Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - khadija kochi

Pages: 1 2 [3] 4 5 6
31
অন্তর্জালের রঙিন দুনিয়ায় ঘুরে বা টেলিভিশন দেখতে বসলে সময় পার হয়ে যায় দ্রুত। যার ফলে ঘুমাতে ঘুমাতে রাত দুপুর। আর সকালে ঘুম থেকে উঠতেই ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১০টা বা তারও বেশি। ফলাফল সকালের নাশতা পেটে না দিয়েই অফিস বা ক্লাসের পথে দৌড়। অথচ সকালে ওঠার অভ্যাস বদলে দিতে পারে অনেক কিছুই। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী বলেন, ‘সারা দিন উজ্জীবিত থাকতে চাইলে অবশ্যই সকালে ওঠা উচিত। ভোরে ওঠার অভ্যাস গোটা দিনটাকে আরও একটু বড় করে দেয়। সুস্থ থাকার জন্য সকালে একটু হাঁটা, ব্যায়াম করা, সময় নিয়ে আমিষসমৃদ্ধ নাশতা খাওয়া দরকার; যেটা সম্ভব হয় সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে পারলে। নিজের জন্যও একটু পরিচ্ছন্ন সময় পাওয়া যায় ভোরে উঠলে। যাঁরা ভাবেন ভোরে ওঠা অসম্ভব, তাঁদের জন্য বলব, অভ্যাসই মানুষের স্বভাব গঠন করে।’
রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে পরিপূর্ণ প্রাতরাশ (নাশতা) করা জরুরি। সকালে ঘুম থেকে উঠলে ঠিকমতো অফিস করে সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরে আসা সম্ভব। যে কারণে পরের পুরোটা সময় পরিবারের জন্য রাখা যায়। পরিবারসহ রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। সকালে উঠে শান্ত একটা পরিবেশে নিজের সারা দিনের পরিকল্পনা সাজিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। ফোর্বস সাময়িকীর একটি নিবন্ধ বলছে, মন ও শরীর ভালো রাখতে অধিকাংশ ব্যস্ত ও সফল লোকেরা সকালে উঠেই ব্যায়াম করেন। সকাল সকাল অফিসে এলে যানবাহনের জটলা থেকে মুক্তি মিলবে। এ ছাড়া ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য হাঁটা ও সকালে ঠিকমতো নাশতা করা দরকার। তাই সকাল সকাল ওঠার অভ্যাস না থাকলে কোনোটিই ঠিকমতো কাজে দেবে না।

সকালে ওঠার জন্য
যাঁরা নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে উঠতে চান, তাঁদের জন্য কিছু পরামর্শ থাকছে এখানে—
* রাত জেগে টেলিভিশন দেখার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। এমনকি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ ইন্টারনেটের রাতজাগা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।
* শোয়ার ঘর থেকে কম্পিউটার বা মুঠোফোন দূরে রাখুন।
* ঠিকমতো ঘুমানোর জন্য ঘরের পরিবেশও ঠিক রাখা প্রয়োজন। ঘর অন্ধকার ও ঠান্ডা থাকলে ঠিকমতো ঘুমানো যাবে।
* রাতের খাবার আটটা থেকে নয়টার মধ্যেই শেষ করতে হবে। এরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ঘুমাতে যান।
* একজন সুস্থ মানুষের জন্য আট ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। তাই সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়লে অনেক সকালেই ঘুম থেকে ওঠা যাবে।
* সকালে ওঠার অভ্যাস করার জন্য অ্যালার্ম ঘড়ি রাখতে পারেন শোয়ার ঘরে। তবে ঘড়িটা অবশ্যই খাট থেকে খানিকটা দূরে রাখুন, যাতে করে সেটা বাজলে উঠে গিয়ে বন্ধ করতে হয়।
* সকালে ওঠার অভ্যাসের শুরুতেই বড়সড় পরিবর্তন না করে সময় নিয়ে অভ্যাস করুন। প্রথম দিকে নিয়মিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে ওঠার চেষ্টা করুন। এর কয়েক দিন পরে আবার ১৫ মিনিট এগিয়ে নিন। এভাবে ওঠার চেষ্টা করলে সেটা সহজেই অভ্যাসে রূপ নেবে।
* সকালে দ্রুত ওঠার জন্য আগেভাগে ঘুমিয়ে পড়া দরকার। তাহলে ঘুমের সমস্যা হবে না।
* অ্যালার্ম বাজার পর মস্তিষ্ককে ভাবার সময় না দিয়ে দ্রুত উঠে রুমের বাইরে চলে আসুন। সকালে উঠেই ব্রাশ করা বা অন্য কোনো কাজ শুরু করুন।
* সকালে নিজের জন্য একটা ভালো উপলক্ষ তৈরি রাখুন। যেমন গান শোনা, লেখার অভ্যাস ইত্যাদি; যা নিজেকে আকৃষ্ট করবে এমন কোনো বিষয় ভেবে রাখুন।
* সকালে উঠে মানসিক প্রশান্তির জন্য নিজেই একটু চা-কফি তৈরি, সূর্যোদয় দেখা, বাগান করা, নাশতা তৈরি বা বই পড়ার মতো কাজও করতে পারেন।
* বেশি রাত করে ঘুমালে চেহারায় তার ছাপ পড়ে আর দ্রুত ঘুমিয়ে সকালে উঠলে চেহারা ও মন ভালো থাকে।

32
Faculty Forum / রাগ করলেই বাপের বাড়ি!
« on: November 24, 2015, 12:34:27 AM »
এক কাপড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে। মেয়েটির প্রবল অভিমান। ভীষণ কষ্ট! মা-বাবাও বিষয়টি নিয়ে বড় মুশকিলে পড়লেন। তাঁদের বিবেচনায় খুব মন্দ নয় মেয়ের শ্বশুরবাড়ি। জামাই, শ্বশুর-শাশুড়ি তো বেশ ভালোই। যা একটু টানাপোড়েন, অমনটা সব বাড়িতে কমবেশি থাকেই। ওসব মানিয়ে নিতে হয়।
মেয়ের অভিযোগ হলো, শ্বশুরবাড়িতে তিনি মানুষ হিসেবে মর্যাদা পান না। নিজের কর্মস্থলে যে মর্যাদা, আস্থা, সম্মান পান, শ্বশুরবাড়িতে কেন পাবেন না। স্বামীর বাড়ি কি তাঁর নিজের বাড়ি নয়। স্বামীর বাড়ি তাঁর বাড়ি নয়, বাপের বাড়িও তাঁর বাড়ি নয়। একজন নারীর তবে ঠিকানা কোথায়?
‘নিজেরই যদি বাড়ি হতো তাহলে কি এমন ব্যবহার করত! কীভাবে ভাবব যে ওটা আমার বাড়ি? আগে চাকরি করতাম না, সংসারে টাকা দিতে পারতাম না। তাই কোনো বিষয়ে কথাও বলতাম না। এখন তো টাকাও দিই। তবু কেন এই বাড়ি আমার বাড়ি হতে পারল না?’ বলেন মেয়েটি।
প্রশ্নটা অপ্রিয়। প্রশ্নটা ভয়ংকর। একই সঙ্গে প্রশ্নটা সত্য, সরল ও বাস্তব। একজন মনোবিদ হওয়ায় আমার পেশা সমাজ-মানুষ-ঘনিষ্ঠ। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই নিষ্ঠুর প্রশ্ন প্রায়ই আমাকে শুনতে হয়। কেউ অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন। কেউ বলেন হতাশায় ক্ষোভে।
২.

