Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Badshah Mamun

Pages: [1] 2 3 ... 111
1
Islam / Why Me ?- A Beautiful Message
« on: January 13, 2022, 12:13:06 PM »
Why Me ?

A Beautiful Message by Arthur Ashe, The legendary Wimbledon Player who was dying of AIDS , which he got due to Infected Blood he received during a Heart Surgery in 1983 !

during his illness , he received letters from his fans , one of which conveyed :

" Why did God have to select you for such a bad disease ? "

To this Arthur Ashe replied :

 ⁃ 50 Million children started playing Tennis ,

 ⁃ 5 Million learnt to play Tennis ,

 ⁃ 500 000 learnt Professional Tennis ,

 ⁃ 50 Thousand came to Circuit ,

 ⁃ 5 Thousand reached Grand Slam ,

 ⁃ 50 reached Wimbledon ,

 ⁃ 4 reached the Semifinals ,

 ⁃ 2 reached the Finals and

when I was holding the cup in my hand , I never asked God :

" Why Me ? "

So now that I'm in pain how can I ask God :

" Why Me ? "

Happiness ... keeps you Sweet !

Trials ... keep you Strong !

Sorrows ... keep you Human !

Failure ... keeps you Humble !

Success ... keeps you Glowing !

But only , Faith ... keeps you Going !

Sometimes you are not satisfied with your life , while many people in this world are dreaming of living your life .

A child on a farm sees a plane fly overhead dreams of flying , while  a pilot on the plane sees the farmhouse and dreams of returning home .

That's life !

Enjoy yours ... If wealth is the secret to happiness , then the rich should be dancing on the streets .

But only poor kids do that .

If power ensures security , then VIPs should walk unguarded .

But those who live simply , sleep soundly .

If beauty and fame bring ideal relationships , then celebrities should have the best marriages .

Live simply , be happy ! Walk humbly and love genuinely ! 

WHY ME ?

A Beautiful Message not just to read and forward but to apply practically in our personal life .
Ash Arthur, a non Muslim is conveying basically an Islamic message of  life of Zeenatu Dunya—his understanding and insight of worldly life is piercing.

Collected.

2

ইসলামে ব্যবসার গুরুত্ব এবং ব্যবসায় সফল হওয়ার ১৩টি দিক নির্দেশনা
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
নি:সন্দেহে ব্যবসা হল, হালাল উপার্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। তাই তো আল্লাহ তাআলা কুরআনে ব্যবসাকে হালাল ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন,
أَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
"আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (বাকারা: ২৭৫)

তিনি আরও বলেন,

 يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُواْ لاَ تَأْكُلُواْ أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلاَّ أَن تَكُوْنَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না তবে কেবলমাত্র পারষ্পারিক সম্মতিক্রমে ব্যবসা করা হলে তাতে কোন আপত্তি নাই।” (নিসা: ২৯)

রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও যৌবন বয়সে ব্যবসা করেছেন। মক্কার সাহাবিগণ অধিকাংশই ব্যবসায়ী ছিলেন। তারা বছরে দু বার শীত ও গ্রীষ্মকালে শাম ও ইয়েমেন দেশ থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতেন-যা সূরা কুরায়শে বর্ণিত হয়েছে।
 বড় বড় সম্পদশালী ব্যবসায়ী সাহাবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, আবু বকর সিদ্দিক রা., উমর ইবনুল খাত্তাব রা. উসমান বিন আফফান রা., আব্দুর রহমান বিন আউফ, তালহা বিন উবাইদিল্লাহ, তালহা বিন যুবাইর, যুবাইর ইবনুল আওয়াম প্রমুখ সাহাবিগণ।

আমাদের পূর্বসূরি মহামতি ইমামগণও ব্যবসা করতেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, ইমাম আবু হানিফা রহ., ইমাম মালেক বিন আনাস রহ., ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ., ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারক রহ. প্রমুখ।

তৎকালীন জাহেলি যুগ থেকে আরবে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাণ কেন্দ্র ছিলে উকাজ, মিজান্না, যুল মাজায, বনু কাইনুকা প্রভৃতি। সেখানে সাহাবিগণ ব্যবসা-বাণিজ্য করাকে গুনাহের কারণ মনে করলে আল্লাহ তাআলা কুরআনের আয়াত নাজিল করে তাদের সেই সংকোচ উঠিয়ে নিয়ে সেগুলো ব্যবসা করতে উৎসাহ দিলেন। এ প্রসঙ্গে আয়াত নাজিল হল,
لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ
“তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন গুনাহ নেই।” (সূরা বাকারা: ১৯৮) এটা ছিল হজ্জের মৌসুমে। (সহিহ বুখারি-ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত।

 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবসায় বরকতের জন্য দুআ করেছেন।

তাছাড়া প্রায় সকল হাদিস ও ফিকহ এর কিতাবে কিতাবুল বুয়ু বা বেচাকেনা অধ্যায় রয়েছে। যেখানে মুহাদ্দিসগণ এ সংক্রান্ত অনেক হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং ফকীহগণ ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যবসার বিভিন্ন দিক সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। ‌
এখান থেকেই ইসলামে ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।

যাহোক, ব্যবসায় সফলতা অর্জনের জন্য একজন ঈমানদার ব্যবসায়ীর মধ্যে কতিপয় গুণ-বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরি। নিম্নে এ সংক্রান্ত ১৩টি পয়েন্ট উপস্থাপন করা হল:

◈১) ব্যবসা শেখা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করা:

ব্যবসা করতে শেখা এবং এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞা অর্জনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য হয়ত কিছুটা সময় লাগবে। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতার ঝুড়ি ভরতে হয়। তাই এক লাফে বড়লোক হওয়ার চিন্তা মাথা থেকে সরাতে হবে। অভিজ্ঞতা অর্জন করা ব্যতীত কখনোই  সমস্ত মূলধন প্রাথমিক অবস্থায় বিনিয়োগ করা উচিৎ নয়। প্রাথমিকভাবে অল্প পরিসরে কাজ শুরু করতে হবে। তারপর যখন অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকবে, তখন ধীরে ধীরে মূলধনের পরিমাণও বৃদ্ধি করতে হবে।
অনেকেরই সুন্দর সুন্দর বিজনেস আইডিয়া থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়াই তারা বিশাল অংকের অর্থ ইনভেস্ট করে ফেলে। অবশেষে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে নিজে মরে, পরিবারকেও মারে। যেমন কেউ ড্রাইভিং না শিখে গাড়িয়ে নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে এক্সিডেন্ট করে নিজে মরে-অন্যকেও মারে। (আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন)

মোটকথা, ব্যবসার ক্ষেত্রে সুন্দর পরিকল্পনার পাশাপাশি ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

◈ ২) পরিকল্পনা:  নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, ব্যবসার জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন, জনবল ও মান সম্মত পণ্যের সহজলভ্যতা ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে সুন্দরভাবে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সাজাতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে, ব্যবসায়িক সফলতা বিষয়ে গবেষকদের লিখিত বই পড়া যেতে পারে, ইউটিউবে বিজনেস প্ল্যান, বিজনেস আইডিয়া, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, ব্যবসায় সফলতা সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও দেখা বা এ সংক্রান্ত কোন কর্মশালায় অংশ নেয়া যেতে পারে।

◈ ৩) সততা ও সত্যবাদিতা: সত্যবাদিতা তথা কথা-কাজে মিল রাখা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যিক গুণ তো বটেই তবে ব্যবসায় সাফল্যের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এটি ব্যসায়িকের প্রতি গ্রাহকের আস্থা এনে দেয়।

◈ ৪) আমানতদারিতা (বিশ্বস্ততা): আমানতদারিতা না থাকা মুনাফেকের আলামত। সুতরাং চোরাকারবারি, মুনাফাখোরি, মজুদদারি, কালোবাজারি, পণ্যে ভেজাল দেওয়া, ওজনে কারচুপি করা, নকল করা; ধোঁকা, প্রতারণা ও ঠকবাজির আশ্রয় নেওয়া, দামে হেরফের করা প্রভৃতি অসাধুতা ইত্যাদি একজন মুসলিম হিসেবে তো অবশ্যই পরিত্যাজ্য একজন সৎ ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিত্যাজ্য।

সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা এ দুটি গুণ কেবল দুনিয়ায় সম্মান ও সফলতা অর্জনের কারণ নয় বরং আখিরাতেও বিশাল মর্যাদা লাভের কারণ। যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আবু সাঈদ খুদরি রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الأَمِينُ مع النَّبيِّينَ والصِّدِّيقِينَ والشُّهداءِ
“সত্যবাদী ও আমানতদার (বিশ্বস্ত) ব্যবসায়ী (আখিরাতে) নবী, সিদ্দিক এবং শহিদগণের সঙ্গে অবস্থান করবে।”
(জামে তিরমিযী: ৩/৫১৫ (১২০৯), সহিহ তারগিব-সহিহ লি গাইরিহ ১৭৮২)
সুবহানাল্লাহ! একজন সৎ ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীর জন্য এর চেয়ে বড় মর্যাদার বিষয় আর কী হতে পারে!

◈ ৫) গ্রাহকের সাথে হাসিমুখে কথা ও সুন্দর আচরণ: হাদিসে হাসি মুখে কথা বলাকে সদকার সমপরিমাণ সওয়াব এবং সুন্দর আচরণকে জান্নাতে প্রবেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যার আচরণ যত বেশি সুন্দর সবাই তাকে তত বেশি ভালোবাসে, সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। দোকানের সেলস ম্যান যদি গ্রাহকদের সাথে হাসিমুখে কথা না বলে এবং ভদ্র ব্যবহার না করে তাহলে কেউ তার কাছে আসবে না।

◈৬) ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রম (অলসতাকে বিদায় জানানো)।  বিল গেটস বলেন, “সাফল্যের জন্য কখনই দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন না। সাফল্যের একটি মূল উপাদান হল ধৈর্য।”
 
◈ ৭) ব্যবসায় উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা:  ব্যবসায় এ দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায় সফলতা পেতে সব সময় কিছু নতুনত্ব থাকা প্রয়োজন। যেমন: নতুন কালেকশন, বিশেষ ছাড়, হোম ডেলিভারি, ফ্রি সার্ভিস, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইন ওয়ার্ডার ইত্যাদি। বিভিন্ন উপলক্ষে গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য কিছু কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে তা গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

◈ ৮) গ্রাহকদের উন্নতমানের সেবা ও তাদের সন্তুষ্টি অর্জন: গ্রহককে কোন কিছুর প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করা, পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে বা কোন কিছু খুঁজে পেতে ক্রেতাকে সাহায্য করা, তার কথা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা, তাকে কেয়ার করা ইত্যাদি ব্যবসায়িক সাফল্য এনে দিতে বিরাট সাহায্য করে।

◈ ৯) গ্রাহকদের সমালোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করা: গ্রাহকদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সমালোচনা এবং খারাপ প্রতিক্রিয়াগুলোকে ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করে সেগুলোকে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের প্রভাবক হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

◈ ১০) বাজারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে যথাসময়ে যথোপযুক্ত পণ্য সরবরাহ করা: ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য বাজারের হালচাল বুঝে সঠিক সময়ে সঠিক মানের পণ্য বা সেবা সঠিক সময়ে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়া অত্যন্ত জরুরি।

◈ ১১) মান সম্মত পণ্য (Best Products): মানুষের চাহিদার দিকে লক্ষ রেখে মান সম্মত পণ্য আমদানি করতে হবে। তবে অবশ্যই ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম কোন পণ্য ক্রয় বা বিক্রয় করা জায়েজ নাই।

◈ ১২) প্রতিযোগিতা মূলক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা: গ্রাহকদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে যথাসম্ভব প্রতিযোগিতা মূলক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করার চেষ্টা করতে হবে।

◈ ১৩) দুআ: সর্বোপরি আল্লাহর নিকট হালাল রিজিক ও ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য দুআ করা জরুরি। কেননা ব্যবসায় সব সময় লাভ হবে এমনটা আশা করা ঠিক নয় বরং এখানে লোকসানের ঝুঁকিও আছে। সে মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে।
আর মনে রাখতে হবে, আমাদের দেহে রূহ ফুঁকার আগেই মহান আল্লাহ আমাদের রিজিকের ফয়সালা করে রেখেছেন। কিন্তু আমাদের কর্তব্য, যথানিয়মে কাজ করা এবং প্রয়োজনীয় চেষ্টা ও পরিশ্রম করা। সফলতা দেয়ার মালিক মহান আল্লাহ। তিনি না দিলে আমরা শত চেষ্টা করেও একটা কানাকড়িও অর্জন করতে পারব না। এই বিশ্বাস মাথায় রেখেই আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।
 
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।

3
Marketing / Marketing & Branding during & beyond the Pandemic
« on: January 08, 2022, 03:27:04 PM »
Marketing & Branding during & beyond the Pandemic


4
এলসি বা Letter of Credit (LC) করার নিয়মঃ
➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖


