Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - mshahadat

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 8
46
Success:More to the Picture than Meets the Eye

Rock stars are all around us. They don't shine in music only. They exist everywhere you look. Their light makes the world glow from the spotlight where they stand. It's from this spotlight we see them. The newspaper, the television and the social media beam lights from this very spotlight. After seeing these rock stars, isn't it easy to feel motivated? You can become one too? When we see a phenomenon, there's almost always more to the picture than meets the eye. When we fail to see the story behind the story, we tend to overestimate the story we actually see.

JK Rowling and Paulo Coelho are two of the biggest authors of our time. Their books sell in the millions. Behind every successful author there are hundreds who will never sell. You'll never notice their books. Behind every author who has published, there are tens of thousands who submitted a manuscript that was never accepted. Behind these authors there are two more groups. The first got their dreams off the ground. They started writing a manuscript, but got lost somewhere in the plot. The second group consists of dreamers. They have a wonderful plot in their mind, but that's where the story starts and that's where it ends. As we focus more and more on Rowling and Coelho, we tend to forget that they are the exceptions, not the rule. Successful people are the best among the set of good. Those who didn't succeed may not have been the best, but were certainly better than the good and the ones beneath them. When we see the best over and over again, we may over-appreciate their success.

Cult figures in one generation became legends in the next. Their stories of success became more and more romanticised. The human race has always had a natural love for success. Denying the agonies of failure, the sweetness of success has always thrilled us. This blind spot in our thinking also leads to another blind spot. Is success a result of hard work and talent or does success depend on luck? Apparently, it's both, but hard work does come first.

In experimental sciences, when many scientists examine the same phenomenon, some of the studies will be statistically significant through sheer coincidence. We tend to see these statistically significant studies more because they tend to draw the attention of the academia and the media. Other equally good studies may escape our attention. However, all the experiments required hard work to execute. A different, but similar bias can occur in another type of science.

Albert Einstein was a celebrated scientist of his time. He would give the impression of a mad genius who was one of the many phantoms who graced the Fine Hall of mathematics at Princeton University. You'd think Einstein knew the answer to every question. Indeed, he did know the answers to questions others struggled at, but finding answers did take time. His two articles on relativity that changed the face of theoretical physics were published in a time span of 11 years, between 1905 and 1916. If you still think Einstein was a genius, you're correct. If you think he emerged overnight, you're not thinking clearly. Success with Einstein and many others was not by coincidence, but from years of 'aradhana'.

A successful image is the one we notice. The ones behind it also repeatedly worked hard. The difference that separates them: some images succeed more than others. The many images that didn't attract our attention weren't failures. They were equally good. Each year the Nobel Committee declares a maximum of three candidates for each of its various genres. Think twice. There were many other bright academics on the short-list who didn't make it. We'll never know them, will we? One thing is clear, though. When you repeatedly do what you do, your act then becomes a habit. When it comes to success, there's always more to the picture than meets the eye.

Source: The Art of Thinking Clearly by Rolf Dobelli. Sceptre Books. 2013.

http://www.thedailystar.net/shout/success-br-more-to-the-picture-than-meets-the-eye-34391

47
গাজায় ইসরায়েলি হামলা আজ বৃহস্পতিবার ১৭ দিনে গড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মারা গেছে সাড়ে ছয় শয়ের বেশি ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছে কয়েক হাজার। ঘর ছেড়ে পালিয়েছে লাখো মানুষ।
ধ্বংসস্তূপ, লাশের সারি, রক্তাক্ত শিশুর মর্মন্তুদ আর্তনাদ—বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রতিদিন প্রকাশ হওয়া এ রকম অজস্র ছবি যখন ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় তুলছে বিশ্বজুড়ে, তখন নিশ্চুপ আরব বিশ্ব। প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর কিছু মানুষ যদিওবা ইসরায়েলের উদ্ধত এ হামলার প্রতিবাদে পথে নামছে, কিন্তু একরকম মুখে কুলুপ এঁটেই রয়েছেন এসব দেশের শাসকেরা।
‘বোবা-কালা’ এই আরব নেতাদের আচরণে শান্তিকামী মানুষ ক্ষুব্ধ, বিরক্ত, হতাশ, অসহায়। তাদের প্রশ্ন, আরব নেতাদের মুখে কুলুপ কেন?
ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ১৯৪৮ সাল থেকে চলে আসা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট নিয়ে আরব নেতাদের এ ভূমিকা নতুন নয়; বরং তা চিরন্তন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। বড়জোর কিছু বুলি আওড়িয়ে দায় সারার প্রথা বরাবরের মতো আজও জারি রেখেছেন আরব নেতারা।

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, মিসর, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোতে যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা নিজেদের গদি রক্ষায়ই বেশি ব্যস্ত।

সৌদি আরব: সৌদি আরবের পারিবারিক ‘বাদশাহ তন্ত্র’ টিকিয়ে রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তাঁদের আপস করে চলতে হয়। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে পশ্চিমারা মানবাধিকার ইস্যুতে রাজপরিবারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। পশ্চিমা প্রশ্রয়ে ভিন্নমতাবলম্বীরা মাথাচাড়া দিতে পারে। এতে রাজতন্ত্রের গদি টলোমলো হয়ে উঠতে পারে। এসব কারণে গাজা নিয়ে সৌদি আরবের মাথাব্যথা কম।

সিরিয়া: সিরিয়ার অবস্থাও তাই। সেখানকার বাশার আল আসাদ নিজের গদি সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। একদিকে, বিদ্রোহীদের চাপ, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের উপর্যুপরি অবরোধ। সে দিক থেকে বিবেচনা করলে, গাজার ঘটনায় অস্তিত্ব-সংকটে পড়া আসাদ সরকার বরং বেশি লাভবান হচ্ছে। বিশ্বের মনোযোগ এখন গাজায়। এই সুযোগে সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বিদ্রোহীদের দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে আসাদ বাহিনী।

মিসর: মিসরের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রখ্যাত আরব কলামিস্ট মোহাম্মাদ আল মোসাফের বলেছেন, ‘ইসরায়েল ভালো করেই জানে গাজায় হামলার বিষয়ে সিসি (মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ এল সিসি) মুখ খুলবেন না।’ তিনি বলেন, শুধু মিসর নয়, ইয়েমেন, ইরাক, লিবিয়া, এমনকি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও নিজেদের গদি বাঁচাতে ব্যস্ত। তাঁরা গাজার সাহায্যে এগিয়ে আসবেন না।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজা ইস্যুতে সিসিকে সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, সিসির মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতি হবে কীভাবে? তিনি নিজেই তো ইসরায়েলের পক্ষের লোক। তিনিই তো গাজায় মানবিক সাহায্য দেওয়ার পথ বন্ধ করে রেখেছেন।

ইরাক: ইরাকে বর্তমানে নুরি আল মালিকির যে শিয়াপ্রধান সরকার ক্ষমতায় আছে, তাকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ট সরকার মনে করে। সুন্নি সাদ্দামকে উত্খাত করে শিয়া মালিকিকে প্রতিষ্ঠা করার পেছনে পশ্চিমাদের যে প্রত্যক্ষ ‘অবদান’ আছে, সে কথা মালিকির ভুলে যাওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া এখন সুন্নি বিদ্রোহীরা ইরাকের একটা বিরাট অংশ দখল করে নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য এখন বাগদাদ। ফলে মালিকির নিজের আসন নিয়েই এখন টানাটানি অবস্থা চলছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত মিত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস বা ফুরসত কোনোটাই মালিকির নেই।

জর্ডান: জর্ডানের পার্লামেন্টে গত বৃহস্পতিবার এমপিরা গাজায় হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, গাজায় নৃশংস গণহত্যা চলছে, এটি বন্ধ হওয়া উচিত। তবে তাঁদের এই বক্তব্যে ইসরায়েলকে প্রতিরোধ করার জোরালো আহ্বান ছিল না।

ক্ষোভ-হতাশা: ‘আরব ভাইদের’ বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়টি ফিলিস্তিনিদের কাছেও অপরিচিত নয়। ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে হামাস খুব ভালো করেই জানে, তাদের দুঃসহ পরিস্থিতি নিয়ে মোটেও ভাবিত নয় আরব বিশ্ব। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দুনিয়ার কাছ থেকে তারা খুব একটা প্রত্যাশাও করে না।

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী হাবলেহ বলেন, ‘আরব সরকারগুলো আমাদের ঘৃণা করে। এটা নতুন কিছু নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের হামলা শুরুর সাত দিন পার হওয়ার পর দায়সারা গোছের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সৌদি আরব। ফিলিস্তিনিরা জানে, তারা কখনোই আরব ভাইদের ওপর ভরসা করতে পারবে না। কেননা তারা আমাদের দিক থেকে তাদের মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।’

ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুস্তাফা আল সাওয়াফের মতে, অনেক আরব সরকারই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ফিলিস্তিনি সংকটের চাপ নিজেদের কাঁধে নিতে চায় না।

গাজার বাসিন্দা আশরাফ সালামেহ বলেন, কিছু আরব মনে করেন, ইসরায়েল তাঁদের হামাসের কাছ থেকে ‘রেহাই’ দেবে।

হামাস সদস্য ইউসেফ রিজকা বলেন, আরব শাসকেরা জানেন না, গাজা উপত্যকা থেকে তাঁরা ঠিক কী চান। এমনকি তাঁরা এটাও জানেন না যে, ইসরায়েলের কাছ থেকে তাঁরা কী চান।

আরব বিশ্বের বিশ্বাসঘাতকতা বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে বিদ্রূপ করে একটি কার্টুন এঁকেছেন ফিলিস্তিনের কার্টুনিস্ট উমায়া জুহা। কার্টুনটিতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনি এক নারীকে সামনে থেকে ছুরি মারছে ইসরায়েল। আর পেছন দিক থেকে ছুরি মারছে আরবি ও ইসলামিক অক্ষর খচিত একটি বাহু।

ফিলিস্তিনের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক আবদেল বারি আতওয়ান বলেছেন, গাজা নিয়ে কায়রোয় আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসার আগে এটি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক হয়েছে। এটা আরবদের কাছে এক ভীষণ লজ্জার ব্যাপার।

ফিলিস্তিনের একজন মানবাধিকার কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আরবদের হাতে অগুনতি অর্থ আর অঢেল তেল সম্পদ আছে। তাই নিয়ে তারা বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে চলছে। ফিলিস্তিনিদের নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় তাদের নেই। তিনি বলেন, সৌদি আরব ও কাতারের শেখরা লন্ডন, প্যারিস, লাসভেগাসে গিয়ে একরাতে ফুর্তিফার্তা করে যে পয়সা উড়িয়ে দেন, তা দিয়ে হাজারো ফিলিস্তিনের একটু হলেও পুনর্বাসন সম্ভব হতো। ওই মানবাধিকার কর্মী মনে করেন, একমাত্র বোকার হদ্দরাই আরব বিশ্বের কাছ থেকে সহায়তা আশা করবে।

