Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Noman_1450

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 10
31
وَاللَّـهُ يَدْعُو إِلَىٰ دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

এবং আল্লহ তায়া’লা শান্তির ঘর–অর্থাৎ জান্নাতের দিকে দাওয়াত দেন, এবং তিনি যাহাকে ইচ্ছা সরল পথ দেখান। (সূরা ইউনুসঃ ২৫)

32
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ

আল্লহ তায়া’লা আপন রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কে সম্বোধন করিয়া এরশাদ করিয়াছেন,–আপনি আপনার রবের পথের দিকে দাওয়াত দিন জ্ঞানগর্ভ কথা ও উত্তম উপদেশসমূহের দ্বারা। (সূরা নাহ্‌লঃ ১২৫)

33
হযরত আনাস রদিয়াল্লহু আ’নহু (أنسْ رضى الله عنْه) বলেন, এক ইয়াহুদী ছেলে রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমত করিত। সে অসুস্থ হইলে রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাকে দেখিতে গেলেন। তিনি তাহার মাথার নিকট বসিলেন এবং বলিলেন, মুসলমান হইয়া যাও। সে তাহার পিতার দিকে দেখিল। পিতা সেখানেই উপস্থিত ছিল। পিতা বলিল, আবুল কাসেম (রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কথা মানিয়া লও। অতএব সে ছেলে মুসলমান হইয়া গেল। রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বাহির হইয়া আসিলেন তখন বলিতেছিলেন, সমস্ত প্রসংশা আল্লহ তায়া’লার জন্য, যিনি এই ছেলেকে জাহান্নামের আগুন হইতে বাঁচাইয়া লইলেন।  (বুখারী)

34
BBA Discussion Forum / Re: MOSQUE ON 3rd FLOOR
« on: July 24, 2012, 05:53:17 AM »
Masallah, Everyday above 120 students saying their johur salat in 3rd floor mosque.  Yesterday i saw, there is air system (3 fans) in the prayer hall.
Thank you authority for giving us such an important mosque equipment.
Closed boundary also needed for our prayer room.

35
হযরত আবু হুরইরহ রদিয়াল্লহু আ’নহু (أبىْ هريْرة رضى الله عنْه) বলেন, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আপন চাচা (আবু তালেব) কে (তাহার মৃত্যুর সময়) এরশাদ করিয়াছেন, লা-ইলাহা ইল্লাল্লহ বলুন। কিয়ামাতের দিন আমি আপনার জন্য সাক্ষী হইব। আবু তালেব জবাবে বলিলেন, যদি কুরাইশের এই খোঁটা দেওয়ার আশংকা না হইত যে, আবু তালেব শুধু মৃত্যু ভয়ে কালেমা পাঠ করিয়াছে, তবে আমি কালেমা পড়িয়া তোমার চক্ষু শীতল করিতাম। এই পরিপেক্ষিতে আল্লহ তায়া’লা এই আয়াত নাযিল করিলেন–

إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَـٰكِنَّ اللَّـهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ

অর্থঃ আপনি যাহাকে চাহিবেন হিদায়াত দিতে পারিবেন না, বরং আল্লহ তায়া’লা যাহাকে চান হিদায়াত দান করিবেন। (সূরা কাসাসঃ ৫৬) (মুসলিম)

36
হযরত আবু সাঈ’দ খুদরী রদিয়াল্লহু আ’নহু (أبى سعيْدٍ الْخدْرىّ رضى الله عنْه)  হইতে বর্ণিত আছে যে, আমি রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে এই এরশাদ করিতে শুনিয়াছি যে, তোমাদের মধ্যে যে কেহ কোন খারাপ কাজ হইতে দেখে তাহার উচিত উহাকে নিজের হাত দ্বারা পরিবর্তন করিয়া দেয়। যদি (হাত দ্বারা পরিবর্তন করার) শক্তি না থাকে তবে যবান দ্বারা উহাকে পরিবর্তন করিয়া দিবে। আর যদি এই শক্তিও না থাকে তবে অন্তর দ্বারা উহাকে খারাপ জানিবে, অর্থাৎ সেই খারাপ কাজের কারণে অন্তরে দুঃখ হয়। আর ইহা ঈমানের সর্বাপেক্ষা দুর্বল অবস্থা। (মুসলিম)

37
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّـهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ ﴿٣٠﴾ نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ۖ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ ﴿٣١﴾ نُزُلًا مِّنْ غَفُورٍ رَّحِيمٍ ﴿٣٢﴾ وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّـهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿﴾٣٣

