Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - habib

Pages: [1] 2 3 ... 8
1

চীনের নিকটতম হয়েও তাইওয়ান যেভাবে করোনাভাইরাস ঠেকাল


করোনাভাইরাস মহামারিতে পুরো বিশ্ব যখন লড়াই করছে, তখন এর বিরুদ্ধে সফল হওয়ার দৃষ্টান্ত দেখাল তাইওয়ান। করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের খুব কাছাকাছি তাইওয়ানের অবস্থান হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে মাত্র ৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন মাত্র একজন।

সেখানে জীবনযাত্রা একেবারেই স্বাভাবিক। শুধু গণপরিবহনে চলাচলের সময় লোকজনকে মাস্ক পরতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে এই কৌতুহল এখন সর্বত্র যে যেখানে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চীনকে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে কী জাদুবলে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলল তাইওয়ান?

এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে—অতীত থেকে তাইওয়ানের নেওয়া শিক্ষা। ২০০৩ সালে তাইওয়ানের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের পরিচালক সু ইহ-জেনকে সার্সের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছিল। ওই সময় দেশটিতে সার্স ভাইরাস মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে যে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তার ছিটেফোঁটাও তাইওয়ানে নেই। চীনের খুব কাছে থাকায় ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশ তাইওয়ানকে ‘দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ অঞ্চল হিসেবে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এখানকার সাড়ে আট লাখ মানুষ চীনের মূল ভূখণ্ডে কাজ করেন। একেবারে চীনা নববর্ষের সময় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা তাইওয়ান বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

অধ্যাপক সু বলেন, ‘২০০৩ সালের শুরুতে তাইওয়ানে কয়েক সপ্তাহে সার্স যেভাবে ছড়িয়েছিল, তার মতোই পরিস্থিতই এখন অনেক দেশে। তারা প্রস্তুত নয়, তাদের অভিজ্ঞতাও নেই।’ ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৩ সালের ওই সার্স মহামারির পর অধ্যাপক সু তাইওয়ানের পুরো পাবলিক হেলথ সিস্টেম পরিবর্তন করে ফেলেন।

করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের খুব কাছাকাছি তাইওয়ানের অবস্থান হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে মাত্র ৪৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন মাত্র একজন। ছবি: রয়টার্স

বাকি বিশ্বের জন্য ভালো খবর হচ্ছে, করোনাভাইরাস মহামারিতে সাড়া দেওয়ার জন্য তাইওয়ান গত তিন মাসে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা অনুসরণ করা। তাইওয়ান রোগের বিস্তারের গতি ও এর প্রভাব কমাতে সক্ষম হয়েছে।

যেভাবে তাইওয়ান সফল হলো

প্রাথমিক স্তরের ভ্রমণের বিধিনিষেধ, আগ্রাসী পরীক্ষা, করোনাভাইরাস রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং কঠোর কোয়ারেন্টিন বা পৃথক্‌করণ বিধিমালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, জনস্বাস্থ্যের প্রতিক্রিয়ার জন্য পরিষ্কার ব্যবস্থাপনার কাঠামো এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করতে সক্রিয় যোগাযোগও সাহায্য করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে যদিও চীন থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তবু স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাইওয়ান মহামারি মোকাবিলায় পশ্চিমাসহ সব আক্রান্ত দেশের জন্য আরও ভালো মডেল হতে পারে।

সংক্রামক রোগের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ এবং সেন্ট্রাল এপিডেমিক কমান্ড সেন্টারে বিশেষজ্ঞের পরামর্শদাতা প্যানেলের আহ্বায়ক চ্যাং শান-চয়েন বলেন, ‘আমাদের প্রতিক্রিয়া সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্বচ্ছতা। চীনের মতো স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় প্রতি নাগরিককে বাড়িতে থাকতে বললে তারা তা পালন করবে। কিন্তু মুক্ত ও গণতান্ত্রিক দেশগুলোয় তা সহজে অর্জন করা যায় না।’

সুনির্দিষ্ট কৌশল

স্ট্যানফোর্ড হেলথ পলিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সার্স ভাইরাসের সময় গৃহীত সুনির্দিষ্ট কৌশল ও পরিকল্পনামাফিক শুরুতেই গৃহীত ব্যবস্থাকেই তাইওয়ানের সফলতার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া যায়। সার্স আক্রমণের পর তাইওয়ানের পক্ষ থেকে ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড সেন্টার স্থাপন করা হয়। এর একটি বিশেষ শাখাকে বড় ধরনের মহামারির সময় কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে তার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটি সরাসরি, স্বচ্ছ যোগাযোগের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড পোস্ট হিসেবে কাজ করে। এটি করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা ও কোয়ারেন্টিনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুরু করে। তাইওয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সেন্টার এপিডেমিক কমান্ড সেন্টার (সিইসিসি) সক্রিয় করে গত ২০ জানুয়ারিতে। এতে ইতিমধ্যে বিদ্যমান নীতি ও কৌশল কার্যকর করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। গত দুই মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্বে দ্রুততার সঙ্গে সিইসিসি ১২৪টি কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এ কার্যক্রমগুলোর মধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম একাধিক সংস্থার সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ছিল আকাশপথ ও সমুদ্রপথে সীমানা নিয়ন্ত্রণ, করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্তকরণ, সন্দেহভাজন রোগীকে কোয়ারেন্টিন করা, বরাদ্দ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দৈনিক সংবাদ ব্রিফিং, ভুয়া তথ্য শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও পরিবারের জন্য অর্থনীতি নীতিমালা ঠিক করা।

বিগ ডেটা ও প্রযুক্তি

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় বিগ ডেটা এবং প্রযুক্তি সংযুক্ত করে তাইওয়ান সরকারের পক্ষে প্রচুর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এক দিনেই তাইওয়ান সরকার ন্যাশনাল হেলথ ইনস্যুরেন্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন এজেন্সির কাছ থেকে যাত্রীদের ১৪ দিনের ভ্রমণের তথ্য বের করে। এখান থেকে রোগী শনাক্ত করার কাজ করে। এ ছাড়া নাগরিকদের বাড়ির নিবন্ধন পদ্ধতি ও বিদেশিদের আগমনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ রোগী শনাক্ত করে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্তের পর কোয়ারেন্টিন ও তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থাও করে তাইওয়ান সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নির্ধারণ করা এবং বাজারে মাস্কের সরবরাহের বিষয়টিও লাইভ ম্যাপের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।

তথ্য দেওয়ায় স্বচ্ছতা

দৈনিক সংবাদ ব্রিফিং ছাড়াও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিয়মিত সম্ভাব্য সব অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভ্রমণ, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুপারিশসহ নানা ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণের সামনে ঘোষণা নিয়ে হাজির হন। পাবলিক ও প্রাইভেট খাত থেকেও সরকারকে নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। কার্যত, প্রতিটি দোকান, রেস্তোরাঁ অফিস ভবনে ঢোকার আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করা হয়। এর বাইরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সম্পদ বরাদ্দ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতেই সরকারের পক্ষ থেকে রপ্তানি বন্ধ করে উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়। তহবিল বরাদ্দের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের উৎপাদন কাজে জোর দিতে বলা হয়। জানুয়ারি মাসের মধ্যেই তাইওয়ান ৪ কোটি ৪০ লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক, ১৯ লাখ এন ৯৫ মাস্ক মজুত করে। এ ছাড়া আইসোলেশন রুমও ঠিক করে রাখা হয়।

শিক্ষা ও প্রস্তুতি

ইতালি, ইরান, ফ্রান্স, স্পেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী সরকারগুলো তাদের বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ার জন্য সমালোচিত হচ্ছে। অনেক দেশ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু তাইওয়ান সে ভুল করেনি। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে শুরুতেই যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তাইওয়ানে সংক্রমণের হার কম।

Source & Link: https://www.prothomalo.com/international/article/1646231/

2
COVID-19: IFRC, UNICEF and WHO issue guidance to protect children and support safe school operations

Guidance includes practical actions and checklists for administrators, teachers, parents and children

The International Federation of the Red Cross (IFRC), UNICEF and the World Health Organization (WHO) today issued new guidance to help protect children and schools from transmission of the COVID-19 virus. The guidance provides critical considerations and practical checklists to keep schools safe. It also advises national and local authorities on how to adapt and implement emergency plans for educational facilities.

In the event of school closures, the guidance includes recommendations to mitigate against the possible negative impacts on children’s learning and wellbeing. This means having solid plans in place to ensure the continuity of learning, including remote learning options such as online education strategies and radio broadcasts of academic content, and access to essential services for all children. These plans should also include necessary steps for the eventual safe reopening of schools.

Where schools remain open, and to make sure that children and their families remain protected and informed, the guidance calls for:

Providing children with information about how to protect themselves;
Promoting best handwashing and hygiene practices and providing hygiene supplies;
Cleaning and disinfecting school buildings, especially water and sanitation facilities; and
Increasing airflow and ventilation.
The guidance, while specific to countries that have already confirmed the transmission of COVID-19, is still relevant in all other contexts. Education can encourage students to become advocates for disease prevention and control at home, in school, and in their community by talking to others about how to prevent the spread of viruses. Maintaining safe school operations or reopening schools after a closure, requires many considerations, but if done well, can promote public health.

For example, safe school guidelines implemented in Guinea, Liberia and Sierra Leone during the outbreak of Ebola virus disease from 2014 to 2016 helped prevent school-based transmissions of the virus.

