Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 18
1
হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। সঠিক খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে এর থেকে দূরে থাকা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য এমন সব খাবারের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে থাকবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম।

কারণ খাদ্যের এসব উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুধজাত খাদ্য যেমন দই ইত্যাদিতে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম।তাজা ফল যেমন আপেল, কলা আর শাকসবজি হচ্ছে পটাশিয়ামের ভালো উৎস। টমেটোতেও আছে বেশ পটাশিয়াম।

বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদিতে।

১. কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

৩. ফল ৪ থেকে ৫ সার্ভিং প্রতিদিন। টুকরো টুকরো করে কাটা আধা কাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধা কাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

৪. শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধা কাপ রান্না করা শাক।

৫. দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

৬. বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়।

উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়।

প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

লক্ষণ:

সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে,

শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে।

এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড়ি বা পালসের গড়ি বেড়ে যায়।

প্রাথমিক চিকিৎসা:

লো ব্লাড প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। তবে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এটা উচ্চ রক্তচাপের চেয়ে কম ক্ষতিকর ও স্বল্পমেয়াদী সমস্যা। আর প্রেসার লো হলে বাড়িতেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

এক্ষেত্রে হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে যা করবেন-লবণ-পানি লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেওয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।

কফি-হট চকলেট
হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারী নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস
বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাদাম
লো-প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা পেসার বাড়াতে সহায়তা করে।

পুদিনা
ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যষ্টিমধু
আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।তবে যেসব ওষুধে রক্তচাপ কমে বা লো প্রেসার হতে পারে, সেসব ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন। যাদের দীর্ঘমেয়াদি নিম্ন রক্তচাপে ভুগছেন তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকরা নিম্ন রক্তচাপের কারণ শনাক্ত করে তারপর ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট এবং গ্লুকোজ খেলেও কিন্তু ভালো উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সময় মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত
 
Source:  https://m.offtalkbangla.com/1109/?fbclid=

2
প্রশ্ন : কোনো কারণে ফজরের নামাজ কাজা হয়ে গেলে। ঘুম থেকে উঠার পর কাজা আদায় করার সময় সুন্নতসহ পড়তে হবে কি না?

উত্তর : ফজরের সুন্নত সীমাহীন গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটিরও কাজা করতে হয়। জাগ্রহ হওয়ার পর যখনই ফজর পড়বে তখন সুন্নতসহই পড়বে। ঘুমের কারণে ফজর ছুটে গেলে যখনই সজাগ হবে, তখনই পড়ে নিতে হয়।
উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী
সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতওয়া বিশ্বকোষ।

3
মাসআলাঃ সম্পদের ৪০ ভাগের একভাগ যাকাত আদায় করা ফরজ। অর্থাৎ শতকরা আড়াই টাকা। কাজেই কারো ৮০,০০০( আশি হাজার) টাকা যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকলে সে ২,০০০ ( দুই হাজার ) টাকা যাকাত দিবে।

মাসআলাঃ যাকাতের অর্থবছর চান্দ্র মাস হিসেবে নির্ধারণ হবে। ধরা যাক কেউ রজব মাসের ৫ তারিখে নেসাবের মালিক হল। তাহলে আগামী বছর রজবের ৪ তারিখে তার বছর পূর্ণ হবে। ঐ দিন তার নিকট যে সম্পদ থাকবে তার যাকাত আদায় করবে।

মাসআলাঃ যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হল বছরের শুরু ও শেষে নেসাব পরিমান সম্পদ থাকতে হবে। উপরে উল্লেখিত তারিখ অনুযায়ী রজবের ৫ তারিখে তো তার নিকট নেসাব পরিমান সম্পদ থাকবেই। যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য পরের বছর রজবের চার তারিখে তার নিকট কমপক্ষে নেসাব পরিমান সম্পদ থাকতে হবে। যদি না থাকে তবে তার উপরে যাকাত ফরজ হবে না। নতুন ভাবে যেদিন নেসাবের মালিক হবে সেদিন থেকে নতুন করে বছর শুরু হবে।

মাসআলাঃ যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য বছরের শুরু ও শেষে নেসাব পরিমান মাল থাকা যথেষ্ট। মাঝখানে যদি মাল কমে যায় এমনকি নেসাব থেকে কমে গেলেও যাকাত ফরজ থাকবে। তবে যদি মাঝখানে পুরো সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়, তার কাছে কোন সম্পদ না থাকে তাহলে পূর্বের হিসাব বাতিল হবে। আবার যখন নেসাবের মালিক হবে নতুন করে হিসাব ধরা হবে।

মাসআলাঃ প্রতিটি মালের উপর বছর পুরা হওয়া জরুরী নয়। বরং যেদিন সে নেসাবের মালিক হবে ঐ দিন থেকে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পরই তার নিকট থাকা সকল সম্পদের যাকাত দিতে হবে। যদি বছর পূর্ণ হওয়ার মাত্র দুদিন আগে তার নিকট দশ লক্ষ টাকা আসে তবে ঐ দশ লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে। অথচ ঐ টাকা তার নিকট এক বছর থাকেনি। বরং মাত্র দুই দিন ছিল। অনুরুপভাবে নেসাবের বছর পূর্ণ হওয়ার দু দিন আগে যদি তার থেকে দশ লক্ষ টাকা খোয়া যায় তবে ঐ দশ লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে না। মোটকথা বছরের মাঝে যা আসে ও চলে যায় তা ধর্তব্য হবে না। বরং বছরের শেষের সম্পদ হিসাব করা হবে।

মাসআলাঃ যাকাত হিসাব করে আদায় করা জরুরী। যে দিন বছর পূর্ণ হবে সেদিন তার যাকাতযোগ্য সকল সম্পদ হিসাব করবে। ব্যবসা থাকলে তার সকল স্টক মিলাবে। অতঃপর শতকরা আড়াই পার্সেন্ট হারে যাকাত আদায় করবে। ধারনা বা আন্দাজ করে যাকাত দিবে না।

মাসআলাঃ সোনা-রুপার যাকাত হিসাব করার ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্য ধর্তব্য হবে। চাই ক্রয়মূল্য কম বা বেশী হোক। যেমন সোনার ভরি ৬০,০০০ টাকা হলে বিক্রি করতে গেলে স্বর্ণকার সাধারণত ৪৫ থেকে ৪৮ হাজার টাকা দেয়। কাজেই এই ৪৫ বা ৪৮ হাজার টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। ক্রয়মূল্যের নয়।

মাসআলাঃ ব্যবসার পন্যের যাকাত বাজারদর হিসেবে আদায় করতে হবে। চাই তার ক্রয়মূল্য বেশি বা কম হোক। ব্যবসার পন্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনটি সুরত হতে পারে। এক. খুচরা মুল্য দুই. পাইকারি মূল্য বা হোল সেল প্রাইস তিন. সমস্ত স্টক একত্রে একবারে বিক্রি করলে যত টাকা হয়। ব্যবসায়ীরা এই তৃতীয় সুরতটি এখতিয়ার করতে পারে। তবে দ্বিতীয় সুরত তথা হোল সেল প্রাইস গ্রহন করার মধ্যই সতর্কতা।

মাসআলাঃ সোনা-রুপা ও ব্যবসার পন্য এর যাকাত হিসাবের ক্ষেত্রে যেদিন বছর পূর্ণ হবে এবং যাকাত হিসাব করা হবে সেদিনের বাজার দর হিসাব করতে হবে। ঐ দিন উক্ত জিনিসগুলো বিক্রি করতে গেলে যত টাকা পাওয়া যাবে তার উপর যাকাত আসবে।

