Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Md. Alamgir Hossan

Pages: [1] 2 3 ... 44
1
ক্যাম্পাসের বাইরে পা রাখিনি প্রায় দেড় মাস হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডর্মে থাকছি, ক্লাস করতে হচ্ছে অনলাইনে। এমন বিচিত্র অভিজ্ঞতা শুধু আমার কেন, মনে হয় যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্যই বিরল।

আমি চীনের হুঝো শহরের হুঝো ইউনিভার্সিটিতে ভিজ্যুয়াল আর্ট ডিজাইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছি। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক শিক্ষার্থীই দেশে ফিরে গেছেন। আমার যাওয়া হয়নি। কারণ যে শহরে থাকি, সেখানে কোনো বিমানবন্দর নেই। দেশে ফিরতে হলে আমাকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অন্য শহরে যেতে হবে। বাসে, ট্রেনে, মানুষের ভিড়ে পড়তে হবে। তার চেয়ে ক্যাম্পাসটাই আমাদের জন্য নিরাপদ। এমনকি মাঝেমধ্যে মনে হয়, দেশে থাকলেও হয়তো এতটা নিরাপদ বোধ করতাম না।

জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে যখন প্রথম করোনাভাইরাসের কথা শুনলাম, তখন আমাদের ক্যাম্পাস বন্ধ। লুনার ফেস্টিভ্যালের (চীনা নববর্ষের উৎসব) ছুটিতে হুঝো ইউনিভার্সিটির প্রায় ১৭ হাজার চীনা শিক্ষার্থী তখন বাড়ি চলে গেছে। তখনো সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। লুনার ফেস্টিভ্যালের পরই মূলত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল। হঠাৎ ঘোষণা এল, ২৭ জানুয়ারি বিকেলের পর থেকে আমরা আর ক্যাম্পাস থেকে বের হতে পারব না। যারা দেশে ফিরে যাবে, শুধু তারাই বেরোনোর অনুমতি পাবে। সেই থেকে আমরা প্রায় আড়াই শ–এর বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডর্মে থাকছি। শুরুর দিকে, প্রায় এক মাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আমাদের দুই বেলা খাবার দেওয়া হয়েছে। এখন অবশ্য ক্যানটিন খোলা, নিজেরাই কিনে খেতে পারছি। রুম থেকে খুব একটা বের হই না। দিনে দুইবার করে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। কারও জ্বর হলেই তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়।

এত কড়াকড়ির মধ্যেও পড়ালেখায় কিন্তু কোনো ছাড় নেই। নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট করতে হচ্ছে। যে যেখানেই থাকুক, অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে সময়মতো। ‘গ্রুপ অ্যাসাইনমেন্ট’ও করতে হচ্ছে। আমরা একেকজন একেক জায়গায় আছি। অনলাইনে আলোচনা করে সব ঠিকঠাক করে নিতে হচ্ছে। এরই মধ্যে অবশ্য অনলাইনে অনেক বিভাগের লাইভ ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। এখানে লাইভ ক্লাসের জন্য আলীবাবার একটা অ্যাপ ব্যবহার করা হয়, নাম ডিংটক। সামনের সপ্তাহ থেকে আমাদেরও লাইভ ক্লাস হবে। জুলাইতে পরীক্ষা। তত দিনে আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে। আবার আমাদের বন্ধুরা ফিরে আসবে। আমরা ক্লাস করব, ক্যাম্পাসের বাইরে ঘুরতে যাব। নির্দ্বিধায় বন্ধুর কাঁধে হাত রাখব। দম নেব বুক ভরে।

চীনের হুঝো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে রয়ে গেছেন, প্রতি দিন দুবার করে মাপা হয় তাঁদের শরীরের তাপমাত্রা। ছবি: রাহাত কবির
চীনের হুঝো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে রয়ে গেছেন, প্রতি দিন দুবার করে মাপা হয় তাঁদের শরীরের তাপমাত্রা। ছবি: রাহাত কবির
এক নতুন অভিজ্ঞতা : মো. মেহেদী হাসান

জানুয়ারির শুরু থেকেই চীনা নববর্ষ উপলক্ষে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল আমার চীনা বন্ধুরা। তখনো জানতাম না, এই ছুটিতে বাড়ি ফেরা হবে আমারও। আমি চীনের শ্যাংডং প্রদেশের ঝাওঝুয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। যন্ত্রকৌশলে (অটোমেশন অ্যান্ড ডিজাইন) স্নাতক করছি। চীনের উহান থেকে করোনা যখন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল, তখন আরও অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ফিরে আসি দেশে।

একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এমনিই আমাদের ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কথা ছিল। করোনার কারণে ছুটি বাড়ানো হয় আরও ১০ দিন। কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার শুরু হয়ে গেছে শিক্ষা কার্যক্রম। ২ হাজার কিলোমিটার দূরে বসেও নিয়মিত ক্লাস করছি। অনলাইনে ভিডিওর মাধ্যমে শিক্ষকেরা আমাদের পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছেন। নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে আমাদের কোর্সগুলোর পাঠ্যক্রমে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমি যেহেতু প্রকৌশলের ছাত্র, আমাদের পড়ালেখা মূলত ব্যবহারিকনির্ভর। কিন্তু এখন তত্ত্বীয় ক্লাসের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। সব স্বাভাবিক হলে হয়তো ব্যবহারিক ক্লাস করে আমরা ঘাটতিটুকু পুষিয়ে নেব।

