Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - saima rhemu

Pages: 1 ... 5 6 [7] 8 9 ... 16
95
আমের মৌসুম শুরু হয়ে গেলো। ইফতারিতে ফলের আইটেমে অনেকেই রাখেন আম। ইফতার ছাড়াও আমাদের দেশে আম খেতে পছন্দ করে না এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। তবে একটা বিপদ আছেই। সেটা হলো বেশিদিন টিকিয়ে রাখার জন্য আমের মধ্যে ফরমালিনসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মেশানো।

ফরমালিন যুক্ত আম খেলে কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

চলুন জেনে নেই বাজারের আমের কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন এতে ফরমালিন আছে কিনা।

রঙ

রঙ দেখেও চেনা যায় ফরমালিনযুক্ত আম। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে হলুদ এবং সবুজের একটা মিশেল থাকবে। অনেক সময় কাঁচাপাকা রঙেও দেখা যায়। আবার আমার গায়ে সাদাটে ভাব ও কালো কালো দাগ থাকবে। কিন্তু ফরমালিনসহ অন্যান্য কেমিকেল দিয়ে পাকানো আমগুলো দেখতে সম্পূর্ণ হলুদ হবে। দেখতে খুব সুন্দর ও চকচকে হবে। কোন দাগ থাকবে না।

ভেতরের শাস

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম কাটলে এর ভেতরের শাসটি হবে লালচে হলুদ রঙের কিন্তু ফরমালিন যুক্ত আমের ভেতরের অংশটি হবে হালকা অথবা গাঢ় হলুদ রঙের। এর মানে হলো বাইরে থেকে আমটি পাকা দেখালেও ভেতরটি পাকা নয়।

আমের রস

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম বেশ মিষ্টি হয় এবং এতে অনেক বেশি রস থাকে। কিন্তু ফরমালিনযুক্ত আমে রস অনেক কম থাকে। ভেতরটা পাকা থাকে ঠিকই কিন্তু রস কম বের হয়।

গন্ধ

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের বোটায় সুঘ্রাণ থাকবে কিন্তু ফরমালিনযুক্ত আমের বোটায় কোনও ঘ্রাণ থাকবে না। তাই কেনার আগে গন্ধ শুকে নিতে পারেন।

স্বাদ

ফরমালিনমুক্ত আম মুখে দিলে টক মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যাবে। এছাড়াও এসব আমে মাছি বসবে। কিন্তু ফরমালিনযুক্ত আমে তেমন কোনও স্বাদ পাওয়া যাবে না। এগুলোতে মাছিও বসে না। চিকিৎসকরা বলেন, ফরমালিনযুক্ত আম খেলে মুখের ভেতর হালকা জ্বালাপোড়া করতে পারে। কারো কারো পেটে ব্যথা, গলা জ্বলা ও ডাইরিয়াও হতে পারে।

96
পবিত্র মাহে রমজান শুরু হয়ে গেল। ইফতার নিয়ে তাই আমাদের প্রস্তুতির শেষ নেই। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় পরিবারের সবাই একসাথে টেবিলে বসে দোয়া করা, কখন আযান পড়বে তার জন্য অপেক্ষা করা এবং আযান পড়ার পর আল্লাহ্‌র নামে রোজা খোলা- অসম্ভব সুন্দর ও শান্তিময় একটি ব্যাপার। একটি মাস জুড়ে রোজা রেখে তারপর আসে ঈদ-উল-ফিতর। এই সংযমের মাসে যেন আল্লাহ্‌র একটা রহমত সবার উপর থাকে।

ইফতারটাও একটা রহমতের ছোঁয়া কিন্তু। আর এই ইফতার নিয়েই যত কথা। অনেকেই রোজা খুলে গোগ্রাসে ভাঁজা-পোড়া গিলে গ্যাসের সমস্যায় চরমভাবে পড়েন। মনে হয় যেন পেয়েছি তো খেয়ে নেই! “ভাঁজাভুজি ছাড়া আবার রোজা হয় নাকি!”-এই কথা বলতে শুনেছি অনেককেই। হ্যাঁ, একটু ভাঁজাভুজি থাকবেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে অসুস্থ হওয়া!

ইফতারে সব সময় চেষ্টা করবেন স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে যা কিনা পূর্ণ নিউট্রিশন এনে দেবে, সাথে শরীরটাকেও হালকা রাখবে। পেট বোঝাই করে ভাঁজা-পোড়া না খেয়ে লাইট আর হেলদি খাবার খাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ!

কি খাবেন তাহলে? চলুন জেনে নেই।

খেজুর

খেজুরে আছে প্রোটিন, মিনারেলস, ভিটামিন এ, বি১, বি২ ও বিবি। এটি আমাদের সার্কুলেটরি সিস্টেম-কে তরান্বিত করে হার্ট ভালো রাখে, হাড্ডি মজবুত করে এবং ত্বক ও দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। খেতেও খুব সুস্বাদু এই খেজুর।

জুস

রোজা খুলে বিভিন্ন ধরনের ফলের যেমন, অরেঞ্জ, ম্যাংগো, অ্যাপেল, মিক্সড ফ্রুট ইত্যাদি জুস খাওয়াটা কিন্তু খুবই স্বাস্থ্যকর। আপনি চাইলে ব্লেন্ড করে বানিয়েও নিতে পারেন, আবার ভালো মানের জুস কিনেও নিতে পারেন। ঠাণ্ডা জুস খেলে পেটও ঠাণ্ডা থাকে। ভালোও লাগে। ডিহাইড্রেশন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

