর মাপ নেয়া শুরু করে, এবং একটি ক্যাটালগ ধরিয়ে দিয়ে বলে “ম্যাডাম লী আপনাকে একটি স্যুট দিতে চান এখান থেকে পছন্দ করুন”।  বাফেট একটির বদলে দু’টি স্যুট পছন্দ করলেন।  পরবর্তীতে ডিজাইনার ম্যাডাম লী এর সাথে দেখা করে তাঁর সাথে একটি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।  লী এরপর আরও ১৮টি স্যুট বাফেটকে উপহার দেন।  এরপর বিল গেটসের মত আরও কিছু বড় ব্যবসায়ী লী এর থেকে স্যুট নেন!

# ২০১৩ সালেও বাফেট একটি নোকিয়ার ফোল্ডিং সেট ব্যবহার করতেন! সিএনএন কে দেয়া এক সাক্ষা‌ৎকারে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “আমি ২০-২৫ বছর ব্যবহার না করে কিছু ফেলে দিই না…‍”

সাফল্যের জন্য ওয়ারেন বাফেটের সেরা পরামর্শ:
ওয়ারেন বাফেটের মত সফল ব্যক্তিদের কাছে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে।  সাফল্যের জন্য তাঁর সেরা পরামর্শ : “তুমি জীবনে সবকিছু অর্জন করতে পারবে না। সফল হওয়ার জন্য জীবনে যা কিছু অর্জন করতে চাও, তার থেকে ২৫টি প্রধান বিষয় বেছে নিয়ে একটি তালিকা তৈরী কর।  তারপর সেই তালিকা থেকে সবচেয়ে প্রধান ৫টি বিষয় বেছে নাও।  বাকি ২০টি বাদ দিয়ে দাও।  এরপর বেছে নেয়া ৫টি অর্জনের পেছনে মন প্রাণ দিয়ে কাজ করতে শুরু কর।  অন্য ২০টির চিন্তা মাথায় এলে, যেভাবেই হোক সেগুলো মাথা থেকে দূর করে দাও।  ওগুলোর দিকে নজর দিতে গেলে তুমি কিছুই অর্জন করতে পারবে না”।

buffet quote 1.png
অর্থা‌ৎ, বাফেট এর মতে, জীবনে সাফল্যের জন্য যত কম পারা যায় তত লক্ষ্য ঠিক করা ভালো।  এবং সেগুলোর ওপরই ফোকাস রাখা উচি‌ৎ।  বিভিন্ন সময়ে আমাদের অনেক কিছু করতে ইচ্ছে হয়।কিন্তু সবগুলো করতে গেলে আসলে কিছুই করা হয়ে ওঠে না।  কাজেই অল্প কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে সেগুলোর পেছনে ছুটলেই জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পেশাগত, আর্থিক, পারিবারিক, আধ্যাত্মিক, সেবা – এগুলো হতে পারে আপনার সাফল্যের মাপকাঠি।  আপনি হয়তো অনেক বড় একজন উদ্যোক্তা হতে পারেন, সেই সাথে একজন ভালো ও ধার্মিক মানুষ, সন্তানদের ভালো একজন অভিভাবক, একজন মানবসেবী হতে পারেন।

কিন্তু এগুলোর সাথে যদি আরও ১০টি স্বপ্ন জোড়া লাগান, তবে হয়তো কোনওটাই ভালোমত করা হবে না।  তাই খুব ভেবেচিন্তে নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন, এবং সেগুলোর দিকে পূর্ণ ফোকাস নিয়ে এগিয়ে যান।

সেই পথ চলার সময়ে যদি আরও স্বপ্ন এসে কড়া নাড়ে, তবে সেগুলোকে আপাতত মাথা থেকে দূর করে দিন।  প্রধান লক্ষ্যগুলো পূরণ করার পর অন্যগুলো নিয়ে মাথা ঘামান।

প্রধান লক্ষ্যগুলোও একটা একটা করে পূরণ করুন।  একসাথে কয়েকটির পেছনে ছুটবেন না।  এক সময়ে শুধু একটি লক্ষ্যের দিকেই মনযোগ দিন।  তাহলেই সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

শেষ কথা:
ওয়ারেন বাফেট মানে একটি ইতিহাস। শুধু যে অর্থ অর্জন করেই তিনি ইতিহাস গড়েছেন – তা নয়। অর্থ দান করেও তিনি ইতিহাস গড়েছেন। যারাই জীবনে বড় কিছু করতে চায়, তাদের সবারই ওয়ারেন বাফেটের জীবনী থেকে কিছু না কিছু শেখার আছে, অনুপ্রাণিত হওয়ার আছে। আমরা আশা করব আমাদের ক্ষূদ্র এই প্রচেষ্টা কিছুটা হলেও আপনার কাজে আসবে।

ওয়ারেন বাফেট উক্তি ৩
যদি ওয়ারেন বাফেট এর জীবন কাহিনী আপনার ভালো লেগে থাকে, তা আমাদের কমেন্ট করে জানান। আমরা কোনও তথ্য মিস করে গেলেও তা কমেন্টে লিখুন, যাতে লেখাটি আরও সমৃদ্ধ হয়, এবং তার পেছনে আপনার অবদান থাকে।


ওয়ারেন বাফেটের নাম জানেন না, এমন শিক্ষিত লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ধনী ও সফল ব্যক্তিদের একজন  তিনি।

সফল মানুষদের কথা ভাবতে গেলে, না চাইতেও এই অসাধারণ প্রতিভাবান লোকটির কথা চলে আসে।  ওয়ারেন বাফেটের জীবনী থেকে যেমন অনেক কিছু শেখার আছে; তেমনি বিভিন্ন সময়ে বলা তাঁর উক্তি ও বানী থেকেও শিক্ষা নেয়ার আর অনুপ্রাণিত হওয়ার মত অনেক কিছুই আছে।

তাই, আজ আপনার জন্য আমরা নিয়ে এসেছি ওয়ারেন বাফেট এর ৪০ টি অসাধারণ উক্তি ও বানী:

#০১. “সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, তুমি কি করছ সেটা না জানা”

#০২. “ব্যবসার ক্ষেত্রে ভবিষ্য‌ৎ পরিকল্পনার আগে পেছনের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া বেশি জরুরী”

#০৩. “আমি সবসময়েই জানতাম, আমি একদিন ধনী হব।  জীবনে এক মিনিটের জন্যও এ বিষয়ে সন্দেহ করিনি”

#০৪. “সততা একটি মহা মূল্যবান গুণ।  সস্তা লোকদের কাছ থেকে এটা কখনওই আশা করো না”

#০৫. “যদি তুমি পৃথিবীর ১% ভাগ্যবানের একজন হও, তবে বাকি ৯৯% এর উন্নতির কথা ভাবা তোমার দায়িত্ব”

#০৬. “বেশিরভাগ মানুষের স্বভাব হলো, সহজ জিনিসকে জটিল করে ফেলা”

#০৭. “সাধারণ সফল আর অসাধারণ সফলদের মধ্যে পার্থক্য হলো, অসাধারণ সফলদের ‘না’ বলার ক্ষমতা অসাধারণ”

#০৮. তোমার সময়ের নিয়ন্ত্রণ যেন তোমার হাতেই থাকে; আর যতক্ষণ তুমি ‘না’ বলা না শিখছ, ততক্ষণ এটা সম্ভব নয়।  অন্য কাউকে তোমার জীবনের পথ ঠিক করতে দিও না”

#০৯. “ব্যবসার জগতে তারাই সবচেয়ে বেশি সফল, যারা তাদের সবচেয়ে ভালোলাগার কাজটি করছে”

#১০. “আমাকে তোমার আদর্শ ব্যক্তির নাম বল, আমি তোমার ভবিষ্যৎ বলে দেব”

#১১. “যদি কোনওকিছু ১০ বছর ধরে করার ইচ্ছে না থাকে, তবে সেটা ১০ মিনিট করাও বোকামী”

#১২. “মানুষ নিজের পেছনে যে বিনিয়োগ করে, সেটাই তার সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ”

#১৩. “যদি এমন কোনও পথ বের করতে না পার, যা তোমার ঘুমের সময়েও তোমার জন্য উপার্জন করবে, তবে তুমি মরার আগ পর্যন্ত কাজ করে যাবে”

#১৪. “আজ কেউ ছায়ায় বসে আছে, কারণ বহু আগে সেখানে কেউ একটা গাছ লাগিয়েছিল”

#১৫. “সাফল্যের সূত্র ০১: ‘কখনও টাকা নষ্ট করো না’, সূত্র ০২: কখনওই সূত্র ০১ ভুলো না”

#১৬. “আমি ১১ বছর বয়সে প্রথম বিনিয়োগ করি, তার আগ পর্যন্ত আমি শুধু সময় নষ্ট করেছি”

#১৭. “যদি তুমি বিরামহীন ভাবে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে থাকো, তবে শিঘ্রই তোমাকে প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রী করা শুরু করতে হবে”

#১৮. “খরচের পরে যা বাকি থাকে- তা জমানোর বদলে, জমানোর পরে যা বাকি থাকে – তা খরচ কর”

#১৯. “তোমার আগ্রহ না থাকলে শক্তি থাকবে না। শক্তি না থাকলে তোমার কিছুই থাকবে না”

#২০. “কর্মীদের এমন ভাবে চালিত কর, যেন তোমার সাফল্যের ওপরই তাদের ভালো থাকা-খারাপ থাকা নির্ভর করে”

#২১. “তোমার মাঝে যদি দক্ষতা আর চেষ্টা থাকে, তবে সাফল্য সময়ের ব্যাপার মাত্র”

#২২. “সবচেয়ে সুখী মানুষদের কাছে সবকিছু নেই, তারা তাদের যা আছে তার জন্য সন্তুষ্ট ও কৃতজ্ঞ”

#২৩. “যদি মনে কর যে, উদ্যোক্তা হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে ৪০ বছর অন্য কারও জন্য গাধার খাটুনি খেটে অবসর ভাতার ওপর নির্ভরশীল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর”

#২৪. “আমি যা বুঝি না, তাতে কখনওই বিনিয়োগ করি না”

#২৫. “সুনাম গড়তে লাগে ২০ বছর, নষ্ট করতে লাগে মাত্র ৫ মিনিট।  এটা মাথায় রাখলে, তোমার সব কাজ ‘অন্যরকম’ হবে”

#২৬. “ধনীরা সময়ের পেছনে বিনিয়োগ করে, গরীবরা করে টাকার পেছনে”

#২৭. “নিজের ভুল থেকে শেখা ভালো; অন্যের ভুল থেকে শিখতে পারলে আরও ভালো”

#২৮. “আমার জীবনের সেরা কাজটি ছিলো, সঠিক লোকগুলোকে আদর্শ হিসেবে বেছে নিতে পারা”

#২৯. এমন বন্ধু নির্বাচন কর, যারা সবদিক দিয়ে তোমার চেয়ে ভালো।  তাহলে তুমিও একদিন সেইদিকে ধাবিত হবে”

#৩০. “যদি বৃষ্টির জন্য আশ্রয় বানাতে না পার, তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিতে পারলেও কোনও লাভ নেই”

#৩১. “যদি তুমি তোমার ব্যবসার দুর্বলতা জানো, তবে ভয় নেই।  কিন্তু না জানলে ঘোর বিপদে আছ”

#৩২. “কাউকে চাকরি দেওয়ার সময়ে, সততা, বুদ্ধি, আর কাজ করার ক্ষমতা – এই ৩টি গুণ আছে কিনা নিশ্চিত হও।  যদি সততা বাদে বাকি দু’টো অনেক বেশিও থাকে – তাকে কাজে নিও না।  এর বদলে, সততা পূর্ণ বোকা আর অলসদের কাজে নাও।  অস‌ৎ বুদ্ধিমান আর কর্মক্ষমরা তোমার সর্বনাশ করবে”


#৩৩. “তোমাকে অন্যদের চেয়ে বুদ্ধিমান না হলেও চলবে।  তোমাকে শুধু অন্যদের চেয়ে কাজে বেশি ধারাবাহিক হতে হবে”

#৩৪. “যদি নিজেকে গর্তের মাঝে আবিষ্কার কর, তবে প্রথমেই গর্ত খোঁড়া বন্ধ কর”

#৩৫. “তোমার চেষ্টা আর প্রতিভা যতই প্রবল হোক না কেন, কিছু ব্যাপারে সফল হতে সময় লাগে”

#৩৬. “যদি জীবনে খুব বেশি ভুল না কর, তবে অল্প কিছু সঠিক কাজ করাই যথেষ্ঠ”

#৩৭. “আমি মদ আর ঋণের কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষকে ব্যর্থ হতে দেখেছি।  তুমি যদি বুদ্ধি খাটাও, তবে ঋণ ছাড়াই তোমার হাতে অনেক টাকা আসবে”

#৩৮. “যদি তুমি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পার, তবে আর্থিক অবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না”

#৩৯. “একবারে সাত ফুট লাফ দেয়ার চেষ্টা করার চেয়ে, সাতবার এক ফুট লাফ দেয়া ভালো”

#৪০. “সফল বিনিয়োগের জন্য দরকার সময়, শৃঙ্খলা, আর ধৈর্য্য”


ওয়ারেন বাফেট একজন মার্কিন ব্যবসায়ী। বিনিয়োগের কলাকৌশল তিনি খুব ভালো জানেন। সাত বছর বয়স থেকেই ব্যবসার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। ছোটবেলায় চুইংগাম, কোকাকোলার বোতল, এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ম্যাগাজিনও বিক্রি করেছেন। আর আজ? মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস ২০১৭ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষদের যে তালিকা তৈরি করে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, ওয়ারেন বাফেটের অবস্থান দ্বিতীয়। যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের এই সাবেক ছাত্র সব সময় শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের নানা পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া পরামর্শগুলো থেকে বাছাই করা ১০টি আজ তুলে ধরা হলো