মাসআলাঃ যে জিনিসের যাকাত আদায় করা হবে তা যে স্থানে রয়েছে সেখানকার বাজারদর হিসেবে যাকাত আদায় করতে হবে। যাকাতদাতার স্থান ধর্তব্য নয়।

মাসআলাঃ যাকাত যেমন টাকা-পয়সা দ্বারা আদায় করা যায় তেমনিভাবে কোন পন্য দ্বারাও আদায় করা যায়। যেমন- পরিধেয় বস্ত্র, খাবার, কিতাবাদি ইত্যাদি। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হল তা প্রাপককে মালিক বানিয়ে দিতে হবে। কাজেই ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়ীক পন্য মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি যাকাত বাবদ দিতে পারবে। তবে যদি পন্যটি এমন হয় যে, গ্রহনকারীর তা দ্বারা কোন ফায়েদা হবে না সেক্ষেত্রে মূল্য দিয়ে দিবে।

মাসআলাঃমানুষ তার দৈনন্দিন প্রয়োজনে যে ঋণ নিয়ে থাকে তা যাকাতের হিসাব থেকে বিয়োগ করতে হয়। বিয়োগ করার পর যদি নেসাব পরিমান সম্পদ না থাকে তবে যাকাত ফরজ হবে না।তবে প্রবৃদ্ধির জন্য যে ঋণ নিয়ে থাকে তা যাকাতের হিসাব থেকে বিয়োগ হবে না।আর বর্তমানে যে বড় বড় শিল্প ঋণ বা উন্নয়নমূলক ঋণ নেওয়া হয়ে থাকে তার হুকুম পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

মাসআলাঃযাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে চান্দ্রমাস অনুযায়ী হিসাব করতে হবে। প্রথম যে দিন সে নেসাবের মালিক হবে তা লিখে রাখবে। যেমন কেউ রজবের ৫ তারিখে নেসাবের মালিক হলে পরের বছর রজবের ৪ তারিখে যাকাত আদায় করবে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই সে কোনদিন নেসাবের মালিক হয়েছে তার হিসাব রাখে না। বরং খেয়াল খুশী মত আদায় করতে থাকে। এভাবে যাকাত আদায় করা জায়েয নয়। বরং যে নেসাবের মালিক কবে হয়েছিল তা জানে না, সে এখন থেকে তার হিসাব করা সহজ হয় এমন একটি আরবী তারিখ নির্ধারণ করে নিবে। এরপর থেকে সে ঐ তারিখেই যাকাত হিসাব করবে। ইচ্ছা করলে রমযানেও সে তারিখটি নির্ধারণ করতে পারে। এমতবস্থায় সে এস্তেগফার করবে এবং সতর্কতামূলক কিছু বেশি আদায় করবে। আর নেসাবের মালিক হওয়ার দিনটি স্পষ্ট জানা থাকলে ঐ তারিখ পরিবর্তন করা জায়েয নেই।

মাসআলাঃ অনেকে ৭০ গুন সওয়াবের আশায় তার তারিখ জানা সত্ত্বেও রমযানে যাকাত আদায় করে। এবং বিনা কারনে যাকাতকে রমযান পর্যন্ত বিলম্বিত করে। অথচ বিনা কারনে এমনটি করা গুনাহের কাজ। তবে সে এমনটি করতে পারে, যেহেতু যাকাত অগ্রিম আদায় করা যায় তাই যখন সে নেসাবের মালিক হবে তখন বছর পূর্ণ হবার পূর্বে যে রমযান আসবে সেই রমযানে একটি অংশ আদায় করবে যাকাতের নিয়তে। পরবর্তীতে বছর পূর্ণ হওয়ার পর হিসাব করে দেখবে যদি বেশি দেয়া হয় তবে তা নফল দান হবে। আর কম হলে বাকিটুকু আদায় করবে। আর যদি রমযানে বছর পূর্ণ হয় তাহলে তো রমযানেই আদায় করবে।

মাসআলাঃ ব্যবসায়ীদের আদায়যোগ্য বকেয়া টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। অর্থাৎ বাকিতে যে সকল পন্য বিক্রি করে থাকে তার মূল্যের উপরও যাকাত আসবে। এক্ষেত্রে ঐ টাকা হস্তগত হওয়ার পর যাকাত আদায় এর সুযোগ রয়েছে। তখন বিগত বছরগুলোর যাকাত হিসাব করে আদায় করেবে। তবে হিসাব করে প্রতি বছর নিয়মমত যাকাত আদায় করাই উত্তম। কেননা পরিমান বেশি হলে একসাথে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আর যদি ঐ টাকা পাবার কোন আশা না থাকে তবে যাকাত দিতে হবে না। তবে পেয়ে গেলে বিগত বছরগুলো সহ আদায় করে দিতে হবে।

মাসআলাঃ যে ঋন ফেরত পাওয়ার আশা নেই তার উপর যাকাত ফরজ নয়। তবে পেয়ে গেলে বিগত বছরের যাকাত হিসাব করে আদায় করে দিতে হবে।

মাসআলাঃ স্ত্রীকে মালিক বানিয়ে সে অলংকার বা সম্পদ স্বামী বা পিতা দিয়ে থাকে তার মালিক উক্ত স্ত্রী বা মেয়ে। কাজেই সেই তার যাকাত আদায় করবে। স্বামী বা পিতা তার অনুমতিক্রমে সইচ্ছায় আদায় করলে সেটা ভিন্ন কথা।

মাসআলাঃ মহিলাকে তার স্বামী বা পিতা ব্যবহারের জন্য অলংকার দিলে তার মালিক স্বামী বা পিতাই থাকবেন। কাজেই যাকাত তাদের জিম্মায় থাকবে।

মাসআলাঃ নাবালেগ সন্তানের নামে যে সম্পদ সংরক্ষণ করে রাখা হয় বা নাবালেগ মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য তার নামে যে অলংকারদী বানিয়ে রাখা হয় বা তাদের নামে ব্যাংক একাউন্টে যে টাকা রাখা হয় বা তাদের নামে ব্যবসায় যে টাকা খাটানো হয় তার মালিক নাবালেগ সন্তানেরা। এগুলোর যাকাত পিতামাতার উপর আসবে না।

মাসআলাঃ আর বালেগ সন্তানের নামে যে অলংকার বানানো হয় বা টাকা ব্যবসায় লাগানো হয় বা তাদের নামে যে সম্পদ সংরক্ষণ করে রাখা হয় তার মালিক পিতা/মাতা। তাদেরকে এগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার পূর্বে তারা মালিক হবে না।

মাসআলাঃ যাকাত আদায়ের জন্য নিয়ত জরুরি। নিয়ত ব্যতীত যাকাত আদায় হবে না। এই নিয়ত যাকাত দেওয়ার সময় করা যায়। আবার যাকাতের নিয়তে সম্পদ আলাদা করে রাখলেও নিয়তের জন্য যথেষ্ট। যদিও দেওয়ার সময় নিয়ত না থাকে।

মাসআলাঃ কেউ ফকীরকে মাল দেওয়ার সময় যাকাতের নিয়ত করেনি। এখন যদি ঐ মাল ফকিরের হাতে থাকা অবস্থায় নিয়ত করে তবে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। আর যদি ফকীর খরচ করে ফেলে তবে যাকাত আদায় হবে না।

মাসআলাঃ যাকাত যেমনিভাবে নিজে দেওয়া যায় তেমনিভাবে কাউকে উকীল বানিয়ে তার দ্বারা দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে মুআক্কিলের(যাকাত দাতার)নিয়তই যথেষ্ট। উকিলের নিয়ত না থাকলেও সমস্যা নেই।

