Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Md. Zakaria Khan

Pages: 1 ... 5 6 [7]
91
ইসলামে নারীর অধিকার
১• আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে মানুষ তথা নারী ও পুরুষ সবচেয়ে সুন্দর। সূরা আত তীনের ৪নং আয়াতে আল্লাহ নিজেই বলেছেন, আমি মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর কাঠামোতে বানিয়েছি।” মানুষকে নারী ও পুরুষ এই দুই রকমে সৃষ্টি করার কারণ বুঝা কঠিন কিছু নয়। দুইভাবে সৃষ্টি না করলে তো মানব বংশই বিস্তার হতো না; প্রথম মানুষ আদম (আঃ) পর্যন্তই তা থেমে যেত। সূরা আন নিসার প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, “হে মানব জাতি! তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে একজন মানুষ থেকে সৃষ্টি করেছেন, তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং এ দু’জন থেকে বহু পুরুষ ও নারী দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন।”
মানুষকে এমন গুণ বৈশিষ্ট্যে সৃষ্টি করা হয়েছে যে, সে সঙ্গী ছাড়া থাকতে পারে না নারীর প্রতি পুরুষের এবং পুরুষের প্রতি নারীর রয়েছে দারুণ আকর্ষণ । এ আকর্ষণ স্থায়ী হওয়ার জন্য দেয়া হয়েছে ভালোবাসা। আর এ আকর্ষণের প্রয়োজনেই নারী ও পুরুষের সৃষ্টিতে অবয়বগত ও বৈশিষ্ট্যগত কিছু পার্থক রয়েছে। র্পাথক্যের কারণে এমন হয়নি যে, পুরুষ সুন্দর আর নারী বিশ্রী হয়েছে কিংবা নারী সুন্দর আর পুরুষ বিশ্রী হয়েছে বরং উভয়ই সুন্দর। এমন কোন নারী খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে পুরুষের ব্যক্তিত্বশীল স্বভাব পছন্দ করে না, আবার এমন কোন পুরুষও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে নারীর লাজুক স্বভাব পছন্দ করে না।
২• মানুষকে নারী ও পুরুষ এই দুই প্রকার সৃষ্টি করার অনস্বীকার্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর এবার দেখা যাক তাদের মর্যাদার ক্ষেত্রে কোন তারতম্য আছে কিনা। মর্যাদার দিক দিয়ে আল্লাহর কাছে নারী বা পুরুষ বলে আলাদা কিছু নেই; পুরুষের বেশী মর্যাদা আর নারীর কম মর্যাদা, এমন নয়। সূরা আল হুজুরাতের ১৩নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে মানব সমাজ! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি, তারপর তোমাদেরকে বিভিন্ন কাওম ও গোত্র বানিয়ে দিয়েছি যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো। আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে তরাই (নারী হোক, পুরুষ হোক) বেশী সম্মানিত, যারা তাঁকে বেশী ভয় করে চলে। আল্লাহ সব কিছু জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।” সুতরাং আল্লাহর কাছে মর্যাদা বা সম্মানের মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি।
যেসব মানুষ আল্লাহর কথা বা দীন মেনে চলে, তারা তাঁর কাছে শুধু সম্মানিতই নয় বরং তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও পুরস্কার। নিশ্চয়ই যেসব নারী ও পুরষ মুসলিম, মুমিন, আল্লাহর অনুগত, সত্য পথের পথিক, সবরকারী, আল্লাহর সামনে অবনত, দানশীল, রোযাদার , লজ্জাস্থানের হিফাজতকারী এবং আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণকারী, আল্লাহ তাদের জন্য মাগফিরাত ও বিরাট পুরস্কারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন।” সূরা আল আহযাবঃ৩৫
মানুষ হিসেবে নারী-পুরুষ উভয়ই সমান, উভয়ের জাত একই, মানুষ জাত। সূরা আলে ইমরানের ১৯৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা পুরুষ হও বা নারী হও, আমি তোমাদের কারো আমল নষ্ট করবো না। তোমরা সবাই সমাজাতের লোক।”
৩• দুনিয়ার সকল কাজ-কারবার পুরুষ করবে, আর নারী শুধু ঘবে বসে রানাí-বান্না করবে, এ রকম যাদের ধারণা তারা ভুল ধারণা পোষণ করেন। ইসলাম কখনো নারীকে চার দেয়ালে আবদ্ধ করেনি। মুসলিম সমাজ যদি তার কর্ম পরিসর সংকীর্ণ করে দেয়, সে জন্য ইসলাম দায়ী নয়। মুসলিম সমাজের অনেকে তো মদ খায়, ঘুষ খায়, কিন্তু ইসলাম কি তাদেরকে মদ, ঘুষ খেতে বলেছে? ঘরের বাইরেও যে নারীর কর্মক্ষেত্র প্রসারিত, তার প্রমাণ হিজাব বা পর্দা। ঘরের ভিতরে হিজাব পরার কোন প্রয়োজন আছে কি? নারীকে ঘরের বাইরে যেতে হবে বলেই ইসলাম তার সম্মান ও নিরাপত্তর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করেছে। সূরা আত তওবার ৭১নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কাজের আদেশ দেয়, মন্দ কাজে বাধা দেয়, নামায কয়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মেনে চলে। এরা এমন লোক যাদের উপর অবশ্যই আল্লাহর রহমত নাযিল হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজয়ী ও সুবিজ্ঞ।” এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, নারী ও পুরুষ উভয়ে নিজ নিজ বলয়ে একে অপরের বন্ধু ও সঙ্গী হয়ে সংসারে, সমাজে কাজ করবে।
