Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Sahadat Hossain

Pages: [1] 2 3 ... 24
1
লুৎফর রহমান রিটনের ছড়ার সেই আবদুল হাইয়ের কথা কে না জানে! তিনি সারাদিন খাই খাই করেন। লাউ খান, শিম খান, মুরগির ডিম খান। খেতে খেতে খাবি খান, কত হাবিজাবি খান। আবার ‘হাই ভাই’য়ের উল্টো চিত্র খুঁজে পাওয়াও কঠিন নয়। ‘খেতে ইচ্ছে করছে না’ কথাটি শোনা যাচ্ছে হরহামেশাই। করোনা, আবহাওয়ার পরিবর্তন, ওষুধের প্রভাবে, বিষণ্নতা, জ্বর, অসুখ থেকে সেরে ওঠাসহ নানা কারণে আমাদের খেতে ইচ্ছে করে না। কোথায় যেন হারিয়ে যায় মুখের স্বাদ। খিদে পায় না। মাছ, মাংস, মন্ডামিঠাই— সবকিছুকেই মনে হয় ঘাসের মতো স্বাদহীন। এমন সময় কী করবেন? হেলথলাইন ডটকম দিয়েছে সেই উত্তর। সেখান থেকেই জেনে নিন পাঁচটি উপায়।

ট্রাই করুন নতুন কিছু

* খাবারকে ছোট ছোট বেশ কয়েকভাগে ভাগ করে নিন। অল্প অল্প করে খান। কিছুক্ষণ পর পর খান। যে খাবারের গন্ধ ভালো, দেখতেও ভালো— এমন কিছু নিন। রঙিন টাটকা ফল খান। ফল খেতে ইচ্ছে না করলে ফলের জুস বানিয়ে অল্প অল্প করে খান। যে খাবার আগে কখনো খাননি এমন কিছু চেখে দেখতে পারেন।

খেতে পারেন সালাদ
* ঠান্ডা বা হালকা গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে গোসল করুন। দেখবেন ক্লান্তি আর অবসাদ কিছুটা হলেও দুর গেছে। নিজের প্রিয় খাবার নিয়ে বসে পড়ুন। দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতাকে চেপে বসতে দেবেন না। গা ঝাড়া দিয়ে ঝেড়ে ফেলতে হবে। স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

* তেলে ভাজা খাবার বাদ দিন। কম মশলাযুক্ত, সহজপাচ্য খাবার খান। সেদ্ধ ভাত, আলু ভর্তা, সালাদ, পাস্তা সালাদ, হালকা গরম স্যুপ খেতে পারেন। স্মুদি, মিল্কশেক বা সতেজ অনুভূতি দেয় এমন পানীয় খেতে পারেন। দুধ খেতে ইচ্ছা না করলে দুধের তৈরি জিনিস এই যেমন দই, পনীর বা আইসক্রিম খান। এগুলো প্রেটিনে ভরপুর হওয়ায় শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে না। অতিরিক্ত চিনি সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

বাদ দিন ভাজাপোড়া, চিনি
* মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে পুদিনার জুড়ি মেলা ভার। ১০ থেকে ১৫ টি পুদিনা পাতা গরম পানিতে ভেজান। তারপর সেই পানি দিনে দু’‌বার খান। সুন্দর ঘ্রাণ আছে এমন মশলা যেমন আদা, রসুন, গোলমরিচ বা ভিনিগার, লেবুর রস, টমেটো, জোয়ান— এগুলো যোগ করতে পারেন আপনার খাবারে। আদায় রয়েছে অ্যান্টিভাইরাল আর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ। আদার গন্ধে নাকের কোষগুলি খুলে যায়, ফলে ঘ্রাণশক্তি ফেরত আসে। এমনকি জিভে স্বাদও চলে আসে।

প্রচুর পানি পান করুন
* প্রচুর পানি পান করতে হবে। পানি ভালো না লাগলে লেমন টি, লেবু পানি, ডাবের পানি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9A-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A7%9F

2
হৃদ্‌রোগকে বলা হয় নীরব ঘাতক। বিশ্বজুড়ে অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ এটি। অজান্তেই দীর্ঘদিন ধরে শরীরে এই রোগের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়তে থাকে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, রক্তে উচ্চমাত্রার খারাপ কোলেস্টেরল, শরীরের উচ্চতা অনুযায়ী বাড়তি ওজন এবং ব্যায়াম বা কায়িক শ্রমের ঘাটতির কারণে হৃদ্‌রোগ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী ১০ বছরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিরূপণ করে এ সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের জন্য আমেরিকান কলেজে অব কার্ডিওলজি এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের পরবর্তী ১০ বছরের জন্য হৃদ্‌রোগ বা হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছে। tools.acc.org/ldl/ascvd_risk_estimator নামের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেই এই ঝুঁকি নিরূপণ করা যায়।

হৃদ্‌রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাইয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ও বহুল ব্যবহৃত ক্যালকুলেটর হলো ফ্রামিংহাম রিস্ক স্কোরিং (Framingham Risk Score)। এ ক্ষেত্রে বয়স, রক্তের মোট কোলেস্টেরল ও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা, ধূমপানের অভ্যাস ও রক্তচাপ বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রতিটা বিষয়ের জন্য নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে পয়েন্ট রয়েছে। আলোচনার সুবিধার্থে ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের ঝুঁকি নিরূপণ কৌশল নিয়েই কথা বলছি। ৪০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারী ও পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট শূন্য। ৪৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারী–পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট ৩।

৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের রক্তে মোট কোলেস্টেরল যদি ১৬০–এর নিচে থাকে, তাহলে পয়েন্ট শূন্য। ১৬০ থেকে ১৯৯–এর মধ্যে থাকলে পয়েন্ট ৪। মোট কোলেস্টেরল ২৮০ বা তার বেশি হলে নারীর পয়েন্ট ১৩, পুরুষের ১১। রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল–এর মাত্রা ৪০–এর নিচে থাকলে নারী–পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট ২। আর ৬০ বা তার বেশি থাকলে পয়েন্ট মাইনাস ১। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে নারী–পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট ১। ধূমপানের অভ্যাস না থাকলে পয়েন্ট শূন্য।

যেকোনো বয়সীদের মধ্যে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা নিচ্ছেন না, তাদের সিস্টোলিক রক্তচাপ ১২০ মিলিমিটার–পারদ চাপের কম থাকলে নারী–পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট শূন্য। সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৬০ বা তার ওপরে হলে নারীর পয়েন্ট ৪, পুরুষের ২। আর যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সিস্টোলিক রক্তচাপের মান ১২০ মিলিমিটার–পারদের কম হলে নারী–পুরুষ উভয়ের পয়েন্ট শূন্য। সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৬০ বা তার বেশি হলে নারীর পয়েন্ট ৬, পুরুষের ৩।

নারীর ক্ষেত্রে এই পয়েন্টগুলোর যোগফল যদি ৯–এর কম হয়, তাহলে আগামী ১০ বছরে আপনার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১ শতাংশেরও কম। যোগফল ২৫ বা তার বেশি হলে ঝুঁকি ৩০ শতাংশের বেশি। পুরুষের ক্ষেত্রে যোগফল শূন্য হলে ঝুঁকি ১ শতাংশের কম। ১০ শতাংশ পর্যন্ত হিসাবকে কম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যোগফল ১৫ বা তার বেশি হলে আগামী ১০ বছরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন আপনি। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A7%83%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE

3
আজকাল অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। অনিয়মিত খাওয়ার রুটিন, ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবারসহ নানা কারণে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন ছেলে-বুড়ো সবাই। এর লক্ষণ হিসেবে বেশির ভাগ সময়ই আমরা দেখি পেট ফাঁপা, বুক ও গলা জ্বালাপোড়া করা এবং বদহজম। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই সমাধান খোঁজেন ওষুধে। কিন্তু প্রথম দিকে ওষুধ কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে ওষুধ আর তেমন কাজে দেয় না।

অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সবচেয়ে বড় দাওয়াই হলো এর প্রতিরোধ। কিছু নির্দিষ্ট জিনিস আছে, যা আমাদের অ্যাসিডিটির সমস্যাকে বাড়ায় করে। যেমন, কারও টানা না খেয়ে থাকলে, কারও ভাজাপোড়া খেলে, কারও অনেকক্ষণ রোদে থাকলে, কারও কারও ক্ষেত্রে সেটা বিশেষ কোনো খাবারও হতে পারে। কিসে আপনার অ্যাসিডিটি দেখা দেয়, সেটা এড়িয়ে চলাই উত্তম। তবে যদি অ্যাসিডিটির সমস্যায় পড়েই যান, তাহলে কিন্তু হাতের নাগালে থাকা অতি সাধারণ কিছু উপাদান আপনাকে এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে।

