Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Sahadat Hossain

Pages: [1] 2 3 ... 18
1
আঘাতজনিত, ক্ষয়জনিত এবং বাতজনিত কারণে হাঁটুর ব্যথা হয়।

আঘাতজনিত ও বাতজনিত ব্যথা যেকোনো বয়সে হতে পারে। ক্ষয়জনিত ব্যথা ৪০ বছরের বেশি বয়স্ক মানুষদের ভেতর বেশি দেখা যায়।

অস্টিওআরথ্রাইটিস প্রতিরোধের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে।

হাঁটুর ব্যথার জন্য ফিজিওথেরাপি খুবই উপকারী।

প্রতিবছর বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির উদ্যোগে কিছু রোগীর ফ্রি অপারেশন করানো হয়।
আমাদের দেশে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা খুবই প্রচলিত একটি সমস্যা। নানা কারণে এ ধরনের ব্যথা হয়ে থাকে। হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা এবং এর প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলো এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাপ্তাহিক বিশেষ আয়োজন ‘ব্যথার সাতকাহন’–এর শেষ পর্বে।

ডা. বিলকিস ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।

আলোচনার শুরুতে জানা গেল হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথার কারণ সম্পর্কে। মূলত তিনটি কারণে ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। আঘাতজনিত, ক্ষয়জনিত এবং বাতজনিত।

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রধান. অর্থোপেডিক বিভাগ, হলি
ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রধান. অর্থোপেডিক বিভাগ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালছবি: ফেসবুক
আঘাতজনিত ব্যথা খেলাধুলার ইনজুরি বা কোনো দুর্ঘটনায় লিগামেন্টের আঘাত থেকে হাঁটু বা জয়েন্টে ব্যথা হতে থাকে। আবার হাঁটুর জয়েন্টের কাছে কারটিলিস নামের যে নরম হাড় থাকে, সেখানে ক্ষয় দেখা দিলে হাঁটুর ব্যথা হয়। এটি সাধারণত বয়সজনিত কারণে বেশি হয়। একে অস্টিওআরথ্রাইটিসও বলা হয়। রিউমাটিজম আরথ্রাইটিস বা বাতের কারণেও ব্যথা হয়ে থাকে।

আঘাতজনিত ও বাতজনিত ব্যথা যেকোনো বয়সে হতে পারে। ক্ষয়জনিত ব্যথা বয়স্কদের (৪০ বছরের পর) ভেতর বেশি দেখা যায়।

এ ধরনের সমস্যায় হাঁটুতে ব্যথা থাকার পাশাপাশি হাঁটু ফোলা থাকবে, ভাঁজ করতে সমস্যা হবে, হাঁটুর তাপমাত্রা বেড়ে যাবে, হাঁটুর আকৃতির পরিবর্তন হতে পারে, হাঁটু ভাঁজ করতে গেলে শব্দ হয়। এ উপসর্গগুলো থাকলে রোগীরা বেশি করে চিকিৎসকের কাছে এসে থাকেন বলে জানান ডা. নজরুল ইসলাম। এ ব্যথা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর উঠে দাঁড়ালে, সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময়, অনেকক্ষণ হাঁটাচলার পর হতে পারে। এরপর আস্তে আস্তে এর তীব্রতা বেড়ে এমন পর্যায়ে যায় যে রোগী যখন বিশ্রাম নেয় তখনো ব্যথা হতে থাকে।
ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, হাঁটুর ব্যথা হলে শুরুর দিকে চিকিৎসায় গুরুত্ব বেশি দিলে পরবর্তী সময়ে জটিলতা অনেক কম হবে।

আলোচনায় অস্টিওআরথ্রাইটিস সম্পর্কে বলা হয়। এটি হাঁটুর জয়েন্টে বেশি হয়ে থাকে। এর কারণ হিসেবে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শরীরে ওজন যে জয়েন্ট বহন করে, তার ভেতর সবচেয়ে বেশি ভার পড়ে হাঁটুর জয়েন্টে। দুটি লং বোনের (টিবিয়া ও ফিমার) মাঝে এর অবস্থান। এ ছাড়া হিপ ও অ্যাঙ্কেল জয়েন্টেও ব্যথা হয়ে থাকে তবে সেটার হাঁটুর তুলনায় কম।’

ব্যথাসংক্রান্ত উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এ ধরনের রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা প্রথমে কিছু রুটিন চেকআপ করে থাকেন। ব্লাড টেস্টের মাধ্যমে রোগীর ইউরিক অ্যাসিড, ডায়াবেটিস আছে কি না, সেটা দেখে নিতে হবে। আর অবশ্যই এক্স-রে করতে হবে।

অস্টিওআরথ্রাইটিসে অনেক রকমের জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা আছে। যেমন: প্রচলিত ওষুধে কাজ না হওয়া, জয়েন্ট স্টিফ বা শক্ত হয়ে যাওয়া, হাঁটুতে ফ্লুইড জমে যাওয়া, হাঁটুর আকৃতির পরিবর্তন হয়ে যাওয়া অন্যতম।

হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা
ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, অস্টিওআরথ্রাইটিস প্রতিরোধের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথা নিয়ে রোগী চিকিৎসকের কাছে গেলে তাঁরা যেভাবে রোগীকে ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসের গাইডলাইন দেন, সেগুলো অবশ্যই মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। এ গাইডলাইনের ভেতর আছে বেশি করে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি–জাতীয় খাবার খাওয়া, হাঁটু কম ভাঁজ করা, সিঁড়ি দিয়ে ধীরে ধীরে ওঠা, হাইকমোড ব্যবহার করা, চেয়ারে বসে নামাজ পড়া।

ইনফেকশনজনিত বা টিউমারের কারণেও হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। ইনফেকশনের জন্য সেপটিক আরথ্রাইটিস যেকারওই হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ডায়াগনোসিস করে রোগীকে ব্যথার ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, জয়েন্টে সাপোর্ট দেওয়া হয়। কখনো জয়েন্টে অ্যাসপিরিশন বা আরথোডমি নামের জয়েন্টের একটি অপারেশনও করা হয় বলে জানান বিশেষজ্ঞ এ চিকিৎসক।

হাঁটুর জয়েন্টের এখন উন্নত মানের চিকিৎসাপদ্ধতি চালু হয়েছে। বিশেষ করে অপারেশনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এর ভেতর হাঁটুর রিপ্লেসমেন্টের মতো সার্জারি আমাদের দেশে বড় হাসপাতালগুলোয় হচ্ছে। এই অপারেশন অনেক ব্যয়বহুল। তবে ডা. নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির উদ্যোগে কিছু রোগীর ফ্রি অপারেশন করানো হয়।

ব্যথার ওষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা চিন্তা করে রোগীর অন্যান্য রোগ, যেমন কিডনির সমস্যা, অ্যাজমা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে কি না জেনে সেই অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। হাঁটুর জয়েন্টের ব্যথার চিকিৎসায় স্টেরয়েড ইনজেকশন অহরহ দেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞের মতে, এটি একটু জেনেবুঝে দেওয়া উচিত। কোন ক্ষেত্রে কতটুকু দেওয়া যাবে, এটি জেনে নিতে হবে। যেমন ডায়াবেটিক রোগীদের ডায়াবেটিসের মাত্রা কমিয়ে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিতে হবে। আর এই ইনজেকশন বছরে দুটির বেশি দেওয়া যাবে না। দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ডা. নজরুল ইসলাম। 

এ ছাড়া ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, হাঁটুর জন্য এটি খুবই উপকারী। থেরাপি সেন্টারে গিয়ে দুই সপ্তাহের মতো ফিজিওথেরাপি দিলেই যথেষ্ট। পরবর্তী সময়ে যে ব্যায়ামগুলো শিখিয়ে দেওয়া হবে, সেগুলো বাসায় নিয়মিতভাবে করলেই হবে।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9F%E0%A7%81-%E0%A6%93-%E0%A6%9C%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A5%E0%A6%BE

2
এখনকার ডায়েট ট্রেন্ডে সবচেয়ে আলোচিত কিটো ডায়েট। ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রক্তে চিনির মাত্রা কমানোয় কার্যকর এ ডায়েট। এ জন্য ডায়াবেটিস রোগীরা ঝুঁকছেন এর দিকে। কিটো ডায়েট কী এবং ডায়াবেটিস রোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলো এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ইজোরাল মাপস স্বাস্থ্য আলাপন’-এর পঞ্চম পর্বে।

ডা. তেহরীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়াবেটিস ও এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কিটো ডায়েটের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়। ১৯১১ সালের মৃগী বা খিঁচুনি রোগের চিকিৎসার জন্য ভালো কোনো ওষুধ ছিল না। তখন চিকিৎসকেরা কিটো ডায়েট দিয়ে এ রোগের চিকিৎসা করতেন। তখন রোগীদের না খাইয়ে রাখা হতো, এতে শরীরে কিটোনবডি গঠিত হতো। এতে এপিলেপসি কমে যেত।

১৯৩৪ সালে প্রথম এপিলেপসির ওষুধ ফেনাবারবিটাল আবিষ্কারের পর থেকে এর জনপ্রিয়তা কমে যেতে থাকে। এরপর আবার ১৯৯৪ সালে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েও এ রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছিল না, তখন আবার কিটো ডায়েটের আবির্ভাব হয়। এ সময় দেখা গেল এই ডায়েটের ফলে রোগীর ওজন কমতে দেখা যাচ্ছে। তবে এখন সব দেশেই এই ডায়েটের সঠিক ব্যবহারের চেয়ে অপব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকে কিটো ডায়েটের দীর্ঘকালীন প্রভাব এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে না জেনে এটি অনুসরণ করছে। এতে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হচ্ছে।

কিটো ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ ১০ শতাংশ, ফ্যাট ৭০ শতাংশ এবং প্রোটিন ২০ শতাংশ। কিন্তু একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েটে ফ্যাটের পরিমাণ ২০ শতাংশ আর ৭০ শতাংশ ফাইবার থাকতে হয়। কিটো ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে আনার ফলে শরীরের মেটাবলিজম কার্বোহাইড্রেট থেকে ফ্যাটের মেটাবলিজমে পরিণত হয়। এতে শরীরে একটি অ্যাসিড তৈরি হয়, যাকে কিটো অ্যাসিড বলে। এটি শরীরের বিভিন্ন বিপাকক্রিয়ায় দীর্ঘকালীন বা স্বল্পকালীন প্রভাব ফেলে।