কেন মেয়েরা এক কাপড়ে শ্বশুর বা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে আসেন? এমনটি তো কাম্য নয়। একজন চিকিৎসক হিসেবে যে সমস্যাগুলো দেখি, সেগুলো হলো—
পরিবেশ, অনাস্থা, কূটকচালি, গৃহবধূকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা অনিরাপদ করে রাখে তাঁর অস্তিত্বকে। নানা রকম কুসংস্কার, সন্তান না হওয়া, বিলম্বে হওয়া, অতিরিক্ত রক্ষণশীল মনোভাব একজন নারীকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তোলে।
একজন মেয়ে তাঁর বাপের বাড়ির পরিচিত ও অভ্যস্ত জগৎ ছেড়ে যখন অন্য আরেকটি সংসারে যান, অনেক সময় সেখানে মানিয়ে নিতে পারেন না।
সমস্যা থাকবে। সমস্যা নিয়েই সংসার। সমাধান কী। আমরা গৎ বাঁধা পরামর্শ দিই—মানিয়ে চলুন।
নিজেকে জানতে হবে। স্বতন্ত্র মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মনকে অতিরিক্ত চাপে রাখলে বিগড়াবেই। সংসারে আপনার যা অধিকার, সচেতন থাকতে হবে গোড়া থেকেই। অধিকার রক্ষা ও বাস্তবায়নই নারীকে দেবে আত্মরক্ষার শক্তি ও ভিত্তি। আইনগত অধিকার জানতে হবে। সাবধান থাকতে হবে। কথা বলা ও আলোচনার সাহস হারানো চলবে না।
সংসার কেবল স্বামীর নয়। শ্বশুরবাড়িরও নয়। সংসার স্বামী-স্ত্রী দুজনের। দুজনের আত্মার মেলবন্ধন। এই ভাবনা ও অধিকার চর্চা করতে হবে।

৩.
অনেকে বলে থাকেন, নারীর মন বোঝা দায়! নারীর মন পাঠ অগম্য কেন হবে! আসলে নারীর মনের কথা কখনোই শোনাই যে হয়নি। নারীকে তাঁর কথা বলতে যে দেওয়া হয়নি। ব্যক্তিগত কাউন্সেলিং অভিজ্ঞতায় দেখেছি, নারীর মনের কথা শোনা হলে তাঁর চেয়ে সরলভাষী, সহজ ব্যাখ্যাকারী আর কেউ নন।
কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করেন আপনার বাসা কোথায়। জবাবে বেশির ভাগ মেয়ে বলেন, আমাদের বাসা অমুক জায়গায়। পুরুষেরা অনেক সময় বলেন, আমার বাসা অমুক খানে। এই ‘আমাদের বনাম আমার’ বলার মধ্যেই রয়েছে যত রহস্য।
একজন কর্মজীবী নারী বলছিলেন, পুরুষের পরিচয়েই সংসার। একজন গৃহকর্তার পরিচয়ে বাড়িভাড়া নেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিকও হন বাবা কিংবা স্বামী-শ্বশুর। নারী যখন বাবার বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি যান, নারীর ন্যায্য অধিকারের যতই মোহনীয় বাণী শোনান না কেন, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে বাপের বাড়ির অধিকার হারান। যে ঘরটিতে বড় হয়েছেন, সে ঘরটিও তাঁর থাকে না। এই নারী যখন প্রবল অভিমানে স্বামীর কাছ থেকে চলে আসেন, তখন ভাবেন, তাঁর ঠিকানা কোথায়?
আরেকটি প্রশ্ন নারীর মুখেও শুনি। পুরুষেরাও তো বলেনই। তা হলো বাড়ি তৈরি, ফ্ল্যাট কেনার টাকা জোগান পুরুষ, সম্পদ তাঁর নামে হবে। কেউ কেউ ভালোবেসে, দায়ে পড়ে, সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারায় বাড়ি লিখে দেন নারীকে। তারপরও নারী কেন ঘর ছাড়ার টানাপোড়েনে ভুগবেন? হোক স্বামী-শ্বশুরের, সে ঘরকে কেন মেয়েরা নিজের ভাবতে পারেন না?
এই প্রশ্নের জবাব পেয়েছিলাম সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ নারী আইনজীবীর কাছে। তাঁর দুই মেয়ে। ছেলে নেই। স্বামীও আইনজীবী। তাঁর থেকে জানা গেল, তাঁদের অর্জিত সম্পত্তি তাঁর মেয়েরা আইনত একচ্ছত্র ভোগ করতে পারবে না। যদি একটি ছেলে থাকত, সে একাই একচ্ছত্র ভোগ করতে পারত। সম্পদে অধিকারবোধের এই সংকট আছেই। তারপর শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার বংশানুক্রমিক আতঙ্ক একজন নারীর মনোজগৎকে সব সময় তটস্থ ও বিপন্ন করে রাখে। তাঁকে কাবু ও শক্তিহীন করে রাখে। বিয়ে তো ছেলেরাও করেন। কই তাঁদের তো কোনো বাড়ি থেকে বিতাড়নের আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায় না।
এই মনঃপীড়া, মনোযন্ত্রণা থেকে মুক্তি কোথায়? আইনবিদদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলব, মুক্তি অধিকারে। মুক্তি সম্পত্তির অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নে। সচেতনতা নারীকে দেবে সব রকম রহস্যময়তা থেকে মুক্তি। যেকোনো অধিকার সংরক্ষণ আপনাকে দেবে মানসিক শক্তি। একই সঙ্গে নিজস্ব অস্তিত্বের ভিত্তি। তখন একজন নারী মানসিকভাবে সুস্থ থাকবেন। প্রশান্তিতে থাকবেন।
স্বামীর সংসারকেন্দ্রিক নারীর কর্মতৎপরতাকে কতই প্রশংসার বন্যায় ভাসানো হয়। বিয়ের পর সংসারকে সুন্দর করে সাজাতে-গোছাতে কী পরিশ্রমই না নারী করেন। এই কাজের মূল্যায়ন কেন হবে না? কেন তাঁকে ভুগতে হবে, পরের জায়গা পরের জমিতে অস্থায়ী বাসিন্দার মনঃসংকটে। বুঝলাম, পুরুষ অর্থ জোগান দিচ্ছেন। আমরা কেন এই আয়-সর্বস্ব পরিশ্রমকে একচেটিয়া মূল্যায়ন করব। নারীর সংসার-কর্মকেও অর্থনৈতিক অধিকারের মাপকাঠিতে মূল্যায়ন করতে হবে।

সুলতানা আলগিন: সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

33


    প্রচ্ছদ
    জীবনযাপন
    জেনে নিন

রেগে গেলেন তো মরে গেলেন!
রুহিনা তাসকিন | আপডেট: ১৫:৩৭, অক্টোবর ২১, ২০১৫
০ Like

 
 
 
 
 
 

হলিউডের ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স’-এ রাগ কমানোর বিদ্যা শিখেছেন হিউ জ্যাকম্যান!শিরোনামটা ঠিকই পড়েছেন। রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন নয়, একদম মরে যাওয়ার কথাই বলা হয়েছে। ট্রাফিক জ্যামে বসে আপনার রাগের চোটে মাথার চুল ছেঁড়ার জোগাড়? অফিসে সহকর্মীদের ওপর সব সময়ই বেজার আপনি? বাড়ি ফিরেও বাচ্চাদের আহ্লাদ-আবদারে মেজাজটা চড়ে যায়?


