Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - sharifmajumdar

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 7
31
আমাদের জীবনে এমন অনেক সময় আসে যখন আমরা বুঝে উঠতে পারি না, কী করবো বা কী করা দরকার। চিন্তার জায়গায় আমরা ব্লক ফিল করি। এ সময়গুলোকে কাউন্সেলিংয়ের ভাষায় আমরা বলি, ব্লক ফিল করা। জীবনের মোড় সর্বনাশা অন্ধ কানাগলির বাঁকে আটকে গেলে এর চরম পরিণতি আত্মহত্যা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মতে, সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর এক মিলিয়ন মানুষ আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যায় একজন মানুষ তখনই প্ররোচিত হন বা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, যখন তিনি নিরাশার চরম আবর্তে নিক্ষিপ্ত হন।

তখন হয়তো তিনি এতটাই নিরাশার অতলে নিমজ্জিত থাকেন যে, অন্যের সাহায্য চাওয়ার অবস্থায়ও থাকেন না। কিন্তু আশার কথা হলো, যত লোক আত্মহত্যা প্রবণতায় তাড়িত থাকে, তারা কিন্তু কেউই প্রকৃতপক্ষে মরতে চান না। আসলে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত তাকে আত্মহত্যার মঞ্চে নিয়ে যায়। এটি সত্যিই বলা কঠিন বা এক প্রকার রহস্যের ঘেরটোপে বন্দি।

তবে এটি সহজেই বোঝা যায়, ওই ব্যক্তির কাছে আর অন্য কোনো বিকল্প থাকে না। অবশ্যই সেটি তার দৃষ্টিতে। আত্মহত্যা একটি নেতিবাচক প্রচেষ্টা অসহ্য যন্ত্রণা থেকে বের হওয়ার।

মানুষ আসলে যন্ত্রণা, ক্ষোভ, লজ্জা থেকে মুক্তি পেতেই বিকল্প হিসেবে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আদৌ সেটি মুক্তির পথ নয়। বরং আরেকটি যন্ত্রণার পথে পথ চলা।

ওয়ার্নিং সাইন
আত্মহত্যার কথা যদি কেউ বলে বা আত্মাহত্যার প্রচেষ্টা করে তবে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, হেসে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ, এটি শুধু সতর্কবার্তা নয়, তিনি যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না তার সাহায্যের প্রয়োজন- সেই আর্তনাদ।

আত্মহত্যার কথা বলা
•    আমার যদি জন্মই না হতো।
•    যদি আর কখনও দেখা না হয়।
•    হয়তো আর দেখা হবে না।
•    আমার মরে গেলেই ভালো হতো।

প্রাণঘাতী সামগ্রী
ওষুধ, ব্লেড, ছুরি, বন্দুক ইত্যাদি যেকোনো বস্তু খোঁজা। যা দিয়ে আত্মহত্যা করা যায়।

মৃত্যু চিন্তা
•    অতিরিক্ত মৃত্যু চিন্তা, হিংস্রতা।
•    মৃত্যু নিয়ে লেখাপড়া করা।

ভবিষ্যত সর্ম্পকে নিরাশা
•    অসহায়, আশাহত ও নিজেকে খাঁচায় বন্দি (যেখান থেকে বের হবার পথ নেই) ভাবা।
•    ভালো কিছু আর কখনোই ঘটবে না, ভাবা।

আত্মগ্লানি, নিজেকে ঘৃণা করা
•    নিজেকে অযোগ্য, দোষী, লজ্জিত, অপদার্থ ভাবা।
•    নিজেকে বোঝা ভাবা (সবাই আমার থেকে ভালো)।

বিদায় সম্ভাষণ
•    অপ্রত্যাশিত দেখা করা বা ফোন করা পরিবার-পরিজনকে বা বন্ধুদের।
•    এমনভাবে বিদায় জানানো যেন আর দেখা হবে না।

নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলা
•    নিজেকে বন্ধু বা পরিবার সবার থেকে আলাদা করে ফেলা।
•    একা একা থাকার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া।
•    নিজেকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

আত্মধবংসাত্মক আচরণ
•    মদ ও মাদকের চর্চা।
•    অসাবধান ও ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল।
•    অনর্থক ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা।

হঠাৎ করে নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া
•    প্রচণ্ড বিষণ্ণ থাকার পর যদি হঠাৎ করে দেখা যায়, যে কেউ শান্ত হয়ে গেছে ও খুশিখুশি দেখাচ্ছে। বুঝতে হবে, হয়তো ওই ব্যক্তি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধ টিপস্
কারও মধ্যে ওয়ার্নিং সাইন দেখলে খোলাখুলি কথা বলুন।

যেভাবে শুরু করবেন
•    আমি আসলে কিছুটা দেরি করে ফেলেছি তোমার দিকে মনোযোগ দিতে।
•    ইদানিং তোমার মধ্যে কিছুটা অন্যরকম ভাব দেখছি। কোনো চিন্তা থেকে এমন হচ্ছে?
•    তুমি আসলে তোমার মধ্যে আজকাল নেই, তাই আমি এই কথাগুলো জিজ্ঞাসা করছি।

যে প্রশ্ন করবেন
•    কখন থেকে এমন অনুভূতি শুরু হলো।
•    কী হয়েছে যে কারণে এমন অনুভূতি শুরু হলো।
•    এখন আমি তোমার জন্য কী করতে পারি?
•    তুমি কি কারও সাহায্য নেওয়ার কথা কিছু ভাবছো?

