Recent Posts

Pages: [1] 2 3 ... 10
1
Common Forum / চির সনাতন
« Last post by Mohammad Nazrul Islam on October 22, 2021, 02:56:06 PM »

বাজিছে ব্রহ্মশির, পশুপত, বাসবী, তোমর ধ্বণি
উচ্চ স্বরে, বীর-বারুন, শকুনী-তরুনের গর্জনী।

অন্যায়-এ, শানিত ত্রিশূলের ধার-
খর্ব করিব, নিলাম দেবতার বর ।

সেনাপতি অর্জুন দম্ভ করি ; হাকিল সৈন্য দল,
প্রজ্ঞা লহ; বীনাপানির স্বরণে-
আদেশ লহ শিরে, তব ভগবান রামে,
সীতা উদ্ধারে, ধীক রাবনের হীন কামে।

ভগবান রাম স্থীর, স্তদ্ধ; তব প্রাণ-বিষন্ন পত্নী শোকে-
কি করে রাখিবে আজ তব সত্যের মান ।

অর্ন্তযামি দিব্য দৃষ্টিতে দেখিলেন-মহাভারতরণ
সত্যের বিজয়ে আজ হনুমানের সাহায্য প্রয়োজন ।

সভাসদ নারাজ, বনের পশু- ক্ষুদ্র-অতি নগন্য,
তার কি প্রয়োজন? থাকতে মহাবীর-বরেণ্য ।

চলিল, সৈন্যদল আগে-পিছে লয়ে মহারথীবল
লংকার শুচি, রাবন-মস্তক ছাড়িল বিষাদ-বারি/জল।

সৈণ্যদল দেখে, অসীম জল রাশি চৌ-দিকে ঘেরা
সতী মাতা সীতাসাধবী বন্দি তব দুর্যর্ধন দ্বারা।।

নাই কূল-পথ-পার, আর কি উপায় ?
উঠিল ক্রন্দন সৈণ্যদলে ভিতরে হায় হায়!!
বড়-ধড়, বড় বাহু; অসস্থি দরবার-
সকলেই বিফল, বিষন্ন উপায় নাই আর!

পিছন হতে সহসা হনুমান করিল রাম-ধ্বনি
মিলল স্বদলে বানর, অরণ্যে হতে লতাপাতা আনি-
ফেলিছে সিন্ধুসম জলে!! নিমিষেই হইল রাস্তা-

চলিল, সৈণ্যদল বীরর্দপে করিতে লংকাজয়
দেখিল, সীতাবন্দি দ্বি-তলায়, চৌ-দিক অগ্নিময় ।

কেউ না পারে যেতে হেথা, হয়ে অগ্নি-পার
সকলেরই চিৎকার বানরের বড়ই দরকার ।

জীবন বাজি রেখে হনুর দল-
সীতাকে উদ্ধার করিল হইতে দ্বি-তল’
হইল জয়-জয়কার:  অশুভ বারন পরাজিত;
বীর সেনাপতিরা পুরস্কার নিতে রাজগীরে আগত ।

সকলেই পাইল মনি-মানিক্য আর গজ-মতিহার
সীতা উদ্ধারে হনুমানের রয়েছে কি পাইবার-??

রাজ সভায় উঠিল সহসা ধ্বনি!!
অংগুলি নির্দেশে ভগবান বলিলে-সীতা গুণমনি।

তৎক্ষণিক মাতা সীতা নিজ গলার হার
ছুড়িয়া ফেলিলেন বানরের গলে তার ।

হনুর দল পাইয়া বীরের পুরস্কার-
শুকিয়া-চিবাইয়া ছিড়িয়া ফেলিল সকলই তার ।

সভাসদ দলে হাসে সকলে, এর কি প্রয়োজন!!
বানরের গলে- কেন মুক্তার আয়োজন??

হনুমান ছড়িয়া চোখে পানি বলিল- বীনাপানি
বলিতে চাহি আজ কিছু, খুলে দাও জবান খানি ।

ভগবানের বড় কৃপা; সহসা খুলিল জবান-
বলিল হনু,-অমূল্য রত্নে আমার নাই প্রয়োজন?

আমি ভালবাসি মোর আদি পিতা-
জপি তব- রাম, রাম -ভালবাসার প্রয়োজনেই
-বাচাঁয়াছি মাতা সীতার প্রাণ ।

আমি অতি ক্ষুদ্র-নগন্য জানি-তব মোর ভালবাসা,
অতল অসীম -সিন্ধু সম দামি ।

বলিল সভাসদ দল-পরীক্ষা দিতে হবে ?
ভালবাসার অতল-অসীমতা-
যাতে রয়েছে পূর্ণ-ভক্তি, ব্রতা ।

হনু দেখাতে সে প্রেম-ভক্তি, ভালবাসা
নিজের পাজঁর ফারিয়া দেখাইল সেথা
-ভগবান রামের ছবি আকাঁ।