প্রায় চার রকমের কিটো ডায়েট আছে এবং প্রতিটির কার্যকারিতা ও ফলাফল নিয়ে হাজার হাজার মানুষের ওপর প্রায় ২৫ বছর ধরে গবেষণা করা হয়েছে। এই গবেষণার ফলাফল ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, যাঁরা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং যাঁরা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করেন, তাঁদের ভেতর মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু যাঁরা ৫০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করেন, তাঁরা অনেক সুস্থ জীবন যাপন করেছেন। কিটো ডায়েটের শুরুতে যে ওজন কমে, তা পুরোটাই গ্লাইকোজেন ভেঙে যে পানি বের হয় তার ওজন। এ ছাড়া শরীরে যখন কিটো অ্যাসিড বেড়ে যায়, তখন সেটি রোধ করতে হাড় থেকে ফসফেট ক্ষয় হতে থাকে। গ্লাইকোজেন, পানি এবং হাড়ের ওজন কমে যাওয়ায় কিটো ডায়েটের প্রথম দিকে হঠাৎ অনেক ওজন কমে যায়।

ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন, অনেক ডায়াবেটিস রোগী নিজের ইচ্ছেমতো কিটো ডায়েট করে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁদের ভেতর অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, কিডনির বিকল বা কিডনিতে পাথর, শরীরের লবণের তারতম্য, যাকে ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্স বলা হয়—এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকে আবার শুনে বা কোথাও পড়েছেন যে কিটো ডায়েট করলে ডায়াবেটিস আর কোলেস্টেরলের ওষুধ খাওয়া লাগে না, তাঁরা হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে, তাঁদের ডায়াবেটিস বেড়ে গিয়ে কিটোঅ্যাসিডিস নামের রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ আরও বলেন, ১৯৯৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত করা একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা কিটো ডায়েট করেছেন, তাঁদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে ৫০ শতাংশ, স্ট্রোকে ৫০ শতাংশ এবং ক্যানসারে ৩৫ শতাংশ মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছে।
ডায়াবেটিস সম্পর্কে ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ, এখানে সবার অনেক টাকা খরচ করার মতো ক্ষমতা নেই। তাই এ দেশে ডায়াবেটিস রোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। তবে এখানে দেখা যায়, মানুষ ডায়াবেটিস হয়ে যাওয়ার পর এটি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য হাঁটেন। প্রতিরোধ করার জন্য হাঁটলে ১০০ জনের ভেতর ৮৪ জনের এ রোগ হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না।

আর কারও যদি ডায়াবেটিস হয়েও যায়, তাহলে এটি নিয়ন্ত্রণে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে হবে, যেখানে ভালো থাকতে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট, ৩০ শতাংশ প্রোটিন ও ২০ শতাংশ ফ্যাট থাকতেই হবে। এ ছাড়া ধূমপান এড়াতে হবে এবং সঠিক মাত্রায় ঘুমাতে হবে। ৬ ঘণ্টা ঠিকমতো না ঘুমালে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হার্ট, কিডনি, চোখ ভালো রাখা কঠিন হবে। আর সবকিছু করার পর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না এলে ওষুধের আশ্রয় নিতে হবে।

কিটো ডায়েটের প্রথম দিকে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা কম দেখা গেলেও ২ থেকে ৪ সপ্তাহের ভেতর এই ডায়েটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে থাকে। একজন ডায়াবেটিস রোগী সুস্থতা কেবল দুই সপ্তাহের না হয়ে যাতে দীর্ঘকালীন হয়—এ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উদ্‌যাপিত হলো। দিবসটি উপলক্ষে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের দিকে বেশি জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা। তবে সাধারণ জনগণের আগে চিকিৎসকের ভেতর সচেতনতা তৈরি করতে হবে বলে জানান ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ কিটো ডায়েট ও ডায়বেটিস নিয়ে দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A7%8B-%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6

3
শরীর সুস্থ রাখতে সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, তাপ উৎপাদন করার জন্য ও নিজেদের কর্মক্ষম রাখতে সুষম খাবারের বিকল্প নেই। খাদ্যের প্রধান ছয়টি উপাদান: শর্করা, আমিষ, স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাবার, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। এগুলো খাবারের তালিকায় সঠিক অনুপাতে উপস্থিত থাকলে তাকে সুষম খাদ্য বলে। নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

সুষম খাদ্যে কোন উপাদান কী রকমভাবে উপস্থিত থাকবে, তা বুঝতে সহজ উপায় হলো খাদ্য পিরামিড দেখে খাওয়া। খাদ্য পিরামিড হলো আমাদের খাদ্য গ্রহণের পরিমাণের ডায়াগ্রাম্যাটিক উপস্থাপনা। আমাদের দেহের জন্য কোন খাদ্য উপাদান কতটুকু অনুপাতে প্রয়োজন, তা নিচ থেকে ওপরে ক্রমান্বয়ে সাজালে এই পিরামিড তৈরি হয়। দৈনিক খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে কি না, তা এই পিরামিড দেখে বোঝা যায়।

সুষম খাদ্য পিরামিডের পাঁচটি স্তর রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি স্তর দখল করে আছে শর্করা, শাকসবজি ও ফলমূলজাতীয় খাবার। পিরামিডের নিচু স্তরে শর্করাজাতীয় খাদ্য। এর ওপরের স্তরে শাকসবজি ও ফলমূলজাতীয় খাবার। তার ওপরের স্তরে রয়েছে আমিষজাতীয় খাবার। চতুর্থ স্তরে রয়েছে দুগ্ধজাতীয় খাদ্য এবং পঞ্চম স্তরে রয়েছে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাবার।

শর্করা: সুষম খাদ্য পিরামিডের নিচের সারিতে অবস্থান শর্করাজাতীয় খাদ্যের। আমাদের দেহে শক্তি জোগানের প্রধান উৎস হলো শর্করা। সাধারণত ভাত, রুটি, মুড়ি, খই, চিড়া, ওটস, আলু, নুডলস ও পাস্তা শর্করার প্রধান উৎস। প্রতিদিন ৬-১১ সার্ভিংস শর্করাজাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত। শর্করাজাতীয় খাবারের মধ্যে জটিল শর্করা, যেমন গমের আটার রুটি, লাল চাল, ওটস—এগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।

ভিটামিন ও খনিজ লবণ: সাধারণত শাকসবজি ও ফলমূল ভিটামিন ও খনিজ লবণের প্রধান উৎস। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এই দুটি খুবই জরুরি। দৈনিক ৩-৫ সার্ভিংস শাকসবজি এবং ২-৪ সার্ভিংস ফলমূল গ্রহণ করা উচিত। খাবার তালিকায় গাঢ় সবুজ শাকসবজি, হলুদ ফলমূল, দেশীয় ফলকে প্রাধান্য দিতে হবে।

আমিষ: মাছ, মাংস, কলিজা, ডিম, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে আমিষ রয়েছে। দেহের বৃদ্ধিসাধনে আমিষের বিকল্প নেই। এর মধ্যে প্রাণিজ আমিষের উৎস মাছ, মাংস, ডিম। এগুলোকে প্রথম শ্রেণির আমিষ বলা হয়। অন্যদিকে উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস যেমন ডাল, বীজকে দ্বিতীয় শ্রেণির আমিষ বলা হয়। দৈনিক ২-৩ সার্ভিংস আমিষজাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত।

দুধ ও দুধজাতীয় খাবার: দুধ, দই, ছানা, পনির দেহের ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আমিষের চাহিদা পূরণ করে। দৈনিক ২-৩ সার্ভিংস দুধ বা দুধজাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত।

স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাবার: তেল, ঘি, মাখন, মিষ্টি এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। দৈনিক সামান্য পরিমাণে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে হেলদি ফ্যাট, যেমন: অলিভ, ক্যানোলা, সানফ্লাওয়ার বা বাদামের তেলকে প্রাধান্য দিতে হবে।

এ ছাড়া দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। খাদ্য পিরামিডের ছবি দেখে আপনি প্রতিদিন কোন ধরনের খাবার কতটুকু খাবেন, কোনটা কম কোনটা বেশি—সে বিষয়ে ধারণা পেতে পারেন।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A7%87-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8

4
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করলে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এটা জেনেও আমাদের কিছু করার থাকে না। কারণ, অফিসে কাজ করতে গেলে এটা মেনে নিতেই হবে। কিন্তু আমরা কি জানি, বসে কাজের দরুন শরীরের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব? কিংবা প্রতিদিন এর জন্য কতক্ষণ আমাদের সক্রিয় থাকতে হবে?

সাইকেল চালিয়ে ঘাম ঘরানো যেতে পারে
সাইকেল চালিয়ে ঘাম ঘরানো যেতে পারেছবি: পিকজাবে, পেকজেলসডটকম
সম্প্রতি একটি গবেষণা বলছে, প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট ঘাম ঝরাতে হবে। তবে দুলকি চালে নয়; বরং একটু বেশি কায়িক শ্রম লাগবে। আর ৪০ মিনিট ঠিকঠাক ঘাম ঝরাতে পারলে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা বসে কাজ করলেও সমস্যা হবে না; বরং সেটা পুষিয়ে যাবে।
তবে গবেষণা এ–ও বলছে, টানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ালেও কিছুটা কাজ হবে। সামান্য পায়চারি করতে পারলে তো কথাই নেই।

চার দেশের প্রায় সাড়ে ৪৪ হাজার মানুষ ফিটনেস ট্র্যাকার পরে এই গবেষণায় অংশ নেন। ফলে কোনো তথ্যই মুখের কথা নয়।

যোগাসনেও শরীরকে ফিট রাখা সম্ভব
যোগাসনেও শরীরকে ফিট রাখা সম্ভবছবি: এলি ফেয়রিটেল, পেকজেলসডটকম
নিয়মিতভাবে কায়িক শ্রম করা মানুষের মৃত্যুহার কম বলেও জানা গেছে এই গবেষণার বিস্তারিত বিশ্লেষণে। তবে শুধু যে ব্যায়ামই করতে হবে তা নয়; সাইকেল চালানো, বাগান করা, হাঁটাহাঁটি করা বা কোনো না কোনোভাবে সক্রিয় থাকলেও অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন গবেষকেরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২০ সালের গ্লোবাল গাইডলাইনস অন ফিজিক্যাল অ্যাকটিভিটি অ্যান্ড সেডেনটারি বিহেভিয়ার রিপোর্টের সমান্তরালেই প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণাপত্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকার জন্য ৪০ জন বিজ্ঞানী ছয়টি মহাদেশের মানুষকে নিয়ে কাজ করেছেন।

এই নির্দেশনাকে সময়োপযোগী বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এই দুটো রিপোর্ট এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন পুরো বিশ্ব অতিমারির মধ্যবর্তী অবস্থানে রয়েছে। এমনকি দ্বিতীয় ঢেউ সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

