Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.

Messages - Sultan Mahmud Sujon

Pages: [1] 2 3 ... 169
"A quite informative piece from an Assistant Professor of infectious diseases, from Johns Hopkins University;

* The virus is not a living organism, but a protein molecule (DNA) covered by a protective layer of lipid (fat), which, when absorbed by the cells of the ocular, nasal or buccal mucosa, changes their genetic code. (mutation) and convert them into aggressor and multiplier cells.

* Since the virus is not a living organism but a protein molecule, it is not killed, but decays on its own. The disintegration time depends on the temperature, humidity and type of material where it lies.

* The virus is very fragile; the only thing that protects it is a thin outer layer of fat. That is why any soap or detergent is the best remedy, because the foam CUTS the FAT (that is why you have to rub so much: for 20 seconds or more, to make a lot of foam). By dissolving the fat layer, the protein molecule disperses and breaks down on its own.

* HEAT melts fat; this is why it is so good to use water above 25 degrees Celsius for washing hands, clothes and everything. In addition, hot water makes more foam and that makes it even more useful.

* Alcohol or any mixture with alcohol over 65% DISSOLVES ANY FAT, especially the external lipid layer of the virus.

* Any mix with 1 part bleach and 5 parts water directly dissolves the protein, breaks it down from the inside.

* Oxygenated water helps long after soap, alcohol and chlorine, because peroxide dissolves the virus protein, but you have to use it pure and it hurts your skin.

* NO BACTERICIDE SERVES. The virus is not a living organism like bacteria; they cannot kill what is not alive with anthobiotics, but quickly disintegrate its structure with everything said.

* NEVER shake used or unused clothing, sheets or cloth. While it is glued to a porous surface, it is very inert and disintegrates only between 3 hours (fabric and porous), 4 hours (copper, because it is naturally antiseptic; and wood, be
cause it removes all the moisture and does not let it peel off and disintegrates). ), 24 hours (cardboard), 42 hours (metal) and 72 hours (plastic). But if you shake it or use a feather duster, the virus molecules float in the air for up to 3 hours, and can lodge in your nose.

* The virus molecules remain very stable in external cold, or artificial as air conditioners in houses and cars. They also need moisture to stay stable, and especially darkness. Therefore, dehumidified, dry, warm and bright environments will degrade it faster.

* UV LIGHT on any object that may contain it breaks down the virus protein. For example, to disinfect and reuse a mask is perfect. Be careful, it also breaks down collagen (which is protein) in the skin, eventually causing wrinkles and skin cancer.

* The virus CANNOT go through healthy skin.

* Vinegar is NOT useful because it does not break down the protective layer of fat.

* NO SPIRITS, NOR VODKA, serve. The strongest vodka is 40% alcohol, and you need 65%.

* LISTERINE IF IT SERVES! It is 65% alcohol.

* The more confined the space, the more concentration of the virus there can be. The more open or naturally ventilated, the less.

* This is super said, but you have to wash your hands before and after touching mucosa, food, locks, knobs, switches, remote control, cell phone, watches, computers, desks, TV, etc. And when using the bathroom.

* You have to HUMIDIFY HANDS DRY from so much washing them, because the molecules can hide in the micro cracks. The thicker the moisturizer, the better. * Also keep your NAILS SHORT so that the virus does not hide there."

Source: Internet

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে এখন সবাইকে যথাসম্ভব বাড়িতেই থাকতে বলা হচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরাও অনেকটা ঘরবন্দী। কিন্তু যে বাড়িতে অবস্থান করা হচ্ছে, তা কি ঝুঁকিমুক্ত? এ ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে বাড়িও ঝুঁকিমুক্ত রাখা যায়।

বাড়ির পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণ

বাড়িতে সবাইকে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে। প্রতিবার খাবার রান্না বা প্রস্তুতের আগে ও পরে, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে, বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে, বাইরে থেকে বাসায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। সাবান-পানি তাৎক্ষণিকভাবে না পাওয়া গেলে হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করুন। এ ছাড়া দরজার হাতল, নব, টেলিফোন, রিমোট, সুইচসহ যেসব বস্তু বারবার ব্যবহৃত হয়, সেগুলো নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

বাড়ির মেঝে এবং অন্যান্য তল পরিষ্কার রাখার দুটি ধাপ আছে। একটি হলো ক্লিনিং বা পরিচ্ছন্ন করা, আরেকটি হলো ডিজইনফেকটিং বা জীবাণুনাশ করা। প্রথমে পানি, ডিটারজেন্ট বা ফ্লোর ক্লিনারজাতীয় উপাদান দিয়ে মেঝে, তল ইত্যাদি পরিষ্কার করতে হবে। এরপর জীবাণুনাশক উপাদান দিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন। জীবাণুনাশক হিসেবে ব্লিচ বা ৭০ শতাংশ অ্যালকোহলের মিশ্রণ কার্যকর। বাড়িতে ব্লিচ মিশ্রণ তৈরি করতে এক গ্যালন পানিতে ৫ টেবিল চামচ ব্লিচ মেশাতে হবে। প্রতিদিন কয়েকবার এভাবে রান্নাঘর, বাথরুম ও অন্যান্য ঘরের মেঝে, যেকোনো তল (যেমন থালাবাসন ধোয়ার জায়গা, সিঁড়িঘর, বারান্দা, টেবিল, রান্নাঘরের কেবিনেট টপ, সিঙ্কের আশপাশ ইত্যাদি) পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই হাতে গ্লাভস পরে নেবেন। আর কাজ শেষে সেটা ফেলে দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবেন। কার্পেট, মাদুর, ম্যাট ইত্যাদি জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন।

বাড়ির প্রতিটি ঘরে টিস্যু বা কিচেন রোল রাখুন, যাতে কাশি বা হাঁচির সময় হাত বাড়ালেই টিস্যু পাওয়া যায়। টিস্যু বা ময়লা ফেলার পাত্রটি ঢাকনাযুক্ত হলে ভালো। কাঁচা মাছ-মাংসের বর্জ্য একটি পলিথিনে মুড়ে মুখ আটকে বিনে ফেলুন। এরপর অবশ্যই হাত সাবান দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। রান্না আর কাটাকুটির কাজে ব্যবহৃত বোর্ড, ছুরি, বঁটি সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে রাখুন।