যা বললে উপকার হবে
•    তুমি একা নও, আমি তোমার সঙ্গে আছি।
•    তুমি হয়তো এখন বিশ্বাস করতে পারবে না, কিন্তু একসময় তোমার অনুভূতি পরিবর্তন হবে।
•    আমি হয়তো তোমার সব কষ্ট-অনুভূতি ঠিক বুঝতে পারছি না, কিন্তু আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই।
•    যখন তুমি আর পারবে না, আমাকে ডেকো আমি তোমাকে ধরে রাখবো।

যা করা যেতে পারে
•    বুঝতে দেওয়া আপনি তাকে গুরুত্ব দেন, তিনি একা নন।
•    তাকে কথা বলতে দিন। যত কথা বলবেন, তত তার অবদমিত অনুভূতিগুলো প্রকাশ পাবে।
•    তার প্রতি সহানুভূতিশীল হোন।
•    তাকে আশার বাণী শোনান।
•    তার মধ্যে সাহস সঞ্চার করুন।
•    খোলাখুলি প্রশ্ন করুন, তিনি কী আত্মহত্যার কথা ভাবছেন?

যা করবেন না
•    তর্ক করবেন না।
•    তাকে সঠিক-বেঠিক বোঝাবেন না।
•    তার আত্মহত্যা ভাবনা থেকে আপনি যে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন, সেটি বুঝতে দেবেন না।
•    আপনি কথাটি গোপন রাখবার প্রতিশ্রুতি দেবেন না। আবশ্যই এই চিন্তাটি তার কাছের মানুষদের জানান।

ফিরে আসি আবার সেই লেখাগুলোতে
সত্য যে ‘………জীবনে মাঝে মাঝে বৈঠা উঠিয়ে নিতে হয় আর সঠিক বাতাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আরও বুঝলাম যে, সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকলে বাঁচা যায় না, নির্ভয়ে বাঁচার নামই বাঁচা।’

আর তাইতো আত্মহত্যা কোনো কিছুর সমাধান হতে পারে না। জীবনে হতাশা থাকবে, কিন্তু একে জয় করতে হবে। কেননা, লাইফ ইজ বিউটিফুল। জয়তু জীবন।

32
আপনার সমস্যা
আমার বয়স ২০। আমি যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকি তখন দাঁতে অনেক শব্দ করি। উপরের দাতের সাথে নিচের দাতের ঘর্ষণের ফলে অনেক শব্দ হয়। রাতে দাঁতে যে শব্দ হয়, তা আমি জেগে করতে পারি না। দাঁতের উপর অনেক চাপ পড়ে, তাই আকৃতি খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

আমার জিজ্ঞাসা:
১. এ রকম শব্দ করা এবং কথা বলার কারণ কি?
২. এ থেকে মুক্তির উপায় কি?
৩. এমন কোনো উপায় আছে কি যাতে দাঁতের কাঠামো আগের মতো অথবা মনের মতো করা যাবে?
৪. কবিরাজি ওষুধ কি এতে কোনো কাজ দিতে পারে?

আমাদের সমাধান
চিঠি লেখার জন্য ধন্যবাদ। আপনার সমস্যা হলো ঘুমের মধ্যে দাঁতে দাঁত ঘষা। একে বলে স্লিপ ব্রুক্সিজম। আবার কেউ কেউ জেগে এবং অবচেতনভাবে দাঁতে দাঁত ঘষা বা ব্রুক্সিজমের শিকার হন। স্লিপ ব্রুক্সিজমের সঙ্গে সঙ্গে নাক ডাকা সাধারণত থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না লাগলেও দীর্ঘমেয়াদী হলে নানা সমস্যা তৈরি করে।

লক্ষণ:

•    দাঁতে দাঁত ঘষা বা চেপে রাখা।
•    এত জোরে দাঁতে দাঁত ঘষা যাতে পাশের মানুষ শুনতে পায়।
•    দাঁতের উপরের সারফেস সমতল হয়ে যাওয়া।
•    এনামেল ক্ষয়ে যাওয়া।
•    দাঁতের সেনসিটিভিটি বেড়ে যাওয়া।
•    চোয়াল বা মুখে ব্যথা হওয়া।
•    চোয়ালের মাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়া।
•    কানে ব্যথা বা মাথার তালুতে ব্যথা হওয়া।
•    জিহ্বায় দাগ পড়া।
•    গালের ভেতরে দাঁতের ছাপ পড়া।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

•    যদি দাঁত ক্ষয়ে যায়। নষ্ট হয়ে পড়ে বা সেনসিটিভ হয়ে যায়।
•    যদি গাল, চোয়ালে বা কানে ব্যথা হয়।
•    যদি আপনার দাঁত কিড়মিড় করার জন্য অন্যরা ঘুমাতে না পারে।
•    যদি চোয়াল আটকে যায়, বন্ধ করতে না পারে (Lock jaw)।

এর কিছু শারীরিক ও কিছু মানসিক কারণ আছে।

মানসিক কারণ:

•    দুশ্চিন্তা, স্ট্রেস, রাগ, হতাশা ইত্যাদি।
•    আক্রমণাত্মক, প্রতিযোগী মনোভাব সম্পন্ন বা হাইপার অ্যাকটিভ ব্যক্তিত্ব।
•    ঘুমের সমস্যা যেমন স্লিপ অ্যাপনিয়া।
•    কিছু কিছু মানসিক রোগের ওষুধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে।

শারীরিক কারণ:

