Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - yousuf miah

Pages: 1 ... 3 4 [5] 6 7 ... 12
61
Skin / 6 ways to say goodbye domestic ghamacike
« on: April 20, 2016, 09:50:24 AM »
(প্রিয়.কম)- গরমে ত্বকের যে সমস্যাটায় কম বেশি সবাইকে ভুগতে হয়, তা হল ঘামাচি। ঘাড়, পিঠ, গলা, হাত, মুখ সহ শরীরের নানা স্থানে লাল ছোট ছোট ঘামাচি দেখা দেয়। অস্বস্তিকর এই ঘামাচি অনেক সময় চুলকানির উদ্ভব করে যা থেকে শরীরের নানা স্থানে লালচে ভাব দেখা দিয়ে থাকে। অসহ্যকর এই ঘামচি চিরতরে দূর করুন সহজ কিছু ঘরোয়া উপায়ে।
১। চন্দনের গুঁড়ো
সমপরিমাণে চন্দনের গুঁড়ো এবং গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই পেস্টটি ঘামাচির স্থানে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে দুইবার ব্যবহার করুন। এছাড়া দুই টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়ো এবং ধনিয়া গুঁড়োর সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। ঘামাচির উপরে এই পেস্টটি লাগিয়ে দিন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে দিন। এটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। চন্দন ঘামাচির দূর করে শরীরে একটি ঠান্ডা ভাব দেয়।
২। ওটমিল
ঘামচির র্যাহশ দূর করতে বেশ জনপ্রিয় প্রাচীন একটি উপায় হল ওটমিল। এর অ্যান্টি ইরিটেটিং, অ্যান্টি ইনফ্লামেনটরি উপাদান ত্বকে আরাম দিয়ে থাকে। ঠান্ডা পানির মধ্যে এক কাপ ওটমিলের গুঁড়ো ভাল করে মিশিয়ে নিন। এইবার এই পানিতে ২০-৩০ মিনিট ঘামাচির স্থানে ডুবিয়ে রাখুন। এটি সপ্তাহে দুইবার করুন।
৩। বেসন
বেসন এবং পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ঘামাচির স্থানে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলকানি দূর করে ঘামাচি দূর করে দেবে।
৪। ঠান্ডার সেঁক
বরফ একটি কাপড়ে পেঁচিয়ে নিন। এবার এটি ঘামাচির স্থানে ৫ থেকে ১০ মিনিট সেঁক দিন। এটি ঘামাচি মেরে ফেলে লাল হওয়া কমিয়ে দিয়ে থাকে। এছাড়া একটি সুতির কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে ঘামাচির স্থানে ৫ থেকে ১০ মিনিট রাখুন। এটি দিনে ৩ থেকে ৪ বার করুন।
৫। মুলতানি মাটি
পাঁচ টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সাথে দুই অথবা তিন টেবিল চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ঘামাচির স্থানে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রতিদিন ব্যবহার করুন।
৬। নিম
এক মুঠো নিম পাতা গুঁড়ো করে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি ঘামাচির স্থানে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন। এছাড়া এক মুঠো নিমের পাতা দুই কাপ পানিতে ২০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে এই পানিতে সুতির কাপড় ভিজিয়ে এটি ঘামাচির স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এটি দিনে চার থেকে পাঁচবার করুন।

62
Quran / Manners of reciting the Quran Kareem
« on: April 16, 2016, 04:08:31 PM »
পৃথিবীর বুকে মানুষের জন্য আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হচ্ছে কোরআনে কারিম। কোরআন তেলাওয়াত শোনার মানে হলো শ্রেষ্ঠ বাণী শোনা। কোরআনে কারিমের তেলাওয়াত স্বতন্ত্র ইবাদত হিসেবে গণ্য। এর ফজিলত অনেক বেশি।

তবে কোরআন তেলাওয়াত করাই উম্মতের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয় বরং তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার আদেশ-নিষেধগুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং সে অনুযায়ী আমল করা। কোরঅান তেলাওয়াত করে ক্বারি হিসেবে খ্যাতি লাভ করার উদ্দেশ্যে কোরআন তেলাওয়াত করা ঠিক নয়। অনেকে আবার দুনিয়ার স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষ্যে কোরআন তেলাওয়াত করে। এ ধরনের তেলাওয়াতে কোনো কল্যাণ নেই। তবে, নিজ জীবনে কোরআন বাস্তবায়নের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার জন্য তেলাওয়াত করাটা একটা ক্রমধারা।

কোরআনে কারিম তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে শিষ্টতাপূর্ণ কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। এগুলোর কোনোটা বাহ্যিক আবার কোনো কোনোটা অভ্যন্তরীণ। কোরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো অনুসরণ করা জরুরি। 

বাহ্যিক সৌন্দর্যের মাঝে রয়েছে তেলাওয়াতের জন্য অবস্থান নির্ণয় করা। কোরআন সর্বাবস্থায় তেলাওয়াত করা যায়। দাঁড়িয়ে, বসে কিংবা শুয়েও কোরআন পড়া যায়।

এই যে আমরা কোরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে নিয়ম-শৃঙ্খলার কথা বললাম- কোরআনের আলোকে সেদিকে একটু দৃষ্টি দেওয়া যাক। সূরা ওয়াকিয়ার ৭৯ নম্বর আয়াতে কোরআনের পবিত্রতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইরশাদ করা হয়েছে, ‘পবিত্র সত্তা ছাড়া কেউ এ কোরআন স্পর্শ করতে পারে না।’

এ আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন, ‘পাক-পবিত্র নয় এমন কোনো ব্যক্তি যেন তা স্পর্শ না করে।’ তার মানে অজু গোসল ছাড়া কোরআন স্পর্শ করা ঠিক নয়।

কোরআন তেলাওয়াত করার সময় পবিত্র থাকা শরিয়তের বিধান মতে মোস্তাহাব। অনেক আলেম তো এটাও বলেছেন যে, কোরআন তেলাওয়াতের আগে মুখটাকে পরিষ্কার করো। কেননা মানুষের মুখ হলো কোরআনের পথ। তার মানে কোরআনের আধ্যাত্মিক গুণে যিনি সমৃদ্ধ হতে চান তার উচিত আত্মিক পবিত্রতা এবং আন্তরিক বিশ্বাস স্থাপন করা।

কোরআন তেলাওয়াতের শুরুতে এস্তেআজা বাক্যটি পড়ে নিতে হবে। এস্তেআজা বলা হয়, আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম বলাকে। এর উদ্দেশ্য হলো, কোরআন তেলাওয়াতের শুরুতে আল্লাহতায়ালার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। এ প্রসঙ্গে সূরা নামলের ৯৮ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন কোরআন পাঠ করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে।’

এরপর ‘তাসমিয়া’ মানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়ে কোরআন তেলাওয়াত শুরু করবে। কোরআন তেলাওয়াতের শুরুতে এস্তেআজার মাধ্যমে গুনাহের দরজাগুলো বন্ধ করে রেখে তাসমিয়ার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যের দ্বার উন্মোচন করা হয়।

কোরআনে কারিম নীরবে শোনাও তেলাওয়াতের একটি শিষ্টাচার। সূরা আরাফের ২০৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যখন কোরআন তোমাদের সামনে পড়া হয়, তা মনোযোগ সহকারে শোনো এবং নীরব থাকো, হয়তো তোমাদের প্রতিও রহমত বর্ষিত হবে।’

এ আয়াতের দাবি অনুযায়ী কোরআন তেলাওয়াতের সময় নীরবে আল্লাহর ওহির মর্যাদাময় বাণী মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে। বলা হয়ে থাকে, কোরআন তেলাওয়াত করার সময় আল্লাহতায়ালা তেলাওয়াতকারীর সঙ্গে কথা বলেন। সেজন্য খুব ভালোভাবে শোনা উচিত এবং শুনে মনোযোগের সঙ্গে আয়াতের বক্তব্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করা উচিত। যাতে করে মহান আল্লাহতায়ালা ঐশী বাণী থেকে বেশি করে উপকৃত হওয়া যায়।

‘তেলাওয়াত’ এমন একটি শব্দ বা পরিভাষা- যার অর্থ অনেক ব্যাপক। সাধারণ অর্থে যে কোনো তেলাওয়াতকে ‘পড়া’ বোঝায়। কিন্তু যেকোনো জিনিস বা বই পড়াকে তেলাওয়াত বোঝায় না। তেলাওয়াত হলো- আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ গ্রন্থ বিশেষ করে পবিত্র কোরআন পড়া। এই কোরআন পড়ার জন্য কিছু নিয়ম-কানুন যাকে ব্যাকরণ বলা হয়, সেগুলো মেনে চলতে হবে। কোরআনের পরিভাষায় এই নিয়ম-কানুনকে বলা হয় তারতিল।

