Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Md. Alamgir Hossan

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 44
31
পুরোনো ই-মেইল খুঁজে পাওয়া বেশ ঝামেলাই বটে। এতে প্রায়ই ব্যবহারকারীদের অনেক বেগ পেতে হয়। তবে জিমেইলে পুরোনো ই-মেইল খুঁজতে আপনি ‘সার্চ অপারেটর’ ব্যবহার করতে পারেন। তবে এই অপারেটরগুলোর ব্যবহার এখনো ততটা সুস্পষ্ট নয় এবং বেশির ভাগ ব্যবহারকারী এগুলো সম্পর্কে জানেই না।

তবে নতুন অনুসন্ধান চিপের সাহায্যে আপনি ঠিক যে ই-মেইলটি খুঁজছেন, সেটিই খুঁজে পাওয়ার পথ সহজ করেছে গুগল। এটি জিমেইলের নতুন এক সুবিধা।

এই চিপগুলো ব্যবহার করতে জিমেইলের অনুসন্ধান বাক্সে একটি কিওয়ার্ড লিখতে হবে। এরপর ফলাফলের তালিকার শীর্ষে আপনি আপনার অনুসন্ধানের জন্য বেশ কয়েকটি অতিরিক্ত ফিল্টার পাবেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, জিমেইল কেবল একজন ব্যক্তির ই-মেইলগুলো খুঁজে পেতে আপনাকে একটি বিকল্প দেবে। এতে নির্দিষ্ট সময়সীমায় সীমাবদ্ধ করে কেবল অ্যাটাচমেন্টসহ ই-মেইলগুলোও খুঁজতে পারবেন।

অনুসন্ধানের চিপগুলো ওপরে উল্লেখিত সার্চ অপারেটরগুলোর মতোই কাজ করবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবহারকারীরা যেন সহজেই সঠিক ফিল্টারটি নির্বাচন করতে পারে, সে লক্ষ্যে গুগল এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।


সার্চ অপারেটরে এখনো বিভিন্ন ধরনের ফিল্টার রয়েছে। তবে এগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে ব্যবহার প্রণালি আপনাকে বিস্তারিত জানতে হবে। ৩০টির মতো অনুসন্ধান ফিল্টার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা মোটেও সহজ কোনো কাজ নয়। সে ক্ষেত্রে গুগলের নতুন এই অনুসন্ধান চিপ সহজেই ব্যবহারযোগ্য হওয়া উচিত।

গুগল বর্তমানে শুধু জি স্যুট গ্রাহকদের জন্য এই অনুসন্ধানের চিপটি চালু করেছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ওয়েব পোর্টাল টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি স্যুটে পুরোপুরি চালু হওয়ার পরই গুগল সব জিমেইল ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সুবিধাটি চালু করে দেবে।

32
Life Science / ফেসবুক বনাম বাস্তবতা
« on: February 26, 2020, 01:21:06 PM »
 
মানুষ ফেসবুকে ভালোটাই তুলে ধরতে চায়, একান্ত অনুভূতি বা বাস্তব জীবনের সংকট প্রকাশ্যে আনতে চায় না অনেকে। মডেল: সোহানী ও রিয়াদ, ছবি: সুমন ইউসুফ
মানুষ ফেসবুকে ভালোটাই তুলে ধরতে চায়, একান্ত অনুভূতি বা বাস্তব জীবনের সংকট প্রকাশ্যে আনতে চায় না অনেকে। মডেল: সোহানী ও রিয়াদ, ছবি: সুমন ইউসুফ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেরই ভালোবাসাময় ছবি দেখা যায় নিয়মিত। আজ এখানে তো কাল সেখানে। অথচ ঘরের মধ্যে তারাই অাবার একজন আরেকজনের চোখের কাঁটা। আসলে বেশির ভাগ মানুষ নিজের যাপিত জীবনের ভালোটাই দেখাতে চায় ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কষ্টটাকে সামনে আনতে চায় না অনেকে। এ নিয়ে লিখেছেন ইরেশ যাকের।
ইদানীং অনেককেই বলতে শুনি যে ‘মানুষ ফেসবুকে শুধু নিজের ভালোটাই দেখায়।’ এ কথা শুনে আমার মনে হয়, সমস্যা কোথায়? ফেসবুক একটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুকের আগে সামাজিক মাধ্যম বলতে আমরা বিভিন্ন দাওয়াত, মজলিস, আড্ডা বুঝতাম।


এখন মনে করেন, আপনি একটা দাওয়াতে যাচ্ছেন। সেখানে অনেক মানুষ। তাঁর মধ্যে বেশির ভাগ মানুষই আপনার খুব বেশি ঘনিষ্ঠ নন। এ রকম জায়গায় গিয়ে তো আপনি সবাইকে ডেকে নিজের জীবনের সব দুঃখের কথা বলবেন না। হাস্যোজ্জ্বল থাকার চেষ্টা করবেন। নিজেকে যতটা ভালোভাবে প্রদর্শন করা যায় মানুষের সামনে, সেই চেষ্টাই করবেন। খুব বেশি নেতিবাচক আলোচনা বা আচরণ থেকে বিরত থাকবেন।

বেশির ভাগ মানুষের কাছেই ফেসবুক একটা দাওয়াত বা মিলনমেলার মতো। মানুষ যে রকম দাওয়াতে একটু সেজেগুজে যায়, ফেসবুকেও নিজের জীবনের ভালো দিকগুলোই বেশি দেখাতে পছন্দ করে। এতে আমি দোষের কিছু দেখি না।

সামাজিক মাধ্যমকে সামাজিকতার জায়গায় রাখাটাই মনে হয় শ্রেয়। অবশ্য এটা বলা যত সহজ, করা ততটা সহজ নয়। বিভিন্ন ডিজিটাল সামাজিক মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ক্রমশই আমাদের জীবনের একটা অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য থেকে বিনোদন—সবকিছুর সঙ্গেই ফেসবুক জড়িত। তারপরও আমার মনে হয়, আসল মানে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমের জীবনকে কোথাও একটা আলাদা করা জরুরি; বিশেষ করে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ব্যাপারে।