সভাসদ দলে, যত ছিল গুণি, মানি -
জয়ধ্বনি উঠিল- ভালবাসা-ই দামি ।

কাল জয়ী সেই ভালবাসা-জন্ম-জয়ন্তে ঘেরা
পবন-নন্দন হলেন, সনাতনের সেরা।











2
Smartphone Application / Butterfly Nail Art Designs
« Last post by ismail-324 on October 22, 2021, 09:16:47 AM »
Design your own nail art instantly! The best Nail art design in 2021. Recently updated nails images a large collection of Nail Art. Nail art designs and nail books for you! Gel nail and manicure images every day! Apply the best nail polish from your makeup kit to enjoy nail art, salon girl. Enjoy nail art fashion salon for girls with beautiful manicure designs. Our app contains some designs are:-
◆ Cute valentines nails
◆ Halloween nails
◆ Nail art studio
◆ No polish
◆ Nail artist near me
◆ Nail art salon
◆ Aesthetic nail ideas
◆ Sharpie marble nails
◆ Aqua nail ideas
◆ Space nails
◆ Cute gel nail ideas
◆ Accent nail ideas
◆ Johns's nail
◆ Polished nails
◆ Lily nails art
◆ Easter french tip nail designs
◆ Men's painted nails
◆ Christmas nail ideas are easy
◆ Polish pops
◆ Nail art valentines day design
◆ Cute blue nail ideas
◆ Snowflake nail art designs
◆ Painted toenails
◆ Easy nail ideas
◆ Easter nail designs
◆ Summer pedicure
◆ Male nails designs
◆ Christmas tree nail
◆ Gel nail polish
◆ Red nails
◆ Essie nail polish
◆ Nail colors
◆ Christmas nail designs
◆ OPI gel nail polish
◆ Summer nail ideas
◆ Spring nail designs
◆ Blue nail ideas
◆ Butterfly nail

This app contains some categories:-
1. Round-Shaped Nails
2. Square-Shaped Nails
3. Rounded Square-Shaped Nails
4. Oval-Shaped Nails
5. Squoval-Shaped Nails
6. Coffin or Ballerina-Shaped Nails
7. Almond-Shaped Nails
8. Stiletto-Shaped Nails
9. Lipstick-Shaped Nails
10. Indie Nails
11. Velvet Nails
12. Abstract Organic Shapes
13. Unique French Manicures
14. Shades of Pink
15. Light Blues
16. Natural Nails
17. Bold Designs
18. Flare Nails
19. Mountain Peak Nails

You can download our nail image for your designs. New Nails Art 2021 19 Best Nails Art Ideas & Designs 2021. A large variety of beautiful nail designs.

 8)Google Play Store Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.americabangla.nailpolish
 
More Apps:
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.americabangla.alhadith.hundredhadith
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.americabangla.islamicapp.doyaandamol
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.americabanglaemicalculator
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.americabangla.femalefitness.workout
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.americabanglawaz.banglawaz
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.americabanglavpn.iprovpn.vpn
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.americabanglacatvideos.funnycatsvideo
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.americabanglababy.babylfunnyvideos
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.americabangla.viralfunnyvideos
3
Common Forum/Request/Suggestions / চোরাবালি
« Last post by ashraful.diss on October 21, 2021, 01:36:59 PM »
চোরাবালি

জীবন সুখদুঃখের পালাবদলের গল্প। জীবনে কখনো কখনো আমাদের যেতে হয় কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে।কোন না কোন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় আমাদের সবার পরীক্ষা পার হয়ে যাবার পর হিসেবে মিলাতে গেলে দেখা এসব সময়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার হক্বগুলো আমরা আদায় করিনি। নাফরমানী করেছি। তখন আমাদের অনুশোচনা হয়। সত্যিকারের তাওবাহ এবং নেক আমলের জন্য বান্দাকে উদবুদ্ধ করার জন্য এই অনুশোচনার অনুভূতি থাকা জরুরী।
 
তবে অনুশোচনার এ অনুভুতি হতে হবে সাময়িক। যাতে আমরা ভুলগুলো শুধরে নিতে পারি। অনুশোচনার অনুভূতির পাশাপাশি অন্তরে এ আশাও থাকতে হবে যে আল্লাহ্‌ আমাদের তাওবাহ কবুল করে নেবেন, আমাদের ভুলগুলো ক্ষমা করে দেবেন এবং আমাদের পরিবর্তনের জন্য সুযোগ দেবেন। আমরা আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা রাখবো।
 
কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্য রকম হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহর ব্যাপার সুধারণা রাখা এবং আশাবাদী হবার বদলে অনেকে আটকা পড়ে যায় অনুশোচনা আর হতাশার এক চক্রে। বারবার ঘুরেফিরে রোমন্থন করে নিজের ভুলগুলো, দোষারোপ করে নিজেকে, ঘৃণা করে। অন্তর হয়ে পড়ে যন্ত্রনাগ্রস্থ, অসুস্থ, কলুষিত।
 
এক সময় সে বিশ্বাস করতে শুরু করে এই পরীক্ষা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নির্মম শাস্তি। এর উদ্দেশ্য হল তাকে ধ্বংস করে দেয়া। সে মনে করতে শুরু করে যে আল্লাহ্‌ আযযা ওয়া জাল তাকে ঘৃণা করেন এবং তার ওপর রাগ হয়ে এ শাস্তি চাপিয়ে দিয়েছেন। যেহেতু সে আগে অনেকবার সুযোগ পেয়ে, তাওবাহ করে আবার গুনাহে ফেরত গেছে, তাই আল্লাহ্‌ তাকে আর কোন সুযোগ দেবেন না।
 
তারপর, ধীরে ধীরে তার অন্তরে শেকড় গাড়ে আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষের অনুভূতি। সে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তার জন্য তাওবাহর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। তার দুআর কোন উত্তর আর আসবে না। দুনিয়াতে যতোদিন আছে, এ হতভাগ্য, অভিশপ্ত অবস্থাতেই তাকে থাকতে হবে।
 