মাসআলাঃ উকীল যদি মুআক্কিলের (যাকাত দাতার) যাকাত বাবদ প্রদেয় টাকা না দিয়ে নিজের টাকা দেয় তবে যাকাত আদায়ের জন্য শর্ত হল উক্ত যাকাতের টাকা উকিলের নিকট মউজুদ থাকতে হবে। উকীল যদি উক্ত টাকা খরচ করে ফেলে বা নিজের টাকার সাথে মিশিয়ে ফেলে অতঃপর নিজের টাকা থেকে যাকাত আদায় করে তবে যাকাত আদায় হবে না। অনুরূপভাবে নিজের টাকা থেকে দেবার সময় উকীল নিয়ত না করলে যাকাত আদায় হবে না।

মাসআলাঃকেউ কাউকে না জানিয়ে তার যাকাত আদায় করলে যাকাত আদায় হবে না। অনুমতিসাপেক্ষে আদায় করলে আদায় হয়ে যাবে।

মাসআলাঃ একজন ফকীরকে কমপক্ষে এতটুকু যাকাত দেওয়া উত্তম যাতে সে অন্তত ঐ দিন কারো নিকট মুখাপেক্ষী না হয়। অবশ্য এর কম দিলেও আদায় হয়ে যাবে।

মাসআলাঃ কাউকে এই পরিমান যাকাত দেওয়া মাকরূহ যার দ্বারা সে নেসাবের মালিক হয়ে যায় এবং যাকাত ওয়াজিব হয়ে যায়। তবে দিলে আদায় হয়ে যায়।

মাসআলাঃ এক শহরের যাকাত অন্য শহরে পাঠান মাকরূহ তবে যদি অন্য শহরে তার গরীব আত্মীয় থাকে বা অন্য শহরের লোক বেশি অভাবগ্রস্ত হয় বা দ্বীনী কোন উপকারীতা থাকে তবে পাঠান জায়েয।

মাসআলাঃ যাকাতের অর্থ দেবার সময় যাকাতের কথা বলে দেওয়া জরুরী নয়। বরং না বলাই উত্তম। কারন এর দ্বারা অনেকে কষ্ট পেতে পারে। যাকাতের নিয়তে হাদিয়া, পুরষ্কার বা ব্খশিশ এর নামে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে যদি এমন কোন গরীব মানুষকে যাকাতের নামে ঋন দেয় যে, সে উক্ত ঋন পরিশোধ করতে পারবে না তবে এর দ্বারাও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তার এ নিয়তও থাকতে হবে যে, সে কখনও ঋন পরিশোধ করলে তা গ্রহন করবে না।

মাসআলাঃ যাকাত অগ্রিম প্রদান করা যায়। অর্থাৎ নেসাবের উপর বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে আদায় করা যায় তবে শর্ত হল নেসাবের মালিক হতে হবে। কেউ যদি নেসাবের মালিক হবার পূর্বেই যাকাতের নিয়েতে কিছু দেয় তবে পরবর্তীতে নেসাবের মালিক হলে এবং যাকাত ফরজ হলে উক্ত দান নফল হিসেবে গন্য হবে। যাকাত আদায় হবে না।

মাসআলাঃ কারো যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর সমস্ত সম্পদ ছদকাহ করে দিলে তার যাকাত মাফ হয়ে যাবে।

মাসআলাঃ কারো যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর যদি সমস্ত মাল বা কিছু অংশ খোয়া যায় বা নষ্ট হয়ে হয় তবে তার পুরো বা আংশিক অংশের যাকাত মাফ হয়ে যাবে। তবে যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করে তবে তার মাফ হবে না। যাকাত আদায় করতে হবে।

মাসআলাঃ যাকাতের উপযুক্ত মনে করে কাউকে যাকাত দেওয়ার পর জানা গেল সে মালদার বা সাইয়্যেদ বংশ অথবা রাতের অন্ধকারে যাকাত দেওয়ার পর জানতে পারল সে তার উসুল বা ফুরুর অন্তর্ভুক্ত অথবা যাকাতের উপযুক্ত নয় তবে তার যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে মুসলমান মনে করে কোন কাফেরকে যাকাত দিলে আদায় হবে না। পুনরায় উপযুক্ত ব্যক্তিকে দিতে হবে।

মাসআলাঃ কেউ কারো নিকট টাকা পাবে। এখন যাকাতের নিয়তে উক্ত ঋন মাফ করে দিলে যাকাত আদায় হবে না বরং তাকে যাকাত দিয়ে তার থেকে পাওনা উসূল করে নিবে।

মাসআলাঃ দ্বীনী ইলম চর্চারত আলেম-তালেবে এলম যাকাতের উপযুক্ত হলে তাদেরকে দেওয়া সবচেয়ে উত্তম। এক্ষেত্রে দিগুন ছওয়াব পাওয়া যাবে। অতঃপর নিকট আত্মীয়কে দেওয়া উত্তম।

Source:  http://old.imam.gov.bd/node/6936

4
মানুষ হতাশায় থাকলে তার মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট একটি অংশ সংকুচিত হয়ে যায়। কিন্তু এসময় তার উদ্বেগ বৃদ্ধি পেলে মস্তিষ্কের আকার ‘অনেকখানি’ বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। দ্য জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমন দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্রেইন ভলিউমের ওপর হতাশা এবং উদ্বেগের প্রভাব বুঝতে ১০ হাজার মানুষকে নিয়ে কাজ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
তারা জানান, হিপোক্যাম্পাসের ওপর হতাশা স্পষ্ট একটা প্রভাব ফেলে, সংকুচিত হয়ে যায়। মস্তিষ্কের এই স্থানটি শেখা এবং স্মৃতি বিষয়ক কার্যক্রমের অংশ।

কিন্তু হতাশা এবং উদ্বেগ যখন একসঙ্গে মনকে ঘিরে ধরে, তখন মস্তিষ্কের আবেগ-অনুভূতি কার্যক্রমের অংশ যাকে এমিগডালা বলা হয়, সেটি আকারে বড় হয়ে যায়। মানুষের সামাজিক ও আবেগনির্ভর আচরণ নিয়ন্ত্রণে এমিগডালার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং প্রধান গবেষক ড্যানিয়েলা এস্পিনোজা ওয়ার্স বলেন, ‘হতাশা থেকে প্রায়ই মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এই দুটি সমস্যার প্রভাব একসঙ্গে বিবেচনা করে অনেক মানসিক রোগের সমাধান পাওয়া যেতে পারে।’

যারা হতাশা এবং উদ্বেগের সমস্যায় ভোগেন তাদের মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট অংশ বড় হওয়ায় আগের ধারণা অনুযায়ী মস্তিষ্ক পরীক্ষা করলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে হতাশা থেকে মস্তিষ্কের কী ক্ষতি হয়েছে, তার সম্পর্কে ভুল ধারণা আসবে।

উদ্বেগ কীভাবে মস্তিষ্কে হতাশার প্রভাব কমিয়ে দেয়, সেটি ভালো করে বুঝতে আরও গবেষণা দরকার। তবে এমিগডালার ক্ষেত্রে উদ্বেগ হয়তো ওভার-অ্যাক্টিভিটির দিকে নিয়ে যায়।

বিডি প্রতিদিন/

5
শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাব এখন প্রায় মানুষেরই দেখা যায়। পৃথিবীর প্রায় এক বিলিয়ন মানুষের মধ্যে ভিটামিন-ডি এর অভাব রয়েছে। ভিটামিন-ডি শরীরের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান। আমাদের শরীরের হাড় ও মাংসপেশির জন্য ভিটামিন-ডি অপরিহার্য।

