Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Sultan Mahmud Sujon

Pages: [1] 2 3 ... 104
1


বঙ্গোপসাগর থেকে উড়ে আসা সাদা মেঘের ছায়া আর বসন্তের ফুরফুরে হাওয়ার খেলা চলছে প্রকৃতিতে। সূর্য এখনো তেতে ওঠেনি। নেই শীতও। এমন দারুণ সময়ে বুকভরে নিশ্বাস নিতে কার মন না চায়? কিন্তু ঢাকায় নিশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢোকা এ বাতাস মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, রাজধানীর বাতাসকে এখন বিষিয়ে তুলছে যানবাহনের ধোঁয়া। বায়ুদূষণের জন্য অর্ধেক (৫০%) দায়ই মূলত তরল জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়ার। ৪০ ভাগ দূষণের উৎস খড়, কাঠ, তুষের মতো জৈব বস্তুর ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম বস্তুকণা। বাকি ১০ শতাংশ দূষিত বস্তুকণা আসে ইটভাটায় কয়লা পোড়ানোর ধোঁয়া থেকে।

এ থেকে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর বায়ুদূষণের উৎসের একটি বড় বদল ঘটে গেছে। এক যুগ ধরে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটাকে মনে করা হতো। কিন্তু এই জরপি বলছে, ঢাকার বাতাসে দূষিত বস্তুর উৎস হিসেবে ইটভাটার স্থান দখল করেছে যানবাহন ও শিল্পকারখানার ধোঁয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও বায়ু মান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান অধ্যাপক আবদুস সালামের নেতৃত্বে করা এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বাতাসে এই সব কটি সূক্ষ্ম বস্তুকণা মিলে তৈরি করছে কালো কার্বন, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই কালো কার্বন বছরের অর্ধেকের বেশি সময়জুড়ে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোয় চলা অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামতকাজের কারণে প্রচুর ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে। কালো কার্বন ওই ধুলায় ভর করে উন্মুক্ত স্থানের পাশাপাশি বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই ঘরের ভেতরে থাকলেও নিশ্বাসের সঙ্গে তা শরীরে ঢুকে পড়ছে।

অধ্যাপক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, সরকার অবৈধ ইটভাটাগুলো ভেঙে ফেলছে, বন্ধ করে দিচ্ছে—এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এখন বায়ুদূষণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন। এগুলোর বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি দেশে এখন প্রচুর বড় অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চলছে। সেগুলোতে ঠিকমতো ধুলা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

রাস্তায় বের হলেই দেখা যাবে ভুরভুর করে কালো ধোঁয়া ছেড়ে দিব্যি সবার মুখ অন্ধকার করে ছুটে যাচ্ছে বাস। খোদ ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের গায়ে কালো ধোঁয়া ছেড়েও চলে যাচ্ছে বাস। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। যানবাহনের সব ধোঁয়াই দূষণের জন্য দায়ী। কালো ধোঁয়ায় দূষণের পরিমাণ বেশি। আর কালো ধোঁয়ার বড় উৎস মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির সংখ্যা পাঁচ লাখের মতো। যেগুলো থেকে কালো বিষাক্ত ধোঁয়া বের হয়। প্রতিবছর ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে এ ধরনের যানবাহন বাড়ছে। ২০২০ সালের হিসাবে, দেশে নিবন্ধিত মোটরযান আছে ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭৮টি। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার ৩৬টি গাড়ি রয়েছে রাজধানীতে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ক্যামিকেল সোসাইটি দক্ষিণ এশিয়ায় কালো কার্বনের উৎস পরিমাপ শীর্ষক এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে। স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়, নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অব এয়ার রিসার্চ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের আটজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি করা হয়। তাতেও দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ুদূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী কালো কার্বন। আর এর ৫২ শতাংশ আসে জৈব জ্বালানি অর্থাৎ জ্বালানি তেল পোড়ানো ধোঁয়া থেকে।

আবার বিশ্বের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের হিসাবে ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে ঢাকার বায়ুর মান ১২ শতাংশ বেশি খারাপ হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু প্রকল্প থেকে ২০১২ সালে সর্বশেষ রাজধানীর বায়ুদূষণের উৎস নিয়ে একটি জরিপ করা হয়। তাতে দেখা যায়, ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য দায়ী উৎসগুলোর মধ্যে ইটভাটার অবদান প্রায় ৫৮ শতাংশ। ধুলা ও ধোঁয়া থেকে আসে ২৫ শতাংশ, জৈব বস্তু পোড়ানো থেকে আসে সাড়ে ৭ শতাংশ। বাকি দূষণের কারণ শিল্পকারখানাসহ অন্যান্য উৎস।

ওই গবেষণার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিবেশ অধিদপ্তর সারা দেশে ইটভাটার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযান চালায়। সরকারি ওই সংস্থাটির ২০২০ সালের হিসাবে, সারা দেশে ৮ হাজার ৩৩টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে সাত হাজার ইটভাটা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। আর পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই ২ হাজার ৫১৩টি ইটভাটার। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র—এ দুটি শর্তই পালন করেনি, এমন ইটভাটা রয়েছে তিন হাজারের বেশি।

গত দুই বছরে এ ধরনের প্রায় দুই হাজার ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে এক হাজার ইটভাটা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে মোট ৪৫ কোটি টাকা। এসব অভিযানের পর ইটভাটাগুলো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার পরিমাণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক রুহিনা ফেরদৌসী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা সত্যি বায়ুদূষণের উৎস হিসেবে ইটভাটার চেয়ে অন্যান্য উৎসের অবদান বাড়ছে। তাই আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলার বিরুদ্ধেও অভিযান জোরদার করব।’

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের উচিত বায়ুদূষণের সব কটি উৎস বন্ধে সমান উদ্যোগ নেওয়া। কিন্তু ইটভাটা ছাড়া দূষণের অন্য উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে খুব বেশি উদ্যোগ দেখা যায় না। বিশ্বের বড় শহরগুলোয় সারা দিনের ধুলোগুলো রাতে পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া হয়। আমাদের এখানে দিনের বেলা শুধু কোনোমতে ঝাড়ু দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর মতো বড় নির্মাণ অবকাঠামো তৈরির সময় ধুলা নিয়ন্ত্রণে বালু ও সিমেন্ট সব সময় ঢেকে রাখা হতো। কিন্তু রাজধানীর কোনো অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ধুলা নিয়ন্ত্রণেরর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। গাড়ির ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণেও শিথিলতা। আইনুন নিশাত বলেন, ‘বায়ুদূষণের এসব উৎস নিয়ন্ত্রণে কী করতে হবে, তা আমরা সবাই জানি। এটা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজের কাজটা তো করতে হবে।’


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/environment/%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%95-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%A7%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0

2


গবেষকেরা মনে করেন, মাইগ্রেন অ্যাটাকের কারণ হলো মস্তিষ্কে রাসায়নিকের ভারসাম্যহীনতা। আবার জেনেটিক বা বংশগত কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া আরও যে কারণগুলোর জন্য মাইগ্রেনের ব্যথা হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:


(১) স্ট্রেস
(২) অ্যাংজাইটি
(৩) নারীদের হরমোনের পরিবর্তন
(৪) অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করা
(৫) ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
(৬) পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা বেশি ঘুম হওয়া
(৭) হঠাৎ আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তন হওয়া
(৮) প্রকট সুগন্ধি
(৯) অতিরিক্ত আলো অথবা ফ্ল্যাশ লাইট
(১০) অতিরিক্ত চা ও কফি
(১১) ধূমপান
(১২)সময়মতো খাবার না খাওয়া
(১৩) প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়া।



আমাদের জীবনযাপনের কিছুটা পরিবর্তন আনলে মাইগ্রেনের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব - প্রাথমিকভাবে যা করতে হবে


(১) দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা যাবে না।
(২) কখনো সকালের নাশতা অবহেলা করা যাবে না।
(৩) প্রতিবেলা সুষম খাবার খেতে হবে।
(৪) কাঠবাদাম, কাঠবাদামের দুধ, পার্সলিপাতা, মৌরি, রসুন, আদা ও তাজা আনারস খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।
(৫)অ্যামাইনো অ্যাসিড টাইরামিনযুক্ত খাবারগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে প্রসেস করা মাংস, মাখন, হার্ড চিজ, দুধ দিয়ে তৈরি খাবার, এভোকাডো, কলা, বাঁধাকপি, বেগুন, আলু, টমেটো, রাসবেরি, চকলেট, রেড প্লাম, ইস্ট, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়।
(৬) প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে।
(৭) প্রতিদিন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, রিবোফ্লোবিন (ভিটামিন বি২), নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩), ভিটামিন বি৫ ও ভিটামিন বি৬ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।
(৮) এসেনশিয়াল অয়েলের মধ্যে প্রিমরোজ অয়েল সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
(৯) অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, ভাজাপোড়াজাতীয় খাবার এবং অ্যাসিডিটি তৈরি হয়, সে রকম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, ধারণা করা হয় যে অ্যাসিডিটির সঙ্গে মাইগ্রেনের ব্যথার সম্পর্ক আছে।


যে খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া প্রয়োজন - ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার:

দুধ, দই, বিনস, ব্রকলি, তিসি, তিল, কমলালেবু, পেঁপে, পোস্তদানা, ব্রাজিল নাটস, সিলারি, টফু, পালং শাক, ঢ্যাঁড়স, কাঁটাসহ সব ধরনের ছোট মাছ, রুই, বাটা, ফলি, কাতলা, শিং, কাঁকড়া, মাগুর, সরপুঁটি, বোয়াল, কই ও মৃগেল মাছ।

ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার:

গাঢ় সবুজ শাকসবজি, বিনস, ব্রকলি, নাটস, হোল গ্রেইন, তিসি, তিল, কলা, সি ফুড, চিনাবাদাম, ওয়েস্টার, ঢেঁকিছাঁটা চাল, ভুট্টা, চিড়া, আটা, মুগডাল, মাষকলাইয়ের ডাল, ছোলার ডাল, পেঁয়াজকলি, মুলা, গুঁড়া দুধ, বরবটি, পানপাতা, কাজুবাদাম, নারকেল, পাকা আম, জিরা, আদা, চা, কফি, কোকো।

ভিটামিন বি২ সমৃদ্ধ খাবার:


দুধ, টুনা মাছ, ব্রকলি, কাঠবাদাম, ডিম, মাশরুম, সব ধরনের শাক, সব ধরনের ডাল, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, কলিজা ইত্যাদি।


