Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - dulal.lib

Pages: [1] 2
1
অনলাইন কথোপকথনে অনেকেই এখন গুগল মিট ব্যবহার করছেন। এ সেবাকে আরেকটু সহজ করতে গুগল মিটের সঙ্গে ডটনিউ (.new) লিংক যুক্ত করে দিল প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুগল জি স্যুটের ব্যবস্থাপক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভিয়ার সলতেরো। তিনি বলেছেন, এখন থেকে মিট ডটনিউ (http://meet.new) লিংকটি কাজ করবে। আপনাদের স্বাগতম।’

কোনো ওয়েব ব্রাউজারে ইংরেজিতে মিট ডটনিউ লিখলে তা শর্টকাট লিংক হিসেবে কাজ করে গুগল মিটে নিয়ে যাবে। জিমেইলে ‘স্টার্ট আ মিটিং’ ক্লিক করলে যে লিংক সৃষ্টি হয়, এটা মূলত সেই লিংক হিসেবেই অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্স করার সুবিধা চালু করবে।

চলতি সপ্তাহে গুগল অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্ল্যাটফর্মের জিমেইল অ্যাপে গুগল মিট ভিডিও কল সেবার শর্টকাট যুক্ত করেছে। যাঁরা এখনো এ সুবিধা পাননি, তাঁরা শিগগিরই পেয়ে যাবেন। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এ সুবিধা পাওয়ার পর তাদের জিমেইল অ্যাপে মিট ট্যাব দেখতে পাবেন। ওই ট্যাবের মধ্যে ক্যালেন্ডারে সব গুগল মিট কল কখন কাকে করা হবে, তা তালিকাও পাবেন।

গুগল তাদের ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্মকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে এ ধরনের নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করতে কাজ করছে।

গত এপ্রিল মাসে গুগল তাদের মিট সেবাটি সবার জন্য বিনা মূল্যে চালু করার ঘোষণা দেয়। এর আগে সেবাটি গুগল জি স্যুটের অংশ ছিল, যা মূলত ব্যবসায়ীদের জন্য উৎপাদনশীলতার বিভিন্ন সমাধান হিসেবে কাজ করে। গুগল বলেছে, বিনা মূল্যে এক ঘণ্টা কল করার সুযোগ থাকবে। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম থাকছে না বলে জানিয়েছে গুগল।

গুগল মিটের নির্দিষ্ট অ্যাপও রয়েছে, যা প্লে স্টোরে ৫ কোটির বেশি ডাউনলোড হয়েছে।

 Information>Prothomalo>Online News

2
অফিসের চাপ বাড়ি বয়ে আনতে নেই। স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের একটি পূর্বশর্ত হিসেবেই জানা ছিল এই নিয়ম। মহামারি করোনার কারণে ঘটছে এখন উল্টোটা। বাড়িতে থাকাই এখন স্বাস্থ্যনিরাপত্তার মূলমন্ত্র। এখন অফিস থেকে শুধু চাপ নয়, অনেক কাজও চলে আসছে বাড়িতে। সেই সঙ্গে সভাও সারতে হচ্ছে বাড়ি থেকেই।

তবে বাড়ি থেকে সভায় যোগ দেওয়া হলেও এ সময় আপনার অফিসের ন্যূনতম আদবকেতা বজায় রাখা উচিত। একেবারে বাড়ির আমেজে থাকা ঠিক নয় বলেই জানালেন অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গারের জ্যেষ্ঠ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক তাসনিম ফারজানা।

তাসনিম ফারজানা বলেন, এই পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ মিটিং হচ্ছে অনলাইনে। অফিসে মিটিং হলে অফিসের সময়সূচি মেনে মিটিংয়ের সময় নির্ধারণ করা উচিত। সময়টি একটু আগে থেকেই সবাইকে জানিয়ে রাখলে ভালো। অনলাইন মিটিংয়ের বেলায়ও তাই। আগে থেকেই আলোচ্যসূচি বা বিষয় সম্পর্কে জানিয়ে রাখা উচিত সভায় অংশগ্রহণকারীদের। অংশগ্রহণকারীদের মানসিক প্রস্তুতি সফল মিটিংয়ের জন্য অপরিহার্য বলেই জানা গেল তাঁর কাছ থেকে।

অনলাইন মিটিংয়ে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়

##যা করবেন

*  পেশাদার আচরণ করুন।

*  মিটিংয়ের আগেই ইন্টারনেট সংযোগ, আপনার যন্ত্রের মাইক্রোফোন, ক্যামেরা সব ঠিক আছে কি না, দেখে নিন।

*  হেডফোন বা এয়ারফোন ব্যবহার করলে অন্যরা আপনার কথা স্পষ্টভাবে শুনতে পাবেন।

*  ফোনের রিংটোন বন্ধ করে রাখুন।

*  নিজে যখন কথা বলছেন না, তখন মাইক্রোফোন নীরব (মিউট) করে রাখুন।

*  কথা বলতে চাইলে প্রথমে হাত তোলা বা নক করার মতো কোনে অপশনের সাহায্য নিন (মিটিংয়ে ব্যবহৃত সফটওয়্যারে এ ধরনের যে অপশন রয়েছে)।

*  ভিডিও কলে মিটিং হলে আপনি ক্যামেরা থেকে কত দূরে বসলে এবং মিটিংয়ের সময় ঘরের আলোর উৎসের কোন দিকে বসলে ঠিকভাবে আপনাকে দেখা যাবে, আগেই ঠিক করে রাখুন।

*  সভা শেষে এর সারসংক্ষেপ (সিদ্ধান্ত, কর্মপরিকল্পনা প্রভৃতি) সবাইকে পাঠিয়ে দেওয়ার রীতিটাও মেনে চলা উচিত।

##যা করবেন না

এমন কোথাও বসে মিটিং করবেন না, যেখানে বিঘ্ন ঘটতে পারে। ঘরের দরজা আটকানো সম্ভব না হলে পরিবারের সবাইকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখুন, যাতে সেই সময় সেখানে কেউ না যায় বা আওয়াজ না করে। শিশু ও পোষা প্রাণীদেরও তখন কাছে রাখবেন না।

*  সভা চলাকালে ই–মেইল চেক করা বা অন্য কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

*  অডিও কলে সভা হলেও এমন পোশাক পরবেন না, যা আপনি সহকর্মীর সামনে পরতে অস্বস্তি বোধ করেন, আয়েশি ভঙ্গিতেও থাকবেন না। কারণ, আনুষ্ঠানিক ভঙ্গি মানসিকভাবে আপনাকে একটা ভিত্তি বা উৎসাহ দেবে। তা ছাড়া হঠাৎ ভিডিও চালু (অন) করার প্রয়োজনও হতে পারে।

*  ক্যামেরায় আপনাকে ছাড়া এমন কিছু যাতে দেখা না যায়, যা দৃষ্টিকটু হতে পারে বা অন্যদের মনোযোগ হারানোর কারণ হতে পারে।

Information-Prothomalo.


3
বারবার সতর্ক করা হচ্ছে, বাড়িতে থাকুন। বিনা কাজে, খুব জরুরি না হলে বাড়ির বাইরে বের হবেন না। সেটা কেবল ভাইরাস সংক্রমিত না হওয়ার জন্য। সময়টা ঘরে থাকার, মনকে শক্ত রাখার। এই শক্ত থাকার চেষ্টাকে কিছুটা শাণিত করবে কয়েকটি সিনেমা।

শুরুতেই ধরা যাক ‘ক্যাস্ট অ্যাওয়ে’র কথা। লোকটার তো মরেই যাওয়ার কথা ছিল। বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ভীষণ কঠিন। তবু কিছু অলৌকিক ঘটনা পৃথিবীতেই ঘটে। সে রকমই ঘটেছিল চাক নোল্যান্ড নামের মার্কিন এক কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানির প্রতিনিধির জীবনে। নতুন একটা জীবন পেলে সেটাকে আঁকড়ে ধরতে কিনা করে মানুষ। রবিনসন ক্রুসোর মতো একটা নির্জন দ্বীপে দীর্ঘদিন নিঃসঙ্গ কাটাতে হয়েছিল নোল্যান্ডকে।
করোনাভাইরাসের এই দিনগুলোতে আমাদের প্রত্যেকের ‘ক্যাস্ট অ্যাওয়ে’ সিনেমার নোল্যান্ড হয়ে যেতে হবে, যদি বাঁচতে হয়। কপাল ভালো হলে নোল্যান্ডের মতো নিঃসঙ্গ দ্বীপ থেকে আবার ফিরতে পারব সঙ্গী–সাথি পরিবেষ্টিত জীবনে। আজকের সিনেমাগুলো টিকে থাকার গল্প নিয়ে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয় ১৯৯৩ সালের ছবি ‘অ্যালাইভ’, ২০১২ সালের ‘কন–টিকি’ এবং ২০১০ সালের ছবি ‘১২৭ আওয়ার্স’। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার কাহিনি নিয়ে এ সিনেমাগুলো হয়তো আমাদের মনোবল খানিকটা বাড়িয়ে দিতে পারে। আতঙ্ক থেকে দিতে পারে খানিকটা স্বস্তি। স্বস্তির সবচেয়ে বড় জায়গাটি হচ্ছে, আমাদের থাকতে হচ্ছে না বরফ আচ্ছাদিত কোনো অচেনা জায়গায় বা কোনো জঙ্গলে খাদ্যহীন।

বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প নিয়ে ২০১৫ সালে নির্মিত হয় সিনেমা ‘দ্য মার্টেইন’ এবং ২০০৭ সালে ‘আই অ্যাম লিজেন্ড’। যে সিনেমাগুলোর কথা বলা হলো, এগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর কেউ জঙ্গলে, কেউ মঙ্গলে, কেউ বরফের দেশে, আবার কেউ সাগরের জলে লড়াই করে টিকেছে। এই ছবিগুলো নিঃসন্দেহে মানুষের আত্মবিশ্বাসকে উজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে। বাড়ির এফটিপি সার্ভার বা সিনেমার ওয়েব সাইটগুলোতে বিনা মূল্যেই সিনেমাগুলো দেখে নিতে পারবেন যে কেউ। এ ছাড়া রয়েছে নেটফ্লিক্সের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। আর সেসব জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে না পারলে শেষ পর্যন্ত আছে বৈধ ডাউনলোডার!

4
কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে অনেক দিনই হয়তো ভেবেছেন, যদি কয়েক দিন ঘরে বসে থাকা যেত! সেই সময় যখন এল, তখন মনে নানা শঙ্কা, অনেক উৎকণ্ঠা। ঘরে আপনি থাকবেন। কারণ, আপনার জীবনটা অনেক মূল্যবান। আপনার এই জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও অনেক জীবন, আরও অনেক মানুষ।

জর্জ বেইলির কথাই ধরি। ৩৮ বছরের বেইলি নিউইয়র্কে থাকতেন। ১৯৪৫ সালের একদিন তাঁর মনে হলো জীবনটা আসলে অর্থহীন, এই জীবনের কোনো প্রয়োজন নেই। আর তিনি বেঁচে না থাকলে এই দুনিয়ার কোনো ক্ষতি হবে না, কারও কিছুই যায় আসবে না। আসলেই কি তাই? জর্জ বেইলি যদি না জন্মাতেন, তাহলে যেভাবে সব চলেছে, সেভাবেই কি সব চলত?

ঘরে বসে থাকতে থাকতে যাঁদের মন খারাপ, তাঁরা যদি জীবনের মানে বুঝতে চান, তাঁদের জন্য সর্বকালের সেরা সিনেমা ইটস আ ওয়ান্ডারফুল লাইফ। বিশ্বাস করুন, কয়েক শ মোটিভেশনাল স্পিকার আপনাকে যতটা উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন, তার চেয়ে অনেক বেশি উদ্বুদ্ধ করবে ১৯৪৬ সালে মুক্তি পাওয়া ফ্রাঙ্ক কাপরার এই সিনেমা। সর্বকালের সেরা ছবির যেকোনো তালিকায় সিনেমাটি থাকবেই।

ইটস আ ওয়ান্ডারফুল লাইফ দিয়েই যদি সিনেমা দেখা শুরু করেন, তাহলে আজ না হয় ক্ল্যাসিক সিনেমার ঘরানার মধ্যেই থাকি।

ম্যাট ড্রেইটন সংবাদপত্রের প্রকাশক। স্ত্রী ক্রিস্টিনাকে নিয়ে সুখী জীবন। তারা উদারমনা মা–বাবা, তাদের একমাত্র মেয়ে গেছে বেড়াতে। ২৩ বছরের জোয়ানা ফিরে এলেন ছেলেবন্ধু নিয়ে। ছেলেবন্ধু বিপত্নীক, বয়স ৩৮। সবচেয়ে বড় কথা, ছেলেবন্ধু ডা. জন প্রেন্টিক একজন আফ্রিকান-আমেরিকান।

সময়টা ১৯৬৭ সাল। সে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ রাজ্যে সাদা-কালো বিয়ে ছিল অবৈধ। স্বাভাবিকভাবেই জোয়ানার মা–বাবা হতভম্ব হয় পড়েন। মেয়ে এই ছেলেকেই বিয়ে করবে এবং সে চায় মা–বাবা আশীর্বাদ করুক। কিন্তু জন অন্য রকম। জোয়ানার বাবাকে বলে আসেন, তারা অনুমোদন না দিলে এই বিয়ে হবে না।

স্পেনসার ট্রেসি, ক্যাথরিন হেপবার্ন ও সিডনি পটিয়ার অভিনীত গেজ হু ইজ কামিং টু ডিনার মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৭ সালে। এ ছবি থেকে ক্যাথরিন হেপবার্ন সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জিতেছিলেন। হলিউডে স্পেনসার ট্রেসি ও ক্যাথরিন হেপবার্নের প্রেম ছিল একসময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। ছবিটির শুটিং শেষ হওয়ার ১৭ দিন পর স্পেনসার ট্রেসি মারা যান। শুটিং চলার সময় সবাই জানতেন, এটাই ট্রেসির শেষ ছবি। এমনকি শেষ দৃশ্যে যখন ট্রেসি বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন ক্যাথরিন হেপবার্নের চোখে ছিল টলটলে অশ্রু। মুক্তি পাওয়ার পর ছবিটি কখনোই আর দেখেননি ক্যাথরিন। ঘরে বসে থাকার এই দিনে আপনারাই না হয় দেখে ফেলুন।

এবার আরেক লিজেন্ডের সিনেমা। অন গোল্ডেন পন্ড ১৯৮১ সালের ছবি। ক্যাথরিন হেপবার্ন তো ছিলেনই, সঙ্গে ছিলেন হেনরি ফন্ডা ও জেন ফন্ডা। হেনরি ফন্ডা ও ক্যাথরিন হেপবার্ন—দুজনই এই সিনেমার কারণে সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর অস্কার পেয়েছিলেন।

৭০ বছরের নর্মান (হেনরি ফন্ডা) ও ৬০ বছর উত্তীর্ণ ইথেল (ক্যাথরিন হেপবার্ন) প্রতি ছুটিতে গোল্ডেন পন্ড নামের এক লেকের পাশে কিছুদিন থাকেন। কিছুদিন পর নর্মানের ৭০তম জন্মদিন। তাদের একমাত্র মেয়ে চেলসি (জেন ফন্ডা) এসেছেন, সঙ্গে নতুন ছেলেবন্ধু বিল। বাবা ও মেয়ের সম্পর্ক উষ্ণ নয়। এটি মূলত বাবা ও মেয়ের সম্পর্কের ছবি।

যেমনটি দেখানো হয়েছে, বাস্তবেও বাবা-মেয়ের সম্পর্ক সে রকমই ছিল। বলে রাখি, সিনেমায় হেনরি ফন্ডা যে টুপি পরেছিলেন, সেটি আসলে স্পেনসার ট্রেসির। অনেকটাই ভিন্ন স্বাদের এই সিনেমা আপনাকে নতুন কিছু দেখার অভিজ্ঞতা দেবে।

5
চা, কফি পান করাতে নয়- সিঁড়িতে ওঠানামা করলে উৎসাহ ক্ষমতা দুটোই বাড়ে।
কাজের ফাঁকে আলসেমি, ঘুম, ক্লান্তি ইত্যাদি দূরে রাখতে সবাই বেছে নেন চা কিংবা কফি। এই দুই পানীয়তে থাকা ‘ক্যাফেইন’ই একাজের মুল নায়ক, যা বাড়ায় মনযোগ, মানসিক সতর্কতা ও কর্মশক্তি। তবে তা অতিরিক্ত গ্রহণের কুফলও আছে।

