Daffodil International University

Entertainment & Discussions => Travel / Visit / Tour => Topic started by: Kazi Sobuj on September 25, 2017, 02:12:30 PM

Title: মহেড়া জমিদারবাড়ি
Post by: Kazi Sobuj on September 25, 2017, 02:12:30 PM
(http://www.kalerkantho.com/feature/oboshore/2017/09/23/545799)
মহেড়া জমিদারবাড়ি


ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরের পাকুল্লা পার হয়ে নাটিয়াপাড়া-ফতেপুর। মহাসড়কের পাশেই মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের সাইনবোর্ড।

সেখান থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বদিকে মহেড়া জমিদারবাড়ি। প্রথমেই চোখে পড়বে একটি পুকুর। পাশেই পরপর কয়েকটি ভবন।
১৮৯০ সালে জমিদার বিধু সাহা, বুদ্ধু সাহা, হরেন্দ্র সাহা ও কালীচরণ সাহা—এই চার ভাই মহেড়া জমিদারির পত্তন করেন। তাঁদের পরের প্রজন্ম রায় চৌধুরী পদবি গ্রহণ করে। তবে জমিদারদের পূর্বপুরুষরা কেউ পাটের ব্যবসা, কেউ লবণের ব্যবসা করতেন। ১৯৭১ সালের ১৪ মে পাকিস্তানি বাহিনী মহেড়া জমিদারবাড়িতে হামলা চালায়। কুলবধূ যোগমায়া রায় চৌধুরীসহ পাঁচজনকে চৌধুরী লজের পেছনে একত্রে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। লুট করে বাড়ির মূল্যবান সম্পদ।

১৯৭২ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাড়িটিকে জোনাল পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৯০ সালে জোনাল পুলিশ ট্রেনিং স্কুলকে উন্নীত করা হয় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে।
আট একর আয়তনের মহেড়া জমিদারবাড়ির সামনের অংশে মহারাজ লজ, আনন্দ লজ, চৌধুরী লজ ও কালীচরণ লজ নামে চারটি দৃষ্টিনন্দন ভবন। এ ছাড়া রয়েছে কাছারি ভবন, রানি মহল, বিশাখা সাগর, নায়েব ভবন, পুকুরের গোলঘর, মনোময় কুঠি, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের প্যারেড গ্রাউন্ড, মিনি চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, বিশ্রামাগার, জাদুঘর। প্রতিটি ভবনের সামনে ফুলের বাগান। ভবনগুলোর আশপাশের পুরো এলাকা রঙিন টাইলস করা—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

 

চার লজ

বাড়ির পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবেশ করলে প্রথমেই পড়বে মহারাজ লজ। দুইতলা এ ভবনে ১০টি কক্ষ। ভবনের সামনের অংশ কারুকাজ করা। সামনে ফুলবাগান। বাগানে ঘুরে বেড়ানোর রাস্তাও আছে।

আনন্দ লজও দ্বিতল ভবন। এতে কক্ষ ১২টি। আনন্দ লজের ঝুলবারান্দা চমৎকার নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে। বর্তমানে এ ভবনের নিচের তলা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিসি) প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আনন্দ লজের পাশ দিয়ে এগিয়ে গেলে পাসরা পুকুর। পুকুরের ওপর তৈরি করা হয়েছে গোলঘর।

জমিদারবাড়ির স্থাপনাগুলোর মধ্যে চৌধুরী লজ পূর্বপাশে। দোতলা ভবনটিতে ছয়টি কক্ষ। নিচতলায় তিনটি ও ওপরের তলায় তিনটি। এই লজের পেছনে অতিথি ভবন। অতিথি ভবনের উত্তর পাশে রানি মহল। এখানে জমিদারদের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকত। এ ভবনের পাশে কালীচরণ লজ। একতলা ভবন। পিটিসির এক নম্বর সেন্ট্রি পোস্ট পার হয়ে কয়েক কদম এগিয়ে গেলে বাঁ দিকে সিংহদ্বার।



সিংহদ্বার

বিশাখা সাগর

জমিদারবাড়ির সামনে বিশাল পুকুর। এই পুকুরই বিশাখা সাগর। পিটিসিতে প্রবেশের আগেই চোখে পড়বে। চারপাশে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ। চার একর আয়তনের বিশাখা সাগরের উত্তর দিকের মাঝামাঝি বড় ঘাট। ঘাটের দুই পাশে তিনটি করে স্তম্ভ। কেউ চাইলে বিশাখা সাগরে স্পিডবোট নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।



জাদুঘর

জাদুঘর

জমিদারদের পুরনো একটি স্থাপনা সংস্কার করে সেখানে জাদুঘর করা হয়েছে। এর তিনটি অংশ। প্রথম অংশে জমিদারদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। দ্বিতীয় অংশে মুক্তিযুদ্ধের সময় পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করা জিনিস ও অস্ত্র। তৃতীয় অংশে জমিদারবাড়ির ইতিহাস।