‘তারতিল’ মানে কোরআন থেমে থেমে পাঠ করাকে বোঝায়। তাই কোরআন তাড়াতাড়ি বা দ্রুতগতিতে না পড়াই শ্রেয়। ধীরে ধীরে প্রতিটি শব্দ সুন্দরভাবে মুখে উচ্চারণ করে কোরআন তেলাওয়াতের বিশেষ মাহাত্ম রয়েছে। তা হলো, এক একটি আয়াত পড়ে থামলে বা বিরতি নিলে মন আল্লাহর বাণীর অর্থ ও তার দাবীকে পুরোপুরি উপলদ্ধি করতে পারবে এবং তার বিষয়বস্তু দ্বারা প্রভাবিত হবে। 

তারতিলের ভেতর কোরআনের প্রতিটি শব্দের বিশুদ্ধ উচ্চারণ করার বিষয়টিও রয়েছে। উচ্চারণের ক্ষেত্রে দু’টি বিষয়ের ওপর খেয়াল রাখতে হবে। একটি হলো মাখরাজ বা উচ্চারণ স্থান। প্রতিটি ধ্বনি বাক প্রত্যঙ্গের ঠিক কোন স্থান থেকে উচ্চারিত হবে সেটি জানতে হবে।

আরেকটি হলো- সিফাত বা শব্দের অবস্থা ও গুণাবলি অনুযায়ী উচ্চারণ করা। কোরআন তেলাওয়াতের এই ব্যাকরণকে তাজবিদ বলা হয়। তাজবিদ জানার কোনো বিকল্প নেই।

কোরআনকে সুন্দর করে সুরেলা কণ্ঠে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কোরআন দেখে দেখে পড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণটা হলো, কোরআনের আয়াতের দিকে তাকালে এবং কানে সেই দেখা আয়াতের তেলাওয়াত শুনলে চোখ এবং কানের ওপর তার প্রভাব পড়ে। সেই প্রভাব চূড়ান্তভাবে অন্তরে গিয়ে আসন গাড়ে। সূফি আলেমরা বলেছেন, দেখে দেখে কোরআন তেলাওয়াত করলে চোখের অসুখ বা ব্যাথা বেদনা ভালো হয়ে যায়।

এবার কোরআন তেলাওয়াতের বাতেনি বা অদৃশ্য শিষ্টাচারের কথা আলোচনা করা যাক।

একজন ক্বারি কতটুকু তেলাওয়াত করবেন সেটা বিবেচ্য বিষয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ... তাই কোরআনের যতটা পরিমাণ সহজেই পড়া যায়- ততটাই পড়তে থাকো! নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, কোরআন নিয়মিত তেলাওয়াত করা। ধীরে ধীরে তেলাওয়াতের পরিমাণ বাড়াতে থাকা। নিজে নির্ধারণ করে নেওয়া, প্রতিদিন কতটুকু করে তেলাওয়াত করবে সে বিষয়ে। আল্লাহতায়ালা সবাইকে নিয়ম করে, যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াত করার তওফিক দান করুন। আমিন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

63
Hadith / Keep children, beautiful and meaningful name!
« on: April 10, 2016, 12:27:07 PM »
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের নাম নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম ও নেককার লোকদের নামে রাখো। [আবু দাউদ শরীফ : ২/৬৭৬, হাদীস নং : ৪৯৫০, নাসায়ী শরীফ : ২/১২২, হাদীস নং : ৩২৬৪]
সন্তান প্রসঙ্গে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো, তাদের সুন্দর নাম রাখতে হবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন― ‘তোমাদেরকে কিয়ামত দিবসে ডাকা হবে তোমাদের নিজ নামের সঙ্গে তোমাদের পিতার নাম যুক্ত করে। কাজেই তোমরা সন্তানদের সুন্দর নাম রাখো। [আবু দাউদ শরীফ : ২/৬৭২, হাদীস নং ৪৯৪৭]

এক হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন― ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো, আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান। [সহীহ মুসলিম : ২/২০৬, হাদীস নং : ২১৩২]

মুহাদ্দিসীনে কেরাম লেখেন― আল্লাহ শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত প্রতিটি নামই আল্লাহর কাছে প্রিয়। (যেমন, ফয়যুর রহমান, ফযলুর রহমান, আবদুল ওয়াদূদ ইত্যাদি) [আল উরফুশ শাযী আলাত তিরমিযী : ২/১১০]

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের নাম নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম ও নেককার লোকদের নামে রাখো। [আবু দাউদ শরীফ : ২/৬৭৬, হাদীস নং : ৪৯৫০, নাসায়ী শরীফ : ২/১২২, হাদীস নং : ৩২৬৪]

অন্য এক দুর্বল বর্ণনায় এসেছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার সন্তানের নাম ‘মুহাম্মদ’ রাখবে কিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে সুপারিশ করবো। [মু‘জামে তবারানী]

উপরিউক্ত নির্দেশনা থেকে বুঝে আসে যে, ভালো নাম রাখাটাও সন্তানের অধিকার। আফসোসের বিষয় হলো, আজকাল মানুষ ক্রীড়াবিদ ও অভিনেতাদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নিজ সন্তানদের নাম রাখছে। কিছু লোকের মাথায়, নিত্য নতুন নাম রাখার ভুত সওয়ার থাকে। সে মনে করে, এমন নাম রাখবো আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে অন্য কেউ সে নাম রাখেনি। যার কারণে অনেক বিকৃত ও দুষিত নাম সমাজে প্রশিদ্ধি পেয়ে গেছে। এ ধরনের নামও পরিহার করতে হবে।

কিছু লোক এ ভ্রান্তির শিকার যে, তারা জন্মতারিখ ও দিন-ক্ষণ গণনা করে নাম রাখা ভালো মনে করে। অথচ শরীয়তে এমন কোনো মূলনীতি নেই। এটিও স্বকল্পিত সিদ্ধান্ত। জাহেলানা এই প্রথাগুলোও পরিহার করতে হবে।


প্রিয় ইসলাম

64
Allah: My belief / By the grace of Allah bless refuge
« on: April 03, 2016, 10:23:26 AM »


উচ্চারণ: ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।’

অর্থ: ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম সাহায্যকারী, কার্যসম্পাদনকারী।’ -সূরা আল ইমরান : ১৭৩

উত্তম সাহায্যকারী কে: বর্ণিত আয়াতে আল্লাহতায়ালার ওপর ভরসা করার বিষয়ে বলা হয়েছে। আল্লাহর ওপর ভরসা করার নানা পর্যায় রয়েছে। কেউ মুখে মুখে ভরসার কথা বলে, কেউ সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ভরসা করে, কেউ-বা সর্বদাই সব কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা করে। এটি তাওয়াক্কুলের সর্বোচ্চ পর্যায়।

আল্লাহর ওপর যার আস্থা যত বেশি, তার সফলতার পরিপূর্ণতা তত বেশি। তাওয়াক্কুল একটি গুণ, একটি ইবাদত। এটি অর্জন ছাড়া ঈমান অসম্পূর্ণ থাকে। সে কারণে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ওপর তাওয়াক্কুল করা যায় না। মৃত বা জীবিত কোনো ওলি-আল্লাহ, পীর-বুজুর্গ, নবী-রাসূলের ওপর ভরসা করা শিরক। আর শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম।

আমল: বর্ণিত আয়াতাংশটি বেশি বেশি পাঠে আল্লাহর ওপর ভরসা দৃঢ় হয়। প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর এ আয়াত কয়েকবার পাঠ করার ফজিলত অনেক বেশি। আর এ কথা প্রমাণিত যে, আল্লাহর ওপর ভরসাকারীই প্রকৃত মুমিন ও সঠিক পথপ্রাপ্ত সফল ব্যক্তি।

আল্লাহর ওপর ভরসা করার কারণে কঠিন বিপদও মোকাবেলা সহজ হয়। ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) হলো- ঈমানের অর্ধেক। আর দ্বিতীয় অর্ধেক হলো- আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া।

কোরআনে কারিমে তাওয়াক্কুল ৯ বার, বহুবচনে মুতাওয়াক্কিল ৪ বার, বিভিন্ন ক্রিয়াপদে ৩৩ বার এবং ওয়াকিল ২৪ বার ব্যবহৃত হয়েছে।

ইসলামি শরিয়তে তাকদিরে বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব। তাই তাকদিরে বিশ্বাস রাখার পাশাপাশি চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সফল হলে যে কোনো ব্যাপারে কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে। আর সফল না হলে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