হারবাল টি

ইফতারের পর কিন্তু চাইলে বিভিন্ন ধরনের হারবাল টি যেমন, তুলসী চা, লেবু চা, আদা চা, পুদিনার চা, গ্রীন টি ইত্যাদি খেতে পারেন। এই প্রাকৃতিক খাদ্য উপকরণগুলোর বহুমাত্রিক গুনাগুণের জন্য এদের থেকে তৈরি চা গুলোও স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারী।

স্যুপ

স্যুপ কিন্তু খুবই ইফেক্টিভ একটি হেলদি অপশন ইফতারের জন্য। মাশরুম, টমেটো, গারলিক, প্রন, চিকেন, ভেজিটেবল ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে খুব সহজেই আপনি স্যুপ বানিয়ে নিতে পারেন। স্যুপ-এ থাকে প্রোটিন, মিনারেলস, ফাইবার, ভিটামিনস, লো-ক্যালরি এবং লো-ফ্যাট যা পুষ্টি দেয় শতভাগ আর সুস্বাদু তো বটেই।

চিড়া

চিড়া কিন্তু খুব উপকারী একটি খাদ্যদ্রব্য। পানির অভাব দূর করে পেটকে ঠাণ্ডা রেখে ক্ষুধা মেটাতে চিড়ার জুড়ি নেই। পানিতে ভিজিয়ে রেখে বা চিড়া বিভিন্নভাবে রান্না করে খুব সুস্বাদু ইফতার আইটেম কিন্তু বানিয়ে ফেলা যায়।

এছাড়াও ডিম, ময়দা, চাল, ডাল, আলু, বাতাম, মধু ইত্যাদি দিয়েও খুব সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর ইফতার আইটেম তৈরি করে নিতে পারেন অনায়াসেই। আর ভাঁজাভুজি খুবই অল্প তেলে করতে চেষ্টা করবেন। সব সময় মুখের মজাটাকে প্রাধান্য দিলে স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার চান্স কিন্তু থেকে যায়। তাই ব্যাল্যান্সড একটা রুটিন ফলো করুন যেখানে খাবারটা স্বাদ ও স্বাস্থ্য দুটোই রক্ষা করবে।

তবে একটা বিষয় মনে রাখবেন- ইফতারের খাদ্যসামগ্রী শুধু মাত্র সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হলেই চলবে না, সেই সাথে হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত। এই সময়ে বাজারে প্রচুর পরিমাণ ভেজাল মিশ্রিত ইফতার সামগ্রী বিক্রি হয়ে থাকে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই, যেকোনো খাবার কেনার সময় সতর্ক থাকতে হবে।

99
সব শিশুদের মধ্যে একটা সাধারণ সমস্যা দেখা যায়। সেটা হলো খাবার নিয়ে বায়নাক্কা করা! কোনো কোনো শিশু নিজের পছন্দের খাবার ছাড়া আর কিছুই খেতে চায় না। আবার কোনো শিশু সব কিছুতেই নাক সিঁটকায়। কেউ আছে খায় বটে, তবে পুরো খাবার না খেয়েই উঠে পড়ে। মোটকথা, বেশির ভাগ বাচ্চারাই খাবার নিয়ে ঝামেলা করে!

বাচ্চা কেন খেতে চায়না?

বেশির ভাগ মায়েরই অভিযোগ—বাচ্চা খেতে চায় না। কিছু কিছু রোগের কারণে শিশুদের রুচি কমে যেতে পারে, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অত জটিল কিছু নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এ বিষয়ে মা-বাবার উৎকণ্ঠা থাকে। হয়তো শিশু তার রুচি ও পরিমাণ অনুযায়ী ঠিকই খাচ্ছে, কিন্তু মা-বাবা তাতে তৃপ্ত হচ্ছেন না। শিশুর আসলে কোনো রোগ নেই, সমস্যাটা তার মনে। বয়স অনুযায়ী মানসিক ও শারীরিক বিকাশ অন্য বাচ্চাদের মতো হলে শিশুর খাওয়া নিয়ে মা-বাবার দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।

শিশুর প্রতি মনোযোগ কমে গেলেও সে খাওয়া কমিয়ে দিতে পারে। সে যখন দেখে যে ঠিকমতো না খেলে বা খাবার নিয়ে যন্ত্রণা করলে তাকে নিয়ে সবাই অস্থির হয়ে পড়ছে, তখন খাবার নিয়ে বায়না ধরে।

জোর করে খাওয়ানোর ফলে শিশুর মধ্যে প্রচণ্ডভাবে খাদ্য অনিহা দেখা দেয়।অনেক সময় শক্ত খাবার, অপছন্দের খাবার এবং একই খাবারের পুনরাবৃত্তি করে খাওয়ালে খাবারের প্রতি শিশুর অনীহা তৈরি হয় এবং সে খাবার দেখলে ভয় পায় বা বমি করে ফেলে।

ছোট শিশুদের ঘ্রাণেন্দ্রিয় বেশ স্পর্শকাতর। খাবারের গন্ধ এবং রং যদি ভালো না হয় বাচ্চারা সে খাবার খেতে চায় না, মুখ থেকে ফেলে দেয়। অনেক সময় শরীরের জিনঘটিত কারণে কিছু কিছু খাবারের গন্ধ বা স্বাদ বাচ্চারা সহ্য করতে পারে না। এর ফলে তারা সব ধরনের খাবার খেতে চায় না, বেছে বেছে খায়।