(গার্ডিয়ান, আল আহরাম, দ্য নেশনসহ কয়েকটি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ থেকে তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা)

http://www.onlinebanglanewspaper.com/bangladesh-newspaper-prothom-alo.com.html

48
নয়াদিল্লির নতুন সরকার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যেখানে আছে সেখান থেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়৷ ঢাকা সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ অভিমত প্রকাশ করেন৷ এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত প্রটোকল, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’, বািণজ্য বৈষম্য, ট্রানজিট ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা, ভারতে ক্ষমতার পালাবদল, বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ইত্যাদি৷ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান ও রাহীদ এজাজ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজপ্রথম আলো  আপনার মতে বাংলাদেশ সফরের প্রাপ্তি কী?
সুষমা স্বরাজ  ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটাই আমার প্রথম বিদেশ সফর৷ আমি ভারতের নবনির্বাচিত সরকারের তরফ থেকে বন্ধুত্বের বারতা নিয়ে এসেছিলাম৷ এ সফরে আমি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি৷ বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে আমার আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে৷ আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আমাদের আলোচনা হয়েছে, এ আলোচনা থেকে আমরা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার িভত রচনা করতে পারি৷ আমাদের আলোচনার ভিত্তিতে দুই দেশের বাণিজ্য, সংযোগ, বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের আরও যোগাযোগ বাড়বে বলে আশা করছি৷

আমার মনে হয়, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুণগত পরিবর্তন আনার সময় এসেছে৷ আমরা এ অঞ্চলে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হই, সে প্রেক্ষাপটে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা আরও দৃঢ় হওয়া উচিত: দারিদ্র্য দূরীকরণ, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, সন্ত্রাস, চরমপন্থা ও মৌলবাদ মোকাবিলায়৷
প্রথম আলো  সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে বেশ কিছু অগ্রগতি হলেও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ও সীমান্ত প্রটোকল বাস্তবায়ন এখনো হয়নি৷ গত ইউপিএ সরকারের দোদুল্যমান রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তা হয়েছে৷ কেন্দ্রে এবার বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে৷ বাংলাদেশ কি তাহলে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান আশা করতে পারে?
সুষমা স্বরাজ  ভারতের বিগত সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যে জায়গায় ছিল, আমরা সেটাকে শুধু বজায় রাখতে চাই তা নয়, সেটাকে আমরা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই৷ তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে আমরা আমাদের দেশে অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য গড়ে তুলতে চাইছি৷ স্থল সীমানা চুক্তি করার জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর জন্য রাজ্যসভায় বিল পেশ করা হয়েছে৷ এ মর্মে রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্যও আলোচনা হচ্ছে৷

প্রথম আলো  লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় বিজেপি ভারতে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে খুব সোচ্চার ছিল৷ বিজেপির নেতারা এখনো এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করছেন৷ অন্যদিকে, বিজেপি সরকার ভারতের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আগ্রহী৷ এটা কি স্ববিরোধিতা নয়? এ ক্ষেত্রে কোনো একটি দেশ যদি তার প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে এরূপ কঠোর অবস্থান নেয়, তাহলে কি তা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না?

সুষমা স্বরাজ  অবৈধ অভিবাসন যেকোনো দেশের জন্যই খুবই স্পর্শকাতর একটি সমস্যা, খুব সতর্কতার সঙ্গে এটা সামলানো উচিত৷ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এ সমস্যা মোকাবিলা করতে চাই৷ এর মধ্য দিয়ে সীমান্তের উন্নততর ব্যবস্থাপনার দিকটিও উঠে এসেছে, এটা নিশ্চিত করা উভয় পক্ষেরই দায়িত্ব৷ যে কয়টি দেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত রয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গেই তার সীমান্ত দীর্ঘতম৷ এ সীমান্ত নিশ্ছিদ্র নয়৷ এ সীমান্তে বসবাসকারী মানুষ দরিদ্র, পুরো এলাকা খুবই ঘনবসতিপূর্ণ৷ সে কারণে এখানে অনেক অবৈধ কাজ হয়৷ আমরা মনে করি, ভারত ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা একই সূত্রে গাঁথা৷ দুই দেশেরই উচিত একত্রে কাজ করে সীমান্ত এলাকায় এসব অবৈধ কাজের রাশ টেনে ধরা৷ নিরাপদ হলেই আমাদের সীমান্ত এলাকা সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে, তার জন্য আইনের শাসন জোরদার করতে হবে৷ অসহায় ও নির্দোষ মানুষদের বিবেকহীন কাজের শিকার হতে দেওয়া যাবে না৷
প্রথম আলো  অনেকের মতে, ভারত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছে, কিন্তু প্রতিদানে তেমন কিছু দেয়নি৷ এ সম্পর্ক ছিল মূলত একপক্ষীয়৷ আপনার বক্তব্য কী?
সুষমা স্বরাজ  এ ধারণা ঠিক নয়৷ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক দ্বিমুখী সড়ক৷

আমাদের সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়েছে৷ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতেই আমরা এগিয়েছি৷ বাণিজ্য, বাজার সুবিধা, বিদ্যুৎ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন সহযোগিতা, অবকাঠামো, তরুণদেরসহ দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক, সংবাদকর্মীদের মধ্যকার যোগাযোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আমরা নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছি৷ কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা যাক:
প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করেছি: সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, বন্দী বিনিময় চুক্তি, সীমান্ত হাট স্থাপন, ডিসি/ডিএম পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু, সীমান্ত অবকাঠামোব্যবস্থার উন্নয়ন প্রভৃতি৷

বাণিজ্য-ঘাটতি মোকাবিলায় ২৫টি পণ্য ছাড়া আর সব বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজার উন্মুক্ত করা হয়েছে৷ গত বছর বাংলাদেশ ভারতে রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানি করেছে৷ আর ভারতীয় বিনিয়োগের জন্যও বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে৷
বাণিজ্য অবকাঠামোয় সুনির্দিষ্ট উন্নতি হয়েছে৷ নতুন যৌথ চেকপোস্ট গড়ে তোলা হচ্ছে৷
নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে সড়ক ও রেল ট্রানজিটের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর-সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে৷
বাংলাদেশকে দেওয়া এক বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণের আওতায় ১৫টিসহ আরও নানা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে৷ এর মধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ঋণ সাহায্যে রূপান্তরিত হয়েছে৷
সামাজিক ক্ষেত্র, যেমন: আইটি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পে গৃহীত নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে৷
এই প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযুক্ত গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে৷ এটা কার্যকর রয়েছে৷ আরও কিছু বিদ্যুৎ ও জ্বলানিসংক্রান্ত উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে, কিছু কিছু বাস্তবায়নাধীনও রয়েছে৷
উপাঞ্চলিক সহযোগিতাসংক্রান্ত আলোচনাও শুরু হয়েছে৷
রেলওয়েতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক সংহত হয়েছে৷ মৈত্রী এক্সপ্রেস যোগাযোগ সহজতর করেছে, আরও নানা আয়োজনের মাধ্যমে তা আরও সহজ করার চেষ্টা চলছে৷
উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে জাহাজ যোগাযোগ স্থাপনে আলোচনা শুরু হয়েছে৷ আর বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দর ও ভারতের পূর্বাঞ্চলের বন্দরগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে৷
জনগণ-জনগণ পর্যায়ের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে৷ এটা অনেকটা সাধারণ হয়ে এসেছে৷ প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হয়েছে৷ সাংস্কৃতিক বিনিময়ও বেড়েছে, দ্বিপক্ষীয়ভাবে৷
আমি জানি, আরও অনেক কিছু করার আছে৷ যা হয়েছে, তা নিয়ে আত্মসন্তুষ্টির কোনো সুযোগ নেই৷
প্রথম আলো  বিভিন্ন সময় নানা পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য-ঘাটতি মোকাবিলায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি৷ এ ক্ষেত্রে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা ছাড়া মনস্তাত্ত্বিক বাধাও একটি বড় বাধা৷ ভারতের নতুন সরকার কি এ প্রেক্ষাপটে কোনো পদক্ষেপ নেবে?
সুষমা স্বরাজ  বাণিজ্য-ঘাটতি নিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আমরা সংবেদনশীল৷
২০১২-১৩ অর্থবছরে সার্ক অঞ্চলে বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তর বাণিজ্য সহযোগীতে পরিণত হয়েছে৷ আগের বছরের তুলনায় এ বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলারে৷
জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেড, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন কাস্টমসসহ আরও নানা আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বাধা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ এসব কমিটি বছরে একবার বসে৷ সাম্প্রতিক সময়ে এসব বৈঠকের কিছু ফলাফল দেখা যাচ্ছে, যেমন বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত ও আগরতলা-আখাউড়া স্থলবন্দরে সাত দিনব্যাপী বাণিজ্য হওয়া৷ আরও ১৬টি স্থলসীমান্ত বন্দরে এরূপ বাণিজ্যের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ এদিকে, আমরা বিএসটিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছি সংস্থাটির পরীক্ষা ও মানদণ্ড নির্ধারণের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে৷
বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি৷ ভারত থেকে বাংলাদেশে যেসব পণ্য রপ্তানি হয়, সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়৷
এদিকে ভারত তার বাংলাদেশ সীমান্তের ১৬টি প্রধান স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়ে সেগুলোকে সমন্বিত চেকপোস্টে উন্নীত করতে চায়৷ সেখানে কাস্টমস থেকে শুরু করে অভিবাসন, পার্কিং, হিমাগার, অসুস্থদের জন্য পৃথক নিবাসসহ নানা ধরনের সুবিধা একটি স্থানেই পাওয়া যাবে৷ আগরতলায় এই যৌথ চেকপোস্টের কাজ ২০১৩ সালের নভেম্বরে শেষ হয়েছে, সেখানে এখন কাজও হচ্ছে৷
মেঘালয় সীমান্তে দুটি সীমান্ত হাট রয়েছে৷ এটা শুনে আমি খুশি হয়েছি যে এরূপ আরও দুটি হাট ত্রিপুরা সীমান্তে শুরু হতে যাচ্ছে৷ আর এ বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ট্রেডের বৈঠকে আরও চারটি হাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
বাংলাদেশ যাতে আরও রপ্তানি উদ্বৃত্ত তৈরি করতে পারে, সে মর্মে ভারত মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী৷ এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ভান্ডারে আরও পণ্য যুক্ত হবে৷ আর বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের বাজারে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে৷
প্রথম আলো  বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, আওয়ামী লীগ ও কংগ্রেসের মধ্যে এক ‘বিশেষ সম্পর্ক’ রয়েছে৷ ভারতের সরকার পরিবর্তন হওয়ায় এ দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কি কোনো গুণগত পরিবর্তন ঘটবে?
সুষমা স্বরাজ  সেটা আপনাদের ধারণা৷ আমাদের সরকার বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করবে৷ দুটি দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ভর করে দুই দেশের জনগণ ও সরকারের মধ্যকার সম্পর্কের ওপর৷ আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ব্যাপকভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশীদারত্ব তৈরি করার ইচ্ছা রাখি, আর সেটা সমাজের সবাইকে নিয়েই আমরা করতে চাই৷
প্রথম আলো  বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিনিধিত্বমূলক ছিল না৷ তবু ইউপিএ সরকার সেটাকে সমর্থন করেছিল৷ বিজেপি সরকার কি এটাকে ঠিক মনে করে?
সুষমা স্বরাজ  দেখুন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ওপর আমাদের রায় দেওয়ার কিছু নেই৷ বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই দেশের জনগণই নির্ধারণ করবেন৷ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎমুখী৷ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এই দুই দেশের ভবিতব্য নির্ধারণে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, সেটাকে বিবেচনায় নিয়েই আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করি৷
প্রথম আলো  দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যকার নৈকট্য খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ কিন্তু অভিযোগ আছে যে বাংলাদেশিরা ভারতে ভ্রমণ করতে চাইলে ভিসা সমস্যার মুখোমুখি হন৷ ভিসা-প্রক্রিয়া সহজ করতে আপনারা কি কোনো পদক্ষেপ নেবেন?
সুষমা স্বরাজ  বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু ও প্রতিবেশী৷ জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করতে আমরা তরুণদের মধ্যকার ভাবনা বিনিময়, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান, সংবাদকর্মীদের আসা-যাওয়া, সুশীল সমাজের প্রিতনিধিদের আসা-যাওয়া প্রভৃতি বাড়াতে চাই৷
ভিসার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে কী সমস্যা হচ্ছে, আমরা তা খতিয়ে দেখব৷ ইতিমধ্যে ভারত ভ্রমণে আসা পর্যটকদের মধ্যে বাংলাদেশিরা সংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে গেছে৷
প্রথম আলো  আপনাকে ধন্যবাদ৷
সুষমা স্বরাজ  ধন্যবাদ৷

