Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - smsirajul

Pages: 1 [2] 3 4
16
তাপমাত্রার পারদ এখনও উর্দ্ধমুখী। মাঝে দু-এক পশলা বৃষ্টি আর কালবৈশাখীর দৌলতে ঘণ্টা খানেকের জন্য স্বস্তি মিললেও প্যাচপেচে গরমের ঠেলায় সকলেই নাজেহাল। এই গরমে সবচেয়ে আগে আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ত্বকের। ত্বকের নানা সমস্যা এই সময় মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। কালচে ছোপ, ট্যান ইত্যাদি আরও নানা সমস্যা একের পর এক বাড়তে থাকে।

গরমে বাড়তে থাকা ত্বকের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে মোক্ষম দাওয়াই হল ‌ভিটামিন-সি। এই গরমের হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতে তাই অনেকেই ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করেন। বাজারে ২০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা— বিভিন্ন দামে এই সিরাম কিনতে পাওয়া যায়। তবে বাড়িতেও এই সিরাম বানিয়ে নিতে পারেন একেবারে সামান্য খরচে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কী ভাবে বাড়িতে বানাবেন ভিটামিন-সি সিরাম...

ভিটামিন-সি সিরাম বানানোর পদ্ধতি:

২ চামচ গোলাপ জলের সঙ্গে আধা চামচ ভিটামিন-সি পাউডার মিশিয়ে নিন।

এ বার এর সঙ্গেই মিশিয়ে নিন ২ চামচ ভেজিটেবল গ্লিসারিন। এ বার এই মিশ্রণ ঘণ্টা খানেক ফ্রিজে রেখে দিন।

ঘণ্টা খানেক পর মিশ্রণটি ফ্রিজ থেকে বের করে এর সঙ্গে ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। ব্যস, ত্বকের যত্ন নিন বাড়িতে তৈরি ভিটামিন-সি সিরামে। তবে হ্যাঁ, যাঁদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল তাঁরা ভিটামিন-সি পাউডার কিছুটা কম পরিমাণে ব্যবহার করবেন।

17
আমাদের দেশে প্রাচীন কাল থেকেই পুজো-পাঠে আর খাবারের সুগন্ধ বাড়াতে কর্পূরের (ভোজ্য) ব্যবহার করা হয়। চোখ বন্ধ করেও শুধু মাত্র গন্ধেই কর্পূর চেনা যায়। তবে শুধু পুজো-পাঠ বা খাবারের সুগন্ধ বাড়াতেই নয়, বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিত্সায় যুগ যুগ ধরে কর্পূর ব্যবহার করা হয়। আজ জেনে নেওয়া যাক কর্পূরের কয়েকটি অজানা, আশ্চর্য ব্যবহার...

১) কর্পূরের ট্যাবলেট ঘরের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে দিন। কর্পূরের গন্ধে মশা ঘর ছেড়ে পালাবে।

২) ঘরের দুর্গন্ধ কাটাতে কর্পূরের ট্যাবলেট ঘরের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে দিন। দেখবেন এটি রুম ফ্রেশনারের কাজ করবে।

৩) সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে বা বুকে কফ জমে গেলে কর্পূরের সাহায্য নিতে পারেন। কর্পূরের গন্ধে বন্ধ নাক ছেড়ে যাবে। সরষের তেল বা নারিকেল তেলের সঙ্গে আন্দাজ মতো কর্পূর মিশিয়ে সামান্য গরম করে নিন। উষ্ণ অবস্থাতেই এই তেলের মিশ্রণটি বুকে, পিঠে ভাল করে মালিশ করতে পারলে দ্রুত আরাম পাওয়া যাবে।

৪) অতিরিক্ত চুল ঝরা রোধ করতে আর খুশকির সমস্যা দূর করতে কর্পূর একেবারে অব্যর্থ একটি উপাদান। নিয়মিত মাথায় মাখার তেলের সঙ্গে কর্পূরের গুঁড়ো মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারলে চুল ঝরার পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে। চুলে শ্যাম্পু করার আগে এই তেলের মিশ্রণ মাথার তালুতে আর চুলের গোড়ায় মাখতে পারলে খুশকির সমস্যাও দ্রুত কমবে।

৫) ব্রণ ও ব্রণর দাগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কর্পূর অত্যন্ত কার্যকরী! কয়েক ফোঁটা কর্পূর এসেনশিয়াল অয়েল বা কর্পূরের গুঁড়ো এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, নারকেল তেল বা আমন্ড তেলের সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক দিন কেখে দিন। এ বার ওই তেল ব্রণ আক্রান্ত ত্বকে ভাল করে মালিশ করতে পারলে ব্রণর সমস্যা দ্রুত কমবে, সেই সঙ্গে ব্রণর দাগও ফিকে হয়ে যাবে।

৬) ত্বকের চুলকানি বা র‍্যাশের সমস্যায় কর্পূর অত্যন্ত কার্যকরী। এক টুকরো ভোজ্য কর্পূর সামান্য জলের সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকের আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে, কিছু ক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের চুলকানি বা র‍্যাশের সমস্যা দ্রুত কমে যাবে। তবে খেয়াল রাখবেন, কখনওই কাটা বা ক্ষত স্থানে কর্পূর ব্যবহার করবেন না। কারণ কর্পূর রক্তের সঙ্গে মিশে গেলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন: যখন তখন হেঁচকি? বন্ধ করুন এই ১০টি অব্যর্থ উপায়ে

৭) ছারপোকা তাড়াতে কর্পূর অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। ছারপোকার সমস্যা থেকে মুক্ত পেতে প্রথমে বিছানার চাদর ধুয়ে, তোষক, ম্যাট্রেস সব দীর্ঘ ক্ষণ রোদে দিন। এর পর একটি বড় কর্পূরের টুকরো কাপড়ে মুড়ে বিছানা ও ম্যাট্রেসের মাঝে রেখে দিন। কর্পূরের গন্ধে ছারপোকারা বিছানার ধারেকাছেও ঘেঁষবে না।