আবার চা-কফির প্রভাব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। আর একারণেই তা পান করার পরিমাণ বেশি হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বের করেছেন আলসেমি কাটানোর আরও কার্যকর উপায়। তা হলো সিঁড়িতে ওঠানামা করা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এবিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হলো বিস্তারিত।

বিকল্প এই উপায়ের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে গবেষণা চালায় ইউনিভার্সিটি অফ জর্জিয়া’র গবেষকরা। এতে অংশ নেয় ১৮ জন নারী, যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছর। এদের প্রত্যেকেরই ছিল দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি।

দুই ধরনের পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তি, মনযোগ, সাড়া দেওয়ার ক্ষিপ্রতা এবং কর্মস্পৃহার মাত্রা পরীক্ষা করেন গবেষকরা।

প্রথম পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের দুই দলে ভাগ করে একদলকে দেওয়া হয় ৫০ মিলিগ্রাম ‘ক্যাফেইন’ সমৃদ্ধ ক্যাপসুল আর বাকি অর্ধেককে দেওয়া হয় ‘প্লাসিবো’ বা কোনো কাজ করেনা এমন ওষুধ।

দ্বিতীয় পরীক্ষায় প্রত্যেককেই বলা হয় স্বাভাবিক গতিতে ১০ মিনিট সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে।

দেখা যায়, যে দলটি সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করেছেন তাদের কর্মশক্তির মাত্রা যারা ‘ক্যাফেইন’যুক্ত ক্যাপসুল সেবন করেছেন তাদের তুলনায় বেশি। তবে কোনো কিছুই অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিশক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

আসল কথা হল

যারা কাজের প্রয়োজনের প্রতিদিন চা কিংবা কফির ওপর নির্ভরশীল তাদের জন্য এই গবেষণা অভাবনীয় উপকার বয়ে আনবে বলে আশাবাদী গবেষকরা। কারণ দিনভর কয়েক কাপ চা-কফি পান করার বদলে তারা ঘরে কিংবা কর্মক্ষেত্রে সিঁড়িতে ওঠানামা করেই শরীরের আলসেমি কাটাতে পারবেন। আর এই কারণে যে শারীরিক পরিশ্রম হবে তা সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখবে।

6
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক ক্যাথরিন মাসুদের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ গত শতকের আশির দশক থেকে। এর আগ পর্যন্ত এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব পরিচিত ছিলেন না বাংলা ভাষার সঙ্গে, বাংলাদেশের সঙ্গে। কিন্তু ১৯৮৬ সালে সেই যে এলেন এই দেশে, বাংলা ভাষা হয়ে উঠল ক্যাথরিনের জীবনের অংশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ক্যাথরিন মাসুদের বাংলা ভাষা শেখা ও বাংলার সঙ্গে বসবাসের গল্পটি তুলে ধরা হলো।


ক্যাথরিন মাসুদ। ছবি: কবির হোসেন
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক ক্যাথরিন মাসুদের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ গত শতকের আশির দশক থেকে। এর আগ পর্যন্ত এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব পরিচিত ছিলেন না বাংলা ভাষার সঙ্গে, বাংলাদেশের সঙ্গে। কিন্তু ১৯৮৬ সালে সেই যে এলেন এই দেশে, বাংলা ভাষা হয়ে উঠল ক্যাথরিনের জীবনের অংশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ক্যাথরিন মাসুদের বাংলা ভাষা শেখা ও বাংলার সঙ্গে বসবাসের গল্পটি তুলে ধরা হলো।

৩৪ বছর আগের কথা। ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পা রেখেছিলেন ক্যাথরিন। তখন তিনি ক্যাথরিন মাসুদ নন। নন প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার বা নির্মাতা। তখন তিনি ক্যাথরিন লুক্রেশিয়া শেপার নামের ২৩ বছরের এক মার্কিন তরুণী। উন্নয়ন অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক হয়েছেন। লাল–সবুজের এই দেশে আসবেন, দেশের ভাষা আর মানুষের প্রেমে পড়বেন, এমনটা কথা ছিল না। কীভাবে কী হলো, সেই গল্প শোনার জন্য ক্যাথরিন মাসুদের সঙ্গে শুরু হলো মেইল চালাচালি। একটু সময় মিলতেই ফেলে রাখা এমএফএ (মাস্টার্স ইন ফাইন আর্টস) করেই ফেললেন ক্যাথরিন। যুক্তরাষ্ট্রে কনেটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, ডকুমেন্টারি ফিচার ফিল্মের কাজ, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের একাধিক প্রকল্প ও অন্যান্য নানা ব্যস্ততায় দিন কাটছে তাঁর। সুদূর মার্কিন মুলুক থেকে এত কিছুর মধ্যেও নিয়মিত বিরতিতে ক্যাথরিন মাসুদের ঠিকানা থেকে আসতে থাকল মেইলের উত্তর, প্রত্যুত্তর। জানা হলো বাংলা ভাষার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং এই ভাষার মায়ায় বাঁধা পড়ে যাওয়ার গল্প।

একটা মেইলে ওলটপালট
ক্যাথরিনের পড়াশোনায় ভৌগোলিকভাবে গুরুত্ব পেয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থা। বাংলাদেশে আসবেন, এমন কোনো পরিকল্পনা তাঁর খসড়া বা প্ল্যান বি, সিতেও ছিল না। এমন সময় বাংলাদেশের একটি এনজিও থেকে একটি মেইল যায় ক্যাথরিনের কাছে। এক বছরের ইন্টার্নশিপের ওই নিমন্ত্রণপত্র কৌতূহলী করে ক্যাথরিনকে। তাঁর গবেষণার তত্ত্বাবধায়কও লুফে নিতে বললেন সেই সুযোগ। এনজিওর কাজের অভিজ্ঞতাও হবে, এগোবে গবেষণাও। তাই এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করতে ‘জাদুর শহরে’ শুরু হলো ক্যাথরিন লুক্রেশিয়া শেপার নতুন জীবন, যার নাম ঢাকা।


ক্যাথরিন মাসুদ। ছবি: কবির হোসেন
ক্যাথরিন মাসুদ। ছবি: কবির হোসেন
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক ক্যাথরিন মাসুদের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ গত শতকের আশির দশক থেকে। এর আগ পর্যন্ত এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব পরিচিত ছিলেন না বাংলা ভাষার সঙ্গে, বাংলাদেশের সঙ্গে। কিন্তু ১৯৮৬ সালে সেই যে এলেন এই দেশে, বাংলা ভাষা হয়ে উঠল ক্যাথরিনের জীবনের অংশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ক্যাথরিন মাসুদের বাংলা ভাষা শেখা ও বাংলার সঙ্গে বসবাসের গল্পটি তুলে ধরা হলো।

৩৪ বছর আগের কথা। ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পা রেখেছিলেন ক্যাথরিন। তখন তিনি ক্যাথরিন মাসুদ নন। নন প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার বা নির্মাতা। তখন তিনি ক্যাথরিন লুক্রেশিয়া শেপার নামের ২৩ বছরের এক মার্কিন তরুণী। উন্নয়ন অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক হয়েছেন। লাল–সবুজের এই দেশে আসবেন, দেশের ভাষা আর মানুষের প্রেমে পড়বেন, এমনটা কথা ছিল না। কীভাবে কী হলো, সেই গল্প শোনার জন্য ক্যাথরিন মাসুদের সঙ্গে শুরু হলো মেইল চালাচালি। একটু সময় মিলতেই ফেলে রাখা এমএফএ (মাস্টার্স ইন ফাইন আর্টস) করেই ফেললেন ক্যাথরিন। যুক্তরাষ্ট্রে কনেটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, ডকুমেন্টারি ফিচার ফিল্মের কাজ, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের একাধিক প্রকল্প ও অন্যান্য নানা ব্যস্ততায় দিন কাটছে তাঁর। সুদূর মার্কিন মুলুক থেকে এত কিছুর মধ্যেও নিয়মিত বিরতিতে ক্যাথরিন মাসুদের ঠিকানা থেকে আসতে থাকল মেইলের উত্তর, প্রত্যুত্তর। জানা হলো বাংলা ভাষার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং এই ভাষার মায়ায় বাঁধা পড়ে যাওয়ার গল্প।

