Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - khadija kochi

Pages: [1] 2 3 ... 6
1
বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরি বললেন, নারী বিজ্ঞানী বলে কেউ যেন হেয় করতে না পারে, তাও মাথায় রাখতে হবে। মেয়েরা সবকিছু করতে পারে।

উন্নয়নশীল দেশে শিশুদের সংক্রামক রোগ চিহ্নিতকরণ ও বিশ্বব্যাপী এর বিস্তার রোধে প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য সম্প্রতি ‘লরিয়েল-ইউনেস্কো উইমেন ইন সায়েন্স অ্যাওয়ার্ড’ (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল) পেয়েছেন বাংলাদেশের এই বিজ্ঞানী ড. ফেরদৌসী কাদরি।


‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব উইমেন অ্যান্ড গার্লস ইন সায়েন্স’ দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) মিউকোসাল ইম্যুনোলজি অ্যান্ড ভ্যাকসিনোলজি ইউনিটের প্রধান জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ফেরদৗসী কাদরিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সেরা বিজ্ঞানী নির্বাচিত করা হয়েছে।

ফেরদৌসী কাদরি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে গবেষণায় যুক্ত। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গবেষণা করে যেতে চান।

ফেরদৌসী কাদরি বললেন, কলেরা, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন রোগনির্ণয়, এসব রোগের টিকা সম্প্রসারণ, রোগপ্রতিরোধসহ বিভিন্ন গবেষণায়  সব সময় মাথায় রাখেন, গবেষণার ফলটি যাতে সব জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হয় এবং তা মানুষের উপকারে লাগে।

ফেরদৌসী কাদরির তিন সন্তান। সংসার ও গবেষণায় তাল মেলাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক স্বামী সালেহীন কাদরির সার্বিক সহায়তার কথা উল্লেখ করলেন।

ফেরদৌসী কাদরির মতে, একজন নারীর পাশে আরেকজন নারী যদি সহায়তার হাত বাড়ান, তাহলে চলার পথটা একটু বেশি মসৃণ হয়। বাসার কাজের সহকারী বুলবুলি এবং নানি ফেরদৌসী বানুর কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন তিনি।

ফেরদৌসী কাদরি বললেন, রোল মডেল হতে চাইলে ভালো কাজ করতে হবে।  আর নারীর ক্ষমতায়নে ছেলে বা পুরুষদেরও সচেতন করতে হবে। স্বামী যদি বলেন, স্ত্রীকে বাইরে কাজ করতে দেবেন না, তবে ওই নারীর সংগ্রামটা আরও বেড়ে যায়।

2
Faculty Forum / রঙের ছোঁয়ায় রঙিন ঘর
« on: March 11, 2020, 04:59:50 PM »
শুরু হয়ে গেছে বিয়ের মৌসুম। বিয়ের নানা প্রস্তুতি তো চলতেই থাকে। এর পাশাপাশি নবদম্পতির ঘরটির অন্দরসজ্জা কেমন হবে, তা নিয়েও কিন্তু ভাবনার অন্ত থাকে না। কারণ, এই ঘর থেকেই তো শুরু তাঁদের নতুন জীবনের পথচলা।

 নবদম্পতির ঘরের আসবাব পছন্দ করার সময় আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ড্রেসিং টেবিল, আলমারির নকশা হালকা হওয়া ভালো। এতে ঘর বেশ ফাঁকা দেখায়। এদিকে ঘরে জায়গা কম থাকলে দেয়ালজোড়া আসবাব বানানো ভালো। বিছানার চাদর ও বেডকভার বাছাই করার সময় পছন্দের সঙ্গে আরামের দিকটিও মাথায় রাখতে হবে। বাড়তি মাত্রা যোগ করতে বিছানায় ব্যবহার করতে পারেন নানা রকম কুশন। পর্দা কেনার সময় খেয়াল রাখবেন তা যেন অপেক্ষাকৃত ভারী কাপড়ের হয়। বেডের পাশে রাখতে পারেন কার্পেট বা শতরঞ্জি। আসবাবের পাশাপাশি ঘরে প্রাকৃতিক আবহের জন্য রাখতে পারেন তাজা ফুলসহ ফুলদানি ও নানা রকম ইনডোর প্ল্যান্টস। ল্যাম্পের আলোর ব্যবহারে ঘরে আনতে পারেন রোমান্টিক আবহ।
শোয়ার ঘরকে একটি নির্দিষ্ট রঙে রাঙানো বা থিম ধরে সাজানোর প্রচলন বেশ আগে থেকেই জনপ্রিয়। আধুনিক গৃহসজ্জায় ঘরকে রাঙানোর ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে নতুন চিন্তাভাবনা। দিন শেষে বিশ্রাম নিতে এবং সকালে নতুন উদ্যমে দিন শুরু করা হয় এই শোয়ার ঘর থেকেই। তাই শোয়ার ঘরের অন্দরসজ্জা ও রঙের বিন্যাস এমন হওয়া উচিত, যা একই সঙ্গে ক্লান্তি দূর করে এনে দিতে পারে সতেজতা। সে ক্ষেত্রে আকাশি বা ময়ূরকণ্ঠী নীল, ফিরোজা, জলপাই বা শেওলা সবুজ, ল্যাভেন্ডার ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। এসব রং মনকে সতেজ ও প্রশমিত করে। গোলাপি বা লাল হলো রোমান্টিকতার প্রতীক। তাই বহু আগে থেকেই শোয়ার ঘরের রং হিসেবে লাল, মেরুন, গোলাপি স্থান দখল করে রেখেছে। এর পাশাপাশি হলুদ বা কমলা উষ্ণ ও আরামদায়ক রং হিসেবে শোয়ার ঘরে বেশ মানিয়ে যায়।



 নবদম্পতির ঘরের আসবাব পছন্দ করার সময় আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ড্রেসিং টেবিল, আলমারির নকশা হালকা হওয়া ভালো। এতে ঘর বেশ ফাঁকা দেখায়। এদিকে ঘরে জায়গা কম থাকলে দেয়ালজোড়া আসবাব বানানো ভালো। বিছানার চাদর ও বেডকভার বাছাই করার সময় পছন্দের সঙ্গে আরামের দিকটিও মাথায় রাখতে হবে। বাড়তি মাত্রা যোগ করতে বিছানায় ব্যবহার করতে পারেন নানা রকম কুশন। পর্দা কেনার সময় খেয়াল রাখবেন তা যেন অপেক্ষাকৃত ভারী কাপড়ের হয়। বেডের পাশে রাখতে পারেন কার্পেট বা শতরঞ্জি। আসবাবের পাশাপাশি ঘরে প্রাকৃতিক আবহের জন্য রাখতে পারেন তাজা ফুলসহ ফুলদানি ও নানা রকম ইনডোর প্ল্যান্টস। ল্যাম্পের আলোর ব্যবহারে ঘরে আনতে পারেন রোমান্টিক আবহ।


শোয়ার ঘরকে নির্দিষ্ট রঙে রাঙানো যায়।

শোয়ার ঘরকে একটি নির্দিষ্ট রঙে রাঙানো বা থিম ধরে সাজানোর প্রচলন বেশ আগে থেকেই জনপ্রিয়। আধুনিক গৃহসজ্জায় ঘরকে রাঙানোর ক্ষেত্রে যোগ হয়েছে নতুন চিন্তাভাবনা। দিন শেষে বিশ্রাম নিতে এবং সকালে নতুন উদ্যমে দিন শুরু করা হয় এই শোয়ার ঘর থেকেই। তাই শোয়ার ঘরের অন্দরসজ্জা ও রঙের বিন্যাস এমন হওয়া উচিত, যা একই সঙ্গে ক্লান্তি দূর করে এনে দিতে পারে সতেজতা। সে ক্ষেত্রে আকাশি বা ময়ূরকণ্ঠী নীল, ফিরোজা, জলপাই বা শেওলা সবুজ, ল্যাভেন্ডার ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। এসব রং মনকে সতেজ ও প্রশমিত করে। গোলাপি বা লাল হলো রোমান্টিকতার প্রতীক। তাই বহু আগে থেকেই শোয়ার ঘরের রং হিসেবে লাল, মেরুন, গোলাপি স্থান দখল করে রেখেছে। এর পাশাপাশি হলুদ বা কমলা উষ্ণ ও আরামদায়ক রং হিসেবে শোয়ার ঘরে বেশ মানিয়ে যায়।



এদিকে পছন্দের রং দিয়ে ঘর সাজানোর জন্য দেয়াল থেকে মেঝে পর্যন্ত সবকিছু সেই রঙের প্রলেপে মুড়ে দিতে হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। পছন্দের রং বা কালার স্কিম বেছে নেওয়ার পর ঘরের এক পাশের দেয়ালে সেই রঙের ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত এ ক্ষেত্রে বিছানার পেছনের দেয়ালটি বেছে নেওয়া ভালো। দেয়াল ছাড়াও বিছানার চাদর, পর্দা অথবা কার্পেটের রং মিলিয়েও ঘরকে রঙিন আবহ দেওয়া যেতে পারে। দুটি রং ব্যবহার করলে একটি দেয়াল ও কুশন এক রঙের এবং পর্দা ও চাদর আরেক রঙের করলেও ভালো দেখাবে। এ ছাড়া গাছের টব, ফুলদানি—এমন ছোট ছোট অনুষঙ্গের মাধ্যমেও রঙের ছোঁয়া আনা যায়।

3
Faculty Forum / কাপড়চোপড় রাখতে
« on: March 11, 2020, 04:58:18 PM »
মৌসুম বদলে গেছে। এসেছে শীতকাল। গরমের সময়কার অনেক কাপড়ই এখন তুলে রাখতে হচ্ছে আলমারিতে, ওয়ার্ডরোব আর ড্রয়ারে ড্রয়ারে। কাপড় সংরক্ষণে ও গুছিয়ে রাখতে ঘরে ওয়ার্ডরোব বা ড্রয়ারের ব্যবহার জরুরি। তাই জরুরি আসবাবের নান্দনিক দিকটাও ভাবতে হবে, তাতে ঘর হবে নান্দনিক।