হজম প্রক্রিয়াতে সমস্যা থাকায় অনেক বাচ্চার খিদে কম পায় এবং খাবার ইচ্ছা থাকে না। এ কারণেও অনেক বাচ্চা খাবার নিয়ে বায়না করতে পারে।যেসব শিশুদের ঘনঘন মুড পরিবর্তন হয়, তারা খাবার নিয়ে সমস্যা করে বেশি। নিজের স্বাধীন মেজাজ বোঝানোর জন্য বা বজায় রাখার জন্য অনেক শিশু খাবার নিয়ে বায়না ও জিদ করতে থাকে।

শিশুর খাবার না খেতে চাওয়ার পেছনে অনেক সময় সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার কাজ করে। যেসব বাচ্চার মা অতিরিক্ত আদর বা শাসন করে, সে বাচ্চাদের মধ্যে খাবার নিয়ে ঝামেলা করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

অনেক মা শিশুকে নিয়মমাফিক খাওয়ানোর মাঝে কান্নামাত্রই মায়ের দুধ খাওয়ান বা অন্যান্য খাবার খাওয়ান। এ অনিয়মিত খাবারের দরুন শিশুর খাবারের রুচি ও ক্ষিধা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সে খাবার খেতে অনীহা প্রকাশ করে।

কোনো কোনো বাড়িতে শিশু নিজের খাবার সময় ছাড়া অন্য সময়ও পরিবারের অন্য সদস্য বা আত্মীয়স্বজন সবার সঙ্গে খায়। আবার অনেক মা তার শিশু সাতটার সময় পেটভরে খায়নি বলে আটটার সময় তাকে আরেকবার খাবার দেন, ৯টার সময় আবার চেষ্টা করেন এবং এমনিভাবে সারা দিন ধরেই প্রচেষ্টা চলতে থাকে। এসব অভ্যাসই শিশুর খাবারের প্রতি অনিহা তৈরি করে।

তবে কিছু বাচ্চা আছে যারা, সত্যি সত্যি খায় না। বৃদ্ধিটাও ঠিকমতো হয় না। তাহলে দেখতে হবে যে বাচ্চাটি অপুষ্টির শিকার হচ্ছে কি না বা তার রক্তশূন্যতা হয়েছে কি না? না কি বাচ্চার ঘন ঘন কোনো সংক্রমণ হচ্ছে, যার জন্য খাওয়ায় রুচি কমে যাচ্ছে। যদি শিশুটির রক্তশূন্যতা থাকে, অপুষ্টি থাকে—বাচ্চাটি বসে থাকবে, খুব বেশি সচল থাকবে না। তাহলে এগুলো দেখতে হবে। পাশাপাশি কৃমি আছে কি না দেখতে হবে। কিছু বাচ্চার থ্যালাসেমিয়া, অ্যাজমা থাকতে পারে, কিংবা প্রস্রাবে সংক্রমণ আছে; তখন বাচ্চাটিকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সে যে খায় না, তার কারণ কী খুঁজতে হবে। শুধুই কি ক্ষুধামান্দ্য নাকি সঙ্গে আর কিছু রয়েছে, সেসব দেখতে হবে। দেখে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে।

বাচ্চাকে জোর করে খাওয়ানোর কুফল

গবেষণায় বলা হয়, জোর করে খাওয়ানো হলে বরং ভালোর চেয়ে মন্দটাই বেশি হতে পারে। জোর করে খাওয়ানোতে কোনো উপকার হয় না বললেই চলে।এতে শিশুর স্বাভাবিক খাওয়ার অভ্যাস বাধাগ্রস্ত হয় এবং অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।

বাচ্চার নিজের যদি খাওয়ার ইচ্ছে না থাকে, সেক্ষেত্রে জোর করে লাভ নেই। বরং, জোর করে খাওয়ালে মুখের মধ্যেই অনেকসময় খাবার রেখে দেয় বাচ্চারা। সেই খাবার গলায় আটকে যাওয়ার ভয় থাকে। এমনকী, শ্বাস নিতেও অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

জোরজবরদস্তি খাবার খাওয়ালে বাচ্চা সঠিক পুষ্টি পায় না। তাই বাচ্চা যাতে সঠিক পুষ্টি পায়, তার জন্য তাকে নিজেকে খেতে দিন ইচ্ছেমতো। অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও খাবার খাওয়ালে বাচ্চারা অনেকসময় বমি করে দেয়। এতে বাচ্চার শরীর খারাপ হয়ে যেতে পারে।  জোর করে খাবার খাওয়ালে বাচ্চার মনে সেই নিয়ে ভয় সৃষ্টি হতে পারে। এমনকী, এই নিয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার করা শুরু করতে পারে।

রোগা চেহারা মানে বাচ্চা সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে না, গোলগাল হলে তবে তার স্বাস্থ্য ঠিকঠাক, এ ধারণা আদতে ভুল৷ বরং মোটাসোটা বাচ্চারাই ‘চাইল্ড ওবেসিটি’তে আক্রান্ত৷ ছোটবেলায় বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত মোটা হলে বড় হয়ে হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে যায়৷ তাই সন্তানের যত্ন নিন ঠিকই, কিন্তু বেশি খাইয়ে মোটা করবেন না৷