৮) বাড়িতে পিঁপড়ের উপদ্রব বেড়েছে? তাহলে এই সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই পেতে বাজার চলতি ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে জলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে ঘরের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে দিন। কর্পূরের ঘন্ধে পিঁপড়ে ঘর ছেড়ে পালাবে।

18
ওজন কমিয়ে শরীরকে সুন্দর আকৃতি দেওয়ার জন্য আমরা কত কিছুই না করি! খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া, খাদ্য তালিকা থেকে একাধিক খাবার বাদ দেওয়া— আরও কত কী! এ ছাড়াও দ্রুত ওজন কমানোর একাধিক ঘরোয়া টোটকা (পাতি লেবুর রস, জিরা, রসুন ইত্যাদি) আমরা অনেকেই কাজে লাগাই। জানেন কি, মেথি বীজের সাহায্যে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব? ভেষজ মশলা হিসেবে মেথি বীজ আমাদের সবার কাছেই বেশ পরিচিত। চলুন, জেনে নেওয়া যাক মেথি বীজ ব্যবহার করে দ্রুত ওজন কমানোর ৫টি দুর্দান্ত কৌশল।

১) ভাজা মেথি: কিছুটা মেথি একটি পাত্রে নিয়ে সামান্য আঁচে তেল ছাড়াই ভেজে নিয়ে সেটিকে গুঁড়ো করে নিন। এর পর সামান্য উষ্ণ জলের সঙ্গে ওই মেথির গুঁড়ো মিশিয়ে সকালে খালি পেটে নিয়মিত খেতে পারলে ওজন দ্রুত কমবে। ফল পাবেন হাতেনাতে। এটি চটজলদি ওজন কমানোর চমৎকার একটি উপায়।

২) অঙ্কুরিত মেথিবীজ: অঙ্কুরিত মেথি বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন এ, বি, সি এবং ই। এর সঙ্গেই এর মধ্যে থাকা পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যামাইনো অ্যাসিড, জিংক, হজম সহায়ক বিভিন্ন খনিজ পদার্থ এবং আরও অনেক কিছু রয়েছে।

একটি পাতলা কাপড় জলে ভিজিয়ে নিন। এ বার একটি বাটিতে মেথি বীজ নিয়ে সেটি ওই পাতলা ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে অন্তত ৩ রাত এই ভাবে রেখে দিন। ৩ দিন পর মেথি বীজগুলি অঙ্কুরিত হলে সেগুলি খেতে পারলে ওজন কমবে দ্রুত। চটজলদি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

৩) মেথি চা: মেথি বীজের চা ওজন কমাতে এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া হজম ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের রাখার ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত কার্যকর! সামান্য জল দিয়ে কিছু মেথি বীজ বেটে নিন। একটি পাত্রে খানিকটা জল ফুটিয়ে নিয়ে তার সঙ্গে ওই মেথি পেস্ট মিশিয়ে দিন। চাইলে এর সঙ্গে কিছু ভেষজ মশলাও দেওয়া যেতে পারে। যেমন, আদা বা দারচিনি। তার পর পাত্র ঢাকনা দিয়ে ঢেকে একসঙ্গে সবকটি মশলা অন্তত ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন খালি পেটে এই চা খেতে পারলে ফল পাবেন হাতেনাতে।

৪) মেথি ভেজানো জল: মেথি ভেজানো জল খেতে পারলে তা দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। কারণ, এটি খেলে তা খাবারের পরিতৃপ্তি এনে দেয়। যার ফলে খিদে বোধ কম অনুভূত হয় এবং খাওয়ার ইচ্ছেটা কমে যায়। এর ফলে দ্রুত ওজন কমতে থাকে।

এ ছাড়াও, ১ কাপ মেথি জলে সারারাত ভিজিয়ে রাখে সেটি পরদিন জল ছেঁকে নিয়ে খালি পেটে চিবিয়ে খেতে হবে। এই ভাবে নিয়মিত খেতে পারলে ফল পাবেন হাতেনাতে। চটজলদি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

৫) মেথি ও মধু চা: শরীরের আকর্ষণীয় আকৃতি পেতে ও দ্রুত ওজন কমাতে মধুর সঙ্গে মেথি বীজ মিশিয়ে বানানো চা চমৎকার কর্যকরী। প্রথমে মেথিবীজ গুঁড়ো করে নিতে হবে। সেই মেথি গুঁড়ো জলে দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করতে হবে এবং এ ভাবে অন্তত ৩ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। তারপর সেই জলটা ছেকে নিয়ে তাতে লেবুর রস ও মধু যোগ করতে হবে। ভাল ফলাফল পেতে এই মিশ্রণটি প্রতিদিন সকালে খেতে হবে। এতে আপনার শরীরের ওজন দ্রুত কমবে।

এই পাঁচটি উপায়ে মেথি বীজ ব্যবহার চটজলদি ওজন কমানো সম্ভব। তাহলে আর দেরি না করে আজ থেকেই শুরু করে দিন।

19
যত দিন যাচ্ছে, তত বাড়ছে গরম। তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঘাম আর অস্বস্তি। ফের ভিড় বাসে-ট্রেনে যাতায়াতের সময় ঘামের দুর্গন্ধে অস্থির হয়ে ওঠার সময় এসে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঘামের দুর্গন্ধ সামাল দিতে ভরসা সুগন্ধি বডিস্প্রে। তবে গরম পড়লেই যে শুধু বডিস্প্রের প্রয়োজন পড়ে, তা কিন্তু নয়! এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ। কিন্তু সব বডিস্প্রের সুগন্ধ দীর্ঘ ক্ষণ স্থায়ি হয় না। যাঁদের অত্যাধিক ঘাম হয়, তাঁদের শরীরে কোনও বডিস্প্রের সুগন্ধই দীর্ঘস্থায়ি হয় না। তবে বডিস্প্রের সুগন্ধ দীর্ঘস্থায়ী করতে এই ৫টি কৌশল কাজে লাগিয়ে দেখুন, আর তফাৎ নিজেই বুঝে নিন...

