Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Md. Monir Hossain

Pages: [1] 2
1

আমাদের গুনাহের শেষ নেই। পদে পদে আমরা নাফরমানি করি। আল্লাহতায়ালাকে ভুলে যাই।

যেহেতু আমরা কালিমা পড়েছি, আল্লাহকে এক বলে স্বীকার করি, তাই মাঝে মাঝে নিজের কৃত পাপকাজের জন্য অনুতপ্ত হই এবং আল্লাহতায়ালার কাছে তওবা করি। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, আর কখনও নাফরমানি করব না।

আমাদের তওবা কবুল হলো কি হলো না, এটা আমরা কীভাবে বুঝব?

ভারতের প্রসিদ্ধ চিন্তক আলেম ও দাঈ মাওলানা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানি কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে তওবা কবুল হওয়ার কয়েকটি আলামত বর্ণনা করেছেন।

১. তওবার পরের জীবন তওবার আগের জীবনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবে।
২. গুনাহ করতে গেলেই আল্লাহতায়ালার ভয় জাগ্রত হবে।

৩. মন গুনাহের কাজের প্রতি নিরাসক্ত হতে থাকবে। গুনাহ করতে ভালো লাগবে না।
৪. নেককাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আমলে তৃপ্তি ও স্বাদ অনুভব হবে।

৫. নেককার লোকদের সঙ্গে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের সোহবতে থাকতে ইচ্ছে করবে।

তওবা করার পর এই আলামতগুলো যদি আমাদের মধ্যে দেখতে পাই, তাহলে বুঝে নিব আল্লাহতায়ালা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

এক যুবক ২০ বছর আল্লাহতায়ালার অনেক ইবাদত বন্দেগি করল। এরপরে হঠাৎ এক মেয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে গুনাহের কাজে লিপ্ত হল। ৩০ বছর পর্যন্ত গুনাহ করতে থাকল এবং আল্লাহতায়ালাকে ভুলে গেল।

অতঃপর, সে যখন বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হল, তখন নিজের কৃতকর্মের ওপরে অনুতপ্ত হয়ে নির্জনে বসে আল্লাহতায়ালার কাছে দোয়া করতে লাগল, হে আল্লাহ, আপনার দেয়া ২০ বছর আমি ইবাদত বন্দেগিতে কাটিয়েছি। তারপরে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ৩০ বছর নাফরমানি ও অবাধ্যতা করেছি।

এখন আবার আমি আপনার ইবাদত বন্দেগি করতে চাই। আপনি কি আমার কৃত গুনাহগুলোকে ক্ষমা করে দিবেন?

বারবার সে একই কথা বলে দোয়া করতে থাকল। কাঁদতে থাকলো ঘণ্টারর পর ঘণ্টা। হঠাৎ গায়েব থেকে আওয়াজ এলো, হে আমার বান্দা, তুমি ইবাদতের মাধ্যমে আমাকে যখন মোহাব্বাত করতে, তখন আমিও তোমাকে মোহাব্বাত করতাম।

এরপরে তুমি যখন আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ, তখন আমিও তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি। কিন্তু আমি অপেক্ষায় ছিলাম,তুমি ফিরে আসবে। হতাশ হইনি। আজ তুমি ফিরে আসতে চাচ্ছ?

তওবা করে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছ? তাহলে শোনো আমার কথা, আমি তোমার তওবা কবুল করেছি এবং তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।

এক হাদিসে কুদসির সারমর্ম এমন, কী হয়ে গেল আদম সন্তানের, সে গুনাহ করে, এরপরে সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আমি তাকে ক্ষমা করে দিই।

এরপরে আবার সে গুনাহে লিপ্ত হয় এবং আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিই; আমার ভয়ের কারণে পরিপূর্ণভাবে না সে গুনাহে লিপ্ত থাকতে পারে, না আমার রহমত ও মাগফিরাত থেকে নিরাশ হতে পারে!

এই জন্য গুনাহ হয়ে গেলেও সে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

হে আমার ফেরেশতারা, তোমরা সাক্ষী থাকো, আমার এমন সমস্ত বান্দাদেরকে আমি ক্ষমা করে দিলাম।

এক যুবক নবীজি (সা.) এর কাছে এসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল আর বলতে লাগল, হায় হায় আমি গুনাহগার, আমার গুনাহের শেষ নেই! আমার কোনো মুক্তি নেই।

নবীজি (সা.) বললেন, আমার কাছে এসো। আমি যা যেভাবে শিখিয়ে দিচ্ছি, সেভাবে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া কর।

এরপরে নবীজি (সা.) বললেন, হে আল্লাহ, আমার গুনাহ তো অনেক, কিন্তু আমার এই গুনাহের চেয়ে আপনার রহমত আরও অনেক অনেক বেশি।

হে আল্লাহ, আমি যা নেক কাজ করেছি, তার প্রতি বিন্দুমাত্র আমার আশা এবং ভরসা নেই, যতটুকু না আপনার রহমত ও মাগফিরাতের প্রতি আছে!

নবীজি (সা.) যুবককে বললেন, এভাবে আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। দোয়া করে এমনভাবে উঠে যাও, যেন আল্লাহ তায়ালা তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

হযরত মুসা (আ.) আল্লাহতায়ালার কাছে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ, দোয়ার মাধ্যমে ‘হে আল্লাহ, হে আমার প্রতি পালক’ বলে আপনাকে কেউ যখন ডাকে, তখন আপনি কী বলে তার ডাকে সাড়া দেন?

আল্লাহ তায়ালা উত্তর দিলেন, আমি তখন বলি, লাব্বাইক, (হে আমার বান্দা, আমি হাজির)।

মুসা (আ.) আবার জিজ্ঞেস করলেন আপনার কোনো ইবাদতগুজার বান্দা যখন আপনাকে ডাকে তখন আপনি কী বলে তার ডাকে সাড়া দেন? আল্লাহতায়ালা বললেন, লাব্বাইক।

মুসা (আ.) বললেন, কোনো রোজাদার আপনাকে যখন ডাকে, তখন কী বলেন? আল্লাহ তায়ালা বললেন, তখনও আমি বলি লাব্বাইক।

মুসা (আ.) আবার জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা কোনো গুনাহগার বান্দা যখন আপনাকে ডাকে, তখন আপনি কী বলে তার ডাকে সাড়া দেন?

আল্লাহতায়ালা উত্তরে বললেন, তখন আমি বলি, লাব্বাইক, লাব্বাইক, লাব্বাইক।

মুসা (আ.) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, নেককার লোক, রোজাদার লোক যখন আপনাকে ডাকে, তখন আপনি একবার লাব্বাইক বলেন, আর কোনো গুনাহগার ডাকলে তিনবার লাব্বাইক বলেন, এর কারণ কী?

আল্লাহতায়ালা বলেন, কোনো নেককার বান্দা যখন আমার কাছে দোয়া করে, তখন তাদের নেক কাজের প্রতি সামান্য হলেও আশা থাকে, আমি এর উসিলায় তাকে ক্ষমা করে দিব।

কিন্তু, কোনো গুনাহগার যখন আমার কাছে দুআ করে, তখন আমার রহমত ছাড়া তার তো আর কোনো কিছুর প্রতি আশা এবং ভরসা থাকে না!

ভারতের প্রখ্যাত দাঈ ও আলেম মাওলানা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানির উর্দু বয়ান অবলম্বনে

