Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Shahrear.ns

Pages: [1] 2 3 ... 9
1
মহাকাশ মানুষের জন্য অনেক আগে থেকেই খুব রহস্যের একটি বিষয়। মানুষ চাঁদ তারার দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতো সেই আদিকাল থেকে। এই মহাকাশকে ঘিরে মানুষের জল্পনাকল্পনা এবং সেই কল্পনাগুলো থেকে তৈরি বিভিন্ন মিথ আমাদের সবারই জানা। মানুষ চাঁদকে নিয়েও কল্পনা করতো অনেক কিছু। আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের কৌতুহলের অবসান ঘটায় এবং জানান দেয় যে চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ। মহাকাশে অনেক ধরনের স্যাটেলাইট রয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানের ছোয়ায় মানুষও মহাকাশে নিজের তৈরি স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। আমরা মূলত কৃত্রিম উপগ্রহের কিছু কাজ সম্পর্কে জানবো।
১৯৫৭ সালের চৌঠা অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের সর্বপ্রথম স্যাটেলাইট স্পুটনিক ১ স্থাপন করে। এরপর প্রায় ৪০টি দেশ থেকে সর্বমোট ৮১০০টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়। ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী এখনো প্রায় ৪৯০০টি স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপিত আছে এবং বাকিগুলোর ধ্বংসাবশেষ কক্ষপথগুলোতে রয়েছে। প্রায় ৫০০টি অপারেশনাল স্যাটেলাইট পৃথিবীর সর্বনিম্ন কক্ষপথে আছে, ৫০টি স্যাটেলাইট মধ্যম কক্ষপথে আছে এবং ৫০টি স্যাটেলাইট আছে জিয়োস্টেশনারি অরবিটে।

যেভাবে কাজ করে

এখন আসা যাক স্যাটেলাইটের কাজ প্রসঙ্গে। স্যাটেলাইট এর কাজ নির্ভর করে মুলত সেটি কোন উদ্দেশ্যে বানানো এবং উঠক্ষেপণ করা তার উপরে। যেমনঃ স্যাটেলাইট ব্যবহৃত হতে পারে তারকাপুঞ্জির ম্যাপিং করার জন্য অথবা তারকার গতিপথ নির্ণয়ের জন্য। আবার একটি গ্রহের উপরিতলের মানচিত্র কেমন হবে তা বুঝার জন্য স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়। যে গ্রহে স্যাটেলাইট প্রেরণ করা হয় সেই গ্রহের বিভিন্ন বস্তুর বা স্থানের ছবি তুলতে এটি ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ

আর্থ রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট: এই স্যাটেলাইট মূলত অসামরিক স্যাটেলাইট যেটি তৈরির উদ্দেশ্য হচ্ছে কক্ষপথ থেকে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করা। এটি পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এর পরিবেশকে দেখে, পৃথিবীর ম্যাপিং করে। প্রথম আর্থ রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট হচ্ছে স্পুটনিক ১। স্পুটনিক ১ যে রেডিও সিগন্যাল পাঠাতো তা দিয়ে বিজ্ঞানীরা আয়নমন্ডল অধ্যয়ন করতো।

কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট: কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট হচ্ছে সেই ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে রেডিও টেলিযোগাযযোগ মাধ্যমের সিগন্যাল স্থাপন করে। এটির একটি উৎস থাকে যেটি হচ্ছে ট্রান্সমিটার এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এর বিভিন্ন গ্রাহক থাকে এবং স্যাটেলাইটটি উৎস ও গ্রাহকের মধ্যে যোগাযোগের চ্যানেল তৈরি করে দেয়। এই স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ডিশ মিডিয়া, টেলিফোন, রেডিও, ইন্টারনেট এবং সামরিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

নেভিগেশন স্যাটেলাইট: এই স্যাটেলাইট দ্বারা ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয় করা যায়। কোনো বস্তু ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে তা খুজে বের করতেও এই স্যাটেলাইট সাহায্য করে। তাছাড়া বৈশ্বিক সময় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়, কোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ে এটি ব্যবহৃত হয়। মূলত জিপিএস এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় নেভিগেশন স্যাটেলাইট দিয়ে।

ওয়েদার স্যাটেলাইট: এটি ব্যবহৃত হয় মূলত পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণের জন্যে। এটি ধুলি ঝড়, বায়ু দুষণ, মেরু অঞ্চলের বরফের গলন, সমুদ্রে পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত,বায়ুর আদ্রতা, বৃষ্টিতে বিভিন্ন রাসায়নিকের পরিমাণ, পৃথিবীতে বিভিন্ন রাসায়নিকের পরিমাণ, বায়ুতে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ, বজ্রপাত, মেঘের অবস্থান, দেশের কোন স্থানে কখন তাপমাত্রা কেমন হতে পারে, দিনের তাপমাত্রা কেমন হতে পারে, রাতের তাপমাত্রা কেমন হতে পারে ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে। ওয়েদার স্যাটেলাইট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য দেয় সেটি হচ্ছে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত। এটি একটি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এর ফলে যে মেঘ তৈরি হয় তার সাথে অন্যান্য আগ্নেয়গিরির উপরের মেঘের তুলনা করে তথ্য সংগ্রহ করে।

ইনভার্নমেন্ট স্যাটেলাইট: ওয়েদার স্যাটেলাইট আর ইনভার্নমেন্ট স্যাটেলাইট এর কাজ এক নয়। ইনভার্নমেন্ট স্যাটেলাইট পৃথিবীর অভ্যন্তরে যে গাছপালা আছে তার যে পরিবর্তন সেটি পর্যবেক্ষণ করে, সমুদ্রের অবস্থা, সমুদ্রের পানির রঙ পরিবর্তন, আইস ফিল্ড ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে।

স্যাটেলাইট মূলত রকেট দ্বারা মহাকাশে প্রেরণ করা হয় এবং একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথের গতির সাথে তাল মিলিয়ে একে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। এই হলো মোটা দাগে স্যাটেলাইট সমূহের কাজ।

সুতরাং বলা যায় যে, স্যাটেলাইট আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নানা কাজে বহুল ব্যবহৃত এবং আমাদের নানা কাজের সাথে যুক্ত।

2
গাড়ি হল শখের জিনিস। ধনী-গরীব সকলের মনে একটি গাড়ি কেনার স্বপ্ন থাকে, যেটি তারা তাঁদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করবেন। সেই স্বপ্ন অনেকের পূরণ হয়। আবার কারও পূরণ হয়ও না। আজকের প্রতিবেদনে আপনারা জানবেন পৃথিবীর সেরা পাঁচটি গাড়ির গল্প।

ফেরারী মিলেনিয়ো: ফেরারীর এই গাড়িটি দেখতে যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনি গাড়িটির দামও অনেক বেশি। এটি ফেরারী ব্র্যান্ডের সবচেয়ে দামি ও স্মার্ট গাড়িগুলোর মধ্যে একটি। এই মডেলের মাত্র পাঁচটি গাড়ি পৃথিবীতে আছে। যে সময় গাড়িটি তৈরী করা হয়েছে তখন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গাড়িটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম গাড়ি হিসেবে ধরা হয়। রেসিংয়ে গাড়িটি কয়েকবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।