প্রায়শই দেখা যায় যে বাবা মায়েরা ছেলেমেয়েদের বেশি করে খাওয়াতে চাইছেন বা ওদের জোর করছেন যাতে ওরা প্লেটে খাবার ফেলে না রাখে। বাবা মায়েরা এগুলো বাচ্চাদের ভালো চেয়েই করেন কিন্তু অসুবিধে হল এই ভাবে জোর করে খাওয়ানোর ফলে বাচ্চারা নিজেদের শরীরের প্রয়োজন এবং খিদে নিজেরাই বুঝতে পারে না। বাচ্চারা এর ফলে খাবারকে হোমটাস্কের মত করে গিলতে শুরু করে। অথচ খুব দরকারি হচ্ছে ভালোবেসে খাবার খাওয়া, জোর করে গিলে নয়। আর এমন ভাবে জোর করে খাইয়ে গেলে ওজনও বাড়বে না আর ব্যাপারটা স্বাস্থ্যকরও নয়।
জোর করে খাবার খাওয়ালে বাচ্চার  খাবার নিয়ে ভীতি কাজ করতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শিশুর বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশে সমস্যা হয়, কখনো বা তারা ওজন হারাতে থাকে। বারবার খাবারের জন্য তাগিদ দিলে শিশু খাবারের প্রতি অনীহা দেখাবে। খাওয়া নিয়ে একবার জোর করে খাওয়ালে পরে যখনই তাকে খাওয়াতে চাইবেন তখন সে ভয়ে আরও কম খাবে। খাওয়ার প্রতি তার কোনো উৎসাহ থাকবে না।

পরিশিষ্ট

বাচ্চার খাবারের ক্ষেত্রে এসব দিক লক্ষ্য রাখার সাথে সাথে সন্তান ঠিকমতো বেড়ে উঠছে কি না, তাও নজরে রাখতে হবে। যদি দেখা যায় যে বাচ্চা সমবয়সীদের মতোই বাড়ছে, ওজনও ঠিক আছে; তাহলে বুঝতে হবে তার শরীরে পুষ্টির কোনো ঘাটতি নেই, অর্থাৎ আপনার শিশুর খাওয়াদাওয়া স্বাভাবিকই আছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখা যায়, বাচ্চার ওজন বয়সের তুলনায় বেশি অথচ মা-বাবার অভিযোগ—শিশুটি একদমই খায় না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মা-বাবাকে বুঝতে হবে যে শিশু যদি ঠিকঠাক না খেত, তাহলে তার ওজন বেশি হতো না। আর এরপর যদি জোর করে শিশুটিকে খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা শিশুটির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যদি দেখা যায় যে বাচ্চা ঠিকঠাক বাড়ছে না, বয়সের তুলনায় ওজন অনেক কম অথবা ওজন বয়সের তুলনায় অনেক বেশি, তাহলে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

100
সব পিতামাতাই সন্তানের মুখ থেকে প্রথম শব্দ শোনার জন্য অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন।  তাই সন্তানের কথা বলায় দেরী হলে তা অত্যন্ত দুশ্চিন্তা ও হতাশার কারণ হয়। তবে ভালো খবর হচ্ছে বেশিরভাগ শিশুরাই দেরীতে কথা বলা শুরু করে দুই বছর বয়সের মধ্যে কোন সমস্যা ছাড়াই। প্রতি চারজনে একজন শিশু বিলম্বে কথা বলা শুরু করে। এদের বেশিরভাগেরই বিশেষ সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। শিশুর কথা বলার বিষয়ে এবং কখন একজন বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে আজকের আলোচনা।

শিশুর কথা বলা নিয়ে কখন চিন্তিত হবেন

শিশু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জিনিস শেখে। যেমন উপুড় হওয়া, বসা, হামাগুড়ি দেয়া। একইভাবে সে একটি নির্দিষ্ট বয়সে তারা কথা বলা শুরু করে। এই বয়স এর পর যদি শিশুরা কথা বলা শুরু না করে তাহলে অবশ্যই বাবা-মা সচেতন হতে হবে। কথা বলা শুরুর বয়সী শিশুর মধ্যে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশের ভাষা ব্যবহারে সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত ছেলে শিশুদের তুলনায় মেয়ে শিশুরা দ্রুত কথা বলতে শেখে। যদি কোনো শিশু ১৮ থেকে ২০ মাস পার হওয়ার পরও দিনে ১০টির কম শব্দ বলে বা ২১ থেকে ৩০ মাস পার হওয়ার পর দিনে ৫০টিরও কম শব্দ বলে তাহলে বুঝতে হবে সমস্যা আছে।

যখন শিশুর সাহায্য প্রয়োজন

প্রথমেই মা বাবা হিসেবে আপনাদের যদি কোন কিছু অস্বাভাবিক লাগে তবে ডাক্তারকে জানান। কারণ আপনারাই আপনাদের বাচ্চাকে সবচাইতে ভালো বুঝবেন। যদি আপনার বাচ্চার মধ্যে কথা বলার ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণ গুলো দেখেন সে ক্ষেত্রেও ডাক্তারের সাথে আলোচনা করা নেয়া উচিত।

১২ মাসের মধ্যে

১ বছর বয়সেও শিশু যখন অস্ফুট বাক্য বলে না বা অন্যদের কথার সাথে সাথে তা অনুকরণ করার চেষ্টা করে না বা প্রতিক্রিয়া দেখায় না তখন বুঝতে হবে যে কোন সমস্যা আছে তার।

বাচ্চা যদি “মামা” বা “ডাডা” জাতীয় শব্দ উচ্চারণ না করে।

যদি কোন রকম ইঙ্গিত না করে- যেমন, হাত বা মাথা নাড়ানো বা আঙ্গুলের সাহায্যে কোন কিছু নির্দেশ করা
“না” বা “টাটা” জাতীয় শব্দ বুঝতে না পারা বা তাতে সাড়া না দেয়া।
প্রিয় কোন জিনিসের দিকে নির্দেশ না করা।

