Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Mohammad Nazrul Islam

Pages: [1] 2 3 ... 8
1
Common Forum / ছয়-নয়!
« on: June 23, 2020, 10:39:34 AM »
কণিকা বিন্দু বারি
খট্কা ‘ছক নাড়ি;
‘সদা ঢালিতেছে মধূ’ মরমে-
-মরমীর মূখে।।

ঘাটকুঞ্জে রাই বালা
পদ্মাসনে-সাজিয়ে ঢালা;
শুষিতেছে মধূ
চাণক্যের চালে।।

গোপীনি সকল- মিলে দলবল
গাহিছে- ‘গীত-বিতান’
!! হরি বল হরি বল !!
বে-সূরা তালে।।

ননদীর কথা, কেন যে অযথা ?
-এ তব মরমী সূর;
বে-হাতির ভাজনায়-
ব্রাহ্মণের খাজনায়; ছুটছে-
দূর হতে- বহু দুর…।।

আহা! গোবিন্দ বেশ; দশদিক ডেস
‘দিন গণা তালে’-
নারায়ণের ছবি আকাঁ
ডট. ডট. ফাকাঁ ফাঁকা
প্রেম কলংক জালে।।



2
Common Forum / প্রিয়সী জনা
« on: April 30, 2020, 12:36:14 PM »
কূল ভাঙ্গা দু‘ধার
মরা নদীর তীর;
জোয়ার-ভাটার অসারতা
হাসিঁ-কান্নার ভীর ।।

নিত্য চলে আসা-যাওয়া
পথিক-পরিজন;
ঘাট মারিয়ে, মাঠ পেরিয়ে-
নতুন-পুরাতন।।

মধ্যখানের বালু ক‘ণা
করছে হাহাকার;
একটু খানি বারি বিন্দু-
বুক ফাটাঁ চিৎকার।।

নগ্ন পায়ে স্বর্ণলতা
বারির প্রিয়জন;
খাড়ুতে সে ধার মারাবে-
চলছে ,ব্যর্থ  আয়োজন।।

এমনি চলা অধিরজনা
আশার বিন্দু বারি;
পৃথক যদি অনাদি তবু-
প্রেয়সী জনা তারই ।।



3
Common Forum / প্রনতি -
« on: March 21, 2020, 12:29:35 PM »
পুঁজি,পুজাঁরিনী-‘ওগো,
- নাগ, নন্দিনী-বালা
সোভিত কুসুম-মঞ্জরী,
- প্রণিতের অর্ঘ্য ঢালা।।

হৃদি পরশে রক্ত জমা
-বেদনার থলে ভরা
ভক্তির আসরে অশ্রুজল,
অর্পনের ঢালা ভরা।।

পুঁজি স্বামী, অন্তর-যামী
-ধূঁপ-ধূপাঁনী-‘হাহাকার’
সিবানী‘গো‘ প্রাণনাথ,
পদ-মঞ্জরী চুমিবার।।

যত আশা ভালবাসা
-উদিত-কামনা মনে
বুভূক্ষ্র এসে করে প্রাণ,
শূন্য বারি শনে।।

ল‘হো, প্রাথর্না-স্বামী
এ ন‘হে, প্রাপ্তির জল-ধারা,
অসার কুন্ঠিতা- ন‘হে
ন‘হে, কামনার বালু-চূড়া !! ।।

4
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই  পশ্চিমারা নানান অযুহাতে বাঙ্গালীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্ঠায় লিপ্ত হয়। প্রথম আঘাত আসে ভাষার উপর।। ফলে ১৯৪৮ সালের ১৯শে নভেম্বর বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, আইনজীবি, শিল্পী, সাংবাদিক ও সরকারী-বেসরকারী ও ওলামারা মুর্খ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের কাছে একটি স্বারক লিপি পেশ করেন। ১১ই মার্চ রাষ্ট্রভাষা সাবকমিটির উদ্দ্যোগে ধর্মঘট ও ছাত্র বিক্ষোভের আহব্বান করা হয়। এই বিক্ষোভ থেকে তোয়াহা, ওলি আহাদ, শেখ মজিব, বাহাউদ্দিন চৌধূরীসহ ৬৯ জন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। ১৪ই মার্চ তারা মুক্তি পেলে ১৫ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ‘সাধারন ছাত্রসভা আহুত হয়।

১৯৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীদের সম্মেলনে ঢাকসুর ভি.পি ফরিদ আহম্মদ ‘বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ও পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা ও শিক্ষার বাহনের দাবি করেন। তিনি বলেন ‘রাষ্ট্রভাষা, লিঙ্গুয়া, ফ্রান্কা নিয়ে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পূর্ববাংলার জনগনের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা। ১৯৪৭ সালের ১লা সেপ্টমবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ ও রসায়ন বিভাগের দুই অধ্যাপক জনাব আবুল কাশেম ও নূরুল হক পাকিস্তান 'তমদ্দুন মজিলস নামে একিট সংগঠেনর গোড়াপওন করেন । ১৯৪৭ সালে ঢাকায় তমুদ্দিন মজলিসের উদ্দোগে এক সাহিত্য সম্মেলনে পূববাংলা সরকারের মন্ত্রী ও সাহিত্যিক জনাব হাবিবুল্লাহ বাহারে সভাপতিত্বে বক্তাগন বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রকাশ দাবি করেন।

১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর জিয়া উদ্দিন আহম্মদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সপক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। কিন্তু জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর প্রতিবাদ জানান। দৈনিক আজাদ পত্রিকায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা র্শীষক নিবন্ধে তিনি লেখেন ‘পাকিস্তান ডোমিনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলের অধীবাসিদের মাতৃভাষা বিভিন্ন যেমন পশতু, বেলুচি, পাঞ্জাবী, সিন্ধি এবং বাংলা, কিন্তু উর্দু কোন অঞ্চলের মাতৃভাষা রুপে চালু নাই। যদি বিদেশী ভাষা বলিয়া ইংরেজী ভাষাকে অবজ্ঞা করা হয় তবে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষারুপে গ্রহন না করার পক্ষে কোন যুক্তি নাই। এরই প্রেক্ষাপটে করাচিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব পাশ হয়। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষা বাংলা ও উর্দু করার সুপারিশ করা হয়।

ফলে ১৫ই ফ্রেরুয়ারী প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন রাষ্ট্রভাষা ‘সংগ্রাম পরিষদের’ সাথে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয় ‘এপ্রিল মাসের ব্যবস্থাপনা সভায় এই বিষয়ে একটি প্রস্তাব উপস্তাপন করা এবং পাকিস্তান গনপরিষদও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই ব্যাপারে একটি বিশেষ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।১৯৪৮ সালের ২৫শে ফ্রেরুয়ারী কংগ্রেস নেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান গনপরিষদে সর্বপ্রথম ইংরেজী, উর্দু ভাষার পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। কংগ্রেস সদস্য শ্রীশ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত, ও হেমহরি বর্মা তার এই প্রস্তাকে সমর্থন করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধীতা করেন।