www.jugantor.com/islam-life/331603

2
অসাধারন একটি সময়োপযোগী মূল্যবান বিশ্লষণ

প্রেসিডেন্ট এরদোগান এর পক্ষ থেকে পৃথিবীর সকল মুসলিমদের উদ্দেশ্য বলা কথা-
কোথার তুরস্ককে আমি কোথায় নিয়ে এসেছি, একবারও কি বিবেকের কাছে প্রশ্ন করেছেন??? যে দেশে মসজিদে আজান চালুর অপরাধে প্রধানমন্ত্রীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
যে দেশে ছোট্ট একটি ইসলামি কবিতা লেখার কারণে মেয়র কে জেলে দেয়া হয়। সেই দেশে কিন্তু আপনি জন্ম নেননি আমি জন্ম নিয়েছি। আপনি বড় হননি আমি বড় হয়েছি।
আমি দেখেছি ইসলামের উপর দমনপীড়ন হতে, আমি দেখেছি কাউকে নামাজ পড়ার আহ্বান জানালে সাজা ভোগ করতে। আপনি কিন্তু বাস্তবে কিছুই দেখেননি ! আমি আপনার মত শক্তিশালী নই। হয়তোবা আমি আপনার মত নিষ্পাপ নই, হয়তোবা আপনার একদিনের আমলের সোয়াবের কাছে আমার সারা জীবনের আমলের সোয়াব কিছু নয়। হয়তোবা আপনি কোরআনের পাশাপাশি পন্চাশ থেকে ষাট হাজার হাদিস তেলাওয়াত করেন প্রতিদিন।
আপনার আমলের শক্তি অনেক, আপনি আমলের শক্তির জোরে দোয়া করে ফেরেশতা নামাতে পারেন। আপনি চাইলেই কোটি কোটি ফেরেশতা দিয়ে ইসরাইলকে গুড়িয়ে দিতে পারেন। আপনার এতো ইমানি ক্ষমতা থাকতে, আপনি আমাকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে উস্কানি দেন কেন?আমি কি আপনার মত চুপ করে বসে আছি? সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কি আমাকে এমনি ভালোবাসে?
প্রিয় দ্বীনি ভাই, আপনার শরীর থেকে বেহেশতের সুগন্ধি বের হয় কিন্তু আমার শরীর থেকে এখনো সেকুলারের দুর্গন্ধ বের হয়।
হয়তোবা মাদ্রাসায় যাবার কারণে আপনার চাচা আপনাকে পুরস্কৃত করেছিল। আর আমার চাচা আমাকে বলেছিল, মাদ্রাসায় পড়ে কি হবে?এই দেশে কোন চাকরি পাবে না। বড় হয়ে কি মরা মানুষের গোসল করিয়ে সংসার চালাবে?
 অনেক কষ্ট করে কোরআনের হাফেজ হয়েছি। পাড়া-প্রতিবেশী বন্ধু মহল আমাকে ভালো চোখে দেখত না। তারা ভাবতো আমি তুর্কির জাতির পিতা কামাল পাশা আতাতুর্কের সংবিধান বিরোধী। তারা ভাবতো আমি আতাতুর্কের সংবিধান বুকে ধারণ করি না, বুকে ধারণ করি ইসলাম প্রীতি।
তারা সেদিন ঠিকই ধারণা করেছিল কিন্তু আমি তাদের কাছে ধরা দিতাম না। তাদের কাছে ধরা দিলে আমার ফাঁসি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তখন আপনি দোয়া করে হাজার হাজার ফেরেশতা নামিয়ে আমাকে বাঁচাতে পারতেন না।
প্রিয় দ্বীনি ভাই, আমি যখন মেয়র ছিলাম। ছোট্ট একটি ইসলামী কবিতা লেখার কারণে আমাকে জেলে দেওয়া হলো। আমার মেয়রের দায়িত্ব কেড়ে নেয়া হলো, তখন কোথায় ছিলেন আপনি? জেলের ওই অন্ধকার কারাগারে মশা গুলো কে ও মনে হচ্ছিল আতাতুর্কের সংবিধানের পাহারাদার।
প্রিয় দ্বীনি ভাই, আমি যখন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হলাম। তখন একটি অনুষ্ঠানে আমার_ছোট্ট_মেয়েটি কে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আতাতুর্কের সংবিধান আমার ছোট্ট মেয়েটি কে অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেয়নি। আমার ছোট্ট মেয়েটির অপরাধ কি ছিল আপনারা কি জানেন??? আমার ছোট্ট_মেয়েটির_অপরাধ_হল_তার_মাথায়_হিজাব পড়া ছিল।
আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও আমার মেয়েকে অনুষ্ঠানের ভিতরে নিতে পারেনি। এত কিছুর পরেও আমাকে বাধ্য হয়ে আতাতুর্কের সংবিধানের প্রতি অনুগত্য প্রকাশের অভিনয় করে যেতে হয়েছে। আমার কিছুই করার ছিল না, তখন আমি ছিলাম একা, শুধুই একা। আমাকে_নিজের_কাছে_সংখ্যালঘু_মনে_হতো।
আপনাকে আমি তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনি আসুন, দেখে যান,
আজ তুরস্কের প্রত্যেকটি মসজিদের মাইকে আজান হচ্ছে। মা বোনরা এখন আর প্রকাশ্যে বিকিনি ড্রেস পড়ে সমাজে ঘোরাঘুরি করে না। মা বোনরা এখন তাদের নতুন ইসলামী প্রজন্মের সামনে বিকিনি ড্রেস পরতে লজ্জা অনুভব করে।
এখন মাদ্রাসায়_আনন্দ_উৎসব_সহকারে_কোরআন_শিক্ষা হচ্ছে। এখন আর মাদ্রাসার ছাত্ররা নিজেকে কোরআনের হাফেজ দাবি করতে ভয় করে না।
এখন তুরস্কের আলেমরা নির্ভয়ে ইসলাম প্রচার করছে। এখানের হাফেজরা, আলেমরা তারা জানে তাদের একজন এরদোগান আছে,
কিন্তু আমার সময় কে ছিল?
 আপনি প্রশ্ন করেন তুরস্কে শরিয়া আইন নেই কেন? তুরস্ক ইজরাইলকে আক্রমণ করে না কেন? তুরস্কে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করি না কেন? তুরস্ক কেন ন্যাটোর সদস্য। অনেকে বলেন তুরস্কের যতটুকু ভূমি ইউরোপের ভিতরে পড়েছে, ততটুকু ভূমি ইউরোপের কাছে বিক্রি করে দিলে তো অটোমেটিক তুরস্ক ন্যাটো থেকে বাদ পরবে। মুসলিমদের খুনি ন্যাটো জোটে এরদোগানের থাকা মুনাফিকি ছাড়া আর কিছুই নয়।
অনেকে বলেন তুর্কিতে সমকামীতা লিগ্যাল কেন? এটা নাস্তিক আতাতুর্ক করে গেছে,  তার সংবিধানে। সময়ের সাথে এটাও তুলে ফেলব।   
প্রিয় দ্বীনি ভাই, আপনার প্রতিটি উস্কানির উত্তর আমি দিবো সময় আসতে দিন।
হয়তোবা আপনি ভুলে গেছেন যখন আমি বালক বয়সে বুকে কুরআন ধারণ করতাম, ইসলাম ধর্ম পালন করতাম। তখন গোটা সেকুলার সমাজ ও আতাতুর্কের সংবিধান আমাকে দমাতে পারেনি, আতঙ্কিত করতে পারেনি। আমার চাচা বলেছিল মাদ্রাসায় পড়ে হাফেজ হয়ে কি মরা মানুষের গোসল করিয়ে সংসার চালাবে??
 চাচা আপনি দেখে যান, মাদ্রাসায় পড়ে বড় হয়ে আমি কি করে সংসার চালাচ্ছি।
ওহে নাস্তিক আতাতুর্ক, সেদিন আমাকে দমাতে না পারার কারণে আজ তোমার সংবিধান হুমকির মুখে, সেদিন তোমার সংবিধান হিজাব পরার কারণে আমার মেয়েকে অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেয়নি। আজ আমার লক্ষ মেয়ে হিজাব পড়ে অনুষ্ঠানে ঢুকে। সেদিনের আমি, আর আজকের আমি এক জিনিস নই। তোমার সংবিধান হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।
 প্রিয় দ্বীনি ভাই, আজকে আপনারা যারা আমাকে উস্কানি দিয়ে হত্যা করতে চান, সারা পৃথিবীর অমুসলিমদের আমাকে একা ধ্বংস করতে বলেন। আপনাদের কথা না শুনলে আমাকে মোনাফেক বলেন। আপনারা এসব কেন বলেন? তাহা কিন্তু আমি বুঝি।
 আপনারা কি আমাকে মুরসির মতো আবেগী ভাবছেন??? আপনাদের মত কিছু ফেরেশতার উস্কানিতে মুরসি ইসরাইলের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়েছিল।
আর যারা এরদোগান কে ভালোবাসেন, তারা এরদোগানের সময় উপযোগী পদক্ষেপ এবং কৌশলের উপর আস্থা রাখুন। মনে রাখবেন, তুরস্কে কোন খনিজ_সম্পদ নেই, বিভিন্ন দেশের সাথে ব্যবসা করে এরদোগান টিকে আছে। তাও আবার মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং কোরআনের হাফেজ মুরসির বিরুদ্ধে যেসব দেশ সামরিক অভ্যুত্থান করেছে, সেই সব দেশগুলোর সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করেন না। এরদোগানের সব থেকে বড় সম্পদ হচ্ছে কৌশল। কৌশলের মাধ্যমে কার্যসিদ্ধি করে আল্লাহর সৈনিক এরদোগান সারা বিশ্বের মজলুম মুসলিমদের সাহায্য করছেন।
অতএব এরদোগানের সমালোচনা নয়, শুধু দোয়া আর দোয়া চাই। সবাই মন থেকে বলি ইয়া আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতে তুমি তোমার সৈনিক এরদোগান কে সাফল্য এবং বরকত দিয়ে পরিপূর্ণ করে দাও আমিন।
নয়া তুরস্কে ধর্ম–অধর্মের যুদ্ধ ও দুটি সাম্প্রতিক ঘটনা
এই তো গেলো রমজানের ঘটনা। তুরস্কের ইজমির প্রদেশের বেশ কিছু মসজিদ থেকে আজানের পরিবর্তে শোনা গেলো গানের শব্দ। হ্যা, সত্যি সত্যি গান বেজে উঠল মসজিদের মাইক থেকে। বিশ্বব্যাপী বামপন্থীদের অ্যান্থম হিসেবে পরিচিত ইতালির ‘বেলা চিও’ নামের একটি গান। মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এ দৃশ্য রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেওয়া হলো অনলাইনে এবং সারা দেশে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, চরম ঘৃণ্য এ কাণ্ডের পেছনে যার হাত আছে সে তুরস্কের প্রধান বিরোধী সেক্যুলার দল জেহেপের একজন নারী প্রসিকিউটর। তার সাজেশেই একযোগে ইজমির প্রদেশের প্রায় দশ বারোটি মসজিদ থেকে মাইকে এসে গান ছেড়ে দেয় উগ্র বামপন্থী কিছু যুবক। এটা করে তারা তুরস্কের ইসলামপ্রিয় সমাজকে ও ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে একটা বার্তা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া ছিল কঠিন। তুরস্কের ধর্মপ্রাণ জনগণ এই ঘটনার যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাতেই এর তীব্রতা ফুটে ওঠে। তারা এর জবাবে সবাই যার যার ঘর থেকে জানালার সামনে এসে কিংবা ছাদে ওঠে একযোগে আজান দিয়েছেন। হাজারো কণ্ঠে একসাথে বেজে ওঠেছে আজানের সুর! তুরস্কের বামপন্থী সেক্যুলারদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ‘ইজমির’ প্রদেশ যেন আজানময় হয়ে উঠেছিল সেদিন।
এর আগে রমজানের শুরুতে তুরস্কের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রধান মুফতী আলী এরবাশের একটি বক্তব্য নিয়ে তুমুল হৈচৈ কাণ্ড বাধায় সেক্যুলারদের একটি মহল।
প্রফেসর আলী এরবাশ রমজানের প্রথম জুমায় ইসলামে ব্যভিচার ও হোমোসেক্স হারাম— এ মর্মে বক্তব্য দিলে চটে যায় কট্টর ধর্মবিদ্বেষী ওই শ্রেণিটি। তারা এই বক্তব্যকে চরম অপমানকর আখ্যা দিয়ে আলী এরবাশের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। দাবী তোলে— ভুল স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে। তাদের সমর্থন দিতে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মদদপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠন, বামপন্থী রাজনীতিক ও উকিলরা। আস্কারা পেয়ে এক পর্যায়ে এই শ্রেণিটি যিনা–ব্যভিচার হারাম হওয়া সংশ্লিষ্ট কুরআনের আয়াত মুছে ফেলার দাবিও তোলে প্রকাশ্যে।
এমন পরিস্থিতিতে এরদোয়ান বক্তব্য দেন যে, প্রফেসর আলী এরবাশ যা বলেছেন সেটাই ইসলামের বক্তব্য। সুতরাং আলী এরবাশের বিরোধিতার মানে হবে ইসলামের বিরোধিতা। আর ইসলামের বিরোধিতার মানে হবে রাষ্ট্রের বিরোধিতা। সুতরাং সবাই যেন সীমা বজায় রেখে চলে।
পরিবর্তনের হাতিয়ার : শিক্ষা ও সংস্কৃতি
সেক্যুলারিজম ও ধর্মহীনতার সাথে টেক্কা দিয়ে দীর্ঘ সতেরো বছরের শাসনে এরদোয়ানের আকপার্টি পাবলিক প্লেসে ইসলামকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এবং সেই চেষ্টার কল্যাণে শুধু তুরস্কের ভিতরেই নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বে একটা বিশেষ ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে এরদোয়ানের। এক্ষেত্রে সামাজিকভাবে পরিবর্তনের এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে মোক্ষম যে হাতিয়ারগুলো এরদোয়ান কৌশলে ব্যবহার করেছেন সেগুলো হলো শিক্ষা ও সংস্কৃতি।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শিক্ষাই একটি জাতির ভবিষ্যত রোডম্যাপ। জাতির প্রজন্ম যে শিক্ষায় গড়ে ওঠে, সেই শিক্ষাকেই ধারণ করে পরিবার, সমাজ, প্রশাসন, রাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রব্যবস্থা। এরদোয়ান বুদ্ধিমত্তার সাথে এ খাতটিকে কাজে লাগিয়েছেন। বিগত সতেরো বছরের শাসনে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক কাজ করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, যেখানে তুরস্কে ২০০২ সালে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৫০, সেখানে ২০১৮ সালে এসে সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫০০ তে। অন্যদিকে রয়টার্সের একটি রিপোর্ট বলছে, ২০১২ সালে ৪ হাজার ইমাম হাতিপ স্কুলের যে পরিমাণ শিক্ষার্থী ছিল, ২০১৮ সালে সে সংখ্যা পাঁচ গুণ বেড়েছে। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী। এসবের বাইরে সাধারণ বিদ্যালয়গুলোতেও জোরদার করা হয়েছে ধর্মীয় শিক্ষা। এই তো কিছুদিন আগেও তুরস্কে একধরনের এলিট স্কুলের প্রচলন ছিল। যেগুলো নিয়ন্ত্রণ করত আর্মি ও বিমানবাহিনী। ওখানে শুধু সামরিক বাহিনীর সন্তনরাই পড়তে পারত। আতাতুর্কের নীতি অনুসারে তাদেরকে এন্টি ইসলামিক ভাবধারায় গড়ে তোলা হত। এবং একসময় তারাই ভর্তি হত মিলিটারিতে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এসব স্কুলও এখন বন্ধ করা হয়েছে। ২০১৬ এর সেনা অভ্যুত্থানের কারণে এসব এলিট স্কুল আর নেই এখন।
ধার্মিক প্রজন্মের উত্থান
এসবের ফল হয়েছে এই যে, তুরস্কে মোটামুটি ধার্মিক প্রজন্ম গড়ে ওঠেছে। এখন যারা সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছে, তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রজন্মের। এবং সন্দেহ নেই এই প্রজন্মের হাতেই পুরো তুরস্কের নেতৃত্ব চলে আসবে আগামি দশকগুলোতে। উগ্র সেক্যুলার কামাল আতাতুর্ক তার আঠারো বছরের শাসনে (১৯২২-১৯৩৮) তুরস্ককে যেমন একটি আপাদমস্তক সেক্যুলার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছে, এরদোয়ান তার সতেরো বছরের শাসনে ঠিক তার উল্টো ইসলামঘনিষ্ঠ তুরস্ক গঠনের চেষ্টায় নিয়োজিত থেকেছে। এর ফলে সেনাবাহিনী থেকে সরকারি অফিসার, ডাক্তার থেকে ইঞ্জিনিয়ার, এবং কৃষক থেকে ব্যবসায়ী সর্বস্তরে মোটামুটি ধর্মীয় আবহে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম গড়ে উঠেছে। আর এসবের মূলে কাজ করেছে এরদোয়ানের ‘ধর্মভীরু প্রজন্ম’ গড়ার পরিকল্পনা।
ধর্মের সামাজিক প্রয়োগ
কিছুদিন আগে এরদোয়ান তার শৈশবের ইমাম হাতিপ স্কুল পরিদর্শনে যান। যে প্রতিষ্ঠান থেকে ধর্মীয় পড়াশোনার হাতেখড়ি নিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি নিজে বাচ্চাদেরকে কুরআন শরীফ পড়ান। তাদেরকে পড়াশোনায় উৎসাহিত করেন। খোঁজ খবর নেন। সেখানে এক কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘ইমাম হাতিপ সহ আমাদের সকল শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ হল, এই প্রজন্মকে জ্ঞান বিজ্ঞানের সাথে সাথে আপন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ওপর গড়ে তোলা।’
তবে এসব প্রতিষ্ঠানেই সীমিত না থেকে বাস্তব জীবনে বাচ্চাদেরকে ধর্মীয় আবহে গড়ে তোলার উদ্যোগও গ্রহণ করেছে তুরস্কের সরকার। লাগাতার চল্লিশ দিন ফজরের নামাজ জামাতে পড়তে পারলে সাইকেল উপহার দিচ্ছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট। মসজিদের পাশেই বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তৈরি করা হচ্ছে খেলার মাঠ। যেন খেলার মত মসজিদও প্রিয় হয়ে যায় বাচ্চাদের কাছে। এসব ছাড়াও পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকেই নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে । শিক্ষাব্যবস্থার কোন ফাঁক ফোকরে যেন নাস্তিকতার বীজ না থাকে, নেওয়া হচ্ছে সেই ব্যবস্থাও। ২০১৭ সালে তুরস্কের শিক্ষা কারিকুলাম থেকে ডারউইনের বিবর্তন মতবাদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
শুধুই কি ধর্মশিক্ষা?
উপরের আলোচনা থেকে যদি একথা মনে হয় যে, তিনি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাকেই প্রধান্য দিচ্ছেন, তাহলে ভুল হবে। বরং তিনি শিক্ষাব্যবস্থার ধর্মের প্রতি শত্রুতা লালনকারী দৃষ্টিভঙ্গিকে ধর্মের প্রতি সহানুভূতিশীলতার দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন। এই যা, এরচেয়ে বেশি কিছু নয়। তা না হলে, শিল্প ও প্রযুক্তিতে এমন শক্তিশালী তুরস্ককে দেখতো না আজকের বিশ্ব। আজকের তুরস্ককে বিশ্ব দেখছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক অনন্য মডেল রূপে। যে দেশ তার একজন মাত্র নাগরিককে করোনা থেকে উদ্ধার করতে পুরো একটি অ্যাম্বুলেন্স বিমান পাঠায় সুইডেনে, বাংলাদেশ ও মিশরে। আঙ্কারার বিমানবন্দরে যখন আমেরিকা ও বৃটেনের চিকিৎসা সাহায্যপ্রার্থী কার্গোবিমান অপেক্ষা করছে, তখন তুরস্কের জনগণ হ্যাশট্যাগ দিয়ে «Biz bize yeteriz Türkiyem» তথা ‘আমরাই আমাদের জন্য যথেষ্ট’ বলে সামাজিক প্রচার অভিযান শুরু করেছে। সাহায্য না পেয়ে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট যখন ‘ইউরোপীয় ঐক্যে’র ধারণাকে ‘রূপকথা’ বলে শোরগোল তুলেছেন, তখন তুরস্কের কাছে চিকিৎসা সহায়তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছে পৃথিবীর ১০০ টিরও বেশি দেশ। রোম আর মাদ্রিদ যখন করোনার আগুনে পুড়ছে তখন, ইউরোপের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল নির্মিত হচ্ছে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে।
এ তো গেলো স্বাস্থ্যখাত। নতুন তুরস্ক প্রযুক্তিতেও টেক্কা দিয়ে চলছে ইউরোপ ও রাশিয়াকে। সিরিয়ার ইদলিবকে স্বৈরাচারী আসাদ বাহিনির হামলা থেকে রক্ষার্থে তুর্কি ড্রোন যখন তার শৌর্য দেখাচ্ছে, তখন মস্কো থেকে এসেছে যুদ্ধবিরতি দিয়ে আলোচনায় বসার আহবান। লিবিয়ার যুদ্ধবাজ জেনারেল হাফতারের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকিয়েছে ‘বায়রাকদার’ নামের ড্রোন, তখন পঞ্চম প্রজন্মের ‘আকিঞ্জি’ নামের নতুন বিশেষ ড্রোনের ডকুমেন্টস উন্মোচন হয়েছে আনকারায়। তেলসম্পদে ভরপুর একনায়ক আরবদেশগুলো যখন প্রযুক্তির জন্য বেইজিংয়ের কাছে ধর্না দিচ্ছে, তখন শতভাগ তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক বিদ্যুৎচালিত কার ‘টগে’র কয়েক হাজার অর্ডার এসেছে ইউরোপ থেকে। এ সবই প্রমাণ করে শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, আধুনিক ও প্রযুক্তিগত বহুমুখি শিক্ষায়ও এরদোয়ান কী পরিমাণ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন।
পুনশ্চ :
তুরস্ককে নিয়ে এসব আলোচনার কারণ, মুসলিম জাহানের ক্রমশ যে অধঃপতন, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আশাবাদের একটা জায়গা তৈরি করতে পেরেছে তুরস্ক। এজন্য আফগানিস্তানে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে তালেবানের বিজয়ে যেভাবে আমরা উচ্ছ্বসিত হই, সেভাবে আমেরিকা ইসরায়েলের এজেন্ট আরব স্বৈরাচারীদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক ‘পলিটিক্যাল ইসলামের ’ (পলিটিক্যাল ইসলাম’ পরিভাষাটি পশ্চিমারা ব্যবহার করে) যে জাগরণ তুরস্ককে কেন্দ্র করে, তাতেও আমরা উদ্বুদ্ধ হই। খোরাসানি সেনারা যেমন বর্তমান সময়ে উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ পার্ট তেমনি তুর্কিরাও। এজন্য তাদের সকলের সফলতা ও কর্মকৌশলের পেছনের ইতিহাস আলোচনায় আসা দরকার বলে মনে করি। আরো দরকার মনে করি, বিভক্তি না বাড়িয়ে ঐক্যের সূত্রগুলো খুঁজে বের করে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার।

