Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Md. Zakaria Khan

Pages: [1] 2 3 ... 27
1
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« on: July 14, 2026, 02:23:39 PM »
রব্বি লা তাযারনি ফারদাও ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসিন

 (আরবি: رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ)

পবিত্র কোরআনের একটি অত্যন্ত বরকতময় দোয়া。
হজরত জাকারিয়া (আ.) নিঃসন্তান অবস্থায় নেক ও যোগ্য সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে এই দোয়াটি করেছিলেন (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৮৯)

2
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« on: July 08, 2026, 03:12:40 PM »
আল্লাহ তাআলা বলেন,
 وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
অর্থাৎ, তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক (আমার নিকট দুআ কর) আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব (আমি তোমাদের দুআ কবুল করব।) যারা অহংকারে আমার উপাসনায় (আমার কাছে দুআ করা হতে) বিমুখ, ওরা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সূরা গাফের ৬০ আয়াত)।

তিনি আরো বলেন, “আর আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে (তখন তুমি বল,) আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমার কাছে প্রার্থনা জানায়, তখন আমি তার প্রার্থনা মঞ্জুর করি।” (সূরা বাক্বারাহ ১৮৬

রসুল (ﷺ) বলেন, “দুআই তো ইবাদত।” (আবু দাউদ ২/৭৮; তিরমিযী ৫/২১১)

“নিশ্চয় তোমাদের প্রভু লজ্জাশীল অনুগ্রহপরায়ণ, বান্দা যখন তার দিকে দুই হাত তোলে, তখন তা শূন্য ও নিরাশভাবে ফিরিয়ে দিতে বান্দা থেকে লজ্জা করেন।” (আবু দাউদ ২/৭৮; তিরমিযী ৫/৫৫৭)

“যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার উপর ক্রোধান্বিত হন।” (তিরমিযী ৫/৪৫৬, ইবনে মাযাহ ২/১২৫৮)

দুআ অন্যান্য ইবাদতের মত এক ইবাদত। যা আল্লাহরই জন্য নির্দিষ্ট। সুতরাং গায়রুল্লাহর নিকট দুআ ও প্রার্থনা করলে বা কিছু চাইলে অথবা গায়রুল্লাহকে ডাকলে তা অবশ্যই শির্ক হয়। তাই যাবতীয় দুআ ও প্রার্থনা কেবল আল্লাহরই নিকট করতে হয় এবং যত কিছু চাওয়া কেবল তাঁরই নিকট চাইতে হয়। সর্বপ্রকার, সর্বভাষায় এবং একই সময় অসংখ্য ডাক কেবল তিনিই শুনতে ও বুঝতে পারেন এবং সর্বপ্রকার দান কেবল তিনিই করতে পারেন।

3
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« on: July 01, 2026, 09:25:09 AM »
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা অচিরেই জাহান্নামে লাঞ্ছিত হয়ে প্রবেশ করবে।’ (সুরা মুমিন : ৬০)। হজরত নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই হলো ইবাদত। তারপর তিনি পাঠ করেন, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।’ (তিরমিজি : ২৯৬৯) হজরত আবদুল্লা ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে বিপদ আপতিত হয়েছে এবং যা এখনো আপতিত হয়নি, সব ক্ষেত্রেই দোয়ায় উপকার হয়। সুতরাং হে আল্লাহর বান্দারা, তোমাদের দোয়া করা উচিত।’ (তিরমিজি : ৩৫৪৮)।

4
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« on: June 28, 2026, 03:28:26 PM »

[হাদীস শরীফে এসেছে,
 ‘আদদুআউ হুয়াল ইবাদাহ’। দুআই ইবাদত।

আরেক হাদীসে এসেছে-
‘আদদুআউ মুখখুল ইবাদাহ’।
অর্থাৎ দুআ ইবাদতের মগজ বা সারবস্ত্ত।

5
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« on: June 27, 2026, 08:25:41 AM »

আবু হুরাইরার মায়ের হেদায়াত
আবু হুরাইরা (রা.)-এর মা মুশরিক ছিলেন। তিনি তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন, কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন এবং নবীজির বিরুদ্ধে কটু কথা বলতেন। একদিন আবু হুরাইরা কাঁদতে কাঁদতে নবীজির কাছে গেলেন।