১৯৮৮ সালে ক্যাথরিন অংশ নিয়েছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে। সেখানে বক্তব্য দিচ্ছেন তিনি।
১৯৮৮ সালে ক্যাথরিন অংশ নিয়েছিলেন প্রথম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে। সেখানে বক্তব্য দিচ্ছেন তিনি।
একটা মেইলে ওলটপালট
ক্যাথরিনের পড়াশোনায় ভৌগোলিকভাবে গুরুত্ব পেয়েছিল লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থা। বাংলাদেশে আসবেন, এমন কোনো পরিকল্পনা তাঁর খসড়া বা প্ল্যান বি, সিতেও ছিল না। এমন সময় বাংলাদেশের একটি এনজিও থেকে একটি মেইল যায় ক্যাথরিনের কাছে। এক বছরের ইন্টার্নশিপের ওই নিমন্ত্রণপত্র কৌতূহলী করে ক্যাথরিনকে। তাঁর গবেষণার তত্ত্বাবধায়কও লুফে নিতে বললেন সেই সুযোগ। এনজিওর কাজের অভিজ্ঞতাও হবে, এগোবে গবেষণাও। তাই এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করতে ‘জাদুর শহরে’ শুরু হলো ক্যাথরিন লুক্রেশিয়া শেপার নতুন জীবন, যার নাম ঢাকা।


রবীন্দ্রনাথ আর ‘বেঙ্গলি ফর ফরেনার্স’
ক্যাথরিন মাসুদের দাদা আলফ্রেড বিংহাম ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্ত। গত শতকের িত্রশের দশকে মার্কিন নাগরিক আলফ্রেড বিংহাম তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে আসেন। শান্তিনিকেতনে দেখা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে। সেই ভ্রমণের গল্প শুনে এ অঞ্চল সম্পর্কে আবছা একটা ধারণা যা জন্মেছিল, সেটুকু পুঁজি করে এই বাংলায় এলেন ক্যাথরিন। প্লেন থেকে মাটিতে পা রেখে আশপাশে কে কী বলছিল, কিচ্ছু বুঝতে পারছিলেন না। এভাবে কিছুদিন চলল। আগে থেকেই ইংরেজি ছাড়া ফরাসি আর স্প্যানিশ জানতেন। সেটুকু যা আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল, তা–ই সম্বল করে একদিন হাঁটছিলেন ঢাকার নিউমার্কেটের পাশ দিয়ে। হঠাৎ-ই চোখে পড়ল ব্রাদার জেমসের বেঙ্গলি ফর ফরেনার্স বইটি। আগেও বই পড়ে বাংলা শেখার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এই বই তাঁকে সত্যিই সাহায্য করেছিল। বাংলা শেখালেন গৃহকর্মী, দারোয়ান আর রিকশাওয়ালারা
সাঁতার শিখতে যেমন পানিতে নামতেই হবে, ভাষা শিখতে গেলে তেমনই মানুষের সঙ্গে সেই ভাষায় কথা বলা ছাড়া গতি নেই। কিন্তু বাংলা ভাষা অনুশীলনের জন্য প্রাথমিকভাবে ক্যাথরিন সঙ্গী পেয়েছিলেন খুব কমই। যেসব ‘মধ্য’ ও ‘নিম্নবিত্ত’ মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের প্রায় সবাই কেবল তাঁর সঙ্গে নিজেদের ইংরেজিটা ঝালিয়ে নিচ্ছিলেন। অবশ্য তাঁদের দোষ দেন না মাটির ময়নার এই প্রযোজক। বরং নিজের উদ্ভট বাংলাকেই বানালেন ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’। এরপর? এই অংশটা শোনা যাক ক্যাথরিন মাসুদের বয়ানে, ‘তখন আমি অন্য শ্রেণিকে “তাক” করলাম বাংলার শেখার জন্য। যাঁরা বাংলা ছাড়া অন্য ভাষা জানে না। কাজের বুয়া, দারোয়ান, রিকশাওয়ালারা আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন বাংলা শিখতে। আমার কিম্ভূত উচ্চারণের দাঁতভাঙা বাংলার সঙ্গে চালিয়ে নেওয়া ছাড়া ওদের কোনো বিকল্পও ছিল না।’

ফল ভয়ংকর!
কয়েক মাসের প্রাণান্ত চেষ্টায় বাংলাটা ‘ধরে ফেললেন’ বটে, তবে গোল বাধল অন্য জায়গায়। ক্যাথরিনের বাংলা শব্দভান্ডারের অর্ধেকজুড়ে তখন দেশি গালাগালি। ক্যাথরিনের ভাষায়, ‘ব্যাড ওয়ার্ডস’। আর সেগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে–সেখানে ভরা মজলিশে ব্যবহার করতে লাগলেন তিনি। প্রায়ই তাঁর ভাষা শুনে ‘ভদ্রলোকেরা’ হাসিতে ফেটে পড়তেন বা মুখ চাওয়া–চাওয়ির একপর্যায়ে একেবারে চুপ হয়ে যেতেন। সেকেন্ড পেরিয়ে মিনিট গড়িয়ে যেত, তাঁদের মুখে আর ‘রা’ নেই। ক্যাথরিনের ভাষায়, ‘শকে’ চলে যেতেন তাঁরা। আর সেটিই নাকি ছিল ক্যাথরিনের বাংলা পাঠের খুবই ভীতিকর অধ্যায়।

তারেক মাসুদ বলতেন, ‘রাস্তার বাংলা’
তত দিনে ক্যাথরিন মাসুদ প্রায় এক বছর কাটিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশে। বুঝে বুঝে নিজের কথায় একটু–আধটু বাংলা বাগ্​ধারাও ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। এ রকম কিছু বলার পর দুরু দুরু বুকে কয়েক সেকেন্ডের অপেক্ষা। আর যখনই বুঝতে পারতেন, ঠিকঠাক প্রয়োগ করতে পেরেছেন, শিশুর মতোই হাততালি দিয়ে উঠত হৃদয়। বুঝতেন, পারছেন, তাঁকে দিয়ে হচ্ছে। বাংলা ভাষাকে নিজের মতো করে আবিষ্কার করার অনুভূতি তাঁর কাছে নতুন প্রভাতে নবজন্মের মতো। সে রকমই একটি দিনে দেখা হলো তারেক মাসুদের সঙ্গে। দুজনের বন্ধুত্ব হওয়ার পর তারেক মাসুদ প্রায়ই ক্যাথরিনের বাংলাকে কটাক্ষ করে বলতেন, ‘রাস্তার বাংলা’।

‘বনলতা সেন’ মুখস্থ করলেন ক্যাথরিন
সবার আগে আগে ‘লো বাংলা’ (নিম্নবিত্তের বাংলা), তারপর ‘হাই বংলা’ (শুদ্ধ ও প্রমিত বাংলা) আর সবার শেষে ‘মধ্যবিত্ত বাংলা’ (কথ্য ও প্রচলিত বাংলা) শিখেছিলেন ক্যাথরিন মাসুদ। তারেক মাসুদ, আহমেদ ছফাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে ক্যাথরিন মাসুদ পরিচিত হলেন শিল্প ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত এমন অনেকের সঙ্গে। হু হু করে বাড়তে লাগল ক্যাথরিনের বাংলা শব্দভান্ডার। তারেক মাসুদই নাকি ক্যাথরিন মাসুদকে পরিচয় করিয়ে দেন জীবনানন্দ দাশের সঙ্গে। সেসব কবিতা এত ভালো লাগল ক্যাথরিনের! ‘বনলতা সেন’ পুরোটা মুখস্থ করে ফেললেন। স্মৃতি থেকে প্রায়ই আনমনে আবৃত্তি করতেন ‘বনলতা সেন’কে। আর রবীন্দ্রসাহিত্য তো ছিলই। নিয়ম করে কিছু সময় বরাদ্দ রাখতেন চোখ বন্ধ করে রবীন্দ্রনাথের গানকে দেওয়ার জন্য। ক্যাথরিনের ভাষায়, ‘তৃষ্ণার্ত স্পঞ্জের মতো করে এসব সাহিত্যের পুরোটা শুষে নিলাম।’ এভাবেই ‘লো বাংলা’র পর ক্যাথরিন শিখলেন ‘হাই বাংলা’। সবার পরে পরিচয় হয়েছিল মধ্যবিত্তের বাংলার সঙ্গে।