সাবধান! এটা শয়তানের চক্রান্ত। এটা তার সবচেয়ে ভয়ংকর চক্রান্তগুলোর একটি। সে প্রথমে মানুষকে বিশ্বাস করায় যে ক্রমাগত নিজেকে দোষারোপ করে যাওয়াই হল সংশোধনের উপায়। কিন্তু এর মাধ্যমে সে আসলে মানুষকে আটকে ফেলে হতাশা, অনুশোচনা আর আত্মঘৃণার চক্রে। সে মানুষকে দিয়ে সীমালঙ্ঘন করায় যা তাকে নিয়ে যায় বিপদজনক এক পথে। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে আল্লাহর ফায়সালা নিষ্ঠুর। আর ঠিক সেই মুহূর্তে তার অন্তরে তৈরি হয় প্রচন্ড ভয় আর হতাশা।
 
যখন কোন দরজা, কোন রাস্তা খোলা থাকে না, যখন যাবার কোন জায়গা থাকে না, তখনো আল্লাহ্‌ থাকেন। তাঁর দরজা সবসময় তার বান্দাদের জন্য খোলা। প্রশান্তি ও নিরাপত্তা পাওয়া যায় তাঁরই কাছে। তিনিই আশ্রয়হীনের আশ্রয়, দুর্বলের সহায়। যতোক্ষন আল্লাহর ব্যাপারে বান্দা এই বিশ্বাস রাখে, এই আশা রাখে ততোক্ষন সে তাওবাহর কথা চিন্তা করে।
 
কিন্তু শয়তান আল্লাহর রাহমাহর ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করে হতাশা। সে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তাকে বোঝায় যে এ পরীক্ষা হল আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি। তাঁর ক্রোধ ও ঘৃণার ফল। শয়তান মানুষকে বোঝায় যে আল্লাহর রাহমাহর দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। অনুভূতিটা একটু বোঝার চেষ্টা করুন দয়া করে। যদি আল্লাহর রাহমাহর দরজা আপনার জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আপনি কোথায় যাবেন? কোথায় পালাবেন? কার কাছে যাবেন? কার কাছে আশ্রয় চাইবেন? কার কাছে সাহায্য চাইবেন?
 
নিঃসন্দেহে এক প্রচন্ড ভয় তখন গ্রাস করবে আপনাকে। আর শয়তান সেটাই চায়। সে নিজে ঠিক এ অবস্থাটাতেই আছে। আল্লাহর রাহমাহ থেকে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অন্য কেউ আল্লাহর রাহমাহ পাক, সেটা সে সহ্য করে পারে না। তাই সে আপনাকেও নামিয়ে আনতে চায় তার কাতারে। কিন্তু শয়তানের ফাঁদে পা দেয়া যাবে না।তার চক্রান্তে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।

মনে রাখবেন, শয়তান কিন্তু প্রথমেই আল্লাহর রাহমাহর ব্যাপারে আপনার মনে সন্দেহ তৈরি করবে না। সে বলবে না যে- আল্লাহ্‌ তো করুণাময় নন, ক্ষমাশীল নন। সে জানে, এভাবে বলে লাভ নেই। এভাবে আগালে সে নিশ্চিত ব্যর্থ হবে। সে আক্রমণ করবে অন্যদিক থেকে।
 
সে বলবে – 'হ্যা আল্লাহ্‌ পরম করুণাময়, ক্ষমাশীল। কিন্তু তুমি তাঁর করুণার উপযুক্ত না। তিনি বার বার তোমাকে সুযোগ দিয়েছেন কিন্তু বারবার তুমি নাফরমানী করেছো। আল্লাহ্‌ গাফুরুর রাহীম, কিন্তু তোমার এই ব্যর্থতা, তোমার এই পাপ এতোই জঘন্য যে তুমি আর তাঁর ক্ষমার যোগ্য না।'
 
এসব বলে শয়তান আসলে কী চায়? সে চায় আপনি হতাশার চোরাবালিতে আটকা পড়ুন। এমন হতাশা যা আপনাকে পঙ্গু করে দেবে। কেড়ে নেবে নিজেকে সংশোধন করে রবের অভিমুখী হবার সব ইচ্ছে,সব শক্তি।
 
জানেন ডিপ্রেশনের (বিষণ্ণতা) ডাক্তারি সংজ্ঞা কী? এর উপসর্গগুলো কী?

গভীর বিষাদ, নিজেকে মূল্যহীনভাবা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, উৎসাহহীনতা, অপরাধবোধ, হতাশা, নেতিবাচক মনোভাব এবং নিজের কোন ভবিষ্যৎ নেই ভাবা।

অর্থাৎ ডিপ্রেশন এমন এক অপরাধবোধ তৈরি করে যা মানুষকে সংশোধনের দিকে চালিত করে না। বরং তাকে নিয়ে যায় আত্মঘৃণা, হতাশা আর নেতিবাচকতার চোরাবালিতে।
 
শয়তান মানুষকে অপরাধবোধের ধাপে আটকে ফেলে। সে মানুষকে বোঝায় যে তার অবস্থা সংশোধনের অযোগ্য। সে অন্তর আর ইচ্ছাশক্তিকে পঙ্গু করে ফেলে। যাতে করে মানুষ আল্লাহর আনুগত্য করার শক্তি না পায়, নিজেকে সংশোধনের চেষ্টাই না করে এবং আল্লাহর সাথে তার সম্পর্কে নষ্ট হয়ে যায়।
 
শয়তান মানুষের মনে আল্লাহর ব্যাপারে ভুল ধারণা তৈরি করে-

মালিক সবসময় তাঁর বান্দার গুনাহর অপেক্ষায় থাকে। বান্দা গুনাহ করা মাত্র তার ওপর শাস্তি চাপিয়ে দেন। আর বন্ধ করে দেন সংশোধনের সব পথ। ছিন্ন করে ফেলেন তার সাথে সব সম্পর্ক।'
 
শয়তান চায় রাব্বুল আলামীন এর ব্যাপারে আমরা এমন ধারণা করি।
 
আমাদের রব কী এমন?
 