ভিটামিন বি৩ সমৃদ্ধ খাবার:


চীনবাদাম, আখরোট, কাঠবাদাম, তিল, সূর্যমুখীর বীজ, ডাবলি বুট, সবুজ মুগডাল, আপেল, খেজুর, আম, ডুমুর, কলা, ডিম, টুনা মাছ, মুরগির মাংস, গরুর মাংস, মাশরুম, মিষ্টি আলু, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি।

ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার:

দুধ, টুনা মাছ, স্যামন মাছ, ডিম, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, মুরগির কলিজা, গাজর, পালং শাক, শজনেপাতা, রসুন, সূর্যমুখী বীজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি।

লেখক: পুষ্টিবিদ, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য


3
দেশে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৮১ হাজার ২৯টি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সাংসদ এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। ওবায়দুল কাদের জানান, মালিকদের এসএমএসের মাধ্যমে ফিটনেস করার তাগাদা, সার্কেল অফিস থেকে নবায়নের ব্যবস্থার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড, ডাম্পিংসহ নানামুখী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেনের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক মহামারির কারণে মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে কাজের অগ্রগতি কিছুটা ব্যাহত হলেও থেমে থাকেনি। অন্য সময় রাতদিন কাজ হলেও কোভিডের কারণে রাতে কাজ বন্ধ ছিল। এ সময় কিছু বিদেশি প্রকৌশলী ও পরামর্শক এবং দেশীয় এক হাজার শ্রমিক চলে যাওয়ায় কাজের গতি কমে যায়।

রাজশাহী-৩ আসনের আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় ৩ হাজার ৯৪৩ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৪ হাজার ৮৮২ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ১৩ হাজার ৫৫৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক রয়েছে।

জাতীয় পার্টির সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারীর প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত রেলওয়ের ৮৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি সম্পন্ন হয়েছে।

বিএনপির সাংসদ মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী জানান, পাটকলশ্রমিকদের পাওনা বাবদ ইতিমধ্যে ১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় সমপরিমাণ পাওনা সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করা হচ্ছে। পাট ব্যবসায়ীদের বকেয়া পাওনা ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পরিশোধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A8-%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A7%AB-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%96-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80

4


আজকের স্বপ্নবাজ তরুণ যারা নিজের প্যাশনকে ফলো করে চারপাশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায়, তাদের জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেস। শুরু হতে যাচ্ছে ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের প্রথম সিজনের দ্বিতীয় চ্যাপ্টার, যেখানে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য থাকবে পরামর্শ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার উদাহরণ। এই সিজনে উদ্যমী তরুণ যারা নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে হতে চায় সফল উদ্যোক্তা, তাদের পরামর্শ দেবেন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস। ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের এই চ্যাপ্টারের উদ্বোধনী আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর যুব কার্যক্রম ও ইভেন্টসের প্রধান মুনির হাসানের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি এ কথা বলেন।   

ক্লেমন সব সময় সতেজতা ও নতুনত্বকে প্রচার করে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাঠাও রাইড শেয়ারিংয়ের ভাবনাটাও সতেজ বা নতুন ছিল। কীভাবে এই ভাবনা এসেছিল ইলিয়াসের মাথায়? ইলিয়াস বলেন, নতুন আইডিয়া নিয়ে ব্যবসায় শুরু করতে হবে বা উদ্যোক্তা হতে হবে—এমনটা ভেবে কাজ করা যায় না। উদ্যোক্তা হতে হলে আগে নিজেদের জীবনের কিছু বড় সমস্যা খুঁজে বের করতে হয় এবং সেই সমস্যার সমাধানটাই আসলে নতুন উদ্যোগের আইডিয়া হয়ে যায়। মাথায় অনেক নতুন আইডিয়া থাকলেই সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায় না। সমস্যার সমাধান দিতে পারলেই উদ্যোগ সফল হয়।

ইলিয়াস আরও বলেন, ‘প্রথমে সমস্যা নিয়ে চিন্তা করেছিলাম যেমন রাস্তায় অনেক ট্র্যাফিক, যাতায়াতের সমস্যা এটার সমাধান কীভাবে করা যায়। তখন রাইড শেয়ারিংয়ের ভাবনা মাথায় আসে। শুরুতেই আমাদের মোবাইল অ্যাপ ছিল না। একটা ভিজিটিং কার্ডে ফোন নম্বরে কল করে রাইড শেয়ার করা হতো। সীমিত রিসোর্স নিয়েই কাজ শুরু করতে হয়েছিল।’

ইলিয়াসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, পাঠাওয়ের শুরুর দিকের অবস্থা কেমন ছিল? এমন কোনো বিষয় কি আছে, যেটা এখনো মানুষের অজানা? ইলিয়াস বলেন, ‘পাঠাও শুরুর প্রথম এক-দেড় বছর খুব কষ্টের ছিল। তখনো পাঠাওকে কেউ চিনত না। মানুষ রাইড শেয়ারিং ধারণার সঙ্গে পরিচিত ছিল না। মোটরসাইকেলে একজনের পেছনে বসে এক জায়গায় যাবে—এ মানসিকতা ছিল না। তারপর লোকজন মোবাইলে অ্যাপ ইনস্টল করতে চাইত না। হয়তো তারা সার্ভিসটাকে পছন্দ করছে, কিন্তু প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। এ রকম অনেক বাধার মধ্য দিয়ে আমাদের আসতে হয়েছে।’

সমস্যার সমাধান করতে একটা আইডিয়া নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেই কি সফল উদ্যোক্তা হওয়া যাবে? ইলিয়াস তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পাঠাও আসলে তাঁর ৫ নম্বর ভেঞ্চার। শুরুর দিকের আইডিয়াগুলো সফল হয়নি। বারবার পরিকল্পনাকে বাজারের চাহিদা অনুসারে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করেই ৫ নম্বরে এসে পাঠাও সফল হয়।

অনেকেই ভাবেন অনেক ফান্ডিং বা অর্থ না থাকলে স্টার্টআপ শুরু করা যায় না। আসলেই কি তাই? হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘উদ্যোক্তা হতে গেলে আসলে অনেক বেশি ফান্ডিং বা রিসোর্সের দরকার নেই। শুধু সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক সমস্যার সঠিক সমাধান, সঠিক কর্মী ও দল নিয়ে কাজ করলেই সফল হওয়া যায়। পাঠাও শুরু হয়েছিল মাত্র চারজন কর্মী নিয়ে। পাঠাওয়ের প্রথম ১০ জন কাস্টমার ছিল আসলে আমাদের বন্ধু বা পরিচিত লোকজনের মধ্য থেকেই।’

আজকের তরুণ-তরুণী যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদের জন্য পরামর্শ হিসেবে হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, প্রথমে সমস্যা খুঁজে তার একটা সঠিক সমাধান বের করতে হবে। এরপর ভাবতে হবে সমাধানটা কোনো পথে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটার জন্য কি মোবাইল অ্যাপ লাগবে, নাকি কল সেন্টারের মাধ্যমে করা যাবে, সেসব ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর অবশ্যই ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে, অবস্থা বুঝে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে। শুরুটা করতে হবে নিজের বন্ধু বা পরিচিতজনদের সঙ্গেই। প্রথম কাস্টমারও হবে বন্ধুদের মধ্য থেকেই। এভাবেই ছোট পরিসরে শুরু করে ধীরে ধীরে সফল হওয়া যাবে।

এভাবেই আড্ডা এগিয়ে চলে। ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের এই সিজনে হুসেইন মোহাম্মদ ইলিয়াস পরামর্শ দেবেন এবং অভিজ্ঞতা জানাবেন আজকের তরুণদের, যারা উদ্যোক্তা হতে চায়। কীভাবে একটা স্টার্টআপের আইডিয়া করা যায়, কীভাবে একটা দল তৈরি করা যায়, কীভাবে ফান্ডিং করতে হয়, কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়—এসব বিষয় নিয়ে আগামী পর্বগুলোয় কথা বলবেন ইলিয়াস। ক্লেমন স্কুল অব ফ্রেশনেসের আগামী পর্বগুলো দেখতে এবং আরও সতেজ আপডেট জানতে চোখ রাখুন ক্লেমন এবং প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।


5


সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসনকেন্দ্রের (পঙ্গু হাসপাতাল) অস্ত্রোপচারকক্ষের সামনের করিডরে গত শনিবার চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৬ জন। প্রত্যেককে জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, ১২ জনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়কে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশই এখন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলেছেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাগুলো মূলত ঘটে বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা, বারবার লেন পরিবর্তন, ট্রাফিক আইন না মানা ও চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনে কথা বলার কারণে। হেলমেট ব্যবহার না করা ও নিম্নমানের হেলমেটের কারণে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতির কারণে পথচারীদেরও দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। তেমনই একজন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম। গত শনিবার সন্ধ্যায় তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের পাশের ক্রিসেন্ট লেক এলাকায় হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাস্তা পার হওয়ার সময় তাঁকে একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় তাঁর ডান পা ভেঙেছে।

সরেজমিন পঙ্গু হাসপাতাল

হাড়ভাঙা চিকিৎসায় দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান পঙ্গু হাসপাতাল। এর পুরো নাম জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার বেলা একটা পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৩৪ জন চিকিৎসা নেন। তাঁদের ১৬ জনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। কেউ চালক, কেউ আরোহী এবং কেউ পথচারী।

জরুরি বিভাগের পাঁচটি নিবন্ধন বই ঘেঁটে জানা গেল, নতুন বছরের প্রথম ১৬ দিনে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৪৮২ জন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ৫৮৫ জন। তাঁদের কতজন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত, তা উল্লেখ নেই। তবে নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল গণি মোল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, নিটোরে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া প্রায় ৩৫ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। তিনি বলেন, রাজধানীর বাইরে থেকে রোগী বেশি আসে। সম্প্রতি শরিকি যাত্রা বা রাইড শেয়ারিংয়ে থাকা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত মানুষ আসার সংখ্যাও বাড়ছে।

হাত ভেঙে নিটোরে রোববার চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম। এই তরুণ অকপটে স্বীকার করেন, শনিবার রাতে বন্ধুর সঙ্গে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতি বেশি ছিল। তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি রাস্তায় বালুর কারণে।