•    উপর আর নিচের পাটির দাঁত ঠিক মতো যদি না বসে।
•    বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কানে ব্যথা বা নতুন দাঁত ওঠার প্রতিক্রিয়ার মতো।
•    বুক জ্বালা করা।
•    কিছু কিছু ডিজঅর্ডারের ফলে। যেমন: পার্কিনসন্স বা হান্টিংটন।

যা এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়:

•    স্ট্রেস।
•    বাচ্চাদের প্রায়শই হয় আস্তে আস্তে বয়ঃসন্ধিতে এটা কমে যায়।
•    ব্যক্তিত্বের ধরন যেমন: অস্থির, অধিক তৎপর, রাগী, হিংসাত্মক, প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।
•    ধূমপান, চা-কফি, মাদক।

যেসব সমস্যা হতে পারে:

•    দাঁত নষ্ট।
•    মাথা ব্যথা।
•    মুখে ব্যথা।
•    মুখ খুললে-বন্ধ করলে চোয়ালের জয়েন্টে (কানের সামনে) কট কট শব্দ হওয়া।

যা করতে পারেন:

প্রথমে ডেনটিস্টের কাছে যাবেন। পরে প্রয়োজন হলে স্লিপ (ঘুম) বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন।

কি কি লক্ষণে ভুগছেন তালিকা করুন। অতীতে এমন কিছু হয়েছিল কিনা মনে করুন। কোনো স্ট্রেসে ভুগছেন কিনা বা জীবনে কোনো বড় পরির্বতন এসেছে কিনা। কি কি ওষুধ খাচ্ছেন তা বিস্তারিত লিখুন।

আপনি কি জানেন রোগ সর্ম্পকে জানা আপনার অধিকার। তাই ডাক্তারের কাছে থেকে জেনে নিন। কেন ব্রুক্সিজম হচ্ছে, কি কারণ হতে পারে ইত্যাদি।

যদি মানসিক কারণে হয় তবে স্ট্রেসের জন্য কাউন্সিলারের কাছে পাঠাতে পারেন।

চিকিৎসা:

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না। এটা বড় ও বাচ্চা উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। এ চিকিৎসা পদ্ধতি ৩ ভাগে বিভক্ত।

১. দাঁতের ডাক্তার:

•    প্রয়োজনে স্প্রিন্ট ও মাউথ গার্ড ব্যাবহার করুন।
•    ক্ষেত্র বিশেষে আকাঁ-বাঁকা দাঁত ব্রেস বা সার্জারি করে ঠিক করা যায়।

২. থেরাপি:

•    স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের জন্য কাউন্সিলিং।
•    বিহেভিয়ার থেরাপি। কিভাবে স্বাস্থ্যকর উপায়ে উপরের পাটি ও নিচের পাটির দাঁত চেপে রাখা যায় দাঁতের ডাক্তারের কাছ থেকে সে পরামর্শ নেওয়া।

৩. ওষুধ:

ওষুধ এ ক্ষেত্রে খুব একটা ভালো কাজ করে না। তবে পেশীতে ব্যথা হলে ব্যথা নিরাময়ের ওষুধ বা খুব শক্ত হয়ে গেলে ইনজেকশন দেওয়া হয়।


source: banglanews24.com

33
মনোকথা আপনাদের ‍পাতা। আপনার মনস্তাত্ত্বিক নানা সমস্যা সমাধানে আমরা রয়েছি আপনার পাশে। সমস্যা জানিয়ে জেনে নিন সম্ভাব্য সমাধান। মনোকথার এক পাঠক জানিয়েছেন তার সমস্যার কথা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সমাধান জানানো হলো।

আপনার সমস্যা
Ami 7/8 bochor jabot manosik pblm e vugchi. amr kache mne hy amr brain abnormal vabe kaj korche. sijofreniya, depression, obsession er onk gulo lokkhn ache amr moddhe. amr chinta,abeg, onuvuti gulo pagol der moto. amr ei osavabikota majhe kichutei savabik chinta, onuvuti pacchi na. Sob kichu amr kase osavabik lage. nijer ostito bodh e nai amr moddhe. pagol r amr moddhe tofat hocche pagol ra bujhte pare na tara ki korche kinto ami amr osavabik, bisringkhol chinta, abeg onuvuti bujhte parchi kinto niyontron korte parchi na. amr mne hy amr brain abnormal vabe kaj korche. savabik vabe kaj korte parche na. amr chinta gulo prokashito hole manush amk pagol mne korbe. amr lokkhn gulo prokashito hocche kinto ami nije bujhte parchi, khub jontrona pacchi. ami r parchi na. amr majhe majhe suicide korte iccha kore. plzzzz help me. amr age 22.
 
amr osavabik, bisringkkhol chinta, abeg, onuvuti gulo amr prokash pacche na. kicchi prokash pay. jemon amr priyo ekjon mara jawar por amr kanna ase ni. onk vul jinish k thik mne hy, abar thik jinish k vul mne. Right shiddhanto nite pari na. amk help koren plzz.

আমাদের সমাধ্যান
চিঠি লেখার জন্য ধন্যবাদ। আপনি লিখেছেন, আপনার মনে হয় আপনার মস্তিষ্ক অস্বাভাবিকভাবে কাজ করে। এই জায়গাটা একটু খোলাসা করে বললে ভালো হয়। কিসের ভিত্তিতে এমন কথা বলছেন? এর আগে কি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন? মস্তিষ্কের EEG/MRI বা এমন কোনো পরীক্ষা কি করানো হয়েছে?

