Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Md. Siddiqul Alam (Reza)

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 17
46
আজ পবিত্র শবেবরাত। আরবিতে এ রাতকে বলা হয় লাইলাতুল বারাত বা মুক্তির রজনী। এ রাতে ইবাদত ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মুসলমানরা পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে আকুতি জানায়। সারা রাত ইবাদতে মগ্ন থাকে। আল্লাহর রহমত, বরকত ও মাগফিরাত কামনা করে। দুঃখ-বঞ্চনা, ব্যথা-বেদনা থেকে মুক্তির জন্য সৃষ্টিকর্তার অনুকম্পা চায়। নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। পাপকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। গুনাহ থেকে মুক্তিলাভ ও ভবিষ্যতের সৌভাগ্যময় প্রস্তুতির জন্য এ রাত প্রত্যেক মুসলমানের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। মহিমান্বিত এই রজনীকে মুক্তির রাত, সৌভাগ্যের রাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ রাত ধর্মপ্রাণ মানুষকে একটি নতুন মানুষে পরিণত করে। মানুষ শুভচিন্তা, সত্কর্মের আদর্শ গ্রহণের মাধ্যমে এক নতুন জীবন লাভ করে। শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও সব কিছু শুভ ও সুন্দর হোক—আল্লাহর দরবারে এমন প্রার্থনা করা হয়। সমাজে থাকা অন্যায়, অবিচার, অনাচার, সাধারণ মানুষের কষ্ট-দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি জানানো হয়।

শবেবরাতের নির্দিষ্ট কোনো ইবাদত ও আমল নেই। তবে বিশেষ কিছু আমল করা যায়। আর বিশুদ্ধ মতানুসারে শবেবরাত ও শবেকদরের নফল আমলগুলো একাকী করণীয়। শবেবরাতের ইবাদতের মধ্যে আছে—বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ শরিফ পাঠ, জিকির-আজকারে মশগুল থাকা। তাওবা-ইস্তেগফার করা। সব মুমিন মুসলমানের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কান্নাকাটি করে রাত কাটিয়ে দেওয়া হয়। হিজরি সন অনুসারে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিকেই শবেবরাত বা মুক্তির রাত হিসেবে গণ্য করা হয়। রমজান মাসের আগের মাস শাবান। রমজানের সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসকেও বরকতময় মাস বলে অভিহিত করা হয়েছে।

শবেবরাতের মূল করণীয় একান্তে ও নীরবে ইবাদত করা। তাৎপর্যপূর্ণ এ রাতের বিশেষ বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায় রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকে। বরকতময় এই রজনীতে মুমিনদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। এ রাতে যারা আল্লাহর কাছে রহমত ও বরকত প্রার্থনা করে তারা তা পায়, তারা সৌভাগ্য লাভ করে। মহান আল্লাহ চান, মানুষ পাপ-তাপ থেকে মুক্ত হয়ে সুখ-সমৃদ্ধিতে জীবন যাপন করুক, মানুষ সৌভাগ্য লাভ করুক।

এবার শবেবরাত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষের মনে। বাংলাদেশেও আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। শবেবরাতে আজ আমরা পরম করুণাময়ের কাছে এই মহামারি থেকে মুক্তি চাইব। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনেও আমাদের দুঃখ ও দুর্ভোগ লাঘব হোক। সবার জীবনে মুক্তি ও সৌভাগ্যের অপূর্ব সুযোগ এনে দিক পবিত্র শবেবরাত—এটাই হোক আজকের বিশেষ প্রার্থনা।

https://www.kalerkantho.com/print-edition/editorial

47
আজ পবিত্র শবেবরাত। হাদিসের ভাষায় এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ তথা পনেরো শাবানের রাত বলা হয়। ‘শবেবরাত’ শব্দটি ফার্সি শব্দ। ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত, ‘বরাত’ অর্থ নাজাত বা মুক্তি। এই দুই শব্দ মিলে অর্থ হয় মুক্তির রজনী। এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে কোরআন মাজিদে সরাসরি নির্দেশনা না থাকলেও হাদিস শরিফে নির্ভরযোগ্য সনদ বা বর্ণনাসূত্রে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৬৬৫)

মুহাদ্দিসিনে কেরামের ভাষ্যমতে, হাদিসটির মান সহিহ তথা বিশুদ্ধ। এ জন্যই ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.) তাঁর প্রসিদ্ধ হাদিসের রচিত কিতাব ‘কিতাবুস সহিহ’-এ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

তাই এই রাত আসার আগেই শিরক ও হিংসা থেকে মুক্ত থেকে মহান আল্লাহর রহমতের আশায় থাকা মুমিনের কর্তব্য।

বিভিন্ন হাদিস থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়, এই রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাত্রি জাগরণ করেছেন এবং দীর্ঘ আমলে মশগুল ছিলেন। তবে এই রাতে বিশেষ পদ্ধতির কোনো ইবাদত তিনি আদায় করেননি এবং  সাহাবায়ে কেরামদেরও তা করার নির্দেশ দেননি। সুতরাং আমাদের সমাজে প্রচলিত শবেবরাতের বিশেষ পদ্ধতির যে নামাজের কথা বলা হয় তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন-বানোয়াট। এগুলো বিশ্বাস করা এবং এগুলোর ওপর আমল করা কোনোভাবেই জায়েজ নেই। বরং ফজিলতপূর্ণ এই রাতের আমলের ব্যাপারে হাদিসের যেসব নির্দেশনা-ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তা সবই ব্যক্তিগত নফল ইবাদত। তাই আমাদের উচিত মনগড়া ইবাদত-আমল পরিহার করে যথাসম্ভব রাত্রি জাগরণের মাধ্যমে বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, তাওবা-ইস্তিগফার ও জিকির-আজকারে মশগুল থাকা।

নফল নামাজ পড়া

অধিক নফল নামাজ ও দীর্ঘ ইবাদত প্রসঙ্গে আম্মাজান আয়েশা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে আমার ধারণা হলো তিনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে আয়েশা, তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে আল্লাহর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার দীর্ঘ সিজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। নবীজি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন ইরশাদ করলেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত (শাবানের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ৩৫৫৪)

এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে নফল নামাজে দীর্ঘ কিরাত পড়া এবং লম্বা সিজদা করা এ রাতের বিশেষ একটি আমল।

তাওবা-ইস্তিগফার

এই রাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করা। কারণ বরকতময় এই রাতে আল্লাহ তাআলা প্রথম আকাশে নেমে বান্দাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন। তাদের গুনাহ মাফ করেন। এই মর্মে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন অর্ধ শাবানের রাত আগমন করে তখন আল্লাহ তাআলা প্রথম আকাশে অবস্থান করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া অন্যদের ক্ষমা করে দেন। (মুসনাদে বাযযার, হাদিস : ৮০)

তাই সংকটময় পরিস্থিতিতে এই রাতে আমাদের আল্লাহর দিকে মনোযোগী হওয়া, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং করোনাভাইরাস থেকে হেফাজতের দোয়া করা উচিত। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারে আমার উপাসনায় বিমুখ, ওরা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৬০)