বললেন, ‘আমি মাকে দাওয়াত দিই, তিনি আপনার বিরুদ্ধে খারাপ বলেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তিনি হেদায়াত পান।’ নবীজি বললেন, ‘আল্লাহুম্মাহদি উম্মা আবি হুরাইরাহ’ (হে আল্লাহ, আবু হুরাইরার মাকে হেদায়াত দান করো)।

আবু হুরাইরা আনন্দে বাড়ি ফিরলেন। দরজায় পৌঁছে শুনলেন, দরজা বন্ধ। মা বললেন, ‘অপেক্ষা করো।’ তিনি পানির শব্দ শুনলেন। তারপর মা গোসল করে দরজা খুলে বললেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’

আবু হুরাইরা আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে নবীজির কাছে গেলেন। বললেন, ‘সুসংবাদ, আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৯১)।

6
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« on: June 25, 2026, 11:35:56 AM »
দোয়া হলো মুমিনের আত্মার নিঃশ্বাস, বিশ্বাসের প্রমাণ এবং নিরাশার অন্ধকারে আশার আলোকবর্তিকা। আল্লাহ তার বান্দাকে যে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন, তার মধ্যে দোয়া এমন এক অনন্য দান,যার মাধ্যমে বান্দা সরাসরি তার রবের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
মানুষের শক্তি সীমাবদ্ধ, কিন্তু দোয়ার শক্তি অসীম, কারণ দোয়া সরাসরি আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়। তাই দোয়া মুমিনের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, বিজয়ের প্রধান অস্ত্র ও শক্তির কেন্দ্রবিন্দু।
তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। (সুরা গাফির: ৬০)
এ আয়াত দ্বারা প্রমানিত,আল্লাহ শুধু দোয়া করতে আদেশই করেননি, বরং তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে বান্দা যখন আন্তরিক মনে তার দিকে হাত বাড়াবে, তখন তিনি নিজ অনুগ্রহে সেই দোয়াকে গ্রহণ কবুল করবেন। অর্থাৎ দোয়া মুমিনের জন্য এমন এক হাতিয়ার, যার ও পাশে আল্লাহর দয়া, করুণা প্রস্তুত।


7
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« on: June 24, 2026, 09:53:38 AM »
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি কামনা করে, বিপদ ও সঙ্কটের সময় আল্লাহ তার দুআ কবুল করুন, সে যেন সুখের সময় অধিক পরিমাণে দুআ করে। —জামে তিরমিযি, হাদীস ৩৩৮২

8
Various Sura & Dua / দোয়ার অলৌকিকতা
« on: June 23, 2026, 11:11:21 AM »

ইসলামে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম ও এর অলৌকিক শক্তি অসীম। দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, তাকদিরের পরিবর্তন ঘটে এবং কঠিন বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি মেলে। এটি বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার আত্মিক সম্পর্ক, যা মানুষের জীবনে অলৌকিক পরিবর্তনের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।
দোয়ার অলৌকিকতার প্রধান কিছু দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
ভাগ্যের পরিবর্তন: খাঁটি মনে ও বিশ্বাসের সাথে করা দোয়া মানুষের ভাগ্য ও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
অসম্ভব অর্জন: মানুষের কাছে যা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বা অলীক মনে হয়, তা-ই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে অলৌকিক রূপ নেয়।
মানসিক শান্তি ও সুরক্ষা: নিয়মিত দোয়া এবং ইস্তেগফারের মাধ্যমে কঠিন পরিস্থিতিতেও মনে প্রশান্তি আসে এবং বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
দোয়া কবুলের বিশেষ কিছু সময় ও আমল:
@ তাহাজ্জুদের সময়: রাতের শেষ প্রহরে করা দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়।
@ দরূদ শরীফ: ইবাদতের মাঝে অতিরিক্ত আমল হিসেবে দরূদ শরীফ পাঠ করলে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
@ দোয়া ইউনুস: বিপদ থেকে মুক্তির জন্য “লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কন্তু মিনাজ জোয়ালিমীন” অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