না! কক্ষনো না। তিনি মহামান্বিত এবং এ মিথ্যাচার থেকে পবিত্র।
 
আমার আল্লাহ্‌র রাহমাহ, তাঁর ক্ষমাশীলতা এতোই ব্যাপক যে এর ব্যাপ্তি বুঝে ওঠাও আমাদের পক্ষে সম্ভব না। আর-রাহমানের দরজা সবসময় তাঁর বান্দাদের জন খোলা।
 
মনে রাখবেন, শাস্তি পাবার পরও সন্তান তার পিতাকে ভালোবাসবে যদি সে জানে যে পিতা তাকে ভালোবাসে। সে মনে করবে বাবা শাস্তি দিয়েছেন ভালোর জন্যই। সন্তান যখন কোন ভুল করে, বাবা তার কান টেনে ধরেন। আর সন্তান যখন টলটলো চোখে মাটির দিকে তাকায় বাবা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।  কিন্তু সন্তান যদি মনে করে বাবা তাকে ঘৃণা করে তাহলে তার মন বিষিয়ে যাবে। আর মহান আল্লাহর রাহমাহ, তাঁর পবিত্র বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং বান্দার প্রতি তাঁর ভালোবাসার সাথে তো সৃষ্টির কোন তুলনাই হয় না।
 
কাজেই শয়তান যখন আপনাকে কুমন্ত্রনা দেবে, ‘তুমি আল্লাহর রাহমাহর যোগ্য না’,

তখন বলুন – হ্যা আমি আল্লাহর রাহমাহর উপযুক্ত না। কিন্তু তবুও তিনি আমার মতো বান্দাদের ওপর রহমত করবেন, আমাদের ক্ষমা করবেন। কারণ তিনি তাঁর বান্দাদের তাদের প্রাপ্য অনুযায়ী তাদের বিচার করেন না। তিনি আরো অনেক, অনেক বেশি উদার। তিনি বান্দাদের বিচার করেন তাঁর রাহমাহ অনুযায়ী।
 
যদি শয়তান বলে, ‘আল্লাহ্‌ তোমাকে পরীক্ষায় ফেলেছেন কারণ তিনি তোমাকে ঘৃণা করেন’, তখন বলুন,

‘না, বরং পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি আমাকে বিশুদ্ধ করছেন’
 
যদি শয়তান বলে, তোমার মতো জঘন্য বান্দা কিভাবে আল্লাহর রাহমাহ পাবে?

তখন বলুন – আমার রবের রাহমাহ বিস্তৃত, আমার মতো বান্দাকে বঞ্চিত করার মতো সংকীর্ণ তা নয়।
 
কখনো শয়তানের এসব কুমন্ত্রনাকে অন্তরে শেকড় গাড়ার সুযোগ দেবেন না। কখনো মনে করবেন না কষ্ট, পরীক্ষা এগুলো শুধুই শাস্তি।  আল্লাহর রাহমাহর ব্যাপারে হতাশ হবেন না। শয়তানকে সুযোগ দেবেন না আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক নষ্ট করার।
 
আল্লাহর করুণা থেকে নিরাশ হবেন না। হতাশ হবেন না। আমাদের রব আর-রাহমান, আর-রাহীম, আল-গাফফার। যখন সবাই আমাদের ছেড়ে যায় তখনো তিনি থাকেন। মাতৃগর্ভের অন্ধকার থেকে কবরের একাকীত্বে, সব অবস্থায় তিনি আমাদের কাছে। যখন সব  তাঁর দরজা বন্ধ, তখনো তাঁর দরজা খোলা। তিনিই আশ্রয়হীনের আশ্রয়, দুর্বলের সহায়। প্রশান্তি ও নিরাপত্তা পাওয়া যায় তাঁরই কাছে। তিনি আল্লাহ্‌, তিনিই আমাদের রব।

4
Common Forum/Request/Suggestions / একাকিত্ব
« Last post by ashraful.diss on October 19, 2021, 09:57:58 PM »
একাকিত্ব

একাকিত্ব", আমাদের অনেকের জীবনের একটি পরিচিত অংশ। জীবনের কিছুকিছু সময় নিজেকে খুব একা মনে হয়। জীবনে কারো শূন্যতা ভীষণভাবে  অনুভব হয়। তাই না?

তো একাকিত্বের এই সময়ে কোরআনের এই বাণীগুলো শুনুন। যেখানে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,

অতঃপর যখন বিকট আওয়াজ (কিয়ামত দিবসের আওয়ায) আসবে, সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে,তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও তার সন্তান-সন্ততি থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ চিন্তায় নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখবে।"[সূরা আবাসা, ৩৩-৩৭]

অর্থাৎ, যখন কিয়ামত শুরু হবে, তখন আজকের কোনো বন্ধনই আর অবশিষ্ট থাকবে না। সবাই নিজেকে বাঁচাতে একে অন্যকে ভুলে যাবে। দুনিয়াতে যার যত ভালো পরিবার বা জীবনসঙ্গীই থাক না কেন, দিনশেষে তারাও সেইদিন একা হয়ে পড়বে। সবার প্রত্যাবর্তন হবে এক আল্লাহর কাছেই।

তাই, আপনার আজকের এই একাকিত্বের সময়ও আল্লাহকে আপনার সঙ্গী বানিয়ে নিন। তিনি তো এমন সঙ্গী, যার সাথে সম্পর্ক না এই দুনিয়ায় ভাঙ্গবে আর না কিয়ামতে।

আল্লাহকে পেয়েছেন তো জান্নাত পেয়েছেন। আর জান্নাত পেয়েছেন তো জীবনের সকল সুখ পেয়ে গেছেন। ইন শা আল্লাহ আজকের আপনার সকল শূন্যতা জান্নাতে পূর্ণতা পেয়ে যাবে।

একাকিত্বের সময়ে রবের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন।কেউ নেই তো কি হয়েছে? আমাদের রব তো আছেন। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

5
আয়রনের অভাবে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। শরীরে মিনারেলের অভাব দেখা দিলে আয়রনের ঘাটতিও দেখা দেয়। আয়রনই শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে।

রক্তে যথেষ্ট পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে শরীরের পেশীগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারীরাই আয়রনের ঘাটতিতে ভোগেন। ডাক্তারি পরিভাষায় একে অ্যানিমিয়া বলে।

অ্যানিমিয়া হওয়ার কারণ কী?