হরেক রকম বাংলা
এভাবেই বর্ণপরিচয় থেকে শুরু করে বাংলার নানা রকমফেরের সঙ্গে পরিচয় ঘটল চলচ্চিত্রকার ক্যাথরিন মাসুদের। ভাষণের বাংলা, সামাজিক আচারের শালীন বাংলা, দৈনন্দিন কাজের বাংলা আর বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় শিখলেন ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লার বাংলা ও কলকাতার বাংলা। সব বাংলার সুরগুলো শিখে নিতে লাগলেন ধীরে ধীরে। হাতে–কলমে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি বাংলা বলতে, পড়তে ও মোটামুটি লিখতে শিখে গেলেন।

বাংলা ভাষা শেখাটা পরিকল্পনা করে হয়নি ক্যাথরিন মাসুদের। কিন্তু এই ভাষাকে আপন করে নিতে সময় লাগেনি তাঁর। আপনা–আপনি মনের অজান্তেই ঘটেছে বাংলার সঙ্গে প্রেম। আজ বাংলা ভাষাকে নিজের করতে পেরে গর্ব হয় তাঁর। কারণ, এই ভাষা সব ভাষার প্রতি মানুষের ভালোবাসার প্রতিনিধিত্ব করে। বাংলা ভাষার সৌন্দর্যে তিনি মুগ্ধ হন বারবার। ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করে রোমাঞ্চিত হন। যে ইতিহাস অহংকারী না হয়ে বরং ভাষার বৈচিত্র্যকে শ্রদ্ধা জানায়, দুয়ার খুলে দেয় মানবতার। তাই সব কথার শেষে এসে ক্যাথরিন বললেন, ‘আমার বাংলা ভাষা শেখার সফরটা একসময় হুট করেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু একসময় এটাই হয়ে ওঠে আমার জীবনের এমনই এক অংশ, যাকে নিয়ে আমি গর্ব করতে পারি।

সূত্র>প্রথম আলো

7
Library of DIU / National Library Day 2020
« on: February 17, 2020, 07:30:45 PM »
DIU Libraries Celebrated National Library Day 2020 (5th February)

On the occasion of National Library Day 2020, the Ministry of Cultural Affairs and Department of Public Libraries organised rally, discussion meeting and cultural programme. The day started with a rally which was inaugurated by KM Khalid MP, State Minister for Cultural Affairs. The rally started from the premises of the Department of the Public Libraries, taken a round through the Teacher-Student Centre (TSC) of Dhaka University and ended at the Deaprtment of Public Libraries, Shahbagh in the city. The DIU Library staff members participated in the rally. Then a discussion meeting took place at the Shawkat Osman Memorial Auditorium, Department of the Public Libraries, Dhaka.

8
Library of DIU / Library Catalogue
« on: February 17, 2020, 07:15:48 PM »
Catalogue:
Library catalogue is an essential and important tool for any library. This tool has been developed to facilitate the use of reading materials in a library. It is useful to both the readers using the library and the library staff members who help the readers to use the library.
   
Definitions of Library Catalogue:
Library catalogue is a list of books and other reading materials available in a particular library. It discloses to the reader the contents of a library collection. Whereas, cataloguing is a technique of describing the documents in order to help the reader to identify the document in which he is interested.

Catalogue is a record or list of books, periodicals, journals, pamphlets, monographs, audio-visual aids and other materials of a particular library, or a group of libraries or a private collection containing specified items of bibliographical information, viz. author, title, edition, imprint, collation, etc. in automated, microfiche, card or printed form arranged in classified or alphabetical order according to any standard catalogue code or rules, i.e. AACR, LC, etc.
Dr. S.R. Ranganathan, “A list of documents in a library or in a collection forming a portion of it”.
According to James Duff Brown “A Library catalogue is a list of books and other graphic materials in a particular library or collection.”

Objectives of Catalogue:
According to the major information scientists a catalogue normally has the following basic objectives:

1.    To enable a person to find a book when one of the following information is known:

a.   the author
b.   the title
c.   the subject

2. To show what the information institution has

a.   by a given author
b.   on a given subject
c.   in a given kind of literature

3.  To assist in the choice of a book

a.   as to the edition (bibliographically)
b.   as to its character (literary or topical)



Purpose and Scope of Catalogue:

1.   To record books and other reading materials in the information institution.
2.   To interpret the reading materials to the reader by mentioning essential elements of a book, i.e. author, title, edition, imprint, collation, series, bibliography, subject, etc.
3.   To make the reading materials available quickly, so a reader requiring books on a subject will not have to go all around the library to collect the required materials.
4.   To put order into the collection so that the volumes may be located and used conveniently for reference and circulation. 

Function of Catalogue:

The major functions of a library catalogue are:

1.   To record each work in an information institution by author, editor, compiler, translator, series, or by corporate body as author in case of impersonal authorship under which entries are made, and the reader is likely to search for a book.

2.   To arrange author entries in such a way that a reader finds all the work of an author together in a dictionary catalogue.

3.   To record each work in an information institution under the subject.

4.   To record titles of work if it is written by more than three authors.

5.   To explain a book to the reader by providing a description of each book mentioning major bibliographical information, viz. Author, title, imprint, collation, series, ISBN index.

6.   To arrange the call numbers numerically by classification under in classified catalogue.

7.   To work as a book selection tool for other comparatively new or small library.

8.   To help the research workers and readers know what materials are available on a given subject in the library.

9
সেলাই বা বুনুনির কাজের শখ অনেকেরই রয়েছে। আর এই শখ মানসিক অস্বস্তি কাটাতেও সাহায্য করে।

সেলাইয়ের কাজ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যারাই করবেন, তাদেরকে হতাশা, মানসিক অস্বস্তি, ‘ডিমেনশিয়া’ রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি বিলম্বিত করা এবং দীর্গদিন ধরে যে ব্যথায় ভুগছেন তা থেকে আরাম দেবে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হলো বিস্তারিত।

১৫ হাজারেরও বেশি শৌখিন বুননকারী মিলে যুক্তরাজ্যে গড়ে ওঠা এক সংগঠনের নাম ‘নিট ফর পিস’। তারা সেলাই করেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য, আর সেলাইয়ের কাজের উপকারী দিক সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে এখানেই।

এই সংগঠনের একাধিক সদস্য দাবী করেন সেলাইয়ের কাজ করার মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থায় অনেকটা উন্নতি হয়েছে। একাধিক মন্তব্যের ভিত্তিতে এবিষয়ে বিস্তারিত গবেষণার পদক্ষেপ নেয় সংগঠনটি।

‘ব্রিটিশ জার্নাল অফ অকুপেশনাল থেরাপি’ শীর্ষক জার্নালে ওই গবেষণার ফল প্রকাশ পায়। সেখানে বলা হয়, ‘সংগঠনের প্রায় ৮১ শতাংশ সদস্যের দাবী সেলাইয়ের কাজ করার পর তারা মানসিক শান্তি অনুভব করেন। সুঁইয়ের ফোঁড়ের পুনরাবৃত্তি, সুতার নরম স্পর্শ মস্তিষ্কের নিঃসরণ করে ‘সেরোটোনিন’, যা সেলাইকারীর মন প্রফুল্ল করে এবং প্রায় সবধরনের শারীরিক ব্যথা থেকে আরাম দেয়।

২০০৭ সালে হার্ভার্ড মেডিকাল স্কুলের ‘মাইন্ড অ্যান্ড বডি ইনস্টিটিউট’ এই বিষয়ে গবেষণা চালায়। সেই গবেষণা মতে, নিয়মিত সেলাইয়ের কাজ করার কারণে হৃদস্পন্দনের গতি নেমে আসে প্রতি মিনিটে ১১টি স্পন্দনে এবং মনকে শান্ত করে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বাড়ায়, পাশাপাশি এর জ্ঞানীয় ক্ষমতার ক্ষয় কমায়।

সেলাইয়ের কাজের সুফল এখানেই শেষ নয়। শখ হিসেবে সেলাই করাটা অত্যন্ত আরামের একটি অভ্যাস এবং এর সুফলগুলো অনেকাংশেই ধ্যানের সমতুল্য। সেলাই করার সময় পুরো মস্তিষ্ক কর্মরত থাকে। এতে করে যারা ‘পারকিনসন’স ডিজিজ’য়ে ভুগছেন তাদের চলাফেরার ক্ষমতার উন্নয়ন হয়।

উলের বল থেকে পরিধানযোগ্য পোশাক বানানো কিংবা বাতিল কাপড় আর সুতা থেকে সুন্দর কাঁথা তৈরি করতে পারাটা তুচ্ছ বিষয় নয় মোটেও, তাই কাজ শেষে আপনার আত্মতুষ্টির অনুভুতি হবে অতুলনীয়।