কোরআন তিলাওয়াত

নফল নামাজ, দোয়া ও ইস্তিগফারের পাশাপাশি এই রাতে আমরা কোরআন তিলাওয়াতের আমলটি গুরুত্বের সঙ্গে করতে পারি। সাহাবি আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার কিছু পরিবারবর্গ আছে। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা? উত্তরে তিনি বললেন, যারা কোরআন বেশি বেশি তিলাওয়াত করে তারা হচ্ছে পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার পরিবারবর্গ। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৫)

পরের দিন রোজা রাখা

এ প্রসঙ্গে আলী (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ১৫ শাবানের রাত (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩৮৮)

এই বর্ণনাটির সনদ দুর্বল হলেও তা গ্রহণযোগ্য। হাদিস বিশারদগণের মতে, ফাজায়েলের ক্ষেত্রে জয়িফ হাদিস আমলযোগ্য। তা ছাড়া শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার কথা সহিহ হাদিসে এসেছে এবং আইয়ামে বিজ অর্থাৎ প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার বিষয়টিও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

তাই আসুন! বিশুদ্ধ আমলের মাধ্যমে এ রাতের ফজিলত, বরকত ও মাগফিরাত অর্জনে সচেষ্ট হই। সকল প্রকার বিদআত বর্জন করি। ঘরে ইবাদত করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের এ রাতের সব ধরনের কল্যাণ দান করুন। আমিন।


48
গত বছরের শেষের দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বে মহামারি রূপ নেওয়া করোনাভাইরাস বিশ্বের ২০৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাসটির সংক্রমণে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৮২ হাজার ৭৮ জন। সারা বিশ্বে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৬৯১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন লাখ দুই হাজার ১৫০ জন। এছাড়াও করোনায় আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষই কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে যান। তবে যারা বয়স্ক, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং ফুসফুসজনিত রোগসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস বেশ ভয়ানক। সর্বশেষ আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব মতে করোনায় মৃত্যুর হার ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। তার মানে করোনাভাইরাস হওয়া মানেই মৃত্যু নয়। তাই করোনা মহামারি মোকাবিলায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সিইও ম্যাগাজিন।

জিঙ্ক :

আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হার্ট এবং চোখকে সুস্থ রাখার জন্য বেশ ভূমিকা রাখে জিঙ্ক। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, জিঙ্ক একটি প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী যা টি লিম্ফোসাইটস নামক রোগ প্রতিরোধক কোষ তৈরি করে মহামারির মতো রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। মাংস, শিমের বিচি ও ঝিনুকে জিঙ্কের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।

ভিটামিন ডি :

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম সহায়ক ভিটামিন ডি। এই ভিটামিন সকালের রোদে, ডিমের কুসুম, সালমন মাছ ও সামুদ্রিক সার্ডিন পোনা মাছে পাওয়া যায়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি রোগ হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে।

পর্যাপ্ত ঘুম :

মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম ঠিক মতো সম্পন্ন করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা না ঘুমালে যে কোনো রোগ খুব সহজেই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন রিপোর্ট বলছে, অতিরিক্ত ঘুম আমাদের অগত্যা অসুস্থ হওয়ার হাত থেকে না বাঁচালেও, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এবং ঠান্ডা বা ফ্লুতে আক্রান্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত চিনি ও মদপান পরিহার :

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অতিরিক্ত চিনি খাওয়া এবং মদপান এড়ানো গেলে খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির ৫০ গ্রাম বা ১০ চা-চামচের বেশি চিনি খাওয়া উচিত না। এতে উচ্চ রক্তচাপ, প্রদাহ, ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভারের রোগসহ হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

রসুন :

ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধে রসুন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। রসুনে অ্যালিসিন নামক একটি যৌগ থাকে যা শরীরে সালফার উৎপন্ন করে। ফলে শ্বেত রক্তকণিকার রোগ-প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া বাড়ায়।

গবেষকদের মত, খালি পেটে রসুন গ্রহণ হাইপারটেনশন ও স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। পেটে হজমের সমস্যা থাকলে তাও দূর করে। এছাড়া এটি স্ট্রেস থেকে পেটে গ্যাসের সমস্যা দূরীকরণে, পেটের অন্যান্য গণ্ডগোলজনিত অসুখ যেমন ডায়রিয়া সারাতে, শরীরের রক্ত পরিশুদ্ধ করণে ও লিভারের ফাংশন ভালো রাখতে ভূমিকা রাখরসুন পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূণ ভূমিকা রাখে।

মধু :

মধুর উপকারিতা সকলেরই জানা। এর গুণাগুণ বলে শেষ করা যাবে না। মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে ও বাইরে যেকোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও জোগান দেয়।

মধুতে আছে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। বিভিন্ন ভাইরাসের আক্রমণে বিভিন্ন রোগ প্রায়ই দেহকে দুর্বল করে দেয়। এসব ভাইরাস প্রতিরোধে মধু খুবই কার্যকর।

http://www.dainikamadershomoy.com/post

49
করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ‘রেসপন্স’ নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের জন্য আটটি করণীয় নির্দেশ করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশবিষয়ক ৬ নম্বর সিচুয়েশন রিপোর্ট গত ৭ এপ্রিল প্রকাশ করেছে।

এর সংক্ষিপ্ত কোড হলো ‘রেসপন্স’। আর : রেডি হিউম্যান রিসোর্সেস (মানবসম্পদ প্রস্তুতকরণ), ই : এক্সপান্ড ল্যাবরেটরি টেস্টিং (ল্যাব পরীক্ষার সম্প্রসারণ), এস : সাসটেইন রোবাস্ট সার্ভিলেন্স (টেকসই পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা), পি : প্রায়োরেটাইজ কেস ম্যানেজমেন্ট (রোগী ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার), ও : অরগানাইজ হেল্থ ফ্যাসিলিটিজ (স্বাস্থ্য সুবিধাদি সংগঠিত করা), এন : নেটওয়ার্ক অ্যান্ড কো-অর্ডিনেট, এস : সিকিউর ফান্ডিং অ্যান্ড সাপ্লাইজ (অর্থায়ন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা) এবং ই : এনসিওর ইনফেকশন কন্ট্রোল (সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা)।

ডব্লিউএইচওর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চের (আইইডিসিআর) ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে কেস ফার্টিলিটি (আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুহার) হলো ৯ দশমিক ৭৬ ভাগ। গত ৬ এপ্রিলের মধ্যে ৩ হাজার ৬১০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে করা হয়েছে শতকরা ১১ ভাগ। গত ৭ এপ্রিল সারাদেশ থেকে ৫৫০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে শতকরা ২৩ ভাগ। রিপোর্টে আরও বলা হয়, চৌদ্দটি ল্যাবে বর্তমানে টেস্ট চলছে।

http://www.dainikamadershomoy.com/post

50
বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার একমাস পূর্ণ হলো আজ বুধবার। গত ৮ মার্চ প্রথম এই ভাইরাসে দেশে সংক্রমণ হয়। এক মাসে দেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২১৮ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২০। আর সুস্থ হয়েছেন মাত্র ৩৩ জন।

আক্রান্ত ২১৮ জনের মধ্যে শুধু ঢাকার রয়েছেন ১২৩ জন। বাকিরা দেশের বিভিন্ন জায়গার। এত পদক্ষেপ নেওয়ার পরও ঢাকায় করোনা রোগী দিন দিন বাড়ছে কেন? বিষয়টি নিয়ে আজ দৈনিক আমাদের সময় অনলাইন’র সঙ্গে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। 