9
যেসব কারণে সগিরা গুনাহ কবিরায় পরিণত হয়
আমরা প্রায়ই ছোট গুনাহকে হালকাভাবে নিই। মনে করি, এটা তো সগিরা গুনাহ, বড় কিছু না। কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে এই ছোট গুনাহই কবিরা গুনাহে রূপান্তরিত হয়ে যায়।কোন কারণগুলো — চলুন জেনে নিই।
১. বারবার করা
একবার করেছেন, তাওবা করেননি, আবার করেছেন — এই পুনরাবৃত্তিই একসময় কবিরা গুনাহের মতো ভারী হয়ে যায়।
২. গুনাহকে হালকা মনে করা
"এটা তো ছোট গুনাহ, মাফ পেয়ে যাব" — এই উদাসীনতাই আল্লাহর শাস্তির ব্যাপারে নির্ভয় হয়ে ওঠার লক্ষণ, যা গুনাহকে কবিরায় পরিণত করে।
৩. গর্ব করে বলা
কেউ একজনকে ধোঁকা দিয়ে বন্ধুদের কাছে গর্ব করে বলল — "দেখ, কীভাবে তাকে বোকা বানালাম।" গুনাহ করে আনন্দিত হওয়া ও গর্ব করা সেই গুনাহকে কবিরায় বদলে দেয়।
৪. নিজেই প্রকাশ করে দেওয়া
রাতে গুনাহ করে আল্লাহ যা গোপন রেখেছিলেন, সকালে নিজেই সেটা সবাইকে বলে বেড়ানো। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন — "আমার সকল উম্মত মাফ পাবে, তবে গুনাহ প্রকাশকারী ব্যতীত।(বুখারি: ৬০৬৯)
৫. অন্য গুনাহের কারণ হওয়া
একটা ছোট গুনাহ যদি অন্য মানুষকেও গুনাহের দিকে টেনে নেয়, তখন সেটা স্বতন্ত্রভাবে ছোট হলেও তার প্রভাবের কারণে কবিরা হয়ে যায়।
কোনো গুনাহকেই ছোট ভেবে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই — পরিস্থিতি একে রূপান্তরিত করতে পারে অনেক ভারী কিছুতে।
সূত্র: তাত্তাবিহুল গাফিলিন

10
রিজিক শুধু টাকা নয়, জীবনের প্রতিটি কল্যাণও একেকটি রিজিক।

আমরা অনেক সময় রিজিক বলতে শুধু আয়, ব্যবসা, বেতন কিংবা ব্যাংক ব্যালেন্সকেই বুঝি। অথচ বাস্তবতা হলো, আল্লাহর দেওয়া রিজিকের পরিধি অনেক বড়, অনেক গভীর।

সকালে সুস্থ শরীরে ঘুম থেকে উঠতে পারা একটি রিজিক।

বৃদ্ধ বাবা-মাকে পাশে পাওয়া একটি রিজিক।

দিন শেষে পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরে আসা একটি রিজিক।

কঠিন সময়ে একজন সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষীর পাশে দাঁড়ানো একটি রিজিক।

মানসিক প্রশান্তি, সুস্থতা, সম্মান, ভালোবাসা, বিশ্বস্ত বন্ধু, দায়িত্বশীল সন্তান, এমনকি নির্ভেজাল একটি হাসিও রিজিকের অংশ।

জীবনের একটা পর্যায়ে এসে মানুষ বুঝতে শেখে, সব সম্পদ ব্যাংকে জমা থাকে না। কিছু সম্পদ মানুষের দোয়া হয়ে আসে, কিছু আসে সুস্থতা হয়ে, কিছু আসে শান্তি হয়ে, আর কিছু আসে এমন কিছু মানুষের মাধ্যমে, যাদের উপস্থিতিই জীবনকে সহজ করে দেয়।

একটা গভীর বাস্তবতা হলো —

যার অনেক টাকা আছে, সে সবসময় ধনী নয়।
আর যার মনে শান্তি আছে, পরিবার আছে, সুস্থতা আছে, সে কখনো নিঃস্ব নয়।

আমরা প্রায়ই যা নেই তার হিসাব করি, কিন্তু যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হতে ভুলে যাই।