১৫ মাসের মধ্যে কোন শব্দ না বলা।

১৮ মাসের মধ্যে

১৮ মাস বয়সেও যদি সে অন্তত ৬ টি শব্দ বলতে না পারে।
শরীরের কোন অঙ্গের নাম বললে যদি তা নির্দেশ করতে না পারে।
যদি তার প্রয়োজনে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে না পারে বা কোন কিছু নির্দেশ করে দেখাতে না পারে।

১৯-২৪ মাসের মধ্যে

যদি এ সময়ের মধ্যে বাচ্চার শব্দভাণ্ডার দ্রুত বাড়তে না থাকে (অন্তত প্রতি সপ্তাহে ১ টি নতুন শব্দ না শেখে)

২৪ মাসে

২ বছর বয়সেও যদি সে খুব অল্প শব্দ বলতে পারে এবং যদি সে খুব একটা কথা না বলে,
কোন কিছু নির্দেশ করলে যদি সাড়া না দেয়।
কারো কথা বা আচরণ যদি নকল না করে।
বইয়ে বা কোন ছবি দেখিয়ে নাম বললে যদি তা নির্দেশ করতে না পারে।
দুটো শব্দ যদি জোরা লাগাতে না পারে।
ঘরের সাধারণ জিনিস পত্রের ব্যাবহার যদি না যানে। যেমন টুথব্রাশ বা কাঁটা চামচ

৩ বছর বয়সে

৩ বছর বয়সেও যদি তার উচ্চারণগুলো অন্যরা বুঝতে না পারে তখন শিশুর  সাহায্য প্রয়োজন বলে ধরে নিতে হবে।কোনো শব্দ অর্ধেক উচ্চারণ করা, যেমন – মোবাইলকে ‘মোবাই’ বলা। নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত এরকম ভুল হওয়া স্বাভাবিক, ভুল শুধরে দেয়ার পরও যদি বড় হয়ে বাচ্চারা এভাবে কথা বলে তাহলে স্পিচ থেরাপি দিতে হয়। কথা শুনে তা বুঝতে না পারা, দিক চিনতে না পারা, প্রশ্নের উত্তর না দেয়া, কোনো তথ্য শুনে তা বুঝে নেয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে।

শিশুর কথা বলতে শুরু করার টাইমলাইন।

শিশুর দেরিতে কথা বলার বিভিন্ন কারন
বংশগত কারণে অনেক সময় শিশুরা দেরিতে কথা বলা শুরু করতে পারে।মস্তিষ্কের জন্মগত ত্রুটি, প্রসবকালীন জটিলতা, ভীষণ জ্বর, খিঁচুনি, জীবাণু সংক্রমণ ইত্যাদি শিশুর কথা বলার বাধা হতে পারে। সঠিক সময়ের পূর্বেই জন্মগ্রহণ করা, কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা এবং জন্মের সময়ে চিকিৎসাগত কোন সমস্যার কারণে শিশুর ভাষার দক্ষতা অর্জনে বিলম্ব হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে কানের সংক্রমণে আক্রান্ত হয় যে শিশুরা তাদের কথা বলা শুরু করতে দেরি হয়। যদি শিশুর ১ বছর বয়সের মধ্যে তার কানের ভেতরে তরল জমা থাকে সংক্রমণের কারণে তাহলে তার শব্দ শুনতে সমস্যা হবে এবং সে দেরীতে কথা বলা শুরু করবে। জিহ্বার ত্রুটির কারণে  অনেক শিশু ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না। শিশুর মানসিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও শিশু দেরিতে কথা বলা শেখে।

 
শিশুর সামনে অত্যধিক উচ্চস্বরে কথা বললেও নার্ভাসনেসের কারণে তাদের কথা জড়িয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। অস্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশ শিশুর যথাসময়ে কথা বলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। পরিবারে সদস্যদের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে শিশুর কথা বলা বিলম্বিত হতে পারে। এমনকি দীর্ঘ সময় কথা না বলেও থাকতে পারে।

মেয়ে শিশুর তুলনায় ছেলে শিশুদের কথা বলায় দেরী হয় বেশি এবং তা হতে পারে ১/২ মাসের ব্যবধানে। ১৬  মাস বয়সে ছেলে শিশুরা গড়ে ৩০ টি শব্দ বলতে পারে যেখানে মেয়ে শিশুরা গড়ে ৫০ টি শব্দ বলতে পারে।

যারা কিছুদিন আগে জন্মগ্রহণ করে অর্থাৎ প্রিম্যাচিউর শিশুদের কথা বলা শুরু হতে দেরি হয়। কারণ গর্ভাবস্থায় ৪০ সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই অর্থাৎ ৩৭তম সপ্তাহে বা তার আগেই প্রিম্যাচিউর বেবির জন্ম হয়। ফলে প্রিম্যাচিউর বেবি গর্ভের শেষ মাসটির গুরুত্বপূর্ণ মানসিক বিকাশ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই তারা দেরিতে কথা বলে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রিম্যাচিউর শিশুর উন্নয়নের হিসাব করার সময় তার জন্ম তারিখ নয় বরং তার যখন জন্মানোর কথা ছিল সেই তারিখটি থেকে গণনা শুরু করতে হবে। ৩ মাস পূর্বে জন্মগ্রহণ করা শিশুর কথা বলতে দেরী হচ্ছে মনে হতে পারে কিন্তু সে আসলে ঠিক ভাবেই বেড়ে উঠছে। যমজ শিশু অন্যদের তুলনায় দেরিতে কথা বলে।