UNICEF is urging schools – whether open or helping students through remote learning – to provide students with holistic support. Schools should provide children with vital information on handwashing and other measures to protect themselves and their families; facilitate mental health support; and help to prevent stigma and discrimination by encouraging students to be kind to each other and avoid stereotypes when talking about the virus.

The new guidance also offers helpful tips and checklists for parents and caregivers, as well as children and students themselves. These actions include:

Monitoring children’s health and keeping them home from school if they are ill;
Encouraging children to ask questions and express their concerns; and
Coughing or sneezing into a tissue or your elbow and avoid touching your face, eyes, mouth and nose.

Link: https://www.who.int/news-room/detail/10-03-2020-covid-19-ifrc-unicef-and-who-issue-guidance-to-protect-children-and-support-safe-school-operations

3
How Corporate Leaders Can Align Their Values And Maximize Impact On A Nonprofit Board

Nonprofits everywhere rely on the generosity of business leaders to contribute to their cause, both personally and professionally. And while they certainly appreciate financial donations, your time is equally, if not more, valuable.

Serving on a nonprofit board gives corporate leaders like you a fruitful opportunity to engage in the missions you care most about, further refine your leadership skills, demonstrate corporate social responsibility, build your network and help nonprofits develop stronger strategic plans.

According to Kevin L. Hagan, Chief Executive of the nonprofit turnaround firm Thrive Impact, and former CEO at Feed the Children and the American Diabetes Association, it can be harder than you might expect to effectively translate your business expertise to a nonprofit board.

Still, it’s worth the effort. Serving on a nonprofit board is important work and can be incredibly valuable to your career, the organization and the community you serve. But before you accept an invitation to join, let’s take a look at some of Kevin’s tips to get you ready for this opportunity and maximize your impact.

1.   Prepare for passion

There are countless nonprofits that cover a multitude of missions and geographies, but there is one thing they all have in common: passion. Passion runs deep in the nonprofit sector, and mission-driven staff expect their board to share a level of personal connection to the organization.

Make sure your motivations for joining go beyond adding the name of the nonprofit to your resume or “checking the box” on a professional requirement. Choose a mission that uniquely speaks to your heart.

Once you’re there, invest time getting to know members of the board and the executive team and learn why the mission resonates with each of them. Ensuring that the board feels like you are “one of them” and that you also want what’s best for the mission will reap dividends in trust and consensus when issues arise later.

2.   Get invested, but stay rational

All that passion is inspiring, but it can also lead to a myopic perspective on business decisions. Sitting in a board meeting, you may wonder why a nonprofit with a serious budget deficit would consider investing in a new program, no matter how worthy the cause.

There are many reasons board members argue for decisions or changes to be made, and it’s crucial to distinguish between emotional, political and objective drivers. Above all, you have a responsibility to govern the organization and make compassionate, but rational, business decisions.

3.   Know where governance starts and ends

A board’s role is to govern the organization, not manage or intervene in its day-to-day operations. Your responsibilities as a board member should be clearly articulated during your onboarding, and if they aren’t, you should ask.

Here they are in two words: You govern. That’s it.

That means you: hire, evaluate, and terminate the chief executive; ensure accountability and integrity in the financials; create a strategic plan and vision for the organization; and ensure that this strategic plan is resourced, supported and evaluated on a regular basis.

It is the CEO’s job to make board members aware when they overstep their role and are interjecting themselves into the operations of the organization, but you can imagine how tense and uncomfortable that ends up being for everyone. A great board member is highly engaged in governance, but lets the CEO and staff run the organization.

4.   Recognize that goal setting isn’t what you’re used to

In the corporate world, it’s important to know your customer—simply defined, the person who purchases your product or service. Business goals target the needs of customers. But for nonprofits, the definition of customer gets much more complex, and you have to understand the relationship layers of clients, beneficiaries and funders.

For example, if you serve on the board of a child hunger organization, the client may be a mother the organization targets with nutrition support, the beneficiary would be the child who receives the food, and the funder could be an individual donor who isn’t connected to either.

Setting organizational goals that keep all the nonprofit audiences and constituents in mind is challenging, but critical. It’s not the linear process you’re used to in business. If you’re doing it right, you will learn to appreciate the nuance of making decisions that serve everyone and positively affect the entire community.

5.   Bring your network with you

The surefire way to become a beloved and effective board member is to add immediate value by opening up access to important relationships. As a business leader, you undoubtedly have a long list of contacts and resources at your disposal—use them.

Access looks different for every nonprofit, but it can range from introducing staff to new donors or high-net-worth individuals, to asking your corporate friends for event sponsorships, to securing donated space or pro bono services or to creating a volunteer engagement strategy at your company.

The best place to start is at the top. Introducing the chief executive to your personal contacts will immediately build trust and a deeper relationship. The magic of effective boards happens when you form a real connection with the CEO, and you can develop this relationship quickly by putting skin in the game.

6.   Own your area of expertise

It’s likely that you were recruited to the board because they needed your particular business skills. Be prepared to serve as an expert in that area.

When issues arise or debates break out, speak up and shape the discussions on the topics you know best. Your voice may be the one that helps the organization make the right decision—or saves them from making the wrong one.

Board dynamics are easily shaped by who speaks first and how credible they are to weigh in on the topic. Come prepared to advise and help the board effectively utilize the talent around the table.

4

বিনা খরচে জাপান যেতে চাইলে দক্ষ হতে হবে

জাপানে কর্মী পাঠানোর তালিকায় নবম দেশ হিসেবে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম। এর ফলে জাপানের ১৪টি খাতে বিশেষায়িত দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলো। বিনা খরচে জাপান যাওয়ার সুযোগ পাবেন দক্ষ কর্মীরা। অন্য দেশের তুলনায় জাপানে আয়ের সুযোগও বেশি। আগামী পাঁচ বছরে সাড়ে তিন লাখ বিদেশি কর্মী নেবে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত এ দেশটি।

আজ মঙ্গলবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত সহযোগিতা সই করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান এবং জাপানের বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অধীনস্থ ইমিগ্রেশন সার্ভিস এজেন্সির কমিশনার সোকো সাসাকি নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। জাপান থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য উপসচিব কাজী আবেদ হোসেন চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সাল থেকে কারিগরি শিক্ষানবিশ হিসেবে কিছু কর্মী যাচ্ছেন জাপানে। কিন্তু অনেক দিন ধরেই জাপানের কর্মী আমদানির তালিকায় প্রবেশের চেষ্টা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ জাপান সফরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল ম্যানপাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (আইএম) জাপানের সঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় সরকারিভাবে বর্তমানে কারিগরি শিক্ষানবিশ হিসেবে কর্মী পাঠানো হচ্ছে সে দেশে। পাঁচ বছরে শিল্পকারখানা, নির্মাণকাজ, কৃষি, অটোমোবাইল, সেবাদানকারীসহ ১৪টি খাতে দক্ষ জনশক্তি নেবে জাপান। আগে থেকেই জাপানের জনশক্তি নেওয়ার তালিকায় আছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। এ তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) হিসাব বলছে, গত বছর মাত্র ১৬৩ জন জাপানে পাঠাতে পেরেছে বাংলাদেশ। চলতি বছর ৪০০ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও জুলাই পর্যন্ত গিয়েছেন ১১৯ জন। আরও প্রায় এক হাজার কর্মীর ভাষা প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলার ২৭টি কেন্দ্রে ৪০ জন করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিএমইটি। চার মাস মেয়াদি জাপানি ভাষা শেখার এসব প্রশিক্ষণের পর পরীক্ষায় বসেন কর্মীরা। উত্তীর্ণ হলে আইএম জাপানের ব্যবস্থাপনায় আরও চার মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষানবিশ হিসেবে তাঁদের জাপানে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিএমইটি সূত্র জানায়, জাপানের মানুষের গড় আয়ু ৮৪ বছর হলেও ১০০ বা তার অধিক বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। বয়স্ক এসব মানুষের সেবার জন্য দক্ষ জনবল দরকার। নির্মাণশিল্প, প্রযুক্তি, নার্সিং, কৃষি, হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টুরিজম খাতেও কাজের সুযোগ আছে সেখানে। থাকা-খাওয়া বাদে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা উপার্জনের সুযোগ পাবেন একজন দক্ষ শ্রমিক। জাপান যেতে অভিবাসন ব্যয় নেই বললেই চলে। তবে বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে জাপান বরাবরই রক্ষণশীল। তাই কোনো অঘটনের কারণে যেন বাজারটি বন্ধ হয়ে না যায়, সেদিকে মনোযোগ দিয়েই এগোচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ না নিয়ে কেউ জাপানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। তাই প্রশিক্ষণের আওতা বাড়াতে গত ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সরকার প্রণীত নীতিমালার আওতায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বিএমইটিতে আবেদন করেছে। এসব আবেদন তদন্ত করে যাচাই-বাছাইয়ের পর মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছে বিএমইটি। মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলে প্রশিক্ষিত শ্রমিকের সংখ্যা আরও বাড়বে। শিগগিরই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে বেসরকারি খাতের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বেসরকারিভাবে ইতিমধ্যেই কেউ কেউ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। সরকারের অনুমোদনের পর এটি আরও বাড়বে।

জনশক্তি রপ্তানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাপানে সবকিছুতেই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার হয়। দক্ষ কর্মীরা এখানে কাজের সুযোগ পাবে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশটির শ্রমবাজারে বেশি হারে কর্মী পাঠাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তবে প্রতিটি ধাপে সরকারের সতর্ক নজরদারি থাকতে হবে।

5

"New Tax Law Increasing Need for Specialized Tax Professionals"

When President Donald Trump signed the new Tax Cuts and Jobs Act into law last December, it included the most sweeping changes to tax structures for corporations in decades, leading companies to assess the impact on their financial statement disclosures and creating additional financial reporting and audit risk considerations to both companies and their external auditors.