চীনা শিক্ষকেরা ক্লাস নিচ্ছেন উই চ্যাট বা কিউকিউয়ের মতো অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে। যেসব শিক্ষক অন্যান্য দেশে আছেন, তাঁরা ক্লাস নিচ্ছেন মেসেঞ্জারে। কিন্তু পড়ালেখার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। প্রতিটা ক্লাসের আগেই শিক্ষকেরা পিডিএফ-এর মাধ্যমে কী কী পড়ানো হবে, তা পাঠিয়ে দেন। আমরা আগে থেকে প্রস্তুতি রাখি। আবার প্রতিটা পিডিএফ-এর শেষে কিছু বাড়ির কাজ দেওয়া থাকে। অতএব ক্যাম্পাস বন্ধ, কিন্তু আমাদের আসলে ছুটি নেই। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ১০ এবং বিকেল ৪টা থেকে ৬টা নিয়ম করে শিক্ষকেরা অনলাইনে থাকেন। এই সময়ে আমরা আমাদের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারি। তবে শিক্ষকেরা শুধু যে পড়ালেখার ওপরই জোর দিচ্ছেন, তা নয়। নিয়মিত আমাদের পরিবারের, দেশের খোঁজ নিচ্ছেন। সাহস দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে এটা একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।

এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই ‘গ্লোবাল ভিলেজ’–এর ধারণাটা আরও ভালো করে বুঝতে পারলাম। জানলাম, জরুরি অবস্থায় প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারে। মানুষের জীবনে বাধা আসবে, দুর্যোগ আসবে, তবু থেমে থাকলে তো হয় না। এর মধ্য দিয়েই আমাদের তাকাতে হয় সামনের দিকে।

2
বিশ্বের ১৭৩টি দেশের ৩ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এ পর্যন্ত সাড়ে ১৪ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত মানুষ ও মৃত্যুর হার লাফিয়ে বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ছাড়া অন্য দেশগুলো খুব সফল হয়নি। এরপরও চেষ্টা চলছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ঠেকানোর।

চীন পথ দেখাচ্ছে

গত বছরের ডিসেম্বরের চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে নভেল করোনাভাইরাস বা ‘কোভিড–১৯’। চীনে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আগে গোটা উহান লকডাউন বা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আক্ষরিক অর্থেই চীনের এ শহরের লোকেরা বাসা থেকেও বেরোতে পারেনি। এরপরও রোগটি চীনের অন্যান্য এলাকায় পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়া না ঠেকানো গেলেও অন্যান্য অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা খুবই নগণ্য। অর্থাৎ, উহান বন্ধ করে দেওয়ায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ব্যাপক আকারে আর চীনে ছড়িয়ে পড়েনি।

চীন গোটা উহানকে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করেছে। এ জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছে।


করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে ১০ দিনের মধ্যে বিশেষায়িত হাসপাতাল বানানো হয়েছে। এ ছাড়া চীনের বহু হোটেলকে অস্থায়ী হাসপাতাল বানানো হয়েছে। সেখানকার মানুষকে গণহারে পরীক্ষা করা হয়েছে।


গত জানুয়ারি মাসে চীন উহান শহরকে কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে এবং এর ১ কোটি ১১ লাখ জনসংখ্যাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠায়। এই প্রক্রিয়া পরে অনুসরণ করা হয় পুরো হুবেই প্রদেশের জন্য। পাঁচ কোটি মানুষকে গণ-আইসোলেশনে পাঠায়। ৪২ হাজার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হুবেই প্রদেশে পাঠানো হয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য। এ সময় ৩ হাজার ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হন এবং ১৩ জন মারা যান।

এ সময় চীনের ব্যাপক মানুষ মাস্ক পরতে শুরু করে। চীন এ সময় প্রতিদিন ১৬ লাখ মাস্ক উৎপাদন করেছে। পরিস্থিতির ভিত্তিতে ‘সবুজ’, ‘হলুদ’ ও ‘লাল’ চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নাগরিকদের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অনেকে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়ার সময় এসব এলাকা এড়িয়ে গেছেন।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির এসব ব্যবস্থা নেওয়ায় ৮১ হাজার ৪৫৪ জন আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছে ৩ হাজার ২৭৪। ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭২ হাজার ৮১৭ জন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী হাসপাতালগুলো। চীন এখন সারা দুনিয়ার বহু দেশে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, করোনা শনাক্তকরণ কিট, মাস্কসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে।

আর সে কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে মোকাবিলায় চীন আশার আলো দেখাচ্ছে। অর্থাৎ চীনা পথে করোনাভাইরাসকে মোকাবিলা করার ওপর জোর দিচ্ছেন সারা দুনিয়ার বিশেষজ্ঞরা।

করুণ অবস্থা ইতালির
এ পর্যন্ত সব থেকে বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ইতালিতে। জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির হিসাবমতে, ইতালিতে এখন পর্যন্ত ৫৯ হাজার ১৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে মারা গেছে ৫ হাজার ৪৭৬ জন। ১২ মার্চ থেকে ইতালির সরকার বেশির ভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। এরপরও থামছে না মৃত্যুর মিছিল।

লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার একটি কারণ হতে পারে দেশটির জনসংখ্যায় প্রবীণদের সংখ্যাধিক্য। নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালির বাসিন্দাদের প্রায় ২৩ শতাংশের বয়স ৬৫ বা তার বেশি। দেশটিতে বসবাসরত মাঝবয়সী জনসংখ্যা ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ। দ্য লোকাল–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালিতে যারা এই সংক্রমণে মারা গেছে, তাদের বেশির ভাগের বয়স ৮০ থেকে ৯০।