প্রচেষ্টা ও তাওয়াক্কুল উভয়টাই থাকতে হবে। তাকদিরের দোহাই দিয়ে রোগ হলে চিকি‍ৎসা না করা, শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা না করা ইসলামসম্মত নয়।

আয়াতের শিক্ষা : বর্ণিত আয়াতের শিক্ষা হলো, সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং আল্লাহকে নিজেদের জন্য যথেষ্ট মনে, আল্লাহকে সব শক্তির উৎস মনে করা। এ ছাড়া এই আয়াতের আরও শিক্ষণীয় বিষয় হলো, শত্রুপক্ষের অনুপ্রবেশ এবং আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য তাদের ছড়িয়ে দেওয়া প্রচারণা সম্পর্কে সাবধান থাকা, শত্রুরা যত বেশিসংখ্যক কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন- আল্লাহর ক্ষমতা তার চেয়েও বেশি- এমন বিশ্বাস মনে দৃঢ় রাখা।

আসলে, দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি নিতান্ত অনিচ্ছায় এবং প্রস্তুতি বা আগ্রহ ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন করে, তবে সে কাজের কোনো মূল্য নেই। তদ্রুপ যার মধ্যে খোদাভীরুতা নেই এবং সৎকাজের ইচ্ছাও নেই- সে যুদ্ধে অংশ নিলেও তা হবে মূল্যহীন।

ইসলাম ডেস্ক

65
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী- এই পাতাটি রূপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে আদিকাল থেকে। বহুগুণী এই পাতাটি শুধুমাত্র রূপ বা চুল পরিচর্যায় ব্যবহার হয় না,  এর ঔষধি গুণাবলিও অনেক। বহু রোগের সমাধান করে থাকে ছোট এই একটি পাতা। অ্যালোভেরার পাতার ভিতরে থাকা জেলটি ব্রণ দূর করা থেকে শুরু করে আগুণে পুড়ে যাওয়া ত্বক সারাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি অনেক ঔষুধ তৈরি করতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে অ্যালোভেরা জেল। রুপচর্চায় অ্যালোভেরার জেলের ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই জানি, আজ এর ঔষধি গুণাবলী সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

অ্যালোভেরা হল অ্যান্টি ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান সমৃদ্ধ একটি উদ্ভিদ। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দেহের টক্সিন উপাদান দূর করে থাকে। অ্যালোভেরা জেলের জুস নিয়মিত পান করতে পারেন।

২। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে

২০১৪ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে অ্যালোভেরা জেল মাউথ ওয়াশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে ভিটামিন সি আছে যা মুখের জীবাণু দূর করে মাড়ি ফোলা, মাড়ি থেকে রক্তপাত বন্ধ করে দিয়ে থাকে। এছাড়া মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।

৩। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে

অ্যালোভেরা রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। থাইল্যান্ডে এক গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিদিন দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জুস রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এবং ডায়াবেটিস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে থাকে।

৪। মুখের ঘা প্রতিরোধে

মুখের ঘা এবং দাঁতের পোকা রোধ করতেও অ্যালোভেরা জেল কার্যকরী। মুখের ঘায়ের স্থানে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে নিতে পারেন, এটি ঘা ভাল করতে সাহায্য করে।

৫। ক্যান্সার প্রতিরোধে

নতুন গবেষণা অনুসারে অ্যালো- ইমোডিন নামক উপাদান অ্যালোভেরা জেলে রয়েছে যা স্তন ক্যান্সার ছড়ানো রোধ করে থাকে। অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধেও অ্যালোভেরা জেল বেশ কার্যকরী।

৬। ওজন কমাতে

অ্যালোভেরা জেলে ম্যাগনেশিয়াম, কপার, পটাশিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম আরও অনেক মিনারেল রয়েছে যা ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে থাকে।

এছাড়া অ্যালোভেরা জেলে প্রায় ২০ রকম অ্যামিনো অ্যাসিড আছে যা ইনফ্লামেশন এবং ব্যাকটেরিয়া রোধ করে হজম, বুক জ্বালাপোড়া রোধ করে থাকে।
-

66
Cancer / 1 single drink will prevent many diseases, cancer!
« on: March 24, 2016, 10:02:30 AM »
আদাকে “সুপার ফুড” বলা হয়। প্রাচীনকাল থেকে এটি অনেক রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই বিংশ শতাব্দিতেও এর ব্যতিক্রম নয়। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এটি দেহের ইনফ্লামেশন হ্রাস করে, হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে থাকে। আদাতে অ্যান্টি প্যারাসিটিক, অ্যান্টি ফাঙ্গাল, অ্যান্টি ভাইরাল, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে, যা অ্যাজমা সমস্যা হ্রাস করে, হ্রদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে।

প্রতিদিন এক কাপ আদা চা স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে রক্তনালীর চর্বি ভাঙ্গতে সাহায্য করে। শরীরের রক্ত, ভিটামিন, মিনারেল এবং অক্সিজেন চলাচল সচল রাখে। আদার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় মধু, হলুদের সাথে মিশে। আসুন জাদুকরী চা তৈরির রেসিপিটি জেনে নেওয়া যাক।

উপকরণ:

    বিশুদ্ধ মধু
    নারকেল দুধ
    ১/৪ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো
    ১/৪ চা চামচ আদা গুঁড়ো
    ১ কাপ পানি

যেভাবে তৈরি করবেন:

১। গরম পানিতে আদা গুঁড়ো বা আদা কুচি দিয়ে দিন।

২। অল্প আঁচে ৭ থেকে ১০ মিনিট পানিটি জ্বাল দিন।

৩। এবার এতে নারকেলের দুধ মিশিয়ে দিন। বলক আসলে নামিয়ে ফেলুন।

৪। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য এতে মধু যোগ করতে পারেন। মধু মিশিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন।

সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে যে, আদা ক্যান্সারের জীবাণু রোধে ১০,০০০ হাজারের চেয়ে বেশি কার্যকর কেমোথেরাপি দেওয়ার চেয়ে। শুধু ক্যান্সার প্রতিরোধে নয়, আদা কিডনি পাথর ভেঙ্গে ফেলতেও সাহায্য করে থাকে।

প্রতিদিন এক কাপ করে পান করুন  আদা চা। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকবে।


(প্রিয়.কম)

67
Namaj/Salat / How to create concentration prayers
« on: March 21, 2016, 10:09:41 AM »
নামাজ বা নামাজে একাগ্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একাগ্রতা ছাড়া শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করা প্রায় অসম্ভব। আর একাগ্রতা সৃষ্টির জন্য প্রথমেই নিজেকে নামাজের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। যেমন- মুওয়াজ্জিন আজান দিলে তার জওয়াব দেয়া, আজান শেষে নির্দিষ্ট দোয়া পড়া, অতঃপর ‘বিসমিল্লাহ’ বলে সঠিকভাবে অজু করা, অজুর পরে দোয়া পড়া ইত্যাদি। অতঃপর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুগন্ধিযুক্ত পোষাক পরিধান করে নামাজের জন্য বের হওয়া। এছাড়াও- ১. ধীর-স্থিরতা অবলম্বন করা। ২. নামাজে মৃত্যুকে স্মরণ করা। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তুমি নামাজে মৃত্যুকে স্মরণ করো। কারণ যে ব্যক্তি নামাজে মৃত্যুকে স্মরণ করবে, তার নামাজ যথার্থ সুন্দর হবে। আর তুমি সেই ব্যক্তির ন্যায় নামাজ আদায় করো, যে জীবনে শেষবারের মতো নামাজ আদায় করে নিচ্ছে’। ৩. নামাজে পঠিত আয়াত ও দোয়াসমূহ গভীরভাবে অনুধাবন করা। ৪. প্রতিটি আয়াত তেলাওয়াতের পর ওয়াকফ করা। ৫. মধুর স্বরে স্থিরতার সাথে তেলাওয়াত করতে হবে। রাসুল (স.) বলেন, ‘সবচেয়ে সুন্দর আওয়াজে কুরআন তেলাওয়াতকারী ঐ ব্যক্তি, যার তেলাওয়াত শুনে তোমার মনে হবে যে, সে আল্লাহকে ভয় করছে’। [ ইবনে মাজাহ, হা/১৩৩৯ ] ৬. মনে করতে হবে- আল্লাহ বান্দার ডাকে সাড়া দিচ্ছেন। কেননা, নামাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটাই মূলত মহান প্রতিপালকের কাছে বান্দার একান্ত প্রার্থনা। ৭. সিজদার স্থানে দৃষ্টি নিবন্ধ রাখা। রাসুল (স.) নামাজের সময় মস্তক অবনত রাখতেন এবং দৃষ্টি রাখতেন মাটির দিকে। [বায়হাকি] আর তাশাহহুদের জন্য বসে শাহাদত আঙ্গুলের প্রতি দৃষ্টি রাখা। ৮. ভিন্ন ভিন্ন সুরা ও দোয়াসমূহ পাঠ করা। ৯. আয়াতে তেলাওয়াতের সিজদা থাকলে সিজদা করা। ১০. শয়তান হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাওয়া। কারণ শয়তান মানুষের চিরশত্রু। যার প্রধান কাজই হলো ইবাদতে বান্দার একাগ্রতা নষ্ট করা। ১১. নামাজের পরে বর্ণিত দোয়াসমূহ ও নফল নামাজগুলো আদায় করা। এবং ১২. বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা। কারণ বেশি পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত হৃদয়ে এক ধরনের প্রশান্তির আবহ সৃষ্টি করে। যা নামাজে একাগ্রতার জন্য একান্ত প্রয়োজন।