নারীর প্রধান কর্মক্ষেত্র ঘর। ঘর কি শুধু রান্না-রান্নার কাজ? রান্না-বান্না তো পুরুষ বাবুর্চি রেখেও করানো যায়। ঘরের আসল কাজ হচ্ছে স্বামীকে নিয়ে ভালোবাসাপূর্ণ ও কলহমুক্ত একটি আদর্শ পরিবারের সূচনা করা। ছেলে-মেয়েকে সুশিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা। বাবা যেহেতু বাইরে চাকুরী বা ব্যবসায় ব্যস্ত সেহেতু ঘরে সন্তানদেরকে সঠিক শিক্ষা দেয়া ও চরিত্র গঠন করার মতো বিরাট দায়িত্ব মাকেই পালন করতে হয়। বোকারাই এ মহান কাজকে ছোট করে দেখে। কোন ঘরে যদি নারীর বুদ্ধিমত্তা ও প্রচেষ্টায় শান্ত, ভদ্র ও পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং ছেলে-মেয়ে শিক্ষিত ও চরিত্রবান হয়, তবে তা একটি আদর্শ ঘর, আদর্শ পরিবার। আদর্শ পরিবারের সমম্বয়েই আদর্শ সমাজ গড়া সম্ভব। সমাজ আদর্শ হলেই কেবল আদর্শ রাষ্ট্র কায়েম করা যায়। ঘরের এই আসল দায়িত্বকে উপেক্ষা না করে কোন নারী যদি সময়- সুযোগ, মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সুইটেবল কোন চাকুরী বা ব্যবসা করে, তবে তা অতি উত্তম।
ইসলাম নারীকে ঘরের বাইরের কাজ করতে নিষেধ করেনি; নিষেধ করলে হিজাব ফরয হলো কেন? হিজাব তো ঘরের বাইরে প্রয়োজন, ঘরের ভিতরে নয়। ঘরের বাইরেও নারীর অনেক ভূমিকা রয়েছে বলেই পর্দার বিধান দেয়া হয়েছে। পর্দার প্রয়োজন আছে কিনা, তা মনে হয় আজকের এই সময়ে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। বৃটেনের এক খৃস্টান ছাত্রী হিজাব পরে কলেজে আসা-যাওয়া করলে তাকে তার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়। জবাবে সে বলেছে, “পর্দা করলে নিরাপত্তা লাভ করি, রাস্তায় বখাটেরা আর বিরক্ত করে না।”
৪• নারীর কল্যাণ বেশী কিসে, তা বেশী জানেন আল্লাহ তায়ালা, নারী নিজে নয়, পুরুষ তো নয়ই। নারী ও পুরুষের স্রষ্টা আল্লাহ, তিনি এদের স্বভাব-প্রকৃতি সম্যক অবগত। তাই সুস্পষ্ট জ্ঞানের ভিত্তিতেই তিনি নারী ও পুরুষকে জীবন -বিধান দিয়েছেন, যা মেনে চললে তারা উভয়েই ভালো থাকতে পারবে এবং পবিত্র ও আনন্দঘন জীবন যাপন করতে পারবে। আজকের নারী-পুরুষরা যেহেতু আল্লহকে ভুলে গেছে তাই তাঁর দেয়া দীন (জীবন-বিধান) তারা মেনে চলে না। ফলে সমস্যার পর সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষভাবে নারীরা। সে জন্য নারীর উচিত পুরষের তৈরি করা নিয়মে পদাঘাত করে আল্লাহর দেয়া নিয়ম গ্রহণ করা। নারীকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তার বড় হিতাকাংঙ্খী। তিনি তার ভালোর জন্যই বলছেনঃ
হে নবী! মমিন পুরুষদের বলো, যেন তারা নিজেদের চোখ (পর নারী থেকে) নিচু রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। এটাই তাদের জন্য বেশী পবিত্র নিয়ম তারা যা কিছু করে আল্লাহ তার খবর রাখেন। হে নবী! মুমিন নারীদেরকে বলো, তারা যেন চোখ নিচু রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে এবং রূপ-যৌবন যেন দেখিয়ে না বেড়ায়, ঐটুকু ছাড়া যা আপনা-আপনিই প্রকাশ হয়ে পড়ে। আর তারা যেন তাদের বুকের উপর উড়না জড়িয়ে রাখে।ঃ• তারা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে মাটির উপর জোরে পা ফেলে চলাফেরা না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তওবা কর, আশা করা যায় যে, তোমরা সফলকাম হবে।”
সূরা আন নূরঃ ৩০-৩১
পুরুষের তুলনায় নারীর চিরসুখের জান্নাত লাভ করা এবং ভয়াবহ শাস্তির জায়গা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া বেশী সহজ। আয়-রোজগারের দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়নি। কিভাবে আয় করা হল, এ ব্যাপারে আল্লাহর কাছে তার কোন জবাবদিহি নেই। তাকে জবাবদিহি করতে হবে শুধু আল্লাহকে ভয় করে চলেছে কিনা, স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার হক সে হিফাজত করেছে কিনা এবং সন্তানদের ইসলামের আঙ্গিকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে কিনা।