১) বডিস্প্রের গন্ধ দীর্ঘস্থায়ি করতে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত, বগলে বডিস্প্রে ব্যবহারের পর ঘামের গন্ধে তা অল্প সময়ের মধ্যেই ফিকে হয়ে যায়। এ জন্য শরীরের যে অংশগুলি ঘামে না বা অপেক্ষাকৃত কম ঘামে যেমন, কানের পেছনে, গলায় ইত্যাদি জায়গায় বডিস্প্রে ব্যবহার করলে তার গন্ধ দীর্ঘ ক্ষণ স্থায়ী হবে।

২) বডিস্প্রের সুগন্ধি শরীরে স্প্রে করার সঙ্গে সঙ্গেই গায়ে জামা পরে ফেলবেন না। বডিস্প্রের সুগন্ধি সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়া পর্যন্ত কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করুন, তারপর জামা পরুন। এর ফলে ডিওড্রেন্টের গন্ধ দীর্ঘ ক্ষণ স্থায়ী হবে।

৩) অনেকেই বডিস্প্রে বা ডিওড্রেন্ট কাপড়ে ব্যবহার করেন এবং স্প্রে করার পরে জায়গাটি ভাল করে ঘষে নেন। এই কাজটি একেবারেই করবেন না। এতে সুগন্ধি আরও তাড়াতাড়ি ফিকে হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: জেনে নিন আন্ডারআর্মের কালচে দাগ তোলার অব্যর্থ কৌশল

৪) আপনি যে ব্র্যান্ডের বডিস্প্রে ব্যবহার করছেন, ওই একই ব্র্যান্ডের এবং একই সুগন্ধযুক্ত অন্য প্রসাধনীও ব্যবহার করুন। এতে বডিস্প্রে বা ডিওড্রেন্টের গন্ধ দিনের শেষে ফিকে হয়ে গেলেও অন্য প্রসাধনের সুগন্ধি আপনাকে সতেজ রাখবে।

৫) আপনার বডিস্প্রেটি যদি একেবারেই অল্প সময় স্থায়ী হয়, তাহলে সেটিকে সব সময় অপনার সঙ্গেই রাখুন এবং কিছু ক্ষণ পর পর ব্যবহার করুন।

20
মানসিক চাপ এমন একটা সমস্যা, যা থেকে চটজলদি রেহাই পাওয়া মুশকিল! বিভিন্ন কারণে আমরা অনেকেই দিনের বেশির ভাগ সময় মানসিক চাপের মধ্যে কাটাই যার প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরের উপরেও। উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, হজমের সমস্যা এমনকি স্নায়ুর সমস্যা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে উদ্বেগ আর মানসিক চাপ থেকে। তাই সবচেয়ে আগে আমাদের উদ্বেগ বা মানসিক চাপ দূর করা উচিৎ। উদ্বেগ বা মানসিক চাপ কি চাইলেই দূর করা যায়? নিশ্চয়ই যায়। এমন বেশ কিছু খাবার আছে, যা খেলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ নিমেষেই কেটে যেতে পারে। আসুন সেগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...

১) কাঠবাদামে রয়েছে ভিটামিন বি আর ভিটামিন ই, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করতে অত্যন্ত কার্যকর। যখন আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে, তখন আমরা মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার মতো সমস্যায় কম ভুগি। তাই প্রতিদিন অন্তত ৫-৬টা কাঠবাদাম পাতে রাখুন। উপকার পাবেন।

২) যদিও অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, তবে মানসিক চাপ কাটাতে সামান্য চিনি খেয়ে দেখতে পারেন। এতে আমাদের মস্তিষ্কের উদ্দীপ্ত পেশিগুলি শিথিল হওয়া শুরু করে এবং মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে ডায়বেটিসের আক্রান্ত যাঁরা, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি একেবারেই উচিৎ নয়।

৩) চিনির বিকল্প হিবে অনেকেই আজকাল মধু ব্যবহার করেন। মানসিক চাপ বা উদ্বেগ কমাতেও মধু খুবই উপকারী।

৪) মিষ্টি আলু খেলে আমাদের মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। তাই মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার মতো সমস্যায় মিষ্টি আলু সেদ্ধ করে খেতে পারেন। উপকার পাবেন।

৫) ডার্ক চকলেট মানুষের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি খাবার। চকলেট খেলে ‘এন্ডোরফিন’ নামের এক রকম হরমোনের নিঃসরণ ঘটে যা আমাদের মানসিক চাপ বা উদ্বেগ দ্রুত কাটাতে সাহায্য করে। তবে, সাধারণ মিল্ক চকলেট নয়, ডার্ক চকলেট খাওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।

৬) সবুজ সবজি যেমন, শসা, ব্রকলি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড আর ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এই উপাদানগুলি আমাদের মস্তিস্কে তৃপ্তির অনুভূতি সৃষ্টি করে। প্রতিদিন পাতে রাখুন সবুজ শাক-সবজি। দেখবেন মানসিক চাপের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

