Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Md. Alamgir Hossan

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 44
46
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে মেয়াদি ও সাধারণ হিসাবে আমানতের সুদের হার কমানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আজ রোববার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার সরকার কমায়নি। কমেছে ডাকঘরে যে সঞ্চয় কর্মসূচি (স্কিম) রয়েছে এবং সেই কর্মসূচির আওতায় মানুষ যে আমানত রাখছে তার সুদের হার।

সরকারি ব্যাংকে সুদের হারের সমপর্যায়ে নিয়ে আসতে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে আমানতের সুদের হার কমানো হয়েছে বলে যুক্তি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বলেছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) সঞ্চয় কর্মসূচির সুদের হার কমানোর বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার আগে যা ছিল, তা-ই আছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইআরডির প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে বলে যেসব প্রতিবেদন হয়েছে, তাতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি স্পষ্ট করতেই এ বিজ্ঞপ্তি।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডাকঘর থেকে যেমন সঞ্চয়পত্র কেনা যায়, তেমনি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের আওতায়ও টাকা রাখা যায়। ডাকঘরে চার ভাবে টাকা রাখা যায়। ডাকঘর থেকে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে সঞ্চয়পত্র কেনা যায়, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে মেয়াদি হিসাব ও সাধারণ হিসাব খোলা যায়। আবার ডাক জীবন বিমাও করা যায়। এবার সুদের হার কমেছে ডাকঘরের সঞ্চয় স্কিমের মেয়াদি হিসাব ও সাধারণ হিসাবে।

সাধারণ হিসাবের ক্ষেত্রে সুদের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। আর তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদের হার হবে ৬ শতাংশ, যা এত দিন ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ ছিল। মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙানোর ক্ষেত্রে এক বছরের জন্য সুদ পাওয়া যাবে ৫ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া দুই বছরের ক্ষেত্রে তা হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।

47
চীনের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন গতকাল শুক্রবার বলেছে, এ পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী। এর মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন। এ ছাড়া এই ভাইরাসের সংক্রমণে গত বৃহস্পতিবার চীনে মারা গেছেন ১২১ জন এবং নতুন রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে ৫ হাজার ৯০ জন। অন্যদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জাপানে মারা গেছেন এক নারী।

উহানে বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ করছেন প্রায় ৮০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী। জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, যে স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই উহানের। এদিকে বৃহস্পতিবার ১২১ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮০। আর মারা যাওয়া ১২১ জনের মধ্যে ১১৬ জনই করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হুবেইয়ের। এ ছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৩ হাজার ৮৫১-তে।


 গতকাল চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলেছে, বৃহস্পতিবার ২ হাজার ৪৫০ জন সন্দেহভাজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই দিন ২ হাজার ১৭৪ জন গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন। দেশটিতে এখন গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ১০৯ জন। বৃহস্পতিবার ১ হাজার ৮১ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ নিয়ে মোট ৬ হাজার ৭২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন।


কমিশন বলেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন, এমন ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৯০৫ জনকে সন্দেহভাজনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৮৪ জন এখনো চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন। চীনের এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কাজ করছে দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি। তারা উড়োজাহাজে করে উহানে মেডিকেল সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া উহানের হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেখান থেকে উড়োজাহাজ করে রোগীদের অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বাড়ছে। চীনের আধা স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৩-তে গিয়ে ঠেকেছে। ম্যাকাওয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন। আর তাইওয়ানে আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। এই রোগীদের অধিকাংশই চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে যাওয়া।

চীনের বাইরে ৩০টি দেশ ও অঞ্চলে এ ভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫৮৫ জন। আক্রান্তের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে পাকিস্তান। ভিয়েতনামে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানী হ্যানয়ের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। জাপানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারী (৮০) মারা গেছেন।

করোনাভাইরাসের প্রভাব প্রসঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন বলেছে, এই সংক্রমণের প্রভাবে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার মুনাফা কমতে পারে চলতি বছর।

48
অনেকেই আজকাল কিটো ডায়েট ক্রেজে ভুগছেন। কিন্তু এই কিটো ডায়েট ওজন কমালেও শরীরের জন্য ভালো কি মন্দ সেটি হয়তো জানেন না। একজন পুষ্টিবিদ বা ডায়েটেশিয়ান স্বাস্থ্যগত কারণে প্রয়োজন হলে বিচার বিশ্লেষণ করে কাউকে কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিতেই পারেন। তবে সেটি গণহারে সবার জন্য মেনে চলার কোন যৌক্তিকতা নেই। কিটো ডায়েট শুরু করার পর পরই অসুস্থতাবোধ এবং ডায়রিয়া ইত্যাদি স্বল্পমেয়াদি সমস্যা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।

*কিটো ডায়েট অনুযায়ী শরীরবৃত্তীয় চাহিদা মেটাতে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করার (চাল, ভুট্টা, গম ইত্যাদির তৈরি খাবার) পরিবর্তে ফ্যাট বা চর্বি ব্যবহার করার ফর্মুলা অনুসরণ করা হয়। কার্বোহাইড্রেট কম বা গ্রহণ না করার মাধ্যমে শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি হরমোন ইনসুলিনকে কমিয়ে ফেলাই কিটো ডায়েটের মূল উদ্দেশ্য। এই ইনসুলিন একদিকে যেমন শর্করা ভাঙে অন্যদিকে চর্বি ও প্রোটিন জমাতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের অভাবে কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে চর্বি শরীরবৃত্তীয় কাজে ব্যবহার হতে থাকে। কিন্তু শর্করা না থাকলে চর্বি শরীরবৃত্তীয় কাজে ব্যবহার হতে পারে না। ইনসুলিনের অভাবে কার্বোহাইড্রেট মেটাবলিজম বন্ধ হয়ে গেলে চর্বি ভেঙে কিটো এসিড তৈরি করে, যা শরীরের জন্য ভয়াবহ একটি অবস্থা কিটো-এসিডোসিস সৃষ্টি করতে পারে। কিটো এসিডোসিসের কারণে মস্তিষ্ক, লিভার এবং কিডনির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

