Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - khadija kochi

Pages: 1 [2] 3 4 ... 6
16

অনেক খাবারেই ক্যালসিয়াম থাকে। পরিমাণ বুঝে সেসব খাবার খাওয়া যায়।
অনেক খাবারেই ক্যালসিয়াম থাকে। পরিমাণ বুঝে সেসব খাবার খাওয়া যায়।
ক্যালসিয়াম নামের খনিজ উপাদানটি আমাদের হাড় ও দাঁত শক্ত করে, ক্ষয় রোধ করে। স্নায়ু, হৃৎস্পন্দন, মাংসপেশির কাজেও লাগে। এর অভাবে হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরাসিস রোগ হতে পারে। হাড়ের ক্ষয়রোগ প্রধানত প্রবীণদের হয়ে থাকে। হরমোনজনিত কিছু তারতম্যের কারণে প্রবীণ নারীদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কিছু অসুখের কারণে অনেক সময় তরুণেরাও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কৈশোরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম-জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে পরবর্তী সময়ে ক্যালসিয়ামের ঘাটতিজনিত সমস্যাগুলো কম হবে।

অনেক সময় কিছু কিছু রোগে তরুণেরাও আক্রান্ত হতে পারেন। যেমন কিছু বাতজনিত সমস্যা। কোমরের বাত, আবার অন্ত্রের প্রদাহের কারণে এগুলো ব্যক্তি ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারেন না। শরীরের যে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো থাকে যেমন: ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, খনিজ বা মিনারেল—এগুলো ভালোভাবে গ্রহণ করতে না পারলে অনেক আগেই হয়তো শরীরে অস্টিওপোরোসিস হয়ে যায়।

কেউ বললেই ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবে?

একটু হাত-পা ব্যথা, জোড় বা জয়েন্টের ব্যথা, শরীর ম্যাজম্যাজ করছে বা বয়স হয়েছে বলেই ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কেননা, দৈনন্দিন নানা খাবারেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম আছে। প্রতিদিন এ রকম খাবার থেকেই ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করা যায়। অনেকে আবার নিজে নিজেই ওষুধের দোকান থেকে কিনে ক্যালসিয়াম বড়ি খান, যা ঠিক নয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধটি সেবন করতে হবে।

শরীরে ভিটামিন ‘ডি’র অভাব থাকলে কিন্তু ক্যালসিয়াম থেকে উপকার পাওয়া যাবে সামান্যই। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণে কিডনিতে পাথর পর্যন্ত হতে পারে। আবার যাঁদের আগে কখনো কিডনিতে পাথর হয়েছিল, তাঁদের অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণে পুনরায় পাথর হওয়ার আশঙ্কা আরও বেশি। তাই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার সময় তথ্যটি সবার আগে জানবেন। কারণ ওষুধের মাত্রা ঠিক করতে এবং সমস্যাটির জন্য বাড়তি যেসব সতর্কতা প্রয়োজন তা নির্ধারণে তথ্যটি ভূমিকা পালন করবে।

দৈনন্দিন কতটুকু ক্যালসিয়াম প্রয়োজন?

একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ৬০০ ইউনিট ভিটামিন ডি হলে চলে। রজর্নিবৃত্তির (মেনোপজ) পর নারীদের এবং সত্তরোর্ধ্ব পুরুষদের ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম দরকার হয়। গর্ভবতী ও বুকের দুধ পান করান যে মায়েরা তাঁদের লাগে একটু বেশি। ভিটামিন ডি-ও খেতে হবে কেননা এটি শরীরে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সূর্যের আলো থেকে এবং দুধজাতীয় খাবার থেকে আসে ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া সবুজ শাকসবজি, বাদাম, টফু, কমলা ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ছাড়া কীভাবে সমাধান পেতে পারি?

দুধ, দই, পনির, কাঁচা বাদাম, সয়াবিন, আখরোট, সামুদ্রিক মাছ, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, কালো ও সবুজ কচুশাক, শজনেপাতা, পুদিনাপাতা, সরিষাশাক, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, চিংড়ি শুঁটকি, ডুমুর ইত্যাদি হলো উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার। ১০০ গ্রাম দুধে ক্যালসিয়াম আছে ৯৫০ মিলিগ্রাম, একই পরিমাণ পাবদা মাছে ৩১০ মিলিগ্রাম, সামুদ্রিক মাছে ৩৭২ মিলিগ্রাম, শজনেপাতায় ৪৪০ মিলিগ্রাম, ট্যাংরা মাছে ২৭০ মিলিগ্রাম। এক কাপ টকদইয়ে থাকে আরও বেশি ৪০০ মিলিগ্রামের মতো। আধা বাটি রান্না করা সবুজ পাতা আছে এমন শাক খেলে ১০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়া হবে। এক গ্লাস কমলার রসে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম।

তবে অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয় কিছু জিনিস, যেগুলো ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবারের সঙ্গে না খাওয়াই ভালো। যেমন উচ্চমাত্রার চর্বি ও অক্সালিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার। চকলেট, পালংশাক, কার্বোনেটযুক্ত পানীয় ইত্যাদিও ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। কিন্তু ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে ভিটামিন এ, সি এবং ডি। আয়রনও ম্যাগনেশিয়ামযুক্ত খাবারও ক্যালসিয়ামের কাজে সাহায্য করে।

এরপরও প্রয়োজন হলে...

তারপরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম বড়ি সেবন করা যাবে বটে, তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি। বেশ কিছু ওষুধ অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের শোষণ কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে যেসব ওষুধ অ্যাসিডিটি কমাতে ব্যবহৃত হয়। একসঙ্গে ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যালসিয়াম ওষুধ অন্ত্রে শোষিত হয় না, তাই বেশি মাত্রার ওষুধ খেয়ে লাভ হয় না। ক্যালসিয়াম অন্ত্রে শোষণ করতে ভিটামিন ডি লাগে, তাই ভিটামিন ডি কম থাকলে এটিসহ খেতে হবে। সূর্যালোকে আছে প্রচুর ভিটামিন ডি। ডিমের কুসুম, লোনাপানির মাছেও আছে ডি ভিটামিন।

বয়স একটু বেড়ে গেলেই যে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে সমস্যায় পড়তে হয়, তা এড়াতে কৈশোর থেকেই প্রয়োজন সচেতনতা। দুধ ও দুধজাতীয় খাবারের পাশাপাশি খেতে হবে কাঁটাসহ ছোট মাছও। বাড়ন্ত এই বয়সটায় এমন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে একটি মেয়ের শরীরের হাড়ের মূল অংশটা ঠিকমতো তৈরি হবে। এভাবে ভবিষ্যতে হাড়ক্ষয় বা হাড়ে ফুটো হয়ে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

17





নারী-পুরুষ সাম্যের প্রশ্নে বারবার যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা হলো শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা। সমাজের এমন কোনো স্তর নেই যেখান থেকে এ ধরনের সংশয় প্রকাশ করা হয়নি। যদিও অগ্রসর মানুষ মাত্রই জানেন এটি পুরুষাধিপত্য বজায় রাখার একটি কৌশল মাত্র। বহু আগে থেকেই তারা বলছেন, সভ্যতার ইতিহাসে নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান অবদান। যারা এ সত্যই মানতে রাজি নন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে বিজ্ঞানীরা বলছেন, মস্তিষ্কের সক্রিয়তার দিক থেকে নারী বরং পুরুষের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

নারী-পুরুষ সাম্যের প্রশ্নে উন্নত বিশ্বের ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করলেই বিজ্ঞানীদের এ বক্তব্যের গুরুত্বটি অনুধাবন করা সম্ভব। সর্বশেষ আধুনিক প্রযুক্তি বিশ্বের রাজধানী খ্যাত সিলিকন ভ্যালিও উন্মাতাল হয়ে উঠেছে এ সাম্যের প্রশ্নেই। এমনকি প্রযুক্তি বিশ্বের নেতৃত্ব দানকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান গুগলের এক প্রকৌশলীকেও সম্প্রতি ছাঁটাই হতে দেখা গেছে নারী-বিষয়ক পুরোনো ধ্যানধারণা পোষণের কারণে। আর ঠিক এ সময়েই গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণার ফলাফল সামনে নিয়ে এসেছে জার্নাল অব আলঝেইমার’স ডিজিজ। গত ৭ আগস্ট এ-বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনটির সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে সায়েন্সডেইলি।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার আমেন ক্লিনিকস ইনকরপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল জি আমেন এ গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে নয়টি ক্লিনিকের কাছ থেকে পাওয়া মোট ৪৬ হাজার ৩৪ ব্যক্তির মস্তিষ্কের স্পেক্ট (সিংগেল ফোটন এমিশন কম্পিউটেড টমোগ্রাফি) ইমেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
স্পেক্ট ইমেজিং হচ্ছে এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে তেজস্ক্রিয় রাসায়নিকের সাহায্যে শরীরের কোনো একটি অঙ্গে বা টিস্যুতে রক্ত সঞ্চালন হার ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। শরীরের কোনো একটি অঙ্গে রক্ত সঞ্চালন হারই ওই অঙ্গের সক্রিয়তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কারণ কোষের ক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পরিবহন করে রক্ত।
গবেষণাটিতে প্রতিটি মস্তিষ্কের মোট ১২৮টি অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই পুরুষের তুলনায় নারীদের মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি। এ বিষয়ে প্রধান গবেষক ড্যানিয়েল জি আমেন বলেন, ‘নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কের পার্থক্য অনুধাবনে এ গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের সামনে হাজির করেছে। একই সঙ্গে এটি লৈঙ্গিক ভিন্নতার কারণে কার কতটা মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাও উন্মোচন করে।’
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর মস্তিষ্কের বেশ কিছু অংশ পুরুষের অনুরূপ অংশের চেয়ে বেশি সক্রিয়। বিশেষত নারীর প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স বা অগ্রমস্তিষ্ক পুরুষের চেয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি সক্রিয়। মস্তিষ্কের এ অংশটি মনোযোগ ও উদ্দীপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া মস্তিষ্কের অনুভূতি সংশ্লিষ্ট অংশ লিমবিকের সক্রিয়তাও নারীদেরই বেশি। এ কারণে পুরুষের তুলনায় নারীদের আবেগ ও উদ্বেগের মাত্রা দুইই বেশি হতে দেখা যায়। তবে মস্তিষ্কের দর্শনেন্দ্রীয় সংশ্লিষ্ট অংশের দিক থেকে পুরুষ এগিয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে জার্নাল অব আলঝেইমার’স ডিজিজের প্রধান সম্পাদক ও টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব সায়েন্সেসের ডিন ড. জর্জ পেরি সায়েন্সডেইলিকে বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে এ গবেষণা ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের নিজেদের সঙ্গীকে অনুধাবনের ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।