49
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য আইওয়াতে। প্রথমে আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস, পরে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের গ্র্যাজুয়েট স্কুল থেকে জনপ্রশাসন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ড্যান মজীনা। তিনি নয়াদিল্লি, ইসলামাবাদ ও কিনশাসায় মার্কিন দূতাবাসে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে তিনি পলিটিক্যাল কাউন্সেলর হিসেবে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন। ড্যান মজীনা ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এঙ্গোলায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন ২০১২ সালের নভেম্বরে। গত বুধবার তিনি অতিথি হিসেবে প্রথম আলো কার্যালয়ে এলে তাঁর এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম ও রাহীদ এজাজ
ড্যান মজীনাপ্রথম আলো  কেমন আছেন? বাংলাদেশ কেমন লাগছে?
ড্যান মজীনা  ভালো, খুবই ভালো। বিশেষভাবে এ দেশের জনগণের মধ্যে বিরাট সম্ভাবনা আমি খুঁজে পেয়েছি।
প্রথম আলো  ২০১২ সালে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন টিকফা (বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি) সই হলে দুই দেশের বাণিজ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। চুক্তিটি গত বছর সই হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
ড্যান মজীনা  টিকফা সইয়ের পর এ-সংক্রান্ত কাউন্সিলের প্রথম বৈঠক ঢাকায় গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করেছে।
প্রথম আলো  চুক্তি হওয়ার আগে ও পরে বাস্তবে কতটা অগ্রগতি হয়েছে? নাকি এখন পর্যন্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে কি শুধু আলোচনাই হয়েছে?
ড্যান মজীনা  এটা কোনো জাদুর কাঠি নয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে দুই পক্ষ কথা বলার পর বাস্তবে কিছু অগ্রগতি নিশ্চয় হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর বাংলাদেশ সরকার শুল্ক তুলে নিয়েছে। কয়েকজন শ্রমিকনেতার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তগুলো বৈঠকেই নেওয়া হয়েছে। আর এগুলোই হচ্ছে তাৎক্ষণিক ফলাফল। সামগ্রিকভাবে আমাদের পক্ষ থেকে বাণিজ্য সম্প্রসারণে লালফিতার দৌরাত্ম্যকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু এখানে এসে তাঁদের দুঃসহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জিএসপি পুনর্বহাল এবং শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রথম আলো  বাংলাদেশের জিএসপি পুনর্বহালের ব্যাপারে আপনি কি আশাবাদী?
ড্যান মজীনা  প্রশ্নটা শুধু জিএসপি নিয়ে নয়, এর পরিধি আরও ব্যাপক। প্রশ্নটা হলো, বাংলাদেশ কি পোশাকশিল্প খাতকে আরেকটি তাজরীন ফ্যাশনস কিংবা রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারবে?
প্রথম আলো  পোশাকশিল্প খাতে পরিবেশের গুণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আপনার কাছে কী ইতিবাচক ইঙ্গিত চোখে পড়েছে?
ড্যান মজীনা  এ খাতের সংস্কারের ব্যাপারে আমি অনেকগুলো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছি। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে যে পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, তা পৃথিবীর কোথাও হয়নি। গত বছরের ২৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত করেন। এ সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশের সামনে একটি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অ্যালায়েন্স ও অ্যাকর্ডের মতো উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের যেসব কারখানায় পোশাক উৎপাদিত হয়, সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ক্রেতারা এগিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন দেশ এগিয়ে এসেছে। কারখানার নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের অধিকার দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে জনসাধারণের দেখার সুযোগ রেখে একটি তথ্যভান্ডার (ডেটাবেইস) তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা এর আগে পৃথিবীর কোথাও হয়নি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৫৭টি ট্রেড ইউনিয়ন পোশাক কারখানায় নিবন্ধিত হয়েছে; অথচ গত ৪০ বছরে এটা ভাবা যায়নি। বাংলাদেশের ৮০০ কারখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধরে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ‘বেটার ওয়ার্ক প্রোগ্রাম’ নামের কর্মসূচি চালু করেছে। এসব পরিবর্তনকে অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে। তবে এটা ঠিক যে, আরও অনেক কিছু করা বাকি রয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো ২০০ কারখানা পরিদর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি শেষ হয়নি। এখনো অনেক কারখানা পরিদর্শন বাকি রয়েছে। তথ্যভান্ডারে এখনো কোনো তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফাঁকা রয়েছে তথ্যভান্ডারটি। ইপিজেডে জাতীয় শ্রম আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি ঝুলে আছে। এটির সুরাহা করতে হবে। অনৈতিক শ্রমচর্চা বন্ধ করতে হবে। সবকিছুর পরও বলব, অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে বলে আমি পোশাক খাতের সংস্কারের ব্যাপারে উজ্জীবিত বোধ করছি।
প্রথম আলো  ভারত, পাকিস্তান, জাম্বিয়া ও অধুনালুপ্ত জায়ারে কাজ করেছেন। এসব দেশের সঙ্গে মেলাতে বলা হলে কোথায় রাখবেন বাংলাদেশকে?
ড্যান মজীনা  আমি কখনো এভাবে তুলনা করি না। আর এ ধরনের তুলনা আমার পছন্দ নয়। বাংলাদেশ একটি নবীন দেশ। একটি বিকাশমান গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। গণতন্ত্র বিকশিত করা সহজ নয়। তবে বাংলাদেশ নিজেই তার পথটি খুঁজে নেবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কখনো এগিয়ে চলে; আবার কখনো পেছনে হাঁটে। আমি বিশ্বাস করি, এ দেশের জনগণের ডিএনএতে রয়েছে গণতন্ত্র। আমি একজন রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলেও বুঝতে পারি, তিনি কতটা রাজনীতিসচেতন। তাঁর বিশ্বাস, আদর্শ ও

http://www.onlinebanglanewspaper.com/bangladesh-newspaper-prothom-alo.com.html

50
Humantities / এ যুদ্ধে কে জিতবে?
« on: July 24, 2014, 10:47:00 AM »
উইনস্টন চার্চিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পাঁচ বছর লন্ডনের অধিবাসীদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। লন্ডন শহরের মানুষদের রকেট ও বোমাবর্ষণের মুখে ঠেলে দিয়ে তিনি নিজে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের নিচে সুরক্ষিত বাঙ্কারে গিয়ে লুকিয়ে ছিলেন। জার্মানির নেতারা শান্তির প্রস্তাব দিলেও তিনি উদ্ভট আদর্শিক কারণে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

সময় সময় তিনি এই গোপন ডেরা থেকে বেরিয়ে এসে ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেন, তারপর আবার সেই ইঁদুরের গর্তে ঢুকতেন। আর লন্ডনের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলতেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বলবে, এটাই আপনাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়’। ফলে বোমাবর্ষণ ছাড়া জার্মান বিমানবাহিনীর হাতে আর কোনো উপায় ছিল না। যদিও এই বাহিনীর কর্তারা বলেছেন, তাঁরা শুধু সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেছেন।

জার্মান বিমানবাহিনী লন্ডন শহরের অধিবাসীদের শহর ছেড়ে চলে যেতে বলেছিল, ফলে অনেক শিশুকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ লন্ডনবাসী চার্চিলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শহরে থেকে যায়। পরিণামে তারা এই যুদ্ধের ‘পরোক্ষ ক্ষতি’র শিকার হয়।

ওদিকে জার্মান বাহিনী ধারণা করেছিল, লন্ডনবাসীর ঘরবাড়ি ধ্বংস ও তাদের পরিজনদের হত্যা করলে তারা চার্চিল ও তাঁর যুদ্ধংদেহী সমরনায়কদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠবে। কিন্তু তাদের সে আশা পূরণ হয়নি। উল্টো চার্চিলের গ্রহণযোগ্যতা দিনের পর দিন বাড়তে থাকে, আর যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে চার্চিল রীতিমতো ঈশ্বরে পরিণত হন।

চার বছর পর চাকা একদম উল্টো দিকে ঘুরে যায়। ব্রিটিশ ও মার্কিন বিমানবাহিনী জার্মান শহরগুলোয় বোমা মেরে সেগুলো একদম গুঁড়িয়ে দেয়। সেখানে একটা পাথরখণ্ডও আর আস্ত ছিল না, গৌরবময় প্রাসাদগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ‘নিরপরাধ বেসামরিক’ মানুষজন তুলোর মতো উড়ে যায়, তাদের পুড়িয়ে মারা হয় বা তারা নিছক হারিয়ে যায়। ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর ড্রেসডেন কয়েক ঘণ্টার অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে কয়লা হয়ে যায়।

কাগজে-কলমে এর উদ্দেশ্য ছিল জার্মান যুদ্ধশিল্প গুঁড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু সেই অভীষ্ট অর্জিত হয়নি। আসল লক্ষ্য ছিল, বেসামরিক মানুষকে আতঙ্কিত করা, যাতে তারা তাদের নেতাদের সরিয়ে দেয় বা আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। সেটা হয়নি। হিটলারের বিরুদ্ধে গুরুতর বিদ্রোহ করেছেন কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, সেটাও সফল হয়নি। আমজনতা সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামেনি। উল্টো গোয়েবলস বলে বসেন, ‘তারা আমাদের ঘর ভাঙতে পারে, কিন্তু আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে ভাঙতে পারবে না।

শেষমেশ জার্মানি আত্মসমর্পণ করে যুদ্ধের একদম অন্তিম সময়ে। মিলিয়ন মিলিয়ন টন বোমা মেরেও কোনো কাজ হয়নি। তারা শুধু জনগণের নৈতিক শক্তি চাগিয়ে দিয়েছে আর নেতার (ফুহরার) প্রতি আনুগত্য অটুট রাখার চেষ্টা করেছে।

গাজার ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। সবাই জিজ্ঞাসা করছে, এই দফায় কে জিতল? ইহুদিদের আদলে প্রশ্নটির উত্তর আরেকটি প্রশ্ন দিয়ে দেওয়া যায়: কীভাবে তা নিরূপণ করা যায়? জয়লাভের ধ্রুপদি সংজ্ঞা হচ্ছে, যুদ্ধের ময়দানে যাঁরা শেষ পর্যন্ত থাকেন, তাঁরাই জয়ী। কিন্তু এখানে কেউই সরেনি। এখন পর্যন্ত হামাস ও ইসরায়েল উভয়েই আছে।