বাইরে থেকে ফিরে যা করা উচিত

নানা কাজে বের হতেই হবে। তা ছাড়া বাড়িতে বাইরের লোক, গৃহকর্মীর যাতায়াত আছে। বাইরে থেকে ফিরে যেকোনো বস্তু স্পর্শ করার আগেই হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। বাইরে পরে যাওয়া জামাকাপড় দ্রুত বদলে ফেলুন। অতিথির সঙ্গে হাত মেলানো থেকে বিরত থাকুন। বাইরের যেকোনো পার্সেল, প্যাকেট বা অন্য কিছু হাতে নেওয়ার পর হাত ধুয়ে ফেলবেন। প্রবেশের মুখেই সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা যায়।

লেখক: বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, লালবাগ, ঢাকা


মানুষ গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ২৩ বার মুখে হাত দেয়। কিন্তু কোনোভাবে করোনাভাইরাস হাতে এলে এবং সেই হাত চোখে, মুখে ও নাকে দিলে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। ফলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি ও ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে। তাই এই অভ্যাস এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মাস্ক পরা

মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন। ফলে হাত থেকে ভাইরাস মুখে প্রবেশ করবে না।

আঙুল মুষ্টিবদ্ধ রাখুন

বসে বা শুয়ে থাকার সময় দুই হাতের আঙুল মুষ্টিবদ্ধ রাখুন। মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় কথা বলুন বা হাঁটুন। কিছুক্ষণ পরপর হাতের আঙুল নাড়ুন এবং আবার মুষ্টিবদ্ধ করুন।

চশমা পরা

শরীরে হালকা জ্বর, খুশ খুশ করে কাশছেন—সন্দেহ হতে পারে, করোনা নয় তো? কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই করোনা রোগের প্রকাশ ঘটে জ্বরের মাধ্যমে। এমন অবস্থায় কী করবেন? জ্বর হলেই হাসপাতালে ছুটবেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না, জ্বর হলেই হাসপাতালে ছোটার দরকার নেই। কারণ এই রোগটি খুবই সংক্রামক। এতে একজন থেকে অন্যজন এমনকি হাসপাতালের অন্য রোগীরাও আক্রান্ত হতে পারেন।

তাহলে এমন অবস্থায় করণীয় কী? সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বলছে, সন্দেহভাজন রোগীকে প্রাথমিকভাবে ঘরেই থাকতে হবে।

এই রোগটি নিয়ে এত আতঙ্কের কারণ হচ্ছে এখন পর্যন্ত এর কোনো টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়। চিকিৎসার শরু হয় লক্ষণ দেখে। আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী, এই ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় ২-১৪ দিন সময় লাগে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ হয় জ্বর। এ ছাড়া শুকনো কাশি বা গলা ব্যথা হতে পারে।

এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির অন্য রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ,শ্বাসকষ্ট, হৃদ্‌রোগ, কিডনির সমস্যা, ক্যানসার ইত্যাদি থাকলে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হতে পারে।

প্রতিষেধক না থাকায় এর প্রতিরোধে সচেতন হওয়াই এখন পর্যন্ত কার্যকর উপায়। এ জন্য ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে, অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে, অসুস্থ পশু-পাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে, মাছ-মাংস ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে।

এ ছাড়া যতটা সম্ভব ঘরে থাকতে হবে, প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া ও জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। আর এই মুহূর্তে বিদেশ থেকে কেউ আসলে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

কারও জ্বর বা সর্দি-কাশি হলে ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হবে। এরপরও অবস্থার উন্নতি না হলে বা কারও মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নাক-মুখ ঢেকে (মাস্ক ব্যবহার) বাড়িতে অপেক্ষা করতে হবে। অবস্থা খারাপ হলে নিকটস্থ সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রয়োজনে আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০-৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭-১১০০১১, ০১৯৩৭-০০০০১১, ০১৯২৭-৭১১৭৮৪,০১৯২৭-৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪-৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১-০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়াও করোনা সংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে।

অনলাইনে করোনা নিয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ই-মেইল এবং ফেসবুক পেজ (Iedcr,COVID19 Control Room) এ যোগাযোগ করা যাবে।


করোনাভাইরাস মোকাবিলার প্রস্তুতি চলছে পুরো পৃথিবীতে। আমরাও চেষ্টা করছি। এর প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে আমরা প্রচুর খাবারদাবার কিনে রাখছি ঘরে। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছি, ঘরে জমা করে রাখার ফলে খাবারগুলোর গুণগত মান আদৌ বজায় থাকবে কি না? যে খাবার আমরা কিনে ঘরে জমা করেছি, সেগুলো আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করার পক্ষে যথেষ্ট কি না? কারণ, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নির্দেশাবলি সঠিকভাবে পালন করা।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা গড়ে তোলা এবং প্রত্যেকের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ ইমিউন সিস্টেম বাড়িয়ে তোলা। এর ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের যে মারাত্মক লক্ষ্মণ অর্থাৎ শ্বাসযন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ, সেগুলো সহজে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সহজভাবে বললে, যেকোনো ভাইরাস হলো প্রোটিন যুক্ত অণুজীব, যার কারণে মানুষ জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট এমনকি মারাত্মক নিউমোনিয়া (নতুনভাবে) হতে পারে। তা ছাড়া এই ভাইরাস ভয়ংকর প্রাণঘাতী রোগ তৈরি করতে পারে খুব সহজে। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বেশি পরিমাণে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে প্রতিদিন।

অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হলো কিছু ভিটামিন, মিনারেল ও এনজাইম, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যালের (দেহের কোষ, প্রোটিন ও DNA ক্ষতি করে এমন কিছু) বিরুদ্ধে লড়াই করে, শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে শরীরে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। প্রধান অ্যান্টি–অক্সিডেন্টগুলো হলো বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, ই, লাইকোপেন, লুটেইন সেলেনিয়াম ইত্যাদি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ যে খাবারগুলো বেশি করে খেতে হবে, সেগুলো হলো:

বিটা ক্যারোটিন: উজ্জ্বল রংয়ের ফল, সবজি। যেমন গাজর, পালংশাক, আম, ডাল ইত্যাদি।
ভিটামিন এ: গাজর, পালংশাক, মিষ্টি আলু, মিষ্টিকুমড়া, জাম্বুরা, ডিম, কলিজা, দুধজাতীয় খাবার।
ভিটামিন ই: কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, বাদাম তেল, বিচিজাতীয় ও ভেজিটেবল অয়েল, জলপাইয়ের আচার, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি।
ভিটামিন সি: আমলকী, লেবু, কমলা, সবুজ মরিচ, করলা ইত্যাদি।
এ ছাড়া যে খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো। এ খাবারগুলো আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে তো বাড়িয়ে তুলবেই, সেই সঙ্গে আরও বিভিন্নভাবে আপনার শরীরকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করবে।

সামগ্রিকভাবে উদ্ভিজ্জ খাবারই হলো অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের সবচেয়ে ভালো উৎস, বিশেষ করে বেগুনি, নীল, কমলা ও হলুদ রংয়ের শাকসবজি ও ফল। এ ছাড়া যে ধরনের খাবারগুলো আপনার প্রয়োজন, সেগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো।

১. সবজি: করলা (বিটা ক্যারোটিনসমৃদ্ধ), পারপেল/লাল পাতা কপি, বিট, ব্রোকলি, গাজর, টমেটো, মিষ্টি আলু, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি।
২. শাক: যেকোনো ধরনের ও রঙের শাক।
৩. ফল: কমলালেবু, পেঁপে, আঙুর, আম, কিউই, আনার, তরমুজ, বেরি, জলপাই, আনারস ইত্যাদি।
৪. মসলা: আদা, রসুন, হলুদ, দারুচিনি, গোলমরিচ।
৫. অন্যান্য: শিম বিচি, মটরশুঁটি, বিচিজাতীয় খাবার, বার্লি, ওটস, লাল চাল ও আটা, বাদাম।
৬. টক দই: এটি প্রোবায়োটিকস, যা শ্বাসযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে শাকসবজি, ফল, বাদামজাতীয় খাবার শরীরে নিউটোভ্যাক্স ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডি প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, যা স্টেপটোকোক্কাস নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
৭. চা: গ্রিন টি, লাল চায়ে এল-থেনিন এবং ইজিসিজি নামক অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনেক যৌগ তৈরি করে শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
৮. এ ছাড়া ভিটামিন বি-৬, জিংক–জাতীয় খাবার (বিচিজাতীয়, বাদাম, সামুদ্রিক খাবার, দুধ ইত্যাদি) শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির কোষ বৃদ্ধি করে। তাই এ ধরনের খাবার বেশি খেতে হবে।
৯. উচ্চ মানের আমিষজাতীয় খাবার (ডিম, মুরগির মাংস ইত্যাদি) বেশি করে খেতে হবে।
১০. অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের খুব ভালো কাজ পেতে হলে খাবার রান্নার সময় অতিরিক্ত তাপে বা দীর্ঘ সময় রান্না না করে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে।
ওপরের খাবারগুলো ছাড়াও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে উচ্চ আমিষযুক্ত খাবার বেশি করে খেতে হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ও টিস্যু দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং পাশাপাশি নতুন টিস্যু তৈরি হবে। এর সঙ্গে দরকার পর্যাপ্ত ঘুম। অপর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম শরীরে কর্টিসল হরমোনের চাপ বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তাই পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।

যে খাবার বাদ দিতে হবে
সব ধরনের কার্বনেটেড ড্রিংকস, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, তামাক, সাদাপাতা, খয়ের ইত্যাদি। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বাধা দিয়ে ফুসফুসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম, চিনি ও চিনির তৈরি খাবার (যা ভাইরাসের সংক্রমণে সহায়তা করে)।

এ লেখার উদ্দেশ্য সঠিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে প্রত্যেকের শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা করা, যাতে শুধু করোনাভাইরাস নয়, সব ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় আপনি শারীরিকভাবে সক্ষম থাকতে পারেন।

লেখক: প্রধান পুষ্টিবিদ ও বিভাগীয় প্রধান, পুষ্টি বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল।


বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী-শিক্ষক এক হওয়ার সুযোগ পান কোর্সেরা ( প্ল্যাটফর্মে। কোর্স ফি দিয়ে যে কেউ বিভিন্ন বিষয়ের নামী অধ্যাপকদের কোর্সে অংশ নিতে পারেন, কিন্তু কোভিড–১৯ ছড়িয়ে পড়ার পর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে ৪০০ বিষয়ে ৩ হাজার ৮০০টি কোর্স বিনা মূল্যে দিচ্ছে কোর্সেরা। তবে এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ( লিংকে আবেদন করতে হবে। তারপর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের বাছাই করা কোর্সগুলোতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কোর্সেরাতে বিশ্বমানের অধ্যাপক ও প্রফেশনালরা কোর্স পরিচালনা করেন। তাই কোর্সের মান তুলনামূলক ভালো। ভিডিও ক্লাসের পাশাপাশি থাকে কুইজপর্ব। আর কোর্স শেষে মিলবে অনলাইন সনদ।