* মস্তিষ্কের প্রধান খাবার হলো গ্লুকোজ, যা স্বাভাবিক অবস্থায় শর্করা জাতীয় খাবার ভেঙে তৈরি হয়। মস্তিষ্ক কিটোন ব্যবহার করতে পারে না। দীর্ঘদিন ডায়েটিং করলে একসময় মস্তিষ্ক কিটোন ব্যবহার করার সক্ষমতা লাভ করে। কিন্তু কিটোন মস্তিষ্কের জন্য কতোটা স্বাস্থ্যকর সে সমন্ধে প্রয়োজনীয় কোন গবেষণা লব্ধ ফলাফল নেই। দীর্ঘমেয়াদে কিটোডায়েটে স্মৃতি ভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
*কিটো ডায়েট চলাকালীন চর্বি ভেঙে রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এই চর্বি হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীতে জমে তা বন্ধ করে দিতে পারে। যা হার্ট এ্যটাকের কারণ হতে পারে। রক্তে চর্বি বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

* কিটো ডায়েট চলাকালীন শুধু চর্বিই ভাঙে না প্রোটিনও ভাঙ্গে। শরীরের বাহ্যিক গঠন যেমন মাংসপেশী ও বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ প্রধানত প্রোটিন দিয়েই তৈরি। কিটো ডায়েট চলাকালীন মাংসপেশী এবং হাড়ের গঠনে প্রভাব ফেলে। ক্রীড়াবিদদের হাড়ে ভঙ্গুর অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। প্রোটিন ভেঙ্গে অপুষ্টির মতো অবস্থা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, কম শর্করা জাতীয় খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সার এবং হৃদরোগের কারণ হতে পারে। কিটো ডায়েট গ্রহণকারীদের মধ্য মৃত্যুর হারও বেশি বলে গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে।

মনে রাখবেন সুস্থ স্বাভাবিক, কর্মক্ষম দীর্ঘ জীবনের জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম, অস্বাভাবিক কিটো ডায়েট নয়। উঠতি বা যুবা বয়সে কিটো ডায়েট ক্রেজে আক্রান্ত না হয়ে বরং সুষম খাবার উপভোগ করে সেটি পরিশ্রম বা ব্যায়ামের মাধ্যমে ঝড়িয়ে ফেলার পর বিশ্রাম নিন, জীবনটাকে উপভোগ করুন।

49

প্রদর্শনীতে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা সম্পর্কে আগ্রহী দর্শনার্থীদের তথ্য দিচ্ছেন একটি স্টলের কর্মীরা। গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায়।  ছবি: প্রথম আলো
প্রদর্শনীতে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা সম্পর্কে আগ্রহী দর্শনার্থীদের তথ্য দিচ্ছেন একটি স্টলের কর্মীরা। গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায়। ছবি: প্রথম আলো
দেশের সফটওয়্যার খাত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এই খাতে এখন নানা সাফল্য ধরা দিচ্ছে। ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন বিদেশেও কাজ করছে। বদৌলতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে (আইটি) বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন বাড়ছে। আইটি খাতে বাংলাদেশের এই আয়কে ‘ডিজিটাল বিপ্লব’ মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে চলমান ‘বেসিস সফটএক্সপো ২০২০’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে গিয়ে দেশি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে এমন ধারণাই পাওয়া গেল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আয়োজিত প্রদর্শনীটি শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। চার দিনের এই প্রদর্শনী শেষ হবে আজ রোববার।


তৃতীয় দিনে গতকাল শনিবার মেলায় সফটওয়্যার প্রদর্শন জোনে গিয়ে দেখা গেল, দেশি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে। বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে। মেলায় জেনেক্স ইনফোসিস, সিনেসিস আইটি, ব্রেইনস্টেশন ২৩, ইক্সোরা, বিজেআইটি, প্রাইডসিস, ব্র্যাক আইটি, মাই সফট, মিডিয়া সফট, ইরা ইনফোটেক, নেসেনিয়া, টিকন, পিপল অ্যান্ড টেক, এন আইটি এস, বিভি ক্রিয়েটিভস, টেকনো ভিস্তা, আমরা টেকনোলজিস, বি-ট্র্যাক টেকনোলজিস ও এডিএন টেকনোলজিসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল বা প্যাভিলিয়ন রয়েছে।

প্রদর্শনীর স্টলেই পাওয়া গেল সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান টিকনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম এন ইসলামকে। তিনি বলেন, দেশের সফটওয়্যার বাজার বড় হচ্ছে। তিনি জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘মিডিয়া সলিউশন’ নিয়ে কাজ করে, বছরে যার বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলারের। বাংলাদেশে এই বাজারের লেনদেনের পরিমাণ ইতিমধ্যে হাজার কোটি টাকার মতো দাঁড়িয়েছে।

সফটওয়্যার জোনে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিংয়ের (ইআরপি) সফটওয়্যার সমাধান দেয়। জানা গেছে, ইআরপি সফটওয়্যার এখন দেশের প্রোগ্রামাররাই তৈরি করছেন।