১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সারাদেশে সাধারন ধর্মঘট পালিত হয়। উপায় অন্ত না দেখে খাজা নাজিমুদ্দিন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে চুক্তির একটি চুক্তি হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই ১৯৫৯ সালের ২৪শে মার্চ পাকিস্তানের গর্ভনর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এক ঝটিকা সফরে ঢাকায় এসে রমনার রেস্ কোর্স ময়দানে পাচঁলক্ষ লোকের সমাবেশে ঘোষনা করেন ‘উর্দু, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তাৎক্ষনীক ছাত্রসমাজ এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং পরের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের পক্ষ থেকে শাসছুল হক, তোয়াহা, কামরুদিন, আবুর কাশেম, লিলিখান, অলি আহাদ, নইমুদ্দিন আহমেদ শামসল আলম ও সৈয়দ নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাকে একটি স্বারক লিপি দেওয়া হয়। তা সত্যেও জিন্নাহ সাহেব ঢাকায় তার বিদায়ই ভাষনেও সবায়কে পাকিস্তানী হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ‘বাঙ্গালী, সিন্ধি ও পাঞ্জাবী বেলুচি পরিচয় পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য বিপদজ্জনক।

১৯৪৮ সালের ২৭শে ফ্রেরুয়ারী সামছুল আলমকে আহব্বায়ক করে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ছাত্রদের প্রচন্ড আন্দোলনের মুখে পরবর্তীকালে জিন্নাহ গোপনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সাথে দেখা করে ‘বাংলাকে‘ প্রাদেশিক সরকারি ভাষা হিসাবে মেনে নিয়ে পূর্ববাংলার ছাত্রসমাজের সাথে একটি আপোষ রফার ব্যাপারে মধ্যস্থতা করার অনুরোধ জানান। ঢাকসুর ভি.পি ফরিদ উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক গোলাম আজম ও আব্দুর রহমান চৌধুরী (মহসীন হলের সহ-সভাপতি) আপোষ প্রস্তাবে রাজী হলেও শেখ মজিবুর রহমান, তোয়াহা, অলি আহাদ, তাজউদ্দিন আহম্মদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম আন্দোলন চলিয়ে যাওয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। শেখ মজিবুর রহমানের এইরুপ একক নেতৃত্বের কারনে পরবর্তীতে তাদের সাথে দ্বন্দের সূত্রপাত হয় এবং তারা ভিন্ন শিবিরে স্বাধীনতা বিরোধীতা করেন ।

১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সারাদেশে সাধারন ধর্মঘট পালিত হয়। ২৭ ডিসেম্বর করাচিতে নিখিল পাকিস্তান শিক্ষক সম্মেলনের উদ্বোধণী ভাষনে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব ফজলুর রহমান বাংলাভাষায় আরবি হরফ যুক্ত করার পক্ষে জোরাল চুক্তি প্রর্দশন করেন। ১৯৪৮ সালের  ৩১শে ডিসেম্বর কার্জন হলে ‘পূর্বপাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান তা যেমন সত্য, তার চেয়ে সত্য আমরা বাঙ্গালী; এটি কোন আদর্শের কথা নয়, এটি বাস্তবসত্য। ১৯৪৯ সালের ৭ই ফ্রেরুয়ারী পেশোয়ারে পাকিস্তান শিক্ষা উপদেষ্ঠা, বোর্ড সভায় বাংলা বর্ণমালা বিলুপ্ত করে আরবী হরফ প্রবর্তনের পক্ষে ধর্মীলেবাসে নানা যুক্তি প্রদর্শন করেন। ফলে সচতুর রাজরৈতিক নেতৃত্ব ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল হিসাবে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠাব করেন। এই সংগঠনটি শুরু থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রকার অন্যায়-অত্যাচার, শোষন ও নীপিড়নের বিরোদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। ১৯৪৯ সালের ১২ই মার্চ পাকিস্তান সংবিধান সভার প্রস্তাব অনুসারে শাসনতান্ত্রিক মূলনীতি নির্ধারন কমিটি গঠন করা হয়।

সেই কমিটি ১৯৫০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সংবিধান সভায় তোদের অন্তবর্তীকালীন রির্পোটে শাসনতান্তিক বিষয়ে রাষ্টভাষাকে ‘উদ্দু’ করার সুপারিশ করে। ইতিপূর্বে ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ঢাকা আরমানিঢোলা ময়দানে নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের এক জন সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জনসভায় মওলানা ভাসনী ও শামছুল হক (১ম সাধারন সম্পঁদক আওয়ামীলীগ) এর নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ মিছিল গর্ভমেন্ট হাইজের দিকে রওয়ানা হেল পুলিশ বাধা প্রদান করে । আন্দোরনকারীরা বাধা উপেক্ষ করে সামনের দিকে অগ্রসর হলে- আইন শৃংখলা ভঙ্গের অজুহাতে মওলানা ভাসনী ও শামছুল হককে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১২ অক্টোবর এই সংবিধান কমিটি পাকিস্তান অবর্জাভার অফিসে এক সভার আহব্বান করে এবং তাতে কমরুদীন আহম্মদ আতাউর রহমান খান, মোহাম্মদ তোয়াহা, তাজউদ্দিন আহম্মদ পাকিস্তান অবজাভারের সম্পাদক আব্দুস ছালাম ও মানিক মিয়া অংশ গ্রহন করেন। বৈঠকে আন্দোলনের কর্ম-পরিকল্পনা এবং পরিধি নিয়ে আলোচনা হয়। ১৯৫০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মূলনীতি নির্ধারক কমিটির রির্পোট প্রকাশের সাথে সাথে ঢাকার রাজৈনিতক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয় ।

পূর্ব বাংলার উপর একটি অগনতান্ত্রিক প্রস্তাব চাপিয়ে দেওয়ার চক্রন্তের বিরোদ্ধে স্বঃফুর্ত প্রতিবাদে পাকিস্তান অবর্জাভার অফিসে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ডেমোক্রেটিভ ফেডারেশনের নামে একটি সংগঠেনর জন্ম হয়। এই ডেমোক্রেটিভ ফেডারেশনের সদস্যবৃন্দ বিকল্প শাসনতন্তের খড়সা তৈরির জন্য সংবিধান কমিটি নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলেন। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিনের ভাষণ প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন খাজা নাজিমুদ্দিন ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন এবং ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের এক জনসভায় দীর্ঘ ভাষণ দেন।