18
Faculty Forum / ভর্তার নানা স্বাদ
« on: June 23, 2018, 02:43:02 PM »


চিংড়ি মাছ ভর্তা

উপকরণ: চিংড়ি মাছ এক কাপ, হলুদ বাটা ১/৪ চা চামচ, কাঁচা মরিচ দুটি, কালিজিরা ১/৪ চা চামচ, পেঁয়াজ তিনটি ছোট আকারের, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, ধনে পাতা দুই টেবিল চামচ, সরিষার তেল এক টেবিল চামচ, শুকনা মরিচ তিনটি, রসুন এক কোয়া।
প্রণালি: চিংড়ি মাছ, হলুদ বাটা, রসুন, শুকনা মরিচ, সামান্য পেঁয়াজ কুচি প্রথমে সয়াবিন তেলে ভেজে নিতে হবে। তারপর স্বাদ অনুযায়ী লবণ দিয়ে পাটায় বেটে নিতে হবে। এখন সরিষার তেল, ধনে পাতা, পেঁয়াজ কুচি ভালোভাবে মিশিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

বরবটি ভর্তা

উপকরণ: বরবটি ৬০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, রসুন বাটা ১/২ চা চামচ, কাঁচা মরিচ ১০টি (ঝাল বেশি খেতে চাইলে), হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, লবণ এক চা চামচ, সরিষার তেল দুই টেবিল চামচ, ধনে পাতা কুচি দুই টেবিল চামচ।
প্রণালি: বরবটি ধুয়ে কাঁচা মরিচসহ ব্লেন্ড করে নিতে হবে। একটি প্যানে তেল গরম করে নিতে হবে। গরম তেলে রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়ো, লবণ ও ব্লেন্ড করা বরবটি পানি না শুকানো পর্যন্ত নাড়তে হবে। ঠান্ডা হলে পেঁয়াজ কুচি, সরিষার তেল ও ধনে পাতা দিয়ে মাখিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

কাঁঠালের বিচি দিয়ে লইট্টা শুঁটকি ভর্তা

উপকরণ: কাঁঠালের বিচি এক কাপ, লইট্টা শুঁটকি ১ কাপ, কাঁচা মরিচ আটটি, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, সরিষার তেল দুই টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, ধনে পাতা দুই টেবিল চামচ।
প্রণালি: প্রথমে লইট্টা শুঁটকি ধুয়ে নিতে হবে। এরপর একটা গরম তাওয়ায় কাঁচা মরিচ, কাঁঠাল বিচি ও শুঁটকি টেলে নিতে হবে। এখন পাটায় কাঁচা মরিচ, কাঁঠাল বিচি ও শুঁটকি বেটে নিতে হবে। এখন পুরো মিশ্রনটিকে নিয়ে সরিষার তেল, লবণ, ধনে পাতা ও পেঁয়াজ কুচি দিয়ে মাখিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

19

 
 

‘আজ আমার নিশ্বাস নেওয়ার মতো সময় নেই।’ এমন উক্তি একজন মায়ের মুখে প্রায়ই শোনা যায়। মনে হতে পারে এটা অতিরঞ্জন। কিন্তু বাস্তব জীবনে দেখা যায়, একজন মা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। সংসারের চাকা ঠিক রাখতে তিনি সব সময় কিছু না কিছু করছেন। ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই শুরু হয় তাঁর ব্যস্ততা। ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত সেভাবেই চলে। এ-তো গেল সেই পরিবারের কথা, যার ছোট-বড় সব সদস্যই সুস্থ ও স্বাভাবিক। কিন্তু যে পরিবারে একটি শিশু থাকে যে কিনা অন্য দশটি শিশুর মতো নয়, যার কিনা রয়েছে কোনো না কোনো ধরনের ‘ডিজঅ্যাবিলিটি’, সেই পরিবারটি কিন্তু অন্য পরিবারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা আগে বলি। বিয়ের পরে আমার সংসার শুরু হলো স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদকে নিয়ে। তখনই সারা দিন ব্যস্ত থাকতাম। পরে যখন আমার প্রথম সন্তান- মেয়ের জন্ম হলো, কাজ আরও বেড়ে গেল। একই সময়ে এল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ। সুতরাং সারাক্ষণই ব্যস্ত। তবু সব মিলিয়ে ভালোই ছিলাম সেই সময়।
দ্বিতীয়বার মা হলাম ১৯৯৮ সালে। এবার হলো একটি ছেলে সন্তান। শুরুতে সবাই খুব আনন্দিত। সবার মতো আমিও। কিন্তু বছর ঘুরতেই এক অজানা ভয় আমাদের পুরো পরিবারকে ঘিরে ধরল। বুঝতে পারলাম, আমার ছেলে অন্য শিশুদের মতো নয়। সে আর সবার মতো আচরণ করে না। ক্রমে সেই আশঙ্কা সত্যি হলো। বুঝতে পারলাম, আমার ছেলে অটিস্টিক। ডায়াগনোসিসের পর সঠিক কারণ জেনে পুরো পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। আমি যেন হঠাৎ করে বিষণ্নতায় ডুবে গেলাম। বুঝতে পারছিলাম না, কি হলো? আমি কি অপরাধ করলাম? সবাই যেন সন্তানের এই অবস্থার জন্য আমাকে দায়ী করছে।
এটা ঠিক যে, এই ব্যাপারে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হওয়া দরকার। একজন অটিস্টিক সন্তানের দায়িত্ব কেন শুধু একজন মায়ের হবে? যখন কোনো শিশু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু হিসেবে চিহ্নিত হয়; অর্থাৎ তার আচরণ ও জীবনযাত্রা অন্যদের মতো নয়, তখন সেই পরিবারের প্রতি অন্যদের আচরণ কেমন যেন বদলে যায়। শারীরিক অসুস্থতাকেও সবাই মেনে নিতে পারে। কিন্তু সমস্যাটি যদি মানসিক বা আচরণগত হয়, তবে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়। ওই শিশুটিসহ তার পরিবারকে অন্য চোখে দেখতে শুরু করে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা।
আমার জীবনে আমি দেখেছি, একজন অটিস্টিক সন্তানের মা হওয়ায় সবাই আমাকে করুণার চোখে দেখতে শুরু করল। কিন্তু কেন? যে সময়টাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটির উন্নয়নে একে অন্যকে সাহায্য করার কথা, সেই সময়ে আমরা ওই শিশুর পরিবারকে ত্যাগ করি। এমনকি পরিহাসও করি কখনো কখনো।অনেক মা-বাবা সন্তানের অটিজমের কথা স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপদে কর্মরত জল–এর বাবা-মা এখানে ব্যতিক্রম। নিউইয়র্কে সবাই অটিস্টিকদের বলে স্পেশাল। আর সৃষ্টিকর্তা যাকে বেশি ভালোবাসেন, তাকেই তো স্পেশাল সন্তান উপহার দেন। ছবির মডেল কাজী সারাফ জল। সঙ্গে তাঁর বাবা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, মা মুক্তি জহির ও ভাই অগ্নি।অনেক মা-বাবা সন্তানের অটিজমের কথা স্বীকার করতে সংকোচ বোধ করেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপদে কর্মরত জল–এর বাবা-মা এখানে ব্যতিক্রম। নিউইয়র্কে সবাই অটিস্টিকদের বলে স্পেশাল। আর সৃষ্টিকর্তা যাকে বেশি ভালোবাসেন, তাকেই তো স্পেশাল সন্তান উপহার দেন। ছবির মডেল কাজী সারাফ জল। সঙ্গে তাঁর বাবা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম, মা মুক্তি জহির ও ভাই অগ্নি।
প্রকৃতপক্ষে এ জন্য একটি বড় সামাজিক আন্দোলন হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য প্রত্যেক মা-বাবাকে সচেতন হতে হবে। আমার যেমন আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে, তেমনি আমার অটিস্টিক সন্তানেরও আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে। তার অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব প্রথমত মা-বাবার, তার সঙ্গে সঙ্গে সমাজের প্রত্যেকের।
আমার সন্তানকে নিয়ে আমি নিউইয়র্কের যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতে দ্বিধাবোধ করি না। করা উচিতও নয়। যে অনুষ্ঠান সে উপভোগ করবে, সেখানে অবশ্যই তাকে নিয়ে যেতে হবে। সেই অনুষ্ঠানে অনেকেই হয়তো সেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটির ব্যবহার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। সেই ক্ষেত্রে অভিভাবক হিসেবে আমরা তাদের জানিয়ে দিতে পারি— ‘আমার সন্তানটি অটিস্টিক বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন।’ ফলে অন্যদের বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ কমে আসবে। অটিস্টিক সন্তানের মা-বাবা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব একটু বেশি থাকে। কারণ আমরাই পারি সচেতন করতে।
তবে শুধু সমাজের দোষ দিই কেন। অনেক মা-বাবাও পারেন না সন্তানের ডিজঅ্যাবিলিটি মেনে নিতে। তাদের নিজেদের জীবনও অনেক সময় সংঘাতময় হয়ে ওঠে এই কারণে। অটিস্টিক সন্তানের মা-বাবার প্রতি আমার একটাই কথা— ধৈর্য হারাবেন না।
যখন প্রথম নিউইয়র্কে আসি, অটিস্টিক সন্তানকে কোলে নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দম বেরিয়ে যেত। কারণ আমার ছেলে স্ট্রলারে উঠতে চাইত না। একদিন সাবওয়ে স্টেশনের সিঁড়িতে বসে ছেলেকে কোলে নিয়ে অনেকক্ষণ কেঁদেছি। আবার চোখের পানি মুছে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এই দেশে পড়াশোনা করেছি। আইনি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছি। প্রতিষ্ঠা করেছি আমার মতো অটিস্টিক সন্তানের মা-বাবাদের নিয়ে সংগঠন।
একটি অটিস্টিক সন্তানের সবচেয়ে বড় অবলম্বন তার মা-বাবা। দুজনের যৌথ প্রয়াসেই সে বিকশিত হতে পারে। তার বিকাশের জন্য প্রয়োজন সমাজের অন্যদের সম্মিলিত সমর্থন। যারা সদ্য জানতে পেরেছেন, আপনার সন্তানের বিকাশজনিত সমস্যা আছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই— হতাশ হবেন না। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই দিশেহারা হবেন না। অটিজম সমস্যা নিয়ে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হতে পারে, এই নিয়ে হুট করে কোনো উপসংহারে উপনীত হবেন না। অন্য সবার মতো অটিস্টিক শিশুরও সামর্থ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
সব শেষে বলব, আপনার অটিস্টিক সন্তানের সঙ্গে অন্য শিশুদের তুলনা টেনে মন খারাপ করবেন না। বরং ওর ছোট ছোট অর্জনে তৃপ্তি খুঁজুন। ওকে উৎসাহিত করুন যাতে ও সামনের দিকে এগোতে পারে।