শিশুর দেরীতে কথা বলার সাথে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের সম্পর্ক

স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের মতো যন্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের দেরিতে কথা বলার যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন কানাডার গবেষকরা।তারা বলছেন, শিশুরা যতো বেশি সময় স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের মতো স্ক্রিন সংবলিত যন্ত্র ব্যবহার করবে, ততোই তাদের দেরিতে কথা বলার ঝুঁকি বাড়বে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত পেডিয়াট্রিক একাডেমিক সোসাইটিজ মিটিংয়ে এই গবেষণার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। গবেষকদলের এক সদস্য কানাডার অন্টারিওর ‘দ্য হসপিটাল ফর সিক চিলড্রেন’ হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ক্যাথেরিন বার্কেন বলেন, ‘ট্যাব ও স্মার্টফোনের মতো যন্ত্র এখন সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের দেরিতে কথা বলা শুরুর একটি যোগসূত্র আমরা পেয়েছি।’

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের স্মার্টফোন বা ট্যাবের মতো যন্ত্রের ব্যবহার যদি ৩০ মিনিট করে বাড়ে, তবে তাদের দেরিতে কথা বলা শুরুর ঝুঁকি বাড়ে ৪৯ শতাংশ।

শিশু দেরীতে কথা বললে কি করতে হবে?

বাচ্চাদের কথা বলায় সমস্যা হতেই পারে, তবে যত কম বয়সে সমস্যাটি ধরা পড়বে, তত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব। যদি আপনার সন্তানের কথা বলায় কোনো ধরনের সমস্যা চোখে পড়ে, দেরি না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। বিশেষ করে তোতলানো, কম কথা বলা, অক্ষরজ্ঞান সম্পর্কিত সমস্যাগুলো অবহেলা করা উচিৎ নয় একদমই।

শিশুর আড়াই বছর বয়সেও যদি সঠিকভাবে শব্দ বলতে না পারে তাহলে তার চিকিৎসকের সাহায্য প্রয়োজন। স্পীচ থেরাপির মাধ্যমে বা কানের সংক্রমণের নিরাময় বা শ্রবণ সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে চিকিৎসক তার নিরাময়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
 
যেসব শিশু দেরিতে কথা বলে বা ঠিকমতো কথা বলা শিখছে না তাদের ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজে একটি নির্দিষ্ট শব্দের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে হবে। যেমন- শিশুকে গোসল করানোর সময় `গোসল` শব্দটির ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আবার বাইরে যাওয়ার সময় `যাব` শব্দটি বারবার বলে শিশুকে বোঝাতে হবে।

শিশু যদি ইশারার সাহায্যে যোগাযোগ করতে চায়, তবে সেই ইশারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং অর্থবোধক শব্দ যোগ করে তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। যেমন- শিশু বিদায় জানাতে হাত বাড়ালে আপনি বলুন `বাই বাই` অথবা `টা টা`।

শিশুর সবচেয়ে পছন্দের জিনিসটি একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় রেখে (শিশুর নাগালের বাইরে) তাকে জিনিসটি দেখান। যখন সে ওটা নিতে চাইবে বা আপনার হাত ধরে টানবে, তখন আপনি জিনিসটির নাম একটু স্পষ্টভাবে বলুন। যেমন- যদি `গাড়ি` হয় তবে বলুন `ও, তুমি গাড়ি খেলতে চাও?` অথবা `এই যে তোমার গাড়ি।`

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু মূল শব্দের আগে অনেক ক্ষেত্রে আগে প্রতীকী শব্দ ব্যবহার শুরু করে। তাই এ ক্ষেত্রে আপনিও প্রাথমিকভাবে প্রতীকী শব্দ ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দিন। যেমন- গাড়ি বোঝাতে পিপ্পিপ্। বেড়াল বোঝাতে মিঁউ মিঁউ ইত্যাদি। যেসব শিশু মাঝেমধ্যে দু-একটি শব্দ বলছে, তাদের শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধির ওপর জোর দিন। যেমন- শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (মাথা, হাত, পা), বিভিন্ন জিনিসের নাম (বল, গাড়ি, চিরুনি), বিভিন্ন ক্রিয়াবাচক শব্দ (খাব, যাব, ঘুম) ইত্যাদি শেখান।

দুই বছরের বড় শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত এবং অতি পছন্দের ৮-১০টি ছবি নিয়ে একটি বই তৈরি করুন। প্রতিদিন একটু একটু করে বই দেখিয়ে শিশুকে ছবির মাধ্যমে নাম শেখাতে পারেন। যেসব শিশু চোখে চোখে তাকায় না এবং মনোযোগ কম, আবার কথাও বলছে না, তাদের ক্ষেত্রে আগে চোখে চোখে তাকানো ও মনোযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিন। যেমন- লুকোচুরি খেলা, কাতুকুতু দেওয়া, চোখে চোখে তাকিয়ে শিশুর পছন্দের ছড়াগান অঙ্গভঙ্গি করে গাওয়া।