বাচ্চাদেরও উৎসাহিত করা যেতে পারে
বাচ্চাদেরও উৎসাহিত করা যেতে পারেছবি: কেতুত সুবিয়ান্তো, পেকজেলসডটকম
এই পরিস্থিতি মানুষকে আবার গৃহবন্দী করছে। তাতে করে মানুষ আরও অলস হতে বাধ্য হচ্ছে। তা সত্ত্বেও মানুষের উচিত নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া এবং নিষ্ক্রিয়তার কুফল থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।

শুরুতে উল্লেখিত গবেষণাপত্রের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, ওই গবেষণায় প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট মাঝারি থেকে কঠোর ব্যায়ামের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে প্রতি সপ্তাহে ১৫০-৩০০ মিনিট মাঝারি অথবা ৭৫-১৫০ মিনিট কঠোর শারীরিক শ্রমের কথা। তাহলেই বসে থাকার ফলে শরীরের যে সমস্যা তৈরি হবে, তার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

লিফট ব্যবহারের বদলে সিঁড়ি ভাঙা, বাচ্চাদের সঙ্গে খেলাধুলা করা, যোগাসন করা কিংবা নাচ অনুশীলন করা, বাসার কাজ করা, সাইকেল চালানোর মতো এমন কাজে দিনের কিছুটা সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখা গেলে শরীর চাঙা থাকবে।

বয়স্কদেরও কিছুটা সক্রিয় থাকতে হবে
বয়স এবং শরীরের ওজন অনুযায়ী সক্রিয় থাকার সময় নির্ধারণ করাটা বেশ দুরূহ হলেও গবেষকেরা মোটের ওপর ৪০ মিনিটকেই ধরছেন। গবেষকেরা বলছেন, এই কাজে এখনো নতুন নতুন বিষয় উঠে আসার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। যেটা হয়তো সামনে আরও গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

তথ্যসূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%86%E0%A6%A7%E0%A6%98%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE

5
ফুসফুস ক্যানসারের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। আমাদের দেশেও এর বিস্তৃতি ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্বাসযন্ত্রের যাবতীয় রোগের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার সবচেয়ে মারাত্মক। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতা এড়ানো যায়। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলামের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. শেফাতুজ্জাহান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ জাবেদ
এই লক্ষ্যে এসকেএফ অনকোলজি নিবেদিত ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ অনুষ্ঠানের সপ্তম পর্বে অতিথি হিসেবে যোগ দেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. শেফাতুজ্জাহান এবং বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ জাবেদ। এ অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয়—ফুসফুস ক্যানসার।

ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, ফুসফুসের রোগ অনেক ধরনের হতে পারে। তার মধ্যে কিছু রোগ আছে জীবাণুজনিত। এদের মধ্যে কিছুসংখ্যক আছে স্বল্পমেয়াদি জীবাণুজনিত। যেমন নিউমোনিয়া। আবার হঠাৎ করে ফুসফুসে প্রদাহ হতে পারে। এ ছাড়া কিছু জীবাণু আছে যেগুলো লম্বা সময় ধরে আমাদের ফুসফুসে প্রভাব বিস্তার করে। তখন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের একটি অন্যতম রোগ হচ্ছে যক্ষ্মা। আমাদের দেশের সামাজিক এবং পারিপার্শ্বিক কারণেই মানুষ এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। জীবাণুজনিত রোগ ছাড়াও কিছু কিছু রোগ রয়েছে যেগুলো বংশগত কারণে হয়ে থাকে। যেমন অ্যাজমা বা হাঁপানি। কিছু আছে বার্ধক্যজনিত রোগ। তা ছাড়া পরিবেশদূষণ এবং ধূমপানের কারণে বহুসংখ্যক মানুষ ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

ডা. শেফাতুজ্জাহান বলেন, ‘আমাদের দেশে ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান। অর্থাৎ অধিকাংশ ফুসফুস ক্যানসারের রোগীই ধূমপায়ী। আবার প্যাসিভ স্মোকিংয়ের ফলেও অনেকে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে খুব সাধারণ একটি উপসর্গ হলো কাশি। এদের মধ্যে কারও কারও সপ্তাহব্যাপী প্রচণ্ড কাশি হতে পারে। অনেকের আবার অনেক দিন ধরে অল্প কাশি হতে হতে একসময় কফের রং লাল হয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে কাশির সঙ্গে রক্ত আসতে থাকে। এরপর অনেকের বুকের যেকোনো পাশে কিংবা মাঝখানে ব্যথা অনুভব হতে পারে।

এসব ক্ষেত্রে যতবার রোগী কাশি দিচ্ছে ততবারই বুকে ব্যথা হয়ে থাকে। কাশি ও বুকে ব্যথা বেড়ে যখন রোগটি জটিল পর্যায়ে চলে যায়, তখন রোগীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অনেক রোগী আবার জ্বর কিংবা জন্ডিস নিয়ে আসে।’
আমাদের দেশের রোগীরা সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে এ জাতীয় রোগকে অবহেলা করে থাকে। ফলে ঠিকমতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে না। এতে রোগ আরও জটিল হতে থাকে। এতে একসময় যখন শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে না, তখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু তখন চিকিৎসা করে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। তাই উপসর্গ দেখামাত্রই দ্রুত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%9C%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A7%9F-%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0

6
শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের হার আবার বেড়ে যাওয়ায় করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব এরই মধ্যে আমাদের দেশেও পড়তে শুরু করেছে।

করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন সমাজের বয়ঃজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা।

১০ দিন প্রতিদিন ৯ মিনিট করে গভীরভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করা গেলে হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হয়, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রক্তে কর্টিসলের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়।

করোনা মোকাবিলায় চেস্ট ফিজিওথেরাপিস্ট এবং মাইক্রোবায়োলজিস্টদের প্রয়োজনীয়তা
করোনাকাল এক বছর পার হলো। গেল বছরের ১৭ নভেম্বর চিনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল। এখন গোটা বিশ্বে সংক্রমণের সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটিতে। মৃত্যুর সংখ্যাও ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে। বিশ্বের অধিকাংশ জনস্বাস্থ্যগবেষক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাসের ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ বা দ্বিতীয় ধাপে সংক্রমণ বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশেও ইতিমধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 বর্তমানে মানুষের মনে করোনাভীতি না থাকলেও খালি নেই কোনো আইসিইউ শয্যা।

লক্ষণগুলো মিলিয়ে নিন
লক্ষণগুলো মিলিয়ে নিনছবি: প্রথম আলো
বেশির ভাগ মানুষই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। বাংলাদেশের অবস্থান উত্তর গোলার্ধে হওয়ায় বর্তমান সময়ে শীত আমাদের দোরগোড়ায়। শীতকালে কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিজ্ঞানীরা করছিলেন। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের হার আবার বেড়ে যাওয়ায় করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব এরই মধ্যে আমাদের দেশেও পড়তে শুরু করেছে, তা বলা যায়।

লক্ষ করার ব্যাপার হলো, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত লোকজনের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি। অনেক দিন পার হয়ে যাওয়ার ফলে এ ভাইরাসের জীবনীশক্তি বা আক্রান্ত করার ক্ষমতা কমে আসা অথবা আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও পরিবেশ এর কারণ হতে পারে। বর্তমানে সংক্রমিত লোকজনের বেশির ভাগেরই কোনো লক্ষণ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে কোনো রকম সমস্যা বোধ না করায় করোনা টেস্ট করাননি। তাই জানতেও পারেননি যে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। এসব ব্যক্তি বিভিন্ন সময় বহু জায়গায় বিচরণ করেছেন এবং নিজের অজান্তেই আরও অনেককে সংক্রমিত করেছেন। আবার শীতকালে বাংলাদেশে সামাজিক অনুষ্ঠান, সমাবেশ বেশি হয়ে থাকে। এতে জনসমাগম বেশি হওয়ার কারণে করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত লোকজনের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত লোকজনের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশিছবি: প্রথম আলো
করোনার এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন সমাজের বয়ঃজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা। তাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। এ বিষয়ে সতর্ক ও সচেতন থাকতে এবং সংক্রমণ এড়াতে ঘরের বাইরে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এর পাশাপাশি সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে হবে। যেহেতু করোনাভাইরাস ফুসফুসে আক্রমণ করে এবং এতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা অনেক কমে যায়, ফলে শরীরের অক্সিজেনের পরিমাণও মারাত্মকভাবে কমে আসে। তাই করোনা মোকাবিলায় ফুসফুসকে অধিক কার্যকর করে তোলাই হবে সর্বোত্তম প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা।

ওয়ার্ল্ড কনফেডারেশন ফর ফিজিক্যাল থেরাপি প্রদত্ত ‘ফিজিওথেরাপি গাইডলাইন ফর কোভিড-১৯ ইন দ্য একিউট হসপিটাল সেটিং’ অনুযায়ী মৃদু সংক্রমণ থেকে মারাত্মক সংক্রমণ পর্যন্ত রোগীদের রেসপিরেটরি ফিজিওথেরাপি দরকার। এ সময় মৃদু সংক্রমণ এবং মিউকাস নিঃসরণে অসুবিধা থাকলে এয়ারওয়ে ক্লিয়ারেন্স টেকনিক এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ফুসফুসের বেশির ভাগ পেছনের দিকে বিস্তৃত, তাই বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্বাসনালি পুনরায় খোলার জন্য রোগীকে উপুড় হয়ে শোয়ার উপদেশ দিতে হবে এবং শোয়া অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে হবে (ফিজিওথেরাপি গাইডলাইন ফর কোভিড-১৯, পৃষ্ঠা-১৩,২২)।

বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্বাসনালি পুনরায় খোলার জন্য রোগীকে উপুড় হয়ে শুতে হবে
বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্বাসনালি পুনরায় খোলার জন্য রোগীকে উপুড় হয়ে শুতে হবেছবি: লেখক
শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন মুখ দিয়ে বাতাস ছাড়ার সময় নাক দিয়ে বাতাস নেওয়ার সময়ের তুলনায় বেশি হয় এবং এ সময় মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক পরে থাকতে হবে, যাতে অন্যকে সংক্রমিত করতে না পারে। সহজে মনে রাখার জন্য—বাতাস নেওয়ার সময় ৪ সেকেন্ড, বাতাস ধরে রাখার সময় ৭ সেকেন্ড এবং বাতাস ছাড়ার সময় ৮ সেকেন্ড। এর নাম হচ্ছে ‘৪, ৭, ৮ ব্রিদিং এক্সারসাইজ’। এতে করে শ্বাস ছাড়ার পর ফুসফুসে যে বাতাস থাকে, তার পরিমাণ বাড়বে। যত বেশি বাতাস ফুসফুসে থাকবে, ফুসফুসের চুপসে যাওয়ার ঝুঁকিও তত বেশি কমে যাবে।