তৈরির উপকরণে ভিন্নতা
ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহারের জন্য আলমারি তৈরি করা হয় ভিন্ন ভিন্ন উপকরণে। একই সঙ্গে ড্রয়ার তৈরির উপকরণে রয়েছে ভিন্নতা। এ ভিন্নতার কারণে তৈরিতে আভিজাত্য ও রুচির ছাপ থাকে। বাজারে কাঠ, স্টিল, প্লাইউড, প্লাস্টিক থেকে শুরু করে নানা ধরনের ড্রয়ার পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে কাঠ ও প্লাস্টিকের ড্রয়ার বাজারে বেশি পাওয়া যায়। এ ছাড়া পার্টিকেল বোর্ডে তৈরি ড্রয়ার বাজারে পাওয়া যায়। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে পছন্দের ড্রয়ার বেছে নিতে পারেন।

বাহারি ব্যবহার


উপকরণের ওপর ড্রয়ারের ব্যবহার অনেকাংশে নির্ভর করে। স্টিলের ড্রয়ারে সাধারণ ভারী ও মৌসুমি ব্যবহারের উপকরণ রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। কাঠের ড্রয়ারে নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের বেশি রাখা হয়। কারণ কাঠের ব্যবহার সহজ ও আরামদায়ক। বর্তমানে প্লাস্টিকের ড্রয়ারের ব্যবহার বাড়ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে কাঠের পরিবর্তে প্লাস্টিকের ড্রয়ার কেনার আগ্রহ বেড়েছে। রামপুরার আরএফএলের বেস্ট বাই শোরুমে প্লাস্টিকের ড্রয়ার কিনতে এসেছিলেন গৃহিণী রুবানা আক্তার। তিনি জানালেন, ‘চাকরির সুবাদে যাঁদের ঢাকায় বসবাস, তাঁদের জন্য প্লাস্টিকের ড্রয়ারের বিকল্প নেই। এগুলো যথেষ্ট হালকা বলে বাসা পরিবর্তনের সময় কম ঝক্কি পোহাতে হয়। তা ছাড়া প্লাস্টিকের আসবাবগুলো খুব আধুনিক ও আকর্ষণীয়।’

আরএফএলের বাড্ডা শোরুমের বিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. রুবেল হোসেন জানান, ‘বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ব্যবহারের বাহারি নকশার ড্রয়ার পাওয়া যায়। বয়সের ওপর নির্ভর করে এসব ড্রয়ার তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছোটদের জন্য তৈরি ড্রয়ারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।’

চাহিদামতো

রিগ্যাল, পারটেক্স, অটবি, লেগাসি, ব্রাদার্স ফার্নিচারে পাওয়া যাবে ব্র্যান্ডের ড্রয়ার। এগুলোতে কয়েক বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্লাস্টিকের ড্রয়ার পাবেন আরএফএলে। এ ছাড়া চাইলে বানিয়েও নিতে পারেন শখের কাঠের ড্রয়ার। সে ক্ষেত্রে পছন্দমতো নকশাটি মিস্ত্রিকে ধরিয়ে দিলেই হলো। বাকি দায়িত্ব তিনিই পালন করবেন। কাঠ পাবেন কাঠের দোকানে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গায় কাঠের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম উত্তরা ও বাড্ডা-রামপুরা মেইন রোডের দুই পাশেও রয়েছে কাঠের দোকান ও স-মিল। দোকান বা স-মিল থেকে কাঠ বাসায় নিয়ে এসে ড্রয়ার বানানো ভালো।

বানাতে সতর্কতা

ড্রয়ার বানিয়ে নিতে চাইলে মিস্ত্রি নির্বাচন করতে হবে বুঝেশুনে। আগেভাগেই তাঁর মজুরি নির্ধারণ করে নিন। বাজারের কোনো ড্রয়ারের মডেল পছন্দ হলে তার ছবি মিস্ত্রিকে সরবরাহ করুন। কাঠ যদি শুকানো না থাকে তাহলে সময় নিয়ে তা শুকাতে হবে। কাঠ শুকানো না থাকলে পরে বেঁকে যাওয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। ড্রয়ারের কাজে ফিনিশিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালোমতো ফিনিশিং না হলে ড্রয়ারে রাখা মূল্যবান কাপড়চোপড় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ জন্য তৈরির সময় ফিনিশিংয়ের ব্যাপারটা অবশ্যই ভালোমতো খেয়াল রাখতে হবে।

ড্রয়ারের যত্ন

নিয়মিত ড্রয়ারের যত্নও নিতে হবে। ড্রয়ারের ভেতরটা যাতে স্যাঁতসেঁতে হয়ে না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। ড্রয়ারের ভেতরে যাতে তেলাপোকা, ছারপোকাসহ অন্যান্য পোকামাকড় বাসা বাঁধতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত ড্রয়ারের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। পোকা এড়াতে ড্রয়ারের ভেতরে ন্যাপথলিন রাখতে পারেন। এতে যদি কাপড়ে গন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে তবে বিকল্প হিসেবে দারুচিনি বা লবঙ্গ ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে ড্রয়ারের ভেতরে শুকনো নিমপাতাও রেখে দিতে পারেন। এতে পোকার ভয় কমবে।

কাঠের ড্রয়ারে ঘুণ পোকার ভয় থাকে। এ জন্য ড্রয়ারে ভেতরে বার্নিশ বা কেরোসিন দিয়ে নিলে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। মাঝেমধ্যে ড্রয়ার খুলে ঘরের ফ্যান চালু করে দিন। এতে আলমারির ভেতরে বাতাস ঢুকে কাপড়চোপড়কে ভ্যাপসা গন্ধ থেকে রেহাই দেবে।

দরদাম ও যেখানে পাবেন

তৈরির উপকরণের ভিন্নতার কারণে ড্রয়ারের দামের পার্থক্য রয়েছে। ড্রয়ার সাধারণত ৩৫০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। ঢাকা শহরের প্রায় সব এলাকায়ই ড্রয়ার পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিউমার্কেট, চকবাজার, পুরান ঢাকার নবাবপুর রোডের মার্কেটগুলো, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, বনানী সুপার মার্কেটসহ দেশের প্রায় সব ছোট–বড় ফার্নিচারের দোকানে ড্রয়ার পাওয়া যায়।

4
Faculty Forum / বাদামের মাখন
« on: March 11, 2020, 12:12:39 PM »

উপকরণ: চিনাবাদাম ২৫০ গ্রাম, পিংক সল্ট আধা চা-চামচ, আইসিং সুগার ১ চা-চামচ।

প্রণালি: চিনাবাদাম অল্প আঁচে টেলে ওপরের লালচে আবরণ পরিষ্কার করে নিন। এবার গ্রাইন্ডারে বাদাম, পিংক সল্ট ও আইসিং সুগার ভালোভাবে পেস্ট করে নিলেই বাদামের মাখন তৈরি হয়ে যাবে।


পনির

উপকরণ: তরল দুধ ১ লিটার, সিরকা বা ভিনেগার ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি: দুধ জ্বাল দিয়ে দুধে বলক ওঠার পর চুলা বন্ধ করে দিন। ২ টেবিল চামচ ভিনেগারের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে অল্প অল্প করে দুধে দিয়ে নাড়তে থাকুন। ছানা জমে পানি আলাদা হয়ে যাবে। ছানা ধুয়ে একটা সাদা পাতলা সুতি কাপড়ে ছানা টাঙিয়ে রেখে ভালোভাবে পানি ঝরিয়ে নিন। হাত দিয়ে চেপে পানি ফেলে দেবেন, যাতে কোনো পানি না থাকে। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। এবার গ্রাইন্ডারে দুধের ছানা গ্রাইন্ড করে নিন। গোল গোল করে নরমাল ফ্রিজে কয়েক ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। জমে গেলেই ছানা তৈরি হয়ে যাবে।

5
Faculty Forum / বারবার হাত ধোবেন কেন
« on: March 11, 2020, 12:05:50 PM »
নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে হাত ধোয়াকেই প্রতিরোধ ব্যবস্থার তালিকায় ১ নম্বরে রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

হাত দিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত মুঠোফোন, টিভির রিমোট, দরজার হাতল, সিঁড়ির রেলিং, পানির কল, চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ, চাবি, টাকা, কাঁচা মাছ-মাংস, সবজি ইত্যাদি কত কিছুই না ধরি। এসব জিনিসে লেগে থেকে অসংখ্য জীবাণু। হাত দিয়ে নাক–মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিলেও হাতে জীবাণু লেগে যায়। এরপর হাত না ধুয়ে খাবার প্রস্তুত বা খাওয়া হলে, অথবা মুখ–চোখ–নাক স্পর্শ করা হলে জীবাণু শরীরে ঢুকে যায়।

সাবান-পানি দিয়ে নিয়মিত এবং নিয়মমতো হাত ধুলে করোনাভাইরাসসহ যেকোনো জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাইরে থেকে ফিরে ভালো করে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাওয়ার আগে ও টয়লেটের পর অবশ্যই হাত ধুতে হবে। কাঁচা মাছ-মাংস বা পশু–পাখি স্পর্শ করলেও ভালো করে হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করলে বা হাত দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিলেও হাত ধুতে হবে। আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

সাবান-পানি দিয়ে ধোয়ার সময় প্রথমে পানি দিয়ে হাত ভেজাতে হবে। তারপর সাবান নিয়ে দুই হাতের উভয় দিকে, আঙুলের ফাঁকে এবং নখের নিচে খুব ভালোভাবে ঘষে নিতে হবে। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। সাবান-পানি না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করা যায়।

6
Faculty Forum / ছাদবাগানের সবজি
« on: October 03, 2018, 02:38:46 PM »


 

 

ছাদবাগানে চাষ করে তাজা সবজি পেতে পারেন। ছবি: নকশাছাদবাগানে চাষ করে তাজা সবজি পেতে পারেন। ছবি: নকশাশাকসবজি তো বাজারেই কিনতে পাওয়া যায়। তবে একবার ভাবুন তো, বাজার নয়, বাড়ির ছাদ বা ঘরের কোণের বারান্দা থেকে তুলে আনছেন কচি লাউ, তরতাজা ধনেপাতা আর ডগডগে পুঁইয়ের লতা। কি নিজ হাতে তুলে আনা সবজিতে অন্য রকম ভালো লাগায় ভরে গেছে না মনটা?