যদি এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক আপনার রোগ নির্ণয় না করে থাকেন- তবে নিজের চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতিগুলোকে পাগলের মতো বলে আপনি নিজেই নিজের উপর অবিচার করছেন।

শুধুমাত্র কতগুলো রোগের (সিজোফ্রেনিয়া, ডিপ্রেশন, অবসেশন) লক্ষণ পড়ে নিজেকে অস্বাভাবিক দাবি করাটা কতটুকু যৌক্তিক? যেখানে এই রোগগুলো সর্ম্পকে আপনার ন্যূনতম পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কোনোটাই নেই!

এই প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়লো। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় সাইকিয়াট্রিক ওয়ার্ডে প্লেসমেন্ট থাকার সময় অনেক রোগের সঙ্গেই আমরা নিজেদের মিল খুঁজে পেতাম।

একটা উদাহরণ দেই: আমরা প্রত্যেকেই কখনও না কখনও বিষন্নতায় ভুগি। তার মানে কি আমরা সবাই বিষন্নতার রোগী? আপনার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, আপনি নিজেকে রোগী ভাবতে ভালবাসেন। রোগ পুষে রাখেন নিজের মধ্যে। আপনার মনের একটা অংশ বলে “Don’t Be Well”। প্রথমেই আপনি নিজেই নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলেন সুস্থ আর অসুস্থর বেড়াজালে।

নিজেকে অসুস্থ-অস্বাভাবিক ভাবাটা আপনার নেতিবাচক মানসিকতার “Comfort zone”, এভাবেই আপনি তৃপ্ত। একবার এই বৃত্ত ভেঙ্গে বেরিয়ে আসুন। নিজেই নিজেকে বলুন, “হ্যাঁ, আমার খারাপ লাগা আছে। কিন্তু কোন কারণে এই খারাপ লাগা?” কারণগুলো চিহ্নিত করুন।

যেমন:  কারণ = আমার খারাপ লাগছে >কেন? >মা বকা দিয়েছেন >কেন মা বকা দিয়েছেন? >কারণ আমি দেরি করে ঘুম থেকে উঠি >দেরি করে উঠলে কি হয়? >আমার ক্লাস মিস হয় >ফলে কার ক্ষতি হয়? >আমার >আমার ক্ষতি হলে কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে? >প্রত্যক্ষভাবে আমি >তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে মা কেন বকে? >কারণ মা আমার ক্ষতি দেখতে চান না >কেন মা আমার ক্ষতি দেখতে চান না? >কারণ মা আমাকে ভালবাসেন।

এভাবে প্রতিটি খারাপ লাগার পেছনের কারণটি ধারাবাহিকভাবে খুঁজে দেখুন, যতক্ষণ পর্যন্ত না কোনো ইতিবাচক উত্তর পাচ্ছেন। মনে রাখবেন, নেতিবাচক ঘটনার মধ্যেও থাকে ইতিবাচকের ছোঁয়া। বের করে আনাটাই আপনার দক্ষতা। প্রতিটি মেঘলা দিনের পরে রয়েছে আলোক ঝলমলে দিন। আজ এখন থেকে নিজের দোষ খোঁজা বন্ধ করুন।

হ্যাঁ, আবার বলছি নিজেই বিচারকের আসনে বসে নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো বন্ধ করুন।

ভাবুন, “হ্যাঁ! আমি এমন করতাম আগে, কিন্তু এখন বিকল্প কি কি করতে পারি অপশন খুঁজি।” আপনি যদি নিজেই নিজের কাছে গ্রহণযোগ্য না হন, তবে কেউ আপনাকে গ্রহণ করবে না।

আরেকটা কথা, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন। রাগ হলে বলুন, হ্যাঁ আমি রাগ করেছি। সোজা কথা- সহজ ভাষায় সঠিক অনুভূতি প্রকাশ করুন। দেখবেন, মানসিকভাবে অনেক আরাম পাচ্ছেন। নিজে নিজে বলুন, আমার ভাবনাগুলো আমার। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নিজের বা অন্য কারও ক্ষতি করছি না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার এসব ভাবনাতে কোনো দোষ নেই।

সুইসাইড নিজের ক্ষতি করে। তাহলে এটা নেতিবাচক ভাবনা। আপনি আগামী একমাস নিজের সর্ম্পকে যাবতীয় নেতিবাচক ভাবনা যদি বাদ দেন, দেখবেন আপনি বদলে গেছেন।

এটা কিভাবে সম্ভব?
শুধু নিজেকে বলুন আগামী এক ঘণ্টা, আমি নিজের সর্ম্পকে নেতিবাচক কোনো চিন্তা করবো না। এই এক ঘণ্টা দৃঢ়ভাবে মেনে চলুন। এরপর পরের এক ঘণ্টার চুক্তি করুন নিজের সঙ্গে।

34
মনোকথা আপনাদের ‍পাতা। আপনার মনস্তাত্ত্বিক নানা সমস্যা সমাধানে আমরা রয়েছি আপনার পাশে। সমস্যা জানিয়ে জেনে নিন সম্ভাব্য সমাধান। মনোকথার এক পাঠক জানিয়েছেন তার সমস্যার কথা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সমাধান জানানো হলো।

আপনার সমস্যা
আমার বয়স ২০। আমি যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকি তখন ঘুমের মধ্যে অনেক কথা বলি, যা আমার কিছু মনে থাকে না। এমনকি রাতে কোনো স্বপ্ন দেখলে তা আমার মোটেও মনে থাকে না।