আরও পড়ুন

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কাঁচা ফল ও সবজি 

ঝেড়ে ফেলুন হতাশা 

দুশ্চিন্তা যখন ভালো 

10
বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার অংশ হিসেবে মাদক পরীক্ষা বা ডোপ টেস্ট চালুর প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং সাধারণত লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মনে করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শুধু ভর্তি পরীক্ষাই নয়, বরং একটি মেডিকেল টেস্টও হওয়া উচিত যাতে দেখা হবে কোনো পরীক্ষার্থী মাদকাসক্ত কি-না।

অর্থাৎ ভর্তি পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষার সাথে থাকবে ডোপ টেস্টের বিধান।

কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে অনেকেই ছিলেন এবং তারাও মনে করেন মাদকের বিস্তার ঠেকাতে একটি ইতিবাচক ফল দেবে।

তিনি বলেন ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সময়েই এটা করা সম্ভব এবং এটির ব্যবস্থাপনাও খুব কঠিন কিছু হবে না।

"সরকারি চাকুরী, বিভিন্ন বাহিনীর চাকুরীতে লাখ লাখ কর্মীর ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সম্ভব হবেনা কেনো?" তার প্রশ্ন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ১০১টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ।

এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আসন সংখ্যা ৪৮ হাজার ৩৪৩টি। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতেও আসন রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার। বুয়েটে রয়েছে এক হাজারেরও বেশি।

এসব আসনের বিপরীতে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে।

BBC Bangla

11
পয়লা বৈশাখে চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ হয়েছে এক নতুন মাত্রা। এখন এটি বিশ্ব সংস্কৃতির অংশ। জাতিসংঘের সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর মঙ্গল শোভাযাত্রাকে তাদের ‘রিপ্রেজেনটেটিভ লিস্ট অব ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইউনেসকোর স্বীকৃতি লাভের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বছর সারা দেশেই বৈশাখী উৎসবে মঙ্গল শোভাযাত্রা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই চারুকলার শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা চিত্রশিল্পীদের নিজস্ব প্রয়াসে এ শোভাযাত্রা হয়ে উঠেছে বিশ্বের ঐতিহ্য। আমাদের সংস্কৃতিকে করে তুলেছে ঋদ্ধ।

যেভাবে শুরু মঙ্গল শোভাযাত্রা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শিল্পী আবুল বারক আলভী বলেন, এই মঙ্গল শোভাযাত্রা ১৯৮৯ সাল থেকে নিয়মিত হয়ে আসছে। তবে ১৯৮৫ সালে যশোরে এটি প্রথম বের হয়, সেখানেও চারুকলার শিক্ষার্থীরা এতে জড়িত ছিলেন। চারুকলা অনুষদের ডিন ও শোভাযাত্রা শুরুর অন্যতম উদ্যোক্তা নিসার হোসেন ১৯৮৯ সালেই এখানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি জানান, ১৯৮৫-৮৬ সালের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্যোক্তা। তিনি জানান, এরা ১৯৮৮ সালের বন্যায় কিছু কাজ করেছিল। সেই সময় তাদের চারুশিল্পী সংসদ সহায়তা করেছিল। শিক্ষকেরা পেছনে ছিলেন, কিন্তু সব কাজ হয়েছে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে। শুরুর সেই ঘটনার স্মৃতিচারণা করছিলেন নিসার হোসেন, ‘ওই সময় এরশাদবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। ওই সময় সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করেছিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সবার প্রচেষ্টায় তখন এটি বৃহত্তর প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হলো। সেখানে দুটি বিষয় প্রাধান্য পেল। একটি হচ্ছে, আমাদের যে ঐতিহ্য আছে, সেটি তুলে ধরা। যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, একই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থাকার কারণে সেটি একটি ভিন্ন মাত্রা পেল।’চারুকলার এ শোভাযাত্রাকে শোভিত করার জন্য যে উপাদানগুলো লাগে, সেগুলো শুরু থেকেই নেওয়া হয় দেশের লোকশিল্পের নানা ধরনের খেলনা থেকে। এর বাইরে ঘোড়া, নকশিপাখা, ফুল, প্রজাপতি, মানুষ, প্রকৃতি এগুলো শোভাযাত্রায় স্থান পেতে থাকে। নিসার হোসেনের মতে, ইউনেসকোর স্বীকৃতি দেওয়ার মূল কারণ যে এটা শুধু একটা সম্প্রদায় বিশেষের নয়, এটা গোটা দেশের মানুষের, সারা পৃথিবীর মানুষের। এখানে মানবতার বিরাট একটা ব্যাপার আছে।

ইউনেসকোর স্বীকৃতি

ইউনেসকো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে মূল্যায়ন করেছে অন্যায় ও অকল্যাণের বিরুদ্ধে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের মানুষের সাহসী সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। ধর্মবর্ণজাতিলিঙ্গ-নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের একই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও ইউনেসকোর এই স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। ইউনেসকো ২০০৩ সালে সারা বিশ্বের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’, অর্থাৎ মনোগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণের জন্য একটি সমঝোতা চুক্তি অনুমোদন করে। এর আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মনোগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার মতো ঐতিহ্যবাহী মনোগত সাংস্কৃতিক উপাদান বিশ্বের নানা প্রান্তের নানা জাতিগোষ্ঠীর ভেতরেই রয়েছে। চুক্তিতে সই করা দেশগুলো ইউনেসকোর স্বীকৃতির জন্য আবেদন করলে সংস্থাটি যাচাই-বাছাই করে সেই বিষয়গুলো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। ইউনেসকোর এ স্বীকৃতির ফলে ওই সাংস্কৃতিক উপাদান ওই দেশের নিজস্ব বলে বিশ্ব দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ এই স্বীকৃতির ফলে মেনে নেওয়া হয় ওই বিশেষ সাংস্কৃতিক উপাদানের জন্মস্থান হলো নির্দিষ্ট দেশটি।
নিয়ম অনুসারে, চুক্তিতে সই করা দেশগুলো প্রতিবছর একটি সাংস্কৃতিক উপাদানের স্বীকৃতির জন্য ইউনেসকোর কাছে আবেদন করতে পারে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পয়লা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার স্বীকৃতি চেয়ে ইউনেসকোতে আবেদন করে। স্বীকৃতি দেওয়ার মূল কাজটি করে ‘ইন্টার গভর্নমেন্টাল কমিটি ফর দ্য সেফগার্ডিং অব দ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’। কয়েক ধাপ পর্যালোচনার পর গত বছরের ৩০ নভেম্বর ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠিত কমিটির একাদশ সম্মেলনে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্বের মনোগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপাদান হিসেবে অভিষিক্ত হলো।

12
১. ফ্রাঁসোয়াস বেটাকোর মেয়ার:
তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসেব অনুসারে তিনি বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকার ১৫ নম্বরে। ফরাসী কসমেটিক কোম্পানি ল'রিয়েলের উত্তরাধিকারী তিনি। তিনি এবং তার পরিবার এই কোম্পানির ৩৩ শতাংশের মালিক। তার বয়স এখন ৬৫। সব সম্পদ তিনি পেয়েছেন তার মায়ের কাছ থেকে। তার মা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। এনিয়ে তারা দীর্ঘ বিরোধেও জড়িয়েছিলেন। মিজ বেটাকোর-মেয়ার একটি আইনি মামলা করেছিলেন যেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন তার মাকে আশেপাশের কিছু ব্যক্তি ব্যবহার করছে। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল। তিনি একজন শিক্ষাবিদও। গ্রিক দেবতা এবং ইহুদি-খৃস্টান সম্পর্কের ওপরে তার কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

২. এলিস ওয়ালটন:
তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার। বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তার অবস্থান ১৭ নম্বরে। তার বয়স এখন ৬৯। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সুপারমার্কেট ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের একমাত্র কন্যা তিনি। তিনি তার দুই ভাই থেকে একেবারেই আলাদা ধরনের মানুষ ছিলেন। পরিবারের ব্যবসা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। তিনি চিত্রকলার ওপর জোর দেন এবং ক্রিস্টাল ব্রিজেস মিউজিয়াম অফ আমেরিকান আর্টের চেয়ারম্যান হন।

৩. ম্যাকেঞ্জি বেজোস:
তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার। এটা শুধু আমাজনের যতটুকু মালিকানা তিনি পাবেন তার আর্থিক মূল্য। মোট সম্পদের পরিমাণ এর চেয়েও আরো বেশি হবে। কতো বেশি সেটা জানতে আগামী ফোর্বস ম্যাগাজিনের দিকে চোখ রাখতে হবে। তার বয়স ৪৮। আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে তিনি বিয়ে করেন ১৯৯৩ সালে। একটি হেজ ফান্ড কোম্পানিতে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। তাদের চারটি সন্তান রয়েছে। আমাজনে যারা প্রথম চাকরি শুরু করেন তাদের একজন ছিলেন ম্যাকেঞ্জি। তিনি যোগ দিয়েছিলেন একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে। তিনি দুটো বহুল আলোচিত ফিকশন বই লিখেছেন। লেখক টনি মরিসনের কাছে লেখালেখির বিষয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি। টনি মরিসন বলেছেন, তিনি তার সেরা শিক্ষার্থীদের একজন। মিস বেজোস একটি এন্টি-বুলিং সংস্থাও গড়ে তুলেছেন। নাম বাইস্ট্যান্ডার রেভ্যুলুশন। এই সংস্থা থেকে.