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ঢাকার কতগুলো জায়গা লকডাউন করা আছে, তার ভেতরেই হয়তো ছড়াচ্ছে। লকডাউন করে রাখা মানে লকডাউন এরিয়ার ভেতরে যারা আছে তারা হয়তো রাস্তায় বের হলো না। কিন্তু ভেতরে তো মেলামেশা করছে। ’

ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই-তিনটা বাসার আশপাশে যদি কেউ কোয়ারেন্টিনে থাকে, তার মধ্যে একজন যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে এরিয়া লকডাউন করলেও তারা তো ঘরের বাইরে যাচ্ছে, ভেতরে ছোট ছোট গলি আছে, সেই গলির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এ কারণে ভেতরে তো ছড়াবার সম্ভাবনা আছে। ’

এভাবে চলতে থাকলে ঢাকায় করোনা রোগী আরও অনেক বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে যে এলাকা লকডাউন করছে, এর ভেতরে কী হচ্ছে সেটা তো আমরা জানি না। আমরা দেখছি অনেক উদ্যোগ, অনেক কাজ হচ্ছে। কিন্তু ভেতরে সবাইকে যদি ঘরের মধ্যে না রাখতে পারি তাহলে হবে না।’

এমন পরিস্থিতিতে করণীয় কী হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘করণীয় হচ্ছে, যদি কোথাও একটা রোগী পাওয়া যায়, তাহলে তাকে আইসোলেট করতে হবে। সেই রোগীর আশপাশের কয়েকটা বাসা একেবারে হোম কোয়ারেন্টিন করে রাখতে হবে। করে দেখতে হবে তাদের মধ্যে থেকে আর কয়জন আক্রান্ত পাওয়া গেছে। তারপর যেগুলো পাওয়া যাবে, সেগুলোকে আইসোলেট করতে হবে। ’

শুধু এলাকা লকডাউন করলেই হবে না, তার ভেতরে মানুষ সঠিকভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকছে কি না, সে বিষয়টিও পূর্ণ নজরদারিতে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন ডা. নজরুল ইসলাম।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘চীনে লকডাউনের পাশাপাশি কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। আমরা কিন্তু তা করছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকায় আজ যে ৩৯ জন নতুন রোগী পাওয়া গেছে, তার পাশের কয়েকটি বাসা সম্পূর্ণভাবে হোম কোয়ারেন্টিন করতে হবে। তাদের মধ্যে থেকে নতুন কেউ শনাক্ত হলেই তাকে আইসোলেট করতে হবে। ’

আইইডিসিআরের উদ্দেশে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ঢাকায় আজ নতুন করে যে ৩৯ জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে, তাদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বা তাদের আশপাশের বাসিন্দাদের কীভাবে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তো কোনো কথা আমরা জানি না।’

করোনা মোকাবিলায় সরকারের ছুটি ঘোষণার পর প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ঢাকা ছেড়েছেন। তাদের সঙ্গে আছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ, যারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। ফাঁকা রাজধানীর অন্তত ৫২ এলাকা এখন লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও এই শহরের এত বেশি মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে কেন বা ঢাকার বাইরে করোনা রোগী কম কেন?

এ বিষয়ে অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা একটা ছোট্ট জায়গা, আর সারা বাংলাদেশ। গতকাল ডিজি সাহেব বলেছেন, প্রত্যেক উপজেলা থেকে গোটা দশেক করে স্যাম্পল নেবে। তা কি নিয়েছে? খালি বলছে, কিন্তু করছে না তো। তাহলে আমরা বুঝতে পারতাম, অন্য উপজেলাগুলোতে এগুলো আছে কি না। একটা উপজেলা থেকে হয়তো একটা স্যাম্পলও নেয়নি। তো সে উপজেলায় রোগী আছে কি না, সেটা তো বোঝা যাচ্ছে না। ’

বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার একমাস হয়ে গেছে। এই সময়ে মোট সংক্রমিত রোগী ২১৮ জন। দেশে আক্রান্তের এই সংখ্যা নিয়ে মোটেও আশ্বস্ত হতে পারছেন না এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম, যদি সত্যিকারই সেটা সঠিক সংখ্যা হতো, তাহলে তো আমরা খুশিই হতাম। কিন্তু যদি টেস্টেড না হয় কোনো অঞ্চল, এর জন্য যদি (শনাক্ত) কম হয়, তাহলে এটা ঝুকিপূর্ণ।‘

http://www.dainikamadershomoy.com/post

51
ঋতু পরিবর্তনের এই সময় অনেকেই সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে যেহেতু এখন গোটা বিশ্বে করোনা মহামারি আকার ধারন করেছে এ কারণে সামান্য সর্দি-জ্বরেই সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে সর্দি জ্বরের যা লক্ষণ, একই লক্ষণ করোনারও। এজন্য করোনা না সাধারণ জ্বর তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, প্রতি বছর গোটা বিশ্বে ৩০-৫০ লাখ মানুষ ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে ২ লাখ ৯০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজারের মৃত্যু হয় শ্বাস প্রশ্বাস সংক্রান্ত অসুখ থেকে। ঘরে থেকে বিশ্রাম নিয়ে বা ওষুধ খেয়ে এই সব সমস্যা কমে যায়। কখনও আবার ২ সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায় নিজে থেকেই। কিন্তু করোনা এমনই এক ভাইরাস যার নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ এখনও বার হয়নি। এ কারণে এটি চিন্তিত করে তুলেছে গোটা বিশ্বকে।

সাধারণ জ্বর, ঠাণ্ডা লাগার থেকে করোনা অনেক বেশি বিপজ্জনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে অজানা বিপদ আখ্যা দিয়েছে। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের বেশিরভাগের শরীরে জ্বর দেখা দেয়। কারও এর সঙ্গে থাকে শুকনো কাশি, ক্লান্তিভাব, পেশিতে ব্যথা থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশি বা সর্দির লক্ষণ দেখে বোঝা সম্ভব নয়, তা সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা না করোনাভাইরাস।  তবে করোনা হলে জ্বর বাড়তে থাকে দ্রুত। এছাড়া কাশি, ক্লান্তি, গায়ে ব্যথার পাশাপাশি কখনও কখনও বমিও হতে পারে। দু’ক্ষেত্রেই নিউমোনিয়াও দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাধারণ সর্দি, জ্বর হলে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। যদি জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। আর যদি জ্বর বেশি সময় ধরে থাকে তাহলে অবশ্যই বিষয়টাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

https://samakal.com/lifestyle/article

52
করোনা ভাইরাস নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস । বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমনটি বলেন। এ সময় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকলকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে।

এর আগে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন যে করোনা ইস্যুতে চীনের পক্ষ নেয়া বন্ধ না করলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় অর্থায়ন বন্ধ করে দেবেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস বলেন, আমরা সকল জাতির । আমরা বর্ণান্ধ।

এদিকে বুধবার আবারো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমালোচনা শোনা গেছে। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, সংস্থাটির উচিৎ কারা অগ্রাধিকার পাবে সেটি ঠিক করা। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমালোচনা করে বলেছেন, সংস্থাগুলোর কাজ করতে হবে। তাদেরকে যে কাজের জন্য রাখা হয়েছে তাদেরকে সেগুলো যথারীতি করতে হবে। এসময় মাইক পম্পেও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বিশ্ব সংস্থায় অর্থায়নের বিষয়টি পুনরায় ভেবে দেখছে।