কি করবেন না

কথা বলার জন্য অত্যধিক চাপ যেমন- `বল, বল` ইত্যাদি করা যাবে না।
শিশুকে অপ্রাসঙ্গিক অথবা অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন।
একসঙ্গে অনেক শব্দ শেখানোর চেষ্টা করবেন না, এতে শিশু কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।
শিশুকে কথা না বলতে পারা, বা ভুলভাবে বলার জন্য বকা দেয়া যাবে না এতে শিশুর মধ্যে ভয় দানা বাঁধে এবং পরে সে কথা বলতে অনাগ্রহী হয়ে যেতে পারে। তার আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।
স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি কিছুটা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যবস্থা। সঠিক সময়ে এই পদ্ধতির কৌশলগত প্রয়োগ হলে শিশু কথা এবং যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমে উন্নতি করবে।অনেক মা-বাবাই ভাবেন, অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুর সঙ্গে তাঁদের পিছিয়ে পড়া শিশুর খেলার পরিবেশ করে দিলেই আপনা আপনিই কথা শিখে যাবে। কিন্তু মনে রাখবেন, এমনটা না-ও হতে পারে। তাই নিজেরা বাড়িতে চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে স্পিচ থেরাপির সহায়তা নিন।

আজকাল অনেকেই বলেন দেড় দুই বছর পার হয়ে যাচ্ছে, তারপরও শিশু কথা বলছে না। অনেক শিশুর এই সমস্যা তিন বছর পর্যন্তও স্থায়ী হচ্ছে। চিন্তিত হয়ে অনেক বাবা-মাই ছোটেন চিকিৎসকের কাছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর সঙ্গে যতো বেশি পরিমান কথা বলা হবে, ততই সে দ্রুত কথা বলা শিখবে। আজকাল শিশুরা বেড়ে উঠছে একক পরিবারে। যেখানে বাবা-মা ছাড়া তার সঙ্গে কথা বলার কেউ থাকে না। আবার বাবা-মাও নিজ নিজ কাজে এত বেশি ব্যস্ত থাকেন যে  ছোট শিশুটির সঙ্গে খুব বেশি কথা বলার সময় পান না। একারণেও শিশুরা দেরীতে কথা বলতে শেখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব শিশুর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয় এবং তাদের সঙ্গে বেশি কথা বলা হয় তারা অন্য শিশুদের তুলনায় দ্রুত কথা বলা শেখে। তাদের সঙ্গে খেলাচ্ছলে কথা বললে তারা খুশি হয়, দ্রুত সাড়া দেয়। তাই যত বেশী সম্ভব আপনার বাচ্চার সাথে কথা বলুন।

102
আপনার বাচ্চার জন্য সলিড খাবার খাওয়া শুরু করা একটা বড় পদক্ষেপ। যখন বাচ্চার বয়স ৬ মাস হয়ে যায় তখন বাচ্চার কিছু আচরণ দেখে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার শিশু সলিড খাবার খাওয়ার জন্য তৈরী কিনা৷ যে শিশু সলিড খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে সে সাধারণত এই কাজগুলি করতে পারে:

* সে মাথা উপরদিকে তুলতে পারে৷ সলিড খাবার খাওয়ার জন্য বাচ্চার দৃঢ়ভাবে মাথা সোজা করে রাখতে পারাটা জরুরী।

* হেলান দেওয়ার সুবিধা পেলে, সে ভালো করে বসতে পারে৷ প্রথমে হয়ত আপনার শিশুকে কোলে নিয়ে বসাতে হবে৷ যখন বাচ্চা আরেকটু ভালোভাবে বসতে শিখবে তখন তাকে উঁচু চেয়ারে বসাতে পারেন।

* সে চিবানোর মত মুখভঙ্গী করবে৷ আপনার শিশু তার মুখের ভিতরে খাবার নিয়ে তা মুখের পেছনে নিতে ও গিলতে পারা জানতে হবে। বাচ্চা যখন ভালভবে গিলতে শিখবে তখন খেয়াল করে দেখবেন তার মুখে থেকে লালা কম ঝরবে। এ সময় বাচ্চার একটি বা দুটি দাঁতও উঠে যেতে পারে।

* বাচ্চার ওজন ঠিকভাবে বাড়বে। বেশীরভাগ বাচ্চাই জন্মের দ্বিগুণ ওজন লাভ করার সাথে সাথে সলিড খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। বাচ্চার ৬ মাস বয়স নাগাদ বাচ্চার ওজন জন্মের প্রায় দ্বিগুণ হয়।

* আপনি কী খাচ্ছেন সেই ব্যাপারে সে উৎসুক হবে৷ যখন শিশুরা আপনার খাবারের দিকে তাকায় ও সেদিকে হাত বাড়িয়ে দেয় তার মানে সে শক্ত খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত৷

* তার শরীরের ওজন স্বাস্থ্যকর৷ বেশির ভাগ শিশুর জন্মের সময় যা ওজন থাকে তার দ্বিগুণ ওজন হয়ে গেলে তারা সলিড খাবার খাওয়ার জন্য তৈরী হয়ে যায়৷ এটা সাধারণত প্রায় 6 মাস বয়সে হয়৷

* বাচ্চা খাবারের দিকে তাকাতে, তা মুঠি করে ধরতে এবং নিজের মুখে দিতে পারে।

৬ মাস বয়সের আগেই আপনার শিশুর এই লক্ষণগুলি হয়ত আপনার চোখে পড়ে৷ সেক্ষেত্রও বিশেষজ্ঞদের মতে তাকে সলিড খাবার খেতে দেওয়ার আগে তার ৬ মাস বয়স হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা নিরাপদ৷ ততদিনে তার হজমশক্তি আরো মজবুত হয়ে যায়৷ তার অর্থ এই যে তার পেটের গোলমাল বা খাবারে খারাপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে৷