পানি
অ্যাসিডিটির জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপার সমস্যা থেকে বাঁচতে পানি পান করুন প্রচুর পরিমাণে। অ্যাসিডিটি হলে পানি পান করলে পেটের গ্যাস বের হয়ে আসতে পারে এবং অস্বস্তিভাব দূর হয়। আর যদি আপনি নিয়মিত প্রয়োজনীয় পানি পান করেন, তাহলে আপনার অ্যাসিডিটির সম্ভাবনাও কমে যাবে। কারণ, আমাদের হজম ও পরিপাকক্রিয়ায় পানি খুবই জরুরি একটি উপাদান। আর হজম ও পরিপাক যদি স্বাভাবিক হয়, তাহলে অ্যাসিডিটি এমনিতেও হবে না।

আদা
আদার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করতে দারুণ কার্যকরী। আদা কুচি করে সামান্য লবণসহযোগে চিবিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি অনেকটাই উপশম হয়ে আসে। আবার চাইলে আদাকুচি পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানিও খেতে পারেন। তবে পরিমাণে খুব বেশি নয়, তা না হলে উল্টো আপনার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

পুদিনাপাতা
অ্যাসিডিটির সমস্যায় দু–তিনটি পুদিনাপাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। চিবিয়ে খেতে খারাপ লাগলে এক কাপ পানিতে কয়েকটি পুদিনাপাতা দিয়ে সেদ্ধ করে পানিটা খেতে পারেন। বমিভাব, জ্বালাপোড়া দূর করে সতেজ ভাব আনতে পুদিনাপাতার জুড়ি নেই।

মেথি
এক গ্লাস পানিতে এক চা–চামচ মেথিগুঁড়া মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটির জ্বালাপোড়া অনেকাংশে কমে। অথবা এক চা–চামচ মেথি দানা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সেটা খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

দারুচিনি
এক গ্লাস পানিতে আধা চা–চামচ দারুচিনির পাউডার মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এটি খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যায় আরাম পাওয়া যায়। পাউডার খেতে অস্বস্তি লাগলে ৪–৫ টুকরা দারুচিনি দুই কাপ পানিতে জ্বাল দিয়ে নির্যাসসহ পানিটা খেতে পারেন।

পেঁপে
পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন অ্যানজাইম আমাদের হজমপ্রক্রিয়াকে সহজতর করে। ফলে অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা হতে পারে না। তাই প্রতিদিনের ডায়েটে রাখতে পারেন দু–এক টুকরা পেঁপে।

অ্যাসিডিটির সমস্যা যদি প্রতিদিনই হয় এবং সেটা গুরুতর পর্যায়ের হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সব ঘরোয়া উপাদান সবার জন্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনার যদি পেঁপে খেলে অ্যালার্জি দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই পেঁপে খাবেন না। মনে রাখবেন, এসব ঘরোয়া উপাদান কিংবা ওষুধ আমাদের অ্যাসিডিটি থেকে সাময়িক মুক্তি দিতে পারে। এই অস্বস্তিদায়ক সমস্যা থেকে সত্যিকারের মুক্তি পেতে চাইলে লাইফস্টাইল এবং ডায়েটে পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

একবারে অনেক না খেয়ে কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করে খান, পেট খালি রাখবেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানি পান করুন। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। ভাজাপোড়া কিংবা অতিরিক্ত তেল মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস যদি ছাড়তে না পারেন, যতই ঘরোয়া দাওয়াই কিংবা ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন না কেন, অ্যাসিডিটি ঘুরেফিরে আপনার পিছু ছাড়বে না। সচেতনতার চেয়ে বড় দাওয়াই আর নেই।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%85%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87

4
মুখগহ্বরের অনেক রোগকেই আমরা গুরুত্ব দিই না। কিন্তু কমবেশি ব্যথা বা উপসর্গহীন রোগগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পরবর্তী সময়ে জটিল আকার ধারণ করে। এমনই একটি সমস্যা হলো দাঁত ভেঙে যাওয়া, দাঁতে ফাঁক বা গর্ত সৃষ্টি হওয়া।

ক্যারিজ বা জীবাণুর কারণে ক্ষয় অথবা দুর্ঘটনায় দাঁত ভেঙে গেলে এবং দাঁতের মজ্জা আক্রান্ত না হলে দ্রুত ফিলিং করিয়ে নেওয়া জরুরি। এই গর্ত প্রাকৃতিকভাবে ভালো হয় না। ফিলিং অতি সহজ, নিরাপদ ও স্বল্প খরচের একটি চিকিৎসা।

মাসে একবার আয়নার সামনে দাঁতগুলো দেখার চেষ্টা করুন। কোথাও কালো দাগ, গর্ত বা অস্বাভাবিক খাবার জমে আছে কি না, দেখুন। জিহ্বায় দাঁতের কোনো অংশ অমসৃণ লাগে কি না, তা–ও খেয়াল করুন। লক্ষ করুন, ঠান্ডা পানি বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে দাঁত শিরশির করে কি না। এ ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

দাঁতের মজ্জা আক্রান্ত হলে
সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে দাঁতের ভেতরকার মজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যথার সৃষ্টি হয়। প্রচলিত ধারণা হলো, দাঁতের রুট ক্যানেল চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল এবং বারবার করতে হয়। কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিয়ে মজ্জাকে আক্রান্ত করার কারণেই কিন্তু রুট ক্যানেল দরকার হয়। তবে আগে থেকে সচেতন হলে রুট ক্যানেল এড়ানো যায়।

মজ্জা আক্রান্ত হলে রুট ক্যানেল চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁতকে সুস্থ করে তুলতে হবে। তা না করে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খেলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক অবস্থার সৃষ্টি হয়, নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হয়। তেমনই অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ থেকে পেপটিক আলসার, কিডনি রোগসহ নানা জটিলতা হতে পারে। অন্যদিকে চিকিৎসা না করালে মজ্জা আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে সংক্রমণ দাঁতের গোড়ার হাড়ের মধ্যে ছড়াতে থাকে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো হলে অথবা সংক্রমণের মাত্রা কম হলে দাঁতের গোড়ায় বড় ধরনের উপসর্গ ছাড়াই গ্র্যানুলোমা থেকে সিস্ট, টিউমার হয়ে হাড়ের ক্ষয় শুরু হতে পারে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হলে পুঁজ জমে সেলুলাইটিস বা মুখ ফোলাসহ লাডউইগ এনজাইনারের মতো মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তখন দাঁতের সংরক্ষণ জটিল এবং অনেকটা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। ক্ষেত্রবিশেষে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে দাঁতই ফেলে দিতে হয়।

এদিকে দাঁতের ভাঙা অংশ অনেক সময় ধারালো হয়ে মুখের নরম অংশে ক্ষত সৃষ্টি করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে সেখান থেকে ক্যানসারও হতে পারে। কাজেই মুখের যত্নে অবহেলা করা চলবে না।

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা, রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান, ঢাকা
Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A7%9F

5
Protect your Health/ your Doctor / রাতের খাওয়া
« on: June 07, 2021, 01:08:48 PM »
ওজন কমছে না? ডায়েট করছেন, শরীরচর্চা করছেন, তাও ওজন কমার কোনো লক্ষণ নেই! কখন খাচ্ছেন, সেটা খেয়াল রাখছেন কি? ওজন কমানোর সময় কী খাচ্ছেন, সেটা খেয়াল রাখা যতটা জরুরি, ততটাই কখন খাচ্ছেন, সেটা নজর রাখাও।
এমনিতে দিনের কোন সময় খাচ্ছেন, তার সঙ্গে ওজন কমা-বাড়ার কোনো সরাসরি যোগযোগ নেই। তবে রাতের খাওয়াটা সাধারণত তাড়াতাড়ি সেরে ফেলার উপদেশ দেন পুষ্টিবিদেরা। কেন জেনে নিন।

রাতে শুতে যাওয়ার অন্তত ঘণ্টা দুই আগে ডিনার সেরে ফেলা আদর্শ। ভরপেট খেয়েই শুয়ে পড়লে হজমের সমস্যা হতে পারে। তার চেয়ে খাওয়া শেষ করে একটু হাঁটাচলা করুন, বাড়ির অন্য কাজ করুন। তা হলে হজমেও সুবিধা হবে, আবার ঘুমও তাড়াতাড়ি আসবে।