সূর্যের উপস্থিতিতে শরীরে ভিটামিন সংশ্লেষিত হয়। শরীরে স্ফূর্তি বজায় রাখার জন্য ভিটামিন-ডি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।ভিটামিন-ডি এর অভাব আপনার শরীরে বয়ে আনতে পারে বিভিন্ন রোগের জ্বালা।   
যখনই বুঝবেন আপনার শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি ঘটছে, সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে তা পূরণ করা যায় সেদিকে মনোযোগ দিন। রোদ থেকে যে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়, তা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। ভিটামিন-ডি এর অভাবে শরীরে কী কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, তা জানলে অবাক হবেন আপনিও।

কীভাবে বুঝবেন আপনার শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাব ঘটেছে

১. প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়া
ভিটামিন-ডি আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতির সংকেত হতে পারে।

২. হাড় এবং পিঠে ব্যথা
ভিটামিন-ডি শরীরে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যদি নিয়মিত শরীরে হাড় বা পিঠে ব্যথা বোধ করেন, তাহলে বুঝবেন এটা ভিটামিন-ডি এর অভাবের কারণে ঘটতে পারে।

৩. শরীরের ঘা শুকাতে দেরি হলে
গবেষণায় দেখা গেছে  ভিটামিন-ডি আপনার শরীরে নতুন চামড়া গজাতে সাহায্য করে। শরীরের যেকোনও অংশে হওয়া ঘা শুকানোর ব্যাপারে বিশেষভাবে সাহায্য করে এই ভিটামিন।

৪. হাড় ক্ষয় হতে শুরু করলে
ক্যালসিয়ামের এভাবে শরীরে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে। ক্যালসিয়াম সংশ্লেষণের ক্ষেত্রে ভিটামিন-ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বৃদ্ধ বয়সে যারা হাড়ের সমস্যায় ভোগেন, তাদের ক্যালসিয়াম-সহ বেশ কিছু খনিজের অভাব পূরণ করতে বলা হয়, সেই সঙ্গে ভিটামিন-ডি এর দিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়।

৫. মাংসপেশিতে ব্যথা
 ভিটামিন-ডি এর অভাবে আপনার শরীরের মাংসপেশি গুলোতে ব্যথা যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়। ভিটামিন-ডি শরীরের মাংসপেশিকে দৃঢ়তা প্রদান করে, যার ফলে ব্যথা যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৬. ক্লান্তবোধ করা
সুস্থ জীবন শৈলী ও পরিষ্কার ঘুম হওয়ার পরও যদি আপনি ক্লান্ত বোধ করেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনার শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি হচ্ছে।এই বিষয়টি কখনই এড়িয়ে যাবেন না, সেক্ষেত্রে কীভাবে এই ঘাটতি পূরণ করা যায়, সেদিকে নজর দিন। 

৭. অবসাদ
ভিটামিন-ডি এর এভাবে আপনার মনে অবসাদের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, অবসাদগ্রস্থ ব্যক্তিকে সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার পর সে অনেকটাই সুস্থ বোধ করে।

৮. চুল পড়া
অতিরিক্ত চুল ঝরা মানে, অবশ্যই আপনার শরীরে পুষ্টির অভাব আছে।শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাবে আপনার চুল বেশি মাত্রায় ঝরতে পারে।   

কীভাবে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণ করবেন কীভাবে?
নির্ধারিত মাত্রায়, ভিটামিন-ডি এর ওষুধ নিতে পারলে, আপনার শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণ হতে পারে।আপনি যদি প্রতিদিন ১০ মিনিট সূর্যের আলোর নিচে বসতে পারেন তাহেলও ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণ হবে। 

ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণের জন্য যা খেতে পারেন
১. ছোট মাছ
২. পনির
৩. ডিমের কুসুম
৪. মাশরুম
৫. দুধ
৬. চিজ

তবে ভিটামিন-ডি এর প্রধান উৎস সূর্যের আলো। মূলত ৮০ শতাংশ ভিটামিন-ডি সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল।

বিডি প্রতিদিন/

6
করোনার তো যাওয়ার নাম নেই, এবার আমাদেরই বাইরে বের হতে হয়েছে। এমন সব ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে যেন মহামারি থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়।
আর এজন্য আমাদের মানব জাতির প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে মাস্ক। 

কোন মাস্ক ব্যবহারে সর্বোচ্চ সুরক্ষা পাওয়া যাবে মহামারি করোনা থেকে এটা নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। আর এরই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হয়েছে ফেস শিল্ড। 
এবার অনেকেই ভেবে পান না মাস্ক পরবেন না ফেস শিল্ড? অনেকে আবার সুরক্ষার জন্য দু’টিই ব্যবহার করতে চান। তবে দু’টি একসঙ্গে ব্যবহার করা বেশ ঝামেলার। তাহলে উপায়? এই সমস্যারই সমাধান বের করেছেন ভারতে গোয়ার দীপক পাঠানিয়া নামে এক ডিজাইনার। তার তৈরি মাল্টি মাস্কটি, মাস্ক ও ফেস শিল্ডকে এক করেছে। 
এটি একটা মাত্র স্ট্র্যাপ দিয়ে বাঁধা। ফলে ব্যবহারেরও সুবিধাজনক। এই মাস্ক করোনার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেবে বলেও দাবি দীপকের। 

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের দীপকের তৈরি এই ফেস শিল্ডটি মাস্কে সংযুক্ত করা, সঙ্গে রয়েছে স্ট্র্যাপটি। ফেস শিল্ডটি চাইলে খুলেও রাখা যেতে পারে প্রয়োজনমতো। মাল্টি মাস্ক পরলে কথা বলার সমস্যা হবে না। এছাড়া মাস্কটি ধুয়ে বারবার ব্যবহার করা যাবে।

মাল্টি মাস্ক প্রসঙ্গে মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, এই মাস্কটির ভাবনা ভালো এতে সন্দেহ নেই। তবে করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য এন-৯৫ অথবা সার্জিকাল তিন স্তরের মাস্ক ব্যবহার করলেই চলে।

Source: https://www.banglanews24.com/lifestyle/news/bd/808050.details

7
কিডনি রোগীদের অনেক শারীরিক দুর্বলতা ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা যায়। বিশেষ করে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে পা ফুলে যায়।
অসহনীয় ব্যথায় পা নাড়ানোও কষ্টকর হয়ে যায়। 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণেই রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ে। যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন পায়ের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা :
•    প্রথমেই খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রান্নায় তেল মশলা কম দিন। এছাড়া বড় মাছ, রেড মিট, দুধ, বেকন, কলিজা, চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন
•    পিনাট বাটার, ফল, শাকসবজি বেশি পরিমাণে খান। শস্যদানা, রুটি, আলু খেতে পারেন তবে পরিমিত
•    দুধ খেলে ফ্যাট ফ্রি
•   দুধ-চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি ও দুধ চায়ের পরিবর্তে গ্রিন টি পান করুন
•    ওজন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
•    খাদ্য তালিকায় কমলা, লেবু ও আঙুরের মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রাখুন
•   রাতে ঘুমানোর আগে ২ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার আধা কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়
•   পায়ের নিচে বালিশ রেখে ঘুমালেও পায়ের ব্যথায় কিছুটা আরাম পাওয়া যায়
•    নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, হৃদরোগ থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়। ফলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে। 