এমন স্বভাব বদলানোটাই ভালো। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে বিপজ্জনক তথ্য। প্রায় চল্লিশ বছরের কাছাকাছি বয়সের এক হাজার ৩০৭ জন পুরুষের ওপর জরিপ চালায় তারা। এদের মধ্যে সবচেয়ে রাগী ২৫ শতাংশ মানুষ অন্যদের তুলনায় ১.৫৭ গুণ বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে আছেন। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এ গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এ গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হতো, আপনি কী প্রায়ই রেগে থাকেন? সে সময়ে তাঁদের বয়স ছিল ২০-৪০ এর মধ্যে। ৩৫ বছর পরে আবার তাঁদের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, এ প্রশ্নের উত্তরে যাঁরা হ্যাঁ বলেছিলেন, তাঁদের অন্যদের তুলনায় আগেই মৃত্যু ঘটেছে অথবা মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে । এমনকি বৈবাহিক অবস্থা, ধূমপান, আয় ইত্যাদি বিষয়ের কথাও বিবেচনা করা হয়েছে এ গবেষণায়।

গবেষণাটির প্রধান পরিচালনাকারী অ্যামেলিয়া ক্যারাকারের কাছে অবশ্য ভালো খবরও আছে। তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের মানুষেরা (যাঁরা মৃত্যুঝুঁকিতে আছে) সব সময়ই রেগে থাকেন। ক্ষণিকের রাগের প্রশ্ন নয় এটি। এটা শুধু এক বিকেলের রেগে থাকা বা এক বছরের ব্যাপারও নয়।

রক্তচাপ ও হৃৎপিণ্ডের ওপরে রেগে যাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব যে কতটা তা অনেকেই জানেন। অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, রাগ ও বিদ্বেষ কীভাবে হৃৎপিণ্ডের গতিতে ছন্দপতন ঘটায়। অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বলা হয় একে। তবে মজার ব্যাপার হলো, নারীদের ক্ষেত্রে কিন্তু সচরাচর এমনটি হতে দেখা যায় না। অর্থাৎ রেগে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি পুরুষদেরই বেশি।

যাঁরা এর মধ্যেই চিন্তায় পড়ে গেছেন, তাঁদের জন্য তথ্য হচ্ছে— অনেক গবেষণাতে এমনও দেখা গেছে, রাগ চেপে রাখাটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। বিশেষ করে; কেউ যদি মনে করেন তাঁর সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে।

তাহলে কী রাগ হলে প্রকাশ করে ফেলাটাই ভালো? সম্ভবত তাই। যদি এর প্রকাশটা মাঝে মাঝে হয় এবং খুব দ্রুতই আবারও মন ভালো হয়ে যায়। নিয়মিত রেগে গিয়ে চারপাশটা মাথায় তুলে ফেলাটা মোটেও ভালো কিছু নয়।

ক্যারাকারের মতে, রাগ মাপার আধুনিক নানা স্কেল ব্যবহার করে হয়তো তাঁদের গবেষণার চাইতেও বেশি তথ্য পাওয়া যাবে। আবার ঠিক কতখানি সময় ধরে রেগে থাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি এতে। তবু রাগ আপনার জন্য ক্ষতিই ডেকে আনবে তাতে সন্দেহ নেই। যেসব মানুষের ওপর আপনি রেগে যাবেন, তাঁদের চাইতে ক্ষতিটা কিন্তু আপনারই বেশি।

তাহলে বরং হলিউডের ছবির সেই ‘হাল্ক’ চরিত্রটির মতোই হয়ে যান। সব সময়ই রেগে থাকে সে। অবশ্য, রাগ নিয়ন্ত্রণে আনার বিদ্যাও যে শেখা সম্ভব তা কিন্তু দেখানো হয়েছে হলিউডেরই আরেক ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স’-এ।

34

রক্তে কোলেস্টেরল বা চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ভয়ে আপনি হয়তো বাদ দিয়েছেন প্রিয় অনেক খাবার। মাংস খাওয়া যাবে না। মিষ্টি খাওয়া বন্ধ। ভাজাপোড়া ফাস্ট ফুড বিদেয় হয়েছে আগেই। তাহলে ভালো খাবার কোনটা? কী খেলে ক্ষতি না হয়ে বরং উপকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? এমন খাবার নিশ্চয়ই আছে, আর সেগুলো একেবারে বিস্বাদও নয়।
ওজন ও রক্তে চর্বি যাঁদের বেশি অথবা হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের রোগীদের বেছে নিতে হবে এমন খাবার, যা রক্তে অসম্পৃক্ত বা উপকারী চর্বি সরবরাহ করে। পাশাপাশি সেগুলো যেন রক্তে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এ রকম কিছু খাবারের একটি তালিকা দিয়েছে।
১. ওটমিল বা ভুট্টার তৈরি খাবার: সকালের নাশতায় ভুট্টা বা যবের তৈরি ওটমিল বা কর্নফ্লেক্স হতে পারে একটি আদর্শ খাবার। এতে করে দিনের শুরুতেই ১ থেকে ২ গ্রাম আঁশ খাওয়া হয়ে যাবে, যা অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেবে।
২. বাদাম: প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম আপনার রক্তে ক্ষতিকর চর্বি বা কম ঘনত্বের লিপিডের (এলডিএল) মাত্রা ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া বাদাম খেলে পাবেন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শক্তি জোগাবে সারা দিন।
৩. শিমের বিচি: শিমের বিচি, মটরশুঁটিতে আছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। এমন খাদ্য সহজে পেট ভরার তৃপ্তি দেয়। ফলে কম খাওয়া হয়।
৪. তৈলাক্ত সামুদ্রিক মাছ: সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অন্তত তৈলাক্ত মাছ খান। সামুদ্রিক মাছ হলে আরও ভালো। এতে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা রক্তে ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে।
৫. সবজি, ফলমূল: সবুজ পাতা ও ডাঁটাসুদ্ধ সবজি, যেমন বিভিন্ন ধরনের শাক এবং খোসাসহ ফলমূলে (যেমন: পেয়ারা, আপেল) রয়েছে অন্ত্রের চর্বি শোষণ কমানোর উপাদান। প্রতিদিন এ ধরনের খাবার আপনার রক্তে এলডিএলের মাত্রা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে বলে গবেষণায় তথ্য মিলেছে।
সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল পাবলিকেশন