—Rumaisa Eva এর পোস্ট হিমালয় থেকে হিমু

3
আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা...
-----------------------------------------------
🕌 নামাজে আত্তাহিয়াতু পড়ার কারণঃ
আত্তাহিয়াতু আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি দোয়া। এই দোয়াটার পিছনের গল্পটা জানার পর সত্যি আমার হৃদয়টা অনেক কোমল হয়ে গেছে!
     আত্তাহিয়াতু আসলে, আল্লাহর সাথে আমাদের মহানবী (সঃ) কথোপকথন একটা অংশ। যা আমাদের মহানবী (সঃ) ইসরাউল মিরাজ যাত্রার সময় হয়েছে মহান আল্লাহর সাথে! মহানবী (সঃ) যখন আল্লাহর সাথে কথোপকথন শুরু করে তখন আল্লাহকে আসসালামু আলাইকুম বলেননি!
তাহলে কি বলেছিল,,,??
কারন, আমরা মহান আল্লাহকে বলতে পারব না, আল্লাহ আপনার উপর শান্তি নাজিল হউক! কারন, আল্লাহ নিজেই একমাত্র পৃথিবীর সকল শান্তির এবং রহমতের উৎপত্তিস্থল!
     মহানবী (সঃ) আল্লাহকে উর্দেশ্য করে বলেছিলেনঃ
আত্তাহিইয়া-তু লিল্লা-হি ওয়াছ ছালাওয়া - তু ওয়াত্ ত্বাইয়িবা -তু
অর্থঃ যাবতীয় সম্মান, যাবতীয় উপাসনা ও যাবতীয় পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য।
উওরে মহান আল্লাহ বলেনঃ
আসসালা-মু'আলায়কা আইয়ুহান্নাবিয়ু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া-বারাকাতুহু।
অর্থঃ হে নবী, আপনার উপরে শান্তি বর্ষিত হউক এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও সমৃদ্ধি সমূহ নাযিল হউক।
এতে মহানবী (সঃ) বলেনঃ
আসসালা-মু-আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লা-হিছছালেহীন।
অর্থঃ আল্লাহর সমৃদ্ধি শান্তি বর্ষিত হউক আমাদের উপরে ও আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাগণের উপরে।
মহান আল্লাহ এবং মহানবী (সঃ) এই কথোপকথন শুনে ফেরেস্তারা বলেনঃ
আশহাদু আল লা-ইলাহা ইলল্লালাহু ওয়া আশহাদুআন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সঃ) তার বান্দা ও রাসূল।
"সুবহানাল্লাহ"।
এখন আমি এবং আপনি আত্তাহিয়াতু গুরুত্ব এবং পিছনের ইতিহাস জানতে পারলাম, এবার একটু চিন্তা করুন তো, এই লেখাটি যদি আপনার মাধ্যমে অন্যান্য মানুষেরাও জানে তাহলে তারাও এই দোয়ার গুরুত্ব বুজতে পারবে!

4
30 May 2020
রিযিক নিয়ে এত চমৎকার লেখা পড়ার পর চোখের পানি আটকাতে পারলাম না।।।

বাসার পিছনের বাগানে ভেজা কাপড় রোদে দিয়ে ঘরে ফিরে আসার সময় লক্ষ্য করলাম একটা আধা খাওয়া আপেল মেঝেতে পড়ে আছে । আপেলের উপর অসংখ্য পিঁপড়া । আপেলটা বড় ছেলেটাকে দিয়েছিলাম খেতে দুইদিন আগে । সেদিন আপেলটা মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে তুলে ময়লার ঝুড়িতে ফেলবো ভেবেও পরে ভুলে গেলাম । ভাবছিলাম সেদিন আপেলটা ফেলে দেওয়ার কথা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লাই নিশ্চিত ভাবে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিলেন কারণ এই আপেলের বাকি অংশ ছিলো পিঁপড়াদের রিযিক ।

গ্রামের বাড়িতে দেখেছি অনেক সময় এক প্লেট ভাত খেতে যাবো এমন সময় হাত থেকে উল্টে পড়ে খাবারগুলো মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে । এরমধ্যে হুট করে কোথা থেকে একটা বিড়াল এসে খাবারগুলো খাওয়া শুরু করে দেয় । আমরা আফসোস করতে থাকি কিংবা রাগে ফেটে পড়ি নিজের কেয়ারলেসনেসের কারণে । অথচ এভাবে কখনও ভাবিনা এই খাবার আমার নয় বরং বিড়ালটার রিযিকে ছিলো ।

এমনিভাবে শারীরিক রিযিক টা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লা তাঁর সৃষ্টির সকলের মধ্যে যাকে চান তার নিকট পৌঁছে দেন সীমিত আকারে অথবা বেশুমার ভাবে ।

“ এমন অনেক জন্তু আছে, যারা তাদের খাদ্য সঞ্চিত রাখে না। আল্লাহই রিযিক দেন তাদেরকে এবং তোমাদেরকেও। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
[ সুরা আনকাবুত, ৬০]

আমরা এই মুহুর্তে অনেকেই আর্থিক রিযিক নিয়ে পেরেশানির মধ্যে যাচ্ছি । মহামারীর এ ক্রান্তিকালে অনেকেরই উপার্জনের রাস্তা প্রায় বন্ধ হবার যোগাড় । একটা সত্য ঘটনা শুনলাম দুদিন আগে একটা লেকচারে । চোখের পানি আটকানো কঠিন হয়ে পড়ছিলো ।

শায়েখ হাতিম আল আসাম (রাহি.) একবার হজ্জ্বে যাবার ইচ্ছা পোষণ করে স্ত্রী ও সন্তানদের সামনে খোলাসা করলেন । স্ত্রী তাতে নিরুৎসাহিত করে বললেন, আপনি এখন হজ্জ্বে গেলে আমাদের কি হবে ? আমরা চলবো কি করে ? আপনি বরং এখন আপাতত এ চিন্তা বাদ দেন । যখন বাড়তি কিছু টাকা হবে তখন যাবেন । তাদের দুজনের কথোপকথনের মাঝে উপস্থিত ছিলেন তাদেরেই দশ বছর বয়সী বড় কন্যা । মেয়েটি সব শুনে তার বাবার উদ্দেশ্যে বললো, আব্বাজান আপনি নিশ্চিন্তে হজ্জ্বে চলে যান । আল্লাহ আর-রাজ্জাক তো আছেন । তিনি অবশ্যই আমাদের দেখবেন । মেয়ের কথা শুনে শায়খ হাতিম আল আসাম যেন মনে সাহস পেলো এবং দিন ক্ষণ বুঝে হজ্জ্বের উদ্দেশ্যে রওনা করলেন ।

তার সপ্তাহ দুয়েক পরের কথা । ততদিনে শায়খের রেখে যাওয়া পয়সা শেষ হয়ে যাওয়ার ঘরে খাদ্যের সংকট দেখা দিলো । শায়খের স্ত্রী ও তার অন্যান্য ছোট সন্তানেরা বড় মেয়েটাকে তাচ্ছিল্য করে বলছিলো, এখন আমাদের কি হবে ? খুব তো আব্বাজান কে যেতে দিলে আর আল্লাহ দেখবেন বললে । এখন তো ঘরে কোন খাবারও নেই আর খাবার কেনার জন্য পয়সাও নেই ।

মেয়েটি তাদের কথার জবাব না দিয়ে ভেতরের কক্ষে গিয়ে দু’হাত মুনাযাতে উঠিয়ে বলতে লাগলো -

‘ আল্লাহ ! আপনার ওয়াদা তো সত্য । আপনি তো বলেছেন,

“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন । এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন।” [ সুরা আত-তালাক, ২-৩]

আল্লাহ আমি তো আপনার উপর পরিপূর্ণ ভরসা করলাম ।’

এরই মধ্যে দরজায় করাঘাত হলো । মেয়েটা দরজা খুলে দেখলো, সুন্দর পোশাক পরা একজন লোক দাঁড়িয়ে । লোকটি বললেন, আমাদের গভর্নর সাহেব যাচ্ছিলেন এ রাস্তা দিয়ে । উনি খুব পিপাসার্ত । একটু পানি হবে উনার জন্য ?

মেয়েটি খুব সুন্দর একটা পেয়ালায় পানির ব্যবস্থা করলেন । গভর্নর পানি পান করে অত্যন্ত তৃপ্ত হলেন এবং অধস্তন লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ওহে ! এ পানি কোন বাড়ি থেকে এনেছো, এত সুস্বাদু পানি আমার জীবনে কমই পান করেছি ।

অধস্তন লোকটি বললেন, হুজুর, এ শায়খ হাতিম আল আসামের বাড়ি । গভর্নর বললেন, চলো তাকে গিয়ে সালাম বলে আসি । লোকটি বললেন, হুজুর তিনি তো বাড়ি নেই, হজ্জ্বে গিয়েছেন । গভর্নর বললেন, তবে তো তার পরিবারের সকল প্রয়োজন পূরণ করার দায়িত্ব এখন আমাদের । এ বলে তিনি তার জামার পকেট থেকে এক থলে স্বর্ণ মুদ্রা মেয়েটির বাড়ির দরজার সামনে রেখে দিলেন এবং সাথে থাকা উনার সকল অধস্তন লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, তোমরা যারা আমাকে পছন্দ করো তারাও আমার মত অনুরুপ এ পরিবারটিকে কিছু দাও । এ কথা শোনার সাথে সাথে সেখানে উপস্থিত সকল ব্যক্তি তাদের পকেটে রাখা সব স্বর্ণমুদ্রা গুলো দরজার সামনে জমা করে প্রস্থান করলেন ।

মেয়েটির মা এবং অন্যান্য বোনেরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লো কিন্তু কাঁদছে শুধু মেয়েটা । তা দেখে মেয়েটার মা বললেন, তুমি কাঁদছো কেন ? যখন আমাদের কিছু ছিলোনা তখন কাঁদোনি আর এখন এত সম্পদ পেয়ে কাঁদছো ?

মেয়েটি জবাবে বললো, একটা ব্যপার ভেবে কাঁদছি । দুনিয়ার এক মামুলি গভর্নর শুধু পানি পান করে খুশি হয়ে এতকিছু দিয়ে দিলো আর উভয় জাহানের বাদশা রাব্বুল আরশিল আযীম যখন বান্দার উপর খুশি হয়ে যান তখন তিনি তাঁর বান্দার প্রতি না জানি কিরুপ আচরণ করেন !!

“ আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা রুযী প্রশস্ত করেন এবং যার জন্য ইচ্ছা সংকুচিত করেন। তারা পার্থিব জীবনের প্রতি মুগ্ধ। পার্থিবজীবন পরকালের তুলনায় অতি সামান্য সম্পদ বৈ আর কিছু নয়।”

[ সুরা আর-রাদ, ২৬ ]

5

হারাম উপার্জন সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে
« on: February 18, 2020, 04:28:46 PM »

    Quote

ইসলাম ধর্মমতে সব ধরনের ইবাদত-বন্দেগি কবুল হওয়ার জন্য রিজিক হালাল হওয়া জরুরি। হালাল রিজিকের প্রভাব শুধু নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের জন্যই যে জরুরি তা নয়, নিজের সন্তানের ওপরও এর প্রভাব থাকে।


 
রুজি-রোজগারে খুব সামান্য, এমনকি বিন্দু পরিমাণ হারামের প্রভাব সন্তানের মাঝে প্রকাশ পায়। মানুষ হিসেবে আমরা ভুল-ক্রুটির ঊর্ধ্বে নই। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, জেনে না জেনে আমাদের থেকে ভুল আচরণ প্রকাশ পেতেই পারে।

আমাদের জীবনে যদি এ জাতীয় ঘটনা ঘটে থাকে। অর্থাৎ আমরা যদি অন্যের কোনো কিছু ভোগ করে থাকি বিনা অনুমতিতে এবং এ জন্য পরে মালিকের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা না করি- তাহলে অবিলম্বে ক্ষমা বা তার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

যদি মালিক মারা গিয়ে থাকেন তাহলে তার সন্তানদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আর যদি তাদের কাউকেই পাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে ওই পরিমাণ সম্পদ তাদের নামে সদকা দেয়া উচিত। সেই সঙ্গে তওবাও করতে হবে, ভবিষ্যতে এ কাজ আর না করার।

বস্তুত আল্লাহর প্রতি দৃঢ়-বিশ্বাস ও ভরসা করাই হচ্ছে খাঁটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘তোমরা মন-ভাঙ্গা হয়ো না, হীনবল হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।’


 
আল্লাহতায়ালা সূরা ইবরাহিমে আরও বলেছেন, ‘যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’

তাই সর্বাগ্রে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আমাদের প্রচেষ্টা যদি আন্তরিক হয়, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়- তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহতায়ালা আমাদের সমস্ত বৈধ বাসনা পূরণ করবেন, আমাদের দোয়াসমূহ কবুল করবেন।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারেন এই দৃঢ়-বিশ্বাস আমাদের রাখা উচিত। আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে পথ-নির্দেশনা কামনা করলে, আল্লাহ অবশ্যই তা কবুল করবেন।

আল্লাহর মর্জি হলে, যা ঘটা আপাতদৃষ্টিতে অসাধ্য বলে মনে হয় তাও সাধন সম্ভব। অনেক খোদাভীরু ব্যক্তির কথা জানা যায়, যারা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে নদীর পানির ওপর দিয়ে এমনভাবে হেঁটে নদী পার হয়েছেন যেভাবে আমরা পার হই মাটির রাস্তা। আল্লাহর প্রিয়পাত্রদের জন্য এসব খুবই সাধারণ ঘটনা।

তার মানে এটা নয় যে, সবাইকে পানির ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে। বিষয়টি শুধু শিক্ষা অর্জনের জন্য উল্লেখ করা হলো।

আমাদের সন্তানরা ভালো থাকুক, এটা সবারই কাম্য। কিন্তু তাদের ভালো রাখতে যেয়ে, শান্তি নিশ্চিত করতে তাদের মুখে হারাম খাবার, গায়ে হারাম পোষাক দেওয়া ঠিক হবে না। এটা তাদের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করারই নামান্তর।


Md. Monir Hossain Mozumder
Administrative Officer
Store Management.