🔰বিদেশ থেকে পণ্য বা যন্ত্রাংশ আমদানী করার জন্য অবশ্যই ব্যাংকের মারফত এলসি করতে হয় । এই এলসির মাধ্যমেই সরবরাহকারীরা একদেশ থেকে অন্য দেশে পন্য আমদানি রপ্তানি করে থাকে।
এলসি করতে হলে সবার আগে আপনার কোম্পানীর TIN ভ্যাট করাতে হবে।এরপর ব্যংকে গিয়ে কোম্পানীর নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। তারপর ব্যাংক থেকে এলসিএ ফর্ম কালেক্ট করে পূরণ করে ব্যাংকে জমা দিতে হয়। এই ফর্মে কিছু তথ্য প্রদান করতে হয়। যেমন কি পন্য, দাম কত, কোন দেশ থেকে আসবে প্রভৃতি। এ বিষয়ে নিচে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
1️⃣ পর্যায় ১: কোম্পানীর ট্রেড লাইসেন্স, TIN,ভ্যাট করা। আইআর সি (ইমপোর্ট রেজি: সার্টিফিকেট) করা।
2️⃣ পর্যায় ২: কোন ব্যাংক এ কোম্পানীর একাউন্ট করা।
3️⃣ পর্যায় ৩: যে পন্য আনবেন তার ইনডেন্ট কালেক্ট করা (ধরা যাক আপনি ১৫ টন নিউজপ্রিন্ট কাগজ আনবেন কোরিয়া থেকে। এখন যে কোম্পানী থেকে আনবেন সে কোম্পানীর বাংলাদেশ প্রতিনিধির কাছে গিয়ে দাম দর ঠিক করে একটা ডকুমেন্ট নেবেন। এটাই ইনডেন্ট।
আর সে কোম্পানীর যদি বাংলাদেশ প্রতিনিধি না থাকে তাহলে সে কোম্পানীতে সরাসরি মেইল করে দাম ঠিক করে ডকুমেন্ট আনাতে হবে। তখন এটাকে বলা হয় পি আই বা প্রফরমা ইনভয়েস। এতে পণ্যের বিস্তারিত, দাম, পোর্ট অব শিপমেন্ট এসব তথ্যাদি থাকে।)
4️⃣ পর্যায় ৪: ব্যাংক থেকে এলসিএ (লেটার অব ক্রেডিট এপ্লিকেশন) ফর্ম কালেক্ট করে ইনডেন্ট/পিআই অনুযায়ী তা পূরন করে ব্যাংক এ জমা দেয়া।
5️⃣ পর্যায় ৫: এলসি মার্জিন জমা দেয়া । প্রথম দিকে ব্যাংক এ পুরো টাকাটাই জমা দিতে হবে। ধরা যাক এলসি ভ্যলু ২০,০০০ ডলার। ব্যাংক এ আপনাকে ১৬ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। তবে আস্তে আস্তে ব্যাংকের সাথে ব্যবসা বাড়লে তখন ১০-২০% মার্জিন দিয়ে এলসি খুলতে হবে। টাকার সাথে অন্যান্য কিছু ডকুমেন্টও দিতে হবে। যেমন:
◾️আপনার কোম্পানীর সব কাগজ (ট্রেড লাইসেন্স, টিন, ভ্রাট, আইআরসি)।
◾️ইনডেন্ট/পিআই এর ৩/৪ টি কপি।
◾️সাপ্লায়ার কোম্পানীর ব্যাংক ক্রেডিট রিপোর্ট।
◾️ইন্সুরেন্স কভার নোট (যে কোন ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে ইনডেন্ট দেখিয়ে ফি দিয়ে এটা নিত হবে)।
◾️এরপর ব্যাংক আপনাকে এলসির একটা কপি দেবে। অরিজিনালটা পাঠিয়ে দেবে বিদেশে সাপ্লাইয়ারের কাছে।
🔘 LC advising Bank এর দায়- দায়িত্ব ও অধিকারসমুহঃ
এলসি ইস্যুকারী ব্যাংক থেকে এলসি পেয়ে যে ব্যাংক বেনেফিশিয়ারি/ সাপ্লায়ারের  এর নিকট এলসি হস্তান্তর করে /বুঝিয়ে দেয় সেটিই হচ্ছে এলসি এডভাইজিং ব্যাংক...
◾️এল সি এডভাইজিং ব্যাংক এলসি এডভাইজিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত করবে এলসি এর শর্তাবলী আপাতঃ দৃষ্টিতে যথার্থ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
◾️এলসি ইস্যুকারী ব্যাংক থেকে এলসি পাওয়ার পর এডভাইজিং ব্যাংক এল সি এডভাইজ করতে সম্মত না হলে তা ইস্যুকারী ব্যাংককে দ্রুত জানাবে।
◾️এলসি এডভাইজিং এর পর যদি এলসি ইস্যুকারী ব্যাংক কোন Amendment পাঠায় তা অবশ্যই প্রথম এডভাইজিং ব্যাংক এর মাধ্যমে পাঠাতে হবে।
◾️এলসি এডভাইজিং এর সময় যদি সাপ্লায়ার / বেনেফিশিয়ারি/ এক্সপোর্টার এডভাইজিং চার্জ দিতে সম্মত না হয় তবে এডভাইজিং ব্যাংক সেই চার্জ এলসি ইস্যুকারী ব্যাংক থেকে পাওয়ার অধিকার রাখে।
◾️সুইফট মেসেজ সম্পুর্ন প্রিন্ট হয়েছে কিনা দেখা।
◾️স্থানীয় আইন পরিপন্থী কোন শর্ত আছে কিনা।
◾️ ত্রুটিপূর্ণ শর্ত উল্লেখ আছে কিনা।
◾️UCP 600 এর article -9  এ LC advising Bank সম্পর্কে বলা হয়েছে।
🏛️ ব্যাংকিং রিলেটেড আরো নতুন নতুন নিউজ পেতে বাংলাদেশের ব্যাংকারদের নিয়ে গঠিত সুনামধন্য সর্ববৃহৎ গ্রুপ ব্যাংকার্স ফ্যামিলি এর সাথে থাকুন পাশে থাকুন।

Source: Social Media (https://www.facebook.com/photo/?fbid=251943307050211&set=gm.1571041083259701)

5
নিখুঁত সিভি লেখার কৌশল

জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) যেন চাকরিপ্রার্থীর প্রতিচ্ছবি। চাকরিদাতার কাছে চাকরিপ্রার্থীর প্রথম পরিচয় সিভির মাধ্যমে। তাই যার সিভি যত ভালো, তিনি তত এগিয়ে থাকেন। অনেকেই মনে করেন, সিভি বড় ও ভারী হলে ভালো; কিন্তু এ ধারণা ভুল। বরং সিভিতে অল্প কথায় নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরতে হয়। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, নিয়োগকারীরা একটি সিভি দেখতে এক মিনিটের কম সময় ব্যয় করেন। ব্রিটিশ মানবসম্পদ (এইচআর) বিশেষজ্ঞ ডেভিড ডিসুজা ও রুথ কর্নিশের মতে, সিভি দেখার পর একজন প্রার্থীকে তিনটি কারণে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয় না। কারণ তিনটি হলো—গতানুগতিক ধরনের সিভি, ভুল বানান ও মিথ্যা তথ্য। তাই সময় নিয়ে সঠিকভাবে তৈরি করুন নিজের সিভি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ও সিভি লাইব্রেরি অবলম্বনে নিখুঁত, সুন্দর ও আকর্ষণীয় সিভি লেখার কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো।


নাম ও যোগাযোগের ঠিকানা

সিভির শুরুতে নিজের নাম ও যোগাযোগের ঠিকানা থাকা উচিত। ‘কারিকুলাম ভিটা’ বা ‘সিভি’ দিয়ে শিরোনাম করা ঠিক নয়। নিজের নাম শিরোনাম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। যোগাযোগের ঠিকানা স্পষ্ট করে লিখতে হবে। ই-মেইল ঠিকানা এবং মুঠোফোন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই অংশে লিংকডইন প্রোফাইলের লিংক যোগ করলে ভালো। তবে লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য যেন হালনাগাদ থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ছবি

সম্প্রতি তোলা ঝকঝকে ছবি ব্যবহার করতে হবে। ফেসবুক বা অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহার করা ক্যাজুয়াল সিভি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ছবি হতে হবে পাসপোর্ট সাইজের।

ব্যক্তিগত প্রোফাইল

সিভির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্যক্তিগত প্রোফাইল। আপনার কর্মজীবনের লক্ষ্য এবং আপনি প্রতিষ্ঠানকে কী দিতে পারবেন, তা কয়েক লাইনে লিখতে হবে। আপনার ব্যক্তিগত বক্তব্য যেন সংক্ষিপ্ত এবং আকর্ষণীয় থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখুন। দুই-তিনটি বাক্যের চেয়ে বেশি বাক্য ব্যয় করা অনুচিত।

পেশাগত অভিজ্ঞতা


আপনার আগের চাকরি, ইন্টার্নশিপ এবং কাজের অভিজ্ঞতা বিস্তারিত তুলে ধরতে হবে। কোথায় কোথায় চাকরি করেছেন, তা ক্রমানুসারে লিখুন। সদ্য স্নাতক পাস করা হলে ইন্টার্নশিপ যেখানে করেছেন, তার বিস্তারিত তুলে ধরুন। চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে সর্বশেষ যেখানে চাকরি করেছেন, সেটি লিখে বাকি প্রতিষ্ঠানের নামগুলো পর্যায়ক্রমে লিখুন। প্রতিষ্ঠানের নাম, সেখানে আপনার কাজের বিবরণ এবং আপনার অর্জন লিখতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠানে কত দিন কাজ করেছেন, সেটিও উল্লেখ করুন।

শিক্ষা

পেশাগত অভিজ্ঞতা অংশের মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখার ক্ষেত্রে আপনার সর্বশেষ ডিগ্রি যে প্রতিষ্ঠান থেকে, সেটি দিয়ে শুরু করে ক্রমানুসারে মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। প্রতিষ্ঠানের পাশে পাস করার সাল এবং জিপিএ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষা দিয়ে ফলাফল না পেয়ে থাকলে ‘অ্যাপিয়ার্ড’ লেখা যেতে পারে।

প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা

যাঁরা সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন, তাদের জন্য এই অংশ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাঁদের পূর্ববর্তী কোনো চাকরি করার অভিজ্ঞতা নেই। যিনি সদ্য স্নাতক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার তথ্যাদি বেশি সিভিতে যুক্ত করতে পারবেন, তিনি বাকিদের চেয়ে তত এগিয়ে থাকবেন। প্রশিক্ষণ ও কর্মশালাগুলো লেখার ক্ষেত্রে বিষয়, তারিখ ও স্থান উল্লেখ করতে হবে।

আকর্ষণীয় শখ

আমি বাইরে যাই, প্রকৃতি উপভোগ করি—এ ধরনের শখ যোগ করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এগুলো বললে আপনি ব্যক্তি হিসেবে কেমন, তা ফুটে ওঠে না। বরং এমন কিছু শখের কথা লিখুন, যা আপনার নিষ্ঠা ও একাগ্রতা তুলে ধরে। দলগত যেকোনো ইভেন্ট ভালো শখ হতে পারে।

ভাষা দক্ষতা

দেশে চাকরির জন্য বাংলা ও ইংরেজি জানা আবশ্যক। প্রমিত বাংলা ভাষা শেখার কোনো কোর্স করে থাকলে তা উল্লেখ করতে পারেন। আর ইংরেজি ভাষা দক্ষতার ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোয়েফল ও পিটিই পরীক্ষায় অংশ নিলে তার স্কোর লিখুন। এ ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানা থাকলে সেটিও উল্লেখ করুন।

কম্পিউটার দক্ষতা

এখন প্রায় সব চাকরির জন্য কম্পিউটার দক্ষতা আবশ্যক। সাধারণত মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ার পয়েন্ট জানা বাধ্যতামূলক ধরা হয়। এ ছাড়া ফটোশপ বা ভিডিও এডিটিং জানা থাকলে উল্লেখ করতে পারেন। এ বিষয়ে কোথাও প্রশিক্ষণ নিলে সাল–তারিখসহ উল্লেখ করুন।

রেফারেন্স

প্রার্থীর পরিচিত যেকোনো পেশার ব্যক্তির নাম রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। তবে সদ্য স্নাতকেরা তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের রেফারেন্স হিসেবে দিতে পারেন। যাঁর রেফারেন্স দেবেন, অবশ্যই তাঁর অনুমতি নিতে হবে। তাঁর নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে হবে।

অঙ্গীকারনামা

সিভিতে কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না। অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করতে হবে, আপনার সব তথ্য সঠিক ও নির্ভুল। লেখার নিচে আপনার স্বাক্ষর থাকতে হবে।

বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে

ফন্টের ব্যবহার: টাইমস নিউ রোমান, অ্যারিয়্যাল বা ভারদানা ফন্ট ব্যবহার করতে পারেন। ফন্ট সাইজ ১১–এর কম হওয়া যাবে না। মাঝেমধ্যে বোল্ড এবং হেডার অপশনও ব্যবহার করুন। তবে অবশ্যই কালো রঙ ব্যবহার করতে হবে।