35
রমজান মাস শেষ হলেই উৎসবের ঈদ। নতুন পোশাক, মজার খাবারের জন্য সবার নানা রকম আয়োজন। এই আয়োজনের সঙ্গে ওষুধের আয়োজনটাও যুক্ত হওয়া জরুরি। কারণ, ঈদের সময় (বিশেষত ঈদের দিন) অনেক ওষুধের দোকান বন্ধ থাকে। জরুরি কোনো দরকার হলে তখন আর পাওয়া যাবে না। এক মাস রোজা রাখার পরে ঈদের নানা রকম খাবার, অনেকেরই বুকে জ্বালাপোড়া, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রকম জটিলতায় আক্রান্ত হন। অনেকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খেয়ে অ্যাসিডিটি কিংবা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এমন ছোটখাটো সমস্যাগুলো যা নিজেই জরুরি কিছু ওষুধের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব, সেটা ওষুধের দোকান বন্ধের জন্য বা বাসায় না থাকার জন্য সম্ভব হয় না। তাই এখন থেকেই কিনে রাখতে পারেন। বুকের জ্বালাপোড়া, অ্যাসিডিটির জন্য বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ আছে। আপনার পছন্দমতো কিনে নিন। সেই সঙ্গে হঠাৎ পেট, হাত, পা, দাঁতে ব্যথা কমানোর জন্য ওষুধ কিনে রাখা জরুরি। যেকোনো কাটা, পুড়ে যাওয়া, পোকাকামড়ের জন্য দরকার অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম।
বাসায় রক্তে চিনির পরিমাণ মাপার যন্ত্র থাকলে সেই যন্ত্রের জন্য সুচ (নিডল) আছে কি না তা দেখে নিন। হাঁপানির রোগীদের জন্য ইনহেলার, নেবুলাইজার, নাকের ওষুধ এখন থেকেই গুছিয়ে রাখা দরকার।
অনেকের রাতে ঘুম আসে না। মাঝে মাঝে ঘুমের ওষুধ খেতে হয়। রক্তচাপ কমে ও বাড়ে। এ ধরনের সমস্যায় যাঁরা কষ্ট পান, তাঁরা ঘুমের ওষুধ কাছে রাখবেন। ওরস্যালাইন, হট ওয়াটার ব্যাগ (দেহের কোনো জায়গায় তাপ দেওয়ার জন্য দরকার হয়), অ্যান্টিসেপটিক পেপার, কটন বাড (কান পরিষ্কারের জন্য), কাশি ও জরের ওষুধ এখন থেকেই বাসায় রাখার চেষ্টা করুন।
অনেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খান। যেমন উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, বাতের ওষুধ, হরমোনের সমস্যাসহ এমন কিছু অসুখ রয়েছে, যেখানে নিয়মিত চেকআপ ও ওষুধ খেতে হয়। ঈদের দুই-তিন দিন পরেও অনেক সময় দোকান বন্ধ থাকে। তাই বাসায় ওষুধের জোগাড় এখন থেকেই করুন। আপনি যে ওষুধ খান, সেটাই কিনবেন। যেমন অ্যাসিডিটির জন্য বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ আছে। তবে সব অ্যান্টাসিড-জাতীয় ওষুধ সবাই সবার সহনীয় নয়।
উৎসবের সময় ওষুধ বাসায় রাখার বিষয়ে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ফ ম হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘ঈদের দিনগুলোতে আমাদের দেশের মানুষের জন্য অ্যান্টাসিড-জাতীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন, হৃদরোগী যাঁরা জরুরি যে ওষুধ খান, তাঁরা কমপক্ষে ১০ দিনের জন্য ওষুধ কিনে নিন। জিহ্বার নিচে অনেক হৃদরোগীদের ওষুধ দিতে হয়। এ ধরনের রোগীদের আরও যেসব ওষুধ খেতে হয়, সেগুলোও কিনতে হবে। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শের কাগজ দেখে। আর এই সময় অনেকেই ডায়রিয়া ও সেই সঙ্গে জ্বরে আক্রান্ত হন। এ জন্য চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বাসায় রাখা উচিত।
এ সময় আরও জরুরি জিনিস হলো প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফার্স্ট এইড বক্স। ছোটখাটো সমস্যাগুলো যেন তীব্র না হয়, তাই এই বক্সটি বিপদের বন্ধু। ওষুধপত্রের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ও বিভিন্ন হাসপাতালের ঠিকানা রাখতে হবে হাতের কাছেই।

36
Faculty Forum / হঠাৎ যদি পা ফুলে যায়
« on: November 24, 2015, 12:24:23 AM »
হৃদ্রোগ এবং যকৃৎ কিংবা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির দুই পায়ে অনেক সময় পানি আসে। পা ফোলে। কিন্তু যদি কারও এক পা হঠাৎ ফুলে যায়, সেটা নিশ্চয়ই চিন্তার বিষয়। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ কোনো সদস্য, রোগাক্রান্ত বা শয্যাশায়ী ব্যক্তি, অথবা কেউ বড় কোনো দুর্ঘটনা বা অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন শুয়ে থাকলে তাঁর পায়ের শিরার মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রোগটির নাম ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস (ডিভিটি)। গুরুতর এই সমস্যায় পায়ের শিরায় জমাট বাঁধা রক্ত শরীরের অন্য কোনো বড় রক্তনালিতে আটকে গিয়ে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের রোজকার চলাফেরায় পায়ের মাংসপেশির সংকোচনের ফলে পা থেকে শিরার মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ডের দিকে প্রতিনিয়ত বাহিত হয়। দীর্ঘদিন, এমনকি দীর্ঘ সময় (যেমন একটানা দীর্ঘ বিমানযাত্রা) নড়াচড়া না করার ফলে শিরার মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে এ বিপত্তি ঘটে। তাই বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যায় কয়েকটি বিষয় মনে রাখা অতি জরুরি:
* যাঁরা দীর্ঘদিন শুয়ে আছেন, পক্ষাঘাত বা পা ভাঙা রোগী, তাঁদের প্রতিদিন নিয়ম করে খানিকটা হাঁটাচলা করা উচিত। প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিয়ে যথাসম্ভব উঠে বসা, একটু হাঁটা, বিছানা থেকে নেমে অন্য চেয়ারে বসা, বাথরুম বা খাওয়ার ঘরে অন্তত হেঁটে যাওয়া ইত্যাদি অভ্যাস চালিয়ে যেতে হবে।
* প্লাস্টার থাকা বা অন্য কারণে বিছানা থেকে না নামতে পারলে পায়ের মাংসপেশি ও আঙুল নাড়াচাড়ার ব্যায়াম করতে পারেন। পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসের রোগীরা নিয়মিত ফিজিওিথেরাপি নেবেন।
* অস্ত্রোপচারের পর এখন দীর্ঘদিন শুয়ে থাকার নিয়ম নেই। চিকিৎসকের পরামর্শে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া উচিত।
* দীর্ঘ যাত্রায়, বিশেষ করে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিমানযাত্রায় সতর্কতা অবলম্বন করুন। মাঝে মাঝে উঠে হাঁটাহাঁটি করুন, পা নাড়ান, পায়ের ব্যায়াম করুন এবং যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করুন