20
পাপ ক্ষমার সর্বোত্তম মাস হলো রমজান। রমজানের দিনগুলোতে আমরা যদি একান্তই আল্লাহর জন্য রোজা রাখি এবং নিজের দোষ-ত্রুটির ক্ষমা চাই, তাহলে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন এবং অতীতের সব গুনাহও ক্ষমা করবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআন মজিদে এরশাদ করেন, ‘আর তিনিই (আল্লাহ) তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং পাপগুলো ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আশ শুরা: ১৫)

হজরত আবু সাঈদ খুদার (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘যখন কেউ রমজানের প্রথম দিন রোজা রাখে, তখন তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের সমস্ত দিন চলতে থাকে এবং প্রতিদিন তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা সকালের নামাজ থেকে শুরু করে তাদের পর্দার অন্তরালে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার ক্ষমার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ (কানজুল উম্মাল, কিতাবুস সাওম)।

হজরত উম্মে সালমা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস, রমজান আমার উম্মতের মাস।’ রাসুল (সা.) বলেন: ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসে রোজা রাখবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসে তারাবিহর নামাজ পড়বে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’

‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে শবে কদরে ইবাদত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

একবার মহানবী (সা.) বলেন, ‘ফেরেশতারা রোজাদারের জন্য দিন-রাত ইস্তিগফার করতে থাকেন’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ)। হাদিসে এ বিষয়ে আরও বর্ণিত হয়েছে যে হজরত আবদুর রহমান বিন আওফ (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ইমানের সঙ্গে সওয়াব এবং এখলাসের সঙ্গে ইবাদত করে, সে নিজ গুনাহ থেকে এভাবে পবিত্র হয়ে যায়, যেভাবে সেদিন সে তার মাতৃগর্ভ থেকে জন্মলাভ করেছিল।’ (সুনানে নিশাই, কিতাবুস সাওম)।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে বান্দা খোদার পথে এক দিন রোজা রাখে আল্লাহ তায়ালা তার চেহারা থেকে আগুনকে দূরে সরিয়ে দেন।’ (সহিহ মুসলিম)।

রমজানে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ অবশ্যই মসজিদে জামাতে পড়ার চেষ্টা করতে হবে। তারাবিহর নামাজ জামাতে পড়ার জন্য যথাসময়ে মসজিদে যাওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি থাকতে হবে। খতমে তারাবিহ পড়া সবচেয়ে উত্তম। ইবাদতের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে কাজকর্মের রুটিন পরিবর্তন করে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। রমজানের পাঁচটি সুন্নত পালনে সচেষ্ট থাকতে হবে। যথা: ১. সাহ্‌রি খাওয়া, ২. ইফতার করা, ৩. তারাবিহর নামাজ পড়া, ৪. কোরআন তিলাওয়াত করা, ৫. ইতিকাফ করা। যাঁরা কোরআন তিলাওয়াত জানেন না, তাঁরা শেখার চেষ্টা করবেন। যাঁরা তিলাওয়াত জানেন, তাঁরা শুদ্ধ করে তিলাওয়াত করার চেষ্টা করবেন। যাঁরা বিশুদ্ধ তিলাওয়াত জানেন, তাঁরা অর্থ বোঝার চেষ্টা করবেন। যাঁরা তরজমা জানেন, তাঁরা তফসির অধ্যয়ন করবেন। সাহাবায়ে কেরাম সাধারণত প্রতি সপ্তাহে এক খতম (পূর্ণ কোরআন করিম তিলাওয়াত সম্পন্নকরণ) করতেন—এভাবে প্রতি মাসে অন্তত চার খতম হয়ে যেত। আবার সেসব সাহাবাই দীর্ঘ এক যুগ ধরে মাত্র একটি সুরা গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছেন।

রমজানের অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত হলো ইতিকাফ। রমজানের শেষ দশক ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাহ কিফায়া। এর কম সময় ইতিকাফ করলে তা নফল হিসেবেই গণ্য হবে। পুরুষেরা মসজিদে ইতিকাফ করবেন। নারীরাও নিজ নিজ ঘরে নির্দিষ্ট কক্ষে ইতিকাফ করতে পারবেন। রমজানের বিশেষ তিনটি আমল হলো: ১. কম খাওয়া, ২. কম ঘুমানো এবং ৩. কম কথা বলা। হারাম থেকে বেঁচে থাকা, চোখের হেফাজত করা, কানের হেফাজত করা এবং জবানের হেফাজত করা।

তাকওয়া অর্জনই রমজানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন: ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি; আশা করা যায় যে তোমরা তাকওয়া অর্জন করবে।’ (সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াত)। রমজান হলো তাকওয়ার প্রশিক্ষণ। লক্ষ্য হলো রমজানের বাইরের বাকি ১১ মাস রমজানের মতো পালন করার সামর্থ্য অর্জন করা, দেহকে হারাম খাদ্য গ্রহণ ও হারাম কর্ম থেকে বিরত রাখা এবং মনকে অপবিত্র চিন্তাভাবনা, হারাম কল্পনা ও পরিকল্পনা থেকে পবিত্র রাখা। যে ব্যক্তি রোজার হেফাজত করে এবং পরিপূর্ণ শর্ত সাপেক্ষে রোজা রাখে আর এ দিনগুলো ইবাদতে রঙিন করে—তার জন্যই কেবল এই রোজা শয়তানি শক্তির মোকাবিলায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

21

দোয়া কবুলের মাস রমজান

দোয়া হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে বান্দার কথোপকথনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই আল্লাহর দরবারে যেকোনো সময় দোয়া করা যায়। আল্লাহর আরেক নাম গাফ্ফার—অর্থ পরম ক্ষমাশীল, আরেক নাম আল ওয়াহাব, যার অর্থ সবকিছু দানকারী। আল্লাহ ওই মুহূর্তটিকে বেশি পছন্দ করেন, যখন বান্দা চরম বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ ও সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন, তাঁর কাছে মাগফিরাত ও নাজাত কামনা করেন। মাহে রমজান দোয়া কবুলের সময়। আল্লাহ রোজাদারদের গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন জীবন লাভ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তাই নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের নিদ্রা ইবাদততুল্য, চুপ থাকা তাসবিহ-তাহলিলতুল্য, আমল ইবাদত সওয়াব হাসিলে বেশি অগ্রগণ্য, দোয়া কবুলযোগ্য ও তার গুনাহ ক্ষমার যোগ্য।’ (বায়হাকি)। আল্লাহর কাছে দোয়া করলেই তা কবুল হয়। যা চাওয়া হয় তাই দেওয়া হয়। কারও কারও মনে এই প্রশ্ন আসে যে, কেন তাঁর দোয়া কবুল হচ্ছে না। এর উত্তর হচ্ছে, অনেক দোয়া পরকালের জন্য জমা রাখা হয় অথবা দোয়ায় যা চাইছেন তা আপনার জন্য কল্যাণকর নয়, তাই দেওয়া হয় না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এমন দুটি বাক্য আছে, যা উচ্চারণ করতে খুবই সহজ, কিন্তু কিয়ামতের দিন আমলনামা ওজনের পাল্লায় খুব ভারী এবং আল্লাহর কাছে খুবই পছন্দনীয়। তা হলো, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।’ (বুখারি ও মুসলিম)। আয়াতুল কুরসি, ইসমে আজম বা আল্লাহর ৯৯টি নামের অর্থসহ আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরিফসহ দোয়া করলে তা কবুল হয়। আল্লাহর প্রশংসা যেমন, ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ দোয়ার শুরুতে বলা। ‘ওয়া ইলাহুকুম ইলাহু ওয়াহিদুন লা ইলাহা ইল্লা হুয়ার রাহমানুর রাহিম’ (সুরা বাকারা ১৬৩)। ‘আলিফ লাম মীম। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ (সুরা আল ইমরান ১)।

নবী করিম (সা.) রমজান মাসে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে বলেছেন, ‘এই মাসে তোমরা চারটি কাজ অধিক পরিমাণে করো, ১. বেশি বেশি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর জিকির করা; ২. আল্লাহর কাছে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা। ৩. জান্নাত চাওয়া, ৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া।’ রোজা অবস্থায় দোয়া কবুল হয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তাঁদের একজন হলেন রোজাদার ব্যক্তি। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ইফতারের আগ পর্যন্ত তাঁর দোয়া কবুল হয়। আরেক বর্ণনায় এসেছে ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। রোজাদার ব্যক্তির উচিত সময়-সুযোগমতো আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকা।

সাধারণত দোয়ার নিয়ম হলো- একাকী দোয়া করা। অজু না থাকলেও দোয়া করা যায়। এমনকি হাত না তুলে মনে মনে কিংবা মুখে বান্দা নিজের সব কামনা-বাসনার কথা আল্লাহর কাছে বলতে পারেন। হজরত আদম (আ.) থেকে এ পর্যন্ত যত নর-নারী পৃথিবীতে এসেছেন এবং কবরে শায়িত আছেন, তাঁদের সবার জন্য দোয়া করতে হবে।