সেই ব্যক্তি অপেক্ষা কাহার কথা উত্তম হইতে পারে যে (লোকদিগকে) আল্লহ তায়া’লার দিকে আহবান করে এবং নিজেও নেক আ’মাল করে এবং (আনুগত্য প্রকাশার্থে) বলে যে আমি অনুগতদের মধ্যে আছি। আর সৎ কাজ ও অসৎ কাজ সমান হয় না, (বরং প্রত্যেকটির পরিণতি ভিন্ন) অতএব আপনি (এবং আপনার অনুসারীগণ) সদ্ব্যাবহার দ্বারা (অসদ্ব্যাবহারের) প্রত্যুত্তর দিন। (যেমন রাগের উত্তরে সহানশীলতা, কঠোরতা জবাবে নম্রতা) অনন্তর এই সদ্ব্যাবহারের পরিণতি এই হবে যে, আপনার সহিত যাহার শত্রুতা ছিল সে অকস্মাৎ এমন হইয়া যাইবে যেমন একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু হইয়া থকে। আর ইহা সহানশীল লোকদেরই নসীব হয় এবং ইহা মহাভাগ্যবান লোকদেরই ভাগ্যে জোটে। (এই আয়াত দ্বারা বুঝা গেল যে, যে ব্যক্তি আল্লহ তায়া’লার দিকে দাওয়াত দিবে তাহার জন্য সবর ধৈর্য্য ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া জরুরী) (সূরা হা-মীম সিজদাহঃ ৩০-৩৩)

38
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ ۚ أُولَـٰئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّـهُ ۗ إِنَّ اللَّـهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

আর মুসলমান পুরুষ ও মুসলমান নারীগণ হইতেছে পরস্পর একে অন্যের দ্বীনী সাহায্যকারী, তাহারা নেক কাজের আদেশ করে এবং তাহারা অসৎ কাজ হইতে বারণ করে এবং যাকাত আদায় করে এবং আল্লহ তায়া’লার এবং তাঁহার রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ মানিয়া চলে, এই সমস্ত লোকেরাই যাহাদের উপর আল্লহ তায়া’লা অবশ্যই রহমত বর্ষণ করিবেন, নিঃসন্দেহে আল্লহ তায়া’লা অতিশয় ক্ষমতাবান ও হিকমাতওয়ালা।
(সূরা তওবাঃ ৭১)

39
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّـهِ ۗ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم ۚ مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ

তোমরা উত্তম উম্মত, যাহাদিগকে মানুষের কল্যাণের জন্য পাঠানো হইয়াছে, তোমরা নেককাজের আদেশ কর এবং মন্দ কাজ হইতে নিবৃত রাখ এবং আল্লহ তায়া’লার প্রতি ঈমান রাখ। (সূরা আল-ইমরনঃ ১১০)

40
হযরত যায়নাব বিনতে জাহ’শ রদিয়াল্লহু আ’নহা (زيْنب بنْت جحْش رضى الله عنْها) বলেন, আমি রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের জিজ্ঞাসা করিলাম, ইয়া রসুলুল্লহ! আমাদের মধ্যে নেককার লোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা ধ্বংস হইয়া যাইব? তিনি এরশাদ করিলেন, জ্বি হ্যাঁ যখন অসৎ কাজ ব্যাপক হইয়া যাইবে। (বুখারী)