পাশ্চাত্যের দেশগুলোয় বাড়ির ছাদ বা বারান্দার অল্প পরিসরে রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর চাষাবাদ কিচেন গার্ডেন নামে পরিচিত। বর্তমানে আমাদের দেশেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ধারা। নিসর্গী ও লেখক মোকারম হোসেন বলছিলেন, আমাদের এখানে গত ১০ বছরে ছাদের ফাঁকা জায়গায় বাগান করার বিষয়টি ব্যাপক হারে বাড়ে। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে কিচেন গার্ডেনের ধারণা। রান্নার কাজে প্রায় প্রতিদিনই ব্যবহার করা হয় এমন শাকসবজি ছাদে লাগানোর বিষয়টি মানুষের কাছে এখন বেশ পরিচিতি পেয়েছে।

ছাদবাগানে চাষ করে তাজা সবজি পেতে পারেন। ছবি: নকশাছাদবাগানে চাষ করে তাজা সবজি পেতে পারেন। ছবি: নকশাকিচেন গার্ডেনে পাওয়া যাবে বিষমুক্ত অর্গানিক শাকসবজি। মাটি একবার প্রস্তুত হয়ে গেলে আলাদা করে আর সার দেওয়ার ঝামেলাও থাকে না। বাড়িতে সবজি কাটার পর তার খোসা আর চা–পাতা, এসবই সার হিসেবে মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে। আবার কিছু কিছু শাক-পাতা আছে, যেগুলো বাড়িতে আনার পর তার শিকড় পুঁতে দিলেই হলো। মাটির টবে আবার গজাবে নতুন চারা। এসব কারণেই অনেকেই কিচেন গার্ডেনের প্রতি উৎসাহী হয়ে উঠছেন।

নিজের ছাদে এমনই বাগানের আয়োজন করেছেন রেবেকা সুলতানা। ১০ বছর ধরে ঘরের রান্নায় ব্যবহার করছেন নিজের ছাদবাগানের শাকসবজি। কিচেন গার্ডেনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছিলেন, এই ধরনের বাগান করার আগে মাটিটাকে একটু বিশেষভাবে প্রস্তুত করে নিতে হবে। তাহলে শাকসবজির ভালো ফলন পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে যতটুকু মাটি তার সঙ্গে দ্বিগুণ পরিমাণ গোবর মেশাতে হবে। গোবরটা যাতে পচানো ও শুকনো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সঙ্গে আরও মেশাতে হবে কেঁচো সার, নারকেলের ছোবড়ার গুঁড়া, হাড়ের গুঁড়া আর অল্প পরিমাণে চুন। মাটির জীবাণু ধ্বংস করতে দিতে হবে ব্লিচিং পাউডার। এসব একসঙ্গে মিশিয়ে বস্তাবন্দী করে দুই থেকে তিন দিন রাখতে হবে। তবে মাটির সঙ্গে কোন উপকরণের উপাদানটা কেমন হবে, তা কোনো বিশেজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে করা ভালো। এখন ইন্টারনেটেও এই বিষয়ে নানা তথ্য পাওয়া যায়।

এদিকে পানি দেওয়ার ব্যাপারেও মেনে চলতে হবে কিছু সতর্কতা, এমনটাই বলছিলেন মোকারম হোসেন। অনেকে যখন-তখন গাছে পানি দিয়ে থাকেন। এই কাজ একেবারেই করা যাবে না। তাহলে ধনেপাতা, পুঁইশাক বা লাউ, করলার মতো সবজির শিকড় মরে যাবে। এ জন্য খুব ভোরে বা সন্ধ্যায় গাছে পানি দিতে হবে। তবে পানি দেওয়ার সময় খুব তীব্র নয়, হালকাভাবে দিতে হবে। চারা লাগানোর পর যত দিন না গাছ সুস্থভাবে বেড়ে উঠবে, তত দিন পর্যন্ত তা খুব বেশি রোদ আসে, এমন জায়গা রাখা যাবে না।

7
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো স্তন ক্যানসার বাংলাদেশে নারীদের এক নম্বর ক্যানসার সমস্যা। ক্যানসারে আক্রান্ত প্রতি চারজন নারীর মধ্যে একজন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। পুরুষেরাও স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তবে তাদের সংখ্যা খুবই কম। প্রতি ১০০ জন নারী আক্রান্ত হলে ১ জন পুরুষকে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যানসারের সংখ্যা ২০০৮ সালের জরিপের তুলনায় বর্তমানে ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার আরও বেশি।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন ৪০-৪৯ বছর বয়সী নারীরা। গড় বয়স ৪৬.৮৬ বছর। পশ্চিমা নারীদের তুলনায় কম বয়সে স্তন ক্যানসার আক্রান্ত হন বাংলাদেশের নারীরা।

বাংলাদেশের প্রায় সব রোগীই (১০০ শতাংশ) স্তনে চাকা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে উপস্থিত হন। আক্রান্ত হওয়ার আগে ৮০ শতাংশ রোগী এ রোগের নামই শোনেননি। ৯৫ শতাংশ রোগী জীবনে কোনো দিন নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করে দেখেননি। তবে স্তনে চাকা অনুভব হলেও রোগ নির্ণয় করতে বিলম্ব হয় ৩ মাস থেকে ৫ বছর; গড়ে ১৮ মাস। [জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ৫৫৪ জন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর ওপর পরিচালিত গবেষণা (অক্টোবর ২০১২–এপ্রিল ২০১৩)।]

ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় হয় মাত্র ২ শতাংশ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে ১৬ শতাংশ। উন্নত দেশের নারীরা স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে নিয়মিত অংশ নেন। এতে ৬২ শতাংশ রোগ নির্ণয় হয় প্রাথমিক পর্যায়ে। শুরুতেই রোগ ধরা পড়লে তা নিরাময় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রায় শতভাগ (৯৯ শতাংশ)।

সচেতনতা ও আতঙ্ক

স্তনে বিভিন্ন রকম উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন স্তনে ব্যথা, চাকা বা পিণ্ড বোধ হওয়া, স্তন ফুলে ওঠা, ভারী ভারী বোধ হওয়া, স্তনবৃন্ত থেকে তরল ঝরা, বৃন্ত দেবে যাওয়া, বৃন্তর ত্বক শুষ্ক হওয়া, ক্ষত হওয়া ইত্যাদি। এসব উপসর্গ সব সময় যে রোগের কারণে হয়ে থাকে তা নয়। এর বেশির ভাগই স্তনের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে ঘটে থাকে।

জন্ম থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে স্তনে যে পরিবর্তন হয়, দেহের আর কোনো অঙ্গে এ রকম পরিবর্তন হয় না। স্তনের এ স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণ বিভিন্ন ধরনের হরমোন ও গ্রোথ ফ্যাক্টরের প্রভাব। স্তনের গ্রন্থি (গ্ল্যান্ড) এবং গ্রন্থিকে ঘিরে থাকা অন্যান্য টিস্যু প্রভাবিত হয়। এ ছাড়া অন্যান্য অনেক কারণে স্তনে বিভিন্ন রকম উপসর্গ দেখা দেয়।

স্তনে ব্যথা ও স্তন ক্যানসার

স্তনে ব্যথা নিয়েই বেশির ভাগ নারী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যান। এটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। পুরুষেরও কদাচিৎ স্তনে ব্যথা হয়ে থাকে। ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ নারীর জীবনে কোনো না কোনো সময় স্তনে ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে। স্তনে ব্যথা, অপর কথায় বলা হয় মাস্টালজিয়া। এটি একটি উপসর্গ, রোগ নয়। স্তনের এ রকম ব্যথা এক বা দুই স্তনেই হতে পারে, আবার বগলের নিচেও হতে পারে। ব্যথার মাত্রা ও ধরন সবার বেলায় এক রকম নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্তনের এ ব্যথার কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয় না। ১৫ শতাংশের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

স্তনে ব্যথা কি স্তন ক্যানসারের লক্ষণ?

প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সাধারণত স্তনে ব্যথার উপসর্গ থাকে না। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর রোগ শনাক্তকরণের সময় মাত্র ১.২ থেকে ৬.৭ শতাংশের ব্যথার উপসর্গ থাকে। শারীরিক পরীক্ষায় যদি স্তনে কোনো অস্বাভাবিকতা না থাকে এবং বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা যেমন ম্যামোগ্রাফি, আলট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্টও যদি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে শুধু স্তনে ব্যথা নিয়ে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার ঘটনা বিরল।
স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণ (স্ক্রিনিং) পদ্ধতির বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উপসর্গসহ যেসব নারীর স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে, তাদের বেশির ভাগেরই উপসর্গ হলো স্তনে চাকা বা পিণ্ড। শুধু স্তনে ব্যথা রয়েছে এমন প্রায় এক হাজার এবং স্তনে ব্যথা নেই এমন এক হাজার নারীকে নিয়ে করা একটি পর্যবেক্ষণ গবেষণা করা হয়। তাঁদের ওপর দুই বছর ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ফলোআপ করার পর দেখা গেছে, ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার হার দুই দলেরই সমান।
শুধু স্তনে ব্যথা স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা যায় না। তবে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং ব্যথার সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

স্তনে চাকা এবং স্তন ক্যানসার

স্তনে চাকা নিয়ে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত প্রায় সব রোগীর রোগ শনাক্ত হয়। চাকা অনুভূত হলে ক্যানসার ভেবে আতঙ্কিত হওয়া স্বাভাবিক।

আবার ৮০ শতাংশ চাকাই ক্যানসার নয়। স্তনে বিভিন্ন কারণে চাকা হয়। যেমন ফাইব্রোএডনোমা, ফাইব্রোসিস্টিক চাকা, ইন্ট্রাডাক্টাল পেপিলোমা, চর্বি জমে যাওয়া, ফোঁড়া এবং ক্যানসার। স্তন ক্যানসারের চাকা হঠাৎ করে বেড়ে ওঠে না। খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।