 

বেঞ্জ F015: এটি মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি। গাড়িটির মূল্য ৩০ কোটি টাকা। এই গাড়িটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যার সব জায়গায় বাটনের পরিবর্তে LCD স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটিকে পার্কিং করার কোন প্রয়োজন হয় না। গাড়িটিকে কমান্ড করলেই তা অটোমেটিক পার্ক হয়ে যাবে। কোন পথচারী রাস্তা পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলে গাড়িটি অটোমেটিক থেমে রাস্তা পার হওয়ার জন্য পথচারীকে সময় দিবে। বর্তমানে এই মডেলের ১০টি গাড়ি পৃথিবীতে রয়েছে।



 

মার্সিডিজ বেঞ্জ সিলভার: মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের এই গাড়িটিতে যে ধরনের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা গাড়িটিকে অন্য সব সুপার কারগুলো থেকে আলাদা করেছে। গাড়িটির ডিজাইন অত্যন্ত সুন্দর হওয়ায় হলিউডের সিনেমাগুলোতে গাড়িটি ব্যবহৃত হয়। গতির ঝড় তোলা গাড়িগুলোর মধ্যে বেঞ্জ সিলভার অন্যতম। গাড়িটি কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেকে ভাড়া নিয়েও নিজের শখ মেটায়।



 

ল্যাম্বোরগিনি ফেরেসিয়ো: এই গাড়িটি মার্ক হোসলে নামের একজন ব্যক্তি ডিজাইন করেছেন। এ গাড়িটি তাঁর ডিজাইনের জন্য পুরো পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়েছে। গাড়িটির গতি বুলেট ট্রেনের চেয়েও অনেক বেশি। তাছাড়াও ডিজাইনের দিক থেকে গাড়িটিতে কোন কমতি রাখা হয়নি। গাড়িটি চালানোর স্বপ্ন অনেক মানুষেরই থাকে। কিন্তু গাড়িটির দাম অনেক বেশি হওয়ায় শুধুমাত্র উচ্চবিত্তরাই চালানোর সুযোগ পায়।



 

শেভ্রোলেট এফএনআর: এই কোম্পানির অনেক উন্নতমানের গাড়ি আছে, যেগুলো রেসিংয়ে অনেক ভালো করবে। কিন্তু কোম্পানি গাড়িটিকে রেসিংয়ের জন্য দেয়নি। বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে চলা গাড়িটির মূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

https://www.natunbarta.com/category/technology/page/4/

3
স্মার্টফোনের জগতে অতি সুপরিচিত এক নাম অ্যান্ড্রয়েড। স্মার্টফোন মানেই যেনো অ্যান্ড্রয়েড! মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছেে এটি। বর্তমানে বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ ফোনেই অ্যান্ড্রয়েড সেবা। আর অন্য সবাই মিলে বাকি ২৫ শতাংশ! একাই চার তৃতীয়াংশ বাজার দখল করে আছে; ভাবা যায়! অথচ বহুল ব্যবহৃত এই অপারেটিং সিস্টেমটি মোবাইল ফোনে ব্যবহারের কথাই ছিলো না। ব্যবহার করার কথা ছিলো ক্যামেরায়! নতুন বার্তার পাঠকদের জন্য থাকছে অ্যান্ড্রয়েড আবিষ্কারের ইতিবৃত্ত।

অ্যান্ড্রয়েড মূলত একটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম। যেটি মোডিফাইড লিনাক্স কার্নেলের উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে। অনেকের ধারণা অ্যান্ডয়েড গুগলের আবিষ্কার। কথাটি আসলে পুরো সত্য নয়। ২০০৩ সালে অ্যান্ডি রুবিন নামক মার্কিন কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও ইঞ্জিনিয়ারের হাত ধরে অ্যান্ডয়েডের গোড়াপত্তন হয়। তবে অ্যান্ডি স্মার্টফোনে ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করেননি। তার আবিষ্কারটি ছিলো মূলত ক্যামেরায় ব্যবহারের জন্য। ডেটা কপি সহজ করা-ই ছিলো মূল উদ্দেশ্য। ২০০৫ সালে টেক জায়ান্ট গুগল এটিকে কিনে নেয়। এরপর টানা তিন বছর এর ডেভেলপিংয়ের কাজ করে গুগল। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ২০০৮ সালে গুগল এটিকে বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাজারে আনার আগেই গুগল একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়। অ্যান্ডয়েডকে সকলের জন্য মুক্ত প্লাটফর্ম ঘোষণা করে গুগল। যে কেউ চাইলে এটিকে ব্যবহার করতে পারবে। লঞ্চ করার বছরই অ্যান্ডয়েড ব্যবহার করে এইচটিসি প্রথম স্মার্টফোন বাজারে আনে। তারপর থেকে আর অ্যান্ড্রয়েডকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম হওয়ায় দিন দিন অ্যান্ড্রয়েডের ব্যবহার দিন দিন বাড়তে থাকে। অন্যদিকে অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের জন্য লাইসেন্সের ঝামেলা থাকায় তুলনামূলক অ্যান্ডয়েডের চাহিদাই বাড়তে থাকে।

শুরু থেকেই অ্যান্ডয়েডের নজর কাড়তে শুরু করে। ২০০৮ সালে রিলিজের পর এর নাম দেয়া হয় অ্যান্ডয়েড ১.০। পরবর্তী সংস্করণের নাম ১.১ দেয়া হলেও পরবর্তী নাম গুলো বদলে যায়। মিষ্টিজাতীয় বিভিন্ন খাবারের নামে বাজারে আসতে শুরু করে অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সব সংস্করণ। কিটক্যাট, জেলিবিন,ললিলপ নামগুলো যেনো আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলে অ্যান্ড্রয়েডকে। তবে এই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর গুগল নিয়ে আসে অ্যান্ডয়েডের ১৭তম সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ১০। যেটি ব্যবহার করে বাড়তি স্বাচ্ছন্দ পাবেন ব্যবহারকারীরা। বেশকিছু নতুন ফিচার যুক্ত হয়েছে অ্যান্ডয়েড ১০ এ।

অ্যান্ড্রয়েড ১০- ডার্ক থিম ব্যবহার করা যাবে। এই থিমের ফলে ফোনের ইউজার ইন্টারফেসে কালো আবহ পাওয়া যাবে। যেটি চোখে আরাম দেয়ার পাশাপাশি ব্যাটারির স্থায়ীত্ব বাড়াবে। এছাড়া সাউন্ড অ্যামপ্লিফায়ার যুক্ত করা হয়েছে। পডকাস্ট শোনা, ভিডিও দেখার পাশাপাশি ফোনে কথা বলার সময়ও সুবিধা পাওয়া যাবে। ভয়েজ কলের সময় বাড়তি শব্দ কমিয়ে পরিষ্কার শব্দ শোনাবে। এছাড়া নতুন ৬৫টি ইমোজি যুক্ত হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ১০-এ। যার মধ্যে ৫৩টি লিঙ্গভেদে ব্যবহৃত হবে! তবে অ্যান্ড্রয়েড ১০- এর সেবা এখন কেবল গুগল পিক্সেল স্মার্টফোনের জন্য।