৪. জ্যাকুলিন মার্স:
তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার চারশো কোটি ডলার। বিশ্বের ধনী মানুষের তালিকায় তিনি আছেন ৩৩ নম্বরে।
তার বয়স ৭৯। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কনফেকশনার মার্সের এক তৃতীয়াংশের মালিক তিনি। তার দাদা/নানা ফ্র্যাঙ্ক ১৯১১ সালে এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
পরিবারের এই ব্যবসায় তিনি কাজ করেছেন প্রায় ২০ বছর। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন। বর্তমানে তিনি পরিচিত অত্যন্ত দানশীল এক ব্যক্তি হিসেবে। ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা, ন্যাশনাল আর্কাইভসহ আরো কিছু সংস্থার বোর্ড সদস্য তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পোষা প্রাণীর জন্যে যারা খাবার তৈরি করে তাদের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ এই মার্স কোম্পানি।

৫. ইয়ান হুইয়ান:
তার মোট সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার দুশো কোটি ডলারেরও বেশি। চীনের সবচেয়ে ধনী মহিলা তিনি। আর বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তিনি ৪২ নম্বরে।
তার বয়স এখন ৩৭। চীনে বাড়ি ঘরের ব্যবসা করে এরকম একটি প্রতিষ্ঠান কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিংসের বেশিরভাগ অংশেরই মালিক তিনি। চীনে প্রপার্টি নির্মাণের যে ধুম লেগেছে তার পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে এই কোম্পানির। এই কোম্পানির ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, সারা বিশ্বে যতোগুলো ডেভেলপার কোম্পানি আছে তার মধ্যে ২০১৬ সালের কান্ট্রি গার্ডেন ছিল তিন নম্বরে। ইয়ান হুইয়ান ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। কোম্পানিতে তার ৫৭% শেয়ারের বেশিরভাগই তিনি তার পিতার কাছ থেকে পেয়েছেন।

৬. সুজান ক্লাটেন:
তার সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার একশো কোটি ডলার। আর সারা বিশ্বে ধনীদের তালিকায় তিনি ৪৬ নম্বরে। তার বয়স ৫৬। জার্মান এই নারীর রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস ও গাড়ির ব্যবসা। রাসায়নিক কোম্পানি আলটানা এ জি-র ৫০% তিনি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে, তার পিতামাতা মারা যাওয়ার পর। বিএমডাব্লিউ গাড়ির ৫০ শতাংশেরও মালিকানা তার ও তার এক ভাই এর। পরে আটলান্টার একক মালিক হন তিনি। আরো কিছু কোম্পানিরও শেয়ার কিনে নেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে বায়ু শক্তি থেকে শুরু করে গ্রাফাইট উৎপাদনকারী কোম্পানিও রয়েছে।

৭. লরা পাওয়েল জবস:
তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ন'শো কোটি ডলার। এবং সারা বিশ্বের ধনীদের মধ্যে তিনি ৫৪তম। তিনি সফটওয়্যার কোম্পানি অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর অ্যাপল ও ডিজনির দুই হাজার কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হন তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে। তার বয়স ৫৫। পরে তিনি তার কিছু অর্থ সাংবাদিকতার পেছনে বিনিয়োগ করেন। আটলান্টিক ম্যাগাজিনের একটি বড় অংশ কিনে নেন তিনি। এছাড়াও তিনি অলাভজনক প্রকাশনা মাদার জোন্স এবং প্রোপাবলিকাতেও অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। অভিবাসন ও শিক্ষা সংস্কারের মতো কিছু বিষয়েও বিনিয়োগ করেছেন তিনি। গড়ে তুলেছেন কিছু প্রতিষ্ঠান।

13
Technology News / এলো গুগল ক্রোম ৭২
« on: February 11, 2019, 07:26:49 PM »
ক্রোম ব্রাউজারের নতুন আপডেট উন্মুক্ত করেছে গুগল। ত্রুটি সারানোর পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন ফিচার যোগ হয়েছে ক্রোম ৭২ সংস্করণে।

এক্সাটার্নাল স্টোরেজ সমর্থন আনা হয়েছে নতুন সংস্করণের অ্যান্ডয়েড অ্যাপে। ফলে ক্রোম ব্রাউজারে থেকে মাইক্রোএসডি কার্ড ও ইউএসবি ড্রাইভে ডেটা আদান প্রদান করা যাবে। এ ছাড়া ক্রোম সাইটগুলোর জন্য যোগ হয়েছে পিকচার-ইন-পিকচার মোড।
আইএএনএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্যাবলেট মোডে টাচস্ক্রিন ডিভাইসগুলোর জন্য আগের চেয়ে বেশি সহায়ক করা হয়েছে ক্রোম ৭২। আর অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য যোগ করা হয়েছে অ্যাপ শর্টকাট।
গুগলের পক্ষ থেকে এক ব্লগ পোস্টে বলা হয়, “গ্রাহক অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে কিছুক্ষণ চেপে ধরে রেখে বা রাইট-ক্লিক করে অ্যাপ শর্টকাট বের করতে পারবেন।”
নতুন আপডেটের মাধ্যমে আরও বেশি ক্রোমবুক ডিভাইসে আনা হয়েছে গুগল অ্যাসিস্টেন্ট ও অ্যান্ড্রয়েড ৯ পাই।
ক্রোম ৭২-এর নতুন ফিচার তালিকায় যোগ হয়েছে গুগল ড্রাইভ ব্যাকআপ ফিচারও। এর ফলে মাই ড্রাইভ বা মাই কম্পিউটার মেনু অপশনে গুগল ড্রাইভের ব্যাকআপ ফাইল দেখতে পারবেন গ্রাহক।
সামনের কয়েক সপ্তাহ ধরে আপডেটটি বিভিন্ন ডিভাইসের জন্য আনা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

14
বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক বিজ্ঞানী  টমাস আলভা এডিসনের কথা তো আমরা সবাই জানি। ১১ ফেব্রুয়ারি তার জন্মদিন।