এ ছাড়া নাক দিয়ে বাতাস নিয়ে তা ধরে রাখা এবং তারপর মুখ দিয়ে বাতাস বের করে দেওয়া, এতে করে ফুসফুস আর শ্বাসনালিতে বাতাস চলার পথ পরিষ্কার হবে। এই কৌশলগত পন্থাকে বলা হয় ‘কোল্যাটারাল ভেন্টিলেশন’ যা কিনা ফিজিওথেরাপি শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামের মাধ্যমে উন্নত করা সম্ভব। কোভিড-১৯ দ্বারা মৃদু সংক্রমণের সময় আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় মোবিলাইজেশন, রেসপিরেটরি এক্সারসাইজ, থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ (যেমন- রেসিস্ট্যান্স এক্সারসাইজ, পুশ আপ, ক্যালিস্থেনিকস) ও রিহ্যাবিলিটেশন কৌশল, যেমন বেড মোবিলিটি, বসা থেকে দাঁড়ান, হাঁটা, কাঁধের ও পায়ের এক্সারসাইজ, সাইক্লিং প্রভৃতি করা যেতে পারে।

হাফ লায়িং পজিশন বা অর্ধেক শোয়া অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামে রোগীদের মানসিক বিষণ্নতা কমে
হাফ লায়িং পজিশন বা অর্ধেক শোয়া অবস্থায় শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামে রোগীদের মানসিক বিষণ্নতা কমেছবি: লেখক
এ প্রসঙ্গে বলা উচিত, হাফ লায়িং পজিশন বা অর্ধেক শোয়া অবস্থা ডায়াফ্রামাটিক ব্রিদিং করলে বয়স্ক রোগীদের মানসিক বিষণ্নতা কমে, যা রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি পরীক্ষামূলক গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ দিন প্রতিদিন ৯ মিনিট করে গভীরভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করা গেলে হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হয়, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রক্তে কর্টিসলের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়।

অন্য একটি গবেষণায় দেখা যায়, রক্তে কর্টিসলের পরিমাণ বেড়ে গেলে রেসপিরেটরি ট্রাক্টের ওপরের অংশ যেমন নাক, নাসারন্ধ্র, ফ্যারিংস এগুলোর ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই এরোবিক এক্সারসাইজ, ব্রিদিং এক্সারসাইজ, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, জগিং, স্ট্রেচিং করলে শুধু যে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে বা ডায়াফ্রামের কর্মক্ষমতা বাড়ে তা-ই নয়, এটি মানসিক বিষণ্নতা কমাতেও সাহায্য করে।

একজন রোগীর ফুসফুসের অবস্থা বুঝে তার জন্য শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামের সঠিক তালিকা তৈরি করে তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মক্ষম করে তোলার দায়িত্ব একজন ফিজিওথেরাপি চিকিত্সকের। সংক্রমণের আগে বা পরে ফুসফুসের বাতাস গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে স্পাইরোমিটার দিয়ে ব্যায়াম করার সময় নিজ ফুসফুসের ক্ষমতা অনুযায়ী বলগুলো ওপরে তুলতে চেষ্টা করতে পারেন। আবার পাইপ দিয়ে বোতল ভরা পানিতে ফুঁ দিয়ে বাবল তৈরি করে শ্বাসক্রিয়ার মাংসপেশির শক্তি বাড়াতে পারেন।

রক্তে কর্টিসলের পরিমাণ বেড়ে গেলে রেসপিরেটরি ট্রাক্টের ওপরের অংশ যেমন নাক, নাসারন্ধ্র, ফ্যারিংস এগুলোর ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই এরোবিক এক্সারসাইজ, ব্রিদিং এক্সারসাইজ, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, জগিং, স্ট্রেচিং করলে শুধু যে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে বা ডায়াফ্রামের কর্মক্ষমতা বাড়ে তা-ই নয়, এটি মানসিক বিষণ্নতা কমাতেও সাহায্য করে।
গোটা বিশ্ব করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এর কবল থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশে টিকা তৈরির কাজও চলছে। কিন্তু কবে এ অতিমারি থেকে মুক্তি মিলবে, এখন সে দিকেই গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। টিকা তৈরির কাজসহ এ করোনাকালে আমাদের প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে যাচ্ছেন মাইক্রোবায়োলজিস্ট বা অণুজীববিজ্ঞানীরা। এঁদের জ্ঞান ও কর্মদক্ষতার বদৌলতে দেশে করোনা রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্য ভাইরাস থেকে একে পৃথককরণ সহজ হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত রাখতেও মাইক্রোবায়োলজিস্টদের ভূমিকা অনন্য।

করোনা ওয়ার্ড ছাড়াও অন্য ওয়ার্ড বা আইসিইউ কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখা যাবে, সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারেন অণুজীববিজ্ঞানীরা। ঠিকভাবে হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত না করার ফলে সেখান থেকে অনেক সংক্রমণ ছড়ায়। অপারেশনের সময়ও অনেক সংক্রমণ ছড়ায়। তার কারণও ঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না হওয়া। এই করোনাকালে অনেক চিকিত্সক, নার্স বা অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে হাসপাতাল বা ক্লিনিকের ওয়ার্ড ও এর আশপাশের জায়গা সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না হওয়া।

অন্যান্য দেশের তুলনায় করোনায় বাংলাদেশে চিকিত্সকদের মৃত্যুর হার বেশি, যা চিন্তার কারণ। ‘ইমপিরিয়াল কলেজ অব লন্ডন’-এর গবেষণা মতে, পিপিই বা মাস্কের মান ছাড়াও করোনা সংক্রমণের আরও একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বায়োসেফটি-সংক্রান্ত ট্রেনিংয়ের অভাব। হাসপাতাল, আরটিপিসিআর ল্যাব ও সিসিইউগুলোতে নেগেটিভ প্রেশার রুম ও সঠিকভাবে বায়ো হজার্ড মেনটেইন ও ডিসপোজাল না করায় এখানে নিয়োজিত ও দায়িত্বরত লোকজনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে।

করোনা ওয়ার্ড ছাড়াও অন্য ওয়ার্ড বা আইসিইউ কীভাবে জীবাণুমুক্ত রাখা যাবে, সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারেন অণুজীববিজ্ঞানীরা। ঠিকভাবে হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত না করার ফলে সেখান থেকে অনেক সংক্রমণ ছড়ায়। অপারেশনের সময়ও অনেক সংক্রমণ ছড়ায়। তার কারণও ঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না হওয়া।
করোনার এই সময়ে বাংলাদেশে ৮৯ জন মাইক্রোবায়োলজিস্ট বিভিন্ন জায়গায় আরটিপিসিআর ল্যাব সেট-আপ, মাননিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসকদের বায়োসেফটি ট্রেনিংয়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন। আশার কথা হলো, একজন মাইক্রোবায়োলজিস্টও করোনায় আক্রান্ত হননি। এর কারণ, তাঁরা অণুজীবের জীবন ও বংশবৃদ্ধি এবং এ-সংক্রান্ত প্রায়োগিক ধারণা রাখেন।

এ ছাড়া আমাদের দেশে অহেতুক অনেক বেশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়। জীবাণু যেভাবে ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে উঠছে, তাতে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের ঘাটতি একসময় আরও বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন অ্যান্টিবায়োটিক সঠিক তথা কার্যকর, তা না জেনেই অনেকটা অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে মারার মতো প্রয়োগ করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, ভুল ডোজ এবং দুর্বল সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা সার্বিক এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এ কাজের ক্ষেত্রেও একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট সুন্দরভাবে চিকিত্সককে সাহায্য করতে পারেন কোন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর সেটা পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে।

জীবাণু যেভাবে ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে উঠছে, তাতে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের ঘাটতি একসময় আরও বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।
করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাতেও অণুজীববিজ্ঞানীরা উল্লেখযোগ্য হারে ভূমিকা রাখছেন। অনেক ল্যাবের প্রধান হয়েছেন অণুজীববিজ্ঞানী। যেসব ল্যাবে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের সরাসরি তদারকি আছে, সেখানে কাজের মান অন্যদের তুলনায় ভালো বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে অণুজীববিজ্ঞানে স্নাতক পাস অনেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বিভিন্ন ল্যাবে কাজ করছেন। কিন্তু আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত অণুজীববিজ্ঞানীদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি, যা খুবই প্রয়োজন।

সরকার কর্তৃক অনুমোদিত অ্যান্টিবডি কিট দিয়ে সেরো পজিটিভিটি, এপিডিমিওলজিক্যাল স্টাডি ও ভ্যাকসিন-পরবর্তী অ্যান্টিবডি টাইটার জানতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সেরোলজিক্যাল কিট কাজে লাগানো যেতে পারে। করোনায় আক্রান্ত সুস্থ-অসুস্থ সবার শরীরের অ্যান্টিবডি টেস্ট করা জরুরি। এ থেকে জানা যাবে, জনগোষ্ঠীর কত অংশ উপসর্গ ছাড়া আক্রান্ত এবং কোন ধরনের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা তাঁর শরীরে ছিল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উপযোগী চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে এ ধরনের গবেষণা অত্যাবশ্যক।

এ ছাড়া যেসব সংক্রমিত ব্যক্তি রোগাক্রান্ত নন এবং যাঁরা সংক্রমণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাঁদের সংগৃহীত রক্তের ব্যাংক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ রক্তের প্লাজমা করোনার কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। উপরন্তু বাংলাদেশের স্বল্প পরিবর্তিত স্থানীয় গবেষণা অবকাঠামোতেই এ রক্ত থেকে বিশোধিত অ্যান্টিবডি করোনা চিকিৎসার ওষুধ হিসেবে ব্যাপকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব।

সবাই জেনে খুশি হবেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করার মতো অনেক গবেষক ও বিজ্ঞানী আছেন। কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের গবেষণাগারের সংখ্যা অপ্রতুল। বিশেষত বায়োলজিক্যাল গবেষণার ওপর জোর দিয়েই করোনা-পরবর্তী অবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের রূপরেখা তৈরি করতে হবে বলে আমাদের মনে হয়।

লেখক পরিচিতি:

আনোয়ার খসরু পারভেজ: অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোষাধ্যক্ষ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা।

এহসানুর রহমান: সহযোগী অধ্যাপক, বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট, সিআরপি, সাভার, ঢাকা।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%93%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A7%9F%E0%A6%A4%E0%A6%BE