বেসিসের ডিজিটাল এডুকেশন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. সাকিব রাব্বানী বলেন, দেশে শুধু শিক্ষা খাতে সফটওয়্যার সেবার বাজার ৩ হাজার কোটির টাকার মতো দাঁড়িয়েছে।

খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) সফটওয়্যার নির্মাতা মিডিয়া সফটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোপাল দেবনাথ বলেন, স্থানীয় সফটওয়্যারের বাজার অনেক বড় হচ্ছে। এই বাজারে টিকে থাকতে এখন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এর বাইরে আর্থিক খাতেও বেড়েছে দেশি সফটওয়্যারের চাহিদা। সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি তপন কান্তি সরকার বলেন, ব্যাংকসহ দেশের আর্থিক খাতে স্থানীয় সফটওয়্যার ব্যবহার বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে আরও সম্ভাবনা রয়েছে।

বেসিসের তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থানীয় সফটওয়্যারের বাজার দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটি ডলারে, যা তার এক বছর আগে ছিল ১১০ কোটি ডলার। সংগঠনটির সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘দেশের সফটওয়্যার নির্মাতারা এখন সম্মান বয়ে আনছেন। সফটওয়্যার নির্মাতাদের আরও সামনে এগিয়ে নিতে ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় প্রস্তুত করার কাজ করছে বেসিস।’

আজ সন্ধ্যায় শেষ হবে বেসিস সফটএক্সপো। তবে আজও সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। বেসিস সফটএক্সপো নামের অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিনা মূল্যে প্রদর্শনীতে প্রবেশ করা যায়।

50
চীন থেকে শিল্পের কাঁচামাল ও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। ইতিমধ্যে চীনের বন্দরগুলো থেকে বাংলাদেশমুখী জাহাজে পণ্য পরিবহন কমে যাচ্ছে। কোনো কোনো জাহাজে চীনের পণ্য পরিবহন ৫০ শতাংশে নেমেছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে নববর্ষের ছুটির আগে চীনের বন্দর থেকে জাহাজে তোলা পণ্যও হাতে পেতে দেরি হচ্ছে। চীন থেকে অন্য বন্দর হয়ে চট্টগ্রামে আসার পথে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মধ্যে পড়ায় জাহাজ চলাচলের সময়সূচিও ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ছুটি শুরুর আগে যেসব কাঁচামাল বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য চীনের বন্দরে পাঠানো হয়েছিল, সেগুলোই মূলত এখন তাঁরা হাতে পেতে শুরু করেছেন। তাতে আগামী মাসের পণ্য রপ্তানিতে হয়তো খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। তবে এপ্রিল ও মে মাসের পণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ, ওই সময়ে রপ্তানির কাঁচামাল এখনো জাহাজে বোঝাই শুরু হয়নি। এসব পণ্য হাতে পেতে অন্তত দুই সপ্তাহ পিছিয়ে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।


চীনে কয়েকটি প্রদেশে গত সোমবার ছুটি শেষ হলেও এখনো বেশির ভাগ কারখানা সচল হয়নি। আবার অনেক কারখানা খুলবে ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির পর। কারখানা সচল হওয়ার পর পোশাকের কাঁচামাল উৎপাদন করে জাহাজীকরণে সময় লাগবে। সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় আগামী কয়েক মাস ভুগবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা।

নারায়ণগঞ্জের এমভি নিট ফ্যাশনের ১২ লাখ ডলারের মেয়েদের পোশাকের একটি চালান যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করার কথা এ মাসের শেষে। এই পণ্য প্রস্তুত করতে অ্যাকসেসরিজ বা আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম চীনের সাংহাই বন্দর থেকে জাহাজীকরণের কথা ছিল ২-৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এখনো তা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বিকেএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গতকাল মঙ্গলবার চীনের সাংহাই শহরে সরবরাহকারীর সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের কার্যালয় ২০ ফেব্রুয়ারি খুলবে। ২৫ ফেব্রুয়ারি জাহাজে বোঝাই করার সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। তাতে এ মাসে পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা নেই।

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের শতভাগ রপ্তানিমুখী তাঁবু কারখানা এইচকেডি ইন্টারন্যাশনালের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শহীদুল্ল্যা প্রথম আলোকে জানান, তাঁবু কারখানাটির কাঁচামালের একটি চালান ৭ ফেব্রুয়ারি চীনের বন্দর থেকে জাহাজে বোঝাই করার কথা। সেই সময়সূচি দুই দফা পিছিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। এটি ঠিক থাকে কি না, তা-ও নিশ্চিত নয়।

কাঁচামাল আমদানি কমছে
চীন থেকে সমুদ্রপথে আমদানি কাঁচামাল ও বাণিজ্যিক পণ্যের প্রায় পুরোটাই আনা হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। চারটি আন্তর্জাতিক শিপিং লাইন ১৯টি জাহাজে পণ্য পরিবহন করে। প্রতি মাসে একবার এই ১৯ জাহাজ চট্টগ্রামে পণ্য নিয়ে আসে। এর বাইরে সিঙ্গাপুর হয়ে কনটেইনার কোম্পানিগুলোও বিভিন্ন জাহাজে পণ্য আনা-নেওয়া করে।

কসকো শিপিং লাইন চীনের ইয়াংপো বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রামে তিনটি জাহাজে পণ্য পরিবহন করে। কোম্পানির এমভি নভোসেবা জাহাজটি প্রতি যাত্রায় চীনের বন্দর থেকে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ কনটেইনার পণ্য নিয়ে আসে। ৬ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি চীনের ইয়াংপো বন্দর থেকে মাত্র ১৪১ কনটেইনার বোঝাই করে সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রামের অভিমুখে রয়েছে।

