Daffodil International University

Science & Information Technology => Science Discussion Forum => Astronomy => Topic started by: ehsan217 on November 05, 2014, 06:33:27 PM

Title: শনির চাঁদে রৌদ্রোজ্জ্বল সমুদ্র
Post by: ehsan217 on November 05, 2014, 06:33:27 PM
সৌরজগতের শনি গ্রহের চাঁদ টাইটানে হাইড্রোকার্বন সমুদ্র থেকে প্রতিফলিত উজ্জ্বল আলো ধরতে পেরেছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থার (নাসা) পাঠানো নভোযান ক্যাসিনি। নাসার গবেষকেরা দাবি করেছেন, সম্প্রতি টাইটানকে অতিক্রম করার সময় এই সমুদ্রের খোঁজ পায় ক্যাসিনি নভোযানটি।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, এর আগে ক্যাসিনি আলাদাভাবে টাইটানের মেরু অঞ্চলের সমুদ্র ও তার ওপর সূর্যের প্রতিফলনের দৃশ্য ধারণ করেছিল। কিন্তু এবারে প্রথমবারের মতো সমুদ্র ও তার থেকে প্রতিফলিত আলোর দৃশ্য ধারণ করতে পেরেছে ক্যাসিনি।
গবেষকদের দাবি, টাইটানের এই সমুদ্র তরল মিথেন ও ইথেনের তৈরি।
শনি গ্রহের কাছে ক্যাসিনি পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ধারণা করতেন, টাইটান পৃষ্ঠে উন্মুক্ত তরল পদার্থের সন্ধান পাওয়া যাবে।
ক্যাসিনির তথ্য ঘেঁটে গবেষকেরা দেখেছেন, শনির এই চাঁদের বিষুবরেখা অঞ্চলে কেবল বড় বড় বালুর মাঠ ও পাহাড় দেখা যায় আর উত্তরের মেরু অঞ্চলে রয়েছে হ্রদ ও সমুদ্র।
এ বছরের ২২ সেপ্টেম্বর টাইটানকে ১০৫ বার প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করল ক্যাসিনি। ১৯৯৭ সালে শনি গ্রহটি পর্যবেক্ষণের জন্য এই নভোযানটি পাঠায় নাসা। ৭ বছর যাত্রা শেষে ২০০৪ সাল থেকে শনি গ্রহ পর্যবেক্ষণ শুরু করে ক্যাসিনি।
টাইটানের ছোট্ট নীল নদ!
এর আগে ২০১২ সালে টাইটানে একটি নদীর প্রবাহের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছিলেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা। তাঁরা দাবি করেছিলেন, পৃথিবীর বাইরে এযাবৎকালে এত বড় নদীর প্রবাহের অস্তিত্ব শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম। দেখতে এটা পৃথিবীর নীল নদের ক্ষুদ্র রূপ।

তাঁদের দাবি, টাইটানের ওই নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে বড় একটা সমুদ্র ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। পক্ষান্তরে পৃথিবীর নীল নদের দৈর্ঘ্য ছয় হাজার ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
গবেষকদের মতে, টাইটানে রয়েছে পুরু স্তরবিশিষ্ট শীতল বায়ুমণ্ডল। সেখানে তরল পানির প্রবাহের সম্ভাবনা কম। টাইটানে অবস্থিত তরল মূলত মিথেন ও ইথেনের মতো হাইড্রো-কার্বনের মিশ্রণ।

প্লাস্টিক বৃষ্টি!
নভোযান ক্যাসিনির তথ্য ঘেঁটে গবেষকেরা দেখেছেন, প্লাস্টিক তৈরির উপাদান রয়েছে টাইটানে। টাইটানের ধোঁয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে নাসার পাঠানো নভোযান ক্যাসিনি প্রপলিন নামের এক বিশেষ উপাদানের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছে বলে দাবি করেন নাসার গবেষকেরা। এই উপাদানটি প্লাস্টিক শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সাধারণ জৈবযৌগ প্রপলিন উপাদানটি প্রপেন নামেও পরিচিত। পৃথিবীতে তেল পরিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় প্রপেনের ব্যবহার দেখা যায়।
নাসার গবেষকেরা দাবি করেন, টাইটানের পরিবেশের সঙ্গে পৃথিবীর পরিবেশের অনেক মিল পাওয়া যায়। পার্থক্য হচ্ছে—পৃথিবীতে যেখানে বৃষ্টি হলে জল পড়ে, সেখানে টাইটানের বৃষ্টিতে প্লাস্টিকের উপাদান ঝরে পড়ে। পৃথিবীতে যেখানে সমুদ্র ভর্তি পানি, সেখানে টাইটানের সমুদ্র ইথেনের।
উল্লেখ্য, মঙ্গল গ্রহের পর গবেষকদের মহাকাশ অভিযাত্রার পছন্দের স্থান এই টাইটান উপগ্রহ। নৌকার মতো কোনো রোবোটযান তৈরি করে টাইটান উপগ্রহে তা পাঠাতে চান তাঁরা।