ফেসবুকে হয়তো দেখলেন বন্ধুর সুখের ছবি, কিন্তু বাস্তবে সে দিন কাটাচ্ছে যন্ত্রণায়
ফেসবুকে হয়তো দেখলেন বন্ধুর সুখের ছবি, কিন্তু বাস্তবে সে দিন কাটাচ্ছে যন্ত্রণায়
ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেটা সবচেয়ে বেশি মনে রাখা প্রয়োজন সেটা হলো ফেসবুকে নিজেকে বা নিজের জীবনকে প্রকাশ করার ব্যাপারে সবাই একই মাত্রায় স্বচ্ছন্দবোধ করেন না। অনেকেই আছেন যাঁরা নিজের জীবনের সব তথ্য এবং মতামত সহজেই ফেসবুকে প্রকাশ করে ফেলেন। আবার অনেকে ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করার ব্যাপারে একদমই অপ্রতিভ। আমার বিশ্বাস, দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষের সংখ্যাই বেশি। এ ছাড়া ফেসবুকের অ্যালগরিদম এখন এমন যে কারও সঙ্গে ফেসবুকে সংযুক্ত থাকলেও তাঁদের সিংহভাগ পোস্ট আমাদের চোখে পড়ে না।

ভেবে দেখুন, কতবার এ রকম হয়েছে যে আপনি এমন শুনেছেন, কেউ খুব খারাপ সময় কাটাচ্ছে। তখন আপনার মনে হয়েছে—কেন, কিছুদিন আগেই তো ফেসবুকে ওর একটা মজার পোস্ট দেখলাম। পরে ফেসবুকে তাঁর প্রোফাইলে গিয়ে দেখলেন যে মজার পোস্টের পাশাপাশি অনেক পোস্টই হয়তো আছে, যেখানে সে সরাসরিভাবে অথবা আকার–ইঙ্গিতে নিজের দুঃখের কথা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে নিজের দুঃখ কোনোভাবেই প্রকাশ করেনি। আমার এ রকম অনেক হয়েছে। খুব কাছের মানুষের ক্ষেত্রেই হয়েছে।

অনেক সময় মনে করেছি, অমুক মানুষটা কেমন আছে? একটু ফোন দিই বা অন্তত মেসেজ পাঠাই। তারপর তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল বা পোস্ট দেখে ভেবেছি ‘ভালোই তো আছে’। ফোন দেওয়া, মেসেজ পাঠানো বা দেখা করা হয়নি। কিছুদিন পড়ে জেনেছি সেই মানুষ ভালো নেই। অথবা খবর পেয়েছি হয়তো ফেসবুকেই—সেই মানুষটা চিরতরে চলে গেছে। তখন হাজার ফেসবুক পোস্ট দিয়ে বা পড়েও নিজের দুঃখ এবং আফসোস কাটাতে পারিনি।

ফেসবুকে কাউকে যুক্ত (অ্যাড) করার সঙ্গে সঙ্গেই সে আমাদের ফ্রেন্ড হয়ে যায়। এভাবে আমাদের সবারই এখন অনেক অনেক বন্ধু আছে। এদের মধ্যে হয়তো বেশির ভাগ মানুষকে আমরা তেমন ভালোভাবে চিনিও না। কিন্তু ফেসবুক কাছের ও দূরের মানুষের মধ্যে বৈষম্য করে না। ফেসবুকের চোখে ফ্রেন্ডলিস্টের সবাই আমাদের কম বেশি সমান পর্যায়ে বন্ধু। প্রতিদিন আমরা শত শত, কারও কারও ক্ষেত্রে হাজার হাজার বন্ধুর খবর পেতে থাকি। এই হাজার বন্ধুর ভিড়ে আমরা হয়তো আসল বন্ধুদের কথা ভুলে যাই। আসল বন্ধুকে ফোন দেওয়ার কথা ভেবেও তাকে ফোন দিই না। আরেক বন্ধুর পোস্ট চোখে পড়ে যায়। আরেক বন্ধুর সুখ–দুঃখ অথবা ক্রোধের খবরে আমরা মশগুল হয়ে পড়ি। অনেক বন্ধুর মাঝে আসল বন্ধু হারিয়ে যায়।

ফেসবুককে দোষ দিয়ে আসলে লাভ নাই। ওদের কাজ আমাদের জীবনে বন্ধু বাড়ানো। আসল বন্ধুর খবর রাখার দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে। তাহলে কাছের মানুষ কাছে থাকবে। আর অচেনা মানুষের হাস্যোজ্জ্বল ছবি দেখে আমরা বিচলিত হব না।

33
গত কয়েক দশকে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে সুদাসলের কিছু না দেওয়ার একটি সংস্কৃতি চালু হয়েছে। অনেকে ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন বিদেশে। দু-একটি ক্ষেত্রে আটক হয়ে কারাবাস করছেন সীমিত কয়েকজন।

এ বিষয়ে অনেকটা বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু রয়েছে। আইনি জটিলতা টাকা আদায়ের পথে বড় বাধা হিসেবে সামনে দাঁড়ায়। কালক্রমে তারা একটি প্রভাবশালী শ্রেণি হিসেবে সমাজে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। এ খেলাপি সংস্কৃতিটা শুরুর দিকে ছিল রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে। পরে প্রসারিত হয় গোটা ব্যাংকব্যবস্থায়। দায়ী করা হতে থাকে উচ্চ হারে ব্যাংকসুদে টাকা ধার করায় শিল্প-বাণিজ্য অলাভজনক হয়ে পড়েছে। ফলে খেলাপি হয়ে যাচ্ছে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ। সময়মতো সুদাসলের কিস্তি দিতে পারছেন না গ্রাহকেরা।


সব দেশে সব কালেই শিল্প-বাণিজ্যে লাভ-লোকসান থাকে। লোকসানে পড়ে ব্যাংকের টাকা খেলাপিও হন কেউ কেউ। কিন্তু বিভিন্ন তথ্যানুসারে বাংলাদেশের মতো বেশি সংখ্যায় ও বেশি হারে অন্য কোনো দেশে ঋণখেলাপি নেই বলে জানা যায়। আর আমাদের এখানে পরিস্থিতি এ পর্যায়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে ঋণখেলাপিদের প্রভাব। এটাও সবারই দেখা ও জানা। সমাজে প্রভাবশালী অংশ খেলাপিদের সহায়তা দেয়। ব্যাংকারসহ পরিচালনা বোর্ডের সহায়তায় বড় রকমের বেশ কিছু ঘটনা আমাদের সবার জানা।