প্রাসঙ্গিকতা: আপনি যেসব অভিজ্ঞতা সিভিতে তুলে ধরবেন, সেগুলো আবেদন করা চাকরির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কাজের বিবরণ দেখুন এবং মিলিয়ে নিন সেগুলো আপনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ। এরপর নিশ্চিত হয়ে সিভি পাঠিয়ে দিন।

বিশেষণ এড়িয়ে যান: পরিশ্রমী, মনোযোগী, উৎসাহী—এ ধরনের বিশেষণগুলো এড়িয়ে চলুন। এর পরিবর্তে কিছু অর্থবহ শব্দ ব্যবহার করুন। যেমন জবাবদিহি, লক্ষ্য ও অর্জন।

ছোট রাখুন: সিভি সংক্ষিপ্ত রাখুন, তবে ছোট করতে গিয়ে অভিজ্ঞতা মুছে ফেলা যাবে না। গতানুগতিক নিয়মে দুই পৃষ্ঠায় সিভি শেষ করতে বলা হয়। আপনি কোন ধরনের চাকরিতে আবেদন করছেন, তার ওপর পৃষ্ঠা বাড়তেও পারে। তবে দুই পৃষ্ঠার সিভি দেখলে নিয়োগকর্তারা সাধারণত খুশি হন।

নির্ভুল হোন: নিয়োগকারীরা আপনাকে ভুলের ওপর বিচার করবে। সেটা হতে পারে বানানের ভুল, সিভির কাঠামোর ভুল অথবা বিরামচিহ্নের ক্ষেত্রে। তাই সিভি লেখার সময় সতর্ক থাকুন। কম্পিউটারে লিখলে স্বয়ংক্রিয় সংশোধন অপশন ব্যবহার করুন। সিভি তৈরি করার পর ভুল এড়াতে আরেকজনকে দিয়ে পড়িয়ে নিন।

Source: Daily Prothom Alo

6
এমন শিক্ষা কার কী কাজে আসবে?
দেশে শিক্ষার মান যে নিম্নগামী, তা অনেকবার অনেকভাবেই বলা হয়েছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যায় কোনো কমতি নেই।

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সব পর্যায়েই। এক্ষেত্রে ‘কোয়ান্টিটি’ আমাদের বেশ আশ্বস্ত করলেও ‘কোয়ালিটি’র কথা মনে হলে হতাশ হতে হয়।

আমাদের দেশে মাধ্যমিক স্তরে নবম শ্রেণি থেকেই আলাদা বিজ্ঞান শিক্ষা শুরু হয়, তবে উচ্চমাধ্যমিকে একেবারে পাকাপাকি। একদম ছেলেবেলা থেকেই দেখে ও শুনে আসছি যে, সাধারণত বেশি মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা ব্যবসায় শিক্ষা এবং বাকি গড়পড়তা সবাই মানবিক বিভাগে পড়তে আগ্রহী হয় এবং পড়ে থাকে।

আমাদের কলেজের হেড ক্লার্ক ইনামূল হক (শিক্ষার্থী-শিক্ষক সবার অতি প্রিয় এবং সবার কাছে ‘ভাইছাব’ নামে পরিচিত) খুবই রসিকজন। বিএ পাশ করার পর ১৯৬৪ সালে কলেজ চালুর দিনেই তিনি চাকরিতে যোগ দিয়ে সেখান থেকেই ২০০০ সালে অবসরে যান।

একসময় বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বেশ অভিজ্ঞতাও সঞ্চয় হয় তার। বেতন প্রদান বা এমন কাজে কোনো শিক্ষার্থী অফিসে তার কাছে গেলে নামের পর বিভাগ লেখার বেলায় তিনি মুখের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করতেন, ‘ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, ম্যানেজার, নাকি মন্ত্রী-আপনি কোন বিভাগের শিক্ষার্থী, কী লিখব?

এর সরলার্থ : বিজ্ঞান পড়া মানে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া, ব্যবসায় শিক্ষা মানে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আর গড়পড়তা মানবিক বিভাগ নিয়ে পড়া মানে রাজনীতি এবং একসময় এমপি-মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ!

কেবল শিক্ষকতা জীবন নয়, ব্যক্তিজীবনেরও ঘটে যাওয়া অনেক অম্ল-মধুর ঘটনা এখন আর আমি আগের মতো মনে রাখতে পারি না, সহজে ভুলে যাই।

তবে এক্ষেত্রে খানিকটা বুদ্ধি খাটালাম, যাতে বিষয়টি বিস্মৃত হয়ে না পড়ি। তারিখ : ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫। একে একে প্রায় ছয়টি বছর গত হয়ে গেল। হঠাৎ পুরোনো জামার পকেট থেকে বের হয় আবেদনপত্রের কপিটি।

কলেজের অধ্যক্ষ ছুটি নিয়ে ঢাকায় গেলেন। তার অনুপস্থিতিতে আমি দায়িত্ব পালন করছি। একসময় একজন ছাত্র এসে কক্ষে ঢুকল, হাতে ফি মওকুফের একটি আবেদনপত্র। আবেদনপত্রটি ভালো করে না পড়েই আমি ছাত্রটিকে বোঝাতে চেষ্টা করি, টাকা মওকুফের ব্যাপার, ও যেন আগামীকাল অধ্যক্ষ ফিরে এলে সরাসরি তার হাতেই সেটি দেয়। কিন্তু না; সে এখনই এবং আমার কাছেই সেটি দিয়ে দিতে চায়। বারবার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত আমি তা গ্রহণ করি এবং যথারীতি সে বিদায় নিয়ে চলে যায়। অন্য একটি কাজ শেষ করে আবেদনপত্রটিতে চোখ রাখতেই প্রচণ্ড একটি ধাক্কা খাই। ও মা, এ আমি কী দেখছি!

শিক্ষার মান যে নিম্নগামী, তা আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে (অটোপ্রমোশন ও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ব্যাপক গণটোকাটুকির ফল) বেশ সুবিদিত। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আবেগ-বিহ্বলতা কাটিয়ে বঙ্গবন্ধুর আমলেই পরীক্ষায় নকল বন্ধ ও শিক্ষাব্যবস্থায় মোটামুটি একটি স্বাভাবিক গতি ফিরে আসে। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের আমলে সত্তরের দশক পর্যন্ত মোটামুটি তা অব্যাহত থাকে। কিন্তু আশি ও নব্বইয়ের দশকে শিক্ষা বিভাগের অনিয়ম, অব্যবস্থা, দুর্নীতি ও অবজ্ঞা-অবহেলার পরিণাম এখন আমরা প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করছি আর হাড়ে হাড়ে টেরও পাচ্ছি।

সে যাই হোক, মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। ওই ছাত্রের আবেদনটি মোট ৩৮টি শব্দে লেখা এবং তাতে ১০টি শব্দ সে ভুল বানানে লিখেছে; সেটি আমার কাছে বড় কথা নয়। নিজের শ্রেণিকে সে ‘একাদ্বশ’ বলে উল্লেখ করেছে, তাও বাদ দেওয়া যেতে পারে। অসম্ভবকে ‘অসম্বভ’ এবং নিয়মিত লিখতে গিয়ে লিখেছে ‘নিয়মীত’ এবং এক জায়গায় ‘অকূল’ আবেদনও লিখেছে কলেজের ওই ছাত্র। একটি আবেদনপত্র ‘আবেদন মঞ্জুর করলে বাধিত হব’ বা ‘মঞ্জুর করে বাধিত করবেন’-সচরাচর এমন সব শব্দ দিয়ে শেষ করা হয়। চোখে এবং বেশ মনে লাগার মতো বিষয় হলো, অধ্যক্ষের কাছে লেখা আবেদনপত্রটি সে শেষ করেছে ঠিক এভাবে-‘আবেদনটি মঞ্জুর করে বাধিত হন।’ এখানে ওর বাধিত হওয়া আর অধ্যক্ষের বাধিত হওয়াকে সে একাকার করে ফেলেছে। ‘মরব’ নাকি ‘মারব’ মানে একই কথা (!)। তাও না হয় বাদ দিলাম। একে একে অনেক কিছুই তো উপেক্ষা করলাম, তাহলে এতক্ষণ ধরে কেন এমন প্যাঁচাল? ইতোমধ্যে যাদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে গেছে এবং প্যাঁচাল থেকে মুখ ঘুরিয়ে অন্যত্র মনোনিবেশ করেছেন তাদের কথা আলাদা। কিন্তু যারা ধৈর্য ধরে এখনো আমার ‘প্যাঁচালে’র শেষটা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা।

আমার যা বেশি মনে লেগেছে তা হলো, ছাত্রটি ওর আবেদনপত্রে ফি বা ফি মওকুফ কথাটি লিখেছে একে একে তিন জায়গায় এবং তিনবারই সে লিখেছে ‘ফ্রি’ বা ‘ফ্রি মওকুফ’। আরও কথা-গড়পড়তা মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সাধারণ মানের কেউ নয়; সে বিজ্ঞান বিভাগের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। তাহলে এই ছাত্র বা এমন ছাত্রের ভবিষ্যৎ কী? তার নিজের, পরিবারের, কলেজের, সর্বোপরি সমাজের কী কাজে আসবে এমন শিক্ষা?

অথচ উদ্যোগ-আয়োজনের কোনো কমতি নেই। দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি। চারদিকে বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়। এমনকি ৫-১০ বছর আগের তুলনায়ও শিক্ষার্থীদের সামনে এখন অবারিত সুযোগ। ঘাটতি কেবল মান আর সঠিক দেখভালের। উল্লিখিত শিক্ষার্থী কিংবা ঘটনাটিকে আমি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজের বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় বলে মনে করি না। এখনই মনোযোগী হওয়া দরকার-শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক, সরকার-সবার।

বিমল সরকার : অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক

Source: Daily Jugantor

7
আমরা যারা ১৯৭০ সালের আগে জন্মেছি তারা বিশেষ ভাগ্যবান আজকের পৃথিবীতে..

কেন??

.....আমরা সমস্ত প্রযুক্তির ব্যবহার জানি এবং উপভোগ করি ......!!!
         
কিন্তু .....

আমরা কখনো জানোয়ারের মত বইয়ের পাহাড় মাথায় করে বিদ্যালয় যাই নি।

👌আমাদের মা বাবাকে কখনো আমাদের পড়াশোনার চিন্তায় নিজেদের জীবন ব্যতিব্যস্ত করতে হয় নি...!

👍    স্কুলের পরেও সূর্যাস্ত পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে খেলতাম প্রান খুলে.....

👍 আমরা প্রাকৃতিক বন্ধুদের সাথে জীবন কাটাতাম, net  friends দের সাথে নয়......।

যখনই তৃষ্ণার্ত থাকতাম মন খুলে কল থেকে জল খেতাম,  জীবানুর ভয়ে pure it থেকে নয়..

তাও অসুস্থ হয়ে পড়ি নি।

আমরা ১ টাকার আইসক্রিম ৪ জন ভাগ করে খেয়েও পেট খারাপ করে বসি নি।

আমরা প্রতিদিন পেট ভরে ভাত আর প্রান খুলে মিষ্টি খেয়েও মোটা হয়ে পড়ি নি।

খালি পায়ে জমিতে ফুটবল খেলা সত্বেও পা ভেঙে ফেলিনি।

সুস্থ থাকার জন্য কখনো revital দরকার হয় নি ।

খেলনা আমরা নিজেরাই বানিয়ে খেলতাম

মা বাবার কাছে থেকেই মানুষ হয়েছি,  mentor দরকার হয় নি ।

আমরা সব ভাই বোনেরা একরকম জামা কাপড় পরে মজা পেতাম ..common বলে নয়....

একরকম হওয়ার আনন্দে..


শরীর খারাপ হলে ডাক্তার আমাদের কাছে আসতো,  আমরা ওই অবস্থায় যেতাম না।

আমাদের কাছে  মোবাইল, DVD's, Play station, Xboxes, PC, Internet, chatting ছিল না

 কারন আমাদের কাছে সত্যিকারের বন্ধু ছিলো ।

বন্ধুকে না জানিয়ে তার ঘরে গিয়ে একসাথে খাওয়া দাওয়া করে মজা পেতাম । কখনো ফোন করে appointment নিতে হয় নি।


We are not special, but we are fortunate and enjoying generation

যখন আমরা ছোট ছিলাম হাতগুলো জামার মধ্যে
ঢুকিয়ে নিয়ে বলতাম, আমার হাত নেই,

একটা পেন ছিল, যার চার রকম কালি, আর আমরা তার চারটে বোতাম একসাথে টেপার চেষ্টা করতাম,
🏠🚪
দরজার পিছনে লুকিয়ে থাকতাম কেউ এলে চমকে দেব বলে, সে আসতে দেরি করছে বলে অধৈর্য হয়ে বেরিয়ে আসতাম,
🌙🏃
ভাবতাম আমি যেখানে যাচ্ছি, চাঁদটা ও আমার সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে
,
💡👆
সুইচের দুদিকে আঙুল চেপে অন্-অফ এর মাঝামাঝি ব্যালেন্স করার চেষ্টা করতাম,
💧💧
দু -ফোটা জল ফেলে রেস করাতাম, কোনটা গড়িয়ে আগে নীচে পড়ে,
☔🍀
বৃষ্টি হলে ছাতা না নিয়ে কচু বা কলাপাতা মাথায় দিয়ে বলতাম, দ্যাখ জল গায়ে লাগছে না,
🎒
তখন আমাদের শুধু একটা জিনিসের খেয়াল রাখার দায়িত্ব ছিল, সেটা হল স্কুলব্যাগ,
🙇🏉🌱
ফলের দানা খেয়ে ফেললে দুশ্চিন্তা করতাম,
পেটের মধ্যে এবার গাছ হবে,
🏡🏃
ঘরের মধ্যে ছুটে যেতাম,তারপর কি দরকার ভুলে যেতাম, ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর মনে পড়ত....

