Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: 1 ... 25 26 [27] 28
391
অপার মহিমার মাস রমজান। আত্মশুদ্ধি-আত্মগঠনের এ মাসে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তোষ অর্জনের জন্য ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রমজান মাসকে সঠিকভাবে পালনে করণীয় ও বর্জনীয়সহ নানা বিষয়ে জানার থাকে মুসল্লিদের। এজন্য মাহে রমজানে বাংলানিউজের বিশেষ আয়োজন ‘আপনার জিজ্ঞাসা’।
প্রশ্ন: কী কী কারণে রোজা  ভাঙে না?
উত্তর:
০১. অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতর ধুলা-বালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করা।
০২. অনিচ্ছাকৃত কানে পানি প্রবেশ করা।
০৩. অনিচ্ছাকৃত বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃত অল্প পরিমাণ বমি করা (মুখ ভরে নয়)।
০৪. বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে যাওয়া।
০৫. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা।
০৬. ইনজেকশন নেওয়া।
০৭. ভুলক্রমে পানাহার করা।
০৮. সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ নেওয়া।
০৯. নিজ মুখের থু-থু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করা।
১০. শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করা।
১১. ঠাণ্ডার জন্য গোসল করা।
১২. দিনের বেলায় ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হওয়া।
১৩. মিসওয়াক করা। যদিও মিসওয়াক করার ক্ষেত্রে দাঁত থেকে রক্ত বের হয়। তবে শর্ত হলো গলার ভেতর না পৌঁছানো।
১৪. ভুলে পানাহার করলে।
১৫. স্ত্রীলোকের দিকে তাকানোর কারণে বীর্যপাত হলে।
১৬. স্ত্রীকে চুম্বন করলে, যদি বীর্যপাত না হয় (রোজা না ভাঙলেও এটা রোজার উদ্দেশের পরিপন্থি)।
১৭. দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা গোশত খেয়ে ফেললে (যদি পরিমাণে কম হয়), পরিমাণ বেশি হলে রোজা ভেঙে যাবে।

সূত্র:http://www.banglanews24.com/islam/news/bd


392
রমজান মাস, এতে নাজিল হয়েছে পবিত্র আল-কোরআন, যা মানুষের দিশারি এবং স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী। এ মহিমান্বিত মাসটি ইবাদতের মাস, শয়তানকে এ মাসে বন্দি করে রাখা হয় শেকলে। খুলে দেওয়া হয় জান্নাতের দরজাগুলো।
রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে বোখারি শরিফের একটি হাদিসের উল্লেখ করে  বলা হয়েছে একদিন এক বেদুইন নবী (সা.) এর কাছে এসে বললো, ‘আমাকে এমন একটি কাজের সন্ধান দিন, যা করলে আমি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারি’। নবী (সা.) বললেন, ‘আল্লাহর ইবাদত করো, তার সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করো না, ফরজ নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং রমজান মাসের রোজা রাখো’। লোকটি বললো, ‘আল্লাহর শপথ! আমি এর চেয়ে বেশি কিছু করবো না’। যখন লোকটি ফিরে গেল তখন নবী (সা.) বললেন ‘বেহেশতি লোক দেখার যার ইচ্ছা, সে যেন এ ব্যক্তিকে দেখে’।
মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বরকতময় রমজান মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শেকলবন্দি করে রাখা হয় শয়তানকে, যেন সে মানুষকে প্ররোচনা দিতে না পারে।
রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য বেহেশতে ‘রায়্যান’ নামের একটি দরজা বানানো হয় উল্লেখ করে এই আলেম বলেন, সাহাল ইবনে সাআ’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন- ‘বেহেশতের আটটি দরজা রয়েছে। এগুলোর একটির নাম রায়্যান। এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন’।
রমজানে জাহান্নাম থেকে বান্দার মুক্তি লাভের ব্যাপারে মাওলানা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, রমজান মাসের প্রথম রাত থেকেই শয়তান এবং দুষ্ট, খারাপ জ্বিনদের বন্দি করে রাখা হয় এবং বন্ধ করে দেওয়া হয় জাহান্নামের সমস্ত দরজা। রমজানে রোজা ও কিয়ামুল্লাইল বা তারাবী আদায়কারী কেয়ামতের দিন সিদ্দিক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে।
তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রমজানের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত, সে চরমভাবে হতভাগ্য। এ প্রসঙ্গে তিনি হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) এর একটি হাদিসের উল্লেখ করেন। হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেন, ‘এই মাস তোমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে, এতে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে সর্বপ্রকার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে’। তাই এ আলেম বলেন, রমজান পেয়েও যে ব্যক্তি পাপ থেকে মুক্ত হতে পারেনি, তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য। ফেনীর ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান আলিয়া কামিল মাদ্রাসার এ অধ্যক্ষ আরও বলেন, রমজান শুধু রাসূল     (সা.) এর উম্মতদের ওপর ফরজ করা হয়নি, ফরজ করা হয়েছিল পূর্ববর্তী নবী ও রাসুলদের উম্মতদের ওপরও।
এ ব্যাপারে তিনি পবিত্র কোরানের সুরাহ বাকারার ১৮৩ নং আয়াতের উল্লেখ করেন। আয়াতে বলা হয়েছে ‘হে ইমানদারগণ-তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর।  যেন তোমরা খোদাভীরুতা অর্জন করতে পারো।’
মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, রমজান মাস আল্লাহ তায়ালার বিশেষ ইবাদত ও প্রশংসাবাদের মাস।     রমজান মাস হলো সে মাস, যে মাসে নাযিল হয়েছে মহাপবিত্র আল-কোরআন। তিনি বলেন এ মাসের ইফতার, সেহরি সবই অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রোজা অবস্থায় গীবত করা, মিথ্যা বলা, গালমন্দ করা, ঝগড়া-বিবাদ করা, অশ্লীল কাজ কর্ম করা, দেখা ও শোনা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে অন্যায়ভাবে লাভ করা নাজায়েয।
পরিশেষে বিশিষ্ট এ আলেম বলেন, রমজানের ফজিলত ও গুরুত্বের প্রতি খেয়াল রেখে সবার উচিৎ তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে গুনাহ মাপের চেষ্টা করা। কারণ কারও কারও হয়তো এটিই জীবনের শেষ রমজান। রমজানের রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের সুযোগ থেকে যেন নিজে এবং সমাজের অন্যরা বঞ্চিত না হয় তার খেয়াল রাখা প্রত্যেক ইমানদারের দায়িত্ব।
   
  সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
     আপডেট: ২০১৮-০৫-২৬

393
ঢাকা: কাঁচা ও অপরিপক্ক ফলকে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হয় এটা লোক চোখে পড়েছে অনেক আগেই। তবে তাপ দিয়ে ফল পাকানোর কথা অনেকেরই অজানা। যে পদ্ধতিটি এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে। এতে ফলের স্বাদ যেমন কমেছে, একই সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও।
যেকোনো উৎসবকে পুঁজি করে বেশি দামে ফল বিক্রির লোভে তাপ দেওয়ার পদ্ধতিটি হাতে নেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এতে ভোক্তার স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থাকলেও ব্যবসায়ীদের পকেট ভরছে নিয়মিত।
 
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এ পদ্ধতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। প্রতিটি ফলের আড়তেই এখন দেখা মিলছে এভাবে ফল পাকানোর দৃশ্য। ফলভেদে পাকানোর সময়ও ভিন্ন। কোনো কোনো ফল এভাবে পাকাতে দুই দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
 
কারওয়ান বাজারের ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অপরিপক্ক যেকোনো ফলই তাপ দিয়ে পাকানো সম্ভব। এ তাপ পদ্ধতিতে আম পাকাতে তিন দিন সময় লাগে। পেঁপে দুই দিন, কলা চার দিন। এভাবে ফল পাকানোর পর এখান থেকেই পাইকারি দরে বিক্রি হয়। পরে খুচরা ক্রেতাদের মাধ্যমে তা চলে যায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজার বা অলি-গলিতে।
 
এ বিষয়ে মায়ের দোয়া ফল ভাণ্ডারের মালিক আলমগীর বাংলানিউজকে বলেন, হিট দিয়ে ফল পাকানো হলেও কোনো রাসায়নিকের ব্যবহার নেই। এক্ষেত্রে ফলটি নিরাপদ। যদিও পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন হিট দিয়ে পাকানো ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।
 