বেপরোয়া চালনা নিয়ে সাধারণ মোটরসাইকেলচালকেরাও চিন্তিত। অফিস থেকে রাতে বনানী থেকে মিরপুরের বাসায় ফেরেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. নাঈম হাসান। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল ও গাড়ি গতির প্রতিযোগিতায় নামে। সাধারণ মোটরসাইকেলচালকদের জন্য এটি বড় একটি ভয়ের কারণ।

কত যান, কত দুর্ঘটনা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য বলছে, দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৩১ লাখের বেশি, যা মোট যানবাহনের ৬৮ শতাংশ। শুধু ঢাকাতেই নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ৮ লাখের মতো। এর বাইরে একটি বড় অংশের মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত। বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর হিসাবে, দেশে বছরে প্রায় ৫ লাখ নতুন মোটরসাইকেল বিক্রি হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর সংকলন করে বুয়েটের এআরআই ও নিসচা। নিসচার হিসাবে, ২০২০ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ২৩২টি, যার ১ হাজার ১২৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এর মধ্যে ২৯ শতাংশ ট্রাক ও ২২ শতাংশ বাস দুর্ঘটনার। বুয়েটের এআরআইয়ের হিসাবে, ২০১৬ সালে ২৮৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩৩৬ জন মারা যান। ২০২০ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮টিতে, মারা যান ১ হাজার ৯৭ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০০৬ সালের একটি গবেষণা বলছে, ভালো মানের একটি হেলমেট পরলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হওয়ার ঝুঁকি কমে ৭০ শতাংশ। আর মৃত্যুঝুঁকি কমে ৪০ শতাংশ। বড় শহরের বাইরে হেলমেট না পরার প্রবণতার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মো. সোহেল রানা বলেন, হেল‌মেট না পরার কার‌ণে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হ‌চ্ছে। পাশাপা‌শি নানা স‌চেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হ‌চ্ছে।

শরিকি যাত্রা বেড়েছে

ঢাকায় কয়েক বছরে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এ খাতের কোম্পানিগুলোর নিবন্ধনের বাইরে অনেকে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করেন।

বুয়েটের এআরআই ২০২০ সালে রাইড শেয়ারিংয়ের ৪৫০ মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীর ওপর একটি জরিপ করে। এতে উঠে আসে, ৫০ শতাংশ আরোহী চালকের চালানো নিয়ে অনিরাপত্তায় ভোগেন। একই সংস্থার করা আরেক জরিপে এসেছে, চালকের ৩০ শতাংশ অতি নিম্নমানের হেলমেট পরেন। মাত্র ২ শতাংশ ক্ষেত্রে আরোহীদের ‘ফুলফেস’ হেলমেট দেওয়া হয়। এআরআইয়ের পর্যবেক্ষণ বলছে, রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের চালকদের প্রতিযোগিতা ও ফাঁক গলে আগে যাওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ।

রাইড শেয়ারিং অ্যাপের বাহনগুলোর দুর্ঘটনার সংখ্যা কত, তা জানতে তিনটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছে গত রোববার ই-মেইল পাঠায় প্রথম আলো। উবার দুর্ঘটনার সংখ্যা না জানালেও প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। তারা বলেছে, দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের জন্য ২ লাখ টাকা ও হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা বিমা–সুবিধা দেওয়া হয়। উবার জানিয়েছে, তারা সেরা মানের হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহ দেয়।

পাঠাও ই-মেইলের উত্তর দেয়নি। তবে সহজ ডটকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা মালেক কাদির মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, রাইড শেয়ারিং অ্যাপে ব্যবহার করা চালকদের দুর্ঘটনা ঘটেছে, এমন তথ্য তাঁদের কাছে নেই।

হেলমেটের নামে প্লাস্টিকের বাটি!

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালক (মান) সাজ্জাদুল বারি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বিএসটিআইয়ে হেলমেটের মান পরীক্ষা করার সুবিধা আপাতত নেই।
যদিও বাজারে বিক্রি হওয়া সব হেলমেট বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান অনুযায়ী উৎপাদন ও আমদানি হওয়ার কথা। বিএসটিআইয়ের নজরদারি না থাকায় বাজারে হেলমেটের বদলে বিক্রি হওয়া একাংশ মূলত প্লাস্টিকের বাটি।

সার্বিক বিষয়ে বুয়েটের এআরআইয়ের পরিচালক মো. হাদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, চালক ও আরোহীর ভালো মানের হেলমেট পরা, রাইড শেয়ারিংয়ে চালকদের প্রতিযোগিতা কমানো, সচেতনতা বাড়ানো এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগই সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে পারে।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A7%A9%E0%A7%AB-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87

6
মাস্ক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ও মজার বেশ কিছু তথ্য
১. ১৯৭১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন মাস্ক। ১৭ বছর বয়সে তিনি কানাডায় চলে যান। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

২. এখন পর্যন্ত মাস্ক আটটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন—টেসলা, স্পেস এক্স, হাইপারলুপ, ওপেন এআই, নিউরালিঙ্ক, দ্য বোরিং কোম্পানি, জিপ ২, পে পল।

৩. ছেলেবেলা থেকেই মাস্ক প্রযুক্তির পোকা। শোনা যায়, ৯ বছর বয়সেই তিনি গোটা এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা পড়ে ফেলেছিলেন। কম্পিউটার কোডিং তিনি নিজে নিজেই শিখেছেন। ১২ বছর বয়সে তিনি ‘ব্লাস্টার’ নামে এক ভিডিও গেম বানিয়ে ফেলেন। সেই গেম তিনি বিক্রিও করেছিলেন।

৪. ১৫ বছর বয়সে মাস্ক মার্শাল আর্ট ও রেসলিং শেখেন। শৈশবে মাস্ক ব্যাপক বুলিং বা উৎপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এমনকি একবার স্কুলের ছাত্ররা তাঁকে নির্মমভাবে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল।

৫. বলা হয়, আয়রন ম্যানের টনি স্টার্ক চরিত্র তাঁর আদলেই তৈরি। এমনকি আয়রন ম্যান ২-এ মাস্ক ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এ ছাড়া মাস্ক দ্য সিম্পসন, বিগ ব্যাং থিওরি, সাউথ পার্ক-এর মতো সিরিজে অভিনয় করেছেন।

৬. মাস্ক ইউপেন থেকে স্নাতক করেছেন এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। কিন্তু পিএইচডিতে ভর্তি হওয়ার দুই দিনের মধ্যে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে জিপ ২ করপোরেশন চালু করেন।

৭. স্পেস এক্স রকেটের সিংহভাগ মালিক ও প্রধান নির্বাহী হওয়ার পরও মাস্ক বেতন নেন না।

৮. একবার হতাশ হয়ে টেসলা বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন এলন মাস্ক।

৯. ছাত্রজীবনে একসময় মাস্ক দিনে এক ডলারে খাদ্য ব্যয় নির্বাহ করতেন। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে মাস্ক সেই কাহিনি শুনিয়েছিলেন, কীভাবে সুপারস্টোর থেকে ছাড়ে খাবার কিনে তিনি জীবন ধারণ করেছেন। বলেছিলেন, ‘তখন আমি মূলত হটডগ আর কমলা খেতাম। কিন্তু হটডগ আর কদিন খাওয়া যায়।’ এ ছাড়া পাস্তা, কাঁচ মরিচ বা ক্যাপসিকাম ও সস খেয়েও কীভাবে প্রাণ ধারণ করেছেন, সেই কাহিনিও শুনিয়েছেন।

১০. মাস্কের ছয় সন্তান। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তাঁর পাঁচ সন্তান। ২০২০ সালে তাঁর ষষ্ঠ সন্তান জন্ম নেয়। এই ছেলের নাম এক্স এই এ-১২ মাস্ক।

7
নিরাপত্তা নিয়ে ফেসবুকের সব সময়ই বড় গলা। ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি কাজ যে করছে না, তা নয়। তবে এখনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার খবর মেলে প্রায়ই। তাই আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অদ্ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা দেখলে দ্রুত নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো। প্রথম কাজটা হবে, অন্য কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করেছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া।

আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কোথায়, কখন লগইন করা হয়েছিল, তা চাইলেই দেখা যায় সেটিংস থেকে। তবে এখানে মনে রাখা ভালো, লগইন করার সময় ঠিকঠাক পাওয়া গেলেও উল্লেখিত অবস্থান শতভাগ নির্ভুল না-ও হতে পারে। তবু একটা ধারণা তো পাওয়া যাবে। তা ছাড়া, কী ধরনের ডিভাইস থেকে লগইন করা হয়েছিল, তা-ও পাওয়া যাবে।

অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনে ফেসবুক অ্যাপ থেকে
ফেসবুক অ্যাপ চালু করে ওপরের ডান কোনায় হ্যামবার্গার আইকনে ট্যাপ করতে হবে। হ্যামবার্গার আইকন হলো আড়াআড়ি তিনটি দাগ।

স্ক্রল করে নিচের দিক থেকে ‘সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি’ অংশে ‘সেটিংস’ অপশন নির্বাচন করুন।

এরপর ‘সিকিউরিটি’ থেকে ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড লগইন’-এ গেলে ‘হোয়্যার ইউ আর লগড ইন’ শীর্ষক অংশ পাওয়া যাবে।

বর্তমানে যে ডিভাইস থেকে ফেসবুক ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি নীল রঙে ‘অ্যাকটিভ নাউ’ হিসেবে দেখানোর কথা।

পুরো তালিকা দেখতে চাইলে ট্যাপ করতে হবে ‘সি অল’ লেখায়।

কম্পিউটারে ফেসবুকের ওয়েবসাইট থেকে
আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করে পর্দার ওপরের ডান দিকে খুদে ত্রিকোণ ড্রপ ডাউন বোতামে ক্লিক করতে হবে।

মেনু থেকে ‘সেটিংস অ্যান্ড প্রাইভেসি’তে ক্লিক করে ‘সেটিংস’ নির্বাচন করুন।

বাঁ দিকের প্যানেল থেকে ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড লগইন’-এ ক্লিক করুন।

অ্যাপের মতোই ‘হোয়্যার ইউ আর লগড ইন’ অংশে দেখতে পাবেন কোথায় কোন ডিভাইস থেকে কখন আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করা হয়েছিল।