আমরাই শেষ জেনারেশন যাঁরা পৃথিবীর বুকে স্বর্গ দেখেছি। আর কোনো জেনারেশনই হয়তো আর তা দেখতে পাবে না।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা গরুর গাড়ি থেকে সুপার সনিক কনকর্ড জেট দেখেছি।

পোস্টকার্ড, খাম, ইনল্যান্ড লেটার থেকে শুরু করে আজকের হোয়াটস্যাপ চ্যাটিং, ফেসবুক, ই-মেইল পর্যন্তও করছি। অসম্ভব মনে হওয়া অনেক জিনিসই সম্ভব হতে দেখেছি।

আমরা সেই জেনারেশন, যারা টেলিগ্রাম এসেছে শুনলেই ঘরগুষ্টির মুখ শুকিয়ে যেতে দেখেছি…

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা মাটিতে বসে ভাত খেয়েছি আর প্লেটে ঢেলে চা খেয়েছি সুরুৎ শব্দে, পরে জেনেছি ওটা বদ-অভ্যাস ।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে  লুকোচুরি, টিলো এক্সপ্রেস, ডাঙ্গুলি, দাড়িয়াবাধা, গোল্লাছুট, মার্বেল খেলেছি, কাগজের ঘুড়ি বানিয়ে আকাশে উড়িয়েছি।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা হ্যারিকেন আর কূপির আলোতে পড়াশুনা করেছি, বেত থেকে পাখার ডাঁটির চাপকানি খেয়েছি আর চাদরে হাফ বডি ঢুকিয়ে উপুড় হয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়েছি দস্যু বনহুর, মাসুদ রানা, কুয়াশা সিরিজ।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা এসি, হিটার, ফ্রীজ, গ্যাস, মাইক্রোওভেনের অস্থাবর সুখ ছাড়াই  কাটিয়েছি ছোটবেলা।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা বিনা টিফিনে স্কুলে গেছি, ইস্কুলে টিচারের হাতে মার খেয়ে, বাড়ি এসে নালিশ করাতে সেকেন্ড-রাউন্ড বেদম ফ্রি-ষ্টাইল ওয়ান-ওয়ে ফাইট সহ্য করেছি। আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা বড়দের সন্মান  করেছি।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন  যারা জোৎস্না রাতে ছাদে ট্রানজিস্টরে বিবিসি’র খবর, অনুরোধের আসর আর সৈনিক ভাইদের দুর্বার অনুষ্ঠান এর শেষ সাক্ষী।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন  যারা টেলিভিশনে খেলা দেখার জন্য ছাদে উঠে এ্যন্টেনা এডজাস্ট করে স্যিগনাল ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের ছিল তিন লাঠির এন্টেনা, আর ছিল টিভি স্ক্রিনে পার্মানেন্ট ঝিলমিলানি, তাতে কোনও প্রব্লেমই হোত না, ওটা জীবনের অঙ্গ ধরাই ছিল। গন্ডগোল পাকাতো ঐ বেয়াড়া লোডশেডিং।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা ইচ্ছে করে বৃষ্টি ভিজে ইস্কুল থেকে বাড়ি ঢুকেছি। আমরা সেই শেষ জেনারেশন যাঁরা পাশের জঙ্গলে শিয়াল ডাকার আগেই বাড়ি ঢুকেছি।

আমরা সেই শেষ জেনারেশন যারা পূজো বা ঈদের সময় শুধু একটা নুতন জামার জন্য অপারগ বাবার  দিকে চেয়ে থেকেছি।

আমরাই লাষ্ট জেনারেশন যারা এখনও সত্যিকারের বন্ধু খুঁজি। যেখানে নতুন প্রজন্ম ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম আর হোয়াটস অ্যাপের নেশায় বুঁদ!

আমরা  সেই জেনেরেশন কলেরা রোগে হাজার হাজার মৃতু দেখেছি । এখন শেষ করোনায়
দেখলাম লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃতু
সেই দিন সেই সময় আর আসবেনা। তবে স্মৃতিটুকু রয়ে গেছে।       


👦👧
মনে আছে ❓
👭👬👫
যখন আমরা ছোট ছিলাম তখন ধৈর্য্য সহ্য হতনা যে কবে বড় হব,
👨👩👴👮👳👲👷
আর এখন মনে করি, কেন যে বড় হলাম ❗
🙆🙅💁🙋
Childhood was the best part of our life.
📃📄
আমি জানি তুমি এগুলো পড়ছো,
আর তোমার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে,
ছোটবেলায় সবথেকে বেশিবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নটার উত্তর আমি পেয়েছি অবশেষে...
🎅
-তুমি বড়ো হয়ে
কি হতে চাও❓❔❓
🚣🚴🏊
উত্তর-
আবার ছোট হতে চাই৷

বলবো forward
 করতে, তারাও যেন ভালোলাগার স্মৃতিগুলো মনে পড়লে ভালো লাগে 👭👭👬👬
(সংগৃহীত)

8
Islam / গিভ এন্ড টেক
« on: December 23, 2021, 01:04:16 PM »
গিভ এন্ড টেক
-----------

আমাদের সবার জীবনেই বিভিন্ন রকম সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনি কিছু নেন এবং কিছু দিয়ে থাকেন। বিবাহের ক্ষেত্রে আপনি কিছু দিয়ে থাকেন এবং কিছু নিয়ে থাকেন। যখন আপনি পিতা বা মাতা হন তখনো কিছু দিয়ে থাকেন এবং কিছু নিয়ে থাকেন। যখন আপনি একজন শিক্ষক তখনো কিছু দিয়ে থাকেন এবং কিছু নিয়ে থাকেন। যখন আপনি কারো চাকরি করেন বা মালিক পক্ষের হয়ে থাকেন তখনো কিছু নিয়ে থাকেন এবং কিছু দিয়ে থাকেন। সবসময় সম্পর্কটা দেওয়া নেওয়ার।

রাসূলুল্লাহ (স) বলেন - "মু'মিনের উদাহরণ হল ঠিক মৌমাছির মত।" মৌমাছির মত হলে কী হবে? আর কীভাবে মৌমাছির মত হব? মৌমাছি আমাকে আমার ঈমান সম্পর্কে কী শেখাবে?

মৌমাছি যা কিছু নেয় তার চেয়ে অনেক বেশি দিয়ে থাকে। এটি নেওয়ার চেয়ে দেয় অনেক বেশি। আর যা প্রদান করে তা গ্রহীতার জীবনকে উন্নত করে। আর যা নিয়ে যায় তা গ্রহীতার কোন ক্ষতি করে না। এটি ফুল থেকে যা নেয় তা ফুলের কোন ক্ষতি করে না। এটি ফুলের উপর খুব সুন্দর করে পাগুলো রাখে। প্রসঙ্গত, ফুলের খুব কোমল জায়গায় মৌমাছিকে বসতে হয়। ফুলের তুলনায় মৌমাছি ভারী একটি জীব। যদি সে তার সম্পূর্ণ ওজন ফুলের ঐ কোমল জায়গায় রাখে তাহলে এটি ভেঙ্গে যেতে পারে। তাই, এটি ভাসতে থাকে, পুরো ওজন ফুলের উপর রাখে না। এটি পাখাগুলো ঝাপটাতে থাকে যেন সম্পূর্ণ ওজন ফুলের উপর না রাখতে হয়।   

আমরা এখান থেকে কী শিখছি? আপনার একটি সম্পর্ক আছে কিন্তু আপনি শুধু দাবি করতে থাকেন, দাবি করতে থাকেন, চাইতে থাকেন, চাইতে থাকেন...তারপর একসময় আপনার প্রিয় বন্ধু, আপনার কর্মচারী, আপনার স্বামী বা স্ত্রী তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। আপনার কিছু জিনিস দরকার, হ্যাঁ আমি একমত। কিন্তু অতিরিক্ত নিতে যাবেন না। সহজে অগ্রসর হউন। তাদেরকে এমন চাপে ফেলবেন না যে তারা ভেঙ্গে পড়বে। আর যদি কিছু চান তাহলে আগে বেশি করে প্রদান করুন। তার জন্য কিছু নিয়ে আসুন তারপর দাবি করুন। আর যখন চাইবেন কম করে চান। জাস্ট, যতটুকু দরকার। যতটুকু প্রয়োজন।

- নোমান আলী খান


বাংলায় ডাবিংকৃত সম্পূর্ণ আলোচনার লিঙ্কঃ

9
মূসা এবং খিজির (আ) এর ঘটনা থেকে একটি শিক্ষা
------------ * --------------

আমি চাই আপনারা এভাবে চিন্তা করুন— বাস্তবতা হলো দুই রকম। একটা আপনি চোখে দেখতে পান আর অন্যটা চোখে দেখা যায় না। এই মুহুতে আমি আপনাদের দেখতে পাচ্ছি। আপনাদের দুই কাঁধের ফেরেশতাদের আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমি উনাদের দেখতে পাচ্ছি না। বুঝতে পারছেন? কিন্তু, উনারা বাস্তব। উনারা এখানেই আছেন।

তাহলে এক ধরণের বাস্তবতা আমরা দেখতে পাই আর অন্য বাস্তবতা আমরা দেখতে পাই না।

লাইলাতুল কদরে আকাশের দিকে তাকালে আপনি শুধু আকাশই দেখতে পান। কিন্তু অদৃশ্য বাস্তবতা হলো— সমগ্র আকাশ অবতরণরত ফেরেশতাদের দ্বারা ছেয়ে থাকে।" تَنَزَّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَ الرُّوۡحُ فِیۡهَا بِاِذۡنِ رَبِّهِمۡ ۚ مِنۡ کُلِّ اَمۡرٍ" - “সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে।” (৯৭:৪) এটা হলো একটি অদৃশ্য বাস্তবতা। বুঝতে পারছেন? তাহলে বাস্তবতা দুই ধরণের। একটা হলো দৃশ্যমান বাস্তবতা এবং অপরটা হলো অদৃশ্যমান বাস্তবতা। 

এখন, এই জ্ঞান আমরা যা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি— আমাদের সকল মতামতগুলো, সকল অনুভূতিগুলো এবং সকল চিন্তা-ভাবনাগুলো সবসময় দৃশ্যমান বাস্তবতা দ্বারা প্রভাবিত হয়। কারণ আমাদের নিকট বাস্তবতা এটাই। খবরে যা দেখতে পান, নিজে যার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যখন কেউ আপনাকে কিছু বলে, যখন কিছু অনুভব করেন এগুলো হলো আপনার জীবনের বাস্তবতা। 

কিন্তু, এই বাস্তবতার বাহিরেও আছে আরেক ধরণের বাস্তবতা। সোর্স কোডের মত। যেমন, আপনি শুধু অ্যাপের সামনের দিকটাই দেখতে পান, এর পেছনে যে প্রোগ্রামিং কোড রয়েছে তা দেখতে পান না। জগতের ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর মাঝেও আল্লাহ একটা পর্দা, একটা অন্তরাল রেখে দিয়েছেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কিয়ামতের দিন সম্পর্কে বলেন—  فَکَشَفۡنَا عَنۡکَ غِطَآءَکَ فَبَصَرُکَ الۡیَوۡمَ حَدِیۡدٌ - "তোমার সামনে যে পর্দা ছিল তা আমি সরিয়ে দিয়েছি। (সে কারণে) তোমার দৃষ্টি আজ খুব তীক্ষ্ম।" (৫০:২২) তুমি খুব পরিষ্কারভাবে সব দেখতে পাচ্ছ। অন্য কথায়, আল্লাহ এখন পর্দা সরিয়ে ফেলেছেন। তাই, তুমি এখন অদৃশ্য বাস্তবতাও দেখতে পাচ্ছ।

ব্যাপারটা হলো, আমাদের জীবনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে... আসলে আমাদের জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে আমরা কখনোই জানতে পারি না আল্লাহ যা যা করেন তা কেন করেন। আমরা জানি না। আমরা জানি না কেন আপনি গাড়ি এক্সিডেন্টের কবলে পড়লেন। আমরা জানি না। আমরা জানি না কেন আপনি চাকরি হারালেন। আমরা জানি না কেন আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমরা জানি না কেন এই সমস্যা ঘটলো, কেন ঐ সমস্যা দেখা দিলো। আমরা জানি না কেন আপনার ভাই স্কুলে ভালো রেজাল্ট করলো আর আপনি ফেল করলেন। আমরা জানি না। আমরা জানি না কেন আপনি বেঁটে আর আপনার সকল ভাই-বোনেরা যথেষ্ট লম্বা।