স্তন ক্যানসারের চাকা সাধারণত শক্ত, অসমান ও অমসৃণ। স্তনের যেকোনো স্থানে হতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্তনের ওপরের দিকে বেশি হয়। এ ধরনের চাকা রাতারাতি সৃষ্টি হয় না। প্রাথমিক অবস্থায় কোনো ব্যথা থাকে না। তবে স্তনের চাকা বড় হয়ে উঠলে ব্যথা হতে পারে।

যা জানা জরুরি

স্তন ক্যানসার কেন হয়, তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও এর ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। ক্যানসারের ঝুঁকি কথাটির মানে ক্যানসার হবেই তা নয়, তবে আশঙ্কা থাকে। স্তন ক্যানসারের কিছু ঝুঁকি কমানোও যায়। নিজে স্তন স্তন ক্যানসারের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা অবশ্যই জানতে হবে।

*  সব নারীই সমান ঝুঁকিপূর্ণ নন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বাড়তে থাকে। বিশ বছরের নিচে ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

*  কম বয়সে মাসিক শুরু ও বেশি বয়সে (৫৫ বছর) মাসিক বন্ধ হওয়া, গর্ভধারণ না হওয়া। বেশি বয়সে সন্তান ধারণ হলে।

*  অধিক গ্রন্থিসম্পন্ন স্তন।

*  পরিবারের (রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়) স্তন, ডিম্বাশয়, এন্ডোমেট্রিয়াম, জরায়ু বা কোলন ক্যানসারের ইতিহাস থাকা।

*  আগে বুকে রেডিওথেরাপি চিকিৎসা নেওয়া হলে।

*  অতিরিক্ত ওজন।

*  অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস (অধিক পরিমাণ লাল মাংস, চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণ শাকসবজি ও ফলমূল না খাওয়া।)

*  অলস জীবনযাপন করা।

*  শিশুকে মায়ের দুধ পান না করানো।

*  রাত জাগার অভ্যাস।

*  অযথা বুকের এক্স–রে করানো।

*  সময়ের আগে ঘন ঘন ম্যামোগ্রাফি করানো।

*  মেনোপজ (মাসিক বন্ধ) হওয়ার পর টানা পাঁচ বছর হরমোনের বড়ি সেবন

 স্তন ক্যানসারের অন্তত ৭টি সতর্কসংকেত

*   স্তন বা বগলে চাকা বিশেষ করে ব্যথাবিহীন চাকা।

*  স্তনের আকার–আকৃতির পরিবর্তন।

*  স্তনবৃন্ত দেবে যাওয়া।             

*  স্তনবৃন্ত থেকে তরল নির্গত হওয়া।

*  স্তনের ত্বক কমলার খোসার মতো পুরু হয়ে ওঠা।

*  স্তনবৃন্ত এবং সংলগ্ন স্থানে দীর্ঘদিন খসখসে ভাব হয়ে যাওয়া।

*  স্তনের ত্বকের কোনো স্থানে রং লাল বা কালো হওয়া এবং তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া।

এসব উপসর্গ অন্যান্য রোগেও হয়ে থাকে। তাই এসব উপসর্গ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, তা মনে করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যানসার নির্ণয়

দুটি উপায়ে প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যানসার নির্ণয় করা যায়।

*  স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ও সতর্কসংকেতগুলো জানা এবং ঝুঁকি এড়িয়ে চলা।

*  স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিং করানো।

ক্যানসার স্ক্রিনিং শব্দটি এখনো খুব বেশি পরিচিত নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের প্রধান উপায় এটি। বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে স্তন ক্যানসারের চিহ্ন খুঁজে দেখা হয় এই পদ্ধতিতে।

স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের তিনটি পদ্ধতি

১. নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা (সেলফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশন): নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করতে শেখা এবং ২০ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে একবার নিজেকে নিজে পরীক্ষা করা উচিত। সারা জীবন তা চালিয়ে যাওয়া। এ পরীক্ষার জন্য নিজের স্তনের স্বাভাবিকতা বুঝতে পারা এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে যাতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়।

২. চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করানো (ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন): প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক দিয়ে শারীরিক পরীক্ষা করানো। ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়স পর্যন্ত তিন বছরে একবার এবং ৪০ পার হলে প্রতিবছর একবার এ পরীক্ষা করা ভালো।

৩. ম্যামোগ্রাফি এবং অন্যান্য রেডিওলজি ও ইমেজিং পরীক্ষা: আলট্রাসনোগ্রাফি, এমআরআই স্তন ক্যানসার নির্ণয়ের পদ্ধতি। পরে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা যেমন এফএনএসি (ফাইন নিড্ন অ্যাসপিরেশন) অর্থাৎ সূক্ষ্ম সুই ফুটিয়ে রস বের করে প্যাথলজিক্যাল (মাইক্রোস্পিক্যাল) পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করা।

ঠিক কত বছর বয়স থেকে স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং ম্যামোগ্রাফি শুরু করতে হবে, এ নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংগঠন বয়সটি নির্ধারণ করতে না পারলেও সাধারণভাবে ৪০ বছর পার হলেই স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং করা যৌক্তিক বলা যেতে পারে।

সাধারণভাবে ৫০ বছর হওয়ামাত্রই বায়োগ্রাফি শুরু করা এবং সুস্থ–সবল দেহ বজায় থাকলে তিন বছর পরপর তা ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া উচিত। ৩০ বছরের নিচে স্ক্রিনিং ম্যামোগ্রাফির অনুমোদনযোগ্য নয়। অল্পবয়সী নারীর স্তনগ্রন্থি অত্যন্ত ঘন হয়ে থাকে। ম্যামোগ্রাফিতে কোনো ছবি থাকলে তা ঘন গ্রন্থির আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। রোগ শনাক্ত হয় না। অল্পবয়সী নারীদের অহেতুক ম্যামোগ্রাফি করা হলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। কারণ ম্যামোগ্রাফি একধরনের তেজস্ক্রিয় রশ্মি। ঝুঁকিপূর্ণ অল্পবয়সী নারীদের জন্য আলট্রাসনোগ্রাফি, এমআরআই ম্যামোগ্রাফি করার জন্য পরামর্শ হতে পারে।

কোথায় স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং করা যায়

হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডাক্তারের চেম্বারে এ স্ক্রিনিং করা যায়। তবে এ ধরনের পরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত আয়োজন থাকতে হবে।

8
হুট করেই কি নিজেকে বদলে ফেলা যায়? সকালে ঘুম ভেঙেই কি নিজেকে বদলে ফেলতে পারবেন? নিজেকে ইতিবাচক উপায়ে পরিবর্তন করতে হলে নিজেকে সময় দিতে হবে, নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে। মনে মনে যদি পরিবর্তন চান, তাহলে কখনই নিজেকে বদলে ফেলা যাবে না। একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শক মেহেদী মাহবুব বলেন, ‘জীবনে যদি অভ্যাসগত কিংবা আচরণগত পরিবর্তন আনতে চান, তাহলে আমাদের কাগজ-কলম নিয়ে বসতে হবে। কাগজ-কলমে লক্ষ্য লিখে এরপর সময় দিয়ে নিজেকে বদলাতে হবে। একটু সময় নিয়ে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়ালেই কিন্তু জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।’ তরুণ পেশাজীবীদের দক্ষতা নিয়ে কাজ করা মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ মেহেদী মাহবুব নিজেকে ছয় মাসে পরিবর্তনের জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন।

যা পরিবর্তন করতে চান তা নির্ধারণ করুন: মনে করুন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আপনি প্রতিদিন সকালে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠবেন। তাহলে একটি কাগজে তা লিখে প্রতিদিন চোখে পড়ে এমন জায়গায় সাঁটিয়ে রাখুন। এভাবে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করুন। হুট করেই কাল সকালেই আপনি ভোরে ঘুম থেকে উঠতে পারবেন না। আর উঠলেও পরশু দিন আবার ওঠার আগ্রহও চলে যেতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে কী কী করবেন, তা ঠিক করুন। হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। পত্রিকায় চোখ বোলানোর অভ্যাস করতে পারেন। সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যেতে পারেন। সকালের সময়টাতে লেখালেখির কাজও করতে পরেন।

সারা দিন গুছিয়ে নিন: জীবনের একটি বিষয়ে ইতিবাচক পরিবতন আনতে চাইলে আপনার পুরো দিনকেই সেভাবে সাজাতে হবে। আপনি হয়তো সকালে ঘুম থেকে ওঠেন কিন্তু সারা দিন কোনো রকমেই হাঁটাচলা না করে পার করে দেন। এমনটা করবেন না, একটি পরিপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করুন।

ইতিবাচক মনের মানুষদের খুঁজে বের করুন: একা একা নিজেকে পরিবর্তন করা বেশ কঠিন একটি কাজ। সমমনা মনের মানুষ বা বন্ধুদের খুঁজে বের করুন। তাঁদের সহায়তা নিন। যাঁরা নেতিবাচক কথা বলেন, তাঁদের এড়িয়ে চলুন।

যেখানে আগ্রহ, সেখানে সময় দিন: আপনার যে কাজটি করতে ভালো লাগে, সেখানে সময় দিন। কাজের গুণগত মান উন্নয়নে সময় দিন। কীভাবে প্রতিদিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রতিদিন নিজেকে ১ ভাগ করে ছাপিয়ে গেলে ছয় মাস পরেই নিজের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

শিখুন: প্রতিদিন নিজের শেখার পরিবেশে রাখুন। চারপাশ থেকে শিখুন। নিজের ভুল থেকে শেখার চেষ্টা করুন। নিজেকে কখনই ছোট ভাববেন না। ছোট-বড় সবার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করুন। পুরোনোকে নতুন করে শেখার মাধ্যমে নিজেকে ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত রাখু

9

নারকেল দিয়ে বরিশাল অঞ্চলে তৈরি হয় নানা সুস্বাদু খাবার‌। তেমনি কিছু খাবারের রেসিপি দিয়েছেন ইশরাত হক