১. খারাপ সময়ে ধৈর্য ধরুন
ওয়ারেন বাফেট সব সময় খারাপ সময়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। নিজের জীবন থেকেই নিশ্চয় এই শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তিনি। জীবনে বহুবার অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। ১৯৯৩ সালে প্রায় ৪৩ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে তিনি ডেক্সটার শ্যুজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান কিনে নিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে সেই কোম্পানি থেকে ৩৫০ কোটি ডলারের লোকসান হলেও ওয়ারেন বাফেট ধৈর্য হারাননি। ওয়ারেন বলেন, ‘সফলতার দুটি সূত্র। প্রথম সূত্র: কখনো হার মানা যাবে না। দ্বিতীয় সূত্র: প্রথম সূত্রটা কখনো ভোলা যাবে না।’

২. লক্ষ্য ঠিক রাখুন
ওয়ারেন বাফেট মনে করেন, যা করবেন তা পুরো মনোযোগ দিয়ে করা উচিত। ব্যবসার রোমাঞ্চে বুঁদ হয়ে আপনার ব্যবসায়িক বুদ্ধি হারালে চলবে না। সজাগ থাকতে হবে সব সময়। তিনি বলেন, ‘এমন ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন না, যা আপনি বোঝেন না।’ আপনার লক্ষ্য, আপনার মনোযোগ যেখানে একীভূত হবে, আপনি সেই দিকটিকেই ব্যবসার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিন।

৩. নিজের ওপর বিনিয়োগ করুন
ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে আপনার সাফল্য। তাই ওয়ারেন বাফেট বলেন, ‘প্রথমত নিজের দক্ষতার ওপর বিনিয়োগ করুন। আপনার দক্ষতা যত বাড়বে, আপনার ব্যবসাও তত সৃজনশীল হবে।’ নিজেকে সময় দেওয়া যে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, এ কথা তিনি সব সময় বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘মাঝেমধ্যেই আমি চুপচাপ বসে ভাবি। অনেকে বলতে পারেন এটা নিরর্থক। কিন্তু ব্যবসা ও বিনিয়োগের সমস্যা নিয়ে ভাবতে আমার ভালো লাগে।’

৪. সঠিক সঙ্গ বেছে নিন
‘এমন মানুষদের সঙ্গে সময় কাটান, যাঁরা আপনার চেয়ে দক্ষ। আপনার সহযোগীদের ব্যবহার যেন আপনার চেয়ে ভালো হয় এবং তা যেন আপনাকে প্রভাবিত করে।’ ব্যবসার ক্ষেত্রে এই হলো ওয়ারেন বাফেটের মূলমন্ত্র। তিনি মনে করেন, মানুষের সততা খুব বড় গুণ। সবার মধ্যে এই গুণ প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। অতএব, সেই মানুষগুলোকেই আপনার আশপাশে রাখুন, যাঁরা ব্যবসার ক্ষেত্রে সৎ। যাঁদের আপনি বিশ্বাস করতে পারেন। ওয়ারেন বাফেট দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সঙ্গেই ব্যবসা করেছেন, যাঁদের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া ভালো।

৫. অনেক পড়তে হবে
পড়ুয়া হিসেবে এই ধনকুবের ব্যবসায়ীর বেশ সুনাম আছে। অবসর সময়ের ৮০ ভাগ তিনি বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেন। বিজনেস অ্যাডভেঞ্চার্স, দ্য এসেস অব ওয়ারেন বাফেট এবং দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর—তরুণ উদ্যোক্তাদের তিনি এই বইগুলো পড়ার পরামর্শ দেন। এইচবিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখনো দিনের পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা তিনি বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন অন্তত ৫০০ পৃষ্ঠা পড়ো। জ্ঞান হলো “চক্রবৃদ্ধি সুদ”-এর মতো। যত পড়বে, তত বাড়বে।’

৬. সমাজের জন্য কাজ করুন
সমাজ থেকে আপনি যেমন পাচ্ছেন, তেমনি সমাজের জন্য কাজ করাও আপনার দায়িত্ব। ওয়ারেন বাফেট বলেন, ‘বহু বছর আগে একজন একটা গাছ লাগিয়েছিল বলেই আজ একজন সেই গাছের ছায়া পাচ্ছে।’ অতএব আপনার পূর্বসূরির অবদান ভুলে গেলে চলবে না। আপনি যদি ১ শতাংশ সৌভাগ্যবান মানুষের মধ্যে পড়েন, বাকি ৯৯ ভাগ মানুষের জন্য কিছু করা আপনার দায়িত্ব।

৭. অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন
ব্যবসার ক্ষেত্রে অতীত ও ভবিষ্যৎ—দুটোকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মানেন ওয়ারেন বাফেট। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যৎটা পরিষ্কার দেখতে না পারলেও ব্যবসার ক্ষেত্রে আমরা তো আমাদের অতীতটা স্পষ্ট দেখতে পাই। সেটাই আমাদের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। আবার তিনি এ-ও বলেন, ‘টাকা উপার্জনের এই খেলায় যদি অতীত ইতিহাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতো, তবে লাইব্রেরিয়ানরাই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষ হতেন।’

৮. আপনার ‘নায়ক’ কে?
আপনি কাকে অনুসরণ করছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কার মতো হতে চান? খুব ভেবে এই প্রশ্নের উত্তর ঠিক করুন। ওয়ারেন বাফেট বলেন, ‘আমাকে বলো, তোমার চোখে “নায়ক” কে। আমি বলে দেব, তোমার ভবিষ্যৎ কী।’ অর্থাৎ আপনি কাকে আদর্শ বলে মানেন, সেটাই নির্ধারণ করবে আপনার ভবিষ্যৎ।

৯. বিশ্বাস থাকতে হবে
‘আমার বাবা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন। আমিও বিশ্বাস করি নিজেকে।’ দ্য গ্রেট মাইন্ডস অব ইনভেস্টিং বইয়ের ভূমিকায় এভাবেই লিখেছেন ওয়ারেন বাফেট। তাঁর দাবি, সব সময় তাঁর মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছিল। বিফল হওয়ার কথা তিনি কখনো ভাবেননি। সফল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে যা ভালোবাসেন, তা-ই করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘কত টাকা আয় হচ্ছে বা কত লাভ হচ্ছে, এই হিসাবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের ওপর বিশ্বাসটা অটুট আছে কি না।’

১০. ভুল থেকে শিখুন
ওয়ারেন বাফেট যে জীবনে শতভাগ সাফল্য পেয়েছেন, তা নয়। তিনি ভুল করেছেন। এমনকি ব্যবসায়িক জীবনে তিনি বড় বড় ভুলও করেছেন। তবে ভুল থেকে তিনি শিখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনের ভুলগুলো মনে রেখে তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন ওয়ারেন বাফেট। তিনি মনে করেন, ভুলগুলোর কথা নিজের সন্তানদেরও জানানো উচিত। যেন তারা একই ভুল না করে।


Since its first publication by the World Bank in 2003, the Ease of Doing Business Report has become a global template for improving the regulatory structure to facilitate a better business environment. Almost all of the listed 190 countries have been trying to improve their regulatory structures to get an upgrade in the Ease of Doing Business index. Bangladesh has been no exception to this, and in recent years it has intensified its efforts to improve its ranking in the Ease of Doing Business Index by making some improvements in business regulations. BIDA has been the focal point for this purpose.   

In order to make an assessment on the progress on the Ease of Doing Business ranking in 2021, Bangladesh Enterprise Institute (BEI) and International Business Forum of Bangladesh (IBFB) jointly hosted a webinar on the theme of 'Ease of Doing Business: Status of 2021 on May 17, 2021. The Executive Chairman of Bangladesh Investment Development Authority (BIDA) Mr.  Sirajul Islam attended the session as the Chief Guest and Mr. Jibon Krishna Saha Roy, Director of BIDA made the keynote presentation. Dr. M. A Majid, former Chairman of NBR, Gen Harun-ar-Rashid, Former Army Chief, TMSS Executive Director Ms. Hosne Ara Begum and Dr. MS Siddiqui of IBFB were the designated discussants on the presentation. Attended by around 100 participants from the government, both serving and retired, diplomats, private sector business leaders, NGOs and the media, the entire discussion was extremely animated. Although the subject had a specific focus on the progress on the elements outlined in the Ease of Doing Business Report, the discussion quickly moved on to a larger business environment highlighting many inter related issues. While the sensitive issues like corruption, opaque nature of decision making process, use  of discretion by the key government officials, archaic nature and the lack of clarity in regulatory framework dominated the discussion as impeding the smooth and easy business process in Bangladesh. The Executive Chairman, BIDA was rather objective in acknowledging the constraints and the prevailing handicaps within which BIDA had to work. He also shared the scepticism that the target of reaching the serial 99 in the Ease of Doing Business Report in this year may not be possible to achieve.

In this context, he said that it was much easier to convince the policy making circles about the particular line of policy action to improve the business environment with particular focus on the private sector, however the daunting task remains at the implementation level. In order to harmonise this gap, he sought support from the government ministries and agencies as well as the members of the business community, who could be the potential beneficiaries in the improvement of the business environment and process. Given the complexity of the business landscape, it was also opined that it could be helpful to examine all related issues, which could provide a context, connection and identify challenges burdening the business ecosystem in Bangladesh. Talking only about the technical elements would address the problem from a very narrow perspective.

DRIVERS: Although the World Bank has already abandoned this Index, the issue of creating a congenial business environment for ensuring a balanced and equitable economic growth remains an important factor for countries like Bangladesh for several reasons. First, as for Bangladesh, the private sector has grown as a major driver of economic growth since late 1970s, notwithstanding the fact that much improvement still needs to be done. Nonetheless, fact remains that the private sector in Bangladesh has already demonstrated its immense potency and strength in transforming the economic landscape of the country.  In the interest of maintaining this momentum, it is important that the private sector should grow and operate in a healthy and competitive environment, away from often cited 'crony capitalism' framework. Indeed, any association of private sector to such a sponsored environment only weakens its potency and creates uneven business playing field destroying its creativity, mobility and innovation.

Second, as we are on the threshold of graduating from the LDC level, the role of private sector has acquired extra salience. Not only that the private sector will lead the charge in the post-graduation phase, it has to be the head of the spear of our domestic productivity and competitiveness to help us navigate in a highly competitive, open and technology-driven regional and global environment. Third, in this process, innovation in the business and product process can also be expected to emerge from the private sector. Fourth, indeed the private sector would also be the conveyer belt for inviting and utilising FDI for the growth in the private sector with corresponding impact on the national growth and employment. Therefore, the role of a healthy, independent and competitive private sector need not be overstated.

The government's own documents show that over the years, private sector investment has been sluggish-- around 23 per cent of the GDP and it has not moved up despite various exhortations. For the similar reason, the projected private sector investment target of 28 per cent of GDP under the 8th Five Year Plan looks ambitious, unless serious reforms are done in the prevailing business environment. For Bangladesh, next few years could be a tough walk for several reasons. As Bangladesh graduates, we may lose some of the preferential accesses to markets of developed and some developing countries, which we have been enjoying as an LDC since 1975; some economists calculate that around 10 per cent of export from Bangladesh may come under severe pressure. In addition, peer pressure will mount on many areas of our common interests with India, Myanmar, Sri Lanka, Pakistan, Nepal and Vietnam entering the competitiveness race in gusto. Indeed, our journey could be a lonely walk, as we do not yet belong to any larger trade bloc, nor are we robust in effectively pursuing free trade agreements with other partners.

TECHNICAL AND PHILOSOPHICAL ISSUES: The efforts by BIDA to lead the improvement in business regulations cannot be an isolated matter, it has to coordinate with many other organisations/agencies, which are often beyond the remit of BIDA authority.  Frankly, they have a limited role in the overall scheme of things. Indeed, any effort to improve the business ecosystem has to stand on at least three legs. The first leg could be BIDA as the lead agency to gather, organise and coordinate the entire national effort to produce some tangible outcome in terms of figures, which could be reflected in the Ease of Doing Business report. The second leg will comprise the various line Ministries/Agencies of the government, which deliver the services at the ground level and come into direct contact with myriad business organisations and processes. Indeed, their role is critical for the success of any improvement in the overall business process. The third leg will be composed of the business community itself, who do the actual business and directly contribute to production, innovation and the generation of employment. Unfortunately, the relationship and the level of coordination among all three elements is still unclear and often highly competitive, creating a negative and often anti-business climate, about which many of the members of the business community regularly complain. Charges of underhand dealings, corruption, bureaucratic handicaps arise from such an anomalous business conditions in Bangladesh.

Several conceptual issues also demand serious consideration. First, a close observation will reveal that our individual and collective mindset and work ethics are still mostly process oriented, not outcome oriented. Opaqueness in the bureaucratic structure makes this process more cumbersome and slows down the speed of transactions. As a result, it becomes difficult to measure the success of any initiative or track progress with evidence. The possibility of corruption is much higher under such a circumstance.  Second, whether the World Bank Ease of Doing Business Index or any fair business environment will demand that it operates under a transparent and predictable set of rules under a system of rule of law. When an individual dominates the process, problems tend to crop up. The issue of discretion exercised by many in the regulatory framework has been repeatedly mentioned as a source of problem. Clear set of rules and regulation could not only obviate such a process; it could definitely create a better and predictable business environment in Bangladesh.

