Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - saima rhemu

Pages: 1 ... 4 5 [6] 7 8 ... 16
81
আমরা যখনি ক্যালরির কথা চিন্তা করি বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই মনে করি কোন খাবারে কত বেশি ফ্যাট আছে। ক্যালরি মানেই যেন ওজন বৃদ্ধি। কিন্তু ডাক্তারি ভাষায় এটি হল আমাদের শক্তি যোগানোর উৎস। আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির চেয়ে যদি বেশি নিয়ে নেই, তাহলে ওজন বাড়বে এবং যদি কম নেই তাহলে ওজন কমতে থাকবে, সাথে সাথে মাসেল এর জোরও। তাই প্রত্যেককেই ডাক্তারের দেয়া একটি ডায়েট চার্ট মেনে চলা উচিত। আজকে চলুন সাধারণত একটি মানুষের কতটুক ক্যালরি ও নিউট্রিশন গ্রহণ করা উচিত তা নিয়ে একটু কথা বলি।

আমরা যে টাইপ ও পরিমাণের খাবার খাই তা সাধারণত নির্ধারণ করে আমাদের গ্রহণকৃত ক্যালরির পরিমাণ। আবার কখন ও কিভাবে আমরা খাবারটা খাচ্ছি তাও কিন্তু অনেক পরিমাণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার প্রতিদিন ১৬০০-২৪০০ ক্যালরি গ্রহণ করা উচিত আর পুরুষদের ২০০০-৩০০০ ক্যালরি। একটি বাচ্চার ক্যালরি ইনটেক প্রতিদিন ১০০০ ক্যালরি, ১৬-১৮ বয়স যাদের, তাদের ৩২০০ ক্যালরি ও বয়স ১৯-২৫ যাদের তাদের জন্য ২০০০-২২০০ ক্যালরি। সাধারণত যত বয়স বাড়তে থাকে ক্যালরির প্রয়োজন তত কমতে থাকে কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের মেটাবলিজম কমতে থাকে।

ক্যালরি সংক্রান্ত কিছু তথ্য-

– একজন মানুষের ক্যালরি ইনটেক তার বয়স, উচ্চতা, লিঙ্গ ও শরীরের অবস্থা ও লাইফ স্টাইলের উপর নির্ভর করে।

– সকালে ভারী খাবার গ্রহণ শরীরের ওজন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

– একটি ৫০০ ক্যালরির সবজি আর ফলমূলের খাবারের মেন্যু অন্য আরেকটি একই পরিমাণ ক্যালরির স্ন্যাকস জাতীয় খাবার থেকে অনেক গুণমানসম্পন্ন ও শরীরের খাবারের চাহিদা অনেকক্ষণ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে।

– দিনে একসাথে অনেক খাবার না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে খাওয়া উচিত, এতে করে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া হবে না এবং অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পাবে না।

এবার আসি প্রতিদিন আমাদের কি কি খাবার ও নিউট্রিশন গ্রহণ করা উচিত তা নিয়ে ছোট একটি আলোচনায়। একটি ব্যালেন্সড ডায়েট আমাদের প্রত্যেকের শরীরের জন্য অপরিহার্য। এটিই ঠিক করে আমরা প্রতিদিন কতটুকু শক্তি গ্রহণ করছি আমাদের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী। সাধারণত একজন মানুষের প্রতিদিনকার খাবারের তালিকায় যা যা থাকা উচিত তা হল-

১) ফল- সিজনাল ফলমূল খাবারের তালিকায় রাখা অনেক জরুরী। ফলে প্রাকৃতিকভাবেই চিনি থাকে যা আমাদের শরীরের চিনির চাহিদা মেটায়। যেসব খাবারে প্রক্রিয়াজাতকৃত চিনি থাকে, সেসব খাবার না খেয়ে ফল বা ফলের জুস খেতে পারেন।

২) শাকসবজি- শাকসবজিতে থাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন আর মিনারেলস। প্রতিদিন প্রতিবেলার খাবারের তালিকায় আমাদের অনেক পরিমাণে সবুজ শাকসবজি রাখা উচিত। যেমন- পালং শাক, ব্রকলি, শিমের বিচি, বাধাকপি, ফুলকপি ইত্যাদি। মোটকথা যে মৌসুমে যে সবজি পাওয়া যায় সবই খাওয়া উচিত।

৩) শস্য জাতীয় খাবার- এসব খাবারের তালিকায় রাখা উচিত হোল-গ্রেন খাবার। বাজারে যে কোন রকম সিরিয়াল, পাস্তা, ব্রাউন রাইস, ওটমিল, গমের আটা ইত্যাদি। সাদা আটা এড়িয়ে যাওয়াই ভাল কারণ এতে নিউট্রিশনের পরিমাণ খুবই কম থাকে।