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক ব্যক্তি ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা ক্যানসারে ভুগছিলেন। অনেকে আবার ধূমপান করতেন। সেই কারণেই তাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গিয়েছিল।
চীন ইতিমধ্যে ইতালির জন্য পরীক্ষার কিট, মাস্ক, ওষুধ, চিকিৎসকসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি পাঠিয়েছে। আজ সোমবার রাশিয়া বড় আকারে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চিকিৎসক পাঠিয়েছে ইতালিতে।
ইতালিতেও ভালো খবর আছে। সেই ভালো খবরের নাম হলো ইতালির ছোট্ট শহর ভো। এ শহরে সব বাসিন্দাকে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করার পর দারুণ সফলতা পেয়েছে। শহরটিতে এখন সংক্রমণের সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে।
ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পাদুয়ার অণুজীববিজ্ঞানের অধ্যাপক আন্দ্রেয়া ক্রিসান্তি এবিসির দ্য ওয়ার্ল্ড টুডেকে বলেন, ‘আমরা সবাইকে পরীক্ষা করেছি। তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ইতিমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করি।’ তিনি আরও জানান, মোট বাসিন্দার ৩ শতাংশ (৮৯ জন) মানুষের শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। কোনো লক্ষণ নেই, এমন মানুষের শরীরেও করোনা শনাক্ত করা হয়। বিষয়টি গবেষকদের জন্য ছিল খুবই উদ্বেগের। ভো শহরে সংক্রমণ শূন্যে নেমে এসেছে। সব নাগরিকের করোনা পরীক্ষার পর মেলে এই সফলতা।


ইরানের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ
ইরানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ৬৩৮ জন। করোনাভাইরাসে মারা গেছে ১ হাজার ৬৮৫ জন। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, দেশটিতে ঠিক কত পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, তার সঠিক তথ্য নেই।
বিশ্বে যেসব দেশে করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয়েছে, তার মধ্যে ইরান অন্যতম। ইরানের জনগণের মধ্যে প্রবল ধারণা, ইরানের সরকার করোনাভাইরাস সংক্রমণের মাত্রা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এর বড় কারণ হলো, ইরানের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২১ ফেব্রুয়ারি। এ নির্বাচনের আগে করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সরকার মুখ খোলেনি। বিপুল মানুষ নির্বাচনে ভোট দিতে এসে ও প্রচারণায় যোগ দিয়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশটির সরকারের একজন উপদেষ্টা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
ইরানে ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি বড় ঘটনা ঘটে যায়। একটি ইসলামিক অভ্যুত্থানের ৪১ বছর পূর্তি, অন্যটি দেশটির সংসদ নির্বাচন। ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিজয় দিবস। এর কিছুদিন আগেই ইরানে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

পরীক্ষা, পরীক্ষা ও পরীক্ষার নীতি নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রথমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এরপরই দেশটি নাটকীয়ভাবে করোনাভাইরাসকে আটকে দিতে সমর্থ হয়। এর কারণ হলো, ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা। উপসর্গ দেখা দিক বা না দিক, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দেশটির নাগরিকদের পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এখন পর্যন্ত দেশটি ২ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে পরীক্ষা করে ফেলেছে। প্রতিদিন দেশটি বিনা মূল্যে ১০ হাজার লোকের পরীক্ষা করছে।

এ ব্যাপারে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সংক্রামক রোগের উদ্ভব বিষয়ের অধ্যাপক ওই ইং ইয়ং বলেছেন, তাঁরা (দক্ষিণ কোরিয়া) যেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং লোকজনকে পরীক্ষা করেছে, তা উল্লেখ করার মতো।

অধ্যাপক প্যানগেস্তো জানান, কিছু দেশে পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট কিট নেই। তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে পরীক্ষা করার বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে হবে। উপসর্গ রয়েছে, কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়নি এবং এখনো ভাইরাস ছড়াচ্ছেন, এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা আরও বেশি জরুরি। এ কারণে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৯৬১ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ রোগে মারা গেছেন ১১১ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ৩ হাজার ১৬৬ জন।

জার্মানি
জার্মানিতে পাঁচ ফুট দূরত্বের মধ্যে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল কোরান্টিনে। কারণ, ৬৫ বছর বয়সী ম্যার্কেল ভাইরাসে আক্রান্ত একজন চিকিৎসকের সংস্পর্শে এসেছিলেন। দেশটির সরকার স্কুল এবং অনেক ব্যবসা, জনসমাগমস্থল বন্ধ করেছে। দেশটিতে ২৪ হাজার ৮৭৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৯৪ জন।

যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ২২৪। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৪৭১ জন। এর মধ্যে সর্বাধিক মারা গেছে দেশটির নিউইয়র্ক শহরে ৯৯ জন। ব্যাপকভাবে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার কারণে দেশটির মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