৫• স্বভাবগতভাবেই নারী পুরুষের তুলনায় অনেক বেশী শান্ত ও ভদ্র। জটিল বিষয় ও ঝামেলার বিষয় থেকে সে সব সময় মুক্ত থাকতে চায়। এতে বুঝা যায় নারীকে সহজ-সরল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। মুসলিম নারীকে একটি কথা খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। তা হলো, আল্লাহর বিধান মেনে চললেই কেবল দুনিয়ায় তার শান্তি, নিরাপত্তা , সম্মান ও অধিকার সুনিশ্চিত হবে এবং আখিরাতেও মুক্তি পাওয়া যাবে। আল্লাহর বিধান না মানায় নবীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও দুনিয়ার তাঁর শাস্তি থেকে, আখিরাতে দোযখ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হয়নি। সূরা আত তাহরীমের ১০নং আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ কাফিরদের ব্যাপারে নূহ ও লূতের স্ত্রীদের উদাহরণ পেশ করেছেন। তারা আমার দু’জন নেকবান্দার অধীনে ছিল কিন্তু তারা তাদের স্বামীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। তাই (তাদের স্বামীগণ নবী হওয়ার পরও ) আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার জন্য কোন উপকারে আসেনি। তাদের দু’ জনকে বলা হলো, জাহান্নামের দিকে যারা যাচ্ছে তাদের সাথে তোমরও জাহান্নামে যাও।”
৬• ইসলামই নারীকে সঠিক মর্যাদা দিয়েছে। আরব দুনিয়ায় নারীর যখন এক পয়সার দামও ছিল না, যখন পুরুষরা তাকে শুধুই ভোগের জন্য ব্যবহার করতো, যখন কন্যা সন্তান জন্ম নেয়াকে অপমানজনক মনে করে তাকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো, তখন বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহই(সা) কেবল নারী ও পুরুষের সমান মর্যাদার কথা বললেন। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা করলেন, আর যে সৎ কাজ করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী হোক,, যদি সে মুমিন হয়, তাহলে এমন লোকেরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের বিন্দু পরিমাণ হকও নষ্ট করা হবে না।” সূরা আন নিসাঃ ১২৪। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে আল্লাহ পোশাকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। পোশাকের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক যত নিবিড়, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ততটাই নিবিড় হওয়া চাই। তারা হচ্ছে তোমাদের জন্য পোশাকস্বরুপ এবং তোমরাও তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।” সূরা আল বাকারাঃ১৮৭ মেয়েদেরও তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে, যেমন তাদের উপর পুরুষদের অধিকার আছে।” সূরা আল বাকারাঃ ২২৮
সম্পদে নারীদের রয়েছে নির্ধারিত অংশ।”সূরা আন নিসাঃ৭
৭• আল্লাহর দেয়া কোন বিধান যদি কোন মানুষের কাছে অযৌক্তিক বলে মনে হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে তিনি তাঁর বিধানটি বুঝতে ভুল করেছেন। মহাজ্ঞানী আল্লাহর কোন বিধানই অযৌক্তিক হতে পারে না। তাই কোন বিষয়ে আল্লাহর দেয়া ফয়সালাকে বিনা প্রশ্নে মেনে নেয়াই হচ্ছে একজন মুসলিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সূরা আল আহযাবের ৩৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে ফায়সালা করে দেন, তখন কোন মুমিন পুরুষ ও নারীর এ অধিকার থাকে না যে, সে ঐ বিষয়ে নিজে কোন ফয়সালা করবে। আর কেউ আল্লাহ ও রাসূলের নাফরমানী করে সে সুস্পষ্ট গুমরাহ।” আল্লাহর জ্ঞান হচ্ছে অসীম, তাঁর জ্ঞানে কোন ভুল নেই। সুতরাং তাঁর মীরাস বন্টন ব্যবস্থায়ও কোন ভুল নেই। আকাশের দিকে তাকালে আমরা কি দেখি? জগতসমূহ, নক্ষত্ররাজি চাঁদ-সূর্য সমেত গোটা ইউনিভার্স কি নির্ভুল জ্ঞান দ্বারা, কি নিপুন ভাবে পরিচলিত! কোথাও কি কোন ত্রম্নটি খুঁেজ পাওয়া যায়? দৃষ্টিরা অবসাদগ্রস্ত হয়ে ফিরে আসবে, ত্রম্নটি খুঁজে পাবে না
**************************



92
বিস্ময়কর গ্রন্থের বিস্ময়কর কাহিনী
     
পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য পথ প্রদর্শনের মাধ্যম এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়কারী। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে ‘এই কোরআন বিশ্ববাসীর জন্যে উপদেশ বা জাগরণের মূল উৎস। মার্কিন চিন্তাবিদ ইরভিং পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বলেছেন-"এই গ্রন্থ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত সকল জনগণকে শান্তি ও সুখ-সমৃদ্ধির পবিত্র ছায়াতলে আশ্রয় দিয়েছে।" পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বিখ্যাত দার্শনিক আল্লামা তাবাতাবায়ী লিখেছেন, জ্ঞানীদের জন্য কোরআন যেন এক অলৌকিক সম্পদ-ভান্ডার এবং আইন প্রনেতাদের জন্য এটি সবচেয়ে সামাজিক আইনের আঁধার। এই গ্রন্থে রয়েছে নীতিনির্ধারক বা রাজনীতিবিদদের জন্য সবচেয়ে নবীন ও নজিরবিহীন নীতি । অন্যদিকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনষ্টাইন পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বলেছেন, কোরআন বীজগণিত, জ্যামিতি বা গণিতের বই নয়, বরং এ গ্রন্থে রয়েছে এমনসব বিধান যা মানুষকে সুপথ বা সত্যের পথে পরিচালিত করে, এই পথ হচ্ছে এমন পথ, যা নির্ধারণ করা ও যার সংজ্ঞা দেয়া বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের পক্ষেও সম্ভব নয়।