With studies showing tax account complexity and judgement errors as common reasons for tax-related misstatements, the Big 4 accounting firms have been focused on addressing the latest tax accounting developments and ASC 740, a set of financial accounting and reporting standards, for the effects of income taxes that result from a company's activities during the current and preceding years.

Companies, when facing increased strain in their internal tax department, may consult with specialized tax professionals to achieve better control over tax accounting issues. Companies typically use either one or a combination of (1) their external auditor, (2) other consultants including tax and law firms, or (3) their internal tax departments for tax compliance and planning services.

In addition to the reduction in the corporate tax rate from 35 to 21 percent, tax professionals face a new tax regime for foreign earnings and a mandatory earnings repatriation tax, new limits on interest and net operating loss deductions, the elimination or expansion of deductions, the retirement of tax credits and the creation of even more.

According to the research report "The 2017 Top 100 Firms and Regional Leaders" from Accounting Today, the Big 4 accounting firms remain in the top five tax firms in the United States. During the 10-year period between 2007 and 2016, most of the Big 4 public clients have purchased tax services (73 percent per Audit Analytics data) from their audit firms due to perceived cost savings and knowledge spillover benefits of integration. The new tax law will undoubtedly drive even more growth for Big 4 tax services.

Jian Cao is an associate professor and Stone Fellow in the School of Accounting at Florida Atlantic University's College of Business. The opinions expressed in this article are those of the author and do not reflect or represent the opinions of Florida Atlantic University.

SOURCE Florida Atlantic University College of Business

Related Links
http://www.fau.edu

6
বাংলাদেশে যেতে কেউ আপত্তি করবে না, গার্ডিয়ানের আশা

     
নিরাপত্তা-ব্যবস্থাপনায় একটা মানদণ্ডই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: রয়টার্স।

পান থেকে চুন খসলেই খবর হয়ে যেত। ব্রিটিশ মিডিয়া সদাসতর্ক চোখ রেখেছিল প্রতিটি মুহূর্তে। সেই কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ লেটার নম্বর নিয়েই পাস করেছে। ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) তো বটেই, দেশটির মিডিয়াও বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে স্যালুট করছে। শুধু তা-ই নয়, প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান মন্তব্য করেছে, এরপর অন্যান্য টেস্টখেলুড়ে দলগুলো বাংলাদেশে যাওয়ার ব্যাপারে উত্সাহী হবে।

গুলশান ট্র্যাজেডির পর স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি দলগুলো বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে শঙ্কিত ছিল। এই হামলার ঢের আগেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দুই দফায় তাদের মূল ও বয়সভিত্তিক দল পাঠায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকাও স্থগিত করেছে তাদের নারী ক্রিকেট দলের সফর। হামলার পরে পরিস্থিতি তো আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। ইসিবি যদি কোনো কারণে এই সফরে দল না পাঠাত, কে জানে, বাংলাদেশ হয়তো হয়ে যেত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নিষিদ্ধ এক স্থান।

ইংলিশ মিডিয়ার একটা বড় অংশ থেকে এই সফরের ব্যাপারে সন্দিহান ছিল। তবু ইসিবি তাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তার পরামর্শে এই সফর করেছে। আর সেই সফরটার প্রতিটা মুহূর্ত নিখুঁত নিরাপত্তাব্যবস্থাপনা দিয়ে বাংলাদেশ এখন একটা মানদণ্ডই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে প্রশংসা করেছে ইসিবি।

দেশটির মিডিয়াও প্রশংসা করছে। ইংল্যান্ড দলকে অনুসরণ করে দেশটির সাংবাদিকেরা এখন ভারতে। সেখান থেকেই গার্ডিয়ানের সাংবাদিক ভিক মার্কস লিখেছেন, ‘ইংল্যান্ড দলের নিরাপত্তাব্যবস্থাপনায় সে সাফল্য পাওয়া গেছে, তাতে আরও বেশি টেস্ট দল বাংলাদেশ সফরে যাবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।’

নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর প্রত্যেক কর্মীকেও ইসিবির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে রেগ ডিকাসনের নাম। ইংল্যান্ড দলের নিরাপত্তা দেখভাল করার দায়িত্ব তাঁর। ডিকাসনই সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে সফরটা হয়েছে। ডিকাসনের নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়াই কিন্তু প্রথমে সফর স্থগিত করেছিল। একসময় মেলবোর্ন পুলিশে কাজ করা ডিকাসনের সিদ্ধান্তের ওপর পরোক্ষে কি আস্থা রাখবে অস্ট্রেলিয়াও?

স্থগিত সফরটি পূর্ণ করতে আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশে আসার কথা। ইংল্যান্ড দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চোখ ছিল তাঁদেরও। এমনকি এই সিরিজের মধ্যে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তা শন ক্যারল বাংলাদেশে এসে ঘুরেও গেছেন সব নিজের চোখে দেখে।
 
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ক্রিকেট পোর্টাল ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ায়’ লন্ডনভিত্তিক ক্রিকেট লেখক ক্রিস স্টোকসের নিজ চোখে দেখা বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিশাল এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ‘বাংলাদেশের নিরাপত্তাবলয়ের ভেতর থেকে’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে স্টোকস নিজ চোখে দেখা নিরাপত্তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন। যেটি অস্ট্রেলিয়াকেও বাংলাদেশের ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিতে ভাবতে সাহায্য করবে।

7
বাংলাদেশকে ইসিবির ধন্যবাদ

     
স্বপ্নের ইংল্যান্ড সিরিজ শেষে দুই দিনের জন্য বাড়ি গিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সেখানে ভেসেছেন মানুষের ভালোবাসায়। কিন্তু খুব দ্রুত সেসব ভুলে আবারও তাঁকে ফিরতে হচ্ছে খেলার মাঠে। আগামীকাল রাজশাহী কিংস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ সংস্করণ। এ ম্যাচে রাজশাহীর মূল অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন মিরাজ। কোচ সরওয়ার ইমরান ও ‘আইকন’ সাব্বির রহমান হয়তো সে কথাই মনে করিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন নায়ককে l শামসুল হক

কালই বাংলাদেশ ছেড়ে গেছে ইংল্যান্ড দল। এক মাস লম্বা সফরে দুর্দান্ত কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়ে ভারতে গেল ইংলিশ দল। অথচ এ সফরটা তো বাতিলই হতে বসেছিল। গত জুলাইয়ে গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার জেরে বাংলাদেশ সফরে নিরাপত্তা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু সব শঙ্কাকে পাশ কাটিয়ে সর্বাঙ্গ সুন্দর এক সফর শেষ করল তারা। নিরাপত্তাব্যবস্থায় তৃপ্ত ইংলিশ দল তাই বিদায়বেলায় ধন্যবাদ জানিয়ে গেল বাংলাদেশকে।

অথচ আগস্ট-সেপ্টেম্বরেও অক্টোবরের এই সফর ঘিরে ফিরে ফিরে আসছিল ২০১৫ সালের অক্টোবরের স্মৃতি। নিরাপত্তাকে কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটা বাতিল করে অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার পথে হাঁটেনি। এ জন্য বাংলাদেশ একজন অস্ট্রেলিয়ানকেই ধন্যবাদ দিতে পারে। ইসিবির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রেগ ডিকাসনের দেওয়া ইতিবাচক প্রতিবেদনেই সফরটি দেখে আলোর মুখ। ডিকাসন কিন্তু একজন অস্ট্রেলিয়ান।

সফরটি সফলভাবে শেষ করতে পেরে উল্টো বাংলাদেশই পেল ডিকাসনের ধন্যবাদ। ইসিবির ওয়েবসাইটে বাংলাদেশকে প্রশস্তিতে ভাসিয়েছেন ডিকাসন। এ সফরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে তাঁর কর্মজীবনের সেরা বলেছেন তিনি, ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ২০ বছর ধরে কাজ করছি আমি। এখানে যা দেখেছি, বাংলাদেশ সরকার যা করেছে, নিরাপত্তার ব্যাপারে সেটা আমার দেখা সেরা। এ মুহূর্তে এটাকেই মানদণ্ড ধরা উচিত।’

সফর নিয়ে বাংলাদেশের দেওয়া আশ্বাসবাণীতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে সফরে আসেননি ওয়ানডে অধিনায়ক এউইন মরগান ও ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। কিন্তু দলের বাকি সদস্যরা নিশ্চিন্তেই বাংলাদেশে এসেছেন। কারণ বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে ডিকাসনের মনোভাব। দলের বেশ কিছু সদস্য প্রকাশ্যেই ডিকাসনের ওপর তাঁদের আস্থার কথা জানিয়েছেন। মাইকেল ভনও সফরের আগে মরগানদের আশ্বস্ত করেছেন, ডিকাসনের প্রতিবেদনের ওপর আস্থা রাখার জন্য। কাল ডিকাসনই বলেছেন খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তাঁর কাছে, ‘আমি অবশ্যই চিন্তিত ছিলাম। আমি মানসিকভাবে এমনিতেই একটু রক্ষণশীল। আর মানুষের নিরাপত্তা তো হালকা বিষয় নয়। আমরা সব সময় দলের একটু আগে বের হয়েছি এবং ক্রিকেট বোর্ডের সহযোগিতায় নিশ্চিত করেছি, তারা যে প্রতিজ্ঞা করেছে সে অনুযায়ীই কাজ করছে। আমাদের যে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’