জাপানের ওষুধ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে
জাপানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০১ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৪১ জন। জাপান ভাইরাসটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়া থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।
অন্যদিকে চীনের চিকিৎসা কর্মকর্তারা বলেছেন, জাপানে ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হওয়া একটি ওষুধ করোনার চিকিৎসায় ব্যবহার করে তারা সফলতা পেয়েছে। চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ঝ্যাং সিনমিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ফাভিপিরাভির নামের ওই ওষুধ প্রস্তুত করেছে জাপানের বহুজাতিক কোম্পানি ফুজিফিল্মের সহযোগী ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টয়ামা কেমিক্যাল। এটি একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ। ওষুধটি চীনের উহান ও শেনজেন এলাকার ৩৪০ জন করোনা সংক্রমিত রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়। এতে ব্যাপক ও কার্যকর সফলতা পাওয়া গেছে।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে এক খবরে জানায়, যে রোগীদের ওপর ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়েছে, তারা গড়ে চার দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে। যেখানে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া অন্য রোগীদের সেরে উঠতে সময় লেগেছে ১১ দিন। এ ছাড়া রোগীদের বুকের এক্স-রের মাধ্যমে জানা গেছে, যেসব রোগীর শরীরে ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের ফুসফুসের অবস্থা ৯১ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। যাদের ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়নি, তাদের ওই সময়ে ফুসফুসের উন্নতি ঘটেছে ৬২ শতাংশ।

5
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ করার জন্য সোশ্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব ব্যাপারটা কী?

এটা হলো নিজের বাসায় থাকা, ভিড়ে না যাওয়া, একজন আরেকজনকে স্পর্শ না করা


১. আমি কি বাজার করতে যেতে পারব?

হ্যাঁ। নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে যেতে পারেন। কম যাবেন। যাবেন তখন, যখন কম লোক থাকে বাজারে। সেখানে যাবেন, যেখানে কম ভিড় থাকে। মোটকথা ভিড় এড়িয়ে চলুন।
বাজার থেকে বের হয়েই হাতে স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। এসেই ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেবেন। তরকারি ফল ধুয়ে নেবেন। বক্স নাড়ার পরই হাত ধোবেন।
খাবার কিনে মজুত করবেন না। খাদ্যশস্য কম পড়ার কোনো কারণ ঘটেনি।

২. আমি কি খাবার অর্ডার দিয়ে বাসায় এনে খেতে পারব?

হ্যাঁ। খাদ্য থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর কথা শোনা যায়নি। তবে যে প্যাকেটে খাবার আনা হবে, সেটা ধরার পর হাত ধুয়ে নিতে হবে। আর কাঁচা সালাদ ফল বাইরে থেকে নিশ্চয়ই আনাবেন না। আর যিনি খাবার নিয়ে আসবেন, তাঁকে বলবেন খাবার দরজার বাইরে রেখে দিতে। দাম ও টিপস দেবেন অনলাইনে। (আমাদের দেশে এটা কীভাবে হবে, আমি জানি না।)

৩. আমি কি গণপরিবহন বাস, ট্রেন ব্যবহার করব?

যদি পারেন, গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন। তা না হলে সঙ্গে করে স্যানিটাইজার নিয়ে যান। হাতল ধরার পরেই হাত পরিষ্কার করুন। নামার সঙ্গে সঙ্গে হাত পরিষ্কার করুন।

৪. অফিস তো ছুটি দিচ্ছে না। কী করব?

যতটা সম্ভব সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং করুন। দরকার হলে, মাস্ক ব্যবহার করুন।

৫. আমি কি সব জায়গায় যেতে পারব?

আপনি যতটা পারেন, বাসায় থাকুন। হাসপাতালে, বাজারসদাই করতে যেতে হতেই পারে। সিনেমা, থিয়েটার, প্রার্থনাগৃহ, জাদুঘর—সব বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব জায়গায় ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে। এখন না।

৬. আমি কি ভ্রমণ করতে পারব?

না। আপনার এখন ভ্রমণ, দেশের ভেতরে বা বাইরে, করা নিষেধ। বাস, ট্রেন, প্লেন, জাহাজ, লঞ্চ লোকে ভরা থাকে। তবে যাঁদের কাজই ভ্রমণসংক্রান্ত, যেমন এয়ারলাইনসের ক্রু, ট্রেনের চালক, তাঁদের কথা আলাদা।

৭. আমি কি মাস্ক পরে থাকব?

সম্ভবত নয়। মাস্ক রোগীদের হাঁচি–কাশির ছিটা বাইরে যেতে দেয় না। কিন্তু বাইরের ভাইরাস আপনার নাকেমুখে প্রবেশ ঠেকাতে পারে না। আপনার নিজের হাঁচি–কাশি থাকলে দয়া করে বাইরে বের হবেন না।

৮. আমি কি ব্যায়াম করব?

হ্যাঁ। ঘরে। ঘরের বাইরে ফাঁকা জায়গায়। কিন্তু জিমে নয়।

৯. আমি কি চিকিৎসকের কাছে যেতে পারব?

খুব বেশি দরকার না হলে নয়। করোনাভাইরাস সন্দেহ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রথমে ফোনে যোগাযোগ করবেন।

১০. রোগী দেখতে যাব?
না।

১১. আমি কি প্রবীণ স্বজন-পরিজনদের দেখতে যাব?

না। ফোনে খোঁজ নিন। বাজারসদাই লাগলে সাহায্য করুন।

১২. আমার বন্ধুরা কি আমার কাছে আসতে পারবে?

না। ফোনে কথা বলুন। ভিডিও চ্যাট করুন।

১৩. বাচ্চারা কি খেলতে পারবে?

বাইরে একা একা? হ্যাঁ। বাইরে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে? না। বাইরের বাচ্চাদের সঙ্গে নয়। কারণ, তারা পরস্পরকে ধরে ফেলবে। হাত ধোয়ার নিয়ম ভুলে যেতে পারে। স্লাইড ইত্যাদি কারও সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। কাজেই পার্কেও নিয়ে যাওয়া যাবে না।

১৪. আমি কি আমার সন্তানের কাছে যেতে পারব?