কোরআনের শিক্ষাগুলো হলো ইসলামের বিকাশ ও উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। আর তাইতো, ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে আজ পর্যন্ত অনেক ইসলাম বিরোধীও কোরআনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। অনেক অমুসলিম চিন্তাবিদ কোরআন নিয়ে গবেষণাও করেছেন।
রাসূল যখন ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন ,তখন কুরাইশ মুশরিকরা রাসূলের বিরুদ্ধে সকল প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এমনকি তারা রাসূলের কাছে যাতে কেউ আসতে না পারে সেজন্যে মানুষজনকে বাধা দিত। কিন্তু মুশরিকদের এতো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেও মানুষ কোরআনের মোহনীয় মাধুর্যে বিমুগ্ধ হয়ে যেত। এরফলে মুশরিকদের মনে একটা প্রশ্ন জাগলো যে, এমন কী আছে কোরআনে যে, যে-ই শোনে সে-ই মুগ্ধ হয়ে যায়। মক্কার মুশরিকদের মধ্যে অন্যতম ক'জন ছিল আবু জেহেল, আবু সুফিয়ান এবং আখনাস। এরা দিনের বেলা ঠিকই অন্যদেরকে রাসূলের কাছে যেতে বাধা দিত আর রাতের বেলা নিজেরাই গোপনে গোপনে কোরআন তেলাওয়াত শোনার জন্যে রাসূলের ঘরের পাশে গিয়ে লুকিয়ে থাকতো।
একরাতে এদের তিনজনই যার যার মতো লুকিয়ে লুকিয়ে কোরআন তেলাওয়াত শুনলো। তেলাওয়াত শোনার পর যখন তারা বেরিয়ে এলো, তখন সবার সাথে সবার দেখা হলো এবং সবার কাছেই সবার গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে পড়লো। ফলে পরস্পরকে তিরস্কার করতে লাগলো এবং তারা শপথ করলো যে এই ঘরে আর কখনো আসবে না। মুখে তার একথা বললেও কোরআনের প্রতি আকর্ষণের কারণে তারা তাদের শপথের কথা রাখতে পারলো না। তাই পরের রাতেও তিনজনই রাসূলের নিজ মুখে আল্লাহর বাণী শোনার জন্যে বাইরে বেরিয়ে এলো। পরপর তিনদিন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। কোরআনের প্রতি তাদের আকর্ষণ সৃষ্টি হলেও ঈর্ষাপরায়নতা ও গোঁড়ামির কারণেই তারা সত্য গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিল।
ওয়ালিদ ইবনে মুগীরা ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য সমালোচক। একবার কুরাইশদের একটি দল ওয়ালিদকে নিয়ে রাসূলের কাছে গেল বিতর্ক করতে । কুরাইশরা অপেক্ষায় ছিল এই বুঝি ওয়ালিদ রাসূলকে পরাস্ত করে বসলো। রাসূল কোরআনের একটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। ওয়ালিদ প্রথম দিকে অহঙ্কারের সাথে আয়াত শুনছিলো। কিন্তু পরক্ষণে দেখা গেল রাসূলের মুখে তেলাওয়াতের শব্দ যতোই বৃদ্ধি পেতে লাগলো,ওয়ালিদ ততোই শান্ত এবং আত্মসমর্পিত হতে শুরু করলো। ওয়ালিদ বললো : "কী মধুর ! এটা কিছুতেই মানুষের বানানো বক্তব্য হতে পারে না।" আয়াতের মাধুর্য ওয়ালিদের ভেতর এতোটাই প্রভাব বিস্তার করলো যে, সে পরিবর্তিত হয়ে গেল। মুশরিকরা তাকে ভয় দেখালো, সাবধান করে দিল। কিন্তু ওয়ালিদ বললো , "মুহাম্মাদের কাছ থেকে যেসব কথা আমি শুনেছি , সেসব কথা এতো আকর্ষণীয় যে অন্য কারো কথার সাথে তার তুলনা হয় না। তার বক্তব্যকে ঠিক কবিতাও বলা যায় না, আবার গদ্যও বলা যায় না, গদ্য-পদ্যের উর্ধ্বে তাঁর বক্তব্য গভীর অর্থপূর্ণ, মিষ্টি-মধুর, কল্যাণময় ও প্রভাব বিস্তারকারী। তাঁর বক্তব্য এতোই উচ্চমানের যে, কোনোকিছুই তারচেয়ে উন্নত হতে পারে না।"
এবার আমরা আরেকজন জ্ঞানী ও বিজ্ঞ লোকের কথা বলবো যিনি রাসূলের কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শোনার সাথে সাথেই ইসলাম গ্রহণ করেন। ঐ লোকটি ছিলেন আদ দাউস গোত্রের সরদার তুফাইল ইবনে আমর। তিনি একজন কবিও ছিলেন। একবার তিনি মক্কার আসার পর মক্কার সর্দাররা তাকে মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে দেখা করতে নিষেধ করে দিলেো। তারা জানালো, মুহাম্মদের কথা মক্কায় ভীষণ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। কোরাইশ নেতাদের কথামতো তুফাইল ইবনে আমর মহানবীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে লাগলেন। কখনও তিনি মহানবীর মুখোমুখি হলে চোখ বুঁজতেন এবং কান বন্ধ করতেন। ঘটনাক্রমে একদিন যখন মহানবী (সাঃ) কাবা ঘরে নামায পড়ছিলেন, তখন তাঁর কণ্ঠ নিঃসৃত কোরআনের আয়াতগুলো তুফাইলের কানে প্রবেশ করলো। মুহুর্তেই আয়াতগুলো তাঁর হৃদয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলো। নামায শেষে যখন নবীজী কাবাঘর থেকে বের হয়ে বাড়ীর দিকে রওনা হলেন, তখন তুফাইল তার পিছু পিছু নবীজীর বাড়িতে গেলেন। বাড়ীতে পৌছার পর তিনি আবারো আয়াতগুলো তেলাওয়াত করার জন্য নবীজীর প্রতি অনুরোধ জানালেন। মহানবী কোরআনের আয়াতগুলো পুনরায় তেলাওয়াত করলেন। অভিভূত তুফাইল সাথে সাথে ইসলাম গ্রহণ করলেন।
