Daffodil International University

Health Tips => Health Tips => Psychological Disorder => Topic started by: Jannatul Ferdous on June 14, 2016, 11:02:41 AM

Title: শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় প্রয়োজন পরিমাণমতো ঘুম
Post by: Jannatul Ferdous on June 14, 2016, 11:02:41 AM
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় প্রয়োজন পরিমাণমতো ঘুম

শারীরিক কিংবা মানসিক রোগ প্রতিরোধের জন্য পরিমাণমতো ঘুমানো প্রয়োজন। ঘুম মানুষের ক্লান্তি দূর করে এবং পরবর্তী দিনের কর্মকান্ডের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে। দৈনন্দিন কত ঘন্টা ঘুমালে শরীর-মন সুস্থ থাকবে এমন প্রশ্ন অনেকের মনে দেখা দিতে পারে।
ক্লান্তি দূর করে পূনরায় কর্ম-উদ্দিপনা নিয়ে আসতে দৈনন্দিন কত ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন তা নিয়ে গবেষণা চালায় ‘ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা। প্রতি বছর এ নিয়ে তারা রিপোর্ট প্রকাশ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির রিপোর্ট অনুযায়ী, সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দৈনন্দিন সাত ঘন্টা ঘুমানো উত্তম। অতিরিক্ত কম কিংবা বেশি ঘুমালে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য সচরাচর ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানোর কথা বলে থাকেন। তবে নিয়মিত সাত ঘন্ট ঘুমালে মানুষ সুস্থ থাকে এবং আয়ু বৃদ্ধি পায় বলে জানান অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শান ইয়ংস্টেড। তিনি বলেন, সাত ঘন্টা যারা ঘুমান তাদের আয়ুষ্কাল বেশি হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ গড়ে ৭ ঘন্ট ১৩ মিনিট ঘুমিয়ে তারো বেশি তৃপ্ত থাকেন। সপ্তাহের অন্যান্য দিনে গড়ে ৬ ঘন্টা ৩১ মিনিট ঘুমালেও ছুটির দিনে তারা ৭ ঘন্টা ২২ মিনিট ঘুমিয়ে তৃপ্ত থাকেন।
২০১৫ সালে ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন’ (The Centers for Disease Control and Prevention) যে গবেষণা করে তাতে দেখা যায়, নিয়মিত ও পরিমাণতমো যারা ঘুমান তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্যদের চেয়ে বেশি।
এ গবেষণায় ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ক্রিপক্যা ৬ বছর যাবত ১ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষের মতামত নেন। তিনি দেখতে পান, ৬ ঘন্টা ৫০ মিনিট থেকে ৭ ঘন্টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত যারা ঘুমান তাদের মৃত্যূর হার যারা বেশি ঘুমান তাদের চেয়ে কম।
তবে ড. মরগ্যান হলার বলেন, সংস্কৃতি এবং বংশগত কারণে ঘুমের সময় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ভীন্ন হতে পারে। সুস্থ মানুষের জন্য সাত কিংবা আট ঘণ্টা না বরং ঘুমানোর পর উপলব্ধি করতে হবে যতঘন্টা তিনি ঘুমিয়েছেন তা তার জন্য পর্যাপ্ত কিনা।
ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের গবেষণায় দেখা যায়, ব্যক্তির ঘুমের সময় (ঘন্টায়) বয়সভেদে ভিন্ন। বিভিন্ন বয়সের মানুষের জন্য ঘুমের সময় নিয়ে তাদের যে প্রতিবেদন তাতে বলা হয়, শিশুজন্মের প্রথম দিন থেকে ৩ মাস পর্যন্ত দৈনন্দিন ১৪-১৭ ঘন্টা ঘুমানো উত্তম।
এছাড়া-
√ ৪ মাস থেকে ১১ মাস বয়সীদের জন্য ১২-১৫ ঘন্টা
√ ১ বছর থেকে ২ বছর বয়সীদের জন্য ১১-১৪ ঘন্টা
√ ৩ বছর থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্য ১১-১৩ ঘন্টা
√ ৬ বছর থেকে ১৩ বছর বয়সীদের জন্য ৯-১১ ঘন্টা
√ ১৪ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য ৮-১০ ঘন্টা
√ ১৮ বছর থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্য ৭-৯ ঘন্টা
√ ২৬ বছর থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য ৭-৯ ঘন্টা
√ ৬৫ বা তার উর্ব্ধে বয়স যাদের তাদের জন্য ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানো উত্তম।
সূত্র: ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
Title: Re: অনিদ্রার কারণে বাড়ছে মানসিক রোগ
Post by: Jannatul Ferdous on June 14, 2016, 11:03:18 AM
অনিদ্রার কারণে বাড়ছে মানসিক রোগ

ঘুমের সাথে মানুষের শরীর ও মনের সরাসরি যোগসূত্র আছে। সময়মতো ঘুম না আসা কিংবা পর্যাপ্ত ঘুমাতে না পারলে শরীর ও মনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরিমাণ মতো ঘুম না হলে স্থূলতা, স্ট্রোক, ডায়েবেটিস প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হওয়ার যেমন সম্ভাবনা থাকে তেমনি সম্ভাবনা থাকে হতাশা ও উদ্বিগ্নতার মতো মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ারও।
এবিসি নিউজে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ঘুম স্বল্পতার কারণে মানুষের মনের ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। এছাড়া নিদ্রাহীনতা খাদ্যাভ্যাস, রক্তসঞ্চালন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এবং মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বোস্টনের ওমেন’স হসপিটালের (Women’s Hospital in Boston) ঘুম বিশেষজ্ঞ ডা. সুসান রেডলিন বলেন, ঘুমের সাথে জৈবিক কর্মকান্ডের গভীর যোগসূত্র আছে। ঘুম স্বল্পতার কারণে মানুষের মেজাজ প্রভাবিত হয় যার প্রভাব পড়ে শরীর ও মনে।
নিদ্রাহীনতা তথা দৈনন্দিন ৬ ঘন্টার নিচে ঘুম হলে হার্টের রোগ এমনকি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত  হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় বলে খবরে বলা হয়।
খবরে বলা হয়, দীর্ঘকাল ধরে ব্যক্তি নিদ্রাহীনতায় ভুগলে হতাশা ও উদ্বিগ্নতার (Anxiety and Depression) মতো জটিল মানসিক রোগে ভুগতে পারেন।
দীর্ঘদিন নিদ্রাহীনতার কারণে মানুষের মধ্যে অস্থির স্বভাব কাজ করে এবং ক্রমে হতাশা, উদ্বিগ্নতা ও কম আত্মতৃপ্তিতে ভোগে বলে জানান University of Iowa এর ঘুমব্যাধি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মার্ক ডাইকেন। নিদ্রাহীনতা ব্যক্তির কর্মজীবন এমনকি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আসতে পারে বলে জানান তিনি।
ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে তাই সময়মতো এবং পরিমাণ মতো ঘুমানোর উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।