7
করোনা অতিমারিতে সারা বিশ্বে পাল্টে গেছে চেনা পরিবেশ। ঘরে থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে মানুষ যেন মানসিকভাবে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই বিশ্বব্যাপী বেড়ে গেছে মনোরোগীর সংখ্যা। কোভিডকালে দেশ–বিদেশের গবেষণা থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। হতাশা আর একাকিত্বে বিপর্যস্ত মানুষকে সেবা দিতে মনঃস্বাস্থ্য–বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মনের বন্ধু আয়োজন করেছে বিনা মূল্যে ৪০ ঘণ্টার অনলাইন কোর্স।

ইউএনডিপির কোভিড-১৯ রেসপন্স (সাইকোসোশ্যাল সাপোর্ট) প্রকল্পের অধীনে তারা এই কোর্সের আয়োজন করেছে। মনের বন্ধুর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদা শিরোপা বলেন, দেশ–বিদেশের মোট ২০ জন মনোবিদ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের একটি দল এই কোর্সের ডিজাইন করেছে। বাংলা ভাষায় এমনভাবে প্রতিটি বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে, যাতে সব ধরনের মানুষ সহজে বিষয়গুলো বুঝতে পারে। কোর্সটি সফলভাবে শেষ করতে পারলে যেকেউ নিজের ও পরিবারের মনঃস্থাস্থ্য বিষয়ে আরও সচেতন হবে। সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

কী আছে কোর্সে
জীবনে ও কাজের ক্ষেত্রে সাফল্য পেতে এবং মনকে সুস্থ রাখাতে সাহায্য করবে এই কোর্স। মানসিক চাপ, হতাশা, ঘুমের সমস্যা, সহনশীলতা, আবপ্রবণ বুদ্ধিমত্তার দক্ষতা, নিজের বিষয়ে ইতিবাচক থাকা, আত্মহত্যা প্রতিরোধ, প্যারেন্টিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের মোট ৪৫টি মডিউল আছে কোর্স এখানে, যা নিজের ও পরিবারের যেকোনো অসহায় পরিস্থিতি সহজে সামাল দিতে সাহায্য করবে। কোর্সটি করে কেউ মনোবিদ হয়ে যাবেন না, তবে মনঃস্বাস্থ্য বিষয়ে নিজেকে ও পরিবারের কাছের মানুষদের উপকারে আসতে পারবেন।

যেভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন
• মডিউল অনুশীলন বা কোর্স এনরোল করার আগে আপনার নাম ও ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে কোর্সে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর আপনি লগইন করতে পারবেন।
• ছয়টি বিভাগের মডিউলগুলো শেষ হওয়ার পর আপনি কী শিখলেন ও কীভাবে আপনার আশপাশের মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করতে পারবেন, সে জন্য অনুশীলনী দেওয়া আছে। একেকটা বিভাগ ও অনুশীলনী শেষ করেই পরের ধাপে যেতে পারবেন।
• ৪৫টি মডিউল শেষ করার পরে চূড়ান্ত অনুশীলন আসবে। এটা সফলভাবে শেষ হলে (৬০ ভাগ নম্বর পেলে) আপনি একটি সার্টিফিকেট পাবেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শেয়ার করতে পারবেন সবার সঙ্গে। ব্যবহার করতে পারবেন কর্মক্ষেত্রেও।

কোর্সের লিংক: www.monerbondhu.org/courses/course-on-mental-health/

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B7%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B8

8
বলা হয়, কোনো না কোনো ব্যথায় ভোগে না, এমন কোনো মানুষ পৃথিবীতে নেই। এর মধ্যে ৯৯ ভাগই মাথাব্যথা। এ বিষয়ে প্রচলিত প্রবাদ হচ্ছে, মাথা থাকলে ব্যথা হবেই। দ্বিতীয় ব্যথা হচ্ছে, মেরুদণ্ডের ব্যথা। মেরুদণ্ডের ব্যথা বলতে বোঝায় ঘাড়, কোমর ও পিঠে ব্যথা। পৃথিবীজুড়ে ৪০–৫০ ভাগ মানুষ এই ব্যথায় ভোগেন।

প্রথম আলো আয়োজিত এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ব্যথার সাতকাহনে এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করেন অতিথিরা। ২১ নভেম্বর প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানের ষষ্ঠ পর্ব। এ পর্বের প্রতিপাদ্য ছিল ‘মেরুদণ্ডের ব্যথা ও প্রতিকার’। ডা. বিলকিস ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন নাটোর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুর রব।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডা. মো. আবদুর রব আলোচনা করেন মেরুদণ্ডের ব্যথা কী এবং এর কারণ সম্পর্কে। তিনি বলেন, মেরুদণ্ডের ব্যথাকে মূলত চার ভাগে ভাগ করা হয়। ঘাড়ের ব্যথা, পিঠের ব্যথা, কোমরের ব্যথা এবং কক্কিস বা মেরুদণ্ডের শেষ প্রান্তে ব্যথা। অধিকাংশ রোগী আসেন ঘাড়ে ও পিঠে ব্যথা নিয়ে। পিঠ এবং কোমরের ব্যথা সাধারণত জীবনযাপনের অসঙ্গতির জন্যে হয়। যেমন অফিসে দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে কাজ করলে, দীর্ঘসময় ড্রাইভিং করলে বা বেশি সামনে ঝুঁকে গাড়ি চালালে। ড্রাইভিংয়ের সময় পেছনে কিছু সাপোর্ট নেওয়া উচিত।

চেয়ারে ঠিকমতো না বসলে কিংবা সামনে-পেছনে ঝুঁকে বসলে কোমরে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। যাঁরা শুয়ে বা কাত হয়ে বই পড়েন বা অন্য কাজ করেন, তাঁদের মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যথা অনুভূত হয়। অনেকেই আছেন যাঁরা কোনো ভারী জিনিস সঠিক নিয়মে তোলেন না। ফলে মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যথা হয়।

আবার মানুষের হাড়ের মধ্যে ফাঁকা জায়গা থাকে। এটি পূরণ হয়ে থাকে তালের শাঁসের মতো ডিস্ক বা চাকতি দিয়ে। এ ডিস্ক যদি কোনো কারণে বের হয়ে যায়, তখন স্নায়ুমূলের ওপর চাপ ফেলে। এর ফলে কোমরে ব্যথা হতে পারে। বড় কোনো আঘাতের ইতিহাস থাকলে, কোমরব্যথার পাশাপাশি বুকে ব্যথা হলে, রোগীর আগে কখনো যক্ষ্মা হয়ে থাকলেও বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে।

এ ছাড়া কিছু রোগের জন্যও কোমর বা পিঠে ব্যথা হয়। যেমন ক্যানসার, অস্টিওপোরোসিস, এইডস, দীর্ঘকাল স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবনের ইতিহাস থাকলে কোমর ব্যথাকে অবহেলা করা চলবে না। ব্যথার পাশাপাশি জ্বর, শরীরের ওজন হ্রাস, অরুচি, অতিরিক্ত ঘাম ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে এবং ব্যথা কোমর ছাড়িয়ে পায়ের দিকে বিশেষ করে এক পায়ের হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ছড়ালে অথবা এক পায়ে তীব্র ব্যথা বা অবশভাব হলে সতর্ক হতে হবে। প্রস্রাব বা পায়খানার সমস্যা, মলদ্বারের আশপাশে বোধহীনতা, মেরুদণ্ডে বক্রতা, পায়ের দুর্বলতা বা পায়ের মাংসপেশির শুষ্কতা ইত্যাদি উপসর্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

এরপর দর্শকদের নানা ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি নানান সমস্যা নিয়ে কথা বলেন ডা. মো. আবদুর রব। একজন দর্শক জানতে চান স্পাইনা বাইফিডা বিষয়ে। মো: আবদুর রব এ বিষয়ে বলে, এটি একটি জন্মগত ত্রুটি। নিউরাল টিউব নামক একটি ভ্রুণাঙ্গের ত্রুটির কারণে এটি হয়। এতে জন্ম নেওয়া শিশুর ভার্টিব্রা নামক হাড়ের পেছনের অংশ অসম্পূর্ণভাবে জোড়া লাগানো থাকে। অনেক রোগী মনে করেন এর কারণে মেরুদণ্ডে ব্যথা হয়। তবে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবশেষে অধ্যাপক মো: আবদুর রব মেরুদণ্ড ভালো রাখতে বেশ কিছু পরামর্শ দেন। নিয়মিত ব্যায়াম অথবা হাঁটার অভ্যাস করা, ঘাড়ে ভারী কিছু না ওঠানোর কথা বলেন। তিনি বলেন, নিতান্তই দরকার হলে ভারী জিনিসটি শরীরের কাছাকাছি এনে কোমরে চাপ না দিয়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। যাঁরা ঘরের কাজ করেন, তাঁরা নিয়ম মেনে কাজ করবেন। বেশি ঝুঁকে বা কোমরে চাপ দিয়ে কাজ করবেন না। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই ভঙ্গিমায় একই জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকা যাবে না। ঘুমের সময় সোজা হয়ে ঘুমাতে হবে। ভালো খাবার খেতে হবে। মেরুদণ্ড হচ্ছে গাছের মতো, এটির সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A5%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0

9
করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রাথমিক অস্ত্র হিসেবে ধরা হচ্ছে মাস্ককে। কেউ একটা পরছেন, তো কেউ একাধিক। আবার না পরে এখন জরিমানাও দিতে হচ্ছে। তবে যাঁরা পরছেন তাঁদের কেউ সার্জিক্যাল মাস্ক পরছেন, তো কেউ এন–৯৫। আবার ফ্যাশনেবল মাস্কও পরছেন অনেকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কয়টি মাস্ক পরা ভালো? একটা না দুটি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনি একটা পরবেন না দুটি, সেটা নির্ভর করবে মাস্কের ওপর। তবে তার আগে জরুরি হলো আপনি মাস্কটা ঠিকঠাকমতো পরছেন কি না। কারণ, মাস্ক এমনভাবে পরতে হবে, যাতে আপনার মাস্কে বা মুখে ভাইরাস সংক্রমিত না হয়।

এন–৯৫ মাস্ক আপনি কিনলে, সেটা আসল কি না, সেটাও দেখে নিতে হবে। আর আপনার মাস্কটি আসল এন–৯৫ হলে এর ওপরে আরেকটি মাস্ক পরার প্রয়োজন হবে না। কারণ, এই মাস্কগুলো বিশেষভাবে ডিজাইন করা আঁটসাঁট করে বোনা কাপড়েই তৈরি হয়; যাতে করে ভাইরাসের কণা প্রবেশ করতে না পারে।