নিরাপত্তার ব্যাপারে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগে বাংলাদেশ সফর করে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নিয়েছেন ডিকাসন, ‘আমি জন কার (ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান) ও ডেভিড ল্যাথারডেলকে (খেলোয়াড়দের সংগঠনের প্রধান নির্বাহী) নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছি। সংশ্লিষ্ট সবার (বোর্ড, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গেই বসেছি। আমাদের যা বলা হয়েছে এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সফরটি হওয়া উচিত।

ইংল্যান্ড দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থাই নিয়েছিল বাংলাদেশ। ইংলিশদের জন্য দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। অনেকটা সময় রাস্তায় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে মানুষজনকে। ডিকাসন সেটিও উল্লেখ করেছেন তাঁর ধন্যবাদ বার্তায়, ‘এটি বাংলাদেশের মানুষের ত্যাগ ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা ওদের অনেক বিড়ম্বনায় ফেলেছি। আমাদের খেলোয়াড়েরা, পুরো দলই সেটা জানত। সে জন্যই আমরা সব জায়গায় সময়মতো গিয়েছি। কারণ আমরা যদি ১ মিনিটও দেরি করতাম, তাহলে সেটা আরও ১ লাখ লোককে বিপদে ফেলে দিত। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ দারুণ সহযোগিতা করেছে।’

কাল দুপুরে হোটেল ত্যাগের সময় ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকও বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ‘আমরা এ সফরটি দারুণ উপভোগ করেছি। সবাইকে ধন্যবাদ, অসাধারণ আতিথেয়তার জন্য! সফরে সবকিছু ঠিক ছিল, দারুণ সময় কাটিয়েছি।’ সূত্র: ইসিবি ওয়েবসাইট।

8
শেষ বিকেলের আলোয় উদ্ভাসিত আমির


নতুন একটা জীবন শুরু করলেন আমির লর্ডস টেস্ট দিয়ে। ছবি: এএফপি

লর্ডস টেস্টকে বলা হচ্ছিল মোহাম্মদ আমিরের শাপমোচনের মঞ্চ। একই মাঠে ছয় বছর আগে স্পট ফিক্সিং–কাণ্ডে জড়িয়ে তিনি যে অন্যায়টা করেছিলেন, সেই পাপ থেকে মুক্তির ক্ষেত্র।

আমিরকে ‘হোম অব ক্রিকেটে’ কীভাবে অভ্যর্থনা করা হবে, এসব নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ছিল বিস্তর। তবে মাঠে খেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমির মূল চরিত্র থেকে পার্শ্বচরিত্রে বদলে গেলেন। কিন্তু আবার তিনিই লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের স্মরণীয় জয়ের শেষ অঙ্কের নায়ক। শেষ বিকেলে দুটি উইকেট নিয়েছেন, দুটিই বোল্ড করে। আমিরের জীবনের উত্থান-পতনের গল্পটার প্রতীকও যেন হয়ে থাকল এই লর্ডস টেস্ট!


২০১০ সালের লর্ডস টেস্টে সেদিন ৮৪ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের নাম ‘অনার্স বোর্ডে’ তুলেছিলেন সে সময়ের ১৮ বছর বয়সী আমির। কিন্তু এমন কীর্তি ঢাকা পড়ে গেল স্পট ফিক্সিংয়ের কালো ছায়ায়। জানা গেল এমন বোলিং-কীর্তির মধ্যেও জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমির ইচ্ছাকৃত নো বল করেছেন কয়েকবার। নাটকটা যদিও সে সময়ের অধিনায়ক সালমান বাটের নির্দেশনায় মঞ্চায়িত হয়েছিল, কিন্তু তাতে যোগসাজশের কারণে বাটের সঙ্গে ফেঁসেছিলেন আমির ও মোহাম্মদ আসিফ।

খুব সম্ভবত সেই সময়টার কথা মনে করলে আজও আতঙ্কে নীল হয়ে যান আমির। নায়ক থেকে হঠাৎই খলনায়ক। নির্বাসিত জীবন। কী যন্ত্রণা, খুব অল্প বয়সেই আমির সেটা বুঝে গিয়েছিলেন। ক্রিকেট থেকে পাঁচ বছরের জন্য কেবল নিষিদ্ধই হলেন না, ইংল্যান্ডের তরুণ অপরাধীদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি ইনস্টিটিউটে তিন মাস বন্দিজীবনও কাটালেন। লোভের ফাঁদে পড়ে অন্ধকার জীবনের তলানিতেই যেন পৌঁছে যাচ্ছিলেন ধীরে ধীরে। সেখান থেকে হঠাৎ​ই ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠা। রঙিন পোশাকে রং ঝলমলে ফেরার পর অনেকটা কাকতালীয়ভাবে সেই লর্ডসেই আবারও ফিরেছে টেস্ট ক্রিকেটে। যে ম্যাচ শুরুর আগে আলোচনায় শুধুই তিনি।

অথচ প্রথম ইনিংসে বাজে বোলিং করলেন। ‘নার্ভাস’ যে ছিলেন, বোঝা গেছে স্পষ্ট। পেলেনও মাত্র একটি উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসেও একেবারে ধারহীন। কিন্তু আমির কি একেবারেই আড়ালে থাকবেন! না, ঠিক সময়ে আলোটা টেনে নিলেন নটেগাছটি মুড়িয়ে দিয়ে। ২০ বছর পর লর্ডসে স্মরণীয় এক জয় পেল পাকিস্তান। আমিরকে লর্ডস-দুঃস্বপ্ন ভোলাতে এ রকমই একটা জয় তো দরকার ছিল!

ছয় বছর আগে এক অধিনায়ক সালমান তাঁকে ভুল পথে পরিচালিত করেছিলেন। ছয় বছর পর আরেক অধিনায়ক মিসবাহ পিতার স্নেহে যেন প্রতিটা মুহূর্ত আগলে রাখলেন। কাল জ্যাক বলকে যখন বোল্ড করে আমির যখন নিশ্চিত করলেন পাকিস্তানের জয়, অধিনায়ক মিসবাহ তখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। মিসবাহ নিজেই বলেছেন, লর্ডসের মধ্য দিয়ে নতুন জীবন শুরু হলো আমিরের। শুরু হলো নতুন এক পথচলা। বলকে আউট করার ওই মুহূর্তটি মিসবাহর ভাষায়, ‘আমিরের জন্য বিশেষ এক মুহূর্ত।’

লর্ডস টেস্টে আমিরকে যথেষ্টই ‘মানসিক প্রতিবন্ধকতা’ সামলাতে হয়েছে। তবে মিসবাহ মনে করেন টেস্ট সিরিজের সামনের দিনগুলোতে আমির নিজেকে ফিরে পেতে থাকবে দারুণ করেই, ‘সে অবশ্যই নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটাতে থাকবে। মানসিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হওয়াটাই স্বাভাবিক, বিশেষ করে লর্ডসের মাঠেই তার জীবনে যা ঘটে গেছে, সেটা মনে করলে তো অবশ্যই। আমার মনে হয় ব্যাপারটা এখন কেটে গেছে, সে অবশ্যই পাকিস্তান দলের আরও কার্যকর অস্ত্র হয়ে উঠবে সামনের দিনগুলোতে।’

আমির প্রতি ব্যক্তিগত শুভকামনাও জানিয়েছেন অধিনায়ক মিসবাহ, ‘সে অনেক ভাগ্যবান। দ্বিতীয় একটা সুযোগ সে পেয়েছে। এখন আমি আশা করি, সে নিজেকে একজন সত্যিকারের ভালো মানুষ, একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব ও ভালো ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলবে।’ সূত্র: এএফপি।

9
Cricket / এ যুগের ‘হবস’ !!!
« on: July 16, 2016, 10:11:13 AM »
এ যুগের ‘হবস’

 
রেকর্ডভাঙা ইনিংসের পথে মিসবাহর একটি পুল l

ইমরান খানের মতো গ্ল্যামারাস তিনি নন। শহীদ আফ্রিদির মতো হেয়ার স্টাইল তাঁর নেই। রমিজ রাজার মতো ইংরেজি বাচনভঙ্গিও আয়ত্ত করতে পারেননি। সত্যি কথা বলতে, পাকিস্তানি ক্রিকেটার বললে সাধারণত যেমন ছবি চোখে ভাসে, মিসবাহ-উল-হককে তার সঙ্গে খুব বেশি মেলানো যায় না। ব্যাট হাতে এমনভাবে মাঠে নামেন, যেন শরীরে শক্তি বেশি অবশিষ্ট নেই। দেখে মনে হয়, জগতের কোনো কিছুতেই তাঁর আগ্রহ নেই। আর এককথায় তাঁর খেলা—‘বিরক্তিকর’।