আল আমিন আজাদ নামে এক ভোক্তা বাংলানিউজকে বলেন, হিট দিয়ে ফল পাকানোর কারণে ফলের স্বাদ আগের মতো পাওয়া যায় না। আগে একটি পেঁপে যেমন মিষ্টি লাগত, এখন সেটা মনে হয় না। তবে এতে প্রশাসনের নজরদারি থাকলে হয়ত এভাবে ফল পাকাতে পারতেন না ব্যবসায়ীরা।
 
বাজারে যেসব পাকা ফল দেখা যায় সেগুলো গাছে পাকা ফল বলে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এই পাকা ফলটিই হিট দিয়ে পাকানো হয় কারওয়ান বাজারের
বিভিন্ন আড়তে।যেভাবে হিট দিয়ে ফল পাকানো হয়: কারওয়ান বাজারের প্রায় প্রতিটি ফলের আড়তের মধ্যেই রয়েছে ইট দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের ছোট ছোট ঘর। এই ঘরের মধ্যে একটি ছোট দরজা থাকে। দরজা দিয়ে ফলগুলো ভালো করে সাজানো হয়। মাঝখানে একটা ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। সেই জায়গাতে কাঠের গুঁড়োর আগুন দিয়ে ধোঁয়া তৈরি করা হয়। এভাবে ধীরে ধীরে চলতে থাকে আগুন ও ধোঁয়া। এই আগুনের হিটেই অপরিপক্ক ফলগুলো লাল আকার ধারণ করে। পরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সেটি ছড়িয়ে পড়ে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, এ ধরনের ফল খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে ফলের পরিপূর্ণ কোনো গুণাগুণ থাকে না।এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, হিট দিয়ে পাকানো ফলের পুষ্টিগুণ ঠিক থাকে না। এটাতে অনেক সময় পোড়া গন্ধ পাওয়া যায়। এ ধরনের ফল খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণই বেশি হবে।
তিনি বলেন, এসব ফল খেলে এলার্জিসহ নানা ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণ ভোক্তাদের এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন এ পুষ্টিবিদ। একই সঙ্গে প্রশাসনকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ারও আহবান জানান তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম অজিয়র রহমান বাংলানিউজকে বলেন, প্রশাসন এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। আশা করছি, কম সময়ের মধ্যেই এটার একটা সমাধান পাওয়া যাবে।
তিনি এও বলেন, বর্তমান সরকার এবার আম খাওয়ার ব্যাপারে জেলাভিত্তিক নির্দেশনা দিয়েছে। তাছাড়া প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সূত্র:| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৫-২৩


394
ইসলামের মূল ভিত্তি ৫টি। কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত। নামাজ, হজ, যাকাত যেমন ফরজ; ঠিক তেমনি রোজাও ফরজ। এই পাঁচটি ফরজ বিধানের কোনো একটিকে অস্বীকারকারী কাফের।
পবিত্র রমজান মাসে ২৯ বা ৩০ দিন সুবহে সাদিকের পূর্ব থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কিছু পান-আহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার নামই রোজা। রোজা ফারসি শব্দ। আরবি হচ্ছে সিয়াম। সিয়াম অর্থ বিরত থাকা।
মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি শরীয়তের অনুমোদন কিংবা কঠিন ব্যাধি ব্যতীত রমজানের একটি রোজা ছেড়ে দিল, বিনিময়ে সারা বছর রোজা রাখলেও তার ক্ষতিপূরণ হবে না। ( মিশকাত)
তবে নারীদের জন্য মাসিক স্রাবের সময় ও সন্তান প্রসব পরবর্তী সময়ে রোজা রাখা হারাম। এই রোজা পরবর্তীতে কাজা করে নেওয়াই শরীয়তের বিধান।
অপর এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলাই পরিহার করতে পারলো না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। অনেক রোজাদার এমন আছেন যারা ক্ষুধা-তৃষ্ণা ব্যতীত কিছুই অর্জন করতে পারে না। আবার এমন লোকের সংখ্যাও কম নয় যারা রাত জেগে ইবাদাত করে কিন্তু তাদের এই জাগরণটুকুই সার।
রোজা একমাত্র আল্লাহর জন্য। এর প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ দেবেন। রোজা রেখে অনেকে গীবত করে। এটা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। এ প্রসঙ্গে দুই নারীর রোজা বিষয়ে প্রিয়নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেন, তারা হালাল বস্তু বর্জন করে রোজা রেখেছিল বটে, কিন্তু হারাম বস্তু দ্বারা সে রোজা তারা ভেঙে ফেলেছে। উল্লেখ্য, দুই নারী রোজা রেখে গীবত করেছিল।
সেহেরি:
রমজান মাসের সেহেরি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকে সেহেরি না খেয়ে রোজা রাখে এটি ঠিক নয়। এ প্রসঙ্গে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, তোমরা সেহেরি খাও, কারণ সেহেরিতে যা খাওয়া হয় তাতে বরকত থাকে। অন্য হাদিসে আছে, সাহুরে বরকত আছে। কাজেই কখনও তোমরা সেহেরি খাওয়া ত্যাগ করো না। কিছু খাওয়া না গেলেএক ঢোক পানি হলেও পান করে নাও। কারণ যারা সেহেরি খায় তাদের প্রতি আল্লাহ রহম করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করে।
ইফতার:
ইফতার আরবি শব্দ যা অর্থ ভঙ্গ করা। রমজানে ইফতার করাও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। দিন শেষে যথাসময়ে সূর্য ডোবার পর রোজা ভঙ্গ করা। অন্তত একটি খোরমা বা খেজুর দ্বারা হলেও। রোজাদারকে ইফতার করানো
হলে রোজাদারের পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। অবশ্য এতে রোজাদারের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে দেরি না করে ইফতার করা উত্তম।
তারাবি:
ইফতারের পর তারাবির প্রস্তুতি। তারাবিহ আরবি তারবীহাতুন এর বহুবচন। এর মূল অর্থ বসা। এক সময়ে রমজানের রাতে এশার ফরজের পর বিতর নামাজের আগে যে ২০ রাকাত নামাজ পড়া হয়, তাকে তারাবি বলে। তারাবি নামাজের চার রাকাত পর বিশ্রামের জন্য বসাকে তারাবি বলার প্রচলন শুরু হয়।
তারাবির নামাজ নারী-পুরুষ সবার জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। দু’রাকাত করে ১০ সালামে ২০ রাকাত নামাজ পড়া হয়। রমজান মাসে তারাবির মধ্যে পুরো কুরআন খতম করা সুন্নতে মুআক্কাদা। তবে সেই কুরআন তেলাওয়াত স্পষ্ট ভাষায় পড়া উচিত। যাতে মুসুল্লিরা বুঝতে পারেন।
আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, কুরআন ধীরে ধীরে আবৃত্তি করো। সুতরাং ধীরে ধীরে তারতিলের সঙ্গে কুরআন তেলাওয়াত করা ফরজ। রমজানে তারাবির নামাজে কুরআন শরীফ শুনাইয়া চুক্তির মাধ্যমে এর বিনিময় নেওয়া জায়েজ নাই।
ইতিকাফ:
জামে মসজিদে বালেগ পুরুষরা ইতিকাফ করবে। আর নারীরা নিজ বাসস্থানের এক কোণে ইতিকাফ করবে। অত্র মহল্লার যে কোনো একজন যদিও ইতিকাফে বসে তাহলে সবার পক্ষ থেকে এই ফরজে কিফায়া আদায় হয়ে যাবে, আর যদি কেউ ইতিকাফে না বসে তাহলে সবাই গুনাগার হবেন ফরজে কিফায়া আদায় না করার কারণে। ইতিকাফকারী শবে-কদর পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইতিকাফকারীকে মসজিদের বাইরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়। একান্ত জরুরি হলে বলা যায় অন্যথায় অযথা কথা বার্তা থেকে বিরত থাকা উচিত।
লাইলাতুল ক্বদর:
পবিত্র কুরআনকে আল্লাহ পাক রমজান মাসে নাজিল করেছেন লাইলাতুল ক্বদরে। এ রাত হাজার মাস হইতেও উত্তম। হাজার মাস জাগ্রত থাকিয়া ইবাদত বন্দেগিতে কাটালে যে সওয়াব হবে এই একরাত্রে ইবাদাত করলে সেই পরিমাণ সওয়া পাওয়া যায়। লাইলাতুল ক্বদর নির্ধারণ করা কঠিন।
প্রসিদ্ধ মত হচ্ছে- রমজান মাসের শেষ দশকের যে কোনো বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর হতে পারে। তা ২৯ তারিখ দিবাগত রাতেও হতে পারে। আমাদের দেশের মানুষেরা ২৭ তারিখ রাত্রিকে বিধিবদ্ধ নিয়ম মনে করে ইবাদাত করে। এই রাতকেই তারা মনে করে লাইলাতুল ক্বদর। তবে কেউ-ই নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না লাইলাতুল ক্বদর কোন রাতে হবে। এ জন্য শেষ দশকের যে কোনো বেজোড় রাতে সন্ধার পর থেকেই ইবাদাত শুরু করা উচিত। রাত বেশি হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইবাদাত শুরু করার কোনো নিয়ম ইসলামে নেই।
ফিতরা:
ম্পদশালী প্রতিটি ব্যক্তিই তার নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে নিজের ও সন্তানের ফিতরা আদায় করবে। ফিতরা ঈদের আগে দেওয়াই উত্তম। এর দ্বারা গরিব লোকজন ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে। প্রত্যেক এলাকার  উল্লেখযোগ্য খাদ্য শস্যের ১ কেজি ২৫০ গ্রাম পরিমাণের মূল্য নির্ধারণ পূর্বক গরিব-এতিম, মিসকিনকে বিনিময় ব্যতীত দান করে দেওয়াকে ফিতরা বলে।
কয়েকটি মাসআলা:
রোজা অবস্থায় যদি কেউ ভুলে পানাহার করে ফেলে এতে রোজা নষ্ট হয় না। রোজা অবস্থায় ইনজেকশন নেওয়া যায়। সেহেরি না খেতে পারলেও রোজা হবে তবে সেহেরি খাওয়া উত্তম। আতর ও ফুলের সুঘ্রাণ গ্রহণ করলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না, তবে আগরবাতি জ্বালিয়ে কেউ যদি ইচ্ছেপূর্বক শুঁকতে  থাকে আর ধোঁয়া কণ্ঠনালীতে প্রবেশ করে তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। রোজা রেখে দিনের বেলা স্বপ্নদোষ হলেও রোজা ভাঙে না। যদি কেউ ইচ্ছে পূর্বক স্ত্রী সহবাস করে তাহলে রোজার কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হবে। যদি কেউ আত্ম-নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখেন তাহলে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরে চুম্বন করতে পারবে জায়েজ আছে, আর অন্তর যদি দুর্বল হয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাদের জন্য চুম্বন করা মাকরুহ। চুম্বন করার কারণে কারও যদি বীর্যপাত হয় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এমতাবস্থায় কাজা আদায় করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না। নারীরা রোজা রেখেসন্তানকে দুধ খাওয়ালে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। মুখের থু থু বা লালা গিলে ফেললে রোজার কোনোক্ষতি হয় না। রোজা অবস্থায় মিসওয়াক করা জায়েজ আছে কিন্তু টুথপেস্ট, টুথ পাউডার, কয়লা ব্যবহার করা মাকরুহ।
শেষ কথা:
রমজানের এক মাসের রোজার দ্বারা এই শিক্ষা পাওয়া যায় ধনী ব্যক্তিরা বুঝতে পারে উপবাস থাকলে কি কষ্ট হয়, সারা বছর যারা অনাহারে অর্ধাহারে থাকে কি পরিমাণ তারা কষ্ট করে তা অনুধাবন করা যায়। আর তাদের প্রতি অনুগ্রহের হাত প্রসারিত করা যায়। গরিব-দুঃখীরা না খেয়ে থেকে কী অবর্ণনীয় কষ্ট করে তা উপলদ্ধি করতে পারলে সমাজে শান্তি আনয়ন সম্ভব হয়।
মোদ্দা কথা আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য রমজানে রোজা রাখবো এবং সমস্ত ইবাদাত করবো। আল্লাহ আমাদের পবিত্র রমজানের শিক্ষা যথাযথ নেওয়ার তৌফিক দিন।