তবে সাধারণ সুতি কাপড়ের মাস্ক পরলে দ্বিতীয়টি পরা যেতে পারে। তাতে বেশি পরিমাণে ভাইরাস কণা আটকাতে সহয়তা করবে। ফলে আপনি শ্বাস নেওয়ার সময় অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকবেন।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এক পরতের কাপড়ের মাস্কের চেয়ে দুই পরতে কাপড়ের মাস্ক বেশি কার্যকর। যদিও দুটি মাস্ক পরলে অধিক সুরক্ষা পাওয়া যাবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো কোনো বিজ্ঞানসম্মত তথ্য নেই। অবশ্য কোনো ক্ষতি না করলে বা সমস্যা না হলে দুটি মাস্ক পরা যেতে পারে; বিশেষ করে নিজেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে ডাবল মাস্ক পরা যেতে পারে। এই যেমন ধরা যাক আপনি কোনো করোনা রোগীর সংস্পর্শে থাকলে বা থাকতে হলে তখন ডাবল মাস্ক পরা যেতে পারে।

তবে ডাবল মাস্ক পরলেও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিকে উপেক্ষা করা যাবে না। যেমন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া ইত্যাদি। পাশাপাশি আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। মাস্ক যত পরতেরই পরা হোক না কেন, তা অবশ্যই মুখে আঁটসাঁটভাবে থাকতে হবে।

মাস্ক থুতনিতে রাখা যাবে না
মাস্ক থুতনিতে রাখা যাবে নাছবি: প্রথম আলো
আর হ্যাঁ সেটা অবশ্যই আরামদায়ক হতে হবে। কোনো ধরনের অস্বস্তি হলে তেমন মাস্ক পরা যাবে না, কারণ মাস্ক পরে থাকা অবস্থায় সেটাকে টেনে নাকের নিচে বা থুতনিতে রাখা যাবে না। তাহলে পরা না–পরা একই হবে।
অতএব মাস্ক পরি সুস্থ থাকি। অনুসরণ করি স্বাস্থ্যবিধি।

তথ্যসূত্র: ওয়েবএমডি

10
ব্যায়াম করার সময় মাস্ক না পরার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে নির্দেশনা দিয়েছে তার সঙ্গে সহমত হতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা।
করোনাভাইরাসের নতুন ধাক্কায় আবারও কাহিল পশ্চিম। আমাদের দেশেও সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এ পরিস্থিতিতে শরীর ও মন ভালো রাখা বেশ কষ্টকর। উপরন্তু এই রোগের ছোঁয়াচ এড়াতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হয়েছে।

মাস্ক পরে শরীরচর্চা করা যাবে কি না  তা নিয়ে দোলাচল কাটছে না
মাস্ক পরে শরীরচর্চা করা যাবে কি না তা নিয়ে দোলাচল কাটছে নাছবি: কেট ট্রিফো, পেকজেলসডটকম
কিন্তু প্রশ্ন হলো, মাস্ক পরে শরীরচর্চা করা যাবে কি না? কারণ, মাস্ক পরে ব্যায়াম করা ও হাঁটায় কারও কারও শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। তা ছাড়া নাক ও মুখ ঢাকা থাকায় শ্বাস টেনে ফুসফুসে বাতাস নিতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয় বলে মনে করা হয়।
 এ বিষয় নিয়ে যে বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞরা ভাবছেন না, তা নয়। বরং করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছেন। এদিকে, ব্যায়াম করার সময় মাস্ক না পরার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কারণ, তাদের বক্তব্য এতে করে মানুষ স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারবে না। যদিও বিজ্ঞানীরা দ্বিমত পোষণ করেছেন এই বক্তব্যের সঙ্গে।

কিন্তু বিষয়টা কি এতটাই সহজ? এমন প্রশ্নও উঠছে। কায়িক পরিশ্রমে কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমে (হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস আর রক্তনালি) মাস্কের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, অনেকেই মাস্ক পরেই স্বচ্ছন্দে ব্যায়াম করছেন, কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে মাস্ক পরে থাকলে কোনো ঝামেলা হবে না।

মাস্ক পরে যেকোনো সুস্থসবল ব্যক্তির, নারী কিংবা পুরুষ, ব্যায়াম করতে কোনো সমস্যা হবে না।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান দিয়েগোর এক্সারসাইজ ফিজিওলজিস্ট সুসান হপকিনস মনে করেন, ব্যায়াম, শরীরচর্চা বা কোনো কায়িক পরিশ্রমের সময় মাস্ক পরে থাকলে রক্তে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই–অক্সাইডের প্রভাব পড়ে সামান্যই, যা ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না।

মাস্ক পরে ব্যায়াম করলে শ্বাস নিতে সমস্যা হবে না
মাস্ক পরে ব্যায়াম করলে শ্বাস নিতে সমস্যা হবে নাছবি; গুস্তাভো ফ্রিং, পেকজেলসডটকম
সুসান হপকিনস ও তাঁর সহগবেষক বিভিন্ন ধরনের আচ্ছাদনে মুখ ঢেকে নিরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে সার্জিক্যাল মাস্ক, এননাইন্টিফাইভ ও কারখানায় ব্যবহৃত মাস্ক রয়েছে। তবে উভয়েই মনে করেন এই ধরনের নিরীক্ষার অবকাশ আরও রয়ে গেছে।
সুসান হপকিনস ও তাঁর সহগবেষকের অভিমত হলো, স্বাস্থ্যবান মানুষেরা মাস্ক পরে ব্যায়াম করলে তাঁদের কোনো সমস্যা হবে না। কারও কারও হয়তো অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষত যাঁরা মাস্ক পরায় অভ্যস্ত নন, তাঁদের। তবে মাস্ক পরা অবস্থায় অক্সিজেন গ্রহণের পাশাপাশি কিছুটা কার্বন ডাই–অক্সাইডও নেওয়া হলেও তাতে চিন্তার কিছু নেই বলেই গবেষকেরা আশ্বস্ত করেছেন।

যদিও শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির মতো অসুখে যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের কথা আলাদা। তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই যথেষ্ট শঙ্কার মধ্যে আছেন।

অতএব মোদ্দা কথা হলো, মাস্ক পরে যেকোনো সুস্থসবল ব্যক্তির, নারী কিংবা পুরুষ, ব্যায়াম করতে কোনো সমস্যা হবে না।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%9A%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6

11
রোগবালাই যেমন আছে, তেমনি আছে উপশমের উপায়। স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন রোগ নিয়ে পাঠকদের পাঠানো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

আপনার প্রশ্ন, চিকিৎসকের পরামর্শ
আমার বয়স ১৬ বছর। ওজন ৭৬ কেজি। বেশ কয়েক বছর ধরে মাথার চুল পেকে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছি। সঙ্গে খুশকিও দেখা দেয় খুব। চুল পড়ে যাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে? কোনো উপায়ে সুফল পেতে পারি?

চুল পেকে যাওয়া সাধারণত বংশগত কারণেই হয়। খুশকি দূর করার জন্য অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করবেন। খুশকির জন্যই চুল পড়ে। অন্যের ব্যবহৃত তোয়ালে, বালিশ, চিরুনি ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না।

পরামর্শ দিয়েছেন—অধ্যাপক ডা. মো. আসিফুজ্জামান, চর্ম বিভাগ, গ্রিন লাইফ হাসপাতাল, ঢাকা।

আমার বয়স ১৯ বছর। ২০১১ সাল থেকে চশমা ব্যবহার করি। প্রথমে পাওয়ার ছিল ২.৭৫, পরবর্তীকালে ২০১৪ সালে বেড়ে হয় ৪.০০। এত বছর চশমা ব্যবহার করার কারণে আমার মাথা, চোখ, কান প্রচুর ব্যথা করে। তাই আমি চশমা ব্যবহার করতে চাই না। আমি চোখে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করতে চাই। তাই লেন্স ব্যবহার করা উচিত হবে কি না? আর ভবিষ্যতে ল্যাসিক করা ঠিক হবে কি না?

২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আপনার পাওয়ার মাইনাস ৪ (-৪.০০)। তার মানে আপনার পাওয়ার একটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। এটি খুবই ভালো লক্ষণ। আপনার প্রথম সমস্যা চোখ, কান, মাথাব্যথা। চোখ, কান, মাথাব্যথা কেবলই চশমা পরার জন্য, তা কিন্তু সঠিক নয়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার পর্দায় কাজ করে অথবা রাত জেগে পড়াশোনা, টিভি দেখা, ফেসবুকিং ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকলে অথবা যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদের এই সমস্যাগুলো হয়। আপনাকে কয়েকটি জিনিস মেনে চলতে হবে। যেমন প্রয়োজন না হলে দীর্ঘক্ষণ একটানা ডিজিটাল স্ক্রিনে না থাকা; রাতে আগে আগে ঘুমানো; ঘন ঘন পানি খাওয়া এবং নিয়মিত খেলাধুলা বা কায়িক পরিশ্রম করা ইত্যাদি। মাইগ্রেন থাকলে মাথাব্যথা হলে প্যারাসিটামল–জাতীয় বড়ি সেবন করতে পারেন। অনেক সময় সাইনোসাইটিসের জন্যও এ রকম ব্যথা হয়। সে ক্ষেত্রে একজন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো কন্টাক্ট লেন্স। আপনি কন্টাক্ট লেন্স পরতে পারবেন, কিন্তু তার জন্য একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তবে কন্টাক্ট লেন্স সার্বক্ষণিক পরা যায় না। এটি দিনের কোনো একটি অংশে বা সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করা যায়। ফলে আপনাকে পাশাপাশি চশমাও পরতে হবে। আর কন্টাক্ট লেন্স পরলেই আপনার মাথাব্যথা, চোখব্যথা ইত্যাদির উপশম হবে, তা কিন্তু ঠিক নয়।

সর্বশেষ বিষয়টি হলো ল্যাসিক। আপনার যেহেতু বয়স ১৮ অতিক্রম করেছে এবং গত চার বছর যাবৎ আপনার চশমার পাওয়ার একই আছে, অতএব আপনি ল্যাসিক করাতে পারবেন। লাসিক চশমার বিকল্প হতে পারে।

পরামর্শ দিয়েছেন—ডা. মো. ছায়েদুল হক, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, আইডিয়াল আই কেয়ার সেন্টার, শ্যামলী, আদাবর, ঢাকা।

প্রশ্ন পাঠানোর ঠিকানা
স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা

ই-মেইল: proshastho@prothomalo.com

ফেসবুক পেজ: fb.com/ProShastho

ডাকযোগে: প্র স্বাস্থ্য, প্রথম আলো, ১৯ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