তারপরও কী কারণে তিনি পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক? কেনই-বা তিনি অবসর নিতে গেলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অনুরোধ করে আরও কটা দিন খেলে যেতে?
এসব প্রশ্নের উত্তর পরশু লর্ডসে আরও একবার দিলেন মিসবাহ। চল্লিশ পেরোলেই চালশে কথাটাকে আগেই ভুল প্রমাণ করেছেন অনেকবার। এবার ৪২ বছর ৪৭ দিন বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরি করে আরেকবার বিস্মিত করলেন অনেককে। গত বছর নভেম্বরে এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই সিরিজ শেষে ক্রিকেট ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। পরে আরও কিছুদিন খেলে যেতে রাজি হয়েছেন পিসিবির অনুরোধে।

ক্যারিয়ারের এই অতিরিক্ত সময়টাও কী দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসেই করেছেন ১১৪ রান।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে মিসবাহ একটি নতুন দাগ কেটেছেন পরশু প্রথম দিনেই। তাঁর চেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি করতে পারেননি আর কোনো অধিনায়ক! মিসবাহ পেছনে ফেলেছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ববি সিম্পসনকে।

টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরির দুটি রেকর্ডই জ্যাক হবসের। একটি ১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৪৫ বছর ২৩৯ দিন বয়সে। পরের বছর নিজের গড়া সেই রেকর্ড ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন ৪৬ বছর ৮২ দিন বয়সে। স্যার হবসের ১৫ সেঞ্চুরির আটটিই চল্লিশ পেরোনোর পর! মিসবাহ যেন এ কালের হবস। ৪০ পেরিয়ে পাঁচটি সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। সবগুলোই অধিনায়ক হিসেবে। চল্লিশ পেরোনোর পর তিনটির বেশি সেঞ্চুরি নেই আর কোনো অধিনায়কের। বয়সের সীমাটাকে আর অল্প একটু বাড়ান‍—৩৯ পেরিয়ে মিসবাহর সেঞ্চুরি সাতটি!

শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই টেস্ট ইতিহাসে মিসবাহর চেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি আছে মাত্র আটটি, করেছেন পাঁচজন। জ্যাক হবসেরই আছে চার সেঞ্চুরি। এ ছাড়াও মিসবাহর ওপরে আছেন ইংল্যান্ডের প্যাটসি হেনড্রেন, অস্ট্রেলিয়ার ওয়ারেন বার্ডসলি, দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভ নার্স ও ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঙ্ক উলি।

ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে সুযোগ মিলল ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলার, প্রথম টেস্টটাই ক্রিকেট-তীর্থে। তারপর এই রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি। সেটিকে উদ্‌যাপনেও কী দারুণভাবে স্মরণীয় করে রাখলেন মিসবাহ! সেঞ্চুরির পর হেলমেট খুলে প্রথমে সতীর্থদের জানালেন স্যালুট। এরপর সবাইকে অবাক করে মাটিতে নুয়ে একের পর এক দিলেন বুক ডন! যেন বোঝাতে চাইলেন, ৪২ পেরোলেও তাঁর চালশে হয়নি।

পরে সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য বুক ডনের রহস্য ফাঁস করেছেন। ইংল্যান্ড সফরের আগে অ্যাবোটাবাদের সেনানিবাসে অনুশীলন করেছিল পাকিস্তান দল। সেখানে সবার শারীরিক সামর্থ্যের বড় একটা পরীক্ষাও হয়। সৈন্যদের কাছে একটা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন মিসবাহ, ‘আমি সৈন্যদের কথা দিয়েছিলাম সেঞ্চুরি করতে পারলে বুক ডন দেব। ক্যাম্পে একটা নিয়ম ছিল দশটা করে বুক ডন দেওয়ার। আমি তখন বলেছিলাম সেঞ্চুরি করতে পারলেই এটা করব। আর স্যালুট দিয়েছি পতাকাকে।’

ক্রিকেটের তীর্থে সেঞ্চুরি করে রোমাঞ্চিত মিসবাহ, ‘লর্ডসে খেলা তো স্বপ্নের মতোই ব্যাপার। তারপর যদি আপনি সেঞ্চুরি পেয়ে যান, অনার্স বোর্ডে নাম ওঠে, তাহলে তো কথাই নেই। এটাকে টেস্ট ক্রিকেটে আমার অন্যতম সেরা ইনিংস বলব।’ এএফপি।

সবচেয়ে বেশি বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরি

                               রান      বয়স                       প্রতিপক্ষ           মাঠ                 তারিখ         

জ্যাক হবস (ইংল্যান্ড)          ১৪২    ৪৬ বছর ৮২ দিন    অস্ট্রেলিয়া       মেলবোর্ন       ৮ মার্চ ১৯২৯

জ্যাক হবস (ইংল্যান্ড)          ১৫৯    ৪৫ বছর ২৩৯ দিন  ওয়েস্ট ইন্ডিজ    ওভাল          ১১ আগস্ট ১৯২৮

প্যাটসি হেনড্রেন (ইংল্যান্ড)    ১৩২    ৪৫ বছর ১৫১ দিন   অস্ট্রেলিয়া       ম্যানচেস্টার      ৬ জুলাই ১৯৩৪

জ্যাক হবস (ইংল্যান্ড)          ১০০    ৪৩ বছর ২৪১ দিন   অস্ট্রেলিয়া       ওভাল          ১৪ আগস্ট ১৯২৬

ওয়ারেন বার্ডসলি (অস্ট্রেলিয়া) ১৯৩*  ৪৩ বছর ২০২ দিন   ইংল্যান্ড         লর্ডস           ২৬ জুন ১৯২৬

জ্যাক হবস (ইংল্যান্ড)          ১১৯    ৪৩ বছর ১৯২ দিন   অস্ট্রেলিয়া       লর্ডস           ২৬ জুন ১৯২৬

ডেভ নার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা)    ১১১     ৪২ বছর ২৯১ দিন   অস্ট্রেলিয়া       জোহানেসবার্গ  ১২ নভেম্বর ১৯২১

ফ্র্যাঙ্ক উলি (ইংল্যান্ড)          ১৫৪    ৪২ বছর ৬১ দিন     দক্ষিণ আফ্রিকা  ম্যানচেস্টার      ২৭ জুলাই ১৯২৯

মিসবাহ-উল-হক (পাকিস্তান)   ১১৪      ৪২ বছর ৪৭ দিন       ইংল্যান্ড            লর্ডস               ১৪ জুলাই ২০১৬

জ্যাক হবস (ইংল্যান্ড)          ১১৯    ৪২ বছর ৩১ দিন     অস্ট্রেলিয়া       অ্যাডিলেড      ১৬ জানুয়ারি ১৯২৫

মিসবাহর রেকর্ড



মিসবাহই সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি করা টেস্ট অধিনায়ক। পেছনে পড়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার ববি সিম্পসন। ১৯৭৮ সালে ভারতের বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক সেঞ্চুরি করেন ৪১ বছর ৩৫৯ দিন বয়সে।



চল্লিশ পেরিয়ে সবচেয়ে বেশি পাঁচ টেস্ট সেঞ্চুরি, সবগুলোই করলেন অধিনায়ক হিসেবে। অধিনায়ক হিসেবে আগে তিনটি সেঞ্চুরিই ছিল সর্বোচ্চ।



পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে আটটি সেঞ্চুরি মিসবাহর। পেরিয়ে গেছেন ইনজামাম-উল-হকের সাত সেঞ্চুরির রেকর্ড।



ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরি পাওয়া তৃতীয় পাকিস্তানি অধিনায়ক। আগে এই কীর্তি ছিল শুধু হানিফ মোহাম্মদ ও জাভেদ মিয়াঁদাদের।



লর্ডসে মিসবাহর চেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র দুজন—অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ওয়ারেন বার্ডসলি ও ইংল্যান্ডের জ্যাক হবস। ১৯২৬ সালের অ্যাশেজের এক টেস্টে বার্ডসলি সেঞ্চুরি করেন ৪৩ বছর ২০২ দিন বয়সে, হবস ৪৩ বছর ১৯২ দিন।

10
Football / 'Would love to spend more time with my family'
« on: June 25, 2016, 10:11:24 AM »
'Would love to spend more time with my family'


Ace all-rounder Shakib Al Hasan is all set to complete 10 years in international cricket on August 6 this year. However, there is a high chance that the player will not be in the country to celebrate that landmark. He will be leaving for the West Indies to take part in the Caribbean Premier League today and is expected to be there for at least one-and-a-half months.

As a result, The Daily Star's Naimul Karim spoke to him regarding his decade-long ventures beforehand. The first segment of the exclusive interview was published yesterday. The following are excerpts of the second and final segment.

The Daily Star (TDS): From the Asia Cup, the World T20, the Indian Premier League, the Dhaka Premier League and now to the Caribbean Premier League. Don't you get tired? You are, after all, almost 30.

Shakib Al Hasan (SAH): (Laughs). Actually this is the time to play for me. I'll probably play for six to seven more years if I am in good form. Basically, the more I play now, the more I improve. Cricket is everything, an income source, my love, part of life, so you can never be tired or you can never feel bad about playing. Yes, I might get a bit tired physically, but mentally there is no chance for me to feel weak.

TDS: How different is life now with your child and your family?

SAH:  I don't think my life has changed that much. I am just a little bit busier. What I miss doing is spending more time with my family. That is something I have not been able to do in the last few months and I regret that. Apart from that I don't have anything else that I regret.

That's because I love playing and I can never leave that. If I play less and give my family more time, I don't think I'll enjoy that either. What I have to do is play the same number of games and find a way to spend more time with my family.