Third, quick and open decision making process is a prerequisite for the creation of a dynamic business climate. This obviously demands decentralization of powers and authority to the lowest level possible. Concentration of power generally works in the reverse direction and slows down the decision making process. Learning from the past experience, the concept of open government is now being promoted, which is much more helpful in creating trust on the system, and delivering the services without much regulatory hassles. Fourth, the business friendly attitudes of all stakeholders is an important factor in the conduct of business fairly and transparently. There are regular complaints that there is a strong anti-business bias in the system, which fosters rent and commission seeking mindset. Unfortunately, such a trend has received strong tail wind during the two decades in Bangladesh. Needless to say, any tangible and sustainable progress in the business climate in Bangladesh will demand reforms at several levels.

ASSESSMENT ABOUT OUR COLLECTIVE STRENGTH AND WEAKNESS: While upward movement in our ranking on the Ease of Doing Business index is important, a fundamental shift is required in our outlook and approach about the business climate and its relationship with the larger social context. We have to have an objective assessment about our strength and weakness, and based on that train our focus and invest on the areas where we can do the best value addition throughout the entire value chain, whether national, or regional or global. We also have to understand the relative position of Bangladesh in the community of nations and build up our business reputation on the basis of such an objective assessment. Publicizing our achievement is just fine, but we must also take note of the fact that the entire South Asia, South East Asia and Africa as a continent are making similar progress. It is therefore important to make a comparative assessment against this evolving perspectives and chart a realistic course of action to move forward in terms of improving our business climate with a view to making it a harbinger of equitable and sustainable growth and prosperity. 

GOVERNANCE ISSUES: There is a raging debate on the size and role of a government. Some argue that government should have major role in the management of economic affairs affecting the public life, while others say that it be as little as possible. The truth perhaps sits somewhere in between. The government's role should be at the appropriate level, it should come where it has an advantage and where the private sector would not be interested to invest.  There is a tendency to equate the role of the government with patronising group interests, which generally fosters corruption and hampers the sustainability of the economic model. In many places, it has distorted the market mechanism through encouraging the underhand dealings and polluting the business climate. In this process, not only the government officials are exploited toward corruption, the business community may also feel tempted to get extra advantages by going around the cue. This issue incidentally has repeatedly surfaced in a big way in the aforesaid webinar. Any effort to improve the business ecosystem cannot afford not to include such an important issue.  After all, regulatory policies are by nature moored within the governance infrastructure.

OPEN GOVERNMENT AND HIGH LEVEL OF COORDINATION: One of the interesting features of Bangladesh business community is that they can respond to government policy stimuli and make their mark quite easily. A complementary role has evolved, notwithstanding the fact that in recent years the separation between the decision making machinery and the business community has practically evaporated with attending consequences. As we usher into a highly competitive global environment and most of the concessions which provided cover to access the global market would be gone after graduation. So a new kind of approach has to be explored to remain ahead of the curve. First, the government must have an honest and credible face as well as remain on a proactive mode supported by the concept of an open government. Second, reorientation of bureaucracy for at least two things would be critical-- understanding the role of private sector in economic development and the role of bureaucracy to protect the public interests from predatory practices. Third, at the same time, the business community has also to understand the public interest role of bureaucracy beyond the profit perspective and be aware of their obligation to larger social context.

In this direction, Bangladesh Enterprise Institute (BEI) implemented a project a few years ago to train around 150 mid-level bureaucrats, who observed a few trends. First, the adversarial social mindset which predominates our collective approach also infects them. Therefore, they generally harbour a poor perception about the role of private sector, and interestingly the view is reciprocal from the other side as well.  Second, they generally lacked a good understanding about the role of private sector in development and hence find it difficult to explore a common ground with the private sector.

Third, they however responded positively after the training and changed their perspective about the role of private sector in larger national development. Indeed, many of them became strong advocate for exploring synergies between the public and private sectors entrepreneurs.  BEI strongly believes that more systematic and structured interactions are required between the bureaucrats and the private sector leaders to instill a sense of mutual trust and to support each other for pursuing a common national goal under a commonly agreed framework. Models of collaboration available in our extended region could provide a useable template. 

In sum, it is important that we recognise the relative importance, strength and weakness of both the government and the private sector and bring a synergy between them to facilitate the process of lifting the lives of the people of Bangladesh as we continue our march beyond 2026. On its part, the government can offer the policy guidance, create legal and regulatory framework alongside physical infrastructure as well as foster generation of public goods, while the private sector may deliver on its innovation, enterprise, capital and dynamism to facilitate creation and sustaining of such a harmonious process. An improved performance in the light of the Ease of Doing Business Index would be a good benchmark to achieve for this purpose. At the same time, we must not also lose sight of the multiplier benefits, which a business friendly environment could contribute toward creating a vibrant, equitable and sustainable economy. 


আপনার যদি একটি গাড়ি থাকে, তাহলে নিশ্চিতভাবে সেই গাড়িতে সামনে ও পিছনে নাম্বারপ্লেট আছে। আর যদি গাড়ি না-ও থাকে তাহলে নিশ্চই প্রতিদিন চলতে ফিরতে যত গাড়ি দেখেন, সেইসব গাড়ির নাম্বার প্লেটে গাড়ির নাম্বার তো নিশ্চই দেখেছেন। প্রতিটি গাড়ির নাম্বার প্লেট আলাদা। ঢাকা মেট্রো ক ১২৩৪, ঢাকা মেট্রো খ- ২৩৪৫ ইত্যাদি আরো অনেক। ঢাকা মেট্রো বলতে যে গাড়িটি ঢাকা মেট্রোপলিটনের আওতাধীন তা সহজেই অনুমান করা যায়। কিন্তু শহরের নাম আর সংখ্যার মাঝে একটি বাংলা বর্ণমালাও জুড়ে দেয়া হয় গাড়ির নাম্বার প্লেটে। এই বর্ণমালা দিয়ে কী বুঝানো হয় তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

অনেকেই গাড়ির নাম্বারপ্লেটে বাংলা বর্ণমালার অর্থ হয়ত জেনে থাকবেন। আর না জানলেও ক্ষতি নেই। চলুন জেনে নেয়া যাক এই বর্ণমালার মাধ্যমে গাড়ির নাম্বার প্লেট কী প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

বর্ণমালাগুলোর অর্থ কী তা জানার আগে জানতে হবে বাংলাদেশে গাড়ির নাম্বার প্লেট কারা এবং কীভাবে ঠিক করে দেয়। আপনি যখন একটি গাড়ি কেনেন, তখন গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হয়। আর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে হয় বাংলাদেশ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি বা বিআরটিএ থেকে। বিআরটিএতে কো গাড়ির রেজিস্ট্রনের জন্য আবেদন করা হলে, তাদের ফর্মে গাড়ির তথ্যগুলো দিতে হয়। গাড়ির তথ্য দেয়ার পর বিআরটিএ গাড়িটি কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে সেটি নির্ধারণ কর গাড়িটির একটি নাম্বার প্রদান করে থাকে।

নাম্বার প্লেট লিখার ফরমেট:
ক্যাটাগরি অনুসারে গাড়ির নাম্বার নির্ধারণ করার জন্য বিআরটিএ’র একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট রয়েছে। ফরম্যাটটি হল-

শহরের নাম- গাড়ির ক্যাটাগরি- গাড়ির নাম্বার

এই ফরমেটের মাঝের অংশে গাড়ির ক্যাটাগরি বুঝাতেই বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এবার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে কোন বর্ণ দিয়ে কোন ক্যাটাগরি বুঝানো হয়ে থাকে?

বিআরটিএ যখন কোন গাড়িকে অনুমোদন দিয়ে থাকে, তখন গাড়ির ধরণ অনুসারে গাড়িকে একটি ক্যাটাগরিতে স্থান দেয়া হয়ে। কোন গাড়ি কোন ক্যাটাগরিতে পড়ছে, সেই ক্যাটাগরি অনুসারে গাড়ির জন্য একটি বর্ণমালা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। নাম্বারপ্লেট প্রদানের ক্ষেত্রে বিআরটিএ’র নিয়ম অনুসারে মোট ১৯ টি ক্যাটাগরি আছে। এর মধ্যে একটি ক্যাটাগরি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গাড়ি, বাকি ১৮টি ক্যাটাগরি হচ্ছে জনসাধারণের গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ক –
প্রাইভেটকার, ৮০০ সিসি’র প্রাইভেট কারের নাম্বারপ্লেটে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ব্যাঞ্জন বর্ণের প্রথম বর্ণ ক।

খ –
প্রাইভেটকার, যেসব প্রাইভেট কার ১০০০-১৩০০ সিসি’র হয়ে থাকে সেগুলোর নাম্বারপ্লেটে খ লিখা থাকে।

গ –
প্রাইভেটকার, ১৫০০-১৮০০ সিসি’র যেসব প্রাইভেটকার রয়েছে সেগুলোর নাম্বারপ্লেটে খেয়াল করলে দেখা যাবে গ বর্ণ দেয়া আছে।

ঘ –
জীপগাড়ি, জীপগাড়ির ক্যাটাগরি নির্ধারণের জন্য ঘ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

চ –
মাইক্রোবাসের নাম্বার প্লেটে ব্যবহার করা হয় বাংলা বর্ণমালার ৫ম বর্ণ ‘চ’।

ছ –   
আবার ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস যেগুলো সেগুলোর নাম্বার প্লেটে থাকে ‘ছ’। লেগুনার জন্যও এই বর্ণটি নির্ধারিত।

জ –
মিনিবাসের ক্যাটাগরি বুঝানোর জন্য নাম্বার প্লেটে জ বর্ণটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ঝ –
আবার বড় বাস বা কোস্টার বাসের ক্যাটাগরি ভিন্ন। এই ক্যাটাগরি বুঝাতে ব্যবহার করা হয় ‘ঝ’।

ট –
কোন গাড়ির নাম্বার প্লেটে যদি ‘ট’ বর্ণটি লিখা থাকে তাহলে বুঝতে হবে এটি বড় ট্রাকের নাম্বার প্লেট।

ঠ –
নাম্বার প্লেটে ‘ঠ’ থাকলে বুঝতে হবে, নাম্বার প্লেটটি কোন ডাবল কেবিন পিক-আপ  এর নাম্বার প্লেট।।

ড –
মাঝারি ট্রাকের নাম্বার প্লেটের দিকে খেয়াল করলে দেখবেন সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ড’ বর্ণটি।

ন –
কোন গাড়ি যদি ছোট পিক আপ ক্যাটাগরির হয়ে থাকে তাহলে নাম্বার প্লেটে ন ব্যবহার করে ক্যাটাগরি নির্দিষ্ট করা হয়ে থাকে।

প –
টাক্সি ক্যাবের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরি হচ্ছে প ক্যাটাগরি। এই ক্যাটাগরির বা ট্যাক্সি ক্যাবের নাম্বার প্লেটে ‘প’ বর্ণটি থাকে।

ভ –
২০০০+ সিসি প্রাইভেটকার বুঝানোর জন্য এইসব গাড়ির নাম্বার প্লেটে শহরের নামের পর ‘ভ’ বর্ণমালা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ম –
পন্য পরিবহন এবং ডেলিভারির জন্য ব্যবহৃত পিক-আপ বুঝানোর জন্য বাংলা বর্ণমালার ‘ম’ বর্ণটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

দ –
প্রাইভেট বা নিজস্ব পরিবহনের জন্য যেসব প্রাইভেট সিএনজি চলাচল করে থাকে সেগুলোর নাম্বার প্লেটে ‘দ’ ব্যবহার করে বুঝান হয় এইটি প্রাইভেট সিএনজি।

থ –
ভাড়ায়  চলিত সিএনজির ক্ষেত্রে দ এর বদলে থ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

হ –
যদি কোন মোটরবাইক ৮০-১২৫ সিসি’র হয়ে থাকে তাহলে সেই বাইকের নাম্বারপ্লেটে হ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

ল –
যদি কোন মোটরবাইক ১৩৫-২০০ সিসি’র হয়ে থাকে তাহলে সেই বাইকের নাম্বারপ্লেটে ল দিয়ে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

ই –
ভটভটি টাইপের ট্রাকের নাম্বারপ্লেটে অনুমোদন দেয়ার সময় তাতে ই বর্ণটি দিয়ে ক্যাটাগরি ঠিক করে দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গাড়িগুলো চিহ্নিত করতে নাম্বার প্লেটে য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

কোন বর্ণ দিয়ে কোন ধরণের গাড়ি বুঝানো হয় তা জানা থাকলে শুধু নাম্বার প্লেট দেখেই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, শহর, ইঞ্জিন প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অনেক সময় গাড়ি ট্রেস করার জন্যও গাড়ির নাম্বার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গাড়ি ট্রেস করার সবচাইতে সহজ এবং নিখুত উপায় হচ্ছে ভেইকেল ট্র্যাকিং সার্ভিস ব্যবহার করা। ভেইকেল ট্রাকিং সার্ভিস প্রহরীর মাধ্যমে খুব সহজেই ঘরে কিংবা অফিসে বসে গাড়ি ট্র্যাক এবং ট্রেস করা যায় দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা। গাড়ি থাকে সুরক্ষিত, যাত্রী থাকে নিরাপদে।


ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম ইউটিউবের জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। এখন এটি শুধু বিনোদন মাধ্যম নয়, ইউটিউব অনেকের আয়ের অন্যতম উৎসও বটে। ২০০৫ সালের মে মাসে ইউটিউব পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়।

বর্তমানে প্রতিদিন সারাবিশ্বে ৫০০ কোটি মানুষ ইউটিউবে ভিডিও দেখছেন। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, একজন দর্শকের ইউটিউব দেখার গড় সময়কাল ৪০ মিনিট। দর্শক বিবেচনায় ইউটিউব পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সাইট। বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর মধ্যেও ইউটিউব দ্বিতীয়।

ইউটিউবের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাই বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ইউটিউব আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী মাধ্যম।