উপরিউক্ত আলোচনায় একাগ্রতা সৃষ্টির উপায়সমূহ স্পষ্ট করা হয়েছে। এবার একাগ্রতা সৃষ্টিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কিছু বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো। যথা- ১. নামাজের স্থান হতে একাগ্রতায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী বস্থসমূহ দূর করা। এ কারণে রাসুল (স.) মসজিদকে সৌন্দর্যমন্ডিত করার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। [আবু দাউদ, হা/৪৪৮] ২. যাবতীয় ছগীরা ও কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা। ৩. খাবারের চাহিদা নিয়ে নামাজ না পড়া। রাসুল (স.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কারো সামনে রাতের খাবার উপস্থিত হয়; আর নামাজেরও সময় হয়ে যায়- তখন আগে খাদ্য গ্রহণ করো। খাবার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাড়াহুড়া করো না’। [বুখারি, হা/৬৭১] ৪. প্রাকৃতিক কর্মের বেগ চেপে রেখে নামাজ না পড়া। কেননা পেশাব-পায়খানার বেগ থাকলে নামাজে একাগ্রতা আসে না। ৫. তন্দ্রাভাব নিয়ে নামাজ আদায় না করা। ৬. আলাপরত বা ঘুমন্ত ব্যক্তির পাশে নামাজ আদায় না করা। ৭. সিজদার জায়গা হতে ধূলা-বালি সরাতে ব্যস্ত না হওয়া। ৮. উচ্চৈঃস্বরে তেলাওয়াত করে অন্যের ব্যাঘাত না ঘটানো। ৯. নামাজে আশেপাশে দৃষ্টিপাত না করা।

68
পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনের অন্যতম সংখ্যালঘু হলো মুসলমান সম্প্রদায়। চীনে বর্তমানে মুসলমানদের সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখ। এ সংখ্যা অনেক আরব দেশের জনসংখ্যার চাইতে বেশি। এর প্রায় অর্ধেকেরই বসবাস জিনজিয়াংয়ে। ইসলামে দেশের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ধর্ম।

চীনের উত্তর-পূর্বে মুসলমানের সংখ্যা বেশি। লাখো মুসলমানের দেখা মেলে উত্তরের চীনা সমতলভূমিতে। মুসলমানদের সবচেয়ে ঘনবসতি হচ্ছে বেইজিং ও তিয়ানজিনে।

নিংজিয়া ও পাশ্ববর্তী হানসু প্রদেশে এমনকি ছোট গ্রামগুলোতেও অনেক সুন্দর সুন্দর মসজিদ দেখা যায়, বালক-বালিকারা মাদরাসাগুলোতে কোরআন শরিফ পড়ে, মুয়াজ্জিনেরা মাইকে পাঁচ ওয়াক্ত আজান দেয়। গানসু প্রদেশে হুই মুসলমানদের শক্ত ঘাঁটি লিনজুয়া ছোট মক্কা নামে পরিচিত। সেখানে প্রতিটি ব্লকেই মসজিদ রয়েছে এবং মেয়েরা বোরকা পড়ে চলাফেরা করে। এমনকি এখানকার সরকারি কর্মকর্তারাও ধর্মপ্রাণ ও কোরআন শরিফ পাঠ করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে টুপি ও পাগড়ি রফতানিকারী দেশ হিসেবে চীনের বেশ সুনাম রয়েছে।

গণচীন আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এবং জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম দেশ। চীনের হুই, উইগুর, কাজাক, উজবেক, তাজিক, তাতার, কিরগিজ, ডোংসিয়াং, সালার, এবং বোনান- এই দশটি সংখ্যালঘু জাতির মধ্যেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চীনের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ঈদ উপলক্ষ্যে তারা ছুটি পান।

চীনের সর্বত্রই মুসলমান রয়েছে তবে তাদের অধিকাংশই সিন জিয়াংয়ে বসবাস করেন। হাজার বছর ধরে চীনের মুসলমানরা ছোট বড় বহু মসজিদ নির্মাণ করেছেন। এক তথ্যে জানা গেছে যে, বর্তমানে চীনের মসজিদের সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি। এসব মসজিদে ইমামের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে মিনার ও গম্বুজ শোভিত মসজিদগুলোর দিকে তাকিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন বলে বিভ্রান্তও হতে পারেন।

চীনের ক্যান্টন নগরীতে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এই মসজিদটি ‘মেমোরিয়াল মসজিদ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। চীনে কয়েকজন সাহাবির কবরও রয়েছে।

নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চীনে প্রকৃত দ্বীনদার মুসলমানের সংখ্যা অনেক। ধর্মের প্রতি তাদের আন্তরিকতা অনেক বেশি। প্রতি বছর চীন থেকে প্রায় ১০ হাজার মুসলমান হজে যান। তাবলিগের কাজেও চীনারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গমন করেন। এমনকি টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় প্রতি বছর শতাধিক চীনা তাবলিগি সাথী অংশ নেন।

চীনের প্রাচীন অনেক মসজিদ পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। তেমনি একটি মসজিদ হচ্ছে চীনের শিয়ান শহরের জামে মসজিদ। এই মসজিদের দেয়ালে আরবি ভাষায় পুরো কোরআন লেখা রয়েছে।

কমিউনিস্ট চিন্তাধারার পতাকাবাহী দেশ চীন এবং সেদেশের এমন অনন্য একটি মসজিদ থাকতে পারে, সে সম্পর্কে হয়ত অনেকের ধারণা নেই।

মসজিদটি ৭৬২ খ্রিস্টাব্দে টংকার রাজবংশের আমলে নির্মাণ করা হয়েছে, পরে মিং রাজবংশের রাজত্বকালে পুনর্নির্মাণ করা হয়। মসজিদটির দেয়াল ১২ হাজার বর্গ মিটারের, যেখানে পবিত্র কোরআনের সকল আয়াত লেখা রয়েছে।

মসজিদটি চীনা স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত। তবে ইসলামি ক্যালিগ্রাফি, অারবি বিভিন্ন অলংকরণ একে আলাদা বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে চীনা ও আরবি ভাষায় কোরআন লেখা আছে।

একটি মসজিদের সাধারণ যেসব উপাদান দরকার যেমন- মিম্বর, মিহরাব, মূল নামাজের জায়গা, মিনার, দুই দিকে আইওয়ান আর মাঝখানে শান থাকে, এখানেও তার সব আছে। কিন্তু বাইরের রূপটা পুরোপুরি চৈনিক।

শিয়ান শহরের মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়াদী এ মসজিদকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়। শিয়ান তথা গোটা উত্তর-পশ্চিম চীনের মুসলমানদের জীবনে এ মসজিদের লক্ষণীয় প্রভাব রয়েছে।

 ইসলাম ডেস্ক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

69
Allah: My belief / The forgiveness of sins, the way
« on: March 19, 2016, 10:02:55 AM »
মানুষ দৈনন্দিন জীবনে রিপুর তাড়নায় শয়তানের ধোঁকায় কম-বেশি গোনাহ করে থাকে। এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এতে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ তাই গোনাহ করে নিরাশ হলে চলবে না।

কেউ জেনে বা না বুঝে কোনো অন্যায় করার পর যদি অনুতপ্ত হয়, মনে অনুশোচনা জন্ম নেয়- তখন অপরাধীর মতো একান্ত সংকুচিতভাবে ভয় ও বিনয়ের সঙ্গে এবং খালেস নিয়তে আল্লাহর দরবারে তওবা-ইস্তেগফার করে; তবে আশা করা যায় অবশ্যই আল্লাহতায়ালা তার বান্দার প্রতি সদয় হবেন। বান্দার অন্যায় যত বড়ই হোক না কেন- করুণাময় তার অশেষ করুণা গুণে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