খেলাপি ঋণের হার নিয়ে অনেক হিসাব-নিকাশ আছে। বিশেষ ব্যবস্থায় খেলাপিমুক্ত আগে থেকেই করা হয়েছে এবং হচ্ছে অনেককে। বেশ কিছু মন্দ ঋণকে হিসাব-নিকাশের বাইরে রাখতে রাইট অফ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও এটা বরাবর ১০ শতাংশের ওপরেই ছিল। অতিসম্প্রতি আরেকটি অভূতপূর্ব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। খেলাপি ঋণ পুনঃ তফসিল করার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে নিয়মাবলি ছিল, তা ছুড়ে ফেলে দিয়ে চালু করা হয় নতুন নিয়ম। মোট খেলাপি ঋণের ২ শতাংশ দিয়েই ৫০ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা খেলাপিমুক্ত করা হয়। নগদে আদায় হয় মোট ৪৭৯ কোটি টাকা। এতে ২০১৯-এর শেষে খেলাপি ঋণ শতকরা হারে ১০ দশমিক ৩০ থেকে ৯ দশমিক ৩২-এ নেমে যায়। কিন্তু টাকার অঙ্ক শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি হয়ে ৯৪ হাজার ৩১৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এ-ও প্রকৃত অর্থে ঋণখেলাপিদের বড় অংশকে হিসাবের বাইরে রেখে। ঠিক এবারের মতো না হলেও কিছু বড় অঙ্কের ঋণখেলাপিকে কয়েক বছর আগে ঋণ পুনর্গঠনের নামে নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি করে দেওয়া হয়। নিয়মিত হয়ে যান তাঁরা। জানা যায়, সেসব কিস্তিও দু-একটি দিয়ে আবার সময় চাওয়া হয়। পেয়েও যান। তাই তাঁরা ঋণখেলাপি নন। ব্যাংকের সুদের টাকাটাও আসে না। অনেক ক্ষেত্রে মাফ করা হয় কিংবা রাখা হয় ব্লক হিসেবে। সেগুলো আদায় হবে কি না, হলেও কবে, এ নিয়ে সংশয়ে আছেন ব্যাংকাররা। অন্যদিকে বিউটি পারলার থেকে সেজে কদর্য রূপ সাময়িকভাবে ঢাকা যায়। পরিস্থিতির ঘটে না পরিত্রাণ। ফলে টাকার টান পড়ে ব্যাংকে। তারা ঋণ বিতরণে হয় রক্ষণশীল এবং সুদের হারও বাড়িয়ে ব্যাংকের মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে। আর টাকার জোগান দিতে অধিক সুদে নেয় আমানত।

কিছুদিন হলো সরকার এখানে হস্তক্ষেপ করছে। একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় আমানত ও ঋণের সুদহার যথাক্রমে ৬ ও ৯ শতাংশের অধিক হবে না। সরকারি ব্যাংকগুলোতে হুকুম দিলেই চলে। লাভ-লোকসানের ধার তারা ধারে না। তাদের মূলধন ঘাটতি মেটাতে সরকার বারবার জাতীয় রাজস্ব থেকে ভর্তুকি দেয়। আর সেটা জনগণের করের টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো দাবি জানাতে থাকে করপোরেট করহার কমানো, সরকারি আমানতের অর্ধেক তাদের কাছে রাখা, বিধিবদ্ধ রিজার্ভ কমানো, প্রভিশনিং শিথিল করার। এসব ক্ষেত্রে ঝুঁকির কথা খুব একটা বিবেচনায় না নিয়েই তা-ও করা হয়। তবে ৯-৬ সূত্র কার্যকর করতে ব্যাংকের আমানত বাড়াতে হবে। খেলাপি হয়ে যাওয়া টাকা শিগগির কিংবা আদৌ পুরো ফেরত আসবে না। নজর পড়ে সঞ্চয়পত্রের দিকে। সেখানে বড় ধরনের বাধা আসে সরকারি দলের নেতাদের মধ্য থেকেই। প্রকৃতপক্ষে সঞ্চয়পত্র একটি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী হিসেবে কাজ করছে। এর সুফলভোগী অবসরজীবী, বিধবাসহ সমাজের প্রান্তজন। ২০১৩ সালে একবার এগুলোর সুদহার ২ শতাংশ কমানো হয়। তবে এ ব্যবস্থাটির সুযোগ নিচ্ছিল সমাজের ধনিক শ্রেণির একটি অংশও। সেটা ঠেকাতে অটোমেশনের আওতায় এনে কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়। শর্তগুলো একেবারে অযৌক্তিক নয়। তবে টিআইএন নম্বর একটি অঙ্কের ওপর বাধ্যকরী করায় নিম্ন আয়ের লোকজন যাঁরা আয়কর দেন না বা দেওয়ার কথা নয়, তাঁরাও আটকে যান। বিষয়টি তলিয়ে দেখা দরকার। তবে সুদহার না কমালেও মুনাফার ওপর শতকরা ১০ শতাংশ আয়কর ধার্য করা হয়। এর ফলে আয় যায় কমে। সঞ্চয়পত্র বিক্রিও নেমে এসেছে গত বছরের ২৫ শতাংশে। এগুলো সবই ব্যাংকের টাকার জোগান বাড়াচ্ছে।

সবশেষে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি আমানতের সুদহার এক ঘোষণাতেই অর্ধেক করে ফেলা হলো। জারি হয় গেজেট বিজ্ঞপ্তি। এখানেও সাধারণত নিম্ন আয়ের লোকেরা এ ধরনের আমানত রাখতেন। ব্যাপারটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে সরকার এটাকে পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেয়। তবে জারি করা আদেশটি করা হয়নি স্থগিত বা বাতিল। এ ক্ষেত্রে কখন কী পরিমাণে সুদের হার পুনর্নির্ধারণ হবে, তা অস্পষ্ট রয়ে গেল। বলবৎ রয়ে গেল জারি করা আদেশটি। সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেপরোয়া ধার করছে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা অনধিক ৯ শতাংশ সুদে বিনিয়োগ কিংবা চলতি খরচের জন্য ১ এপ্রিল থেকে ঋণ পাওয়ার কথা। অথচ সব মহল বলছে, ঋণখেলাপি সংস্কৃতিটার টুঁটি চেপে ধরতে পারলে ব্যাংক আরও কম সুদে বিনিয়োগ করতে পারত। আমানতকারীদের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ থেকে ৬ শতাংশ। এ থেকে বাদ যাবে আয়করসহ ব্যাংকের বিভিন্ন চার্জ। অথচ মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশের কাছাকাছি। বলা হয়, পৃথিবীর কোথাও এত অধিক মুনাফায় টাকা রাখার সুযোগ নেই। হতে পারে। তবে পৃথিবীর সব দেশেই কি আমাদের একই আর্থসামাজিক অবস্থা বিরাজ করছে? পুঁজিবাজার বিনিয়োগের একটি আদর্শ ক্ষেত্র বলে বিশ্বব্যাপী বিবেচনা করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বারবার এখানে বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় একটু নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংকে স্থায়ী আমানতে টাকা খাটানোই স্বাভাবিক। এখানে সুদের হার কমানোয় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আমানতকারীরা। শোচনীয়ভাবে কমে যাবে তাঁদের জীবনযাত্রার মান। আর ব্যাংকও সে আমানতের একটি অংশ ধরে রাখতে পারবে কি না, এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশ বলে চিহ্নিত হয়েছে।