4
অর্থ উপার্জনের কতো শত মাধ্যম আছে তা হয়তো গুনে শেষ করা যাবেনা। সময়ের পরিক্রমায় নতুন নতুন সব পেশা যোগ হয়েছে মানুষের জীবনে। তথ্য প্র্রযুক্তির বিকাশের ফলে উপার্জনের মাধ্যমগুলোতে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। বর্তমানে শুধু অনলাইনে-ই আয় করার হাজার হাজার মাধ্যম রয়েছে। যার মধ্যে ইউটিউব সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। কয়েকটি বিশেষ উপায় অবলম্বন করলে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং মাধ্যমকে আয়ের উৎস বানাতে পারেন আপনিও। চলুন জেনে আসি ইউটিউব থেকে আয় করার নিয়মাবলী সম্পর্কে।

ইউটিউবের যাত্রা শুরু হয়েছিলো ভিডিও শেয়ার করার জন্য। শুরুর দিকে এর কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম ছিলো না। তবে শুরুতে কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য না থাকলেও বর্তমানে তা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেকেই ইউটিউব থেকে টাকা আয় করাকে হিমালয় জয় করা ভেবে থাকেন। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে তেমন নয়। বিশেষ কয়েকটি শর্ত অবলম্বন করলে ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছে। ২০১৮ সালে ইউটিউবে খেলনার ভিডিও দেখিয়ে, সাত বছরের শিশু রায়ান ইউটিউব থেকে কোটি টাকা আয় করে সর্বোচ্চ আয় করার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাহলে আপনি কেনো পারবেন না ?

 
ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে প্রথমে আপনাকে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে। যার জন্য প্রথমেই দরকার হবে একটি  জিমেইল অ্যাকাউন্টের। নিজের সঠিক তথ্য, মানে নাম, বয়স ও ফোন নম্বর দিয়ে জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলা ইউটিউব চ্যানেল খোলার পূর্বশর্ত। এরপর ইউটিউবে ঢুকে Sign In এ ক্লিক করে জিমেইল দিয়ে ইউটিউবে লগ ইন করতে হবে। Create Channel অপশনে ক্লিক করলে চ্যানেল তৈরির জন্য সব তথ্য চাওয়া হবে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য দেয়ার পাশাপাশি একটি ভালো প্রোফাইল ফটো ও একটি কভার ফটো যুক্ত করতে পারেন। এরপর নিজের তৈরি একটি ভিডিও আপলোড করুন। ব্যস হয়ে গেলো প্রায় অর্ধেক কাজ!

ইউটিউবে আয়ের মূল উৎসই ভিডিও। আপনার আপলোড করা ভিডিও এক অর্থে আপনার পণ্য! যার বদৌলতে আপনি অর্থ উপার্জন করবেন সেটি অবশ্যই ভালো মানের হতে হবে। আপনার চ্যানেলটিতে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ভিডিও আপলোড করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আপনি যে বিষয়ে দক্ষ; সে বিষয়ের ভিডিও ধারণ করে আপলোড করতে পারেন। ধরুন, আপনি ঘুরতে পছন্দ করেন। ট্রেকিং করা আপনার শখ। তবে বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো নিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন ভিডিও। তাহলে ভ্রমণ সংক্রান্ত ভিডিও দেখার জন্য দর্শকরা আপনার চ্যানেলটিতে আসবে। আবার ধরুন, আপনি ভালো নাচ জানেন, তাহলে নাচের ভিডিও কিংবা টিউটোরিয়াল শেয়ার করতে পারেন ইউটিউবে। মজার মজার ভিডিও ধারণ করেও আপলোড করতে পারেন। আসলে যে কোন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ভিডিও নির্মাণ করলে আপনার চ্যানেলটির জন্যই ভালো।



২০১৮ সালের আগ পর্যন্ত ইউটিউবে অর্থ উপার্জনের জন্য সহজ ছিলো। ভালো মানের ভিডিও আর জনপ্রিয় চ্যানেল হলেই ইউটিউবের অ্যাডসেন্স পার্টনারশিপ পাওয়া যেতো। পার্টনার হয়ে গেলেই প্রতি মাসে ২০০ ডলার পাওয়া যেতো। কিন্তু নতুন নীতিমালা প্রনয়নের কারণে ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করতে হলে অবশ্যই চ্যানেলটিকে মনিটাইজেশন করতে হবে। ভিডিওতে অ্যাড বসানো এবং এর মাধ্যমে আয় করাকে মনিটাইজেশন বলে। ইউটিউবের আয় মূলত পরোক্ষ। ভিডিওতে বিজ্ঞাপন বাবদ যে টাকা ইউটিউব আয় করে তা থেকে একটি অংশ ভিডিও নির্মাতাকে দেয়া হয়।

এছাড়া, যেহেতু অ্যাড থেকেই সকল লভ্যাংশ আসে তাই অর্থ উপার্জনের জন্য অ্যাডসেন্স চালু করতে হবে। অ্যাডসেন্স চালুর জন্য চ্যানেলটিকে কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। চ্যানেলটির শেষ ১ বছরের মধ্যে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার ও ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম হতে হবে। যে জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করবেন সেটির ব্যাবহারীর বয়স ১৮ হতে হবে। এছাড়া চ্যানেলের চ্যানেল আইকন থাকতে হবে। সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ বেশি থাকলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে স্পন্সর জোগাড় করেও ইউটিউবে আয় করা সম্ভব।


 
সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ বাড়লে আয়ের পথ সুগম হতে থাকে। তাই এগুলো বাড়াতে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারেন। ব্যবহারকারী যেনো আপনার ভিডিওটি খুঁজে পায় সেজন্য যথাযথ ও আকর্ষণীয় শিরোনাম ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া থাম্বনেইলেও জুড়ে দিতে পারেন যথাযথ ছবি। ফেসবুক-টুইটারসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার চ্যানেলের ভিডিওটি শেয়ার করতে পারেন। আর হ্যাঁ, ইউটিউবের কপিরাইট ও কমিউনিটি আইন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। কপিরাইট কিংবা কমিউনিটি আইন বহিভূর্ত কোনো কিছু করলে আপনার আয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি ইউটিউব আপনার চ্যানেলটিও বন্ধ করে দিতে পারে!