আপনি তখন ভাবতে শুরু করেন, আল্লাহ কেন এমনটা করলেন। তিনি কেন আমাকে বলেন না যে, তিনি আমার কাছ থেকে কী চান। কেন তিনি অদৃশ্যে জগতের পর্দা একটুখানি সরিয়ে দেন না যেন আমি দেখতে পারি আসল রহস্য কী। বড় পরিকল্পনাটি আসলে কী। আমি যদি জানতে পারতাম তাহলে হয়তো আমার অস্থিরতা দূর হত।

কারণ, যদি না জেনে থাকেন...যদি কোনো বিচারক আপনার সম্পর্কে কোনো রায় দিয়ে থাকে... ধরুন, বিচারক বলল, "আপনাকে এতো টাকা জরিমানা দিতে হবে।" আপনি তখন স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করবেন কেন আমাকে জরিমানা দিতে হবে? বিচারক উত্তরে বললেন— "সেটা অদৃশ্য জগতের জ্ঞান। আমি আপনাকে তা বলতে যাচ্ছি না।" 

কোনো বিচারক যখন আপনার সম্পর্কে কোনো রায় দিয়ে থাকে আর আপনি জানেন না কেন এই রায়। আপনি তখন অশান্ত হয়ে উঠেন। "আমি এটা মেনে নিতে পারি না। আমি এর একটা ব্যাখ্যা চাই। আপনি তো এর ব্যাখ্যা আমার কাছ থেকে গোপন রাখতে পারেন না।"

খিজির (আ) এর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ মূসা (আ) কে দেখালেন সবকিছুর সবসময় ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- وَ مَا کَانَ اللّٰهُ لِیُطۡلِعَکُمۡ عَلَی الۡغَیۡبِ - আর আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি তোমাদেরকে অদৃশ্য জগতের খবর জানাবেন না। (৩:১৭৯)  সকল দৃশ্যমান বিষয়ের পেছনে রয়েছে আরেকটি অদৃশ্য জগত। আর তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আপনাদেরকে সেটা জানাবেন না।

কিন্তু, এই ঘটনায় আল্লাহ মূসা (আ) এর শিক্ষকের মাধ্যমে অদৃশ্য জগতের পর্দাটা সামান্য একটু তুলে ধরলেন যেন আমরা কিছুটা ধারণা পেতে পারি কী ঘটছে ঘটনার অন্তরালে। যেন আমরা বুঝতে পারি দৃশ্যমান ঘটনার পেছনে অদৃশ্য কারণও রয়েছে। কিন্তু, তিনি সেই পর্দা সবসময় উন্মোচন করেন না।

এটা বিশেষ ধরণের জ্ঞান যা খিজির (আ)-কে দেওয়া হয়েছে। যা তাঁর প্রতি বিশেষ ধরণের দয়া। আল্লাহ সেই জ্ঞান সবাইকে দান করেন না। তিনি এমনকি সেটা মূসা (আ)-কেও দান করেন নি। অর্থাৎ, এটা এমন এক বাস্তবতা যা এমনকি তিনি তাঁর রাসূলদের নিকটেও উন্মোচিত করেন না। আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম।

— নোমান আলী খান

https://www.facebook.com/NAKBangla

10
শো অফের দুনিয়ায়, আমরা যারা অপরকে মুগ্ধ করার জন্যে খেটেখুটে মরি, আমরা আসলে কী পাই দিনশেষে?

(১)

মাদইয়ানে মুসা আলাইহিস সালামের সাথে দুজন রমনীর সাক্ষাতের ঘটনাটা আমাদের প্রায় সকলেরই জানা।

একটা কূপ থেকে নিজেদের বকরীকে পানি খাওয়াতে এসেছিলো তারা। কূপের কাছে এসে দেখলো— অনেকগুলো পুরুষ মানুষ কূপ থেকে পানি উঠাচ্ছে নিজ নিজ প্রয়োজনে। যেহেতু কূপের কাছে অনেকগুলো পুরুষ মানুষের আনাগোনা, তাই রমনীদ্বয় তখন কূপের কাছে না গিয়ে অদূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করাটাকেই শ্রেয় মনে করলো। পুরুষেরা চলে গেলেই কূপের কাছে যাবে— এমনটাই তারা ঠিক করলো।

কিন্তু সময় গড়ায় ঠিকই, পুরুষদের উপস্থিতি কমে না। রমনীদ্বয়ও ঠাঁই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে থাকে।

ব্যাপারটা চোখে লাগলো মুসা আলাইহিস সালামের। পুরুষদের আনাগোনার কারণে মেয়ে দুটো যে কূপের কাছে আসছে না সেটা তিনি বুঝতে পারলেন। আবার— তারা যে বেশ অনেকটুকু সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছে, সেটাও বুঝতে বাকি থাকলো না৷ এমতাবস্থায় তাহলে কী করা যায়?

মুসা আলাইহিস সালাম স্থির করলেন— রমনীদ্বয়ের বকরীগুলোকে বরং তিনিই পানি খাইয়ে আনবেন। এতে করে তাদেরকে পুরুষদের মাঝেও আর আসতে হবে না, দূরে দাঁড়িয়ে গুনতে হবে না অপেক্ষার প্রহরও।

যেই ভাবা সেই কাজ। মুসা আলাইহিস সালাম তাদের বকরীগুলোকে নিজ দায়িত্বে পানি খাইয়ে এনে দিলেন।

পরের ঘটনাটুকুও আমাদের জানা— মুসা আলাইহিস সালামের সাহায্যের গল্প মেয়েরা তাদের বাবার কাছে এসে করতে ভুলেনি। এমন পরোপকারী আল্লাহর বান্দাকে মেয়েদের বাবা পুরস্কৃত করতে চাইলেন৷ তিনি ডেকে পাঠালেন মুসা আলাইহিস সালামকে।

মেয়েদের বাবার সামনে আসবার পরে মেয়ে দুটোর একজন তাদের বাবাকে বললো, 'পিতা, আপনি বরং এই লোককে কাজে নিযুক্ত করুন। এমন লোককেই তো আপনার কাজে নিযুক্ত করা উচিত যে কি-না শক্ত-সামর্থ্য আর বিশ্বস্ত'। - সুরা আল কাসাস, আয়াত- ২৬

মুসা আলাইহিস সালামের সাথে মেয়ে দুটোর সাক্ষাত কিন্তু একেবারে ক্ষণিকের। কোন পূর্ব পরিচয় ছাড়া, এতো অল্প সময়ে কীভাবে তারা বুঝতে পারলো যে মুসা আলাইহিস সালাম শক্ত-সামর্থ্য আর বিশ্বস্ত লোক?

তাফসিরে এর সুন্দর একটা ব্যাখ্যা এসেছে। যে কূপ থেকে মুসা আলাইহিস সালাম মেয়ে দুটোর বকরীগুলোকে পানি খাইয়েছেন, সেই কূপের মুখে ভারি লোহার একটা ঢাকনা ছিলো। সেই ঢাকনা দশজন লোকে মিলে সরাতে মুশকিল হয়ে যেতো। কিন্তু, মেয়ে দুটো দেখেছে মুসা আলাইহিস সালাম কী অবলীলায় সেই ভারি ঢাকনাটা একাই সরিয়ে পানি তুলেছেন! এটা দেখেই তারা বুঝতে পারলো যে এই লোক অবশ্যই শক্ত-সামর্থ্য একজন।

তবে, তিনি যে বিশ্বস্ত তা কীভাবে বুঝলো?

তাফসিরকারকগণ আরো বলেছেন— মেয়েদের গৃহে যাওয়ার পথে মুসা আলাইহিস সালাম মেয়ে দুটোকে বললেন, 'আমি আগে আগে হাঁটি, আপনারা আমার পেছন পেছন আসুন৷ যদি আমি ভুল পথে চলতে শুরু করি, আপনারা একটা পাথর নিক্ষেপ করে আমাকে সঠিক পথটা বাতলে দিবেন শুধু'।

কেনো মুসা আলাইহিস সালাম মেয়েদের আগে আগে হেঁটে যেতে চাইলেন জানেন? কারণ— তিনি যদি মেয়েদের পেছনে পেছনে আসেন, তাহলে শয়তান তাঁর দৃষ্টিকে বারংবার মেয়েদের দিকে নিবদ্ধ করতে চাইবে। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে এবং নিজের দৃষ্টির হেফাযত করতেই মুসা আলাইহিস সালাম সেদিন আগে আগে হাঁটতে চাইলেন, যদিও তাদের গৃহের পথ তিনি আদৌ চিনেন না।

যে লোক নিজের চরিত্রকে, নিজের দৃষ্টিকে হেফাযতে এতোখানি তৎপর, যিনি একাকিনী রমনীদের কাছ থেকেও নিজের দৃষ্টিকে এভাবে আড়াল করেন, তিনি তো বিশ্বস্ত হবেন-ই। সুতরাং, রমনীদের চিন্তা একটুও অমূলক ছিলো না।

(২)

আমি ভাবি— বর্তমানের শো-অফের দুনিয়ায় মুসা আলাইহিস সালাম আমাদের জন্য কী চমৎকার দৃষ্টান্তই না রেখে গেলেন!

আজকাল আমরা অন্যকে দেখানোর জন্য, অন্যের কাছে নিজের গুণ জাহির করার জন্য কতো চেষ্টাই না করি! আমি এমন অনেক ছেলেকে চিনি যারা নিজের গার্লফ্রেণ্ডকে ইমপ্রেস করার জন্য দামী কাপড়চোপড় পরে, দামী মডেলের বাইক কিনে, দামী রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। এমন অনেক মেয়েও আছে যাদের সারাদিনের চিন্তার সারমর্ম একটাই— কীভাবে বয়ফ্রেণ্ডকে বেশি করে ইমপ্রেস করা যায়, কীভাবে তাকে আরো বেশি মুগ্ধ, আরো বেশি মজিয়ে রাখা যায় তার রূপ আর গুণের কাছে। এমনও গল্প শুনেছি— ছেলেটা জিমে গিয়ে খুব পরিশ্রম করে সিক্স প্যাক বডি বানানোর জন্যে, কারণ তার গার্লফ্রেণ্ডের সিক্স প্যাক বডি পছন্দ।

অথচ— মুসা আলাইহিস সালাম মেয়ে দুটোকে ইমপ্রেস করতে কিন্তু তাদের বকরীগুলোকে পানি খাওয়াতে ছুটে যাননি। তিনি ইমপ্রেস করতে চেয়েছিলেন কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালাকে। নিজের দৃষ্টি হেফাযতকে তিনি আল্লাহর বিধান হিশেবে মেনে চলেছেন। মেয়ে দুটোকে সামনে চলতে দিলে তার দৃষ্টি হেফাযতে সমস্যা হতে পারে, শয়তানের ওয়াসওয়াসায় তিনি পরাস্ত হতে পারেন— এই ভয় থেকেই তিনি আগে আগে চলতে চেয়েছেন।

এই যে কেবল আল্লাহকে ইমপ্রেস করার জন্যেই কাজ করা, আল্লাহর বিধানকে ভালোবেসে আঁকড়ে ধরা, তা পালনে সর্বদা সচেষ্ট থাকা— এসবের বিনিময় হিশেবে মুসা আলাইহিস সালাম কী পেলেন?

মাদইয়ানে তিনি এসেছিলেন একেবারে অসহায় অবস্থায়। না ছিলো কোন আশ্রয়, না ছিলো কোন খাবার-দাবারের বন্দোবস্ত। অথচ— এই একটা ঘটনার জের ধরে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া'তায়ালা তাঁকে আশ্রয় দিলেন একজন নেককার বান্দার গৃহে। কোন কোন তাফসিরকারকের মতে— ওই মেয়ে দুটোর বাবাও আল্লাহর একজন নবি ছিলেন। মুসা আলাইহিস সালাম শুধু যে আশ্রয় পেলেন তা কিন্তু নয়, ওই মেয়ে দুটোর একজনকে তিনি নিজের জীবনসঙ্গিনী হিশেবেও পেয়েছিলেন।

তাঁর শক্তিমত্তা তিনি কাজে লাগিয়েছেন মানুষের উপকারে। এই উপকার তিনি করেছেন শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্যেই। নিজের অসহায়, ছন্নছাড়া অবস্থাতেও তিনি তার চরিত্র, তার দৃষ্টির হেফাযতের কথা ভুলে যাননি। এসবের পুরস্কার হিশেবে তিনি লাভ করেছেন একটা উত্তম আশ্রয়, একজন উত্তম জীবনসঙ্গীনি আর একজন উত্তম অভিভাবক (তাঁর শ্বশুর)।

শো অফের দুনিয়ায়, আমরা যারা অপরকে মুগ্ধ করার জন্যে খেটেখুটে মরি, আমরা আসলে কী পাই দিনশেষে? আর মুসা আলাইহিস সালাম, যাঁর ব্রত-ই ছিলো কেবল আল্লাহকে মুগ্ধ করা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, তিনি কী পাননি বলুন তো?

'কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ-০৯'


© আরিফ আজাদ

https://www.facebook.com/arifazad.bd

11
আল্লাহ ভরসা বা তাওয়াক্কুল বলতে আসলে কী বোঝায়?