বদহজম
রাতে খুব বেশি খেলে অনেক খাবারই হজম করতে সমস্যা হয়। কোন খাবারে কার সমস্যা হবে, সেটা সবার জন্য একই ভাবে নির্ধারিত করা যায় না। তাই আপনাকেই বুঝতে হবে কোন খাবারে সমস্যা হচ্ছে। খাওয়ার পর একটু সময় দিন পেটকে তা হজম করতে। বদহজম হয়ে পেট ফুলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাতের ঘুমও ঠিকমতো হবে না। তাতে শরীর আরও ক্লান্ত হয়ে পড়বে।

দুপুর আর রাতের খাবারের মধ্যে বেশি ফারাক নয়

যদি দুপুর আর রাতের খাবারের মধ্যে অনেকক্ষণ পেট খালি থাকে, তাহলে খিদে অনেক বেড়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে খিদের মুখে অনেকটা বেশি খাবার খেয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে। তা হলে আপনার ওজন কমানোর রাস্তা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

রাত বাড়লে ভুলভাল খাওয়া
যত রাত হয়, তত সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে মন যায় মানুষের। বেশি পরিমাণে তেল-নুন দেওয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। পিৎজা-বার্গার অর্ডার করার ইচ্ছাও দ্বিগুণ হয়ে যায়। এমনকি মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাও বেড়ে যায় অনেকটা। তাই তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে তারপর পছন্দের নেট-সিরিজ দেখুন।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE

6
সুস্থ থাকার জন্য শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। করোনাকালে ইমিউনিটি বা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে বলছেন সবাই। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খুব দামি বা হিসাব করে খাবারদাবার খাওয়ার কোনো দরকার নেই।

বরং আমাদের রান্নাঘরে সহজেই পাওয়া যায়, এমন অনেক কিছুই শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনি যদি খালি পেটে আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে ৩টি জিনিস গ্রহণ করেন, তাহলে আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা বাড়বে। চলুন দেখে নেওয়া যাক।

রসুন
খালি পেটে খেলে ইমিউনিটি বাড়ে
স্বাস্থ্যরক্ষায় রসুন খাওয়ার চল বহুদিনের। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ শতকে চীন ও ভারতে রক্ত পাতলা রাখার জন্য এর প্রচলন ছিল। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিপোক্রেটিসও একে ব্যবহার করেছিলেন সারভাইক্যাল ক্যানসারের চিকিৎসায়। রান্নায় ব্যবহার ছাড়াও রসুনে অনেক রকমের ঔষধি গুণ আছে। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রসুনের ব্যবহার চলে এসেছে। রসুনের মধ্যে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম‚ কপার‚ পটাশিয়াম‚ ফসফরাস‚ আয়রন ও ভিটামিন বি ওয়ান।

শুধু তা–ই নয়, রসুনের মধ্যে আমাদের শরীরে যা প্রয়োজন, মোটামুটি সবই পাওয়া যায়। কাঁচা রসুন খেলে জ্বর এবং সাধারণ ঠান্ডা তাড়াতাড়ি সেরে যায়। এর কারণ, রসুন খেলে ইমিউন সিস্টেমের কার্যক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যায়। কোভিডের জটিলতা বাড়াতে হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের কোনো জুড়ি নেই। কাজেই নিয়মিত রসুন খেলে হার্ট ও রক্তচাপ ঠিক থাকে। কম থাকবে কোভিডের জটিলতাও। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রাও বেশি থাকে কাঁচা রসুনে। পূর্ণবয়স্কদের ক্ষেত্রে ২-৩টি রসুনের কোয়া খেতে বলছেন পুষ্টিবিদেরা। তাই আপনি খালি পেটে রসুনের এক বা দুই কোয়া গরম পানির সঙ্গে খেতে পারেন।

আমলকী
খালি পেটে খেলে ইমিউনিটি বাড়ে
ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল আমলকী। বিভিন্ন অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকীর গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকীর নির্যাস ব্যবহার করা হয়। আমলকীতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, আমলকীতে পেয়ারা ও কাগজিলেবুর চেয়ে তিন গুণ ও দশ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। আমলকীতে কমলালেবুর চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ বেশি, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। এটি গরম পানির সঙ্গে খেতে পারেন বা খালি পেটেও খেতে পারেন। এর রসও পান করা যায়। এটি অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। খালি পেটে খাওয়ার সময় অভ্যন্তরীণভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, যা আমাদের ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

মধু
খালি পেটে খেলে ইমিউনিটি বাড়ে
স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যাবতীয় রোগ নিরাময়ে মধুর গুণ অপরিসীম। মধুতে যেসব উপকরণ রয়েছে, তার মধ্যে প্রধান উপকরণ সুগার। সুগার বা চিনি আমরা অনেকই এড়িয়ে চলি। কিন্তু মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ—এ দুটি সরাসরি মেটাবলাইজড হয়ে যায় এবং ফ্যাট হিসেবে জমা হয় না। মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে এতে অ্যালুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড, টিন, জিঙ্ক ও জৈব অ্যাসিড (যেমন: ম্যালিক অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড, টারটারিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড), কতিপয় ভিটামিন, প্রোটিন, হরমোনস, এসিটাইল কোলিন, অ্যান্টিবায়োটিক, ফাইটোনসাইডস, সাইস্টোস্ট্যাটিক্স ও মিনারেল (১৯-২১ শতাংশ) ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। ভিটামিন, যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন বিদ্যমান। মধুর রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। যেমন এটি পচন নিবারক (অ্যান্টিসেপটিক), কোলেস্টেরলবিরোধী এবং ব্যাকটেরিয়াবিরোধী। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে খালি পেটে চা–চামচের এক বা দুই চামচ করে মধু খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যাবে।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A7%87

7
প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক এক জিনিস নয়। প্রোবায়োটিক অন্ত্রের একটি উপকারী জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া। আর প্রিবায়োটিক হচ্ছে একধরনের অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ।

প্রিবায়োটিক কোলনের বা অন্ত্রের কোষগুলোতে বিশেষ ধরনের পুষ্টি সরবরাহ করে, যা একটি সুস্থ হজমব্যবস্থা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শর্ট চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড, যেমন বিউটাইরেট, অ্যাসিটেট ও প্রপায়োনেট। এ ছাড়া বিভিন্ন মিনারেলের (ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, আয়রন) শোষণে, শিশুদের অ্যালার্জি রোধে, অন্ত্রের কোষে যেকোনো সংক্রমণ কমাতে এবং অটিজমের কিছু লক্ষণ কমাতেও প্রিবায়োটিক সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতেও প্রিবায়োটিকের জুড়ি নেই। যখন পেট ফেঁপে থাকবে, গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যাবে, সামান্য কারণে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য হবে, কোনো খাবারই সহজে হজম হতে চাইবে না, তখন খাদ্যতালিকায় প্রিবায়োটিক–সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এমন কিছু খাবার হলো:

ইসবগুলের ভুসি: এটি খুব শক্তিশালী প্রিবায়োটিক। এর উচ্চমাত্রার আঁশ অন্ত্রে দ্রুত উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কলোনি তৈরি করে হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং অন্ত্রের যেকোনো সংক্রমণের হার কমায়।

পেঁয়াজ ও রসুন: রসুনের প্রিবায়োটিক অন্ত্রের উপকারী বিফিডোব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত অনেক পেটের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে এ ক্ষেত্রে ভাত-শাকের সঙ্গে কাঁচা রসুনের কোয়া খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়। পেঁয়াজও প্রিবায়োটিক।

বার্লি: এটি একধরনের শস্য, যার প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ গ্রামের মতো বিটা-গ্লুকন থাকে। এ ছাড়া বিটা-গ্লুকন রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়ায়।

ওটস: উচ্চ আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় এর প্রিবায়োটিক কার্যকারিতা রয়েছে। এতে বিটা-গ্লুকনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে; যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখে এবং কোলন ক্যানসার রোধে ভূমিকা রাখে।

কাঁচা কলা: এতে বেশি পরিমাণে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে, যা প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

আপেল: আপেলে বিদ্যমান পেকটিনের রয়েছে প্রিবায়োটিক কার্যকারিতা। এ ছাড়া এটি পেট ফাঁপা, গ্যাসের সমস্যা কমিয়ে অন্ত্রের কার্যক্রমকে নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। তবে যাঁরা নিয়মিত খান, তাঁরা ছয় মাস পরপর একবার বিরতি দিলে ভালো।