ইউটিউবের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অনেকেই ইউটিউবকেই পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন এবং তারা সফল ইউটিউবার হচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ ইউটিউব থেকে আয় করতে অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন। চ্যানেল খোলার সাথে সাথেই আয় হয় না।

এখানে ইউটিউব থেকে আয়ের কিছু উপায় তুলে ধরা হলো:

ইউটিউব চ্যানেল: ইউটিউব থেকে আয় করতে প্রথমেই লাগবে একটা ইউটিউব চ্যানেল। গুগল একাউন্টের মাধ্যমে প্রথমে আপনাকে একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে। ইউটিউব চ্যানেল বিনা মূল্যেই খোলা যায়। আপনি কোন ধরনের ভিডিও ছাড়তে চান এইটা ঠিক করে ব্রান্ড বা আপনার বিজনেসের নামে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে।

আপনি যেহেতু ইউটিউব থেকে আয় করতে চাচ্ছেন এক্ষেত্রে আপনার ব্রান্ডের নামে ইউটিউব চ্যানেল খুললেই ভালো হবে। কারণ এখানে ইউটিউব এনালাইসিস অপশন পাওয়া যায়, যা ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায় না। এই অপশনটির মাধ্যমে খুব সহজেই আয় করা যায়। এরপর সুন্দর করে ইউটিউব চ্যানেলটিকে সাজাতে হবে।

প্রোফাইল পিকচার, কাভার ফটো, ওয়াটার মার্ক ব্যবহার করতে হবে। যা খুব সহজেই ইউটিউব স্টুডিও থেকে ব্যবহার করে সেট করে নিতে পারবেন। একটা চ্যানেলের আউট লুকিং ভালো হলে বেশি ভিউ পাওয়া যায়।

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম: চ্যানেলটি গোছানো হলে ইউটিউব পার্টনারে যুক্ত হতে হবে। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম হলো ইউটিউব থেকে আয় করার শ্রেষ্ঠ একটা উপায়। এটি বাদে ইউটিউব থেকে সরাসরি আয় করার আর কোনো উপায় নেই। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম হওয়ার চারটি যোগ্যতা লাগে-

১. প্রাপ্ত বয়স্ক বা ১৮ বছর হওয়া।
২. চ্যানেলে অন্ততপক্ষে ১০০০ জন সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে।
৩. শেষ ১২ মাসে চ্যানেলের ৪,০০০ ভ্যালিড পাবলিক ওয়াচ আওয়ার থাকতে হবে।
৪. আপনার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে একটি গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত থাকতে হবে।

ওয়াচ টাইম হলো আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও কতজন দর্শক দেখছে।

এডসেন্স একাউন্ট: এরপর গুগল থেকে এডসেন্স একাউন্ট খুলতে হবে। এডসেন্স একাউন্ট খুলতে প্রয়োজন একটি গুগল একাউন্ট, ফোন নাম্বার ও ঠিকানা, যার সাথে আপনার ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত আছে এবং সাইটের সাথে এডসেন্স যোগ করা।

যদি আগেই এডসেন্স একাউন্ট খোলা থাকে তাহলে আর একাউন্ট খোলার দরকার নেই। ওইটা দিয়েই ইউটিউবে যুক্ত করা যাবে। তবে এডসেন্সে ফোন নাম্বার, ঠিকানা ও ব্যাংক হিসাব নির্ভুল দিতে হবে কারণ এর মাধ্যমেই আপনার একাউন্টে টাকা ঢুকবে।

মনেটাইজেশন: গুগল এডসেন্স একাউন্ট খুলে মনেটাইজেশনের জন্য আবেদন করে অপেক্ষা করতে হবে। আবেদন করার ১ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তারা ফলাফল দেবে যে আপনার চ্যানেলটি মনিটাইজেশন হবে কি না। যদি কারিগরি কোনো ত্রুটি ও আপনার চ্যানেলটি যদি তাদের নীতিমালা অনুযায়ী হয়ে থাকে তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।

চ্যানেলটি তাড়াতাড়ি মনিটাইজেশন পাবে। মনিটাইজেশনের জন্য মনোনীত হওয়ার পর এবং ১০ ডলার জমা হলে তারা আপনার ঠিকানায় পিন নাম্বার পাঠাবে। পিন পাঠানোর চার মাসের মধ্যেই আপনার পিন নাম্বার দিয়ে নিউজের ঠিকানা নিশ্চিত করতে হবে। যদি নিশ্চিত না করেন তাহলে আপনার এডসেন্স একাউন্টটি নিষ্ক্রিয় হবে। ফলে আপনি আপনার চ্যানেল থেকে দেখানো বিজ্ঞাপনের টাকা পাবেন না।

ইউটিউব থেকে আয়কৃত টাকার উৎস: ইউটিউব থেকে আয়কৃত টাকার উৎসর পুরোটাই বিজ্ঞাপনভিত্তিক। ইউটিউবে ভিডিওর ফাঁকে ফাঁকে যে ভিডিওগুলো দেখায় তা থেকেই মূলত আয় হয়। ইউটিউব এই টাকাগুলো আপনাকে সিপিএম বা আরপিএম মাধ্যমে দিয়ে থাকে।

সিপিএম হলো কসট পার মাইল অর্থাৎ, এক হাজার বিজ্ঞাপনের জন্য ইউটিউব আপনাকে যা টাকা দিবে এবং আরপিএম হলো রিভিনিউ পার মাইল অর্থাৎ, ইউটিউব আপনাকে এক হাজার বার বিজ্ঞাপন দেখার জন্য যা টাকা দিবে। ইউটিউব আপনাকে এই দুই উপায়ে টাকা দিয়ে থাকে।

ইউটিউব সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত একটি মাধ্যম। এর সাহায্যে খুব সহজেই আয় করা যায়। তবে একটু ধৈর্যের প্রয়োজন। আর এটি যেহেতু সামাজিক সাইট তাই এখানে শিক্ষামূলক, সামাজিক নিরাপত্তামূলক, সচেতনতামূলক ভিডিও দেয়াই শ্রেয়।


একা একটি স্টার্টআপ শুরু করা ও চালিয়ে যাওয়া বেশ ঝামেলার হতে পারে। কারো সহায়তা পেলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার কাজটি সহজ হয়ে যায়। এ ছাড়া, কো-ফাউন্ডার বা সহ-প্রতিষ্ঠাতারা তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনার স্টার্টআপটি ঠিকভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।

তবে, শুধু কো-ফাউন্ডার পাওয়াই যথেষ্ট নয়। টিমের কাছ থেকে সন্তোষজনক কাজ পেতে হলে এবং ভবিষ্যতে ব্যবসার সাফল্য ধরে রাখতে হলে সঠিক কো-ফাউন্ডার পাওয়া জরুরি। যদিও একইসঙ্গে ব্যবসার জন্যে ও নিজের জন্যে সঠিক কো-ফাউন্ডার খুঁজে পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং।

আপনার কো-ফাউন্ডার ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত কেউ হতে পারে। অথবা আগের কোনো কাজ সংক্রান্ত যোগাযোগ থেকে তাকে খুঁজে পেতে পারেন। কো-ফাউন্ডার খুঁজে পেতে প্রয়োজনে নেটওয়ার্কিংও করতে পারেন। উদ্যোক্তাদের সম্মেলন বা ইভেন্টগুলোতে অংশ নিন। একই ধরনের লক্ষ্য আছে, এমন পেশাদারদের খুঁজতে লিংকডইন ও ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মে থাকা উদ্যোক্তাদের গ্রুপগুলোতেও যোগ দিতে পারেন।

কোনো সম্ভাব্য কো-ফাউন্ডারের কাছে যাওয়ার আগে প্রথমে ভাবুন, স্টার্টআপটির জন্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কতটুকু আপনার নিজের আছে। তারপর নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, ব্যবসাটির জন্য আসলে কী ধরনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এরপর দুটির তুলনা করুন। ব্যবসাটির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আপনার নিজের দক্ষতার মধ্যে যে ব্যবধানটা আছে, কো-ফাউন্ডারকে তার দক্ষতা দিয়ে সেটিই পূরণ করতে হবে। কাজেই সেসব বিষয়ে দক্ষতা আছে, এমন কো-ফাউন্ডার খুঁজতে হবে আপনাকে।

কো-ফাউন্ডারদের সঙ্গে সমতা বা দায়িত্বের ভাগাভাগিটা কেমন হবে—তাও ভেবে নিতে হবে।

কো-ফাউন্ডারদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা পরিপূরক হওয়া উচিত বলে মনে করেন থ্রাইভ এডটেকের কো-ফাউন্ডার ও সিইও রাফিদ ইমরান।

তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কো-ফাউন্ডারদের একজন যদি প্রেজেন্টেশন ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে ভালো হয়, তবে, অন্যদের ফিন্যান্স বা অপারেশনের মতো ব্যবসার অন্যান্য দিক সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতে হবে।’

স্কেচবোর্ড ইন্টারঅ্যাক্টিভের কো-ফাউন্ডার ও অপারেশন ডিরেক্টর খান মো. জিয়াউস শামসও এ বিষয়ে একমত।

তিনি বলেন, ‘একই ধরনের কাজ জানা একজনের সঙ্গে হয়তো আপনার ভালো মিলতে পারে। কিন্তু, অন্য কিছু জানে এমন কারো সঙ্গে কাজ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে আপনি চাইলেই কারিগরি কাজে দক্ষ লোকজনকে নিয়োগ দিতে পারবেন। কিন্তু, শুরুর দিকে অংশীদারদের নিজেদেরই সব কাজ করতে হয়।’

কো-ফাউন্ডারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে হয়। ফলে, তাদের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়নটাও জরুরি। তাদের সঙ্গে সময় কাটান ও সুসম্পর্ক রাখুন।

রাফিদ ইমরানের মতে, ‘ভালো সম্পর্কটা জরুরি। আপনাকে তার সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়ার কাজটি পারতে হবে। কোন কাজটিতে তারা রেগে যান ও নিজেদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে কীভাবে তা মিটিয়ে ফেলা যায়, তা জানতে হবে। তা না হলে বিরোধ মেটাতে মেটাতেই ক্লান্ত হয়ে যেতে হবে।’

এ ছাড়া, কো-ফাউন্ডারকে ঝুঁকির বিষয়েও বুঝতে হবে। স্টার্ট আপে ব্যর্থতা একটি সাধারণ বিষয়। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি প্রচেষ্টা। তাই এখানে এমন দৃঢ় মনোভাবের লোক প্রয়োজন, যারা খারাপ সময় আসার বিষয়টি মেনে নিতে পারবেন এবং ঝুঁকি নিতে পারবেন।

ইন্ডাস্ট্রিতে কতটা সংযোগ আছে— কো-ফাউন্ডার খোঁজার ক্ষেত্রে সেই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সম্ভাব্য কো-ফাউন্ডাররা যদি আগে কোনো স্টার্টআপ করে থাকেন বা কোনো স্টার্টআপের সঙ্গে কাজ করে থাকেন, তবে, তাদের বড় নেটওয়ার্ক থাকার কথা। বিশ্বস্ত ক্লায়েন্টও থাকার কথা। আপনার স্টার্টআপে ক্লায়েন্টের আস্থা নিয়ে আসতে এ বিষয়টি কাজে আসতে পারে।

কো-ফাউন্ডারদের প্রতি বিশ্বাসটাও জরুরি ও আবশ্যিক। বিশ্বাস করেন না—এমন কারো সঙ্গে কাজ করলে ফলাফল ভালো না হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

অভিন্ন মূল্যবোধ ও একই লক্ষ্যমাত্রা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। মতবিরোধ এড়িয়ে ঝামেলা ছাড়া কাজ করতে এটি অপরিহার্য। আগামী পাঁচ বছরে ব্যবসাকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন। সবাই কীভাবে কাজ করতে চান এবং কর্মী ব্যবস্থাপনা কেমন চান—তা নিয়ে কথা বলুন।

এ বিষয়ে খান মো. জিয়াউস শামস বলেন, ‘কারিগরি দক্ষতার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনাদের ব্যবসার মূলনীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।’

লাইটক্যাসেল পার্টনার্স লিমিটেডের কো-ফাউন্ডার ও সিইও বিজন ইসলামের মতে, ‘সঠিক কো-ফাউন্ডার খুঁজে পাওয়া অনেকটা একটি সম্পর্কে যাওয়ার মতো। আপনাকে প্রতিদিনই তাদের সঙ্গে অনেক সময় কাটাতে হবে। লক্ষ্যের মিল আছে কি না এবং কো-ফাউন্ডাররাও ব্যবসার জন্য একই জিনিস চান কি না— সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।’

কো-ফাউন্ডিং টিমের বিষয়ে মোটামুটি একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, স্টার্টআপটির প্রতি প্রত্যেক কো-ফাউন্ডার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তা নিয়ে আলোচনা করুন।

কো-ফাউন্ডারদের মধ্যে কেউ একজন হয়তো স্বপ্ন পূরণের জন্য নিয়ে চাকরি ছেড়ে এ কাজে এসেছেন। কিন্তু, তার হয়তো উপযোগী অবস্থা বা আর্থিক ব্যাকআপ নেই। আবার, কেউ হয়তো এ ব্যবসার পাশাপাশি আয়ের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে নিজের আলাদা ব্যবসা চালানোর কথা ভাবছেন। আরেকজন হয়তো আছেন, যিনি নিজের সবটুকু দিয়ে শুধু এ ব্যবসার জন্যেই কাজ করে যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তৃতীয় ক্যাটাগরিতে পড়া মানুষটিকে ভবিষ্যতে হতাশ হতে হবে। তাই আগেই এ বিষয়ে আলোচনা করে নিতে হবে।