আমাদের সমাধান
ঘুমের মধ্যে কথা বলা এক ধরনের প্যারাসমনিয়া। এসব ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে কথা বলেন। পুরুষ ও বাচ্চাদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এটা মেডিকেল সমস্যার মধ্যে পড়ে না। প্যারাসমনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে বিড় বিড় বা চিৎকার করে নিজেদের ও অন্যের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তা সাধারণত ৩০ সেকেন্ডের বেশি নয়। কিন্তু একই ঘুমে বারবার এমন হতে পারে।

তিন থেকে ১০ বছর বয়সী অর্ধেকের বেশি বাচ্চা এবং স্বল্প সংখ্যক বড়রাও ঘুমের মধ্যে কথা বলে থাকেন। কখনও কখনও বংশ পরস্পরায় এ অভ্যাস থাকতে পারে।

লক্ষণ:
আপনার নিজের পক্ষে বোঝা কঠিন আপনি ঘুমের মধ্যে কথা বলেন কিনা। যারা আপনার সাথে ঘুমায় তারাই বলতে পারে।

ঘুমের মধ্যে কয়েকটি পর্যায় আছে। এর যেকোনো পর্যয়ে মানুষ কথা বলতে পারে। সাধারণত এটা ক্ষতিকর না, তবে কখনও কখনও স্লিপ ডিজঅর্ডার বা স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বহন করে।

রেম স্লিপ বিহেভিয়ার ডিজঅর্ডার (জইউ) আর নাইট টেরর (রাতে ঘুমের মধ্যে ভয় পাওয়া) এই দুই অবস্থায় সাধারণত মানুষ ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে। নাইট টেররের আরেকটা প্রচলিত নাম স্লিপ টেরর। এখানে আক্রান্ত ব্যক্তি ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখে হাত-পা ছোড়ে, চিৎকার করে ঘুমের মধ্যে। এই সময় তাকে সহজে ঘুম থেকে ডেকে তোলা যায় না।

বাচ্চারা সাধারণত এতে আক্রান্ত হলে ঘুমের মধ্যে হাঁটে। আক্রান্ত ব্যক্তি ভয়ে চিৎকার করে মাঝে মাঝে ভয়ঙ্কর আচরণ করে। কারও কারও ঘুমের মধ্যে কথা বলার পাশাপাশি ঘুমের মধ্যে হেঁটে চলে বেড়ানো এবং খাওয়ার অভ্যাস থাকে। সকালে দেখবেন ফ্রিজ খালি, কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তি বলতে পারবে না।

কিছু কিছু বিশেষ কারণে ও মানুষ ঘুমের মধ্যে কথা বলে। যেমন:

•    কিছু ওষুধের প্রভাব।
•    মানসিক স্ট্রেস, বিষণ্নতা।
•    জ্বর।
•    মানসিক সমস্যা।
•    মাদক গ্রহণের পর।
•    স্লিপ অ্যাপনিয়া।

যা করবেন:
চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগে করুন। যদি ঘুমের মধ্যে ভয় পান বা চিৎকার করেন তবে পরর্বতী ধাপ কি হবে তিনি বলে দেবেন। প্রয়োজনে স্লিপ স্পেশালিস্টের সাহায্য নিতে পারেন। আশার কথা হলো সাধারণত ঘুমের মধ্যে কথা বলার চিকিৎসা দরকার হয় না।

ঘুমের মধ্যে প্রচুর কথা বলি কিভাবে এটা কমাবো?
প্রথমে স্ট্রেস কমান। পর্যাপ্ত ঘুমান। একটা ডায়েরি রাখুন। তাতে লিখুন কখন শুতে গেলেন, কখন উঠলেন। সেই সঙ্গে দিনে কত কাপ চা-কফি খান, সিগারেট খান, কতটুকু ব্যায়াম করেন, কি ওষুধ খান।

source: banglanews24.com

35
‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ কথাটা আমরা সবাই জানি। সেটা আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্যও যে কতোটা জরুরি তা জানা গেল নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। সর্ব সাম্প্রতিক এ গবেষণা জরিপে বলা হচ্ছে, যেসব মানুষ বেশি পরিমাণে মাছ খান তারা তুলনামূলকভাবে কম বিষণ্নতায় ভোগেন। Journal of Epidemiology & Community Health-এ প্রকাশিত ২৬টি গবেষণা জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে একথা। 

জরিপে বলা হয়, যেসব নারী-পুরুষ মাছ একেবারেই খান না বা খুমই কম খান তাদের তুলনায় যারা নিয়মিত মাছ খান তাদের বিষণ্নতায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কম। অর্থাৎ মাছ-খাওয়া পুরুষদের বেলায় ঝুঁকিটা ২০ শতাংশ কম, আর নারীদের বেলায় ঝুঁকিটা ১৬ শতাংশ কম।

এসব গবেষণা জরিপ চালানো হয়েছিল পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ১ লাখ ৫০ হাজার নারী-পুরুষের মধ্যে। এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলকে বেছে নেওয়া হয়েছিল জরিপের জন্য। তবে কী পরিমাণ মাছ জনপ্রতি খাওয়া উচিত সে সিদ্ধান্তে আসার জন্য আরও গবেষণা দরকার বলে জানিয়েছেন গবেষকদের একজন: “...further studies are required to define how much fish people should eat to reap the benefits.’’