এবার আমরা জামাদ নামে ইয়েমেনের একজন জাদুকরের কথা বলবো যিনি রাসূলের কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শোনার সাথে সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। জাদুকর জামাদ ইয়েমেন থেকে মক্কার আসার পর কুরাইশ নেতাদের বললেন, মুহাম্মদের ওপর যে দুষ্ট দেবতার আছর হয়েছে তা সে ছাড়িয়ে দেবে। কুরাইশ নেতারা এ কথা শুনে খুশী হলো। জামাদ মহানবী (সাঃ) এর কাছে গিয়ে হাজির হয়ে বললো, আমি শুনেছি আপনার ওপর নাকি দুষ্ট দেবতার আছর করেছে, আমি তা ছাড়িয়ে দিতে চাই। মহানবী এ কথা শুনে কোন রাগ না করে বললেন, আপনার যা করার করবেন, তার আগে আমার কথা শুনুন। একথা বলে নবীজী পবিত্র কোরআন থেকে কয়েকটি আয়াত পাঠ করলেন। আয়াতগুলো শুনে জামাদ অভিভূত হয়ে গেল এবং আয়াতগুলো আবারো পাঠ করার অনুরোধ করলো। মহানবী আয়াতগুলো দ্বিতীয়বার যখন পাঠ করা শেষ করলেন তখন জামাদ চিৎকার করে বলে উঠল, ' আমি বহু ভবিষ্যদ্বক্তা. জাদুকর ও কবির কথা শুনেছি কিন্তু আল্লাহ সাক্ষী এই কথাগুলোর কোন তুলনা নেই। ' এরপর জামাদ বললো, হে মুহাম্মদ! আপনার হাত বাড়িয়ে দিন, আমি ইসলাম গ্রহণ করছি।

কোরআনের প্রতি আকর্ষণ সম্পর্কে এরকম আরও বহু ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে আছে এবং বর্তমানেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আর তাইতো মুক্তিপাগল মানুষরা প্রতিদিনই কোরআনের ছায়াতলে সমবেত হচ্ছে।


93
Allah: My belief / Mohammad ( SA )
« on: September 16, 2010, 12:16:27 PM »


বিশ্বনবী (সাঃ) আল্লাহর এবাদতের প্রতি এত বেশী অনুরক্ত ছিলেন যে কখনও কখনও তিনি এবাদতে আত্মহারা হয়ে যেতেন এবং অত্যধিক নামাজ আদায় করতে গিয়ে তাঁর পবিত্র পা-যুগল ফুলে যেতো ৷ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর এই অত্যধিক এবাদতের প্রশংসা করে বলেছেন, নিজেকে এভাবে কষ্ট দেয়ার জন্যে আমরা কোরআন নাজেল করিনি৷ পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল (সাঃ)কে বিভিন্ন অপবাদ ও তাঁর নিন্দার মোকাবেলা করে এবং তাঁর পবিত্রতার সাক্ষ্য দিয়েছে৷ সেই সূদূর অতীতকাল থেকে ইসলাম ও সত্য বিরোধী মহল বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)'র আলোকোজ্জ্বল চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে এসেছে যাতে বিশ্বের মানুষের কাছে তাঁর ও ইসলাম ধর্মের নজিরবিহীন প্রভাব ক্ষুন্ন বাধাগ্রস্ত করা যায়৷ কিন্তু মহান আল্লাহ তাদের বিরোধীতার জবাব দিয়েছেন৷ যেমন, ইসলাম বিরোধী কোনো কোনো মহল বলে, নবী (মুহাম্মাদ-সাঃ) যা বলেছেন তা জ্ঞানীদের কাছ থেকে শিখেছেন অথবা নিজের মন থেকে বানিয়ে বলেছেন বা নিজের খেয়ালী প্রবৃত্তি থেকে সেগুলো বলেছেন৷ কিন্তু পবিত্র কোরআন সূরা নজমে এসব ভিত্তিহীন দাবীর জবাব নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, সে কখনও মনগড়া কথা বলে না৷ কোরআন তো ওহী বা প্রত্যাদেশ যা তার ওপর নাজেল হয়েছে৷ তাকে শিখিয়েছেন বিরাট শক্তিমান৷
ইসলামের কোনো কোনো শত্রু রাসূল (সাঃ)কে কবি বলে অভিহিত করেছে৷ পবিত্র কোরআনের সূরা ইয়াসিনের ৬৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ এর জবাবে বলেছেন, আমরা কখনও তাকে কবিতা শিক্ষা দেইনি৷ তা তার জন্যে শোভনীয়ও নয়৷ এতো এক উপদেশ ও সুস্পষ্ট কোরআন৷ বিশ্বনবীকে কেউ কেউ যাদুকর, গনক বা অপ্রকৃতস্হ বলে যেসব অপবাদ দিয়েছে পবিত্র কোরআনের অন্য আয়াতে আল্লাহ তার যুক্তিগ্রাহ্য ও শক্ত জবাব দিয়েছেন এবং তিনি সঠিক সরল পথে আছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন৷