5
আজকে থেকে কয়েক হাজার বছর আগে যখন মানুষ কৃষি কাজ শিখতে শুরু করেছে তখন থেকেই মানুষের মনে ভাবনার উদয় হয়েছে যে আমার যদি অনেক বেশি ছেলে-মেয়ে থাকে তাহলে অনেক বেশি উৎপাদন করতে পারবো, নিজেদের খাবার নিয়ে আর কোন চিন্তা করতে হবে না, ঘুরতে হবে না জঙ্গলে জঙ্গলে। তখন মানুষ বেশি করে সন্তান জন্ম দিতে লাগলো।

তারপর অনেক ধীরে ধীরে এই ধারণার পরিবর্তন আসতে শুরু করল, মানুষ বুঝতে পারলো এক মৌসুমে ফসল ফলানোর জন্য সারা বছর এতগুলা ছেলে-মেয়ের খাবার দাবার, পোশাক সহ আরো সকল সুবিধা অসুবিধা দায়ভার নেয়াটা অনেকটা খাজনার চেয়ে বাজনা বেশির মতই।


 
অতপর মানুষ বিকল্প উপায়ের সন্ধানে ভাবতে লাগল তারপর প্রথমদিকে একই ধরনে কাজ যাদের আছে এরকম লোক খুঁজে তাদের সাথে এক সাথে কাজ করা শুরু করল। যেমন কারো ৫ জন ছেলে আছে আর ঐ একই রকম আছে এরকম অন্য কারো ৫ জন ছেলে আছে সবাই এক সাথে একই বাড়ির কাজ কয়েকদিন করে করতে লাগল। না এভাবেও মানুষের পুষল না। অতপর নতুন চিন্তার উদয় হল, মানুষ ভাড়া করে কাজ করানো, মানে আজকে যাকে দিন শ্রমিক বলে আর এর আপডেটেট নাম হল চাকুরীজীবি।

এরকম হাজার হাজার উদাহরণ আছে সেই প্রাচীন কাল থেকেই। আর এই সব ধারণার উপর ভিত্তি করেই আজকের দিনের “ক্লাউড কম্পিউটিং” এর জন্ম। কী বিষয়টা পরিষ্কার হল না? তাহলে আসুন প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক যুগে ফিরে আসি। এ যুগের উদাহারণের মধ্যে “উবার” বা “পাঠাও” উৎকৃষ্ট উদাহরণ। নিজের গাড়ী নেই তো কি হয়েছে! তাই কি গাড়ীর স্বাদ নিব না? ধরুন, আপনার দু’চারটা গাড়ীর প্রতিদিন দরকার হয় না তাই এত টাকা খরচ করে লাভ কি, যখন খুশি যতগুলো খুশি ডেকে নেন উবার বা পাঠাও এর গাড়ী।


 
হ্যাঁ! ক্লাউড কম্পিউটিং ও এই ধারণার প্রোটোটাইপ। ধরুন,গেম ডেভেলপমেন্ট করার জন্য আপনার অনেক ভা্লো কনফিগারেশনের পিসি দরকার, অনেক বড় বড় প্রিমিয়াম সফটওয়্যার দরকার যেগুলা আপনার পরবর্তীতে আর কাজে লাগবে না, তাহলে এত টাকা ব্যয় করে পিসি আর সফটওয়্যার না কিনে আপনি চাইলেই এখন অনলাইন থেকে যত খুশি, যত ভাল রিসোর্স(হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার) দরকার ভাড়া নিতে পারেন, আর এটাই হল ক্লাউড কম্পিউটিং। তবে হ্যাঁ! সবাইকে যে রিসোর্স ভাড়া করেই নিতে হবে বিষয়টা এমনও নয় আপনি চাইলে আপনার নিজস্ব ক্লাউডও সেট-আপ করে নিতে পারেন এবং চাইলে নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অন্যদের কাছে আপনিও ভাড়া দিতে পারেন। যেমনটা করছে গুগল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মত কোম্পানি।

বিষয়টা এখনো পরিষ্কার না হলে আরো একটা উদাহারণ দিচ্ছি। “হুয়াওয়ে টেকনোলোজি” পৃথিবীর অনেক দেশে তাদের টেলিকম সার্ভিস (ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক) দিয়ে থাকে যেমন বাংলাদেশেও রবি, বাংলালিংক, গ্রামীণফোন এদের সার্ভিস দিয়ে থাকে। ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক এর কাজে(৩জি ও ৪জি) প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের নেটওয়ার্ক এনালাইসিস করতে হয় যাদের সবার কাছেই আলাদা আলাদা লাইসেন্সড সফটওয়ার থাকতে হয় এবং এতে কাজও হয় অনেক ধীর গতিতে। তাই সময় ও খরচ বাচানোর জন্য হুয়াওয়ে এখন ক্লাউড বেইসড এমন সব ওয়েব এপ্লিকেশন বানিয়েছে যেগুলো দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হুয়াওয়ের কর্মকর্তারা একই সময়ে একই এপ্লিকেশন ব্যাবহার করে খুব অল্প সময়ে অনেক বেশি নেটওয়ার্ক এনালাইসিস এর কাজ করতে পারে। যার জন্য তাদের প্রতিবছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সেইভ হচ্ছে- এটাও ক্লাউড কম্পিউটিং এর একটা বড় উদাহরণ। তাই সহজ কথায় ক্লাউড কম্পিউটিং বলতে বুঝায়- ইন্টারনেট ভিত্তিক কোন হ্যার্ডওয়ার বা সফটওয়ার সেবা ব্যবহার করা।


 
এর আরো সহজ একটা উদাহরণ হচ্ছে- ‘গুগলের জিমেইল’। সারা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ গুগলের ইন্টারনেট ভিত্তিক এই সফটওয়ার বা এপ্লিকেশন সেবা ভোগ করছে ইন্টারনেট ব্যবহারযোগ্য যে কোন ডিভাইস থেকে।

6
জীবন জুড়ে আমাদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। অপছন্দের পরিস্থিতি ও লোকেদের মাঝে বাস করতে হয়। আমরা সেই সমস্ত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি। আসুন জেনে আসি প্রতিকূলতা অতিক্রম করে কিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারি।

১. শরীরের যত্ন নিন

শারীরিক সুস্থতার সাথে মানসিক সুস্থতার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এর জন্যে আপনি পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, এবং শরীরের যত্ন নিন। এর ফলে আপনার শরীর রোজকার ধকলের সাথে যুঝে উঠতে পারবে। ভিটামিন বি-১২ ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আপনার মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলিকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত বিশ্রামও খুবই প্রয়োজনীয়; কারণ ঘুমের সময় আমাদের শরীর সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সারিয়ে তোলে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আপনি ক্লান্ত ও খিটখিটে হয়ে পড়বেন।

২.শারীরিক ব্যায়াম করুন

কায়িক পরিশ্রম সুস্থ মনের জন্যে জরুরি। ব্যায়ামের ফলে শরীরে স্ফূর্তি আসে, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়। মনকে চাঙ্গা রাখতে নিজের পছন্দের কোনও কাজ করুন। নিয়মিত ব্যায়াম আপনার খিদে বাড়াতে সাহায্য করবে; ফলে আপনার ভাল ঘুম হবে, এবং সব মিলিয়ে আপনি মানসিক ভাবে সুস্থ থাকবেন।