চীনের বন্দর থেকে কাঁচামাল পরিবহন কমে গেছে, ব্যাহত জাহাজ চলাচলের সূচি। বিপাকে পড়েছে উদ্যোক্তারা।

দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনের (হুন্দাই ও সিনোকর) কোরিয়া-চীন-বাংলাদেশ বা কেসিবি সার্ভিসে পাঁচটি জাহাজও চীন থেকে পণ্য পরিবহন করে। এসব জাহাজের একটি এসটি জন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১০০ কনটেইনার কম পেয়েছে।

চট্টগ্রামের কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্সের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ওশান ইন্টারন্যাশনাল কোরিয়ার হুন্দাই মার্চেন্ট মেরিনের স্থানীয় প্রতিনিধি। একইভাবে চীনের কসকো কোম্পানির স্থানীয় এজেন্টও কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্স। কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহসান ইকবাল চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে এ মাসের শেষে চীন থেকে পণ্য পরিবহন আরও কমবে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং কোম্পানি মায়ের্সক লাইনের ১১টি জাহাজ চীনের সাংহাই, নিংবো, তাইচ্যাং ও ডালিয়া বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন করে। কোম্পানির কর্মকর্তারাও জানালেন, এখন চীনের বন্দরে বোঝাই হওয়া প্রতিটি জাহাজে প্রত্যাশা অনুযায়ী কনটেইনার পাওয়া যাচ্ছে না। আমদানির হার কমতির দিকে।

জাহাজের সময়সূচি পিছিয়েছে
করোনাভাইরাসের প্রভাবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার বন্দরগুলো চীন থেকে আসা জাহাজ আলাদা করে পরীক্ষা (কোয়ারেন্টাইন) করছে। তাতে ১৪ দিন পার না হওয়ার আগে এসব জাহাজ সেখানকার বন্দর জেটিতে ভিড়ে পণ্য খালাস করতে পারছে না। এসব বন্দর হয়েও অনেক পণ্য চট্টগ্রামে আনা হয়। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় জাহাজ চলাচলে সময় বেশি লাগছে।

রপ্তানিমুখী জুতার সোল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আর জে এম ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসীম আহমেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, চীনের শিয়ামেন বন্দর থেকে মালয়েশিয়া হয়ে ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে তাঁর কারখানার জুতার সোলের কাঁচামালের একটি চালান পৌঁছানোর কথা। কিন্তু ১৪ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত মালয়েশিয়ার বন্দরে না নামানোর কারণে চালানটি দুই সপ্তাহ পরে হাতে পাবেন তিনি। তাতে কারখানার একটি লাইনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

প্রভাব পড়বে শিল্পে
করোনাভাইরাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ হাজার ৪১৩ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২১৭ কোটি মার্কিন ডলারের কাঁচামালের বড় অংশই এসেছে চীন থেকে। আবার পোশাক কারখানার যন্ত্রপাতির যন্ত্রাংশের সিংহভাগই আসে চীন থেকে। পোশাকশিল্প ছাড়াও চামড়া ও ওষুধের কাঁচামালও আসে চীন থেকে। এ ছাড়া রড, ঢেউটিন, সিরামিকস তৈরির কাঁচামালেও চীনের ওপর নির্ভরশীলতা রয়েছে।

পাটখড়ির ছাই বা চারকোল রপ্তানির একমাত্র বাজার চীন। এক দশক ধরে গড়ে ওঠা এই খাতে যুক্ত হয়েছেন ২২ জন উদ্যোক্তা। তাঁদের সবার কারখানায় এখন পাটখড়ির ছাইয়ের স্তূপ জমেছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রিগালো প্রাইভেট লিমিটেডের কারখানায় এক হাজার টন পাটখড়ির ছাই স্তূপ হয়ে আছে। রপ্তানি আদেশ না পাওয়ায় এসব পণ্য চীনে পাঠানো যাচ্ছে না বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আবু মোহাম্মদ মান্না ওয়াদুদ।

বাংলাদেশ চারকোল ম্যানুফ্যাকচারিং এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মির্জা শিপন জানান, অনেকেই উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। ভরা মৌসুমে রপ্তানি না হওয়ায় এ খাতের উদ্যোক্তারা বিপদে পড়েছেন।

সামগ্রিক বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, চীনের করোনাভাইরাসের স্বল্পকালীন প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। আবার যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল নির্ধারিত সময়ে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রোগটি দ্রুত প্রশমন করা না গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের এক-চতুর্থাংশ চীন থেকে আসে। এ ধরনের অতিনির্ভরশীলতা ভালো নয়। বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। বেশি আমদানি হয়, এমন পণ্যের বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আমদানির সময় ও দামের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, কম সময়ে পণ্য প্রাপ্তি ও প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণেই চীন থেকে আমাদের আমদানি বেড়েছে।’ সিপিডির এই গবেষক বলেন, বাণিজ্যযুদ্ধ, করোনাভাইরাসসহ নানা কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চীনের বিকল্প দেশ খুঁজছেন। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের উচিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে সুযোগটি নেওয়া। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া কিন্তু বিনিয়োগকারীদের নিজেদের দেশে টানছে।

51
ভারতকে একটি উন্নত অর্থনীতির দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির অফিস (ইউএসটিআর) বলছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেওয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর সুবিধা এখন নেওয়ার যোগ্য নয় ভারত। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ভারত চাইলেও অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) আর দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।