আল্লাহর কাছে বান্দা তওবা-ইস্তেগফার করলে আল্লাহতায়ালা অত্যন্ত খুশি হন। গোনাহ থাকুক বা না-ই থাকুক প্রত্যহ তওবা-ইস্তেগফার পড়া উচিত। শেষ নবী হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সম্পূর্ণভাবে বেগুনাহ ও নিরপরাধ হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যহ তওবা-ইস্তেগফার করতেন।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারিম (সা.) প্রত্যহ আল্লাহর কাছে একশতবার তওবা-ইস্তেগফার পাঠ করতেন। মানুষের গোনাহ যদি আসমান সমানও হয় এবং সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তিনি নিশ্চয়ই ক্ষমা করে দেবেন।

অন্য এক হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি যেরকম আশা করে কেয়ামতের দিবসে তার আমলনামা তাকে খুশি করবে সে যেন অধিক মাত্রায় তওবা-ইস্তেগফার করে। কোনো মুসলিম কোনো একটি গোনাহ করে ফেললে ফেরেশতারা সঙ্গে সঙ্গে আমলনামায় না লিখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে থাকে। ওই সময়ের মধ্যে যদি ওই গোনাহগার তওবা-ইস্তেগফার করে ফেলে তবে তার আমলনামায় ওই গোনাহটি লিপিবদ্ধ হয় না এবং এ জন্য কিয়ামতের দিবসে তার কোনো শাস্তিও পেতে হবে না।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, ইবলিশ আল্লাহর কাছে বলেছিল, যতদিন পর্যন্ত পৃথিবীতে আদম সন্তান জীবিত থাকবে, ততদিন আমি তাদের গোমরা করতে থাকব। তখন আল্লাহ বললেন, আমিও যতদিন পর্যন্ত মানুষ তওবা-ইস্তেগফার করতে থাকবে ততদিন ধরে তাদের ক্ষমা করতে থাকব।

যে বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার করে, আল্লাহর কাছে পানাহ চায়- আল্লাহতায়ালা তাকে বেশি বেশি নেক আমল নসিব করেন। আল্লাহতায়ালা মানুষকে উদ্দেশ্যে করে আরও শিখিয়েছেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু, তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ আর আমি তোমার বান্দা। আমি আমার সাধ্যমতো তোমার প্রতিশ্রুতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় ভিক্ষা করি। আমার প্রতি তোমার নেয়ামতের স্বীকৃতি প্রদান করছি, আর আমি আমার গোনাহর খাতা স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে মাফ করে দাও। নিশ্চয়ই তুমি ছাড়া আর কেউই গোনাহগুলোর মার্জনাকারী নেই।

মানুষ যদি আল্লাহকে অনুসরণ করে, রাসূলের সুন্নত মেনে চলে, তবে ইনশাআল্লাহ সব বালা-মুসিবত, দুঃখ-কষ্ট, দুনিয়াবি ফেতনা, কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাবে, মৃত্যু পর জান্নাতবাসী হবে। তাই মুমিন-মুসলমানদের কর্তব্য হলো- বিবেক-বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণ জীবন অবলম্বন করা। শয়নে স্বপনে জাগরণে আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলার তওফিক কামনা করা। সেই সঙ্গে আসতাগফিরুল্লাহ দিনে অন্তত একশতবার পাঠ করা। এর দ্বারা মানুষের জীবনের সব গোনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন।

বর্তমান সমাজের মানুষ হাজারও ব্যস্ততার মাছে থাকে। বুঝে না বুঝে গোনাহর কাজ করে। অথচ দিনের কিছুটা সময় যদি মহান অাল্লাহতায়ালার কাছে কৃতজ্ঞচিত্তে শোকর আদায় করে- ভয়ে-শ্রদ্ধায় যাবতীয় পাপাচারের জন্য তওবা-ইস্তেগফার করে; তবে আল্লাহ মেহেরবান আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।

70
Various Sura & Dua / Earthling gifts for the deceased
« on: March 19, 2016, 09:56:03 AM »
পৃথিবীতে মানুষ যত দিন বেঁচে থাকে- ততদিন সে মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন পরিবৃত অবস্থায় থাকে। মা-বাবাদের জীবিত অবস্থায় আমরা তাদের সেবা-যত্ন করি। যতদিন মানুষ বেঁচে থাকে ততদিন ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটায়। কিন্তু যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে দুনিয়া ছেড়ে চলে যায়, তখন তার সব ধরনের আমল করার শক্তি শেষ হয়ে যায়। মৃত ব্যক্তি মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে দুনিয়ায় ছেড়ে যাওয়া আত্মীয়-স্বজন কিংবা ছেলে-মেয়েদের পক্ষ থেকে তার জন্য দোয়ার প্রতি।

জীবিত ব্যক্তিরা মৃত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে পারেন না বটে। কিন্তু তাদের জন্য উপহার পাঠাতে পারেন। এ উপহার মানুষের পক্ষ থেকে সবচেয়ে উত্তম উপহার। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত,  হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কবরস্থ মৃতের উদাহরণ ওই ব্যক্তির ন্যায়, যে নদীতে ডুবে যাচ্ছে এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করে। (কবরস্থ ব্যক্তি ) অপেক্ষা করে যে, মা-বাপ, ভাই অথবা অন্য কোনো আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে রহমত ও মাগফিরাতের দোয়া পৌঁছবে। যখন কারো পক্ষ থেকে তার কাছে দোয়ার উপহার পৌঁছে তখন তাকে দুনিয়া থেকে বেশি ভালোবাসে। দুনিয়াবাসীদের দোয়ার কারণে মৃত ব্যক্তি আল্লাহর কাছ থেকে এত বেশি সওয়াব পায় যার উদাহরণ একমাত্র পাহাড় দ্বারা দেওয়া যায়। মৃতের জন্য জীবিতদের পক্ষ থেকে বিশেষ হাদিয়া হলো, তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা।’

চির নির্জন,  চির আন্ধকার যেখানে কিছুই দেখার নেই, শোনার নেই সেখানে অনন্ত যাত্রার পথে দোয়াই তাদের পাথেয়। কোরআনে কারিমে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ‘আপনি নিজের এবং সাধারণ  মুমিন পুরুষ ও মুমিন স্ত্রীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা (অর্থাৎ আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা) করুন।’

মা-বাবার মৃত্যুর পরে সন্তান-সন্ততির প্রতি বড় দাবি তাদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা। মৃত্যুর পরে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার বিশেষ পন্থা তাদের জন্য দোয়া করা।

মা-বাবার জন্য সুসন্তান সদকায়ে জারিয়া। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যখন মারা যায়- তখন তিন রকমের আমল ব্যতীত তার সব আমল বন্ধ হয়ে হয়ে যায়। ক. সদকায়ে জারিয়া, খ. জনহিতকর শিক্ষা ও গ. এমন সুসন্তান- যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ –সহিহ মুসলিম

সুসন্তানদের প্রতি মৃত পিতা-মাতার হক তাদের জন্য দোয়া করা। হজরত আবু উসাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমরা হজরত রাসূলুল্লাহর (সা.) দরবারে উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় বনু সালমা গোত্রের এক জন লোক তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা মাতার ইন্তেকালের পর আমার ওপর  তাদের এমন কোনো হক বাকি থাকে কি যা আমার পক্ষে আদায় করা দরকার? হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, তাদের জন্য দোয়া করো, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করো এবং তাদের বৈধ অসিয়তগুলো পূরণ করো। জীবিত থাকাকালীন সময় যাদের সঙ্গে পিতামাতার বন্ধুত্ব ও আত্মীয়তা ছিল তাদের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক বজায় রেখো এবং পিতা মাতার বন্ধু-বান্ধবগণকে সম্মান ও আপ্যায়ন করো।’ -আবু দাউদ

সন্তানের দোয়ায় মা-বাবা জান্নাতে উঁচু মর্যাদা লাভ করে থাকেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে বেহেশতে কোনো বান্দার এক স্তর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়, তখন ওই জান্নাতি বান্দা জিজ্ঞেস করে, হে প্রভু! আমার এ মর্যাদার উন্নতি কি কারণে এবং কিভাবে হলো? উত্তর দেওয়া হয় যে, তোমার জন্য তোমার অমুক সন্তানের দোয়াই মাগফিরাতের কারণ। -মুসনাদে আহমদ