কোনো ডিভাইস থেকে লগআউট করতে চাইলে
তালিকা থেকে দেখুন কোনো সন্দেহজনক লগইন আছে কি না। পেলে দ্রুত সেটি লগআউট করে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। ডিভাইসের তালিকায় কোনো একটি থেকে লগআউট করার জন্য সেটির ডান দিকে তিন বিন্দুওয়ালা আইকনে ক্লিক করতে হবে। আর সবগুলো থেকে একসঙ্গে লগআউট করার জন্য ‘সি মোর’ নির্বাচন করে ‘লগ আউট অব অল সেশনস’ বোতামে ক্লিক করতে হবে।

8
মাঝারি ও বড় আসবাব বা ফার্নিচার কারখানার কারিগরদের কাছে যন্ত্র সরবরাহের পরিচিত নাম এভারেস্ট উড ওয়ার্কিং মেশিন। বছরে ১৫ কোটি টাকার বেশি যন্ত্র বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। এসব যন্ত্রের দাম ৩৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা।




কাঠের আসবাব তৈরি হবে, এ জন্য যন্ত্রপাতি তো লাগবে। সেই যন্ত্র হোক ছোট বা বড়। এসব যন্ত্রপাতি কি সব বিদেশ থেকে আসছে? দেশের সব জেলা-উপজেলা পর্যায়ে তো গড়ে উঠেছে কাঠের আসবাব তৈরির কারখানা। সুখবর হলো, এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে এসব যন্ত্রপাতি। যদিও একসময় বিদেশ থেকে আসত। এখন সারা দেশের মাঝারি ও বড় আসবাব তৈরির কারখানার কারিগরদের কাছে যন্ত্র সরবরাহের পরিচিত নাম এভারেস্ট উড ওয়ার্কিং মেশিন। বছরে ১৫ কোটি টাকার বেশি যন্ত্র বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। এসব যন্ত্রের দাম ৩৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।

মো. ইউসুফ ও রাশেদা আক্তার দম্পতি প্রায় ১৫ বছর ধরে গড়ে তুলেছেন আসবাব তৈরির দেশীয় এই যন্ত্রের কারখানা। এখন একটি নয়, চারটি কারখানায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন, তৈরি করছেন যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ। সেই যন্ত্র ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে, তৈরি হচ্ছে নানা কারুকার্যের দরজা ও আসবাব। রাজধানীর শাহজাদপুর ও বাড্ডাতেই এসব কারখানা অবস্থিত।

কারখানায় গিয়ে দেখা গেল, শ্রমিকেরা নতুন যন্ত্র তৈরি করছেন, সবই ইস্পাতের তৈরি। কেউ ইস্পাত কাটছেন, তো কেউ নতুন করে জোড়া দেওয়ায় ব্যস্ত। কারখানাতেই তৈরি হচ্ছে সব কাঠামো। আর দেশি ও বিদেশি মোটর দিয়ে তৈরি হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ যন্ত্র। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে বিকশিত হচ্ছে দেশীয় ফার্নিচার শিল্প।

এসব কারখানায় কী তৈরি হয়, তার একটি হিসাব দেওয়া যাক। যদিও এসব নাম সাধারণ পাঠকের কাছে একেবারেই অপরিচিত। তবে ফার্নিচার শিল্পের সঙ্গে জড়িত লোকজনের কাছে পরিচিত। এভারেস্টের কারখানায় তৈরি হয় বিভিন্ন আকৃতির জয়েন্টার প্লেনার, থিকচেন প্লেনার, সিজেল মোটাইজার, সার্কুলার ‘স’, মোল্ডার মেশিন, টু-ইন-ওয়ান জয়েন্টার ও থিকনেচার, থ্রি ইন ওয়ান জয়েন্টার-থিকনেচার-সার্কুলার এবং ফোর ইন ওয়ান জয়েন্টার-থিকনেচার-সার্কুলার-সোজা মোল্ডিং।

কারখানার শ্রমিক সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাজের আদেশ আসে। এ জন্য সব সময় আমাদের কাজ চলতে থাকে। এসব যন্ত্র ছাড়া এখন আসবাব তৈরি করা যায় না।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসির কাছে আমরা ভালো গ্রাহকদের তালিকা চেয়েছিলাম। তারাই খোঁজ দিয়েছিল এভারেস্ট উড ওয়ার্কিংয়ের। ব্যাংক থেকে তারা ঋণ নিয়েছে, নিয়মিত শোধও করছে।

এভারেস্ট উডের মালিক মো. ইউসুফ বলেন, ‘আগে নিজ হাতে যন্ত্রপাতি বানাতাম। এখন শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। এমন কোনো জেলা বা থানা নেই, যেখানে আমার যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয় না।’

২০০৫ সালের আগে নিউমার্কেটে মালামাল সরবরাহের কাজ করতেন তিনি। ওই বছরই প্রস্তুতি ছাড়া আসবাব তৈরির যন্ত্রপাতি বানানোর কাজ হাতে নেন। কাগজে যন্ত্রের ছবি এঁকে সেই আদলে ছোট ছোট যন্ত্র তৈরির কাজ শুরু করেন। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে ছোট কারখানা থেকে বড় কারখানা হয়েছে। আগে যন্ত্রপাতি যেত নির্দিষ্ট এলাকায়, এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কাঠের আসবাব কারিগরদের কাছে পরিচিত নাম এভারেস্ট।



Source: https://www.prothomalo.com/feature/pro-business/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9C-%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A7%9C%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE

9
হ্যান্ডিমামা হচ্ছে পেশাদার ক্লিনিং ও মেইনটেন্যান্স সার্ভিসের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। গ্রাহকেরা ক্লিনার, ইলেকট্রিশিয়ান, কার্পেন্টার, পেইন্টার, প্লাম্বার, বাসাবাড়ি বদলের কর্মী ইত্যাদি সেবা পাচ্ছেন এর মাধ্যমে। এই প্রতিষ্ঠানের তরুণ সিইও শাহ পরান। কীভাবে শুরু করলেন প্রতিষ্ঠানটি, তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন চলতি ঘটনার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোছাব্বের হোসেন



আপনার সম্পর্কে বলুন। আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলুন। কী কী কাজ করেন আপনারা। কেন এই নাম দিলেন?

আমার নাম শাহ্ পরান। আমার একাডেমিক পড়াশোনা কম্পিউটার বিজ্ঞানে। ২০১১ সালে একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরির মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়। ২০১২ সালে চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করি। ২০১৪ সালে বন্ধুর সঙ্গে একটি আইটি কোম্পানি শুরু করি। মাত্র ছয় মাসের মাথায় ওই কোম্পানি বন্ধ করে দিতে হয়।

তারপর ২০১৪ সালের শেষের দিকে হ্যান্ডিমামার আইডিয়াটা নিয়ে কাজ শুরু করি। মার্কেট রিসার্চ ও পাইলট শেষে ২০১৫ সালের মে মাসে যাত্রা শুরু হয় হ্যান্ডিমামার। হ্যান্ডিমামা হচ্ছে পেশাদার ক্লিনিং ও মেইনটেন্যান্স সার্ভিসের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। হ্যান্ডিমামা মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, হোয়াটসঅ্যাপ, কল সেন্টারসহ যেকোনো একটি মাধ্যমে গ্রাহকেরা ক্লিনার, ইলেকট্রিশিয়ান, কার্পেন্টার, পেইন্টার, প্লাম্বার, বাসাবাড়ি বদলের কর্মী ইত্যাদি সেবা মুহূর্তের মধ্যেই বুক করতে পারবেন। সার্ভিস বুক করার পর গ্রাহকের সুবিধামতো সময়ে হ্যান্ডিমামা সার্ভিস প্রোভাইডার পৌঁছে যাবে গ্রাহকের দোরগোড়ায়।

সার্ভিস প্রোভাইডার পাঠানোর পাশাপাশি হ্যান্ডিমামা নিশ্চিত করে সেবার সঠিক মূল্য, কোয়ালিটি, গ্রাহকের সেফটি আর ওয়ারেন্টি। হ্যান্ডিমামা অ্যাপের সবচেয়ে জনপ্রিয় সেবাগুলো হচ্ছে হোম ডিপ ক্লিনিং, সোফা ক্লিনিং, কিচেন ক্লিনিং, ডিসিনফেকশান ক্লিনিং, হোম শিফটিং, পেস্ট কন্ট্রোল বা পোকামাকড় দমন, এসি, ফ্রিজ ও ওভেন রিপেয়ার। এ ছাড়া বাসা বা অফিস পেইন্টিং হ্যান্ডিমামার আরেকটি জনপ্রিয় সেবা।

হ্যান্ডিমামা নামকরণের সময় আমি একটা ভিন্নতা চেয়েছিলাম, যাতে মানুষ সহজে নামটি মনে রাখতে পারে। আর তাই ইংরেজি ‘Handy’ বা দক্ষ আর বাংলা ‘Mama’ বা মামার সমন্বয়ে এই নামকরণ। এর মানে হচ্ছে দক্ষ মামা, যিনি আমাদের হেল্প করেন, আমাদের সব সমস্যা সমাধান করেন।

উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করার কারণ কী? নিজেকে সফল মনে করেন কি না?

উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করার পেছনে মূল কারণ বা প্রেরণা হচ্ছে একটা বড় কিছু বিল্ড করা বা একটা বড় সমস্যার সমাধান করা, যেটা অনেক মানুষ ব্যবহার করবে। উদ্যোক্তা হলে আমি অনেক মানুষের জন্য কর্মসংস্থান করতে পারব, এই বিষয়ও একটা বিরাট ভূমিকা রেখেছে। সফলতার অনেক মাপকাঠি রয়েছে। আমি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দিক থেকে নিজেকে সফল মনে করতে পারি। কিন্তু উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে এখনো সফল মনে করি না। যেদিন কমপক্ষে ৫০ হাজার বাসায় প্রতিদিন হ্যান্ডিমামা ব্যবহার হবে, সেদিন নিজেকে সফল মনে করব।

কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন কমন বিষয়কে গুরুত্ব দেন?

