করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্কুল কলেজ অফিস মার্কেট সব বন্ধ। এর ফলে অর্থ বা টাকা হাত বদল হচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য টাকার লেনদেন বেড়েছে।
(মানুষ বর্তমানে খাদ্য সামগ্রী বেশী কেনাকাটা করতেছে। এক দিনেই কয়েক মাসের খাদ্য সামগ্রী বাজার করে রাখতেছে।)
প্রশ্নাতীত ভাবে করোনার কারণে সব থেকে ভোগান্তিতে আছে যাদের দৈনিক ইনকাম ছিল যেমন রিক্সাওয়ালা, দিনমজুর - এদের।
টাকার এই হাত বদল কমে যাওয়াকেও অর্থনৈতিক মন্দা বলা যেতে পারে। সব খবরে মনে হইতেছে এই অর্থনৈতিক মন্দা থাকবে কমপক্ষে জুন মাস পর্যন্ত।
এই অবস্থায় অবশ্যই বিলাসী জীবন বাদ দিতে হবে। খাদ্য, ঔষধ ও সাবান এই রকম অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী ছাড়া খরচ যতদূর সম্ভব কমাতে হবে। এই বিলাস সামগ্রী বাদ দিলে যে টাকা বেঁচে যাবে - তা হত দরিদ্র মানুষদের সাহায্যে দেয়া যেতে পারে।
আরেকটি অত্যাবশ্যকীয় খরচ বা ব্যয় সবারই করতে হবে বলে আমার মনে হয়। তা হল অধস্তনদের বেতন বা মজুরী পরিশোধ করা। কেননা কেউ আপনার অধস্তন হতে পারে কিন্তু দিন বা মাস শেষে সেই আপনার পাওনাদার।
যতটুকু জানি আমাদের ইসলাম ধর্মে ঋণ যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি পরিশোধ করে ফেলতে।
এছাড়াও ঋণ শোধ না করে কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাকে পরকালে হিসাব দিতে হবে। এই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় আমরা কেউই কি জানি আমরা কে কে আক্রান্ত হব না? ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, মালিক-অধস্তন - কোন বাছ বিচার ছাড়াই মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছে।
এর বাইরে যদি পাওনাদারই ক্ষোভ নিয়ে মৃত্যুবরণ করে তাহলে এর দায় ইহকাল ও পরকালে পুরাপুরি ঋণী ব্যক্তির উপর বর্তাবে।
এই বেতন বা মজুরী শোধ করে দেয়া মানে টাকার হাত বদল হওয়া। মজুরী গ্রহীতাও আবার তার সব ব্যয় এই মজুরী থেকে নির্বাহ করবে। অর্থাৎ টাকার হাত বদল কিছুটা বাড়বে। এর ফলে অর্থনীতি কিছুটা সচল হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে - খাদ্য সামগ্রীর দুষ্প্রাপ্যতা দুর্ভিক্ষের কারণ নয়। অর্থের অসম বন্টন ও দুর্নীতির কারণেই মানুষ না খেয়ে থাকে।
আমরা সবাই এখন আমাদের স্বাস্থ্যগত ব্যাপার গুলো নিয়ে অনেক সচেতন। কিন্তু এই অর্থ গত ব্যাপারগুলো খেয়াল না করলে সামনে আমাদের জন্য ভোগান্তি অপেক্ষা করতেছে।
(আমার ফেসবুক পোস্ট ০৯ - ০৪ - ২০২০)
ভাল লিখেছেন স্যার। ভাল লিখেছেন। আশাবাদী হতে চাই।
ধন্যবাদ।