১৮৪৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে, ওহিওর মিলানে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা স্যামুয়েল ও মা ন্যান্সি এডিসনের সবচেয়ে ছোট এবং সপ্তম সন্তান ছিলেন এডিসন। বাবা ছিলেন একজন নির্বাসিত রাজনৈতিক কর্মী আর মা  ছিলেন স্কুল শিক্ষক।
এই যে এত এত কিছুর আবিষ্কারক কিন্তু পড়ালেখায় খুব অমনোযোগী ছিলেন। এজন্যে স্কুল থেকে তাকে একটি চিঠি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয় চিঠিটি যেন তিনি মায়ের হাতে দেন। শিশু এডিসন চিঠিটি সরাসরি মায়ের হাতেই দেন। চিঠিটি পড়ার পর এডিসনের মায়ের চোখ অশুসজল হয়ে উঠেছিল।এডিসন চিঠিটির সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি চিঠিটি জোরে পড়ে শোনান," your son is genius.This school is too small for him and doesn't have enough good teachers for training him. please teach him yourself."
অর্থাৎ,"আপনার ছেলে প্রতিভাধর। এই স্কুলটি তার জন্য খুব ছোট এবং তার প্রশিক্ষণের জন্য এখানে যথেষ্ট ভালো শিক্ষক নেই। তাকে নিজের মতো করে শিক্ষা দিন।"
এরপর ঘরেই মায়ের কাছে পড়া শুরু করেন তিনি। মাত্র ১১ বছর বয়সেই বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রচুর বই পড়ে ফেলেন এডিসন। ১৫ বছর বয়সে টেলিগ্রাফ অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন এডিসন। এরমধ্যেই টেলিগ্রাফ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের প্রযুক্তি নিয়ে প্রচুর গবেষণাও শুরু করেন।
১৮৬৬ সালে ১৯ বছর বয়সে কেন্টাকির লুইসভিলে চলে যান তিনি। সেখানে অ্যাসোসিয়েট প্রেসের হয়ে কাজ শুরু করেন। কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি তৈরির কাজে হাত দেন। শুরু হয় নতুন কিছু আবিষ্কারের পথে এগিয়ে চলা।
এডিসন তখন শতাব্দীর সেরা আবিষ্কারক। একদিন তিনি পুরনো জিনিসপত্র দেখছিলেন। ডেস্কের ড্রয়ারের কোণায় একটা ভাঁজ করা চিঠি পেলেন। চিঠিতে লেখা ছিল, "Your  son is addled. We won't let him come to School anymore." অর্থাৎ, "আপনার সন্তান মানসিকভাবে অসুস্থ। তাকে আমরা আর কোনোমতেই স্কুলে রাখতে পারছি না।"
এডিসন চিঠিটি পড়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। তখন তিনি তার ডায়েরিতে লিখেছিলেন "Thomas Alva Edison was an addled child that, by a hero mother, become the genius of the century." অর্থাৎ,"টমস আলভা এডিসন একজন স্থুলবুদ্ধিসম্পন্ন শিশু ছিলেন, একজন আদর্শবান মায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি আজ শতাব্দীর সেরা মেধাবী।"
শুধুমাত্র একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আর একজন মানুষের অনুপ্রেরণাই বদলে দিতে পারে কারও জীবনের গল্প। যেমনটা, শিশু এডিসনের মায়ের অনুপ্রেরণায় আজ তিনি একজন সফল আবিষ্কারক, একজন বিশ্ব সেরা উদ্ভাবক।

15
Story, Article & Poetry / আয়না আবিষ্কার
« on: June 26, 2018, 05:20:45 PM »
জাপানি রূপকথায় আছে, একদিন ভোরবেলায় সূর্যদেবতা নাকি কোনো কারণে খুব রেগে যান। রেগে গিয়ে তিনি নিজেকে এক গুহার মধ্যে লুকিয়ে ফেলেন। আর তখুনি সারা পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে এলো।
পৃথিবীর সমস্ত উদ্ভিদ, প্রাণী সূর্যের রাগ ভাঙাবার জন্য নানান চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু কিছুতেই কোনো ফল হল না। অবশেষে কোনো উপায় না দেখে গুহার সামনে একটা চকচকে রূপোর আয়না ধরা হলো। রুপোর আয়নায় নিজের রাগী-রাগী বিচ্ছিরি মুখখানা দেখে সূর্যদেব নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এটা সত্যিই তার মুখ কিনা।

ভালোভাবে নিজেকে দেখার জন্য আস্তে-আস্তে গুহার ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন সূর্যদেব। আর যেই-না তিনি বাইরে এসেছেন অমনি গুহার মুখ সবাই মিলে পাথর দিয়ে বন্ধ করে দিলো। সূর্যদেব আর ভেতরে ঢুকতে পারেন না। সেই থেকে সূর্য জাপানের আকাশে আজও রয়েছেন।

আয়না নিয়ে এরকম অনেক গল্পকথা ছড়িয়ে আছে দেশে দেশে। ইংরেজ কবি ও লেখক জিওফ্রে চসারের ‘দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস’ গল্পমালায় আছে টারটারির রাজা কাম্বুস্কানের এমন একটা আয়না ছিল, সেই আয়না দেখে তিনি আগে থেকেই বলে দিতে পারতেন ভবিষ্যতে কী ঘটবে।

‘রেনার্ড দ্য ফক্স’ রূপকথা সিরিজের প্রধান চরিত্র ‘রেনার্ড’ নামের শেয়ালটির কাছেও এমন একধরনের আয়না ছিল। এটা দিয়ে তিনি এক মাইল দূরের জিনিস দেখতে পেতেন। আইরিশ সাহিত্যিক অলিভার গোল্ডস্মিথ তার গল্পে এক আশ্চর্য চীনা আয়নার কথা উল্লেখ করেছেন। এ আয়নার সাহায্যে যে কোনো মানুষের মন ও সেই মুহূর্তে সে কী ভাবছে তা বলে দেওয়া যায়।

আবার শোনা যায়, জাপানিরা দুস্কৃতকারীদের অপরাধের হদিশ পাওয়ার জন্য যখন জিজ্ঞাসাবাদ করতো তখন তাদের মুখের সামনে আয়না ধরতো। সত্যি কথা বা মিথ্যে কথা বলার সময় মুখের যে পরিবর্তন হতো তা তারা আয়নার মাধ্যমে বুঝতে চেষ্টা করত।

নিজের মুখটা কীরকম দেখতে তা জানাই যেতো না যদি আয়নার আবিষ্কার না হতো। পানির মধ্যে নিজের ছায়া দেখে মানুষ প্রথম জানতে পারে সে কীরকম দেখতে। তারপর নানা চিন্তা-ভাবনা করতে করতে তারা একদিন আয়না আবিষ্কার করে ফেলে।

জার্মান রসায়নবিদ জাস্টিস ভন লাইবিগ ১৮৩৫ সালে স্বচ্ছ কাঁচের এক পাশে টিন ও পারদের প্রলেপ দেওয়ার একটি কৌশল আবিস্কার করেন। এই কৌশলটিই ছিলো আয়না আবিষ্কারের মূল বিষয়। পরে আরও বড় পরিসরে এবং বাণিজ্যিকভাবে আয়না উৎপাদনের জন্য এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আজকের আধুনিক আয়নার রূপ আমরা দেখতে পাই।

পৃথিবীর সবচেয়ে যে পুরনো আয়নাটি সেটি পাওয়া যায় আনাতোলিয়ার ধ্বংসাবশেষ থেকে, এ জায়গাটি বর্তমান তুরস্কে। মিশর, মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) পর চীন দেশেও আদি আয়নার উৎস খুঁজে পাওয়া যায়।

অবশ্য উৎপত্তির শুরুতে আয়নার আদল বর্তমানের মতো ছিল না। স্বচ্ছ কাঁচের আয়নার ধারণা এসেছে আরও অনেক পরে। কাঁচের বদলে তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা ও রূপার চকচকে পৃষ্ঠকেই আয়না হিসেবে ব্যবহারের চল ছিল।

আয়নার ভেতর আলো প্রবেশ করলে আলোর চরিত্রে কী কী ধরনের পরিবর্তন আসে তা প্রাচীন গ্রিক গণিতজ্ঞ ইউক্লিড সূত্রাকারে লিখে রাখেন। শোনা যায়, আর্কিমিডিস নাকি এ সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই অবতল আয়না তৈরি করেন।

রোমান রণতরী যখন সিরাকাস আক্রমণের জন্য এগিয়ে আসছিল তখন তিনি আয়নার ওপর সূর্যের আলো কেন্দ্রীভূত করে কোনো অস্ত্রের সাহায্য ছাড়াই সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে টলেমি ফারাসে লাইটহাউসের মাথায় একটা বিশাল আয়না লাগান যাতে শত্রুপক্ষের জাহাজকে এক মাইল দূর থেকে চেনা যায়।

১৬৬৮ সালে স্যার আইজ্যাক নিউটন টেলিস্কোপ তৈরি করেন। পৃথিবীর সব থেকে বড় ও নিখুঁত আয়না লাগানো আছে ক্যালিফোর্নিয়ার পালামোর পাহাড়ের মাথায় ২০০ ইঞ্চি হেল টেলিস্কোপের মধ্যে। এর ওজন প্রায় সাড়ে চোদ্দ টন। আর সূক্ষ্মতা হলো দশ লাখ ভাগের এক ভাগ।এ টেলিস্কোপের মাধ্যমে অগণিত আরোকবর্ষ দূরে যেসব মহাজাগতিক বস্তু রয়েছে তা জ্যোতিবিজ্ঞানীরা খুব সহজেই দেখতে পান। 

তথ্যসূত্র:

১. লাইভসাইন্স ডটকম

২. কিশোর আনন্দ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

৩. মিররহিস্ট্রি ডটকম

Pages: [1] 2