একবার রাসূল (সাঃ)'র কোনো এক স্ত্রীর কাছে কোনো এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন যে নূরনবী (সাঃ)'র চরিত্র কেমন ছিল? উত্তরে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, তুমি কি কোরআন পড়েছ? ঐ ব্যক্তি জবাব দিল, হ্যা পড়েছি৷ তখন রাসূল (সাঃ)'র স্ত্রী বললেন, তিনি নিজেই তো কোরআন৷ নূরনবী (সাঃ)'র জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাঁর আচার আচরণ ও কর্মতৎপরতা ছিল পবিত্র কোরআনের উচ্চতর শিক্ষার জীবন্ত নমুনা৷ পবিত্র কোরআনের ভাষায় বিশ্বনবী (সাঃ) ছিলেন গোটা মানব জাতির জন্যে সতর্ককারী, যেমনটি পবিত্র কোরআন নিজেই সতর্ককারী৷ পবিত্র কোরআন মানুষের জন্যে রহমত বা আল্লাহর মহাঅনুগ্রহ, তেমনি নূরনবী (সাঃ)ও পবিত্র কোরআনের মতো মানুষকে অজ্ঞতার অাঁধার থেকে মুক্ত করে তাদের জন্যে রহমত হিসেবে নিয়োজিত হয়েছেন৷ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বিশ্বনবী (সাঃ)কে সিরাজুম মুনিরা বা প্রদীপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন৷ অথচ এখানে অন্য কোনো উপমা যেমন সূর্য বা নক্ষত্র বলা যেতো৷ কিন্তু তা না বলে তাঁকে প্রদীপ বলা হয়েছে৷ এর তাৎপর্য সম্ভবতঃ এটাই যে এক প্রদীপের আলো থেকে লক্ষ কোটি প্রদীপ বা বাতি জ্বালানো যায়৷ হেদায়াতের আলো এভাবে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে বলে বিশ্বনবী (সাঃ)কে মহান আল্লাহ এই বিশেষ অভিধায় অভিহিত করে তাঁর উচ্চতম মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছেন৷
নূরনবী মোস্তফা (সাঃ)

মানব জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)'র জীবন সেই শৈশব থেকে ওফাত পর্যন্ত মোজেজা বা মহাবিস্ময়কর অনেক ঘটনায় ভরপূর ছিল৷ আমরা জানি মোজেজা বা অলৌকিক ঘটনা সাধারণ মানুষ বা সাধারণ কার্য-কারণ বা চালিকা শক্তির মাধ্যমে ঘটানো সম্ভব নয়৷ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)'র জীবনের অলৌকিক অথচ সন্দেহাতীত ঘটনাগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে তিনি মহান আল্লাহর পরম প্রিয়পাত্র এবং তাঁরই মনোনীত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ৷
মোজেজা বা অলৌকিক ঘটনা সব নবী-রাসূলের জীবনেই ঘটেছে৷ কারণ প্রত্যেক নবী ও রাসূলের সাথে আল্লাহর যোগাযোগ ছিল৷ অন্য কথায় নবী-রাসূলগণ আল্লাহর কাছ থেকে বাণী ও দিকনির্দেশনা লাভ করতেন৷ তাঁরা নবুওত বা রেসালাতের বিষয়টি প্রমাণের জন্যে প্রয়োজনে যুক্তির পাশাপাশি মোজেজা বা অলৌকিক ঘটনাও ঘটাতেন৷ মোজেজা আল্লাহর নির্দেশেই ঘটতো এবং এ ধরনের ক্ষমতা আল্লাহ-প্রদত্ত ক্ষমতারই নিদর্শন৷ পবিত্র কোরআনে হযরত মূসা ও হযরত ঈসা (আঃ)'র মো'জেজাসহ অতীতের অনেক নবীর মো'জেজার কথা বলা হয়েছে৷ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)ও তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণের মো'জেজার বা অলৌকিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন৷
বিশ্বমানবতার মুক্তির মহাকান্ডারী ও একত্ববাদের বিজয়-গাঁথার সর্বশ্রেষ্ঠ নিশানবরদার রাসূলে পাক (সাঃ)ও অনেক মো'জজা দেখিয়েছেন৷ পবিত্র কোরআন তাঁর সর্বত্তোম মো'জেজা এবং তাঁর রেসালাত ইসলাম ধর্মের সত্যতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ৷ এ মহাগ্রন্থ খোদায়ী নিদর্শন ও জ্ঞানে পরিপূর্ণ৷ তাই পবিত্র কোরআন চিরন্তন ও অবিনশ্বর৷ কোরআনের বাণী নির্দিষ্ট স্থান, জাতি ও কালের গন্ডীতে সিমীত নয়৷ এর বাণী, বিষয় ও শিক্ষা সব সময়ই নতুন, হৃদয়স্পর্শী ও স্পষ্ট এবং মানব জীবনের সর্বোত্তম দিশারী৷ মহান আল্লাহই এ মহাগ্রন্থের রচয়িতা বলে কোরআনের বাণীর মতো বাণী আর কেউই সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়৷ কিন্তু পবিত্র কোরআনের বাণী এত আকর্ষণীয় ও অলৌকিক হওয়া সত্ত্বেও অজুহাতকামী ও একগুঁয়ে শ্রেণীর লোকেরা বিশ্বনবী (সাঃ)'র আহবানে সাড়া দেয় নি, বরং তারা রাসূলে পাক (সাঃ)কে যাদুকর বলে অপবাদ দিয়েছে৷ তারা বলতো কেবল বাহ্যিক কিছু অলৌকিক ঘটনা দেখালেই আমরা আপনাকে নবী হিসেবে মেনে নেব৷ পবিত্র কোরআনেই অযৌক্তিক ঐসব দাবী সম্পর্কে বলা হয়েছে, আমরা অবশ্যই এ কোরআনে মানুষের জন্যে সব কিছুর নিদর্শন বর্ণনা করেছি৷ কিন্তু অধিকাংশ মানুষই অবিশ্বাস করেছে৷ তারা বলেছে, আমরা কখনও তোমাকে নবী বলে বিশ্বাস করবো না যদি না তুমি শুস্ক প্রান্তরে ঝর্ণা প্রবাহিত কর, অথবা তোমার জন্যে থাকুক খেজুর ও আঙুরের বাগান যাতে তুমি ঝরণারাজি উৎসারিত করে বইয়ে দেবে, অথবা আকাশকে খন্ড-বিখন্ড করে আমাদের ওপর নামাবে যেভাবে তুমি ইচেছ কর, কিংবা তুমি আল্লাহ ও ফেরেশতাগণকে সরাসরি আমাদের সামনে হাজির কর৷ অথবা স্বর্ণখচিত একটি ঘর বা বাড়ি তোমার জন্যে নিয়ে আস, কিংবা আকাশের দিকে উড়ে যাও৷ আকাশে বা উধর্বলোকে তোমার আরোহনকে আমরা কখনও বিশ্বাস করবো না যতক্ষণ না তুমি আকাশ থেকে একটি চিঠি বা বই আমাদের জন্যে নামিয়ে আনবে যা আমরা পড়তে পারি৷ আর কেবল তা পারলেই আমরা তোমাকে নবী বলে মনে করবো৷ হে রাসূল! আপনি বলুন, সকল মহিমা আমার প্রভুর, আমি কি একজন মানুষ ও আল্লাহর রাসূল ছাড়া অন্য কিছু?