জিএসপি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সবচেয়ে পুরোনো ও বড় বাণিজ্যসুবিধা। এর মাধ্যমে উন্নয়শীল অর্থনীতির দেশগুলোকে বিনা শুল্কে শত শত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এত দিন ভারত এই বিশেষ মর্যাদা পেত। গত বছরের ৫ জুন থেকে ভারতকে দেওয়া জিএসপি বাতিল করছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতকে উন্নত দেশ বলার মাধ্যমে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে এই সুবিধা পুনরায় দাবি করলেও তা পাওয়ার সম্ভাবনা ভারতের খুবই কম। আজ বুধবার বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
উন্নয়নশীল দেশের মানদণ্ড অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম অংশ রয়েছে উন্নয়নশীল দেশের, যে সীমা অনেক আগেই অতিক্রম করেছে ভারত। ২০১৭ সালে বিশ্ববাণিজ্যের ভারতের রপ্তানির অবদান ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং আমদানি অবদান ২ দশমিক ৬ শতাংশ। ইউএসটিআরের যুক্তি, ভারত, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো জি-২০ ব্লকের অংশ, তাই তাদের বিশ্বব্যাংকের তত্র অনুযায়ী মোট জাতীয় উৎপাদনে (জিএনআই) মাথাপিছু আয় ১২ হাজার ৩৭৫ ডলারের নিচে থাকার পরেও উন্নত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে।

অবশ্য ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেন, ‘অন্য দেশগুলোর সরবরাহ করা জিএসপির মতো সুবিধা এখন আর ভারতের প্রয়োজন নেই। আমাদের নিজেরই এখন প্রতিযোগিতামূলক বাজার হয়ে ওঠা উচিত। বিষয়টি এখন কেবল ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনার অংশ হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।

জিএসপি ব্যবস্থাপনার সুবিধা যে কটি দেশ পেত, তার মধ্যে ভারতের উপকার হতো সবচেয়ে বেশি। ইউএসটিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ২৬ কোটি ডলার শুল্কছাড় সুবিধা পেয়েছে তারা। গত বছরের জানুয়ারি মাসে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০১৭ সালে সাড়ে ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায় ভারত। কিন্তু এবার বন্ধ হচ্ছে সেই রাস্তা। ২০১৭ সালে তুরস্ক ছিল পঞ্চম বৃহত্তম সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যাচ্ছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দিনের সফরে ভারত পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর। এই সফলে বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, যদি সঠিক মনে হয়, তবে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে সই করবেন।

52
বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ আছে সৌদি আরবের। এ জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে তেলসমৃদ্ধ দেশটি। এই লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হওয়া দুই দেশের যৌথ কমিশনের বৈঠকে সৌদি আরামকোসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় সাতটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

গতকাল বুধবার দুই দেশের যৌথ কমিশনের বৈঠকের শুরুতে সৌদি প্রতিনিধিদলের নেতা ও সে দেশের শ্রম ও সমাজ উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী মাহির আবদুল রাহমান গাসিম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দুই দিনের বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ। বৈঠকটি আজ বৃহস্পতিবার সকালে শেষ হচ্ছে।
সৌদি আরামকোর ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ জুলিও সি হেজেলমেয়ার মোসেস বলেন, ‘আরামকো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। বিনিয়োগের সুযোগ কী আছে, তা জানতে এসেছি।’

সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজ উন্নয়নবিষয়ক উপমন্ত্রী মাহির আবদুল রাহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের বিনিয়োগের আগ্রহ রয়েছে। তাই প্রতিনিধিদলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সদস্যদের যুক্ত করা হয়েছে।’ তিনি জানান, সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীদের ১৩ শতাংশ বাংলাদেশের নাগরিক। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বৈঠকের শুরুতে মনোয়ার আহমেদ বাংলাদেশের দক্ষ অশিক্ষিত শ্রমশক্তি সম্পর্কে সৌদিকে অবহিত করেন।

জানা গেছে, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও সৌদি আরবে অবস্থানরত ৪২ হাজার রোহিঙ্গার প্রসঙ্গটি আলোচনায় তুলেছে দেশটি। ওই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে গেছে বলে সৌদি আরব তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে।

এদিকে ইআরডি কার্যালয়ে গতকাল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৌদি আরবের সফররত প্রতিনিধিদলটি। এরপর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের পাশে আছে। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের দিন দিন উন্নতি হচ্ছে এবং আরও উন্নতি হবে।

53
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহ করতে এবার ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে সুদের হার কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে করেছে সরকার। তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে এখন ৬ শতাংশ সুদ পাওয়া যাবে এত দিন যা ছিল ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অর্থাৎ, এখন থেকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে গ্রাহকের মুনাফা অর্ধেকে নেমে এল। গতকাল থেকে নতুন এই সুদহার কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই প্রজ্ঞাপনে। ডাকঘর সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমায়নি সরকার।


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এখন থেকে এক বছর মেয়াদে সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ শতাংশ, আগে যা ছিল ১০ দশমিক ২০ শতাংশ। দুই বছর মেয়াদের সঞ্চয়পত্রে সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। আগে যা ছিল ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। এবং তিন বছর মেয়াদের সঞ্চয়পত্রে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ।

আমানতকারী চাইলে প্রতি ৬ মাস অন্তর মুনাফা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে ১ম বছরে ৪, ২য় বছরে সাড়ে ৪ এবং ৩য় বছরে ৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। আগে যা ছিল যথাক্রমে ১ম বছরে ৯, ২য় বছরে সাড়ে ৯ এবং ৩য় বছরে ১০ শতাংশ।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছেন গ্রাহক।

সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগ নিরুৎসাহ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ বছর গত বছরের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে আয়কর কর্তনের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। অবশ্য ব্যাংকগুলোর স্থায়ী আমানতের ক্ষেত্রেও সুদের ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ এবং যাঁদের টিআইএন নেই, এ হার তাঁদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ।

৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে উৎসে কর বাড়ালেও এখনো ডাকঘর সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্যান্য সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমায়নি সরকার।

এসব শর্তে সরকারের সঞ্চয়পত্রের বিক্রির পরিমাণ কমেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে এক-তৃতীয়াংশের কিছু কম। সঞ্চয়পত্র নিট বিক্রি হয়েছে ৩২০ কোটি ৬২ লাখ টাকার। আগের বছর একই মাসে বিক্রি হয় ৩ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র।

54
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সত্ত্বেও ভিয়েতনাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি মুক্তবাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপের পার্লামেন্ট। ইভিএফটিএ নামের এ চুক্তির ফলে আগামী ১০ বছর ইইউভুক্ত দেশগুলোতে প্রায় বিনা শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পাবে ভিয়েতনাম।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাবশালী সংসদীয় বাণিজ্য কমিটি গত মাসে এই চুক্তির পক্ষে সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে এই চুক্তি অনুমোদন পায়। এতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প, এমন আশঙ্কার কথা বলছেন খাতটির উদ্যোক্তারা।
মুক্তবাণিজ্য চুক্তিটি ইইউ ও ভিয়েতনামের মধ্যেকার ৯৯ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক দূর করবে। তাতে দুই দেশের কোম্পানির জন্য বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে। চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে ভিয়েতনামে ইইউর ৬৫ শতাংশ পণ্যের রপ্তানি শুল্কমুক্ত হয়ে যাবে। বাকি পণ্যের শুল্ক ১০ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে কমবে। একইভাবে ইইউতে রপ্তানি হওয়া ভিয়েতনামের ৭১ শতাংশ পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার হয়ে যাবে শুরুতেই। বাকিটা হবে সাত বছরে ধাপে ধাপে।

ইইউর হিসাবে বাণিজ্য চুক্তিটির ফলে ২০৩৫ সাল নাগাদ ইইউতে ভিয়েতনামের বার্ষিক রপ্তানি বেড়ে ১ হাজার ৫০০ কোটি ইউরোতে দাঁড়াবে। অন্যদিকে ভিয়েতনামে ইইউর রপ্তানি ৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ২০০ কোটি ইউরোতে পৌঁছাবে। এ ছাড়া চুক্তির ফলে ২০২৫ সাল নাগাদ ভিয়েতনামের জিডিপি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে দেশটির পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়।

ইভিএফটিএ নিয়ে ভিয়েতনাম ও ইইউ নিজেদের লাভ-লোকসান হিসাব–নিকাশ করলেও চুক্তিটির বিরোধিতা করে আসছিল বেশ কিছু এনজিও। ২৮টি এনজিওর একটি গ্রুপ ইইউ আইনপ্রণেতাদের বলেছে, শ্রম ও মানবাধিকার রক্ষায় ভিয়েতনাম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত করা উচিত। তবে গতকাল পার্লামেন্টে তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল চুক্তিতে সমর্থন করেছে। চুক্তিটি কার্যকরে ইইউ কাউন্সিলের ও ইইউ সদস্য ২৭ দেশেরও অনুমোদন লাগবে।

অবশ্য অতীতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় ভিয়েতনামের কাছে শ্রম ও পরিবেশ মানদণ্ডের দাবি করেছে ইইউ। তবে শ্রম মানদণ্ড নির্ধারণে খুব একটা আগ্রহী নয় ভিয়েতনাম। তারপরও ইউরোপের পার্লামেন্টে অনুমোদন পেয়েছে এই চুক্তি। গত ২০ বছরে অসংখ্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করেছে ভিয়েতনাম। তাদের রপ্তানিমুখী অর্থনীতি বছরের পর বছর ধরে মুক্তবাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল।
য়েতনাম বিশ্বের অন্যতম উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৬ থেকে ৭ শতাংশ। ভিয়েতনাম ইইউভুক্ত দেশে টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি, খাদ্য ও পোশাক রপ্তানি করে। অন্যদিকে ইইউর দেশগুলোর রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আছে যন্ত্রপাতি, পরিবহন সরঞ্জাম, রাসায়নিক এবং কৃষিপণ্য।

বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা

অগ্রাধিকারমূলক বাজার–সুবিধা বা জিএসপির কারণে ইইউ হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় গন্তব্য। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ২ হাজার ১১৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। তার মানে বাংলাদেশি পোশাকের প্রায় ৬২ শতাংশ ইইউতে গিয়েছে। তবে ইভিএফটিএ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মতো শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ভিয়েতনামের তৈরি পোশাকও। সেটিকেই বড় দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে দেখছেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা।