প্রুশিয়ার প্রখ্যাত যুদ্ধতত্ত্ববিদ কার্ল ভন ক্লজউইটজের একটি বিখ্যাত কথা হচ্ছে এ রকম, যুদ্ধ আসলে ঘুরপথে নীতিরই সম্প্রসারণ মাত্র। কিন্তু এই যুদ্ধে কোনো পক্ষেরই পরিষ্কার রাজনৈতিক লক্ষ্য নেই। সে কারণে জয়-পরাজয় এভাবে নিরূপণ করা যাবে না। গাজায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেও হামাসকে আত্মসমর্পণে রাজি করানো যায়নি। অন্যদিকে, হামাসের রকেট হামলাও সফল হয়নি। তারা রকেট মারলে ইসরায়েল সেগুলো আকাশেই নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছে। ফলে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই জয় থেকে দূরে আছে।

এ ডামাডোলের মধ্যে অনেকে ভুলে যেতে পারেন, হামাস আসলে ইসরায়েলেরই সৃষ্টি। ফাতাহ ছিল ইসরায়েলের ঘোর শত্রু, একে বিশ্বসন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। ধর্মনিরপেক্ষ আরাফাতকে ইসলামপন্থীরা ঘৃণা করত। কিন্তু ইসরায়েলের কাছে এই ইসলামপন্থীরাই কম ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হলো, যাদের আবার গোপন মিত্রও বানানো যায়। শিন বেটের প্রধানকে আমি একবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁরা হামাসকে সৃষ্টি করেছেন কি না। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, না। তবে হামাস তাঁদের কাছে সহনীয়।

কিন্তু প্রথম ইনতিফাদার পর হামাসের প্রধান শেখ আহমেদ ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করা হলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আর ফাতাহ হয়ে যায় ইসরায়েলের মিত্র, হামাস হয় সন্ত্রাসী। কিন্তু ব্যাপারটা কি এ রকম? কয়েকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার মতে, হামাস বলে কিছু নেই, এটাকে উদ্ভাবন করতে হয়। গাজা উপত্যকা হামাসের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে কিছু হলে হামাসকে দায়ী করা যায়। তারাই সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে। ফলে যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রেও তারা নির্ভরযোগ্য অংশীদার।

ফিলিস্তিনের গত নির্বাচনে হামাস বিজয়ী হলেও তাদের ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হয়নি। ফলে তারা জোর করে গাজা উপত্যকা দখল করে নেয়। সব নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, সেখানকার অধিকাংশ মানুষই হামাসের প্রতি অনুগত।

ইসরায়েলের সব বিশেষজ্ঞের মতে, গাজা যদি হামাসের নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে সেখানে অধিকতর চরমপন্থী দলের উদ্ভব হতে পারে। সেটা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ফলে এই যুদ্ধের উদ্দেশ্যকে মহীয়ান করে বলা যায়, এটা হামাসকে ধ্বংস করার জন্য নয়, বরং একে আরও দুর্বল অবস্থায় ক্ষমতায় রাখার জন্যই এ যুদ্ধ। কিন্তু সেটা কীভাবে করা সম্ভব? ইসরায়েল সরকারের অতি ডানপন্থীদের মতে, পুরো গাজার দখল নেওয়ার মধ্য দিয়েই এটা করা সম্ভব। কিন্তু তারপর?

পুরো গাজার দখল নেওয়াটা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। সেটা হলে ১৮ লাখ মানুষের দেখভাল ও ভরণপোষণেরও দায়িত্ব নিতে হবে (এদের অধিকাংশই ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল থেকে পালিয়ে যাওয়া উদ্বাস্তু ও তাদের বংশধর)। একটি চিরস্থায়ী গেরিলা যুদ্ধ শুরু হবে, ইসরায়েলের কেউই তা চায় না।

দখল করে চলে এলে কেমন হয়? কথাটা সহজে বলা গেলেও এরূপ অভিযানে ব্যাপক রক্তক্ষয় হবে। হাজার খানেক ফিলিস্তিনি মারা যাবে। ‘মোল্টেন মতবাদ’ (অলিখিত) অনুযায়ী একজন ইসরায়েলি সেনার জীবন বাঁচাতে দরকার হলে ১০০ জন ফিলিস্তিনি হত্যা করা জায়েজ। কিন্তু যদি ডজন খানেক ইসরায়েলি সেনারও মৃত্যু হয়, তাহলেও সে দেশটির অবস্থা বদলে যাবে। সেনাবাহিনী সে ঝুঁকি নিতে চাইবে না।

গত বৃহস্পতিবার মনে হচ্ছিল, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অনেকটাই আশ্বস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এটা একরকম বিভ্রমই ছিল। এই যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী হচ্ছেন মিসরের নতুন স্বৈরশাসক। তিনি ইসরায়েলের একজন প্রকাশ্য মিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের ধামাধরা। সারা দুনিয়ার ইসলামপন্থীরা তাঁকে ঘৃণা করেন। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের হাজার খানেক কর্মীকে মেরে ফেলেছেন ও জেলে পুরেছেন। হামাস ও মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শিক মিল থাকায় তিনি হামাসকে প্রচণ্ড ঘৃণা করেন।

আমার মত হচ্ছে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নিজেরা বসে আলোচনা করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করুক। দুনিয়াতে সমর কমান্ডাররাই এক পক্ষ অন্য পক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠায়, তারপর আলোচনার মাধ্যমে কিছু একটা হয়। অথচ মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল–সিসি নির্বোধের মতো ইসরায়েলের কথায় একতরফা যুদ্ধবিরতি ডেকে বসলেন আর হামাস এককথায় তা প্রত্যাখ্যান করে।

এর শেষ কোথায়? রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলতেই থাকবে। রকেট ও বোমা বন্ধ করুন, গাজার মানুষদের স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে দেওয়া হোক, প্রকৃত ঐকমত্যের সরকারের অধীনে ফিলিস্তিনিদের ঐক্য, শান্তি আলোচনা শুরু করা হোক, শান্তি বর্ষিত হোক।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।
ইউরি আভনেরি: ইসরায়েলি লেখক।

http://www.onlinebanglanewspaper.com/bangladesh-newspaper-prothom-alo.com.html

51
‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছিবেলা, শুনছ...’ ফোনের এ-প্রান্তে এই কথা বললে ওই প্রান্তে বেলার সাড়া পাওয়াটা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু যদি এ প্রান্ত থেকে বলা হতো চাকরিটা আমি ছেড়ে ুদিয়েছি... তবে তো সাড়া পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।

এই সময়ের কথা আবার ভিন্ন। এখন নানা কারণে মানুষ যেমন চাকরি ছাড়ে তেমনি চাকরি ছেড়ে আরও ভালো কিছু করার উদাহরণও প্রচুর।
কাজের জগতে এমন একটা ধারণা প্রচলিত যে, কর্মীরা আসলে প্রতিষ্ঠানকে ছেড়ে যান না, তাঁরা তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ত্যাগ করতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটেই দেখুন, অর্থনীতির মন্দা এখনো না কাটলেও সেখানে প্রতি মাসে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। সেখানে এক জরিপে

দেখা গেছে, চাকরিজীবীদের ৭৪ শতাংশই কাজ নিয়ে অসুখী। আর ৩১ শতাংশ এর কারণ হিসেবে বলেছেন, তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পছন্দ করেন না। ৩৫ শতাংশ মানুষ দায়ী করেছেন অফিসের ভেতরের রাজনীতিকে আর সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৪৩ শতাংশ বলেছেন স্বীকৃতির অভাবের কথা। (সূত্র: ফোর্বস ম্যাগাজিন)

বাংলাদেশেও এ চিত্র তেমন ভিন্ন নয়। কয়েকজন চাকরিজীবীর সঙ্গে কথা বলে অন্তত সেটাই বোঝা গেল। একটি মুঠোফোন সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন ফারজানা ইয়াসমিন (ছদ্মনাম)। বললেন, ‘নিজের কাজ তো বটেই, আমার ঊর্ধ্বতন কর্মীর কাজগুলোও আমাকেই করে দিতে হতো। আর তিনি সেটা তাঁর ঊর্ধ্বতনকে নিজের কৃতিত্ব হিসেবে চালিয়ে দিতেন। একদিন না পেরেই তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে গেলাম, খুলে বললাম সব। চাকরিটা ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে বোঝালেন। এরপর অবশ্য ভালো সুযোগ পাওয়ায় সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

এ নিয়ে কথা হয় মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গ্রো এন এক্সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম জুলফিকার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কেউ যে চাকরি সহজেই বদলাতে চান, ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। মনের মতো পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা পেলে তিনি একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় কাজ করতে চান। তবে বাংলাদেশে চাকরি ছাড়ার পেছনে যথেষ্ট বেতন না পাওয়াটা বড় কারণ হিসেবে দেখা যায়। আর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে বলা যায়, ক্যারিয়ারে আর এগোনোর সুযোগ না থাকাটা। আজকাল চাকরি ছাড়ার কারণ হিসেবে কিছু পরিস্থিতির কথা তিনি জানালেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয়, কাজটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং নয়, নতুন কিছু শেখার সুযোগ নেই, বেতন-ভাতা তুলনামূলক কম, কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের সমন্বয় নেই—মোটামুটি এ কারণগুলোই দেখা যাচ্ছে চাকরি ছাড়ার পেছনে।

তবে আজ বসের ওপর রাগ করে কালকেই চাকরি ছেড়ে দিলাম, এটাও ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচক কিছু নয়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন সোহেল ছায়েদাতুন ইয়াসমিন। ছয়-সাত বছর মানবসম্পদে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, মেয়েদের ক্ষেত্রে চাকরি ছাড়ার কারণগুলো একটু ভিন্ন হতে পারে। ‘মেয়েদের জন্য অফিসের সময়সূচিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া মাতৃত্বকালীন সময়টাতে বা এর পরেও অনেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’ তবে এম জুলফিকার হোসেন মনে করেন, চাকরি ছাড়ার আগে বা নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।

    প্রথমত, নতুন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের সুযোগ যথেষ্ট আছে কি না। কাজের দায়িত্ব বাড়া, উন্নতির সুযোগ আছে কি না।
    নতুন প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট সম্মান পাবেন কি না। সেখানে পরিবেশ নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হবে তো।
    শুধু বেতন নয়, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেখে নেওয়া উচিত। যেমন কোনো প্রতিষ্ঠানে বেতন বেশি দিলেও অবসর ভাতা, বিনোদন ভাতা এসব হয়তো খুব কম।
    যে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি তার সুনাম কেমন, ব্র্যান্ড হিসেবে সেটি যথেষ্ট শক্তিশালী কি না।
    আপনার যথেষ্ট মূল্যায়ন হবে কি না।

অনেকেই এখন চাকরি ছেড়ে নিজেই উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে চান। তবে নিজের কিছু শুরু করার আগে শক্ত একটা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