আমরা শিল্প-বাণিজ্যের বিকাশ চাই। প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়ুক, তা-ও চাই। আর চাই এ উচ্চ প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সর্বস্তরে পড়ুক। পক্ষান্তরে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আমরা আয়বৈষম্যের চরম মাত্রায় বৃদ্ধি লক্ষ করছি। দেখতে পাচ্ছি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না আমদানি, রপ্তানি, সরকারের রাজস্ব আর কর্মসংস্থান। ঋণখেলাপিদের সাম্প্রতিক কালে যে সুবিধাটা দেওয়া হয়েছে, এর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায়। দেওয়া ঋণের কিস্তি সুদাসলে ব্যাংকের ঘরে না এলে আমানতকারীদের সুদের হার কমিয়ে ব্যাংক কত কাল এক অঙ্কে ঋণ দিয়ে যেতে পারবে। সে লগ্নি কিন্তু বর্তমান সংস্কৃতিতে পুরো ফেরত আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এটা নিশ্চিত না করে খেলাপিদের অপকর্মের দায়ভার চেপে বসল আমানতকারীদের ওপর।

34
ওয়ারেন বাফেট এত দিনে স্মার্ট হলেন! ফিচার ফোন ছেড়ে স্মার্টফোন ধরেছেন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ধনী ওয়ারেন বাফেট (৮৯)। এত দিন সেকেলে ধাঁচের ফ্লিপ ফোন ব্যবহার করলেও ২০২০ সালে এসে তাঁর হাতে উঠল আইফোন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাফেট বলেছেন, এত দিন বাফেট স্যামসাংয়ের একটি ফ্লিপ ফোন ব্যবহার করে আসছিলেন। এখন ফিচার ফোন ছেড়ে ব্যবহার করবেন আইফোন ১১।


স্মার্টফোন কীভাবে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে এবং এর গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন ব্রেকশায়ার হ্যাথওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। অ্যাপলের ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মালিকানা এ প্রতিষ্ঠানের হাতে রয়েছে। সিএনবিসিকে বাফেট বলেছেন, স্যামসাং এসসিএইচ-ইউ ৩২০ ফ্লিপ ফোন মডেলটির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়েছে তাঁর। ২০১৯ সালেও তাঁকে ওই ফোনটি ব্যবহার করতে দেখা যায়।

স্মার্টফোনের ভক্ত কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাপলের এ বিনিয়োগকারী বলেন, ‘আমার ফ্লিপ ফোনটির সঙ্গে চিরতরে সম্পর্ক শেষ করে আমি এখন নতুন স্মার্টফোন হাতে পেয়েছি।’

নতুন স্মার্টফোন হাতে পেলেও তাতে কেবল ফোনকল করার মতো সাধারণ কাজগুলো করবেন বলেও জানান তিনি। ফিচার ফোন ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে বাফেট বলেন, এর আগেও তাঁকে স্মার্টফোন দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি ফিচার ফোনেই স্বস্তিতে ছিলেন। এর আগে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক নিজে তাঁকে আইফোন দিয়েছেন।

ব্লুমবার্গের একটি টিভি অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জ জানিয়েছে, টিম কুক অনুষ্ঠানে বলেছেন যদি কখনো ওয়ারেন বাফেটের কোনো প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার হয়, তবে তিনি নিজে গিয়ে সে সহায়তা করে আসবেন। বাফেট ইতিমধ্যে গবেষণা ও শেয়ারবাজারে লেনদেনে আইপ্যাড ব্যবহার করছেন।

বাফেট এমন সময়ে ভাঁজ করা ফোন ছেড়ে স্মার্টফোনে চলে গেলেন, যখন আবার ভাঁজ করা ডিভাইস বাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাজারে মটো রেজর ও স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপের মতো ফোন বাজারে সাড়া ফেলতে শুরু করেছে।

35
দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান নীতিটা বেশ ভালো। রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের নেওয়া সব সিদ্ধান্তই দ্রুত মেনে নিয়ে একটা প্রজ্ঞাপন জারি করে ফেলে। এমনকি সরকার বললে মুদ্রা ব্যবস্থাপনার বড় বড় নীতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত মানতে হোটেলেও চলে যায়। সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। কারণ, সরকার ও ব্যবসায়ীরা এমনটা চেয়েছেন। বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থায় এটি একটি বিরল ঘটনা। এখন আর কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকই সুদের হার নির্ধারণ করে দেয় না। সুদহার নির্ধারিত হয় বাজারব্যবস্থার ভিত্তিতে।


আশির দশকে ফিরে যাওয়া

এমন নয় যে সুদহার নির্ধারণ করে দিয়ে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে গেছে; বরং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সেই আশির দশকে ফিরে গেছে। সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকই ঋণের সুদহার ঠিক করে দিত। তবে তা মোটেই উপযুক্ত কোনো পদ্ধতি ছিল না। এ কারণে সুদহার কীভাবে নির্ধারিত হবে, তার ফয়সালা হয়েছিল সেই নব্বই দশকেই। এ জন্য বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে প্রকল্প করা হয়েছিল। তারপরেই সুদহার বাজারব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। সেই প্রকল্প ছিল আর্থিক খাত সংস্কার কর্মসূচি (এফএসআরপি)।

যদিও এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল সেই আশির দশকে, এরশাদের সময়েই। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সাল থেকে। ৫ বছর মেয়াদি সেই সংস্কার কর্মসূচির প্রথম পদক্ষেপটিই ছিল বাজারভিত্তিক সুদনীতি প্রবর্তন। অর্থাৎ ঋণ ও আমানতের সুদের হার নির্ধারণের ক্ষমতা নিজ নিজ ব্যাংকের ওপর ছেড়ে দেওয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি ও সুদের ছায়া বাজার হার বা শ্যাডো মার্কেট রেট বিবেচনায় রেখে ঋণ ও অগ্রিমের বিভিন্ন খাত এবং আমানতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুদের একটা পরিসীমা (ব্যান্ড) নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে এই সীমাও তুলে দেওয়া হয়।