৩. নিজের যত্ন নিন

মানসিকভাবে সুস্থতা থাকতে নিজের যত্ন নেওয়া দরকার। মনের মধ্যে আবেগ চেপে রাখবেন না। অবদমিত আবেগ প্রকাশের ফলে মানসিক চাপ ও জটিলতা কমে যায়। নিজের জন্যে কিছুটা সময় আলাদা রাখুন; নিজের মনের কথা শুনুন, বই পড়ুন, ব্যক্তিগত শখ-আহ্লাদ মেটান, বা এমনি হাত-পা ছড়িয়ে সব কাজ ভুলে একটু আরাম করুন।

৪. পছন্দের লোকজনের সাথে সময় কাটান

পছন্দের লোকের সাথে সময় কাটালে নিজের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জন্মায়। বন্ধুবান্ধব, পরিবার, সহকর্মী এবং প্রতিবেশীদের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখুন। এর ফলে আপনি সবার সাথে নিজেকে যুক্ত অনুভব করবেন। সহকর্মীদের সাথে একদিন খেতে যান, বা অনেকদিন বাদে কোনও পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা করুন। একটি মিষ্টি হাসি ও স্নেহের আলিঙ্গনের বিকল্প কোনও প্রযুক্তি হতে পারে না।

৫. কোনও শখ গড়ে তুলুন বা নতুন কিছু করুন

পছন্দ অনুযায়ী কাজ করলে পরে মনও ভাল থাকে। এর ফলে মাথায় দুশ্চিন্তা আসে না এবং অবদমিত আবেগগুলিও প্রকাশ পায়। তাছাড়া শখের কাজকর্ম করলে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়। নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি হয়, ফলে বাইরের জগতে আপনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে মেলে ধরতে শেখেন। নতুন জিনিস শিখলে মনের একঘেয়ে চিন্তা কেটে যায়, মনঃসংযোগ বাড়ে, এবং নতুন কিছু শেখার আনন্দে মন ভাল থাকে।

৬. দুশ্চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন

আমাদের সবারই বিভিন্ন লোকজন বা পরিস্থিতির কারণে দুশ্চিন্তা হয়। এই কারণগুলিকে প্রথমে চিহ্নিত করুন, তারপর সেগুলির উপর পুনরায় বিচার করুন। আপনি সেগুলি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে পারেন, যদি তা সম্ভব হয়। অনেক সময় সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আপনি সেই ব্যক্তিদের বা পরিস্থিগুলিকে সামলাতে পারেন না। এই জন্যেই স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট শেখা জরুরি।

৭. নিজের উপরে ভরসা হারাবেন না

আমরা সকলেই আলাদা, এবং আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই নিজস্ব ক্ষমতা এবং দুর্বলতা ররেছে। নিজের দুর্বলতাকে মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার উপরে ভরসা রাখলে জীবনে এগিয়ে চলার সাহস পাওয়া যায়। সবারই কোনও না কোনও দুর্বলতা থাকে, আপনারও আছে; কেউই নিখুঁত নয়। আপনি নিজের দুর্বলতাকে দূর করার প্রয়াস করতে পারেন, অথবা সেগুলোকে নীরবে মেনে নিতে পারেন। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত আপনিও নিখুঁত নন, এটা মেনে নেওয়াটাই কিন্তু সুস্থ মানসিকতার পরিচয়। নিজের ক্ষমতা বুঝে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য তৈরি করুন। সর্বপরি না বলতে শিখুন। এটা কোনও অন্যায় নয়।

৮. নিজেকে মেলে ধরুন

অনেক সময়ই আমরা নিজের আবেগ মেলে ধরতে লজ্জা পাই। নিজের মনোভাব মেলে ধরতে পারা, মনকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই নিজের ইচ্ছা বা ভাবনা চেপে রাখেন, যা খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে সেই মানসিকতা আরও বেড়ে যায়। ফলে দুশ্চিন্তাও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ফলে অন্য কোনও দিকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবেগ চেপে রাখার ফলে গুরুতর রকম ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার দেখা দিতে পারে। সামান্য রাগ বা দুঃখও চেপে রাখা উচিত নয়। শুধু জানতে হবে যে সবদিক বজায় রেখে আবেগের বহিঃপ্রকাশের উপায় কী।

৯.সাহায্য চান

এই দুনিয়াতে আক্ষরিক অর্থে সুখী ও নিশ্চিন্ত জীবন কেউ কাটান না। কাজেই মন খারাপ হলে, বিপদে পড়লে, হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়লে, বিচলিত হলে, রেগে গেলে, অথবা পরিস্থিতির সাথে খাপ না খাওয়াতে পারলে, বিশ্বাসযোগ্য কোনও ব্যক্তি যেমন – আপনার জীবনসঙ্গী, বন্ধু, অভিভাবক, ভাই-বোন বা আত্মীয়ের সাথে কথা বলুন। তাতেও না হলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। দেরি করবেন না। এতে লজ্জার কিছুই নেই; বরং একে আশার আলো হিসেবে দেখুন। জীবনের বাঁধা বিপত্তিতে একলা চলতে হবে না। প্রাণোচ্ছল জীবনের এটাই একমাত্র রাস্তা।

7
‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নাল সম্প্রতি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি ভ্যাক্সিন সম্পূর্ণ নিরাপদ, এক ডোজেই ৯০% মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। প্রায় ১,০৭৭ মানুষের ওপর পরীক্ষার পর দেখা গেছে ৯০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারার অবস্থায় আছে অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন ।

অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এপ্রিল থেকেই। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছিল অক্সফোর্ড। প্রথম পর্যায়ের রিপোর্ট প্রকাশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল ও সন্তোষজনক। ২০১৩ সালে যখন আফ্রিকা থেকে ইবোলা ভাইরাসের যাত্রা! মহামারী আকার ধারণ করে। সেসময় আলোর দিশারী হিসেবে, ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন অক্সফোর্ড বিজ্ঞানী অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট।

9
১. জিভ দেখে অনেক কিছু বুঝা যায়। জিভের নমুনা একেবারে অনন্য। তাই কাউকে জিভ দেখানোর সময় এটি মনে রাখবেন।

২. একটি চুল ঝুলন্ত আপেলের ওজন ধরে রাখতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা আপেলের মাত্রা নির্দিষ্ট করেন নি।

৩. কোনও ব্যক্তির মুখে বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা পৃথিবীর মোট লোক সংখ্যার সমান বা তারও বেশি।

৪. ব্যক্তির নখগুলো নরম ও ভঙ্গুর এবং চাঁদহীন হলে তা অতিরিক্ত থাইরয়েডের নির্দেশ করতে পারে।

৫. মস্তিস্কের স্পন্দনের গতি ঘন্টায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।