সূরা তাওবার ৫১ নাম্বার আয়াত কুরআনের অন্যতম শক্তিশালী আয়াতগুলোর একটি। বস্তুতঃ এটি সমগ্র কুরআন জুড়ে আমার অন্যতম প্রিয় আয়াতগুলোর একটি। আমাদের সবারই পছন্দের আয়াত রয়েছে। কুরআনের সকল আয়াতই প্রিয় এবং আশীর্বাদপুষ্ট। কিন্তু কিছু কিছু আয়াতের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।

এই আয়াতটি মুখস্ত করার জন্য আমি সবাইকে উৎসাহ প্রদান করি। কারণ, এই আয়াতটি সত্যিই বিপদের সময় আমাদের অন্তরে এক ধরণের নিরুদ্বেগ স্বাচ্ছন্দ্য এবং প্রশান্তি নিয়ে আসে। 

এই আয়াতটি তাবুক যুদ্ধের চাপ মোকাবেলায় খুব কাজে আসে। বড় ধরণের একটি কঠিন সময়ের মোকাবেলা করতে যাচ্ছেন সাহাবীরা। সময়টি ছিল দারুণ প্রতিকূল। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে তাঁদেরকে খেত খামারের দায়িত্ব পরিত্যাগ করে যুদ্ধে যোগ দিতে হয়েছিল। মদিনায় তাঁদের অবস্থানটা যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন তাঁদেরকে মদিনা ত্যাগ করতে হয়েছিল। তীব্র গরমের ভেতর দিয়ে তাঁদেরকে হাজার মাইল ভ্রমণ করতে হয়েছিল। যুদ্ধটা হওয়ার কথা ছিল তাঁদের চেয়ে বহুগুণে শক্তিশালী রোমান সৈন্যদের সাথে।

তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁদেরকে বললেন,  قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ - "বল, ‘আমাদেরকে শুধু তা-ই আক্রান্ত করবে যা আল্লাহ আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন। তিনিই আমাদের রক্ষক, আর আল্লাহর উপরই যেন মুমিনরা তাওয়াক্কুল করে’।" (৯:৫১)

এটি এতো চমৎকার একটি আয়াত! এখানে বান্দার সাথে তার সৃষ্টিকর্তার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এখানে কুরআনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা 'তাওয়াক্কুল' নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার উপর নির্ভর করা। এই আয়াতটি আমাদেরকে 'তাওয়াক্কুল'-এর প্রাথমিক উপকার সম্পর্কে জ্ঞান দান করে। আপনার যদি 'তাওয়াক্কুল' থাকে, দুনিয়ার সমস্যাগুলো আপনাকে প্রভাবিত করতে পারবে না। যদি 'তাওয়াক্কুল' থাকে, পরিস্থিতি যতই খারাপ হউক না কেন, বাহিরে যত শক্তিশালী ঝড়ই থাকুক না কেন, আপনার অন্তর প্রশান্তিতে পূর্ণ থাকবে।

কেন? কারণ, আপনি জানেন কোন কিছুই ঘটবে না, যদি না তিনি ইচ্ছা করেন। আর তিনি কে? তিনি আমার মাওলা। তিনি আমার রক্ষক। তিনিই সেই সত্তা যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমার যত্ন নেন। আমার প্রতিপালন করেন। তাহলে কেন আমি উদ্বিগ্ন হবো? কেন আমি অশান্ত হয়ে উঠবো? কেন আমি দুঃখ কাতর হয়ে পড়বো?

 এটা স্বাস্থ্যগত সমস্যা হউক, আর্থিক সমস্যা হউক, সামাজিক সমস্যা হউক, কিছুই ঘটবে না, যদি না আল্লাহ কিছু ঘটার ইচ্ছা করেন। আমার চরম শত্রুরা আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যদি না আল্লাহ এটার ইচ্ছা করেন। আমার উপর কারো কোনো ক্ষমতা নেই, যদি না আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এর ইচ্ছা করেন। কোনো আর্থিক সমস্যাই আমাকে চাপে ফেলতে বা আমার উপর বোঝা হয়ে দেখা দিবে না, যদি না আল্লাহ এর ইচ্ছা করেন। তাই, কেন আমি কাউকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হবো? আমার তাওয়াক্কুল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার উপর রাখতে হবে।

এই আয়াত আমাদের নিকট আরও ব্যাখ্যা করে তাওয়াক্কুল বলতে কী বোঝায়? তাওয়াক্কুল হলো একটি বিশেষ মানসিক অবস্থার নাম। তাওয়াক্কুল হলো একটি আধ্যাত্মিক অবস্থার নাম। তাওয়াক্কুল হলো অন্তরের একটি তাত্ত্বিক বিশ্বাসের নাম। আপনার কাজের মাধ্যমে এর প্রকাশ ঘটে না। আপনার কর্মপদ্ধতিতে এটি কোনো পরিবর্তন আনে না। আপনি কিভাবে দুনিয়া দেখেন, দুনিয়াকে কিভাবে উপলব্ধি করেন  এটা তাতে পরিবর্তন আনে। তাওয়াক্কুল আপনার কাজে-কর্মে পরিবর্তন আনবে না। তাওয়াক্কুল আপনার অনুভূতিতে পরিবর্তন আনবে। তাওয়াক্কুল হলো একটি আভ্যন্তরীণ ব্যাপার।

সাহাবারা তবু অভিযানের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। যা যা প্রয়োজন ছিল তার সবই তারা সাথে নিলেন। যা কিছু বস্তাবন্দী করা দরকার করলেন। নিজেদের বর্ম পরিধান করলেন। যুদ্ধের জন্য মার্চ করে এগিয়ে গেলেন। তাওয়াক্কুলের কারণে কোনো কিছুতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বললেন- চিন্তা করো না। আমি না চাইলে কিছুই ঘটবে না।  لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا -

খুব চমৎকার একটি হাদিস আছে যাতে তাওয়াক্কুলের ধারণাটির একটি সুন্দর সারাংশ তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের রাসূল (স) বলেছেন-  الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ - "শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট দুর্বল মুমিনের চেয়ে প্রিয়।" এখানে শক্তিশালী বলতে শক্তিশালী ঈমানকে বুঝানো হয়েছে। কিন্তু, এর দ্বারা আবার জীবনের সকল ক্ষেত্রের শক্তিমত্তাকেও বুঝায়। "আর সকল মুমিনের মাঝেই কল্যাণ রয়েছে।"  احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ - "তোমার উপকারে আসবে এমন কিছুর জন্য আগ্রহী হও।" وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ - "এবং এটা অর্জন করতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর।"  وَلاَ تَعْجِزْ - এবং "অক্ষম হয়ে থেকো না।"

এই হাদিসের সাথে তাওয়াক্কুলের কী সম্পর্ক? খুব সহজ। আমাদের রাসূল (স) বলেছেন যখন বুঝতে পারো যে কিছু একটা তোমার উপকারে আসবে তখন সেটি অর্জন করার জন্য একটি লক্ষ্য নির্ধারণ কর। احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ - "তোমার উপকারে আসবে এমন কিছুর জন্য আগ্রহী হও।"

যদি চাকরি করতে চাও ডিগ্রী অর্জন কর। কোম্পানিতে নিজের প্রমোশন চাও? এরজন্য যে যে প্রচেষ্টা করতে হবে, করো। যা তোমার উপকার করবে তার জন্য আগ্রহী হও। এটা হালাল। এরপর রাসূল (স) বলেন-  وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ - "এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর।" তোমার হাত তুলে আল্লাহকে বল- ও আল্লাহ! আমার জন্য এর অর্জন সহজ করে দিন। এরপর   وَلاَ تَعْجِزْ - এবং "অক্ষম হয়ে থেকো না।" বাদ দিও না, পরিত্যাগ করো না, অলস হয়ে পড়ো না। "আজাজ" মানে অলসতা। লক্ষ্য অর্জন করার প্রচেষ্টায় অলস হবে না। তোমাকে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে চেষ্টা করতে হবে। নিজের ডেস্কে অলস বসে থেকে তো তুমি প্রমোশন পাবে না।   

পড়া লেখা না করলে, শিক্ষা অর্জন না, যোগ্যতা অর্জন না করলে তো ভালো চাকরি পাবে না।

সুতরাং, তোমার উপকারে আসবে এমন কিছু পেতে চাইলে এর জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ কর। আল্লাহর কাছে দুআ কর। এবং অলস হইও না। হতাশ হয়ে ছেড়ে দিও না। এরপর কী? এরপর রাসূল (স) বলেন- "যদি কোন কিছু (বিপদ) তোমার উপর আপতিত হয়..." এমন কিছুর আশা তুমি করনি। যদি অনেক চেষ্টার পরেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পার, তখন দোষারোপ করবে না। "এরূপ বলবে না যে, যদি আমি এরূপ করতাম তবে এরূপ এরূপ হত।" বরং বল- “কাদ্দারাল্লাহু ওমা শাআ ফাআল- আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তাই করেছেন।"

যথেষ্ট চেষ্টা করার পরেও যদি না পান তখন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করুন। আল্লাহ এটা আপনার জন্য লিখেন নি। এটা আপনার কপালে ছিল না। আপনার ভাগ্যে ছিল না।

তাহলে তাওয়াক্কুল আমাদের প্রচেষ্টায় কোন প্রভাবে ফেলে না। এটা আমাদের চিন্তা-ভাবনায়, আমাদের উপলব্ধিতে প্রভাব ফেলে। এটা আমাদের কাজেকর্মে পরিবর্তন আনে না। আমরা যেভাবে বাস্তবতা বুঝি এটা তাতে পরিবর্তন নিয়ে আসে। 

প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, এই সুন্দর আয়াতটি আমাদের মুখস্ত করে রাখা উচিত এবং কঠিন সময়ে এটি ব্যবহার করা উচিত। দুর্ভাগ্য বশত, আমাদের তাওয়াক্কুল যখন দুর্বল হয়ে পড়ে,  আমরা তখন এই দুনিয়ার বিপদ-আপদ নিয়ে পেরেশান হয়ে পড়ি- আল্লাহর উপর ভরসা করার পরিবর্তে। আর আল্লাহ আমাদেরকে বলছেন-  وَ مَنۡ یَّتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰهِ فَهُوَ حَسۡبُهٗ - “যে কেউ আল্লাহর উপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।” (৬৫:৩) আল্লাহ তার যত্ন নিবেন।

আমাদের রাসূল (স) আমাদের এই বিষয়ে একটি দুয়া শিখিয়ে গেছেন। দুয়াটি কুরআনে বর্ণিত আছে। যখন পরীক্ষায় পড়েন, বিপদ-আপদে পড়েন যদি এই কথাগুলো বলেন আল্লাহ আপনার দায়িত্ব নিবেন। যদি ঈমানের সাথে বলেন। সেই কথাগুলো হলো حَسۡبُنَا اللّٰهُ وَ نِعۡمَ الۡوَکِیۡلُ - ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক’! (3:173) ওয়াকিল মানে এমন সত্তা যার উপর আমি তাওয়াক্কুল করবো, ভরসা করবো। 

আমাদের রাসূল (স) আমাদের বলেছেন ইব্রাহিম (আ) এ কথাগুলো বলেছিলেন যখন তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ফলে দেখেছেন? আল্লাহ কিভাবে তাঁকে রক্ষা করলেন।

ইব্রাহিম (আ) কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তিনি শুধু বলেছিলেন " হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল"। যখন নেবুচাদনেজারের সেনাবাহিনী আগুনের চুল্লি তৈরি করেছিল এবং তাঁকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তিনি শুধু বলেছিলেন "হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকিল"। তখন আল্লাহ ইব্রাহিম (আ) এর জন্য সেই আগুনকে সুন্দর একটি বাগানে পরিণত করলেন।

তাই, প্রিয় ভাই এবং বোনেরা, তাওয়াক্কুলের বাস্তবতা হলো এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর উপর আমাদের আশা রাখি। আমাদের বিশ্বাস রাখি। কোনো কিছুই ঘটবে না যদি না তিনি এর ডিক্রি জারি করেন।

কিন্তু এর মানে এটা নয় যে, আমরা অলস হয়ে বসে থাকবো। সবশেষে আরেকটি হাদিস বলছি। আমাদের রাসূল (স) বলেছেন- "আল্লাহর উপর যদি তোমাদের যথাযোগ্য তাওয়াক্কুল থাকত, আল্লাহ যেভাবে ডিজারভ করেন, তাহলে তিনি তোমাদের এমনভাবে  জীবিকা সরবরাহ করতেন যেভাবে তিনি সকল পাখিদের জীবিকা সরবরাহ করেন।  তারা সকাল বেলা খালি পেটে তাদের বাসা থেকে বের হয়ে পড়ে..."  কেউ জানে না কোথায় তারা তাদের শস্য পাবে। কেউ জানে না তাদের খাদ্য কোথা থেকে আসবে। "আর তারা  ভরাপেটে তাদের নীড়ে ফিরে আসে।"