সূত্র:http://www.banglanews24.com/islam/news/bd/654124.details








395
Pharmacy / হঠাৎ জ্বর হলে করণীয়
« on: May 19, 2018, 12:36:27 PM »
হঠাৎ করে যে কেউ জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, অন্য রোগের লক্ষণ। শরীরে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াসহ জীবাণুর আক্রমণ ঠেকাতে শরীরের নিজস্ব প্রক্রিয়ার কারণেই জ্বর আসে। সাধারণত শরীরের তাপমাত্রা ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তাপমাত্রা ৯৮ দশমিক ৮ থেকে ১০০ দশমিক ৮ এর মধ্যে থাকলে তা মাইল্ড ফিভার বা সামান্য জ্বর হিসেবে পরিচিত। ১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত মডারেট বা মাঝারি জ্বর, এর ওপরে তাপমাত্রা গেলে তা হাই ফিভার বা উচ্চজ্বর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জ্বর এলে অনেকের গলা ব্যথা, কাশি, খাবারে অরুচি, সেই সাথে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। চলুন জেনে নিই জ্বর হলে করণীয় কিছু বিষয় সম্পর্কে-
১. জ্বরের প্রধান ও প্রথম চিকিৎসা হচ্ছে প্রচুর তরল খাবার খাওয়া। পানি তো চলবেই, সাথে গরম স্যুপ, আদা-চা, জুস ইত্যাদিও চলবে। গরম পানীয়তে কাশিটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। আদা-চা ও গরম পানীয় গলা ব্যথা ও মাথা ব্যথা দূর করতে সহায়ক।
২. জ্বর হলে রোগীর পুরো শরীর স্পঞ্জিং (ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দেওয়া) করিয়ে দিতে হবে। টানা প্রায় ১০ মিনিট অবিরাম স্পঞ্জিং করলে তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। তবে যাদের অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগা বোঝা যাবে, যেমন কাশি ও বুকের মধ্যে ঘড়ঘড়ে ভাব দেখা দিলে তাদের স্পঞ্জিং করার সময় বুকে যাতে ঠান্ডা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের ঠান্ডা পানি মোটেও খাওয়া যাবে না। তাদেরকে গরম পানি মিশিয়ে খাওয়ানো ভালো। স্পঞ্জিং করার সময় হালকা করে ফ্যান ছেড়ে রাখতে পারেন। আবার খেয়াল রাখতে হবে যাতে বাতাস রোগীর শরীরে যেনো ডাইরেক্ট না লাগে।
৩. জ্বর হলে সাধারণত ডাক্তারা নাপা বা প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে প্যারাসিটামলের অতিরিক্ত কোনো ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া মোটেও উচিত হবে না।
৪. স্বাভাবিক ঠান্ডা জ্বর হলে প্যারাসিটামল কিংবা স্পঞ্জিং করে জ্বর চলে যেতে পারে। তবে যদি ৩ দিন বা তার অধিক দিন জ্বর থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
৫. গরম পানিতে লেবুর সঙ্গে মিশিয়ে আদা কুচি খেতে পারেন। এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনের সঙ্গে লড়াই করে। ফলে জ্বর কমতে পারে।
৬. জ্বরের সময় এক চা চামচ জিরা এবং ৪-৬টা তুলসীপাতা এক গ্লাস পানিতে নিয়ে সিদ্ধ করে সেখান থেকে প্রতিদিন দুইবার এক চা চামচ খেতে পারেন।
এছাড়া জ্বরের সময় আরেকটি উপকারী খাবার হলো চালের সুজি, সঙ্গে সামান্য আদাকুচি ও সিদ্ধ করা সবজি। কিশমিশে আছে ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। জ্বরের রোগীর জন্য আরেকটি উপকারী খাবার হলো টমেটো ও গাজরের স্যুপ।