অথচ এমন অসংখ্য নেয়ামত আমাদের জীবনে আছে, যেগুলোর মূল্য আমরা বুঝি তখনই, যখন সেগুলো হারানোর ভয় সামনে আসে।

তাই শুধু আয় বৃদ্ধির জন্য নয়, দোয়া করুন সুস্থতার জন্য, পরিবারের জন্য, শান্তির জন্য, নেক মানুষের সান্নিধ্যের জন্য এবং এমন জীবনের জন্য, যেখানে বরকত থাকবে।

কারণ সব রিজিক টাকার আকারে আসে না।

কিছু রিজিক আসে সুস্থতা হয়ে,
কিছু আসে শান্তি হয়ে,
কিছু আসে সম্পর্ক হয়ে,
আর কিছু আসে আল্লাহর বিশেষ রহমত হয়ে।

আলহামদুলিল্লাহ, প্রতিটি নেয়ামতের জন্য।

11
 রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন কেউ হেদায়েতের দিকে আহ্বান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরন করেছে তাদের সোওয়াবের কোন কমতি হবে না।"
 [সহিহ মুসলিমঃ ২৬৭৮]

12
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিক: দোয়ার ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য[

মানুষ দুনিয়ায় যেমন আধ্যাত্মিক চাহিদা নিয়ে বেঁচে থাকে, তেমনি দেহ ও জীবিকার চাহিদাও রয়েছে। ইসলামে আল্লাহর কাছে দোয়া করার মাধ্যমে উভয় চাহিদা পূরণের দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো,

“আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিক।”

অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।”
কেন এই দোয়া
মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়া পড়ার বিষয়ে হাদিসে নির্দেশনা এসেছে। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন:

“যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, সে বলুক: আল্লাহুম্মা ইফ্‌তাহলি আবওয়াবা রহমাতিকা (হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দ্বার খুলে দিন)। আর যখন বের হবে, তখন বলুক: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিক (হে আল্লাহ, আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি)।” (সহিহ মুসলিম, কিতাবুস সালাত, হাদিস: ৭১৩)

একই বর্ণনা এসেছে আবু দাউদের হাদিসেও। (সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, হাদিস: ৪৬৫)
হাদিসের ব্যাখ্যা
ইমাম নববী (রহ.) বলেন,

মসজিদে প্রবেশের সময় আল্লাহর রহমত চাইতে বলা হয়েছে, কারণ মসজিদ হলো ইবাদত ও মাগফিরাতের স্থান।

বের হওয়ার সময় আল্লাহর ‘ফাদল’ চাইতে বলা হয়েছে, কারণ বান্দা তখন দুনিয়ার কর্মকাণ্ডে ফিরে যায়, যেখানে তার রিজিক, সুরক্ষা ও বরকত প্রয়োজন। (শারহে সহিহ মুসলিম, ৫/২২৩, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যা, বৈরুত, ১৯৯৬)
ইমাম খাত্তাবী (রহ.) বলেন, “ফাদল” শব্দটি শুধু বস্তুগত রিজিক বোঝায় না; বরং ইমান, ইলম, সুস্বাস্থ্য, সৎসঙ্গ—সব ধরনের কল্যাণকেই অন্তর্ভুক্ত করে। (মা‘আলিমুস সুনান, ১/১৪৫, আল-মাকতাবাতুল ইসলামি, দামেস্ক, ১৯৩২)
দোয়ার শিক্ষা
১. ইবাদত ও দুনিয়ার ভারসাম্য: মসজিদে প্রবেশে রহমত, বের হওয়ার পর ‘ফাদল’—এভাবে দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের ভারসাম্য শেখানো হয়েছে।

২. রিজিক ও কল্যাণ আল্লাহর কাছেই: বান্দা যত পরিশ্রমই করুক, প্রকৃত বরকত ও কল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

৩. সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর দোয়া: এই দোয়া ছোট হলেও এর ভেতর জড়িয়ে আছে জীবনের সব প্রয়োজনীয় কল্যাণের প্রার্থনা।