মধু: এতে থাকে ওলিগো-স্যাকারাইড, যা প্রিবায়োটিক হিসেবে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ল্যাকটোবেসিলি ও বিফিডোব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কোকো পাউডার: এটি স্বাদযুক্ত একটি প্রিবায়োটিক খাদ্য, যা চকলেট, ওটস, স্মুদি, কেক তৈরিতে বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যায়।

তিসি: এর ফেনলিক কম্পাউন্ডের প্রিবায়োটিক কার্যকারিতা রয়েছে, যা অন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে হজমকে সহজ করে।

লাল রঙের খাবার: লাল আটা, চাল, ময়দা প্রিবায়োটিক আঁশের খুব ভালো উৎস। এ ধরনের আঁশে বিশেষ একটি উপাদান অ্যারাবিনক্সিলান ওলিগোস্যাকারাইড থাকে, যা অন্ত্রের বিফিডো ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে অন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

যাঁরা সব সময় হজমজনিত বা পেটের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা উপরিউক্ত খাবারগুলো দৈনিক খাদ্যতালিকায় রাখার চেষ্টা করুন।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0

8
গরম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে টাইফয়েড জ্বরের প্রকোপ। এতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। অনিরাপদ পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার টাইফয়েডের জীবাণু ছড়ায়। একটু সচেতন হলেই এ সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

সালমোনেলা টাইফি নামের একধরনের ব্যাকটেরিয়া টাইফয়েডের জন্য দায়ী। এটি আক্রান্তের মলের মাধ্যমে পরিবেশে ছড়ায় এবং অস্বাস্থ্যকর–অপরিষ্কার খাবার বা হাতের মাধ্যমে অন্যকেও আক্রান্ত করে। সাধারণত রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রস্তুত খাবারের মাধ্যমেই মানুষ আক্রান্ত হয়। জীবাণু আক্রান্ত দেহে পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে প্রবেশ করে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর নানা অঙ্গে আক্রমণ করে। রক্তে ছড়ানোর পর তীব্র জ্বর আসে।

টাইফয়েড হলে উচ্চমাত্রার জ্বর, মাথাব্যথা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, ডায়রিয়া, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বকে র‌্যাশ ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হলে পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন হৃদ্‌যন্ত্রে ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া বা অন্ত্র ছিদ্র। তীব্রতা ও মাত্রার দিক দিয়ে যেকোনো সাধারণ ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে এ জ্বরের পার্থক্য আছে। ভাইরাস জ্বর সাধারণত পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে সেরে যায়। আর ফ্লু হলে সর্দি–কাশি, নাক বন্ধ ইত্যাদি হয়। টাইফয়েড জ্বর কিছুতেই সারতে চায় না। বরং জ্বরের ঘোরে অনেকে ভুল বকেন। টাইফয়েডেও সামান্য কাশি থাকতে পারে, তবে এটি শুষ্ক ধরনের কাশি।

গ্রীষ্ম ও বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশে টাইফয়েড ও ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বাড়ে। করোনা তো আছেই। এ সময় জ্বর হলে একটু বেশি সতর্ক হতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে আমাদের দেশে টাইফয়েড অ্যান্টিবায়োটিকরোধী হয়ে পড়ছে আর অনেক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তাই রোগ শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত নিজে নিজে কোনো ওষুধ খাওয়া চলবে না। টাইফয়েড জ্বর সন্দেহ হলে প্রথম সপ্তাহে রক্ত কালচার করা সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। এতে রক্তে সালমোনেলা টাইফির উপস্থিতি নিশ্চিত করা ছাড়াও যথার্থ অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নেওয়া সম্ভব হয়। মনে রাখবেন, অন্যান্য রোগের চেয়ে টাইফয়েডে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মাত্রা ও মেয়াদ ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না।

অনেক সময় জ্বর সাত দিনের বেশি পার হয়ে গেলে রক্ত কালচার ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষার দরকার হয় রোগ শনাক্ত করতে। এ ছাড়া শুরুতেই রক্তের কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট দেখেও কিছুটা আন্দাজ করা সম্ভব যে জ্বরটি টাইফয়েড না ডেঙ্গু। মহামারি অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত জ্বর হলে এ সময় কোভিড টেস্ট করাও উচিত।

এ সময় টাইফয়েড প্রতিরোধ করতে হলে সতর্ক থাকতে হবে। শৌচাগার ব্যবহারের পর, খাবার প্রস্তুত বা পরিবেশনের আগে এবং খাওয়ার আগে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। অপরিষ্কার জায়গার খাবার খাবেন না। বিশুদ্ধ ও ফোটানো পানি পান করতে হবে। কাঁচা শাকসবজি, ফলমূল ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে। বাইরের খোলা শরবত, পানি, জুস ইত্যাদি কিছুতেই খাবেন না।
Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AB%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A1

9
উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় নীরব ঘাতক। কারণ, এ সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ থাকে না। রোগী দীর্ঘদিন অজান্তে বয়ে বেড়ান সমস্যাটি। তবে এটি নীরবে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি, মস্তিষ্ক, রক্তনালি ও চোখের ক্ষতি করতে থাকে। তাই সবারই উচিত নিয়মিত রক্তচাপ সঠিকভাবে পরিমাপ করা। এতে জটিলতা সৃষ্টির আগেই উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত সম্ভব।

উচ্চ রক্তচাপ কী

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদের নিচে থাকে। কারও রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে বিবেচনা করা যায়। যাঁদের রক্তচাপ এই দুই মাত্রার মাঝামাঝি থাকে, তাকে বলে প্রাক্-উচ্চ রক্তচাপ।

রক্তচাপ পরিমাপের সঠিক উপায়

রক্তচাপ পরিমাপ করা হয় স্ফিগমোম্যানোমিটার দিয়ে। এটি খুব পরিচিত একটি যন্ত্র। হাসপাতালে, ক্লিনিকে বা চিকিৎসকের চেম্বারে এই যন্ত্র দিয়েই রক্তচাপ পরিমাপ করা হয়। অবশ্য বর্তমানে অটোমেটেড রক্তচাপ মাপার যন্ত্রও পাওয়া যায়। বাড়িতে এটি ব্যবহার করাও সহজ।

■ রক্তচাপ মাপার আগে অন্তত আধা ঘণ্টা চা, কফি পান বা ধূমপান করা যাবে না।

■ কমপক্ষে ৫ মিনিট বিশ্রাম নেওয়ার পর রক্তচাপ মাপতে হবে।

■ বাসায় রক্তচাপ মাপার সময় পা দুটো মেঝেতে রেখে দুই হাত সামনের টেবিলে অথবা চেয়ারের হাতলে রাখুন।

■ বাহুর কাপড় সরিয়ে রক্তচাপ মাপার যন্ত্রটির কাফ কনুইয়ের ভাঁজের কমপক্ষে এক ইঞ্চি ওপরে বাঁধুন। ঢিলা করে বাঁধবেন না। স্টেথোস্কোপের ইয়ার পিস কানে লাগিয়ে ডায়াফ্রাম কনুইয়ের ভাঁজ থেকে একটু ওপরে স্থাপন করুন।

■ হাতের কবজির সামান্য ওপরে (সাধারণত যেখানে নাড়ির গতি পরীক্ষা করা হয়) ধমনির কম্পন আঙুলে অনুভব করে কাফটি পাম্প করতে হবে। মিটারের যে দাগে ধমনির কম্পন আর অনুভূত হবে না, সেখান থেকে আরও ৩০ মিলিমিটার ওপরের দাগ পর্যন্ত মিটারের কাঁটা তুলতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে এমনভাবে কাফের চাপ কমাতে হবে, যেন মিটারের কাঁটা প্রতি সেকেন্ডে ২ থেকে ৩ মিলিমিটারের বেশি না নামে।

■ স্টেথোস্কোপে মনোযোগ দিয়ে শব্দ শুনতে হবে। যে দাগে প্রথম শব্দ শোনা যাবে, সে দাগই হলো সিস্টোলিক রক্তচাপের মাত্রা। আর যেখানে শব্দ আর শোনা যাবে না, সেটি হলো ডায়াস্টলিক রক্তচাপের মাত্রা।

রক্তচাপ কি বাড়ে-কমে

দিনের বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন কাজকর্ম, খাওয়া-ঘুম-বিশ্রাম বা পরিশ্রম-উত্তেজনার সঙ্গে রক্তচাপ পরিবর্তিত হতে পারে। দৈনন্দিন এই ওঠানামার পরিমাণ সিস্টোলিক ১০-১৫ মিলিমিটার এবং ডায়াস্টোলিক ৫-১০ মিলিমিটার পারদের বেশি হওয়ার কথা নয়।