হ্যাঁ। সাধারণভাবে হ্যাঁ। তবে যদি আপনি মনে করেন দুজনের একজন এরই মধ্যে সংক্রমিত হয়ে আছে, তাহলে দূরত্ব বজায় রাখুন।

১৫. আমার রুমমেট হাসপাতালে চাকরি করেন। আমি কি তাঁর থেকে দূরে থাকব?

হ্যাঁ।

১৬. কত দিন এই রকম সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং করতে হবে?

সম্ভবত কমপক্ষে পাঁচ মাস। পরে আবারও করতে হতে পারে। এটা একেবারে সেরে যাবে না সহসা। ঢেউয়ের মতো আসতে থাকবে।

9
Thanks for post

13
Life Science / অফিসের কাজে হলে ভুল...
« on: March 14, 2020, 09:04:52 AM »


হয়তো অফিসের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ই-মেইল পাঠাচ্ছেন। অথচ অ্যাটাচমেন্টে অতি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ফাইল যোগ না করেই ‘সেন্ড’ করে দিলেন। এর পরের অবস্থা কল্পনা করা কঠিন কিছু নয়। কিন্তু ভাবতে গিয়ে গা একটু শিরশির করে!

অফিসে ভুল হওয়া খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়। কাজ করলে টুকটাক ভুল হবেই। তবে কখনো কখনো ভুল খুব বড় হয়ে গেলে তা নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়। এমনকি চাকরি নিয়েও টানাটানি হতে পারে। তাই কাজে ভুল হওয়ার পর আপনি কীভাবে তা সামাল দেবেন, তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


কর্মক্ষেত্রে ভুল ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলে। বেশির ভাগ সময়ই নিজের আত্মপরিচয় বা নিজের কাছে নিজের যে ভাবমূর্তি থাকে, সেটি শঙ্কায় পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাককম্বস স্কুল অব বিজনেসের সেন্টার ফর লিডারশিপ এক্সিলেন্সের সহপরিচালক ক্যারোলিন বারটেল এবং রস স্কুল অব বিজনেসের সেন্টার ফর পজিটিভ অর্গানাইজেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন ডাটন এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁদের মতে, কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষ নিজের একটি ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন। সহকর্মীদের কাছেও সবাই নিজের একটি নির্দিষ্ট ও আদর্শ ‘চেহারা’ সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু কাজে বড় ধরনের ভুল হলে তা ভেঙে পড়ে। এতে নিজের আত্মবিশ্বাসে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা দেয়।

জাপানের আকিও মোরিতার নাম শুনেছেন? গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তিনি প্রথম রাইসকুকার বানিয়েছিলেন। সেই রাইসকুকারে চাল ভালোমতো সেদ্ধ হওয়ার বদলে পুড়ে কড়কড়ে হয়ে যেত। প্রথম দিককার সেসব রাইসকুকার তাই বাজারে পাত্তাও পায়নি। ওই ভুল করার পর কিন্তু আকিও মোরিতা থেমে যাননি। বরং দ্বিগুণ উৎসাহে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সেই পরিশ্রমের ফলও মিলেছে। আজও আছে আকিও মোরিতার ওই ‘ছোট্ট’ কোম্পানি, নাম ‘সনি’!

মোদ্দা কথা হলো আপনার ভুল হতেই পারে, আপনি একাধিকবার ব্যর্থ হতেই পারেন। কিন্তু চেষ্টা থামিয়ে দিলে চলবে না। কারণ, শুধু এর মাধ্যমেই ভুল শোধরানো যায়। এবার আসুন দেখে নেওয়া যাক অফিসের কাজে ভুল হলে কী করা যেতে পারে।

১. একটু যাতনা, মন্দ না

ইচ্ছে করে কেউ ভুল করে না। কিন্তু ভুলের পর মানসিক যাতনা হতেই পারে। ওই আফসোস বা আক্ষেপ অনুভবে বাধা দেওয়ার দরকার নেই। স্বাভাবিকভাবেই কাজে ভুল হলে হতাশা আসবে, লজ্জাবোধও হবে। তবে এ নিয়ে মাথা কুটে মরার অর্থ নেই। সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড অনুতাপে ভুগতে পারেন। এরপর সেই নেতিবাচক ভাবনা মন থেকে বের করে দিন। বেশি নেতিবাচক হলে আর ভুল শোধরানো হবে না। তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে, ইতিবাচকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। মন থেকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন ভুলের বিষয়টি। এরপর ভাবুন ভবিষ্যৎ নিয়ে।

২. দায় নিন

নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়া দোষের কিছু নয়। কাজে ভুল হলে বসের সামনে সরাসরি বলে দিন, ‘আমি ভুল করেছি’ বা ‘আমার কাজটি ঠিক হয়নি’। কোনো অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা না করাই ভালো। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আরও অসন্তুষ্ট হতে পারেন। ভুলের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত। তবে ক্ষমা চাইতে গিয়ে আবার বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই। পুরো বিষয়টি হতে হবে সংক্ষিপ্ত।

৩. কী করবেন, ঠিক করুন

ভুল করলেন, স্বীকারও করলেন। এবার ভুল শোধরানোর উপায় খুঁজুন। আপনার ভুলের কারণে প্রতিষ্ঠান কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আপনাকেই করতে হবে। শুরুতেই নিজে একটি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করুন। এ ক্ষেত্রে বস ও সহকর্মীদের পরামর্শও নিতে পারেন। আপনার ভুলের কারণে হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি প্রশমনের চেষ্টা করুন। যদি আংশিকও সফল হন, তবে সেটিও আপনার সাফল্য। এতেই আপনার মনোযন্ত্রণার উপশম হবে।