৪. প্রতিদিনের অভ্যাস: মসজিদে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার প্রতিবারে এ দোয়া পড়া অভ্যাস করলে, মানুষের জীবনে আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ প্রবাহিত হতে থাকে।
বাস্তব জীবনে তাৎপর্য
নামাজ শেষে দুনিয়ার কাজে ফেরার সময় এ দোয়া আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, দুনিয়ার সাফল্যও আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া সম্ভব নয়।

বান্দা যখন মসজিদে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত কামনা করে, এবং বের হওয়ার সময় দুনিয়ার কাজে প্রবেশের আগে আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করে—তখন তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে যায়।

অতএব, আমাদের সবার উচিত এই দোয়াকে প্রতিদিনের আমলের অংশ বানানো, যেন আমাদের ইবাদত, কর্ম, জীবিকা ও দুনিয়া-আখিরাত সবই আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহে ভরে ওঠে।

13
মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোন নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই যালেম। [সূরা হুজরাত: 11]
হে মু’মিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা হতে বিরত থাক। কতক ধারণা পাপের অন্তর্ভুক্ত। তোমরা অন্যের দোষ খোঁজাখুঁজি করো না, একে অন্যের অনুপস্থিতিতে দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো সেটাকে ঘৃণাই করে থাক। আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ খুব বেশি তাওবাহ ক্ববূলকারী, অতি দয়ালু। (আল হুজরাত, আয়াত ১২)

14
মুমিনের পুরোটা জীবনই কল্যাণময় :
 সাহাবি সুহাইব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের বিষয় বড়ই আশ্চর্যজনক। তার সবকিছুই তার জন্য কল্যাণবহ; মুমিন ছাড়া আর কারও এ বৈশিষ্ট্য নেই। মুমিন যখন আনন্দদায়ক কিছুর মুখোমুখি হয়, তখন সে শোকর করে আর শোকর তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। যখন কষ্টদায়ক কিছুর সম্মুখীন হয়, তখন সে সবর করে আর সবরও তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৯৯৯)। অর্থাৎ মুমিন যখন আনন্দে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তখন সে এর বিনিময়ে পুণ্য অর্জন করে। একইভাবে যখন সে কষ্টে আল্লাহর জন্য ধৈর্যধারণ করে, তখন সে এর বিনিময়ে পুণ্য অর্জন করে। মুমিনের শোকর ও সবর, কৃতজ্ঞতা ও ধৈর্যধারণ উভয়টির মাধ্যমেই সে অর্জন করে পুণ্য এবং রবের নৈকট্য। ফলে মুমিনের জীবনে ইতিবাচক-নেতিবাচক যা-ই আসে, এর বিনিমসে সে সমৃদ্ধ হয়।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তার দেওয়া নেয়ামতের ব্যাপারে বান্দাকে পরীক্ষা করেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর বণ্টনে সন্তুষ্ট হয়, আল্লাহ তার নেয়ামতে আরও বরকত ও প্রশস্ততা দান করেন। আর যে অসন্তুষ্ট হয়, আল্লাহ তার নেয়ামতে বরকত দেন না।’ (তিরমিজি : ২৩৬৯)।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জানমাল ও ফলফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৫)
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফোটে, এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৬৪২)।
 ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন যারা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)।

15
History / Re: History of Muslim'S
« on: October 08, 2024, 03:50:13 PM »
দুশ্চরিত্রা নারীকূল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। তাদের সম্পর্কে লোকে যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীন। তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। [সূরা নূর: 26]

Tafsir Bangla
২৬. প্রত্যেক নিকৃষ্ট পুরুষ ও মহিলাকে প্রত্যেক নিকৃষ্ট কথা ও কাজের সাথেই মানায়। তেমনিভাবে সকল পবিত্রতাই অনুরূপ পবিত্র ব্যক্তির সাথেই মানায়। এ সকল পবিত্র পুরুষ ও মহিলা সম্পর্কে নিকৃষ্ট পুরুষ ও মহিলারা যা বলে তা থেকে তারা মুক্ত ও পবিত্র। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা যার ভিত্তিতে তিনি তাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানিত রিযিক তথা জান্নাত।

Pages: [1] 2 3 ... 27