Source: http://www.prothom-alo.com

52
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে তৃতীয় জনপ্রিয়তম দেশ। নিরাপদ শহর, তুলনামূলক কম খরচ ও মানসম্মত শিক্ষার কারণে পড়াশোনা করতে যাওয়ার গন্তব্য হিসেবে দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই দেশটি। অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার ব্যাপারকে শিক্ষার্থীদের সামনে আরও সহজ করে তুলে ধরার জন্যই সম্প্রতি প্যাক এশিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘অস্ট্রেলিয়ান এডুকেশন ওপেন ডে ২০১৩’। ১৪ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির বেঙ্গল গ্যালারিতে দিনব্যাপী চলে এই কার্যক্রম। অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এখানে সরাসরি উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া, ভর্তির বিভিন্ন তথ্য, টিউশন ফি, স্কলারশিপ, ভর্তির যোগ্যতার মাপকাঠিসহ আরও নানা তথ্য জানার সুযোগ ছিল এ কার্যক্রমে। এ আয়োজন থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি আবেদনের ব্যবস্থা ছিল। প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী সরাসরি এ দিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটিই অস্ট্রেলিয়ায়। এ দেশের মোট ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে ৩৮টিই সরকারি। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যবসায় প্রশাসন, প্রকৌশল, নার্সিং, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষামেলায় আসা বুয়েটের তড়িৎকৌশল বিভাগের স্নাতক তানভীর হোসেন জানান, ‘নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে আমি স্নাতকোত্তর পড়তে আগ্রহী। অস্ট্রেলিয়ায় এ বিষয়ে পড়ার কেমন সুবিধা রয়েছে তা জানতেই এখানে আসা।’ ঢাকা নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া মুমতাহিনা আঁখি বলেন, ‘নার্সিং ও গণস্বাস্থ্য নিয়ে পড়ার বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ায় বেশ ভালো। তাই এ বিষয়ে স্কলারশিপ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার খোঁজ নিতে এখানে এসেছি।’স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী আতিক উল্লাহ জানান, ‘অস্ট্রেলিয়ায় পড়ার জন্য সাধারণত আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। আর আমার ভবিষ্যতে শরীরবিদ্যা নিয়ে পড়ার ইচ্ছা। অস্ট্রেলিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং ২০০-এর ভেতরে। তাই সবকিছুর ব্যাপারে খোঁজখবর নিতেই এখানে আসা।’

অস্ট্রেলিয়া পড়াশোনার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানতে ভিজিট করা যেতে পারে: www.studyinaustralia.gov.au, www.studyassist.gov.au, www.bangladesh.idp.com

53
কে যেন বলেছিলেন কথাটা। শিশুরা হচ্ছে কুমারের হাঁড়ি-কুড়ি তৈরির কাদা-মাটির মতো। যেভাবে গড়তে চাইবেন, সেভাবেই তারা তৈরি হবে। ছোটবেলায় যে শিক্ষা, যে আদর্শকে তাদের দৈনন্দিন অভ্যোসে পরিণত করবেন, সেই অভ্যেস, সেই আদর্শ নিয়েই তারা বড় হবে। শিশুদের প্রাথমিক অভ্যেস সাধারণত গড়ে ওঠে বাবা-মা’কে অনুসরণ করে, সেক্ষেত্রে বাবা-মা’ই হচ্ছে শিশুর প্রথম শিক্ষা। বাবা-মা’রা শিশুকে যেভাবে, যে আঙ্গিকে গড়ে তুলবেন, শিশু সাধারণসত সে আঙ্গিকেই গড়ে ওঠে। তাই সন্তান জš§ দিয়েই বাবা-মায়ের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার নয়, তাঁকে সঠিক আদর্শে গড়ে তোলার ব্যাপারটিও বাবা-মা’য়ের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।

বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা অসংখ্য বইয়ের সংগ্রহ একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক শানিলা শারমিনের। মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক বিভিন্ন বই পড়া নিয়ে প্রচণ্ড আগ্রহ। সন্তানের জšে§র পর থেকে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস কিংবা একুশে ফেব্র“য়ারি উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠিানে তিনি বাচ্চাকে নিয়ে গেছেন। বাচ্চারও নাকি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দারুণ আগ্রহ। ওকে ঘুম পাড়ানোর সময় সুয়োরানি-দুয়োরানি নয়, শোনাতে হয় মুক্তিযুদ্ধের গল্প। বিভিন্ন যুদ্ধের বর্ণনা। শানিলা বললেন, বাচ্চার এই আগ্রহটা আমার কাছ থেকেই হয়েছে, এটা বুঝতে পারি। কিছুদিন আগে জাহানারা ইমামের লেখা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ বইটি কিনে দিয়েছি। এখন দেখি, ওই বইটিই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। কিছুদিন আগে বাচ্চাকে কেউ জিজ্ঞেস করেছিল বড় হয়ে তুমি কী হবে, উত্তরে সে বলেছিল, “বীরশ্রেষ্ঠ।” জানেন, উত্তর শুনে চোখে পানি চলে এসেছিল আমার। ওর এই মনোভাবটা বড় হয়েও যদি থেকে যায়, তাহলে আমি হবো সবচেয়ে সুখী মা।’

বেসরকারি ব্যাংকের চাকুরে আশফাক-উজ্-জামান নিজে রেপি¬কা গাড়ির প্রতি আসক্ত। তিনি অনেক দিন ধরে গড়ে তুলেছেন তাঁর গাড়ির সংগ্রহশালা। গাড়ির বিষয়ক বিভিন্ন ব্যাপারে আগ্রহী আশফাকের শিশু-সন্তানটিও বয়স তিন না পেরোতেই গাড়িকেই বানিয়েছে তাঁর জীবনের ধ্যান-জ্ঞান। বাচ্চাটি এই বয়সেই এত ধরনের গাড়ির নাম মুখস্থ করে ফেলেছে যে তা দেখলে বা শুনলে অবাক হতেই হয়। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের প্রভাব কতখানি, ওপরের দুটি উদাহরণে বিষয়টি বোঝা যায় খুব সহজেই।

বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে (বিএমএ) তোরোটি ব্যাচের প্রায় হাজার খানেক ক্যাডেটের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন বর্তমানে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবু সালেহ। তাঁর গবেষণা থেকেও সন্তানের গড়ে ওঠা কিংবা আচার-আচরণে বাবা বা মায়ের প্রভাবের ব্যাপারটি বেশ স্পষ্ট।

তিনি জানান, বিএমএ’তে প্রচুর ছেলে-মেয়ে ক্যাডেট হয়ে আসে। বাছাইয়ের অনেক ধাপ পেরিয়েই তাঁদের টিকতে হয়। বাছাইয়ের সময় ক্যাডেটরা প্রায় সকলেই একই ধরনের ফলাফল করলেও পুরো প্রতিশক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই অনেককে বিভিন্ন আচরণগত কারণে বিএমএ থেকে চলে যেতে হয়। আচরণগত কারণে বাদ পড়ে যাওয়া ক্যাডেটদের জীবন-বৃত্তান্ত ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে দেখা গেছে আচরণগত কারণে সমস্যায় পড়া ক্যাডেটদের সমস্যাটার মূল আসলে পরিবারেই প্রোথিত।

তিনি একটি উদাহরণ টেনে বলেন, বিএমএ’তে একবার একটি ছেলেকে পেয়েছিলাম, যার বাবা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। মাও ছিলেন যথেষ্ট শিক্ষিত ও উচ্চ পর্যায়ের চাকুরে। কিন্তু, দুঃখের বিষয় ছেলেটিকে বিএমএ’তে রাখা যায়নি। কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে দেখলাম, তাঁর বাবা-মা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন, যে ছেলের বেড়ে ওঠার সময় তাঁর প্রতি ঠিকমতো নজরই দিতে পারেননি। বুয়া-আয়া-কেয়ারটেকারদের সঙ্গে খেলে বড় হওয়ার পর তাঁর মধ্যে দেখা দিয়েছিল নানা ধরনের সমস্যা।

পারিবারিক বলয়ে সন্তানের মধ্যে ভালো গুণাবলীর সমন্বয় ঘটাতে আবু সালেহ জোর দিয়েছেন সন্তানের আচরণ বিশে¬ষণের দিকে। বাবা-মায়েরা যদি তাঁর সন্তানের ভালো ও খারাপ আচরণের একটা রেকর্ড নিয়মিত রাখেন, তাহলে তাঁদের পক্ষে সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে। বকা-ঝকা দিয়ে নয়, কঠিন শাসনের মধ্যে রেখেও নয়, সন্তানের মন বুঝে, তাঁর সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশেই তাঁর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে ইতিবাচক গুণগুলো।। পুরো ব্যাপারটিই যেন বাবা-মা দেখেন সন্তানের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব ও অবশ্য-পালনীয় কর্তব্য হিসেবে।

~ নাইর ইকবাল, প্রথম আলো

54
ফেসবুকের সৃষ্টি হয়েছিল শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, আমাদের একটি সামাজিক উদ্দেশ্য ছিল। সে উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীকে আরও উন্মুক্ত করে দেওয়া, মানুষকে একে অপরের কাছে নিয়ে আসা। ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এই উদ্দেশ্যটি বুঝতে হবে, জানতে হবে আমরা কী করি, কেনই বা করি। এই চিঠিতে আমি সে কথা জানাব।

বর্তমানে পৃথিবীর সব মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার এক বিশাল চাহিদা ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। সবাইকে নিজের স্থান থেকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিলে তা গোটা সমাজব্যবস্থাকেই বদলে দেবে। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। যতই উচ্চাভিলাষী মনে হোক না কেন, অনেক বড় কিছুর শুরুও ছোট্ট একটি পদক্ষেপ থেকেই হয়।

মানুষের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুতোগুলোই আমাদের নতুন আইডিয়া খুঁজে দেয়, চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বুঝতে সাহায্য করে, আমাদের জীবনকে ভরিয়ে তোলে। ফেসবুক মানুষের চাহিদা অনুযায়ী তাকে অন্যদের সঙ্গে সংযুক্ত করে, পারস্পরিক তথ্য ও ভাব আদান-প্রদানের সুযোগ করে দেয়। সর্বোপরি নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলে, একই সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করে।

শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কই নয়, আমরা আশা করি এই বিস্তৃত সম্পর্কের জাল ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। এই নিত্যনতুন সম্পর্কের ফলে অসংখ্য নতুন পণ্য ও সেবার সৃষ্টি হবে, যা মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করবে বহুগুণে। আমরা ইতিমধ্যে গেমস, সংগীত ও সংবাদশিল্পে ফেসবুকের উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখেছি। সামনের দিনগুলোতে এমন আরও অনেক শিল্পকে আমরা নতুন আঙ্গিকে দেখতে চাই, যা সরাসরি সমাজব্যবস্থাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আমরা ফেসবুকে এক ভিন্নধর্মী কাজের ধারার প্রচলন করেছি, একে বলা হয় ‘হ্যাকার ওয়ে’। সাধারণত ‘হ্যাকার’ শব্দটিকে সবাই নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করে। আসলে এর শাব্দিক অর্থ খুব দ্রুত কিছু তৈরি করা বা কোনো কিছুর সম্ভাবনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা আরও কী করা যেতে পারে। হ্যাকার ওয়ে বলতে আমরা বোঝাই কোনো কাজে সার্বক্ষণিক উন্নতি করা ও প্রয়োজন হওয়ামাত্রই পরিবর্তন আনা। আমাদের হ্যাকাররা বিশ্বাস করে একটি কাজকে সব সময়ই আরও ভালো, আরও নিখুঁত করে তোলার সুযোগ থাকে। কাজ কখনো পাকাপাকিভাবে শেষ হবে না। সেজন্য আত্মতুষ্টি পরিহার করে কোনো কাজকে প্রতিনিয়ত সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে কোনো কাজ খুব কঠিন হলেও সেটিকে অসম্ভব দাবি করে বসে থাকা যাবে না। অনেক বছর সময় নিয়ে একেবারে পরিপূর্ণ একটি জিনিস তৈরির পরিকল্পনা না করে, তারা প্রতিনিয়ত ছোট ছোট পরিবর্তন আনতে থাকে এবং ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। অফিসের দেয়ালে আমরা বড় বড় অক্ষরে লিখে রেখেছি, ‘শতভাগ নিখুঁত কিন্তু অসমাপ্ত কাজের চেয়ে কিছু ভুলত্রুটিসহ একটি সমাপ্ত কাজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।’

একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা পাঁচটি নীতির ওপর ভিত্তি করে চলি:

১. সম্ভাব্য ফলাফলের ওপর মনোযোগ দাও: যদি তুমি সত্যি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চাও, তাহলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো খুব গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা। এটা শুনতে জলের মতো সহজ মনে হলেও বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ কাজটি সুষ্ঠুভাবে করতে ব্যর্থ হয়। ফেসবুকে আমরা সবার কাছ থেকে প্রত্যাশা করি যে তারা কাজ করার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোকেই বেছে নেবে।

২. দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাও: দ্রুতগতিতে কাজ করায় আমরা বেশি কাজ করতে পারি আর খুব তাড়াতাড়ি নতুন জিনিস শিখেও নিতে পারি। সাধারণত, একটি প্রতিষ্ঠান যত বড় হয়, সেখানে নতুন আইডিয়া গ্রহণ করা বা শেখার গতিও তত কমে আসে। কারণ, তারা সব রকম ভুল এড়িয়ে চলতে চায়, নতুন সম্ভাবনাকে দমিয়ে রেখে হলেও তারা নিজেদের কাজে যথাসম্ভব নির্ভুল থাকতে চায়। আমরা বলি, ‘সবকিছু ভেঙেচুরে হলেও দ্রুত এগিয়ে চলো।’ যদি কিছু না-ই ভাঙল, তাহলে সম্ভবত তুমি যথেষ্ট দ্রুত এগিয়ে চলছ না।

৩. দৃঢ়চেতা হও: বড় কিছু করতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে। এটি সহজ কাজ নয়, অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা উচিত হলেও করে না। কিন্তু পৃথিবী যেভাবে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে, ঝুঁকি না নিয়ে সব সময় নিরাপদে থাকতে চাইলে পিছিয়ে পড়তে হবে। আমরা বরং বলি, ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে কোনো ঝুঁকিই না নেওয়া।’ আমরা সবাইকে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ দিই। মাঝেমধ্যে ভুলত্রুটি হতে পারে, হলোই না হয়!

৪. মনকে উদার করে তোলো: আমরা বিশ্বাস করি পৃথিবীর তথ্যভান্ডার যত উন্মুক্ত হবে, মানুষ তত উন্নতি করবে। অধিকতর তথ্য পাওয়ার ফলে মানুষ আরও সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং সমাজে তার প্রভাব পড়বে। প্রতিষ্ঠান চালানোর ব্যাপারেও আমরা এই নীতি অনুসরণ করি। ফেসবুকে কর্মরত সবার কাছে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্য যতটা সম্ভব উন্মুক্ত রাখা হয়। এতে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে ও প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে অধিকতর অবদান রাখতে পারে।

৫. সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করো: ফেসবুকের লক্ষ্য পৃথিবীকে আরও উন্মুক্ত করা, মানুষের একে অপরের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ সৃষ্টি করা। শুধু ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করা নয়, আমরা সবাই খেয়াল রাখি প্রতিদিনের কাজের মাধ্যমে আমরা কীভাবে সমাজব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনতে পারি, পৃথিবীকে কিছু দিতে পারি।

এই চিঠি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা বিশ্বাস করি, পৃথিবীকে কিছু দেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা আমাদের আছে। আমি আশা করি, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারব।

 
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ অনলাইন সংস্করণ। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত

55
Career Opportunity / Job Hopping - Think twice before you apply
« on: July 23, 2014, 02:27:24 PM »
Fifty year old with a steady employment history is easier to place than a thirty year old job hopper. A large number of recruiters believe that the single biggest barrier for an unemployed candidate in regaining employment is to have a history of job. These days, young generation is as unsteady as today’s Facebook relationship status. A fresh graduate quits a job without even the slightest hesitation, thinking that jobs are easy to find. This very idea, the sense of over-confidence sometimes ruins their career .How long does a typical employee stay at a job? I believe there isn’t any specific study on it. In my experience, I’ve seen many fresh graduates leave a job only because they didn’t like working for that particular company very much. Perhaps, a justified reason. However, there isn’t any real intensity in their decision, well at least in most cases. There are some issue one should consider before quitting and applying for a new job.

 
Perfect match
As unfortunate as it is, fresh graduates do not spend enough time analyzing published advertisement keenly and they fail to spot some significant tips. First question you should ask yourself is, does it match with your qualification & experience? Applicants are very much impatient these days and they don’t like to give enough thought to their choices. With the opportunity of applying online, they keep brush-firing their CV for every job on sight. Because it’s just click away, they keep posting their CV, even when the requirements don’t meet with the company. It’s certainly not wise. On top of that, it creates unwillingness within the HR and they become reluctant with checking CV’s later. In the process, they unknowingly overlook a perfect match. The mindless applying is to blame rather than the HR here.

Is it you?
We all need a good deal of honest-talk with ourselves to be able to take any sort of decision. It’s easy to lie to the world, but easier to lie to ourselves. Sadly, the valuable art of shading reality won’t help us make a decision. Consider this a test. Look at the job criteria closely and ask yourself if you are the person they are looking for. Take a while to decide instead of treating it like a rapid-fire round. Is the job really for you? If you receive positive feedback from yourself, then go for the next one.

Look for advice and analyze
This is the third phase of the process. By this time, job criteria already matched with your education & experience and you got green signal from yourself. What’s next? At this stage, you should consult with your friends, family, or mentor. If possible, also with those who have more knowledge about the field you are looking forward to work in. At the same time, go through website of the organization for detailed understanding. Big question is, whether new company is capable of holding you for at least next five years, will the career growth be smooth. Work environment is more important than you might think it is. While everyone is chasing the dream job, they forget to take into consideration the organizational culture of that particular company which they may or may not fit into. It doesn’t matter even if you take a pass on a “great” job and settle for something that you are more comfortable with. People will remember you for what you do, not what you didn’t do before.

Calculate Salary based on hours
This is probably that never crosses our minds. Most companies want to negotiate salary with their applicants nowadays. It can get real tough to get information about the company’s policies and their payment structure. Unless you are Sherlock Holmes, you need to calculate in detail first instead of waiting till last moment for your intuition. Let’s consider a hypothetical situation here. Suppose, you are enjoying monthly salary of 20k and enjoying two holidays in a week. That means you have to work at least 176 hours in a month. (that means 114 tk/hr). You, without even considering the calculation, applied for a job that offered 30k (Which is 50% more than your present salary). You fail to evaluate the catch and start jumping around thinking of the raise. You know what you missed? They have only one holiday and due to distance you need to start one hour early every day. You’ll be working 58 hours more, so your applied salary per hour comes into 128 tk .Would you like to shift only for 14tk/hr? Is it sensible to leave for this little enhancement? Probably not! Do your math before you decide to fight the battle.

Don’t Apply Frequently
Because job applications are just one click away, you keep posting your CV. But is it wise to apply very frequently? Sometimes companies mention that those who applied earlier need not to apply. If you didn’t get a call the first time, you probably will. Wait for them to respond. Don’t underestimate any organization’s capacity to detect you.

Sometimes you have no other option but to keep applying as you need the job desperately. It becomes a number game eventually. Some applicants, without even looking at the criteria, apply for all the positions- from managers to junior officers. It only reflects applicant’s lack of confidence. Are you in the same boat? Then don’t apply more than twice in a month & prepare yourself for the next. If you are applying “just for fun”, “to see what happens”, “or to feel good about yourself”; do yourself, the company and other applicant’s a favor- Stop. It’s not a healthy practice and you are only wasting valuable time.

http://www.prothom-alojobs.com/index.php?NoParameter&Theme=article_zone_new&Script=articleviewdetails_new&ArticleID=143

56
Career Opportunity / Learning to fly
« on: July 23, 2014, 02:23:59 PM »
Making good first impressions are an integral part of our lives. Be that in class, or when landing a prospective date. Nowhere does the ability to make that necessary impact of a great first impression come in handy than it does at work. Especially a new job. After a lengthy student life, starting a job may seem like a desirable end point but it actually is just another beginning. The reason why a first impression is so important is because it’s hardwired in the human brain to assess a person within about the first 30 seconds of meeting them. Here are some ways to make a good mark in the work place during the early ‘just-hired’ days.

Let the beginning be on a high note
For the new employee, the best he or she can do to make an early mark and to solidify their spot in the organization is to win the management over. A good reputation and rapport cannot be built overnight, it does take a while but with certain gears set in motion early on can achieve good momentum along the way in the nick of time. For a good first impression, some small but necessary requirements are to be relaxed, comfortable and confident. It’s better than appearing nervous. Being well dressed and having a firm handshake also exudes a polished and assertive personality.


Follow the four P’s
Be polite, be polished, be punctual, and be presentable. These may not seem as important as job skills but employees who exhibit such virtues always command a preference over those who don’t. Take notes of everything and try to use proper grammar while communicating, both Bangla and English.

It’s never too late to set yourself apart
The new employee can make his mark by going all hands on deck from day one by bringing his ideas to the table from the very first meeting. He has to speak out and make himself heard (as required). Ideas are best presented with more people around if one doesn’t want a sole listener eventually hogging the credit. It’s always best to jump right in rather than take the back seat the first few days.

Get around and get by
Build yourself a circle of peers. You need to have a good eye to filter out the office politicians. Try picking people you can learn from. People will be more willing to forgive you of a mistake or two if they generally like you, so this is a powerful tool. Get a sense of the company culture. A good social environment can provide a drive to work harder. You can also learn the ins and outs and the ups and downs of working in the organization. Small talk can go a long way.

Work hard and seek challenges
Always show an affiliation for work. Arrive early, stay late, work through lunch, double check your work and keep focused. Once people know you have a positive reputation and a thirst for work, then you can feel at ease among your co-workers. Try to get more out of fewer hours. In order to develop in any organization, you need to ask to take on more work, offer new ideas or solutions, and show that you are thinking proactively about how to better the organization. If you offer new ideas too early, you risk appearing as though you “know better than anyone else,” without really understanding the company. So do so but gradually although not too slow!

Try winning the management over
Your job is, after all, to help them make theirs easier. Put yourself in their radar by helping them out whenever possible with things they need. The more they appreciate you for your efforts, the more likely they will look out for you when you need it.

Be vocal
Voice your concerns and wants and needs whenever you have to. Do not shy away. Be vocal be articulate. Speak out whenever necessary. Whenever you feel things could be improved, such as the chairs, or your salary, ask for it.

Be open to criticism
This is probably the biggest challenge. Staying positive towards constructive criticism seems to be impossible for a lot of people. They make a big deal out of it instead. Always be up for feedback and use criticism to help improve yourself. Ask for it from experienced co-workers who know their way around and can help you find yours. Learning is a never ending process and in this day and age, a penchant for learning constantly is a prized virtue.

http://www.prothom-alojobs.com/index.php?NoParameter&Theme=article_zone_new&Script=articleviewdetails_new&ArticleID=147

57
অফিসে ভুল বোঝাবুঝি হলে ...