সন্তানদের দোয়ায় যেমন মা-বাবার জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, তেমনি নেক মা-বাবার অনুসরণ করে দুনিয়ায় আমল করলে সন্তানদেরকেও আল্লাহ মা-বাবার সঙ্গে জান্নাতের উঁচু স্তরে স্থান দিয়ে ধন্য করবেন। এ বিষয়ে ইরশাদ হচ্ছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তান সন্ততি ঈমানের কোনো না কোনো স্তরে তাদের পদাংক অনুসরণ করে চলছে, তাদের সে সব সন্তানদেরকেও আমি তাদের সঙ্গে মিলিত করে দেবো। এতে করে তাদের আমলে কোনো ঘাটতি আমি হতে দেবো না।’ –সূরা তুর : ২১

তাই মুসলিম সমাজের কাছে ইসলামের দাবি, কোনো বিশেষ দিনে ঘটা করে নয় বরং প্রতিদিন সন্তানদের উচিত মা-বাবার জন্য আল্লাহ কাছে মাগফিরাত কামনা করা। আর এটাই হলো কবরবাসী মা-বাবার জন্য সন্তানদের পক্ষ থেকে উত্তম উপহার। আল্লাহতায়ালা সবাইকে তওফিক দান করুন। আমিন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

71
Food and Nutrition Science / This is the right time to eat out 7
« on: March 16, 2016, 10:06:28 AM »
প্রিয়.কম)- খাবারের ভিন্নতা অনু্যায়ী পুষ্টিগুণে পার্থক্য রয়েছে। আমরা একেক খাবার একেক চাহিদা পূরনের জন্য খেয়ে থাকি। কিছু খাবার আছে যা আমরা নিয়মিত খেয়ে থাকি। এর মাঝে কিছু খাবার আছে যা কাঁচা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী আবার কিছু খাবার আছে যা রান্না করে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার আছে যা দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়াটাই স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। চলুন, জেনে নিই।

১। টকদই

ওজন হ্রাস করা  হোক অথবা সুস্থ থাকার জন্য হোক, আমরা অনেকেই টকদই খেয়ে থাকি। টকদই খাওয়া সবচেয়ে ভাল এবং কার্যকর সময় হল দিনের সময়। এটি আপনার হজম প্রক্রিয়া সহায়তা করে খাবার হজম করতে সাহায্য করে। টকদই খাওয়ার সবচেয়ে খারাপ সময় হল রাতের সময়। এটি সর্দি কাশি সৃষ্টি করে শ্বাস নালীর উপর প্রভাব ফেলে থাকে।

২। আপেল

পুষ্টিকর এই ফলটি খাওয়ার উপযুক্ত সময় হল দিনের সময়। এতে পেকটিন নামক উপাদান রয়েছে যা অন্ত্রের কার্যকলাপ সহজ করে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে থাকে। সন্ধ্যা অথবা রাতে আপেল উচিত নয়। এটি পাকস্থলীতে গ্যাস সৃষ্টি করে থাকে।

৩। ডাল এবং বিনস

রাতে বিনস অথবা ডাল আপনার হজমশক্তিকে বৃদ্ধি করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে থাকে। এমনকি এটি রাতে আপনাকে ভাল ঘুমাতে সাহায্য করে থাকে। বিনস অথবা ডাল ফাইবার জাতীয় খাবার যা দিনে গ্রহণ করলে খাওয়ার রুচিও বৃদ্ধি করে থাকে।

৪। কলা

সকালে অথবা বিকেলে কলা খাওয়ার উপযুক্ত সময়। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅ্যাসিড যা বুক জ্বালাপোড়া রোধ করে থাকে। রাতে এটি শ্বাসনালীতে প্রভাব ফেলে ঠান্ডা কাশি সৃষ্টি করতে পারে। এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম আছে, যা রাতে খাওয়ার কারণে পাকস্থলিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫। চিনি

চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার সবচেয়ে ভাল সময় হল সকালের সময়। এটি সারাদিনের কাজের শক্তি দিয়ে থাকে। রাতে চিনি অথবা মিষ্টি জাতীয় খাবার শরীরে চর্বি জমাতে সাহায্য করে। এমনকি হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

৬। চিজ

চিজ প্রোটিনের অনেক ভাল উৎস। সকালে নাস্তায় চিজ বা পনির রাখুন। সারাদিনের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে দিয়ে থাকে। রাতে চিজ সহজে হজম হতে চায় না, যার কারণে ওজন বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।

৭। মাংস

প্রোটিনের অন্যতম একটি উৎস হল মাংস। কিন্তু মাংস বিশেষত রেড মিট সহজে হজম হতে চায় না। তাই মাংস রাতের চেয়ে দিনে খাওয়া ভাল। রাতে হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

রাতের খাবার ঘুমাতে যাওয়ার ৩ ঘন্টা আগে খেয়ে নিন। তা যেকোন খাবার হোক না কেন। দিনের শুরুটা প্রোটিনে জাতীয় খাবার দিয়ে শুরু করুন। অব্যশই দিনের শুরুতে নাস্তা খেয়ে শুরু করবেন। সঠিক নিয়মে সঠিক খাবারই দিতে পারে আপনাকে সুস্বাস্থ্য।

72
Namaj/Salat / Last night a few hours grace period
« on: March 16, 2016, 09:59:06 AM »
রহমতের প্রহর বা সময় বলতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশকে বুঝায়। অলি-আউলিয়ারা এ সময়কে ইবাদত-বন্দেগির উত্তম সময় হিসেবে বেছে নিতেন। এ সময়ে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবারা নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও মোরাকাবা করতেন।

এ ছাড়া হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রায় সারারাতই আল্লাহর দরবারে নামাজ, কান্নাকাটি, নফল ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তিনি শেষ রাতে বিভিন্ন নফল ইবাদত শেষে কিছুক্ষণ ঘুমাতেন। তারপর উঠে ফজরের নামাজ আদায় করতেন। সাহাবাদের অনেকে নবীজিকে অনুসরণ করে সারারাত ইবাদত করতেন। যদিও নবীজি চাইতেন না তারা এতটা কষ্ট করুক।

রহমতের সময় হলো রাত ৩টা থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত। এ সময় প্রকৃতি থাকে নীরব, পরিবার পরিজনও থাকেন ঘুমিয়ে। জাগতিক কোনো কাজকর্মেরও তাড়া থাকে না। ফলে এ সময়ে আল্লাহর ধ্যান বা মোরাকাবা, নফল নামাজ আদায়, জিকির আজকার, দরুদ পাঠ ও তাসবিহ-তাহলিলের অতি উত্তম সময়। গভীর রাতের এ ইবাদতগুলো এত মন দিয়ে করা যায় যে, এতে সাধকরা সাধনার সোপান অতিক্রমের উ‍ৎকৃষ্ট সুযোগ পান।

রাতের তৃতীয়াংশের ইবাদতের কথা কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে নির্দেশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, এ সময় আল্লাহতায়ালা বান্দার ডাকে অধিক সাড়া দেন। তিনি বান্দাকে অনুপ্রাণিত করতে থাকেন, তাকে
ডাকতে বলেন, তার ইবাদত করে তার নৈকট্যলাভের আহ্বান করেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতের যখন শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, হে বান্দা! আমার কাছে প্রার্থনা করো, আমি তোমার প্রার্থনা কবুল করব। আমার কাছে তোমার কি চাওয়া আছে, চাও, আমি তা দান করব। আমার কাছে তোমার জীবনের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমার গুনাহ মাফ করে দেব।’ –সহিহ বোখারি : ৬৯৮৬

এভাবে আল্লাহতায়ালা ফজরের আগ পর্যন্ত তার বান্দাদের ডাকতে থাকেন। আর যে বান্দা তার মাবুদ মাওলাকে ডাকার মতো ডাকতে পারেন, আল্লাহর নিকট কাকুতি মিনতি করতে পারেন- রহমতের আমলের বদৌলতে তার ভাগ্যের দরজা খুলে যায়।

এই রহমতের সময় যা কিছু আমল করা হয় তার সবগুলোই মূলত নফল ইবাদত। ফরজ ইবাদত পালন করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। তাই নফল ইবাদতকে অতিরিক্তি কাজের সঙ্গে তুলনা করা যায়। সে জন্য এর ফজিলত বেশি। তাই সুযোগ পেলেই বেশি বেশি নফল ইবাদত করা উত্তম।

অনেকেই ফরজ পড়েই তড়িগড়ি করে নামাজ শেষ করে ফেলেন, নফল পড়ার দিকে গুরুত্ব দেন না। অথচ হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যখন আমার বান্দা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করে, তখন আমি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করি, এমতাবস্থায় আমি তার কর্ণ হই, যদ্বারা সে শ্রবণ করে; আমি তার চক্ষু হই, যদ্বারা সে দর্শন করে; আমি তার হাত হই, যদ্বারা সে ধারণ করে; আমি তার পদযুগল হই, যদ্বারা সে হেঁটে বেড়ায়। এমন অবস্থায় সে আমার কাছে যা কিছু চায় আমি সঙ্গে সঙ্গে তা দান করি।’ –সহিহ বোখারি : ৬০৫৮