কয়েক মাস আগেই তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলেছে, ইইউতে রপ্তানি হওয়া বাংলাদেশের ১২ শতাংশ ও ভিয়েতনামের ১১ শতাংশ তৈরি পোশাক একই রকম। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব পণ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। আবার ধাপে ধাপে শুল্কমুক্ত হওয়ায় ৭ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্যও ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়ে যাবে।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, চুক্তিটির কারণে ভিয়েতনাম ইইউতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম–অবস্থানে চলে এল, যা বাংলাদেশের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। কারণ, এত দিন ভিয়েতনামকে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পোশাক রপ্তানি করতে হতো। চুক্তি কার্যকর হলে সেটি আর লাগবে না। অন্যদিকে বাংলাদেশ ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছালে ২০২৭ সাল থেকে ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা আর থাকবে না। কিন্তু ভিয়েতনামের ওটা থাকবে। তাই বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটা এখন অনেক বড়।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও ইইউর চুক্তি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। কারণ, বর্তমানে আমাদের বড় প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইইউতে আমরা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পোশাকশিল্পে বর্তমানে খারাপ সময় যাচ্ছে। তাই ইভিএফটিএ চুক্তির পর আমাদের বাড়তি সতর্কতা দরকার। ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য দ্রুত আমাদের করণীয় ঠিক করে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

কম্বোডিয়ার জিএসপিতে থাবা

গত বুধবার মানবাধিকার ইস্যুতে কম্বোডিয়ার বাণিজ্যসুবিধা কমিয়ে দিয়েছে ইইউ। তারা বলেছে, কম্বোডিয়াকে দেওয়া অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যসুবিধা জিএসপি আংশিক স্থগিত করা হবে। এতে ইউতে দেশটির ২০ শতাংশ রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইইউর পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, গণতন্ত্র নষ্ট হচ্ছে, মানবাধিকার নষ্ট হচ্ছে, এমন কিছুর পাশে ইইউ দাঁড়াবে না। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার শক্তিশালী বিরোধীদলীয় নেতা হুন সেন বলেন, ইইউর সমালোচনার মুখে এই দেশ মাথা নত করবে না।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার আছে। কারণ, শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্যই তাদের জিএসপির আংশিক বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা থেকে আমরা বুঝতে পারি, এসব বিষয়ে আমরা যদি সাবধান না হই, তাহলে আকস্মিক খড়্গ নেমে আসতে পারে।’

55

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ লোকের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরা এ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে এ ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের শীর্ষ রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল লিয়াং। করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধানের সতর্কবাণীর পরপরই এল হংকংয়ের রোগতত্ত্ববিদ লিয়াংয়ের হুঁশিয়ারি।

ডব্লিউএইচও প্রধান টেডরস আধানম গেবিয়াসস গত রোববার বলেছিলেন, ‘করোনাভাইরাস এমন মানুষ থেকেও ছড়াচ্ছে, যে কখনো চীন ভ্রমণ করেনি...চীনের বাইরে যে অল্পসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই ভাইরাস বিভিন্ন দেশে আরও ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা হয়তো এই ভাইরাসের সংক্রমণের নমুনা দেখতে পাচ্ছি মাত্র।’
 হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিদ্যা অনুষদের জনস্বাস্থ্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল লিয়াং বলেন, করোনাভাইরাসের ব্যাপকতা অনুধাবন করতে পারাই এখন অগ্রাধিকারের বিষয়। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে ভাইরাসে সংক্রমিত প্রতি ব্যক্তি প্রায় আড়াইজনে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। অর্থাৎ ‘সংক্রমণের হার’ ৬০-৮০ শতাংশ হতে পারে।
লিয়াং এ–ও বলেন, ‘বিশ্বের ৬০-৮০ শতাংশ লোক সংক্রমিত হবে কি? মনে হয় না। মনে হয়, তা দফায় দফায় আসবে। হয়তো ভাইরাসটিতে মৃত্যু কমে আসবে। কারণ, সংক্রমিত সবাই মরে গেলে তো ভাইরাসটি টিকে থাকবে না।’

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইম্পিরিয়াল কলেজ লন্ডনের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করছেন লিয়াং। ২০০২-০৩ সালে সার্সের প্রাদুর্ভাবের সময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় বিশেষজ্ঞদের এক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে লিয়াংয়ের। যাত্রাবিরতিতে লন্ডনে লিয়াং বলেন, বিশ্বের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ বেশ বড় সংখ্যা। তিনি আরও বলেন, ভাইরাসে গুরুতর আক্রান্তের পাশাপাশি সামান্য আক্রান্তের হিসাব করা হচ্ছে। যার কারণে মৃত্যুহার ১ শতাংশ কিংবা এর কম মনে হচ্ছে।

ভাইরাসটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এর উৎপত্তিস্থল উহান ও অন্যান্য শহরে চীনা কর্তৃপক্ষের নেওয়া বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা, যেমন গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ বা কোয়ারেন্টাইনে রাখার মতো পদক্ষেপের কারণে সংক্রমণ কমে এসেছে কি না, বিশেষজ্ঞরা এ–ও জানতে চাইছেন। লিয়াং এ বিষয়ে বলেছেন, ‘ধরুন, ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চীনের পদক্ষেপ কাজে আসছে। কিন্তু কত দিন স্কুল বন্ধ রাখা যাবে? আর কত দিন একটি গোটা শহর অবরুদ্ধ করে রাখা যাবে? কত দিন জনগণকে বিপণিবিতানে যেতে দেবেন না এবং এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিলে আবারও কি সংক্রমণ শুরু হবে?’ এমন নানা প্রশ্ন তুলেছেন লিয়াং। তিনি আরও বলেন, ‘ভাইরাসে সংক্রমিত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটকে রাখার চীনের পদ্ধতি কাজে না এলে আরেকটি অপ্রীতিকর সত্যের মুখোমুখি আমাদের হতে হবে। তা হলো সম্ভবত ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