যেকোনো কর্মী নেওয়ার আগে আমরা তাঁদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি তাঁদের প্যাশন, কাজের প্রতি কমিটমেন্ট, শেখার মানসিকতা ও পজিটিভ মনোভাবকে খুব গুরুত্ব দিই।

দেশে কোভিডের পরে কর্মসংস্থান, চ্যালেঞ্জ নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

কোভিড সারা পৃথিবীকে পরিবর্তন করে দিয়ে গেছে। আমি মনে করি, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে আমাদের কর্মক্ষেত্রে। মানুষ এখন কাজ করার নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করেছে। কোভিড–পরবর্তী সময়ে মানুষ অনেক কাজকে অটোম্যাট করে ফেলছে। যে কাজ মানুষ করে সে কাজ মেশিনের সাহায্যে করার চেষ্টা করছে, যে কাজ পাঁচজন করেছেন, সে কাজ তিনজন দিয়ে করানোর চেষ্টা করা হবে। এতে অনেক মানুষের চাকরি হারানোর উপক্রম হবে।

আমি মনে করি, আমাদের কর্মীদের তাঁদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে আগ্রহী হওয়া উচিত। বাসায় বসে কাজ করার যাবতীয় টুল শেখা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কোম্পানির জন্য ‘শুধুই আরেকজন কর্মী’ না হয়ে কোম্পানির একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ কর্মী’ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

কোভিডে আপনি কীভাবে প্রতিষ্ঠানের কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন?

কোভিড যদিও আমাদের ব্যবসার জন্য অনেক বড় একটা ধাক্কা ছিল, তবু লকডাউনের শুরু থেকেই আমরা বাসা থেকে কাজ চালিয়ে গেছি। আমরা ‘বাসা থেকে কাজ’–এর জন্য নতুন নতুন পলিসি ও নিয়ম নিয়ে এসেছি। আমাদের কর্মীরা সবাই দ্রুত নতুন নিয়ম ও কাজের ধরনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন।

লকডাউন শিথিল হওয়ার পর থেকে আমরা খুবই সীমিত আকারে অফিসে গিয়ে কাজ করছি। আমাদের ৬০ ভাগের বেশি কর্মী এখন বাসা থেকেই কাজ করছেন।

পেশার উন্নতির জন্য তরুণদের কাছে আপনার পরামর্শ কী?

পেশার উন্নতির জন্য তরুণদের কাছে আমার পরামর্শ হচ্ছে, চাকরিতে আসার আগেই ঠিক করতে হবে ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার কোথায় নিতে চাই, কোন ফিল্ডে কাজ করতে চাই। তারপর পছন্দের ফিল্ডে চাকরির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে দু-চার হাজার টাকার জন্য বারবার চাকরি পরিবর্তন না করে, পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনে দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কোম্পানির জন্য ‘শুধুই আরেকজন কর্মী’ না হয়ে কোম্পানির একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ কর্মী’ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

বাংলাদেশে আগামী ১০ বছরে কোনো কোনো সেক্টর বাড়তে পারে? এ জন্য তরুণেরা কীভাবে নিজেদের তৈরি করতে পারেন?

নিঃসন্দেহে তথ্যপ্রযুক্তি ও ই–কমার্স হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় কাজের সেক্টর। তথ্য ও প্রযুক্তি সেক্টরে সৃষ্টি হবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান। হ্যান্ডিমামাসহ অসংখ্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন হবে হাজার হাজার দক্ষ কর্মীর। তরুণেরা নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কোর্স বা ইন্টার্নশিপ করতে পারেন।

পেশা বাছাই করার ক্ষেত্রে কোন কোন দিককে প্রাধান্য দেওয়া দরকার বলে আপনি মনে করেন?

পেশা বাছাই করার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের আগ্রহের জায়গাটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। একটা কিছু করতে হবে বলে যেকোনো কাজ দিয়ে শুরু না করে নিজের পেশা নিয়ে পরিকল্পনামতো এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে আগামী ৫-১০ বছরের কোন কোন চাকরির চাহিদা বেশি থাকবে, সে অনুযায়ী নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে।

Source: https://www.prothomalo.com/feature/shapno/%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87

10
ফেসবুকে আপনার শেয়ার করা সবকিছুই জমা হয় ওদের ডেটা সার্ভারে। সেটা ছবি হতে পারে, ভিডিও হতে পারে। আবার বন্ধুর সঙ্গে মেসেঞ্জারের কথোপকথন কিংবা হঠাৎ মনে আসা কবিতার দুই পঙ্‌ক্তি লিখে দেওয়া পোস্টও এর মধ্যে পড়ে। এই সার্ভারগুলো থাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ডেটা সেন্টারে। চলুন ছবিতে দেখে নেওয়া যাক, ফেসবুক কোথায় আপনার তথ্য জমা রাখে।


ফেসবুকের ডেটা সার্ভার সচল থাকে দিনরাত। যন্ত্রাংশগুলো বেশ তাপ উৎপাদন করে। বিশেষ ব্যবস্থায় সেগুলো ঠান্ডা রাখা হয়।



অবশ্য সুইডেনের লুলেওয়েতে ফেসবুকের ডেটা সার্ভার ঠান্ডা রাখা হয় শুষ্ক-শীতল প্রাকৃতিক বাতাস ব্যবহার করেই।



ডেটা সেন্টারগুলোতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা হয়। প্রাকৃতিক বাতাস ব্যবহার করা হলেও সেগুলো বেশ কয়েকটি ফিল্টারের মধ্য দিয়ে যায়।



কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় বড় প্রকল্পে কাজ করছে ফেসবুক। এই প্রযুক্তির জন্য সার্ভারে ‘বিগ সার’ নকশার যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি।



নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন কর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার প্যাপিলিয়ন ডেটা সেন্টার। ফেসবুক



ফেসবুক দাবি করে তাদের ডেটা সেন্টারগুলো অন্যদের চেয়ে ৮০ শতাংশ বেশি ‘ওয়াটার এফিশিয়েন্ট’। অর্থাৎ তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার করে সার্ভারের কুলিং সিস্টেম সচল রাখা হয়।



যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস লুনাসে ফেসবুকের ডেটা সেন্টার। ছবি তোলার সময় সেটি নির্মাণাধীন ছিল।



ডেটা সেন্টারগুলোতে শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের চেষ্টা করে যাচ্ছে ফেসবুক। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে।



ডেনমার্কের অডেন্সে ফেসবুকের ডেটা সেন্টার।



আয়ারল্যান্ডের ক্লোনি ডেটা সেন্টার।



Sourcr: https://www.prothomalo.com/fun/%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F

11


গত বছরের মে মাসে শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ইলন মাস্ক ছিলেন ৪৬ নম্বরে। আর এখন তৃতীয়। করোনাকালে বিলিয়নিয়ারের মধ্যে বোধ হয় তিনিই সবচেয়ে বেশি এগিয়েছেন।

টেসলার বদৌলতে চলতি বছরজুড়েই ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। মার্কিন গাড়ি তৈরির প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশের মালিক তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার শেয়ারদর বিবেচনায় নিলে এই ২০ শতাংশের দাম ৯ হাজার ২২৫ কোটি ডলারের কিছু বেশি হবে।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার সূচক বলছে, ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১২ হাজার কোটি ডলার। টেসলা ছাড়াও রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সে ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে মালিকানা আছে তাঁর। এর সঙ্গে নগদ অর্থ তো আছেই।

সে তো গেল সম্পদের হিসাব। এবার চলুন দেখি সেই পাহাড়সম সম্পদ তিনি খরচ করেন কীভাবে।

ইলন মাস্কের যত বাড়িঘর
নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে ইলন মাস্কের আনাগোনা রিয়েল এস্টেট খাতে। বেশ দামি কয়েকটি বাড়ির পেছনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন তিনি। তবে মে মাসের প্রথমার্ধে টুইটারে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি আর কোনো বাড়ির মালিক থাকবেন না। এরপর সব বাড়িঘরে ‘বিক্রয়ের জন্য’ ট্যাগ লাগিয়ে দিলেন। এর একটি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার হিলসবরোতে ১৯১৬ সালে তৈরি ৪৭ একর জায়গার ওপরে ১০ বেডরুমের বাড়ি। দাম হাঁকা হয়েছিল সাড়ে ৩ কোটি ডলার।

গত জুনে ইলন মাস্ক লস অ্যাঞ্জেলেসে ১৬ হাজার বর্গফুটের ৭ বেডরুমের একটি বাড়ি চীনা এক ধনকুবেরের কাছে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারে বিক্রি করেন বলে জানিয়েছিল মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে গত আগস্টে সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় ইলন মাস্কের এখনো চারটি বাড়ি রয়েছে। সেগুলোর মোট দাম কমবেশি ৪ কোটি ডলার।

দাতব্যকাজে সিদ্ধহস্ত
২০১২ সালে ওয়ারেন বাফেট ও বিল গেটসের সঙ্গে ‘দ্য গিভিং প্লেজে’ সই করেছেন। সেখানে জীবনভর মোট সম্পদের সিংহভাগ দাতব্যকাজে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন তিনি।

২০১৫ সালে ‘ফিউচার অব লাইফ ইনস্টিটিউট’কে ১ কোটি ডলার দিয়েছেন মাস্ক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন কেবল মানুষের ভালোর জন্যই ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিতে কাজ করে সংস্থাটি। আর ২০১৬ সালে তাঁর নিজস্ব দাতব্য সংস্থা ‘মাস্ক ফাউন্ডেশনে’ সাড়ে ২৫ কোটি ডলার মূল্যের টেসলা শেয়ার দান করেছেন বলে প্রতিবেদন হয়েছে।

২০১৮ সালে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিয়েরা ক্লাব নামের এক পরিবেশবাদী সংগঠনে বেনামে ৬০ লাখ ডলার দান করেছেন ইলন মাস্ক। এদিকে মার্কিন রিপাবলিকান রাজনীতিবিদদের তহবিলেও দান করতে দেখা গেছে তাঁকে।

সংগ্রহে শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ি রাখতে চান
গাড়ি তৈরির প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী তিনি। গাড়ির প্রতি টান থাকা স্বাভাবিক। বেশ কিছু দারুণ গাড়ি আছে তাঁর সংগ্রহে। ২০১৩ সালের এক নিলামে মাস্ক প্রায় ১০ লাখ ডলার খরচ করে ১৯৭৬ মডেলের লোটাস এসপ্রিট স্পোর্টস গাড়ি কেনেন। ১৯৭৭ সালে গাড়িটি ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের ‘দ্য স্পাই হু লাভড মি’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে ব্যবহার করা হয়েছিল।