৪. ভুল এড়াতে কী করবেন, তা জানান

ভবিষ্যতে যেন কাজে ভজকট না হয়, তার জন্য কী করতে চাইছেন, তা ঊর্ধ্বতনদের জানান। ভুল থেকে কী শিখলেন, তা জানাতেও ভুলবেন না। এতে করে কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার ভাবমূর্তি ইতিবাচক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আপনার দক্ষতাও বাড়বে। হয়তো এতে তাৎক্ষণিক ফল মিলবে না, কিন্তু এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

৫. নিজের যত্ন নিন

শরীরের সুস্থতার সঙ্গে নৈপুণ্যের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। শরীর সুস্থ না থাকলে কাজেও মন বসবে না। আর মনোযোগ না থাকলে কাজে ভুল হবে হরদম। তাই ঘুম ঠিকমতো হওয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা—এসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখুন। মন প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত হতাশাকে ব্যক্তিজীবনে ঢুকতে দেবেন না। এভাবে শরীর-মন সুস্থ রাখতে পারলে কাজে ভুলের পরিমাণও কমে আসবে।

14
সেই আদিকাল থেকে মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে যে ক্ষুদ্র দানব, তার নাম ‘ভাইরাস’। লাতিন শব্দ ‘ভাইরাস’–এর অর্থ ‘বিষ’। আবার মানুষ এই ‘বিষ’কে মানবকল্যাণেও কাজে লাগাচ্ছে ইদানীং। তবে এটা নিশ্চিত যে এই ভয়ংকর ক্ষুদ্র দানবদের পুরোপুরি আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপে বন্দী করতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

অতি ক্ষুদ্র ভাইরাসের আছে ভয়ংকর মারণ ক্ষমতা। শুধু বিশ শতকেই গুটিবসন্ত প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রায় ৩০ কোটি মানুষের। প্রথম কে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তা জানা না গেলেও এ পৃথিবীর সর্বশেষ আক্রান্ত ব্যক্তিটি ছিলেন আমাদের বাংলাদেশের রহিমা বানু। বর্তমানে এই দানবটিকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। আরেকটি বিভীষিকার নাম স্প্যানিশ ফ্লু। ১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সালের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণ হারায় পাঁচ থেকে দশ কোটি মানুষ, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন শতাংশ।


পৃথিবীতে জানা-অজানা বহু ভাইরাস আছে। এর মধ্যে ছয়টি ভাইরাসকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। সে ছয়টি ভাইরাসের সঙ্গে ইদানীং যোগ হয়েছে করোনাভাইরাস।

প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে কর্মরত বিজ্ঞানীরা। ছবি: লেখক
প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে কর্মরত বিজ্ঞানীরা। ছবি: লেখক
ইবোলা ভাইরাস
এ পর্যন্ত ঘাতক ভাইরাসের শীর্ষে আছে ইবোলা ভাইরাস। এখন পর্যন্ত এর ছয়টি প্রকরণ শনাক্ত করা গেছে। প্রকরণভেদে ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর হার ২৫ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে পারলে তাকে বাঁচানো সম্ভব। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রথম দেখা যায় ১৯৭৬ সালে। একই সঙ্গে নাইজার, সুদান, ইয়াম্বুকু ও রিপাবলিকান কঙ্গোতে। ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালে ইবোলা মহামারিতে আফ্রিকার পশ্চিমাংশের দেশগুলোতে ১১ হাজার ৩৩৩ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ২০১৯ সালে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসে ২ হাজার ৯০৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং এদের মধ্যে ১ হাজার ৯৫৩ জন প্রাণ হারায়। আজ পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোনো কার্যকর প্রতিষেধক তৈরি করা যায়নি। ইবোলা ভাইরাস সংক্রামিত মানুষের রক্ত, লালা বা যেকোনো নিঃসৃত রস থেকে কিংবা শরীরের ক্ষতস্থানের মাধ্যমে অপরের শরীরে সংক্রামিত হয়ে থাকে।

রেবিজ ভাইরাসের থ্রিডি ছবি। ছবি: উইকিপিডিয়া
রেবিজ ভাইরাসের থ্রিডি ছবি। ছবি: উইকিপিডিয়া
রেবিজ ভাইরাস
রেবিজ ভাইরাস নিউরোট্রপিক অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এ ভাইরাসের সংক্রমণে যে রোগটি হয়, তার নাম জলাতঙ্ক। প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিবছর পুরো পৃথিবীতে জলাতঙ্কের আক্রমণে প্রাণ হারায় ৫৯ হাজার মানুষ। সংক্রামিত প্রাণীর লালায় রেবিজ বা জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস বিচরণ করে। সেসব প্রাণী মানুষকে কামড়ালে মানুষ সংক্রামিত হয়। কার্যকর ভ্যাকসিন থাকা সত্ত্বেও আক্রান্ত ব্যক্তিকে সময়মতো ভ্যাকসিন না দেওয়ার কারণে জলাতঙ্কের আতঙ্ক থেকে এখনো মুক্ত হওয়া যাচ্ছে না।

ভাইরাসটি সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে এবং এর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে। সময়মতো টিকা না দিতে পারলে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু অবধারিত। মস্তিষ্কে রেবিজ ভাইরাস যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখনই রেবিজের লক্ষণগুলো দেখা দিতে থাকে। লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে তীব্র খিঁচুনি ও পক্ষাঘাতে রোগীর মৃত্যু হয়।