৬.আমাদের ধারণা চার ধরণের রক্ত রয়েছে আমাদের দেহে। আসলে রক্তের ধরন ২৯ টি। তাদের মধ্যে বিরলতম হচ্ছে বোম্বাই সাব টাইপ।

৭. মাত্র একদিনে আমাদের রক্ত ​​১৯৩১২ কিলোমিটার দূরত্ব দৌড়ায়।

৮. মানবদেহের সকল স্নায়ুর মোট দৈর্ঘ্য ৪৫ কিলোমিটার।

৯. একজন মানুষ প্রতিদিন প্রায় ২০০০০ বার শ্বাস নেয়।

১০. বিশ্বের প্রায় সকল লোকের চোখের পাতায় ডেমোডেক্স নামের একটি বিশেষ ধরনের উপাদান থাকে।

১১. মানুষের চোখ ১ কোটি পর্যন্ত নানা রংয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক এর সবগুলো মনে রাখতে পারে না।

১২. আমাদের কান প্রায় অবিশ্বাস্য গতিতে জীবনব্যাপী বাড়তে থাকে। কান প্রতি বছর এক মিলিমিটারের এক চতুর্থাংশ পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

১৩. আমাদের হৃদপিণ্ড বছরে ৩৫ মিলিয়ন বার বিট দেয়।

১৪. মানবদেহ প্রতিদিন প্রায় এক মিলিয়ন ত্বকের কোষ হারিয়ে ফেলে, যার পরিমাণ বছরে ২ কিলোগ্রাম হয়।

১৫. আপনার ত্বকের প্রতি ১ বর্গ সেন্টিমিটারে প্রায় শতাধিক ব্যথা সংবেদক রয়েছে।

১৬. ছেলেদের জিহ্বার পৃষ্ঠে মেয়েদের চেয়ে স্বাদের কুঁড়ি(টেষ্ট বাট) কম থাকে।

১৭. একজন ব্যক্তি তার জীবনে গড়পড়তায় প্রায় ৩৫ টন খাদ্যগ্রহণ করে।

১৮. একজন মানুষ তার জীবনের প্রায় পাঁচ বছর দারুণ সক্রিয় থাকে।

১৯. আমাদের মস্তিস্কে প্রতি সেকেন্ডে ১০০০০০ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।

২০. আপনার হাঁচির গতি ঘন্টায় ১৬০ কিমি।

২১. হাসিতে মুখের ১৭টি পেশিকে ট্রিগার করে। অন্যদিকে কান্নায় ৪৩ টি পেশি সক্রিয় হয়ে উঠে। তাই আরও হাসুন।

10
বেঁচে থাকুক পৃথিবী, বেঁচে থাকুক মানবতা, বেঁচে থাকুক ভালবাসা! মানুষ কুৎসিত, বিভৎস, পশুর চেয়ে অধম, মনুষ্যত্বহীন আরো কত কিছু বলি! এই ইট, কাঠের শহর জানে কত বিভৎস মানুষের মন; এই আবেগের শহরে বিবেকহীন মানুষের অভাব নেই! মানুষ আর মানুষ নেই। আছে মনুষ্যত্ব ও বিবেকহীন আবেগে টইটুম্বুর মানুষের খোলস। মৃত্যুর আর্তনাদও এই আবেগের কাছে বড়ই তুচ্ছ। তবে যে যাই বলুক, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’- এর উপরে আর কোন সত্যি নেই! তিনটে ঘটনা বলি, মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
https://www.natunbarta.com/%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%98%e0%a6%9f%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%93/

11
আপনাদের মনে কখনো প্রশ্ন জাগেনি যে, ফেসবুক তো আমাদেরকে তাদের কোনো সার্ভিস ইউজ করার জন্য কোনো রকম চার্জ করে না, তাহলে ফেসবুক এত বিলিয়ন ডলার কোম্পানি কিভবে হয়ে গেল? ইউটিউব, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম এরা কি বিক্রি করে? গুগল কেন আপনার পুরো ফোনের এক্সেস নেয়?
https://www.natunbarta.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8b%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%ae/

12
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পৃথিবীজুড়ে লাখো ঝুঁকিপূর্ণ বা সন্দেহভাজন মানুষকে ঘরে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগও গত সপ্তাহের শেষ থেকে জোরেশোরে কেন্দ্রীয়ভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দিচ্ছে। এ সময় বিদেশফেরত সবাইকে ঘরে বা স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হচ্ছে।

বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এসব জানানো হয়েছে।


এতে বলা হয়েছে:


কোয়ারেন্টিনে বাড়ির অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা থাকতে হবে। তা সম্ভব না হলে অন্যদের থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ঘুমানোর জন্য পৃথক বিছানা ব্যবহার করতে হবে। আলো–বাতাস ঢোকে, এমন ঘরে থাকতে হবে।

সম্ভব হলে পৃথক গোসলখানা এবং শৌচাগার ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব না হলে ওই স্থানগুলোতে জানালা খুলে রেখে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যদের সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়, এমন স্থানের সংখ্যা কমাতে হবে।

বুকের দুধ খাওয়ান এমন মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন। শিশুর কাছে যাওয়ার সময় মাস্ক পরতে হবে এবং ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

কোয়ারেন্টিনে থাকা শিশুকে তার জন্য প্রযোজ্যভাবে বোঝাতে হবে। তাদের পর্যাপ্ত খেলার সামগ্রী দিতে হবে। খেলার আগে ও পরে খেলনাগুলো জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

কোয়ারেন্টিনে কোনো পশুপাখি রাখা যাবে না।

বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে একই ঘরে অবস্থান করলে, বিশেষ করে এক মিটারের মধ্যে আসার সময় মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক পরে থাকার সময় এটি হাত দিয়ে ধরা যাবে না। মাস্ক ব্যবহারের সময় সর্দি, থুতু, কাশি, বমি ইত্যাদির সংস্পর্শে এলে সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক খুলে নতুন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহৃত মাস্ক ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে ফেলে সাবান–পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এসব জানানো হয়েছে।

একজনের ব্যক্তিগত সামগ্রী আরেকজন ব্যবহার করবেন না। কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির থালা, গ্লাস, কাপসহ বাসনপত্র, তোয়ালে, বিছানার চাদর অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না। এসব জিনিসপত্র ব্যবহারের পর সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির ব্যবহৃত বা তার পরিচর্যায় ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস, টিস্যু ইত্যাদি অথবা অন্য আবর্জনা ওই ঘরে রাখা ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে ফেলতে হবে। এসব আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে না ফেলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

দৈনন্দিন রুটিন, যেমন খাওয়া, হালকা ব্যায়াম ইত্যাদি মেনে চলতে হবে। সম্ভব হলে বাসা থেকে অফিসের কাজ করতে হবে।

বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা অথবা ওপরের নিয়মগুলোর পরিপন্থী নয় এমন যেকোনো বিনোদনমূলক কাজে যুক্ত হওয়া যাবে।