6
প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে আত্মরক্ষায় যেসব আমল করা যেতে পারে: -

করোনাভাইরাস এতদিন সারাবিশ্বের আতঙ্ক থাকলেও এখন বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের আস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশসহ ১০৫টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৮ জন। মারা গেছে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, জল–স্থলে বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল। ( সুরা-৩০ রুম, আয়াত: ৪১)। মানুষের গুনাহ ও কৃতকর্মের কারণেই এ ধরনের বিপর্যয় ঘটে থাকে। সমাজে অন্যায়-অনাচার বেড়ে গেলেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বেশি আশঙ্কা থাকে।

তাই বিভিন্ন হাদিসে রাসূল (সা.) প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অনেক কারণ উল্লেখ করেছেন। রাসূল (সা.) নিজেও উম্মতের ওপর এসব দুর্যোগের ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন। এই উম্মতকে যেন কোনো গজব বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে একসঙ্গে ধ্বংস করা না হয় এ জন্য রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।

এ জন্য আমাদের বেশি বেশি গুনাহ থেকে তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে। কারণ গুনাহের কারণেই এ জাতীয় মহামারি আসে বলে কোরআনের আয়াত দ্বারা বুঝা যায়।

পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সচেতনতা ও সতর্কতার পাশাপাশি কয়েকটি আমল করা যেতে পারে।

১. আয়তুল কুরসী, সূরা ইখলাস, ফালাক ও সূরা নাস তিনবার পড়ে প্রতিবার হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে মুছলে শরীর যে কোনো বিপদ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

২. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহামারি থেকে বাঁচতে বেশি বেশি এই দোয়া পড়তে বলেছেন।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ

উচ্চারণ: আল্লহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি, অল জুনুন, অল জুজাম, অ-মিন সাইয়্যিইল আসকম।

৩. إنا لله وإنا إليه راجعون، أللهم أجرني في مصيبني وأخلف لي خيرا منها

উচ্চারণ: ইন্নালিল্লাহি অ-ইন্না- ইলাইহি রজিউন। আল্লাহুম্মা আজিরনী ফী মুসীবাতী অ আখলিফলী খইরান মিনহা।

৪. এই দোয়াটিও পড়া যেতে পারে لااله الا انت سبحانك اني كنت من الظالمين

উচ্চারণ: লা- ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ-লিমীন।

৫. সূরা আহজাবের ১৩ নাম্বার আয়াতের অংশ বিশেষ পাঠ করলেও এ জাতীয় মহামারি থেকে আত্মরক্ষা করা যায়। ياهل يثرب لا مقام لكم فارجعوا

উচ্চারণ: ইয়া- আহলা ইয়াসরিব, লা- মুকামা লাকুম, ফারজিউ।

৬. এই দোয়াটিও বেশি বেশি পড়া যেতে পারে। اللهم إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِن منْكَرَاتِ الأَخلاقِ، والأعْمَالِ والأَهْواءِ والأدواء ) رواهُ الترمذي وقال: حديثُ حَسَنٌ(.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক, অল আমাল, অল আহওয়া, অল আদওয়া। (তিরমিযী শরিফ)

তাছাড়া সকাল-সন্ধ্যার আমলগুলোর প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে। কারণ সকাল-সন্ধ্যার আমলগুলো দ্বারা শরীর হেফাজত হয়।

৭. সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে পড়ুন: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজী লা- ইয়া দুররু মাআসমিহী শাইউন ফিল আরদি অলা- ফিসসামা, অহুওয়াস সামীউল আলীম।

৮. তিনবার : أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আউজুবি কালিমা-তিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খলাক।

একটি বিশেষ সুন্নাহ হলো, আক্রান্ত ব্যক্তি নিজ এলাকা থেকে বের হবে না অন্যান্য ব্যক্তি ঐ এলাকায় যাবে না।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো এলাকায় মহামারি (সংক্রামক ব্যাধি) ছড়িয়ে পড়ে তখন যদি তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে সেখান থেকে বের হবে না। আর যদি তোমরা বাইরে থাকো তাহলে তোমরা সেই আক্রান্ত এলাকায় যাবে না। (বুখারি ও মুসলিম)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের করোনাসহ সব মহামারী ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

Link : www.jugantor.com/islam-life/286776/


Md. Monir Hossain Mozumder
Administrative Officer
Store Management

7


প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:১২

কোরআনের প্রথম শব্দ পড়া এবং আমাদের পড়া
মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী



প্রতীকী ছবি

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের আগের সময়টাকে বলা হয় আইয়ামে জাহেলিয়া তথা মূর্খতার যুগ। ইতিহাসবিদরা বলেন, ওই সময়ে মানুষ ও পশুর জীবনপদ্ধতির মাঝে কোনো পার্থক্য ছিল না। মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে ফেললে মানুষ পশু হয়ে যায়। আর নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেললে মনুষ্যত্ব চলে যায়।

ওই সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রক্তের হোলি খেলা আর উদ্দাম যৌনতা। মাদক ছিল তাদের নিয়মিত খাবারের অংশ। শিশু ও নারীর প্রতি চলত চরম নিষ্ঠুরতা। হেন নির্মমতা নেই যা মানুষ মানুষের সঙ্গে করত না। এমন ঘোর মূর্খতার যুগ থেকে মানুষকে জ্ঞানের দিকে আলোকিত যুগে নিয়ে আসে কোরআন।
কোরআনের প্রথম নাজিল হওয়া শব্দটি নিয়ে একটু চিন্তা করা দরকার। কোরআন প্রথমেই মানুষকে বলেনি, ইবাদত কর, ভালো হও, মন্দ ছাড়...। কোরআন বলেছে ‘ইকরা’- পড়। পৃথিবীর জ্ঞানীরা ভেবে ভেবে হয়রান হয়ে যাচ্ছে, এত এত বিষয় থাকতে কোরআন ইকরা দিয়ে নাজিল হলো কেন? এর উত্তর একটাই- মানুষকে মানুষ হতে হলে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। পড়া হলো আলোকিত জগতে, শান্তির জগতে প্রবেশের প্রথম পদক্ষেপ।

‘ইকরা’- পড়। এ পড়া মানে শুধু কোরআন কিংবা ইসলামী জ্ঞানার্জন নয়। ইকরা মানে হলো পৃথিবী ও পৃথিবীর বাইরে পড়া বলতে যত বিষয় আছে সেসব পড়ে ফেলা। তবে সুফিরা বলেন, পড়া মানে কোনো গ্রন্থ পড়া নয়। পড়া হলো প্রভুর সৃষ্টিরাজি পড়ে, দেখে, বিশ্লেষণ করে প্রভুকে চেনার পথে হেঁটে চলা। এটা হলো সর্বোচ্চ স্তরের পড়া। এ স্তরে আসার আগে নিচের স্তরের অর্থাৎ কাগজের বই পড়ে নিজেকে কিছুটা প্রস্তুত করে নিতে হয়। তবেই প্রভুকে চেনার পাঠশালায় ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যাবে।

খুব আফসোসের সঙ্গেই বলতে হয়, ‘ইকরা’র ধারক-বাহক মুসলমান আজ আসমানি পড়া থেকে বহু দূরে সরে আছে। প্রভুকে চেনার পড়া তো এখন আর হয় না বললেই চলে। আজকালকার পড়া হয়ে গেছে সার্টিফিকেটের পড়া। পরীক্ষায় পাস করে ‘এ প্লাস’ পাওয়ার ধান্ধায় ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সবাই এখন পাগল। শিক্ষার্থী কতটুকু জ্ঞান অর্জন করল, কাগুজে পড়া কতটুকু হজম করল সেই ধান্ধা।

প্রভুকে চেনার বিশ্বজোড়া পাঠশালায় ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা কতটুকু অর্জন করল সে খবর না শিক্ষক রাখেন, না অভিভাবক তলিয়ে দেখেন। ফলে আজকের বাংলাদেশে সার্টিফিকেটধারীর প্রাধান্য। যে কারণে দেশের সেরা মেধাবীরাই সেরা অন্যায় করে যাচ্ছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ভাষার মাসে অক্ষরের উৎসবে মেতে ওঠার এই বর্ণিল আনন্দে শরিক হওয়া নিঃসন্দেহে ইবাদত।

বই পড়তে, বই কিনতে, বইয়ে প্রচার-প্রসারে মানুষকে উৎসাহ দেওয়া অর্থাৎ বইসংক্রান্ত যে কোনো পদক্ষেপ ‘ইকরার’ প্রথম স্তরের কাজের অন্তর্ভুক্ত। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কর্তব্য বইমেলায় আসা। পুঁজিবাদী বিশ্বে বইকে বাঁচিয়ে রাখা ও জ্ঞানচর্চার প্রবাহিত স্রোতের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখার জন্যও বইয়ের ব্যপক প্রচার-প্রসার প্রয়োজন।

প্রতিদিন কত বাজে কাজেই তো অফুরন্ত সময় নষ্ট করি আমরা। একটি ভালো বইয়ের এক পৃষ্ঠা করেও যদি দৈনিক পড়ি, মাস শেষে বইটি শেষ হয়ে যাবে। দৈনিক ১০ পৃষ্ঠা করে যদি পড়ি, বছর শেষে বিরাটসংখ্যক বই পড়ে ফেলতে পারব। ১০ বছরের কয়েকটি লাইব্রেরির জ্ঞান আমাদের মাথায় থাকবে। আমাদের আত্মার জগৎ জ্ঞানের আলোয় চমকাতে থাকবে। আল্লাহ আমাদের আত্মায় জ্ঞানের আলো দান করুন।

লেখক : মুফাস্সিরে কোরআন।

8

এই বর্ষায় ঘুরে আসুন মেঘের রাজ্য ‘সাজেক ভ্যালী’

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যের এক অনন্য আঁধার আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ। আমরা বিভিন্ন দেশের গ্রীনভ্যালী দেখতে যাই বা দেখার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু আমাদের দেশেও আছে তেমনই এক অপরূপা গ্রীন ভ্যালী, যার নাম সাজেক। ঢাকা থেকে মাত্র ৭/৮ ঘণ্টা দূরত্বে পার্বত্য অঞ্চলের রাঙামাটি জেলার সাজেক ভ্যালী অবস্থান। হাতে দুই দিন সময় নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন এ সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য।

সাজেক রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত । সাজেক হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন । যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিনে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে এসে অনেক পথ হেঁটে সাজেক আসা যায়। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। আর দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার। বাঘাইহাট থেকে ৩৪ কিলোমিটার

ঢাকা থেকে যেভাবে যাবেন খাগড়াছড়ি:

ঢাকা থেকে শ্যামলী, হানিফ ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। ভাড়া নিবে ৫২০ টাকা। শান্তি পরিবহনের বাস দীঘিনালা যায়। ভাড়া ৫৮০ টাকা। এছাড়া BRTC ও সেন্টমার্টিন্স পরিবহনের এসি বাস খাগড়াছড়ি যায়।

যোগাযোগঃ সেন্টমার্টিন্স পরিবহন – আরামবাগঃ ০১৭৬২৬৯১৩৪১ , ০১৭৬২৬৯১৩৪০ । খাগড়াছড়িঃ ০১৭৬২৬৯১৩৫৮।

শ্যামলী পরিবহন – আরামবাগঃ ০২-৭১৯৪২৯১ । কল্যাণপুরঃ ৯০০৩৩৩১ , ৮০৩৪২৭৫ । আসাদগেটঃ ৮১২৪৮৮১ , ৯১২৪৫৪ । দামপাড়া (চট্টগ্রাম)ঃ ০১৭১১৩৭১৪০৫ , ০১৭১১৩৭৭২৪৯ ।

শান্তি পরিবহন– আরামবাগ ( ঢাকা ) – ০১১৯০৯৯৪০০৭ । অক্সিজেন(চট্টগ্রাম) ০১৮১৭৭১৫৫৫২ ।

চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন । BRTC এসি বাস কদমতলী (চট্টগ্রাম): ০১৬৮২৩৮৫১২৫ । খাগড়াছড়িঃ ০১৫৫৭৪০২৫০৭ ।

খাগড়াছড়িতে কোথায় থাকবেন:

খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেল সহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল আছে । দীঘিনালায় কয়েকটি হোটেল থাকলেও দীঘিনালা গেস্ট হাউজের মান কিছুটা ভালো ।

পর্যটন মোটেল:

এটি শহরে ঢুকতেই চেঙ্গী নদী পার হলেই পড়বে । মোটেলের সব কক্ষই ২ বিছানার । ভাড়া- এসি ২১০০ টাকা, নন এসি ১৩০০ টাকা । এসি স্যুইট রুম ৩,১০০ টাকা। মোটেলের অভ্যন্তরে মাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র বানানো আছে। যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২০৮৪৮৫ ।

হোটেল ইকো ছড়ি ইনঃ

খাগড়াপুর ক্যান্টর্মেন্ট এর পাশে পাহাড়ী পরিবেশে অবস্থিত । এটি রিসোর্ট টাইপের হোটেল । যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২৬২৫ , ৩৭৪৩২২৫ ।
হোটেল শৈল সুবর্নঃ ০৩৭১-৬১৪৩৬ , ০১১৯০৭৭৬৮১২ ।
হোটেল জেরিনঃ ০৩৭১-৬১০৭১ ।
হোটেল লবিয়তঃ ০৩৭১-৬১২২০ , ০১৫৫৬৫৭৫৭৪৬ , ০১১৯৯২৪৪৭৩০ ।
হোটেল শিল্পীঃ ০৩৭১-৬১৭৯৫ ।

দীঘিনালা গেস্ট হাউজঃ এটি দীঘিনালা শহরের বাস স্ট্যান্ডের উল্টো পাশে অবস্থিত । এটি দীঘিনালার আবাসিক হোটেল গুলোর মধ্যে একটু মানসম্মত । এখানে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে রুম নিয়ে থাকা যাবে ।

খাগড়াছড়ি টু সাজেক ভ্যালী ভাড়া ও বিস্তারিত:

খাগড়াছড়ি থেকে জীপগাড়ি (লোকাল নাম চাঁন্দের গাড়ি) রিজার্ভ নিয়ে একদিনে সাজেক ভ্যালী ঘুরে আসতে পারবেন । ভাড়া নিবে ৫০০০-৬০০০ টাকা । এক গাড়িতে ১৫ জন বসতে পারবেন । লোক কম হলে শহর থেকে সিএনজি নিয়েও যেতে পারবেন । ভাড়া ৩০০০ টাকার মতো নিবে । অথবা খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা গিয়ে সাজেক যেতে পারবেন । বাসে দীঘিনালা জন প্রতি ৪৫ টাকা এবং মোটর সাইকেলে জন প্রতি ভাড়া ১০০ টাকা । দীঘিনালা থেকে ১০০০-১২০০ টাকায় মোটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়েও সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন । ফেরার সময় অবশ্যই সন্ধ্যার আগে আপনাকে বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্প পার হতে হবে । তা না হলে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে । ক্যাম্পের ছবি তোলা নিষেধ এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন ।

খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা আর্মি ক্যাম্প হয়ে সাজেক যেতে হয় । পরে পরবে ১০ নং বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প । যেখান থেকে আপনাকে সাজেক যাবার মূল অনুমতি নিতে হবে । তারপর কাসালং ব্রিজ, ২টি নদী মিলে কাসালং নদী হয়েছে । পরে টাইগার টিলা আর্মি পোস্ট ও মাসালং বাজার । বাজার পার হলে পরবে সাজেকের প্রথম গ্রাম রুইলুই পাড়া যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট । এর প্রবীণ জনগোষ্ঠী লুসাই । এছাড়া পাংখোয়া ও ত্রিপুরারাও বাস করে । ১৮৮৫ সালে এই পাড়া প্রতিষ্ঠিত হয় । এর হেড ম্যান লাল থাংগা লুসাই ।

রুইলুই পাড়া থেকে অল্প সময়ে পৌঁছে যাবেন সাজেক । সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিজিবি ক্যাম্প । এখানে হেলিপ্যাড আছে । সাজেকের শেষ গ্রাম কংলক পাড়া । এটিও লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত পাড়া । এর হেড ম্যান চৌমিংথাই লুসাই । কংলক পাড়া থেকে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায় । যেখান থেকে কর্ণফুলী নদী উৎপন্ন হয়েছে ।

সাজেক বিজিবি ক্যাম্প এর পর আর কোন ক্যাম্প না থাকায় নিরাপত্তা জনিত কারনে কংলক পাড়ায় মাঝে মাঝে যাওয়ার অনুমতি দেয় না । ফেরার সময় হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার দেখে আসতে পারেন । একদিনে এই সব গুলো দেখতে হলে যত তারাতারি সম্ভব বেড়িয়ে পড়বেন । খাগড়াছড়ির সিস্টেম রেস্তোরায় ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে ভুলবেন না ।

সাজেকে থাকবেন যেখানে:

সাজেকে থাকার জন্য বেশ কিছু ভালো মানের রিসোর্ট আছে যাতে আপনি নিশ্চিন্তে নিরাপদে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে থাকতে পারবেন । সেরকম কিছু কটেজের বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলঃ-

রক প্যারাডাইস: সাজেকের কংলাক পাড়াতে অবস্হিত এ কটেজটি আপনাকে বেস্ট ভিউ দিবে সাজেকে,মনে হবে যেন মেঘের রাজ্যে ভেসে যাচ্ছেন,মুল সাজেক রুন্ময় পাড়ার উপরে এই রক প্যারাডাইস কটেজটি অবস্হিত । এর মালিক বিজু দা অসম্ভব ভালো মানুষ বুকিং করতে ফোন করতে পারেন ০১৮৪২৩৮০২৩৪ নাম্বারে ।

রক প্যারডাইস ,প্রতি রুমে চারজন থাকতে পারবেন ভাড়া পড়বে ২৫০০ টাকা এছাড়া বড় রুম আছে ৬ জন থাকতে পারবেন ৩৫০০ টাকা ভাড়া ,এছাড়াও তাবুতেও চাইলে থাকতে পারবেন ।

মেঘ মাচাং কটেজ: মেঘ মাচাং সাজেকের বেস্ট একটা কটেজ মেঘের রাজ্যে ভেসে যাবার এইতো সুযোগ মেঘ মাচাং এ বুকিং দিতে ফোন করতে পারেন +880 1822-168877 নাম্বারে । মেঘ মাচাং এর ভাড়াও চারজনের রুম ২৫০০ টাকা। তবে জনপ্রিয় কটেজ বলে বুকিং অনেক আগে করে রাখতে হয় না হয় পাবেন না বুকিং।

এছাড়াও আছে নিরিবিলি কটেজ ,লুসাই কটেজ যা থেকে মেঘ এর ভিউ ভালো পাওয়া যায় । এগুলো ছাড়াও আলো রিসোর্ট, জলরিসোর্ট সহ ছোট খাট আরও অনেক কটেজ ওখানে রয়েছে রয়েছে উপজাতিদের ঘর বাড়ী যেখানে থাকাও খাওয়ার ব্যবস্হা রয়েছে ।

এসব কটেজ ছাড়াও ভিআইপি কিছু রিসোর্ট রয়েছে যেমন সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে আছে সাজেক রিসোর্ট যার ভাড়া ১০-১৫ হাজারের মধ্যে । বুকিং নাম্বার : ০১৮৫৯০২৫৬৯৪ ,আছে রুন্ময় রিসোর্ট যার ভাড়া রুম প্রতি ৪৫০০-৫০০০ টাকা, যোগাযোগ : ০১৮৬২০১১৮৫২

রুন্ময় রিসোর্ট: যাবার আগে ফোন দিয়ে বুকিং করে যেতে পারেন কারণ ছুটির দিনগুলোতে ভালো ভালো সবগুলো কটেজ ও রিসোর্ট বুকড করা থাকে তবে এগুলো ছাড়াও অনেক কটেজ খালী পাবেন সমস্যা নেই।

সাজেক যেতে গাইডের তেমন দরকার নেই। তবুও প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন। আজম (গাইড, দীঘিনালা) – ০১৫৫৭৩৪৬৪৪
Source:www.bdnews24us.com/bangla/article/761530

9


‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি অন্তরসমূহকে হেদায়াত দিয়েছেন। ঈমানের মাধ্যমে অন্তরসমূহের উন্নতি ঘটে। তিনি আমাদের চাহিদামতো নেয়ামতসমূহ দিয়েছেন।’
আমি আমাকে ও আপনাদেরকে তাকওয়া অবলম্বন তথা আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। ‘হে যারা ঈমান এনেছো, আল্লাহকে যথাযথ ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’
আল্লাহ এ বিশ্ব প্রকৃতিকে মানুষের অধীন করে দিয়েছেন। মানুষের মনে ঢেলে দিয়েছেন সীমাহীন আশা-আকাক্সক্ষা। এ আশা-আকাক্সক্ষার পরিমাণ কারো মধ্যে কম, আর কারো মধ্যে বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আদম সন্তান যদি একটি উপত্যকা পরিমাণ খেজুর গাছের মালিক হয়, সে অনুরূপ আরেকটি উপত্যকার মালিক হতে চায়। অতঃপর আরেকটির, এভাবে সে অনেক উপত্যকার মালিক হতে চায়। আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে পূর্ণ হওয়ার মতো নয়।’
সব ভালো চাওয়াই প্রশংসনীয়। মন্দ বিষয় চাওয়া, অসম্ভব কিছু চাওয়া নিন্দনীয়। ভালো চাওয়া প্রমাণ করে মানুষের উচ্চাকাক্সক্ষার। ভালো চাওয়ার আকাক্সক্ষা মানুষকে সম্মান ও মর্যাদার শীর্ষে পৌঁছায়। বিপরীত দিকে কোনো কোনো চাওয়া মানুষকে অসম্মান ও অমর্যাদার গভীর গর্তে নিপতিত করে। উমর রা: একদিন তাঁর সাথীদের সাথে বসা ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বললেন, তোমাদের আকাক্সক্ষা প্রকাশ করো। একজন বললেন, এই ঘরটি যদি স্বর্ণে ভরা থাকত, তাহলে তা আমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতাম। তিনি আবার বললেন, আকাক্সক্ষার প্রকাশ ঘটাও। একজন বললেন, এ ঘরটি যদি মুক্তা বা হীরায় ভরা থাকত তাহলে আমি তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতাম ও সাদকাহ করে দিতাম। তিনি আবার বললেন, তোমরা তোমাদের আকাক্সক্ষা প্রকাশ করো। তারা বললেন, আপনি আসলে কী চান? তিনি বললেন, আমি চাই এ ঘরটি যদি আবু উবাইদাহ বিন আল-জাররাহ, মু‘আজ বিন জাবাল, সালিম ও হুজাইফার মতো লোকদের দিয়ে ভরা থাকত। একবার একটি কক্ষে মুসআব বিন জুবাইর, উরওয়াহ বিন জুবাইর, আবদুল্লাহ বিন জুবাইর এবং আবদুল্লাহ বিন উমার রাদিআল্লাহু আনহুমা একসাথে বসা ছিলেন। এমন সময় কেউ বলল, তোমরা তোমাদের মনের আকাক্সক্ষা প্রকাশ করো। আবদুল্লাহ বিন জুবাইর রাদিআল্লাহু আনহুমা বললেন, আমি খলিফা হতে চাই।
উরওয়াহ রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, আমি চাই লোকজন আমার কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করবে। মুসআব রা: বললেন, আমি ইরাকের শাসক হতে চাই। আবদুল্লাহ বিন উমার রাদিআল্লাহু আনহুমা বললেন, আমি আল্লাহর ক্ষমা লাভ করতে চাই।
উমার বিন আবদুল আজিজ রাহি: বলেন, আমার মনে ছিল বিভিন্ন আকাক্সক্ষা। আকাক্সক্ষা ছিল ফাতিমা বিনতে আবদুল মালিককে বিয়ে করার, আমি তাকে বিয়ে করেছি। আকাক্সক্ষা ছিল গভর্নর হওয়ার, হয়েছি। আকাক্সক্ষা ছিল খলিফা হওয়ার, হয়েছি। আমার চূড়ান্ত আকাক্সক্ষা জান্নাতের। আশা করি জান্নাতও লাভ করব ইনশা আল্লাহ।
হে আল্লাহর বান্দাগণ! ভালো আশায় রয়েছে বড় ধরনের সওয়াব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার ধরনের লোকের উল্লেখ করে বলেছেন, একজনকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, শিক্ষাও দিয়েছেন, সে তার শিক্ষা অনুযায়ী আমল তথা কাজ করে। সম্পদ সঠিক ক্ষেত্রে খরচ করে।
আরেকজনকে আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন, সম্পদ দেননি। সে বলে, আল্লাহ যদি আমাকে তার মতো সম্পদ দিতেন, আমিও তার মতো সম্পদকে কাজে লাগাতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারা দু’জনই সমান প্রতিদান পাবে।
অন্য একজনকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, শিক্ষা ও বিদ্যা দেননি। সে সঠিকভাবে সম্পদ খরচ করে না।
অপরজনকে আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন কিন্তু সম্পদ দেননি। সে বলে, আমার যদি সম্পদ থাকত তাহলে আমি তার মতো করে সম্পদ খরচ করতাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তারা দু’জনই একই ধরনের পাপের অধিকারী হবে।
নিছক আশা-আকাক্সক্ষার কোনো মূল্য নেই। আশা-আকাক্সক্ষার সাথে খাঁটি নিয়ত ও তার সাথে উত্তম আমলের প্রয়োজন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে অগ্রসর হও।’
ভালো আশা-আকাক্সক্ষা এক ধরনের দোয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন আশা-আকাক্সক্ষা করে, সে যেন তা করে বেশি করে। কেননা এর মাধ্যমে সে মূলত তার রবের কাছে প্রার্থনা করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কিছু আশা করে সে যেন ভাবে সে কী আশা করছে।’
ইসলাম নেতিবাচক কোনো কামনা ও আকাক্সক্ষাকে সমর্থন করে না। তাই মন্দ ও অন্যায় কোনো বিষয় কামনা করা যাবে না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন বিপদগ্রস্ত হলে মৃত্যু কামনা না করে। যদি বলতেই হয়, তাহলে বলবে, ‘হে আল্লাহ! জীবন যদি আমার জন্য কল্যাণকর হয় তাহলে আমাকে জীবিত রাখো। আর যদি মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে আমাকে মৃত্যু দাও।’
আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা ভালো আশা-আকাক্সক্ষা সৃষ্টি করে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার বান্দার কাছে তার ধারণা অনুযায়ী।’ এর তাৎপর্য হলো বান্দাহ আমার ব্যাপারে যে ধরনের ধারণা পোষণ করে আমি তা করতে সক্ষম। আল্লাহর ব্যাপারে যখন বান্দার সুধারণা থাকে তখন আশা-আকাক্সক্ষা হয় অতি মর্যাদাসম্পন্ন। সে তখন আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহের অনুভূতি নিয়ে তার আশা-আকাক্সক্ষাকে সাজায়। সে কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করে না। অন্যের কাছে যা আছে তা পেতে চায় না।
আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের কারো কারো ওপর যে অনুগ্রহ দিয়েছেন, তোমরা তোমাদের জন্য তা কামনা করবে না।’ একজন প্রকৃত মুসলিম এ বাস্তব সত্য উপলব্ধি করবে যে, আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে শুধু আল্লাহর ইচ্ছায়। অতএব, সে অস্থির হবে না। দুশ্চিন্তা করবে না। আল্লাহ যা করেন তার মধ্যেই প্রকৃত কল্যাণ। সে সব অবস্থায় আল্লাহর শোকর আদায় করবে।
আল্লাহ বলেন, ‘এমন বিষয় রয়েছে যা তুমি অপছন্দ করো অথচ সেটিই তোমার জন্য কল্যাণকর, আবার এমন বিষয় রয়েছে যা তুমি পছন্দ করো অথচ সেটি তোমার জন্য মন্দ ও অশুভ। প্রকৃত বিষয় তো আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’
ইবলিস হলো সব মন্দ আশা-আকাক্সক্ষার উৎস। সে অঙ্গীকারবদ্ধ যে, আল্লাহর বান্দাদেরকে মিথ্যা ও অলীক আশা-আকাক্সক্ষার সাগরে ডুবিয়ে রাখবে। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়তানকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে সে সুস্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে তো তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় আর আশা-আকাক্সক্ষা সৃষ্টি করে। শয়তানের প্রতিশ্রুতি প্রতারণা বৈ কিছু নয়।’
মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা যদি আখিরাতমুক্ত হয়ে শুধু পার্থিব বিষয় নির্ভর হয়, তাহলে সে নিশ্চিতভাবে পথভ্রষ্ট হবে। সঠিক পথ থেকে তার পদস্খলন ঘটবে।
আল্লাহ বলেন, ‘যে দ্রুত বিষয় তথা দুনিয়ার সুখ-সম্ভোগ পেতে চায়, আমি তাকে এখানে তার জন্য যতটুকু দিতে চাই সত্বর দিয়ে দেই। পরিশেষে তার জন্য জাহান্নামই নির্ধারণ করে রাখি, যেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত, অপমানিত ও বিতাড়িত অবস্থায়। অপর দিকে যারা আখিরাত চায় এবং তা পাওয়ার জন্য যে পরিমাণ চেষ্টা করা উচিত, তেমনভাবেই চেষ্টা করে, আর সে হয় মুমিন, তারাই হচ্ছে এমন লোক যাদের চেষ্টা-সাধনা আল্লাহর দরবারে স্বীকৃত হয়।’
কর্মবিহীন আশা-আকাক্সক্ষা হলো স্বপ্নের ঘোর। এ ধরনের আশা-আকাক্সক্ষার কোনো ফলাফল নেই।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান তো সে-ই যে নিজের নফ্সকে অনুগত করে রাখে এবং মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে। আর ব্যর্থ তো সে, যে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে আর আল্লাহর কাছ থেকে আশা করে। যে আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য অবৈধ পথ ও পন্থা অনুসরণ করে, সে মূলত নিজের ওপরই অবিচার করে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে গণক বা জাদুকরের কাছে আসে এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করে, সে প্রকারান্তরে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি, যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করে।
মৃত্যু-পরবর্তী জীবন শুরু হয় কবরের মাধ্যমে। কবরের জীবনেও আশা-আকাক্সক্ষা চলতে থাকে। কবরে মুমিনের আকাক্সক্ষা হলো যেন কিয়ামত সংঘটিত হয়, তাহলে তার জন্য প্রতিশ্রুত সুখ ও নিয়ামত উপভোগ করতে পারবে। আর কাফিরের কামনা হলো যেন কিয়ামত সংঘটিত না হয়। কেননা কিয়ামাত সংঘটিত হলেই তাকে পীড়াদায়ক শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
মৃত ব্যক্তি কামনা করবে পৃথিবীর জীবনে ফিরে গিয়ে করতে না পারা ভালো কাজগুলো করতে; সম্ভব হলে দু’রাকাত সালাত আদায় করতে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কবরটি কার? লোকজন বলল, এটি অমুকের কবর। তিনি বললেন, তোমাদের গোটা পৃথিবীর তুলনায় তার কাছে দু’রাকাত সালাত উত্তম।
মৃত ব্যক্তি চাইবে পৃথিবীতে ফিরে এসে সাদকাহ করতে, আল্লাহর জিকর করতে, অন্তত একবার সুবহানাল্লাহ অথবা একবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদের যে জীবিকা দিয়েছি তা থেকে খরচ করো তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগে। কেননা সে তখন বলবে, ‘হে আমার রব! যদি তুমি আমার মৃত্যুটা পিছিয়ে দিতে তাহলে আমি সাদকাহ করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’
সবচেয়ে পীড়াদায়ক আকাক্সক্ষা হবে কিয়ামতের দিন শাস্তির সম্মুখীন হয়ে আল্লাহর অবাধ্য কাফিররা মাটিতে পরিণত হতে চাইবে।
আল্লাহ বলেন, ‘এই দিন সত্য। কেউ ইচ্ছা করলে নিজের মালিকের কাছে নিজের জন্য একটা আশ্রয় খুঁজে নিতে পারে। আমি আসন্ন আজাব সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করেছিলাম। সে দিন মানুষ দেখতে পাবে তার হাত দুটি এ দিনের জন্য কী কী জিনিস পাঠিয়েছে। অস্বীকারকারী ব্যক্তি তখন বলে উঠবে, হায়! কত ভালো হতো যদি আমি আজ মাটি হয়ে যেতাম।’
আমি আমাকে ও আপনাদেরকে আল্লাহকে ভয় করে চলার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। ভালো আশা-আকাক্সক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা হলো জান্নাতবাসীর জান্নাতপ্রাপ্তি। আল্লাহ তাদেরকে সেখানে তাদের মর্যাদা অনেক বাড়িয়ে দেবেন।
সর্বশেষ যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাকে বলা হবে তোমার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করো। সে তার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করবে। তাকে বলা হবে, তুমি যা আকাক্সক্ষা করেছ, তা দেয়া হলো। শুধু তাই নয়, বরং তার চেয়ে দশগুণ বেশি দেয়া হলো।