ওয়ার্ল ও মিটারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনায় বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭শ ৬ জন। মারা গেছেন ৮২ হাজার ৮০ জন।

ইত্তেফাক/এআর

53
আজ পবিত্র শবে বরাত। ইসলামের সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় রজনীগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা এ রাতে বান্দাদের এক বড় অংশের গুনাহ মাফ করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তাই এ রাতকে লাইলাতুল বরাত বলা হয়। এই রাতে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করা যায়। পাপ-পঙ্কিলতায় জর্জরিত কোনো ব্যক্তির জন্য খাঁটি তওবা করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় এ মহিমান্বিত রজনী।

শবে বরাত মুসলমানদের কাছে রমজানের আগমনী বার্তা বয়ে আনে। শবে বরাতের মধ্য দিয়েই শুরু হয় রমজান মাসের সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এটি ভাগ্য নির্ধারণের রাতও। এ রাতে আল্লাহ পরবর্তী বছরের জন্য মানবজাতির রিজিক ও সবার ভাগ্য নির্ধারণ করেন এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সব পাপ ক্ষমা করে দেন। এ রাতে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে; যারা রিজিক অনুসন্ধানকারী, তারা প্রার্থনা করবে রিজিকের জন্য। বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করবে বিপদগ্রস্ত মানুষ। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই রাতে নফল ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকতে মুসলমানদের নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন রহমত ও দয়ার ভান্ডার। তাই মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এটি উৎসবের রাতও।


এ বছরের শবে বরাত একটি বিশেষ সংকটময় সময়ের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ঐতিহ্যগতভাবে এ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় মুসলিম সম্প্রদায়। তারা সাধ্যমতো ভালো খাবার তৈরি করে এবং প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণের মাধ্যমে এর আনন্দটুকু ভাগ করে নেয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সেই চিরাচরিত ছবিটা এবার অনেকটাই বদলে দেবে। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় মানুষ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শবে বরাতের মূল চেতনা এই উদ্বেগের মধ্যেও মানুষকে পরস্পরের প্রতি আগে যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি সহানুভূতিশীল করে তুলবে, সেটাই প্রত্যাশিত।

করোনাভাইরাসের কবল থেকে দেশ ও বিশ্বমানবতা মুক্তি পাক এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর করুণা আমাদের সবার ওপর বর্ষিত হোক, এটাই হোক এই পবিত্র রাতের প্রার্থনা। এই রাতের কল্যাণে এই সংকটকাল কেটে যাক, আগামী দিনগুলো সুন্দর ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক—এটাই আমাদের কামনা। আমরা এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ঘরে বসে ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য সব মুসলমানের প্রতি আবেদন জানাই।


https://www.prothomalo.com/opinion/article

54
বকিছুর স্রষ্টা ও নিয়ন্তা সর্বশক্তিমান সর্বমহান আল্লাহ মানুষকে সীমিত শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এরই জন্য মানুষ ফেরেশতা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যার প্রধান দুটি হলো ইচ্ছা ও চেষ্টার স্বাধীনতা। এ জন্যই মানুষের বিচার হবে পরকালে এবং ফলাফল হিসেবে থাকবে জান্নাত বা জাহান্নাম। কোরআনুল কারিমে বর্ণনায়, ‘তিনি প্রাচুর্যময়, যাঁর হাতে সব রাজত্ব, তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, যাতে তিনি পরীক্ষা করবেন তোমাদের মধ্যে কারা কাজে ভালো। তিনি পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।’ (৬৭: ১-২)।

মানুষ শয়তানের কুমন্ত্রণায়, নফসের তাড়নায় বিপথগামী ও পাপাচারী হয়। মানুষের পাপমোচনের জন্য আল্লাহ তাআলা বিশেষ কিছু দিবস ও রজনী দিয়েছেন, তন্মধ্যে অন্যতম ও বিখ্যাত হলো শবে বরাত। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত বা ‘নিসফ শাবান’।
শবে বরাত কথাটি ফারসি। শব অর্থ রাত, বরাত অর্থ মুক্তি; শবে বরাত মানে মুক্তির রজনী। আরবি হলো ‘লাইলাতুল বারাআত’।


নবী করিম (সা.) বলেছেন: ‘আল্লাহ তাআলা শাবানের মধ্যবর্তী রাতে মাখলুকাতের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)। রসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা এ রাতে বিদ্বেষ পোষণকারী ও নিরপরাধ মানুষকে হত্যাকারী ছাড়া বাকি সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।’ (মুসনাদে আহমদ, ৪: ১৭৬)। ‘যখন শাবানের মধ্য রাত আসে, তখন আল্লাহ তাআলা মাখলুকাতের প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান; মুমিনদিগকে ক্ষমা করে দেন, কাফিরদের ফিরে আসার সুযোগ দেন এবং হিংসুকদের হিংসা পরিত্যাগ ছাড়া ক্ষমা করেন না।’ (কিতাবুস সুন্নাহ,৩: ৩৮২)।

নবীজি (সা.) এ রাতে মদিনার গোরস্থান ‘জান্নাতুল বাকি’তে এসে কবরবাসীদের জন্য দোয়া ও ক্ষমাপ্রার্থনা করতেন। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এ রাতে বনি কালবের ভেড়া-বকরির পশমের পরিমাণের চেয়ে বেশিসংখ্যক গুনাহগারকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।’ (তিরমিজি: ৭৩৯)। আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একবার রসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আয়িশা! তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রসুলই ভালো জানেন। তখন নবীজি (সা.) বললেন, এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত; এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন; ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করে দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন। (শুআবুল ইমান,৩: ৩৮২)।

রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘১৪ শাবান দিবাগত রাত যখন আসে, তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত বন্দিগিতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোজা রাখো; কেননা এ দিন সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং আহ্বান করেন: কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছ কি? আমি ক্ষমা করব; কোনো রিজিকপ্রার্থী আছ কি? আমি রিজিক দেব; আছ কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে উদ্ধার করব। এভাবে ভোর পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা বান্দার বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে আহ্বান করতে থাকেন।’ (ইবনে মাজাহ: ১৩৮৪)। রসুলে আকরাম (সা.) বলেন, ‘যখন শাবানের মধ্য দিবস আসে, তখন তোমরা রাতে ইবাদাত করো ও দিনে রোজা রাখো।’ (ইবনে মাজাহ)।

শাবান মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি। রমজানের পরেই শাবান মাস ইবাদাতের উত্তম সময়। শাবান মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখলে আইয়ামে বিদের রোজার সঙ্গে শবে বরাতের রোজার পুণ্য হয়ে যাবে। এ ছাড়া মাসের শুরুতে, মাঝে ও শেষে রোজা রাখা ফজিলতপূর্ণ আমল।

অধিক ইবাদাতের মাধ্যমে রমজানের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা এবং এই দোয়া করাও সুন্নাত আমল, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজব ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগ না রমাদান।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করুন এবং রমজান আমাদের নসিব করুন।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৫৯, বায়হাকি,৩: ৩৭৫)।