আলোচনা করে নিতে হবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও বেতন নিয়েও। এগুলো থাকলে প্রথম বছরে কোন কো-ফাউন্ডার কত পাবেন—সে বিষয়েও কথা বলে নিতে হবে।

যদি আপনি বন্ধুদের সঙ্গে স্টার্টআপ শুরু করেন, তবে, জটিল পরিস্থিতিতে পেশাদার আচরণ করার কথা মনে রাখতে হবে। কোনো কাজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আগে ব্যবসার কল্যাণের কথা ভাবুন, বন্ধুত্বের ভবিষ্যতের কথা নয়।

সঠিক কো-ফাউন্ডার খুঁজে পাওয়া নতুন উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে কঠিন ও জটিল কাজগুলোর একটি। যদি আপনি একজন উপযুক্ত অংশীদার পেয়ে যান, তাহলে পরের স্টার্টআপগুলোতেও হয়তো তার সঙ্গেই কাজ করতে পারবেন।


নারীর ক্ষমতায়নের তাত্ত্বিক দিকের পর্যালোচনা থেকে সুস্পষ্ট যে নারীর ক্ষমতায়ন অর্থ নারী-পুরুষের কার্যকর সক্ষমতার বিষয়ে ক্ষমতার দিকে অগ্রসর হওয়া। অমর্ত্য সেনের বিভিন্ন গবেষণা ও গ্রন্থের ভিত্তিতে বলা যায় যে নারীর ক্ষমতায়নের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সম্পদ, শক্তি এবং সে যা করতে চায় বা হতে চায় সেই লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়ার স্বাধীনতা। এগুলো অর্জনের একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, যার অর্থ হচ্ছে উৎপাদন ও তা থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এ অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে ‘সম্পদ, শক্তি ও প্রেরণা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক’ অর্জিত হবে। কাজেই বাংলাদেশের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা যায়।

বাংলাদেশে এসব দিকে অগ্রগতি হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে পর্যালোচনা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও নারী-পুরুষ সমতার বিষয়টি নির্ভর করবে তাদের উপার্জন কাজে নিয়োগের ও উদ্যোক্তা হিসেবে বিকশিত হওয়ার সুযোগের ওপর। পরবর্তী আলোচনায় প্রধানত বিশ্লেষণ করা হবে নারী উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি। তবে সে তথ্য বিশ্লেষণের আগে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ও শিক্ষায় অগ্রগতির কিছু দিক উল্লেখ করা হচ্ছে।

শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে গত কয়েক দশকে। কর্ম নিয়োজনে নারীর অংশ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে নারীর শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। মোট কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও পোশাক শিল্পের মতো শ্রমনিবিড় রফতানি খাতে নারী শ্রমিকের চাহিদাও এক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। কিছু আধুনিক খাত, যেমন আর্থিক সেবা ও বীমা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও উৎপাদন শিল্প খাতের তথ্য থেকে দেখা যায় মোট কর্মনিয়োজনে নারীর অংশ বেড়েছে।

গত ১০ বছরে নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য হ্রাস পেয়েছে। এসব সাফল্যের দিকের সঙ্গে সঙ্গে এটাও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে এখনো শ্রমবাজারে নারীর অবস্থানে যথেষ্ট দুর্বল দিক রয়েছে। নারীর কর্মসংস্থানের ৬০ শতাংশই হচ্ছে কৃষি খাতে এবং তার অধিকাংশই অবৈতনিক পারিবারিক কর্মী হিসেবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক খাতে নারীর মোট কর্মনিয়োজনের অংশ বাড়েনি। পুরুষ শ্রমশক্তির ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন দৃশ্যমান।

শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এ অগ্রগতি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হারে নারী-পুরুষ সমতায় প্রতিফলিত হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার পর্যায়েও অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো নারী-পুরুষ পার্থক্য যথেষ্ট। ১৫ বছরের বেশি বয়সী নারীর ক্ষেত্রে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয় বিবাহিতাদের ক্ষেত্রে। পরিবারের আর্থিক সক্ষমতার একটি ইতিবাচক প্রভাব থাকে এ ক্ষেত্রে, যা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অসাম্য বাড়ায়।

সম্পদের ওপর নারীর অধিকার বেশ সীমিত। বিশেষত জমির (বা কৃষিজমিতে) মালিকানার ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীর অনুপাত অনেক কম।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ: নারী-পুরুষের পার্থক্য

এ দেশে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। তদুপরি, সুষম উন্নয়ন ও সব ধরনের জনগোষ্ঠীতে এবং এলাকায় উন্নয়ন প্রবাহ প্রসারের ক্ষেত্রে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ভূমিকাও স্বীকৃত। এ গুরুত্ব অনুধাবন করে এসব উদ্যোগে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই ঋণ সুবিধা চালু করেছে (বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০)। এ সুবিধার আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের শর্তাবলি সহজ করা হয়েছে। এখানে নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এ ঋণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে তার আগে নারী ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে কীভাবে শর্তগুলো সহজ করা হয়েছে সেটার একটু বর্ণনা থাকলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে।

২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (এসএমই) ক্রেডিট পলিসিজ অ্যান্ড প্রোগ্রামস প্রকাশ করে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয় সেগুলোর কিছু অংশ (অনুবাদ) নিচে উদ্ধৃত করা হলো: (নীতিমালার পৃ. ৯ থেকে):

ক. সমভাবে শিল্পায়নে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুবিধা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিফাইন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অন্তত ১৫ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে।
খ. নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে এ ঋণের সুদহার হবে শতকরা ১০ বা তার নিচে।
গ. এ ঋণ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা নিজে বা যদি বেশির ভাগ উদ্যোক্তা নারী হন তবে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য শুধু ব্যক্তি জামানত হলেই চলবে, অন্য জামানত প্রয়োজন হবে না।
ঘ. ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু শাখায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ পরামর্শ ও সেবা প্রদান কেন্দ্র স্থাপন করবে এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক সেবা প্রদান নিশ্চিত করবে।
ঙ. ঋণ পাওয়ার উপযোগী প্রকৃত নারী উদ্যোক্তা শনাক্তকরণের জন্য ব্যাংকের শাখাগুলো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে বিএসসিআইসি, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) ও নারী উদ্যোক্তাদের অন্যান্য সংগঠন।

নীতিমালার এসব বিশেষ ব্যবস্থা নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সুপ্রভাব রাখবে আশা করা যায়। তবে প্রকৃত ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরের ধারা পর্যালোচনা করলে বোঝা যাবে যে এক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হয়েছে। সেসব তথ্য সারণিতে দেখানো হয়েছে।

২০১০ থেকে ২০২০ সালের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে মোট এসএমই ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে নারীর অংশ বাড়ছে, যা কিছুটা উৎসাহব্যঞ্জক। ২০১০ সালে এ অংশ ছিল শতকরা ৩.৬, ২০১৪ থেকে এ অংশ বেড়েছে, ২০১৮-তে হয়েছে শতকরা  ৮.৪। ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে তা শতকরা ১৩.৮ হয়েছে, যদিও আশঙ্কা রয়েছে যে এ বছরের পরের নয় মাসে এ অংশ কভিড-১৯ মহামারীর কারণে আর না-ও বাড়তে পারে।

এখন দেখা যাক এ ঋণের মোট কত অংশ নারী উদ্যোক্তারা পেয়েছেন। মোট ঋণের মাত্র ৩-৪ শতাংশ তারা পেয়েছেন এবং পুরো সময়কালে এটা বাড়ার কোনো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। এ অনুপাত সর্বনিম্ন ছিল ২০১৭-তে (২.৯ শতাংশ) আর সর্বোচ্চ ছিল (৩.৯ শতাংশ), ২০১৪ সালে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ১৫ শতাংশ ঋণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য, তা এখনো সুদূরের বিষয় হয়ে রয়েছে।

মোট ঋণগ্রহীতায় নারীর অংশ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও মোট ঋণে তাদের অংশ হ্রাস পাওয়া বা স্থবির থাকার অর্থ হচ্ছে যে গড়ে ঋণের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। ২০১০ সালে নারী উদ্যোক্তাদের গড় ঋণ গ্রহণ ছিল ১৩ লাখ টাকা। তার পর থেকেই তা নিম্নগামী হয়ে ১০ লাখের নিচে নেমে আসে। অন্যদিকে পুরুষ ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ গড়ে ১৭ লাখ থেকে বেড়ে ২৪ লাখ পর্যন্ত উঠেছে। এ প্রবণতা নারী-পুরুষ বৈষম্যেরই প্রতিফলন। বড় ঋণের ক্ষেত্রে জামানত দেয়ার সমস্যাই এর একটি মূল কারণ।

সে সঙ্গে আরো দুটি সমস্যার উল্লেখ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সহায়ক নীতিমালা গ্রহণ করলেও এটির পরিবীক্ষণের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কাজেই এসব নীতি বাস্তবায়নের গতি ও সাফল্য নির্ভর করবে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের ওপর। স্বাভাবিকভাবেই এ নতুন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য যে ধরনের সচেতনতা ও পরিবেশ প্রয়োজন তার অভাব রয়েছে। নারী উদ্যোক্তারা সমাজে অনেক ইতিবাচক অবদান রাখতে পারেন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। তারা যে অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে পারেন সেটা প্রচলিত ধ্যান-ধারণা থেকে পৃথক।

প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা ও ধ্যান-ধারণার কারণে অনেক সময় নারী উদ্যোক্তারাও ঋণ গ্রহণ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে নিরুৎসাহিত বোধ করেন। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার অভাব, বাস্তব ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা এসে দাঁড়ায় তাদের ব্যবসা পরিচালনা ও প্রসারের পথে।

তাছাড়া এসব ছোট অংকের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সময় ও অন্যান্য ব্যয়ের তুলনায় তাত্ক্ষণিক লাভের দিকটি কম। দূরদৃষ্টি থাকলে এটা অনুধাবন করা সম্ভব যে দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা এবং তাদের ঋণের চাহিদা অনেক বাড়বে। তারাই হতে পারে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহীতার একটি বড় অংশ। কাজেই শুরু থেকে যেসব ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে থাকবে সেগুলোর জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে।

সবশেষে এটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে নারীর কর্মনিয়োজন, উপার্জন এসব কিছু তার ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজন। তবে এগুলো কিন্তু সবক্ষেত্রে ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে না। এগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতায়ন হতে হলে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রয়োজন। বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপলব্ধ তথ্য থেকে দেখা গিয়েছে যে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এখনো অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত। একটি আশাব্যঞ্জক দিক হচ্ছে যে নারীর শিক্ষার্জনের ফলে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা প্রসারিত হয়। তবে এটা ঘটে যখন নারীর শিক্ষাস্তর মাধ্যমিকের চেয়ে বেশি হয়। সুতরাং নারীর সামগ্রিক অবস্থান উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজন সবদিকে সুসমন্বিত প্রয়াস।

রুশিদান ইসলাম রহমান: অর্থনীতিবিদ; বর্তমানে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চের (সিডার) এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন



ই-কমার্স ব্যবস্থাপনা সুন্দর ও সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা রবিবার (৪ জুলাই) জারি করা হয়েছে।

সরকারের জাতীয় ডিজিটাল কমার্স পলিসি-২০২০ এর বিধানমতে এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়। নির্দেশিকা জারির ফলে ই-কমার্স ব্যবস্থাপনা সরকারের আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে এলো।

নির্দেশনার লক্ষ্যে বলা হয়- ডিজিটাল ক্রয়-বিক্রয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার স্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে ‘জাতীয় কমার্স নীতিমালা (সংশোধিত) ২০২০ এর সফল বাস্তবায়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা।

এর উদ্দেশ্য হিসেবে বলা উল্লেখ করা হয়- ডিজিটাল কমার্স পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা; ডিজিটাল ব্যবসার প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ডিজিটাল ব্যবসায় শৃঙ্খলা আনয়নের মাধ্যমে ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধি ও অধিকার নিশ্চিতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা।

নির্দেশনায় মার্কেটপ্লেসে বিক্রয়যোগ্য পণ্য ও সেবার তথ্য প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয়ের সাধারণ নিয়মাবলী

দেশের সংশ্লিষ্ট সকল প্রচলিত আইন ডিজিটাল কমার্স পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ওয়েবসাইট, মার্কেটপ্লেস বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পণ্য ও সেবা ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে পণ্য ও সেবা সংশ্লিষ্ট সকল বিবরণ ও শর্তাবলি যেমন- পণ্য ও মূল্য ফেরতের শর্তাবলি, পরিবর্তন, সরবরাহের সময়সীমা ইত্যাদি বিষয়ে সকল শর্তাবলী সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

ডিজিটাল কমার্স বা ই-কমার্সের মাধ্যমে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বা নেটওয়ার্ক ব্যবসায় পরিচালনা করা যাবে না। ডিজিটাল মাধ্যমে নেশা সামগ্রী, বিস্ফোরক দ্রব্য বা অন্য কোন নিষিদ্ধ সামগ্রী বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। জুয়া বা online betting বা online gambling এর আয়োজন বা অংশগ্রহণ করা যাবে না। ডিজিটাল মাধ্যমে ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। অনুরূপভাবে কোন দাহ্য পদাৰ্থ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। বিক্রেতার ওয়েবসাইটে কোন বিশেষ সফটওয়্যার বা Cookies থাকলে তা ক্রেতাকে পূর্বেই অবহিত করতে হবে। ক্রয়-বিক্রয়কালে কোন ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজন হলে কী কী তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তথ্য কোথায় সংরক্ষিত থাকবে, পরবর্তীতে কোথায় তা ব্যবহৃত হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় তা প্রসেস করা হবে তা জানিয়ে ক্রেতার পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন ক্রেতা দেখেছেন তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে চেকবক্স (Check box) বা সম্মতি গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোন ধরনের লটারি বা র‌্যাফেল ড্র’র আয়োজন করতে পারবে না। এক্ষেত্রে The Penal Code 1860 এর ২৯৪ (বি) ধারাও প্রযোজ্য হবে।