21
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চুল পাকবেই কিন্তু তা বলে অল্প বয়সেই চুল পেকে গেলে তা অনেকেরই অস্বস্তির কারণ হয়। বার্ধক্য এবং জিনগত কারণ ছাড়াও অতিরিক্ত স্ট্রেস এবং শরীরে পুষ্টির অভাব থেকেও চুল পেকে যেতে পারে তাড়াতাড়ি। নিয়মিত স্ট্রেস-রিলিফ এক্সারসাইজ করলে এবং প্রয়োজনমতো ভিটামিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড-সমৃদ্ধ খাবার খেলে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
জেনে নিন তেমনই ৯টি খাবারের কথা। এগুলি পাকা চুল রোধের পাশাপাশি স্ক্যাল্প ভাল রাখে এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
আখরোট : আখরোটে থাকে প্রচুর পরিমাণ কপার বা তামা। এই তামাই চুলে মেলানিন উৎপন্ন করে, যা থেকে চুল থাকে কালো।
শেলফিশ : যে কোনো সামুদ্রিক মাছ যেমন, অয়স্টার, চিংড়ি বা কাঁকড়ায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। ওমেগা-৩ চুলে পাক ধরা আটকায়।
লিভার : প্রাণীজ লিভার ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ হয়। এই ভিটামিনটি যেমন রক্তস্বল্পতা দূর করে তেমনই চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
ব্রকোলি : চুলে পাক ধরা আটকাতে শরীরে প্রয়োজন পরিমিত পরিমাণ ফোলিক অ্যাসিড। যা প্রচুর অনুপাতে পাওয়া যায় ব্রকোলিতে।
সূর্যমুখী বীজ : সূর্যমুখী বীজের তেলে ভিটামিন ই, আয়রন, জিঙ্ক এবং ভিটামিন বি৬ রয়েছে। রান্নায় তাই সানফ্লাওয়ার অয়েল ব্যবহার করা ভাল। এছাড়া এই তেল দিয়ে বাদামের পেস্ট তৈরি করে স্ক্যাল্পে লাগালেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।
ডাল : ডালেও রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি১২ এবং বি৯। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একবাটি ডাল রাখা খুবই জরুরি।
কাবলি ছোলা : কাবলি ছোলা ভিটামিন বি সমৃদ্ধ একটি খাবার। রোজ না হলেও সপ্তাহে দু'তিনদিন খেলেও উপকার হবে।

22
কখন ফল খাওয়া উচিত খাবার খাওয়ার আগে নাকি পরে? এই বিষয়ে ধন্দ দীর্ঘদিনের। তবে বেশির ভাগ চিকিত্সকই খালি পেটে ফল খেতে বারন করেন। কারণ, খালি পেটে ফল খেলে হজমের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু ভরা পেটে ফল খাওয়াও কি সম্পূর্ণ নিরাপদ?

প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ ডঃ পূজা মখীজার মতে, ভরা পেটে ফল খেলে হজমের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ, ফলেতে থাকা ফাইবার পরিপাক ক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কমিয়ে দিতে পারে হজম শক্তি। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। এ ছাড়াও, মধ্যাহ্নভোজ বা নৈশভোজে খাবারের সঙ্গে ফল খেলে গ্যাস-বুক জ্বালার মতো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে এর জন্য পেটের নানা গোলমাল হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভরা পেটে ফল খেলে তা সহজে হজম হতে চায় না। ফলে দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভার বা পেটে একটা অস্বস্তি কাজ করে। যা খাবারের প্রতি অনিহা তৈরি করতে পারে। খাবারের অনিয়মের ফলে দেখা দিতে পারে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা।

ডায়েটেশিয়ানদের পরামর্শ অনুযায়ী, লাঞ্চ বা ডিনারে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে তার পরিবর্তে ফল খেতে পারলে দ্রুত ওজন ঝরানো সম্ভব। কিন্তু ভরা পেটে ফল খেলে যদি তা স্বাস্থ্যের ক্ষতিই হবে, তাহলে ডায়েটেশিয়ানরা এমন পরামর্শ দেন কেন?

এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল, ভারী খাবার খাওয়ার পর কিছু ক্ষণ অন্তত কিছু না খাওয়াই ভাল। তাতে পরিপাক প্রক্রিয়া বাধা প্রাপ্ত হতে পারে। তাই ভারী খাবার খাওয়ার কিছু ক্ষণ পর ফল খান। উপকার পাবেন। আর খালি পেটে ফল না খাওয়াই ভাল।

23
চোখের নিচে অসংখ্য বলিরেখা, কানের কাছে পাক ধরা চুল, এ সব দেখলে কার না মন খারাপ হয়! তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং খাদ্যভ্যাস আপনার বয়সের ছাপ ভিতর থেকে প্রতিরোধ করতে পারে। এমন কিছু খাবারের কথা জেনে নিন, যে খাবারগুলি নিয়মিত খেতে পারলে বলিরেখা পড়া ঠেকিয়ে ত্বককে করে তুলবে যৌবনদীপ্ত। আসুন এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক...

১) টমেটো: টমেটোতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান লাইকোপেন যা বিভিন্ন চর্মরোগ প্রতিরোধ করতে খুবই কার্যকর। এটি ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

২) বাদাম: চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে বাদামের জুড়ি নেই। বাদাম বা বিশেষ করে আখরোটে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে যা ত্বককে মসৃণ করে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে তোলে। আখরোটে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব কম থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আপনি রাখতে পারেন যে কোনও বাদাম।

৩) অলিভ অয়েল: অলিভ অয়েল প্রতিদিন রান্নায় ব্যবহার করুন। এ ছাড়া এক চামচ অলিভ অয়েল নিয়ে প্রতিদিন দু’বার করে ত্বকে মালিশ করুন। এটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং সেই সঙ্গে যে কোনও দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

৪) ব্রকোলি: ডিটক্সিফিকেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তারুণ্যে উজ্জ্বল ত্বকের জন্য। ব্রকোলিতে প্রচুর পরিমাণে ডিটক্সিফিকেশন আছে যা দেহ থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে কোষকে সতেজ রাখে। সপ্তাহে দুই বা তিন দিন খাদ্য তালিকায় ব্রকোলি রাখুন। উপকার পাবেন।

৫) চকোলেট: প্রতিদিন ডায়েটে চকোলেট, কোকো বা ওই জাতীয় কিছু খেতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো অসুখ থেকে নিজেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে চকোলেট। আর ত্বকের বলিরেখা রুখতে চকোলেট ফেশিয়ালের কথা তো অনেকেই শুনেছেন।