Source:  বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

8
জুমার নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি এমন এক নামাজ যা মহান আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি মুমিনদের পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। হজরত সাইদ ইবনে মুসায়্যাব (রহ.) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, জনৈক আনসার সাহাবির মৃত্যু আসন্ন হলে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের কাছে কেবল সওয়াব লাভের আশায় একটি হাদিস বর্ণনা করব। আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যখন উত্তমরূপে অজু করে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন সে তার ডান পা ওঠাতেই আল্লাহ তার জন্য একটি সওয়াব লিখে দেন, এরপর বাঁ পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন। এখন তোমাদের ইচ্ছা হলে মসজিদের কাছে থাকবে অথবা দূরে। অতঃপর সে যখন মসজিদে গিয়ে জামাতে সালাত আদায় করে তখন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যদি জামাত শুরু হয়ে যাওয়ার পর মসজিদে উপস্থিত হয় এবং অবশিষ্ট সালাতে শামিল হয়ে ছুটে যাওয়া অংশ পূরণ করে তাহলে তাকেও অনুরূপ জামাতের পূর্ণ সালাত আদায়কারীর সমান সওয়াব দেওয়া হয়। আর যদি সে মসজিদে এসে জামাত সমাপ্ত দেখে একাকী সালাত আদায় করে নেয়, তবু তাকে ওইরূপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ আবু দাউদ।
হজরত আবু সুমামাহ আল হান্নাত বলেন, একদা মসজিদে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে কাব ইবনে উসরার (রা.) সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে আমার দুই হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মধ্যে ঢুকিয়ে মটকাতে দেখতে পেয়ে আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তিনি আরও বললেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ উত্তমরূপে অজু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলে সে যেন তার দুই হাতের আঙ্গুল না মটকায়। কেননা সে তখন সালাতের মধ্যেই থাকে। অর্থাৎ অজু করা অবস্থায় তাকে সালাত আদায়কারী হিসেবেই গণ্য করা হয়।

হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন যে ব্যক্তি গোসল করে এবং যথাসাধ্য উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, নিজের তেল ব্যবহার করে, কিংবা নিজের ঘর থেকে খুশবু ব্যবহার করে, এরপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং দুজনের মাঝে ফাঁক না করে তারপর নির্ধারিত নামাজ আদায় করে এবং ইমামের খুতবা পাঠের সময় চুপ থাকে, তবে তার সেই জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। বুখারি। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো মুসলমান জুমার দিনে অথবা রাতে ইন্তেকাল করলে আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা, কবরের সওয়াল-জওয়াব ও আজাব থেকে রক্ষা করবেন।’ আহমাদ, তিরমিজি, মিশকাত।

                লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

9
Namaj/Salat / তাহাজ্জুদের নামাজ
« on: August 26, 2020, 11:01:29 AM »
শেষ রাতের নামাজ অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। যাকে তাহাজ্জুদের নামাজ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এ নামাজ সুন্নত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে নিয়মিত এ নামাজ পড়তেন। এমনকি সাহাবায়ে কিরামকেও নিয়মিত পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। আল কোরআনে তাহাজ্জুদ নামাজের কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে। আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে থাক। এ নামাজ তোমার জন্য আল্লাহর অতিরিক্ত ফজল ও করম। শিগগিরই আল্লাহ তোমাকে উভয় জগতে বাঞ্ছিত মর্যাদায় ভূষিত করবেন।’ সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭৯। প্রকৃতপক্ষে তাহাজ্জুদ নামাজ মন ও চরিত্রকে নির্মল ও পবিত্র করে। সত্যপথে অবিচল থাকতে পথ দেখায়। আল্লাহর নৈকট্যলাভে সহযোগিতা করে। তা ছাড়া যারা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে আল্লাহ তাদের তাঁর প্রিয় বান্দা বলেছেন। পাশাপাশি তাদের নেকি ও ইমানদারির সাক্ষ্যও দিয়েছেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা যারা তাদের প্রতিপালকের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।’ সুরা ফুরকান, আয়াত ৬৩-৬৪।

তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘ফরজ নামাজের পর অন্যান্য সুন্নত ও নফল সব নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সবচেয়ে বেশি।’ মিশকাত।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের প্রভু প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে (যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়) নেমে আসেন; যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকি থাকে। এরপর তিনি বলতে থাকেন, তোমাদের কে আমাকে ডাকবে! আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে কিছু চাইবে আমি তাকে তা দেব, কে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ মুসলিম, মিশকাত। বৈবাহিক জীবনেও এ নামাজের অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে, যে ফজিলত আল্লাহ স্বামী ও স্ত্রীকে দান করবেন; যদি তারা তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ে একজন অন্যজনকে সহযোগিতা করে।
লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা, ঢাকা।

10
আশুরার রোজার দ্বারা বিগত এক বছরের পাপরাশি মাফ হয়ে যায়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল।

দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হয়। আশুরা দিবসে রোজা পালনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা) নির্দেশ দিয়েছেন।

সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। (সহিহ মুসলিম ১/৩৫৮)

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার দিনে রোজা পালন করত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সে কালে রোজা পালন করতেন। মদিনায় এসেও তিনি রোজা পালন করতেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দেন। রমজানের রোজার আদেশ নাজিল হলে আশুরার রোজা শিথিল করা হয়। এখন কেউ চাইলে তা পালন করুক, আর চাইলে তা বর্জন করুক। (বুখারি ১/২৬৮)

হাদিসের প্রায় সব কিতাবে মহররম মাসের ফজিলত এবং এ মাসের ১০ তারিখ আশুরার রোজা সম্পর্কে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত একাধিক হাদিস রয়েছে।

বিশ্বনবি (সা.) বলেছেন, রমজানের রোজার পর মহররম মাসের রোজা আল্লাহতায়ালার কাছে সবচেয়ে বেশি ফজিলতময়। (বুখারি ১১৬৩; মুসলিম ১৯৮২)

নবি করিম (সা.) আশুরার দিন নিজে রোজা রাখতেন এবং সেদিন রোজা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারি ২০০৪; মুসলিম ১১৩০)

১০ মহররম আশুরার রোজার ফজিলত প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এ আশুরার দিন রোজা রাখার কারণে আল্লাহতায়ালা বান্দার বিগত এক বছরের গুনাহসমূহ মাফ করে দেন। (সহিহ মুসলিম ১১৬২)

প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (র.) হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, যাতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখ। তবে এতে যেন ইহুদিদের সঙ্গে সামঞ্জস্য না হয়ে যায়। সেজন্য এর সঙ্গে মিলিয়ে হয় আগের দিন কিংবা পরের দিনসহ রোজা পালন কর। (তিরমিজি ৭৫৫)

আশুরার রোজার বিধান প্রসঙ্গে ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, কেউ যদি শুধু মহররম মাসের ১০ তারিখ রোজা রাখেন এবং এর আগে বা পরে একটি রোজা যোগ না করেন, তবে তা মাকরুহ নয়; বরং এতে মুস্তাহাব বিঘ্নিত হবে।

প্রকৃত সুন্নাত হলো, আগের ৯ মহররম বা পরের দিনের সঙ্গে ১১ মহররম মিলিয়ে মোট ২ দিন রোজা রাখা।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, তোমরা মহররমের নবম ও দশম দিবসে রোজা রাখ। (তিরমিজি ৭৫৫)

অন্য হাদিসে নবি করিম (সা.) বলেছেন, আমি যদি আগামি বছর পর্যন্ত জীবিত থাকি তাহলে মহররম মাসের নয় তারিখের রোজাও পালন করব। (মুসলিম ১১৩৪)