অধিকাংশ সময় অফিসের কাজে ব্যবহৃত হলেও চাইলে জুমকে বানিয়ে নেওয়া যায় ক্লাসরুম। চমকপ্রদ একটি সফটওয়্যার এই জুম। বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও সামান্য কিছু টাকা খরচ করলে আরও আধুনিক সেবা দিতে পারে সফটওয়্যারটি। ১০০ জন একই সঙ্গে একই ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিতে পারেন। বিনা মূল্যে ব্যবহার করলে প্রতিটি কনফারেন্সের সময় হবে ৪০ মিনিট। ব্যবহারকারী আইডিভিত্তিক ব্যক্তিগত মিটিং এবং গ্রুপ মিটিং আয়োজন করতে পারেন। বাস্তবের ক্লাসের মতোই এই সফটওয়্যারে প্রশ্ন করার জন্য হাত তোলার সুযোগ থাকছে। এ ছাড়া কেউ কিছু লিখে বোঝাতে চাইলে প্রতিটি স্ক্রিনে ভেসে উঠবে একটি হোয়াইট বোর্ড।

ইউটিউব লাইভ
ভিডিও শেয়ারিংভিত্তিক সবচেয়ে বড় সাইট হচ্ছে ইউটিউব। কেউ চাইলে তাঁর নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চালু করতে পারেন চ্যানেল। চ্যানেলে বিষয়ভিত্তিক ক্লাসের ভিডিও আপলোড করা যাবে। চাইলে সেই ভিডিওতে ‘প্রাইভেট’ অপশন চালু করে শুধু নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের দেখানো যাবে। আবার একবারে সব ভিডিও আপলোড করে কোর্সের নির্ধারিত সময়ে ভিডিও প্রিমিয়ার করা যাবে। সারা বিশ্বে গোটা কয়েক দেশ বাদে সব জায়গায় ইউটিউব কাজ করে। ভিন্ন ভিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা আর রেজল্যুশনের ছক মিলিয়ে ইউটিউব হয়ে উঠতে পারে অনলাইন ক্লাসের চমকপ্রদ সমাধান।

ফেসবুক লাইভ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে পড়াশোনার ক্লাসরুম বানিয়েও কাজে লাগাতে পারেন যে কেউ। কোর্সভিত্তিক আলাদা আলাদা গ্রুপে লাইভ ক্লাস নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া যেকোনো ডকুমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, নোটস বিনিময়ের সুবিধা তো থাকছেই। লাইভ ক্লাস চলাকালে কমেন্টে শিক্ষার্থীরা জানাতে পারবেন তাঁদের সমস্যার কথা। ঠিক ওই সময়ে ক্লাসে উপস্থিত না থাকতে পারলেও পরে গ্রুপে ভিডিও হিসেবে থেকে যাবে এই লাইভ ক্লাসগুলো। তাই কোনো শিক্ষার্থী লাইভ ক্লাস মিস করে গেলেও পরে আবার গ্রুপের ওয়াল থেকে জেনে নিতে পারবেন।

গুগল ক্লাসরুম
আমাদের দেশে অনেক শিক্ষকই এখন গুগল ক্লাসরুম ( ব্যবহার করে ক্লাস নিচ্ছেন। বিনা মূল্যে কোনো শিক্ষক চাইলে গুগল স্যুটে নিবন্ধন করতে পারেন। তারপর নির্ধারিত কোড দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন ওই ক্লাসে। একটি কোর্সে অসংখ্য ক্লাসের পাশাপাশি ২০ জন শিক্ষক তাঁদের ক্লাস যুক্ত করতে পারবেন। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য গুগল ফরম, গুগল ডক, গুগল ড্রাইভ ও ইউটিউব ভিডিও যুক্ত করার সুযোগ থাকছে। ক্লাসরুমে থেকে যাওয়া ক্লাসের ভিডিওগুলো পরেও দেখা যাবে। শুধু কম্পিউটার নয়, যেকোনো ডিভাইস থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন অনলাইন ক্লাসে।

মাইক্রোসফট টিম
বাজারের সব অনবদ্য সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাইক্রোসফট তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য বানিয়েছে মাইক্রোসফট টিম। কেউ যদি মাইক্রোসফট অফিস ৩৬৫ ব্যবহার করা শুরু করেন, তাঁর জন্য সুযোগ থাকছে মাইক্রোসফট টিম ব্যবহারের। ক্লাসের ভিডিও আপলোডের পাশাপাশি শিক্ষক সরাসরি শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন এখানে। ক্লাসের সবাইকে দলগত আলোচনার সুবিধা দিতে মাইক্রোসফট টিমে থাকছে চ্যাটবক্স। তবে এতজন একসঙ্গে কথা বলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য শিক্ষক নির্ধারিত বিষয়কে চ্যাটবক্সের একদম ওপরে রেখে দিতে পারেন। মাইক্রোসফট টিম ব্যবহার করার সময় সরাসরি ই–মেইল স্কাইড্রাইভ ও শেয়ার পয়েন্ট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা। বরাবরের মতোই যেকোনো ডিভাইস থেকে এই টিম ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। ব্যবহারকারীকে আরও সুবিধা দিতে মাইক্রোসফট টিমে আছে চ্যাটবট। শিক্ষক কোথায় কী প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং কোথায় কী আপলোড করেছেন, সেসবের দিকনির্দেশনা দেবে এই চ্যাটবটগুলো। আরও বিস্তারিত জানা যাবে এখানে:


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে তরুণরা করোনাভাইরাসের ঝুঁকির বাইরে নয় এবং সামাজিক মেলামেশা বা যোগাযোগের মাধ্যমে এই ভাইরাস বয়স্কদের মধ্যে ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত তাদের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিব টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন তরুণদের পদক্ষেপ 'আরেক ব্যক্তির জীবন ও মৃত্যুর পার্থক্য' গড়ে দিতে পারে। ভাইরাসের প্রকোপে বয়স্ক ব্যক্তিদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি হওয়ার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গাতেই তরুণদের মধ্যে এই ভাইরাস সম্পর্কে কম সতর্ক থাকার প্রবণতা দেখা দেয়ার প্রেক্ষিতে এই কথা বলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষ এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মারা গেছে। প্রায় ৩ লাখ মানুষের মধ্যে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুরুতে যেরকম ধারণা করা হচ্ছিল যে করোনাভাইরাসের কারণে বয়স্ক ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন, নতুন কয়েকটি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হওয়ার পর সেই ধারণা পাল্টানোর সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