সকল ধরনের ডিজিটাল ওয়ালেট, গিফট কার্ড, ক্যাশ ভাউচার বা অন্য কোন মাধ্যম যা অর্থের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যতিরেকে তৈরি (Issue), ব্যবহার বা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যতিরেকে ডিজিটাল মাধ্যমে কোন ধরনের অর্থ ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। ক্রেতাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন পণ্য বা সেবা ক্রয়ের জন্য বাধ্য করা যাবে না। সকল ডিজিটাল কমার্স পরিচালনাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, TIN, ইউনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর (UBID) বা পারসোনাল রিটেইল একাউন্ট (PRA) নম্বর এর অন্তত একটি গ্রহণ করতে হবে এবং তার মার্কেটপ্লেস বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজে তা প্রদর্শন করতে হবে। সকল ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য পর্যায়ক্রমে ইউনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর (UBID) বাধ্যতামূলক করা হবে। স্বচ্ছতার জন্য ব্যবসায় লেনদেন সংক্রান্ত সকল তথ্যাদি অন্ততপক্ষে ৬ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে এবং সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কোন সংস্থা চাহিবামাত্র তা সরবরাহ করতে হবে। মার্কেটপ্লেস এর স্বত্বাধিকারী তার তালিকাভুক্ত বিক্রেতার বিক্রয়কৃত পণ্যের দাম বুঝে পাওয়ার সর্বোচ্চ ১০ (দশ) দিনের মধ্যে প্রযোজ্য কমিশন ও ডেলিভারি চার্জ কেটে রেখে সংশ্লিষ্ট তালিকাভুক্ত বিক্রেতাকে পুরোদাম পরিশোধ করতে হবে। তবে মার্কেটপ্লেস’র স্বত্বাধিকারী ও বিক্রেতা বা মার্চেন্ট এর মধ্যে ভিন্নতর কোন চুক্তি থাকলে সে অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা যাবে। মার্কেটপ্লেস’র মালিক নয় এমন বিক্রেতা বা মার্চেন্ট এর পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপনের পূর্বে মার্কেটপ্লেস কর্তৃপক্ষ ও বিক্রেতা বা মার্চেন্ট এর মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। চুক্তি সম্পাদনের সময় মার্কেটপ্লেস কর্তৃপক্ষ বিক্রেতা বা তার যোগ্য প্রতিনিধির নাম, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা ইত্যাদিসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নেবে। ডিজিটাল কমার্স মার্কেটপ্লেস বা ফেসবুক পেজে ক্রয়-বিক্রয়, মূল্য ফেরত, পণ্য ফেরত বা পণ্য পরিবর্তন, ডেলিভারি পদ্ধতি, ডেলিভারির সময় এবং অন্যান্য শর্তাবলী বাংলায় লিপিবদ্ধ থাকতে হবে এবং স্পষ্টভাবে তা প্রদর্শন করতে হবে। শর্তাবলি বাংলা ভাষার পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্য ভাষায়ও লিপিবদ্ধ করা যাবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন বা বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোন শর্তাবলী মার্কেটপ্লেস সোশ্যাল মিডিয়া পেজে লিপিবদ্ধ করা যাবে না। বিদেশি ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে অবশ্যই এদেশে নিবন্ধিত হতে হবে এবং ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মার্কেটপ্লেসে ঘোষিত পণ্য বা সেবার ঘোষিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতে পারবে না।

মার্কেটপ্লেসে পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপন পদ্ধতি

মার্কেটপ্লেসে বিক্রয়যোগ্য পণ্য বা সেবার যথাযথ বিবরণ- যেমন, পণ্যের পরিমাপ, উপাদান, রঙ, আকৃতি, গুণগতমান ইত্যাদি, মূল্য এবং ডেলিভারিসহ অন্যান্য চার্জ যদি থাকে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পণ্য বা সেবাকে চিহ্নিত করার জন্য পরিপূর্ণ বর্ণনা যা পণ্য বা সেবাকে চিহ্নিত করতে সক্ষম এমন তথ্যাদি প্রদান করতে হবে। সুস্পষ্টতার জন্য বাস্তবসম্মত হলে পণ্যের ছবি, ভিডিও, রঙ, আকৃতি, পরিমাপ, ওজন, উপাদান ইত্যাদি এবং সেবার ক্ষেত্রে সেবার ধরন, সেবা প্রদান পদ্ধতি, পরিমাপ যোগ্যতা (যদি থাকে) ইত্যাদি তথ্য প্রদান করতে হবে। পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ (ব্র্যান্ড, মডেল, ডেলিভারি সময়, country of origin ইত্যাদি) ক্রেতাদের জন্য দিতে হবে যাতে ক্রেতা জেনে-বুঝে পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে পারে। পণ্যের ক্ষেত্রে পণ্যের উপাদান ও উপাদানের পরিমাণ, রাসায়নিক গঠন (সম্ভব হলে) ইত্যাদি বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করতে হবে। পণ্য ব্যবহারে মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু রয়েছে কিনা অথবা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে কিনা তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। যে সকল পণ্যের ক্ষেত্রে কোন মান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সনদ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সে সকল ক্ষেত্রে পণ্যের বিবরণে মান নিয়ন্ত্রণ সনদের উল্লেখ থাকতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা দ্রব্য সামগ্রী বিক্রয় বা সরবরাহ করা যাবে না। মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের নিয়ম যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। কোন নকল বা ভেজাল পণ্য প্রদর্শন বা বিক্রয় করা যাবে না। বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শিত পণ্য বিক্রেতা বা তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে এবং বিজ্ঞপ্তিতে কী পরিমাণ পণ্য স্টকে রয়েছে তা উল্লেখ করতে হবে এবং প্রতিটি বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত পণ্যের স্টক হালনাগাদ করতে হবে। বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শিত পণ্য বিক্রেতা বা তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ‘স্টকে নেই’ বা ‘Out of stock’ কথাটি স্পষ্টভাবে পণ্যের পাশে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে এবং এক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ ৩.২.১০ এ বর্ণিত অবস্থা ব্যতিরেকে কোনও ধরনের পেমেন্ট গ্রহণ করা যাবে। নিত্যপণ্য ও খাদ্য সামগ্রীর বা সংখ্যায় প্রকাশ করা যায় না এমন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে স্টকের পরিমাণের পরিবর্তে ‘Available for delivery’ কথাটি লিখা থাকতে হবে। অগ্রিম মূল্য আদায়ের ক্ষেত্রে প্রদর্শিত পণ্য অবশ্যই দেশের ভেতরে রেডি টু শিপ’ (মার্কেটপ্লেসের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে বা মার্কেটপ্লেসে নিবন্ধিত থার্ড পার্টি বিক্রেতার নিয়ন্ত্রণে) পর্যায়ে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ মূল্য গ্রহণের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি পারসন বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হস্তান্তর করার মত অবস্থায় নেই এমন পণ্যের ক্ষেত্রে পণ্যমূল্যের ১০% এর বেশি অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিস’র মাধ্যমে ১০০% পর্যন্ত অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে। কোন ধরনের অফার, ডিসকাউন্ট, ফ্রি ডেলিভারি বা অন্য কোন সুবিধা থাকলে তা পরিষ্কারভাবে পণ্যের বর্ণনায় থাকতে হবে। কোন তৃতীয় পক্ষ বা মার্চেন্ট’র পণ্য বা সেবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রয় হলে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নাম ওয়েবসাইটে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। তবে মার্কেটপ্লেসে কর্তৃপক্ষ বিক্রেতা বা মার্চেন্ট এর যোগাযোগের ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইল ইত্যাদি সংরক্ষণ করবে এবং কোন অভিযোগ বা বিরোধ দেখা দিলে প্রয়োজনে তা সরবরাহ করতে হবে।

পণ্য ডেলিভারির নির্দেশিকা

বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শিত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য বা পণ্য সামগ্রী ডেলিভারিম্যান বা ডেলিভারি সংস্থার নিকট হস্তান্তর করতে হবে এবং ক্রেতাকে তা টেলিফোন, ই-মেইল বা এসএমএস এর মাধ্যমে জানাতে হবে। এক্ষেত্রে ডেলিভারি সংস্থা বা মার্কেটপ্লেস ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে। পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়ে থাকলে ক্রেতা ও বিক্রেতা একই শহরে অবস্থান করলে ক্রয়াদেশ গ্রহণের পরবর্তী সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) দিন এবং ভিন্ন শহরে বা গ্রামে অবস্থিত হলে সর্বোচ্চ ১০ (দশ) দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি প্রদান করতে হবে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে ডেলিভারির সময় আরও সংক্ষিপ্ত হবে এবং ক্রেতাকে তা ক্রয়াদেশ গ্রহণের সময় সুস্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে।

কোন একটি ক্রয়াদেশ (purchase order)-এ একাধিক পণ্য থাকলে আলাদা আলাদা পণ্যের জন্য সাধারণত আলাদা আলাদা ডেলিভারি চার্জ আরোপ করা যাবে না। তবে মার্কেটপ্লেসে পণ্যে আলাদা আলাদা ডেলিভারি প্রদান করা হলে আলাদা আলাদা চার্জ গ্রহণ করা যাবে। এক্ষেত্রে ক্রেতাকে ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করার সময় বা ইনভয়েসে পূর্বেই অবহিত করতে হবে। পণ্য বিক্রয় ও সরবরাহের ক্ষেত্রে মার্কেটপ্লেসে প্রদর্শিত পণ্যের মান ও সঠিকতা মার্কেটপ্লেসের স্বত্বাধিকারীকে নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিক্রেতা বা মার্চেন্ট’র সঙ্গে ভিন্নতর চুক্তি থাকলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। সময়মত ডেলিভারি প্রদান এবং মালামালের সুরক্ষার জন্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান বা ডেলিভারি পারসন’র সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পাদন করবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে। পণ্য সরবরাহের সময় মুদ্রিত বিল প্রদান করতে হবে যাতে প্রদেয় বা প্রদত্ত ভ্যাট ও আয়কর (যদি থাকে) উল্লেখ থাকতে হবে। যেসব পণ্যের ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি আছে, তার জন্য ওয়ারেন্টি বা গ্যারান্টি পিরিয়ড ও সেবা প্রাপ্তির স্থান ও যোগাযোগের বিস্তারিত ঠিকানাসহ অন্যান্য শর্ত সম্বলিত কার্ড বা ডিজিটাল কার্ড পণ্যের সঙ্গে সরবরাহ করতে হবে। পচনশীল দ্রব্য দ্রুততম সময়ে ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ডেলিভারির সময় যাতে পণ্যের কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য মার্কেটপ্লেস কর্তৃপক্ষ যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অভিযোগ ও প্রতিকার

পণ্য ও সেবার বিষয়ে অভিযোগের জন্য মার্কেটপ্লেস কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অভিযোগ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে ফোন নম্বর, ইমেইল বা অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রতিটি ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানে একজন কমপ্লায়েন্স অফিসার নিয়োগ দিতে হবে যিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে পারে। কোন পণ্যের বা সেবা প্রদান বিষয়ে ক্রেতার অভিযোগ রেকর্ডের যথাযথ ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং যেকোন অভিযোগ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা করে ক্রেতাকে ফোন, ই-মেইল বা এসএমএস’র মাধ্যমে তা জানাতে হবে। পণ্যের বা সেবার বিষয়ে ক্রেতা বা অন্য কারও রেটিং এবং মতামত জানানোর ব্যবস্থা ওয়েবসাইট, অ্যাপ কিংবা প্ল্যাটফর্মে রাখতে হবে যাতে ভবিষ্যতে ক্রেতারা পণ্যের ব্যাপারে অন্য ক্রেতাদের মতামত বা রিভিউ দেখে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান (মার্কেটপ্লেস বা মার্চেন্ট) বা এর কোন স্টাফ বা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বা মার্চেন্ট’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ রিভিউর বা রেটিং এ অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এ রিভিউ মুছে ফেলা যাবে না। সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোন কারণে (Force majeure) ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব না হলে, অর্ডার দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতাকে তা ফোন, এসএমএস, ই-মেইল বা অন্যান্য মাধ্যমে জানাতে হবে। এক্ষেত্রে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত প্রদান করতে হবে এবং অন্য কোন পণ্য ক্রয় করার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধ্য করা যাবে না।

এ নির্দেশিকার বিধান প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে কর্তৃপক্ষ বিক্রেতা বা মার্কেটপ্লেস’র ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট নিবন্ধন ইত্যাদি বাতিল করাসহ সংশ্লিষ্ট মার্কেটপ্লেস নিষিদ্ধকরণসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিকারের জন্য প্রেরণ করতে পারবে। এ নির্দেশিকা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা ক্রেতা বা কোন সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আইনানুগ প্রতিকারের জন্য অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।; ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুষ্ঠুভাবে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করবে।