কিছু পরামর্শ

রক্তচাপের মাত্রা কখনো একটু বেশি পেলে অস্থির বা উদ্বিগ্ন হবেন না। দুই মিনিট বিশ্রাম নিয়ে আবার মেপে দেখুন। পরপর অন্তত দুই দিন মেপে উচ্চ রক্তচাপ পেলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। দুই মিনিটের ব্যবধানে সিস্টোলিক ১৮০ ও ডায়াস্টোলিক ১২০ মিলিমিটার পারদের ওপর পেলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বা হাসপাতালে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছুতেই নিজে নিজে রক্তচাপের ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ করা যাবে না।

প্রতিদিন বা বারবার রক্তচাপ মাপার দরকার নেই। তবে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা, দম আটকে আসা ইত্যাদি সমস্যা হলে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

10
এলাচ বা এলাচি (ইলেট্টারিয়া কার্ডামম)। এর অন্যান্য নাম হচ্ছে কার্ডামম, মালাবার কার্ডামম, সিলন কার্ডামম। মসলা হিসেবে বহুল ব্যবহৃত। এটি একটি সুগন্ধি গাছ। এলাচি সুগন্ধিযুক্ত একটি মসলা। এলাচিকে বলা হয় মসলার রানি। খাবারে অতিরিক্ত স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয় এটি। এলাচিতে রয়েছে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাট, মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটসহ কিছু ঔষধি গুণ, যা সেবনে মানবদেহের অনেক সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম এ ছোট মসলা। এলাচির মধ্যে কালো এলাচি বেশি কার্যকর। আমাদের দেশে যে এলাচি পাওয়া যায়, তাতেও কাজ হবে। এখানে দেওয়া হলো এলাচির উপকারিতা।

অস্থিরতা বা পালপিটিশন কমাতে
অনেকের অস্থিরতার সমস্যা রয়েছে—কোনো কারণে কিংবা অকারণে নানান বিষয়ে অস্থির হয়ে পড়েন। কোথাও যাচ্ছেন, রাস্তায় হঠাৎ জ্যাম, তখনই অস্থিরতা বেড়ে গেল। আবার কোনো পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হলে তার নাম মনে করতে পারছেন না—সেই থেকে শুরু হয়ে গেল অস্থিরতা। এ অস্থিরতা থেকে ঘাম হয় আর বুকের মধ্যে একধরনের অচেনা অনুভূতি কাজ করতে থাকে। বুক ধড়ফড় করতে থাকে।

এমন সমস্যার জন্য এলাচি খুব কার্যকর। নিয়মিত প্রতিদিন দুবেলা দুটি করে এলাচি মুখে রেখে আস্তে আস্তে চিবিয়ে খেলে এর উপকারিতা পাওয়া যাবে; অথবা দুটি এলাচি গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই পানি চায়ের মতো করে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

হার্ট ও হার্টের ভালভ সুস্থ রাখে
যাঁরা হার্টের ও হার্টের ভালভের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এলাচি একটি আদর্শ পথ্য। প্রতিবার খাওয়ার পর একটি এলাচি চিবিয়ে খেলে হার্ট সুস্থ থাকবে। অথবা দুটি এলাচি গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই পানি চায়ের মতো করে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে।

ভয়জনিত সমস্যা
যাঁদের হার্টের সমস্যা নেই কিন্তু ভয়জনিত সমস্যা আছে, নানাভাবে ভীতি কাজ করে; ভিড়ের মধ্যে সমস্যা, অন্ধকারে সমস্যা, উচ্চ শব্দে সমস্যা, উত্তেজনা সহ্য হয় না; তাঁদের জন্য নিয়মিত প্রতিদিন দুবেলা দুটি করে এলাচি মুখে রেখে আস্তে আস্তে চিবিয়ে খেলে এর উপকারিতা পাওয়া যাবে।

মাড়ির রক্তপাত ও দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে
আপনি কি মুখের দুর্গন্ধ, মাড়ি দিয়ে রক্তপাত অথবা দাঁতের ক্ষয় হওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে খাওয়ার পর একটি এলাচি মুখে নিয়ে চিবাতে পারেন। কেননা এলাচির তেল মুখের সমস্যা দূর করতে কার্যকর একটি ওষুধ। প্রতিদিন দুবেলা দুটি করে এলাচি মুখে রেখে আস্তে আস্তে চিবিয়ে খেলে এর উপকারিতা পাওয়া যাবে।

এলাচি চা
পেটের অস্থিরতা ও হজমে সহায়ক
আমরা প্রতিদিন হরেক ধরনের খাবার গ্রহণ করে থাকি; প্রয়োজনে এবং অপ্রয়োজনে নানান খাবার একসঙ্গে খেলে এবং অতিভোজনে পেটে অস্থিরতা তৈরি হয়, পেটে গ্যাস জমে, অজীর্ণ হয়; এমন অবস্থায় একটি এলাচি মুখে দিয়ে চিবিয়ে খেলে পেট ফাঁপার সমস্যা আস্তে আস্তে প্রশমিত হতে থাকবে। পেটের সমস্যা তৈরি হলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, যাতে পরে কঠিন সমস্যা দেখা দেয়, সে জন্য দুটি এলাচি এক কাপ পানিতে গরম করে চায়ের মতো করে পান করলে এ জটিল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

প্রস্রাবের সমস্যা সমাধানে
বয়স বাড়ার সঙ্গে যেসব সমস্যা বেড়ে যায়, তার মধ্যে একটি হলো প্রস্রাবের গন্ডগোল। বিশেষ করে যাঁদের প্রস্রাব হতে চায় না, তাঁদের জন্য দুটি এলাচি এক কাপ পানিতে গরম করে চায়ের মতো করে পান করলে এ জটিল সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

ক্যানসার প্রতিরোধে
এলাচি ক্যানসার প্রতিরোধে বিশাল ভূমিকা রাখতে সক্ষম, যা শুধু প্রতিরোধেই কাজ করে না, প্রাথমিক স্তরে ক্যানসার নির্মূলেও কাজ করে। এ জন্য ক্যানসার প্রতিরোধে নিয়মিত প্রতিদিন দুবেলা দুটি করে এলাচি মুখে রেখে আস্তে আস্তে চিবিয়ে খেলে এর উপকারিতা পাওয়া যাবে।

শ্বাস–প্রশ্বাসজনিত সমস্যা
শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা, হুপিং কাশি, ফুসফুসে সংক্রমণ ও হাঁপানির সমস্যায় যাঁরা ভুগে থাকেন, তাঁদের জন্য এলাচি খুবই উপকারী। নিয়মিত প্রতিদিন দুবেলা দুটি করে এলাচি মুখে রেখে আস্তে আস্তে চিবিয়ে খেলে এর উপকারিতা পাওয়া যাবে; অথবা দুটি এলাচি গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই পানি চায়ের মতো করে খেলেও উপকার পাওয়া যাবে।

বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথা
মাথাব্যথার অনেক কারণ থাকে। সে জন্য স্থায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন। মাথাব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পেতে চাইলে একটি এলাচি চিবিয়ে খেলে কিছুক্ষণের জন্য মাথা ব্যথা সারবে। সেই সঙ্গে এলাচি তেলের ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়
উচ্চ কিংবা নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ—উভয়ই রক্ত সঞ্চালনব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালনব্যবস্থা যদি ঠিক করা যায়, তাহলে উচ্চ এবং নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। এ জন্য কোনো ধরনের ওষুধের প্রয়োজন পড়ে না। কেবল নিয়মিত প্রতিদিন দুবেলা দুটি করে এলাচি মুখে রেখে আস্তে আস্তে চিবিয়ে খেলে এর উপকারিতা পাওয়া যাবে অথবা দুটি এলাচি গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই পানি চায়ের মতো করে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

শরীরকে বিষমুক্ত রাখতে
এলাচিতে প্রচুর ম্যাঙ্গানিজ আছে, যা শরীরে ক্ষতিকর উপাদানগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার এনজাইম তৈরি করে শরীরকে বিষমুক্ত রাখে। খাবারের পাশাপাশি চায়ের সঙ্গেও এলাচি খেতে পারেন, যা শরীরকে বিশেষ সুবিধা দেয়।