৬) ডালিম: দিনটা শুরু করুন এক গ্লাস ডালিমের রস খেয়ে। এটি আপনার ত্বকে বলিরেখা পড়া রোধ করবে। ডালিমে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা ত্বকের নমনীয়তা বজায় রেখে তাকে টানটান রাখতে সাহায্য করে।

৭) পালং শাক: পালং শাকে রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়েম, ভিটামিন এবং মিনারেল। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেণ্ট পাওয়া যায় যা দেহের ফ্রি র‍্যাডিকেল ধ্বংস করে দেয় এবং ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।

৮) হলুদ: হলুদে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লামমেটরী উপাদান যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আর তার সঙ্গে সঙ্গে বয়সের ছাপ পড়া রোধে বিশেষ সাহায্য করে।

24
বেশির ভাগ মানুষই সবচেয়ে বেশি সচেতন নিজের মুখ নিয়ে। মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারলেই বয়স যেন থমকে যাবে আপনার কাছে! মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত মুখের ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সুন্দর মুখের প্রাথমিক শর্ত হল নিখুঁত, উজ্জ্বল ত্বক। আর এই নিখুঁত, উজ্জ্বল ত্বক পেতে আমরা বাজারে উপলব্ধ নানা রকম প্রসাধনী পণ্য ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এই সব প্রসাধনী পণ্যে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তা কি কখনও খতিয়ে দেখি?
একাধিক পরীক্ষায় প্রমানিত হয়েছে বাজার চলতি বেশির ভাগ প্রসাধনী পণ্যেই কৃত্রিম রং ও গন্ধ ব্যবহার করা হয়। আমাদের মুখের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই মুখের ত্বকে এই সব ক্ষতিকর রাসায়নিক যুক্ত কৃত্রিম রং ও গন্ধ যুক্ত প্রসাধনীর ব্যবহার মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। ত্বক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ কিরণ লোহিয়া শেঠি তাঁর ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, কোনও প্রসাধনী পণ্য কেনার আগে তাতে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তা ভাল করে দেখে নেওয়া বা পরীক্ষা করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ডঃ কিরণের মতে, কৃত্রিম সুবাস রয়েছে, এমন প্রসাধনী পণ্যই ক্রেতাকে বেশি আকৃষ্ট করে। তাই এই পণ্যগুলির চাহিদাও বেশি থাকে। কিন্তু কৃত্রিম সুবাস যুক্ত এই পণ্যগুলিতে এমন অনেক রাসায়নিক মেশানো থাকে যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
ডঃ কিরণ আরও জানান, কৃত্রিম রং মেশানো রয়েছে এমন প্রসাধনী পণ্যও ব্যবহার করাও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কৃত্রিম রঙের জন্য ব্যবহৃত একাধিক ক্ষতিকারক উপাদানের প্রভাবে ত্বকে অ্যালার্জি, জ্বালা বা র‌্যাশ সৃষ্টি করতে পারে।
ডঃ কিরণের মতে, প্যারাবেন, থ্যালেট, ফর্মালডিহাইড রয়েছে এমন প্রসাধনী পণ্য না ব্যবহার করাই ভাল। তিনি জানান, বাজারে উপলব্ধ বেশির ভাগ শ্যাম্পু, ময়েশ্চারাইজার, ডিওডোরেন্টে এই ক্ষতিকর উপাদানগুলি ব্যবহার করা হয়। এই সব রাসায়নিক যুক্ত প্রসাধনী পণ্য এড়িয়ে চলাই ভাল।

25
বেশির ভাগ মানুষই সবচেয়ে বেশি সচেতন নিজের মুখ নিয়ে। মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত মুখের ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া। আর মুখের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হল ব্ল্যাকহেডস। আমাদের অনেকেরই নাকে ও মুখে ব্ল্যাকহেডস ওঠে। আর এই ব্ল্যাকহেডস নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই! পার্লারে গিয়ে স্ক্র্যাবিং, ফেসিয়াল, ক্লিনিং— কত কী না করি আমরা! তার পরেও সমস্যা কিন্তু থেকেই যায়। ব্ল্যাকহেডস-এর এই সমস্যা পুরোপুরি দূর করতে আজ জেনে নিন আলুর ব্যবহার। অবাক হচ্ছেন! ত্বকের পরিচর্যায় আলু অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। বিশেষ করে ব্ল্যাকহেডস-এর সমস্যায় এটির কার্যকারীতা অবিশ্বাস্য!
উপকরণ:
১টি মাঝারি মাপের আলু,
১ চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার,
পর্যাপ্ত পরিমাণ জল।
পদ্ধতি:
১) একটি মাঝারি মাপের আলু ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন।

২) এ বার আলুর টুকরোগুলো অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের সঙ্গে মিশিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করুন বা মিহি করে বেটে নিন।

৩) আলু আর অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণটি সামান্য জল দিয়ে পাতলা করে নিন।

৪) এ বার এই মিশ্রণটি একটি আইস ট্রেতে ঢেলে ডিপ ফ্রিজে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে দিন।

৫) ক্লিনজার বা সামান্য উষ্ণ জল দিয়ে মুখ ভাল করে পরিষ্কার করে নিন।

৬) এ বার বরফ হয়ে যাওয়া আলু আর অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণের টুকরো নিয়ে ত্বকের উপর (বিশেষ করে ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত স্থানে) মালিশ করুন।

৭) দিনে ২-৩ বার এই পদ্ধতিতে আলু আর অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণটি দিয়ে ত্বকের ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত স্থানে মালিশ করতে পারলে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

26
হলুদ শুধুমাত্র রান্নার স্বাদ বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয় না। হলুদের অনেক গুণাগুণ। যুগ যুগ ধরে তাই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে হলুদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইদানীং অনেক রোগে চিকিৎসকরা পথ্য হিসেবে হলুদ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আলসারেটিভ কোলাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, সোরিয়াসিস, পারকিনসনস, ডিমেনশিয়া, আলঝেইমার্স ডিজিজ এমনকি ক্যান্সার নিরাময়ের ক্ষেত্রেও হলুদ খুবই কার্যকরী বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ৪০০-৬০০ মিলিগ্রাম হলুদ খাওয়া যেতে পারে। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে হলুদ বেশ উপকারী। এ বার জেনে নেওয়া যাক হলুদের নানা উপকারী দিক...