I am sure I can do that. There will be some periods in a player's life when you are busy. After the CPL I will be able to spend plenty of time with my family in Bangladesh.

TDS: Is your family traveling along with you to see the CPL?

SAH: No. Not this time because my daughter is still not a year old. We will start traveling after she turns one. My wife is very cautious about my child's health. I think that's partly because she grew up in America and she wants everything to be perfect (laughs). She does not want to take any risk. But generally, my wife and I always travel together.

TDS: You, Tamim Iqbal, Mushfiqur Rahim are all around the decade mark. Do you think the next few years could be Bangladesh's golden era?

SAH: It may be the case because, if you see, all the teams are going through transitions or have just finished their transition at the moment. In our case, the transition happened a long time ago. And those present right now are established. We have seven to eight players who have played at least 70 to 80 ODIs each. The five of us, Mashrafe bhai, Mushfiq bhai, Tamim, Riyad bhai have played 150 ODIs each. Even [Abdur Razzak] Raj bhai has played 150 ODIs. I think in world cricket, there are few players who have played 100 ODIs at the moment. Every team may have three to four players but they won't have as many as seven to eight. So that's an advantage for us.

TDS: With six or seven more years to go, is there any particular place you want to see yourself reach by the end of your career?

SAH: I think if I set a target, it's going to get difficult. Alhamdulillah, what's happening now is going well. I will try to make it better. I will feel really good if I see that my team is in a good place before I finish. We had a good year in 2015. If we can continue this for the next few years and we are in good form, with the 2019 World Cup, I feel we have a good opportunity.

TDS: And maybe you see yourself as a captain as well. It's something that you enjoy, right?

SAH: No… it would be wrong to say that I enjoy captaincy. If someone hands it over to me, then that's because in that particular moment I am the best possible person to lead the team and I will try my best. But it's not as though I want this. If I get it, it's fine, but I don't care. Honestly speaking I don't even think about it.

TDS: Lastly, do you have anything else to say regarding your 10-year experience? What has been the ultimate learning?

SAH: We learn everyday. There have been many ups and downs in the last 10 years. People learn a lot when they struggle, but I feel I learnt a lot in my good times as well. I think the amount of love from the audience that I have received here… this would not have been possible to get in other countries. It's a big privilege for me and everyone in the national team. I am also really happy about our batch. We are contributing well to the national team. When I started playing cricket, everyone used to ask us where we wanted to see Bangladesh in the next six to seven years and we used to say that we want to see ourselves in the top five. Now we are ranked seven. If we do well in the next two series we may reach five. Back then we used to say these things just because we had to. Reality was different. But I think the fact that we could say these things was quite gutsy.

11
লেস্টারের রূপকথা, রূপকথার লেস্টার


এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। চেলসি-টটেনহাম ম্যাচে রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে ফেটে পড়লেন ভার্ডির বাসায় জড়ো হওয়া লেস্টারের খেলোয়াড়েরা (বাঁয়ে)। সমর্থকদের উল্লাস অবশ্য ছড়িয়ে পড়ল পুরো লেস্টার শহরেই l মেইল অনলাইন

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে ড্রটাকে মনে হচ্ছিল ছোট্ট একটা ধাক্কা। লেস্টার সিটির হয়তো একটু শঙ্কা ছিল, যদি পরের দুই ম্যাচেও হোঁচট খেতে হয়ে? যদি টটেনহাম হটস্পার শেষ দিকে এসে সব ভন্ডুল করে দেয়? শঙ্কাটা ২৪ ঘণ্টার বেশি টিকল না। চেলসির মাঠে পরশু প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়ে ফিরল টটেনহাম। ওদিকে উল্লাসে ফেটে পড়ল লেস্টার শহরের পাবে-বারে, বাসায় টিভির সামনে বসে প্রার্থনা করতে থাকা হাজারো সমর্থক। সব অনিশ্চয়তা দূর হয়ে গেছে। মৌসুমজুড়ে এক পাতা-দু পাতা করে লিখতে থাকা রূপকথায় সুন্দর সমাপ্তিও এসে গেছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন চ্যাম্পিয়ন লেস্টার!


ক্লদিও রানিয়েরি, যাঁর হাত ধরে এসেছে লেস্টারের শিরোপা l এএফপি

শুধু ফুটবল নয়, খেলাধুলার ইতিহাসেই সুন্দরতম রূপকথায় নিশ্চিত ঠাঁই পাবে লেস্টারের এই অবিশ্বাস্য অর্জন। ক্লাবের ১৩২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সবার ওপরে নিজেদের নামটি লিখিয়ে নিল লেস্টার। কিন্তু মৌসুম শুরুর আগে কে ভেবেছিল এমন অবিশ্বাস্য কিছু হবে? লেস্টারের ঘরের ছেলে, সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকারই তো এই অর্জনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভাষাহীন হয়ে পড়লেন, ‘খেলার ইতিহাসেই একে ছাপিয়ে যায় এমন কোনো অর্জন খুঁজে পাচ্ছি না। আমি আবেগে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছি। সাত বছর বয়স থেকেই লেস্টারের মৌসুম টিকিটধারী আমি। এটা স্রেফ অবিশ্বাস্য!’

অদৃষ্টবাদী হলে এই অবিশ্বাস্য গল্পটাতে প্রকৃতির খেয়াল টের পাওয়ার কথা। তবে তাতে লেস্টারের প্রতি হয়তো একটু অপমানই হবে। মৌসুমজুড়ে অবিশ্বাস্য খেলে বর্ষসেরা খেলোয়াড় (খেলোয়াড়দের ভোটে) হওয়া রিয়াদ মাহরেজ দলকে টেনে নিয়ে গেছেন, প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড টানা ১১ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়া স্ট্রাইকার জেমি ভার্ডি গোলমুখে ছিলেন ভরসার প্রতীক। আর ডাগআউটে ছিলেন একজন জাদুকর—ক্লদিও রানিয়েরি। লেস্টারে এসেছিলেন অবনমন এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে, এসেই দলটাকে এক আশ্চর্য জাদুমন্ত্রে জাগিয়ে তুললেন ইতালিয়ান কোচ। নামও আছে এই মন্ত্রের—‘ডিলি ডিং, ডিলি ডং!’ মৌসুমের শুরুতে অনুশীলন সেশনগুলোতে খেলোয়াড়দের ফোকাস ধরে রাখতে এই অদ্ভুত মন্ত্র বলতেন ৬৪ বছর বয়সী কোচ। হাস্যকর হলেও বিশ্বাস করতেই হচ্ছে, জাদুমন্ত্রের হাত ধরেই যে এল শিরোপা।

শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার সময়টা একসঙ্গে মিলে উদ্যাপন করেছেন লেস্টারের খেলোয়াড়েরা, জেমি ভার্ডির বাসায় বসেই সবাই দেখেছেন চেলসি-টটেনহাম ম্যাচটা। চাইলে একে মৌসুমজুড়ে প্রতিটি ম্যাচে একসঙ্গে লড়ে যাওয়ার প্রতীকও ধরে নিতে পারেন। অধিনায়ক ওয়েস মরগানও তা মনে করিয়ে দিলেন, ‘সবাই এই মুহূর্তটির জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমরা এমন কিছু করতে পারব, সেটি কেউই বিশ্বাস করেনি। কিন্তু এই যে আমরা এখানে, প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন এবং সেটা যোগ্য হিসেবেই।’ আর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই লেস্টারে খেলা মিডফিল্ডার অ্যান্ডি কিংয়ের চোখে অবিশ্বাসের ঘোর, ‘ভেবেছিলাম এই ক্লাবের হয়ে যা কিছু দেখা সম্ভব সব দেখে ফেলেছি। কিন্তু এমন কিছু দেখব, এটা কখনো ভাবিনি।’

সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এমন অর্জনে ভেসে যাওয়ার সময়ে অবশ্য চেলসিকেও একটা ধন্যবাদ দিয়েছেন লেস্টার কোচ রানিয়েরি। পরশু স্টামফোর্ড ব্রিজে ম্যাচ শেষে চেলসি কোচ গাস হিডিঙ্কই রসিকতা করে বললেন, ‘তিনি (রানিয়েরি) আমাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানালেন, আমিও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছি। মুখোমুখি কথা হয়নি বলে তিনি কাঁদছিলেন কি না, সেটা তো বলতে পারছি না। তবে গলা কাঁপছিল তাঁর। বেশি কিছু বলেননি তিনি, শুধু ধন্যবাদ জানিয়েছেন—পাঁচবার!’

ধন্যবাদ পাবে লেস্টারও, ফুটবল অনুরাগীদের কাছ থেকে। এই পেট্রোডলারের ঝনঝনানির যুগেও শুধু চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা দিয়েই যে শিরোপা জিতে নিল তারা। বুঝিয়ে দিল, অর্থের চোখ রাঙানির সামনে সবুজ মাঠে চাইলে এভাবেও রূপকথা লেখা যায়। সূত্র: রয়টার্স।



একজন জাদুকর

ক্লদিও রানিয়েরি
     
অলক্ষ্যে বসে কেউ একজন নিশ্চয়ই লিখছিল পুরো স্ক্রিপ্ট। ক্লদিও রানিয়েরির জীবনে যা ঘটল, এ যেন সত্যিকারের পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়। যেন চরম ফ্যান্টাসি, মেলো ড্রামায় বিশ্বাসী কোনো খেয়ালি লেখক কল্পনার খ্যাপা ঘোড়াটাকে ইচ্ছেমতো ছুটিয়েছেন। যা ঘটল, সেটা রানিয়েরির নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে তো!