 রাতের শেষ তৃতীয়াংশে অজু করে পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ে ও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে সুবাহানাল্লা (আল্লাহ পবিত্র) আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) ইয়া ওয়াহহাব (আল্লাহ সবকিছু দানকারী) আসতাগফিরুল্লাহ (আমি আমার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি) দোয়া ইউনুছ তথা লা ইলাহি ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন-তু মিনাজ জোয়ালেমিন (আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আল্লাহ পবিত্র মহান, আমি তো সীমা লঙ্ঘনকারী) এবং রাসুল (সা.)–এর ওপর দরুদ শরিফ পড়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়।

হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ মহান সবচেয়ে কাছের আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকছ? আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে চাইছ? আমি তাকে তা দেব। কে আছ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব (মুসলিম)।

ইহকাল ও পরকালের সফলতার জন্য কীভাবে দোয়া করতে হবে, এই মর্মে আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে শিক্ষা দিয়েছেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাদের ইহকালে কল্যাণ দাও এবং পরকালেও কল্যাণ দাও এবং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করো (সুরা বাকারা ২০১)

প্রতিদিন ইফতারের আগে ও পরে, সাহ্‌রির আগে ও পরে, তাহাজ্জুদ নামাজের শেষে আল্লাহর কাছে প্রাণভরে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন। বেশি করে দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা, তওবা, ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ, তাসবিহ, তাহলিল প্রভৃতি জিকির করা যায়।

22
Faculty Forum / আল কুদস দিবস
« on: June 23, 2018, 01:56:54 PM »


কুদস অর্থ পবিত্র। ‘আল কুদস’ বলতে বোঝায় ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত পবিত্র মসজিদ, যা মসজিদুল আকসা বা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ নামে পরিচিত। হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর তাঁর ছেলে হজরত ইসহাক (আ.)-এর সন্তান হজরত ইয়াকুব (আ.) ফিলিস্তিনের জেরুজালেম নামক স্থানে ‘আল আকসা’ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এরপর তাঁর ছেলে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর বংশধর হজরত দাউদ (আ.)-এর সন্তান হজরত সুলায়মান (আ.) তা পুনর্নির্মাণ করেন। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জেরুজালেম নগর প্রতিষ্ঠা করেন।
আদিতে ‘কাবা’ কিবলা থাকলেও মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস স্থাপনের পর এটি কিবলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ওহি লাভ ও নবুওয়াত প্রকাশের সময় বায়তুল মুকাদ্দাসই কিবলা ছিল। মদিনায় হিজরতের প্রায় দেড় বছর পর এই কিবলা পরিবর্তন হয়ে পুনরায় কাবা কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়। মদিনা থেকে মক্কা দক্ষিণ দিকে এবং বায়তুল মুকাদ্দাস উত্তর দিকে। নবীজি (সা.) সাহাবায়ে কিরামসহ জামাতে জোহরের নামাজে আদায়রত অবস্থায় কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ হয়। তখন নামাজ অবস্থায় নবীজি (সা.) ও সাহাবাগণ উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ঘুরে গিয়ে কাবামুখী হয়ে কিবলা পরিবর্তন করে নামাজ সম্পন্ন করলেন। মদিনা শরিফে মসজিদুল কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদও রয়েছে। ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে ‘তাহবিলে কিবলা’ বা কিবলা পরিবর্তন বলা হয়। (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৪২-১৫১)। এই সূত্রে
ইসলামের দ্বিতীয় কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের প্রথম কিবলা হিসেবে পরিচিত হয়। হাদিসে আছে: ‘কাবা শরিফ তথা মসজিদুল হারামে নামাজে এক লক্ষ গুণ সওয়াব, মদিনা শরিফে মসজিদে নববীতে নামাজে পঞ্চাশ হাজার গুণ
সওয়াব, বায়তুল মুকাদ্দাসে নামাজে পঁচিশ হাজার
গুণ সওয়াব।’
বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের কাছে সব সময় সম্মানিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজ রজনীতে মসজিদুল হারাম তথা কাবা শরিফ থেকে মসজিদুল আকসা তথা বায়তুল মুকাদ্দাস প্রথম সফর করেন, যা ইসরা নামে পরিচিত। (সুরা-১৭ বনী ইসরাইল, আয়াত: ১)। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মিরাজ গমনের সময় এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন। এ এলাকা অসংখ্য নবী–রাসুলের স্মৃতিবিজড়িত, এর আশপাশে অনেক নবী–রাসুলের সমাধি রয়েছে। এটি দীর্ঘকালের ওহি অবতরণের স্থল, ইসলামের কেন্দ্র এবং ইসলামি সংস্কৃতির চারণভূমি ও ইসলাম প্রচারের লালনক্ষেত্র। এই পবিত্র ভূমির ভালোবাসা প্রত্যেক মোমিনের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত।
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে ৬৩৮ সালে বায়তুল মুকাদ্দাস, জেরুজালেমসহ পুরো ফিলিস্তিন সম্পূর্ণরূপে মুসলমানদের অধিকারে আসে। ১০৯৬ সালে খ্রিষ্টান ক্রুসেডাররা সিরিয়া ও ফিলিস্তিন জবরদখল করে নেয়। ১১৮৭ সালে মুসলিম বীর সিপাহসালার সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী (রহ.) পুনরায় জেরুজালেম শহর মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন।
এরপর থেকে খ্রিষ্টান ও ইহুদি চক্র ফিলিস্তিনে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এ অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ইহুদিরা তৎকালীন তুরস্কের শাসক সুলতান আবদুল হামিদের কাছে ফিলিস্তিনে বসতির অনুমতি চায়; দূরদর্শী সুলতান তাদের এ দুরভিসন্ধিমূলক প্রস্তাবে রাজি হননি। ১৯১৭ সালে ইংরেজরা ফিলিস্তিনে অনুপ্রবেশ করে এবং ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে; অল্প সময়ের মধ্যে ইহুদিরা ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিতে ইহুদির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দাঙ্গা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়। এ সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা অন্যায়ভাবে মুসলমানদের ফিলিস্তিন ভূমিকে মুসলমান ও ইহুদিদের মাঝে ভাগ করে দেয়। ফলে ১৯৪৮ সালে ১৫ মে, বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে জায়নবাদী অবৈধ ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে মুসলমানদের প্রতি ইহুদিদের জুলুম, নির্যাতন ও অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে।
ইসরায়েল ‘মসজিদুল আকসা’ জবরদখল করে নেয় ১৯৬৭ সালে। এরপর থেকে মুসলিম জনগণ স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনা করে। ইসরায়েল নতুন নতুন মুসলিম এলাকা জবরদখল করে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে এবং হত্যা, গুম চালিয়ে যাচ্ছে। ইহুদিদের ঘৃণ্য পরিকল্পনা সচেতন মুসলমানদের সংগ্রামী প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখে পরিপূর্ণভাবে সফল হতে পারেনি। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণ ফিলিস্তিনি মুসলিমদের এ প্রতিরোধ আন্দোলন সমর্থন করেছে। ১৯৭৯ সাল থেকে আল আকসা মসজিদ মুক্তির লক্ষ্যে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকের শুক্রবারে আল কুদস দিবস পালন করে। তখন থেকে সারা বিশ্বে এ দিনটি মুসলিম মুক্তির প্রতীকরূপে পালিত হয়ে আসছে।



23
Faculty Forum / শাওয়াল মাসের ফজিলত
« on: June 23, 2018, 01:50:24 PM »
আরবি চান্দ্রবর্ষের দশম মাস শাওয়াল। এই মাসের বহুবিধ তাৎপর্য আছে। এটি হজের তিন মাসের (শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ) অগ্রণী। এই মাসের প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদ। পয়লা শাওয়াল সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা এবং ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব। এই মাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে হজের; এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে ঈদের; এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে রোজা ও রমজানের এবং এর সঙ্গে যোগ রয়েছে সদকা ও জাকাতের। এই মাস আমল ও ইবাদতের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা শাওয়াল মাসের ছয় দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসে ছয় দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রত্যেক সৃষ্ট জীবের সংখ্যার সমান নেকি দেবেন, সমপরিমাণ গুনাহ মুছে দেবেন এবং পরকালে তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন।

 ‘শাওয়াল’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো উঁচু করা, উন্নতকরণ, উন্নত ভূমি, পূর্ণতা, ফলবতী, পাল্লা ভারী হওয়া, গৌরব করা, বিজয়ী হওয়া, প্রার্থনায় হস্ত উত্তোলন করা বা ভিক্ষায় হস্ত প্রসারিত করা, পাত্রে অবশিষ্ট সামান্য পানি, ফুরফুরে ভাব, দায়ভারমুক্ত ব্যক্তি, ক্রোধ প্রশমন ও নীরবতা পালন, সৃজন করা শুকনো কাঠ। এসব অর্থের প্রতিটির সঙ্গেই শাওয়ালের সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই মাসের আমলের দ্বারা উন্নতি লাভ হয়; পূর্ণ ফল লাভ হয়; নেকির পাল্লা ভারী হয়; গৌরব অর্জন হয় ও সাফল্য আসে। ফলপ্রার্থী আল্লাহর কাছে হস্ত সম্প্রসারিত করে প্রার্থনা করে, পুরো মাস রোজা পালনের পর আরও কয়েকটি রোজা রাখে, প্রাপ্তির আনন্দে বিভোর হয়, ফরজ রোজা পালন শেষে নফল রোজার প্রতি মনোনিবেশ করে, আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি অর্জন করে, পরিপক্বতা ও স্থিতি লাভ করে। এ সবই হলো শাওয়াল মাসের নামের যথার্থতা।