চিচিঙ্গা ভাজিতে নারকেল চিংড়ি

উপকরণ: চিচিঙ্গা আধা কেজি, চিংড়ি আধা কাপ, নারকেলবাটা আধা কাপ, তেল ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ, হলুদ ও মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ৫/৬টা, আদা আধা চা-চামচ, রসুন আধা চা-চামচ, জিরাবাটা আধা চা-চামচ, জিরাগুঁড়া (টেলে নিয়ে) আধা চা-চামচ, তেজপাতা ১টা ও লবণ পরিমাণমতো।

প্রণালি: প্রথমে চিচিঙ্গাগুলো ছোট ছোট টুকরা করুন। কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি ও তেজপাতা দিয়ে একটু ভেজে চিংড়ি ও সব মসলা দিয়ে কষাতে হবে। এবার নারকেলবাটা দিয়ে আবার কষান। এরপর এতে চিচিঙ্গা দিন। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে কিছুক্ষণ চুলায় রাখুন, যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা সেদ্ধ হয়। সেদ্ধ হলে কাঁচা মরিচ ও জিরাগুঁড়া দিয়ে নামিয়ে গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 বরিশালের পানীয় মোলিদা

উপকরণ: পোলাওয়ের চাল আধা ছটাক, কোরানো নারকেল আধা কাপ, আদা আধা ইঞ্চি, এলাচি ২টা, পানি ৪ গ্লাস, চিনি ২ টেবিল চামচ ও মুড়ি ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি: পোলাওয়ের চাল ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর এর সঙ্গে সব উপকরণ মিশিয়ে শিলপাটায় বেটে নিন অথবা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর পানি মিশিয়ে পাতলা করে নিন। ওপর থেকে একটু মুড়ি ছড়িয়ে দিন। এবার পান করুন মোলিদা।

 নারকেল দুধে ডিমের কোরমা

উপকরণ: আমড়া ২টা, মুরগির ডিম ২টা (সেদ্ধ), নারকেলের দুধ আধা কাপ, আদা, রসুন, পেঁয়াজবাটা ২ টেবিল চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, হলুদ, মরিচগুঁড়া এক চিমটি করে, এলাচি ২টা, দারুচিনি ১ টুকরা (ছোট), তেজপাতা ১টা, চিনি ১ চিমটি ও কাঁচা মরিচ ৫/৬টা।

প্রণালি: প্রথমে আমড়া ছিলে একটু চিড়ে নিন। একটি পাত্রে তেল দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। তেল তেতে উঠলে গরমমসলাসহ সব মসলা দিয়ে কিছুক্ষণ কষাতে হবে। কষানো হলে প্রথমে আমড়া দিয়ে আরেকটু কষিয়ে সেদ্ধ ডিম দিয়ে দিন। এবার নারকেলের দুধ দিয়ে আমড়া সেদ্ধ করতে হবে। আমড়া সেদ্ধ হয়ে যখন মাখা মাখা ঝোল হবে, তখন চিনি, লবণ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে পরিবেশন করুন। ভাত বা পোলাওয়ের সঙ্গে এটা খাওয়া যাবে।

নারকেল চিংড়ি দিয়ে কলমিশাক

উপকরণ: কলমিশাকের কুচি আধা কেজি, নারকেলবাটা আধা কাপ, চিংড়ি আধা কাপ, তেল ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ ও রসুনকুচি ২ টেবিল চামচ, হলুদ ও মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ করে, আদা ও জিরাবাটা আধা চামচ করে, ভাজা জিরাগুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো ও কাঁচা মরিচ ৫/৬টা।

প্রণালি: প্রথমে কড়াইয়ে তেল গরম করে পেঁয়াজ ও রসুনকুচি দিয়ে ভাজুন। তারপর এতে চিংড়ি ও বাকি সব মসলা দিন। আবার একটু ভেজে নিন। তারপর দিন নারকেলবাটা। আরও একটু ভাজুন। এবার এতে কলমিশাকের কুচি দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত। সেদ্ধ হলে শাকের পানি সব শুকিয়ে ভাজা ভাজা করতে হবে। এবার কাঁচা মরিচ ও জিরাগুঁড়া দিয়ে নামিয়ে ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

10
Faculty Forum / Re: মৃত্যু কী, কখন ঘটে?
« on: July 23, 2018, 01:40:22 PM »
nice

11
উপকরণ

✿ মুরগি- ৪টি
✿ লবণ- ১ চা-চামচ
✿ ভিনেগার- ১ টে চামচ
✿ ফুড কালার- সামান্য
✿ পোস্ত বাটা- ১/২ টে চামচ
✿ রসুন বাটা- ২ টে চামচ
✿ আদা বাটা- ১/২ টে চামচ
✿ জয়ত্রী ও জায়ফল বাটা- ১/২ টে চামচ করে
✿ পেস্তাবাদাম বাটা- ১ টে চামচ
✿ শাহজিরা বাটা- ১ টে চামচ
✿ গোলমরিচের গুঁড়া- ১/২ টে চামচ
✿ টক দই- ৩ কাপ
✿পিয়াজ বাটা- আধা কাপ
✿লবণ- পরিমাণমতো
✿তেল – ২ টে চামচ
✿ঘি – ১/২ কাপ
✿চিনি- সাদমতো
✿বেরেস্তা- ১/২ কাপ
✿কাঁচামরিচ- পরিমাণমতো
প্রণালী

মুরগি রোস্টের মতো টুকরা করে ভিনেগার ও লবণ দিয়ে ২০ মিনিট মেরিনেড করে রাখতে হবে। এরপর তেল গরম করে তাতে মুরগির মাংসগুলো হালকা বাদামি করে ভেজে নিতে হবে। আরেকটি পাত্রে ঘি অল্প আঁচে গরম করে তাতে আদা বাটা, রসুন বাটা, পেঁয়াজ বাটা, পোস্তবাটা , পেস্তাবাদাম বাটা, জায়ফল ও জয়ত্রী এবং সামান্য খাবারের রং দিয়ে অল্প পানি দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। এবার ভাজা মুরগির মাংসগুলো এই কষানো মসলার মিশ্রণে ঢেলে দিতে হবে। এ সময় আরেকটু লবণ, টক দই ও চিনি দিয়ে দিতে হবে। ভালোভাবে কষানো হলে পরিমানমতো পানি,শাহ জিরা,বেরেস্তা ও কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে দিন।
ঝোল শুকিয়ে ভুনা হলে নামিয়ে উপরে বেরেস্তা ছড়িয়ে গরম পোলাউয়ের সাথে পরিবেশন করুন।

12
Faculty Forum / ডেজার্টে নানা স্বাদ
« on: July 23, 2018, 01:28:19 PM »
ব্লুবেরি চিজ ডেলাইট
উপকরণ: ক্রিম চিজ ২০০ গ্রাম, টকদই সিকি কাপ (ঘন), কনডেন্সড মিল্ক ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ (বা স্বাদমতো), লেবুর রস ১ চা-চামচ, ওরিও বিস্কুট মাঝারি ১ প্যাকেট, মাখন সিকি কাপ (গলানো), পিচ ফল (কিংবা পছন্দমতো যেকোনো ফল) পরিমাণমতো ও ব্লুবেরি সস পরিমাণমতো (কিনতে পাওয়া যায় সুপার শপগুলোয়)।
প্রণালি: ওরিও বিস্কুটের মাঝের ক্রিমটুকু ফেলে ভালোমতো গুঁড়া করে মাখন মিশিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে ক্রিম চিজ নিয়ে ভালোমতো বিট করুন। চিজ নরম ক্রিমের মতো হলে এতে একে একে টকদই, কনডেন্সড মিল্ক ও লেবুর রস দিন। পিচ ফল কেটে টুকরা করে রাখুন। এবার সাজানোর গ্লাস নিয়ে প্রথমে ওরিও বিস্কুটের গুঁড়ার আধা ইঞ্চি স্তর দিন। এরপর চিজের মিশ্রণ দিন এর ওপরে। এর ওপর পিচ ফলের কিছু টুকরা ছড়িয়ে দিয়ে আবার চিজের মিশ্রণ দিন। এবার ফ্রিজে জমতে দিন ১ ঘণ্টা। নামিয়ে ওপরে ব্লুবেরি সস দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ছানার সন্দেশছানার সন্দেশ
উপকরণ: ছানা ২ কাপ, ব্রাউন সুগার পরিমাণমতো, সাদা চিনি ১ চা-চামচ, মাখন ২ টেবিল চামচ, ক্রিম ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ, হোয়াইট কুকিং চকলেট আধা কাপ (কোরানো), তরল দুধ ১ টেবিল চামচ ও ডার্ক কুকিং চকলেট পরিমাণমতো।
প্রণালি: চুলায় ছানা ও মাখন দিয়ে কিছুক্ষণ ভুনে নিন। এতে ব্রাউন সুগার ও সাদা চিনি দিয়ে ভুনতে থাকুন। এবার ক্রিম দিয়ে মিষ্টি পরখ করে নামিয়ে একটি গোলাকার পাত্রে পুরু করে চেপে চেপে বিছিয়ে দিন। ঠান্ডা হলে বরফি বা অন্য আকারে সন্দেশ কেটে নিন। এবার হোয়াইট চকলেট ও দুধ মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে কিছুক্ষণ দিয়ে গলিয়ে নিন। এটি সন্দেশের ওপর ঢেলে দিয়ে ফ্রিজে রাখুন। ৩০ মিনিট পর ডার্ক চকলেট একইভাবে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গলিয়ে ওপরে দিয়ে পরিবেশন করুন।