সূত্র:http://www.bd-pratidin.com/life/2018/05/17/330916









396
তেল, ঝাল, মশলা খেয়ে হাত তো ঠিকই ধুচ্ছেন, তবে কিডনি কি পরিষ্কার করছেন? না, সে কি সম্ভব নাকি! উত্তর হবে- হ্যাঁ, সম্ভব। হাতের কাছেই আছে এর সমাধান। কীভাবে পরিষ্কার করবেন? জেনে নিন, কিডনি পরিষ্কারের ঘরোয়া উপায়। তাও আবার মাত্র পাঁচ টাকায়।
১. পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন এক আঁটি ধনেপাতা।
২. এরপর কুচি কুচি করে কেটে একটি পাত্রে রাখুন।
৩. পাত্রে কিছুটা পানি দিয়ে ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন।
৪. ঠান্ডা হলে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে রেখে দেন। ফ্রিজেও রেখে দেয়া যেতে পারে ওই বোতল।
৫. এরপর প্রতিদিন একগ্লাস করে ধনেপাতার জুস খেলেই হাতেনাতে মিলবে ফল।
কিডনির মধ্যে জমে থাকা লবণ এবং বিষাক্ত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যাবে। শুধু কিডনিই নয়। এক আঁটি ধনেপাতায় আছে ১১% ফাইবার, ৪% প্রোটিন, ১% ক্যালরি, ১% কার্বোহাইড্রেট, ১% ফ্যাট। ম্যাঙ্গানিজ ২১%, পটাসিয়াম ১৫%, কপার ১১%, আয়রন ১০%, ক্যালসিয়াম ৭%। এতে রয়েছে ৩৮৮% ভিটামিন k, ১৩৫% ভিটামিন A, ৪৫% ভিটামিন C, ১৬% ফলেট।
বছরের পর বছর, দিনের পর দিন কিডনি ঠিক এভাবেই ছাঁকনির কাজ করে চলে। লবণ, বিষ এবং অবাঞ্ছিত পদার্থ শরীরে ঢুকতে বাধা দেয়। কিন্তু কিডনি অকেজো হয়ে গেলে শরীরের ক্ষতিকর বর্জ্য রক্তে জমা হয়। তখন বেঁচে থাকাই মুশকিল।

সূত্র:http://www.bd-pratidin.com/life/2017/05/03/228540



397
এখন বাংলাদেশে ফরমালিন ছাড়া খাবারজাতীয় কোনো কিছু পাওয়া এককথায় অসম্ভব। ফলে ফরমালিনযুক্ত খাবার খেয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে একেবারে সহজ কিছু উপায় অবলম্বন করে খাদ্য থেকে ফরমালিন দূর করা যায়।
অনেকেরই ধারণা, ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিশুদ্ধ পানিতে ডুবিয়ে রাখলে খাদ্যদ্রব্য থেকে ফরমালিন দূর হয় বা কমে যায়। অাসলে কমলেও তা অতটা কার্যকর নয়। তার চেয়ে বরং কাঁচা অবস্থায় খাবার থেকে ফরমালিন অপসারণ করতে চাইলে পানির কল ছেড়ে তার নিচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখতে হবে। কারণ কাঁচাসবজি ও ফলের ত্বকে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র রয়েছে। অার পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ফরমালিন আরো ভালোভাবে খাবারে মিশে যেতে পারে। তাই পানির কল ছেড়ে তার নিচে নির্দিষ্ট খাবার দ্রব্য বা ফলটি রেখে দিন।
অথবা পানিতে ভিনেগার বা লেবুর রসে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখেও ফরমালিন দূর করা যায়। আগুনের তাপে ফরমালিন অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই রান্নার আগে ফরমালিন কমানোর পদ্ধতি ব্যবহার করে রান্না করলে খাবার পুরোপুরি ফরমালিন মুক্ত করা সম্ভব।

সূত্র:http://www.bd-pratidin.com/life/2018/05/19/331320

398
Islam / নামাজ
« on: May 14, 2018, 12:57:29 PM »
যে ব্যক্তি নিয়মিত যথাযথভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে সে পরকালে পাঁচটি পুরস্কারে ভূষিত হবে। যথা-
১- মৃত্যুর সময় কোন কষ্ট হবে না।
২- কবরে আযাব হবে না।
৩- ডান হাতে আমলনামা লাভ করবে।
৪- বিদ্যুত গতিতে পুলসিরাত পার হয়ে যাবে ও
৫- বিনা হিসাবে বেহেশতে প্রবেশ করবে।
~ বিখ্যাত মুসলিম মনীষী আল্লামা ইবনে হাজার মাক্কী (র.)।
[সূত্র: আশরাফুল হিদায়া, ১: ৩২৯]
বর্তমানে আমাদের সমাজের সর্বশ্রেষ্ঠ অবহেলিত কাজ হচ্ছে নামায। অথচ নামায ব্যতিত জান্নাতের চাবি আমাদের হাতে আসবে না।
আমরা মৃত্যুর কথা ভাবতেও ভয় পাই কিন্তু জাহান্নামকে ভয় পাই না। অথচ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব কিন্তু মৃত্যু থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
আমাদের সকলকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর মৃত্যুর পরে জাহান্নাম থেকে মুক্তির সর্বপ্রথম ধাপ নামাযের হিসাব।
তাই আসুন, আমরা নামাজের প্রতি মনোযোগী হই এবং পরকালের চলার পথকে গতিশীল করি।


Source: https://robiulislam167.wordpress.com/category/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%

399
Islam / প্রকৃত মুমিন
« on: May 14, 2018, 12:52:09 PM »

সত্যিকার ঈমানদান কিভাবে হওয়া যায়, হাদীসে আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই কথাও জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন : ঐ ব্যক্তির ঈমানদের স্বাধ পেয়েছে (অর্থাৎ সত্যিকার ঈমানদার হয়েছে), যে ব্যক্তি সন্তুষ্টির সাথে আল্লাহকে রব মেনে নিয়েছে। ইসলামকে দ্বীন মেনে নিয়েছে। আর মুহাম্মদকে রাসূল মেনে নিয়েছে। (মুসলিমঃ আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব।)

ব্যাখ্যাঃ হাদীসটিতে বলা হয়েছে, প্রকৃত মুমিন হতে হলে মনের সন্তুষ্টির সাথে তিনটি কথা স্বীকার করতে হবে। সেগুলো হলোঃ

১ আল্লাহকে রব হিসেবে স্বীকার করতে হবে।

২ ইসলামকে দ্বীন বা জীবন চলার পথ হিসেবে মেনে নিতে হবে এবং

৩ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল মেনে নিতে হবে।


Source:https://robiulislam167.wordpress.com/category/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%

400

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে যাকাতের সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব দিলেন। দেখলাম, কোন এক আগন্তুক এসে খাদ্যের মধ্যে হাত দিয়ে কিছু নিতে যাচ্ছে। আমি তাকে ধরে ফেললাম। আর বললাম, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিয়ে যাবো। সে বলল, আমি খূব দরিদ্র মানুষ। আমার পরিবার আছে। আমার অভাব মারাত্নক। আবু হুরাইরা বলেন, আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।

সকাল বেলা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম, তখন তিনি বললেন, কী আবু হুরাইরা! গত রাতের আসামীর খবর কি? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তার প্রচন্ড অভাবের কথা আমার কাছে বলেছে। আমি তার উপর দয়া করে তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অবশ্য সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে।দেখবে সে আবার আসবে।

আমি এ কথায় বুঝে নিলাম সে আবার আসবেই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সে আবার আসবে। আমি অপেক্ষায় থাকলাম। সে পরের রাতে আবার এসে খাবারের মধ্যে হাত দিয়ে খুঁজতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম। আর বললাম, আল্লাহর কসম আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিয়ে যাবো। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি খুব অসহায়। আমার পরিবার আছে। আমি আর আসবো না। আমি এবারও তার উপর দয়া করে তাকে ছেড়ে দিলাম। সকাল বেলা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম, তিনি বললেন, কী আবু হুরাইরা! গত রাতে তোমার আসামী কী করেছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তার চরম অভাবের কথা আমার কাছে বলেছে। তার পরিবার আছে। আমি তার উপর দয়া করে তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অবশ্য সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে।
দেখো, সে আবার আসবে।

তৃতীয় দিন আমি অপেক্ষায় থাকলাম, সে আবার এসে খাবারের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে খুঁজতে লাগল। আমি তাকে ধরে ফেললাম। আর বললাম, আল্লাহর কসম আমি অবশ্যই তোমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নিয়ে যাবো। তুমি তিন বারের শেষ বার এসেছ। বলেছ, আসবে না। আবার এসেছ। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে কিছু বাক্য শিক্ষা দেবো যা তোমার খুব উপকারে আসবে। আমি বললাম কী সে বাক্যগুলো? সে বলল, যখন তুমি নিদ্রা যাবে তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাকে একজন রক্ষক পাহাড়া দেবে আর সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না। আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।

সকাল বেলা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আসলাম, তখন তিনি বললেন, কী আবু হুরাইরা! গত রাতে তোমার আসামী কী করেছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আমাকে কিছু উপকারী বাক্য শিক্ষা দিয়েছে, তাই আমি তাকে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে সে কী শিক্ষা দিয়েছে? আমি বললাম, সে বলেছে, যখন তুমি নিদ্রা যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাকে একজন রক্ষক পাহাড়া দেবে আর সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কাছে আসতে পারবে না।
আর সাহাবায়ে কেরাম এ সকল শিক্ষণীয় বিষয়ে খুব আগ্রহী ছিলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তোমাকে সত্য বলেছে যদিও সে মিথ্যাবাদী। হে আবু হুরাইরা! গত তিন রাত যার সাথে কথা বলেছো তুমি কি জানো সে কে?