১) ফাটা ঠোঁটের পরিচর্যাতেও হলুদ খুবই উপকারী। একটি পাত্রে ১ চামচ চিনি, ১ চামচ হলুদ আর ১ চামচ মধু মেশান। এ বার মিশ্রণটি ঠোঁটে মেখে ৫ মিনিট রেখে তার পর ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি নিয়মিত ব্যবহারে দ্রুত উপকার পাবেন।

২) হলদেটে দাঁত ঝকঝকে সাদা করতে হলুদ বেশ কার্যকরী একটি উপাদান। দাঁত ব্রাশ করার সময় পেস্টের সঙ্গে সামান্য হলুদ গুঁড়ো দিয়ে নিন। এই ভাবে নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের হলদেটে ভাব কেটে যাবে।

৩) তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিতে হলুদের ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি পাত্রে ২ চামচ চন্দনের গুঁড়ো, ২ চামচ লেবুর রস আর সামান্য হলুদের গুঁড়ো ভাল করে মেশান। এ বার মিশ্রণটি মুখে মেখে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে তার পর ধুয়ে ফেলুন। এই ফেস প্যাক ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দ্রত কমিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৪) মলিন ত্বকের সমস্যায় ও চোখের নিচের কালচে ভাব দূর করতে হলুদ খুবই উপকারী। একটি পাত্রে ২ চামচ টক দই, ১ চামচ হলুদ গুঁড়ো, ১ চামচ ময়দা, ১ চামচ মধু ভাল করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি গোটা মুখে ভাল করে মেখে অন্তত ২০ মিনিট রেখে তার পর ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিতে হলুদের ব্যহহার ত্বকের মলিনতা ও চোখের নিচের কালচে ভাব দূর করতে সাহায্য করবে।

৫) মুখের বা ত্বকের কালচে দাগ দূর করতে হলুদ খুবই উপকারী। একটি পাত্রে এক কাপ দুধ নিয়ে তার মধ্যে ১ চামচ হলুদ গুঁড়ো ও ১ চামচ নুন মেশান। এ বার মিশ্রণটি ত্বকের কালচে দাগের ওপর লাগিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট রেখে দিন। তার পর মুখ ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।

27
আমরা অনেকেই মনে করি, ঘি খেলেই বুঝি বেড়ে যাবে ওজন! ঘি খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে, এ ধারণা ভুল নয়। তবে একাধিক গবেষণায় এটা প্রমানিত হয়েছে যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘি, সঠিক পদ্ধতি মেনে নিয়মিত খেতে পারলে ওজন বাড়বে না, বরং কমবে। এ ছাড়াও ঘি-এর একাধিক উপকারিতা রয়েছে। আসুন সেগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...

মস্তিষ্কের সচলতা বজায় রাখতে প্রয়োজন উপকারি ফ্যাটের। ঘি-এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যাসেনশিয়াল ফ্যাট, যা মস্তিষ্কের কোষের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। স্মৃতিশক্তির বৃদ্ধিতেও ঘি বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

খালি পেটে ঘি খেতে পারলে শরীরে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এই ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। ফলে হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

ঘি-এ রয়েছে কে ২ এবং সিএলএ নামক দুটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এই দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানগুলিকে শরীর থেকে বের করে দিয়ে ক্যান্সারের আশঙ্কাও কমিয়ে দেয়।
খালি পেটে নিয়মিত ঘি খেতে পারলে শরীরে বিশেষ কিছু উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে যা অস্থিসন্ধির সচলতা বাড়িয়ে তোলে এবং একই সঙ্গে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতেও সাহায্য করে। ফলে হাড়ের যে কোনও রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

প্রতিদিন খালি পেটে ঘি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ত্বকের কোলাজেনের উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে সুন্দর ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘি-এ থাকা ‘মিডিয়াম চেন ফ্যাটি অ্যাসিড’ শরীরে জমে থাকা ফ্যাট সেল গলাতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন ২ চামচ ঘি খালি পেটে খেতে পারলে শরীরে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। ২-৩ চামচ ঘি ভাত বা রুটির সঙ্গে খেতে পারলে বাড়বে হজম ক্ষমতা। একই সঙ্গে পরিপাকতন্ত্রকে চর্বিমুক্ত করার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাকেও নির্মূল করতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও অ্যালার্জি প্রতিরোধে, সর্দি-কাশির কষ্ট কমাতে ঘি অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান।

28
নিম একটি ঔষধিগুণ সম্পন্ন, বহু বর্ষজীবি, চির হরিত বৃক্ষ। এ গাছের পাতা, ডাল— সবই কাজে লাগে। নিমের কাঠ অত্যন্ত শক্ত। উইপোকা বাসা বাঁধে না। ফলে নিম কাঠে কখনও ঘুণ ধরে না। নিম গাছে শুধু উইপোকা নয়, কোনও পোকাই বাসা বাঁধে না। তাই নিম কাঠ দিয়ে আসবাবপত্রও তৈরি করা হয়। আসুন এ বার নিমের ১০টি আশ্চর্য ঔষধিগুণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...