পরিবারের কোনো সুস্থ সদস্য অর্থাৎ যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার, অ্যাজমা ইত্যাদি নেই, এমন একজন ব্যক্তি পরিচর্যাকারী হিসেবে নিয়োজিত হতে পারেন। তিনি ওই ঘরে বা পাশের ঘরে থাকবেন। অবস্থান বদল করবেন না। কোয়ারেন্টিনে আছেন, এমন ব্যক্তির সঙ্গে কোনো অতিথিকে দেখা করতে দেওয়া যাবে না।

পরিচর্যাকারী খালি হাতে ওই ঘরের কোনো কিছু স্পর্শ করবেন না।

কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তার ঘরে ঢুকলে, খাবার তৈরির আগে ও পরে, খাবার আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পরে, গ্লাভস পরার আগে ও খোলার পরে বা যখনই হাত দেখে নোংরা মনে হবে, তখনই দুই হাত পরিষ্কার করতে হবে।

ঘরের মেঝে, আসবাব, শৌচাগার ও বাথরুম প্রতিদিন অন্তত একবার পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কারের জন্য এক লিটার পানির মধ্যে ২০ গ্রাম বা ২ টেবিল চামচ ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে তা দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। ওই দ্রবণ সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।

কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিকে নিজের কাপড়, বিছানার চাদর, তোয়ালে ইত্যাদি গুঁড়া সাবান বা কাপড় কাঁচার সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে বলতে হবে। কাপড় ভালোভাবে শুকাতে হবে।

নোংরা কাপড় একটি লন্ড্রি ব্যাগে আলাদা রাখতে হবে। মলমূত্র বা নোংরা লাগা কাপড় ঝাঁকানো যাবে না এবং নিজের শরীর বা কাপড়ে যেন না লাগে, তা খেয়াল করতে হবে।

কোয়ারেন্টিনের সময় ফোন, ইন্টারনেটের সাহায্যে যোগাযোগ রাখতে হবে।

কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় কোনো উপসর্গ যেমন ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর, কাশি, সর্দি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি দেখা দিলে অতি দ্রুত আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় জেনে নিতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোয়ারেন্টিন শেষ হবে। চিকিৎসকের সিদ্ধান্তমতে একজন থেকে অন্যজনের কোয়ারেন্টিনের সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ সময়সীমা ১৪ দিন।

13
বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা ভাইরাস ঘিরে বেশির ভাগ আলোচনা মাস্ক ও গ্লাভস পরা ও হাত ধোয়ার বিষয়টিকে ঘিরে।


স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের মতো ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলো জীবাণুমুক্ত করার দিকেও নজর দিতে হবে। স্বাস্থ্য গবেষকরা বিভিন্ন সময় স্মার্টফোনে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যা রোগ সৃষ্টি করতে পারে। যদি ডিভাইসে ব্যাকটেরিয়া থাকে, তবে বারবার হাত ধুয়েও কোনো কাজ হবে না।

এক গবেষণায় জানা গেছে, শৌচাগারের চেয়ে তিনগুণ বেশি জীবাণু থাকে স্মার্টফোনের পর্দায়। ইনস্যুরেনসটুগো নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই গবেষণা চালায়। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, স্মার্টফোনের পর্দায় থাকা এসব জীবাণু ত্বকের রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ হতে পারে। পরীক্ষা করা স্মার্টফোনগুলোর পর্দার প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে গড়ে ৮৪ দশমিক ৯ ইউনিট জীবাণু পাওয়া গেছে। অন্যদিকে কমোড ও এর হাতলে থাকে সর্বোচ্চ ২৪ ইউনিট জীবাণু।

আরো পড়ুন: জি কে শামীমের জামিন জানে না রাষ্ট্রপক্ষ

ইনস্যুরেন্সটুগো নামের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা গ্যারি বিস্টোন বলেন, ‘আমরা সাধারণত সব সময় স্মার্টফোন সঙ্গে নিয়েই ঘুরি। এভাবেই নানা জায়গা থেকে ঐ ফোনে বাসা বাঁধে জীবাণু।’

বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের মাত্রা বেড়েই চলেছে। মূলত ভার্চ্যুয়াল জগতে সার্বক্ষণিক থাকার উপায় হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে স্মার্টফোন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক গবেষণায় জীবাণুর বিস্তারে স্মার্টফোনের ভূমিকার বিষয়টি জোরালো হয়েছে।

স্মার্টফোন ও অন্য ডিভাইস থেকে সংক্রমণ ঠেকাতে যা করবেন :

* একই পকেটে স্মার্টফোন ও রুমাল রাখবেন না। এতে আপনার ডিভাইসে থাকা জীবাণু রুমালের মাধ্যমে সহজে মুখে পৌঁছে যেতে পারে।

* ফোন কল করার সময় সরাসরি ফোন কানে ধরার বদলে হেডফোন ব্যবহার করতে পারেন। এতে ভাইরাস ফোন থেকে মুখে পৌঁছাবে না। n যে কম্পিউটার একাধিক ব্যক্তি বারবার ব্যবহার করেন, সেগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ক্যাফেতে বসে বা পাবলিক কম্পিউটারে বসতে হলে স্টেরিল গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন। n আপনার স্মার্টফোন যদি আইপি ৬৮ মানের বা পানিরোধী হয়, তবে তা সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ফোন পরিষ্কারের আগে অবশ্যই তা বন্ধ করে নেবেন।

* হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা পরিষ্কারক কোনো উপাদানের সঙ্গে অ্যালকোহল মিশিয়ে গ্যাজেট পরিষ্কার করার কথা ভাবা যেতে পারে। যদিও এ প্রক্রিয়ায় ডিভাইস পরিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা হয় না।

* ল্যাপটপ পরিষ্কারের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে টিস্যু দিয়ে ল্যাপটপের প্রতিটি কোনা পরিষ্কার করতে হবে। এ জন্য শুরুতে ল্যাপটপ বন্ধ রাখতে হবে।

* এয়ারফোনও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কাজে লাগাতে পারে। n ফোন ও ল্যাপটপ পরিষ্কারের পর অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নেবেন। n দিনে অন্তত একবার আপনার ব্যবহূত ডিভাইসগুলো পরিষ্কার রাখুন। n অসুস্থ বা সন্দেহভাজন কারও ডিভাইস ধরার আগে সতর্ক থাকুন। নিজের ডিভাইস অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়ার আগেও সচেতন হন। তথ্যসূত্র : গ্যাজেটস নাউ

ইত্তেফাক/এএএম

14
করোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এখন বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। এই ভাইরাস মোকাবেলায় লড়ে যাচ্ছে মানুষ।


তবে অধিকাংশ মানুষের জন্যই এই রোগটি ভয়াবহ নয়, কিন্তু এতে আবার অনেকেই মারা যায়।

ভাইরাসটি কীভাবে দেহে আক্রমণ করে, কেন করে, কেনই বা কিছু মানুষ এই রোগে মারা যায়, তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। আর এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।