কুনাফাকুনাফা
উপকরণ: লাচ্ছা সেমাই ১ প্যাকেট, মাখন সিকি কাপ (গলানো), তরল দুধ সিকি কাপ, ছানা দেড় কাপ, কনডেন্সড মিল্ক ৩ টেবিল চামচ, ক্রিম ১ টেবিল চামচ, চিনি ১ কাপ, পানি ১ কাপের ৩ ভাগের ২ ভাগ, কমলার রস ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ চা-চামচ, চেরি বা বাদাম কুচি সাজানোর জন্য, ফুড কালার ১ ফোঁটা (কমলা বা যেকোনো)।
প্রণালি: চিনি পানি দিয়ে জ্বাল দিয়ে হালকা আঠালো হলে কমলা ও লেবুর রস দিয়ে শিরা তৈরি করে রাখুন। অন্যদিকে, সেমাইতে মাখন ও ধাপে ধাপে দুধ মিশিয়ে নিন যেন সেমাই দলা না পাকিয়ে যায়। হাত দিয়ে সেমাই ঝুরি ঝুরি করে নিন। এবার ছানা ভালোমতো ময়ান দিয়ে মিহি করে তাতে কনডেন্সড মিল্ক ও ক্রিম মিশিয়ে নিন। একটি প্যানে কিছু মাখন ও ফুড কালার ব্রাশ করুন চারপাশে। এবার প্রথমে সেমাইয়ের ১ ইঞ্চি পুরু একটা স্তর করুন। এ সময় প্যানের ভেতরে ধারগুলোতেও সেমাইয়ের স্তর দিন। এবার ছানার পুর দিন। ভালোমতো চেপে চেপে বসিয়ে দিন। সবশেষে আবার সেমাইয়ের স্তর দিয়ে চেপে চেপে ওভেনে ১৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে বেক করুন ৩০ মিনিট। নামিয়ে পরিবেশনের প্লেটে নিয়ে ওপরে শিরা ঢেলে দিন। এবার সাজিয়ে পরিবেশন করুন কুনাফা।

টুটি ফ্রুটি পুডিংটুটি ফ্রুটি পুডিং
উপকরণ: গুঁড়া দুধ ২ টেবিল চামচ, দুধ ১ লিটার, কনডেন্সড মিল্ক সিকি কাপ, হুইপড ক্রিম পাউডার ২ টেবিল চামচ, চিনি প্রয়োজনমতো, চীনা গ্রাস ১২-১৫ গ্রাম, জেলো ১ প্যাকেট (লেমন, ম্যাঙ্গো বা অরেঞ্জ ফ্লেভার) ও টুটি ফ্রুটি পরিমাণমতো।
প্রণালি: চীনা গ্রাস কুচি করে ১ কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। প্যানে দুধ জ্বাল দিন। ফুটে উঠলে গুঁড়া দুধ, কনডেন্সড মিল্ক ও হুইপড ক্রিম পাউডার মিশান। এবার একই সঙ্গে অন্য চুলায় চীনা গ্রাস ভেজানো পানিসহ চুলায় দিয়ে গলিয়ে নিন। গলে গেলে দুধের মিশ্রণে ঢেলে দিন। এবার নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। যে পাত্রে পুডিং জমাবেন, সে পাত্রে ১ প্যাকেট জেলো প্যাকেটের নিয়ম অনুযায়ী মিশিয়ে ঢেলে দিন। এর মধ্যে টুটি ফ্রুটি যোগ করুন। এবার জেলো মোটামুটি জমে গেলে ওপরে দুধের মিশ্রণ ঢেলে ফ্রিজে জমতে দিন সারা রাত, অথবা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। এরপর নামিয়ে উল্টে পরিবেশন করুন টুটি ফ্রুটি পুডিং।

সাবুদানার পায়েসসাবুদানার পায়েস
উপকরণ: তরল দুধ ২ লিটার, সাবুদানা ৩-৪ কাপ, চিনি স্বাদমতো, এলাচি ৩টা, কুকিং চকলেট ১ কাপ (মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গলিয়ে নেওয়া) ও তেজপাতা ১টি।
পদ্ধতি: দুধ জ্বাল দিয়ে দেড় লিটারে নামিয়ে আনুন। এ সময় সাবুদানা ডুবো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। দুধ ঘন হলে এলাচি, তেজপাতা ও চিনি দিন। সাবুদানা পানি ঝরিয়ে নিয়ে দুধে দিয়ে দিন। জ্বাল দিয়ে ঘন হলে নামিয়ে নিন। এবার এই পায়েস অর্ধেকটা নিয়ে তাতে ২ টেবিল চামচ গলানো চকলেট মিশিয়ে নিন। সার্ভিং কাপে প্রথমে চকলেট মেশানো পায়েস দিন। একটা জমে যাওয়ার পর ওপরে সাদা পায়েস ঢেলে দিন। সবশেষে ওপরে গলানো চকলেট ঢেলে পরিবেশন করুন।

চকলেট ফ্রুট ভাসচকলেট ফ্রুট ভাসচকলেট ফ্রুট ভাস
উপকরণ: সেমি সুইট কুকিং চকলেট পরিমাণমতো (কোরানো), বিভিন্ন রকমের ফল (আপেল, আনারস, আঙুর) ও বিভিন্ন রকমের স্প্রিংকলস (সাজানোর জন্য)।
প্রণালি: ফলগুলো খোসা ছাড়িয়ে কাঠিতে গেঁথে নিন। একটি কাপে কুকিং চকলেট কোরানো নিয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ২০ সেকেন্ড করে দুবারে গলিয়ে নিন। ফলগুলো চকলেটে ডুবিয়ে স্প্রিংকলসে গড়িয়ে নিয়ে একটি ভাসে সাজিয়ে নিন। এবার ফ্রিজে রাখুন। পরিবেশনের আগে নামিয়ে নিন।

13
প্রচণ্ড গরমে বাচ্চারা অল্পতেই ঘেমে যায়। তাদের দুষ্টুমি আর ছোটাছুটি বেশি। ঘামের ফলে প্রচুর পানি শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কখনো তা আধা লিটার থেকে এক লিটারও হতে পারে। এই পানিশূন্যতা পূরণ করা জরুরি। কিন্তু পানি পানের প্রতি বাচ্চাদের আছে অদ্ভুত এক অনীহা। স্কুলব্যাগে পানির ফ্লাস্কভরা অবস্থাতেই ফেরত আসে। অনেকে আবার জুস বা কোমল পানীয় পানে যত আগ্রহী, পানি পানে ততটা নয়। যদিও এগুলো পানির অভাব পূরণ করে না।

আমাদের শরীরের ৬০ শতাংশই পানি। শিশুদের ক্ষেত্রে কোষের বাইরে (এক্সট্রা সেলুলার) তরল বেশি থাকে। তাই অল্পতেই তারা পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়।

কতটুকু পানি প্রয়োজন, তা নির্ভর করে শিশুর ওজন ও বয়সের ওপর। সাত থেকে বারো মাস বয়সী শিশুর প্রতিদিন আধা লিটার থেকে পৌনে এক লিটার, এক থেকে তিন বছরের শিশুর এক থেকে সোয়া এক লিটার, চার থেকে আট বছরের শিশুর দেড় থেকে দুই লিটার এবং নয় থেকে ষোলো বছরের শিশুর জন্য দুই থেকে আড়াই লিটার পানি প্রয়োজন। এই পরিমাণটা হলো মোট জলীয় অংশের। অর্থাৎ এটা যে কেবল পানিই হতে হবে, এমন নয়। যেমন: দুধে ৮৭ শতাংশই জলীয় অংশ, আবার নানা ধরনের ফলমূলেও আছে যথেষ্ট জলীয় অংশ। সুতরাং পানির সঙ্গে তাজা ফলমূল, সবজি ও দুধকেও হিসাবে ধরুন। কিন্তু পানির অভাব পূরণের জন্য কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেটজাত জুস পান করাবেন না।

এবার জেনে নিন কীভাবে বুঝবেন শিশুর পানি যথেষ্ট খাওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে বুঝবেন তার প্রস্রাব দেখে। শিশু প্রতিদিন যে পরিমাণ প্রস্রাব করত, পানিশূন্যতা হলে তার চেয়ে কম করবে। পানিশূন্যতার অন্যান্য লক্ষণ হলো অস্থিরতা, চোখ ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, জিভ শুকিয়ে যাওয়া, দ্রুত নাড়ির স্পন্দন ইত্যাদি।

ছয় মাসের পর থেকেই শিশুকে বাড়তি পানি পান করাতে হবে। এর আগ পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। এক বছর বয়সে শিশুরা সাধারণত নিজে নিজে পানি পান করতে পারে। শিশুকে রঙিন আকর্ষণীয় মগ বা গ্লাসে পানি ঢেলে ধীরে ধীরে পানি পান করতে শেখান। চুষনিযুক্ত বোতল স্বাস্থ্যসম্মত নয়। শিশুকে পানির উপকারিতা সম্পর্কে বলুন ও পানি পান করতে উৎসাহ দিন।

ডায়রিয়া, বমি বা জ্বর হলে দৈনিক চাহিদার চেয়ে বেশি পানি পান করতে হবে।

14
সিদ্ধান্তহীনতা কী?
সিদ্ধান্তহীনতা বলতে আসলে কী বুঝব—
 সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় লাগা
 যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া কষ্টকর মনে হওয়া
 সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগা
 সিদ্ধান্ত গ্রহণ এড়িয়ে চলা
 সিদ্ধান্ত নিজে না নিয়ে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া
 বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা
 সিদ্ধান্ত নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা বা অনুতাপ বোধ করা ইত্যাদি।

সিদ্ধান্তহীনতার মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
কোনো কিছুর ব্যাপারে সহজে সিদ্ধান্ত না নিতে পারার মূল কারণ এর অন্তর্নিহিত ‘উদ্বেগ’
 সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা বোধ
 অতিরিক্ত খুঁতখুঁতে মনোভাব বা সবকিছু নিখুঁত করার প্রবণতা
 নিজের প্রতি অনাস্থা বা আত্মবিশ্বাসহীনতা
 সবকিছু নেতিবাচকভাবে দেখা
 হীনম্মন্যতা
 কোনো অবস্থাতেই ব্যর্থতা মেনে না নেওয়ার মনোভাব বা ব্যর্থতার ভয়

কেন অনেকে সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না?
যাঁরা সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, তাঁদের সমস্যা তৈরি হয় মূলত শৈশবে।