আবু হুরাইরা বলল, না, আমি জানি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে হল শয়তান।
(বর্ণনায় : বুখারী)

এ হাদীস থেকে আমরা যা শিখতে পেলাম তা হল:
(১) জনগণের সম্পদ পাহাড়া দেয়া ও তা রক্ষা করার জন্য আমানতদার দায়িত্বশীল নিয়োগ দেয়া কর্তব্য। আবু হুরাইরা রা. ছিলেন একজন বিশ্বস্ত আমানতদার সাহাবী।
(২) আবু হুরাইরা রা. দায়িত্ব পালনে একাগ্রতা ও আন্তরিকতার প্রমাণ দিলেন। তিনি রাতেও না ঘুমিয়ে যাকাতের সম্পদ পাহাড়া দিয়েছেন।
(৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এটি একটি মুজেযা যে, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও আবু হুরাইরার কাছে বর্ণনা শুনেই বুঝতে পেরেছেন শয়তানের আগমনের বিষয়টি।
(৪) দরিদ্র অসহায় পরিবারের বোঝা বাহকদের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের দয়া ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দয়াকে স্বীকৃতি দিলেন। তিনি আবু হুরাইরা রা. কে বললেন না, তাকে কেন ছেড়ে দিলে? কেন দয়া দেখালে?
(৫) সাহাবায়ে কেরামের কাছে ইলম বা বিদ্যার মূল্য কতখানি ছিল যে, অপরাধী শয়তান যখন তাকে কিছু শিখাতে চাইল তখন তা শিখে নিলেন ও তার মূল্যায়নে তাকে ছেড়েও দিলেন।
(৬) খারাপ বা অসৎ মানুষ ও জিন শয়তান যদি ভাল কোন কিছু শিক্ষা দেয় তা শিখতে কোন দোষ নেই। তবে কোন দোষ নেই। তবে কথা হল তার ষড়যন্ত্র ও অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তোমাকে সত্য বলেছে, তবে সে মিথ্যুক। এ বিষয়টিকে শিক্ষার একটি মূলনীতি হিসাবে গ্রহণ করা যায়।
(৭) জিন শয়তান মানুষের খাদ্য-খাবারে হাত দেয়। তা থেকে গ্রহণ করে ও নষ্ট করে।
(৮)আয়াতুল কুরসী একটি মস্তবড় সুরক্ষা। যারা আমল করতে পারে তাদের উচিত এ আমলটি ত্যাগ না করা। রাতে নিদ্রার পূর্বে এটি পাঠ করলে পাঠকারী সকল প্রকার অনিষ্টতা থেকে মুক্ত থাকবে ও জিন শয়তান কোন কিছু তার উপর চড়াও হতে পারবে না।
(৯) আয়াতুল কুরসী হল সূরা আল বাকারার ২৫৫ নং এই আয়াত :
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সুপ্রতিষ্ঠিত ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। তাঁর জন্যই আসমানসমূহে যা রয়েছে তা এবং যমীনে যা আছে তা। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দুটোর সংরক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ, মহান।

Source:https://robiulislam167.wordpress.com/category/%E0%A6%87%E0%A6%B8%

401



মুসলমান মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের ওপর স্রষ্টার হক রয়েছে। ফরজ-ওয়াজিব থেকে নিয়ে সাধারণ নফল কিংবা দু-এক টাকা দান-খয়রাতসহ সবকিছুই এ হক আদায়ের আওতাভুক্ত।

সামগ্রিক অর্থে এ সবগুলোকে আমরা ইবাদত বলে থাকি। প্রতিদিন আমরা বিভিন্ন রকমের ইবাদত করি, জীবন যাপনে মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার চেষ্টা করি।

এ ইবাদত পালন কিংবা বিধি-বিধান মেনে চলার যেটুকু প্রচেষ্টা আমরা আমাদের সাধ্যমতো চালিয়ে যাচ্ছি, এর হিসাব-নিকাশ জমা হচ্ছে অপার্থিব আমলনামায়। কিন্তু এ জমা হওয়া কিসের ভিত্তিতে? সংখ্যাধিক্য নাকি গুণগত মান অথবা অন্যকিছু?

ব্যস্ত জীবনে যেখানে ইবাদতের অবসর দিনদিন কমে আসছে আমাদের, সেখানে কবুল হওয়া-না হওয়া নিয়ে ভাববার সময় ও সচেতনতাও হারিয়ে ফেলছি আমাদের অজান্তে। অথচ এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের, সবচেয়ে বেশি বিবেচনা এবং সচেতনতার দাবীদার।

কুরআন ও হাদীসের নির্যাস থেকে প্রমাণিত সত্য হল- ইখলাস সব আমলের গ্রহণযোগ্যতার প্রথম শর্ত। ইখলাসবিহীন কোনো কিছুই আসমানী দরবারে কবুলযোগ্য নয়, বরং কখনো এমন আমল স্বয়ং বিপদের কারণ হয়।

পার্থিব মোহ ও সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণের যাবতীয় লোভ ও খায়েশ থেকে মুক্ত হয়ে একমাত্র আল্লাহ পাকের জন্য সমর্পিত আত্মার সামান্য আমলও ইখলাসের কারণে অনেক বেশি মূল্যবান। চারিদিকে সৌজন্যের ছড়াছড়ির এমন অস্থির সময়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি সাধারণ উদাসীনতা আমাদের সবার জন্য বড়ই বেমানান।

খুব সংক্ষেপে এটাই ইখলাসের প্রসঙ্গ। এ বিষয়ে যেসব আয়াত ও হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা অসংখ্য। পবিত্র কুরআনে সূরা বাইয়েনাতের ৫ নং আয়াত, সূরা যুমারের ২ ও ১১ নং আয়াতসহ আরও নানা জায়গায় আল্লাহ পাক আমাদেরকে ইখলাসের সাথে একনিষ্ঠ হয়ে ইবাদতে মগ্ন হওয়ার জন্য আদেশ করেছেন। আর ছোটবাচ্চাদের মক্তব থেকে নিয়ে বুখারী শরীফ পর্যন্ত যে হাদীসটি আমরা অহরহ শুনছি- সেখানেও বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই প্রতিটি আমল বা কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।

আল্লাহ পাকের কাছে আমাদের যাবতীয় আমল গৃহীত হওয়ার ক্ষেত্রে বাহ্যিক কোনো রঙ-ঢঙ কিংবা কোনো পার্থিব বিবেচনা যে উদ্দেশ্য নয়, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাসূল সা. বুখারী ও মুসলিমের এক হাদীসে বলেছেন, আল্লাহ পাক তোমাদের শরীর এবং আকৃতির দিকে লক্ষ্য করেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি দৃষ্টি দেন।

ইখলাসের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে হযরত আবু উসমান বলেছেন, নিজের প্রতি মহান আল্লাহর সার্বক্ষণিক দৃষ্টির কথা স্মরণ রেখে সৃষ্টজীবের সমুদয় কৃত্রিমতা ভুলে যাওয়ার নাম ইখলাস।

ইখলাসের ব্যাপারে আরও সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিখ্যাত বুযুর্গ ফুযাইল। তিনি বলেন, মানুষের কারণে আমল ছেড়ে দেয়ার নাম- রিয়া, আর মানুষের জন্য আমল করার নাম- শিরক। কিন্তু এ দুটো থেকে রেহাই পাওয়ার নামই হচ্ছে- ইখলাস।

বুজুর্গরা বলেন, অনেক ছোট কাজ নিয়তের কারণে মহান আল্লাহ পাকের দরবারে অতিশয় মূল্যবান ও দামি হয়ে যায়। আবার অনেক বড় কাজ নিয়তের ত্র“টির কারণে তুচ্ছ হয়ে যায়। হযরত বিশর হাফী বলতেন, মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধ হওয়ার জন্য যে আমল করে, সে সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে ভয় করে না।