তিনি মূলত জিন্নাহ্'র কথারই পুনরুক্তি করে বলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত তাঁর ভাষণে তিনি আরো উল্লেখ করেন যে কোনো জাতি দু'টি রাষ্ট্রভাষা নিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারেনি।নাজিমুদ্দিনের বক্তৃতার প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৯ জানুয়ারি প্রতিবাদ সভা এবং ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালন করে। সেদিন ছাত্রসহ নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সমবেত হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।পরে তারা তাদের মিছিল নিয়ে বর্ধমান হাউসের (বর্তমান বাংলা একাডেমী) দিকে অগ্রসর হয়। পরদিন ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত সভায় মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ৪০ সদস্যের সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদ গঠিত হয়।সভায় আরবি লিপিতে বাংলা লেখার সরকারি প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করা হয় এবং ৩০ জানুয়ারির সভায় গৃহীত ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দেয়া হয়। পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল, সমাবেশ ও মিছিলের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে।

পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে সমবেত হয়। সমাবেশ থেকে আরবি লিপিতে বাংলা লেখার প্রস্তাবের প্রতিবাদ এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ছাত্ররা তাদের সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

২০ ফেব্রুয়ারি সরকার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় এক মাসের জন্য সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিভিন্ন হলে সভা করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ৯৪ নবাবপুর রোডস্থ আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের কিছু সদস্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার পক্ষে থাকলেও, সবশেষে ১১-৩ ভোটে[ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে একই বিষয় নিয়ে পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় সলিমুল্লাহ হলে ফকির শাহাবুদ্দীনের সভাপতিত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত সভায় নেতৃত্ব দেন আবদুল মোমিন।

শাহাবুদ্দিন আহমদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে এই সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নেন আবদুল মোমিন এবং শামসুল আলম।পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী এ দিন সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে জড়ো হয়। তারা ১৪৪ ধারা জারির বিপক্ষে স্লোগান দিতে থাকে এবং পূর্ব বঙ্গ আইন পরিষদের সদস্যদের ভাষা সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মতামতকে বিবেচনা করার আহ্বান জানাতে থাকে। পুলিশ অস্ত্র হাতে সভাস্থলের চারদিক ঘিরে রাখে। বিভিন্ন অনুষদের ডীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঐসময় উপস্থিত ছিলেন।

বেলা সোয়া এগারটার দিকে ছাত্ররা গেটে জড়ো হয়ে প্রতিবন্ধকতা ভেঙে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছাত্রদের সতর্ক করে দেয়।কিছু ছাত্র ঐসময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দিকে দৌঁড়ে চলে গেলেও বাদ-বাকিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পুলিশ দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পুলিশের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। উপাচার্য তখন পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ বন্ধ করতে অনুরোধ জানান এবং ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। কিন্তু ছাত্ররা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় কয়েকজনকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার শুরু করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় ছাত্ররা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় তাদের বিক্ষোভ শুরু করে।

বেলা ২টার দিকে আইন পরিষদের সদস্যরা আইনসভায় যোগ দিতে এলে ছাত্ররা তাদের বাঁধা দেয়। কিন্তু পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে যখন কিছু ছাত্র সিদ্ধান্ত নেয় তারা আইনসভায় গিয়ে তাদের দাবি উত্থাপন করবে। ছাত্ররা ঐ উদ্দেশ্যে আইনসভার দিকে রওনা করলে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ দৌঁড়ে এসে ছাত্রাবাসে গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশের গুলিবর্ষণে আব্দুল জব্বার এবং রফিক উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া আব্দুস সালাম, আবুল বরকতসহ আরও অনেকে সেসময় নিহত হন। ঐদিন অহিউল্লাহ নামের একজন ৮/৯ বছরেরে কিশোরও নিহত হয়।

ছাত্র হত্যার সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জনগণ ঘটনাস্থলে আসার উদ্যোগ নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্ত অফিস, দোকানপাট ও পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রদের শুরু করা আন্দোলন সাথে সাথে জনমানুষের আন্দোলনে রূপ নেয়।রেডিও শিল্পীরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শিল্পী ধর্মঘট আহ্বান করে এবং রেডিও স্টেশন পূর্বে ধারণকৃত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে থাকে।

ঐসময় গণপরিষদে অধিবেশন শুরুর প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশের গুলির খবর জানতে পেরে মাওলানা তর্কবাগিশসহ বিরোধী দলীয় বেশ কয়েকজন অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রদের পাশে এসে দাঁড়ান। গণপরিষদে মনোরঞ্জন ধর, বসন্তকুমার দাস, শামসুদ্দিন আহমেদ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত-সহ ছোট ছয়জন সদস্য মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে হাসপাতালে আহত ছাত্রদের দেখতে যাবার জন্যে অনুরোধ করেন এবং শোক প্রদর্শনের লক্ষ্যে অধিবেশন স্থগিত করার কথা বলেন।কোষাগার বিভাগের মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ, শরফুদ্দিন আহমেদ, সামশুদ্দিন আহমেদ খন্দকার এবং মসলেউদ্দিন আহমেদ এই কার্যক্রমে সমর্থন দিয়েছিলেন। যদিও নুরুল আমিন অন্যান্য নেতাদের অনুরোধ রাখেননি এবং অধিবেশনে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন।

১৯৫১ সালে লাহোরে কায়েদে মিল্লাত লিয়াকত আলী খান আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। ফলে সারাদেশ ব্যাপি রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশীক পরিষদ নির্বাচনে ঘোষিত হলে মুসলিম লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে অন্যান্য দল মিলে যুক্তফ্রন্ট নামীয় একটি সমন্বিত বিরোধী ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তারিখে কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠন ।যুক্তফ্রন্টের প্রধার তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এই যুক্তফ্রন্ট ২১ দফার একটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। যথা-