এ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বাচ্চার খাবার থেকে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা ও কম থাকে।  বিশেষ করে যদি পরিবারের কারো অ্যালার্জির বা coeliac disease এর ইতিহাস থাকে তবে ৬ মাসের আগে কোনভাবেই সলিড শুরু করা উচিত নয়। শস্যের গ্লুটেনের কারণে coeliac disease বাড়তে পারে।

কিছু কিছু লক্ষণ দেখে অনেকেই মনে করেন বাচ্চা সলিড খাওয়ার জন্য তৈরি, যেমন-

হাতের মুঠি চাবানো

রাতের বেলা জেগে যাওয়া।

খাবারের জন্য কান্না কাটি করা


এসব আচরণ বাড়তে থাকা সব বাচ্চাই করে। এটার মানে এই নয় যে সে সলিড খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।আপনি যদি বাচ্চাকে ৬ মাসের আগেই সলিড খাওয়ানোর পরিকল্পনা করেন তবে এর আগে অবশ্যই একবার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেয়া উচিত।

তবে মনে রাখতে হবে বাচ্চা যদি ৬ মাস বয়সে সলিড খাবার খেতে না চায় তাহলে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নাই। শুধুমাত্র বুকের দুধ খেয়েই ৯-১২ মাস পর্যন্ত বাচ্চার পর্যাপ্ত বৃদ্ধি হতে পারে। কখনো কখনো ৬ মাস বয়সের পর বাচ্চা মায়ের দুধ থেকে যে জিঙ্ক ও আয়রন পায় তা তার  জন্য পর্যাপ্ত হয়না।  সে ক্ষেত্রে বাচ্চা বাড়তি খাবার থেকে সে চাহিদা পূরণ করে। বাচ্চা যদি সলিড খেতে না চাই তবে সে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বাচ্চার বৃদ্ধির দিকে নজর রাখুন এবং তাকে তার জন্য উপযুক্ত সলিড খাবার দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।

103
ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা নিয়ম করে রোজা রাখেন পুরো মাসজুড়ে। অসুস্থ থাকলেও সহসা রোজা ভাঙেন না। তবে যারা ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার, শ্বাসকষ্ট, হার্টের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এসব সমস্যায় ভুগছেন, তাদের সমস্যা হবার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এলে যেহেতু ডায়াবেটিস রোগীদের সমস্যা হয়, রোজা রাখার ব্যাপারে তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস রোগীরা খাদ্যাভ্যাস এবং ওষুধ সেবনবিধিতে কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমে নিরাপদে রোজা রাখতে পারবেন। অবশ্যই রোজা শুরু করার আগে নিজের ডাক্তারের সাথে কথা বলুন এবং তার পরামর্শ মেনে চলুন।

ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখার বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন প্রফেসর এবিএম আবদুল্লাহ, ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। তার ভাষ্যে, রোজা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রোগীদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ ও রহমতস্বরূপ।

ডায়াবেটিক রোগীরা সঠিক নিয়মে রোজা রাখলে নানা রকম উপকার পেতে পারেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, আর রোজা হতে পারে তার এক অন্যতম উপায়। এতে সহজেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ ও সুন্দরভাবে করা যায়।

যারা ইনসুলিনের উপর নির্ভরশীল নন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা হতে পারে আদর্শ চিকিৎসা ব্যবস্থা। যারা ইনসুলিন নেন তাদের ক্ষেত্রেও রোজা অবস্থায় ওষুধের মাত্রা কমাতে সহায়ক। শুধু রক্তের গ্লুকোজই নয়, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণেও রোজা মোক্ষম। এর সঙ্গে সঙ্গে রোজা রোগীকে সংযম, পরিমিতিবোধ ও শৃংখলার শিক্ষা দেয়, যা ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় অপরিহার্য।

নিরাপদে রোজা রাখতে ডায়াবেটিস রোগীরা মেনে চলতে পারেন কিছু টিপস-

১) অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে রোজা রাখুন। কোনোভাবেই নিজের উদ্যোগে ওষুধ বা ওষুধের ডোজ পাল্টাবেন না।

২) সেহেরি বাদ দেবেন না কোনোভাবেই। কোনো কারণে সেহেরিতে না খেতে পারলে সেদিন রোজা না রাখাই নিরাপদ।

৩) ইফতারের পর থেকে সেহেরি পর্যন্ত ৮ গ্লাস পানি পান করুন। 

৪) রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত চেক করুন। অনেকের বাড়িতেই গ্লুকোমিটার (ব্লাড গ্লুকোজ পরিমাপের ছোট যন্ত্র) থাকে। তা ব্যবহার করুন।

৫) রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি, কম বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে রোজা ভাঙাই আপনার জন্য নিরাপদ। এ অবস্থায় দ্রত ডাক্তারের সাথে দেখা করুন। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা চার মিলিমোল/লিটারের কম বা ১৬ মিলিমোল/লিটারের বেশি হলে আপনার রোজা ভাঙা দরকার। রক্তের গ্লুকোজ কমে গেলে আপনার শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন-

- শরীর কাঁপা

- কোনো কারণ ছাড়াই ঘেমে যাওয়া

- বুক ধড়ফড় করা

- প্রচণ্ড ক্ষুধা

- মাথা ঘোরা

- বিভ্রান্তি


শরীরে পানিশূন্যতা হলেও মাথা ঘোরা এবং বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

৬) ইফতারের সময়ে ধীরেসুস্থে খাবার খান। অতি দ্রুত বা বেশি খেয়ে ফেলবেন না। রোজার সময়েও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাদ্যতালিকা মেনে চলুন।

Pages: 1 ... 5 6 [7] 8 9 ... 16