১৯২০ মডেলের ‘ফোর্ড মডেল টি’ গাড়িও আছে তাঁর সংগ্রহে। মাস্কের ভাষ্যমতে, সেটি এক বন্ধুর উপহার। আরও আছে ১৯৬৭ মডেলের ‘জাগুয়ার সিরিজ ১ ই-টাইপ’ রোডস্টার ধাঁচের গাড়ি। ২০১৭ সালে মাস্ক বলেছিলেন, তাঁর সংগ্রহশালার কেবল ওই দুটি গাড়িই গ্যাসোলিনে চলে। তবে আরও আগে যেসব গাড়ি তাঁর দখলে ছিল, যেমন ১৯৭৮ মডেলের বিএমডব্লিউ ৩২০আই থেকে ম্যাকলারেন এফ১, সেগুলোর কোনো উল্লেখ তিনি করেননি।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে টুইটারে ইলন মাস্ক লেখেন, বেশির ভাগ সময়ে তিনি টেসলার মডেল এস গাড়িটিই চালান। এ ছাড়া তাঁকে টেসলার আসন্ন সাইবারট্রাক চালাতেও দেখা গেছে।

বিনিয়োগে করেন নিজের প্রতিষ্ঠানেই

মাস্ক একবার বলেছিলেন তিনি সচরাচর নিজের প্রতিষ্ঠানেই বিনিয়োগ করে থাকেন। ২০১৮ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠান দ্য বোরিং কোম্পানি ১১ কোটি ২৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ পায়। এর ৯০ শতাংশ করেন মাস্ক।

ডিপমাইন্ড এবং নিউরোভিজিলের মতো বেশ কিছু নতুন প্রতিষ্ঠানে তিনি বিনিয়োগ করেছেন বলে প্রতিবেদন হয়েছে, তবে পরিমাণ জানা যায়নি। ২০১৫ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন মাস্কসহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী।

সূত্র: সিএনবিসি

Source: https://www.prothomalo.com/fun/%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%A1%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A6%B0%E0%A6%9A-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95

12
করোনাার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ন পরামর্শ
--  মোঃ আনোয়ার হাবিব কাজল
সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,


করোনা অতিমারি গোটা মানবসমাজকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। আমরাও সেই বিপর্যয়ের অংশীদার। এ পর্যন্ত সকল মহমারি থেকে করোনা অতিমারী ব্যতিক্রম। অন্য যে কোনো ভাইরাসের চরিত্র ও এর গতিপ্রকৃতি বিজ্ঞানীরা নির্ণয় করতে পারলেও কিন্তু করোনাকে মোটেও নাগালে আনতে পারেননি। হতবাক করে দিয়ে তা বিস্তৃত হয়ে গোটা মানবজাতিকে নাকাল বানিয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে  উৎকন্ঠা,আতঙ্ক ও দুঃস্বপ্নে এক বছর অতিক্রম করলেও আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভ। সরকারের উচ্চপর্যায়সহ বিভিন্ন মহল থেকে প্রস্তুতির তোড়জোড় চলছে এখন থেকেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলার জন্য।   
আইসোলেশন, কোয়ারেনটাইন, সেলফ-কোয়ারেনটাইন, সোস্যাল ডিসট্যান্স, লকডাউন এসব শব্দ অভিধানে থাকলেও এদেশের জনসমাজে এর আগে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়নি। আস্তে আস্তে করোনা মহামারি ব্যবস্থাপনা ও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে সকলে। আইসোলেশন, সামাজিক দূরত্ব বাস্তবায়ন ও পালন করতে অন্য দেশসমূহের মতো বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হয়েছে। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী ১৯০টি দেশের ১.৫ বিলিয়ন শিক্ষার্থী এখন প্রতিষ্ঠান বিচ্ছিন্ন ও বাড়িতে অবস্থান করছে। তারা এখন খেলার মাঠে বা বাইরে যেতে পারছে না। কোনো বন্ধু বা সহপাঠীর সাথে সময় কাটাতে পারছে না। ক্ষেত্র ও অবস্থা বিবেচনায় শুধু ভার্চুয়াল যোগাযোগ চলমান রয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সাথে সংস্কৃতিচর্চা, আড্ডা, হৈচৈ, খেলাধুলা করে আনন্দের সাথেই শিক্ষার্থীদের সময় কাটতো। করোনাকালে এসব থেকে বঞ্চিত হওয়ার সাথে সাথে বাইরের কার্যক্রম থেকেও শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই ঘরে থাকতে হচ্ছে, ইচ্ছে হলে বা সুযোগ থাকলেও একটু সময়ের জন্য ঘরের বাইরে যাওয়া নিরাপদ নয়। এখন শিক্ষার্থীদের কাছে বিনোদন, আনন্দ বলে কিছু নেই। এ সংকটে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘকালিন ক্ষতির সম্ভাবনা বিবেচনায় অনলাইন পাঠদান শুরু হয়েছে। যেটুকু জানা যায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন পাঠদানকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে ও উপকৃত হচ্ছে।

আমরা সবাই জানি, শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন শুধু পাঠদানের উপর নির্ভর করে না। পরস্পর মিথস্ক্রিয়া বলে একটা কথা আছে। এখন এটা হচ্ছে না। বাইরের আলোবাতাসে শিক্ষার্থীরা দৌড়াদৗড়ি করছে না। ক্লান্ত হচ্ছে না। যা-কিছু শিক্ষারই অংশ। এ গৌণ কাজগুলোই মূল শিক্ষাকে প্রণোদিত করে এবং রাষ্ট্র ও সমাজে দায়বদ্ধ হতে শেখায়, মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনে নিজের প্রস্তুতিতে সহায়তা করে।
করোনা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা এখন জীবনবাস্তবতা ও প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন। তা দীর্ঘ হচ্ছে বলেই সমস্যা। স্বভাবতই শিক্ষার্থীদের মতো তরুনদের ‘ট্রমা’য় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পৃথিবীর মহামারির বাস্তবতা, মানুষের দুঃখ, কষ্ট, দহনের দৃশ্যাবলি দেখে অনেকে হতাশায় নিমজ্জিত হতে পারো। আমরা লক্ষ্য করেছি, পীড়াদায়ক ঘটনার চাপে সাধারণ ব্যক্তি-মানুষের মধ্যে মনোদৈহিক যন্ত্রণা তৈরি হয়। তবে সকলের পক্ষে একইভাবে ঘটনার ঘাত সামলানো সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি গভীর বাস্তবতায় মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করে এবং এ থেকে সৃষ্টি হয় উদ্বেগ, বিমর্ষতা, ক্রোধ, অপরাধবোধ, বিষন্নতার। ফলত, সে তার চারপাশে কোনো কিছুতে বিশ্বাস রাখতে পারে না। নিজেকে ভাবে অবনমিত এক সত্ত¡া।এ থকে শারীরিক কিছু অসংগতিও শুরু হয়। এ বিষয়কেই আমরা বলি ‘ট্রমা’।

এ ‘ট্রমা’ ছাড়াও মনোবিজ্ঞানী ও আচরণবিজ্ঞানীরা সংগনিরোধ ও সামাজিক দূরত্ব থেকে সৃষ্ট বিষন্নতা, ভয় আতঙ্ক, বিরক্তিবোধ, ক্রোধ, বিচ্ছিন্নতা, নৈঃসঙ্গ, অবহেলা, অবনমন, নিরর্থকতা ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যা থেকে মানুষের মধ্যে অনিদ্রা, অনীহা, বিরোধ, অবসন্নতা, অসুস্থতা ইত্যাদি তৈরি হয়। ওই ভাবনা থেকেই বলতে চাই- করোনা প্রতিরোধের সাথে আগামী প্রজন্মের ক্ষেত্রে যতœবান হওয়া রাষ্ট্র, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের এখন দায়িত্ব। এজন্য সংগনিরোধকালে শিক্ষার্থীদের প্রতি আলাদা নজর রাখা প্রয়োজন। পরিবারের সাথে ভাববিনিময়ে সময় দেওয়া, কথা বলার চেয়ে বেশি শোনা এবং যৌক্তিকভাবে বিদ্যমান পরিস্থিতি অবহিত করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, মানসিক দূর্বলতা শিক্ষার্থীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

মহামারী করোনা ভাইরাসে প্রায় সবাই ঘরে বন্দী। সময় কাটছে আলস্যে। ফলে কর্মহীন শরীরে জমছে বাড়তি মেদ। তার ওপর করোনা প্রতিরোধে এই সময়ে দরকার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সক্রিয়তা। মহামারি করোনার হাত থেকে বাঁচার মতো এখনও কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরের ইমিউনিটি বাড়ানো তথা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোই করোনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। এজন্য নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, সংক্রমণ হলে যেমন ‘ইমিউন সিস্টেম’ শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে জীবাণুর বংশবিস্তার থামানোর চেষ্টা করে, ঠিক সেভাবেই ব্যায়াম করলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় বলে জীবাণুর অতিবিস্তার হতে পারে না খুব একটা। বেশ কিছু ঝামেলা বিহীন ব্যায়ামে শিক্ষার্থীরা বাড়িয়ে নিতে পারো তোমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি। কাজেই শুয়ে-বসে না থেকে দিনভর সচল থাকতে হবে। বাড়াতে হবে ব্যায়ামের পরিমাণও।
কী ধরনের ব্যায়াম করতে হবে?

ব্যায়াম বলতে কেউ হয়তো নিয়মিত একটু জোরকদমে হাঁটছে বাড়ীর আঙ্গিনায়, ছাদে বা খোলা মাঠে। আবার কেউ করে যোগাসন আবার কেউ কেউ সুবিধামত পুকুরে গোসলের সময় সাঁতার কাটে। কিন্তু তাতে পুরো কাজ কখনো হয় না। ঠিক কী কী করলে শরীরের প্রয়োজনীয় ওয়ার্কআউট হয় তা জানতে হবে।

# বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আমেরিকান কলেজ অব স্পোর্টস মেডিসিন থেকে জানানো হয়েছে, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়স্ক সুস্থ ও ফিট মানুষের সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি গতিতে বা ৭৫ মিনিট জোর গতিতে অ্যারোবিক ব্যায়াম করা দরকার। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন করতে হবে পেশীর শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম।
# অ্যারোবিক এক্সারসাইজ বলতে হাঁটা, জগিং, সাইকেল চালানো, স্কিপিং, সাঁতার কাটা ইত্যাদি বোঝায়। এই লকডাউনে তা করবে কীভাবে! তাই বাসার ছাদে অথবা বাড়ীর পাশের খোলা উঠানে হাঁট, স্পট জগিং কর., স্পট স্কিপিং করতে পারো বা সম্ভব হলে স্ট্যাটিক সাইকেল চালাতে পারো।
# সাধ্যমতো জোরে হাঁটলে হার্ট ও ফুসফুসের বেশি উপকার হয়। টানা ২০-৩০ মিনিট। টানা না পারলে সকালে ২০ মিনিট ও বিকেলে ২০ মিনিট হাঁটবে।
# রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সব ধরনের ব্যায়ামের মধ্যে যেটি সবার প্রথমে আসে সেটি হলো যোগব্যায়াম। কারণ যোগব্যায়ামের মাধ্যমে একই সঙ্গে শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। যোগব্যায়ামে আমাদের শুধু হাত, পা, পেটের মাংসপেশির ব্যায়ামই হয় না, আমাদের শরীরের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের (যেমন মস্তিষ্ক, হৃৎপিÐ, ফুসফুস, যকৃত, পাকস্থলী, কিডনি প্রভৃতি) বলতে গেলে সব সূ²াতিস² অংশের ব্যায়াম হয়। যোগব্যায়ামকে এখন শুধু ব্যায়াম বললে ভুল হবে; বরং এটি একটি চিকিৎসাপদ্ধতিও বটে। ইউটিউব বা ফেসবুকে জনপ্রিয় চ্যানেলগুলো দেখেও শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে যোগব্যায়াম শিখতে পারে।
# সাঁতার কাটা, জিমে যাওয়া বা দৌড়ানোর জন্য বাইরে বের হওয়ার অবস্থা বা সুযোগ না থাকলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারে। যেমন ওঠবস, বুক ডন (পুশ আপ) বেলি বা সিট আপ, জাম্পিং জ্যাক, বারে ঝোলা বা পুল আপসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করতে পারে। এসব ব্যায়াম ওজনও ঠিক রাখে, শরীর ঝরঝরে করে এবং কাজকর্মে গতি আনে।
# স্ট্রেচিং কী ভাবে করতে হয় তা কমবেশি সবাই জানে। বিশেষ কিছু নয়, শরীরের প্রতিটি পেশীসন্ধিকে সচল রাখার হালকা ব্যায়াম। পা-কোমর-শিরদাঁড়া, ঘাড়ের স্ট্রেচিং এই সময় খুব কাজে আসবে। কোনও ব্যথা-বেদনা বা অস্থিসন্ধি ও পেশীর বড় কোনও সমস্যা না থাকলে করতেই পারো।
# ইদানীং কয়েকটি নতুন ধরনের ব্যায়ামের ধারা চালু হয়েছে যাতে সুরের তালে তালে অ্যারোবিক্সের সঙ্গে স্ট্রেচিং, ব্যালেন্সিং, স্ট্রেংথ ট্রেনিং, সব হয়ে যায়। সে রকমই একটি হল টাবাটা। তোমরা যেহেতু বয়সে তরুন, ফিটনেস থাকলে টাবাটা করা যেতেই পারে।
# জুম্বা করতে পারো। যারা নিয়মিত জুম্বা করো এই সময় তা ছেড়ে দেবে না। জুম্বাতে তোমার শরীর যেমন ভাল থাকবে, মনও হালকা হবে একটু।
# এর পাশাপাশি বেশির ভাগ সময় সচল থাকার চেষ্টা কর। এক জায়গায় টানা বসে থাকার অভ্যাস হলে ব্যায়ামের ফল সেভাবে পাবে না।


করোনাকালে পরিবারের সদস্যদের প্রতি দয়া ও মর্মবোধ প্রকাশ করা, যে কেনো কাজে সহযোগী হওয়া, শুভ বিবেচনা বিনিময় করা, পরিবারের সকলকে নিয়ে অপরের মঙ্গলচিন্তা আলোচনা এবং সমমর্মিতার বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসা প্রতিটি শিক্ষার্থীর একান্ত কর্তব্য। এক্ষেত্রে একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষাচিন্তা ও এসডিজি-৪ বাস্তবায়নে যেসব নমনীয় দক্ষতার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো আমরা বাড়িতে চর্চা করতে পারি। এগুলো হলো : যোগাযোগ , আত্মপ্রণোদনা , বিশ্বাসযোগ্যতা, শৃঙ্খলা , সৃজনশীলতা ও গাঠনিক চিন্তা  উপযোগিতা, দায়িত্ববোধ , ও সমমর্মিতা । উপর্যুক্ত বিষয়গুলো সামাজিক ও আবেগীয় শিক্ষা-র অন্তর্ভুক্ত বটে। এজন্য স্ট্রেস ও ট্রমা ব্যবস্থাপনায় ইউনেস্কো সামাজিক ও আবেগীয় শিক্ষার কৌশলসমূহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।

পরিশেষে এটাই বলব, প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট শিক্ষার্থীদের শারীরিক ব্যায়াম করা উচিত, যা তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ধারণে অনুপ্রাণিত করবে। বিশেষত বর্তমানের এই সময়ে। কারণ করোনার জন্য আমাদের প্রতিদিনের রুটিনে নানা পরিবর্তন এসেছে। অনেক কিছুই ওলটপালট হয়ে গেছে। কেবল শারীরিক নয়, মানসিক চাপও যথেষ্ট প্রভাবিত করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের শরীর ও মনে। ফলে ব্যায়াম আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

আর একটি কথা শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে মনে রাখবে, বাসা থেকে বের হলে অবশ্যই মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবে আর ঘরে ফিরে হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে ভাল করে হাত ধুঁয়ে নিবে। সর্বাবস্থায় করোনাকালের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলবে। নিজে নিরাপদে থাকবে এবং পরিবারকে নিরাপদে রাখবে।

লেখকঃ
মোঃ আনোয়ার হাবিব কাজল
ঊর্ধ্বতন সহকারি পরিচালক ( জনসংযোগ)
ড্যাফোডিল ইন্টরন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি



13
Food / গরম নাকি ঠান্ডা দুধ খাবেন
« on: November 14, 2020, 12:40:20 PM »
ঠান্ডা ও গরম দুধের উপকারিতা
দুধ থেকে তৈরি খাবার যাঁদের হজম হয় না, তাঁদের খেতে হবে গরম দুধ। ঠান্ডা দুধ তুলনায় ভারী। হজম করা কষ্ট। আর গরম দুধে ল্যাকটোজেনের পরিমাণ কম থাকে। তাই এই দুধ সহজে হজম হয়।

রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করলে ঘুম ভালো হয়। দুধে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, যা ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে। দুধ গরম করা হলে অ্যামিনো অ্যাসিড সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ঠান্ডা দুধ স্থূলতা কমায়। দুধে থাকা ক্যালসিয়াম শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়, এতে ক্যালরি খরচ হয় বেশি। এ ছাড়া এক গ্লাস দুধ পান করলে আপনি অনেকক্ষণ ধরে আর কিছু খাওয়ার আগ্রহ বোধ করবেন না। এতে করে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমে ওজন কমবে।

যাঁরা গ্যাস্ট্রিক বা স্থূলতার সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য ঠান্ডা দুধ ভীষণ উপকারী। এতে বুক ও পেট জ্বালাপোড়া কমে। তাই খাবার খাওয়ার পর রোজ আধা গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করুন। ওষুধ ছাড়াই সমস্যা কমবে।

তা ছাড়া ঠান্ডা দুধে প্রচুর ইলেকট্রোলাইট থাকে, যা ডিহাইড্রেশন দূর করে। এটি শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রেখে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

আবহাওয়া পরিবর্তনে বা এমনিতে আপনি যদি সাধারণ ঠান্ডায় আক্রান্ত হন, তাহলে হালকা গরম দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে ঠান্ডা দূর হয়।

মেয়েদের পিরিয়ডের অসুস্থতায় প্রশান্তি মেলে গরম দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে পান করলে। দুধে থাকা পটাশিয়াম পিরিয়ডকালীন ব্যথা দূর করে এবং হলুদ শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়।


Source: https://www.prothomalo.com/feature/adhuna/%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%A7

14
দেশে যানবাহন ৪৫ লাখ। চালক পৌনে ২৭ লাখ।
নিয়ম হচ্ছে, একজন চালক একটানা সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা গাড়ি চালাবেন। এটি মানা হয় না।
গাড়ির ফিটনেস ও লাইসেন্স দেওয়া হয় গড়ে ৩ মিনিটের পরীক্ষায়।

দেশে সড়কপথের দৈর্ঘ্য ও নিবন্ধিত গাড়ি—দুটোই গত তিন দশকে কয়েক গুণ বেড়েছে। ব্যতিক্রম শুধু চালকের ক্ষেত্রে। গাড়ির সংখ্যা অনুপাতে দেশে বৈধ চালকের সংখ্যা এই সময়ে উল্টো কমেছে। অভিনব এ ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রতিষ্ঠার পর থেকে।

১৯৮৭ সালে বিআরটিএর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর সময় দেশে যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার। তখন চালক ছিলেন ১ লাখ ৯০ হাজার। অর্থাৎ গাড়ির চেয়ে চালকের সংখ্যা ১৫ হাজার বেশি ছিল। ধীরে ধীরে গাড়ি ও চালকের ব্যবধান বাড়তে থাকে। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৪৫ লাখের বেশি। কিন্তু চালকের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ ৭৫ হাজার। অর্থাৎ যানবাহনের তুলনায় চালকের সংখ্যা কম প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ।

চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও অতিরিক্ত গতির কারণে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে

পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা বলছেন, কর্মঘণ্টা মানলে একটি ট্রাক বা বাসে তিনজন চালক দরকার। সংকটের কারণে গাড়ি চালাচ্ছেন অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকেরা। আবার চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়েই গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এ কারণেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়েছে।

শ্রম আইন অনুযায়ী, একজন চালক একটানা সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা, সারা দিনে আট ঘণ্টা গাড়ি চালাতে পারবেন। চালকদের কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পরিবহনমালিকদের। সেটি হচ্ছে না। ২০১৮ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে চালকদের কর্মঘণ্টা মানার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং বিশ্রামাগার নির্মাণের নির্দেশনা দেন। সেটিও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

দূরপাল্লার পথে একজন চালককে টানা ১০ ঘণ্টার বেশি সময় গাড়ি চালাতে হয়। এ রকম চালকদের একজন আবদুল খালেক। তিনি ঢাকা-ঠাকুরগাঁও পথে একটি পরিবহন কোম্পানির বাস চালান। তিনি বলেন, বাস নিয়ে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও পৌঁছাতে সময় লাগে কমবেশি ১০ ঘণ্টা। মাঝে খাওয়ার জন্য সিরাজগঞ্জে ২০ মিনিটের বিরতি থাকে। পুরো পথে বিশ্রাম বলতে এটুকুই। ঠাকুরগাঁও নামার পর আবার যাত্রী তুলে ঢাকার পথ ধরতে হয় তাঁকে।