এই মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখা সুন্নত। রাসুল (সা.) বলেন, যারা রমজানে রোজা পালন করবে এবং শাওয়ালে আরও ছয়টি রোজা রাখবে; তারা যেন পুরো বছরই রোজা পালন করল। (মুসলিম: ১১৬৪; আবু দাউদ: ২৪৩৩; তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, সহিহ-আলবানি)। চান্দ্র মাস হিসাবে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে এক বছর হয়। প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কমপক্ষে ১০ গুণ করে দিয়ে থাকেন। এই হিসাবে রমজান মাসে এক মাসের (৩০ দিনের) রোজা ১০ গুণ হয়ে ৩০০ দিনের সমান হয়। অবশিষ্ট ৫৪ বা ৫৫ দিনের জন্য আরও ছয়টি পূর্ণ রোজার প্রয়োজন হয়।

হজরত আয়িশা (রা.) বলেন, আমার ওপর রমজানের যে কাজা রোজা বাকি থাকত, তা পরবর্তী শাবান ব্যতীত আমি আদায় করতে পারতাম না। (বুখারি: ১৯৫০; মুসলিম: ১১৪৬)। এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, রমজানের ছুটে যাওয়া কাজা রোজা পরবর্তী রমজান মাস আসার আগে যেকোনো সময় আদায় করা যাবে। রমজানের কাজা রোজা রাখার জন্য সময় সংকীর্ণ না হলে তার আগে নফল রোজা রাখা বৈধ ও শুদ্ধ।সুতরাং সময় যথেষ্ট থাকলে ফরজ রোজা কাজা আদায় করার আগে নফল রোজা রাখতে পারবেন। তবে সম্ভব হলে আগে ফরজ রোজার কাজা আদায় করাই উত্তম। (ফাতাওয়া ইসলামিয়াহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৬৬)।

শাওয়াল মাসে কাজা রোজা আদায় করলে এবং এর সঙ্গে নফলের নিয়ত করলে ফরজ আদায়ের পাশাপাশি নফল রোজা (একের দ্বারা উভয়)
পালন হবে না। কারণ এটি যুক্তিযুক্ত নয়, বোধগম্যও নয় এবং নবী করিম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের আমলও নয়।

মাসের যেকোনো সময় এই রোজা আদায় করা যায়। ধারাবাহিকভাবে বা মাঝে মাঝে বিরতি দিয়েও আদায় করা যায়। উল্লেখ্য, রমজান মাসে ফরজ রোজা ছাড়া অন্য সব রোজার নিয়ত সাহ্‌রির সময়ের মধ্যেই করতে হবে। ঘুমানোর আগে বা তারও আগে যদি এই দিনের রোজার দৃঢ় সংকল্প থাকে, তাহলে নতুন নিয়ত না হলেও চলবে এবং সাহ্‌রি না খেতে পারলেও রোজা হবে। (ফাতাওয়া শামি)।

হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত: শাওয়াল মাসে বিয়েশাদি সুন্নত, যেরূপ শুক্রবারে জামে মসজিদে ও বড় মজলিসেআক্‌দ অনুষ্ঠিত হওয়া সুন্নত। কারণ, মা আয়িশার বিয়ে শাওয়াল মাসের শুক্রবারে মসজিদে নববিতেই হয়েছিল। (মুসলিম)।

শুভ কাজের শুভ সূচনার জন্য এ মাসটি খুবই উপযোগী। এ মাসে বিভিন্ন ইসলামি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তাদের কর্ম বছর শুরু করে থাকে। ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ মাসে তাদের শিক্ষাবর্ষের নতুন ভর্তি ও নব পাঠদান আরম্ভ করে।


24
Faculty Forum / ছুটির পরে অফিসে
« on: June 23, 2018, 01:47:14 PM »

ছুটির পরে অফিসে যোগ দিয়ে অনেকের খোঁজখবর নিতে পারেন। ছুটির পরে অফিসে যোগ দিয়ে অনেকের খোঁজখবর নিতে পারেন।কয়েক দিনের ছুটির পরে আবার সেই আগের মতো ঘড়িবাঁধা জীবনে ফিরে আসা। নয়টা-পাঁচটা অফিসের সেই চক্রে আবারও জড়িয়ে পড়া। ছুটি শেষে অফিসে ফিরলেও ছুটির রেশ যেন কাটতেই চায় না। ছুটির পরের দিন তো এমনিতে অফিসে কাজে মন বসে না।

আবারও ব্যস্ততার চাপ নিতে মন চায় না। ছুটির রেশটা ছুটির পরেও থেকে যায়। মন না চাইলেও অফিসে পা রাখতে হয়, ব্যস্ততার চাদরে নিজেকে জড়িয়ে নিতে হয়। ছুটি শেষে যেভাবে অফিসের কাজে মন বসাবেন তা নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদুর রহমান।

স্মৃতিকে ইতিবাচক উপায়ে ব্যবহার করুন

ছুটির আনন্দের স্মৃতি আমাদের মধ্যে ইতিবাচক শক্তি জোগায়। ছুটির পরে সেই ইতিবাচক শক্তিকে মনোযোগ বাড়াতে ব্যবহার করুন। ফুরফুরে মেজাজে কাজে যোগ দিন। ছুটির রোমাঞ্চ যেন কর্মক্ষেত্রে জোর হিসেবে কাজে দেয়, সে দিকে নজর দিন।

যোগাযোগ বাড়াতে ছুটির আমেজ ব্যবহার করুন

ছুটির পরে কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার পরে আপনি আপনার সহযোগী কিংবা গ্রাহক যাঁরা—তাঁদের খোঁজখবর নিন। ফোন করে কুশলাদি জিজ্ঞেস করুন। এই আন্তরিকতা অনেক নতুন মানুষের মধ্যে আপনার পরিচিতি বাড়াবে।

অফিসের পরিবেশে মানিয়ে নিন

ছুটির পরে সেই বাঁধাধরা নিয়মে কি আর নিজেকে জড়াতে ইচ্ছে করে? ইচ্ছা-অনিচ্ছায় অফিসে পা রাখলেও আবারও অফিসের শৃঙ্খলায় ফিরে আসুন। অফিসের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আবারও আগের আপনি হয়ে যান।

রেখে যাওয়া কাজের ফিরিস্তি নিয়ে বসুন

আগে কোন কোন কাজ সম্পন্ন করা বাকি ছিল, ছুটি থেকে ফিরে আসার পরে সেগুলো শেষ করতে সময় দিন। কোন কাজ কতটুকু এগোলো, কোথায়-কেমন অবস্থানে আছে তা জেনে আবারও কাজ শুরু করুন। নতুন কোন কোন কাজ শুরু করবেন তারও একটি তালিকা তৈরি করে ফেলুন দ্রুত।

ই-মেইলের উত্তর দিন

বেশ কয়েক দিনের ছুটিতে একগাদা ই-মেইল বার্তা জমা হয়ে যেতে পারে। ছুটি থেকে ফিরে সময় নিয়ে ই-মেইলের উত্তর দিন। বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে ই-মেইল করার ক্ষেত্রে উৎসবের ছুটির কারণ এক-দুই লাইনের মধ্যে জানিয়ে তাঁকেও শুভেচ্ছা জানাতে পারেন।

সভার জন্য নিজেকে তৈরি করুন

ছুটি থেকে ফিরে অফিসে পা রাখতেই শুরু হয় একগাদা সভা। সভার জন্য নিজেকে তৈরি করুন। কোন সভা কোন বিষয়ে তা সম্পর্কে আগেই জেনে নিন।

ছুটির গল্প-ছবি আড্ডার জন্য জমিয়ে রাখুন

সারাক্ষণ মাথায় ছুটিতে কী করেছেন, কোথায় কোথায় ঘুরতে গেলেন তা না রেখে দুপুরের খাবারের সময় সহকর্মীদের জানাতে পারেন। অফিসের সময়ে কোনোভাবেই ছুটির গল্প নিয়ে আড্ডা জমিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সহকর্মীদের বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে ছুটির গল্প শোনাতে পারেন। নিজের গল্প যেমন বলবেন, তেমনি অন্যদের গল্পও শুনতে মনোযোগী হতে হবে।

স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন

ছুটিতে তো আরাম-আয়েশেই ছিলেন। শরীরের দিকে কি আর খেয়াল রাখার সময় ছিল। কর্মব্যস্ততা শুরু হলে আবারও ফিটনেসের দিকে মন দিন। অফিসে হেঁটে কিংবা সাইকেল চালিয়ে আসার অভ্যাস করতে পারেন।

25




অনুপ্রেরণা বনাম অভ্যাস
অনুপ্রেরণা আজ একরকম, কাল আরেক রকম। আপনি যদি অভ্যাস তৈরি করতে পারেন তাহলে ব্যায়াম থেকে শুরু করে প্রতিদিন যেকোনো কাজই করতে পারবেন।
প্রতিদিন যদি অনুপ্রেরণার জোরে ভোর পাঁচটায় ওঠার পরিকল্পনা করেন, তাহলে কোনো কোনো দিন নাও ঘুম ভাঙতে পারে। ভোরের একটু বৃষ্টি আর বিছানার ওম ছেড়ে ওঠা কি এত সহজ? উল্টো দিকে আপনি যদি অভ্যাস আর নিয়মে অনুরক্ত হন তাহলে রোদ-বৃষ্টি-শীত কোনো কিছুই আপনাকে সকালে উঠতে আটকাতে পারবে না।
পরিবেশ বদলে ফেলুন
একই পরিবেশে সব সময় থাকতে থাকতে অজান্তেই নিজেকে বিষাদের চক্রে আটকে ফেলি। নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে দীর্ঘদিন ধরে একই পরিবেশে না থেকে চারপাশে নতুন কিছু তৈরি করুন। নিজের ঘরটিকে ভিন্নভাবে গুছিয়ে নিন। অফিসের কাজের টেবিলকে একটু এদিক-সেদিক করে নিজের চারপাশে নতুন পরিবেশ তৈরি করুন। নতুন পরিবেশে আমাদের মস্তিষ্কে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করে। আগ্রহ আর মনের জোর বাড়াতে পরিবেশ বদলে নিন।