এ মসলা আপনার জীবনকে সহজ করে দিতে পারে। আমাদের প্রাকৃতিক উপাদানগুলো এমনই, যার রাসায়নিক পদার্থ অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে। বিশেষ করে এ সময়ে যাঁদের মধ্যে প্যানিক কাজ করছে, তাঁদের জন্য এলাচি হতে পারে একটি পথ্য।

লেখক: খাদ্য, পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ
Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%AD%E0%A7%9F-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BF

11
যকৃত আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। যকৃতের প্রধানতম কাজ হলো বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করা। এ ছাড়া যকৃত আমাদের শরীরে প্রোটিনসহ আরও অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি করে। যকৃতের নানা ধরনের রোগের মধ্যে হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার, সিরোসিস, সিস্ট, অ্যাবসেস, ক্যানসার অন্যতম। জন্ডিস যকৃতের রোগের একটি উপসর্গ। তবে জন্ডিস নানা কারণে হতে পারে। তা ছাড়া যকৃতের কিছু বিরল রোগও হয়ে থাকে।

বিপাকক্রিয়ার সঙ্গে যকৃতের সুস্থতা সম্পর্কিত। তাই রোজায় যকৃতের রোগীরা চিন্তায় পড়েন, কীভাবে রোজা রাখবেন কিংবা আদৌ রোজা রাখতে পারবেন কি না। রোজা রাখলে কী ধরনের খাবার খেতে হবে, তা নিয়েও চিন্তিত থাকেন এই রোগীরা। যকৃতের যেকোনো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

● ফ্যাটি লিভারের রোগীরা রোজা রাখলে বরং উপকৃতই হবেন। কারণ, রোজায় খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজন কমে।

● হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের বাহক, তবে এটি সক্রিয় রোগ নয়, এমন ব্যক্তিদের রোজা করতে কোনো সমস্যা নেই।

● ক্রনিক হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাসে সংক্রামিত রোগীরাও রোজা করতে পারবেন।

● সিরোসিস একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় থাকলে এই রোগীদের রোজা করায় কোনো সমস্যা নেই।

● যকৃতের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদেরও প্রাথমিক অবস্থায় রোজা করলে সমস্যা হয় না।

● লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা সম্পূর্ণ সুস্থ রোগীরাও রোজা করতে পারবেন।

দরকার বাড়তি সতর্কতা

নিম্নোক্ত যকৃতের রোগীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। রোজা করার ব্যাপারে অবশ্যই এই রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

● জন্ডিসের রোগী।

● যকৃতের সিরোসিসের রোগী, যাদের পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পানি এসেছে, রক্তবমি হয়।

● যেসব সিরোসিসের রোগীর কালো আলকাতরার মতো পায়খানা বা রক্ত পায়খানা হয়।

● যেসব সিরোসিসের রোগীর খাদ্যনালির শিরায় ইভিএলের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়েছে।

● যেসব সিরোসিসের রোগীর অ্যানসেফালোপ্যাথি বা অচেতন হয়ে পড়ার ইতিহাস আছে।

● যকৃতের ক্যানসারের যেসব রোগী রোগের জটিল পর্যায়ে রয়েছেন।

● সিরোসিসের যেসব রোগীর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত।

খাদ্যাভ্যাস

এবার আসুন জেনে নিই, রোজায় যকৃতের রোগীদের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে কী ধরনের সতর্কতা জরুরি।

● সাধারণত যকৃতের রোগীদের অতিরিক্ত প্রোটিন–জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত নয়। তবে শর্করা, চর্বিজাতীয় খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে।

● সহজপাচ্য খাবার খেলে ভালো। ভাজাপোড়া ও বাইরের খাবার এড়াতে হবে।

● নির্দিষ্ট কিছু অবস্থা ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

এ ছাড়া যাদের যকৃতের সমস্যার সঙ্গে অন্যান্য সমস্যা আছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার খেতে হবে।

Ref; https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE

12
চলছে লকডাউন। দিনে রাস্তায় কিছু মানুষ আর যানবাহনের চলাচল, পুলিশের নজরদারি, কাগজপত্র দেখাদেখি থাকলেও রাতে সব সুনসান। কিন্তু রাতের নীরবতা ভেদ করে একটা অ্যাম্বুলেন্স যেন বাসার সামনের গলি দিয়ে শাঁ করে এগিয়ে গেল সাইরেন দিতে দিতে। হয়তো কেউ ভয়ানক শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। মনে হলো হয়তো আরেকজন মরণাপন্ন রোগীকে নিয়ে এবার হাসপাতালে হাসপাতালে ছুটতে থাকবেন তাঁর স্বজনেরা। কেউ হয়তো প্রিয়জনকে আঁকড়ে ধরে রাখবেন। অনেকেই এখন লুকিয়ে না থেকে মুখোমুখি হচ্ছেন ভাইরাসের। আক্রান্ত স্বজনের পাশে থেকে করছেন দেখভাল।

এই করোনা সেবারের করোনার মতো নয়। একেবারে অন্য রকম। ভয়ানক ছোঁয়াচে। বিচিত্র রূপ নিয়ে এবার এল এই দাপুটে ভাইরাস। কত রূপ এর; দক্ষিণ আফ্রিকার ধরন, বিলেতি ধরন, ব্রাজিলের ধরন। আজকাল তো শুনছি ভারতীয় ধরনের কথাও। ডাবল মিউটেনট ভাইরাস। ভোল পাল্টে পাল্টে হয়ে যাচ্ছে বেশি ভয়াল। এ সময় যাঁদের করোনা হচ্ছে, তা আক্রমণ বেশি বলছেন তাঁর স্বজনেরাও। ‘মাত্র কথাবার্তা হলো, সব স্বাভাবিক, হঠাৎ মায়ের শ্বাসকষ্ট শুরু হলো।’ বলছিলেন মিন্টু পাল।

কোভিড–১৯ আক্রান্ত হলে শুরুতেই রোগীকে আলাদা করে দেওয়া হয়। আলাদা বাথরুম। জিনিসপত্র আলাদা। বাড়ির বাকিরাও থাকতেন দূরে। এখন যেন একটু সাহসী হয়েছেন অনেকে। আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নিয়েই অনেকে থাকছেন স্বজনের কাছে। তাঁর সেবা করছেন কাছ থেকে। আগে বেশির ভাগ রোগীর ঘরের বাইরে খাবার দিয়ে রাখা হতো। আর রোগী দরজা খুলে খাবার নিয়ে নিতেন। তবে ঘরের জানালা খুলে রাখা দরকার। কারণ, বায়ু চলাচল চাই।

রোগীর কাছে থাকতে হলে

যদি করোনা রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক থাকে, তাহলে তিনি একা থাকাই ভালো। ঘরে যতক্ষণ রোগী আছেন, অনেক সময় তাঁর সহযোগিতার দরকার হয়। কোনো কারণে রোগীর ঘরে গেলে অবশ্যই দুজনেরই মাস্ক পরা চাই। ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন নিয়মিত। টেলিমেডিসিন সেবা তো চালু আছেই।

যদি করোনা রোগীর সেবা দরকার হয়, তিনি যদি কারও সাহায্য ছাড়া অসুবিধায় পড়েন তাহলে বাসায় একাধিক সদস্য থাকলে যিনি অপেক্ষাকৃত বয়সে তরুণ ও কম ঝুঁকিপূর্ণ, তাঁকে রোগীর ঘরে দরকারে পাঠাতে পারেন। রোগীর ঘরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। দুটি মাস্ক পরলে ঝুঁকি আরও কমে আসবে। যিনি সেবা করছেন, তিনিও কোয়ারেন্টিন মেনে চলা দরকার। পরিবারের বাকিরা তাঁদের থেকে একটু সাবধান থাকতে পারেন। যাঁরা রোগীর সংস্পর্শে আসেন, সেবা করেন, তাঁদের কমপক্ষে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন দরকার হয়। একজন আক্রান্ত হলে বাসার সবারই পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো। বয়স্ক আর যাঁদের অন্য ক্রনিক রোগ আছে (যে কারণে দেহের ইমিউন ব্যবস্থা দমে যায়) এদের ঝুঁকি খুব বেশি, তাই এমন লোক নিজে ‘কেয়ার গিভার’ হওয়াও ঠিক না। যাঁরা টিকা নিতে পেরেছেন, তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি কম। গুরুতর হচ্ছে কম।