নতুন পরিসংখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস আক্রান্তদের প্রাথমিক তথ্য উপাত্ত নিয়ে করা পরিসংখ্যানে উঠে আসে যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তরুণদের ঝুঁকিও কম নয়। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ঐ পরিমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে না যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে এই ভাইরাসে আসলে কে সংক্রমিত হচ্ছে এবং কীভাবে এটি তাদের ক্ষতি করছে। আগের পরিসংখ্যান থেকে ধারণা করা হচ্ছিল তরুণদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত কম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তরুণদের মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যতটুকু মনে করা হচ্ছিল তা তারচেয়ে বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ২ হাজার ৫০০ জন করোনাভাইরাস আক্রান্তের তথ্য পর্যালোচনা করা হয় প্রতিবেদনটি তৈরিতে। সেখানে দেখা যায় ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে যাদের হাসপাতালে নিতে হয়েছে তাদের ২০% এর বয়স ২০ থেকে ৪৪ এর মধ্যে - আর ৩৮% এর বয়স ২০ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। এটি সত্যি যে যারা কোভিড-১৯ এর কারণে মারা গেছেন তাদের সিংহভাগই বয়স্ক। বৈশ্বিক হিসেবে ৮৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সী যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের প্রায় ১৫% মারা গেছেন। ৪০ বছরের কম বয়সী আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই হার ০.২%। তবে এর মানে এই নয় যে তরুণরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হচ্ছেন না। সিডিসি'র রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে বিশ এবং ত্রিশের কোঠায় বয়স যাদের, তারা যে হারে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন তা ৫০ বা ৬০ এর কোঠায় থাকা মানুষের হাসপাতালে যাওয়ার হারের চেয়ে খুব একটা কম না।


এ মুহূর্তে আমরা সবাই একটি আতঙ্কজনক সময় পার করছি। করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে। রোগের প্রাদুর্ভাব কমানোর তাগিদে ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বাধ্যতামূলক অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দেশেও অনেককে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে না বের হওয়া, জনসমাগমগুলো এড়িয়ে চলা।

এ অবস্থায় আমাদের মধ্যে নানা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এমন একটি পরিস্থিতিতে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আমাদের মানসিক শক্তি ও সুস্থতা বজায় রাখতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন—

* প্রথমেই এই পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মনের মধ্যে কী কী চিন্তা আসছে এবং সেগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে কী ধরনের অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে, তা উপলব্ধি করুন। হতে পারে আপনি অধিক দুশ্চিন্তা করছেন, আপনার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, কিংবা আপনি অনেক ভয় পাচ্ছেন, যেটাই হোক না কেন, এগুলো আপনার নিজের অনুভূতি এবং এই সময়টাতে এগুলো হওয়া খুব স্বাভাবিক, এই বিষয়টি মেনে নিন। ‘কেন আমার এত অস্থির লাগছে, এ রকম অনুভব হওয়া ঠিক না’—এই ধরনের বিচার-বিশ্লেষণে যাবেন না এবং অন্যের উদ্বেগ নিয়েও বিচার-বিশ্লেষণ ও হাসি-তামাশা করা থেকে বিরত থাকুন।

*রোগের আপডেট সম্পর্কে অবহিত থাকুন। সংবাদ দেখুন, পড়ুন ও শুনুন। তবে গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ক্ষেত্রে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের যেকোনো সংবাদ শেয়ার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। যেকোনো সংবাদের উৎস সম্পর্কে সচেতন থাকুন। বারবার আপডেট চেক করা ও করোনাভাইরাস–সম্পর্কিত সংবাদ অতিরিক্ত দেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন, এর ফলে আপনার মধ্যে আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

*এই সময়টাতে যদিও আমরা শারীরিকভাবে অন্যদের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখি, তবে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন। ফোন কলে, ভিডিও চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে খোঁজখবর রাখুন কাছের মানুষগুলোর। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের এ ক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। আপনার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করুন এতে আপনার মন ভালো থাকবে ও আপনি অন্যদের সঙ্গে একাত্ম অনুভব করবেন।

*নিজের শরীরের প্রতি মনোযোগী হন। সময়মতো খাওয়াদাওয়া ও হালকা ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীরে ক্লান্তি ও অবসাদ কম আসবে।

*কিছুটা সময় বের করে নিন একান্ত কিছু সময় কাটানোর জন্য। এ সময়টাতে যা করলে আপনার মাঝে ভালো অনুভূতির সৃষ্টি হয় তা করুন। যেমন: কিছুক্ষণ বারান্দায় সময় কাটানো, বই পড়া কিংবা গান শোনা অর্থাৎ আপনার যা করতে ভালো লাগে, যা করলে কিছু সময় দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকা যায়, তা–ই করুন।

*মেডিটেশন ও রিলাক্সেশন অনুশীলন করুন। মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Breathing exercise) উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত এইগুলো অনুশীলন করুন।

মনে রাখবেন, আমরা সবাই এখন খুব কঠিন একটি সময় পার করছি। তবে এই সময়টা চিরস্থায়ী নয়। কিছুদিন পর যখন এই ভয়াবহতা থাকবে না। তখন আমরা আবার আগের মতো জীবন যাপন করতে পারব। শুধু কিছুদিন আমাদের মনে সাহস ও শক্তি নিয়ে এ দুর্যোগে লড়াই করে যেতে হবে।

*লেখক: সাইকোলজিস্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।



গবেষকেরা সম্প্রতি সহজে বহনযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, যা কাশির শব্দ ও ভিড়ের আকার রিয়েল টাইমে শনাক্ত করতে সক্ষম। ওই যন্ত্রে ধারণ করা শব্দ বিশ্লেষণ করে সরাসরি করোনাভাইরাস বা ফ্লুর মতো রোগ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের গবেষকেরা ওই যন্ত্রের নাম দিয়েছেন ‘ফ্লুসেন্স’।

গবেষকেরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্য নজরদারির ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় টুল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মৌসুমি ফ্লু বা অন্যান্য ভাইরাসজনিত শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার পূর্বাভাস দিতে পারে। এর মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারি বা সার্সের মতো ভাইরাস রোগের পূর্বাভাসও দেওয়া যায়।

ভাইরাসজনিত মহামারিতে জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের সরাসরি তথ্য পাওয়া এসব মডেল জীবন রক্ষাকারী হিসেবে কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। এই তথ্য উত্সগুলো ফ্লু ভ্যাকসিন প্রচারের সময় নির্ধারণ, সম্ভাব্য ভ্রমণের বিধিনিষেধ, চিকিৎসা সরবরাহের বরাদ্দ নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।

গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ‘প্রসিডিংস অব দ্য এসিএম অন ইন্টারঅ্যাকটিভ, মোবাইল, ওয়্যারেবল অ্যান্ড ইউবিকশাস টেকনোলজিস’ সাময়িকীতে।

গবেষণা প্রবন্ধের সহযোগী লেখক তৌহিদুর রহমান জানান, নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে ফ্লুর ট্রেন্ডের নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া যায়। ফ্লুসেন্স প্ল্যাটফর্মে সাশ্রয়ী দামের মাইক্রোফোন অ্যারে ও থার্মাল ইমেজিং ডেটা রাস্পবেরি পাই ও নিউরাল কম্পিউটিং ইঞ্জিনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এতে অবশ্য কোনো ব্যক্তি শনাক্তকরণ তথ্য শনাক্ত করা হয় না।

গবেষকেরা প্রথমে পরীক্ষাগারে একটি কাশির মডেল তৈরি করেন। এরপর তাঁরা অ্যালগরিদমকে প্রশিক্ষণ দিয়ে মানুষের থার্মাল ছবি তৈরির প্রক্রিয়া শেখান। এরপর তা গোনার জন্য বলেন।

গবেষক তৌহিদুর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ব্যক্তি স্তরের চেয়ে ভিড়ের মধ্যে পূর্বাভাস দিতে পারে—এমন মডেল দাঁড় করানো।’

গবেষকেরা তাঁদের তৈরি ফ্লুসেন্স ডিভাইসটি অভিধানের আকারের আয়ত ক্ষেত্রাকার বাক্সে রেখে তা চারটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অপেক্ষাগারে বসান। ২০১৮ সালে ডিসেম্বর থেকে গত বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ফ্লুসেন্স সাড়ে তিন লাখ থার্মাল ইমেজ বিশ্লেষণ করে ও ২ কোটি ১০ লাখ অডিও নমুনা বিশ্লেষণ করে। গবেষকেরা দেখেন, তাঁদের তৈরি যন্ত্রটি নিখুঁতভাবে দৈনন্দিন অসুস্থ হওয়ার হার পূর্বাভাস দিতে পারছে। তথ্যসূত্র: পিটিআই


WHO is continuously monitoring and responding to this outbreak. This Q&A will be updated as more is known about COVID-19, how it spreads and how it is affecting people worldwide. For more information, check back regularly on WHO’s coronavirus pages.

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে লোকজনের মধ্যে বিভিন্ন বস্তু ধরার বিষয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হচ্ছে।

সারা বিশ্বেই এখন দেখা যাচ্ছে যে লোকজন তাদের কনুই দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করছেন, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা বা নামার সময় রেলিং ধরছেন না এবং বাসে ট্রেনে চলার সময় হ্যান্ডল না ধরেই তারা দাঁড়িয়ে আছেন, অফিসে পৌঁছেই লোকজন জীবাণুনাশক দিয়ে তাদের ডেস্ক ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করছেন।

যেসব এলাকায় এই ভাইরাসের মারাত্মক সংক্রমণ ঘটেছে সেখানে পরিবহন, রাস্তা ঘাট ও পার্কে স্প্রে করে সেগুলো জীবাণুমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই উপায়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে অফিস আদালত, হাসপাতাল, দোকানপাট, রেস্তোরাঁও।

ড্রপলেটে কী থাকে
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে যে জলীয় কণা বা ড্রপলেট বাতাসে বের হয়ে আসে তার মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাত্র এক বারের কাশি থেকেই বের হতে পারে এরকম ৩,০০০ ড্রপলেট। ড্রপলেটের এই কণা গিয়ে পড়তে পারে আরেকজনের গায়ে, কাপড়ে এবং আশেপাশের জিনিসের উপর। তবে কিছু ক্ষুদ্র কণা থেকে যেতে পারে বাতাসেও। দেখা গেছে এই ভাইরাস মল-মূত্রের মধ্যে আরো বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে। টয়লেট থেকে ফিরে ভাল করে হাত না ধুলে তার হাতের স্পর্শের সাহায্যে আরো অনেক কিছুতেই এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন বলছে, ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম কোন বস্তু স্পর্শ করার পর হাত দিয়ে যদি মুখ স্পর্শ করা হয় তাহলে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। তবে এটিই এই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান উপায় নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য কর্তৃপক্ষও বলছে যে, বার বার হাত ধুয়ে এবং একই সাথে যেসব জিনিস ধরা হচ্ছে সেগুলো বার বার জীবাণুমুক্ত করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