পরশুর ব্যাপারটিই খেয়াল করে দেখুন। চেলসির মাঠে নিশ্চিত হলো রানিয়েরির রূপকথা। সেই চেলসি, ২০০৪ সালে যারা এই রানিয়েরিকে ফেলে দিয়েছিল বাতিলের খাতায়!

সেদিন নীরবে ইংল্যান্ড ছাড়া রানিয়েরি গত বছর আরও নীরবে ফিরে এসেছিলেন ইংল্যান্ডে, লেস্টার সিটির দায়িত্ব নিয়ে। তবে রানিয়েরির জীবনের গল্পটা আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে ১৫ মে। যখন চেলসির মাঠে ঢোকার সময় পুরো স্টেডিয়াম, সব খেলোয়াড় মিলে তাঁকে আর তাঁর দলকে দেবে গার্ড অব অনার। এবারের লিগে চেলসির মাঠেই লেস্টারের শেষ ম্যাচ। ফুটবলের কেতা অনুযায়ী চ্যাম্পিয়নদের গার্ড অব অনার প্রাপ্য। কিন্তু সেদিনের গার্ড অব অনার শুধু নিয়মরক্ষার হবে না, হবে ‘বাতিল’ হয়ে যাওয়া রানিয়েরির ঠিক এক যুগ পর চেলসিতে মাথা উঁচু করে ফেরা!

১৯৮৬ সাল থেকে কোচ হিসেবে কাজ করছেন। ঠিক ৩০টা বছর। চেলসি তো বটেই; ভ্যালেন্সিয়া, রোমা, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, জুভেন্টাস, ইন্টার মিলানের মতো দলের দায়িত্ব সামলেছেন। অথচ কী আশ্চর্য জানেন, এর আগে কখনোই কোনো দেশের শীর্ষ লিগ জেতা হয়নি। অবশেষে এই ৬৪ বছর বয়সে এসে ইতালিয়ান কোচ জিতলেন প্রথম শীর্ষ লিগ!

‘আমার বয়স এখন ৬৪ চলছে, কত দিন ধরে লড়াই করে যাচ্ছি। কিন্তু কখনোই আশা হারাইনি। আমি জানতাম, একসময় না একসময়, কোথাও না কোথাও আমি লিগ জিতবই’—গতকাল বলেছেন রোমের নতুন সম্রাট। রানিয়েরি জিতলেন এবং সেটা বিশ্বের সেরা লিগটাই, সেটিও এমন একটা দলকে নিয়ে, আগের মৌসুমে যারা আরেকটু হলে বাদই পড়ে যেত প্রিমিয়ার লিগ থেকে; এই মৌসুমে যাদের ট্রফি জয়ের বাজির দর ছিল ৫০০০-১!

১৫ মে ২০১৬ স্টামফোর্ড ব্রিজের গার্ড অব অনারে শামিল থাকবে আসলে পুরো ফুটবল-বিশ্বই!

12
৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে যে ছোট্ট একটি আমলে!!


চলার পথে আমরা অনেকেই জেনে না জেনে গুনাহ করে থাকি। কিন্তু আমরা চাইলেই আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে ক্ষমা পার্থনা করে মাফ পেতে পারি।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিউল উম্মি ওয়ালা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা’ জুমার দিন এই দরুদ শরিফখানা পাঠ করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়।

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাজের পর ৮০ বার এ দরুদ পড়বে, তার ৮০ বছরের গোনাহ্ মাফ হবে এবং ৮০ বছর এবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে। প্রশ্ন হয় যে, আল্লাহতায়ালা এ ছোট আমলের জন্য এত বেশি সওয়াব কেন দান করেন? এর উত্তর হলো, কোনো আমলে সওয়াব কম দেওয়া বা বেশি দেওয়া এটা আল্লাহতায়ালার নিজস্ব ব্যাপার, এখানে কারও আপত্তি করার কিছু নেই।

13
মুস্তাফিজকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি: মাশরাফি বিন মুর্তজা


মুস্তাফিজকে ওয়ানডে অভিষেকের ক্যাপ পরিয়ে দিচ্ছেন মাশরাফি

মুস্তাফিজুর রহমানকে প্রথম দেখেছিলাম নেট অনুশীলনে, গত এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওর আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়ার কিছুদিন আগে। তাকে হঠাৎ একাদশে নেওয়ার পেছনে বাংলাদেশ দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ভূমিকাই বেশি। কোচ আমাকে বললেন, ‘এই ছেলেটা কিছুটা ভিন্ন ধরনের। ওর স্লোয়ার ডেলিভারিটা খেলা বেশ কঠিন।’ দলের সিনিয়র ব্যাটসম্যানরাও তাতে একমত হলো।

কোচ হাথুরু যদি উদ্যোগ না নিতেন, আমার মনে হয় এখনো সে নেট বোলার হয়েই থাকত। কারণ, ওর তো তেমন ক্রিকেট ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। একজন ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে খেলার আগে ঘরোয়া, বয়সভিত্তিক কিংবা বিভিন্ন পর্যায়ে ভালো খেলে আসতে হয়। মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে তেমনটি হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা বয়সভিত্তিক ক্রিকেট সে খেলেছে। তবে ততটা নয়। নেট বোলিং থেকে তার দ্রুত জাতীয় দলে আসার ঘটনা ব্যতিক্রমই বলতে হবে।

আন্তর্জাতিক অভিষেকেই মুস্তাফিজের হাতে শুরুতেই বল তুলে দেওয়ার প্রধান কারণ অবশ্যই তার ব্যতিক্রমী প্রতিভা। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগে ভেবেছিলাম, ওরা সবাই তো আমাদের বোলারকে চেনে। একজন অচেনা বোলারকে খেলতে হয়তো অসুবিধা হতে পারে।



মুস্তাফিজুর রহমান

মুস্তাফিজের ওয়ানডে অভিষেকের কথা বলি। ভারত-সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তার খেলারই কথা ছিল না। পেসার তাসকিন আহমেদ-রুবেল হোসেন বিশ্বকাপে দারুণ খেলে এসেছে। দুজনই একাদশে থাকবে। সঙ্গে আছি আমি। এমন পরিস্থিতিতে দলে আরেকজন পেসার নেওয়া কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ড্রেসিংরুমে তখন সাকিবের সঙ্গে আলোচনা করলাম, মুস্তাফিজের মতো বোলার বসিয়ে রাখা অপচয় হবে। সাকিব আমার সঙ্গে একমত হলো। কোচের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনিও রাজি হলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্রই পা রাখা নতুন একজন খেলোয়াড়কে অধিনায়কের নানাভাবে উজ্জীবিত করতে হয়, উত্সাহ দিতে হয়। কিন্তু মুস্তাফিজকে উজ্জীবিত করতে অধিনায়ক হিসেবে আমাকে তেমন কিছুই করতে হয়নি। সে নিজেই জানে, তার বিশেষ ডেলিভারি অর্থাৎ কাটার খেলা কতটা কঠিন।

নিঃসন্দেহে কাটারই মুস্তাফিজের বড় শক্তি। তার বোলিং নিয়ে প্রতিপক্ষ অনেক কাটাছেঁড়া করবে। মনে হয় না তাতে খুব একটা কাজ হবে। পেসার হিসেবে আমি নিজেও কাটারে সাফল্য পেয়েছি বহুবার। কিন্তু আমার কাটার ব্যাটসম্যানরা খেলছে, চার-ছক্কা মারছে। তবে ওর কাটার ভিন্ন ধরনের, ভয়ংকর! অনেক ব্যাটসম্যান ভাবে, মুস্তাফিজের বলে রান নেব না, তবু উইকেট দেব না। কিন্তু ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতে রান করতে না পারলেই তো চাপে পড়ে যায় দল।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে সে অসাধারণ করেছে। ৯ ওয়ানডেতে ২৬ উইকেট ও ১৩ টি-টোয়েন্টিতে ২২ উইকেট সেটিই বলছে। অবশ্য তার টেস্ট অভিষেকও হয়েছে দুর্দান্ত। তবে নিজেকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে ভবিষ্যতে টেস্টে তাকে আরও উন্নতি করতে হবে।

বাংলাদেশে আর সবার মতো মুস্তাফিজকে নিয়ে আমিও বিরাট স্বপ্ন দেখি। আমার প্রত্যাশা, বাংলাদেশের হয়ে সে অন্তত ১০-১৫ বছর খেলবে। ওকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও ১০টি ছেলে উঠে আসবে। সেটি হলে কখনো বাংলাদেশের পেস বোলারের ঘাটতি হবে না।

মুস্তাফিজ বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন বোলার হবে, যার নামের পাশে থাকবে ৪০০-৫০০ উইকেট। সে যদি ফিট থাকে এবং ভুল পথে পরিচালিত না হয়, এটা মোটেও অসম্ভব নয়। মুস্তাফিজ এখন তরুণ, বয়স মাত্র ২০। সামনের দিনগুলোয় বুঝতে হবে কোন ক্রিকেট সে খেলবে আর কোনটি খেলবে না। বিশ্ব ক্রিকেটে এখন অনেক টুর্নামেন্ট। কাউন্টি, বিগ ব্যাশ, আইপিএল, সিপিএল—নানা টুর্নামেন্টে খেলার হাতছানি। আর দেশের বিপিএল তো আছেই। সবাই ওকে চাইবে। তবে তাকে বেছে বেছে খেলতে হবে। এখানে প্রচুর টাকাপয়সার ব্যাপার আছে। অবশ্যই সে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট খেলবে। তবে বেছে খেলার মানসিকতাও থাকতে হবে।