আয়রনের অভাবেই মূলত অ্যানিমিয়া হয়। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। রক্তাল্পতা মূলত রক্তক্ষয়, লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন কমে যাওয়া ও লোহিত রক্তকণিকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে হয়।

jagonews24

যেসব নারীরা ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতে ভোগেন তাদের অ্যানিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবার দীর্ঘমেয়াদি কোনো অসুখ কারণেও রক্তাল্পতা হতে পারে।

যারা দীর্ঘদিন অর্শ্ব রোগে ভুগছেন তারা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি কিডনির সমস্যা ভুগছেন তারাও অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন।

jagonews24

তবে অনেকেই টের পান পান তিনি আসলেই রক্তাল্পতায় ভুগছেন। সেক্ষেত্রে কী কী উপসর্গ দেখে বুঝবেন আপনার শরীরে আয়রনের অভাব আছে কি না-

>> আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে শরীর হঠাৎ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সারাদিনই শরীরে ক্লান্তি বোধ হতে পারে।

jagonews24

>> নখ দেখেও বোঝা যায় শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে কি না। নখ যদি নরম থাকে আর বারবার ভেঙে যায় তাহলে বুঝবেন শরীরে আয়রনের অভাব আছে।

>> হঠাৎ যদি জিভ ফুলে যায় তাহলে অবশ্যই আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান। তার আগে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করে দেখুন।

jagonews24

>> প্রায় প্রতিদিনই মাথার যন্ত্রণায় ভুগলে তাহলে এর পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সাইনাস, মাইগ্রেন ইত্যাদি। কিন্তু অনেক সময়ে আয়রনের অভাব হলেও প্রায়ই মাথা ধরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

>> ইদানিং কি অল্পেই হাঁফিয়ে উঠছেন? যেমন অল্প পরিশ্রম কিংবা একটু হাঁটলেই নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসছে! আয়রনের অভাবে এই অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

jagonews24

>> হঠাৎ করে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলে এ সমস্যা হতে পারে।

>> হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতির কারণ হতে পারে।

jagonews24

>> যদিও বিভিন্ন কারণে ঘনঘন জ্বর আসতে পারে। তবে সব সময় ঠান্ডা লাগার কারণে নয়, আয়রনের অভাবেও এটি হতে পারে।

>> অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যাকে সাধারণভাবে নেওয়া উচিত নয়। হঠাৎ করে যদি অধিক চুল পড়তে থাকে তাহলে তা হতে পারে আয়রনের ঘাটতি।

সূত্র: মায়োক্লিনিক
6
ভালবাসা আসে আল্লাহ তা‘আলার তরফ থেকে-

রসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি জিবরীল (আ.)-কে ডেকে বলেন, আল্লাহ তা‘আলা অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তুমিও তাকে ভালবাসবে। তখন জিবরীল (আ.) তাকে ভালবাসেন এবং তিনি আসমানবাসীদের ডেকে বলেন, আল্লাহ তা‘আলা অমুককে ভালবাসেন, অতএব তোমরাও তাকে ভালবাসবে।তখন আসমানবাসীরাও তাকে ভালবাসে। তারপর আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে দুনিয়াবাসীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করা হয়।[সহীহ বুখারী৬০৪০]
 
রসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

দয়াশীলদের উপর করুণাময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা দুনিয়াবাসীকে দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদেরকে দয়া করবেন।[সুনান আবূ দাউদ:৪৯৪১]
 
আল্লাহর জন্য ভালবাসার ফযীলত-
 
রসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য অন্য এক গ্রামে গেল। আল্লাহ তা’আলা তার জন্য পথিমধ্যে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করলেন। সে ব্যক্তি যখন ফেরেশতার কাছে পৌছল, তখন ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছো? সে বলল, আমি এ গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য যেতে চাই। ফেরেশতা বললেন, তার কাছে কি তোমার কোন অবদান আছে, যা তুমি আরো প্রবৃদ্ধি করতে চাও? সে বলল, না। আমি তো শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে ভালবাসি। ফেরেশতা বললেন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে (তার দূত হয়ে) তোমার কাছে অবহিত করার জন্য এসেছি যে, আল্লাহ তোমাকে ভালবাসেন, যেমন তুমি তোমার ভাইকে তারই সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ভালবেসেছ।[সহীহ মুসলিম: ৬৪৪৩]
 
মুসলিমদের অনুপস্থিতিতে তাদের জন্য দু’আর ফযীলত-
 
রসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

একজন মুসলিম বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করলে তা কবুল হয়। তার মাথার নিকটে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন, যখন সে তার ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করে তখন নিয়োজিত ফেরেশতা বলে থাকে "আমীন এবং তোমার জন্যও অনুরূপ তাই" (তোমার ভাইয়ের জন্য যা চাইলে আল্লাহ তোমাকেও তা দান করুন)।[সহীহ মুসলিম: ৬৮২২]

7
তোকে কোলে নেবার ঋণ...