করোনাভাইরাসের আয়ু

এটা এখনও পরিষ্কার নয় যে কোভিড-১৯ এর জীবাণু মানবদেহের বাইরে কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে আরো যেসব করোনাভাইরাস আছে, যেমন সার্স ও মার্স, সেগুলো লোহা, কাঁচ এবং প্লাস্টিকের গায়ে ৯ (নয়) দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো ভাইরাস ঠাণ্ডা জায়গায় ২৮ দিনও বেঁচে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথের একজন ভাইরোলজিস্ট নিলৎজে ফান ডোরমালেন তার সহকর্মীদের নিয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন কোভ-২ বা সার্স ভাইরাস কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে। তাতে দেখা গেছে, কাশি দেওয়ার পর থেকে ড্রপলেটের মধ্যে এই ভাইরাসটি তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ক্ষুদ্র ড্রপলেটে, যার আকার ১ থেকে ৫ মাইক্রোমিটার (মানুষের চুলের ৩০ গুন চিকন) সার্স ভাইরাস কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে কোভ-২ ভাইরাস কার্ডবোর্ডের মতো শক্ত জিনিসের ওপর ২৪ ঘণ্টা আর প্লাস্টিকের জিনিসের গায়ে দুই থেকে তিন দিনও বেঁচে থাকতে পারে। গবেষণা বলছে, ভাইরাসটি দরজার হাতল, প্লাস্টিক ও লেমিনেটেড ওয়ার্কটপ ও কঠিন বস্তুর ওপর দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। আর কপারের কোন জিনিসে পড়লে এর মৃত্যু হতে চার ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে। নির্মূলের উপায়,গবেষণায় দেখা গেছে করোনাভাইরাসকে এক মিনিটেই নিষ্ক্রিয় করে ফেলা যেতে পারে। ৬২-৭১% এলকোহল মিশ্রিত তরল পদার্থ দিয়ে কোনো জিনিসকে করোনামুক্ত করা যায়।

০.৫ শতাংশ হাইড্রোজেন প্রিঅক্সাইড এবং ০.১% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট মেশানো ব্লিচ দিয়েও করোনাভাইরাস নির্মূল করা সম্ভব। উচ্চ তাপমাত্রা ও আদ্রতার কারণেও অন্যান্য করোনাভাইরাসের দ্রুত মৃত্যু হতে পারে। দেখা গেছে সার্সের জন্যে দায়ী করোনাভাইরাস ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে পারে না। কতোক্ষণ বেঁচে থাকে কোভিড-১৯ এর জীবাণু বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিড-১৯ এর জন্যে দায়ী ভাইরাসটি কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে তা নির্ভর করে এটি কোন ধরনের বস্তুর গায়ে পড়েছে তার ওপর। দরজার শক্ত হাতল, লিফটের বাটন এবং কিচেন ওয়ার্কটপের মতো শক্ত জিনিসের গায়ে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা টিকে থাকতে পারে। তবে এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে সহায়ক পরিবেশে সব ধরনের করোনাভাইরাস এক সপ্তাহও বেঁচে থাকতে পারে। তবে কাপড়ের মতো নরম জিনিসের গায়ে এটি এতো লম্বা সময় বেঁচে থাকতে পারে না। ফলে আপনি যে কাপড়টি পরেছেন এবং তাতে যদি ওই ভাইরাসটি থাকে, জামাটি একদিন কিম্বা দুদিন না পরলে সেখানে ভাইরাসটি জীবিত থাকার আর সম্ভাবনা নেই। মনে রাখতে হবে, কোভিড-১৯ এর ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম জিনিসে শুধু স্পর্শ করলেই আপনি আক্রান্ত হবেন না। শুধু স্পর্শ করার পর আপনি যদি হাত দিয়ে মুখ, নাক অথবা চোখ স্পর্শ করেন তাহলেই এই ভাইরাসটি আপনার শরীরে ঢুকে পড়বে।তাই এই ভাইরাসটি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ একটি করণীয় হচ্ছে হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ না করা।


করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক কবে আবিষ্কার হবে?

এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য দুরন্ত গতিতে গবেষণা চলছে। এই মুহূর্তে ২০টিরও বেশি প্রতিষেধক তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে একটি অন্যান্য প্রাণীর ওপর পরীক্ষা না চালিয়েই মানুষের দেহে পরীক্ষা করা শুরু করেছে। তারা এটি নিরাপদ কিনা এবং এর কার্যকারিতা আছে কিনা তা বোঝার চেষ্টা করছে। অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এখনো অন্য প্রাণীর দেহে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করার ধাপে রয়েছে এবং এই বছরের শেষভাগের মধ্যে ফলাফল পাওয়ার আশা করছে। তবে বিজ্ঞানীরা এ বছরের মধ্যে প্রতিষেধক তৈরি করতে পারলেও এটিকে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন করার চ্যালেঞ্জ থেকেই যায়।


এখন থেকে আগামী দুই-তিন সপ্তাহ দেশের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়। এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সামাজিকভাবে নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা আছে। গতকাল পর্যন্ত যারা আক্রান্ত দেশ থেকে এসেছেন তাদের মাধ্যমে ছড়ালেও সর্বোচ্চ আগামী ২১ দিনের মধ্যেই তা প্রকাশ পাবে।

ভাইরোলজির ভাষায় যাকে ‘পিক টাইম’ বলা হয়। এ সময় সংক্রমিত হতে পারে অসংখ্য মানুষ। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এমন আশঙ্কা করছেন দেশের ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যেসব দেশে ভাইরাসটি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে সেই দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হলে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তবে এখনও যদি ছড়িয়ে পড়া দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে আনা হয় তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আয়ের উন্নত প্রযুক্তির রাষ্ট্রগুলো সব সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও নতুন করোনাভাইরাসে মহামারী ঠেকাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার মূল কারণ, ওই দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা প্রকৃত পরিস্থিতি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সময়ের কাজ সময়ে করতে পারেনি। এসব দেশের প্রতিটিতেই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল আক্রান্ত দেশ থেকে আসা দু-একজন ব্যক্তির মাধ্যমে।

ভাইরোলজির দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব দেশে ভাইরাসটির ব্যাপক সংক্রমণ ঘটেছে সেসব দেশে প্রথম ২ থেকে ৩ সপ্তাহ হাতেগোনা কয়েকজনের দেহে এটি শনাক্ত হয়। একটা পর্যায়ে সেই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকে।