Ref: https://www.prothomalo.com/feature/pro-health/%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%A8-%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6-19

12
Protect your Health/ your Doctor / হাড়ভাঙা ব্যথা
« on: November 19, 2020, 09:48:31 AM »
হাড় ভাঙলে শরীরের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানটি নিশ্চল রাখতে হবে, নড়াচড়া করা যাবে না

খেয়াল রাখতে হবে যেন রক্ত সঞ্চালন বন্ধ না হয়ে যায়

রোগীকে আরামদায়ক অবস্থায় রাখতে হবে

সম্ভব হলে ভাঙা জায়গায় বরফ দেওয়া যেতে পারে

হাড়ের মধ্যে ক্যালসিয়াম বা ফসফেটের পরিমাণ কমে গেলে হাড় ভাঙতে পারে

লেখা
লেখাজাহিদুল হক
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২০, ১৮:২৩

হাড়ভাঙা ব্যথা
হাড় প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ আঘাতে ভাঙতে পারে। আঘাতের ফলে হাড়ের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার ভিত্তিতে হাড় ভাঙার প্রকারভেদ নির্ণয় করা হয়। সাধারণত বড় ধরনের আঘাতের কারণে হাড় ভেঙে যেতে পারে।

প্রথম আলো আয়োজিত এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ব্যথার সাতকাহনে এ বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করেন অতিথিরা। ১৪ নভেম্বর প্রচারিত হয় অনুষ্ঠানের পঞ্চম পর্ব। এ পর্বের প্রতিপাদ্য ছিল: হাড়ভাঙা ব্যথা। ডা. বিলকিস ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আর্থোস্কোপিক, অর্থোপেডিক অ্যান্ড ট্রমা সার্জন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।

হাড় ভাঙলে প্রথমেই যা করতে হবে তা নিয়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, শরীরের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানটি নিশ্চল রাখতে হবে। সেখানে কোনো কিছুর সাপোর্ট দিতে হবে, যাতে নড়াচড়া করতে না পারে। এতে স্থানটি আবার আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা পাবে। শুধু তাই নয়, এতে হাড়ের ভাঙা প্রান্ত রক্তনালি, নার্ভ বা মাংসপেশিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। বাঁধার উদ্দেশ্য হলো যেন ভাঙা জায়গা নাড়াচাড়া করতে না পারে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই শক্ত করে বাঁধতে হবে।

ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, আর্থোস্কোপিক, অর্থোপেডিক অ্যান্ড ট্রমা সার্জন, সহযোগী অধ্যাপক,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, আর্থোস্কোপিক, অর্থোপেডিক অ্যান্ড ট্রমা সার্জন, সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছবি: ফেসবুক
তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন রক্ত সঞ্চালন বন্ধ না হয়ে যায়। খেয়াল রাখতে হবে যেন রোগী আরামদায়ক অবস্থায় থাকে, ব্যথার মধ্যে যতটা স্বস্তি দেওয়া যায়। সম্ভব হলে ভাঙা জায়গায় বরফ দেওয়া যেতে পারে, তাতে ক্ষতস্থান অবশ হয়ে ব্যথা কমতে পারে। এ ছাড়া হাড়ের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে, হাড়ের মধ্যে ফসফেটের পরিমাণ কমে গেলেও হাড় ভাঙতে পারে। কিছু কিছু রোগ যেমন অস্টিওপরোসিস, বোন ক্যানসার ইত্যাদির কারণে হাড় ভেঙে যেতে পারে।

হাড় ভাঙার ধরনের চিহ্নিত করা জরুরি। সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম জানান, একটি হচ্ছে ক্লোজড ফ্র্যাকচার। এ ক্ষেত্রে হাড় ভেঙে গেলেও তা চামড়া ভেদ করে উঠতে পারে না, অর্থাৎ কোনো রক্ত বের হয় না। অপরটি হচ্ছে ওপেন ফ্র্যাকচার। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত হাড়টি ভেঙে গিয়ে তা চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে আসে, অর্থাৎ এখানে রক্ত বের হওয়া অনিবার্য। এই দুটি বিষয়কে আগে কম্পাউন্ড ফ্র্যাকচার হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।

এ ছাড়াও এটিকে আরও কয়েক ভাবে চিহ্নিত করা যায়, যেমন কমপ্লিকেটেড ফ্র্যাকচার ও গ্রিন স্টিক ফ্র্যাকচার। স্বাভাবিক ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যান্ডেজই যথেষ্ট। কিন্তু অঙ্গবিকৃতি ঘটলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য, বিশেষ করে রোগীর হাতে ও পায়ে স্প্লিন্ট বেঁধে দিতে হবে, যাতে স্থানটি নড়াচড়া থেকে বিরত থাকে। কখনোই ফ্র্যাকচারের ঠিক ওপরের স্থানে ব্যান্ডেজ বাঁধবেন না। ব্যান্ডেজ এমনভাবে বাঁধবেন, যাতে রোগী স্থানটি নাড়াতে না পারে এবং সেখানে আবার আঘাত না লাগে। এটি এমন টাইটও করবেন না যাতে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়।

বয়স্কদের হাড় ভাঙার একটি কারণ অস্টিওপরোসিস। এ বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, অস্টিওপরোসিসের অনেক কারণ আছে। প্রকৃতির নিয়মে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। এ জন্য ৫০ বা তার বেশি বয়সীরা এ রোগে আক্রান্ত হন। মেয়েদেরও মাসিক বন্ধ হলে হঠাৎ করে তাঁদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়। ফলে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম বের হয়ে যায়। এ কারণে হাড় হয়ে যায় ভঙ্গুর। এ রোগের চিকিৎসা করানোর চেয়ে প্রতিরোধ করাই শ্রেয়। এ জন্য যাঁদের এ রোগের ঝুঁকি আছে, তাঁরা আগে থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সচেতন হওয়া ভালো। তবে এ রোগ হয়ে গেলে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। এ রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই।

Ref: https://www.prothomalo.com/life/health/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A5%E0%A6%BE

13
কর্মক্ষেত্রের নেতিবাচক মনোভাব একদিকে যেমন কর্মপরিবেশ নষ্ট করে, অন্যদিকে কর্মীদের কাজের আগ্রহও কমিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে অফিসের কর্তাব্যক্তিদের কিছু পদক্ষেপ আয়ত্তে রাখতে পারে এসব নেতিবাচকতা।

অফিসের সব কর্মীকেই সমান গুরুত্ব দিন। ব্যক্তিগত পছন্দের কর্মী থাকতেই পারে। তবে কর্মক্ষেত্রে সেটি প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন। যেন কেউ নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করতে না পারে।

অফিসে কেউই নিজেকে পিছিয়ে রাখতে চান না। কাজের মাধ্যমে সবাই নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করতে চান। সবাইকে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব দিন। এতে করে সবাই ভালো করার সুযোগ পাবেন। কাজের আগ্রহও বাড়বে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন। সবার মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে করে কর্মীরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করবেন।

কাজের স্বীকৃতি পেলে কর্মীরা আরও উদ্যমী হন। ‘মাসিক সেরা কর্মী’ কিংবা এ ধরনের কোনো বিশেষ স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

কর্মীদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখুন। নিয়মিত কাজের প্রতিক্রিয়া জানান। অতীত ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কেও আলোচনা করতে পারেন।

সব কর্মীকে বিশ্বাস করুন। তাঁদের ওপর পর্যাপ্ত আস্থা রাখুন। কর্মীরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থাশীল হবেন। এতে করে সামগ্রিকভাবে কর্মীদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

14
‘শ্রমিকদের প্রতি আমরা আন্তরিক দেখে বিদেশের ক্রেতারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। একাধিক ক্রেতা আমাদের আগের চেয়ে বেশি ক্রয়াদেশ দিয়েছেন। আসলে আমি লেগে ছিলাম। একবারের জন্যও হাল ছাড়িনি। এই হাল না ছাড়ার কারণেই আমরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি’—মোস্তাফিজ উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড

শুভংকর কর্মকার
শুভংকর কর্মকার
প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২০, ১৪:০১

২২ বছর আগে একটি বায়িং হাউসে তিন হাজার টাকা বেতনে চাকরি করা মোস্তাফিজ উদ্দিন বর্তমানে রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের সফল উদ্যোক্তা। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডে তাঁর গড়া ডেনিম এক্সপার্ট নামের কারখানা থেকে মাসে গড়ে ১৫ কোটি টাকার ডেনিম পোশাক রপ্তানি হয়। কারখানার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে সাত বছর ধরে সফলভাবে আয়োজন করছেন আন্তর্জাতিক মানের প্রদর্শনী ডেনিম এক্সপো। নিজের প্রতিষ্ঠানের নামের মতোই মোস্তাফিজ সত্যিকারের ডেনিম বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন।

এই মোস্তাফিজ উদ্দিনকে নিয়েই বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম বিবিসি ‘ট্রু কস্ট অব অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রচার করেছে ৪ নভেম্বর। সেখানে তাঁর করোনাকালের সংগ্রাম তুলে ধরেছেন গণমাধ্যমটির প্রতিবেদক জেন কোপেসটেক।

পাখির চোখে ঢাকার শত শত দালান। মাঝেমধ্যে দু–চারটি গাছ উঁকি দিচ্ছে। হঠাৎ হাতিরঝিলের ঘোলা পানি। কারখানার ভেতরে একজন নারী শ্রমিক জিনস প্যান্ট আয়রন করছেন। তাঁর আশপাশে কাজ করছেন শত শত শ্রমিক। রাস্তায় হাজার হাজার পোশাকশ্রমিক ছাতা মাথায় কারখানা থেকে বের হচ্ছেন বা ঢুকছেন।...তথ্যচিত্রের শুরুটা এমনই। প্রতিবেদক জেন কোপেসটেক প্রথমেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত সম্পর্কে সংক্ষেপে কয়েকটি তথ্য দিলেন। বলতে ভুললেন না, বাংলাদেশ বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয়। খাতটিতে কাজ করছেন ৪০ লাখ শ্রমিক। ১৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের তথ্যচিত্রে করোনাকালে মোস্তাফিজ উদ্দিনের কারখানার ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত, কারখানায় ডেনিম কাপড় ও জিনস প্যান্টের স্তূপ, শ্রমিকদের কথা, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে তরুণ এই উদ্যোক্তার দৌড়ঝাঁপ, ফ্ল্যাট ও সোনার গয়না বিক্রিসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে।