"বাবা তুমি তো বলেছিলে পিতৃ ঋণ কোনদিন শোধ হয় না। তুমি ছাব্বিশ বছরে আমার পেছনে যত টাকা খরচ করেছো তুমি কি জানো আমি আগামী তিন বছরে সে টাকা তোমায় ফিরিয়ে দিতে পারবো"।

বাবা : ( কিছুটা মুচকি হেসে) "একটা গল্প শুনবি?"
ছেলেটা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। নিচু স্বরে বললো-
"বলো বাবা শুনবো......"

তোর বয়স যখন চার আমার মাসিক আয় তখন দু হাজার টাকা। ওই টাকায় সংসার চালানোর কষ্ট বাড়ির কাউকে কখোনো বুঝতে দেইনি। আমি আমার সাধ্যের মধ্যে সব সময় চেষ্টা করেছি তোর 'মা কে 'সুখী করতে। তোকে যেবার স্কুলে ভর্তি করলাম সেবার ই প্রথম আমরা দুজন- আমি-আর তোর মা পরিকল্পনা করেছি আমরা তোর পড়ার খরচের বিনিময়ে কি কি ত্যাগ করবো।

সে বছর তোর মাকে কিছুই দিতে পারিনি আমি। তুই যখন কলেজে উঠলি আমাদের অবস্থা তখন মোটা মুটি ভাল। কিন্তু খুব কষ্ট হয়ে গেছিল যখন তোর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ঔষধ কেনার জন্য রোজ রোজ ওভারটাইম করে বাসে করে পায়ে হেটে ঘামে ভিজে বাড়ি ফিরতে খুব দুর্বিষহ লাগতো। কিন্তু কখোনো কাউকে বুঝতে দিইনি এমনকি তোর মা কেও না।

একদিন শো রুম থেকে একটা বাইক দেখে আসলাম। সে রাতে আমি স্বপ্নেও দেখেছিলাম আমি বাইকে চড়ে কাজে যাচ্ছি। কিন্তু পরের দিন তুই বায়না ধরলি ল্যাপটপ এর জন্য। তোর কষ্টে আমার কষ্ট হয় বাবা। আমি তোকে ল্যাপটপ টা কিনে দিয়েছিলাম। আমার তখনকার এক টাকা তোর এখন এক পয়সা! কিন্তু মনে করে দেখ এই এক টাকা দিয়ে তুই বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করেছিস। ব্রান্ড নিউ মোবাইলে হেড ফোন কানে লাগিয়ে সারা রাত গান শুনেছিস। পিকনিক করেছিস, ট্যুর করেছিস, কন্সার্ট দেখেছিস। তোর প্রতিটা দিন ছিল স্বপ্নের মতো।

আর তোর একশ টাকা নিয়ে আমি এখন সুগার মাপাই । জানিস আমার মাছ খাওয়া নিষেধ, মাংস খাওয়া নিষেধ, কি করে এত টাকা খরচ করি বল! তোর টাকা নিয়ে তাই আমি কল্পনার হাট বসাই। সে হাটে আমি বাইক চালিয়ে সারা শহর ঘুরে বেড়াই। বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যাই। তোর মায়ের হাত ধরে তাঁত মেলায় ঘুরে বেড়াই।

বাবারা নাকি "খাড়ুশ টাইপের" হয় । আমিও আমার বাবাকে তাই ভাবতাম । পুরুষ থেকে পিতা হতে আমার কোনো কষ্ট হয়নি, সব কষ্ট তোর মা সহ্য করেছে। কিন্তু বিশ্বাস কর পিতা থেকে দ্বায়িত্বশীল পিতা হবার কষ্ট একজন পিতাই বোঝে।

যুগে যুগে সর্বস্থানে মাতৃবন্দনা হলেও পিতৃবন্দনা কোথাও দেখেছিস ?

পিতৃবন্দনা আমি আশাও করি না। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা কোনো পিতা হয়তো প্রকাশ করতে পারে না, তবে কোনো পিতা কখনোই সন্তানের প্রতি দ্বায়িত্ব পালনে বিচ্যুত হয় না। আমি তোর পেছনে আমার যে কষ্টার্জিত অর্থ ব্যায় করেছি তা হয়তো তুই তিন বছরে শোধ দিতে পারবি...

কিন্তু যৌবনে দেখা আমার স্বপ্ন গুলো ?

যে স্বপ্নের কাঠামোতে দাঁড়িয়ে তুই আজ তোর ঋণশোধের কথা বলছিস.
সেই স্বপ্ন গুলো কি আর কোনোদিন বাস্তব রুপ পাবে ?

আর যদি বলিস বাবা আমি তোমার টাকা না তোমার ভালবাসা তোমায় ফিরিয়ে দেব, তাহলে বলবো বাবাদের ভালবাসা কখনো ফিরিয়ে দেয়া যায় না।

তোকে একটা প্রশ্ন করি, ধর তুই আমি আর তোর খোকা তিন জন এক নৌকায় বসে আছি। হটাৎ নৌকা টা ডুবতে শুরু করলো....
যে কোন একজনকে বাঁচাতে পারবি তুই।
কাকে বাঁচাবি ?
( ছেলেটা হাজার চেষ্টা করেও এক চুল ঠোঁট নড়াতে পারছেনা! )
উত্তর দিতে হবে না। ছেলেরা বাবা হয়, বাবা কখনো ছেলে হতে পারে না।

পৃথিবীতে সব চেয়ে ভারী জিনিস কি জানিস?
পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ!