রোগীর যত্নে যাঁরা পাশে থাকবেন, সে বিষয়ে সিডিসি কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে—যত দূর সম্ভব রোগীর খুব কাছে না যাওয়া। মাস্ক ছাড়াও ফেসশিল্ড পরে হাতে গ্লাভস পরে অন্তত তিন ফুট দূরে থাকতে হবে। যদি আলাদা ঘর না থাকে, রোগীর সঙ্গে একই ঘরে থাকতে হয়, তাহলে দূরত্ব রেখে ঘুমান। খেয়াল রাখবেন এমন ঘরে যেন বায়ু চলাচল খুব ভালো থাকে।

এই সময়ে ঘরে অতিথি আসা একেবারে বারণ। রোগী খাবেন আলাদা ঘরে বা যে ঘরে তিনি থাকবেন, তাঁর খাবার ঘরের বাইরে দরজার পাশে রেখে দিলে তিনি নিয়ে নেবেন, বাসনপত্র হবে আলাদা। সাবান, তোয়ালে, ব্রাশ থাকবে আলাদা। দরকার হলে রোগীর এসব জিনিসপত্র একটা ছোট্ট ব্যাগে ভরে রাখুন।

কেয়ার গিভার যাতে নিজে অসুস্থ না হন, সে জন্য প্রতিদিন নিয়মিত প্রতিরোধব্যবস্থা নিতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। চোখ, নাক, মুখ ছোঁয়া যাবে না। আর পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে পোশাকেও। ধুয়ে ফেলতে হবে পোশাকও। রোগীর নিত্য ব্যবহার করা জিনিসপত্র নিজে ধুয়ে নিতে পারলে ভালো। এই যেমন: গ্লাস, থালা, জগ, বাটি ইত্যাদি। যদি রোগীর বাসনকোসন কেয়ার গিভারের পরিচ্ছন্ন করতে হয়, তবে হাতে গ্লাভস পরে, সাবান আর গরম জলে ধুতে হবে। এরপর সাবধানে গ্লাভস খুলে আবার হাত সাবানজলে ২০ সেকেন্ড ধুয়ে নিতে হবে।

রোগীর কোনো জিনিসপত্র কেয়ার গিভারের ব্যবহার করা যাবে না। নিজে মাস্ক পরবেন আর রোগীর ঘরে ঢোকার আগে রোগীকেও মাস্ক পরতে বলুন।

রোগীর মলমূত্র, রক্ত, লালা ধরতে হলে হাতে গ্লাভস পরতে হবে আর এগুলোর কাজ শেষ হলে গ্লাভস খুলে বর্জ্য বিনে ফেলতে হবে। তারপর আবার হাত সাবানজলে ভালো করে ধুতে হবে। রোগীর জন্য সম্ভব হলে আলাদা বাথরুম রাখুন। আর একই বাথরুম ব্যবহার করতে হলে, রোগী যেসব জায়গা ছোঁবেন, সেসব জায়গা দ্রুত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন করে ফেলতে হবে।

হাসপাতালে থাকতে হলে

অনেক রোগীর অবস্থা এমন হয় যে ছুটতে হয় হাসপাতালে। মা–বাবা, সন্তান বা স্বামী–স্ত্রীর একজন অসুস্থ হলে অপরজনকে যেতে হয় তাঁর সঙ্গে। তখন প্রিয়জনেরা থাকেন প্রবল দুশ্চিন্তায়, থাকে উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ তবু নিজেদের সুরক্ষা যেন তাঁরা ভুলে না যান। ভুলে গেলে চলবে না, হাসপাতালের ওয়ার্ড বা কেবিন হলো সংক্রমণের উষ্ণ শয্যা। তারপরও অ্যাটেনডেন্ট কাউকে থাকতে হয়। কারণ, নানা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনাকাটা, অনেক সময় খাবার বা অন্য দরকারি জিনিস দরকার হয়। রোগীর পুরো সময় দেখভাল করতেও একজনকে থাকতে হয়।

পরিবারের যিনি রোগীর সঙ্গে থাকবেন, তিনি স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানবেন। সব সময় মুখে মাস্ক পরে থাকা, তিন ফুট দূরত্ব রাখার সঙ্গে স্যানিটাইজার রাখা দরকার। হাত বারবার স্যানিটাইজার দিয়ে পরিচ্ছন্ন করা, সম্ভব হলে সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়া আর হাতে গ্লাভস পরা ভালো। কোনো কিছু না ছোঁয়া ভালো, ছুঁতে হলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। আর কখনো হাত দিয়ে নাক, মুখ ও চোখ না ছোঁয়া বিষয়টা মেনে চলতে হবে।

ঘরে ফিরে এলে সাবানজল দিয়ে স্নান সেরে নিন। গরম জল আর সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন পরনের পোশাক। দরজার বাইরে থাকবে জুতা। মাস্ক ব্যবহার করলে তা ফেলে দিতে হবে সাবধানে। নিজের মন শান্ত রাখতে হবে। আপনার মনে জোর দেখে রোগীরও মন ভালো থাকবে। ১০ মিনিট গভীর শ্বাসক্রিয়া, ধ্যান অনেক শক্তি দেয় মনে। নিজেরা পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

অনেক সময় রোগীকে আশ্বস্ত করা বা শান্ত করার কাজ হয়ে পড়ে কঠিন। স্বাস্থ্যকর্মীরা এতটা বোঝার সময় পান না। আবার বিদেশের মতো আমাদের দেশের রোগীর আত্মীয়স্বজন কাছে না থাকলে অনেক সময় চিকিৎসার সমস্যা হয়, রোগীর ওষুধ থেকে শুরু করে অনেক চাহিদা তাঁদের পূরণ করতে হয়। কেবল ওষুধ আনাই নয়, খাইয়েও দিতে হয় রোগীকে। তাই যিনি রোগীর সঙ্গে থাকবেন তাঁর নিজের সুরক্ষা খুব প্রয়োজন।

Ref: https://www.prothomalo.com/feature/adhuna/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%87

13
চলছে পবিত্র রমজান মাস। গ্রীষ্মের এই তাপদাহে সারা দিন রোজা রাখার ফলে ক্লান্তি, অবসাদ, পানিশূন্যতা হওয়া স্বাভাবিক। তাই এ সময় সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর সহজপাচ্য স্বাস্থ্যকর ইফতার খুব গুরুত্বপূর্ণ। দিন শেষে সঠিক পুষ্টি ও পর্যাপ্ত পানি পেলে শরীরের ক্লান্তি দূর হতে খুব বেশি সময় লাগে না।

ইফতারের সময় যা লক্ষ রাখবেন
রোজায় ইফতারি দিনের একটি প্রধান খাবার। কাজেই এ সময় খাদ্যতালিকায় শর্করা, আমিষ, ফ্যাট, খনিজের যথাযথ সমাহার থাকতে হবে।

ইফতারের সময় একবারে অনেক পরিমাণে না খেয়ে ধীরে ধীরে খেতে হবে। সময় নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। তাড়াহুড়া করা যাবে না। খাওয়ায় তাড়াহুড়া করলে হজমের সহায়ক এনজাইমগুলো নিঃসৃত হওয়ার ও খাদ্যে মেশার সুযোগ পায় না।

ইফতারে প্রচুর তরল ও পানি পান করবেন। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত, কৃত্রিম জুস, কোমল পানীয় পরিহার করে তাজা ফল এবং দই দিয়ে স্মুদি, দই-চিড়া, ডাব, লেবু–পানি ইত্যাদি পান করুন। এ ছাড়া তরমুজ, আনারস, বেল, শসা, পেয়ারায় যথেষ্ট পানি রয়েছে। রোজায় চা-কফি খুব বেশি পান না করাই ভালো।

প্রাকৃতিক ও জটিল শর্করা রাখুন ইফতারে। যেমন চিড়া, হোল গ্রেন পাস্তা, নুডলস, ব্রাউন ব্রেডের স্যান্ডউইচ, লাল চালের খিচুড়ি খেতে পারেন। ফলের মধ্যে খেজুর, কলা, পাকা আম যথেষ্ট শক্তি সরবরাহ করে।

ভাজাপোড়া এড়াতে তেল যথাসম্ভব কম ব্যবহার করুন। বাইরের খাবার না খেয়ে ঘরে তৈরি খাবারেই বৈচিত্র্য আনা যায়। রোজ তেলে ভাজা খাবার না খেয়ে মাঝেমধ্যে স্বাদ বদলাতে অন্য আইটেম করুন।

স্বাস্থ্যকর ইফতারির কিছু মেনু
 সবজি, মাশরুম, চিংড়ি, মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি স্যুপ। একটা ডিমের সাদা অংশ মেশালে আরও আমিষ পাবেন।

চিড়া ধুয়ে ভিজিয়ে খেজুর, মধু, বাদাম, কলা দুধ দিয়ে সিরিয়াল বানালে তা খুবই পুষ্টিকর ও শীতল খাবার হবে।