এ দিবস–রজনীর বিশেষ আমল হলো রোজা রাখা, নামাজ পড়া, নামাজে কিরাত ও রুকু সিজদা দীর্ঘ করা; কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করা; দুরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া; ইস্তিগফার অধিক পরিমাণে করা; দোয়া কালাম, তাসবিহ তাহলিল, জিকির আজকার ইত্যাদিতে মশগুল থাকা; নিজের জন্য, পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও সব মুমিন-মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং দেশ-জাতির ও বিশ্ববাসীর কল্যাণ ও হেফাজতের জন্য দোয়া করা।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম–এর সহকারী অধ্যাপক

smusmangonee@gmail,com

55
যাঁদের করোনা হয়েছে নিশ্চিত বা যাঁদের হয়েছে বলে সন্দেহ, ঘরে কীভাবে তাঁদের খেয়াল রাখবেন পরিচর্যাকারী বা কেয়ার গিভাররা, সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ থাকছে এখানে।

● দেখতে হবে আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে যথেষ্ট বিশ্রাম পান, পুষ্টিকর খাবার খান, প্রচুর পানি আর তরল পান করেন।


● একই ঘরে যখন সেবা কাজে, তখন মেডিকেল মাস্ক পরবেন দুজনে। হাত দিয়ে মাস্ক ধরবেন না। মুখে হাত দেবেন না। কাজ শেষে মাস্ক ফেলে দেবেন ময়লার ঝুড়িতে।

● বারবার হাত ধোবেন সাবান পানি দিয়ে বা স্যানিটাইজার দিয়ে: অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে বা এর চারপাশের সংস্পর্শে এলে খাবার তৈরির আগে, খাবার খেতে বসার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর।

● অসুস্থ মানুষের জন্য আলাদা বাসনপত্র, তোয়ালে, বিছানার চাদর—এসব জিনিস সাবান দিয়ে ধুতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তি যা যা হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন, সেগুলো বারবার জীবাণু শোধন করুন।

● অসুস্থ ব্যক্তির অবস্থা শোচনীয় হলে বা শ্বাসকষ্ট হলে স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে ফোন করুন।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

56

করোনার সঙ্গে লড়ার ৪ উপায় বাতলে দিলেন বিশেষজ্ঞ :

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে এর মধ্যে ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। করোনাভাইরাস ঠেকানোর কৌশল নিয়ে কাজ করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। স্কটল্যান্ডের এডিনবরা ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথের চেয়ারম্যান অধ্যাপক দেবী শ্রীধর করোনাভাইরাস সমস্যা মোকাবিলায় চারটি উপায়ের কথা বলেছেন।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক সহযোগিতা, একযোগে লকডাউন ও যোগাযোগ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া ও চিকিৎসা। এ পদ্ধতিগুলো যথাযথ প্রয়োগ করা গেলে তা মহামারি ঠেকানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলেই মনে করছেন দেবী শ্রীধর। দ্য গার্ডিয়ান–এ লেখা এক মতামতে ওই বিশেষ চারটি পদ্ধতি তুলে ধরেছেন তিনি।


দেবী শ্রীধরের ভাষ্য, গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে নতুন ভাইরাস হিসেবে একটি ভাইরাসের উৎপত্তির পর তা দ্রুত শনাক্ত করে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় দেশটি। ভাইরাস নির্মূলের জন্য অভূতপূর্ব অভিযান চালানোর পাশাপাশি দেশ থেকে যাতে কেউ বের হতে না পারে, এর চেষ্টা চালায়। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, হংকং ও সিঙ্গাপুর তাদের দেশেও ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছিল।

Lifebuoy Soap
এ দেশগুলোতে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সংক্রমিত ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করা, তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে পৃথক করে ফেলার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এতে দেখা যায় পরীক্ষা, শনাক্ত ও পৃথককরণ—এ তিনটি কৌশল ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যায়। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে দেখা দেয়।

সার্স-কোভ-২ নামের নভেল করোনাভাইরাসটি চীন সরকারের জনস্বাস্থ্য হস্তক্ষেপ রক্ষাকৌশল থেকে বেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক দেশের সরকার প্রাথমিক ব্যবস্থা নিতে বিভ্রান্ত হওয়ায় ভাইরাসটি কমিউনিটি পর্যায়ে নীরবে ছড়িয় গেছে। অনেকে এতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অনেকেই করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারা গেছেন।

এডিনবরা ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞের মতে, ভাইরাসটি লক্ষণীয়ভাবে বিপজ্জনক। এটি ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি যেসব ব্যক্তির মধ্যেও কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ নেই, তার মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।

সর্বশেষ তথ্য থেকে দেখা যায়, সংক্রমিত প্রায় ৫ শতাংশ লোককে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে আবার ৩০ শতাংশকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হয়। এ ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর হার ০.৬ থেকে ১.৪ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের শিকার ব্যক্তির সংখ্যা ১০ লাখের বেশি পার হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৪ লাখের বেশি আক্রান্ত ও ১৩ হাজারের বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর হিসাবে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনে ৮২ হাজারের মতো সংক্রমণ ও তিন হাজারের মতো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে বিশ্বজুড়ে মোট সংক্রমণের অর্ধেকের বেশি ঘটেছে ইউরোপে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে অবশ্য সংক্রমণের ঘটনা কিছুটা কম। তবে সেনেগাল, লাইবেরিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো দেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগ্রাসী প্রস্তুতি দেখিয়েছে। কারণ, তাদের এ ধরনের ভাইরাস মোকাবিলায় সম্পদ ও পরীক্ষার সামর্থ্য কম। অন্যদিকে ব্রাজিল, ভারত ও মেক্সিকোর মতো দেশ কী ঘটবে, তা অস্বীকার করে।

দেবী শ্রীধর তাঁর মতামতে লিখেছেন, এখন পর্যন্ত আমরা জানি না যে এ ভাইরাসে কী পরিমাণ জনসংখ্যা ইতিমধ্যে উন্মুক্ত হয়ে গেছে। নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিবডি পরীক্ষা ছাড়া কারও মধ্যে ভাইরাস রয়েছে কি না বা কেউ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করেছেন কি না, তা জানা সম্ভব নয়। কোনো উপসর্গ দেখানো ছাড়াই কতজন এ ভাইরাস বহন করছে, তা–ও পরিষ্কার নয়। এ ছাড়া শিশুদের সংক্রমণের ভূমিকা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।