আমি শুধু একটা জিনিস চাই।
আমার শেষ যাত্রায় যেন আমি আমার ছেলের কাঁধে চড়ে যাই। তাহলেই তুই একটা ঋণ শোধ করতে পারবি - তোকে কোলে নেবার ঋণ...

(copy)
8

বাবা মা‌র বিচ্ছেদ যে‌দিন---------
সেদিনটির কথা আমি কখনোই ভুলবো না, কোর্টে বাবা মায়ের সেপারেশনের সময় জজ সা‌হেব মা কে জিজ্ঞাসা করেছিল, "আপনি কাকে চান ? ছেলে কে না মেয়েকে??"
মা তখন তার ছেলেকে চেয়েছিল, আমাকে চায়নি। মে‌য়ে ব‌লে বাবাও তখন আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কারণ তিনি আবার বিয়ে করে নতুন সংসার করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, অযথা আমাকে নিয়ে নতুন সংসারে বোঝা বাড়াতে চাননি।
কাঠের বেঞ্চিতে বসে যখন অঝোরে কাঁদছিলাম তখন বুকে আগলে ধরেছিলেন এক লেডি কনস্টেবল। আশ্রয় দিয়েছিলেন তার বাড়িতে। কিন্তু তার মাতাল স্বামীর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল আমার উপর। শিশু বয়সে অত কিছু না বুঝলে ও কেমন যেন খারাপ লাগতো। রাতে যখন আন্টি বাসায় ফিরতেন, আমি তাকে সব বলে দিতাম। মহিলা দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। অতঃপর আমার নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি আমাকে একটা অনাতা আশ্রমে রেখে আসলেন। যাবার সময় আমাকে দু হাতে জড়িয়ে ধরে যেমন করে কাঁদলেন, আমার মাও আমাকে রেখে যাওয়ার সময় ওভাবে কাঁদেনি।
দিন যায়-মাস যায়,  অনাতা আশ্রমে জীবন কাটতে থাকে আমার। খুব অসহায় লাগতো নিজেকে। বাবা মা বেঁচে থাকতে ও যে শিশুকে অনাতা আশ্রমে থাকতে হয় তার থেকে অসহায় বুঝি আর কেউ নেই!!
বছর দু'য়েক পরের কথা। এক নিঃসন্তান ডাক্তার দম্পতি আমাকে দত্তক নেন। জীবনটাই পাল্টে গেল আমার। হেসে খেলে রাজকীয় ভাবে বড় হতে লাগলাম আমি। আমার নতুন বাবা মা আমাকে তাঁদের মতই ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার একগুঁয়ে ইচ্ছে ছিল একটাই, আমি ল'ইয়ার হবো।  আজ আমি একজন ডিভোর্স ল' ইয়ার। যারাই আমার কাছে ডিভোর্স এল জন্য আসে, আগেই আমি বাচ্চার কাস্টোডির জন্য তাদের রাজি করাই। কারণ বাবা মা ছাড়া একটা শিশু যে কতটা অসহায়, তা আমি ছাড়া কেউ জানে না!!
চেম্বারে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলাম। হঠাৎ একটা নিউজে চোখ আটকে গেল। এক বৃদ্ধা মহিলাকে তার ছেলে আর বউ মিলে বস্তায় ভরে রেলস্টেশনে ফেলে রেখে গেছে। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। নিচে বৃদ্ধা মহিলার ছবি দেয়া। মুখটা খুব চেনা চেনা লাগছিল। কাছে এনে ভালো করে ছবিটা দেখলাম। বুকের মাঝে ধক করে উঠলো। এ তো সেই মহিলা যে আমাকে অনেক বছর আগে আদালতে ছেড়ে গিয়েছিল, আমার মা। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে ছুটে গেলাম হাসপাতালে।
সেই মুখটা কিন্তু চেনার উপায় নেই। চামড়াটা কুঁচকে আছে, শরীরটা রোগে শোকে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে খুব মায়া লাগছে, ভেতরটা ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। আচ্ছা, সেদিন কি তার একটু ও কষ্ট লাগেনি, যেদিন তার ১০ বছরের শিশু কন্যাটি মা-মা করে পিছু পিছু কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াচ্ছিল?? হয়তো লাগেনি। নয়তো এভাবে ফেলে যেতে পারতো না।
একবার ভেবেছিলাম চলে যাবো। হঠাৎ দেখি তিনি ঘুম ভেঙে চোখ পিটপিট করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। বুঝলাম চিনতে পারেন নি, চেনার কথা ও নয়!! আমি আমার পরিচয় দিলাম। কয়েক সেকেন্ড নিষ্পলক তাকিয়ে থেকে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। নিজের কৃতকর্মের জন্য বারবার ক্ষমা চাইতে থাকে। নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি মাকে।
মাকে পাওয়ার পর বাবার জন্য ও মনটা উতলা হয়ে উঠে। মায়ের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বাবার অফিসে যোগাযোগ করি। জানতে পারি, কয়েক বছর আগেই রিটায়ার্ড করেছেন তিনি। বাসার ঠিকানায় গিয়ে দেখি উনি নেই। উনার দ্বিতীয় পক্ষের ছেলেমেয়েদের জিজ্ঞেস করে জানলাম, রিটায়ার্ড করার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়েন। অযথা একটা রুম দখল করে নোংরা করত, তাই বিরক্ত হয়ে ছেলেমেয়েরা তাকে একটা সরকারি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, অযথা ঘরে বোঝা বাড়িয়ে কি লাভ!!!
ওদের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বৃদ্ধাশ্রম গেলাম। চিনতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো, মনে হলো একটা জীবিত লাশ পড়ে আছে বিছানায়। পাশে বসে হাতটা ধরলাম, পরিচয় দিতেই মুখ ফিরিয়ে কাঁদতে লাগলেন।
বাবা মা এখন আমার সাথে একই বাড়িতে আছেন। একসময় তারা আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমি পারিনি ছাড়তে। হাজার হোক আমার বাবা মা তো।
.... কন্যা....
(সংগৃহিত)
9
মনের পশুত্ব কিভাবে ধ্বংস করা যায়