মাছে কী আছে তাহলে, যার জন্যে এতো স্বাস্থ্য-সুফল? গবেষকরা বলছেন, মাছে আছে ওমেগা-থ্রি নামের এক ফ্যাটি এসিড। ওই এসিড মানুষের দেহের ক্ষতিকর ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মাত্রা কমায়। আর প্রকারান্তরে তা বিষণ্নতা দূর করার কাজ করে।   
.
এদিকে মাছের দেশ নরওয়েতে ২২ হাজার নারী-পুরুষের মধ্যে পরিচালিত একটি জরিপে বলা হয়েছে, যারা মাছ খান না তাদের তুলনায় মাছপ্রেমীদের বিষণ্নতায় আক্রান্ত হবার আলামত প্রায় ৩০ শতাংশ কম। সাধারণত খাদ্যে তেল দেহে ক্ষতিকর কোলেস্টেরেল বাড়ালেও মাছের তেলের কোলেস্টেরল দেহের জন্য বরং উপকারী। তাহলে পাঠক, আপনি নিজেই ঠিক করুন, মাছ বেশি খাবেন নাকি একে অবহেলা করবেন? আপনার মেন্যুতে মাংসের বদলে রাখুন মাছ আর থাকুন হাসিখুশি। দূর হোক বিষণ্নতা!

36
আধুনিক বিশ্বে সহজে ইন্টারনেট সংযোগ পেতে সবখানে ব্যবহৃত হচ্ছে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক। তার ব্যবহার না করেই একসঙ্গে অনেক ডিভাইস ব্যবহারের অভিনব উপায় ওয়াইফাই।

ব্যবহারে সুবিধা থাকলেও ওয়াইফাইতে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াইফাই একটি নীরব ঘাতক, যা ধীরে ধীরে মানুষের শরীরের ক্ষতি করে।

ওয়াইফাইতে অনলাইন সংযোগ পেতে তারবিহীন ডিভাইস যেমন- ট্যাবলেট, ল্যাপটপ ও মোবাইলফোনে রাউটার ব্যবহার করা হয়। রাউটার ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক নামক তরঙ্গ প্রবাহিত করে যা WLAN সংকেত বলে আমরা জানি। এই সংকেতটিই মূল ক্ষতির কারণ।

ব্রিটিশ হেলথ এজেন্সির একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, রাউটার গাছের বৃদ্ধি ও মান‍ুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ওয়াইফাই কাভারেজের ফলে যেসব সমস্যা দেখা দেয়-
•    তীব্র মাথাব্যথা
•    দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
•    ঘুমের সমস্যা
•    কানে ব্যথা
•    মনোযোগের অভাব
এসব লক্ষণ কমবেশি সবারই দেখা দেয়। কিন্তু ওয়াইফাই যে শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে তা খুব মানুষই জানেন। কিন্তু একথাও ঠিক, ওয়াইফাই ছাড়া এখনকার সময় কোনো কাজ করা কঠিন। সেক্ষেত্রে একটি উপায় রয়েছে, তা হলো ওয়াইফাইয়ের ক্ষতিক্ষর প্রভাবগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করা।

নিরাপদে রাউটার ব্যবহারের জন্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা ভালো-
•    ওয়াইফাই ব্যবহারের পর তা বন্ধ করে দিন।
•    রাতে ঘুমানোর আগে নিশ্চিত করুন আপনার ওয়াইফাই সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
•    রাউটার শোবার ঘর ও রান্নাঘরের কাছে রাখবেন না।


source: banglanews24.com

37
আরামের জীবন বলতে কী বোঝেন? পায়ের উপর পা তুলে জীবন পার করা? তাই যদি হয়, তবে ভয়ানক মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন আপনি! চমকে গেলেন?

পৃথিবীতে এক গোপন ঘাতক এসেছে। এর নাম সিটিং ডিজিজ (Sitting Disease)। এটি নিরবে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘মানুষের দেহের বিবর্তন হয়েছে হাঁটার কারণে।’ দীর্ঘ সময় বসে থাকা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার (বিশেষত স্তন ও কোলন: যাতে বিশিষ্ট লেখক হুমায়ুন আহমেদ মারা গিয়েছিলেন) স্থুলতা, রক্তে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল, কোমড়ে ব্যথা, ডিমেনশিয়া, বিষণ্নতা ও অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।

আপনি কী সিটিং ডিজিজে ভুগছেন?

একটু খেয়াল করে বলুন তো, প্রতিদিন আপনি কত ঘণ্টা বসে থাকেন? অফিসের কাজে, পড়ার টেবিলে, বাসে বা গাড়িতে, খাবার টেবিলে, টিভির সামনে, ফেসবুক বা কম্পিউটারের সামনে? যোগ করুন।

এক গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে আমেরিকানদের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে। যদি সারাদিন গড়ে ৩ ঘণ্টা বা এর কম সময় বসে থাকেন, তবে গড়ে তাদের আয়ু ২ বছর বেড়ে যাবে। আর এর মধ্যে টিভি দেখার সময়টা যদি ২ ঘণ্টার থেকে কমিয়ে আনে তবে ১ দশমিক ৪ বছর বাড়তি জীবন বোনাস পাবে।

আপনি সারাদিনে মোট কত ঘণ্টা বসে থাকেন?