তবে যে এ আশুরার দিন রোজা রাখতে পারল না, তার জন্য কোনো সমস্যা কিংবা আশাহত হওয়ার কিছু নেই। যদি কেউ ৯, ১০ এবং ১১ তারিখ মোট ৩ দিন রোজা রাখেন তবে তা সর্বোত্তম হিসেবে গণ্য হবে। ইমাম ইবনুল কাইয়ুম এ মত উল্লেখ করেছেন।

লেখক: মুহাদ্দিস, ইসলামি চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক

11
ফিরে এলো বেদনার মাস মহররম

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাতনি, মাওলা আলী (রা.) এবং মা ফাতিমা (রা.)-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা, সৈয়দা জয়নব বিনতে আলী (রা.)।

তিনি সেই মহীয়সী নারী যিনি তার ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞার কারণে হয়ে আছেন চিরস্মরণীয়। মা জয়নব (রা.) সেই নারী যিনি কারবালার দুঃসহ কষ্ট সয়ে সামলে রেখেছেন তার পরিবারের বেঁচে যাওয়া নারী-শিশুসহ শোকে মুহ্যমান প্রতিটি সদস্যকে। স্বৈরাচারী এজিদ ও ইবনে জিয়াদের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন অসুস্থ কিশোর ইমাম আলী জয়নুল আবেদীন (রা.)কে। এক অর্থে সৈয়দ বংশকে, তার বচন থেকেই পৃথিবী শুনেছে কারবালার যুদ্ধের নির্মম বর্ণনা এবং যুদ্ধের আদর্শগত সত্য-মিথ্যার প্রভেদ নারী।

তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি কারবালার যুদ্ধে তথাকথিত বিজয়ে আত্মহারা ক্ষমতাসীন এজিদকে তারই পরিষদে দাঁড়িয়ে লজ্জিত ও হেয় করেছেন। অনেকেই বলেন, নবী পরিবারের মহীয়সী নারীরা গোপন থাকতে পছন্দ করতেন, ইবাদতেই মশগুল থাকতেন। মা খাদিজা, মা আয়েশা, মা ফাতিমা (রা.) তাদের সম্পর্কেও কম তথ্য পাওয়া যায়। তবে মা জয়নব (রা.) সম্পর্কে আমরা এত কম জানি কেন? কারণ তিনি সেই নারী যিনি তার পিতার মতোই সত্য ও মিথ্যার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন। আহলে বায়েত (আ.)কে ধারণ করেছেন। খারেজিদের চিহ্নিত করেছেন। দুনিয়ার সামনে কারবালার যুদ্ধের আদর্শগত ও বাস্তবিক সত্য তুলে ধরেছেন।

তার মৃত্যুর পরও ক্ষমতায় উমাইয়ারাই ছিল। যাদের মনে তিনি তখনই আতঙ্কের সঞ্চার করেছিলেন। তাই ক্ষমতাসীনদের কূটরাজনীতির খেলায় সৈয়দা জয়নব বিনতে আলী (রা.) সম্পর্কে পাওয়া তথ্য অপ্রতুল। যেহেতু তার বক্তব্যগুলো নির্ভরযোগ্য ইতিহাস থেকে পাওয়া; তাই গবেষকরা পরিবার ও কারবালা সম্পর্কে তার দেয়া বক্তব্য থেকেই তার ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছেন।

মদিনা শরিফে হিজরতের পাঁচ বা ছয় বছর পর, মা ফাতিমার (রা.) কোল আলো করে জন্ম নেন সৈয়দা জয়নব বিনতে আলি (রা.)। তারিখ ছিল মতভেদে ৫ জমাদিউল আউয়াল অথবা ১ শাবান। রাসূলুল্লাহ (সা.) সে সময় মদিনা শরিফে ছিলেন না, তাই তখনও সদ্য জন্ম নেয়া কন্যার কোনো নাম তারা রাখেননি। নবীজি (সা.) ফিরে এলে শিশু মা জয়নবকে (রা.) তাঁর সামনে আনা হল। তিনি তাকে তাঁর পবিত্র কোলে নিলেন এবং আদর করে চুমু দিলেন।

সে সময় জিবরাইল (আ.) সেখানে উপস্থিত হলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। নবীজি (সা.) কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জানালেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)! জীবনের প্রথম থেকেই এ কন্যা কঠোর যন্ত্রণা এবং পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বড় হবে। প্রথমে সে আপনার সঙ্গে বিচ্ছেদের দুঃখ পাবে, এরপর কষ্ট পাবে একে একে তার মাতা ও পিতার মৃত্যুর, অতঃপর তার বড় ভাই হজরত হাসানের (রা.) মৃত্যুর। এসব কিছুর পরও তিনি কারবালার কঠিন যন্ত্রণার মুখোমুখি হবেন। যার ফলে তার চুল ধূসর হয়ে যাবে এবং পিঠ বেঁকে যাবে।’ এবার নবীজি (সা.) এবং অন্যান্য সবাই কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর নানাজান নবীজি (সা.) তার নাম দিলেন ‘জয়নব’, যার অর্থ ‘পিতার অলঙ্কার বা সৌন্দর্য’।

শিশু জয়নব (রা.) যখন কান্না করতেন তখন ভাই হোসাইন (রা.) কোলে নিলে তিনি শান্ত হয়ে যেতেন এবং এক দৃষ্টিতে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। বড় হওয়ার পরও প্রগাঢ় ভালোবাসার দরুন কোনো ইবাদত শুরু করার আগে তিনি ভাই হোসাইন (রা.) দিকে আগে এক পলক দেখে নিয়ে পরে নামাজ ও ইবাদত শুরু করতেন। মা জয়নবের (রা.) বয়স যখন ছয় বা সাত, তখন তার প্রিয় নানাজান রাসূলুল্লাহ (সা.) কে হারান। এর কিছুদিন পর মাতা হজরত ফাতিমা (রা.) ইন্তেকাল করেন।

দুঃখে ভারাক্রান্ত ছোট্ট শিশু জয়নব (রা.) সে বয়স থেকেই রীতিমতো সংসার সামলানো শুরু করেন। ফলে পিতা, বোন উম্মে কুলসুম (রা.) এবং ভাইদ্বয়ের সঙ্গে তার আবেগময় টানের সম্পর্ক প্রবলতর হতে থাকে। বড় হয়ে এ কাজের পাশাপাশি তিনি মদিনা শরিফের নারীদের কোরআন শিক্ষা দিতেন।

তিনি নিজে ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়ী নারী। পাঠদানের সাবলীলতা ও পদ্ধতির কারণে তার প্রশংসা নারীমহলে ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই তাকে বলা হতো ‘ফাসিহাহ্’ (কৌশলী বক্তা) এবং ‘বালিগাহ’ (দুর্দান্ত বাকপটু); অর্থাৎ পিতার অলঙ্কার হওয়ার সব বৈশিষ্ট্যই তিনি ধারণ করেছিলেন। (চলবে)

লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক

12
মহররম মাস,১৪৪২ হিজরি সন শুরু । ইসলামী বছর শুরু ও শেষ হয়েছে ত্যাগের মাধ্যমে। মহান রাব্বুল আলামিন যেদিন আসমান জমিন সৃষ্টি করেছেন সে দিনই মাসের সংখ্যা নির্ধারণ করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে মহররম মাসে অনেক ঘটনা ঘটেছিল।