41
হযরত আবু উমাইয়্যাহ শা’বানী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি বলেন, আমি হযরত আবু সা’লাবাহ খুশানী রদিয়াল্লহু আ’নহু (ابىْ ثعْلبة الْخشنيّ رضى الله عنْه) কে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনি আল্লহ তায়া’লার এই এরশাদ لَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ ‘তোমরা তোমাদের নিজেদের ফিকির কর’ এই ব্যাপারে কি বলেন। তিনি বলিলেন, আল্লহর কসম, তুমি এমন ব্যক্তির কাছে এই বিষয় জিজ্ঞাসা করিয়াছ, যে এই ব্যাপারে খুব ভালভাবে অবগত আছে। আমি স্বয়ং রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে এই আয়াতের অর্থ জিজ্ঞাসা করিয়া ছিলাম। তিনি এরশাদ কইয়াছিলেন যে, (ইহার অর্থ এই নহে যে শুধু নিজের ফিকির কর) বরং একে অন্যকে সৎ কাজের আদেশ করিতে থাক এবং অসৎ কাজ হইতে বাধা দিতে থাক। অতঃপর যখন দেখিবে যে, লোকেরা ব্যাপক ভাবে কৃপণতা করিতেছে, খাহেশাতকে পূরণ করা হইতেছে দুনিয়াকে দ্বীনের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হইতেছে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের রায়কে পছন্দ করিতেছে (অন্যের রায়কে মানিতেছে না) তখন সাধারণ লোকদের ছাড়িয়া দিয়া নিজের সংশোধনে লাগিয়া যাইও। কেননা শেষ যামানায় এমন দিন আসিবে যখন দ্বীনের হুকুমসমূহের উপর অটল থাকিয়া আ’মাল করা জ্বলন্ত কয়লা হাতে লওয়ার ন্যায় কঠিন হইবে। সেই সময়ে আ’মালকারী তাহার একটি আ’মালের উপর এত পরিমাণ সওয়াব পাইবে, যত পরিমাণ পঞ্চাশজন উক্ত আ’মাল করিলে পায়। হযরত আবু সা’লাবাহ রদিয়াল্লহু আ’নহু বলেন, আমি আরজ করিলাম, ইয়া রসুলুল্লহ! তাহাদের মধ্য হইতে পঞ্চাশ জনের সওয়াব পাইবে (না আমাদের মধ্যে হইতে পঞ্চাশ জনের)? (কেননা সাহাবীদের আ’মালের সওয়াব অনেক বেশী) এরশাদ করিলেন, তোমাদের মধ্যে হইতে পঞ্চাশ জনের সওয়াব সেই একজন পাইবে। (আবু দাউদ)

ফায়দাঃ ইহার অর্থ এই নহে যে, শেষ যামানায় আ’মালকারী ব্যক্তি তাহার এই বিশেষ ফযীলতের কারণে সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম দের অপেক্ষা মর্যাদায় বাড়িয়া যাইবে। কেননা সাহাবাহ রদিয়াল্লহু আ’নহুম সর্বাবস্থায় সমস্ত উম্মত হইতে উত্তম।

এই হাদীস শরীফ দ্বারা জানা গেল যে, আ’মর বিল ম’রুফ নাহী আনিল মুনকার করিতে থাকা জরুরী। অবশ্য যদি হক কথা গ্রহণ করার যোগ্যতা একেবারেই খতম হইয়া যায় তবে সেই সময়ে পৃথক থাকার হুকুম রহিয়াছে। আল্লহ তায়া’লা মেহেরবাণীতে এখনও সেই সময় উপস্থিত হয় নাই, কেননা এখনও উম্মতের মধ্যে হক কথা কবুল করার যোগ্যতা বিদ্যমান রহিয়াছে।

42
হযরত আবু সাঈ’দ রদিয়াল্লহু আ’নহু (أبىْ سعيْد رضى الله عنْه) বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, তোমরা রাস্তার উপরে বসিও না। সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম আরজ করিলেন, ইয়া রসুলুল্লহ! আমাদের জন্য রাস্তার উপরে না বসিয়া উপায় নাই, আমরা সেখানে বসিয়া কথাবার্তা বলিয়া থাকি। রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিলেন, যদি বসিতেই হয় তবে রাস্তার হকসমূহ আদায় করিবে। সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম আরজ করিলেন, ইয়া রসুলুল্লহ! রাস্তার হকসমূহ কি? তিনি এরশাদ করিলেন, দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্টদায়ক জিনিস রাস্তা হইতে সরাইয়া দেওয়া, (অথবা স্বয়ং কাহাকেও কষ্ট না দেওয়া) সালামের উত্তর দেওয়া, সৎ কাজে আদেশ করা অসৎ কাজের নিষেধ করা। (বুখারী)

ফায়দাঃ সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুমদের উদ্দেশ্য ছিল রাস্তায় বসা হইতে বাঁচিয়া থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কেননা আমাদের এমন কোন স্থান নাই যেখানে আমরা মজলিস করিতে পারি। এইজন্য যখন আমরা কয়েকজন একত্রিত হই তখন সেখানে রাস্তার উপরেই বসিয়া যাই এবং নিজেদের দ্বীনী ও দুনিয়াবী বিষয়ে পরস্পর পরমর্শ করি। একে অন্যের অবস্থা জিজ্ঞাসা করি। কেহ অসুস্থ হইলে তাহার জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করি পরস্পর কোন মনোকষ্ট থাকিলে উহা দূর করিয়া আপো্ষ করি।

43
হযরত ইবনে আ’ব্বাস রদিয়াল্লহু আ’নহুমা (ابْن عبّاس رضى الله عنْهما) বলেন,  রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, সেই ব্যক্তি আমাদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত নহে, যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না, আমাদের বড়দের সম্মান করে না, সৎকাজের আদেশ করেনা এবং অসৎ কাজের নিষেধ করে না। (তিরমিযী)