এইচ৫এন১ ভাইরাসের একটি সাব টাইপ এইচ১এন১। ছবি: উইকিপিডিয়া
এইচ৫এন১ ভাইরাসের একটি সাব টাইপ এইচ১এন১। ছবি: উইকিপিডিয়া
এইচ৫ এন ১ (H5 N1) রূপান্তরিত এবং মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
এই ভাইরাসটি মিউট্যান্ট। ডাচ ভাইরোলজিস্ট রন ফুচিয়ে গবেষণাগারে বার্ড ফ্লু ভাইরাসকে রূপান্তরিত করেন। এ ভাইরাসটি মারাত্মক সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ভীষণ বিপজ্জনক বিধায় ২০১১ সালে আমেরিকান বায়োসফটি এজেন্সি (এনএসএবিবি) এই ভাইরাস নিয়ে গবেষণা ও প্রকাশনার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। গবেষকেরা আশ্বস্ত করেছেন, এই দানব ভাইরাসটির স্থান হয়েছে গবেষণাগারের অত্যন্ত সুরক্ষিত প্রকোষ্ঠে। সেখান থেকে পালানোর কোনো পথ খোলা নেই। এমনিতেই সাধারণ বার্ড ফ্লু ভাইরাসের মারণ ক্ষমতা ৬০ শতাংশের ওপরে। এরপরও উচ্চ মারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ ভাইরাসটি নিজে থেকেই ভোল পাল্টাতে অর্থাৎ রূপান্তরিত হতে পারে। সে জন্য এটি নিয়ে বিশেজ্ঞরা বিশেষ বেকায়দায় আছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ২ লাখ ৯০ হাজার থেকে সাড়ে ৬ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা দায়ী। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে এই মৌসুমে তিন কোটির বেশি মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এ ভাইরাসে ফ্রান্সে ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে প্রাণ হারিয়েছে ৮ হাজার ১০০ জন।

মারবুর্গ ভাইরাস নিউক্লিয়োক্যাপসিডের ক্রিও ইএম পুনর্নির্মাণ। ছবি: উইকিপিডিয়া
মারবুর্গ ভাইরাস নিউক্লিয়োক্যাপসিডের ক্রিও ইএম পুনর্নির্মাণ। ছবি: উইকিপিডিয়া
মারবুর্গ
জার্মানির একটি শহরের নামে এই ফিলোভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। যদিও এটি ইবোলা ভাইরাসের চেয়ে কম মারাত্মক। তবে এ দুটি ভাইরাসের অনেক মিল আছে। উচ্চ মারণক্ষমতা অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ আক্রান্ত মানুষ এ ভাইরাসে মারা যায়। মারবুর্গ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে পঞ্চম বা সপ্তম দিনে সংক্রামিত ব্যক্তির প্রচণ্ড জ্বর এবং সেই সঙ্গে রক্তবমি, মলের সঙ্গে রক্ত, নাক, দাঁতের মাড়ি এবং যোনিপথে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ অসুস্থতার পরে পুরুষদের মধ্যে অর্কিটিস নামক অণ্ডকোষের প্রদাহও দেখা দিতে পারে। আশার কথা, এ ভাইরাস খুব সহজে সংক্রামিত হয় না। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশার কারণে তার মল, প্রস্রাব, লালা বা বমির মাধ্যমে মারবুর্গ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে।

একটি টিইএম মাইক্রোগ্রাফে দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু ভাইরাস। ছবি: উইকিপিডিয়া।
একটি টিইএম মাইক্রোগ্রাফে দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু ভাইরাস। ছবি: উইকিপিডিয়া।
ডেঙ্গু
ডেঙ্গুর আরেকটি নাম আছে, তা হলো ‘ট্রপিক্যাল ফ্লু’। এডিস মশার কামড় দ্বারা সংক্রামিত হয় ডেঙ্গু। অন্যান্য ভাইরাসের চেয়ে কম বিপজ্জনক। ডেঙ্গু ভাইরাস সাম্প্রতিককালে ইউরোপেও হানা দিয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ১৪১টি দেশে আনুমানিক ৩৯ কোটি ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটে। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ডেঙ্গু জ্বরে প্রায় পাঁচ লাখ ব্যক্তি মারাত্মক রক্তক্ষরণকারী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে প্রাণ হারায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

এইচআইভি ভাইরাসের ডায়াগ্রাম। ছবি: উইকিপিডিয়া।
এইচআইভি ভাইরাসের ডায়াগ্রাম। ছবি: উইকিপিডিয়া।
এইচআইভি বা এইডস ভাইরাস
এই ভাইরাসটি পোষক কোষে আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত ঘাপটি মেরে থাকতে পারে। সক্রিয় হয়ে উঠলে পোষক দেহের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিকল করে দিয়ে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, এইডস মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে সাত কোটি মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ এইচআইভিতে মারা গেছে।