37
মানবদেহের ৭৫ শতাংশই পানি। পরিপাক, সংবহন, পুষ্টিকণা পরিবহন, খাদ্য শোষণ ও বিপাক, তাপমাত্রা ও ভারসাম্য রক্ষাসহ শরীরের প্রতিটি কাজে পানির প্রয়োজন হয়। অথচ এই পানিই কখনো কখনো নানা রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগ আসলে পানিবাহিত।
জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি নয়জনের একজন বিশুদ্ধ ও পরিষ্কার পানির আওতায় নেই। প্রতি তিনজনে একজন সঠিক পয়োনিষ্কাশনের আওতার বাইরে। ফলে দেখা দিচ্ছে নানা রোগবালাই। কেবল বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন পানি ব্যবহারের মাধ্যমে দুনিয়াজুড়ে পানিবাহিত রোগ এবং এ কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ২১ শতাংশ কমানো যেতে পারে।
পানি বিশুদ্ধ করার সঠিক পদ্ধতি কোনটি, এ নিয়ে অনেকেরই আছে বিভ্রান্তি। পানি ফুটিয়ে পান করা ভালো, নাকি ফিল্টার করে, নাকি দুটোই?
* পানি ফুটিয়ে নেওয়া সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি। এতে জীবাণু, পরজীবী এমনকি তার ডিম ও লার্ভাসহ সবই ধ্বংস হয়। পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কমপক্ষে ১০ মিনিট ধরে ফোটাতে হবে। তারপর তা ঠান্ডা করে কলসি, কাচের জগ বা পরিষ্কার পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। রেখে দেওয়া ফোটানো পানিতে আবার জীবাণুর আক্রমণ হতে পারে—বিশেষ করে, যদি তা বেশি দিন রেখে দেওয়া হয়। তাই রোজকার পানি রোজই ফুটিয়ে নেওয়া ভালো।
* পানি ফোটালে জীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস হয় বটে, তবে সব রাসায়নিক উপাদান নষ্ট হয় না। ফোটানো পানিতে কখনো কখনো ক্যালসিয়াম কার্বনেট জাতীয় তলানি পড়ে। এর সবগুলো যে খারাপ, তা নয়। তবে খনিজ উপাদানের কারণে পানি ঘোলাটে বা অপরিচ্ছন্ন দেখালে ছেঁকে নেওয়া যেতে পারে।
* ফোটানো পানি আবার ফিল্টার করা প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আসে। পানি ফোটানোর মাধ্যমেই ক্ষতিকর জীবাণু দূর করা সম্ভব, তবে সন্দেহ হলে ফিল্টার করা যায়। বেশির ভাগ ফিল্টার আসলে পানির স্বাদ ও গন্ধকেই উন্নত করে।
* ভ্রমণে, বনজঙ্গলে, ক্যাম্পে বা দুর্গত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি দিয়ে পানি বিশুদ্ধ করা হয়। এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়, তবে জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ চালানো যেতে পারে।
* বাইরে বা ভ্রমণের সময় কেনা পানির চেয়ে বাড়ি থেকে বোতলে পানি নেওয়ার চেষ্টা করুন। কাচ ও স্টিলের পাত্রে পানি সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে ভালো।

38
Faculty Forum / সাইনাস নিয়ে যাতনা
« on: November 24, 2015, 12:21:17 AM »
যাঁদের সাইনোসাইটিস বা সাইনাসের প্রদাহ আছে, তাঁদের জন্য মৌসুম পরিবর্তনের সময়টা খারাপ। এটা তাঁদের আকস্মিক সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সময়।
আমাদের নাকের পেছনে ও মাথার খুলির ভেতর কিছু ফাঁকা জায়গা আছে যার নাম সাইনাস। সাইনোসাইটিসে এই ফাঁকা জায়গার ভেতর তরল জমে, প্রদাহ হয় ও কখনো সংক্রমণ ঘটে। শীতের শুরুতে ঠান্ডা হাওয়া ও ধুলাবালু নাক-মুখ দিয়ে প্রবেশ করে এই প্রদাহের সৃষ্টি করে। এর ফলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হতে থাকে, নাক বন্ধ হয়ে যায়, কখনো সর্দি হয়। নাকের পেছন দিকে তরল গলায় প্রবাহিত হয় ও এর কারণে গলায় খুসখুস কাশি হতে পারে। জীবাণু সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।
সাইনাসের সমস্যা বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করতে এই সময়টা একটু সাবধানে থাকতে হবে। চট করে যেন ঠান্ডা লেগে না যায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। ঠান্ডা পানি পান করা উচিত নয়। আর গোসলেও হালকা গরম পানি ব্যবহার করা উচিত। ভোরে বা সন্ধ্যার পর কুয়াশা ও শীতল বাতাসের হাত থেকে বাঁচতে একটু ভারী জামাকাপড় পরুন। ধুলাবালু, কার্পেটের ধুলা, পশুপাখির লোম আপনার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। নাক না ঢেকে ধুলা ঝাড়া ঠিক নয়।
তারপরও সমস্যায় পড়লে দরকার পুরোপুরি বিশ্রাম ও প্রচুর তরল খাবার। গরম স্যুপ, গরম আদা চা বা গ্রিন টি আরাম দেবে। বারবার পানি পান করুন। নয়তো পানিশূন্যতা হতে পারে। প্রচুর ভিটামিন সি আছে এমন খাবার খান। যেমন লেবু, মাল্টা, কমলা, জাম্বুরা ইত্যাদি। নাক বন্ধ হয়ে গেলে অস্বস্তি কমাতে নাকে স্যালাইন বা লবণ পানির ড্রপ ব্যবহার করা যায়। গরম পানির ভাঁপ নিলে বন্ধ নাক খুলে যাবে। রাতে একটু উঁচু বালিশ ব্যবহার করে ঘর গরম করে ঘুমালে অনেকটাই স্বস্তি মিলবে। শিশুদের নাক পরিষ্কার রাখুন, নয়তো শ্বাসকষ্ট হতে পারে। প্রয়োজনে অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু দুই বছরের নিচের শিশুদের তা না দেওয়াই ভালো। জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যায়। কয়েক দিনের মধ্যে সেরে না গেলে বা জ্বর তীব্র হলে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো

39
বাংলাদেশে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। এ তথ্য আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের। এ রোগের প্রভাবে মানুষের হৃদ্যন্ত্র, কিডনি, রক্তনালি, চোখ,¯স্নায়ুসহ প্রায় সব অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ টাইপ-টু ডায়াবেটিসই কিন্তু প্রতিরোধ করা যায়।
আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায়’। এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ:

     প্রথমেই জেনে নিই, সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর খাবার কী। প্রতিদিনের খাবারে প্রতিটি পুষ্টি উপাদান—শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সঠিক মাত্রায় উপস্থিত থাকলে তবেই তাকে সুষম খাবার বলে। তার পরিমাণ বা পরিমাপ নির্ভর করে আপনার উচ্চতা, ওজন ও কাজ বা শারীরিক পরিশ্রমের ধরনের ওপর।
     অতিরিক্ত ওজন, মেদ-ভুঁড়ি ও কায়িক শ্রমের অভাব—এগুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস সঠিক হওয়া জরুরি। আপনার ওজন সঠিক না থাকলে তা ঠিক করার জন্য প্রতিদিনের খাবারে ক্যালরি গ্রহণের পরিমাপ নির্ধারণ করতে হবে।
     চিনি ও চিনিযুক্ত খাবার, শরবত, মিষ্টি, গুড়, কোমল পানীয় ইত্যাদি বর্জন করুন। কারণ, এগুলো সহজ শর্করা এবং সহজেই শরীরে শোষিত হয়। জটিল শর্করা ও আঁশযুক্ত খাবার বেছে নিন। যেমন: সেদ্ধ চাল, আটা, ছাতু, যব বা ভুট্টার তৈরি খাবার ইত্যাদি।
    সম্পৃক্ত চর্বি ও চর্বিযুক্ত খাবার, বেকারি, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্যাদি খেলে ওজন বাড়ে। এগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
    একসঙ্গে বেশি না খেয়ে দিনে-রাতে পাঁচ থেকে ছয়বার অল্প অল্প করে খান। সকালের নাশতা অবশ্যই নিয়মিত গ্রহণ করবেন।
     প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। বাইরে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করতে না পারলে বাড়িতেই ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন একই সময় হাঁটা বা শরীরচর্চা করা ভালো।
     কেনা খাবার খাওয়ার সময় প্যাকেটের গায়ে ক্যালরি, শর্করা ও চর্বির পরিমাণ ইত্যাদি আপনার উপযোগী কি না দেখে নিন।