নড়াচড়া করুন: আগে ধারণা করা হতো যে ছেলেটা টানা বহু সময় জড়ভারত হয়ে বই নিয়ে বসে থাকে, সে লক্ষ্মী ছেলে। অফিসে যে কর্মী নিচে নেমে চা খায় না, টেবিলে যাকে সব সময় পাওয়া যায়, সে নিবেদিত প্রাণ। এখন এই ধারণা বদলাবার সময় এসেছে।

ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি ইনসুলিনের উপর কাজ করে ডায়াবেটিস প্রবণতা কমায়, চিনি ও চর্বির বিপাকে কাজ করে দেহের ইনফ্লামেশন কমায়, একইসঙ্গে কিছু কিছু হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও কমায়। সুতরাং যত নড়াচড়া করবেন, দেহঘড়ি ততো স্বাস্থ্যকর ও সহজ হবে।

কাজেই প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় নড়াচড়া করুন। থ্যাবড়া মেরে ‘গুড’ বয় হয়ে বসে থাকবেন না।

নিয়মিত ব্যায়াম সিটিং ডিজিজের সমাধান নয়: আশ্চর্য হলেও সত্যি, উইসকনসিন ডিসকভার-তে এই কথা উঠে এসেছে। যারা প্রতিদিন নিয়ম মেনে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করেন তারাও রেহাই পাবেন না সিটিং ডিজিজের প্রাণঘাতী থাবা থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং যিনি মোটেই ব্যায়াম করেন না, উভয় ব্যক্তিই সিটিং ডিজিজে আক্রান্ত হতে পারেন।

কতক্ষণ সর্বোচ্চ বসে থাকবো: গড়ে প্রতি আধা ঘণ্টায় (বসার পরে) এক থেকে তিন মিনিট উঠে দাঁড়ান বা হাঁটুন। আপনার চেয়ারকে ট্রেডমিল বা হাটার যন্ত্র দিয়ে রিপ্লেস করার প্রয়োজন নেই।

সিটিং ডিজিজ থেকে মুক্তির উপায়:

•    অভ্যাস করুন (যদি চিকিৎসকের নিষেধ না থাকে)
দ্রুত হাঁটুন: ক্যালরি দ্রুত পুড়বে, পায়ের পেশী শক্তিশালী হবে-যা আপনার ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী। আমরা সবাই ‍জানি, দ্রুত হাঁটা জীবনী শক্তি বাড়ায়।

সিঁড়ি ভাঙুন: আপনি হয়তো হাজার বার এ কথা শুনেছেন। কিন্তু এটা কি জানেন, শুধু মাত্র ২ তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করলে বছরে এমনি এমনিই আপনার ৬ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন হাওয়া হয়ে যাবে?

আরও মজার কথা হলো, দিনে ২ মিনিট করে সপ্তাহে ৫ দিন সিঁড়ি বেয়ে ওঠা হলো ৩৬ মিনিট হাঁটার সমান। নিজেকে একটা সহজ টার্গেট দিন।

ধরুন-প্রথম সাতদিনে ১ তলা সিড়ি বেয়ে উঠে লিফট নেবেন। তারপরের সপ্তাহে ২ তলা উঠে লিফট নিন। এর ৭ দিন পরে ৩ তলা উঠে লিফট নিন।

এভাবে প্রতিদিন ৬ তলা পর্যন্ত সিঁড়ি ভাঙার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করুন। (সিঁড়ির ধাপ প্রতি তলায় ১০টি যেখানে, ৩ তলা = ৬০ ধাপ) ধাপ কম-বেশি নিজে নিজে অ্যাডজাস্ট করে নিন। উপরে উঠতে যে পরিমাণ শক্তি লাগে, নিচে নামতে তার আর্ধেক শক্তি ক্ষয় হয়।

বিভিন্ন সময় হাঁটুন: দুপুরে খাবার পর ১৫ মিনিট হাঁটুন। কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে যদি লাঞ্চ ব্রেক ৩০ মিনিট হয়, তবে ১৫ মিনিটে খেয়ে ১৫ মিনিট হাঁটুন। এই ১৫ মিনিটের হাঁটা আপনাকে পরবর্তী ২ ঘণ্টা চাঙ্গা রাখবে।

প্রতিদিন ১০ হাজার ধাপ হাঁটুন। পেডোমিটার নামে যন্ত্র আপনি কত ধাপ হাঁটছেন তা মেপে দেবে। মোবাইলেও অ্যাপ পাওয়া যায়।

তবে এই ধাপগুলো একবারে হাঁটলে হবে না। প্রতি আধা ঘণ্টা অন্তর অন্তর ১ থেকে ৩ মিনিট হাঁটুন।

নাচুন: মোবাইলে প্রতি ৩০ মিনিট পর অ্যালার্ম দিন। উঠে দাঁড়ান, নাচের অঙ্গভঙ্গী করুন। দেহ ও মন দুটোই ভালো থাকবে।

দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলুন:  ফোন এলে দাঁড়িয়ে যান।

স্ট্রেচিং করুন: দিনে ৫ থেকে ৬ বার স্ট্রেচিং ব্যায়াম করলে এক মাসের মধ্যেই পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন। দেহে সব সময় ফুরফুরে ভাব থাকবে।

কাফ মাসেল: দাঁড়িয়ে কাজ করার সময় এক পায়ে ভর দিয়ে অন্য পা সামান্য উচু করুন, ২ সেকেন্ড থাকুন। এবার অন্য পা তুলুন। এভাবে প্রতিদিন ২০, ৪০ বা ৬০ বার করুন।

ঘর সাজান: ফার্নিচার এমনভাবে সাজান যেন বসার জায়গা কমে যায় এবং হাঁটা এবং দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয়। যেমন: খাবার পানিটা দূরে রাখুন, জানালার পাশে।

•    অফিসের আচরণ পরিবরতন  করুন:
কলিং বেলকে না: ফাইল পাঠাতে পিয়নের সাহায্য না নিয়ে নিজেই যান। এতে আন্তরিকতা যেমন বাড়বে, হাঁটাও হয়ে যাবে। আবার নিজের চা, পানি, নিজেই নিয়ে নিলে আপনার সম্মান মোটেও কমবে না।