অগ্রিম পরিশোধিত মূল্য সমন্বয়

ক্রেতা কোন মাধ্যমে (ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল ব্যাংকিং, অন্যান্য) অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করলে এবং বিক্রেতা কোন কারণে নির্ধারিত সময়ে সে পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে মূল্য পরিশোধের সর্বোচ্চ ১০ দিন (সংশ্লিষ্ট অর্থ প্রদানকারী মাধ্যমের ব্যবহৃত সময় ব্যতীত) এর মধ্যে ক্রেতার পরিশোধিত সম্পূর্ণ অর্থ যে মাধ্যমে ক্রেতা অর্থ পরিশোধ করেছেন সেই একই মাধ্যমে (ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ইত্যাদি) ফেরত প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন চার্জ থাকলে মার্কেটপ্লেস বা বিক্রেতাকে তা বহন করতে হবে। মূল্য ফেরতের বিষয়ে ক্রেতাকে ইমেইল, এসএমএস, ফোন বা অন্য মাধ্যমে অবহিত করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে ক্রেতার পরিশোধিত মূল্যের অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা যাবে না। ক্রেতা যথাসময়ে পণ্য বা সেবা গ্রহণে ব্যর্থ হলে এ সময়সীমা শিথিল করা যাবে। যে কোন ধরনের ঘোষিত ডিসকাউন্ট বিক্রয় কার্যক্রম’র সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করতে হবে। ক্যাশব্যাক অফার মূল্য পরিশোধের পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর হতে হবে। ক্যাশব্যাক অফার বা মূল্য ছাড় অফারের ঘোষিত অর্থ সংশ্লিষ্ট পণ্য বা সেবা বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর কোন ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের ওয়ালেটে জমা রাখা যাবে না। ডিজিটাল কমার্সে লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ‘এসক্রো সার্ভিস’ গ্রহণ করা যেতে পারে।


ব্যবসাভিত্তিক ম্যাগাজিন ফোর্বসের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যমতে, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ডের শীর্ষ পাঁচটির মধ্যে চারটিই হলো তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। সর্বোচ্চ ১৫৪ বিলিয়ন ডলার থেকে সর্বনিম্ন ৫৩ বিলিয়ন ডলার ব্র্যান্ড ভ্যালুর এই কোম্পানিগুলো যথাক্রমে অ্যাপল, গুগল, মাইক্রোসফট ও ফেসবুক।

স্ট্যানফোর্ড ডক্টোরিয়াল কম্পিউটার সায়েন্স ডিগ্রি প্রোগ্রামের দুই শিক্ষার্থী ল্যারি পেইজ ও সার্গেই ব্রিনের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয় ইন্টারনেট জায়ান্ট গুগলের। ১৯৯৮ সালে প্রাইভেট কোম্পানি যাত্রা শুরুর এক বছর পরেই বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সিক্যুয়া ক্যাপিটাল ও কেপিসিবি গুগলে বিনিয়োগ করে। এই দুই প্রতিষ্ঠান ২০০১ সালে এরিক স্মিথকে গুগলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ও তাকে প্রধান নির্বাহী হিসেবে গুগলে যোগদান করান। এর মাত্র তিন বছরের মধ্যেই সিক্যুয়া ক্যাপিটাল, কেপিসিবি ও এরিক স্মিথ মিলে গুগলকে আইপিওতে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।

অ্যাপল ও গুগলের উদাহরণ দিলাম মাত্র। ফেসবুক, ইন্টেল, স্টারবাকস, অ্যামাজনসহ বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সাফল্যের শিখরে উঠার অবলম্বন হিসেবে কাজ করেছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। বিনিয়োগের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই কয়েক’শ গুণ রিটার্ন এসেছে এসব কোম্পানি থেকে। যুক্ত হয়েছে শেয়ার বাজারে।

 ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

নতুন উদ্যোক্তা তৈরি বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মানোন্নয়নে পুঁজি সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। যেমন উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠানের ভালো আইডিয়া আছে, সামর্থ্য ও ইচ্ছা আছে, কিন্তু বিনিয়োগের অভাবে প্রতিষ্ঠান বা আইডিয়াকে সাফল্যের মুখ দেখাতে পারছেন না তাদের পাশে দাড়ায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্যোক্তারা তাদের আইডিয়া, সামর্থ্য, ইচ্ছা, সততা, মেধাকে বিনিয়োগ করে, আর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান অর্থ বিনিয়োগ করে। মূলত আইডিয়া স্টেজ, গ্রোথ স্টেজ ও এক্সপানসন স্টেজে এসব বিনিয়োগ হয়ে থাকে। ব্যাংক এবং লিজিং কোম্পানির থেকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি ভিন্ন, কারণ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি ঋণ দেয় না। বরং কোম্পানির অগ্রযাত্রার ঝুঁকি নেয়। প্রয়োজনীয় পুঁজির জোগান দিয়ে কোম্পানির একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মালিকানা নেয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে কোম্পানিকে লোকসানের বদলে লাভের পথে নিয়ে যাওয়ার সবরকম চেষ্টাই করে। কারণ কোম্পানির ক্ষতি বা লাভ হলে উভয়ক্ষেত্রেই অংশীদার হবে উক্ত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি। ফলে স্টার্টআপ কোম্পানির জন্য বিনিয়োগের সর্বোত্তম উৎস হলো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। একক ধনী ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি পেনশন, পারিবারিক বা দাপ্তরিক, দাতব্য তহবিল, বিদেশি বিনিয়োগকারী বা কর্পোরেশনের একক বা সম্মিলিত তহবিল গঠনের মাধ্যমে একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি গড়ে উঠে।

একটি উদ্যোগের পরিণত ও সফল হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান। যেহেতু উদ্যোগটির সফলতার উপরেই ভেঞ্চার ক্যাপিটালের লাভ নির্ভর করে তাই উদ্যোগটিকে লক্ষ্যস্থানে নিতে প্রানান্ত চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে কোম্পানির আগামীর কয়েক বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা, জনবল নিয়োগ বা দায়িত্ব নেওয়া, অংশীদারিত্ব তৈরি, সমন্বয় ও সর্বোপরি পুঁজির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সহায়তা করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি। শূণ্য থেকে একটি কোম্পানিকে আইপিওতে কিংবা একটি শীর্ষ অবস্থানে নিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিকল্প নেই।

 সিলিকন ভ্যালির ভিত্তি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল

তথ্যপ্রযুক্তির পীঠস্থান সিলিকন ভ্যালি। প্রযুক্তি দুনিয়ার সবারই নামটি জানা। সিলিকন ভ্যালি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত একটি জায়গা, যা বিশ্বের ইন্টারনেট অর্থনীতি এবং উচ্চ প্রযুক্তির বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি। বর্তমানে শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি গুগল, ইয়াহুর মতো ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানির জন্ম হয়েছে। একটি আইডিয়াকে বিশ্বের এক নাম্বার পণ্য বা সেবায় পরিণত করেছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান। আর এই সিলিকন ভ্যালি তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলিকন ভ্যালিকে অনুসরণ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভেঞ্চার ক্যাপিটালের গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। আর তাইতো ২০১১ সালে স্টার্টআপ আমেরিকা নামে একটি উদ্যোগ নেন। যেখানে প্রাইভেট খাত ও ফেডারেল সরকার যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরি করে। এখন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অবস্থানের কথা কারোরই অজানা নয়!

 বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের গুরুত্ব

সরকার ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি। তাই সরকারকে এখনই ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জন্য একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখে। প্রথমত বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ও লাভজনক অবস্থানে নিতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে পণ্য ও সেবার মানোন্নয়ন করে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির কারণে একটি উদ্যোগ বা কোম্পানির উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনৈতিকভাবে আরো লাভবান করে। একইসঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখে। বস্টন কনসাল্টিং ফার্মের জরিপমতে দুই তৃতীয়াংশের অধিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্টান তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর বার্ষিক আয় কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠান তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিবছর কোম্পানির লাভের পরিমান প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। শুধু উদ্যোগের মানোন্নয়ন নয়, ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মাধ্যমে অধিক সংখ্যাক উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরি হয়। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নতুন পণ্য বা সেবার গবেষনায় ও উন্নয়নে অধিক বিনিয়োগ করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা প্রাইভেট ইক্যুইটি দেশের নতুন ব্যবসায় ও কর্মসংস্থান তৈরি এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিইএবি)’সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে গেলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে তেমনভাবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি হয়নি। দেশে এখনও ব্যাংকিং বিনিয়োগ আধিপত্য বিস্তার করছে। কিন্তু ব্যাংকিং বিনিয়োগের পরিমান কম ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক নয়। তাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে সহায়ক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি করা প্রয়োজন।

 দুটি পদক্ষেপ বদলে দেবে বাংলাদেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের চিত্র

ভেঞ্চার ক্যাপিটালে উন্নত দেশগুলোতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিকে ট্যাক্স রহিতকরণসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। অথচ দেশে বর্তমানে কোনো আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির স্থানীয় শাখা হিসেবে কোনো ফান্ড ম্যানেজার কোম্পানির ডিভিডেন্টের ওপর ৩৫% কর দিতে হয়। যা একটি নতুন কোম্পানির জন্য অত্যধিক। মিউচুয়াল ফান্ডের মতো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির জন্য প্রাথমিকভাবে ৫ বছরের জন্য ট্যাক্স হলিডে প্রদান করার প্রয়োজন। অথচ উদ্যোক্তা, ফান্ড ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগকারী তিনজনই ট্যাক্স প্রদান করে থাকেন। ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে এই তিন দফা ট্যাক্স প্রদান। একইসাথে বিনিয়োগ না আসায় স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের সফটওয়্যার ও আইটি সেবা খাত থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। তাই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলোকে ফান্ড ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে অন্তত ২০২১ সাল পর্যন্ত আয়কর অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদ্যোক্তা তৈরি ও উন্নয়নে ম্যাচিং ফান্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশেও এই খাতের প্রসারে স্থানীয় এবং সিলিকন ভ্যালির সমন্বয়ে ম্যাচিং ফান্ড ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। দেশের বড় বড় শিল্পপতি, কর্পোরেট হাউজগুলো যাতে এই খাতে বিনিয়োগ করে সেজন্য তাদেরকে প্রনোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ছোট কোম্পানিগুলো যাতে আরো বিনিয়োগ পেতে পারে তার জন্য ‘স্মল ক্যাপ বোর্ড’ গঠন করে কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সম্প্রতি অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড পলিসি পাশ করেছে। যেখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড, প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ড বা ইমপ্যাক্ট ফান্ডকে অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এটি একটি সুখবর। তবে বাংলাদেশে যাতে বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি সহজেই বিনিয়োগ করতে পারে সেজন্য এই পলিসিতে বেশকিছু পরিবর্তন আনাও জরুরি। সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পদক্ষেপ নিতে হবে।

 বাংলাদেশেই তৈরি হবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান

তথ্যপ্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর দিকে তাকিয়ে এক বাক্যে বলা চলে, বাংলাদেশে বিশ্বজয়ী উদ্যোগ তৈরিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিকল্প নেই! ইতিমধ্যে প্রিয় ডটকম, বাগডুম ডটকম, সহজ ডটকম, চালডাল ডটকম, আজকের ডিল ডটকম ও হ্যান্ডিমামা ডটকোসহ বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিনিয়োগ পেয়েছে। সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এই বিনিয়োগ করেছে এবং আগামীতেও তাদের এই বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা থাকবে। আরও কিছু ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভালো উদ্যোগ পেলে ও বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হলে একদিন বাংলাদেশ থেকেই অ্যাংরি বার্ডস, স্ন্যাপচ্যাটসহ বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানির মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশেই তৈরি হবে। আর সেখানে ‘দ্য গেইম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান।

 লেখক : ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিইএবি) এর সভাপতি ও ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জেনারেল পার্টনার। পাশাপাশি তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এর পরিচালক হিসেবে আছেন। এছাড়া তিনি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ই-জেনারেশন ও দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট বাগডুম ডটকমের চেয়ারম্যান।


আমাদের দেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী এখনো ব্যবসায় ঋণের জন্য আমাদের মূল ভরসার জায়গা হলো ব্যাংক। কিন্তু মুশকিল হলো, ব্যাংক অনেক সময় নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে ঋণ দিতে রাজি হয় না। এ ক্ষেত্রে একটি বিকল্প হতে পারে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকিতে পরিপূর্ণ একটি নতুন ব্যবসায়িক ভাবনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে আগ্রহী থাকে। ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সুবিধা সম্পর্কে জানা থাকলেও আমরা অনেকেই আবেদনের প্রক্রিয়া জানি না। তহবিল পেতে হলে আমাদের কী কী করণীয়? এ সম্পর্কে জানা থাকলে একজন উদ্যোক্তা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারেন। আজ বাংলাদেশের দুইটি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলব।

বিডি ভেঞ্চার লিমিটেড

এখানে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয় ‘বিনিয়োগ দল’–এর মাধ্যমে। দলটির তদারকির দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর। তা ছাড়া বিনিয়োগ কমিটি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা তহবিলের জন্য আবেদন করা প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনা করে অনুমোদন করেন।

এ ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়াটি এ রকম:

● উদ্যোক্তার সঙ্গে কোম্পানির যোগাযোগ হয় বিনিয়োগ দলের (ইনভেস্টমেন্ট টিম) মাধ্যমে।

● প্রস্তাবনা এবং অর্থনৈতিক নথি বিশ্লেষণ

● ব্যবসার জায়গা পরিদর্শন

● বাজারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ

এই কাজগুলো করার পর যদি প্রতিষ্ঠান উদ্যোগটিকে অর্থায়নের যোগ্য মনে করে, তাহলে উদ্যোক্তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।

পরের ধাপগুলো হলো:

● আলাপ আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত দুই পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেলে বিনিয়োগ দল প্রস্তাবনাটিকে বিনিয়োগ কমিটির কাছে পাঠায়।

● বিনিয়োগ কমিটি প্রস্তাবনাটিকে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত অনুমোদন করতে পারে। এরপর প্রয়োজন মনে করলে কমিটি প্রস্তাবনাটি বোর্ড অব ডিরেক্টর বা পরিচালনা পরিষদের কাছে পাঠায়।