করোনা প্রতিরোধ নিয়ে শ্রীধরের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে গৃহীত মডেল ও বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া নিয়ে চারটি সম্ভাব্য প্রতিরোধের বিষয়টি সামনে তুলে আনা যেতে পারে। প্রথমটি হচ্ছে, বিভিন্ন দেশের সরকারকে একত্রে এ ভাইরাস নির্মূলের একটি পরিকল্পনা নিয়ে একযোগে পরিকল্পনা করতে হবে। দ্রুত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার মাধ্যমে এটি দূর করার পরিকল্পনা করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব দেশ তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিতে রাজি হওয়ার পাশাপাশি ভাইরাস বাহকদের শনাক্তে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়ে সংক্রমণ রোধ করতে হবে। রোগের একাধিক তরঙ্গ যাতে আঘাত না করে, সে জন্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের উদাহরণ টানা যায়। দেশটি তাদের সীমান্ত বন্ধ করে লকডাউন দিয়েছে। এরপর কমিউনিটি পর্যায়ে পরীক্ষা করে ভাইরাস নির্মূলের চেষ্টা করছে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি হতে পারে ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টিকে দেরি করিয়ে দেওয়া। যেহেতু বিশ্বজুড়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে এবং কিছুদিন পরেই হয়তো তা পাওয়া যাবে। সে পর্যন্ত ভাইরাসের বিস্তার যতটা সম্ভব সীমিত রাখতে হবে। ইতিমধ্যে অনেক ভ্যাকসিন আশা দেখাচ্ছে। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে হয়তো ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে লকডাউনসহ চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিন সপ্তাহ আগ থেকেই যথেষ্ট বেড, ভেন্টিলেটর ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত রাখতে হবে। এসব ব্যবস্থার ভিত্তিতে সরকার কোয়ারেন্টিন–ব্যবস্থা শিথিল করবে নাকি বাড়াবে, সে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। লকডাউন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি দিতে হবে। বারবার লকডাউন দিয়ে বেকারত্ব বৃদ্ধি, দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি ও সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে। দরিদ্র দেশগুলোতে অপুষ্টি, সুপেয় পানির অভাবে সৃষ্ট রোগে অনেকে মারা যেতে পারে।

তৃতীয় সম্ভাব্য উপায় হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো যত বেশি সম্ভব করোনাবাহী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে পৃথক করে ফেলা। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে রাখা। এ জন্য বিশাল পরিকল্পনা, দ্রুত বাস্তবায়ন ও সংস্পর্শ শনাক্তকারী অ্যাপ প্রয়োজন। এর বাইরে হাজারো স্বেচ্ছাসেবী কাজে লাগিয়ে নমুনা সংগ্রহ, ফলপ্রক্রিয়া ও কোয়ারেন্টিন নজরদারিতে সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পদক্ষেপ করে ভাইরাস বিস্তার ঠেকাতে পারলে স্বাস্থ্যসেবা সিস্টেমের ওপর চাপ কমে।

চতুর্থ উপায় হিসেবে দ্রুত একটি কার্যকর টিকার অনুপস্থিতিতে করোনার লক্ষণগুলোর চিকিৎসা করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর্মীরা অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি পরিচালনা করতে পারে, যাতে রোগীর অবস্থার অবনতি না হয়। এর চেয়েও ভালো সমাধান হতে পারে কোভিড-১৯ শুরু হওয়া রোধ করতে প্রোফিল্যাকটিক থেরাপি ব্যবহার করা। এ ছাড়া সংক্রমণের বিষয়টি শনাক্ত করতে দ্রুত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যেসব দেশে যথেষ্ট সম্পদ আছে, তাদের জন্য এটি টেকসই হতে পারে। তবে দরিদ্র দেশগুলোতে এটা করা কঠিন।

তবে দেবী শ্রীধর বলছেন, করোনাভাইরাস ঠেকানোর সহজ কোনো সমাধান নেই। আগামী দিনগুলোতে জনস্বাস্থ্য, সমাজ ও অর্থনীতির স্বার্থের মধ্যে একটি নাজুক ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ রাখতে হবে, যাতে সরকার একে অপরের ওপর আগের চেয়ে বেশি নির্ভরশীল থাকবে। এ লড়াইয়ের অর্ধেকটা হবে ভাইরাসটির চিকিৎসার সরঞ্জাম উন্নয়নের যেখানে ভ্যাকসিন, অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি এবং দ্রুত পরীক্ষা পদ্ধতির বিষয়গুলো থাকবে আর বাকি অর্ধেক লড়াই হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডোজ উৎপাদন, এগুলো ন্যায্য ও সমতার ভিত্তিতে বিতরণ, যাতে পৃথিবীর সমগ্র অঞ্চলে ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছাতে পারে।


https://www.prothomalo.com/international/article

57
অনলাইন রিপোর্টার ॥ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের বহনে বিশেষ হেলিকপ্টার প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। এরই মধ্যে কীভাবে রোগী বহন করা হবে, হেলিকপ্টারের ভিতরে কী কী ব্যবস্থা থাকবে- এসব বিষয়ে সেরে নেওয়া হয়েছে মহড়া। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি জহুরুল হক এর এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এএসএম ফকরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে ঘাঁটি জহুরুল হক এর গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মাহমুদ মান্নাফী বলেন, করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা কাজ করে চলেছি। দেশের এ দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে দেশের দূরদূরান্তের রোগীদের পাশে সক্রিয় থেকে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

AW-139 মডেলের একটি হেলিকপ্টারের অর্গানিক স্ট্রেচারকে মোডিফাই করে করোনা রোগী বহনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রথমে রোগীকে স্ট্রেচারে রেখে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেওয়া হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে কাভারের জিপারটি ক্লোজ করে দেওয়া হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি হেলিকপ্টারের বাইরে একটি নির্ধারিত জায়গায় করা হবে যাকে হ্যান্ডলিং রুম বলা হয়। প্রক্রিয়াটি সম্পন্নের পর অক্সিজেনের সিলিন্ডারসহ মেডিক্যাল ট্রলি ব্যবহার করে রোগীকে হেলিকপ্টারে নিয়ে যাওয়া হবে।

গোটা প্রস্তুতি এমনভাবে সারা হয়েছে যেন আক্রান্ত ব্যক্তি সর্বাবস্থায় সুস্থ থাকে এবং স্থানান্তর কার্যক্রমে নিয়োজিতরাও যেন থাকেন সুরক্ষিত, নিরাপদ। বিমানবাহিনীর অন্য হেলিকপ্টার ও পরিবহন প্লেনেও এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা সংযোজনের প্রক্রিয়া চলমান বলে জানা যায়।

http://www.dailyjanakantha.com/details/article

58
মহান আল্লাহপাক আল কোরআন নাজিল হওয়া বা অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে দু’টি ক্রিয়াপদ ব্যবহার করেছেন। যথা- ক. নাজ্জালা এবং খ. আনযালা। এবার এই দু’টি ক্রিয়াপদের ব্যবহারিক দিকের প্রতি নজর দেয়া যাক। ১. ‘নাজ্জালা’ ক্রিয়াপদটির অর্থ হলো, বারে বারে নাজিল করা, অল্প অল্প করে নাজিল করা। ষোলআনা কোরআন দীর্ঘ ২৩ বছরে (মক্কায় ১৩ বছর এবং মদিনায় ১০ বছর) মক্কা এবং মদিনায় অল্প অল্প করে আল্লাহপাকের পক্ষ হতে নাজিল করা হয়। দশম হিজরির বিদায় হজের দিন আরাফাতের মাঠে সর্বশেষ আয়াত ‘আল ইয়াওমা আকমালতু লাকুম দীনাকুম... নাজিল হয়। এই ‘নাজ্জালা’ ক্রিয়াটি চারটি রূপে আল কোরআনে আল্লাহপাক ব্যবহার করেছেন। যেমন- ক. ‘নাজ্জালা’ রূপে ১২ বার। খ. ‘নাজ্জালনা’ রূপে ১০ বার। গ. ‘নাজ্জালনাহু’ রূপে ২ বার। ঘ. ‘নাজ্জালাহু’ রূপে ২ বার।

২. ‘আনযালা’ ক্রিয়াপদটির অর্থ হলো একসাথে ষোলআনা কোরআন নাজিল করা, একসাথে বৃষ্টি নাজিল করা, একসাথে কিতাব নাজিল করা, একসাথে ফেরেশতা নাজিল করা ইত্যাদি। লক্ষ করলে দেখা যায় যে, আল্লাহপাক একসাথে ষোলআনা কোরআন ২ বার নাজিল করেছেন। যথা ক. আল কোরআনের ৯৭ নং সূরা আল কদরে ইরশাদ হয়েছে, ‘ইন্না আনজালনাহু ফী লাইলাতিল কাদরি’, অর্থাৎ আমি তা (আল কোরআন) মহিমান্বিত রজনীতে নাজিল করেছি। আর মহিমান্বিত রজনী সম্বন্ধে তুমি কী জানো?