40
Faculty Forum / শিশুর পরীক্ষাভীতি?
« on: November 24, 2015, 12:18:37 AM »
পরীক্ষার কথা ভেবে অনেক সময় শিশুদের বুক ধুকধুক করে, জিব শুকিয়ে যায়। কখনো এই দুশ্চিন্তাই তাদের শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে। কেউ বমি করতে থাকে, কারও প্রস্রাব ও মলত্যাগে সমস্যা দেখা দেয়, আর কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য শিশুর ওপর খুব জবরদস্তি করা যাবে না। এ কয়েকটা দিন অতিরিক্ত চাপ দিলে ভালো কোনো ফল হবে না, উল্টো ক্ষতি হতে পারে। শিশুকে নিয়ে অন্যদের সামনে কখনো বিরূপ মন্তব্য করবেন না। ‘ও তো কিছুই পারে না’, ‘ওকে দিয়ে কিছু হবে না’ বা ‘কিচ্ছু মনে রাখতে পারে না’‍—নিজের সম্পর্কে এসব মন্তব্য শুনলে শিশুর আত্মবিশ্বাস ও মনোবল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
পরীক্ষার সময় অনেক শিশু খাওয়াদাওয়া করতে চায় না। মস্তিষ্কের জ্বালানি আসে মূলত গ্লুকোজ থেকে। তাই সকালের নাশতায় যথেষ্ট শর্করা থাকা উচিত। সেটা হতে পারে রুটি, কর্ন ফ্লেকস, দুধে ভেজানো পাউরুটি, নরম খিচুড়ি, সঙ্গে ফলের রস (জুস) বা শরবত ইত্যাদি। তবে কেনা বা রেডিমেড গ্লুকোজ খাওয়ানোর দরকার নেই। স্বাভাবিক খাবারে যে শর্করা থাকে তা থেকে সহজেই গ্লুকোজ পাওয়া যায়।

শিশুরা যেন অবশ্যই নাশতা করে স্কুলে যায়। নাশতায় ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার না রাখাই ভালো। এতে স্কুলে গিয়ে বমি ভাব, পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। যেসব শিশুর বমির প্রবণতা আছে, তাদের সকালবেলায় দুধ না দেওয়াই ভালো।

এ সময় আইসক্রিম বা ফ্রিজের ঠান্ডা পানি একদম দেবেন না। এতে ঠান্ডা লেগে, জ্বর হয়ে পরীক্ষাটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। বাইরের খাবারও এড়িয়ে চলুন। পেট খারাপ বা খাবারে বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) হলে সর্বনাশ।

পরীক্ষার সময় রাত জেগে পড়া অনেকেরই অভ্যাস। রাত জাগলে কিন্তু পড়া মনে থাকে না। মস্তিষ্ককে বিশ্রাম না দিলে কোনো পড়াই মনে থাকবে না।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুর অস্থিরতা ও উদ্বেগের মূল কারণ মা-বাবা। অভিভাবকের অতি দুশ্চিন্তাই শিশুদের আক্রান্ত করে। এ সময় শিশুকে অকারণ চাপে না ফেলে বরং তার যত্ন নিন, একটু বাড়তি নজর দিন এবং শিশুর পরীক্ষার দিনগুলোকে সহজ করে নিতে চেষ্টা করুন। 

41
প্যারাসিটামল একটি বহুল পরিচিত ওষুধ। জ্বর বা ব্যথায় আক্রান্ত হলে এই ওষুধ খেতে কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেন না। বলা যায়, এটি একটি ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ ওষুধ, মানে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেনা যায়। সম্প্রতি সরকারি একটি নির্দেশনা অনেকের মনেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।

গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ২৪৪তমসভায় প্যারাসিটামল ৫০০ মিলিগ্রাম ও ডি-এল মেথিওনিন ১০০ মিলিগ্রামের যৌগ ওষুধটির অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। এতে অনেকেই ধরে নিয়েছেন যে প্যারাসিটামল বুঝি নিষিদ্ধ বা ব্যান্ড হয়ে গেছে।

প্যারাসিটামল কী?: প্যারাসিটামল হলো প্রদাহবিরোধী রাসায়নিক পদার্থ। নাম এসিটামিনোফেন। এটি জ্বর ও ব্যথা-বেদনা কমাতে সাহায্য করে। রোগ নিরাময়ে প্যারাসিটামলের কার্যকারিতা বাড়াতে বা ত্বরান্বিত করতে এর সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়, যেমন ক্যাফেইন, ডি-এল মেথিওনিন ইত্যাদি। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ডি-এল মেথিওনিন ব্যবহার করলে তা উপকারের তুলনায় ক্ষতিই বেশি করে।

কেন বাতিল করা হলো?: প্যারাসিটামল ও ডি-এল মেথিওনিনের মিশ্রণে মেথিওনিন থাকে। এটি সেবন করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার, যকৃতের সমস্যা, মস্তিষ্কের ক্ষতি ও রক্তের অম্লতা বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তা ছাড়া ১২ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর জন্য মেথিওনিনযুক্ত প্যারাসিটামল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ কারণেই প্যারাসিটামল ও ডি-এল মেথিওনিনের মিশ্রণে তৈরি ওষুধটির উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে শুধু প্যারাসিটামল কখনোই বাতিল করা হয়নি।

সতর্কতা: যেকোনো ওষুধ সেবন করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ কেনার আগে অবশ্যই ওষুধের গায়ে লেখা পড়ে নিন। প্রত্যেক ওষুধের প্যাকেটে এর উপকরণের নাম ও পরিমাণ লেখা থাকে। প্যারাসিটামল ও ডি-এল মেথিওনিনের মিশ্রণ বা কম্বিনেশনের ওষুধ এড়িয়ে চলুন