পোশাকে মনোযোগ দিন
মনের দুর্বলতা আর বিষণ্নতাকে প্রভাবিত করে আমরা কি পরছি তার ওপর। কোন রঙের পোশাক পরছি, কোন ধরনের পোশাকে নিজেকে আয়নার সামনে দেখি তা আমাদের অবচেতন মনের ওপর প্রভাব ফেলে। নিজেকে সামাজিক কোনো অবস্থানে ছোট মনে হলে পোশাক পরিবর্তন করুন। আপনাকে যে পোশাকে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়, তাই পরে নিজের মনের জোর বাড়ান।

অনুপ্রেরণার গল্প থেকে শিক্ষা নিন
অন্যদের সাফল্যের গল্প থেকে নিজের জন্য শিক্ষা খুঁজে নিন। অন্যদের ব্যর্থতা থেকে নিজের জন্য কী শিক্ষা হতে পারে, তা ভাবার চেষ্টা করুন। গল্পের পেছনের মূল ভাবনা কীভাবে আপনাকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে, তা নিয়ে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

ছোট ছোট লক্ষ্যে এগিয়ে যান
এক দিনে ২০ মাইল দৌড়ানো কি সম্ভব? হুট করেই এক দিন এমন দীর্ঘ পথ দৌড়ানো যেমন অসম্ভব, তেমনি এক দিনে হাজার পৃষ্ঠার উপন্যাস লেখাও অসম্ভব। আপনি যদি প্রতিদিন ২০ মিনিট করে লেখা বা দৌড়ানোর অভ্যাস করেন, তাহলে একদিন ২০ মাইল ছাপিয়ে যেতে পারেন। ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করে প্রতিদিন একটু একটু করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

সময়কে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন
হয়তো ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ভোর ছয়টা বাজলে অ্যালার্মের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করছেন। উল্টোভাবে চিন্তা করে নিজেকে বদলে ফেলার চেষ্টা করুন। রাতে এমন সময় ঘুমান যেন ভোর ছয়টায় আপনার এমনিতেই ঘুম ভেঙে যায়। সময়কে নিজের জন্য আয়ত্ত করতে শিখুন।

26
Faculty Forum / ছোট তবে শান্তির নীড়
« on: April 30, 2018, 11:35:26 AM »
ছোট তবে শান্তির নীড়

 
 

ছোট বাসায় জিনিসপত্র রাখার এরকম তাক ঘরের সৌন্দর্য্যও বাড়াবে। ছবি: নকশাছোট বাসায় জিনিসপত্র রাখার এরকম তাক ঘরের সৌন্দর্য্যও বাড়াবে। ছবি: নকশা
সাধ ও সাধ্য। এই দুয়ের মিশেলে বাসা খুঁজে পাওয়া অনেকটাই কঠিন। কম বেশি ৬০০ থেকে ৯০০ বর্গফুট ফ্ল্যাট বাড়ি এখন বেশ দেখা যায়। নীড় ছোট হলেও ক্ষতি নেই, যদি তা হয় সাজানো–গোছানো। নতুন দম্পতি কিংবা ছানাসহ টোনাটুনির ছোট পরিবারগুলোর কাছে এমন বাসাই প্রথম পছন্দ। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় আসবাব, নিত্যব্যবহার্য তৈজসের ভিড়ে ছোট বাসাগুলো ছিমছাম হয়ে ওঠে না।

অন্দরসজ্জা বাসার খোলামেলা ভাব বজায় রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। বাসার দেয়ালের রং নির্বাচন করা থেকে শুরু করে আসবাবের আকার–প্রকার, এগুলোর কৌশলগত অবস্থান ঠিক করা—সবকিছু বাসাকে পরিপাটি করে তোলে। বাঁধাধরা নিয়ম না থাকলেও কিছু কৌশল প্রয়োগে ছোট বাসাও হয়ে ওঠে শান্তির নীড়।
মেঝে থেকে ছাদ অব্দি
হরেক রকম জিনিস তুলে রাখার জন্য ব্যবহৃত শেলফ গতানুগতিকভাবে ৪ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। দেয়ালের ওপরের অংশ কার্যত থাকে অব্যবহৃত। দেয়ালের গায়ে টানা লম্বা তাক বা শেলফ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা জিনিসগুলোকে যেমন গুছিয়ে দেয়, তেমন অহেতুক আসবাবের ভারিক্কিও কমায়। দেয়ালের ওপরের অংশে ঝুলন্ত বা ওয়াল মাউন্টেড আসবাব বেশ কার্যকর, আর দেখতেও সুন্দর দেখায়।

বাধাহীন অবিরাম
না হলেই নয় এমন দেয়াল ছাড়া দেয়ালের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে তার বদলে খোলা শেলফ বা প্রয়োজনমতো ভাঁজ হয়ে যাওয়া জালি-কাজের বিভাজক (পার্টিশন) বেশ কাজে দেয়। যেমন খাবার ঘর

কে বসার জায়গা বা লিভিং স্পেসকে সম্পূর্ণ আলাদা না করেও আলাদা জায়গার আবহ দেওয়া সম্ভব।

এর নিচে ওর নিচে
জিনিসপত্র রাখার জায়গা (স্টোরেজ স্পেস) সঠিক এবং সৃজনশীল ব্যবহার ছোট্ট বাসাগুলো সার্থকতার চাবিকাঠি। জানালার পাশে যেখানে টানা লম্বা শেলফ করা যাচ্ছে না, সেখানে নিচু শেলফ হয়ে উঠতে পারে সমাধান। এটি বসার নিরিবিলি আয়োজন হিসেবেও কাজে দেয়। ছোট টুল হয়ে যেতে পারে বাচ্চার খেলনার বাক্স। একইভাবে খাট, সোফা, এমনকি টেবিলের নিচটাও হয়ে উঠতে পারে এটা–ওটা গুছিয়ে রাখার সহজ সমাধান।

দেখাক আরেকটু বড়

যা আছে তাকে আরেকটু বড় করে দেখানোর কৌশলটা হলো ভিজ্যুয়াল ইল্যুশন। কামরার উচ্চতা বেশি দেখানোর কার্যকরী এমনই এক উপায় হচ্ছে পর্দা টানানোর রড যতটা সম্ভব উঁচুতে লাগানো। এ ক্ষেত্রে মোটামুটিভাবে ছাদ থেকে দুই বা তিন ইঞ্চি নিচে পর্দার রড লাগালে কাজ হয়ে যায়। জানালার দুপাশে দুই থেকে চার ইঞ্চি বাড়তি রাখলে জানালা বড় দেখায় এবং পর্দা সরিয়ে রাখতে পারার জন্য ঘরে আরও বেশি দিনের আলো আসার পথ সুগম হয়।

আয়নার ব্যবহার নিমেষেই জায়গাটুকুকে দ্বিগুণ করে দেখায়। বড় টানা আয়না বা ফ্রেমে বাঁধানো টুকরো আয়না ঘর সাজানোর উপকরণ তো বটেই, সরু করিডোরকেও করে প্রশস্ত।

জাঁকিয়ে বসা গাঢ় রঙের পরিবর্তে হালকা চাপা সাদা, হলদে, মেটে বা ছাই রং আলো প্রতিফলন করে ঘরকে করে বড়।

এসব কৌশল মেনে আর আপনার নিজস্বতার যোগে ছোট্ট নীড়টাই হয়ে উঠবে অনন্য।


27
Faculty Forum / জীবন যা শেখায় না
« on: April 30, 2018, 11:32:36 AM »


১. জীবন সব সময়ই সচল। আপনি এখন যে কর্মস্থলে কাজ করছেন ভাবছেন আপনি ছাড়া সব অচল। আসলে কিন্তু না। আপনি যদি আজ কাজ ছেড়ে দেন তাহলে কর্মস্থলে সাময়িক সমস্যা তৈরি হবে, কিন্তু খুব দ্রুত আপনার উপস্থিতি সবাই ভুলে যাবে। তেমনি আজ আপনি হয়তো বন্ধুমহলে বেশ জনপ্রিয়। আপনাকে ছাড়া কোনো আড্ডাই জমে না। জেনে রাখুন, আপনি না থাকলেও আড্ডার রং কোনো অংশেই মলিন হবে না।
২. কোনো কিছুই জীবনে চিরস্থায়ী নয়। আবেগ, অনুযোগ কিংবা অভিযোগ-কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। সামাজিক সম্পর্কগুলো সব সময়ই এক রকমের গাঢ় হবে না। আজ আপনার কাছে যাকে ভালো লাগছে, কালকে তাকে আপনার ভালো না-ও লাগতে পারে। আজ যিনি প্রশংসা করছেন, কাল তিনি আপনার কঠোর সমালোচক হতেই পারেন।
৩. নিজেকে কখনোই অন্যদের সঙ্গে তুলনা করবেন না। নিজেকে নিজের সঙ্গে তুলনা করতে শিখুন। বন্ধুর ভালো চাকরির খবর শুনে নিজেকে হেয় করবেন না, বন্ধু উৎসাহ দিয়ে নিজের পথ গোছানোর চেষ্টা করুন।
৪. আর্থিক স্বাধীনতা আপনার জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেয়। ধার করার অভ্যাস কিংবা ঋণে নিজেকে জড়াবেন না। চেষ্টা করুন নিজের হাতে আয় করতে। যতটা আয় করবেন, তা বুঝে ব্যয় করতে শিখুন। প্রয়োজনের বাইরের ব্যবহারের জিনিসপত্র কেনা থেকে বিরত থাকুন। অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করুন। দামি মুঠোফোনে যতটা আনন্দ মেলে হয়তো মঞ্চনাটক দেখার অভিজ্ঞতা আরও আনন্দ দেবে। বস্তুগত আনন্দের চেয়ে অভিজ্ঞতা, স্মৃতি জমানোর দিকে মনোযোগ দিন।
৫. যত বড়ই দুঃখ আসুক না কেন, তা মলিন হবেই। প্রেমিককে হারানোর বেদনা, ভালো চাকরির সুযোগ বা পরীক্ষায় ভালো ফল-নানা কারণে ব্যর্থতা আর শোক জীবনে আসতে পারে। জেনে রাখুন, সব দুঃখই ধীরে ধীরে হালকা হতে থাকে। একদিন সব দুঃখ কাটিয়ে সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি আমরা।
৬. শুধু পরিশ্রমেই জীবনে সাফল্য আসে না। পরিশ্রমের সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সৃজনশীলতাকে যোগ করতে হয়। বছরের পর বছর একই কাজ করতে করতে জীবনকে কখনোই একঘেয়েমির বৃত্তে আটকে ফেলবেন না। সিদ্ধান্ত নিয়ে ঝুঁকি নিতে শিখুন। ঝুঁকি নেওয়ার একটা সুবিধা হচ্ছে, আপনি জানেন না সামনে কী আসবে। এই অচেনা আর অজানা পথ সামনে নতুন দ্বার খুলে দেয়।
৭. সাফল্য কিংবা ব্যর্থতাই জীবনের সবকিছু না। সময়কে নান্দনিক উপায়ে রাঙিয়ে বেঁচে থাকাই জীবন।
৮. অন্যের মতামতকেই জীবনের সব বলে ভাববেন না। একই বই কারও কাছে ভালো লাগতে পারে, কারও কাছে খারাপ লাগতে পারে। তেমনি আপনার কাজ কারও কাছে ভালো লাগতে পারে, কারও কাছে খারাপ লাগতে পারে-সব সময় নিজের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে কাজ করুন।
৯. মুঠোফোন বা সামাজিক দুনিয়াই জীবনের সব না। বন্ধুর সাফল্যের ছবি ফেসবুকে দেখে মন খারাপ হতেই পারে আপনার। আবার দিনের অনেকটা সময় মুঠোফোনের পেছনে ব্যয় করার ফল কিন্তু ইতিবাচক হয় না। নিজের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করুন। নিজের শখকে গুরুত্ব দিন।
১০. নিজের পথ নিজেকেই চলতে হয়। অন্যরা আপনাকে দারুণ পছন্দ করে হয়তো, কিন্তু দিন শেষে আপনার পথ আপনাকেই অতিক্রম করতে হবে। প্রত্যেক মানুষের এগিয়ে চলার গল্প, কষ্টের গল্প ভিন্ন হয়-তাই আপনাকে কেউ এগিয়ে নেবে তা ভেবে কখনোই বসে থাকবেন না।