মানুষের মধ্যে নানা ধরণের পশুত্বের স্বভাব বিদ্যমান রয়েছে। যেমন: হিংস্রতা, নির্মমতা, বদমেজাজি, অন্যের অধিকার হরণ, হালাল-হারামের তওয়াক্কা না করা, যৌন চাহিদা পূরণে নীতি-নৈতিকতার পরোয়া না করা, নির্লজ্জতা, অত্যাচার-নিপীড়ন করা ইত্যাদি। এগুলো হল পশুত্বের স্বভাব।

➧ নিম্নে নিকৃষ্ট পশু সুলভ চরিত্র ও আচার-আচরণ থেকে মুক্ত হওয়ার ১২টি করণীয় ও দিক নির্দেশনা তুলে ধরা হল:

❖ ১) অন্তরে তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি জাগ্রত করা এবং বিবেক দিয়ে ন্যায়-অন্যায় ও সঠিক-বেঠিক পার্থক্য করা। সত্যিকার অর্থে যার মধ্যে বিবেক ও মানবিক মূল্যবোধ আছে সে একটু চিন্তা করলেই ন্যায়-অন্যায় বুঝতে পারে। এটা আল্লাহ প্রদত্ত বৈশিষ্ট্য যা তিনি মানুষের মধ্যে দান করেছেন।

❖ ২) ইসলামের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করা। দুআ, তাসবিহ ও আজকার সমূহ পাঠে অভ্যস্ত হওয়া। বিশেষ করে জামাআতে সালাত আদায়ে যত্নশীল হওয়া। আল্লাহর ইবাদত গুজার বান্দার মধ্যে মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয়, সে অন্যের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন থাকে এবং কখনো কারোও প্রতি অবিচার করতে পারে না।

❖ ৩) ইসলামের দৃষ্টিতে উন্নত স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা এবং সেগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ঘটানো।

❖ ৪) শয়তানের পক্ষ থেকে মনের মধ্যে সৃষ্ট কুমন্ত্রণা বশত: পশুত্বের মনোভাব, পাপাচার ও অন্যায় অপকর্ম করার কু বাসনা জাগ্রত হলে সাথে সাথে ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজীম’ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি) পাঠ করা এবং খারাপ চিন্তাভাবনা থেকে মনকে ফিরিয়ে আনা।

❖ ৫) নিয়মিত তরজমা-তাফসির সহ কুরআন পড়া ও হাদিস স্টাডি করা এবং ইসলাম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানার্জন করা। কারণ জ্ঞান হল আলো। যার কাছে জ্ঞানের আলো থাকে সে নিজের মধ্যে ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো দেখতে পায়, খারাপ বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং উন্নত চরিত্র এবং মানবিক গুণাবলী বিকশিত করতে সক্ষম হয়।

❖ ৬) আল্লাহ ওয়ালা, তাকওয়া বান ও আমলদার আলেমদের উপদেশ মূলক বক্তব্য শোনা। কেননা উপদেশ দ্বারা মুমিন উপকৃত হয়।

❖ ৭) ভালো লোকদের সংস্রবে থাকা এবং খারাপ ও পশু সুলভ আচরণে অভ্যস্ত লোকদের সাথে বন্ধুত্ব না করা। কেননা কথায় আছে, “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।”

❖ ৮) আত্ম সমালোচনার মাধ্যমে নিজের মধ্যে পশু সুলভ আচরণ, খারাপ স্বভাব ও দোষ-ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা।

❖ ৯) মহান আল্লাহর কাছে খারাপ চরিত্র, পশু সুলভ আচরণ ইত্যাদি থেকে বাঁচার জন্য এবং উন্নত ও সুন্দর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার জন্য দুআ করা।

❖ ১০) এতিমদের মাথায় হাত বুলানো এবং তাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব নেয়া। এতিমদের মাথায় হাত বুলালে বা তাদের প্রতি যত্ন নিলে অন্তরে নম্রতা সৃষ্টি হয় এবং নিজের মধ্যে দয়া, মমতা, পরোপকার ইত্যাদি মানবিক গুণাবলী জাগ্রত হয়।

❖ ১১) বিপদগ্রস্ত ও কঠিন রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে দেখতে যাওয়া। এটি মানুষের মধ্যে নিজের ব্যাপারে নতুন উপলব্ধি সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

❖ ১২) জানাজায় অংশ গ্রহণ ও কবর জিয়ারত করা। এতে নিজের মৃত্যু, শেষ পরিণতি, কবরের শাস্তি, আখিরাতের ভয়াবহতা, জাহান্নামের আগুন ইত্যাদি স্মরণ হয় এবং হৃদয়ে নিজেকে সংশোধনের আত্মোপলব্ধি সৃষ্টি হয়। এ সব প্রচেষ্টার মাধ্যমে সর্ব প্রকার খারাপ ও পশু সুলভ চরিত্র বিদূরিত হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহু তাওফিক দান করুন। আমিন!

10
তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না, যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ কর্ম সুশোভিত করে দিয়েছি। অতঃপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে বলে দেবেন যা কিছু তারা করত।
[সূরা আন-আম, আয়াত-১০৮ ]
Pages: [1] 2 3 ... 10