বাংলাদেশ দলের হয়ে ১০-১৫ বছর খেলতে চাইলে আপনাকে বেছে খেলতেই হবে। এত ক্রিকেট খেলে আসলে ফিট থাকা কঠিন। মুস্তাফিজ বাংলাদেশের হয়ে কদিন খেলেছে? এই সময়ে সে কিন্তু দুবার চোটে পড়েছে। তাকে তাই সতর্ক থাকতেই হবে। এমনকি ওর আশপাশে যারা থাকবে, ওকে ব্যবহারে তাদেরও সচেতন থাকতে হবে।

মুস্তাফিজের মতো ক্রিকেটারকে যদি বাংলাদেশ হারায়, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। আর সে যদি অনেক দিন বাংলাদেশ দলে খেলতে পারে, আমি বলব তার হাত ধরে এমন সাফল্য আসবে, যেটি অনেকের কল্পনাতেও নেই।

অনুলিখিত
লেখক: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক (ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি)

14
Yes..........

15
পরিশ্রম না করলে ‘আফতাব’ হবে!

আফতাব আহমেদ

আফতাব আহমেদ কোচ! ভাবতেই অবাক লাগে। পরিশ্রমের কথা শুনলেই যাঁর জ্বর উঠত, সেই তিনিই কিনা এখন তরুণ ক্রিকেটারদের বলেন, ‘ওয়ার্ক হার্ড’!
গত পরশু দুপুরে প্রিমিয়ার লিগের ‘প্লেয়ার ড্রাফটের’ ফাঁকে লা মেরিডিয়ান হোটেলের পুলপাড়ে কথা হচ্ছিল আফতাবের সঙ্গে। লম্বা দাড়িতে মুখ ঢেকে গেলেও সারল্যমাখা হাসিটা এখনো অমলিন। গত কয়েক বছরে মনের সাগরে বহুবার ঝড় উঠে থেমে গেছে। কিন্তু আফতাবের সঙ্গে কথা বলে সেসব বোঝার উপায় নেই। চরম দুঃখের কথাটি বলেও ‘হা হা’ করে হাসেন।

চট্টগ্রামে বছর খানেক ধরে নিজের নামে ক্রিকেট একাডেমি চালাচ্ছেন। এবার প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানের ব্যাটিং কোচেরও দায়িত্ব পেলেন। তা কোচ তিনি হতেই পারেন। ২০১০ সালের মাঝামাঝি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে হারিয়ে যাওয়া আফতাব ১৬টি টেস্ট খেলেছেন, ৮৫টি ওয়ানডে ও ১১টি টি-টোয়েন্টি। তবে সহজাত প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও পরিশ্রমে অরুচি ছিল সর্বজনবিদিত। কোচ আফতাবের আবির্ভাব তাই প্রশ্ন জাগায়, অন্য কোচদের মতো তিনিও কী করে খেলোয়াড়দের ‘ওয়ার্ক হার্ড’ বলেন!

প্রশ্নটা আফতাবকেই করা হলো। পাওয়া গেল দারুণ এক উত্তর—
‘প্রথম কথা বলব, যদি পরিশ্রম না করো, তাহলে আমার মতো খেলোয়াড় হবে। আর পরিশ্রম করলে আমার চেয়ে অনেক ভালো খেলোয়াড় হতে পারবে। যেটা আমি করিনি, আমার যে ভুল ছিল, সেটা আমি কোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখতে চাই না। অনেক ছাত্র আছে আজ আসে, কাল আসে না। পরশু আসে, তরশু আসে না। নো ওয়ে, পরিশ্রম করতেই হবে।’

ক্রিকেটার আফতাবের পরিণতি নিয়ে তাঁর দুঃখটাও বোধ হয় অনুমান করা গেল এ কথায়। পরে পরিষ্কারই বললেন, ‘আমি অবশ্যই ভুল করেছি। বাবা-মা বকা দিলে বাচ্চারা অনেক সময় বোঝে না। কেন বকা দেওয়া হলো, তা কেবল বাবা-মাই বোঝে। আমাকেও তখন অনেকে অনেক কথা বলত, আমি বুঝতে পারিনি। তখন আমিও বাচ্চাই ছিলাম মনে হয়। এখন বুঝতে পারছি, অনেক সিদ্ধান্তই ভুল ছিল।’

আফসোস বেশি হয় বাংলাদেশের খেলা দেখার সময়। সাব্বির আর সৌম্যের ব্যাটিং নেশা ধরিয়ে দেয় চোখেও। কেউ হয়তো ১৫ বলে ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে দল জিতিয়ে দিচ্ছে, ইগলের ক্ষিপ্রতায় লুফে নিচ্ছে ক্যাচ। এসব দেখলে আফতাবের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। দর্শকদের চিৎকারের ভেতর লুকিয়ে থাকা অদ্ভুত বাজনা প্রবলভাবে টানতে থাকে। আরেকটিবার যদি ওই বাইশ গজে গিয়ে দাঁড়ানো যেত! হাতে ব্যাট, মাথায় লাল-সবুজ স্কার্ফ...। আফতাব এই দৃশ্য এখন শুধু কল্পনাতেই দেখেন। বাস্তবতা যদিও পুরোই ভিন্ন। সেটার বর্ণনায় কাতর হয়ে ওঠে তাঁর কণ্ঠ, ‘ক্রিকেট ছাড়ার পর বুঝতে পারি, আমাদের দেশের মানুষ বর্তমান নিয়েই ভাবে বেশি। কেউ একটু পিছিয়ে গেলেই তাঁকে সবাই ভুলে যায়। আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড।’

আফতাব কেন অসময়ে ‘আউট অব সাইট’ হয়ে গেলেন, সেটাও অবশ্য প্রশ্ন। ৩০ বছর বয়সেই খেলা ছেড়ে কোচ হয়ে যাওয়া আফতাব এই প্রশ্নে কিছুটা আবেগপ্রবণ, ‘বাংলাদেশে একটা কথা আছে, সেটা হচ্ছে গিয়ে “চলে না”। এ কথাটা আমি কখনো শুনতে চাইনি। শেষ দিকে আমি ও রকম অবস্থায় চলে আসছিলাম। খেলাটা উপভোগ করছিলাম না। মনে হয়েছিল, সম্মান নিয়ে সরে যাই।’ তবে ভুলের শুরুটা আইসিএলে যাওয়ার মাধ্যমেই হয়েছিল বলে মনে হয় তাঁর। বিসিবির নিষেধাজ্ঞার কারণে ফিরে আসার পরও এক বছর মাঠে নামতে পারেননি। আফতাবের ভাষায়, ‘বসে থেকে থেকে আমাদের শরীর হয়ে গিয়েছিল ইয়া বড়। ফেরাটা খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

এক বছরে শরীরে জমা মেদ আর ব্যাটে ধরা মরচে ঝরাতে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন ছিল। আরামপ্রিয় আফতাবের সেটা পছন্দ না হওয়ারই কথা। কিন্তু কোচের কাজও অনেক, অনেক পরিশ্রম। আফতাবের দৃষ্টিতে তো খেলোয়াড়দের চেয়ে কোচের পরিশ্রমই বেশি, ‘একজন ক্রিকেটার যখন মাঠে আসে, সে ব্যক্তিগত চিন্তা করে। ব্যাটিং শেষ, ওর কাজ শেষ। কিন্তু একজন কোচ, তিনি যদি একাডেমির হন তাকে ৭০-৮০ জনের দায়িত্ব নিতে হবে। দলের কোচ হলে অন্তত ১৫-২০ জনের দায়িত্ব। কোচিংটা পুরোপুরি ভিন্ন। অনেক পরিশ্রম। হা হা হা...।’

পরিশ্রমের কথা হাসতে হাসতে বলতে পারছেন আফতাব! পারছেন, কারণ কোচ-খেলোয়াড়ের পরিশ্রমে ভিন্নতা দেখেন তিনি, ‘পরিশ্রম দুই ধরনের। একটা শারীরিক, আরেকটা মানসিক। ক্রিকেট খেললে শারীরিক পরিশ্রম হতো। শারীরিক পরিশ্রম আমার পছন্দ না। কোচিংয়ে মানসিক পরিশ্রম বেশি। অনেক কাজ একসঙ্গে করতে হয়। চাপ থাকে বেশি। একটা মিনিটও বসতে পারবেন না।’ দ্বিতীয় ধরনের পরিশ্রমের সঙ্গে আফতাব এতটাই মানিয়ে নিতে পেরেছেন যে, একদিন একাডেমিতে না গেলেই কেমন কেমন লাগে। কীভাবে এটা পারছেন তা ভেবে অবাক হন আফতাবও, ‘নিজেও জানি না, এটা আমার মধ্যে কীভাবে এল।’

যেভাবেই আসুক, এসে তো গেছে! এখন কোচ হিসেবেও শীর্ষে যাওয়ার লক্ষ্য। সে জন্য অবশ্য আফতাবের নিজেকেও নিজে বলতে হবে, ‘ওয়ার্ক হার্ড’।

Pages: [1] 2 3 ... 8