পবিত্র কোরআন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)'র অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের সমর্থনে বক্তব্য রেখেছে এবং তাঁর সম্পর্কে যাদুকর বা অপ্রকিতস্থ হবার অপবাদ খন্ডন করেছে৷ পবিত্র কোরআন বিশ্বনবী (সাঃ)'র কয়েকটি মো'জেজা বা অলৌকিক ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে৷ উধর্বলোকে তাঁর সফর বা মেরাজ গমন এমনই একটি মোজেজা৷ কোনো এক রাতে রাসূলে পাক (সাঃ) আল আকসা মসজিদ থেকে উধর্বজগতে আরোহন করে বেহেশত ও দোযখসহ সমস্ত বিশ্ব জগত ভ্রমণ করেন৷ এ সংক্ষিপ্ত অথচ অলৌকিক সফরে অতীতের নবীগণের সাথে তাঁর সাক্ষাৎসহ অনেক বিস্ময়কর ব্যাপার ঘটেছে এবং তিনি অনেক বিস্ময়কর বিষয় প্রত্যক্ষ করেন৷ আমাদের এই ধারাবাহিক আলোচনার একটি অনুষ্ঠানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে৷ পবিত্র কোরআনে বিশ্বনবী (সাঃ)'র অন্য যেসব মো'জেজার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেসবের মধ্যে চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করার ঘটনা অন্যতম৷
আবুজেহেল ও ওয়ালিদ বিন মুগিরাহসহ মক্কার কোরাইশ ও মুশরিকদের একদল নেতা একবার বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)'র কাছে আসেন৷ সে সময় রাতের বেলায় পূর্ণ চাঁদ দেখা যাচিছল৷ ওরা রাসূলে পাক (সাঃ)কে বললো, তোমার নবুওতের দাবী যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে এই চাঁদকে দ্বিখন্ডিত হতে বল৷ রাসূলে খোদা (সাঃ) বললেন, এ কাজ করলে কি তোমরা ঈমান আনবে? তারা বললো হ্যা৷ রাসূল (সাঃ) আল্লাহর কাছে এ মো'জেজা ঘটানোর প্রার্থনা করেন৷ হঠাৎ সবাই দেখলো, চাঁদ এত স্পষ্টভাবে দুই খন্ড হয়ে গেছে যে দ্বিখন্ডিত চাঁদের মাঝখানে হেরা পর্বত দেখা যাচেছ৷ এরপর দ্বিখন্ডিত চাঁদ আবার জোড়া লেগে যায় এবং তা পূর্ণ চাঁদে পরিণত হয়৷ এ সময় রাসূলে পাক (সাঃ) বলছিলেন, সাক্ষী থাক ও দেখ৷ মুশরিকরা তো এই অসাধারণ দৃশ্য দেখে বিস্ময়ে হতবাক! কিন্তু তাদের কেউ কেউ ঈমান না এনে বললো, মুহাম্মাদ আমাদেরকে যাদু করেছে৷ পবিত্র কোরআনে এ ঘটনা সম্পর্কে বলা হয়েছে, সেই সময় বা কিয়ামত সমাগত এবং চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়েছে৷ আর যখন ওরা কোনো নিদর্শন বা মো'জেজা দেখেছে তখন ওরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে৷ ওরা বলে, এ এক চিরাচরিত যাদু৷ ফাখরে রাজী তাফসীরে মাফাতিহুল গাইবে সূরা ক্বামারের তাফসীরে লিখেছেন, সমস্ত তাফসীরকার এ ব্যাপারে একমত যে চাঁদে ফাটল বা ভাঙ্গন দেখা দিয়েছিল এবং গোটা চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়েছিল৷ এ ঘটনা সম্পর্কে হাদীসের প্রায় বিশটি বর্ণনা রয়েছে এবং এ ঘটনার সত্যতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই৷ এবার আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আঃ) ও ওয়ারাকা বিন নওফেলের মাধ্যমে বর্ণিত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)'র এক মো'জেজার বর্ণনা দেব৷ আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আঃ) বলেছেন, একদিন আমি রাসূলে পাক (সাঃ)'র সাথে থাকা অবস্থায় কোরাইশ গোত্রের একদল লোক তাঁর কাছে এসে বললো, হে মুহাম্মাদ, তুমি বেশ বড় মাপের দাবী করছ৷ এ ধরনের দাবী তোমার পূর্বপুরুষ ও আত্মীয়-স্বজন কখনও করেনি৷ তুমি যদি আমাদের একটি বিশেষ দাবী পূরণ করতে পার তাহলে আমরা তোমার রেসালাতে বিশ্বাস করবো৷ আর তুমি তা না পারলে তোমাকে স্রেফ যাদুকর ও মিথ্যাবাদী ছাড়া অন্য কিছু মনে করবো না৷ রাসূলে আকরাম (সাঃ) বললেন, তোমরা কি চাও? ওরা বললো, আমরা চাই তোমার নির্দেশে এই গাছটি যেন শেকড়সহ মাটি থেকে উঠে তোমার কাছে চলে আসে৷ রাসূলে পাক (সাঃ) বললেন, মহান আল্লাহ সর্বশক্তিমান৷ তিনি তোমাদের এ দাবী পূরণ করলে তোমরা কি ঈমান আনবে এবং সত্যের সাক্ষ্য দেবে? ওরা বললো, হ্যা৷ রাসূলে খোদা (সাঃ) বললেন, তোমাদের দাবী পূরণ করবো, তবে আমি জানি যে তোমরা ঈমান আনবে না৷ এরপর তিনি ঐ গাছকে সম্বোধন করে বললেন, যদি আল্লাহ ও বিচার বা পুণরুত্থান দিবসে বিশ্বাস কর এবং আমাকে আল্লাহর রাসূল বলে মনে কর তাহলে আল্লাহর