১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে। ২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি ও সমস্ত খাজনা আদায়কারী স্বত্ব উচ্ছেদ ও রহিত করে উদ্বৃত্ত জমি ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিতরণ এবং খাজনা হ্রাস ও সার্টিফিকেট মারফত খাজনা আদায় রহিত করা হবে। ৩. পাট ব্যবসা জাতীয়করণ এবং তা পূর্ববঙ্গ সরকারের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় আনা এবং মুসলিম লীগ শাসনামলের পাট কেলেঙ্কারির তদন্ত ও অপরাধীর শাস্তি বিধান করা। ৪. কৃষিতে সমবায় প্রথা প্রবর্তন এবং সরকারি সাহায্যে কুটির শিল্পের উন্নয়ন। ৫. পূর্ববঙ্গকে লবণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। ৬. কারিগর শ্রেনীর গরীব মোহাজেরদের কর্মসংস্থানের আশু ব্যবস্থা। ৭. খাল খনন ও সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে বন্যা ও দূর্ভিক্ষ রোধ । ৮. পূর্ববঙ্গে কৃষি ও শিল্প খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশকে স্বাবলম্বী করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মূলনীতি মাফিক শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। ৯. দেশের সর্বত্র অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন এবং শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা। ১০. শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের ভেদাভেদ বিলোপ করে সকল বিদ্যালয়কে সরকারি সাহায্যপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। ১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রভৃতি প্রতিক্রিয়াশীল আইন বাতিল এবং উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করা। ১২. শাসনব্যয় হ্রাস, যুক্তফ্রন্টের কোনো মন্ত্রীর এক হাজার টাকার বেশি বেতন গ্রহণ না করা। ১৩. দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-রিশ্ওয়াত বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন। ১৪. জননিরাপত্তা আইন, অর্ডিন্যান্স ও অনুরূপ কালাকানুন বাতিল, বিনাবিচারে আটক বন্দির মুক্তি, রাষ্ট্রদ্রোহিতায় অভিযুক্তদের প্রকাশ্য আদালতে বিচার এবং সংবাদপত্র ও সভাসমিতি করার অবাধ অধিকার নিশ্চিত করা। ১৫. বিচারবিভাগকে শাসনবিভাগ থেকে পৃথক করা। ১৬. বর্ধমান হাউসের পরিবর্তে কম বিলাসের বাড়িতে যুক্তফ্রন্টের প্রধান মন্ত্রীর অবস্থান করা এবং বর্ধমান হাউসকে প্রথমে ছাত্রাবাস ও পরে বাংলা ভাষার গবেষনাগারে পরিণত করা। ১৭. রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ ঘটনাস্থলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা এবং শহীদদের পরিবারবর্গকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস এবং সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষনা করা। ১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ববঙ্গের পূর্ণ স্বায়ত্তসাশন এবং দেশরক্ষা, পররাষ্ট্র ও মূদ্রা ব্যতীত সকল বিষয় পূর্ববঙ্গ সরকারের অধীনে আনয়ন, দেশরক্ষা ক্ষেত্রে স্থলবাহিনীর হেডকোয়ার্টার পশ্চিম পাকিস্তানে এবং নৌবাহিনীর হেডকোয়ার্টার পূর্ব পাকিস্তানে স্থাপন এবং পূর্ব পাকিস্তানে অস্ত্রনির্মাণ কারখানা স্থাপন ও আনসার বাহিনীকে সশস্ত্র বাহিনীতে পরিণত করা। ২০. কোনো অজুহাতে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা কর্তৃক আইন পরিষদের আয়ু না বাড়ানো এবং আয়ু শেষ হওয়ার ছয়মাস পূর্বে মন্ত্রিসভার পদত্যাগপূর্বক নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। ২১. যুক্তফ্রন্টের আমলে সৃষ্ট শূন্য আসন তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং পরপর তিনটি উপনির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী পরাজিত হলে মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করা।

১৯৫৪ সালের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন অর্জ্জন করে। তন্মধ্যে ১৪৩টি পেয়েছিল মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, ৪৮টি পেয়েছিল শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামী ইসলাম পার্টি লাভ করেছিল ২২, গণতন্ত্রী দল লাভ করেছির ১৩টি এবং খেলাফত-ই-রাব্বানী নামক দলটি ১টি আসন। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ সম্পূর্ণরূপে এ নির্বাচনে পরাভূত হয় ; তারা কেবল ৯টি আসন লাভ করতে সমর্থ হয়।

এ নির্বাচনে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য ৭২টি আসন সংরক্ষিত ছিল। এগুলোর মধ্যে কংগ্রেস লাভ করেছিল ২৪টি আসন, কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, শিডিউল্ড কাস্ট ফাউন্ডেশন ২৭টি, গণতন্ত্রী দল ৩টি এবং ইউনাইটেড পগ্রেসিভ পার্টি ১৩টি আসন লাভ করেছিল। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন।১৯৫৪ সালের ৩ রা এপ্রিল শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুক হক চার সদস্য বিশিষ্ট যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করেন। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয় ১৫ মে তারিখে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুর হক। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় এসে বাংলা একাডেমী গঠন করে।এ প্রতিষ্ঠান বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সংরক্ষণ, গবেষণা এবং মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে বলে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয়। যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল মাল গোলাম মাহমুদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে তারিখে কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক সরকার বাতিল ঘোষণা করে। ১৯৫৫ সালের ৬ জুন তারিখে যুক্তফ্রন্ট পুণর্গঠন করা হয়; যদিও আওয়ামী লীগ মন্ত্রী পরিষদে যোগদেয়নি।

১৯৫৪ সালের ৩১ মে ‘ব্লাসফেমি’ আইন জারি করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করে দিয়ে শাসনতন্ত্রের ৯২ (ক) ধারা জারীর মাধ্যমে প্রদেশে গভর্ণরের শাসন প্রবর্তন করেন। একথা সত্য যে, ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহ্ওয়ার্দীর প্রধানমন্ত্রিত্বে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও রিপাবলিকান পার্টির কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে সোহ্ওয়ার্দী সাহেব মার্কিনমূখী পররাষ্ট্রণীতি গ্রহন করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সিয়াটো, সেন্টো প্রভুতি সামরিক চুক্তির পক্ষ অবলম্বন করেন। সাথে আরো ছিল মৌলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি।

গনতন্ত্রী দলের নেতা ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানিশ এবং মাহমুদ আলি সিলেটি। ফলে কেন্দ্রীয় সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এইরুপ আমেরিকাপন্থী মতাদর্শের কারনে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রাদেশীক সভাপতি মওলানা ভাসানীর সাথে মতানৈক্য দেখা দেয়। ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামেয় দলটি থেকে সম্প্রদায়িক ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলটিকে অসম্প্রদায়ীক ও সর্বজনীন করে নির্বানে অংশ গ্রহনের তুরজুর চলে। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও প্রাদেশীক সভাপতির পরস্পর ভিন্ন মতার্দশের কারনে আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে যায় এবং মওলানা ভাষানির নেতৃত্বে ন্যাশনার আওয়ামী লীগ নামে একটি নতুন দলের সৃষ্টি হয়। (চলবে---)-মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম

5
মহাবীর হারকিউলিস দেবতা প্রমিথিউজকে দুর্গম গিরি হতে অত্যাচারী জিউসের হাত হতে উদ্ধার করে জগতের সূচণা লগ্নে ন্যায় প্রতিষ্ঠার আলোকবর্তীকা জ্বালিয়ে ছিলেন। পুরানিক কাব্যগ্রন্থে উল্লেখ- গ্রীক দেতবা প্রমিথিউস সর্ব প্রথম স্বর্গ-দেবতাদের কাছ হতে ধার করে ‘অগ্নি’ এনে গ্রীকবাসি তথা সমগ্র বিশ্বের অন্ধকার দূর করেছিলেন। বিশ্ব সভ্যতা বিকাশে প্রমিথিউস এক থিমসং অর্কেস্ট্রা

পরবতীতে সভ্যতার বিবর্তনের ধারা পরিক্রমায় প্রমিথিউসের এই কল্যাণমূলক ভাবনা ‘প্রমিত সংস্কারে’ সারা বিশ্ব-বিবেককে দারুন ভাবে প্রভাবিত করে। এর-ই হাত ধরে আজকের সু-সংগঠিত মানব সমাজ।

‘ড্যাফোডিল ফ্যামিলি ডে’ প্রমিথিউস ভাবনার যোগফল। জীবন ও কর্মের অন্তহীন চলায় ‘ড্যাফোডিল ফ্যামিলি ডে‘র এই আত্মীক আয়োজন একটি বিশুদ্ধ ভাবনা- যার প্রমিত উচ্চারণে, জীবনের ক্লান্তি পারিবারিক সদান্দে বিমূহিত।

আমাদের দেশ, জাতি ও সমাজ বিকাশমান পথে দৃষ্টি দিব্য। সকল প্রকার দূঃখ-শোক ভুলে জীবন চলার পথে ড্যাফোডিল ফ্যামিলির এই আয়োজন পারিবারিক
বন্ধনকে অটুট ও শক্তিশালী করতে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ।

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে পালিত হলো ‘ড্যাফোডিল ফ্যামিলি ডে-২০২০। ১৭ই জানুয়ারী ২০২০ সাল, শুক্রবারের এ আয়োজনে ড্যাফোডিল গ্রুপের ৪০টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে চেঞ্জ টুগেদার, বর্ষসেরা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা, হয়। এছাড়া ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ধরনের খেলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের অংশগ্রহণে বিস্কুট দৌড়, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন রাইডে অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়।

ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বিগত বর্ষের সফল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মাঝে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাফল্যের স্বীকৃতিসহ প্রায় তিন লাখ টাকার অর্থকুপন তুলে দেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ড্যাফোডিল গ্রুপ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি একটি পরিবারও বটে। এই সময় তিনি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার পরিজনের সুস্বাস্থ্য ও র্দীঘায়ু কামনা করেন এবং ড্যাফোডিল গ্রুপের উত্তর-উত্তর উন্নয়নে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব সবুর খানের এই  আশা-প্রত্যাশায় সংহতি প্রকাশ করেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম মাহাবুব-উল-হক মজুমদার, প্রক্টর ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. গোলাম মওলা, কোষাধ্যক্ষ মমিনুল হক মজুমদার, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমরান হোসেন প্রমুখ।

https://banglatopnews24.com/daffodil-family-day/

6
Common Forum / “শা-হা-বা-গ”
« on: December 21, 2019, 08:08:27 PM »
আমার পতাকা ছিনিয়ে নিতে চায় “ ওরা রাজাকার”
তাই, চত্ত্বর জেগেছে আজ ‘শা-হা-বা-গ”
কণ্ঠ হয়ে লক্ষ- জনতার--
প্রতিরোধ চাই, প্রতিবাদ চাই, চাই সংগ্রামী চেতনার।।

”আমার বোনের ইজ্জত নিয়ে যারা খেলেছে ‘হুলি-খেলা’
সৃজতা বলি দিয়ে যারা রক্ত সাগরে ভাসাঁতো ‘ধর্মের ভেলা’
লক্ষ শহীদের রক্ত চুষে যারা সেজেছে “ধর্মভীরু’
সাত-মহারথী শিশুরে বাধিঁয়া ওরা হতে চায় মহাবীর নীরু”


-ওরা ভন্ড, ওরা প্রতারক, ওরা ধূর্তীবাজ
সৌরভে আজ ‘শা-হা-বা-গ’ তাই বলছে
তুই রাজাকার, তুই রাজাকার, তুই রাজাকার।।

রুখীতে তারুন্য ওরা হাকায় ধর্মের বানী
শাসক-সাজিয়া আসন কষিয়া হবে-মহামানী
ধর্ম দরাজ জাকিয়া বসিতে-ছিরি‘তে মানবের প্রাণ
তাই জেগেছে ‘শা-হা বা-গ” কর‘ছে মানবের জয়গান”

মানবতার জয় হোক,
ষোল কোটি মানুষের জয় হোক
জয় হোক নতুন জামানার।।


জাগরে জনতা, জাগরে বিবেক, তুলরে.. হাতিয়ার
রুখীতে হবে মিথ্যার ভূরুজ, জাগাতে হবে প্রাণ
তাই‘ শা-হা বা-গ’ গাইছে ‘গণ-জাগরণের গান-
তুই রাজাকার, তুই রাজাকার, তুই রাজাকার
তুর ফাসিঁ চাই, তুর ফাসিঁ চাই, তুর ফাসিঁ চাই, ।।



7
Common Forum / আমার গাঁও !
« on: December 10, 2019, 07:43:11 PM »
আমার মা‘য়ের শ্যামল সুভা
ধান-শালিকের গাঁও
দোয়েল -শ্যামা শীস কাঁটিয়ে
দুল‘তি দোলন খা‘য়।।

সবুজ ঘাসে মাঠ ভরা তার
ফুলের ঘ্রানে হেনু
গান করে ঐ মৌমাছিরা-
রাখাল চড়ায় ধেনু ।।

লাঙ্গল চুষে চাষিরা সব
কৃষাণ-কৃষাণীরা মাঠে ধায়
গান ধরে ঐ রাখাল বালক-
বটমূলের ছায় ।।

নিত্য ঘাটে খেয়া চলে
গ্রামের লোক যত
এপার-ওপার ছুটছে তারা-
মনের খুশি মত।।

কাকা ডাকা ঐ ভোরটা‘তে
বিলে ফেলে জাল
চিতল-বোয়াল ধরছে জেলে-
রেখে সমান তাল।।

সন্ধ্যা বেলায় শিয়াল ডাকে
দূর ব‘নের ঐ ধারে
শালিক-ডাহুক ফিরছে ঘরে
নন্দী খালের পারে।।

সাঁঝের বাতি দিচ্ছে খুঁকি
ঘর করিতে আলো
মায়ের যত প্রাথর্ণা ঐ-
সন্তানের করতে ভালো।।

পাখির ডাকার মধুর তানে
ঘুম ভাঙ্গানীর ছায়
সকল মানুষ জেগে উঠে-
আমার শ্যামল গাঁয়।।

এমনি করে দিন আসে-যায়
বছর যুগ কত
ভাল থাকুক আমার গাঁয়ের
মানুষ সকল যত।।


8
Common Forum / পথ হারা !
« on: December 10, 2019, 07:08:35 PM »
রে পাষানী, কেন? ভালবাসিলি তারে
হৃদয়ের আসক্তি, যত বেদনার দ্রোহ
অ-প্রকাশিতেই কেন? চলে গেলি
-পরপারে !!