অথচ আমরা বেশিরভাগ মানুষ কখনও এ মাসটি এলে এবং এ মাসের করণীয় সম্পর্কে উদাসীন। জেনে অবাক হবেন, হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ বেদে মহররম মাসের নাম এসেছে ‘দাহাম’ নামে। তাওরাতে এসেছে ‘সুহরীয়’। জবুরে এসেছে ‘মুহিত’।

ইঞ্জিলে এসেছে ‘মহরারা’ আর আরবিতে ‘মহররম’। মহান আল্লাহ পাক ইজা আরাদা শাইআন আই ইয়াকুলা লাহু কুন ফাইয়াকুন (সূরা ইয়াসিন ৮২ নং আয়াত)। উচ্চারণ করেছিলেন। সেদিন ছিল মহররমের প্রথম দিন। তাই পৃথিবীর জন্মোৎসব পালনের প্রতি অনিহা থাকার কারণ জানা যাচ্ছে না।

বাংলা সনের শুরুর দিন থেকে যেভাবে লাল রঙের হালখাতায় মানুষ নতুন হিসাব লিখতে থাকে। একইভাবে ইসলামী বছরেরও হালখাতা আছে। তবে তা কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। এ খাতা থেকে কেয়ামতের মাঠে পড়ে শোনানো হবে। এ খাতাটি আমাদের হাতেই দেয়া হবে। আমাদের ডান হাতে মহান আল্লাহ পাক এই খাতা দিলে তবেই সৌভাগ্য আর দুর্ভাগ্য তারাই যাদের বাম হাতে দেয়া হবে। এটি হাদিস শরিফের কথা খাতাটির নাম আমলনামা।

এ মাসের তাৎপর্য খুবই গভীর। হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়েছিল। তাই এ মাস তওবা কবুলের মাস। এ মাসে হুজুর (সা.) কম কথা বলতেন এবং কোরআন তিলাওয়াত ও নফল নামাজে সময় অতিবাহিত করতেন।

এ মহররম মাসে যতগুলো ঘটনা ঘটে গেছে সব রহমতের। হজরত ইউনুস (আ.) কে মাছ যখন গিলে ফেলল তখন ইউনুস (আ.) শুধু আল্লাহকে ডেকেছেন। ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালেমিন’ এই দোয়ার বদৌলতে ইউনুস (আ.) নাজাত পেলেন। উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ সুফি সাধক কারি হাফেজ মাওলানা আওলাদে রাসূল হজরত সৈয়দ রশীদ আহমেদ জৈনপুরী (র.) এজাজত দিয়েছেন কঠিন সময়ে উক্ত দোয়া শোয়ালক্ষ, শোয়ালক্ষ ও শোয়ালক্ষ এই তিনবারে পড়ে শেষ করলে মুক্তি মিলবে। তবে শুদ্ধ উচ্চারণে।

এ মাসের ১০ তারিখে হজরত ইবরাহিম (আ.) অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। ফেরেশতার সাহায্যকে উপেক্ষা করে ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ আল্লাহ পাকের খুশিতে আগুনের কুণ্ডলি ফুলের বাগানে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এটি সূরা আল ইমরানের ১৭৩ নং আয়াত। হজরত গাউসুল আযম শেখ সৈয়দ মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জীলানী (র.) বলেছেন : ‘তোমাদের হাতের তলোয়ার হচ্ছে এ আয়া

তটি। এটা দিয়ে না হওয়া কাজ হয়ে যায়। প্রতিদিন ওই আয়াতটি পড়ার আগে ও পরে ৩১৩ বার বিজোড় সংখ্যক দরুদ শরিফ পড়তে হবে।

হুজুর জৈনপুরী (র.) মহররম মাসের চাঁদ দেখার পর কিছু আমলের এজাজত দিয়েছেন। প্রথমটি হল চাঁদ দেখার পর মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে ২ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে।

প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ৩ বার আয়াতুল কুরসি এবং ৩ বার সূরা ইখলাস দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ১ বার আয়াতুল কুরসি এবং ১ বার সূরা ইখলাস সালাম ফিরানোর পর ২১ বার সূরা মুলক। আগে পরে দরুদ শরিফ।

দ্বিতীয় আমলটি হল : চাঁদ ওঠার রাতে এশার নামাজের পর অর্থাৎ রাত ১০টা, ১১টা ১২টার দিকে ৪০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে। ২ রাকাত করে নিয়ত করতে হবে। এ নামাজ হজরত গাউসুল আযম পড়তেন, হজরত মঈনুউদ্দীন চিশতী (র.) হজরত যুনায়েদ বাগদাদী এবং হজরত আলী (রা.) পড়তেন। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাফিরুন ও ফালাক, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাফিরুন ও নাস।

দুই রাকাত পর সালাম ফিরিয়ে বোতলের পানিতে ফুঁ দিয়ে বোতলের মুখ বন্ধ করতে হবে। প্রতি ২ রাকাত নামাজের পর পানিতে ফুঁ দিতে হবে এভাবে ৪০ রাকাত নামাজ পড়তে হবে। ৪০ রাকাত নামাজ পড়াকালীন কোনো কথা কারও সঙ্গে বলা যবে না।

এ নামাজ যারা পড়বে ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকবে। ফুঁ দেয়া পানিটি খুবই বরকতপূর্ণ মহৌষুধ। এ পানিটি বিশেষ করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হাইপ্রেশার, পাইলস এবং সংক্রামক রোগীকে খাওয়ালে রোগমুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। বেশি করে পানিগুলো রাখতে হবে যাতে সারা বছর চলে। নিজের এবং অন্যদের দিতে পারা যায়। যে রোগের ওষুধ নাই এ পানি তা কাজ করবে। পানি শেষ হওয়ার আগে পানি মেশানো যাবে। শুদ্ধ উচ্চারণে, বিশ্বাসের সঙ্গে এবং গভীর মনোযোগের সঙ্গে নামাজটি পড়তে হবে।

হুজুর (সা.) মহররমের ৯ এবং ১০ অথবা ১০ এবং ১১ তারিখে রোজা রাখার কথা বলে গেছেন। যারা এ রোজা রাখে তারা যেন পুরো বছরই রোগা রাখার সওয়াব পাবে। আবার অনেকে বেশি সওয়াবের আশায় প্রথম ১০ দিন রোজা রাখে।

তিনি আরও বলেছেন : এ মাসে প্রতিদিন একবার সূরা ইয়াসিন, তিনবার সূরা মুজ্জাম্মিল, একবার সূরা আর-রহমান পড়ে আল্লাহ পাকের কাছে কিছু চাইতে। হজরত সৈয়দ রশীদ আহমেদ জৈনপুরী (র.) বলেছেন : ৬১ হিজরি ১০ মহররম কারবালায় হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত সব আনন্দকে শেষ করে দিয়েছে। এ মাসে যে বর্বরতা ঘটেছিল কারবালার প্রান্তে যা নবীপ্রেমিকদের চোখে অশ্রু ঝরিয়েছিল।

তাই এ মাসে কোরআন খতম কর। ফাতেহা খানি কর। সব ফাতেহার সওয়াব হুজুর রাসূল (সা.)-এর দরবারে হাদিয়া করে দিয়ে তার উসিলায় সব নাবীঈন, সিদ্দিকীন এবং খাস করে হজরত হোসাইন (রা.)-এর প্রতি সওয়াব রেসানি করবে। তাদের উসিলায় আল্লাহ তোমাদের গুনাহ মাফ করবেন এবং জবানটা নুরানি করে দেবেন, অভাব-অনটন দূর করে দেবেন। আল্লাহ আমাদের আমলগুলো করার তৌফিক দিন।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

13

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। এই ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে সোয়া ২ কোটিরও বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষের।