প্রখ্যাত বুজুর্গ মারুফ কারখী নিজেকে আঘাত করে সজাগ করতেন এবং বলতেন, ইখলাসের ব্যাপারে সতর্ক থাকো, মুক্তি মিলবে হয়তো। হযরত ইয়াকুব আল মাকফুফ বলেছেন, একজন মুখলিস আমলদার মুমিন তার নেককাজগুলো এমনভাবে গোপন রাখে যেভাবে সে তার কৃত পাপকাজসমূহ লুকিয়ে রাখে।

বিশিষ্ট সাহাবী হজরত তামীম দারীকে কেউ জিজ্ঞেস করলো, আপনি প্রতি রাতে কত রাকাত নামাজ আদায় করেন? এমন প্রশ্ন শুনে তিনি খুব রেগে গেলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম, রাতের অন্ধকারে গোপনে এক রাকাত নামাজ পড়া আমার কাছে এমন সারারাত নমাজের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম- যা রাত পোহালে মানুষকে জানানো হয়।

নিজের ছোট-বড় নেকআমল মানুষের কাছে প্রচার না করে গোপন রাখার তাগিদ দিয়ে সাহাবী হজরত ইবনে মাসউদ বলেছেন, পৃথিবীবাসীর কাছে নিজেদের পূণ্যকর্মগুলো গোপন রাখো, এখানে পরিচিত ও সমাদৃত না হয়ে তোমরা আকাশজগতে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখো।

হজরত মুহাম্মদ বিন ওয়াসে তার শিষ্যদেরকে বলতেন, গোনাহ ও পাপের যদি কোনো দুর্গন্ধ থাকতো, তবে আমার কৃত পাপাচারের দুর্গন্ধে তোমরা কেউ আমার কাছেই আসতে পারতে না।

আমাদের পূর্বসুরী আল্লাহওয়ালারা এভাবেই নিজেদের সাধনা ও ইবাদতকে লোকসমাজ থেকে লুকিয়ে রাখতেন। যা কিছু ভালো ও পূণ্য তারা করতেন, তা কেবল আল্লাহ পাকের জন্যই করতেন। সমাজ ও মানুষের সব প্রশংসা ও বাহবা থেকে মোহমুক্ত হয়ে তারা নিমগ্ন হতেন ইখলাসযুক্ত জিকির-ইবাদতে।

পরম দয়াময়ের আশ্রয়ে এভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার অপার্থিব স্বাদ ও আনন্দ যে পেয়েছে- তার কাছে এ চাকচিক্যভরা রঙিন জগত নিতান্তই তুচ্ছ হয়ে পড়ে। দৈনন্দিন নানা রকমের ইবাদত করেও আমাদের হৃদয়ভরা যে পার্থিব প্রেম ও আসক্তি- অতীত বজুর্গদের আয়নায় মেলালে আজকের যুগে আমাদের এসবের মূলে ইখলাসের অভাব প্রকটভাবে ধরা পড়ে

Source:https://robiulislam167.wordpress.com/category/%E0%A6%87%

402


গ্রাম থেকে এক ভিখারি এসেছে রাজার দরবারে দেখা করতে। রাত হয়ে যাওয়ায় সে কোথাও আশ্রয় না পেয়ে রাজমহলের পাশের মসজিদে শুয়ে থাকল সকাল হওয়ার অপেক্ষায়। রাতের শেষ প্রহরে সে কান্নাকাটি আর প্রার্থনার শব্দ শুনে মসজিদের কোণায় গিয়ে দেখে, কেউ একজন দু হাত তুলে বলছে, ‘হে আল্লাহ! ওগো মাওলা! আমাকে তুমি আরও দাও, আমার ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে দাও, আমার বয়সকে আরও দীর্ঘ করে দাও, আমার রাজত্বের সীমানা আরও ছড়িয়ে দাও, আমার শত্র“দেরকে ধ্বংস করে দাও..ইত্যাদি।

ভিখারি লোকটি অনেকক্ষণ ধরে শুনতে থাকলো লোকটির আশা আর চাওয়ার দীর্ঘতালিকা। বুঝতে বাকি রইল না তার- এ লোকটিই এদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজা। তিনি গালের নীচে হাত দিয়ে ভাবতে থাকলেন, হায় আল্লাহ! এ রাজা তো দেখি আমরা চেয়ে বড় ফকির। আমার চেয়ে আরও বেশি লোভী। তিনি যখন এত বড় ফকীর, আমার মতো ভিখারিকে তিনি আর কিইবা দিতে পারেন?

ভোরের আলো ফুটতেই ফকির ঝুলিখানা কাঁেধ ঝুলিয়ে রওয়ানা হলেন নিজের গ্রামের পথে। প্রহরী জিজ্ঞেস করলো, কিহে! তুমি না কাল এসে আজ দেখা করার জন্য নাম লেখালে, চলে যাচ্ছো কেন?

ফকির হাসতে হাসতে জবাব দিল, ‘উনি আর আমি একই পথের পথিক, দু’জনই ভিখারি। তার কাছে হাত পেতে আর কী পাব, তার চেয়ে বরং ভাল- উপরওয়ালার কাছেই হাত পাতি।’

তাও তো ভাল, রাজা হাত পেতেছেন আল্লাহর কাছে। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় এ প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের দেশের সাধারণ ইউনিয়ন মেম্বার থেকে নিয়ে এমপি মন্ত্রী- পৃথিবীর যত রাজা মহারাজা- কোটিপতি কিংবা বিশ্বের শীর্ষ ধনী- সবার মনে একই বাসনা- আহা! আমি যদি আরও একটু বেশি পেতাম। আমার কতো অভাব, কতো কিছু প্রয়োজন আমার- এখনও কত গরীব আমি!

চৌদ্দশ বছর আগে এজন্যই আল্লাহর নবী সা. বলেছেন, আদম সন্তানকে যদি দুটি স্বর্ণভরা প্রান্তর দিয়ে দেওয়া হয়, তবু সে আরও একটি প্রান্তরের জন্য লালায়িত হয়ে বসে থাকবে। কবরের মাটি ছাড়া আর কিছুই তার পেট ভরাতে পারবে না।’ (তিরমিজি)

আমাদের দেশে, আমাদের সমাজের চারপাশে- কতো মহাজন ও কতো বেপারী কোটি কোটি টাকার মালিক! তবুও তাদের খায়েশ মেটে না, সম্পদের লোভ তাদের আরও বাড়ছে দিনদিন। প্রতিটি সূর্যোদয় তাদের জন্য নতুন নতুন ফন্দি নিয়ে যেন হাজির হয়।

আর এ লালসা মেটাতে গিয়ে তারা অসংখ্য নিরীহ মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, ছল চাতুরি আর প্রতারণা করে কামিয়ে নিচ্ছে শত কোটি টাকা। এর কি কোন হিসেব আছে? সৃষ্টির সূচনার পর থেকে টাকা পয়সা উপার্জনের যতো পথ ও পদ্ধতি আবি®কৃত হয়েছে- এর কোনো অভিধান নেই।

কিন্তু এতো প্রাচুর্য কিংবা সম্পদশালী হওয়ার সব গৌরব ম্লান হয়ে যায় তাদের মানসিক দীনতা ও সংকীর্ণতার কাছে। কারণ, সম্পদ কম না বেশি- এ দিয়েই কি ধনী-গরীব মাপা যায়? আল্লাহর নবী সা. এ বিষয়টিকে মনে করিয়ে দিয়ে তাই জানিয়েছেন, ধন-সম্পদের প্রাচুর্য মানেই ধনী হওয়া নয়, আসল ধনী হওয়া হচ্ছে মনের ব্যাপার। (বুখারি ও মুসলিম)

আর তাই মানসিক দিক দিয়ে যে যতবেশি উদার ও পরিস্কার এবং অন্যের সম্পদ থেকে অমুখাপেক্ষী- সে ততবড় ধনী ও সম্মানিত মর্যাদার অধিকারী।

ইমাম কুরতুবী বলেন, নির্লোভ হৃদয়ের ফকির এমন ধনীর চেয়েও বেশী সম্মানিত যে সবসময় সম্পদের জন্য লালায়িত হয়ে নিজেকে অন্যের কাছে হীন করে রাখে। অনেক সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও সে মানুষের কাছে তুচ্ছ ও ঘৃণিত।

রাসুল সা. এর কাছে একজন সাহাবী এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে এমন একটি কাজ শিখিয়ে দিন যা করলে আল্লাহ পাকও আমাকে ভালবাসবেন এবং মানুষও আমাকে পছন্দ করবে।

রাসুল তাকে বললেন, দুনিয়ার প্রতি লোভ করো না, এতে আল্লাহ পাক তোমাকে ভালবাসবেন। আর মানুষেয় সম্পদ থেকে নির্লোভ থেকো, মানুষও তোমাকে ভালবাসবে।

একটু ভাবুন তো, আমরা যদি নিজের চাকরি ও জীবন যাপনে যেটুকু আল্লাহ পাক দিয়েছেন, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকি এবং অন্যের সম্পদ থেকে চোখ ও লোভকে ফিরিয়ে রাখি, মানুষের কাছে অযথা আবদার কিংবা কৌশলে কিছু কামিয়ে নেওয়ার ফন্দি ফিকির থেকে বিরত থাকি- সমাজের কোথাও কি তখন চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা ও দুর্নীতি খুঁজে পাওয়া যাবে?