44
الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ ۗ وَلِلَّـهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ

এই মুসলমানগণ এইরূপ যে, যদি আমি তাহাদিগকে দুনিয়ার রাজত্ব দান করি তবে তাহারা নিজেরাও নামাযের পাবন্দী করিবে এবং যাকাত প্রদান করিবে এবং (অন্যদেরকেও) নেক কাজ করিতে বলিবে এবং অসৎ কাজ হইতে নিষেধ করিবে। আর সমস্ত কাজের পরিণাম তো আল্লহ তায়া’লারই ক্ষমতাধীন (সুরা হাজ্জঃ ৪১)

45
হযরত আবু উমাইয়্যাহ শা’বানী রহমাতুল্লহ আ’লাইহি বলেন, আমি হযরত আবু সা’লাবাহ খুশানী রদিয়াল্লহু আ’নহু (ابىْ ثعْلبة الْخشنيّ رضى الله عنْه) কে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনি আল্লহ তায়া’লার এই এরশাদ لَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ ‘তোমরা তোমাদের নিজেদের ফিকির কর’ এই ব্যাপারে কি বলেন। তিনি বলিলেন, আল্লহর কসম, তুমি এমন ব্যক্তির কাছে এই বিষয় জিজ্ঞাসা করিয়াছ, যে এই ব্যাপারে খুব ভালভাবে অবগত আছে। আমি স্বয়ং রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে এই আয়াতের অর্থ জিজ্ঞাসা করিয়া ছিলাম। তিনি এরশাদ কইয়াছিলেন যে, (ইহার অর্থ এই নহে যে শুধু নিজের ফিকির কর) বরং একে অন্যকে সৎ কাজের আদেশ করিতে থাক এবং অসৎ কাজ হইতে বাধা দিতে থাক। অতঃপর যখন দেখিবে যে, লোকেরা ব্যাপক ভাবে কৃপণতা করিতেছে, খাহেশাতকে পূরণ করা হইতেছে দুনিয়াকে দ্বীনের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হইতেছে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের রায়কে পছন্দ করিতেছে (অন্যের রায়কে মানিতেছে না) তখন সাধারণ লোকদের ছাড়িয়া দিয়া নিজের সংশোধনে লাগিয়া যাইও। কেননা শেষ যামানায় এমন দিন আসিবে যখন দ্বীনের হুকুমসমূহের উপর অটল থাকিয়া আ’মাল করা জ্বলন্ত কয়লা হাতে লওয়ার ন্যায় কঠিন হইবে। সেই সময়ে আ’মালকারী তাহার একটি আ’মালের উপর এত পরিমাণ সওয়াব পাইবে, যত পরিমাণ পঞ্চাশজন উক্ত আ’মাল করিলে পায়। হযরত আবু সা’লাবাহ রদিয়াল্লহু আ’নহু বলেন, আমি আরজ করিলাম, ইয়া রসুলুল্লহ! তাহাদের মধ্য হইতে পঞ্চাশ জনের সওয়াব পাইবে (না আমাদের মধ্যে হইতে পঞ্চাশ জনের)? (কেননা সাহাবীদের আ’মালের সওয়াব অনেক বেশী) এরশাদ করিলেন, তোমাদের মধ্যে হইতে পঞ্চাশ জনের সওয়াব সেই একজন পাইবে। (আবু দাউদ)

ফায়দাঃ ইহার অর্থ এই নহে যে, শেষ যামানায় আ’মালকারী ব্যক্তি তাহার এই বিশেষ ফযীলতের কারণে সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম দের অপেক্ষা মর্যাদায় বাড়িয়া যাইবে। কেননা সাহাবাহ রদিয়াল্লহু আ’নহুম সর্বাবস্থায় সমস্ত উম্মত হইতে উত্তম।

এই হাদীস শরীফ দ্বারা জানা গেল যে, আ’মর বিল ম’রুফ নাহী আনিল মুনকার করিতে থাকা জরুরী। অবশ্য যদি হক কথা গ্রহণ করার যোগ্যতা একেবারেই খতম হইয়া যায় তবে সেই সময়ে পৃথক থাকার হুকুম রহিয়াছে। আল্লহ তায়া’লা মেহেরবাণীতে এখনও সেই সময় উপস্থিত হয় নাই, কেননা এখনও উম্মতের মধ্যে হক কথা কবুল করার যোগ্যতা বিদ্যমান রহিয়াছে।

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 10