এই ভাইরাসের তাণ্ডবে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন, ব্রাজিল, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও মেক্সিকোর মতো দেশ। এখনও পর্যন্ত সফল ও কার্যকরী কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় ব্যাপক হারে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাচ্ছে এই ভাইরাস।
দিন যতই যাচ্ছে ততই চরিত্র পরিবর্তন করছে করোনাভাইরাস। একেকবার একেক রূপ ধারণ করছে এই ভাইরাস। শুধু তাই নয় বিবর্তনও হচ্ছে এর। আর তাতেই সমস্যার মুখোমুখি বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাসের নতুন একটি প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গেছে। এই প্রজাতি সাধারণ করোনাভাইরাসের তুলনায় ১০ গুণ বেশি সংক্রামক, এমনটাই দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। এই একই প্রজাতির দেখা পাওয়া গিয়েছিল ইউরোপেও।

ভাইরাসের এই বিবর্তন যা এর আগে ইউরোপের অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে তাকে বলা হয় ডি৬১৪জি। মালয়েশিয়াতে একটি ক্লাস্টারে সংক্রামিত ৪৫ জনের মধ্যে অন্তত তিনজনের শরীরে এই নতুন ভাইরাস দেখা গিয়েছে। এই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল ভারত থেকে ফেরা এক রেস্তোরাঁ মালিকের থেকে। কোয়ারেন্টিন নিয়ম ভাঙায় তাকে পাঁচ মাসের জেলের সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে। ফিলিপাইন্স থেকে ফেরা কিছু মানুষের মধ্যেও এই ভাইরাস দেখা গিয়েছে বলে খবর।

মালয়েশিয়ার ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ নুর হিশাম আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, এই নতুন প্রজাতির খোঁজ মেলার অর্থ হল এতদিন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়ে যে গবেষণা হল তা ফের নতুন ভাবে শুরু করতে হবে। এই ভাইরাস ১০ গুণ বেশি সংক্রামক বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা নিতে হবে আমাদের।

নুর হিশাম মালয়েশিয়ার মানুষদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে বলেছেন, মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে ও আরও সুরক্ষা নিতে হবে যাতে এই নতুন প্রজাতির ভাইরাস বেশি ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এই ধরনের বিবর্তনের চেনকে ভাঙার জন্য মানুষের সহযোগিতা আমাদের সবথেকে বেশি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনাভাইরাসের এত ব্যাপক প্রভাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল ভাইরাসের এই বিবর্তন। তার ফলে বারবার গবেষণায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। যে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ চলছে, দেখা যাচ্ছে সেই ভ্যাকসিন এই নতুন ধরনের প্রজাতির ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। সেক্ষেত্রে নতুন করে গবেষণা করে সেইমতো ভ্যাকসিন তৈরি করতে হচ্ছে। এদিকে ভাইরাস নিজের চরিত্র বদলাচ্ছে।

এতদিন পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় মালয়েশিয়া করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনেকটা সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। শনিবার নতুন করে ২৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যা ২৮ জুলাইয়ের পর সর্বাধিক। রোববার আরও ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর এই নতুন আক্রান্তদের অনেকের শরীরেই বিবর্তিত ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এতেই নতুন চিন্তায় পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস

বিডি প্রতিদিন/

14
রোগ সারাতে তুলসি পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। নানাবিধ রোগ সারাতে দারুণভাবে সাহায্য করে থাকে তুলসি পাতা। যার উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও। 

জেনে নিন নিয়ম মেনে প্রতিদিন তুলসি পাতা খেলে যেসব উপকার মিলতে পারে;
রক্ত পরিশুদ্ধ হয়
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২-৩ টি তুলসি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান এবং টক্সিন শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়।

ডায়াবেটিস দূরে থাকে
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তুলসি পাতা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাও বাড়ে। ফলে শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। প্রসঙ্গত, মেটাবলিক ড্য়ামেজ-এর হাত থেকে লিভার এবং কিডনি-কে বাঁচাতেও তুলতি পাতা দারুণভাবে সাহায্য করে।

ক্যান্সার দূরে থাকে
তুলসি পাতায় উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট শরীরের ভেতরকার ক্যান্সার সেল যাতে কোনওভাবেই জন্ম নিতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে ক্যান্সার রোগ ধারের কাছে ঘেঁষার সুযোগই পায় না।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে
একাধিক পুষ্টিগুণে ভরপুর তুলসি পাতা, দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ছানি এবং গ্লুকোমার মতো চোখের রোগকে দূরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেই সঙ্গে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন আটকাতেও সাহায্য করে।

বিডি-প্রতিদিন/

15
কারও কারও মাথা-মুখ অতিরিক্ত ঘামে। চুলের গোড়া দিয়ে টপ টপ করে ঘাম ঝরে। এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতেও পড়েন তাঁরা। বেশি ঘামাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপারহাইড্রোসিস বলে। আর মুখ-মাথা বেশি ঘামাকে বলে ক্রেনিও ফেসিয়াল হাইপারহাইড্রোসিস। অনেকের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বংশানুক্রমিক। মাথার ত্বক ও মুখে ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা বেশি। একই কথা খাটে বগল বা কুঁচকির ক্ষেত্রেও।

মুখ-মাথা অতিরিক্ত ঘামার একটা অন্যতম কারণ হলো উদ্বেগ। উদ্বেগের কারণে কারও কারও মাথা ঘেমে একাকার হয়, হাতের তালুও ঘেমে ঠান্ডা হয়ে যায়। এ সমস্যা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের উদ্বেগ কমানোর ওষুধ বা সাইকোথেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া হাইপার থাইরয়েডিজম রোগে ঘাম বেশি হয়, খুব গরম লাগে। মুখ সব সময় ঘেমে থাকে। তবে এর সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ যেমন ওজন কমে যাওয়া, ডায়রিয়া, বুক ধড়ফড়ানি থাকার কথা। নারীদের মেনোপজের পর যে হট ফ্লাশ হয়, তাতেও হঠাৎ করে মুখ-কান লাল হয়ে গরম লাগতে পারে, অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। ডায়াবেটিসের রোগীদেরও বিশেষ করে খাওয়ার পর হঠাৎ মাথা ঘেমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। এটা স্নায়ুর সমস্যার কারণে হয়।

জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে অতিরিক্ত ঘামের থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যেতে পারে। বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কফি পানও বন্ধ করতে হবে। এগুলো ঘর্মগ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে। ভারী জামাকাপড়, হ্যাট বা মাথা ভারী কাপড়ে মুড়ে রাখবেন না। পাতলা, সাদা বা হালকা রঙের, বাতাস চলাচল করে এমন কাপড় পরুন। একবারে বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প অল্প করে আহার করুন। প্রচুর পানি পান করুন। অফিসে বা বাড়িতে এমন জায়গায় কাজ করুন, যেখানে ফ্যানের বাতাস লাগে। সঙ্গে পাতলা কাপড় বা রুমাল রাখুন, যা দিয়ে বারবার ঘাম মোছা যায়। প্রতিদিন গোসল করুন, মাথার ত্বক ভালো করে পরিষ্কার করুন। বাইরে যাওয়ার সময় ত্বকের আর্দ্রতা কমে, এমন পাতলা ফেস পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। গরমে মুখে ভারী মেক আপ করবেন না, তৈলাক্ত ক্রিম বা ফাউন্ডেশন লাগাবেন না। ব্যায়াম বা হাঁটার পর গোসল করবেন। সমস্যা অসহনীয় হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

লেখক: চর্মবিশেষজ্ঞ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ

Pages: [1] 2 3 ... 18