১) নিম তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্য খুবই উপকারী।

২) নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস বিরোধী। তাই ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের আক্রমণের হাত থেকে ত্বকের সুরক্ষায় নিমপাতা অত্যন্ত কার্যকরী। ব্রণর সমস্যায় নিমপাতা বেটে লাগাতে পারলে ভাল ফল মেলে।

৩) নিয়মিত নিমপাতার সঙ্গে কাঁচা হলুদ ভাল করে বেটে লাগালে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি পায়। তবে হলুদ ব্যবহার করার পর রোদ এড়িয়ে চলাই ভাল। খেয়াল রাখতে হবে, মিশ্রণে নিমপাতার চেয়ে হলুদের পরিমাণ যেন কম হবে।

৪) নিমের ডাল দাঁতের জন্য খুবই উপকারী। মুখের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ফাঁকে জীবাণুর সংক্রমণ রোধে নিম বেশ কার্যকরী।

৫) কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে ক্ষত স্থানে নিম পাতার রস ভেষজ ওষুধের মতো কাজ করে।

৬) নিম পাতা রোদে শুকিয়ে ভাল করে গুঁড়ো করে রেখে দিতে পারলে পরবর্তীকালে তা ফেস প্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭) মাথার ত্বকের চুলকানির সমস্যায় নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগাতে পারলে এই চুলকানির সমস্যা কমে যায়। তাছাড়া নিমপাতার রসে চুলের গোড়া শক্ত হয়, চুলের শুষ্কতা বা রুক্ষ ভাব কমে যায় এবং নতুন চুল গজাতে শুরু করে।

৮) শুধুমাত্র চুলের নয় ত্বকের যে কোনও চুলকানির সমস্যায় নিমপাতা বেটে লাগাতে পারলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

৯) গায়ের দুর্গন্ধ বা ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী একটি উপাদান।

১০) নিয়মিত সামান্য পরিমাণে নিমপাতা খেতে পারলে কোষ্ঠকাঠিন্য-সহ নানা লিভারের সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই সঙ্গে রক্ত পরিশুদ্ধ করতে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত, ক্ষতিকর উপাদান বের করে শরীর সুস্থ-সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে নিমপাতার রস খুবই কার্যকরী।

29
ডায়েট করতে গিয়ে আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা থেকে এই জাতীয় খাবার বাদ দিলে আপনার অজান্তেই বাড়তে পারে অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা।
ছিপছিপে সুস্থ শরীরের জন্য ডায়েট করছেন? কিন্তু ডায়েট করতে গিয়ে আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে দেননি তো? যদি বাদ দিয়ে থাকেন, তাহলেই বিপদ! আপনার অজান্তেই একটু একটু করে কমে যাচ্ছে আপনার আয়ু। শরীরে বাসা বাঁধতে পারে অনেক জটিল রোগ যা হয়তো আপনার অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিতে পারে অনেকটাই।
সাধারণত ডায়েটিশিয়ান, নিউট্রিশনিস্ট বা পুষ্টিবিদদের মতে, ছিপছিপে সুস্থ শরীরের জন্য কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার অর্থাৎ ভাত, রুটি, আলু জাতীয় খাবার কমই খেতে বলেন। কিন্তু সেটারও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। স্লিম হওয়ার চেষ্টায় ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ আসলে আমাদের শরীরের ক্ষতিই করে বেশি। এক ধাক্কায় কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়া কমিয়ে দেওয়ার ফলে শরীরে কার্বোহাইড্রেটের ঘাটতি দেখা যায়। পাশপাশি দেখা দেয় অপুষ্টি জনিত নানা সমস্যা।
হার্ভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ-এর একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, প্রতিদিন অন্তত ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়া শরীরের পক্ষে জরুরি। এই পরিমাণ ৪০ শতাংশের কম বা ৭০ শতাংশের বেশি হয়ে গেলেই তা বিপজ্জনক হতে পারে। বাড়তে পারে অকাল মৃত্যুর আশঙ্কাও। ১৫,৫২৮ জনের উপর সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যাঁরা ‘লো কার্বোহাইড্রেট’ খাবার খান তাঁদের মধ্যে অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়া মানুষদের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। এই গবেষণা রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, এই ১৫,৫২৮ জনের মধ্যে ৬২৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে শরীরে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেটের অভাবেই। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট খাওয়া যেমন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তেমনই খুব অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট খেলেও আপনার ক্ষতি হতে পারে। এমনকি হতে পারে অকাল মৃত্যুরও। তাই চিকিৎসকরাও সব সময়েই ব্যালান্সড ডায়েট করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