১০ মার্চ ২০২০, ব্রিটিশ মেডিকেল বৈজ্ঞানিক জার্নাল The Lancet খবর দিয়েছে, এইডসে আক্রান্ত একজন ব্রিটিশ ব্যক্তির অস্থি–মজ্জা–কোষ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তাকে পুরোপুরি সরিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। তিনি হচ্ছেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যাকে এইডসের কবল থেকে মুক্ত করা গেছে। এইডসের মোকাবিলায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্স
করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্স
নভেল করোনা (Covid-19)
ইদানীং যে ভাইরাসটি সারা বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে, তা হলো করোনাভাইরাসের একটি প্রকরণ নভেল করোনা (Covid-19)। এ পর্যন্ত যে তথ্য আমাদের হাতে আছে, তাতে দেখা যায়, এ ভাইরাসে আক্রান্ত ১০০ জনে প্রাণ হারিয়েছে ৪ জনের কম ব্যক্তি এবং অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে সেরে উঠেছে। করোনা নামের ভাইরাসের নতুন রূপটি এখনো পুরোপুরি উন্মোচন করেনি। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন এর মতিগতি বুঝতে এবং উঠেপড়ে লেগেছেন এর প্রতিষেধক উদ্ভাবনের। এ ব্যাপারে প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা অচিরেই বিশ্ববাসীকে সুখবর দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

15
এলিজাবেথ স্নাইডার থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে। নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তা থেকে ধীরে ধীরে সেরেও উঠেছেন। সম্প্রতি এই সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার গল্প তিনি সবাইকে শুনিয়েছেন। এলিজাবেথ আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি, সেরেও উঠেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলিজাবেথ স্নাইডার নামের এই নারী পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন জৈবপ্রকৌশল বিষয়ে। ৩৭ বছর বয়সী এলিজাবেথ একটি পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন গত ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে। এর পর পরই তাঁর মধ্যে ফ্লু-এর লক্ষণ দেখা দেয়। সেটা ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি। পরে দেখা যায়, ওই পার্টিতে অংশ নেওয়া আরও ৫ জনের মধ্যে ফ্লু-এর লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

ওই সময়কার অবস্থা জানাতে গিয়ে এলিজাবেথ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই খুব ক্লান্তবোধ করছিলাম। কিন্তু এটি অন্যান্য দিনের চেয়ে ভিন্ন ছিল না। সাধারণভাবে ঘুম থেকে উঠে কাজে যাওয়ার সময় আপনার যেমন ক্লান্তবোধ হয়, ঠিক তেমনটাই ছিল। যেহেতু এর আগের সপ্তাহেই আমি কাজে খুব ব্যস্ত ছিলাম, তাই ক্লান্তবোধ হওয়া আমার জন্য আশ্চর্যজনক ছিল না।’


সে দিনের মাঝামাঝি এলিজাবেথের মাথাব্যথা হতে থাকে। জ্বর আসে এবং সারা শরীরে ব্যথা শুরু হয়। এ কারণে সঙ্গে সঙ্গে তিনি অফিস ছেড়ে বাড়ি ফেরেন। বাসায় এসে কিছুটা ঘুমানোর পর এলিজাবেথ বুঝতে পারেন যে, তাঁর গায়ের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে অনেক। থার্মোমিটারে ওঠে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট।


এলিজাবেথ বলেন, ‘ঠিক ওই সময়টায়, আমার শরীর প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে শুরু করে।’ ওই সময় একবার হাসপাতালে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু হাসপাতালে আর যেতে হয়নি। দিন কয়েকের মধ্যেই তাঁর জ্বর কমে আসে।

এরই মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের খবরাখবর পাচ্ছিলেন এলিজাবেথ। কারণ গত জানুয়ারির শেষের দিকেই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছিল। এর পর তা রাজ্যজুড়েই ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ওয়াশিংটনে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এ রোগে দুই ডজনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়ে গেছে।

তবে এলিজাবেথের কাশি ও শ্বাসকষ্ট ছিল না। তাই তিনি ভেবেছিলেন, করোনা বোধ হয় ধরেনি। চিকিৎসক বলেছিলেন, সাধারণ জ্বর হলে যা করার তাই করতে। অর্থাৎ বাসায় বিশ্রাম নেওয়া, বেশি করে পানি পান করা ইত্যাদি।

কিন্তু কিছুদিন পর এলিজাবেথ জানতে পারেন, যে পার্টিতে গিয়েছিলেন, সেখানে অংশ নেওয়া বেশ কয়েক জনের মধ্যে ঠিক একইরকম লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তখনই এলিজাবেথ স্নাইডারের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। ফ্লু সংশ্লিষ্ট একটি গবেষণা কর্মসূচিতে তিনি যুক্ত হন এবং ৭ মার্চ জানতে পারেন যে, তিনি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এলিজাবেথ বলেন, ‘আমি খুব অবাক হয়েছিলাম। কারণ আমি ভেবেছিলাম যে, এটি স্বাভাবিক জ্বর ছিল। লক্ষণও তেমনই ছিল। আমার মা খুব ভয়ে পেয়ে গিয়েছিলেন এই খবরে।’

কিন্তু সাহস হারাননি এলিজাবেথ। তত দিনে ফ্লু-এর বিভিন্ন লক্ষণও কমতে শুরু করেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা খবর পেয়ে তাঁকে ৭ দিন ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেসব তিনি মেনে চলছেন।

বর্তমানে ভালোই আছেন এলিজাবেথ স্নাইডার। সবার প্রতি এলিজাবেথের বার্তা, ‘যদি মনে করেন যে, এই রোগ হয়েছে, তবে দ্রুত পরীক্ষা করান। যদি লক্ষণ প্রাণসংহারী না হয়, তবে স্রেফ বাসায় থাকুন। কিছু প্রতিরক্ষামূলক সাধারণ ওষুধ খান। প্রচুর পানি পান করতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে। প্রয়োজনে সময় কাটাতে টিভি শো দেখুন। আতঙ্কিত হবেন না।’

Pages: [1] 2 3 ... 44