৪) প্রোটিনযুক্ত খাবার- মাংস, মাছ, বিনস-এ এসবে প্রোটিন প্রচুর পরিমাণে বাদামও প্রোটিনের অনেক ভালো একটি উৎস। ওয়ালনাট, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম কিছু উদাহারণ।

৫) ডেইরি বা দুধ জাতীয় খাবার- এসব খাবার ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম-এর চাহিদা মিটায়। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে এতে ফ্যাটও আছে। তাই খেলেও অল্প পরিমাণ ও ফ্যাট ফ্রী দুধ, দই খাওয়া উচিত।

৬) তেল- লো ফ্যাট জাতীয় তেল আমাদের প্রতিদিনকার খাবারের জন্য অনেক প্রয়োজন। ভোজ্য তেল হিসেবে রাইস ব্র্যান অয়েল, অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন। ভোজ্য তেল কেনার সময় তেলের গায়ে লেবেল পড়ে নিন। এক্ষেত্রে সাফোলা একটিভ অয়েল কিনে দেখতে পারেন। এতে ওরাইযেনল ও ওমেগা ৩ আছে যা খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ওজন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ৮০% রাইস ব্র্যান অয়েল ও ২০% সয়াবিন অয়েল-এর সমন্বয়ে তৈরি বলে এটি একটি স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেল হিসেবে স্বীকৃত।

এভাবেই আমরা প্রতিদিনের খাবার গ্রহণের সময় এসব তথ্য মাথায় রাখলে থাক
তে পারি সুস্থ, সবল ও প্রাণোজ্জ্বল। ভাল থাকুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন।

85
নারীদের কেউ কেউ ফ্যাশনের অনিবার্য অনুষঙ্গ হিসেবে হাই হিল পরে থাকেন। র‌্যাম্প মডেল থেকে সবাই পরেন এসব হিল। সৌন্দর্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে উচ্চতাকে ধরা হয়। তাই জুতার হিলের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু ‘সৌন্দর্যবর্ধক’ এই আপাত নিরীহ বস্তুটি সম্পর্র্কে সতর্ক করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, হাই হিলে হাই রিস্ক। সৌন্দর্য বাড়াতে বেশি উঁচু হিল পরলে হাঁটুর ক্ষতি হতে পারে।

হিলে সাময়িক উচ্চতা হয় তো বাড়বে। কিন্তু পরে চিরকালের জন্য খুঁড়িয়ে হাঁটতে হতে পারে। অস্থি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তাদের কাছে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় অল্পবয়সী রোগী আসছেন। তাদের অনেকেই আসছেন গোড়ালি বা হাঁটুতে ব্যথা নিয়ে। দেখা যাচ্ছে, সব অসুবিধার মূলে সেই জুতার হিল। অস্বাভাবিক উঁচু হিল পরায় গোড়ালি উঁচু হয়ে থাকছে। যখন-তখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে এদিক-সেদিক বেঁকে যাচ্ছে। ফলে হাঁটুতে অস্বাভাবিক চাপ পড়ছে। ক্ষয়ে যাচ্ছে হাঁটুর মালাইচাকির পেছনের কার্টিলেজ। অস্টিও-আর্থ্রাইটিস দেখা দিচ্ছে।
‘ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া’র অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞদের কথায়, গোড়ালি, হাঁটু ও কোমর ঠিক রাখতে মেয়েদের জন্য পাম্পু শু বা ব্যাকস্ট্র্যাপ দেওয়া কম হিলের জুতা সবচেয়ে ভালো। তারা আরও জানিয়েছেন, হিল পরার ইচ্ছা হতেই পারে, তবে তার জন্য একটু সতর্ক থাকা দরকার। যেখানে অল্প হাঁটতে হবে, সেখানে উঁচু হিল পরা যেতে পারে। কিন্তু প্রতিদিনের জীবনে হাঁটাহাঁটির ক্ষেত্রে সামান্য উঁচু বা ফ্ল্যাট জুতাই থাকুক। কারণ শারীরিক সুস্থতা না থাকলে সৌন্দর্য অধরাই থাকবে। সুতরাং হাই হিল ব্যবহারে সাবধান!