কিছু কারণ:
 সন্তানের মতামত প্রাধান্য না দিয়ে ব্যক্তিগত প্রতিটি বিষয়ে মা-বাবা বা অভিভাবক নিজের মতামত চাপিয়ে দেন (যেমন কখন কোন জামাটা পরবে, কী খাবে, কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে ইত্যাদি)। এমন হলে শিশুদের নিজেদের প্রতি আস্থা তৈরি হয় না।
 সন্তানকে কঠোর শাসনে মানুষ করা, হেয় করে কথা বলা, সমালোচনা করা, সন্তানের মতামত গ্রাহ্য না করা, ভুলত্রুটি সহজভাবে না নেওয়া, অন্যের সঙ্গে তুলনা করা ইত্যাদি।
 অতিরিক্ত প্রশ্রয়মূলক অভিভাবকত্বও (সন্তান যা চায় তাই দেওয়া, ব্যক্তিগত কাজগুলো নিজে করে দেওয়া, যেমন বড় হওয়ার পরও খাইয়ে দেওয়া, জামাকাপড় বা ব্যাগ গুছিয়ে দেওয়া ইত্যাদি) সন্তানের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা কীভাবে তৈরি হবে?
ব্যক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা তৈরি হয়ে যায় শৈশব ও কৈশোরে। যেখানে শিশুর সঙ্গে মা-বাবার আচরণ বা অভিভাবকত্বের ধরন অনেকখানি নির্ভরশীল।

অভিভাবকেরা যা করতে পারেন—
 একদম ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ব্যক্তিগত কিছু বিষয়ে বড়দের ইচ্ছা না চাপিয়ে তাকে স্বাধীনভাবে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিন। যেমন খাবারের মেনুতে কোনো নির্দিষ্ট খাবার না দিয়ে বেশ কয়েকটি খাবারের (আটার রুটি, পাউরুটি, সিরিয়াল বা ডিম পোচ, সেদ্ধ ডিম, ডিম ভাজি) মধ্যে তাকে তার পছন্দের খাবারটি বেছে নিতে দিন।
 সন্তানের সিদ্ধান্তে সব সময় ভুলত্রুটি ধরতে বিরত থাকুন। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের কিছু কিছু কাজে তার মতামত জানতে চান এবং ক্ষেত্রবিশেষে গ্রহণ করুন।
 নিজের কাজ নিজে করার ব্যাপারে উৎসাহ দিন।
 দোকানে গেলে আপনার পরিবারের মূল্যবোধ অনুযায়ী তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিজে বেছে নিতে উৎসাহ দিন।
 সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তার প্রশংসা করুন।

সিদ্ধান্তহীনতার সমস্যা থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবেন?
• প্রথমে ছোটখাটো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করেন।
 নিজের প্রতিদিনকার কাজগুলোতে (কী করবেন, কখন করবেন) অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজে করার চেষ্টা করুন।
 বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশায় কিছু বিষয়ে দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিন। যেমন কোন রেস্তোরাঁয় যাবেন, কী খাবার খাবেন, কখন যাবেন ইত্যাদি।
 যত ছোট বিষয়ই হোক না কেন, সিদ্ধান্ত সফল হলে সেটায় আলাদা করে মনোযোগ দিন।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে যা বিবেচনা করবেন
 সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন, সে ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য সংগ্রহ করুন।
 জীবনের কোন বিষয়কে আপনি অগ্রাধিকার দেবেন, সে ব্যাপারে পরিষ্কার থাকুন।
 শুধু নির্দিষ্ট একটি সিদ্ধান্তের কথা না ভেবে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা মাথায় রাখুন। এর মধ্যে সবকিছুর বিবেচনায় যা সবচেয়ে ভালো মনে হবে, সেটি গ্রহণ করুন।
 দু-তিনটি সুযোগের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলো, আপনার মন যেদিকে টানে সেটি বিবেচনা করুন।

জীবনের বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে
 আবেগের বশবর্তী হয়ে (যেমন রেগে গিয়ে, কষ্ট পেয়ে, অতিরিক্ত খুশি অবস্থায়) কখনো হঠাৎ জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেবেন না। যেমন ডিভোর্স দেওয়া, বিয়ের সিদ্ধান্ত, বিদেশে যাওয়া ইত্যাদি)। অতিরিক্ত আবেগে আক্রান্ত অবস্থায় আমাদের চিন্তা এককেন্দ্রিক হয়ে যায়, ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধাপ্রাপ্ত হয়। এ ক্ষেত্রে আবেগ প্রশমিত হওয়ার জন্য সময় নিন।
 যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের জীবনের পথপরিক্রমা নির্ধারণ করে। কখনো মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাই এসব বিষয়ে প্রয়োজনে আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব বা গুরুজনের পরামর্শ বিবেচনার মধ্যে আনুন।
 বড় কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বস্তিবোধ করলে, সেই ‘অস্বস্তি’ বা ‘গাট ফিলিং’কে গুরুত্বের সঙ্গে নিন। অনেক কিছুই আছে, যা আমরা সচেতনভাবে দেখতে চাই না, কিন্তু আমাদের অবচেতন মন নানাভাবে সেটা জানান দেয়।

ছোটখাটো সিদ্ধান্তের বেলায়
প্রতিদিনকার ছোটখাটো বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করবেন না। এসব বিষয়ে ছোটখাটো ভুল আপনার জীবনধারার গতিপথে খুব বেশি পরিবর্তন আনবে না। বরং এসব নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ আপনার অযথা সময়ক্ষেপণ করবে।

পেশাগত জীবনের সিদ্ধান্ত
 পেশা নির্বাচন, পরিবর্তন, বদলি, চাকরি ছেড়ে দেওয়া, ঊর্ধ্বতন/অধস্তন সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রেই নানা সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
 পেশা নির্বাচন বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আপনার ভালো লাগা বা মনের টানকে এবং দক্ষতার বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া ভালো। কারণ, পেশাগত জীবন আমাদের অনেকটা জুড়ে থাকে। পেশার প্রতি ভালোবাসা আপনার দক্ষতার উৎকর্ষ ঘটাতে সাহায্য করবে।
 যথেষ্ট কারণ থাকলেও বদলি বা চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কখনো হুট করে বা রাগ করে নেবেন না। এ ক্ষেত্রে পরিবারের পরামর্শ বা সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় আনবেন। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত কয়েক দফায় এবং যথেষ্ট সময় নিয়ে নিন।
 ঝুঁকিপূর্ণ কাজে (যেমন ব্যবসায় অনেক টাকা খাটানো, বাড়ি কেনা) নামার আগে প্রত্যাশিত ফলাফলের বাইরে নেতিবাচক ফলাফল ভেবে দেখুন। নেতিবাচক ফলাফল আপনাকে কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বা আপনি কতটুকু সামাল দিতে পারবেন বা গ্রহণ করতে পারবেন—সবদিক ভালোভাবে বিশ্লেষণ করুন।
 পরিবার ও বিশ্বস্ত বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করুন। ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে কাছের মানুষের সাপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ। সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে নেওয়া ভালো।
 প্রতিনিয়ত না চাইলেও ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পেশাগত বা সামাজিক জীবনে আমাদের অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সময়মতো ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর অনেক ক্ষেত্রে আমাদের জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে। শুধু তা-ই না, প্রতি মুহূর্তের ভালো-খারাপ থাকার নির্ণায়কও ছোট ছোট নানা সিদ্ধান্ত।

15
বিবাহবিচ্ছেদ সন্তানের জীবনে খুব নেতিবাচক প্রভাব ফেলে
তাজিন আহমেদ, অধ্যক্ষ, সানিডেইল স্কুল, ঢাকা।

স্কুলে শিক্ষার্থীকে একটু পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায় সে কোনো সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কি না। আমাদের স্কুলে কাউন্সেলর আছেন, ফলে কোনো ছাত্রছাত্রীর মনঃকষ্টের মধ্য দিয়ে গেলে আলাদা করে ওদের সঙ্গে কথা বলা হয়। আমি নিজেও বলি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ওরা কোনো কথা বলতে চায় না। কিন্তু আচরণ বা পরীক্ষার ফল হঠাৎ খারাপ হওয়া দেখলে বোঝা যায়, বাচ্চাটার কোনো সমস্যা হচ্ছে। মা-বাবার বনিবনা না হওয়া বা বিবাহবিচ্ছেদ সন্তানের জীবনে খুব নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সন্তানের সামনে আপনারা যে ধরনের আচরণ করবেন, সন্তান আপনার অজান্তে তা শিখে ফেলবে। পরে আপনি যখন তাকে ভালো কিছু শেখাতে যাবেন, সে শিখবে না।
বিবাহবিচ্ছেদ হলে বাচ্চা রাখা নিয়ে অনেক সময় মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সন্তান যাঁর কাছেই থাকুক, আমরা মা-বাবা দুজনকে ডেকে কথা বলি। তাঁরা যেন সন্তানের সামনে এমন কোনো কথা না বলেন, যাতে সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। সন্তান জন্মদানের আগে মা-বাবার পূর্বাপর পরিস্থিতি বুঝে সন্তান নিতে হবে। সন্তানকে এত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ফেলার আগে তাঁদের ভাবনাচিন্তার দরকার।

সন্তানের চাওয়া মা-বাবাকে গুরুত্ব দিতে হবে
মাহবুবা নাসরীন, সমাজবিজ্ঞানী
সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ যে হারে বাড়ছে, সেভাবে মানসিকতার পরিবর্তন আসেনি আমাদের। আমরা মানসিকভাবে সমাজের পরিবর্তন নিতে প্রস্তুত হইনি। যে কারণে মা-বাবার সম্পর্কে কোনো সমস্যা হলে সেই পরিবারের সন্তানকে কিংবা ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানকে কেউ কেউ হেয় করে কথা বলে। এই দোষ সন্তানের নয়। অনেক ক্ষেত্রে মা-বাবা একটু সহনশীল হলে বা সন্তানের প্রয়োজনে ছাড় দিতে হলে সন্তানের মনের কষ্ট কিছুটা কমানো যায়।