নিম্ন সুদহারের সন্ধানে

আমরা জানি, টাকা ভাড়ায় পাওয়া যায়। সেই ভাড়ার নাম সুদ। ব্যাংক নিজেও আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা ভাড়া নেয়। সেই টাকা ভাড়ায় খাটায় উদ্যোক্তাদের কাছে। এই সুদহার বাজারভিত্তিক করার অর্থ হলো, এর ওঠানামা ঠিক হবে বাজারের চাহিদা ও জোগানের ওপর। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটা হার নির্ধারণ করে দিলে বাজারে কোনো প্রতিযোগিতা তৈরি হতো না। এ থেকে বের হতেই বাজারের ওপর সুদহার ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার আশঙ্কার কথা এখনো জোরেশোরে বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ তো ছিলই, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাসের প্রভাব। মন্দা মানেই চাহিদা কমে যাওয়া। আর চাহিদা বাড়াতে প্রয়োজন নতুন নতুন বিনিয়োগ। ফলে এ সময় দেশগুলো সুদহার কমিয়ে বিনিয়োগকে উৎসাহ দিতে চেষ্টা করে। এমনিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সুদহার প্রায় শূন্যই বলা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক নীতিনির্ধারণী সুদহার কমাবে কি না, এর ওপর সারা বিশ্বের অর্থনীতি তাকিয়ে থাকে। সুদহার কমাতে বিভিন্ন দেশ নানা ধরনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও নেয়। কারণ, সারা বিশ্বই জানে, অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে হয় অর্থনীতি দিয়েই। কেবল বাংলাদেশই চলে হুকুমের ভিত্তিতে। ফলে এখানে সুদহারের নাম হয়ে যায় ‘হুকুমের সুদ’।

এমন নয় যে বাংলাদেশ ব্যাংক জানে না সুদহার কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং কমাতে হলে কী করতে হবে। এ নিয়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি গবেষণাপত্র আছে। সেখানে দেখা হয়েছে, একক হারের (১০ শতাংশের নিচে) সুদহার বাস্তবায়ন সম্ভব কি না। গবেষণা অনুযায়ী, একটি ব্যাংকের সুদহার নির্ধারণে সবচেয়ে বড় বিবেচনা হচ্ছে তার তহবিল ব্যয়। এর সঙ্গে আরও যুক্ত হয়—অন্যান্য ব্যাংক কী হারে ঋণ দেয়, ঋণযোগ্য যে তহবিল থাকে তার চাহিদা ও জোগান, যেসব নিয়ন্ত্রণ প্রতিপালন করতে হয় তা, ব্যাংক পরিচালন খরচ, সম্পদ-দায়ের অসংগতি এবং খেলাপি ঋণ।

কেনিয়ার অভিজ্ঞতা

আফ্রিকার দেশ কেনিয়া অবশ্য আরও একধাপ এগিয়ে গিয়েছিল ২০১৬ সালে। দেশটির ক্ষমতাসীন সরকার রীতিমতো সংসদে আইন পাস করে সুদহার নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেছিল। পার্থক্য হচ্ছে, কেনিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল। তারপরও আইন পাস করা হয়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ‘সুদের হার নিয়ন্ত্রণ কী কাজ করে: কেনিয়ার অভিজ্ঞতা’ শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ১. সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) ঋণ এক বছরেই ১০ শতাংশ কমে যায়, এর বিপরীতে বড় বড় শিল্প খাত বেশি ঋণ পেতে থাকে। ২. সবচেয়ে বিপদে পড়ে ছোট ছোট ব্যাংক। তাদের ঋণ দেওয়া এক বছরে কমে যায় ১২ শতাংশ। ৩. বেসরকারি খাত থেকে সরে গিয়ে ঋণ বেশি দেওয়া হয় সরকারি খাতে। দেখা গেছে, এক বছরেই সরকারি খাতের ঋণ বেড়ে যায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। ৪. বেসরকারি খাতে ঋণ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মূলত, কৃষি, ট্রেডিং বা বাণিজ্য এবং আর্থিক সেবা খাত। ৫. ব্যাংকগুলো আয় বাড়াতে নানা ধরনের ফি এবং সরকারকে ঋণ দেওয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ৬. মুদ্রানীতির কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়। ৭. ব্যাংকগুলোর মুনাফা ব্যাপক হারে কমে যায়, লোক ছাঁটাইও বৃদ্ধি পায়। ৮. বেসরকারি খাতে ঋণ কমে যাওয়ায় মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার পৌনে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যায়। সব মিলিয়ে চরম বিপদের মধ্যে পড়ে যায় কেনিয়া।

‘ডি গ্রেড’ স্বাধীনতা

কেনিয়ার অভিজ্ঞতা জানা হলো। বাংলাদেশ এখান থেকে কী শিক্ষা নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংশয়ের কথাও বলা প্রয়োজন। কেননা, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক প্রচারও পেতে শুরু করেছে। গ্লোবাল ফাইন্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত একটি অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন। এর প্রচারসংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের গ্রেড বা মান নির্ধারণ করে। সম্প্রতি ২০১৯ সালের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের মান ‘বি গ্রেড’ থেকে কমিয়ে ‘ডি’ করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক তার স্বাধীনতা হারিয়েছে। ২০১৮ সালে মুদ্রানীতির মূল সিদ্ধান্তগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের মাধ্যমে নেওয়া হয়নি; বরং অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সহায়তা ও চাপে নেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএবি ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল তারল্যসংকট কমাতে হোটেলে বসে নগদ অংশ সংরক্ষণ বা সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রিকয়ারমেন্ট) হার কমিয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ করে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক রেপোর সুদহার করে ৬ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিতে ‘নয়-ছয়’ সুদহার অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যায়, সেটাই দেখার বিষয়। আশা করা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক কেনিয়ার অভিজ্ঞতা পড়ে দেখবে, কিংবা কেনিয়ার অভিজ্ঞতা দেখতে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে যাবে।