এই সুন্দর হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় তাওয়াক্কুলের আসল অর্থ কী। এর মানে এটা নয় যে, আপনি নীড়ে বসে থাকবেন। এর মানে এটা নয় যে, কিছু না করেই আপনি আশায় থাকবেন আল্লাহ আপনাকে দিবেন। না। পাখিগুলো ভোরবেলা নীড় ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে এবং সমগ্র অঞ্চলে উড়ে বেড়ায়। তাদের আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল আছে আর তাই আল্লাহ তাদের খাবার সরবরাহ করেন। এমন উৎস থেকে যার আশা তারা করেনি।

আমি দুয়া করছি, আল্লাহ যেভাবে তাওয়াক্কুল পাওয়ার যোগ্য আমরা যেন সেভাবে তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করতে পারি।

— ড. ইয়াসির ক্বাদী

12
Use of Forum / DIU Forum User Video Guideline
« on: November 16, 2021, 12:48:51 PM »
DIU Forum User Guideline


13
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য কতটুকু প্রস্তুত উচ্চশিক্ষা


চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখসারির প্রতিষ্ঠান। সে লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ করা উচিত। একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করা যাক। একদিন আমি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ভর্তি কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছি। দেখলাম, ভর্তি-ইচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পরে দেখতে পেলাম, ড্যাফোডিল ক্রুজার নামক একটি রোবট ভর্তি সহকারী হিসেবে তাঁকে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সাহায্য করছে। সেখানে প্রতিদিন ভর্তি-ইচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত হন এবং অনুরূপ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন। রোবটটি ভর্তি কর্মকর্তাদের সহায়তা করে। এ কাজে রোবটটি অত্যন্ত দক্ষ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে ধারণা তৈরির জন্য, রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে পোশাকশিল্পে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এখন একটি বাস্তবতা। আমাদের যা কিছু আছে, তা পুঁজি করে দ্রুত অগ্রসর হওয়া উচিত।

১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে ইউজিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার সূচনা করেন। ১৯৭৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউজিসির কার্যক্রম শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্ষুধা–দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলার’। একই দর্শন বহন করে দেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে।একটি নিরাপদ, উন্নত ও উদ্ভাবনী দেশের মর্যাদায় পৌঁছাতে ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৩০, ভিশন ২০৪১, ভিশন ২০৭১ এবং ডেলটা প্ল্যান ২১০০—এসব লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে

এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা উচ্চমানের শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার এবং একটি উদ্ভাবনী শিক্ষা ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারব। এরই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আগামী ১০-১১ ডিসেম্বর থেকে ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড বিয়ন্ড বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কৌশল ব্যবহার করে স্থানীয় সমস্যার সমাধান, জীবন ও পরিবেশের উন্নতি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের সাহায্য করার জন্য গবেষক ও চর্চাকারীদের একত্র করে উচ্চপর্যায়ের একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম তৈরি করা হবে। সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও অটোমেশন, আইওটি ও স্মার্ট এগ্রিকালচার, ডেটা বিশ্লেষণ ও ক্লাউড কম্পিউটিং, যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সিগনাল এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং।

বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়। সর্বশেষ টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিং ২০২২ অনুসারে, দেশের মাত্র তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী র‌্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (৮০১-১০০০), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১০০১-১২০০) ও বুয়েট (১২০১+)। ২০২২ সালে এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উচ্চশিক্ষা রূপকল্পে আমাদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোয় জোর দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ডিজিটাল শিক্ষার প্রথম পর্যায়, অর্থাৎ ফেস টু ফেস ডিজিটাল পার করেছে এবং এখন আমরা ডিজিটাল শিক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়, অর্থাৎ ব্লেন্ডেড ডিজিটালে আছি। এর জন্য ইউজিসি সম্প্রতি ব্লেন্ডড লার্নিং পলিসি ২০২১ অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী ধাপ হলো অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষা। বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক অনলাইন শিক্ষা ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের উপস্থিতি বোঝাতে পারেনি। ২০২৬ সালের মধ্যে এর বাজারমূল্য ৩৭৫ বিলিয়ন ডলার। এটি সহজেই প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাকশিল্পের পরে আমাদের আয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ উৎস হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো (যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এলএমএস, লার্নিং অ্যানালিটিকস) সিস্টেমের মধ্যে কার্যকরভাবে যোগ করতে হবে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও অনলাইন ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করেছে। উন্নত বিশ্বে অন্তত ১০ বছর আগে থেকে এটা করা হচ্ছে।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি বৃত্তিমূলক উপাদান থাকা উচিত, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতের কাজের জগতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ অটোমোবাইল, ইলেকট্রিক ওয়্যারিং, গ্রাফিকস, ভিডিও সম্পাদনা, অ্যানিমেশন হতে পারে। দেশে অনেক স্নাতক বেকার আছে সত্যি, কিন্তু তাঁদের বৃত্তিমূলক দক্ষতা থাকলে চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তাঁরা অন্যদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। এমনকি অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, লার্নিং অ্যাডভাইজর, ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার, লার্নিং টেকনোলজিস্টের মতো হাজারো চাকরির পথ উন্মুক্ত হতে পারে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আবির্ভাবে অনেক চাকরি হারিয়ে যাবে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হবে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল র‍্যাঙ্কিংয়ের একটি প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। দেশের দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে এটি মাত্র ৩ ও ০ শতাংশ। পক্ষান্তরে, বেশির ভাগ অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার আয় হয় এবং র‌্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম পুরোনো। প্রায়ই প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সেটা তৈরি বা হালনাগাদ হয় না। বিসিএসকেন্দ্রিক শিক্ষা আমাদের দীর্ঘ মেয়াদে সাহায্য করবে না। একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি বড় ব্যবধান স্পষ্ট এবং আমাদের পাঠ্যক্রমে এটির সমাধান করতে হবে। একটি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের শেষ বছরে শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনুশীলনের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হওয়া উচিত, সেখানে একটি ক্যাপস্টোন প্রোজেক্ট বা থিসিস অপশন থাকতে পারে। ওই সময়ে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বা দুটি কোর্স অনলাইনে অফার করা যেতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

সফট স্কিল, যেমন যোগাযোগের ক্ষমতা, ভাষা দক্ষতা, জ্ঞানীয় বা মানসিক সহানুভূতি, সময় ব্যবস্থাপনা, দলগত কাজ, নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মূলত চাকরির স্থান (স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক), ফ্রিল্যান্সিং, কনসালট্যান্সি প্রোফাইল ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট গাইডেন্স এবং আইজিএ (ইনকাম জেনারেটিং অ্যাকটিভিটিস) নিশ্চিত করতে পারে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষার দক্ষতা চাকরির ক্ষেত্রে অনেক সময় অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।

উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন স্কিম, যেমন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে, সরকারি-ভর্তুকিপ্রাপ্ত এবং সম্পূর্ণ ফি থাকতে পারে, যা করদাতার আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা যেতে পারে। স্থানীয় চাকরির বাজারে তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সরকার চতুর্থ শিল্পবিপ্লব–সম্পর্কিত কোর্স ও প্রোগ্রামগুলোয় আরও ভর্তুকি প্রদান করতে পারে। স্নাতক শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা যখন চাকরি পাবেন বা উদ্যোক্তা হবেন, তখন তাঁদের ধীরে ধীরে শিক্ষাঋণ পরিশোধ করতে হবে। সরকারি ঋণ বা ভর্তুকি পেতে ছাত্রদের মা–বাবা বা অভিভাবকদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে, এমনকি তা শূন্য হলেও।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল র‍্যাঙ্কিংয়ের একটি প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। দেশের দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে এটি মাত্র ৩ ও ০ শতাংশ। পক্ষান্তরে, বেশির ভাগ অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার আয় হয় এবং র‍্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নিজস্ব অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশ থেকে ভিজিটিং অধ্যাপক ও পণ্ডিতদের আনতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণায় একাডেমিক উৎকর্ষ রয়েছে। ফলে, শিক্ষার গুণগত মানে পরিবর্তন আসবে।

টাইমস হায়ার এডুকেশন বা কিউএস র‍্যাঙ্কিং অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি জাতীয় র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম থাকা উচিত। এতে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু অনুকূল একাডেমিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পদোন্নতি ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের মানদণ্ড, যেমন একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব, পেশাগত উন্নয়ন, মানসম্পন্ন প্রকাশনা ও গবেষণা অনুদানকে স্বচ্ছতার সঙ্গে একটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অনুসরণ এবং সেটি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (২০১৬) একটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ‘আজকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশকারী ৬৫ শতাংশ শিশু শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতুন চাকরিতে কাজ করবে, যা এখনো বিদ্যমান নেই।’ সুতরাং শিক্ষা কোনো টিক নয়, বরং সারা জীবনের অর্জন। ভবিষ্যৎ কাজগুলো হবে এমন, যা মেশিন করতে পারে না। একই সঙ্গে সৃজনশীল প্রচেষ্টা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, শারীরিক দক্ষতার মতো ক্ষেত্রগুলোর বিকাশ ঘটাতে হবে। মানুষ যাতে মেশিনকে হারাতে পারে। এখন আমাদের নীতিনির্ধারকদের উচিত চতুর্থ শিল্পবিপ্লব–সম্পর্কিত গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষানীতি পুনর্বিবেচনা করা, যাতে বৈশ্বিক শিক্ষার বাজারে বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

লেখা:
অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারের পরিচালক এবং
বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান

Source: shorturl.at/ltFK0

14
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য কতটুকু প্রস্তুত উচ্চশিক্ষা


চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মুখসারির প্রতিষ্ঠান। সে লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাজ করা উচিত। একটি উদাহরণ দিয়ে শুরু করা যাক। একদিন আমি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ভর্তি কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছি। দেখলাম, ভর্তি-ইচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পরে দেখতে পেলাম, ড্যাফোডিল ক্রুজার নামক একটি রোবট ভর্তি সহকারী হিসেবে তাঁকে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সাহায্য করছে। সেখানে প্রতিদিন ভর্তি-ইচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত হন এবং অনুরূপ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন। রোবটটি ভর্তি কর্মকর্তাদের সহায়তা করে। এ কাজে রোবটটি অত্যন্ত দক্ষ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে ধারণা তৈরির জন্য, রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে পোশাকশিল্পে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এখন একটি বাস্তবতা। আমাদের যা কিছু আছে, তা পুঁজি করে দ্রুত অগ্রসর হওয়া উচিত।

১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে ইউজিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার সূচনা করেন। ১৯৭৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউজিসির কার্যক্রম শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্ষুধা–দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলার’। একই দর্শন বহন করে দেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এ রূপান্তরিত হয়েছে।একটি নিরাপদ, উন্নত ও উদ্ভাবনী দেশের মর্যাদায় পৌঁছাতে ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৩০, ভিশন ২০৪১, ভিশন ২০৭১ এবং ডেলটা প্ল্যান ২১০০—এসব লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা উচ্চমানের শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার এবং একটি উদ্ভাবনী শিক্ষা ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারব। এরই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আগামী ১০-১১ ডিসেম্বর থেকে ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড বিয়ন্ড বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কৌশল ব্যবহার করে স্থানীয় সমস্যার সমাধান, জীবন ও পরিবেশের উন্নতি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের সাহায্য করার জন্য গবেষক ও চর্চাকারীদের একত্র করে উচ্চপর্যায়ের একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম তৈরি করা হবে। সম্মেলনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও অটোমেশন, আইওটি ও স্মার্ট এগ্রিকালচার, ডেটা বিশ্লেষণ ও ক্লাউড কম্পিউটিং, যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সিগনাল এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং।

বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়। সর্বশেষ টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিং ২০২২ অনুসারে, দেশের মাত্র তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বব্যাপী র‌্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (৮০১-১০০০), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১০০১-১২০০) ও বুয়েট (১২০১+)। ২০২২ সালে এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উচ্চশিক্ষা রূপকল্পে আমাদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোয় জোর দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ডিজিটাল শিক্ষার প্রথম পর্যায়, অর্থাৎ ফেস টু ফেস ডিজিটাল পার করেছে এবং এখন আমরা ডিজিটাল শিক্ষার দ্বিতীয় পর্যায়, অর্থাৎ ব্লেন্ডেড ডিজিটালে আছি। এর জন্য ইউজিসি সম্প্রতি ব্লেন্ডড লার্নিং পলিসি ২০২১ অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী ধাপ হলো অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষা। বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক অনলাইন শিক্ষা ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেদের উপস্থিতি বোঝাতে পারেনি। ২০২৬ সালের মধ্যে এর বাজারমূল্য ৩৭৫ বিলিয়ন ডলার। এটি সহজেই প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাকশিল্পের পরে আমাদের আয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ উৎস হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিগুলো (যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এলএমএস, লার্নিং অ্যানালিটিকস) সিস্টেমের মধ্যে কার্যকরভাবে যোগ করতে হবে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও অনলাইন ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করেছে। উন্নত বিশ্বে অন্তত ১০ বছর আগে থেকে এটা করা হচ্ছে।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি বৃত্তিমূলক উপাদান থাকা উচিত, যাতে তাঁরা ভবিষ্যতের কাজের জগতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ অটোমোবাইল, ইলেকট্রিক ওয়্যারিং, গ্রাফিকস, ভিডিও সম্পাদনা, অ্যানিমেশন হতে পারে। দেশে অনেক স্নাতক বেকার আছে সত্যি, কিন্তু তাঁদের বৃত্তিমূলক দক্ষতা থাকলে চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তাঁরা অন্যদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। এমনকি অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, লার্নিং অ্যাডভাইজর, ইনস্ট্রাকশনাল ডিজাইনার, লার্নিং টেকনোলজিস্টের মতো হাজারো চাকরির পথ উন্মুক্ত হতে পারে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আবির্ভাবে অনেক চাকরি হারিয়ে যাবে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হবে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল র‍্যাঙ্কিংয়ের একটি প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। দেশের দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে এটি মাত্র ৩ ও ০ শতাংশ। পক্ষান্তরে, বেশির ভাগ অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার আয় হয় এবং র‌্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