42
Faculty Forum / শীতে শিশুর যত্নআত্তি
« on: November 24, 2015, 12:14:43 AM »
শীত কড়া নাড়ছে দরজায়। সেই সঙ্গে শিশুদের সর্দি-জ্বরের শঙ্কাও বাড়ছে। নিউমোনিয়াসহ আরও নানা রোগ এ সময় হানা দেয়। শিশুরা সহজে তাদের শরীরে তাপ ধরে রাখতে পারে না, তাই ঠান্ডা লাগতে পারে।
শীত অল্প হলেও শিশুকে পর্যাপ্ত গরম জামাকাপড় পরাতে হবে। তার মানে এই নয় যে শিশুর নাক-মুখ বন্ধ করে, শক্ত করে মুড়িয়ে দিতে হবে। শীতের কাপড় যেন আরামদায়ক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শীতে ঘাম কম হওয়ার কারণে শিশুর প্রস্রাব বেশি হয়। তাই নবজাতকের কাঁথা ভিজে যাচ্ছে কি না বা শিশুদের প্যান্ট ভিজছে কি না, তা সব সময় খেয়াল রাখতে হবে। বেশি প্রস্রাব করছে দেখে অনেকে শিশুকে বুকের দুধ ও তরল খাবার কমিয়ে দেন। এ রকম কখনোই করা উচিত নয়।
শীতে গোসল করতে বাধা নেই। কুসুম গরম পানি দিয়ে শিশুকে এক দিন পরপর গোসল করাতে পারেন। তবে গোসল করানোর সময় কানে যাতে পানি না ঢোকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর গোসলের পরপর শরীর ভালোভাবে মুছতে ভুলবেন না। এ সময় ত্বকের যত্নে অবশ্যই ভালো মানের লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
শীতে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা খুবই বেশি দেখা যায়। এগুলোর বেশির ভাগই ভাইরাসজনিত, তাই খুব বেশি জ্বর থাকে না। এ সময় শিশুকে বুকের দুধ ও পর্যাপ্ত তরল খাবার দিতে হবে। সেই সঙ্গে লবণ-পানি দিয়ে শিশুর নাক পরিষ্কার করিয়ে দিতে হবে। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াই ঘরোয়া চিকিৎসায় অধিকাংশ কাশি সেরে যায়। তবে খুব বেশি জ্বর হলে, শ্বাসকষ্ট বেশি হলে কিংবা শিশু খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
মায়ের সাধারণ সর্দি-জ্বর হলে সেই মায়ের বুকের দুধ পান করালে শিশুও আক্রান্ত হবে—এই আশঙ্কায় অনেকে শিশুকে বুকের দুধ বন্ধ করে দেন। এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।

43
Faculty Forum / সাত দিনে সুন্দর
« on: November 24, 2015, 12:12:38 AM »
চোখের নিচে কালচে দাগ পড়েছে, মুখের ত্বকও মনে হচ্ছে মলিন। চুলে মেহেদি দেওয়া দরকার। হাত-পায়েরও তো যত্ন নেওয়া চাই। সবই করতে হবে, কিন্তু কবে? ছুটির দিনটি কি তবে রূপচর্চাতেই কাটবে? প্রতিদিনই রুটিন করে যদি একটু একটু যত্ন নেন, তাহলে মনে হবে না ছুটির দিনের বেশির ভাগ সময় চলে গেল এই রূপচর্চা করতে করতেই। সপ্তাহের সাত দিনের একটি ‘রূপ-রুটিন’ তৈরি করবেন কীভাবে, সে পরামর্শই দিয়েছেন গীতি’স বিউটি পারলারের রূপবিশেষজ্ঞ গীতি বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের একটু একটু সৌন্দর্যচর্চার কারণেই নিজেকে সতেজ মনে হবে সর্বদা।’
শুক্রবার
তাহলে, এ দিনটি থেকেই শুরু করুন। ছুটির দিন বলে বাড়তি একটু সময়ও পাবেন। চুলে মেহেদি বা অন্য কোনো প্যাক লাগিয়ে ভালোভাবে শ্যাম্পু করে নিন। কিংবা অয়েল ম্যাসাজও করতে পারেন। কেউ কেউ বাড়িতেই রং করেন চুলে, এ দিনটি ব্যবহার করতে পারেন সে কাজেও। গোসলের আগে হাত-পায়ের নখ কেটে নিন। পেডিকিওর বা ম্যানিকিওর করতে পারেন। যেকোনো একটি করুন এই দিনে।
শনিবার
এই দিনটিতেও অনেকের সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। পারলারে যদি কাজ থাকে যেমন চুল ছাঁটানো, ফেসিয়াল কিংবা ভ্রু প্লাক—তবে এসবের জন্য বেছে নিন এ দিনটিকেই। শুক্রবারের তুলনায় এ দিনটিতে কিছুটা কম ভিড় থাকে পারলারে। ব্যক্তিগত কাজ বেশি থাকলে শুক্রবারের রূপ রুটিনের কিছু কাজ এই শনিবারেই করুন। যেমন পেডিকিওর শুক্রবারে করলে ম্যানিকিওরের কাজটি করে নিন এই দিনে।
রোববার

শুরু হয়ে গেল সেই প্রাত্যহিক দৌড়ঝাঁপ। সকালে যেহেতু অফিস কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ব্যস্ততা। তাই সকালটা বাদ দিয়ে বাসায় ফিরে সন্ধ্যায় টিভি দেখতে দেখতে কিংবা বাড়ির কোনো কাজ করতে করতে সেরে ফেলতে পারেন নিত্য-রূপচর্চা। এদিন নজর দিন ছোটখাটো বিষয়ে। অনেকের ঠোঁটের রং কিছুটা কালো থাকে। কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস, মধু ও যেকোনো ম্যাসাজ ক্রিম মিশিয়ে ঠোঁটের জন্য প্যাক বানিয়ে নিন। দিনে দুবার ঠোঁটে ম্যাসাজ করুন। মাস খানেক নিয়মিত ম্যাসাজেই উপকার পাবেন। এভাবে ত্বকের অন্য যেকোনো ছোটখাট সমস্যার জন্য সময় রাখুন প্রতি রোববারে।

সোমবার
সোমবার দিনটিতে নজর দিতে পারেন কনুই, হাঁটু, পায়ের পাতার দিকে। এসব অংশের ত্বকে কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে অনেকের। এ জন্য দুই চা-চামচ লবণ, দুই চা-চামচ চিনি আর এক চা-চামচ খাবার সোডা নিয়ে তাতে পরিমাণমতো পাতিলেবুর রস ও শসার রস মিশিয়ে প্যাক বানান। এবার কালো হয়ে যাওয়া অংশে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এরপর ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে সামান্য ক্রিম দিয়ে ম্যাসাজ করে নিন।

মঙ্গলবার
চোখের নিচে কালো দাগ যাঁদের, মঙ্গলবার তাঁরা খোসাসহ আলু বেটে চোখের নিচে লাগাতে পারেন। ইচ্ছে করলে অন্যান্য রূপচর্চার পাশাপাশি করে নিতে পারেন এ কাজটিও। তাহলে সময়ও বেঁচে যাবে অনেকটা।

বুধবার
এ দিনটি রাখুন চুলের জন্য। খুশকির সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের চাই নিয়মিত যত্ন। এর জন্য সমপরিমাণ লেবুর রস আর খাঁটি নারকেল তেল একসঙ্গে গরম করে নিন। চুলের গোড়ায় গোড়ায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এরপর হট টাওয়েল ট্রিটমেন্ট নিন। এ পদ্ধতিটি খুব সহজ। আগে থেকেই পানি গরম করে রাখুন। তেল ম্যাসাজ হয়ে গেলে ১০ মিনিট পর গরম পানিতে একটি পরিষ্কার তোয়ালে ডুবিয়ে দিন। তোয়ালের পানি কিছুটা চেপে ফেলে দিন। এরপর তোয়ালে দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে নিন যেন গরম ভাপটুকু চুলে লাগে। এভাবে দু-তিনবার তোয়ালে দিয়ে ভাপ দিন। সব শেষে শ্যাম্পু করে ফেলুন। নিয়মিত এটি করলে খুশকি কমবে। মনে রাখবেন, খুশকিমুক্ত চুলের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি। বালিশের কভার সপ্তাহে একবার বদলে নিন। দিনে বার দুয়েক পরিষ্কার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন।