সামান্য তেলে ভাজা খাবার, গ্রিল, স্টিম করা সবজি বা মুরগির মোমো খেতে পারেন ইফতারে।

ছোলা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে বা সেদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, শসা, টমেটো, পুদিনা ও সামান্য শর্ষের তেল মিশিয়ে সালাদ বানাতে পারেন।

ইফতারে দুধের তৈরি খাবার রাখুন মাঝেমধ্যে। যেমন ফালুদা, কাস্টার্ড, পুডিং ও পায়েস।

সবজি দিয়ে নুডুলস, চিকেন স্যান্ডউইচ খাওয়া যেতে পারে ইফতারে।

Ref; https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A6%B0-%E0%A6%87%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF

14
করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই পবিত্র রমজান মাস উপস্থিত। এবার অনেক বাড়িতেই করোনা সংক্রমিত রোগী রয়েছেন। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, করোনা নিয়েও রোজা রাখা সম্ভব কি না।

করোনা রোগীদের একটি বড় অংশই প্রায় উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযুক্ত। এ ধরনের রোগীদের রোজা করতে বাধা নেই। তবে যাঁরা মাঝারি বা তীব্র মাত্রার সংক্রমণে ভুগছেন, অক্সিজেন বা ইনজেকশন চলছে কিংবা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন অথবা যাঁদের গুরুতর অন্য রোগ রয়েছে, বয়স্ক—এমন করোনা রোগীদের রোজা না রাখাই উচিত। এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শ পেতে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে নেওয়াই ভালো।

করোনার মৃদু উপসর্গ নিয়ে রোজা করতে চাইলেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

ইফতার বা সাহ্‌রিতে অবশ্যই আইসোলেশনের সব নিয়ম মানতে হবে। প্রয়োজন ও সময় অনুযায়ী খাবার, পানি, পানীয় রোগীর ঘরের সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রেখে আসতে হবে। রোগী সবার সঙ্গে এক টেবিলে বসে ইফতার-সাহ্‌রি করতে পারবেন না। খাবার খাওয়ার পর উচ্ছ্বিষ্ট রোগী নিজেই একটি ময়লার ঝুড়িতে ব্যাগে ভরে ফেলবেন। সম্ভব হলে নিজের থালা-গ্লাস নিজেই ধুয়ে নেবেন।

জ্বর, কাশি, স্বাদ-গন্ধহীনতা বা করোনার মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগী, পজিটিভ বা নেগেটিভ যা-ই হোন না কেন, অবশ্যই মসজিদে তারাবিহর নামাজ পড়তে যাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। মনে রাখতে হবে, কারও কারও ক্ষেত্রে করোনার সংক্রমণ থাকা সত্ত্বেও কারিগরি ত্রুটির কারণে পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসতে পারে। তাই উপসর্গ থাকলে ঘরেই থাকুন। বাড়িতে ইবাদত করুন।

করোনা বা অন্য যেকোনো সংক্রমণে শরীর দ্রুত পানি হারায়। বিশেষ করে জ্বর থাকলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই প্রচুর পানি পান করতে হবে। রোজা রাখলে এ বিষয়ে আরও বিশেষভাবে নজর দিন। ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত প্রচুর পানি পান করুন। ডাবের পানি, ফলের রস, স্যুপ, তাজা ফলমূল, যেমন শশা, তরমুজ, আপেল, মাল্টা ইত্যাদি খেতে হবে। অনেক সময় করোনা রোগীর রক্তে খনিজ স্বল্পতা, রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে অনেক।

যথেষ্ট ঘুম ও বিশ্রাম দরকার। নিজের ঘরে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় বিশ্রাম নিন। মাঝেমধ্যে হালকা হাঁটাহাঁটি বা পায়ের ব্যায়াম করুন। অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করবেন না। তারাবিহর নামাজ পুরোটা পড়তে ক্লান্ত লাগলে সংক্ষিপ্ত করে নিন।

দিনে-রাতে অনেকবারই পালস অক্সিমিটার দিয়ে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপ করুন, হৃৎস্পন্দন দেখুন। সম্ভব হলে রক্তচাপ মাপুন। প্রস্রাবের পরিমাণ ও রং লক্ষ করুন। যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁরা রক্তের শর্করা বারবার মাপুন। টেলিফোনে বা ইন্টারনেটে স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, মাথা হালকা বোধ হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন বেশি বা কম মনে হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অবসাদ, সামান্য পরিশ্রমে অস্থির বা ভীষণ অবসাদগ্রস্ত মনে হলে রোজা ভাঙতে পারেন। এ ছাড়া অক্সিজেন স্যাচুরেশন নেমে যেতে থাকলে অবশ্যই রোজা ভাঙুন। বিষয়টি দ্রুত পরিবারের সদস্যদের জানান।

Ref; https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%BE

15
চলছে পবিত্র রমজান মাস। গ্রীষ্মের এই তাপদাহে সারা দিন রোজা রাখার ফলে ক্লান্তি, অবসাদ, পানিশূন্যতা হওয়া স্বাভাবিক। তাই এ সময় সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর সহজপাচ্য স্বাস্থ্যকর ইফতার খুব গুরুত্বপূর্ণ। দিন শেষে সঠিক পুষ্টি ও পর্যাপ্ত পানি পেলে শরীরের ক্লান্তি দূর হতে খুব বেশি সময় লাগে না।

ইফতারের সময় যা লক্ষ রাখবেন
 রোজায় ইফতারি দিনের একটি প্রধান খাবার। কাজেই এ সময় খাদ্যতালিকায় শর্করা, আমিষ, ফ্যাট, খনিজের যথাযথ সমাহার থাকতে হবে।

ইফতারের সময় একবারে অনেক পরিমাণে না খেয়ে ধীরে ধীরে খেতে হবে। সময় নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। তাড়াহুড়া করা যাবে না। খাওয়ায় তাড়াহুড়া করলে হজমের সহায়ক এনজাইমগুলো নিঃসৃত হওয়ার ও খাদ্যে মেশার সুযোগ পায় না।

ইফতারে প্রচুর তরল ও পানি পান করবেন। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত, কৃত্রিম জুস, কোমল পানীয় পরিহার করে তাজা ফল এবং দই দিয়ে স্মুদি, দই-চিড়া, ডাব, লেবু–পানি ইত্যাদি পান করুন। এ ছাড়া তরমুজ, আনারস, বেল, শসা, পেয়ারায় যথেষ্ট পানি রয়েছে। রোজায় চা-কফি খুব বেশি পান না করাই ভালো।

প্রাকৃতিক ও জটিল শর্করা রাখুন ইফতারে। যেমন চিড়া, হোল গ্রেন পাস্তা, নুডলস, ব্রাউন ব্রেডের স্যান্ডউইচ, লাল চালের খিচুড়ি খেতে পারেন। ফলের মধ্যে খেজুর, কলা, পাকা আম যথেষ্ট শক্তি সরবরাহ করে।

ভাজাপোড়া এড়াতে তেল যথাসম্ভব কম ব্যবহার করুন। বাইরের খাবার না খেয়ে ঘরে তৈরি খাবারেই বৈচিত্র্য আনা যায়। রোজ তেলে ভাজা খাবার না খেয়ে মাঝেমধ্যে স্বাদ বদলাতে অন্য আইটেম করুন।

স্বাস্থ্যকর ইফতারির কিছু মেনু
 সবজি, মাশরুম, চিংড়ি, মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি স্যুপ। একটা ডিমের সাদা অংশ মেশালে আরও আমিষ পাবেন।

চিড়া ধুয়ে ভিজিয়ে খেজুর, মধু, বাদাম, কলা দুধ দিয়ে সিরিয়াল বানালে তা খুবই পুষ্টিকর ও শীতল খাবার হবে।

সামান্য তেলে ভাজা খাবার, গ্রিল, স্টিম করা সবজি বা মুরগির মোমো খেতে পারেন ইফতারে।

ছোলা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে বা সেদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, শসা, টমেটো, পুদিনা ও সামান্য শর্ষের তেল মিশিয়ে সালাদ বানাতে পারেন।

ইফতারে দুধের তৈরি খাবার রাখুন মাঝেমধ্যে। যেমন ফালুদা, কাস্টার্ড, পুডিং ও পায়েস।

সবজি দিয়ে নুডুলস, চিকেন স্যান্ডউইচ খাওয়া যেতে পারে ইফতারে।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A6%B0-%E0%A6%87%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF

Pages: [1] 2 3 ... 24