88
দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে রমজানের প্রায় অর্ধেকটা। শুরুর দিকের দিনগুলোতে এনার্জি ভরপুর থাকলেও সময় যাবার সাথে সাথে ক্লান্তি যেন চেপে ধরে। ইফতারের পর খারাপ তো লাগেই, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সেহেরির আগে বা পরেও অসুস্থতা বোধ হয়। সেহেরির সময় ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হওয়া, সেহেরির পর অস্বস্তি বোধ করা বা ঘুম না আসা, ঘুমের মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখা, ঘুম হলেও সারাদিন ক্লান্তি বোধ করা, প্রচণ্ড পিপাসা পাওয়া ইত্যাদি সমস্যা কমবেশি সকলেরই হয়ে থাকে।

রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলোতে একটু স্বস্তি চাই? তাহলে আজকের ফিচার আপনারই জন্য। সেহেরিতে এই পরিবর্তনগুলো আপনার রমজানের দিনগুলোকে করবে স্বস্তিদায়ক।

সেহেরি হোক পরিমিত

সারাদিন না খেয়ে থাকতে হবে ভেবে একসাথে অনেক কিছু সেহেরিতে খেয়ে ফেলবেন না। রমজানের শুরুর দিকে আয়োজন করে আহামরি সেহেরির আয়োজন হলেও সময়ের সাথে সাথে কমিয়ে ফেলুন। তেল-মশলা যুক্ত খাবার বাদ দিন একদম, এসিডিটি হতে পারে এমন যে কোন কিছু পরিহার করুন। বেছে নিন হালকা ও সহজপাচ্য খাবার। এই একটি কাজেই দেখবেন অর্ধেক অস্বস্তি দূর হয়ে গেছে, ঘুমার মাঝে দুঃস্বপ্নও দেখবেন না। সারাদিন অনেক ফুরফুরে বোধ হবে, ক্ষুধার অনুভুতিও কম হবে।

রাত না জেগে বরং শুয়ে পড়ুন

অনেকেই সাড়া রাত জেগে থাকেন, সেহেরির পর একবারে ঘুমাবেন মনে করে। এতে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না, দিনের বেলা অধিক ঘুমিয়ে নেয়ার পরেও ক্লান্তি চেপে ধরে থাকে। ইফতারের পর হালকা রাতের খাবার সেরে আগেই ঘুমিয়ে পড়ুন। এতে সেহেরিতে উঠতে সুবিধা হবে। সেহেরির পর ঘুম না এলেও কোন সমস্যা হবে না। বরং নামাজের পর খুব ভোরে দিন শুরু করতে পারলে আপনি নিজেই সারাদিন অনেক বেশি প্রাণবন্ত বোধ করবেন।

সেহেরিতে অধিক পানি নয়

সারাদিন রোজা থাকবেন মানে এই নয় যে সেহেরিতে একবারে ৫/৭ গ্লাস পানি পান করে নিতে হবে। শরীরে পর্যাপ্ত পানির যোগান রাখা জরুরী আর সেটা করতে হবে ইফতারের পর থেকেই। অল্প অল্প করে প্রতি ঘণ্টায় পানি পান করুন। সেহেরিতে একবারে অনেক পানি পান করলেই সারাদিন আর পিপাসা পাবেন না, এটি একদম ভুল ধারণা। বরং ইফতারের পর থেকে সেহেরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমে দেহকে হাইড্রেটেড রাখলে তবেই রোজা অবস্থায় পিপাসা কম পাবে। মনে রাখবেন, পাকস্থলী অতিরিক্ত ভরা থাকলে অস্বস্তিকর অনুভূতি ও ঘুমের সমস্যা হতে বাধ্য।

খাওয়ার সাথে সাথেই ঘুম নয়

কেবল সেহেরি কেন, কখনোই কিছু খাবার পর সাথে সাথে ঘুমাতে চলে যাওয়া ঠিক নয়। এতে হজম ক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়, গ্যাস ও এসিডিটি হবার সমস্যা বাড়ে। শেষ মুহূর্তে সেহেরি খাবার জন্য বসে থাকবেন না। একটু তাড়াতাড়ি সেহেরির পর্ব সেরে নিন, সেহেরির অন্তত ঘণ্টাখানেক পর ঘুমাতে যান।

চা- কফি ও সিগারেট বাদ দিন

সেহেরির পর ক্যাফেইন জাতীয় যে কোন কিছু পান করা আপনার শরীরে পানিশুন্যতা সৃষ্টি করবে। একই ব্যাপার সিগারেটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। দিনব্যাপি ক্লান্তি তো হবেই, ঘুমেও সমস্যা হবে।

দুটি খেজুর

সেহেরিতে দুই/তিনটি খেজুর রাখুন।  বাকি দিন প্রানশক্তিতে ভরপুর থাকবেন আপনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সেহেরিতে অধিক খেয়ে ফেললে সারাদিনে ক্ষুধার অনুভূতি বেশি হয়। রমজান সংযমের মাস। সেই সংযম ফুটে উঠুক সকল আচরণে।

Pages: 1 ... 4 5 [6] 7 8 ... 16