আমাদের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম পুরোনো। প্রায়ই প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সেটা তৈরি বা হালনাগাদ হয় না। বিসিএসকেন্দ্রিক শিক্ষা আমাদের দীর্ঘ মেয়াদে সাহায্য করবে না। একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি বড় ব্যবধান স্পষ্ট এবং আমাদের পাঠ্যক্রমে এটির সমাধান করতে হবে। একটি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের শেষ বছরে শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনুশীলনের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত হওয়া উচিত, সেখানে একটি ক্যাপস্টোন প্রোজেক্ট বা থিসিস অপশন থাকতে পারে। ওই সময়ে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বা দুটি কোর্স অনলাইনে অফার করা যেতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

সফট স্কিল, যেমন যোগাযোগের ক্ষমতা, ভাষা দক্ষতা, জ্ঞানীয় বা মানসিক সহানুভূতি, সময় ব্যবস্থাপনা, দলগত কাজ, নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মূলত চাকরির স্থান (স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক), ফ্রিল্যান্সিং, কনসালট্যান্সি প্রোফাইল ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট গাইডেন্স এবং আইজিএ (ইনকাম জেনারেটিং অ্যাকটিভিটিস) নিশ্চিত করতে পারে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষার দক্ষতা চাকরির ক্ষেত্রে অনেক সময় অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।

উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন স্কিম, যেমন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে, সরকারি-ভর্তুকিপ্রাপ্ত এবং সম্পূর্ণ ফি থাকতে পারে, যা করদাতার আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা যেতে পারে। স্থানীয় চাকরির বাজারে তাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সরকার চতুর্থ শিল্পবিপ্লব–সম্পর্কিত কোর্স ও প্রোগ্রামগুলোয় আরও ভর্তুকি প্রদান করতে পারে। স্নাতক শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা যখন চাকরি পাবেন বা উদ্যোক্তা হবেন, তখন তাঁদের ধীরে ধীরে শিক্ষাঋণ পরিশোধ করতে হবে। সরকারি ঋণ বা ভর্তুকি পেতে ছাত্রদের মা–বাবা বা অভিভাবকদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে, এমনকি তা শূন্য হলেও।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুর্বল র‍্যাঙ্কিংয়ের একটি প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। দেশের দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে এটি মাত্র ৩ ও ০ শতাংশ। পক্ষান্তরে, বেশির ভাগ অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার আয় হয় এবং র‍্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। নিজস্ব অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশ থেকে ভিজিটিং অধ্যাপক ও পণ্ডিতদের আনতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণায় একাডেমিক উৎকর্ষ রয়েছে। ফলে, শিক্ষার গুণগত মানে পরিবর্তন আসবে।

টাইমস হায়ার এডুকেশন বা কিউএস র‍্যাঙ্কিং অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি জাতীয় র‌্যাঙ্কিং সিস্টেম থাকা উচিত। এতে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু অনুকূল একাডেমিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পদোন্নতি ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের মানদণ্ড, যেমন একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব, পেশাগত উন্নয়ন, মানসম্পন্ন প্রকাশনা ও গবেষণা অনুদানকে স্বচ্ছতার সঙ্গে একটি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অনুসরণ এবং সেটি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (২০১৬) একটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ‘আজকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশকারী ৬৫ শতাংশ শিশু শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতুন চাকরিতে কাজ করবে, যা এখনো বিদ্যমান নেই।’ সুতরাং শিক্ষা কোনো টিক নয়, বরং সারা জীবনের অর্জন। ভবিষ্যৎ কাজগুলো হবে এমন, যা মেশিন করতে পারে না। একই সঙ্গে সৃজনশীল প্রচেষ্টা, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, শারীরিক দক্ষতার মতো ক্ষেত্রগুলোর বিকাশ ঘটাতে হবে। মানুষ যাতে মেশিনকে হারাতে পারে। এখন আমাদের নীতিনির্ধারকদের উচিত চতুর্থ শিল্পবিপ্লব–সম্পর্কিত গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষানীতি পুনর্বিবেচনা করা, যাতে বৈশ্বিক শিক্ষার বাজারে বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

লেখা:
অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারের পরিচালক এবং
বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ও শিক্ষা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান

Source: shorturl.at/arDF5

15
'মেটাভার্স' (METAVERSE) এক স্বপ্নের দুনিয়া

গতকাল মার্ক জাকারবার্গ পৃথিবীতে একটা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন, যা একুশ শতকের একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বিশেষ করে ইন্টারনেটের একটা মাইলফলক।  জাকারবার্গের ভাষায়, "Metaverse is the Successor of Internet"। অনেকেই শুধু এটা জেনে ক্ষান্ত দিয়েছেন যে, ফেইসবুক ফেইসবুকই থাকছে শুধু 'Meta' নামে একটা নতুন কোম্পানির আবির্ভাব হয়েছে। আগে ফেইসবুক ছিলো ফাদার কোম্পানি, আর এখন Meta হবে ফাদার কোম্পানি, যার অধিনে থাকবে WhatsApp, Facebook, Instagram এর মতো অ্যাপস। এটা কোনো বিশেষ ঘটনা না, ঘটনা হচ্ছে এই Meta কোম্পানি তৈরি করতে যাচ্ছে মেটাভার্স (Metaverse) নামে এক নতুন ভার্চুয়াল দুনিয়া। আমাদের ইউনিভার্স এর একটা প্যারালাল কপি হবে মেটাভার্স। এই মেটাভার্স তৈরিতে সহযোগী হিসেবে থাকছে বিশ্বের সব বড়বড় টেক কোম্পানি। সবাই মিলে নির্মান করতে যাচ্ছে এক ভার্চুয়াল দুনিয়া। যার নেতৃত্বে থাকছে মেটা (Meta)।

মেটাভার্স এ আপনি নিজেই নিজের একটা 3D দুনিয়া তৈরি করতে পারবেন। সেখানে আপনার একটা 'ভার্চুয়াল কপি' বা 'এনিমেটেড কপি' (Avatar) বসবাস করবে। আপনি চাইলেই সেখানে আপনার বন্ধু বা আত্মীয়দের আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। আপনার প্রোফাইল পিকচারের মতোই আপনার '3D Avatar' সেখানে আপনার প্রতিনিধিত্ব করবে। মজার বিষয় হচ্ছে সেখানে আপনি  আপনার একাধিক 'ভার্চুয়াল কপি' তৈরি করতে পারবেন। যেমন গেইম খেলার জন্য একটা, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ভ্রমণের  জন্য একটা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার জন্য একটা। শুধু তাই না, সেই দুনিয়ায় আপনি পছন্দমতো যেকোনো পোশাক পরতে পারবেন, কাপড় ও আসবাবপত্র কিনতে পারবেন, আপনার ভার্চুয়াল ঘর আপনার ইচ্ছেমতো সাজাতে পারবেন। অনেকে সেখানে বিভিন্ন 3D  অবজেক্ট তৈরি করে বিক্রি করবে, আর আপনি কিনবেন।  অবশ্য আপনিও সে দুনিয়ার বিক্রেতা হতে পারবেন, যদি আপনি 3D অবজেক্ট তৈরি করতে পারেন।

মেটাভার্সে যখন আপনি বাংলাদেশে থেকে জার্মানিতে কোনো ক্লাসে  অংশ নিচ্ছেন, আর তখন যদি টিচার এসে আপনার কানটা মলে দেন, তাহলে আপনি সে ব্যথাও অনুভব করবেন! আপনি দুরবর্তী কারো সাথে যোগাযোগ করার জন্য, তাঁর সাথে চ্যাট করা, ছবি দেখা, কথা শুনার পাশাপাশি তাকে (ভার্চুয়াল কপি) ধরতে পারবেন এবং তার সাথে পাশাপাশি বসে কথা বলার ফিল পাবেন। আপনার আই কন্টাক্ট,  ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, বডি মুভমেন্ট সব হবে বাস্তব জগতের মতো, হুবহু। এজন্য আপনাকে একটা AR Glass পরতে হবে, যা দেখতে আমাদের সাধারণ চশমার মতোই।  যেখানে একটা ক্যামেরা লাগানো থাকবে, আর কাজ করবে আপনার চোখ ও হাতের মুভমেন্টকে অনুসরণ করে। আপনার আসেপাশের পরিবেশ ভালো না লাগলে, আপনি হাঁটতে হাঁটতে বা ঘরে বসেই চলে যেতে পারবেন মেটাভার্সে।

মেটাভার্সে ঘরে বসেই আপনি ঘুরে আসতে পারবেন আমেরিকায়, চড়তে পারবেন আইফেল টাওয়ারের চূড়ায়, কিংবা ধরে দেখবেন মিশরের হাজার বছরের পুরনো পিরামিড। আপনি চাইলে সেখানে বসেই সেই পিরামিড নির্মাণের ইতিহাসও দেখতে পারবেন, স্বচক্ষে। দেখবেন প্রাচীন কাপড় পরা কোনো মিশরীয় দাস টেনে নিচ্ছে এক বিরাট পাথর, মরুভূমির বালুর উপর এই টানার শব্দ, চিহ্ন এবং সেই মিশরীয় দাসের দীর্ঘশ্বাস আপনি শুনতে পারবেন, ধরে দেখতে পারবেন সেই পাথরটিও! মহাকাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে, মহাকাশেও একটা ভ্রমণ করে আসতে পারবেন। আপনি চাইলেই মেটাভার্সে একটা বাংলাদেশ তৈরি করতে পারবেন যেখানে বাংলাদেশের নদীনালা, খালবিল, পাহাড়, ঝর্ণা,  সব থাকবে। অন্যদেরকে সে দেশে হয়তো আপনি নিমন্ত্রণ দিবেন। সেখানে ভিসা, পাসপোর্ট ও ফি'র ব্যবস্থা রাখতে পারবেন। আবার কাউকে একসেস না দিয়ে, একাই থাকতে পারবেন সে দেশে। সব মিলিয়ে আপনি নিজেই তৈরি করতে পারেন আপনার স্বপ্নের দুনিয়া। বন্ধুর সাথে বসে গল্প করতে চাইলে তাকে নক দিয়ে শুধু বলবেন, 'এই আমার ঘরে আয়, জরুরি আলাপ আছে'। চাইলে আপনা ভার্চুয়াল ঘরে বসে, ভার্চুয়াল বোর্ডে আপনি দাবা বা টেবিল টেনিস খেলবেন, ভার্চুয়াল টিভি দেখবেন, গান শুনবেন। মিটিং, আড্ডা, ক্লাস, খাওয়াদাওয়া সব হবে মেটাভার্সে।

মেটাভার্সে এপনি ডাক্তারও দেখাতে পারবেন।  আশংকা করা হচ্ছে  সেখানে হয়তো পতিতা নির্মানকারী অনেক প্রতিষ্ঠানও থাকবে। হয়তো এক্সেস সবার থাকবে না। তাঁরা বলছে শিশুদের জন্য সেখানে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সিস্টেম থাকবে। সবমিলিয়ে ইন্টারনেটে যা হতে যাচ্ছে, তখন আপনি কতক্ষণ অনলাইনে ছিলেন সেটা হিসেব না করে, কতক্ষণ ছিলেন না সেটা হিসাব করবেন।

উপরে যা যা বলা হয়েছে তা আগামী বছরই হয়ে যাচ্ছে না, এজন্য Meta এক দশকের পরিকল্পনা নিয়েছে। তারা সবাই মিলে ধাপে ধাপে একটা দুনিয়া নির্মান করছে। নির্মাণ করছে সে দুনিয়ার ইতিহাস। আপনাকে এখন থেকেই সে দুনিয়া সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে, সেই সর্বগ্রাসী দুনিয়ায় আপনি কি করবেন এবং কিভাবে সেটা মোকাবিলা করবেন সেটা এখন থেকেই ভাবতে হবে। ২০২২ সাল খুব দূরে নয়, দরজায় কড়া নাড়ছে, কড়া নাড়ছে এক নতুন দুনিয়া। 

লেখকঃ Chowdhury Rahat

সূত্রঃ Internet

Pages: [1] 2 3 ... 111