নির্দেশে আমার কাছে চলে আস৷ হযরত আলী (আঃ) আরো বলেন, আল্লাহর কসম, গাছটি শেকড়সহ মাটি থেকে উঠে রাসূল (সাঃ)'র দিকে এগুতে লাগলো৷ এ সময় পাখীদের উড়াল দেয়া বা পাখা ঝাপটানোর শব্দের মতো শব্দ শোনা গেল৷ গাছটি রাসূলে করিম (সাঃ)'র সামনে এসে থেমে যায় এবং গাছটি তার কিছু শাখা-প্রশাখা তাঁর পবিত্র মাথার ওপর মেলে দেয় এবং কিছু শাখা আমার কাঁধের ওপর ছড়িয়ে দেয়৷ আমি রাসূলে খোদা (সাঃ)'র ডান পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম৷ কোরাইশরা এ ঘটনা দেখার পরও ঔদ্বত্য দেখিয়ে বললো, এই গাছকে বল তার অর্ধেক যেন তোমার কাছে আসে এবং অর্ধেক নিজ অবস্থানে থেকে যায়৷ রাসূলে(সাঃ)'র নির্দেশে তাও বাস্তবায়িত হয়৷
এরপরও ঐ কুরাইশরা বললো, গাছের যে অর্ধেক তোমার কাছে এসেছে তা তার বাকী অর্ধেকের কাছে ফিরে গিয়ে আবার পরিপূর্ণ গাছে পরিণত হোক৷ রাসূল (সাঃ)'র নির্দেশে গাছটি আবার পরিপূর্ণ হল৷ আমীরুল মুমিনিন আলী (আঃ) বলেন, এ ঘটনার পর আমি বললাম, এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো খোদা বা প্রভু নেই, হে প্রিয় রাসূল৷ আমিই প্রথম আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমি সাক্ষ্য দিচিছ যে এই গাছের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা আল্লাহর নির্দেশে হয়েছে এবং আপনি যে আল্লাহর রাসূল তা প্রমাণের জন্যেই ঘটেছে৷ কিন্তু কোরাইশ লোকগুলো বললো, তুমি তো বিস্ময়কর যাদুকর ও মিথ্যাবাদী৷ এরকম লোক (হযরত আলী আঃ) ছাড়া আর কেউ কি তোমাকে আল্লাহর রাসূল মনে করে? নবী-রাসূলগণের দাওয়াত বা সত্যের আহবান অস্বীকার বা উপেক্ষার ঘটনা শুধু অতীতকালেই সিমীত থাকে নি৷ এখনও অনেক লোক খোদায়ী বাস্তবতা বা সত্যকে বুঝতে অক্ষম৷ আজও এক শ্রেণীর দাম্ভিক ও স্বার্থান্ধ লোক নবী-রাসূলগণকে যাদুকর বলে অপবাদ দেয়৷ তারা এটা বোঝে না যে নবী-রাসূলগণ বাহানাবাজদের কথামত চলেন না৷ নবী-রাসূলগণ দর্শকদের জন্যে বিস্ময়কর কিছু দেখাতে অভ্যস্ত গাঁজাখোরি গল্পের অভিনেতা বা ভেলকীবাজ নন৷ বরং তাঁরা মহান ও এক আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্যে প্রাণ-সঞ্চারী ও জরুরী বার্তা প্রচারের জন্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন ৷ মানুষকে সুপথ দেখানো ও তাদের মুক্তি বা কল্যাণের ব্যবস্থা করাই ছিল নবী-রাসূলগণের মিশনের উদ্দেশ্য ৷
নূরনবী মোস্তফা (সাঃ)
বিশ্বের সমস্ত মুসলমান এ ব্যাপারে একমত যে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ নবী ও রাসূল এবং ইসলামী বিধান বা শরিয়ত খোদায়ী ধর্মগুলোর মধ্যে পরিপূর্ণতম৷ রাসূল (সাঃ) যে সর্বশেষ নবী এ বিশ্বাস ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিশ্বাসগুলোর মধ্যে অন্যতম৷ এই বিশ্বাসের সপক্ষে পবিত্র কোরআন ও হাদীসে অনেক স্পষ্ট দলীল-প্রমাণ রয়েছে৷ এ ছাড়াও ইসলামী বিধি-বিধানের প্রকৃতি থেকেও ইসলামী বিধানের স্থায়ীত্ব ও সার্বজনীনতা স্পষ্ট৷ (বাজনা) পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)'র পর আর কোনো নবী আসবেন না৷সূরা আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যকার কোনো পুরুষের পিতা নয়, কিন্তু তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী৷ আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে অবহিত৷
অন্যদিকে পবিত্র কোরআনের আয়াতে ইসলামকে চিরন্তন ও সর্বজনীন ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷ ইসলামের বিধানও কোনো স্থান বা সময়সীমার গন্ডীতে সিমীত নয়৷ যেমন, সূরা ফোরক্বানের এক নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কত মহান তিনি যিনি তাঁর দাসের প্রতি ফোরকান (কোরআন) নাজিল করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্যে সতর্ককারী হতে পারে৷
মহান আল্লাহ নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন মানুষকে শির্ক বা অংশীবাদিতা থেকে একত্ববাদ এবং অজ্ঞতা থেকে বুদ্ধিবৃত্তি ও কল্যাণকর বা সৌভাগ্যময় জীবনের দিকে আহবান জানাতে৷ যুগে যুগে মানুষের চাহিদার পরিবর্তন ঘটায় ধর্ম-বিধান পরিবর্তিত হয়েছে এবং প্রত্যেক যুগেই মানব &

Pages: 1 ... 5 6 [7]