36
দেশের প্রতি চারজন বিবাহিত নারীর একজন স্বামীর হাতে মার খান। এই নারীদের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। স্বামীর অনুমতি না নিয়ে বাইরে যাওয়া; বাচ্চাদের প্রতি যত্নশীল না হওয়া; স্বামীর সঙ্গে তর্ক করা; যৌন সম্পর্ক করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং খাবার পুড়িয়ে ফেলা—এই পাঁচটি কারণের অন্তত একটির জন্য ওই নারীরা মার খান।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯-এ নারীর গৃহ নির্যাতনের চিত্র উঠে এসেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া নারীরা এই তথ্য দিয়েছেন। গতকাল সোমবার এই সমীক্ষার প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ৫-৬ বছর পরপর এ ধরনের সমীক্ষা করে থাকে বিবিএস। সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আগারগাঁওয়ের বিবিএস মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সমীক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিবিএসের পরিচালক মাসুদ আলম।


স্ত্রীর প্রতি স্বামীর সহিংস আচরণ সম্পর্কে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিবিএসের সমীক্ষা অনুযায়ী, যেসব কারণে স্ত্রীকে মারধর করেন স্বামীরা, সেই কারণগুলো গুরুতর অপরাধ নয়। লঘু ভুল করার জন্য এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হন বিবাহিত নারীরা। পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যবাদী সমাজের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে পারছি না।’ তাঁর মতে, নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ার কারণেই স্বামীরা এই সুযোগ পান। এভাবে নির্যাতন করা একটি সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ ওপরের পাঁচটি কারণের একটির জন্য স্বামীর হাতে মার খান। শিশু নির্যাতনের কথাও উঠে এসেছে ওই সমীক্ষায়। ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৮৯ শতাংশ সমীক্ষা চলাকালীন আগের এক মাসে অন্তত একবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ছয় বছর আগে ৮২ দশমিক ৩ শতাংশ শিশু এই ধরনের নির্যাতনের শিকার হতো। বিবিএস বলছে, আশঙ্কাজনকভাবে শিশুদের প্রতি সহিংস শাসন বেড়েছে।

বিবিএসের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯ অনুযায়ী প্রতি ১০ জনে ৯ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়।

বিবিএসের পরিচালক মাসুদ আলম জানান, শিশুদের পিতামাতা ও লালনপালনকারীদের হাতেই তাঁরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে শিকার হন। শিশুদের শৃঙ্খলাজনিত কারণে মারধর, বকাঝকা, ধমক—এসব বিষয় আমলে আনা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘শিশুর ওপর নির্যাতন দিন দিন বাড়ছে। এটি ভয়ানক আকার ধারণ করছে। এটি কোনোভাবেই সভ্য সমাজ বলতে পারি না। এই চিত্র মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অর্জনকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।’

সারা দেশের ৬১ হাজার ২৪২টি পরিবারের কাছে ৩৩ ধরনের তথ্য নিয়ে এই জরিপ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ১ জুনের মধ্যে এই সমীক্ষা হয়। সমীক্ষায় শিশুমৃত্যু, জন্মহার, শিক্ষার হার, বাল্যবিবাহ, রেডিও-টেলিভিশন-মোবাইল ফোন ব্যবহার, বিবাহ, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

৯৬% পরিবারে মোবাইল ফোন
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি মোবাইল ফোন বা ল্যান্ড ফোন আছে। ২০১২-১৩ সালের সমীক্ষায় এই হার ছিল ৮৭ দশমিক ২ শতাংশ। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৭১ শতাংশের বেশি নারীর নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে। তবে প্রায় ৯৮ শতাংশ নারী গত তিন মাসে একবার অন্তত মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। ৩৭ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য ডিভাইস আছে। কম্পিউটার আছে সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি পরিবারে।

তবে নারীদের সংবাদপত্র ও সাময়িকী পড়া, রেডিও শোনা ও টেলিভিশন দেখার প্রবণতা কমেছে। ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী আধা শতাংশ নারী সপ্তাহে অন্তত একবার সংবাদপত্র, সাময়িকী পড়েছেন কিংবা রেডিও শুনেছেন বা টেলিভিশন দেখেছেন। ২০১২-১৩ সালে এই হার ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ। সাত বছর আগে ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারে টেলিভিশন ছিল। এখন ৫০ শতাংশের বেশি পরিবারে টেলিভিশন আছে। তবে রেডিওর দিন শেষ হচ্ছে। সাত বছর আগে প্রায় ৪ শতাংশ পরিবারে রেডিও ছিল। এখন দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারে রেডিও আছে।

বাল্যবিবাহ পরিস্থিতি
১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীদের এক-তৃতীয়াংশই এখন বিবাহিত। সাত বছর আগে এই হার ছিল ছিল ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। বর্তমানে যেসব নারীর বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে, তাঁদের সাড়ে ১৫ শতাংশের বিয়ে হয়েছে বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগে। এ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০১২-১৩ সালে ১৮ শতাংশের বেশি ওই বয়সী নারীদের বিয়ে হয়েছিল।

বর্তমানে ২০-২৪ বয়সীদের মধ্যে ১৮ বছর হওয়ার আগে বিয়ে হয়েছে ওই শ্রেণির ৫১ শতাংশের বেশি নারীর। সাত বছর আগে ছিল এই হার ছিল ৫২ শতাংশের বেশি।

তবে ১৮ বছর হওয়ার আগে সন্তান জন্মদান পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রতি চারজন নারীর একজনই ১৮ বছর হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

শিশুমৃত্যু পরিস্থিতির উন্নতি
সমীক্ষা অনুযায়ী, জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে নবজাতক মৃত্যুর হার বাংলাদেশে এখন প্রতি হাজারে ২৬ জন। আর পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৪০ শিশু। সাত বছর আগে ছিল প্রতি হাজারে ৫৮ জন। তবে বয়ঃসন্ধিকালে মা হওয়ার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে প্রতি হাজারে ৮৩ জন মা হন।

পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ২৮ জনের উচ্চতা বয়স অনুযায়ী কম। ২০১২-১৩ সালে এই হার ছিল ৪২ শতাংশ।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি
একটি সাধারণ বাক্য পড়তে পারেন কিংবা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন—এমন বৈশিষ্ট্য ধরে বিবিএসের সমীক্ষায় শিক্ষার হার ঠিক করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষিত। ৯২ শতাংশের পরিবারে বিদ্যুৎ-সংযোগ আছে। আর ৮৪ শতাংশের বেশি পরিবারে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা আছে।

বিবিএসের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে শিশুদের উন্নতির জন্য যেসব তথ্য-উপাত্ত দরকার, সেই ধরনের তথ্য-উপাত্ত দিচ্ছে বিবিএস, যা নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে।’

ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অ্যালেন ব্যালান্ডি ডোমস্যাম বলেন, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধা কাজে লাগাতে শিশু ও তরুণদের জন্য বিনিয়োগ বিলম্ব করার সুযোগ নেই। এই সুযোগ শেষ হতে আর মাত্র ১১ বছর বাকি আছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