ইসলামের এ মহান শিক্ষাটুকু আজ আমরা ভুলে অন্ধ হয়ে দৌড়াচ্ছি টাকা পয়সার পেছনে। নিজেরা ধনী হতে গিয়ে হারিয়ে ফেলছি মানসিক ও মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো। শহরের ইটের ফ্ল্যাটগুলোতে দিন দিন যেন বেড়ে চলেছে সম্পদলোভী কীট পতঙ্গের আবাস। জীবন বলতে তাদের কাছে শুধুই কামাই আর ভোগের সমন্বয়। এতকিছু পেয়েও কিন্তু তারা সুখী নয়।

কিন্তু কিভাবে সম্ভব আমাদের ভেতরের প্রবৃত্তিগত এ লোভ লালসা থেকে মুক্তি?

খুবই সহজ। ইসলাম আমাদেরকে শিখিয়েছে, আপনি আপনার নীচুস্তরের মানুষদেরকে দেখুন, উপরতলার লোকদের থেকে দৃষ্টিকে সংযত রাখুন। এরপরও যখন আপনার চেয়ে সম্পদশালী কারো দিকে চোখ পড়ে- নিজেকে অনুভব করুন- আপনিও তো কত গরীব অসহায়ের চেয়ে ধনী হয়ে দিন কাটাচ্ছেন, সুখে আছেন কত অসুখী মানুষের চেয়ে। মুসলিম শরীফের হাদীস, নবীজি বলেছেন, তোমার সম্পদের হিসেবে উপরের স্তরের কাউকে দেখো না, বরং নীচের গরীব লোকদের দিকে তাকিয়ে দেখো, নয়তো আল্লাহ পাকের নেয়ামত তোমার কাছে তুচ্ছ মনে যাবে। তিনি আরও বলেছেন, আল্লাহ পাক তোমাকে যা দিয়েছেন, তা নিয়ে খুশি থাকো, দেখবে তুমিই সবার চেয়ে ধনী। (মুসনাদে আহমদ)

সম্পদের মোহে যারা অন্ধ হয়ে ভুলে যান সব নৈতিকতা, পেছনের দেয়ালে সুবিশাল মক্কা মদীনার বাঁধানো ছবি ঝুলিয়েও যারা মুচকি হেসে ঘুষের বিনিময়ে ফাইলে সই করে দিচ্ছেন, নামে বেনামে একাউন্ট খুলে টাকার পাহাড় গড়ছেন যারা- সত্যিই কি তারা ধনী? স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছে তারা কি সত্যিকার অর্থেই সম্মান ও ভালোবাসার অধিকারী? নিজের পরিবার ও আপন সন্তানদের নিয়ে কি তারা নিশ্চিন্ত ও সুখী হয়ে দিন কাটাচ্ছেন?

আল্লাহ পাক তার প্রিয় রাসুলকে সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, যাদেরকে আমি অনেক সম্পদ দিয়ে দুনিয়ার প্রাচুর্যে ভরিয়ে রেখেছি, আপনি তাদের দিকে চোখ তুলেও তাকাবেন না, তাদেরকে তো আমি এসব দিয়ে পরীক্ষা করছি, আপনার রবের দেওয়া রিজিকই সর্বোত্তম ও চিরস্থায়ী। (সূরা ত্বহা-১৩১)

আমাদের এ অশান্ত পরিবেশে চুরি-ডাকতি-দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য আইন ও বাহিনীর কোনো অভাব নেই। আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছে না অনৈতিকতার লেনদেন। লোভ ও হিংসার এ অপ্রতিরোধ্য গতিকে ঠেকাতে হলে নিছক শাস্তি কিংবা দন্ড নয়, আজ বড় প্রয়োজন আমাদের মানসিক শুদ্ধতা ও আত্মিক চেতনা।

আল্লাহভীতি ও পরকালের জবাবদিহিতা ছাড়া এর অন্য কোন উৎস নেই। তাকওয়া ছাড়া এর নতুন কোন তাড়না নেই, নেই বিবেকের চেয়ে বড় কোন প্রহরী।

সবাই তো ধনী হতে চাই, সুখী হয়ে বাঁচতে চাই- কিন্তু যে পথে আমরা তা খুঁজে ফিরে ক্লান্ত হয়ে হা হুতাশ করছি- আদৌ কি তা এ পথে পাওয়া যাচ্ছে নাকি আমাদের লোভ ও স্বার্থের হানাহানি আরও বাড়ছে- তা স্পষ্ট করে বলার প্রয়োজন নেই।

আরব মরুর সেই প্রিয়নবী আমাদের জন্য ধনী ও সুখী হওয়ার যে সরল পথ ও পদ্ধতি দেখিয়ে দিয়েছিলেন- এই আধুনিক কালেরও কোনো মতবাদ বা কোনো নীতি-পদ্ধতি কিংবা কোনো পরাশক্তি কি পেরেছে এর চেয়েও সহজ ও সুন্দর কোনো সমাধান দিতে?

 Source:  https://robiulislam167.wordpress.com/category/%E0%A6%87%

403
Islam / তাওয়াক্কুলের মর্মকথা
« on: May 14, 2018, 12:22:22 PM »


ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি। এ শান্তির প্রথম শর্ত আনুগত্য। গভীর বিশ্বাস এবং শর্তহীন আনুগত্য মিলিয়েই এ ইসলাম ও ঈমান। যে কয়েকটি মৌলিক উপাদানের সমন্বয়ে পুরো ঈমান ও ইসলামের অস্তিত্ব, সেগুলোর অন্যতম একটি তাওয়াক্কুল।

ইমাম ইবুনল কাইয়্যিম বলতেন, দ্বীনের অর্ধেকটাই হচ্ছে তাওয়াক্কুল। ইমাম গাজালী রহ. বলে গেছেন, তাওয়াক্কুল এমন এক অবস্থানের নাম, যা আল্লাহ পাকের নৈকট্যপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ গন্তব্যসমূহের একটি অন্যতম স্থান।

আরেক সাধক হজরত বিশর হাফী বলেছেন, লোকে বলে, ‘আল্লাহর উপর ভরসা করলাম’, সে যদি ভাগ্যের উপর বিশ্বাসী না হয়ে এ কথা বলে থাকে, তবে সে চরম মিথ্যাবাদী একজন।

তাওয়াক্কুলের অর্থ নিয়ে নানারকম উদাহরণ আছে। এসবের মধ্যেই এর প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। এমনই একটি সংজ্ঞা ও উদাহরণ হলÑ মৃতব্যক্তি যেভাবে তার নিথর দেহটি ধৌতকারীর হাতে ছেড়ে দেয়, শক্তিমান রবের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের কাছে নিজের ইচ্ছা ও কর্মকে সেভাবে সঁপে দেয়ার নাম ‘তাওয়াক্কুল’।

জীবনযাপনের বেলায় সাধারণত আমরা রিজিক বা ভরণ-পোষনের ক্ষেত্রে তাওয়াক্কুল প্রসঙ্গ টেনে থাকি। কথায় কথায় কোথাও যাওয়ার প্রাক্কালে স্বজন ও অন্য কাউকে বিদায় দেবার সময় বলি, ‘আল্লাহ ভরসা’। কিন্তু শুধু তো আমার-আপনার রিজিকের বেলায় নয়, এদিক-ওদিক যাবার বেলায়ও নয়, বরং আমাদের এ ভূখণ্ডের প্রতিটি জীব-জানোয়ারের রিজিক থেকে নিয়ে শুরু করে তার জীবনচাহিদার শেষ প্রয়োজনটুকু এক শক্তিমান আল্লাহর হাতে সুনিয়ন্ত্রিত।