‘ইনকিউবেশন’ বা প্রাথমিক লালনকাল :

এই সময়ে ভাইরাসটি নিজেকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত করে। শরীর গঠন করা কোষগুলোর ভেতরে প্রবেশ করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এরপর শুরু হয় তার কাজ।

করোনা ভাইরাস নিশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করতে পারে। যেটা আশপাশে কেউ হাঁচি বা কাশি দিলে, ভাইরাস সংক্রমিত কোনো জায়গায় হাত দেওয়ার পর মুখে হাত দেওয়ার মাধ্যমে তা দেহে প্রবেশ করতে পারে।

শুরুতে গলা, শ্বাসনালী, এবং ফুসফুসের কোষে আঘাত করে। পরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় এবং আরো কোষকে আক্রান্ত করে।

এই শুরুর সময়টাতে আপনি অসুস্থ হবেন না। এছাড়া কিছু মানুষের মধ্যে হয়তো উপসর্গও দেখা দেবে না।

করোনা অনেকের কাছে নিরীহ বলে মনে হবে :

১০ জনের মধ্যে আটজনের জন্যই কোভিড-১৯ একটি নিরীহ সংক্রমণ। যার প্রধান উপসর্গ কাশি ও জ্বর। শরীরে ব্যথা, গলা ব্যথা এবং মাথাব্যথাও হতে পারে। তবে এগুলো যে হবেই এমন কোনো কথা নেই।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে শত্রুভাবাপন্ন একটি ভাইরাস হিসেবে শনাক্ত করে। এরপর বাকি শরীরে সাইটোকাইনস নামক কেমিক্যাল পাঠিয়ে বুঝিয়ে দেয় কিছু একটা ঠিক নেই। এর ফলে শরীরে ব্যথা ও জ্বরের মত উপসর্গ দেখা দেয়।

প্রাথমিকভাবে করোনা ভাইরাসের কারণে শুষ্ক কাশি হয়। তবে একটা পর্যায়ে অনেকের কাশির সঙ্গে থুতু বা কফ বের হওয়া শুরু করে। যার মধ্যে ভাইরাসের প্রভাবে মৃত ফুসফুসের কোষগুলোও থাকবে।

এই ধাপটি এক সপ্তাহের মত স্থায়ী হয়। অধিকাংশ মানুষই এই ধাপের মধ্যেই আরোগ্য লাভ করে। কারণ ততদিনে তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে সেটিকে প্রতিহত করে ফেলে।

তবে কিছু কিছু মানুষের মধ্যে কোভিড-১৯ এর আরো ক্ষতিকর একটি সংস্করণ তৈরি হয়। এই রোগ সম্পর্কে নতুন গবেষণায় ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে যে, রোগটির এই ধাপে আক্রান্তদের সর্দিও লাগতে পারে।

ভয়াবহ ব্যাধি :

এই ধাপের পর যদি রোগ অব্যাহত থাকে, তাহলে যেই কেমিক্যালগুলো শরীরে বার্তা পাঠাতে থাকে সেগুলোর প্রতিক্রিয়া তখন শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রদাহ তৈরি করে।

লন্ডনের কিংস কলেজের ডক্টর নাথালি ম্যাকডরমেট বলেন, ‘রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় ভাইরাসটি। ফলে শরীর অতিরিক্ত মাত্রায় ফুলে যায়।’

অতি জটিল রোগ :

এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে যে প্রায় ৬ শতাংশ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ অতি জটিল পর্যায়ে যায়। এই ধাপে শরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে অক্ষম হয় এবং মৃত্যুর বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এই ধাপে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে এবং সারা শরীরেই বিভিন্ন রকম ক্ষয়ক্ষতি তৈরি করে।

রক্তচাপ যখন মারাত্মকভাবে নেমে যায় তখন এই ধাপে সেপটিক শক পেতে পারেন আক্রান্ত ব্যক্তি। এমনকি তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

শ্বাস-প্রশ্বাসে তীব্র সমস্যা হওয়ার উপসর্গ দেখা দেয় ফুসফুসে প্রদাহ ছড়িয়ে পড়লে, কারণ সেসময় শরীরকে টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট অক্সিজেন পুরো শরীরে প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে কিডনি রক্ত পরিশোধন ছেড়ে দিতে পারে এবং অন্ত্রের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চিকিৎসক ভারত পঙ্খানিয়া বলেন, ‘ভাইরাসটি এত বড় পরিসরে প্রদাহ তৈরি করে যে, শরীর পুরো ভেঙ্গে পড়ে। একসাথে একাধিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফেল করে।’

তবে ক্ষতির মাত্রা বেশি হলে কখনো কখনো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ শরীরকে আর বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয় না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও অনেকসময় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের উহান শহরের জিনইনতান হাসপাতালে মারা যাওয়া প্রথম দুজন আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যবান ছিলেন। যদিও তারা দুজনই দীর্ঘসময় ধরে ধূমপান করতেন।

প্রথম যিনি মারা যান, তিনি ছিলেন ৬১ বছর বয়সী এক পুরুষ। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তার তীব্র নিউমোনিয়া ছিল। তার শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা ছিল। ভেন্টিলেটরে রাখা হলেও তার ফুসফুস বিকল হয়ে যায় এবং হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালে ১১ দিন থাকার পর ঐ ব্যক্তি মারা যান।

৬৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় যে ব্যক্তি মারা যান তারও শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাপক সমস্যা ছিল। সূত্র: বিবিসি

15
Title:  Numerical analysis of natural convective heat transport of copper oxide-water nanofluid flow inside a quadrilateral vessel.

Abstract:
Nanofluid based heat transfer approaches have a tremendous prospect to develop novel cost-effective cooling technologies. In response to this potential development, a problem of unsteady copper oxide-water nanofluid flow and natural convective heat transfer within a quadrilateral vessel with uniform heating of bottom wall using modified Buongiorno model are investigated. The sloping wall of the vessel is maintained at constant low temperature and the uniform thermal condition on the bottom heated wall is considered, whereas the upper horizontal wall is regarded as adiabatic. The governing equations along with boundary conditions are solved using the Galerkin finite element method. Partial differential equation solver COMSOL Multiphysics with Matlab interface is used in the simulation. The results of the present problem of a certain situation as a special case have been verified by the previously published standard numerical investigations. The flow, thermal and concentration fields, local and average Nusselt number for various pertinent parameters entered into the problem have been analyzed. The time evolutions for a steady-state solution are also examined. The results show that the adjustment factor with the optimal nanoparticle volume fraction and the thermal Rayleigh number controls the optimal heat transfer. The trapezoidal vessel having higher sloping angles with the vertical axis exhibits higher heat transfer. Heat transfer decreases rapidly in 1–10 nm size nanoparticles for a nanofluid solution.




https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S2405844019320432
https://doi.org/10.1016/j.heliyon.2019.e01757

Pages: [1] 2 3 ... 9