37
চীনের বাইরেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে বড় ধস হয়েছে। গতকাল সোমবার বিভিন্ন পুঁজিবাজারেই সূচকের বড় পতন দেখা গেছে।


গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে ডাও জোন্স সূচক দর হারায় ১ হাজার পয়েন্ট। শতাংশের দিক দিয়ে যা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন। অন্য সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকটির দর কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নাসডাক সূচকের দর কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যের প্রধান পুঁজিবাজার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জভিত্তিক এফটিএসই ১০০ সূচকটি লেনদেন শেষে কমে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের পর এত দরপতন দেখেনি এই সূচক। সে সময় যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে পুঁজিবাজারে সূচকের ধস নামে।

ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব আতঙ্কে মিলান স্টক মার্কেটে সূচকের দর কমেছে ৬ শতাংশ।

একদিকে পুঁজিবাজারে দরপতন, অন্যদিকে স্বর্ণের দাম হু হু করে বাড়ছে বিশ্ববাজারে। ৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে আছে স্বর্ণ। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। গতকাল সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।

গেল বছরের শেষের দিকে চীন থেকে শুরু হয় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। দুই মাস পার হতে যাচ্ছে, এখনো এর প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে চীনে প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। মৃত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০। প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন মানুষের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ৩০টি দেশে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত অন্তত ৭০০ মানুষ। ইতালিতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দেড় শ ছাড়িয়েছে। ইরানের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করছে, এই ভাইরাসে দেশটির ৪৩ জন আক্রান্ত, মারা গেছেন আটজন। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, তুরস্ক ও আফগানিস্তান ভ্রমণ ও অভিবাসনে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, কিছুদিন ধরেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটা সন্তুষ্টি মনোভাব ছিল। জানুয়ারিতে শেয়ারবাজার বেশ উত্থানে ছিল। তবে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ঘুরে গেল। অর্থাৎ প্রথমে বিনিয়োগকারীরা করোনাভাইরাসের বিষয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন ছিল না, তবে এখন পরিস্থিতি নিয়ে তারা মূল্যায়ন করছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে একটা অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

38
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্সসহ অনিয়মিত সব কোর্সে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সব ধরনের কার্যক্রম আগামী পাঁচ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। চলমান সান্ধ্য কোর্স থাকবে কি থাকবে না, থাকলে তার ধরন কী হবে—এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে প্রায় সাত ঘণ্টা তুমুল বাক্‌যুদ্ধের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। এই সময়ের মধ্যে সান্ধ্য কোর্স পরিচালনার একটি সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে ১৮ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিষদের (একাডেমিক কাউন্সিল) সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাবে কি না এবং চলমান সান্ধ্য কোর্সের ধরনে পরিবর্তন আসবে কি না, এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল বেলা তিনটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই সভা হয়।


সভায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সান্ধ্য কোর্সের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সান্ধ্য কোর্স পর্যালোচনা ও যৌক্তিকতা যাচাই কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে শিক্ষকেরা তর্কে জড়ান। সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। প্রথম দিকে বাইরের স্পিকারে সভার বক্তব্য শোনা গেলেও পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।


সান্ধ্য কোর্সের যৌক্তিকতা তুলে ধরে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের প্রোগ্রাম কিন্তু পরোক্ষভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে। কারণ, আমার বিভাগে যখন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান পড়েন, ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেক্টরের ডিরেক্টর পড়েন, সত্তরোর্ধ্ব একজন সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট জজ পড়েন, সত্তরোর্ধ্ব একজন রাজনীতিবিদ যখন পড়েন, তখন নিশ্চয়ই আমি গর্ববোধ করি।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এবং সিনেট সদস্য আবুল মনসুর আহাম্মদ বলেন, ‘মাথায় সমস্যা হলে তার চিকিৎসা হতে পারে, মাথা কেটে ফেলার দরকার নেই।’

স্যার এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘সান্ধ্য কোর্সের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কান্না আমাদের শুনতে হবে। তাই নীতিমালার আওতায় সান্ধ্য কোর্স পরিচালনা করা উচিত।’

সান্ধ্য কোর্স পর্যালোচনা কমিটির প্রধান তোফায়েল আহমদ চৌধুরী তাঁদের প্রতিবেদন নিয়ে একাধিক শিক্ষকের সমালোচনার জবাব দিতে গেলে শিক্ষকদের একটি অংশ ‘শেইম শেইম’ বলে ওঠেন। পরে তিনি তাঁর ব্যাখ্যা দেন।

39
Compensation Management / Re: Types of Incentives
« on: February 19, 2020, 05:12:19 PM »
OK

40
Compensation Management / Re: Meaning of Reward
« on: February 19, 2020, 05:12:03 PM »
Exactly

41
Compensation Management / Re: Reward Systems
« on: February 19, 2020, 05:11:49 PM »
Yes

42
Human Resource Planning / Re: Meaning of Human Resource Planning
« on: February 19, 2020, 05:11:19 PM »
Yes

43
Nice

44
চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্প গ্রুপ এস আলম। দেশের অন্যতম আলোচিত এই ব্যবসায়িক গ্রুপটির চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ। একই সঙ্গে তিনি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান। তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন রয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালক পদে।

শুধু এই ব্যাংকটিই নয়, আরও অন্তত ছয়টি ব্যাংকে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন সাইফুল আলম মাসুদের পরিবারের সদস্যরা। এই ব্যাংকগুলোর মধ্য থেকে এস আলম গ্রুপের নামে বড় আকারের আর্থিক সুবিধা দেওয়াও হচ্ছে।

এস আলম পরিবার ছাড়াও অনেক পরিবারের হাতেই ব্যাংক-বিমা আছে। তবে হাতে একাধিক ব্যাংক-বিমা রয়েছে, এমন অন্তত তিনটি পরিবার রয়েছে। বাকি দুই পরিবার হলো-সিকদার পরিবার ও হাসেম পরিবার।

 

 কোন পরিবারের হাতে কতগুলো ব্যাংক-বিমা রয়েছে, তার চিত্র

সিকদার পরিবার

বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক সাফল্যের সাথে কাজ শুরু করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নানা অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। এই ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছে জয়নুল হক সিকদার পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্য। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন জয়নুল হক সিকদার নিজেই।