28



বসের ঝাড়ি খাননি এমন চাকরিজীবী খুঁজে পাওয়া ভার। বসের ঝাড়ি খেয়ে তো আর মুখে হাসি আসবে না। কাজেই মেজাজ খারাপ থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কী প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, তা ভাবনার বিষয়। কারণ ওই ঝাড়ির প্রতিক্রিয়া যথাযথ না হলে, তা আপনার হাতে বরখাস্তের নোটিশও ধরিয়ে দিতে পারে। কাজেই সাবধান তো হতেই হবে। হাজার হোক রুটি-রুজির ব্যাপার।

যদি দেখেন যে বস আপনাকে হয়রানি বা উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করছেন, তবে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগ বা আইনজীবীর কাছে যেতে পারেন। কিন্তু কাজের বিষয় নিয়েই বকা খেলে একটু ভেবে দেখতে হবে। একটু চিন্তা করে দেখুন। দোষ কি আপনার ছিল, নাকি আপনি বলির পাঁঠা? বস কি নিজের হতাশা আপনার ওপর ঝাড়লেন? নাকি আপনাকে বাগে পেতে তক্কে তক্কেই ছিলেন তিনি?

অনেকগুলো প্রশ্ন হয়ে গেল। তবে এসবের উত্তরেই কিন্তু সমাধান লুকিয়ে আছে। বসের বকাঝকার বিপরীতে আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া না দেখানোই ভালো

। উল্টো চিৎকার করে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বলার চেয়ে বেশি বেশি শোনার অভ্যাস গড়তে হবে। বসের অভিযোগ শুনতে শুনতেই তৈরি করতে হবে নিজের যৌক্তিক উত্তর।

১. আলাদাভাবে বসুন
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সবার সামনে বকাঝকা শুরু করলে তাঁর সঙ্গে আলাদাভাবে আনুষ্ঠানিক আলাপে বসার প্রস্তাব দিতে পারেন। যতটা বিন

য়ের সঙ্গে শান্তভাবে এই প্রস্তাব দেবেন, ততই মঙ্গল। আলাদাভাবে বসলে বস যেমন আপনার সমস্যাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারবেন, তেমনি আপনিও এর জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবেন। অফিসে সবার সামনে ভরা হাটে এই প্রত্যুত্তর দেওয়া কিছুটা কঠিন। তবে আপনাকেও অভিযোগ মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

২. নিজেকে ব্যাখ্যা করুন
একটি বিষয় মনে রাখবেন, বসের তোপের মুখে অবশ্যই আপনাকে যথাসম্ভব শান্ত থাকতে হবে। তবে নিশ্চুপ থাকতে হবে, এমন নয়। আপনার ‘ভুল’ কাজের ব্যাখ্যা নিয়ে যদি বস ভুল বুঝে থাকেন, তবে অবশ্যই তা ভাঙাতে হবে। প্রতিহিংসাপরায়ণ হলে চলবে না। বস উত্তর চাইলে চুপ না থেকে কথা বলতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে হবে। যদি উত্তর যৌক্তিক হয়, তবে ভালো বস হলে তিনি শান্ত হয়ে আসবেন।

৩. ভুল হলে মেনে নিন
নিজের ভুল স্বীকার করায় কোনো লজ্জা নেই। এতে আপনার ভালো বৈ মন্দ হবে না। কখনো নিজের ভুলের অজুহাত দেবেন না। ভুল ভুলই। সেটি স্বীকার না করে উল্টো অজুহাত দিলে কর্মী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্ম নেয় কর্তাদের মনে। তাই ভুল নিয়ে তর্কে না জড়ানোই ভালো। বরং স্পষ্টভাবে নিজের ভুল স্বীকার করে নিন। ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতনের কাছে পরামর্শ নিন এবং কঠোর পরিশ্রম করুন। আপনার এই কাজে বস শান্ত হওয়ার পাশাপাশি বাহবাও দিতে পারেন।

৪. পাল্টা চিৎকার নয়
মনে রাখবেন, কোনো অফিসের বড় কর্তা আপনার মতোই রক্তে-মাংসে গড়া একজন মানুষ। রাগ তাঁর হতেই পারে। বস হলেই একজন ব্যক্তি পুরোপুরি খারাপ হয়ে যান না। তাই পাল্টা চিৎকার না করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করুন। পাল্টা চিৎকার পরিস্থিতি শুধু খারাপই করবে। এর চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধানে যাওয়ার চেষ্টা করুন। নিজেই যদি সমাধান দিতে পারেন, তবে দেখবেন কিছুক্ষণ আগে চিৎকার করে অফিস মাথায় তোলা ব্যক্তিটিই নরম হয়ে এসেছেন।

৫. সতর্ক থাকুন
কর্মস্থলে চেঁচামেচি একজন কর্মীকে মানসিকভাবে বেশ দুর্বল করে দেয়। অনেক সময় আরেকজনের ভুলের কারণেও আপনাকে অযথা বকা খেতে হতে পারে। তবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ করার মানে নেই। আবার মন খারাপ করে কান্নাকাটি করলে আপনারই ক্ষতি। এতে কাজে মনঃসংযোগ কমে গিয়ে ভুল হবে আরও বেশি। তাই ঠান্ডা মাথায় বকা হজম করে কাজে নৈপুণ্য দেখাতে হবে। আর খেয়াল রাখতে হবে আবার একই ভুল যেন না হয়।

একটি কথা মনে রাখবেন। আপনাকে বসের চেয়েও বেশি সফল হতে হবে। ক্ষণিকের জন্য এই লক্ষ্যকে অসম্ভব বলে মনে হলেও, দীর্ঘ মেয়াদে এ সংকল্পই আপনাকে সফলতার দরজায় পৌঁছে দেবে। সুতরাং মনঃকষ্টে না ভুগে উদ্যমী হওয়ার চেষ্টা করুন। এভাবেই পড়ে যেতে পারেন বসের সুনজরে।



29
Faculty Forum / দরকারি ১০ দক্ষতা
« on: April 30, 2018, 11:26:35 AM »

দরকারি ১০ দক্ষতা

 
 

মানুষের দক্ষতা সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে। কারিগরি ও মানবিক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতার নানান বিষয় ও প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে পারি। এর বাইরে বেশ কিছু দক্ষতা আছে, যা নিজে থেকেই আয়ত্ত করতে হয়। সারা পৃথিবীতেই চাকরির ক্ষেত্রে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ‘সফট স্কিল’ গড়ে তোলার ব্যাপারে জোর দেওয়া হচ্ছে, সফট স্কিল বলতে সাধারণত এই মানবিক দক্ষতাগুলোকেই বোঝানো হয়। কারিগরি দিক দিয়ে আপনি যতই দক্ষ হন না কেন, মানবিক দক্ষতা না থাকলে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া কঠিন।

..
১. যোগাযোগ দক্ষতা

পড়াশোনার বিষয়টা যা-ই হোক, যে ক্ষেত্রেই আপনি ক্যারিয়ার গড়েন না কেন, আপনার মধ্যে যোগাযোগের দক্ষতা থাকা জরুরি। ভাষাগত দক্ষতা, ইতিবাচক শারীরিক ভাবভঙ্গি, লেখার দক্ষতা, গল্প বলার দক্ষতা, রসবোধ, শোনার আগ্রহ, পাবলিক স্পিকিং, সাক্ষাৎকার গ্রহণসহ ই–মেইল লেখা, নিজের বক্তব্য তুলে ধরার যোগ্যতা আয়ত্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই এসব দক্ষতা বিকাশে মনোযোগ দেওয়া উচিত। কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। চর্চার মাধ্যমে দুর্বলতা দূর করতে হবে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে টেড টকস: দ্য অফিশিয়াল টেড গাইড টু পাবলিক স্পিকিং বইটি পড়তে পারেন। মনে রাখবেন, বাংলা ও ইংরেজি, দুটো ভাষাতেই আপনাকে দক্ষ হতে হবে।