মহিমান্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাত্রিতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিব্রাঈল আ.) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে অবতীর্ণ হয়। শান্তিই শান্তি সেই রজনী ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত। মহান রাব্বুল আলামীন ‘আনযালা’ ক্রিয়াটি ৭টি রূপে আল কোরআনে ব্যবহার করেছেন। যথা- ক. ‘আনযালা’ রূপে ৬৩ বার। খ. ‘আনযালতু’ রূপে ৩ বার। গ. ‘আনযালতুমুহু রূপে ১ বার। ঘ. ‘আনযালনা’ রূপে ৪০ বার। ঙ. ‘আনযালনাহু’ রূপে ১৪ বার। চ. ‘আনযালনাহা’ রূপে ১ বার। ছ. ‘আনযালাহু’ রূপে ৩ বার। মোটকথা, কদরের রাত্রিতে কোরআনকে ‘লাওহে মাহফুজ’ হতে দুনিয়ার প্রথম আসমানে একসাথে নাজিল করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ আমরা জানি, রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর কোনো একটিকে লাইলাতুল কদর হিসেবে আল্লাহপাক মঞ্জুর করেছেন।

সে রাতটি ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের যে কোনো একটি হতে পারে। এ জন্যই পিয়ারা নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে কদর রাত তালাশ করো।’ এতদপ্রসঙ্গে আল কোরআনের ৪৪ নং সূরা দুখানের ৩ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তো তা (কোরআন) এক মুবারক রজনীতে অবতীর্ণ করেছি। আমি তো সতর্ককারী।’

এ পর্যায়ে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এই যে, ষোলআনা কোরআন একসাথে নাজিলের ব্যাপারে আল্লাহপাক দু’টি রজনীর কথা উল্লেখ করেছেন। এর একটি হলো ‘লাইলাতুল কদর’ মহিমান্বিত রজনী এবং দ্বিতীয়টি হলো, ‘লাইলাতুন মুবারাকাতুন’ অর্থাৎ বরকতময় রজনী। তাহলে কি এই উভয় রজনী এক ও অভিন্ন?

এ প্রশ্নের উত্তরে তত্ত¡জ্ঞানীরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। তাদের এক দলের অভিমত হলো এই যে, বর্ণিত দু’টি রাত অর্থাৎ লাইলাতুল কদর ও লাইলাতুন মুবারাকাতুন এক ও অভিন্ন। কিন্তু দ্বিতীয় দলের অভিমত হলো এই যে, উল্লিখিত দু’টি রাত ভিন্ন ভিন্ন। লাইলাতুন মুবারাকাতুন হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত।

হাদিস শরীফে যে রাতটিকে শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যাকে আরবিতে লাইলাতুন মুবারাকাতুন বা লাইলাতুল বারাআত বলা হয় এবং ফার্সি, উর্দু ও বাংলা ভাষায় শবে বরাত বা সৌভাগ্য রজনী বলা হয়। এই রাতে মহান আল্লাহপাক স্বীয় এলেম হতে ষোলআনা কোরআনকে ‘লাওহে মাহফুজে’ বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ করেছেন। এ কথারই সাক্ষ্য পাওয়া যায় আল কোরআনের ৮৫ নং সূরা বুরুজের ২১ ও ২২ নং আয়াতে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘বস্তুত তা সম্মানিত কোরআন, যা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ আছে।’ আল্লাহপাক ষোলআনা কোরআনকে সংরক্ষিত ফলকে সংরক্ষণ করেছিলেন শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাতে অর্থাৎ ‘লাইলাতুন মুবারাকাতুন’-এ। যা মুক্তি লাভ ও সৌভাগ্যের রাত বলে সুপরিচিত।

উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, ‘লাইলাতুন মুবারাকাতুন’-এ আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত স্বীয় এলেম হতে ষোলআনা কোরআনকে একসঙ্গে ‘লাওহে মাহফুজে’ লিপিবদ্ধ করেছেন। দ্বিতীয়বার লাওহে মাহফুজ হতে মাহে রমজানের কোনো এক কদরের রাতে ষোলআনা কোরআনকে প্রথম আকাশের বাইতুল ইজ্জতে নাজিল করেছেন। বাইতুল ইজ্জত হতে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কোরআনুল কারিম মক্কা এবং মদিনায় সূরা বা অল্প অল্প করে নাজিল হয়েছে। আল কোরআনে ব্যবহৃত ‘নাজ্জালা এবং ‘আনযালা’ ক্রিয়াপদদ্বয় এ কথার সাক্ষীই বহন করে।


59
করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যে কী পরিমাণ ক্ষতি ও ধ্বংসের হুমকির মুখে তা এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে মানুষ টের পাবে। মানব সভ্যতার সকল স্পন্দন থেমে যাচ্ছে প্রায়। ভয়ে কাঁপছে গোটা মানববিশ্ব। কাঁদছে মানুষ। তারা বড়ই অসহায়।

চেষ্টা থেমে নেই, কিন্তু কিছু দৃশ্য বড়ই মর্মান্তিক। একজন ফ্রেঞ্চ ও একজন ইটালিয়ান তাদের বিদায়ী বার্তায় যে অসহায়ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন, তা বিশ্ববাসীর জন্য কষ্টের পয়গাম বয়ে এনেছে। এশিয়ায় যেমন তেমন, ইউরোপে এর প্রভাব বেশি পড়ছে। আমেরিকা দীর্ঘ সংকট মোকাবেলার আগাম বার্তা প্রচার করেছে। নেতৃবৃন্দ অনেকেই আক্রান্ত কিংবা আক্রমণের শঙ্কায়। তারা বিশেষ সুরক্ষা নিয়েছেন। বহু ধনকুবের বিনোদন কেন্দ্র কিংবা নিরাপদ দ্বীপে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজস্ব বিমান নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় তারা ছুটে বেড়াচ্ছেন। খুঁজছেন এমন জায়গা, যেখানে করোনা ভাইরাস পৌঁছেনি। কিন্তু নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। বহু প্রমোদতরী এ ভাইরাসের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও চিকিৎসাসেবায় আদর্শ মহানগরেও করোনার দাপট। তুলনামূলক অনুন্নত এলাকা বাদ দিয়ে এটি অভাবনীয় জায়গাতে পৌঁছে যাচ্ছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এ ভাইরাস এ লেখা তৈরী করা পর্যন্ত প্রায় তিনশতবার নিজের জিন ও চরিত্র বদল করেছে। বারবার আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে সে আক্রমণ করছে।