দেশের আইন অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের দুজন সদস্য থাকতে পারেন। কিন্তু ন্যাশনাল ব্যাংকে জয়নুল ছাড়াও রয়েছেন সিদকার পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য। তারা হলেন-জয়নুল হক সিকদারের স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার, মেয়ে পারভীন হক সিকদার, দুই ছেলে রিক হক সিকদার ও রণ হক সিকদার, জয়নুল হক সিকদারের নাতি জোনাস সিকদার খান।


মূলত ন্যাশনাল ব্যাংকের সবকিছুই নির্ধারণ করে দেয় সিকদার পরিবার। সিকদার পরিবারের আরেকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিকদার ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এই বিমা প্রতিষ্ঠানটিরও পরিচালক পদে রয়েছেন সিকদার পরিবারের একঝাঁক সদস্য। চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন সিকদার পরিবারের নাসিম হক সিকদার, পরিচালক পদে রয়েছেন শহীদুল হক সিকদার। এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক পদে রয়েছেন মনিকা সিকদার, মান্ডি খান সিকদার, জেফেরি খান সিকদার, জোনাস খান সিকদার, জন হক সিকদার ও সিয়ান হক সিকদার।

এস আলম পরিবার

দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী গ্রুপ হিসেবে এস আলম গ্রুপের অবস্থান ওপরের সারিতে। ২০১৭ সালে ইসলামী বাংকের ১২ ভাগেরও বেশি শেয়ার বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে কিনে নেয় এস আলম গ্রুপ। এ নিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রকাশ পায়। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনার সময় এস আলম গ্রুপ তাদের প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেনি। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, নতুন কোম্পানি সৃষ্টি করে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনে এস আলম গ্রুপ। এসব কোম্পানির মধ্যে প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল ২.০০৯, প্লাটিনাম এনডোর্স ২.০০৫, ব্লু ইন্টারন্যাশনাল ২.০০৯, এবিসি ভেঞ্চার ২.০০৬, গ্রান্ড বিজনেস ২.০২ এবং এক্সেল ডায়িং কেনে ৩.৪০ শতাংশ শেয়ার। এরপর এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান আরাস্তু খান। এর আগে তিনি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।


ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শহিদুল আলম। তিনি সাইফুল আলম মাসুদের ভাই। এই ব্যাংকের পরিচালক পদে আছেন সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম। এ ছাড়া ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার হিসেবে রয়েছেন সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম ও স্ত্রী ফারজানা পারভীন।

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকেরও মালিকানা এস আলম গ্রুপের হাতে। ব্যাংকটির ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক চট্টগ্রামের এই ব্যবসায়ী গ্রুপ। ব্যাংকটির পরিচালক পদে আছেন এ এ এম জাকারিয়া। এর আগে তিনি এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৮ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করেন।   

এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অনেক শেয়ার কিনেছে এস আলম গ্রুপ। সম্প্রতি ব্যাংকটির  ১৪ ভাগের বেশি শেয়ার চলে গেছে এই গ্রুপটির হাতে। এই ব্যাংকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাইফুল আলমের জামাতা বেলাল আহমেদ। ২.০৬ শতাংশ করে এ ব্যাংকে রয়েছে প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল এবং প্লাটিনাম এনডোর্সের শেয়ার। ইসলামী ব্যাংকেও রয়েছে এই প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন পোর্টম্যান সিমেন্টের শেয়ার ২.৬ শতাংশ, প্রসাদ প্যারাডাইস রিসোর্টের শেয়ার ২.০৬, শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২.০৩, গ্লোবাল ট্রেডিংয়ের ২.৫ এবং লায়ন সিকিউরিটিজের ২.০৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এগুলো ছাড়াও আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আবদুস সামাদ। সেই সঙ্গে এই ব্যাংকের স্পন্সর শেয়ার হোল্ডার হিসেবে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকও রয়েছে এস আলম পরিবারের হাতে। সাইফুল আলমের বড় ভাই মোরশেদুল আলম এই ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।

এম এ হাসেম পরিবার

ব্যাংক খাতে প্রভাব রয়েছে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি এম এ হাসেম পরিবারের। তার দুই ছেলে রুবেল আজিজ ও আজিজ আল কায়সার এবং ছেলেদের স্ত্রীরা সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। এম এ হাসেমের আরেক ছেলে আজিজ আল মাহমুদের স্ত্রীও আছেন সিটি ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে। আজিজ আল কায়সারের স্ত্রী তাবাসসুম কায়সার এখন সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান।

রুবেল আজিজের স্ত্রী সৈয়দা শাইরিন আজিজ ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজিজ আল মাহমুদের স্ত্রী সাভেরা এইচ মাহমুদও ব্যাংকটির পরিচালক।


45
বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ আছে সৌদি আরবের। এ জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে তেলসমৃদ্ধ দেশটি। এই লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হওয়া দুই দেশের যৌথ কমিশনের বৈঠকে সৌদি আরামকোসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় সাতটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

গতকাল বুধবার দুই দেশের যৌথ কমিশনের বৈঠকের শুরুতে সৌদি প্রতিনিধিদলের নেতা ও সে দেশের শ্রম ও সমাজ উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী মাহির আবদুল রাহমান গাসিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দুই দিনের বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ। বৈঠকটি আজ বৃহস্পতিবার সকালে শেষ হচ্ছে।


সৌদি আরামকোর ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ জুলিও সি হেজেলমেয়ার মোসেস বলেন, ‘আরামকো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। বিনিয়োগের সুযোগ কী আছে, তা জানতে এসেছি।’

সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজ উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী মাহির আবদুল রাহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে। তাই প্রতিনিধিদলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সদস্যদের যুক্ত করা হয়েছে।’ তিনি জানান, সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীদের ১৩ শতাংশ বাংলাদেশের নাগরিক। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বৈঠকের শুরুতে মনোয়ার আহমেদ বাংলাদেশের দক্ষ অশিক্ষিত শ্রমশক্তি সম্পর্কে সৌদিকে অবহিত করেন।

জানা গেছে, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও সৌদি আরবে অবস্থানরত ৪২ হাজার রোহিঙ্গার প্রসঙ্গটি আলোচনায় তুলেছে দেশটি। ওই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে গেছে বলে সৌদি আরব তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে।

এদিকে ইআরডি কার্যালয়ে গতকাল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৌদি আরবের সফররত প্রতিনিধিদলটি। এরপর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের পাশে আছে। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের দিন দিন উন্নতি হচ্ছে এবং আরও উন্নতি হবে।

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 44