আবদুল খালেককে তাঁর বাস কোম্পানি কোনো নিয়োগপত্র দেয়নি। ফলে মাস শেষে নির্ধারিত বেতন নেই। আসা-যাওয়ায় ১ হাজার ৪০০ টাকা পান। নেই কোনো বিমাসুবিধা। বছরখানেক আগে খালেকের বাস মহাসড়কে ডাকাতের কবলে পড়ে। জীবন বাঁচাতে লাফ দিয়ে পা ভাঙে তাঁর। এরপর তিন মাস বাসায় ছিলেন। তখন কাজ না করায় কোনো টাকাও পাননি তিনি। ওই সময়ে মালিক বা শ্রমিক সংগঠন থেকেও কোনো সহায়তা পাননি। এবার করোনার সংক্রমণের সময় মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাস পর্যন্ত দুই মাস বাস চলাচল বন্ধ থাকার সময় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে তাঁকে।

দূরপাল্লার বেশির ভাগ চালক মাসে ১৫ দিন কাজ করতে পারেন বলে জানান আবদুল খালেক। তিনি বলেন, টানা প্রায় ২০-২২ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে এসে এক দিন ঘুমাতে হয়। অথচ মাঝখানে বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকলে প্রতিদিনই বাস চালানোর সুযোগ ছিল।

এটা তো গেল দূরপাল্লার পথের কথা। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের গণপরিবহনের চালকদের কর্মঘণ্টা আরও ভয়ংকর। ভোরে বাসে ওঠার পর কাজ শেষ হয় গভীর রাতে। মালিকের কাছ থেকে দৈনিক জমার ভিত্তিতে বাস চুক্তিতে নেন চালক। জমা পরিশোধের পর বাড়তি যা থাকে, সেটাই চালক ও শ্রমিকেরা ভাগ করে নেন। ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানচালকদের টানা দু-তিন দিনও রাস্তায় থাকতে হয়। তাঁরাও পরিবহনমালিকের সঙ্গে যাত্রার (ট্রিপ) ভিত্তিতে চুক্তিতে চলেন।

পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও বিআরটিএ সূত্র বলছে, ২০১০ সালের পর গত এক দশকে দেশে যানবাহনের সংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। ২০১০ সালে দেশে যানবাহন ছিল ১৫ লাখের কাছাকাছি। তখন চালকের লাইসেন্স ছিল ১৪ লাখের মতো। গত ১০ বছরে যে হারে যানবাহন বেড়েছে, সেই হারে চালক তৈরি হয়নি। এমনকি বিপুলসংখ্যায় লাইসেন্স দেওয়ার মতো অবকাঠামোও বিআরটিএর নেই। লাইসেন্স পাওয়ার পদ্ধতি জটিল, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং বিআরটিএর ঘুষ-দুর্নীতিও এ ক্ষেত্রে অনেকটা দায়ী বলে মনে করেন পরিবহনমালিকেরা। এ ছাড়া ২০১০ সালের আগে পেশাদার চালকের লাইসেন্স দেওয়া হতো সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের তালিকা ধরে। অবশ্য এটি এখন বন্ধ আছে।

পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানোর ফল হচ্ছে দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে বলছে, চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও গতির কারণে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর প্রতিষ্ঠাতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন প্রথম আলোকে বলেন, বাসভর্তি মানুষের জীবন একজন চালকের হাতে। কিন্তু তাঁর প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। পরিবহনমালিকেরা আইনের কিছুই মানেন না। আর এগুলো দেখার দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতাই নেই।

বিআরটিএ ২০১৯-২০ অর্থবছরে পরিবহনচালক, মালিক এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ফি ও করবাবদ ৩ হাজার ৭ কোটি টাকা আদায় করেছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী চালক সৃষ্টি, নিরাপদ সড়কের জন্য ত্রুটিমুক্ত যানবাহন এবং সেবা নিশ্চিত করতে পারছে না। বিআরটিএর অনিয়ম, দুর্বলতা এবং আইন প্রয়োগে ঘাটতির প্রভাব পড়ছে সড়কে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৭ হাজার ১৭০ জন।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করতে যাচ্ছে সরকার। দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুজিব বর্ষের শপথ, সড়ক করব নিরাপদ’।

বিআরটিএর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
দেশের ৬৪টি জেলাতেই বিআরটিএর কার্যক্রম আছে। কিন্তু তাদের নিজস্ব অফিস আছে মাত্র ছয়টি, এর তিনটিই ঢাকায়। বাকি তিনটি অফিস চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায়। দেশের অন্য জেলায় বিআরটিএর কাজ চলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। বিআরটিএর সেবা পেতে ভোগান্তি এবং সংস্থার কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য এবং দুর্নীতির অভিযোগও নতুন নয়।

এ বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ফিটনেস সনদ দেওয়াসহ প্রায় সব কাজ পর্যায়ক্রমে অনলাইনে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দালালদের দৌরাত্ম্য থাকবে না, ঘুষ-দুর্নীতিও বন্ধ হবে। তিনি বলেন, চালক বাড়াতে সরকার তিন লাখ নতুন চালক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এর কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বিআরটিএ লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করেছে।

বিপুলসংখ্যক যান এবং চালকের সেবা দেওয়ার মতো সক্ষমতা বিআরটিএর আছে কি না জানতে চাইলে নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, বিআরটিএর লোকবল কম আছে। জনবল ২ হাজার ২৮২ জনে উন্নীত করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর মিরপুর কার্যালয়ের অধীন দিনে গড়ে সাড়ে ৪০০ চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফিটনেস সনদ দেওয়া হয় গড়ে ৬০০ যানবাহনের। এটিসহ লাইসেন্স প্রদানের পরীক্ষার দায়িত্বে এই কার্যালয়ে আছেন আটজন মোটরযান পরিদর্শক। একজন পরিদর্শক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইন অনুসারে একটি যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেওয়ার আগে ৬০ ধরনের কারিগরি ও বাহ্যিক দিক পরীক্ষা করতে হয়। কিন্তু খাওয়া-বিরতির সময় বাদ দিলে একজন মোটরযান পরিদর্শক একটি গাড়ির ফিটনেস সনদ দিতে গড়ে সাড়ে তিন মিনিট সময় পান। একইভাবে একজন লাইসেন্স প্রার্থীর পরীক্ষার জন্য তিন মিনিটের বেশি সময় দেওয়া যায় না। এরই মধ্যে লিখিত, মৌখিক ও মাঠে যান চালিয়ে দেখাতে হয়।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৫৩৬। এর মধ্যে সাড়ে ২৫ হাজার বাস-মিনিবাস। আর ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৯ সালে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার ১৯ শতাংশের কারণ বাস। আর ট্রাকের কারণে ২৯ শতাংশ দুর্ঘটনা।

বর্তমানে দেশে বিআরটিএর কর্মী ৭০০-এর কিছু বেশি। এর মধ্যে মোটরযান পরিদর্শক আছেন ১০৯ জন। গত বছরের নভেম্বরে নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়েছে। এর আগে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ১১১ দফা সুপারিশ দিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নেরও মূল দায়িত্ব বিআরটিএর।

এই বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু ফিটনেসবিহীন যান এবং লাইসেন্সবিহীন চালক রাস্তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, যা সড়কে শৃঙ্খলা আনা এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা।

নতুন আইন বাস্তবায়ন বহুদূর
২০১৮ সালে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামার পর সরকার নতুন সড়ক পরিবহন আইন করে। আইনটি কার্যকর হয়েছে গত বছরের ১ নভেম্বর। কিন্তু আইনটির বেশির ভাগ ধারার প্রয়োগ এখনো শুরু হয়নি।

নতুন সড়ক আইনে চালকদের জন্য ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ করা হয়েছে। অপরাধ করলে সেখান থেকে পয়েন্ট কাটা গিয়ে শূন্য হলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়, ভাড়ার তালিকা না থাকা, অটোরিকশার মিটার কারসাজি, সংকেত না মেনে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ইত্যাদি অপরাধে এক পয়েন্ট করে কাটার বিধান রয়েছে। কিন্তু বিআরটিএ এই ধারা এখনো কার্যকর করতে পারেনি। এর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে, আইনের বিধিমালা না হওয়া।

এ বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, নতুন সড়ক আইনের বিধিমালার খসড়ার ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিধি হয়ে গেলেই আইন প্রয়োগের জটিলতা মিটে যাবে।

নতুন আইনের আরেকটি ধারায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের জন্য পরিবহনমালিকদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই তহবিলের মূল জোগানদাতা হবেন পরিবহনমালিকেরা। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে একটি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তহবিল গঠন ও পরিচালনার জন্য এখনো ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়নি। আর ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দরকার বিধিমালা, সেটিও হয়নি। এ অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনায় এখন কেউ হতাহত কিংবা কারও সম্পদহানি হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে না।

সার্বিক বিষয়ে বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চালক ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হলে অথবা যানবাহন ত্রুটিপূর্ণ থাকলে দুর্ঘটনা বাড়বে—এটা বলার জন্য গবেষণার দরকার নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে বা প্রাণহানি কমবে—এমন আশা করা মোটেও ঠিক হবে না।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%9F-%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%9C%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE


15
লকডাউনে বাসার মধ্য থাকার সময়েই সবার মনে হচ্ছিল করোনা পরবর্তী বিশ্ব, জীবনযাপন কেমন হবে। আসলে অনেক কিছুই অজানা। কোভিড পরবর্তী পৃথিবী কেমন হবে কারও কোনো ধারণা নেই। তবে এটা ঠিক যে, আমরা যেমন জীবনে বা পৃথিবী যেভাবে চলছিল সেভাবে আর চলবে না। আমাদের কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে। প্রয়োজন হবে আরও বেশি দক্ষতার। 

করোনা পরবর্তী চাকরি জীবনে সবচেয়ে বেশি যে দক্ষতাগুলোর প্রয়োজন, তা তুলে ধরা হলো—

ডেটা লিটারেসি
খাপ খাওয়ানো এবং নমনীয়তা
প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ব্যবহার বাড়ানো
সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবন
সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি
ডিজিটাল এবং কোডিং দক্ষতা
নেতৃত্ব
আজীবন শেখার প্রবণতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

Source: https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%80-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A7%AE-%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0

Pages: [1] 2 3 ... 104