এটি কৃত্রিম উপায়ে তৈরি বা দুই শত্রæ দেশ পরস্পরকে ঘায়েল করার জন্য বানিয়েছে, এ ধরণের কথা বলাবলি হলেও বিষয়টি যে, মানবজাতির জন্য হুমকির এতে কারও সন্দেহ নেই। নিঃসন্দেহে মানুষের অক্ষমতা ও চরম দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে এ ভাইরাসের আক্রমণে। কানাডার নেতা জাস্টিন ট্রুডো জাতির উদ্দেশে যে মানবিক ও কল্যাণমুখী ভাষণ দিয়েছেন, তা বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করেছে। কাতারের আমীর, ওমানের বাদশাহ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জাতির জন্য যে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছেন সেসবও অনুসরণীয়।

এ পর্যায়ে এমন অপরিচিত রোগ যাকে দুনিয়ার মানুষ সর্বসম্মতিক্রমে মহামারী আখ্যা দিয়েছে, এতে আক্রান্ত হওয়ার আগে আল্লাহতায়ালার কাছে প্রত্যেকে নিজ নিজ অন্যায়, পাপ ও গুনাহ থেকে তওবা করা কর্তব্য। নবী করিম (সা.) বিশেষভাবে দোয়া করেছেন এবং উম্মতকে শিখিয়েছেন। ‘হে আল্লাহ আপনি আমাদের পানাহ দিন, শ্বেতী, মানসিক বিকার, কুষ্ঠ এবং সবধরণের মারাত্মক ব্যাধি থেকে।’ তিনি বলেছেন, কেউ যদি এই দোয়াটি করে, তাহলে সৃষ্টির কিছুই তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। ‘আল্লাহর নাম নিচ্ছি, যার নাম নিলে আসমান ও জমিনের কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। নিশ্চয় আল্লাহ সব শোনেন ও জানেন।’

এরপর সকাল সন্ধ্যা ‘আয়াতুল কুরসী’ পাঠসহ ‘সূরায়ে ফাতেহা’ ও ‘চার কুল’ বিশেষ করে ‘ফালাক ও নাস’ পড়ে নিলে বান্দাহ নিরাপদ হয়ে যায়। এ দোয়া সূরা পড়ে হাতে ফুক দিয়ে নিজের সারা শরীরে মাসেহ করা এবং নিজের শিশুদের দেহে ফুক দেয়া ইসলামী পদ্ধতিতে রয়েছে। এছাড়াও আল্লাহর নবী বলেছেন, যে ব্যক্তি সঠিক সময়ে ফজর পড়ে সারাদিন সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে। যে এশা পড়ে সে সারা রাত আল্লাহর জিম্মায় থাকে। আল্লাহ আমাদের সব ধরণের আসমানী জমিনী বালা থেকে হেফাজত করুন। গোটা মানবজাতিকে ঈমান, তওবা ও উত্তম জিন্দেগী দান করুন।


60
বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত পৃথিবীর প্রায় সব দেশ। চীন, ইতালি, স্পেন, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। প্রতিদিনই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। কিছুতেই এ ভাইরাস প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসের এই প্রকোপকে ‘বিশ্ব মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ভয়াবহ এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে অসংখ্য উপায় ও উপকরণের শরণাপন্ন হচ্ছেন গবেষকরা। এখনো এর কোন ঔষধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। করোনা গবেষকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কোয়ারেন্টাইন ছাড়া বিকল্প আর কিছুই নেই। মরণঘাতী এই ভাইরাস থেকে বাঁচত হলে সবাইকে অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। বর্তমান বিশ্বে কোয়ারেন্টাইন একটি বহুল উচ্চারিত, ব্যবহৃত ও আলোচিত শব্দ। সে

কারণে কোয়ারেন্টাইন কী, কে এর উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা, কে এই কোয়ারেন্টাইনের জনক -এ বিষয়ে মানুষ আগ্রহ নিয়ে জানতে চায়।

কোয়ারেন্টাইন ( Quarantine) হলো- যে সময় পর্যন্ত রোগ সংক্রামণ আশংকায় পৃথক রাখা হয়। রোগ সংক্রামণ প্রতিরোধ কল্পে মানুষ বা প্রাণীকে আলাদা বা আটক রাখার ব্যবস্থা হলো কোয়ারেন্টাইন। এর উদ্দেশ্য হলো রোগ সংক্রামণের আশংকায় মানুষের মেলামেশা নিষিদ্ধ করা, সঙ্গরোধ করা, স্বাভাবিক সম্পর্ক বা যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করা।

এই কোয়ারেন্টাইন এর প্রথম উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা হলেন আমাদের বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)। আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) মহামারীর সময় কোয়ারেন্টাইনের কথা বলেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহামারির সময় মানুষের করণীয় সম্পর্কে বলেন, " কোন এলাকায় তোমরা মহামারির সংবাদ শ্রবণ করলে সেখানে প্রবেশ করবে না। আর কোন এলাকায় থাকা অবস্থায় যদি মহামারি শুরু হয়, তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না। ( বুখারী হা-৫২৮৭ ও মুসলিম হা-৪১১১)।
হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, " যে কোন ব্যক্তি মহামারির সময় নিজেকে ঘরে রুদ্ধ রাখবে ধৈর্য্য সহকারে, সওয়াবের আশায় এবং এই বিশ্বাস নিয়ে যে, আল্লাহ তার ভাগ্যে যা লিখেছেন এর বাইরে কিছুই ঘটবে না, - সে শহীদের মর্যাদা ও বিনিময় লাভ করবে। "

বুখারী শরীফের শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি এই হাদীসের ব্যাখ্যায় লেখেন, ধৈর্য্য সহকারে সওয়াবের আশায় ও আল্লাহর উপর ভরসা - এই ৩ টি বিষয় ধারণ করে যে ব্যক্তি মহামারির সময় ঘরে থাকবে, তিনি শহীদের মর্যাদা পাবেন। মহামারিতে তিনি মারা যান অথবা তিনি নাইবা মারা যান। "
( ফতহুল বারী শরহে বুখারী,১৯৪/১০)। মহামারী সম্পর্কে মহানবী (সঃ) এর এসব বাণীই হলো আধুনিক কোয়ারেন্টাইন এর উৎস ।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও সংক্রামক রোগ গবেষণার সাথে জড়িত অনেকেই রোগ- ব্যাধী ও মহামারির ক্ষেত্রে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নানা অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে মহানবীর ( সঃ)বাণী - হাদীস মহৌষধ হিসেবে কাজ করছে।

সম্প্রতি মার্কিন তরুণ গবেষক ড. ক্রেগ কন্সিডাইন করোনা থেকে বাঁচতে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি আমেরিকার টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির একজন গবেষক হিসেবে কর্মরত। খবর দ্য নিউজ উইকের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমিউনোলজিস্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অ্যান্থনি ফসি এবং মেডিক্যাল রিপোর্টার ডাক্তার সঞ্জয় গুপ্তের মতো বিজ্ঞ চিকিৎসকরা করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলেছেন।

একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে একাকী জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। তারা বলেন,

আজ থেকে প্রায় ১৪শ’ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মাদই (সা.) পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ‘কোয়ারেন্টাইন’-এর ধারণা দেন। তাঁর সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনও সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ছিল না।


Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 17