দিনের অনেকটা সময় একসঙ্গে থাকা। কাজ থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া, আড্ডা, কখনো কখনো সহকর্মীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের কথা বলে মন হালকা করা। এভাবেই সম্পর্কটা একসময় বন্ধুর মতো হয়ে যায়। আবার কাজ করতে করতে ভুল বোঝাবুঝিরও সৃষ্টি হয়। যার প্রভাব কাজের ওপর পড়ে। কেননা কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্কের ধরন কেমন, তার ওপর কাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নির্ভর করে। সহকর্মীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির রেশ বেশি দিন থাকলে কাজের পরিবেশও বিঘ্ন হয়। কেউ কেউ চাকরিও ছেড়ে দেন।

তবে চাকরি ছেড়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। এমনটাই মনে করেন গ্রো এন এক্সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুখ্য পরামর্শক এম জুলফিকার হোসেন। তিনি বলেন, ‘কাজ করলে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। এতে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। দীর্ঘ সময়ে একসঙ্গে থাকলে মতের, পছন্দের পার্থক্য হতে পারে। বিশেষ করে যখন শুনলেন, অফিসে অমুক আপনাকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন। হয়তো আপনি এর কিছুই জানেন না। সে ক্ষেত্রে রাগ বা অভিমান মনের মধ্যে পুষে না রেখে সরাসরি বলাই ভালো। তাহলে দেখবেন সমস্যা অনেকখানি কমে গেছে।’

এখন দলগতভাবে কাজ করার প্রবণতা বেড়েছে। দলের সদস্যদের একেকজনের মানসিকতা ও কাজের ধরন একেক রকম হবে। এতে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে কেন ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে, সেটি খুঁজে বের করতে হবে।

অপর পক্ষকে সরাসরি কথা বলার জন্য রাজি করাতে হবে। তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তাঁর কথার মধ্যে কোনো বাধা তৈরি করবেন না। এরপর আপনার কোনো কথা বলার থাকলে সেটি বলতে পারেন। খেয়াল রাখবেন, আবার যেন তর্ক না বেধে যায়। তাতে সম্পর্কের উন্নতি তো হবেই না, অবনতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
ভেবে দেখুন যাঁর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে, তাঁর সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো যায়। এ ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য কোনো সহকর্মী বা বন্ধুসুলভ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহযোগিতা নিতে পারেন। এমন কারও সহযোগিতা নেবেন না, যিনি উল্টো কথা গিয়ে তাকে বলবেন।

আরেকটি কথা মনে রাখবেন, কারও বিষয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য বা পরচর্চা করা যাবে না। হোক তাঁর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে। অফিসে এমন অনেক ব্যক্তি থাকেন, যাঁরা পরস্পরের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেন। কখনো সেসব ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা পেলে, কৌশলে তাঁদের এড়িয়ে চলাই ভালো।

58
ব্যর্থ না হয়ে সফল হওয়া যায় না: টিম কুক

আজকে এখানে তোমাদের সঙ্গে থাকতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও গর্বের বিষয়। এখানে এসে আজ আমার মনে হচ্ছে আমি যেন আমার ঘরে ফিরে এসেছি, যেখানে আমার অনেক সুখস্মৃতি রয়েছে। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াটা আমার জীবনে একটা চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে। পলো অলটোতে যেই আমার অ্যাপলের অফিসে এসেছে সেই বুঝতে পেরেছে যে এই বিশ্ববিদ্যালয়টা আমার কাছে খুব বড় একটা ব্যাপার। তোমাদের সামনে এখানে আসতে পেরে আমি সত্যিই শিহরিত হচ্ছি। আমি আজ জীবনে যেখানে দাঁড়িয়ে আছি এত দূর আসতে পেরেছি, কারণ আমার মা-বাবা তাঁদের যেটুকু উচিত ছিল তার চেয়েও অনেক বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আর স্টিভ জবস ও অ্যাপল আমাকে গত ১২ বছরের বেশি সময় ধরে সত্যিই অর্থবহ কিছু কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। আমি জানি, আমি আজ এমন কিছু মানুষের সামনে কথা বলছি যাঁদের ধ্যানধারণা ও গবেষণা আমাদের জীবনে খুব ইতিবাচক কিছু প্রভাব ফেলবে। তাই এসব কিছু মাথায় রেখে আমি আমার জীবনের কিছু দর্শন তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করব, যা অন্তত আমার ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে। এখন পর্যন্ত আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি ছিল অ্যাপলে যোগদান করা। অ্যাপলে কাজ করার কথা কখনো আমার চিন্তাতেই ছিল না কিন্তু কোনো সন্দেহ নেই এটিই ছিল আমার জীবনে নেওয়া সেরা সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমি আমার জীবনে নিয়েছি যেমন অবার্নে পড়তে আসার সিদ্ধান্তটি। যখন আমি হাইস্কুলে ছিলাম তখন কিছু শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন এখানে পড়তে আর কিছু শিক্ষক বলেছিলেন অ্যালবামায় পড়তে। আমাকে তখন একটা বেছে নিতেই হতো। কিন্তু অ্যাপলে আসার বিষয়টি এ রকম ছিল না। আমি এখানে না এলেও পারতাম। ১৯৯৮ সালে আমি যখন অ্যাপলে আসি, তখন অ্যাপলের কী অবস্থা ছিল তা হয়তো তোমাদের কল্পনারও বাইরে। তখন কোনো আইপ্যাড, আইফোন, আইম্যাক এমনকি আইপডও ছিল না। তখন অ্যাপল কেবল ম্যাক কম্পিউটার বানাত আর বছরের পর বছর ধরে এর বিক্রি কমেই যাচ্ছিল। প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিল অ্যাপলের বিলুপ্তি সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমি তখন কাজ করতাম কমপ্যাক কম্পিউটারে, যা ছিল সে সময়ের সবচেয়ে বড় পার্সোনাল কম্পিউটার কোম্পানি। শুধু তাই নয়, এর হেডকোয়ার্টারও ছিল অবার্নের পাশে টেক্সাসে। তাই যেকোনো বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ যারা আমাকে চিনত, তারা খরচ ও অন্যান্য সুবিধার কথা ভেবে কমপ্যাকেই থাকতে বলেছিল। অনেকে এ-ও বলেছিল কমপ্যাক ছেড়ে অ্যাপলে যাওয়া হবে চরম বোকামি। তাই অ্যাপলে আসার সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আমাকে আমার প্রকৌশলী মনের বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে হয়েছিল। প্রকৌশলীদের বিচার-বিশ্লেষণ করে আবেগহীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষা দেওয়া হয়। যখন কতগুলো বিকল্প আমাদের সামনে আসে তখন আমরা সেগুলোর মধ্যে খরচ ও সুবিধার কথা চিন্তা করি। কিন্তু কিছু সময় আসে যখন কেবল খরচ আর সুযোগসুবিধাকে যেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঠিক মাপকাঠি বলে মনে হয় না, কিছু সময় আসে যখন আমাদের আবেগের ওপর নির্ভর করাটাকেই সঠিক বলে মনে হয়। এটা এমন কিছু, যা হয়তো আমাদের মাথায় ক্ষণিকের জন্য জন্ম নেয়, আর তুমি যদি তাতে সাড়া দাও তবে এর ক্ষমতা আছে তোমাকে সবচেয়ে ভালো জায়গাটিতে পৌঁছে দেওয়ার। সেই ১৯৯৮ সালে আমি আমার আবেগের ওপরই আস্থা রেখেছিলাম। আমি এখনো জানি না, আমি কেন তা করেছিলাম। কিন্তু স্টিভের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎকারের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমি আমার মনের যৌক্তিক অংশটুকু ঝেড়ে ফেলি এবং অ্যাপলে যোগদান করি। আমি যদি সেদিন আমার আবেগ আর অনুমান ক্ষমতার ওপর আস্থা না রাখতাম, আমি জানি না আমি আজ কোথায় থাকতাম, কিন্তু এটুকু নিশ্চিত তোমাদের সামনে আসার সুযোগ অবশ্যই পেতাম না। এটা আমার জন্য একটা চমকপ্রদ শিক্ষা ছিল। আমি ভাবছি যখন আমার সমাবর্তন শেষ হয় তখন আমি জীবন নিয়ে কতটা অনিশ্চয়তায় ছিলাম। জীবন অনেকটা ব্যাটারের মতো, তোমাকে একের পর এক নানা রকম বলের মুখোমুখি হতে হবে। একজন ভালো ব্যাটার জানে না, কখন সে মারার মতো বলটি পাবে, কিন্তু সে জানে একসময় আসবেই। আর তাই যখন সে বলটি পাবে তখন কী করবে তার প্রস্তুতি আগে থেকেই নিতে হয়। তাই জীবনে তুমি কী করবে তার পরিকল্পনা করতে না পারলেও অন্তত তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখো।

আমার মনে সব সময় অনুরণিত হয় আব্রাহাম লিংকনের উক্তিটি, ‘আমি প্রস্তুত হব, কারণ কোনো একদিন আমার সুযোগ আসবে।’ লিংকনের জন্য যা সত্য, তা ’৮২ তে আমাদের জন্য সত্য ছিল এবং আজ তোমাদের জন্যও সত্য। তাই প্রস্তুত হও, তোমাদের সামনে সুযোগ আসবেই। যদি তুমি প্রস্তুত থাকো এবং তোমার জন্য সঠিক দরজাটি খুলে যায় তখন তোমার কেবল একটি কাজই বাকি। আর তাহলো তোমাকে নিশ্চিত করতে হবে তুমি যা প্রস্তুতি নিয়েছ তার সবটুকুই তুমি কাজে দেখাতে পেরেছ। আমার মনে হয় ব্যর্থতার কথা উল্লেখ না করে সাফল্যের কথা বলা মানে তোমাকে ভুল পথে চালিত করা। আমি এমন কাউকে জানি না, যে কঠিন পরিশ্রম না করে, ব্যর্থ না হয়ে কোনো সাফল্য অর্জন করেছে। তাই এমন ভেবো না যে অতীতের কোনো কিছু ভবিষ্যতে তোমাকে দারুণ কিছু করতে বাধা দেবে। যারা তোমাদের নিজ সামর্থ্য সম্পর্কে সন্দিহান, আমিও একসময় তাদের অবস্থানে ছিলাম। তোমাদের মতো আমাকেও জীবনের বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আসতে হয়েছে। আমার জীবনের এত দূর আসার পর আমার মনে হয় প্রতিটি কঠিন সময় পার করার পর আমি আরও শক্তিশালী, আরও বিচক্ষণ হয়েছি। তাই ব্যর্থতার সম্ভাবনা যেখানে নেই, সেখানে সাফল্যেরও কোনো সম্ভাবনা নেই।

এখন তোমাদের মনে সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্নগুলো আঁকো জীবনে যেখানে তোমরা পৌঁছাতে চাও। আর জীবনের ছোটখাটো বাধার মুখে হার মেনো না। অভিনন্দন তোমাদের সবাইকে। এখন তোমাদের সময়। তোমাদের আনন্দগুলোকে তোমাদের চলার পথে ছড়িয়ে দাও। তোমাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

সূত্র: অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে ২০১০ সালে দেওয়া টিম কুকের বক্তৃতা। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: মুনতাসির হাসান,প্রথম আলো

59
বদলে যাবে জীবন: আইবিএমের পাঁচ ভবিষ্যদ্বাণী

এমন কোনো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন যেখানে রাস্তায় কোনো জ্যাম থাকবে না, কোন রোগ হওয়ার আগেই তা জানা যাবে? আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মানুষের জীবনধারা পাল্টে দিতে পারে এমন পাঁচটি পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি-প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস বা আইবিএম। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট সিনেট এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে।