তথ্যচিত্র নির্মাণের পেছনের গল্প শুনতে আমরা ৮ নভেম্বর সকালে মোস্তাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছি। তখন তিনি গাড়িতে করে ব্যাংকে যাচ্ছিলেন। বললেন, ‘সর্বশেষ ডেনিম এক্সপো কাভার করতে যুক্তরাজ্য থেকে জেন কোপেসটেক ঢাকায় এসেছিলেন। তো করোনার শুরু হওয়ার পর ক্রয়াদেশ স্থগিত এবং বাতিল হওয়া শুরু হলে তিনি আমার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। প্রায় প্রতিদিনই কথা হতো। প্রতিদিন কী কী ঘটছে, তা তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চাইতেন।’

গত মাসে ২৬ লাখ ডলার বা প্রায় ২২ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করেছেন মোস্তাফিজ, যা তাঁর প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। যদিও মার্চে স্থগিত ও বাতিল হওয়া ক্রয়াদেশের পণ্যও গত মাসে রপ্তানি হয়েছে।
মোস্তাফিজ উদ্দিন বললেন, ‘তথ্যচিত্রের শুটিংয়ের জন্য জেন কোপেসটেক যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন। তবে ফ্লাইট, করোনা ও ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের জটিলতার কারণে স্থগিত হয়ে যায়। পরে ঢাকার বিবিসি কার্যালয়ের ৪ জন কর্মী ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রামে তথ্যচিত্র ধারণ করেন। তথ্যচিত্রে আগের কিছু ফুটেজও ব্যবহার করেছেন জেন।’

করোনায় মোস্তাফিজ উদ্দিনের ১ কোটি ডলার বা ৮৫ কোটি টাকার পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছিল। সেই দুঃসময় পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্থগিত ও বাতিল হওয়া ক্রয়াদেশের পণ্য ক্রেতা নিয়েছেন। সামনের দিনে আরও যাবে। কিছু পণ্য যেগুলো ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান নেয়নি, সেগুলো অন্য ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন।

শ্রমিকদের প্রতি আমাদের আন্তরিকতা দেখে বিদেশি ক্রেতারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। একাধিক ক্রেতা আমাদের আগের চেয়ে বেশি ক্রয়াদেশ দিয়েছেন। আসলে আমি লেগে ছিলাম। একবারের জন্যও হাল ছাড়িনি। এই হাল না ছাড়ার কারণেই আমরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি
মোস্তাফিজ উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড
গত মাসে ২৬ লাখ ডলার বা প্রায় ২২ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করেছেন মোস্তাফিজ, যা তাঁর প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। যদিও মার্চে স্থগিত ও বাতিল হওয়া ক্রয়াদেশের পণ্যও গত মাসে রপ্তানি হয়েছে।

দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানো কীভাবে সম্ভব হলো, জানতে চাইলে মোস্তাফিজ উদ্দিন বললেন, ‘করোনাকালে শুরুতে অনেকে কারখানা লে-অফ করলেও আমরা সে পথে যাইনি। বিপদে কর্মীদের পাশে থেকেছি। তাঁদের বেতন-ভাতা শতভাগ দিয়েছি। সরকারের প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ায় কাজটি অনেক সহজ হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের কারণেই আমরা শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। তাঁরা অনুধাবন করেছেন, তাঁদের জন্য আমরা দৌড়ঝাঁপ করছি। শতভাগ বেতন-ভাতা দিতে হেন কোনো কাজ নেই, যা করিনি। তাই শ্রমিকেরাও আন্তরিকতার সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে ভালো কাজ করেছেন। সে জন্য কম সময়ে অনেক পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হয়েছে।’

মোস্তাফিজ উদ্দিন আরও বললেন, ‘শ্রমিকদের প্রতি আমাদের আন্তরিকতা দেখে বিদেশি ক্রেতারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। একাধিক ক্রেতা আমাদের আগের চেয়ে বেশি ক্রয়াদেশ দিয়েছেন। আসলে আমি লেগে ছিলাম। একবারের জন্যও হাল ছাড়িনি। এই হাল না ছাড়ার কারণেই আমরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি।’

আমি অখুশি নই। এক, দুই বা তিন সপ্তাহের জন্য ক্রয়াদেশ স্থগিত হলেও সেটির ভার বহন করার সক্ষমতা আমাদের আছে। তবে ক্রয়াদেশ বাতিল হলে টেকা মুশকিল হবে।
মোস্তাফিজ উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড
এদিকে করোনার প্রথম ঢেউ শেষ না হতেই দ্বিতীয় ঢেউ চোখ রাঙাচ্ছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বেশ খারাপভাবে জেঁকে বসেছে করোনা। লকডাউনের দিকেও যাচ্ছে কোনো কোনো দেশ। তার প্রভাবে ইতিমধ্যে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত হওয়ার খবর মিলছে। যদিও আপাতত সাময়িক সময়, মানে দু–তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত হচ্ছে। তবে উদ্যোক্তাদের বড় শঙ্কা, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্ম মৌসুমের ক্রয়াদেশ কম দিতে পারেন ক্রেতারা। সেটি হলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ঘুরে দাঁড়ানো কিছুটা বিলম্বিত হবে।

মোস্তাফিজ উদ্দিন বরাবরই আশাবাদী মানুষ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ক্রয়াদেশ স্থগিত হওয়া শুরু হলেও বললেন, ‘আমি অখুশি নই। এক, দুই বা তিন সপ্তাহের জন্য ক্রয়াদেশ স্থগিত হলেও সেটির ভার বহন করার সক্ষমতা আমাদের আছে। তবে ক্রয়াদেশ বাতিল হলে টেকা মুশকিল হবে। তারপরও লেগে থাকলে বা হাল না ছাড়লে গল্পটা সব সময়ই ভিন্ন হয়।’ কথাটি যে সত্য তা ‘ডেনিম মোস্তাফিজ’ নিজেই প্রমাণ করেছেন। তাই না!

Ref: https://www.prothomalo.com/business/%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE/%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA

15
Protect your Health/ your Doctor / আপনার ওজন কত?
« on: November 16, 2020, 01:05:00 PM »
সুস্থ থাকতে প্রত্যেকের উচিত শরীরের আদর্শ ওজন সম্পর্কে জানা, তা ধরে রাখার চেষ্টা করা। অনেক সময় ওজন মাপার বিভিন্ন যন্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন মাপ আসে, তাতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। আবার অনেকে ঘন ঘন ওজন মাপতে গিয়ে হতাশায় ভোগেন।

আপনার ওজন কত?
ওজন মাপার আদর্শ সময়
ওজন মাপার আদর্শ ও সঠিক সময় হলো সকালবেলা। ঘুম থেকে ওঠার পর টয়লেট সেরে কোনো নাশতা বা চা-পানীয় না খেয়ে ওজন মাপা। এ সময় শরীর সবচেয়ে হালকা থাকে। সপ্তাহে কিংবা মাসে এক দিন সকালবেলা ওজন মাপুন।

যন্ত্রবিভ্রান্তি
একটি নির্দিষ্ট যন্ত্রে ওজন মাপা ভালো। কারণ, একেক যন্ত্রে একেক রকম ওজন দেখাতে পারে। তাতে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়েন। যন্ত্রের কাঁটা সঠিক জায়গায় আছে কি না, লক্ষ করুন। কাঁটা এদিক-ওদিক হয়ে গেলে মাপ বিভিন্ন রকম হবে। আবার যন্ত্রটিও অনেক দিন ব্যবহার করার পর নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বেশি পুরোনো হলে বা উল্টে-পাল্টা পরিমাপ দিলে পরিবর্তন করুন। ভালো ব্র্যান্ডের যন্ত্র কিনতে চেষ্টা করুন। শরীরের ওজন মাপার যন্ত্রে ভারী জিনিস মাপলে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়।

সঠিক ওজন
কার কত ওজন হওয়া উচিত, তার সূচক হলো বিএমআই বা বডি ম্যাস ইনডেক্স। বিএমআই মাপার জন্য উচ্চতা জানতে হবে। উচ্চতা মিটারে আর ওজন কিলোগ্রামে (কেজি) মাপতে হবে। এবার এই ওজনকে উচ্চতার বর্গ দিয়ে ভাগ করলেই পেয়ে যাবেন বিএমআই। একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির স্বাভাবিক বিএমআই হলো ১৮ দশমিক ৫ থেকে ২৪ দশমিক ৯। বিএমআই ২৫ থেকে ২৯ দশমিক ৯ হলে আপনি ওভারওয়েট বা ওজনাধিক্যে ভুগছেন। আর বিএমআই ৩০-এর ওপর মানে ওবেসিটি বা স্থূলতায় আক্রান্ত। আবার বিএমআই ১৮ দশমিক ৫-এর নিচে হলে আপনি আন্ডারওয়েট। মুঠোফোন বা ইন্টারনেটে বিএমআই পরিমাপক অ্যাপ থাকে। এতে আপনার উচ্চতা (মিটার) আর ওজন (কিলোগ্রাম) দিলে বিএমআই হিসাব করে বের করে দেয়।

দ্রুত ওজন পরিবর্তন
আগের ওজনের চেয়ে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময়ের মধ্যে ৫ শতাংশ ওজন কমে যাওয়া বা পরিবর্তিত হওয়া খারাপ। কারও ওজন যদি ৭২ কেজি হয় আর ৬ মাসের মধ্যে যদি কোনো চেষ্টা ছাড়াই ৩ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজন কমে যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন বা ডায়েট কন্ট্রোল ও ব্যায়াম করছেন, তাঁদের জন্যও সপ্তাহে ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্য রাখা ভালো, এর বেশি নয়।

ওজন মাপার সময় মেনে চলুন
যন্ত্রটি কার্পেট, ম্যাট বা মেঝেতে সমান জায়গায় রাখুন।

ভারী জামাকাপড় খুলে রাখুন। মুঠোফোন, মানিব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ বা ফাইল সরিয়ে রাখুন।

জুতা পরে ওজন মাপবেন না।

পেট ভরে খেয়েই বা অনেক পানি বা তরল পান করার পরপর ওজন মাপবেন না।

ব্যায়ামের পরপরও ওজন মাপবেন না।

নারীরা পিরিয়ডের সময় বাদ দিয়ে ওজন মাপুন।

যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁরা ওজন মেপে একটা চার্ট তৈরি করুন।

অনেক যন্ত্র পাউন্ডে ওজন দেখায়। পাউন্ডকে কিলোগ্রামে রূপান্তর করতে প্রাপ্ত ওজনকে ০.৪৫ দিয়ে গুণ করতে হবে।

Ref: https://www.prothomalo.com/feature/pro-health/%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%93%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%A4

Pages: [1] 2 3 ... 18