বৃহস্পতিবার
পরের দিনই ছুটি। তাই মনটা বেশ ফুরফুরে থাকে বোধ হয় এই বৃহস্পতিবারই। আবার অনেকের থাকে রাতের দাওয়াত। এদিন তেমন ব্যস্ততা না থাকলে পুরো সপ্তাহের ক্লান্তি কাটাতে কিছু প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। রোদে যদি মুখের ত্বক পুড়ে যায়, তাহলে জাম পাতা ও আম পাতা বেটে এর মধ্যে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন৷ এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে৷ আবার কালো ছাপ পড়লে চিনির রসের মধ্যে লবণ মিশিয়ে আলতো হাতে ত্বকে মালিশ করুন। এতে দাগ দূর হবে, ত্বকের মরা কোষও উঠে যাবে।
এভাবে রোজকার রূপ-রুটিন মেনে চললে দেখবেন—‘সময়ের অভাবে করা হচ্ছে না কিছুই’—এ আক্ষেপ আর করতেই হবে না।

44
Faculty Forum / কী খেলে সুন্দর থাকবেন
« on: November 24, 2015, 12:09:46 AM »
নানান উপকরণ একসঙ্গে মিলিয়ে বা গুঁড়া করে নানান প্যাক তৈরির ঝক্কিতে হয়তো নিজের ত্বক বা চুলের যত্ন নেওয়াই হয় না। ব্যস্ত জীবনে এই হ্যাপা কজন সামলাতে পারেন, বলুন তো? সময় নেই, তাই বলে থেমে থাকবে রূপচর্চা? একদমই তা নয়। রোজকার খাবারদাবার একটু বুঝেশুনে খেলে খাবার থেকেই মিলবে চুল, ত্বক ও নখের সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হরষিত কুমার পাল বলেন, চুল, নখ ও ত্বক সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস। প্রতিটি খাদ্য উপাদান গ্রহণ করতে হবে পরিমাণমতো। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শর্করা, আমিষ, স্নেহজাতীয় পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও পানি রাখতে হবে সঠিক পরিমাণে। কোনো খাদ্য উপাদান ত্বক বা চুলের জন্য উপকারী বলে সেই উপাদানটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি কোনো একটি খাদ্য উপাদান দৈনন্দিন চাহিদার চেয়ে কম পরিমাণে গ্রহণ করাও উচিত নয়।
তিনি আরও জানালেন, পানি যেমন ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করলে কিডনিতে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি পানি পান করা কোনোটিই ঠিক নয়; যতটা প্রয়োজন, ততটাই পান করতে হবে। আপনার শরীরের পানির চাহিদা মিটছে কি না, তা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। পানির চাহিদা পূরণ না হলে প্রস্রাবের রং হলুদ দেখায়, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়াও থাকতে পারে।
রূপচর্চায় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব সম্পর্কে আরও জানালেন সোনালী’স এইচডি মেকআপ স্টুডিওর রূপবিশেষজ্ঞ সোনালী ফেরদৌসি মজুমদার। দেখুন তাঁর পরামর্শ।
* চুল মজবুত ও সুস্থ রাখতে আমিষজাতীয় খাবার প্রয়োজন। আমিষের অভাবে চুল পড়ে যেতে পারে। উজ্জ্বল ত্বক ও সুন্দর নখের জন্যও চাই আমিষজাতীয় খাবার। মাছ, মাংস, ডিম, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, দুধ ও দুধের তৈরি খাবার থেকে আমিষ পাওয়া যায়।
* আয়রনের অভাবেও চুল পড়তে পারে। কচুশাকসহ অন্যান্য সবুজ শাক, পেয়ারা, আপেল, কলিজা প্রভৃতিতে আয়রন রয়েছে।

* ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মাথা ও দেহের ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। মাছের তেল ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস।
* সুস্থ চুল ও সুস্থ ত্বকের জন্য আরেকটি প্রয়োজনীয় উপাদান ভিটামিন এ। রঙিন শাকসবজি ও ফলমূলে রয়েছে ভিটামিন এ।
* চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করবে বায়োটিন। কাঠবাদাম, ডিমের কুসুম, কলিজা প্রভৃতি থেকে মিলবে প্রয়োজনীয় এই উপাদানটি।
* চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করবে জিংক। ত্বকের কোষগুলোর জন্যও জিংক প্রয়োজন। গম, যবসহ বিভিন্ন শস্যকণায় মিলবে জিংক।
* ত্বকের জন্য আরও একটি প্রয়োজনীয় উপাদান হলো ভিটামিন সি। লেবু, আমড়া, পেয়ারাসহ বিভিন্ন টক ফলে পাবেন প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি।
* এ ছাড়া চুল ও ত্বকের সৌন্দর্যে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

45
মুখের ত্বকের যত্ন নিয়মিত নিলেও অনেক সময় হাত-পায়ের দিকে খেয়াল করেন না অনেকেই। ফলে হাত ও পায়ের ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে। ত্বকের এমন শুষ্কতা খুব অস্বস্তিদায়ক। অনেকের পানিতে হাত ধুলেই হাত সাদা হয়ে যায়। আঙুলের ফাঁকের ত্বক উঠে যায়। পায়ের ত্বকের এমন হতে পারে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় এসব সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের অধ্যাপক রেজা বিন জাভেদ বলেন, বংশগত বা জিনগত কারণে অনেকের ত্বকে তেল গ্রন্থিগুলো প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকে। ফলে ত্বকের প্রয়োজনমতো তেল নিঃসৃত হয় না। তাই শুষ্কতা দেখা যায়। আবার কিছু রোগের কারণেও হতে পারে। যেমন একজিমা, সোরিয়াসিস ইত্যাদি চর্মরোগের জন্য ত্বক রুক্ষ হয়। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পানিশূন্যতার কারণেও ত্বক শুষ্ক হতে পারে। ময়েশ্চারাইজার লোশনে কাজ না হলে সমস্যা চিহ্নিত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ত্বক সুন্দর রাখার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত যত্নের। রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন বলেন, ত্বক শুষ্ক হলে পানির কাজ করার পরেই ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। অনেকের পা ফেটে চামড়া উঠে যায়। এমনকি রক্তও বের হতে পারে। তাই প্রয়োজন হাত-পায়ের ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখা, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন প্যাডিকিওর, মেনিকিউর করা। হাতের ত্বক মসৃণ করতে অলিভ অয়েল ১ চামচ, ৫ চামচ লবণ, ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে স্ক্রাব করতে পারেন।œএ ছাড়া বাজারে হ্যান্ড ক্রিম ও পা ফাটা রোধের জন্য বিশেষ ক্রিম পাওয়া যায়। সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
জেনে নিন
* সারা দিনে বারবার ময়েশ্চারযুক্ত লোশন ব্যবহার করুন।

* রাতে ঘুমানোর আগে হাত-পায়ে অলিভ অয়েল, গ্লিসারিন বা লোশন ব্যবহার করুন।
* শুষ্ক স্থানে মধু ও অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করে দু-তিন মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
* পরিমিত পানি পান করুন।
* অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করে সুষম খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করুন।
* প্রয়োজনে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান

Pages: 1 2 [3] 4 5 6