Source :dailynayadiganta.com/detail/news/270959

10
[embed=425,349]http://paimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/640x359x1/uploads/media/2017/11/25/942627fb1a6a8794969a338e34ec3764-5a187f24d05a8.gif?jadewits_media_id=1077176[/embed]


মাইগ্রেনের ব্যথা অনেকের কোনো কোনো দিনকে অসহ্য করে তোলে। মাথার কোনো এক পাশে প্রচণ্ড ব্যথা, বমি ভাব বা বমি, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি সমস্যা এ সময় মানুষকে প্রায় শয্যাশায়ী করে ফেলে। মাইগ্রেনের ব্যথার আকস্মিক আক্রমণের জন্য কিছু বিষয় কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু খাবারদাবার, যা এই ব্যথাকে বাড়িয়ে দেয়।

অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে সৃষ্ট ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে শর্করা কমে যাওয়া মাইগ্রেনের ব্যথাকে আমন্ত্রণ জানায়। এ ছাড়া নিয়াসিন ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাব ঘটলে এবং রক্তস্বল্পতার কারণেও মাথাব্যথা বাড়ে।

ব্যথার তীব্রতা কমাতে ট্রিপটোফেন-জাতীয় খাবার বেশ সুফল বয়ে আনে। লাল চাল, খেজুর, কিশমিশ, দুধ, দই, ডিম, শিম, বাদাম, ডুমুর, সবুজ ও কমলা রঙের সবজি, কলাসহ নানা ধরনের ফল নিয়মিত খাওয়া উচিত তাঁদের। ভেষজ চা, বিশেষ করে আদা-চা ও পুদিনা-চা মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

কিছু খাবার মাইগ্রেনের রোগীদের জন্য পরিত্যাজ্য। যেমন: চকলেট, পাউরুটি, কেক পেস্ট্রি, রং দেওয়া খাবার, সংরক্ষিত খাবার, আচার বা সস ও ময়দা-চিনির খাবার। মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা টেস্টিং সল্ট ব্যথা বাড়ায়।
Source:

11
Travel / Visit / Tour / দামতুয়া জলপ্রপাত
« on: September 25, 2017, 11:44:16 AM »


কিছু বিস্ময়ের জন্মই হয় প্রকৃতিতে মুগ্ধতা ছড়াতে। কিছু বিশালতার মধ্যে ক্ষুদ্র হয়েও আনন্দে ভাসতে ইচ্ছে করে সারাক্ষণ। বাংলাদেশের প্রকৃতি পরতে পরতে আড়াল করে লুকিয়ে রেখেছে নিজের সেরা সৌন্দর্যগুলোকে।

এবারের বান্দরবান-যাত্রা ছিল মাত্রই খোঁজ পাওয়া এক ঝরনা দেখার জন্য। এক বন্ধুকে ফোন দিলাম। মুহূর্তেই প্ল্যান করে ফেললাম আরেকটা অভিযানের। জাফর, স্বপন ভাই আর বাপ্পীকে সঙ্গে নিয়ে ঝুমবৃষ্টি মাথায় নিয়ে সোজা রওনা দিলাম মেঘ-পাহাড়ের দেশে। গন্তব্য ‘দামতুয়া জলপ্রপাত’।

বান্দরবানের আলীকদম বাসস্ট্যান্ড থেকে দামতুয়া যাওয়ার জন্য ‘আলীকদম-থানচি’র নতুন রাস্তা ধরে ১৭ কিলোমিটার যেতে হয়। মোটরসাইকেলে এক লহমায় মেঘ ফুঁড়ে উড়ে চললাম বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এই রাস্তা ধরে। অদ্ভুত এই পাহাড়ি রাস্তা সৌন্দর্যের দিক দিয়ে হার মানিয়ে দেয় বাংলাদেশের আর সব পাহাড়ি রাস্তাকে। একখানে খাড়া নিচে নেমে যেতে হয় তো অন্যখানে চিত হয়ে ওপরের দিকে উঠতে হয়! এই দেখা গেল ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে রাস্তা চলে গেছে আবার একটু পরেই মেঘের ভেতর হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে আকাশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে উড়ে চলছি যেন। একবার মোটা মোটা গাছের সারি তো অন্যবার দূর পাহাড়ে বাড়ি!
এই করতে করতে একসময় আমরা পৌঁছে গেলাম ১৭ কিলোমিটার দূরের আদুপাড়ায়। সেখানে রাস্তার পাশের দোকানে ঢুকতেই পাওয়া গেল স্থানীয় গাইড—নাম তার ইংরিং! সে জানাল এখানে দুই পাশে দুই ঝরনা আছে, কোনটাতে যাবেন? একটা নাকি আরেকটার চেয়ে বড়। জানালাম দামতুয়ায় যাব। কথা বলে অন্যদের দিকে তাকানোর আগেই ইংরিং সোজা জঙ্গলের দিকে রওনা দিল। আমরা হাঁটা দিলাম তার পিছু পিছু।


সেই যে হাঁটা দিলাম, আর তো শেষ হয় না। আধা ঘণ্টা যায়, এক ঘণ্টা যায়—শুধু চড়াই, ওপরে ওঠা! হাঁপাতে হাঁপাতে বারবার ইংরিংকে জিজ্ঞেস করি আর কত দূর—সে নির্বিকারভাবে জানাল আরও এক ঘণ্টা। আমরা হতাশ, ওদের এক ঘণ্টা মানে আমাদের কমসে কম দুই ঘণ্টা! কোথাও এক ফোঁটা পানি নেই, অথচ সকালেই কী বৃষ্টিটাই না হলো!

এ পথের পাহাড়গুলো একটু অন্য রকম, বান্দরবানের অন্য পাহাড়গুলোর মতো ঢাল নেই এখানে, এক্কেবারে খাড়া, পাথুরে শরীর। দেখলেই মনে হয় অতিকায় দানব হাঁ করে আছে! একপাশে জুমের খেত আর একপাশে ঢাল নিয়ে পথ চলতে চলতে হঠাৎ শুনি পানির শব্দ। যাঁরা পাহাড়ে হাঁটেন, তাঁরা জানেন ঝরনার শব্দের চেয়ে মধুর কিছু আর নেই! এই শব্দ গলার ভেতর না ভেজালেও মুহূর্তেই কলিজাটা ভিজিয়ে দেয়, আমাদের হাঁটার গতি বেড়ে গেল বহুগুণ। শব্দ লক্ষ্য করে বাঁ দিকে তাকাতেই দেখা গেল বিস্ময়! একসঙ্গে চার-পাঁচটি পানির ধারা পাশের পাহাড় থেকে হুমহাম করে নেমে আসছে। দেখে মনে হচ্ছে চেরাপুঞ্জির সেভেন সিস্টার ওয়াটারফলসের খুদে সংস্করণ! ইংরিং তাগাদা দিল, দাদা থেমে থাকলে হবে না, যেতে হবে আরও দূর! ঝরনাগুলোকে মনের ফ্রেমে বন্দী করে আবার পা বাড়ালাম আরও বিশাল কিছু দেখার জন্য।

এবার প্রকৃতি বদলে গেল! এখন একটু পরপরই পানি পাওয়া যাচ্ছে, হঠাৎ দেখি চলতি পথে বিশাল ঝিরি! ইংরিং জানাল এই পানি নিচে গিয়ে একটা ঝরনা হয়েছে। সেটার নাম ‘তুক অ’। অবাক আমরা এ আবার কেমন নাম! পাহাড়ি ভাষার ‘তুক অ’ মানে ‘ব্যাঙ ঝিরি’। কোমরপানি ডিঙিয়ে একেবারে ঝিরির মাথায় গিয়ে দাঁড়ালাম। আসলেই তাই—এই বিশাল পানি হঠাৎ করেই শূন্যে পড়ছে। নিচে একটা বিশাল পাথরে পড়ে আবার লাফ দিয়ে আরেকটু দূরে গিয়ে পড়ছে, একেবারে নিচে! পুরোই ব্যাঙের মতো! এরপরের গল্পটুকু শুধু হারিয়ে যাওয়ার। ‘কাখইপাড়া’ পার হয়ে আমরা বিশাল এক ঝিরিপথে পড়লাম। বৃষ্টি হওয়ায় সে পানি ফুলেফেঁপে একাকার, ঘোলাটে। এই ঝিরিপথে আধঘণ্টার মতো কোমরপানি পার হয়ে আমরা মুখোমুখি হলাম জঙ্গলের সবচেয়ে কঠিন সত্যের—ইংরিং রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে!

শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা এক ঘামের স্রোত গড়িয়ে পড়ল। এখন বাজে বিকেল সাড়ে চারটা, এখনো দামদুয়ায় পৌঁছাতে পারিনি। এর মধ্যে রাস্তা হারানো মানে জঙ্গলেই থেকে যেতে হবে সারা রাত! আকাশে খুব ভয়ংকরভাবে হুমকি দিচ্ছে মেঘের আসর। নিচে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আমরা পাঁচজন পাঁচ কোনায় বসে আছি। ইংরিং একবার জঙ্গলে ঢুকছে, একবার ঝিরিপথে নেমে যাচ্ছে—কী করবে বুঝতে পারছে না। এই থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে যা করা উচিত ঠিক তাই করলাম আমি আর জাফর—সোজা নেমে গেলাম সানের গলাপানির ঝিরিতে, দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানে নেই। সামনে না এগোলে কখনো আলোর মুখ দেখা যাবে না। ফলাফল—হাত-পা কেটে, স্যান্ডেল হারিয়ে, মোবাইল ভিজিয়ে অন্ধের মতো হ্যাঁচোড়ে-প্যাঁচোড়ে মুখোমুখি হলাম জগতের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যের মুখোমুখির! মেঘের গর্জনকে ছাপিয়ে একটানা বিশাল পানি পড়ার ঝরঝর শব্দ! পাঁচজন একবার করে নিজেদের দিকে তাকালাম, সবার চোখে জয়ের নেশা! এত কষ্ট তাহলে আমাদের সার্থক!

সামনে এগিয়ে যা দেখলাম সেটার জন্য আমরা আসলেই প্রস্তুত ছিলাম না। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের মতো বিশাল এলাকা নিয়ে গড়গড়িয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে নিচের দিকে! বিশাল এক ক্যাসকেইড! এত বড় জলধারা আমি এর আগে বান্দরবানের কোনো পাহাড়ে দেখিনি! কী বিশাল আয়তন, কী গম্ভীর তার গর্জন! তখনো জানতাম না এই জলপ্রপাতটা দামতুয়ার ঠিক ওপরের ঝিরিপথ, এর পুরো পানিই নেমে গেছে দামতুয়ায়। সন্ধ্যা হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেই আমরা নামলাম প্রায় ৮৫ ডিগ্রি খাড়া এক পাহাড় বেয়ে। বলা হয় সুন্দর কিছু পেতে হলে সহ্যের শেষ সীমায় গিয়ে কষ্ট করতে হয়। আমরা কয়েকজন শেষ সীমায় পা দিয়ে পিছলে গড়িয়ে গেলাম। কাদামাটি আর নুড়িপাথরে গড়গড় করে নেমে একে অপরের গায়ে পড়ে, নাকে-মুখে কাদা লাগিয়ে সামনের দিকে তাকিয়েই সব জ্বলুনি, সব কষ্ট বিলীন হয়ে গেল। চোখের সামনে ভয়ংকর গর্জন করে এই গোধূলির শেষ আলোয়ও পুরো আকাশ আলো করে অবিরাম ঝরছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জলপ্রপাত! বিশাল তার আকার, এক ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা যায় না এমন বিশাল সে! এখানে একসঙ্গে তিনটি ঝরনার পানি এসে পড়ছে, যার মধ্যে দুইটার পানি পাহাড়ের গা বেয়ে গড়িয়ে পড়ে। দামতুয়া মূল পানিটুকু প্রবল আক্রোশে নামছে মাটিতে। সেখানের আশপাশেও দাঁড়ানো যায় না এমন অবস্থা! কান ফাটানো গর্জন আর দৃষ্টি আড়াল করে দেওয়া সাদাটে পানির মাঝে একবার পড়লে খেই হারিয়ে ফেলবে যে কেউই। আমরা হারালাম, ভুলে গেলাম সময়ের হিসাব, ভুলে গেলাম আমাদের ফিরতে সময় লাগবে আরও তিন ঘণ্টা! এত বড় বিশালতার মুখোমুখি এর আগে যে তেমন হইনি!