সন্তানের চাওয়া মা-বাবাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিজেদের মতামত সন্তানের ওপর চাপানো যাবে না। পারিবারিক সমঝোতা, পরিবারের গুরুত্ব—এগুলো সন্তানকে শেখানোর আগে মা-বাবাকে বিষয়গুলোর গুরুত্ব বুঝতে হবে। মা-বাবা ছাড়াও চারপাশের অন্যান্য মানুষ, কাছের মানুষ ও আত্মীয়দের সহনশীল হতে হবে। তাঁরা বুঝে না বুঝে মনে আঘাত দিয়ে কথা বলেন। এমন কোনো আচরণ করেন, যা সন্তানের মন ছোট করে দেয়। মা-বাবা কারও নামেই কোনো সমালোচনা সন্তানের সামনে করা উচিত নয়।

এই সন্তানদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়
হেলাল উদ্দিন আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।
মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হলে বা একই সঙ্গে থেকেও বনিবনা না হলে তার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপর। মা-বাবা যদি সন্তানের সামনে ঝগড়া করেন বা পরস্পরকে দোষারোপ করতে থাকেন, তাহলে সন্তানের ব্যক্তিত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। সব সময় অতি উৎকণ্ঠায় থাকে সেসব সন্তান। সন্তান যখন বড় হয়, তার ব্যক্তিজীবনেও এই প্রভাব পড়ে। তখন পরিবার গঠন করার সময় মা-বাবার আচরণের প্রতিফলন ঘটাতে পারে। যারা নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বড় হয়, দেখা যায়, তাদের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা কম থাকে।
সন্তান জন্মদানের পর দায়িত্ববান হতে হবে। মা-বাবার আচরণ সংবেদনশীল না হলে সন্তানও অসংবেদনশীল আচরণ করবে। সেটা মাথায় রেখে দাম্পত্য জীবনে আচরণ-কথাবার্তায় সচেতন হতে হবে।

সন্তানের সামনে পরস্পরকে ছোট করা উচিত নয়
তানজীব উল আলম, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
এই ধরনের পরিস্থিতিতে সন্তানই মূলত ভিকটিম হয়ে থাকে। বিবাহবিচ্ছেদে দেখি মা-বাবা পরস্পর পরস্পরকে অনেক ছোট করে অসম্মানজনক কথা বলেন। সেটি সন্তানের মনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা দেখি সন্তানের হেফাজত পাওয়ার জন্য মা-বাবা মিথ্যা কথার আশ্রয় নেন। সন্তানকেও সেগুলো শেখাতে থাকেন। যা খুবই অনুচিত। সন্তান যাঁর কাছে থাকলে ভালো থাকবে, আদালত সেই সিদ্ধান্তই নেন। যাঁর হেফাজতেই সন্তান থাকুক না কেন, সন্তানকে এটা বোঝাতে হবে মা-বাবা দুজনেই তার সঙ্গে আছে। মা-বাবা সব সন্তানের কাছে আদর্শ। পরস্পরের বিরুদ্ধে এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যাতে সন্তান মা বা বাবা কাউকে ভুল বোঝে।
একসঙ্গে থাকতে না পারলে সন্তানকে বলতে হবে, ‘স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আমাদের আদর্শগত মিল হয়নি। তাই থাকিনি। কিন্তু তোমার পাশে থাকব।’ সন্তান যার কাছেই থাকুক, তাকে মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়াটা জরুরি। এটাও ঠিক, একজনের কাছ থেকে সঠিক শিক্ষা পেয়েও সন্তান মানুষ হতে পারে। সন্তানের সঙ্গে দেখা করা নিয়েও কোনো সমস্যা করা ঠিক নয়। সন্তান যখন যাঁর সঙ্গে থাকতে চাইবে, দেখা করতে চাইবে, সেটি তাঁকে করতে দিতে হবে। মা বা বাবা যদি সন্তানকে দেখতে চান, সেটিও প্রাধান্য দিতে হবে।

মা-বাবাকে একসঙ্গে দেখতে চাই
মহিউদ্দিন ফারুক
ঢাকার কাছাকাছি একটি শহরে থাকে ছেলেটি। সবে কলেজে উঠেছে। পড়াশোনা, খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি—কমবেশি সবই করে ছেলেটি। কিন্তু সব সময় তার মুখে বিষাদের একটা ছায়া দেখা যায়। ছেলেটি বাবার সঙ্গে থাকে ছোট এক বাড়িতে। বাবা আর ছেলে মিলেই খাওয়াদাওয়া আর ঘর-গেরস্থালির কাজ সামলায়।

ছেলেটির মা যেমন আছেন, তেমনি আছে ভাইও। বছর কয়েক আগে মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়েছে। দুই ছেলের একজন মায়ের সঙ্গে, একজন বাবার সঙ্গে। পিঠাপিঠি দুই ভাই ছিল বন্ধুর মতো। এখন দুই ভাইয়ের দেখা হয় কালেভদ্রে। মায়ের সঙ্গে এক ছেলে, বাবার সঙ্গে এক ছেলে—দুই জায়গায় দুইভাবে হয়তো জীবন চালিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু ওই যে বিষাদ, তা এই চারজনের মধ্যেই দেখা যায়।

কারণ যা-ই হোক ভেঙে যাওয়া পরিবার বা ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানেরা ভালো থাকে না। মা-বাবার বিচ্ছেদের সবচেয়ে ভুক্তভোগী তারাই।

ছেলেমেয়েরা চায় মা-বাবার সঙ্গে একসঙ্গে একটা স্বাভাবিক, সুখী পরিবার হয়ে থাকতে। বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা নতুন নয়, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অযৌক্তিকও হয়তো নয়। কিন্তু সন্তান থাকলে তার বা তাদের ওপর এর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাও অস্বীকার করার মতো না। আবার সন্তানের দৃষ্টিকোণ থেকেও তো বিচ্ছেদর বিষয়টি দেখা দরকার।

সম্প্রতি আদালতের একটা ঘটনা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। মা ও বাবার সঙ্গে একত্রে থাকার জন্য দুই ছেলের যে আকুতি, তা স্পর্শ করেছে অনেককে। ২৫ জুনের ঘটনা এটা।

রাজশাহীর কামরুন্নাহার মল্লিকা ও মাগুরার মেহেদী হাসানের বিয়ে হয়েছিল ২০০২ সালের ডিসেম্বরে। দুজনই উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী। দাম্পত্যজীবনে মনোমালিন্যের কারণে গত বছরের ১২ মে স্বামী ডিভোর্স লেটার পাঠান স্ত্রীকে। এর এক সপ্তাহ আগে দুই সন্তানকে মাগুরায় নিজের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন বাবা। এরপর আর দুই ছেলের দেখা পাননি মা।

দুই ছেলের হেফাজত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মা। শুনানি নিয়ে গত ২৯ মে হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে শিশুদের কেন মায়ের হেফাজতে দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি দুই শিশুকে ২৫ জুন আদালতে হাজির করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও শিশুদের বাবাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সেদিনের আদালতকক্ষের ঘটনা ছুঁয়ে যায় কমবেশি সবাইকে। দুই ভাইয়ের বড় জনের বয়স ১২ আর ছোট জনের ৯ বছর। ১৩ মাস পর আদালতকক্ষে দুই ভাইয়ের দেখা হয় তাদের মায়ের সঙ্গে। মাকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে দুই ভাইয়ের সে কী কান্না। বড় ভাই বলে, ‘আমরা আর কিছু চাই না, শুধু মা-বাবাকে একত্র দেখতে চাই।’

এ দৃশ্য বিচারক, আইনজীবীসহ আদালতকক্ষে থাকা সবার চোখই ভিজিয়ে দেয়। এই শুনানি হচ্ছিল বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে। একপর্যায়ে বড় ছেলে মাকে জড়িয়ে ধরে বাবাকে ডাকে। সে বলে, ‘বাবা, তুমি মাকে সরি বলো।’ মাকে বলে, ‘তুমিও বাবাকে সরি বলো। আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই।’

আদালত দুই শিশুর কথাও শোনেন। তারা মা-বাবাকে একত্র দেখতে চায়। আদালত বলেন, ‘তোমরা জোরে বলো, তোমরা একসঙ্গে থাকতে চাও।’ বাবা ও মাকে আদালত বলেন, ‘এ দৃশ্য দেখেও কি আপনাদের মন গলে না? আপনারা কি সন্তানের জন্য নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করতে পারবেন না? সামনে তাকিয়ে দেখেন, আপনাদের এ দৃশ্য দেখে সবার চোখে পানি চলে এসেছে।’

দুই পক্ষের আইনজীবীসহ উপস্থিত আইনজীবীরা দাঁড়িয়ে সমস্বরে সন্তানদের সর্বোচ্চ কল্যাণ বিবেচনা করে বিভেদ ভুলে মা-বাবাকে একত্র হয়ে থাকার চিন্তা করতে অনুরোধ জানান। আদালত খাসকামরায় দুই শিশু, তাদের মা-বাবা, নানি ও ফুফুর বক্তব্যও শোনেন। পরে তিনি আদেশ দেন, শিশু দুজন ৪ জুলাই পর্যন্ত তাদের মায়ের হেফাজতে থাকবে। তবে তাদের বাবা যেকোনো সময় শিশু দুজনের দেখাশোনা করার সুযোগ পাবেন। ৪ জুলাই আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়। দুই শিশুকেও আনতে বলা হয়।

৪ জুলাই। সকালে মায়ের হাত ধরেই আদালতে আসে দুই ছেলে। সেদিনও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় সেখানে। পারিবারিক এ বিষয়ের প্রসঙ্গ টেনে একপর্যায়ে আদালত বলেন, এই ঘটনা গণমাধ্যমে কীভাবে এসেছে দেখেছেন? জনমত এটি কীভাবে দেখেছে? এটি একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালত আগামী ১ আগস্ট আদেশের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

আইন-আদালতে যা-ই হোক না কেন, মা-বাবার পক্ষে-বিপক্ষে যত যুক্তিই থাকুক না কেন, ‘মা-বাবাকে একত্রে দেখতে চাই’—দুই শিশুর এই আকুতি ছুঁয়ে গেছে আমাদের সবাইকে, এই সমাজকে।

Pages: [1] 2 3 ... 6