শেষরাত বা রহমতের সময়ের ইবাদতে একাগ্রতা স্থাপন করা সহজ। হাদিসে আছে, ‘শেষ রাতে বান্দা আল্লাহপাকের খুবই নৈকট্য লাভ করে থাকে।’

শেষ রাতে নফল ইবাদত, তওবা-ইস্তেগফার, কোরআন তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন আমল করে মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে মোনাজাত করলে আল্লাহতায়ালা দয়া করে আমাদেরকে তার রহমতের ছায়াতলে জায়গা করে দেবেন- বলে আশা করা যায়। তাই আমাদের উচিৎ রহমতের প্রহর শেষ রাতের আমলে প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হওয়া। আল্লাহতায়ালা আমাদের শেষ রাতের বিভিন্ন আমলের প্রতি মনোনিবেশ করার তওফিক দান করুন। আমিন।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

73
Pain / Often suffer from headaches? Remove the food from the diet
« on: March 14, 2016, 11:58:02 AM »
এমন অনেকেই আছেন যাদের প্রায় দিনই মাথাব্যথার সমস্যা হতে থাকে। দু দিন পরপর এই মাথাব্যথার সমস্যা নিশ্চয়ই সুখকর কোনো বিষয় নয়। কিন্তু আপনি জানেন কি ঠিক কোন কারণে আপনি ভুগছেন এই যন্ত্রণায়? অনেক সময় সাধারণ কিছু ব্যাপার যেমন অতিরিক্ত রোদে ঘোরাঘুরি, গরম, সর্দি, জ্বর, পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত শব্দ, মানসিক চাপ ইত্যাদির কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে। আবার মারাত্মক ধরণের মাথাব্যথা অনেক সময় শারীরিক অসুস্থতা, মাইগ্রেন এমনকি ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ প্রকাশ করে থাকে। আর যদি এগুলোর কোনোটাই আপনার মাথাব্যথার কারণ না হয়ে থাকে তাহলে নজর দিন আপনি কি কি খাচ্ছেন সেদিকে। কিছু খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিলেই দেখবেন প্রতিদিনের এই মাথাব্যথা সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে গিয়েছেন খুব সহজেই।
১) আইসক্রিম

কষ্ট পেলেন? মনের কষ্ট মনেই চাপা রেখে মাথাব্যথার হাত থেকে মুক্তি পেতে বাদ দিতে হবে আইসক্রিম খাওয়া। আইসক্রিম খাওয়ার পর অনেক সময় কপালের দিকে তীক্ষ্ণ ধারালো ব্যথা শুরু হয়ে যায়। অনেকেই আছেন আইসক্রিমের ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারেন না। যদি দেখেন আইসক্রিম খাওয়ার পর মাথাব্যথা হচ্ছে তাহলে বুঝে নেবেন এটাই বাদ দিতে হবে।
২) চীজ

চীজ তৈরি করা হয় নানা ধরণের ব্যাকটেরিয়া, মোল্ড ও ইষ্টের ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে, যা প্রোটিন ভেঙে টায়রামাইন তৈরি করে ফেলে। আর এই টায়রামাইন দেহে হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিসের জন্য দায়ী যা একপ্রকার উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা। এই সমস্যার কারণে অনেক সময় চীজ খাওয়ার ফলে মাথাব্যথার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই।
৩) ডার্ক চকলেট

সাধারণ মিল্ক চকলেটের তুলনায় ডার্ক চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো হলেও যারা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্য একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় এই সুস্বাদু খাবারটি। ডার্ক চকলেটে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে যা মাথাব্যথা উদ্রেক করে। টায়রামাইন এবং ফেনিলেথ্যালামাইন এই দুটি মাথাব্যথা উদ্রেককারী উপাদান রয়েছে চকলেটে। সুরতাং সাবধান।
৪) কলা

কলা নিঃসন্দেহে খুবই পুষ্টিকর সুস্বাদু একটি ফল। কিন্তু এই পুষ্টিকর ফলটিও আপনার মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। কারণ কলাতেও রয়েছে মাথাব্যথা উদ্রেককারী উপাদান টায়রামাইন। তবে কলা খাওয়া একেবারে বাদ দিতে বলছি না। প্রথমে দেখুন কলা কতোটা ব্যথা উদ্রেক করে এবং প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে ২/১ দিন কলা খান।
৫) কফি

আপনারা হয়তো শুনে থাকবেন কফি মাথাব্যথা দূর করে। কথাটি সম্পূর্ণ ভুল, বরং কফি পান করলে মাথাব্যথা উলটো বেড়ে যায়। কফি হচ্ছে প্রাকৃতিক ক্যাফেইন যা মাথাব্যথার উদ্রেক করে। কফির সবচাইতে খারাপ দিক হচ্ছে নিয়মিত কফি পানের পর একদিন বাদ গেলে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়, একে বলা হয় ‘উইথড্রল ইফেক্ট অফ ক্যাফেইন’।

সূত্র: healthy dietbase

74
Brain / Some of the causes and remedial way unusual headache
« on: March 14, 2016, 11:54:24 AM »
মাথাব্যথা  খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। বেশিরভাগ মানুষই মাথাব্যথা সারানোর জন্য যা করে তা হল – ব্যথার ঔষধ খায়, বেশি করে পানি খায়, বিশ্রাম নেয় অথবা মাথা ব্যথা চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। মাথাব্যথা হলে স্বাভাবিক ভাবে কোন কাজ করা যায়না। প্রতিটা মানুষই জীবনের কোন না কোন সময়ে মাথা ব্যথায় ভোগেন। বেশিরভাগ মাথাব্যথাই মারাত্মক কোন অসুখের কারণে হয়না। মাথাব্যথা যদি তীব্র হয়, খুব ঘন ঘন হয় এবং অস্বাভাবিক মনে হয় তাহলে যে কেউ চিন্তিত হয়ে ওঠেন। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ যে চিন্তাটা মাথায় আসে তা হল ব্রেইন টিউমার। আপনার মাথাব্যথার ধরনটি নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বললে তিনি পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সেটির কারণ বের করতে পারবেন। তাঁর পরামর্শে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কীভাবে ব্যথা কমানো যায় বা সম্পূর্ণ রুপে ব্যথা কীভাবে দূর করা যায়। এটা হতে পারে যখন ব্যথা শুরু হবে তখন ঔষধ সেবন করে বা নিয়মিত ঔষধ সেবন করে বা আপনি যে ঔষধ খাচ্ছেন তা বন্ধ করার মাধ্যমে। তাই মাথাব্যথার অন্তর্নিহিত কারণ জানাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আসুন তাহলে মাথাব্যথার কিছু কারণ সম্পর্কে জেনে নিই।

১। কোষ্ঠকাঠিন্য বা বিরক্তিকর পেটের সমস্যা

অনেক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, মাথাব্যথার সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য বা বিরক্তিকর পেটের সমস্যার সম্পর্ক আছে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ের সাথে সাথে মাথাব্যথা ভালো হয়েছে। তাই যদি আপনার এই ধরণের কোন সমস্যা থাকে তাহলে আগে এগুলো নিরাময়ের চেষ্টা করুন।

২। অতিরিক্ত ঔষধ সেবন

মাথাব্যথা রোগের খুবই সাধারণ একটি কারণ হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ঔষধ সেবন। গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন যে বিশ্বব্যাপী এর প্রাদুর্ভাব ১-২%। পরিহাসের বিষয় হল, চিকিৎসকেরা দেখেছেন যে মাথাব্যথা ও অ্যালার্জির ঔষধের অনুপযুক্ত ব্যবহার মাথাব্যথা বৃদ্ধি করে থাকে। যখন নিয়মিত মাথাব্যথার ঔষধ খাওয়া হয় তখন মাথায় অনেক বেশি ব্যথার সেন্সর তৈরি হয়। মাথায় এই সেন্সর গুলো অনেক বেশি পরিমাণে থাকে এবং মাথা অনেক বেশি স্পর্শকাতর। তাই মাথাব্যথাও যায় না। তাই যদি আপনার মাথাব্যথা বা মাইগ্রেশন থাকে এবং ঔষধ সেবনের পরেও যদি উপসর্গ গুলো না যায় তাহলে আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

৩। আবহাওয়ার পরিবর্তন

গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে যেমন-ঠান্ডা অথবা গরমের কারণে ২০%-৩০% মানুষের মধ্যে মাইগ্রেনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এর কারণ হচ্ছে, হঠাৎ করে আবহাওয়ায় পরিবর্তন হলে মস্তিষ্ক সেরেটোনিন নামের স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে যার ফলে মাথাব্যথা হতে পারে।