মনে কি? ছিল তোর আশা
মরমের সাথে করি‘বি ভালবাসা
জাগাবি অমৃত সুধা
অ-জাগানিয়া-রে!!

মৃত্যুকে নিয়ে করিতে খেলা
জীবন কি? ছিল হেলা-ফেলা
স্ব-যত্নে গাথিঁয়া মালা পরা‘বি
পরবাসীর গলে !!

হৃদয়ের যত কথা
কচিঁ মনের অব্যক্ত ব্যথা
না সামালিতেই র‘হিবি পড়ে
পথ মাঝে!!

চিৎকার করিয়া উঠিবি ডাকি
ভালবাসা তোর স্ব-যতনে রাখি
প্রকাশের শংকা নিয়া পড়ি‘বি
কলংক তলে !!

পেতে যারে এতো আশা
কেন? দিলি ভালবাসা
অবেলার পথ মাঝে
পথ হারা‘য়ে ।।



9
Common Forum / জ্ঞানী
« on: November 04, 2019, 12:03:01 PM »
আগে সত্য, পাছে দয়া
-এ নামে রুচী হলে হয়,
জ্ঞানী হওয়া সামান্য-
তো নয়।।

ভাবে চাই মরন গড়া
সাম্য, সরলতায় গড়া
আত্ম-জ্ঞান হয় জগৎ জোড়া
ত্যাজ্য করি লর্জ্জা-ভয়।।

বলি-হরি, কূল, মান
দিয়া স্বার্থ বলিদান
পর-উপকারে প্রাণ
উৎস্বর্গ করিতে হয়।।

10
Common Forum / মদ্যপনা
« on: October 16, 2019, 09:52:04 PM »
যৌবনের প্রথম ভাগে কামনার রাগে
সূরার পিয়ালায় দিনু মূখ-
সূরহি মাস্তানায়, প্রগলোপের আস্তানায়
কেঁটে গেল চার যুগ।।

বেহেস্থি বয়ানে দেখিনু নয়নে
এ জগৎ মাতালের ইন্দ্রপুরি-
প্রিয়সীর পায়েলে-দিগ্` বার গায়েলে
- অনাদির অনন্ত চুরি।।

বলিতে বাহার, কে‘বা কাহার ?
‘এ মায়া’ ধান্দার ভেড়াজাল-
ললিতের বর্ণায়, কামনার ঝর্ণা
বহিছে অনন্তকাল।।

কালিতে নেশা, মালিতে আছে,
-কর্মেও তাই !
বুঝি, ধর্মের খোরচুন,
আবেগের দায় ।।


শব্দ কণিকা, দিয়ে যায় ধ্বনিকা
মদ-মত্ত, কামনার গন্ধ-
সূর্যে্্যর আলো কাড়ি-চন্দ্রের বাহাদুরী
চলিছে- সুরভী ছন্দ।।

আমি নেশা খোর- চোখ যায় যতদূর
-এ তব মন্দের দৃষ্টি;
ভাল ও মন্দ, প্রয়োজনের দ্বন্দ
 -এ বিধাতার অপরুপ সৃষ্টি।।



11
Common Forum / এলো ইসলাম !!
« on: September 09, 2019, 01:27:38 PM »
ধরনীর বুকে আনলো যারা বিপ্লবের-ই গান।।
শ্রেষ্ঠ তারা মানবের তরে হয়েছে মহিয়ান।

ন্যায়ের তরে,গগণ চিরে করতে জগৎ-সুখী
ফোঁটালো হাসিঁ জগৎদাসী কিম্বা চির দুঃখী।।

পবিত্রতা আর নিষ্ঠায় ভরা একাত্ববাদের গান-
ঝান্ডা উড়িয়ে, বিশ্ব জোড়ে এসেছে ইসলাম।।

ট্রাগ্রিস নদের-রণ-পথে, ডুবল যাদের প্রাণ
ভন্ড তারা চির পাপী কাফির শয়তান।।
 
   `শক্তি দিয়েও পারেনি-
     গড়তে মিথ্যার মান,
     শত শহীদের রক্তে ভেজা
     সত্য ন্যায়ের গাণ”।


ইসলামের সেই মহান বানী-
অকুন্ঠ- অণ্যায়, পরাজিত ন্যায়ের দন্ডমানে-
জাগিল ইসলাম, বিশ্বজোড়ে হয়ে মহা-মহিয়ান।।

যখন করিত গ্রাস কংসচক্র;
উত্তাল পাপীরা চলতো পথ- অভিরাম,
পদে পদে অনাসৃষ্টি, কিম্বা ছিল পথ ভ্রষ্ট-
   
   ‘ধ্বংশ তাদের সাথী করে
     এলো রবি আলো ভরে,
     মক্কার সেই মরু পথে-
    পথ ভ্রষ্ট পাপীর তটে,

গড়িতে মানবতা রাখিতে প্রাণ
ইসলাম এলো হয়ে মহা-মহিয়ান।।

আজকে কেন? শোকে-দুঃখে
ধুঁকছে- ইসলাম বুকে-মুখে;
আসবে কি? খালিদ অশ্র হেকে !
রাসূল (দঃ) নামের তজবি বুকে.
উল্ল্যাসে মাতবে বিশ্ব-মানব
গাইতে মানবতার গান…।।

12
Common Forum / নয়ন জল
« on: August 21, 2019, 08:23:01 PM »
দুঃখকে আমার ভয় কি ওরে?
তাকে চিনে চিনে মন উঠেছে ভরে,
হৃদয় আজ বাধঁন হারা-
সিক্ত পৃথ্বি দ‘লে,
সিন্ধুসম দুঃখ নিয়ে
আমি ভাসিঁ নয়ন জলে।।

অনাদরের আঘাত কাঁটা
হৃদি গভীরে আছে আটাঁ,
বিষাদ সিন্ধু তলে-
পরাজয়ের বরন মালা,
নিয়েছি তাই গলে।।