কাজেই জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাওয়াক্কুলের চর্চা ও স্মরণ বিশেষ প্রয়োজন। আল্লাহ পাক বলেন, যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে তো এবার আল্লাহর উপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক ভরসাকারীদেরকে ভালোবাসেন। (আলে ইমরান-১৫৯)

চারিদিকে নিত্য নতুন আবি®কৃত প্রযুক্তি ও যন্ত্র-সরঞ্জামাদির ভিড়ে দিনদিন আল্লাহ পাকের ওপর অগাধ বিশ্বাস ও গভীর ভরসার ভিত্তি হয়তো নড়বড়ে হয়ে আসছে। কেউ অসুস্থ হলে আগে মনে আসে অপারেশনের কথা, তারপর সেটি বিফলে গেলে আল্লাহ পাকের নামে খতম জপা। কাউকে বিদায় দেবার প্রাক্কালেও চিরন্তন দুআ ও তাসবীহের বদলে মোবাইলই এখন ভরসা হয়ে আসছে।

কিন্তু এতোসব করেও কি কেউ তার ভাগ্য বদলাতে পারে? যা হবার, তা যেহেতু হবেই, তাই তাওয়াক্কুলই সর্বশ্রেষ্ঠ দাওয়া ও সমাধান। শুধু সমাধান কিংবা সান্ত্বনার ব্যবস্থা নয়, বরং এ তাওয়াক্কুলকে আল্লাহ পাক ঈমান ও ঈমানদারীর আলামত ও শর্ত বলে সাব্যস্ত করেছেন। সূরা মায়েদার ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ পাক স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, ‘আল্লাহর উপরই ভরসা করো যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।’

আবার কেউ কেউ তাওয়াক্কুলের অর্থ বলতে গিয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার কথা বলেন। আদৌ কি বিষয়টি এমন? তিরমিজি শরীফে বর্ণিত এক হাদীসে প্রিয়নবী সা. বলেছেন, তোমরা যদি আল্লাহ পাকের ওপর পূর্ণমাত্রায় ভরসা করতে পারো, তবে অবশ্যই তিনি তোমাদেরকেও পাখির মতো করে রিযিক দান করবেন। এরা খালিপেটে সকালে বের হয়, ভরপেটে সন্ধ্যায় ফেরত আসে।

উল্লেখ্য, এ হাদীসে রাসুল সা. ভরসা করে বসে থাকার কথা বলেননি, বরং হাদীসের শেষাংশে পাখির বের হওয়া ও ফেরত আসার কথা এনেছেন। এ বের হওয়া ও ফেরত আসার মধ্যে চেষ্টা-প্রচেষ্টা লুকিয়ে আছে।

এক লোক উটের পিঠে চড়ে রাসুল সা. এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি এখন উটটি ছেড়ে দিয়ে তাওয়াক্কুল করবো? রাসুল সা. তাকে বললেন, না, বরং এটি বেঁধে রেখে এবার তাওয়াক্কুল করো। (তিরমিজি)

এভাবেই রাসুল সা. কর্ম ও উপাদানবিহীন আলস্য থেকে বের হয়ে উম্মতকে কর্মচঞ্চল হতে শিক্ষা দিয়েছেন।

হজরত উমর রা. একদল অলস ইয়ামানী লোককে দেখার পর তাদেরকে বলেছিলেন, ‘তাওয়াক্কুলকারী হচ্ছে ওই লোক যিনি মাটিতে বীজ বপন করেন এবং এরপর আল্লাহ পাকের ওপর ভরসা করে অপেক্ষা করেন।’

পবিত্র কুরআনেও সূরা আনফালের ৬০ নং আয়াতে কাফিরদের বিপক্ষে শক্তি অর্জনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ এসেছে, শুধু আল্লাহ পাকের উপর ভরসা করে বসে থাকার জন্য নয়।

সূরা মুলকের ১৫ নং আয়াতে আল্লাহ পাক আমাদেরকে কর্ম ও উপায় অবলম্বনের আরও আদেশ করে বলেছেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন, তোমরা এর দিগ-দিগন্তে বিচরণ করো এবং তার দেয়া রিযিক থেকে আহার করো।’ এখানে বিচরণের অর্থ আহার অন্বেষণে কর্ম-প্রচেষ্টার কথা উদ্দেশ্য।

সূফী শকীক বলখী তার বন্ধু প্রখ্যাত সাধক ইবরাহীম বিন আদহামের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কিছুদিন ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য কোথাও রওয়ানা হলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি ফিরে এলেন।

ইবরাহীম বিন আদহাম তার দ্রুত ফিরে আসা দেখে অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইলেন। শকীক বলখী জানালেন, আমি কিছুদূর যাওয়ার পরই দেখি, একটি অন্ধ পাখি বসে আছে এবং আরেকটি পাখি উড়ে এসে এসে তার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। এভাবেই অন্ধ দুর্বল পাখিটিকে খাইয়ে খাইয়ে উড়ন্ত পাখিটি তৃপ্ত করছে। এ দৃশ্য দেখে আমার মনে পরিবর্তন আসলো। প্রশ্ন জাগলো, যে আল্লাহ অন্ধ পাখিটিকে এভাবে খাওয়াচ্ছেন, সেই শক্তিমান আল্লাহ কি আমাকে খাওয়াবেন না? আমি তাই ফিরে চলে এলাম।

ইবরাহীম বিন আদহাম অবাক হয়ে তাকে বললেন, আমিও অবাক হলাম তোমার কাণ্ড দেখে। তুমি নিজেকে ওই অসহায় অবলা অন্ধ পাখি ভাবতে গেলে কেন? আরেকটি শক্তিশালী পাখি যে তাকে সাহায্য করছে এবং তার জন্য খাবার নিয়ে আসছে- তোমার দৃষ্টি কি এই পাখিটির দিকে পড়েনি? তুমি কেনো ওরকম পাখি হতে চাওনি যে নিজের সাধ্য দিয়ে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসছে! তুমি কি শোনোনি, বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হাদীসে রাসূল সা. বলেছেন, ‘দাতার হাত গ্রহিতার হাতের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম।’

তাওয়াক্কুলের নামে যারা অলস পড়ে আছেন এখানে ওখানে, তাদের জন্য এ ঘটনাটি অনেক সবক দিয়ে যায়।


 Source:  https://robiulislam167.wordpress.com/category/%E0%A6%87%






404

On Sunday, phone lines across the world will be their busiest—if we all remember to call our mothers. But we’re hardly the only creatures with good reason to celebrate our moms. We’ve searched the Popular Science archives to give you a roundup of stories featuring heroic mothers from across the animal world.
The moms who really give parenting their all

She may look fierce, but her children will soon devour her

Wikimedia Commons

For the wriggling offspring of the Taita Hills caecilian, there’s no better taste than mom’s peeling skin. These land-dwelling, legless amphibians—found in the forests of southern Kenya—rip off the thick, protein-packed layer with gusto. By the time her kids are done feasting, mama caecilian will lose more than a tenth of her body weight.
Then there’s the mother desert spider, whose sacrifice for her brood goes more than skin-deep. Once the hatchlings emerge, she spits up her own meals to feed her children. Pretty tame, until the digestive enzymes that come up with her puke eat away at her insides. She’ll continue to feed and protect her young for the next two weeks while the enzymes from her stomach kill her from the inside out. But the baby spiders won’t let the corpse go to waste—they’ll gobble up what remains of mom before setting out on their own.

Source: https://https://www.popsci.com/mothers-day-animal-kingdom

405
Islam / ASO ALOR POTHA: COME TO ISLAM & TAKE PEACE
« on: May 12, 2018, 12:53:01 PM »


This is running by ESA Mohammad Taqi Tajwar.It is a page of Islam. You can learn Islam and know about Islam. Islam is the best religion in the world. But it is a matter of sorrow that now we don't know about Islam. 80% people in our country know false rules of Islam. so that I opened this page to deliver true rules of Islam. I hope you can know the correct rules of Islam by this page because this page follow the Quran & Hadis.

Source: http://aasoalorpotha.simplesite.com/

Pages: 1 ... 25 26 [27] 28