অন্ধকার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে যখন ফেরার তাড়া এসে টানতে শুরু করল আমাদের, তখন থেকেই মন খারাপের শুরু! এখানে মাত্র ঘণ্টাখানেকের জন্য যাওয়া মানে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর কিছু মুহূর্তের অপচয়, এখানে অল্প কিছু সময়ের জন্য যাওয়া মানে নিজের প্রতি ঘোরতর অন্যায় করা। এখানে আসলে এক রাত থাকতে হবে, পানির ঘুমভাঙানি শব্দে চোখ খুলেই মুখোমুখি হতে হবে সইতে পারা সৌন্দর্যের মুখোমুখি! ফিরে আবার আগে ওপর থেকে আরেকবার দেখলাম এই জলদানবকে। নিজের জন্য না হলেও মনের শখ মেটাতে আরেকবার আসতে হবে এই ঝরনায়, মায়াবী কোনো এক পূর্ণিমা রাতে।

Source :http://www.prothom-alo.com/life-style

12
Hajj / জিলহজ মাসের মর্যাদা
« on: August 31, 2017, 10:45:37 AM »


জিলহজ মাস একটি সম্মানিত মাস। এ মাস হজের মাস। এ প্রথম ১০ দিন খুবই মর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহ বলেন, ‘শপথ ভোরের এবং শপথ ১০ রাতের।’ (আল ফজর : ১-২) আল্লাহ যে ১০ রাতের শপথ নিয়েছেন, তা হলো- জিলহজ মাসের প্রথম ১০ রাত ও দিন।

আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এই ১০ দিনের আমলের মতো অন্য কোনো দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে এত বেশি প্রিয় নয়।’ সাহাবিরা বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? ‘না, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, তবে ওই ব্যক্তি- যে জীবন ও সম্পদ নিয়ে জিহাদের জন্য বের হয়ে আর কোনো দিন ফিরে আসেনি।’ (সুনান আবু দাউদ-২৪৩৮, সুনান ইবনু মাজাহ-১৭২৭)

যারা হজে যান, তাদের জন্য এ ১০ দিনে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো- হজের সাথে সম্পৃক্ত সব বিধান সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী যথাযথভাবে সম্পন্ন করা। যারা হজে যাননি, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো কোরবানি করা।

এখানে উল্লেখ্য, যারা কোরবানি দিবেন তারা কোরবানির আগ পর্যন্ত চুল, লোম ও নখ কাটবেন না। উম্মু সালামাহ রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন, ‘তোমরা যখন জিলহজ মাসের চাঁদ দেখবে, তখন তোমাদের মধ্যে যে কোরবানি দিতে চায়, সে যেন কোরবানি করার আগ পর্যন্ত চুল, পশম ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।’ (সহিহ মুসলিম-১৯৭৭)

এই ১০ দিন ও রাতে একজন মুমিন বেশি বেশি করে জিকর করবেন, কুরআন তিলাওয়াত করবেন, দান সদকাহ করবেন। ঈদের দিন বাদ দিয়ে বাকি ৯ দিন রোজা রাখবেন।

রাসূল সা: জিলহজ মাসের ৯ দিন, আশুরার দিন এবং প্রতি মাসের তিন দিন রোজা রাখতেন। (সুনান আবু দাউদ-২৪৩৭) এ দিনগুলোতে বেশি বেশি তাকবির তথা ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে।

ইমাম বুখারি রাহ: বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ বিন উমার রা: ও আবু হুরাইরা রা: জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন যখন বাজারে যেতেন তখন তাকবির বলতেন, আর লোকজন তাদের তাকবিরের সাথে তাকবির বলতেন। তিনি (ইমাম বুখারি রা:) আরো বলেন, উমার রা: মিনায় তার তাঁবুতে তাকবির দিতেন, মসজিদে অবস্থান করা লোকজন তা শুনে তাকবির দিতেন, বাজারের লোকজন তাকবির দিতেন। এসব তাকবিরে যেন মিনা প্রকম্পিত হয়ে উঠত।

জিলহজ মাসের নবম তারিখ হলো আরাফাহ দিবস। এ দিন হাজীগণ আরাফাত ময়দানে অবস্থান করেন। আয়েশা রা: বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, ‘আল্লাহ আরাফাহ দিবসের চেয়ে অন্য কোনো দিন এত অধিক সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না। তিনি নিকটবর্তী হন। অতঃপর তাদেরকে নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন এবং বলেন, এরা কী চায়?’ (সহিহ মুসলিম-১৩৪৮)
আরাফাহ দিবসে হাজীগণ সূর্য উঠার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাত ময়দানে অবস্থান করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের জিকর করেন। কুরআন তিলাওয়াত করে থাকেন, রাসূল সা:-এর ওপর দরুদ পড়েন। বেশি বেশি করে আল্লাহর কাছে অতীতের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইবেন। ভবিষ্যতে আরো বেশি ভালো কাজ করার জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিক চাইবেন। এ দিনের সর্বোত্তম দোয়া কোনটি? এ প্রসঙ্গে রাসূল সা: বলেন, ‘সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া হলো আরাফাহ দিবসের দোয়া। আমি ও আমার আগে নবীগণ সর্বশ্রেষ্ঠ যে কথাটি বলতাম, তা হলো- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারি কালাহু লাহুলমুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলাকুল্লি শাইয়িন কাদির।

আরাফাত ময়দানের বাইরে যারা আছেন, অর্থাৎ যারা হজ করছেন না, এ দিন তাদের করণীয় হচ্ছে রোজা রাখা। রাসূল সা:কে আরাফাহ দিবসের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এ রোজা গত বছর ও আগামী বছরের গুনাহ মার্জনা করে দেয়।’ (সহিহ মুসলিম-১১৬২)
আরাফার রোজা নিয়ে একটি মতপার্থক্য লক্ষণীয়। কেউ কেউ বলেন, এটা রাখতে হবে আমাদের দেশের চাঁদ দেখা অনুযায়ী, ৯ জিলহজ। আবার অনেকে বলেন, আরাফার রোজা রাখতে হবে আরাফাহ দিবসে অর্থাৎ হজের দিন। কিন্তু দু’টি মতের মধ্যে সঠিক কোনটি? আরাফাহ দিবসের রোজার সম্পর্ক আরাফাত ময়দানে হাজীদের অবস্থানের সাথে। তাই রোজা রাখতে হবে আরাফাহ দিবসে। নিজ নিজ দেশের ৯ জিলহজ নয়।

এ রোজার দর্শন হচ্ছে, হাজীগণ আরাফাত ময়দানে অবস্থান করে নানা ধরনের ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করছেন। আরাফাত ময়দানের বাইরে যাদের অবস্থান তারা রোজার মাধ্যমে তাদের সাথে শরিক হবেন। পাক-ভারত-বাংলাদেশ উপমহাদেশের বাইরে সব দেশের মুসলমানেরা এ দর্শনের ভিত্তিতে আরাফাহ দিবস তথা আরাফাত ময়দানে হাজীদের অবস্থানের দিনই রোজা রাখেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিতর্ক নেই। আমাদের এ অঞ্চলে বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়।

মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে যেদিন ৯ জিলহজ, সেদিন হাজীগণ আরাফাত ময়দানে থাকেন না। অতএব এটি আরাফাহ দিবসই নয়। তাই এ দিনের রোজা হাদিসে বর্ণিত আরাফাহ দিবসের রোজা নয়।

আইয়্যামে তাশরিক হলো, জিলহজ মাসের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ। এ দিনগুলো ঈদের দিন বলে বিবেচিত হয়। রাসূল সা: বলেছেন, ‘আরাফাহ দিবস (হাজীদের জন্য), কোরবানির দিন এবং আইয়্যামে তাশরিক হলো আমাদের ইসলাম অনুসারীদের জন্য ঈদ।’ (সুনান তিরমিজি-৭৭৩ ও সুনান আবু দাউদ-২৪১৯) তিনি আরো বলেছেন, ‘আইয়্যামে তাশরিক হলো পানাহারের দিন।’ অপর বর্ণনায় রয়েছে ‘এবং আল্লাহর জিকরের দিন।’ (সহিহ মুসলিম-১১৪১)

যেহেতু আইয়্যামে তাশরিকের তিন দিনও ঈদের দিন বলে বিবেচিত এবং এ তিন দিন পানাহারের দিন, তাই এ তিন দিনেও দুই ঈদের দিনের মতো রোজা রাখা যায় না। রাসূল সা: বলেছেন, ‘এ দিনগুলোতে তোমরা রোজা রাখবে না। কেননা, দিনগুলো হলো পানাহার ও মহান আল্লাহর জিকরের দিন।’ (মুসনাদে আহমাদ-১০৬৬৪)

আইয়্যামে তাশরিকে তাকবির তথা আল্লাহু আকবার বলতে হয়। এ তাকবির দুই ধরনের; সাধারণ তাকবির ও বিশেষ তাকবির। সাধারণ তাকবির হলো; জিলহজ মাসের প্রথম দিন থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত যেকোনো সময় তাকবির বলা। ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, আবদুল্লাহ বিন উমার রা: ও আবূ হুরাইরা রা: বাজারে গিয়েও সশব্দে তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলতেন, তাদের তাকবির শুনে অন্যরা তাকবির বলতেন।’ বিশেষ তাকবির হলো- প্রতি ফরজ সালাতের পর বলার তাকবির। এটি শুরু হবে আরাফা দিবসের ফজরের পর এবং শেষ হবে ১৩ তারিখ আসরের পর।

এ তাকবির হলো, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ। এ তাকবির নারী ও পুরুষ সবারই বলতে হবে। জামাতে সালাত আদায় করলেও বলবেন, একাকী সালাত আদায় করলেও বলবেন। ফরজ সালাতের পর পঠিত তাকবিরের নির্ধারিত সংখ্যা কোনো হাদিসে উল্লেখ করা হয়নি। তাই বেশি বেশি তাকবির বলাই উত্তম। তাকবিরের সংখ্যা নির্ধারণ করার পক্ষে কোনো দলিল নেই।
Source :http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/247887

13
Hajj / ইসলামের আগে হজ কেমন ছিল
« on: August 31, 2017, 10:28:32 AM »


কাবা শব্দের অর্থ বর্গাকার ইবাদতগার। ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে কাবা হলো দুনিয়ার প্রথম ঘর।
প্রথম ইবাদতগার বা মসজিদও এটি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মানুষ সৃষ্টির আগে ফেরেশতারা এ মসজিদ নির্মাণ করেন। প্রথম হজ পালনও করেন তারা। দুনিয়ার প্রথম মানব হজরত আদম (আ.) এ ঘরটি সংস্কার করেন। পরবর্তীতে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আমলে তা পুনঃনির্মিত হয়।

হজ হলো বিশ্ব মুসলিমের মিলনমেলা। আরবিতে হজ বলতে বোঝায় পরিদর্শনের জন্য সংকল্পবদ্ধ হওয়া। একেশ্বরবাদীদের নেতা ও আরব এবং ইসরায়েলি জাতির আদি পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) প্রথম হজব্রত পালন করেন। আল্লাহর নির্দেশে অনুসারীদের আহ্বান করেন কাবাগৃহ পরিদর্শন ও পরিভ্রমণের জন্য। তারপর থেকে হাজার হাজার বছর ধরে পালিত হচ্ছে এই প্রথা।

ইব্রাহিম (আ.)-কে বলা হয় বিশ্বাসীদের আদি পিতা। আল্লাহ এক তাঁর কোনো অংশীদার নেই—এই তত্ত্ব প্রথম তুলে ধরেন এই মহাপুরুষ। ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি এই তিন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কাছে তিনি পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভাবিত এ তিন ধর্মের অনুসারীরা তাঁকে আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ বা নবী বলে শ্রদ্ধা করেন।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেন ইরাকের উর নগরীতে। তার বাবা ছিলেন মূর্তি নির্মাতা এবং পুরোহিত। কিন্তু তিনি মূর্তিপূজার অসারতা উপলব্ধি করেন ছোটবেলাতেই। বলেন, সূর্য, চাঁদ, আকাশের তারা কিংবা মানুষ এর সব কিছু হলো সৃষ্ট কোনো বস্তু বা জীব। তারা মানুষের উপাস্য হতে পারে না। এগুলোর মূর্তি বানিয়ে পূজা করার মধ্যেও নেই কোনো স্বার্থকতা এবং যে সত্তা সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা তিনিই হতে পারেন উপাস্য। ইব্রাহিম (আ.) প্রচার করেন আল্লাহ সর্বশক্তিমান। একমাত্র তাঁরই আরাধনা করা উচিত।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার জীবদ্দশায় একেশ্বরবাদকে ইরাক, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, আরব, মিসর বা ধারে-কাছের সব ভূখণ্ডে ছড়িয়ে দেন। কিন্তু নিঃসন্তান হওয়ার জন্য আল্লাহর এই নবী মনোকষ্টে ভুগতেন। আল্লাহ তাঁর এই প্রিয় নবীর মনোকষ্ট দূর করতে বৃদ্ধ বয়সে তাকে পিতৃত্বের গৌরব অর্জনের সুযোগ দেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর দাসী বা দ্বিতীয় স্ত্রী হাজেরার গর্ভে জন্ম নেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)। ইসমাইলের জন্মের পর পর তার প্রথম স্ত্রী সারাও গর্ভবতী হন। তার গর্ভে জন্ম নেন হজরত ইয়াকুব (আ.)। উল্লেখ্য, ইসমাইলের বংশধররা পরবর্তীতে আরব জাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর বংশধররা পরিচিতি লাভ করে ইসরায়েলি জাতি হিসেবে। ইসরায়েলিদের মধ্যে জন্ম নেন হজরত মুসা (আ.) এবং হজরত ঈসা (আ.)। ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে তাদের ভাবা হয়। অন্যদিকে ইসরায়েলের বংশধর আরব জাতির মধ্যে আত্মপ্রকাশ করেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

 

হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রথম স্ত্রীর চাপে শিশুসন্তান ইসমাইলসহ হাজেরাকে নির্বাসনে দিতে বাধ্য হন। হাজেরা ছিলেন মিসরীয় বংশদ্ভূত দাসী। তাকে নির্বাসন দেওয়া হয় আজকের মক্কা নগরী যেখানে সেই মরুময় বিরান প্রান্তরে। সেখানে একপর্যায়ে সঙ্গে আনা খাদ্য ও পানীয় শেষ হয়ে যায়। শিশু ইসমাইল ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কান্নাকাটি শুরু করেন। সেই বিরান প্রান্তরে শিশুকে এক জায়গায় রেখে পানির জন্য ছোটাছুটি করেন আরব জাতির আদি জননী বিবি হাজেরা। পরিশেষে ক্লান্ত হয়ে শিশু ইসমাইলের কাছে এসে দেখেন তখনো কাঁদছে অবোধ শিশু। কান্নার সময় তার পায়ের আঘাতে সৃষ্টি হয়েছে পানির ফোয়ারা। সাড়ে চার হাজার বছর ধরে এ পানির ফোয়ারা জমজম কূপ হিসেবে পরিচিত। হাজার হাজার মানুষ এ কূপ থেকে পানি গ্রহণ করলেও মরু প্রান্তরের এ জলাধার এখনো সমানভাবে তার অস্তিত্বের ঘোষণা দিয়েই চলছে।

ইসমাইল (আ.) যখন কিশোর তখন হজরত ইব্রাহিম স্বপ্ন দেখেন আল্লাহ তাঁকে তাঁর প্রিয় বস্তু কোরবানির নির্দেশ দিচ্ছেন। স্বপ্ন দেখে হজরত ইব্রাহিম ১০০ গবাদিপশু কোরবানি দেন। দ্বিতীয় দিনও তিনি দেখেন অভিন্ন স্বপ্ন। এবারও তিনি ১০০ গবাদিপশু কোরবানি দেন। তৃতীয় রাতেও তাকে বলা হয় প্রিয় বস্তু কোরবানি দেওয়ার জন্য। হজরত ইব্রাহিম উপলব্ধি করেন ইসমাইল হলেন তার সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহ তাকেই কোরবানির নির্দেশ দিয়েছেন স্বপ্নে। সে নির্দেশ পালিত হয়নি বলেই বার বার একই স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে।

এই স্বপ্ন গভীর পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিল আল্লাহর নবীকে। তবে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অটল। সিদ্ধান্ত নিলেন  যত কষ্টকর হোক তিনি আল্লাহর হুকুমই পালন করবেন। তিনি ছুটে যান হাজেরার কাছে। তার কাছ থেকে নিয়ে আসেন ইসমাইলকে। মিনা ময়দানে পুত্রকে কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মাঝপথে পুত্রকে জানান স্বপ্নে প্রদত্ত ঐশী আদেশের কথা। পুত্র ইসমাইল বলেন, আল্লাহর রাহে কোরবানি হওয়া তো সৌভাগ্যের ব্যাপার।

মিনা ময়দানে পুত্রকে কোরবানির জন্য প্রস্তুত হন আল্লাহর নবী। আপত্য স্নেহ আল্লাহর নির্দেশ পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ভেবে তিনি পুত্রকে কোরবানির আগে নিজের চোখ বেঁধে নেন। তারপর তার গলায় চালান ধারালো ছুরি। কোরবানি শেষ হতে চোখ খুলেই দেখেন পাশে দাঁড়িয়ে পুত্র ইসমাইল। তার বদলে একটি মেষ জবাই হয়ে আছে। ফেরেশতা এসে নবীকে জানান আল্লাহ তাঁর উৎসর্গিত মনোভাবে খুশি হয়েছেন। তিনি তাঁর কোরবানি গ্রহণ করেছেন।

হজরত ইব্রাহিম ও ইসমাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন। কাবাঘর প্রদক্ষিণের নিয়মও প্রবর্তন করেন তারা। হজ উপলক্ষে হজব্রত পালনকারীরা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতি অনুসরণে কোরবানি দেন। এ নিয়মও চলে আসছে সাড়ে চার হাজার বছর ধরে। কাবাঘর স্থাপিত হয়েছিল একেশ্বরবাদী চেতনাকে উদ্ভাসিত করার জন্য। কালক্রমে এ পবিত্র গৃহ ভণ্ড পুরোহিতদের আখড়ায় পরিণত হয়। মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন যে নবী সেই ইব্রাহিম (আ.)-এর শিক্ষা ভুলে তার অনুসারীরা সেখানে অসংখ্য মূর্তি স্থাপন করে। এমনকি হজরত ইব্রাহিম (আ.), হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মূর্তি তৈরি করে পূজা শুরু হয়। কাবাগৃহে স্থাপিত হয় হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর উত্তর-পুরুষ লাত, মানাত, নসর, হুবাল, উজ্জা, নায়েলাসহ আরও অনেকের মূর্তি। এমনকি হজরত ঈসা (আ.) এবং তার জননী মরিয়মের প্রতিকৃতিও স্থান পায় কাবাগৃহের দেয়ালে।

আল্লাহর নির্দেশে হজ কিংবা উমরাহ হজ পালনকালে কাবাগৃহ প্রদক্ষিণের নিয়ম চালু করেন হজরত ইব্রাহিম ও হজরত ইসমাইল (আ.)। তারপর থেকে গত সাড়ে চার হাজার বছর ধরে এ নিয়মের হের-ফের হয়নি। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর শিক্ষা ভুলে গেলেও কাবা গৃহের মর্যাদার ব্যাপারে আরবীয়রা ছিল আপসহীন। যত হানাহানি হোক কাবার পবিত্র চত্বরে কেউ কখনো প্রতিহিংসায় মেতে ওঠেনি। হজ উপলক্ষে অখণ্ড শান্তি বিরাজ করেছে পবিত্র মক্কা নগরীতে।

তবে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা জয়ের আগের কয়েকশ বছর ধরে হজ পালন, কাবা প্রদক্ষিণ এবং কোরবানির নামে যা হতো তার সঙ্গে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর শিক্ষার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তার সরাসরি বংশধর কাবা শরিফের খেদমতকারীর দাবিদার কুরাইশদের নেতৃত্বেই চলত হজের নামে নাচ-গান মদপান আর ব্যভিচার। কাবাগৃহ প্রদক্ষিণ করা হতো নগ্নভাবে। নারী-পুরুষ উলঙ্গ হয়ে কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করত এবং বলত আমরা যে অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছি সে অবস্থায় আল্লাহর সামনে হাজির হয়েছি। পশু কোরবানির পর কাবাঘরের সামনে মাংস ফেলে রাখা হতো এবং ভাবা হতো আল্লাহ এ মাংস ভোগ করবেন। আরবের বিভিন্ন গোত্রপতি কোরবানির নামে নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যের জানান দিত। হজ উপলক্ষে যে বিশাল সমাবেশ হতো সেখানে মেজবানির ব্যবস্থা করে দম্ভ প্রকাশেরও চেষ্টা চলত। মনে করা হয়, হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মৃত্যুর পর হাজার বছর পর থেকে শুরু হয় এসব অনাচার এবং তা কমবেশি দুই হাজার বছর অব্যাহত ছিল। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা জয়ের পর কাবাগৃহ থেকে সব মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়। হজরত ইব্রাহিম (আ.) হজের যে নিয়ম প্রবর্তন করেন সাড়ে চার হাজার বছর আগে, তা পুনঃপ্রবর্তিত হয়। বন্ধ হয় নগ্নভাগে কাবা প্রদক্ষিণের ঘৃণ্য প্রথা। পবিত্র কোরআনে বলা হয়, ‘হে নবী আপনি তাদের বলে দিন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব সৌন্দর্যবর্ধক জিনিস (পোশাক-পরিচ্ছদ) মনোনীত করেছেন, কে তা হারাম করল?’ (সূরা আল আয়াদ : ৬৮)।

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা জয়ের আগে হজ পালনের নামে যেমন ভোগ-বিলাসিতার তাণ্ডব চলত, তেমনি কেউ কেউ আত্মনিগৃহকেও হজ বলে মনে করত। হজ উপলক্ষে বিপথগামীদের একাংশ কারও সঙ্গে কথা বলত না। যাকে বলা হতো ‘হজে মুছমিত’ বা বোবা হজ। অপরিচ্ছন্ন ও অপবিত্র অবস্থায়ও হজ পালন করা হতো। ভাবা হতো এভাবেই বেশি পুণ্য অর্জিত হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাত বা ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনেন। যে নির্বোধরা কোরবানির মাংস আল্লাহর ভোগের জন্য কাবার দ্বারে ফেলে রাখত তাদের উদ্দেশে কোরআনে বলা হয়, ‘কোরবানির মাংস বা রক্ত নয়, কেবল আল্লাহর প্রতি আনুগত্য বা তাকওয়াই তার কাছে পৌঁছায়। ’
Source : http://www.bd-pratidin.com/editorial/2017/08/31/260634

14


কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় মোগল আমলের প্রায় সোয়া দুই শ’ বছরের পুরনো সেকান্দরনগর জামে মসজিদটি আজো দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটির মূল অবয়ব অত থাকলেও সঠিক পরিচর্যার অভাবে তা এখন ভঙ্গুর হতে চলেছে।


মসজিদটি বাইরে থেকে বিশাল আকার দেখা গেলেও ভেতরে খুব বেশি বড় নয়। মসজিদের ছাদের ওপরে রয়েছে মোট আটটি মিনার। মসজিদের উত্তর-দেিণর দেয়াল ভেদ করে রয়েছে একটি করে প্রবেশপথ। সম্মুখ দেয়ালে প্রবেশপথ বরাবর পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে মেহরাব। মসজিদের ভেতরে ইমাম বাদে তিনটি কাতারে ১২ জন করে মোট ৩৬ জন মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন।


তবে মসজিদের বাইরের অংশে অর্থাৎ বারান্দায় আরো প্রায় অর্ধশত মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। আয়তাকারে এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪৪ ফুট ও প্রস্থ ২৫ ফুট। সম্মুখ দেয়াল ভেদ করে রয়েছে পত্রখিলানসমৃদ্ধ তিনটি প্রবেশপথ। মধ্যের প্রবেশপথটি কিছুটা বড়। এ মসজিদের সম্মুখের সাহনের পরিমাণ ৫৪ ফুট বাই ৩৬ ফুট। মসজিদের আকার বা পরিধি যাই হোক মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায়ের সময় মনে হয় যেন ২০০ বছর আগের মোগল আমলে চলে গেছি। নিজে উপস্থিত হয়ে নামাজ না পড়লে বিশ্বাস করা বা বোঝা সম্ভব নয়।


ঐতিহাসিক সেকান্দরনগর মসজিদটি কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলা ধলা ইউনিয়নের সেকান্দরনগর গ্রামে অবস্থিত। কালের আবর্তে এ মসজিদ শাহ সেকান্দরনগর জামে মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কিশোরগঞ্জ জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ২৮ কিলোমিটার। মসজিদের গায়ে বর্তমানে যেসব নিদর্শন পাওয়া গেছে সে অনুসারে ধারণা করা হয় অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। কেননা ১৭৯৬ সালের পর সেকান্দরনগরে আগমন ঘটে বিখ্যাত ইসলাম প্রচারক হজরত সৈয়দ শাহ জামানের রহ:। তারই সমসাময়িক ও আত্মীয় হজরত শাহ সেকান্দর রহ:। ওই আমলে এ দেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ৩৬০ জন আউলিয়ার আগমন ঘটে। তাদেরই একজন শাহ সেকান্দর রহ:। শাহ সেকান্দর এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন এবং পরে এ গ্রামটি তার নিজ নামেই নামকরণ হয় সেকান্দরনগর। হজরত শাহ সেকান্দরের অবস্থানকে কেন্দ্র করেই এ মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। মসজিদের পাশেই রয়েছে শাহ সেকান্দর রহ:-এর মাজার।


কথিত আছে, হজরত শাহ সেকান্দরের রহ: দুই ভ্রাতুষ্পুত্র ছিলেন। তারা হলেন হজরত শাহ জলিল রহ: ও হজরত শাহ খলিল রহ:। হজরত শাহ জলিল রহ:-এর একটিমাত্র মেয়ে ছিলেন। মেয়েটি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে দেয়া হয় সিলেটের ঝরনার পাড়ের সৈয়দ পরিবারের অধস্তন এবং বিশিষ্ট আলেম সৈয়দ আবদুল হেকিম রহ:-এর সাথে। এই বিয়ে সূত্রেই তিনি সেকান্দরনগরে চলে আসেন। পরবর্তীকালে তারই অধীনস্থরা বর্তমানে মসজিদসংলগ্ন সাহেব বাড়িতে বাস করছেন বংশপরম্পরায়। তাদেরই একজন বর্তমান মসজিদের ইমাম মাওলানা সৈয়দ আবু সায়েম। তিনিই এখন এ মসজিদে জুমার নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ান।


সৈয়দ সায়েম এ প্রতিনিধিকে বলেন, ১৯ বছর আগে জাতীয় জাদুঘরের প্রতœতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটির দায়িত্ব নেয়। ঢাকা বিভাগীয় জাতীয় জাদুঘর ও প্রতœতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান পাঁচ-ছয় মাস আগে মসজিদটি পরিদর্শন করে মসজিদের উন্নয়নের জন্য সব রকমের সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বর্তমানে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা কমিটি রয়েছে, যার সভাপতি সৈয়দ বশির আহম্মেদ। মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় কাজ বা কোনো সিদ্ধান্ত তাদের মতামতের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে।


স্থানীয়রা জানান, ২০০০ সালে ঢাকা জাতীয় জাদুঘরের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের লোকজন এসে মসজিদের ধোয়ামোছা ও সংস্কারকাজ করে যান। বর্তমানে মসজিদটির মেঝে দেবে যাচ্ছে। দেয়ালে ফাটল ধরেছে। দ্রুত সংস্কার না করলে কালের এ নীরব সাী হয়তো নীরবেই হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

Source : http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/247503

15


প্রায় এক শতাব্দী পর সোমবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। তবে এ বিরল দৃশ্য বাংলাদেশ থেকে দেখা না গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি, মিডওয়ে হ্যাটল দ্বীপ, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ও ব্রাজিল থেকে এই পূর্ণ বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

জানা যায়, বাংলাদেশে যখন রাত তখন এই গ্রহণ হবে। বাংলাদেশ সময় রাত নয়টা ৪৭ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয়ে রাত তিনটা ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে এটি শেষ হবে। তাই বাংলাদেশ থেকে এ দৃশ্য দেখা যাবে না।

১৯১৮ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে পূর্ণ সূর্য গ্রহণ। পশ্চিম ইউরোপ, আফ্রিকার কয়েকটি এলাকা এবং এশিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকেও আংশিক সূর্য গ্রহণের দেখা মিলবে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২২ আগস্ট বাংলাদেশের পঞ্চগড় থেকে পূর্ণ গ্রাস সূর্য গ্রহণ দেখা গিয়েছিল। 

Source :http://www.bd-pratidin.com/tech-world/2017/08/21/257949

Pages: [1] 2