56
এমন প্রাণঘাতী দিন আগে দেখেনি চীন। দেশটির হুবেই প্রদেশে গতকাল বুধবার নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে অন্তত ২৪২ জন মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর মৃত্যুর সংখ্যার বিবেচনায় এখন পর্যন্ত এটিই দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন। সব মিলিয়ে চীনে এই ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত ব্যক্তির মোট সংখ্যা ১ হাজার ৩৫০ ছাড়িয়েছে।
গতকাল চীনে এই ভাইরাসে নতুন করে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এদিন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে ১৪ হাজার ৮৪০ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কবে নাগাদ থামবে, তা এখনই বলা মুশকিল। ছবি: রয়টার্স
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কবে নাগাদ থামবে, তা এখনই বলা মুশকিল। ছবি: রয়টার্স
এমন প্রাণঘাতী দিন আগে দেখেনি চীন। দেশটির হুবেই প্রদেশে গতকাল বুধবার নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে অন্তত ২৪২ জন মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর মৃত্যুর সংখ্যার বিবেচনায় এখন পর্যন্ত এটিই দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন। সব মিলিয়ে চীনে এই ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত ব্যক্তির মোট সংখ্যা ১ হাজার ৩৫০ ছাড়িয়েছে।


গতকাল চীনে এই ভাইরাসে নতুন করে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এদিন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে ১৪ হাজার ৮৪০ জন।


নতুন করোনাভাইরাসের কেন্দ্রস্থল হুবেই প্রদেশ। সেখানকার কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্তে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করতে শুরু করেছে। মূলত, এই পদক্ষেপের পরই সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।

গতকালের আগে কয়েক দিন ধরে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু এখন তা একলাফে বেড়ে গেল।

চীনে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর মোট সংখ্যা এখন প্রায় ৬০ হাজার।

চীনে করোনাভাইরাসে যারা মারা যাচ্ছে বা সংক্রমিত হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। এই সংখ্যা ৮০ শতাংশেরও বেশি।

হুবেইয়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্তে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার শুরুর পর এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর তথ্য এল।

চীনের বাইরেও নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। বিশ্বের ৩০টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫০০ জন। এর মধ্যে হংকং ও ফিলিপাইনে মারা গেছেন দুজন। তাঁরা চীনের নাগরিক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। তারা বলেছে, বিশ্বকে সন্ত্রাসবাদের থেকেও বড় হুমকি দিচ্ছে এই মহামারি। এই ভাইরাসকে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নম্বর শত্রু হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

ডব্লিউএইচও বলছে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ কবে নাগাদ থামবে, তা এখনই বলা মুশকিল। এ ছাড়া ভাইরাসটির টিকা তৈরি করতে ১৮ মাস সময় লাগতে পারে।

57
চীনের উহানের একটি হাসপাতালের নার্স নিং ঝু (ছদ্মনাম)। সহকর্মীদের মতো তাঁরও এখন নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোগীদের সেবা দেওয়ার বদলে তিনি নিজেই এখন কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। হাজার হাজার রোগীর মতো ঝু নিজেও যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত!

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসক-নার্সরাও দ্রুত নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, আজ শুক্রবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে ছয় চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। দেশজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৭১৬ জন চিকিৎসক-নার্স। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ১০২ জনই হুবেই প্রদেশের উহান শহরের। এই প্রথমবারের মতো আক্রান্ত চিকিৎসকদের সংখ্যা প্রকাশ করল চীন।
জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের উপপরিচালক জেং ইজিনের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশই চিকিৎসক। আর মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। মারা যাওয়া চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেং বলেছেন, ‘সব চিকিৎসকদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমাদের এখন আক্রান্ত চিকিৎসকদের সুস্থ করে তোলার দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।’
উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের এক চিকিৎসক চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে লিখেছেন, তাঁর প্রায় ১৫০ জন সহকর্মী নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই চিকিৎসক নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই চিকিৎসক গত বুধবার ওয়েইবোতে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘আমি যেখানে চিকিৎসাধীন আছি, সেখানকার রোগীদের বেশির ভাগই আমার সহকর্মী।’
ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের অধ্যাপক বেনজামিন কাউলিং বলেছেন, চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব চিকিৎসকদের। অথচ তাঁদেরই আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনা চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় দেশটির সাধারণ মানুষ। প্রাণঘাতী করোনার ব্যাপারে তিনিই সর্বপ্রথম সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। ৭ ফেব্রুয়ারি এই করোনায় আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয় তাঁর।

উহান সেন্ট্রাল হসপিটালে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ লি উহানের সাত ব্যক্তির মধ্যে একটি ভাইরাসের সংক্রমণ দেখতে পেয়েছিলেন। ভাইরাসটি তাঁর কাছে সার্সের মতো মনে হয়েছিল। কিন্তু সে সময় পুলিশ তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে বলে। গত ৩০ ডিসেম্বর লি একটি চ্যাট গ্রুপে বার্তা দিয়ে তাঁর সহকর্মী চিকিৎসকদের ভাইরাসটির ব্যাপারে সতর্ক করেন। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনি তাঁর সহকর্মী চিকিৎসকদের সুরক্ষামূলক পোশাক পরার পরামর্শ দেন। চার দিন পর লিকে তলব করে পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো। তাঁকে একটি চিঠিতে সই করতে বলা হয়। চিঠিতে লির বিরুদ্ধে মিথ্যা মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে তাঁর মন্তব্য সমাজের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

এদিকে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনেই চীনে মারা গেছে ২৪২ জন, এখন পর্যন্ত যা এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ।

Pages: 1 2 3 [4] 5 6 ... 44