জীবন গীত আর অবহেলায়
দুলছে- জীবন দ‘লছে মেলায়
ধূ‘লি মাখা পথের ভেলায়
লুটছে চরণ তলে-
আমি ভাসিঁ নয়ন জলে।।

শূণ্য ত্বরিৎ দেয় ঈশারা
আমি পাগল পথ যে হারা
নয়ন জলের অশ্রুধারা
ঝড়ছে অনা-দরে
আমি ভাসিঁ নয়ন জলে।।

সুখের দিনের মধুর কথা
ক্ষণে ক্ষণে জাগায় ব্যাথা
অন্তরও অতল তলে-
মধুর পিয়াস, বিনাষ বাশেঁ
আটস্ তনু ছ্লে।।

13
Common Forum / নষ্টামী-
« on: July 22, 2019, 06:23:10 PM »
রাস্তার ধারে, নিষিদ্ধ আব্ছায়,
মধুমাক্ষীর কামনার লোলুপ দৃষ্টি;
অ-বোধ,  মন-রসনায়-
নষ্টামীর আহব্বান জাগায়।।

স্পর্শকাত স্থানগুলোর দর্শন
এক মধুময় আরতির-
অনন্য অনুভূতি জাগায়;
সৃষ্টির যৌবিক মাদকতায়।।

সোডিয়াম লাইটের বর্নীল আলোক ছ‘টায়
এক নগ্নতার ছায়া পথ ফোটে মনে;
লালসার ললিতে-
এ যেন, এক- দূরন্ত যান্ত্রিকতা।।

অ-বয়, অ-সমতা-
অর্থের মাপকাটিতে তনুয়াবিষ্ট হয়;
মদ-মত্ত উন্মাদনায়-
মাতালের নেশার ঘোরে।।

হঠাৎ কোমলাঙ্গীর জীর্ণ দৃষ্টতায়
মনে পড়ে, মা বোন-ভাগ্নির অবয়ব;
ভাবনার আবেগ প্রশ্ন রাখে-
ওরাও তো মানুষ !!

তারপর, যার পণে ছুটে চলা-
শেষ রাতের মিটিমিটি তারা গুলো;
মায়ের স্বরে প্রশ্ন করে –
কেমন আছিস খোকা? ভুলে যাসনি তো----।।




14
পৃথিবীতে আগুনের সূচনা কখন কি ভাবে হয়ে ছিল বলা মুশকিল ! তবে ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রস্তর যুগের মানুষেরা-ই সর্ব প্রথম পাথরে পাথরে ঘর্ষণে আগুন প্রজ্জলন করে ছিলেন। সেই থেকে আগুনের নানাবিদ ব্যবহার মানুষকে, আধুনিক যুগে পৌছে দিতে যুগযুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছে।

জানা যায়, পৃথিবীর সর্বাপেক্ষ প্রাচীন নগরি গ্রিকে সর্ব প্রথম আগুন প্রজ্জলন শুরু হয়েছিল। বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে উল্লেখ , গ্রীক দেবতা ইয়াপেতুন ও ওশেনিড ক্লাইথেনের সন্তান ‘দেবতা প্রমিথিউস’ মানুষকে প্রাণী জগতের শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেন।

তিনি মানুষের উপকারে স্বর্গে গিয়ে মৃত্যূর কাছ থেকে আগুণের মশাল এনে মানুষকে ‘আগুন’ উপহার দেন। কিন্তু অপর দেবতা ‘জিউস’ এতে মনো- ক্ষুন্ন হন। তিনি ‘দেবতা প্রমিথিউস’কে শৃংখলে আবদ্ধ করে সারা গ্রীকে আগুন লাগিয়ে দেন। তৎপর ঈগলের রুপ ধারন করে পাহাড়ের পাদদেশে শৃংখলিত প্রমিথিউসের কলিজা ভক্ষণ করতে থাকেন। এহেন, নৈরাজ্যে ‘গ্রীক মহাবীর হারকিউলিস’ মহাবিক্রমে জিউসের হাত থেকে প্রমিথিউস কে উদ্ধার করে দেবতার আসনে অলংকৃত করেন।

প্রসিদ্ধ, সর্ব প্রথম দেবতা প্রমিথিউস ও জিউসের পরস্পর দ্বন্দে পৃথিবীতে প্রথম ভয়াবহ অগ্নি-কান্ডের সূচণা হয়েছিল। যার ধ্বংশ যজ্ঞে লক্ষ বছরের কালের স্বাক্ষী গ্রীক নগরির এথেনস্।

যা ফলে, যুগ পরিক্রমায়- শাসক শ্রেণী অহেতুক অগ্নিকান্ডের হাত হতে রক্ষা পেতে গড়ে তুলতে থাকেন ‘অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা’। অনুমান করা যায় আজ থেকে এক লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে অহেতুক অগ্নিকান্ডের সূচনা হয়েছিল।

এ কথা যদিও সত্য যে, আধুনিক যুগে আগুনের বহুবিদ ব্যবহার মানব সমাজ কে সভ্যতার স্বর্ণ-শিখরে আরোহন করতে সাহায্য করেছে । সেই সাথে এর ব্যবহারিক অসর্তকতা ও অপ-প্রয়োগও মানুষকে দিন দিন আরো বেশী ভাবিয়ে তুলেছে।

পরিসংখ্যানে উল্লেখ, আধুনিক কল্যাণ মূলক রাষ্ট্রসমুহে ৭০% ধ্বংশ যজ্ঞ অগ্নিকান্ডে ও ভূমিকম্পের দ্বারাই সংগঠিত হচ্ছে। তাই, বৈশ্ববিক প্রতিরক্ষায় অগ্নিকান্ডে ও ভূমিকম্পের ভয়াবহতা এখন নতুন চ্যালেন্স।

ইতিমধ্যে এই চ্যালেন্স মোকাবেলায় উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো গড়ে তুলেছে সর্বাধুনিক অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা। এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে পরছে অনুন্নত রাষ্ট্র গুলো। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব ও অত্যাধিক ঘন-বসতির কারণে সমগ্র পৃথিবীর সিংহভাগ অগ্নিকান্ড সংগঠিত হচ্ছে এই সকল অনুন্নত দেশগুলোতে। এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্র-গন্য।

বহুল আরোচিত এই অগ্নিকান্ড ও ভুমিকম্পের কারণ ও করনীয় সম্পর্কে গত ১৭ ও ১৮ই জুন ২০১৯ ইং  (‘দুই দিনব্যাপী) ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে হলে গেল এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মশালায় অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় হাজারেরও অধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা -কর্মচারী অংশ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুই-দুইজন, সুদক্ষ প্রশিক্ষক বিভিন্ন আঙ্গিকে অগ্নিকান্ড ও ভুমিকম্পের কারণ ও করনীয় সম্পর্কে বিস্তার ব্যাখা প্রদান করেন।