মানুষের জীবনযাত্রাকে পরিবর্তন করে দিতে পারে এমন পাঁচটি ধারণার কথা মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনসের গবেষক বার্নি মেয়ারসন। আগামী পাঁচ বছরে কোন ধারণাগুলো মানুষের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে তা নিয়ে আইবিএম প্রতি বছর ‘ফাইভ ইন ফাইভ’ নামে একটি তালিকা প্রকাশ করে। এ বছরে আইবিএমের থিম হচ্ছে ‘আগামীতে সবকিছু শিখবে’।

আইবিএমের বার্ষিক পাঁচ ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে জানিয়েছেন বার্নি মেয়ারসন জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে যে ধারণাগুলো মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারে তার মধ্যে রয়েছে উন্নত কেনাকাটার সুবিধা, ডিএনএ বিশ্লেষণ করে উন্নত চিকিত্সা, ডিজিটাল অভিভাবকের উত্থান, উন্নত শ্রেণীকক্ষ ও ট্রাফিক জ্যামহীন শহর-ব্যবস্থা।

মেয়ারসন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মানুষ কোনো পণ্য কেনাকাটা কথা ভাবতে শুরু করলে সে সম্পর্কে আগেভাগেই টের পাবেন ক্রেতারা। ফলে অনলাইন দোকান চলে আসবে মানুষের পকেটে। পণ্য কিনতে আসার আগেই ক্রেতার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য গুছিয়ে রাখতে পারবেন বিক্রেতা। ক্রেতার মনোভাব শিখে বা জেনে নিতে পারবে ডিজিটাল স্টোরগুলো। দোকানের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে দোকানের পণ্যের তালিকা চলে আসবে ব্যক্তির স্মার্টফোনে। সে অনুযায়ী চলার পথেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তিনি।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই মানুষ উন্নত চিকিত্সাসেবা পাবে। বর্তমানে রোগ নির্ণয়ে ডিএনএ বিশ্লেষণ পদ্ধতি খুব কম ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই ডিএনএ বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সা পদ্ধতির ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চিকিত্সকেরা এক দিনেই ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করে সে সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবেন।

পাঠদানের ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে আগামী পাঁচ বছরে। শিক্ষার্থীর যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে তার উপযোগী পাঠ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার চলে আসবে শিক্ষকদের কাছে। শ্রেণীকক্ষে কোনো শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় সমস্যা হলে তা প্রথমদিনেই শিক্ষক বুঝতে পারবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে সাহায্য করতে পারবেন।

আগামী পাঁচ বছরে মানুষকে ভারচুয়াল জগতে নিরাপত্তা দিতে তৈরি হতে পারে এমন কোনো প্ল্যাটফর্ম যা অভিভাবক হিসেবে কাজ করবে। আবার অনলাইন ব্যবহারকারীর প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্যও এই অভিভাবক কাজ করতে সক্ষম হবে। তথ্য গোপন রাখা এবং ব্যক্তিগত তথ্য কার কাছে যাচ্ছে, কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে সে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এই ভারচুয়াল অভিভাবক।

আগামী পাঁচ বছরে পরিবর্তন আসতে পারে শহর-ব্যবস্থায়। রাস্তায় জ্যাম থাকবে না, শহর হবে স্মার্ট। আইবিএমের গবেষক মেয়ারসনের মতে, আগামীতে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগের সাইট ও অন্যান্য অনলাইন মিডিয়া ব্যবহার বাড়বে। মানুষ সরাসরি শহরের নেতৃস্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এবং তাদেরকে শহরের সমস্যা জানাতে এবং সমাধানে উদ্যোগী হতে বলবে।

http://www.prothom-alojobs.com/index.php?NoParameter&Theme=article_zone_new&Script=articleviewdetails_new&ArticleID=167

60
আমি যেদিন প্রথম ক্রিকেট মাঠে নামি, সেদিন ভাবিনি যে ১৭ বছর ধরে খেলব। এখন যখন আমার ক্যারিয়ারের পেছনে ফিরে তাকাই, অনেক মজার ঘটনা, অনেক উত্থান-পতন মনের আয়নায় খেলা করে। মনের পর্দায় আলো ফেলে। বিশ্বকাপ জিততে না পারাটা অবশ্যই কষ্টের, কিন্তু আমি ক্যারিয়ারের আনন্দের মুহূর্তগুলোই বেশি করে ভাবি। আমি খুবই সৌভাগ্যবান একজন, কারণ ১৭ বছরের ক্রিকেটজীবনে তেমন কোনো ইনজুরিতে পড়িনি। একজন খেলোয়াড়কে তার ফিটনেস ধরে রাখার জন্য জানতে হবে যে কখন পরিশ্রম করতে হবে আর কখন বিশ্রাম নিতে হবে।

একজন অলরাউন্ডার হিসেবে আমাকে ব্যাটিং-বোলিং দুটো নিয়েই ভাবতে হতো। কিন্তু আমার দর্শন ছিল ভিন্ন। আমি চাইতাম খেলার প্রতিটি বিষয়েই মনোযোগ দিতে। যখন ব্যাটিং করতাম, তখন শুধু ব্যাটিং নিয়েই ভাবতাম আর যখন বোলিং করতাম, তখন আমার মনোযোগ থাকত কেবল বোলিংয়ের দিকে। একজন অলরাউন্ডারের সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে, কোনো কারণে যদি ব্যাটিং বা বোলিং খারাপ হয়, তাহলে অন্যটি দিয়ে সেটা পুষিয়ে দেওয়া যায়। আমি সব সময় নিজের সেরাটাই দিতে পরিশ্রম করতাম, সেটা ব্যাটিং-বোলিং যেভাবেই হোক। আমি মনে করি, নিজের সামর্থ্য আর দুর্বলতার জায়গাগুলো বুঝতে পারা, উন্নতির জন্য ক্রমাগত পরিশ্রম করে যাওয়া—এই গুণগুলোই আমার ক্যারিয়ারের শক্তি।

ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য কোনো শর্টকাট নেই, তাই একজন ক্রিকেটারকে ভালো করতে হলে সামর্থ্যের পুরোটুকুই দিতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেট অনেক জনপ্রিয় খেলা। মাঠে তিনটি কাঠ পুঁতে ছেলেরা ক্রিকেট খেলত, বল ছুড়ত, ব্যাটিং করত। আমার শুরুটাও হয়েছিল এভাবেই। আমার বাবা আমার খেলা দেখতেন এবং তাঁর মনে হয়েছিল, আমি এই খেলায় ভালো করতে পারব। ছোটবেলায় আমার স্বপ্ন ছিল প্রাদেশিক পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার। বাবা আমাকে অনেক প্র্যাকটিস করাতেন। একটু বড় হওয়ার পর কোচের কাছে যাই, অনেক ভালো ভালো কোচ আমাকে খেলা শিখিয়েছেন। তাঁদের জন্যই আমি এত দূর আসতে পেরেছি। এখনকার তরুণ খেলোয়াড়েরা খেলার প্রচুর সুযোগ পায়। এখন অনেক ভালো ক্রিকেট একাডেমি আছে, বিজ্ঞ কোচেরা আছেন। সবচেয়ে বড় কথা, এখন অনেক টুর্নামেন্ট হচ্ছে, যেখানে তরুণেরা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারছে। গত কয়েক বছরে ক্রিকেট বিশ্ব অনেক ভালো খেলোয়াড় পেয়েছে। আমি আশা করি, সামনের দিনগুলোতেও এটা চলতে থাকবে।
গত ১৭ বছরে ক্রিকেটে অনেক পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি চালু হওয়ার পর খেলাটা অনেক গতিময় হয়ে গেছে। টিকে থাকার জন্য এখন একজন ক্রিকেটারকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। টি-টোয়েন্টির শুরুতে মানিয়ে নিতে আমার অনেক ধৈর্য ধরতে হয়েছে। এই ফরম্যাটে খেলাটা একটু ভিন্ন। আমি পরিশ্রম করে গেছি এবং দেখেছি যে এর ফলে আমার খেলার অনেক উন্নতি হয়েছে। এমনকি টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচেও এর সুফল পেয়েছি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য নতুন দর্শক তৈরি হয়েছে, ব্যবসায়িক দিক থেকে এটা লাভজনক। কিন্তু মানুষ বিশ্বাস করে, আসল ক্রিকেট হলো টেস্ট ও ৫০ ওভারের ম্যাচেই আসল বিশ্বকাপ হয়। বিশ্বাস করি, ক্রিকেট এখন অনেক ভালো অবস্থানে আছে। হয়তো সামনের দিনে, অলিম্পিকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হবে, তখন খেলার আবেদন আরও নতুন মানুষের কাছে ছড়িয়ে যাবে।

শারীরিক দিক থেকে আমি এখনো অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। তা ছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটের আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্য আমার সামনে আছে। জানি একাদশে জায়গা ধরে রাখতে আমাকে অনেক ঘাম ঝরাতে হবে, কিন্তু এটাও সত্যি যে আরেকটি বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলাটা হবে আমার জীবনের স্পেশাল একটি ঘটনা।

দক্ষিণ আফ্রিকা এ পর্যন্ত একটি বিশ্বকাপও জিততে পারেনি। এর কারণ হতে পারে, আমরা আমাদের লক্ষ্য নিয়েই বেশি চিন্তিত ছিলাম, তাই লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতিতে কিছু ভুল ছিল। আবার এমনটাও সম্ভব যে পদ্ধতিগত ভুল নিয়ে বেশি চিন্তা করতে গিয়ে আমরা লক্ষ্য থেকে সরে এসেছি। এটা এমন একটি বিষয় যে দু-চারটা কথায় বলা সম্ভব নয়। আমি মনে করি, খেলাটাকে আরেকটু সহজভাবে নিলে, মাঠে স্বাভাবিক আচরণ করলে সামনের বিশ্বকাপে আমরা ভালো কিছু করতে পারব। আমার দেশের প্রত্যেক মানুষই চায় যাতে আমরা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতি, যেমনটা জিতেছি রাগবি বিশ্বকাপ। খেলোয়াড় হিসেবেও বিশ্বকাপজয়ী দলের অংশ হওয়াটা আমার স্বপ্ন।

পরিচিতি
পুরো নাম জ্যাক হেনরি ক্যালিস। জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৬ অক্টোবর, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের পাইনল্যান্ড শহরে। ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। এই গ্রহের একমাত্র ক্রিকেটার, টেস্ট ক্রিকেটে যাঁর আছে ১১ হাজারের বেশি রান এবং ২৫০-এর বেশি উইকেট। টেস্টে তাঁর রানের গড় ৫৫ দশমিক ৩৭ এবং বোলিং গড় ৩২ দশমিক ৬৫। ডারবানে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট ও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন এই মহাতারকা। শেষ টেস্টে সেঞ্চুরি করে ছুঁয়ে গেছেন রেকর্ড বইয়ের আরেকটি পাতা। অর্জনের ঝুলিতে আছে ২০০৫ সালের আইসিসি টেস্ট প্লেয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ড, ২০০৮ সালের উইজডেন লিডিং ক্রিকেটার। জীবন্ত এই কিংবদন্তি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্যে।

সূত্র: ক্রিকইনফো, ডেন উইলিয়ামসকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে লিখেছেন মনীষ দাশ

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 8