২. নেতৃত্ব বিকাশ

যেকোনো ক্যারিয়ারেই নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ থাকা এখন বিশেষ যোগ্যতা। আপনি ম্যানেজার হতে চান কিংবা দক্ষ কর্মী, আপনার মধ্যে নেতৃত্বের সব গুণ থাকতে হবে। দল গঠনের সক্ষমতা, নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করা, পরামর্শ দেওয়া-নেওয়া, সংঘাত নিরসনের কৌশল জানা, কূটনীতি, মতামত দেওয়া ও নেওয়া, তত্ত্বাবধান করাসহ দূর থেকেই দলকে নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা আয়ত্ত করতে হবে। টম র‍্যাথের স্ট্রেন্থস ফাইন্ডার ২.০ বইটি পড়ে জানতে পারবেন, কোন ধরনের নেতৃত্বের গুণাবলি আপনার মধ্যে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বিভিন্ন বিজনেস কেস কম্পিটিশন, হ্যাকাথন আরও নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্ব বিকাশের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন। সংগঠনে কাজের মধ্য দিয়েও নেতৃত্বের গুণ বিকাশ করা যায়।

পেশাগত দক্ষতাপেশাগত দক্ষতা
৩. পেশাগত দক্ষতা

পেশাগত দক্ষতা বলতে প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা, পরিকল্পনা করা, মিটিং পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ, পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর কোথায় কী হচ্ছে, গবেষণা করার আগ্রহ, ব্যবসায় রীতিনীতি সম্পর্কে জানা, প্রশিক্ষণ নেওয়া ও দেওয়া এবং গ্রাহকসেবার নানা দিক সম্পর্কে জানা—এসবই বোঝায়। পেশাগত দক্ষতাগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষে কর্মজীবনে পা রাখলে ভয় কিংবা জড়তা তেমন থাকে না। চার্লস দুহিগের দ্য পাওয়ার অব হ্যাবিট: হোয়াই উই ডু হোয়াট উই ডু ইন লাইফ অ্যান্ড বিজনেস বইটি পড়লে জড়তা কাটানোর বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে জানা যাবে।

৪. ব্যক্তিগত দক্ষতা
আপনি কতটা ইতিবাচক মানুষ কিংবা নেতিবাচক পরিবেশে নিজেকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করছে আপনার ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিগত দক্ষতা বলতে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা বুদ্ধিবৃত্তিক আবেগ, ব্যক্তি সচেতনতা, আবেগের নিয়ন্ত্রণ, আত্মবিশ্বাস, উৎসাহ, আপনি কতটা সহানুভূতিশীল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ—এসবই বোঝায়। আপনি কেমন মানুষ, আগে তা খুঁজে বের করতে হবে, তারপর কোথায় কোথায় দুর্বলতা তা বের করে নিজেকে শোধরাতে হবে। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স ২.০ বইটি পড়লে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা বুদ্ধিবৃত্তিক আবেগ কীভাবে, কতটা সৃজনশীল উপায়ে বিকাশ করা যায়, তা জানতে পারবেন।

৫. নিজেকে উপস্থাপন

নিজেকে অন্যের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাও একটি দক্ষতা। এমন নয় যে আপনি যা নন, তা অন্যের সামনে দেখাতে হবে। বরং আপনার শক্তির জায়গাগুলোকে কাজে লাগিয়েই নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করা শিখতে হবে। অন্যের সামনে নিজের ‘ব্র্যান্ডিং’ করতে হবে।

৬. ইতিবাচক চিন্তা করা শিখতে হবে

আপনি কীভাবে চিন্তা করেন—এ থেকেই বোঝা যায় আপনি কতটা দক্ষ। নিজের চিন্তাশক্তি বিকাশের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড্যানিয়েল কাহনেম্যানের থিংকিং, ফাস্ট অ্যান্ড স্লো বইটি পড়তে পারেন। সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক চিন্তা করা শিখতে হবে এবং তা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

৭. সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন

জীবনে আপনি কতটা সফল হবেন, তা নির্ভর করে আপনার সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার ওপর। সৃজনশীলতার সঙ্গে নিজের বুদ্ধিমত্তার নান্দনিকতার সম্পর্ক যুক্ত। উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের জন্য আপনি অভিজ্ঞ কোনো মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। যে ভাবনাগুলো আপনাকে আলোড়িত করছে, সেগুলো শুধু মাথার ভেতর না রেখে প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। তাহলেই আপনার শক্তি ও দুর্বলতাগুলো জানতে পারবেন।

৮. সংবেদনশীলতা

আপনার সংবেদনশীলতা আপনার আজীবনের শক্তি। কোনো কারণে ব্যর্থ হলে কত দ্রুত সময়ে স্বাভাবিক হতে পারেন কিংবা ব্যর্থতার প্রতি আপনার প্রতিক্রিয়া কতটা ইতিবাচক, এসব গুণই সংবেদনশীলতা। আপনি নিজের অনুভূতিকে কতটা ইতিবাচক উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তা আপনাকে চর্চার মাধ্যমে শিখতে হবে।

 ৯. সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ

আমরা সমস্যা নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। সমস্যা নিয়ে ভাবতে ভাবতে সমাধান নিয়ে ভাবনার সুযোগই পাই না। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে জানতে হবে। সমস্যা সমাধানের জন্য গণিত ও যুক্তির বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবেগের চেয়ে যুক্তি ও বাস্তবতার দিকে খেয়াল রাখতে শিখতে হবে।

১০. শেখার আগ্রহ

সবচেয়ে বড় সফট স্কিল হচ্ছে শেখার আগ্রহ থাকা এবং শিখে তা প্রয়োগের চেষ্টা করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেকে নিয়ে অহংকারবোধ করি, নিজে থেকে কিছু শিখতে চাই না, যা একটি ফাঁদ। আপনি নিজেকে জ্ঞানী ভাবা শুরু করলেই শেখার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে। শিখতে না পারলে ক্যারিয়ার বা জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। আপনার চেয়ে বয়সে বড় কিংবা ছোট সবার কাছে যেতে হবে শেখার জন্য। কে আপনাকে কোন বিষয়টি শেখাবে, তা কিন্তু আপনি জানেন না। আপনার মন যদি নতুন কিছু শেখার জন্য প্রস্তুত না থাকে, তাহলে আপনি নিজেকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন না।

30
স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকে। এই বয়সে তাদের যে খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে, তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সঠিক পরিমাণে পুষ্টিযুক্ত খাবার না খেলে ভবিষ্যতে উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলকায় হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দুই বছর ও এর থেকে বেশি বয়সের স্কুলগামী শিশুদের জন্য ‘ফুড পিরামিড’ ছক আছে। যেখানে শিশুর কায়িক শ্রম, ব্যক্তিত্ব মিলিয়ে তাকে নানা রকমের পুষ্টিকর সুষম খাবারে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।
‘সারা জীবনের জন্য সুস্থ হার্ট’ নিশ্চিত করতে এ বয়সেই শিশু-কিশোর বয়সের খাদ্যগ্রহণ তালিকাতে কড়া নজরদারি করার প্রয়োজন আছে। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানের শিশু-কিশোর-কিশোরী পুষ্টিহীন সুস্বাদু খাবারে বেশি আগ্রহী। উচ্চ চর্বি ও সুগারযুক্ত খাবারে বেশি আসক্ত।

শিশুদের জন্য যেমন খাবার ভালো
* ফল ও শাকসবজি
* কম পরিমাণে ফলের রস খাওয়া
* ভেজিটেবল অয়েলের ব্যবহার
* মাখন ও অন্যান্য পশুচর্বির বদলে লো স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার

* সম্পূর্ণ দানাদার শস্য গ্রহণ (ব্রেড বা সেরিয়্যালের বদলে)
* লো ফ্যাট মিল্ক
* বেশি মাছ
* কম লবণ
পারিবারিক খাবারের মেন্যুতে এই তালিকা মেনে চলা ভালো।
শিশু খিদে অনুযায়ী তার প্লেটের খাবার খাবে—পুরোটাই তাকে খেতে হবে, এভাবে জোরাজুরি করা যাবে না
যেসব শিশু-কিশোর প্রতিদিন সুষম খাবার গ্রহণ করে, তাদের আলাদা করে ভিটামিন খাওয়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। যারা একটু-আধটু খায়, অপুষ্টিতে ভুগছে, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত, ওজনে বাড়ছে না ও সবজি ডায়েটে নির্ভরশীল, তাদের জন্য ‘ভিটামিন-খনিজ’ জোগান দেওয়া উচিত।
শিশু-কিশোর বয়সে অস্থিকাঠামো মজবুত রাখা বেশি জরুরি। এ জন্য শিশুকে যথাযথ পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’-যুক্ত খাবার খাওয়াতে হবে। বিজ্ঞানীরা এক বছরের বেশি বয়সী শিশুকে দৈনিক ৬০০ ইউনিট ‘ভিটামিন ডি’ এবং ৯-১৮ বছর বয়সীদের জন্য দৈনিক ১৩০০ মিলিগ্রাম করে ক্যালসিয়াম দিতে বলেছেন।
শিশু বেশি চিনিযুক্ত পানীয় ও ফলের রস গ্রহণের ফলে ভরপেট থাকার কারণে ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে পারে না। ফলে তারা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’-বঞ্চিত থেকে সুষম দেহকাঠামো পায় না।
শিশুবিষয়ক অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এটাও দেখা যায়, যেহেতু বয়ঃসন্ধিকাল জীবনের বেশ সংবেদনশীল সময়। শিশু ভাবাবেগপূর্ণ থাকে। অথচ সে এ বয়সে বেড়ে ওঠে বেশ দ্রুততার সঙ্গে। সঠিকভাবে খাদ্য পুষ্টি গ্রহণ করে না। ফার্স্টফুড, বাইরের খাবার বেশি খায়। এতে শরীর গঠনের বিভিন্ন উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়।
এ বয়সে যারা বিভিন্ন খেলায় অংশ নেয়, বিশেষ করে অ্যাথলেটরা। তারাও খাদ্য উপাদানের নানা প্রচারণার ফাঁদে পড়ে। অ্যাথলেটদের জন্য প্রধান পুষ্টি উৎস হলো পানি। প্রতি ১৫ মিনিটের ব্যায়ামের পরে তৃষ্ণা থাকুক বা না-ই থাকুক, তাকে ৪-৮ আউন্স পানি পান করতে হবে।

Pages: 1 [2] 3 4 ... 6