শুরুতেই প্রশিক্ষক রাসেল শিকদার বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপুর্ণ দিকগুলোর মধ্যে ‘ভূমিকম্পও অগ্নিকান্ড, এক বিশেষ আতংক। প্রতি বছর ‘ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ডে এদেশের অগনিত মানুষ ও প্রাণীকুলের প্রাণহানী, ব্যক্তিক কিংবা রাষ্ট্রীয় বিপুল পরিমান সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে।

প্রতিনিয়তই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান শহর গুলোতে ‘ভূমিকম্প ও অগ্নি-কান্ডের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা সত্যিকারেই ভাবনার বিষয়।

জরিপে উল্লেখ, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়দেশ গুলোর মধ্যে বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশী ভুমিকম্প প্রবণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে চলেছে। অথচ আমরা যদি এ ব্যাপারে একটু সতর্কতা  অবলম্বন করি, তবে ভূমিকম্পের ব্যাপক ধ্বংশ যজ্ঞ হতে সহজেই রক্ষা পেতে পারি।

এ ব্যাপরে তিনি ভুমিকম্পের সময় করনীয়, অবস্থান এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী তে করনীয় সম্পর্কে বিস্তার ব্যাখা প্রদান করেন। সেই সাথে ধ্বংশ যজ্ঞ ও আহত লোকদের প্রাথমিক চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিস্টিভাষী অপর প্রশিক্ষক  জনাব মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম দুলন বলেন, আমাদের অ-সচেতনতা এবং অজ্ঞতার কারণেই প্রতিবছর বাংলাদেশে ‘অগ্নিকান্ড ও হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ব্যাক্তি কিংবা রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ। অথচ আমরা এবিষয়ে একটু সচেতন হলেই এই অনাকাঙ্থিত ধ্বংশ যজ্ঞ ও প্রানহানী থেকে অতি সহজেই রক্ষা পেতে পারি। 

তিনি, এব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদাহারণ টেনে বলেন, সর্বাধিক সচেতনতা ও বিপকালীন সময়ে করনীয় সম্পর্কে ‘বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’ তাদের সাধ্য মত সারাদেশের মানুষদের ‘ভূমি-কম্প ও অগ্নিকান্ডের কারণ ও করনীয় সম্পর্কে বিভিন্ন সেমিনা ও বাস্তব ভিত্তিক ট্রেনিং দিয়ে আসছে  যার ধারা বাহিকতায় আজকের এই অনুষ্ঠান।

তিনি বলেন, স্বল্পজায়গায় অধিক বসতিও বিশেষ করে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত বিল্ডংকোড না মেনে যত্র-তত্র বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে।এই সকল ভবন নির্মানে নেই কোন মান-সম্মত কর্ম-পরিকল্পনাও জরুরী র্নিগমন পথ।ফলে অনাকাংঙ্খিত বিপদে মানুষ এই সকল ভবনগুলোতে আটকা পড়ে অকাত রে প্রাণ হারাচ্ছে।

এব্যাপারে তিনি সাভারের ঘটে যাওয়া ‘রানা প্লাজার’ ব্যাপক প্রাণহানী ও ধ্বংসাত্বক ইতিহাস টেনে ভবন মালিকদের সরকার কর্তৃক নিদের্শী নিয়ম মেনে ভবন নির্মানের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তদুপরি, তিনি অনাকা-ঙ্খীত অগ্নিকান্ডে- অগ্নি নির্বাপনে -কুলিং, স্মাদারিং, ষ্টার ভেশন ও পয়জনিং পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে (প্রাথমিক, ডেভলপমেন্ট ও ফুল্লি-ডেভলপমেন্ট)  স্তরভেদে কি করনীয় তার বিস্তার ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, সাধারনত পরিবহন, পরিচলন ও বিকিরণ পদ্ধতিতে আগুণের বিস্তার ঘটে। প্রকার অনুয়ায়ী-এ (কঠিন), বি (তরল), সি (গ্যাসীয়) ও ডি (পাউডার) পদ্ধতি ব্যবহার করে অগ্নি-নির্বাপন সম্ভব। মূলতঃ কোন প্রকার আগুন নিভাতে কি পদ্ধতিতে বহার করতে হবে তা তাৎক্ষণিক ভাবে ভুক্ত-ভোগিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অগ্নিকান্ডের সময় অস্থিরতা না দেখিয়ে সময় মত বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেকে অবহিত করতে হবে। সব সময় ০২-৯৫৫৫৫৫৫ বিশেষ প্রয়োজনে জরুরী তথ্য সেবা ৯৯৯ ফোন করে দ্রুত অগ্নিকান্ড সংগঠিত হওয়া জায়গার নাম, প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর সংযোজন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের যে কোন বিপদে জন সচেতনাই বিপদ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়। ভূমিকম্প কিংবা অগ্নিকান্ড চিরতরে সমাধান না করা গেলেও জন সচেতন তার মাধ্যমে আমরা এই বিপদ থেকে বহুলাংশেই রক্ষা পেতে পারি।

এই ব্যাপারে তিনি উপস্থিত সকলকে নিজ নিজ প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে আরো বেশী সচেতন ও সংবেদনশীল হওয়ার আহব্বান জানান।

#  মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম/বাংলাটপনিউজ২৪.কম # https://banglatopnews24.com/2019/06/18/%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA-%E0%A6%93-%E0%A6%85%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%B0/

15
Common Forum / কেন???
« on: June 11, 2019, 06:44:41 PM »
জীবের তরে জীবন বহনে-
কেন? দিলে দায়-ভার!
পথ চলিতে সাথি করিলে
কেন? দুঃখ কষ্ট তার!

নিয়মে ঘোরে বাধিঁলে যারে
কেন? দিলে তারে প্রেম স্নেহ মায়া!
অসীম-সমীনের মাঝে এঁকে দিলে
কেন? বেদনার কালো ছায়া!

আর্দশ নিয়মের কথা ফোঁকরালে
কেন? আকাশ-বাতাস জোড়ে!
কেন? বিজ্ঞের দহন !
-অজ্ঞ তুষ্টির তরে!

কেন? দিলে চাওয়া-পাওয়ার রীতি-নীতি
হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণ—
ভোগে আসক্তি, ত্যাগে আত্ম প্রসাদ
কেন? অজ্ঞতায় ইন্দ্রিয় বারণ!

জন্ম যার, আনন্দে ভরা-
কেন? কর্মে কান্নাঁ অঢেল!
যৌবনের বাধঁ টুটে নেয়,
জীবন মৃত্যুর খেল!

Pages: [1] 2 3 ... 8