এর কারণ, প্রথমে দেশে প্রবেশ করা সেই দু-একজন ব্যক্তি তাদের পরিবার থেকে শুরু করে যত মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন, তাদের অনেকের দেহেই ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। এই ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণগুলো প্রকাশ হতে সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হয়। তাছাড়া সাধারণ সর্দি-কাশি বা ফ্লুর সঙ্গে এর উপসর্গগুলোর মিল থাকায় পরীক্ষা না করে, শুধু শারীরিক লক্ষণ দেখে এটি আলাদা করা সম্ভব হয় না।

এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ভাইরোলজিস্ট এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক সময়। আমাদের হিসাব মতে, এই সময়ে দেশে নতুন করোনাভাইরাসের পিক টাইম হবে।

যা হওয়ার এই সময়ে হয়ে যাবে। তিনি বলেন, যেসব সতর্কতা এখন নেয়া হচ্ছে এগুলো আরও আগেই নেয়া দরকার ছিল। পিক টাইম হলে আরেকটি ডিজাস্টার ঘটবে। সেটা চিকিৎসক ও সেবাদানকারীদের ক্ষেত্রে। কারণ তাদের হাতে পর্যাপ্ত পার্সনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) নেই।

ফলে যারা চিকিৎসা ও সেবা দেবেন তারা ব্যাপকভাবে ভাইরাসটি দ্বারা সংক্রমিত হতে পারেন। অধ্যাপক নজরুল বলেন, আমরা এ ধরনের ঝুঁকি থেকে অনেকাংশই নিরাপদে থাকতে পারতাম যদি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়া দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে নিতে পারতাম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের জন্য সেটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

দেশে পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। বর্তমানে সেই সংখ্যা ২০ জন, যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। অর্থাৎ ইতালি থেকে আসা ১৪২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই দেশের প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।

এখন পর্যন্ত যে ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে তাদের সবাই কোভিড-১৯ এর মহামারী আক্রান্ত দেশ থেকে আসা বা তাদের পরিবারের সদস্য। অথচ শুরুতেই ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখলে দেশ মহামারীর হুমকিতে পড়ত না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যে দেখা গেছে, গত দুই মাসে সমুদ্র, সড়ক ও আকাশপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪২ জন। যাদের বেশির ভাগই কোভিড-১৯ এর মহামারী চলছে, এমন দেশ থেকে এসেছেন। সতর্কতার জন্য দেশের প্রবেশপথগুলোতে এসব যাত্রীর স্ক্রিনিং করা হয়।

তবে সংক্রমণের লক্ষণ প্রকাশ পেতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগায় স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে কেউ যে ভাইরাসটির বাহক তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বাহকরা দেশে ফিরে বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে এসে নিজের অজান্তেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য কোভিড-১৯ এর মহামারী প্রতিরোধ করার কাজটি দুরূহ হয়ে গেলেও অসম্ভব নয়। তবে এর দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। একটি অধিদফতর বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এ ধরনের বৈশ্বিক মহামারী (প্যানডেমিক) প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

এর জন্য দরকার প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ। পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা, বেসরকারি খাতের শীর্ষ পর্যায়ের সক্রিয় সহযোগিতা। এই তিন ধরনের মানুষদের সমন্বয় না হলে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, দেশের সম্ভাব্য মহামারী প্রতিরোধে অবিলম্বে^ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কোভিড-১৯ এর একটি জাতীয় রেসপন্স টিম গঠন করতে হবে। যার প্রতিটি কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে সরাসরি পরিচালিত হবে।

জাতীয় রেসপন্স টিমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সম্পৃক্ত করে স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ দিতে হবে। সারা দেশে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা সব ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নিতে হবে।

জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে সেগুলোকে সাময়িক কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পরিণত করতে হবে। প্রয়োজনে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে সর্বস্তরে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করতে হবে। যেসব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানদের জন্য এখনও পিপিই (পারসন্যাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) পাঠানো হয়নি, সেখানে দ্রুত সরবরাহ করতে হবে। কোভিড-১৯ নিয়ে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব প্রতিহতে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।



করোনাভাইরাস কী?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে করোনাভাইরাস সি-ফুডের সঙ্গে যুক্ত। করোনাভাইরাস খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে। উট, বিড়াল এবং বাদুড়সহ অনেক প্রাণীর শরীরেই এই ভাইরাস প্রবেশ করতে সক্ষম। আর এই সব প্রাণী থেকেই ওই বিরল ভাইরাসে মানুষও সংক্রামিত হতে পারে। তবে এই ভাইরাস এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

করোনাভাইরাসের লক্ষণ?

ঠাণ্ডা, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাস নিতে অসুবিধা, জ্বর, এগুলিই ওই ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণ। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জেরে নিউমোনিয়া হতে পারে এবং এই ভাইরাস কিডনিরও ক্ষতি করে।

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা

প্রথমত, এই ভাইরাসটি যেখানে ছড়াচ্ছে সেখানে যাওয়া এড়ানো উচিত। আর আপনি যদি একান্তই এমন জায়গার কাছাকাছি থাকেন তবে এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে আপনি নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করতে পারেন-

১. আপনার হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। যদি কোনও সাবান না থাকে তবে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

২. আপনার নাক এবং মুখ ভালোভাবে ঢেকে রাখুন।

৩. অসুস্থ ব্যক্তিদের থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখুন। তাদের ব্যবহৃত বাসন ব্যবহার করবেন না এবং তাদের স্পর্শ করবেন না। এর ফলে রোগী এবং আপনি দুজনেই সুরক্ষিত থাকবেন।

৪. ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং বাইরে থেকে আসা জিনিসগুলিকেও পরিষ্কার করে ঘরে আনুন।

৫. নন-ভেজ বিশেষত সামুদ্রিক খাদ্য খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। কেননা এই ভাইরাস সি-ফুড থেকেই ছড়ায়।

করোনাভাইরাসের চিকিৎসা

এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য ভ্যাকসিন তৈরির জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

(ড. আরিফা আকরাম, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরোটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার, ঢাকার ভাইরোলজি বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর এর ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


Pages: [1] 2 3 ... 169