● অর্থায়নের ক্ষেত্রে এই পরিচালনা পরিষদ সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। সবদিক বিবেচনায় তারা চাইলে প্রস্তাবনাটি গ্রহণ করতে পারে অথবা ফিরিয়েও দিতে পারে।

পরিচালনা পরিষদ থেকে প্রস্তাবনা গৃহীত হলে কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর চুক্তি সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেড

দেশের উ দ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। এখান থেকে কোনো উদ্যোক্তা যদি ব্যবসার জন্য তহবিল সংগ্রহের আবেদন করতে চান, তাহলে প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ। কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘গেট ফান্ড’ অপশনে গেলেই প্রয়োজনীয় তথ্য, যেমন প্রয়োজনীয় তহবিলের পরিমাণ, ব্যবসার ধরন ইত্যাদি লিখে জমা দিতে পারবেন।

জানার বিষয় হলো, তহবিল দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।

● একটি একাগ্র ও অনুপ্রাণিত দল

● ভালো বিজনেস মডেল

● দ্রুত ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা

● চলমান কোনো সমস্যার একটি সৃজনশীল সমাধান, যার একটি সামাজিক প্রভাব থাকবে

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির শর্তসমূহ:

● পরিমাণ: ২৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি

● সময়: ৫ বছর

● ‘এক্সপেক্টেড ইন্টার্নাল রেট অব রিটার্ন’ ন্যূনতম ২৫%

● শেয়ার হোল্ডিং: সর্বনিম্ন ১০% থেকে সর্বোচ্চ ৪৯%

প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট কিছু খাতে তহবিল সরবরাহের জন্য বিশেষভাবে আগ্রহী:

● আইটি ও আইটিইএস (ইনফরমেশন টেকনোলজি এনাবলড সার্ভিস)

● ফাইনটেক (ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজি বা অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি), এএল ও মেশিন লার্নিং

● অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

● ব্লক চেইন, বিগ ডেটা ও ডেটা অ্যানালাইসিস

● কৃষিপ্রযুক্তি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ

● শিক্ষা ও স্বাস্থ্য


করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব মোকাবেলায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকার আরও দুটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে গতি সঞ্চার করতে ৭০০ কোটি টাকার এ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।

প্রথম প্যাকেজটির আকার এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যার আওতায় ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাত এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নেওয়া কার্যক্রম সম্প্রসারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনকে ৩০০ কোটি, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিককে) ১০০ কোটি এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনকে ৫০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় প্যাকেজে ১২০০ কোটি টাকা আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের ১৫০টি উপজেলায় দরিদ্র্য সব বয়স্ক এবং বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

করোনা প্রভাব মোকাবেলা করে দেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখতেই এ প্যাকেজ ঘোষনা করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।



আমরা দেখেছি যে একটা স্টার্টআপ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমইর তুলনায় আরও অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেশি বিনিয়োগের ব্যাপার। তারপরও কেন বিনিয়োগকারীরা স্টার্টআপে বিনিয়োগ করে? যেকোনো স্টার্টআপে বিনিয়োগ করা পুরোটাই একটি ঝুঁকি বণ্টনের খেলা। একজন স্টার্টআপ বিনিয়োগকারী তাঁর পুরো মূলধনের খুব অল্প পরিমাণ টাকা একটি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু একসঙ্গে ১০টি ভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন। কেন? কারণ, তাঁরা জানেন, টাকাটা আসলে কখনো লাভসমেত ফেরত না–ও আসতে পারে। তাঁরা ধরেই নেন, তাঁদের বিনিয়োগের সাতটি কোম্পানি ব্যর্থ হবে, তবে আশা করেন, যে তিনটি কোম্পানি সফল হবে, তারা অন্য সাতটির খরচ পুষিয়ে দেবে। স্টার্টআপ বিনিয়োগকারীরা স্কেল করতে পারেন, এ রকম কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

স্টার্টআপ আর এসএমইর মধ্যে একটা বড় পার্থক্য হলো তাদের বের হওয়া বা ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’। বেশির ভাগ এসএমই চাইবে প্রতি মাসে অল্প অল্প করে ব্যবসা বড় করে বছরের পর বছর চালিয়ে যেতে। যদি কোনো বিনিয়োগকারী তাঁদের শেয়ার বিক্রি করতে চান, তাহলে উদ্যোক্তার যথেষ্ট টাকা থাকলে তার কাছেই বিক্রি করতে পারবেন।

অন্যদিকে একটি স্টার্টআপের অবশ্যই পরিষ্কার এক্সিট স্ট্র্যাটেজি থাকতে হবে। সাধারণত উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য তিনটি উপায় থাকে:

১. একুইজেশন বা অধিগ্রহণ: কেউ একজন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের শেয়ারসহ পুরো কোম্পানি কিনে নেন। যদি কোম্পানি কৌশলগতভাবে যথেষ্ট পরিমাণ মূল্যবান মনে হয়, তা শুরুর দিকেও হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যখন আমাজন ৯৭ কোটি ডলার দিয়ে টুইচ কিনে নেয়, তখন তার বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। কিন্তু ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বুঝতে পেরে এবং নিজেদের এডব্লিউএসের (আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস) সুবিধা নিয়ে কম খরচের জন্য আমাজন টুইচ কিনে নেয়।

২. প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও: কোম্পানিটি কোনো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। গুগল (বর্তমান মূল্য ৯২ কোটি ৫০ লাখ ডলার) শুরুতে মাত্র ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ তুলতে পেরেছিল আইপিওভুক্ত হওয়ার আগে, এটির মূল্য তখন ছিল মাত্র ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বিনিয়োগকারী এবং প্রতিষ্ঠাতারা তখন তাঁদের শেয়ার বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিলেন সেই অবস্থাতেই।

৩. সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রি: গোজেক, একটি ইন্দোনেশিয়ান ইউনিকর্ন এবং পাঠাওয়ে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, সম্প্রতি এক হাজার কোটি ডলারের সিরিজ এফ বিনিয়োগ তুলেছে। তার মধ্যেই বিনিয়োগকারীরা, যাঁরা সিরিজ এ বা সিরিজ বিতে বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা তাঁদের শেয়ার নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ফেলতে পেরেছিলেন। প্রতিষ্ঠাতাদের ক্ষেত্রে তাঁদের শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার সুযোগটা এমন অবস্থায় সাধারণত হয় না, কিন্তু এই ব্যাপার আসলে আরও অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে।
বের হওয়ার বা এক্সিটের কোনো সেরা উপায় বলতে কিছু আসলে নেই, কিন্তু একটি স্টার্টআপের জন্য সেরা এক্সিট স্ট্র্যাটেজি জেনে রাখা খুবই দরকারি।

উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, উবার এত বড় কোম্পানি হয়ে গিয়েছিল যে তাদের জন্য অধিগ্রহণের চেয়ে আইপিও বেছে নেওয়াই উত্তম ছিল। কেননা, খুব কমসংখ্যক বৈশ্বিক কোম্পানিরই উবারকে কিনে নেওয়ার সামর্থ্য ছিল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, মাথায় রাখতে হবে যে একজন বিনিয়োগকারী এবং একজন প্রতিষ্ঠাতা, উভয়ের জন্যই এক্সিট করার উপায়গুলো জেনে রাখা বেশ দরকারি, যাতে সবাই সবার বিনিয়োগ করা টাকা লাভসহ ফেরত পেতে পারে।

আপনার স্টার্টআপটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হতে পারে বা স্কেল না করতে পারে, তাহলে চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোভিড-১৯–এর পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যাপারটি বোঝা আরও একটু বেশি জরুরি। কেননা, এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায় লাভ করা প্রকৃতপক্ষেই বেশ কঠিন। এ রকম অবস্থায় আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানকে একটি ‘লাইফস্টাইল’ কোম্পানিতে পরিণত করতে পারেন, মানে, ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগের এবং এক্সিটের চিন্তা না করে ব্যবসাটিকে স্থিতাবস্থায় নিয়ে আসা, কিংবা এই যাত্রায় ক্ষান্ত দেওয়া। কেননা, ‘ব্যবসায় ক্ষতি হবে’ এটা যখন জানা, তখন তাতে আরও টাকা খাটানোর সিদ্ধান্ত খুব একটা ভালো সিদ্ধান্ত নয়।

একটি স্টার্টআপের যদিও উচিত লাভজনক হওয়ার চেষ্টা করা, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে তাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে যে তাদের মূল্য নিরূপণ যাতে বেশি হয় এবং সবশেষে মার্কেট এক্সিট বা প্রস্থানের ব্যবস্থা।

আদতে একটি স্টার্টআপকে একটি এসএমই থেকে পৃথক করে তার বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের আদর্শ বা নীতিসমূহ। কেননা, ঝুঁকির সঙ্গে সম্ভাব্য পারিতোষিকের মিল থাকতেই হবে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য আরও একটা ব্যাপার বোঝা খুব জরুরি, একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী কেন শুধু বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইবেন, যদি তিনি তাঁর নিজের দেশেই একই রকম লভ্যাংশ ফেরত পেয়ে থাকেন? বিদেশি বিনিয়োগ নিতে হলে, অবশ্যই অধিকতর রিটার্নের সুযোগ থাকতে হবে।

তবে আপনার নতুন উদ্যোগ তবে কী? স্টার্টআপ না এসএমই? একজন প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এই পার্থক্যটা করতে পারা জরুরি, যাতে বিনিয়োগকারীরা আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা পেতে পারেন।



বাংলাদেশে স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিকাশ ত্বরান্বিত হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ১ হাজার ২০০–এর বেশি স্টার্টআপ সক্রিয় রয়েছে এবং প্রতিবছর নতুন ২০০ করে স্টার্টআপের সৃষ্টি হচ্ছে। এই স্টার্টআপগুলো এরই মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। দেশীয় স্টার্টআপের মধ্যে ফিনটেক, ই-কমার্স ও লজিস্টিকস স্টার্টআপের সংখ্যায় বেশি।

গত ১০ বছরের এদের মধ্যে সেরাগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালেই বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। দেশীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লাইট ক্যাসল পার্টনার সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম: দ্য ডিজিটাল গোল্ডমাইন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশীয় স্টার্টআপে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেশীয় বিনিয়োগকারীদের চেয়ে বেশি। ২০২০ সালে স্টার্টআপ বিনিয়োগের ৯২ শতাংশই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এসেছে।
দশকজুড়ে দেশে স্টার্টআপ–সহায়ক একটি পরিবেশ তৈরি করার জন্য সরকারের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এর মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আইডিয়া (আইডিয়া, এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ, ডিজাইন একাডেমি) প্রকল্পের মধ্যে স্টার্টআপদের অনুদান দেওয়া, স্টার্টআপে বিনিয়োগ করার জন্য স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড নামে সরকারি ভেঞ্চার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা; শেয়ারবাজারে লো-ক্যাপ ও পৃথক এসএমই বোর্ড চালু করা, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ভেঞ্চার তহবিল পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন, বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্টের প্রবর্তন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সরকারের পাশাপাশি সরকারি খাতেও স্টার্টআপ–সহায়ক নানা কর্মকাণ্ড হচ্ছে। মুঠোফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের রয়েছে এক্সিলারেটর এবং রবি আজিয়াটা গঠন করেছে স্টার্টআপ ফান্ড।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশজুড়ে মুঠোফোনের বিস্তার ও ইন্টারনেটের সম্প্রসারণ স্টার্টআপ বিকাশে সহায়তা করেছে। উল্লেখ্য, সরকারি হিসাবে দেশে বর্তমানে ১১ কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেটের আওতায় এসেছে। ফলে দেশে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০২৩ সাল নাগাদ দেশীয় ই-কমার্সের বাজার ২৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে সেখানে। বর্তমানে দেশে ২ হাজারের বেশি ই-কমার্স সাইট ও ৫০ হাজারের বেশি ফেসবুকভিত্তিক উদ্যোক্তা প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার পণ্য লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত। গত ১ বছরে ১৮ লাখ নতুন ব্রডব্যান্ড কানেকশন হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোবাইল আর্থিক সেবাদানের গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা যায়, দেশে বর্তমানে প্রতি দুজনের একজনের এমএফএস হিসাব রয়েছে। তাঁরা প্রতিদিন ১ কোটি লেনদেনের মাধ্যমে ২৫ কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করছেন।

২০১১ সাল থেকে শুরু হলেও স্টার্টআপের ভালো বিকাশ ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টির আকর্ষণীয় বিস্তার হয়েছে গত পাঁচ বছর। ২০১৭–২০২১ সময়কালে বিদেশি নিয়োগকারীরা ২৭ কোটি ২০ লাখ ডলার দেশের ফিনটেক, লজিস্টিক ও সোবিলিটি ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ করেছে। এ সময়ে দেশে অ্যাঞ্জেল বিনিয়োগকারীদের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কও গড়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে অ্যাঞ্জেল বিনিয়োগকারীরা প্রায় তিন কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন। অ্যাঞ্জেল বিনিয়োগকারী হলেন এক বা একাধিক বিনিয়োগকারী, যাঁরা কয়েক হাজার থেকে এক লাখ বা কিছু বেশি ডলার দিয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ ও উদ্ভাবনকে ব্যবসার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে থাকেন। তাঁরা এককালীন অর্থ সরবরাহ করেন এবং একসময় এ ব্যবসা থেকে সরে আসেন। ২০২১ সাল এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ পেয়েছে মায়া, ট্রাক লাগবে, প্রভা হেলথ, ফন্ট্রায়ার নিউট্রিশন ও পেপারফ্লাই।


Pages: [1] 2 3 ... 6