৪। পানিশূন্যতা

যদি আপনার নিয়মিত মাথাব্যথা হয় এবং এর সাথে বমিবমি ভাব ও শরীরে ব্যথা থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনি পানিশূন্যতায় ভুগছেন। এই অনবরত মাথাব্যথা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করুন।

৫। কম্পিউটারের স্ক্রিন

আপনি যদি সারাদিন কম্পিউটারে কাজ করেন তাহলে তা আপনার চোখের উপর প্রচুর পরিমাণে চাপ পরে। কম্পিউটারের উজ্জ্বল আলো চোখের রেটিনাকে এবং চোখের  পেছনের স্নায়ুকে সক্রিয় করে। যার ফলে মাথাব্যথা হতে পারে। তাই প্রতি এক ঘন্টা পর পর দশ মিনিট করে বিরতি নিন এবং কলিগের সাথে কথা বলুন বা হেঁটে আসুন অথবা পেপার পড়ুন। তারপরও যদি মাথব্যথা থাকে তাহলে কম্পিউটার স্ক্রিনের উপর অ্যান্টি গ্লেয়ার শিল্ড লাগিয়ে নিন এবং কাজ করার সময় সোজা হয়ে বসুন।

৬। অনেক বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ

চিকিৎসকদের মতে ঘন ঘন মাথাব্যথা হওয়ার আরেকটি সাধারণ কারণ হচ্ছে ক্যাফেইনের উপর নির্ভরশীলতা। আসলে ১০০ গ্রাম ক্যাফেইন মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। যদি মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পেতে চান তাহলে ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দিন। 

তাছাড়া অনেক শক্ত করে চুল বাঁধলেও মাথাব্যথা হতে পারে, পেট্রল, তামাক ও সুগন্ধির কারণেও অনেকের মাথাব্যথা হতে পারে, সম্পর্কের স্ট্রেসের কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে।

 (প্রিয়.কম)

75
আরমান চাকরিতে ঢুকেছেন মাত্র ৯ মাস। সর্বসাকল্যে বেতন পাচ্ছেন ১৪ হাজার ৪শ' টাকা। অভিভাবকদের ইচ্ছায় এরই মধ্যে আবার বিয়েও করেছেন। নতুন সংসার পেতেছেন ভাড়া বাসায়। কত কিছু কেনাকাটা করতে হচ্ছে। হিমশিম অবস্থা। অফিসের কাজের চাপে আর ট্রাফিক জ্যামের সময় গ্রাসে ছুটির দিন ছাড়া পুরো সপ্তাহে বাজার করার আর কোনো ফুরসতই মেলে না।

তাই সাধ্য না থাকলেও দরকার একটি রেফ্রিজারেটর। কী করবেন ভেবে পান না। প্রতিবেশী ভাবি পরামর্শ দিল, শোরুম থেকে ছয় মাসের কিস্তিতে ফ্রিজ কেনেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, তিন মাসের কিস্তিতে কিনলে নগদ মূল্যের ওপর শতকরা পনের টাকা আর ছয় মাসের কিস্তিতে কিনলে শতকরা ২৫ টাকা বেশি দিতে হবে। তিনি হতাশ হলেন। রেফ্রিজারেটর কেনা তার জন্য সম্ভব নয়। যতই কষ্ট হোক সুদের কারবারে নিজেকে জড়িত করে আল্লাহর অবাধ্য হতে পারবেন না।

সানজিদা সেলাই কাজ শিখেছে। উদ্দেশ্য ছিল লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়িতে বসেই কিছু টাকা উপার্জন করবে। বাবার বোঝা কিছুটা লাঘব করবে; কিন্তু পল্লী বাজারের ছোট একটি দোকানদার আরিফ সাহেব। তার পক্ষে সম্ভব নয় মেয়েকে নগদ টাকা দিয়ে সেলাই মেশিন কিনে দেওয়া। তিনি খোঁজ পেলেন নগদ মূল্যের চেয়ে কিছুটা বেশি দামে সহজ কিস্তিতে সেলাই মেশিন কেনা যায়। তিনি ভয় পেলেন, আমি মুসলমান। সুদে জড়িত হবো!

আমাদের সমাজে এ রকম আরমান, আরিফ অনেক আছেন। তারা এ ভুল করে থাকেন। নগদ মূল্য থেকে কিস্তি মূল্যের অতিরিক্ত অংশকে সুদ হিসেবে গণ্য করেন। আবার অনেকে কিস্তিকে সুদের সমার্থক ভাবেন। সুদ ও অতিরিক্ত অংশকে এক ভাবেন। অথচ এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে।

সব অতিরিক্ত অংশ সুদ নয়। কিস্তিতে টাকায় আদায় করা হলেই তা সুদ নয়- বিজ্ঞ ইসলামি চিন্তাবিদদের সুচিন্তিত মতানুসারে। কোনো লেনদেনে এক পক্ষের দেয় অতিরিক্ত অংশ সুদ হবে যদি উভয়পক্ষের আদান-প্রদানকৃত বস্তুদ্বয় সমজাতের হয়। আর যদি বস্তুদ্বয় সমজাতের না হয় তাহলে অতিরিক্ত অংশ সুদ হবে না।

যেমন- যায়েদ ২০ কেজি গমের বিনিময়ে উমরকে বাইশ কেজি গম দিল। এখানে যেহেতু উভয় পক্ষের বস্তু এক জাতের সেহেতু যায়েদের দেওয়া অতিরিক্ত দুই কেজি গম ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ। আবার যায়েদ ২০ কেজি ধানের বিনিময়ে উমরকে বাইশ কেজি গম দিল। এখানে যেহেতু উভয় পক্ষের বস্তু এক জাতের নয়, সেহেতু যায়েদের দেওয়া অতিরিক্ত দুই কেজি গম ইসলামের দৃষ্টিতে সুদ নয়।

অনুরূপভাবে বেচাকেনায় যদি এক পক্ষ পণ্য দেয়, তা যে কোনো আইটেমের হোক। অপর পক্ষ মুদ্রা দেয়, তাহলে যে কোনো এক পক্ষের দেয় বস্তুটির পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন, আর এর পশ্চাৎ কারণ যা-ই থাকুক না কেন সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশকে সুদ গণ্য করা হয় না। কেননা, মুদ্রা ও পণ্য এক জাত নয়।

উপরোক্ত আলোচনা ও উদাহরণ দ্বারা স্পষ্ট যে, বর্তমানে বিভিন্ন উৎপাদক, পরিবেশক ও বিক্রেতা ক্রেতাদের কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দিয়ে নিজেদের পণ্য বেশি টাকায় বিক্রির অফার দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ওইসব পণ্য যেমন- রেফ্রিজারেটর, মোটরসাইকেল, সেলাই মেশিন ইত্যাদি নগদ মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে কিস্তিতে কেনাকে সুদের কারবার বলা যাবে না এবং দামের ওই অতিরিক্ত অংশকে সুদ বলা যাবে না।

তবে কিস্তিতে বেচাকেনার যে পদ্ধতি আমাদের বাজারে প্রচলিত, তাতে একটি বিষয় অবশ্যই সংশোধনযোগ্য। সাধারণত বিক্রেতা পক্ষ কিস্তির সংখ্যাভেদে কয়েক ধরনের দাম প্রস্তাব করে। যেমন- মূল্য নগদ দিলে ১০ হাজার টাকা, তিন মাসে শোধ করলে ১২ হাজার টাকা, ছয় মাসে শোধ করলে ১৫ হাজার টাকা, ১২ মাসে শোধ করলে ১৮ হাজার টাকা।

ক্রেতা কিস্তির কথা বলে পণ্য নিয়ে যান। মূল্য ও কিস্তির ধরন নির্দিষ্ট করেন না। পরে নিজের রুচি ও সুবিধামতো প্রস্তাবের যে কোনো একটি মূল্য পরিশোধ করেন। মূল্য সুনির্দিষ্ট না করে বিভিন্ন মেয়াদভিত্তিক বিভক্ত রেখেই বেচাকেনার চুক্তি সম্পাদন করা ইসলামে নিষিদ্ধ।

বেচাকেনা শুদ্ধ হওয়ার জন্য আবশ্যক হলো- বিভিন্ন মেয়াদভিত্তিক বিভক্ত মূল্যগুলো থেকে যে কোনো একটি মূল্য ও মেয়াদ সুনির্দিষ্ট করে চুক্তি সম্পাদন করা।


 মুফতি মাহফূযুল হক
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Pages: 1 ... 3 4 [5] 6 7 ... 12