30
সকাল থেকে শুরু করে রাত— খাওয়াদাওয়ার যে নানা সময় বিভাজন আছে, তাতেই লুকিয়ে থাকে সুস্থ থাকার মন্ত্র। চিকিৎসকদের মতে, কেবল সময়ে খাওয়াই নয়, কখন কী খাচ্ছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।আজ, ২৪ অক্টোবর জাতীয় খাদ্য দিবসে আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন করলেন পুষ্টিবিদ সুমেধা সিংহ। আনন্দবাজার ডিজিটালকে জানালেন স্বাস্থ্যকর ডায়াটের সুলুকসন্ধান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস হওয়া উচিত ‘পিরামিড সিস্টেম’ অনুসারে। অর্থাৎ প্রাতরাশ হবে সবচেয়ে ভারী। তার পর সময় অনুযায়ী কমবে খাওয়ার পরিমাণও। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রা ও পেশার তাগিদে আমরা এই নিয়ম মেনে চলতে পারি না। বরং কাজের রুটিনের চাপে পড়ে আমাদের খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসও বদলাতে থাকে। সুমেধা জানালেন এমন কিছু টিপ্‌স যা মেনে চললে আধুনিক জীবনের চাপেও এক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন আপনিও। তবে ডায়াবিটিস বা অন্য কোনও ক্রনিক অসুখ থাকলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ডায়েট চার্ট তৈরি করা ভাল।
প্রথমেই মনে রাখুন, প্রতি চার ঘণ্টা অন্তর কিছু না কিছু খেতেই হবে। সকালেই খান পেট ভরার মতো খাবার। তা বলে খুব তেল-মশলাদার একেবারেই নয়। অনেকেই সকালের খাবারে আস্থা রাখেন ওমলেট, স্যান্ডউইচ, বা বাটার টোস্ট, গ্রিন টি জাতীয় খাবারের উপর। মূলত ‘ইংলিশ ব্রেকফাস্ট’ ধারণাকেই আমরা গ্রহণ করতে চাই এ ক্ষেত্রে। কিন্তু মনে রাখবেন, তবে সেখানকার জলবায়ু, মানুষের হজমের ক্ষমতা, খাবারের মান এ সব আমাদের দেশের চেয়ে আলাদা। তাই ‘যস্মিন দেশে যদাচার’-কেই গুরুত্ব দিন এখানে।
প্রাতরাশে বরং কাছে টেনে নিন কর্নফ্লেক্স, মুসলি, ওটস বা ছাতুর শরবতকে। যাঁদের সকালেই অফিস থাকে, তাঁরা পেট ভরে ভাত খেয়ে বেরোন। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। ভাত খেয়ে অফিসে গেলে কোনও অসুবিধা নেই। বরং প্রথম খাবারে পেট ভরে শর্করা নিলে তা সারা দিনের কাজে সাহায্য করবে। সারা দিন ধরে শরীরে মেটাবলিজম চলতে থাকায় ভাতের জন্য জমা ফ্যাটও খুব ক্ষতি করবে না। যাঁদের ডায়াবিটিস আছে, তাঁরা ভাত-রুটি মিলিয়ে খান। মনে রাখবেন, দু’টি খাবারেই সমান ফ্যাট থাকে। রুটির গ্লাইকোজেন তাড়াতাড়ি গলে, তাই ওবেসিটি রুখতে এটিকে ভাতের চেয়ে বেশি এগিয়ে রাখা হয়।
দুপুরের ভাতে রাখুন হালকা সব্জি, এক টুকরো মাছ বা দু’টুকরো চিকেন। মনে রাখবেন, সব্জি কিন্তু আবশ্যক। প্রয়োজনে ভাত-রুটির পরিমাণ কমিয়ে ডাল-সব্জি রাখুন বেশি করে। তবে পরিমাণে ব্রেকফাস্টের চেয়ে বেশি নয়।
যাঁরা সকালেই ভাত খান, তাঁরা দুপুরে আর ভাত খাবেন না। বরং ভাত খাওয়ার তিন-চার ঘণ্টা পরে একটা গোটা ফল খান। ফলের রস নয়, গোটা ফল। তার কিছু পরে, দুপুরে খান হালকা কোনও খাবার। সেটা একটি রুটি, টক দই, হালকা তেলে নেড়ে নেওয়া অমলেট। সব্জি বা স্টু-ও রাখতে পারেন মেনুতে।
বিকেলের টিফিনে আমাদের সহজ প্রবণতা আছে তেলেভাজা, নানা রকম স্ন্যাক্স বা লুচি-পরোটার শরণ নেওয়ার। রোজ এমন অভ্যাস করে ফেললে কিন্তু মুশকিল। সপ্তাহে এক দিন বরং পরিমাণ বুঝে অল্পস্বল্প খান এ সব। তবে বাকি দিনগুলো মুড়ি-শসা, ভুট্টাসিদ্ধ মাখা, ছানা, দু’-একটা ব্রাউন ব্রেড টোস্ট, মটরসিদ্ধ  এ সব খাবার খান। অনেক সব্জি দিয়ে মুখরোচক করে বানিয়ে নিন মুড়ি বা মটরসিদ্ধ। সবচেয়ে ভাল যদি অনেকটা সব্জির স্যালাড খেতে পারেন। স্যালাডে যোগ করুন চিকেনও।
রাতের খাবারে খুব হালকা খান। মনে রাখবেন, এটিই পিরামিডের শেষ স্তর। অর্থাৎ সবচেয়ে হালকা খাবার পালা এখনই। রাতে অনেকেই খাবার না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে সেটা করবেন না। বরং একটা ডিম সেদ্ধ, দুধ সইলে এক কাপ দুধ, সঙ্গে লো ফ্যাট বিস্কুট। দুধ না খেলে স্যুপে আস্থা রাখুন। রাতে হালকা খান। ঘুমোনোর আগে দু’-এক টুকরো ডার্ক চকোলেট ও কাঠবাদাম খান। ডায়াবিটিস না থাকলে একটা মিষ্টিও খান, হজমে সাহায্য করবে। কিছু ডায়াবিটিস রোগীরও দিনে একটা মিষ্টি খাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকে না। তবে ডায়াবিটিস থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবে মিষ্টি খাবেন। মোটকথা, প্রতি বার খাওয়ার সময় লক্ষ রাখবেন যেন ক্যালোরির পরিমাণ শরীরের চাহিদা অনুযায়ী থাকে।
তা বলে কি রেস্তরাঁয় খাওয়া, টুকটাক মাটন একেবারেই বাদ? তা কেন? মাটন খান, চলবে ভাজাভুজিও। তবে তা বুঝে। যেমন, মাটন কিনলে কিনুন চর্বি বাদ দিয়ে লিন কাট। তবে সপ্তাহে এক দিন না খেয়ে তা খান পনেরো দিনে এক বার। তিন-চার টুকরোর বেশি নয়। রেস্তরাঁয় খান পনেরো দিনে এক বার। হালকা মশলায় বানাতে বলুন খাবার।
তবে মনে রাখবেন, যাই-ই খান না কেন, জল খান শরীরের চাহিদা মতো। চা-কফির নেশা পারলে ছাড়ুন। আর মদ? ও নেশায় দাঁড়ি না টানতে পারলে কিন্তু এক সময় শরীর জানান দেবেই। একান্ত ছাড়তে না পারলে সপ্তাহে এক-দু’ পেগের বেশি খাবেন না। তবে যে কোনও অবস্থাতেই সিগারেট ছাড়ুন দ্রুত।
সুস্থ খাদ্যাভ্যাসেই লুকিয়ে থাকে দীর্ঘ, নীরোগ জীবনের বীজ। জাতীয় খাদ্য দিবসে তাই ডায়েট বদলে সুস্থতা আনুন জীবনে।

Pages: 1 [2] 3 4