দাঁড়িয়ে আড্ডা দিন: আড্ডার সময় দাঁড়িয়ে থাকুন। যতটা সম্ভব দাঁড়িয়ে থাকুন।

হেঁটে হেঁটে মিটিং: কিছু কিছু মিটিং যা না বসেও করা যায়, সেগুলো হেঁটে হেঁটে করুন। এ ক্ষেত্রে মোবাইলের ভয়েস রেকর্ডারে নোট নিন।

গাড়ির ব্যবহার কমান: প্রথম সপ্তাহে ২০ ধাপ, এরপর ৩০ ধাপ, এভাবে ক্রমান্বয়ে গন্তব্যের অর্ধেকটা যেতে পারেন কিনা দেখুন।

পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করুন: এক স্টপেজে নেমে পড়ুন এবং হাঁটুন। প্রয়োজনে আবার বাসে উঠুন।

•    বাসায় যা করবেন:
বাগান করুন: ছাদে, বারান্দায়, বেসিনের উপর ছোট ছোট টবে গাছ লাগান। প্রতিদিন পানি দিন। মাটি খুঁচিয়ে দিন। কিছু কিছু গাছ আছে যেগুলো ছায়ায় রাখা যায়। সেগুলো ঘরে রাখুন। এতে ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ হবে। সেই সঙ্গে আপনার নড়াচড়াও হয়ে যাবে।

সঙ্গীকে সাহায্য করুন: স্ত্রীকে চা, পানি এগিয়ে দিলে এই সামান্য নড়াচড়া কেবল আপনার স্বাস্থ্যই ভালো রাখবে না, দাম্পত্য জীবনও সুন্দর হবে। যারা সংসার জীবন শুরু করেননি তারা পরিবারের অন্য সদস্যদের যত্ন নিন। সম্পর্কের মাধুর্যতা বাড়বে। একইসঙ্গে রান্না ঘরে দাঁড়িয়ে কাজ করুন।

টিভির সামনে বসবেন না: বাসায় ফিরে টিভি বা খবরের কাগজ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করবেন না। নাচের অনুষ্ঠান হচ্ছে এমন একটা চ্যানেল ধরে নিজেও একটু নেচে নিন এবং দাঁড়িয়ে টিভি দেখুন।

বাচ্চাদের সঙ্গে নিন, দেখবেন নির্মল স্বাস্থ্যকর বিনোদনের স্পর্শ পাবেন।

প্রাইভেট টিউটরকে সচেতন করুন: আপনার বাচ্চাদের যিনি পড়ান তাকে বলুন, প্রতি ৩০ মিনিট পর বাচ্চাদের ৫ মিনিটের ব্রেক দিতে। এতে বাচ্চাদের নড়াচড়া যেমন হবে, মনোযোগও তেমন রিচার্জ হবে।

ছোট ছোট মেরামতের কাজ: বাসায় বাল্ব লাগানো, এসি পরিষ্কার করা ইত্যাদি মেরামত কাজ নিজেই করুন, বাচ্চাদেরও শেখান।

ঘর পরিষ্কার করুন: নিয়ম করে ধূলো ঝাড়ার কাজ করুন। স্বাস্থ্যকর পরিবেশের পাশাপাশি আপনার নড়াচড়াও হবে যাবে।

বড় জগে পানি রাখুন: বড় জগ ভরে পানি রাখুন। এতে গ্লাসে পানি ঢালার সময় ক্যালরি খরচ হবে।

রান্না ঘরে গ্যাজেট কমান: মেশিনে সালাদ না বানিয়ে বা রোটি মেকারে রুটি না বানিয়ে হাতে বানান। সাধারণত মহিলাদের বলা হয় কৈ মাছের প্রাণ। সহজে মরে না।

তার কারণ, বাড়ির কর্তারা অফিসের কাজ শেষে বাসায় ফিরে বাবু হয়ে বসে বিশ্রাম করতে পারেন। কিন্তু গিন্নিমা মরার আগে বিশ্রাম পান না। এখন দেখা যাচ্ছে, এই বিশ্রাম না পাওয়াটাই সাপে বর হয়েছে।

ফার্নিচার পরিবর্তন: অনেক অফিসে বা বাসায় পুরাতন চেয়ারগুলো বাদ দিচ্ছে। যেমন ওয়েলনেস বল। ওয়েলনেস বল চেয়ারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করুন।

আজকাল প্রায়ই শোনা যায় মানুষটির বয়স মাত্র চল্লিশ। হয়তো কোনো অসুখই ছিল না। নিয়মিত ব্যায়াম করতেন, সংসারের কোনো চাপ ছিল না, লিফট আর গাড়ি ছাড়া চলতেন না, ভারী কাজ করেতেন না, দেশে বিদেশে ঘুরে বেড়াতেন। কিন্তু হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।

আমরা এখন নিশ্চয়ই বুঝে গেছি এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ীকে?


38
মেধাবী ব্যক্তি দেখলে অনেকেই মনে করেন, তাদের মাথার খুলির আকার বড় হওয়ায় বুদ্ধি বেশি। অনেকের এমন ধারণার প্রেক্ষিতে এবার গবেষকরা উত্তর দিয়েছেন, চকচক করলেই যেমন সোনা হয় না, একইভাবে খুলির আকার বড় হলেই হয় না বেশি বুদ্ধি।

সম্প্রতি একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান বিশেষজ্ঞরা। অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ড ও ‍জার্মানির বিজ্ঞানীরা মোট ৮৮টি প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ দাবি জানান।

এর আগে, আট হাজার জনের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা যায়, মাথার খুলির আকারের সঙ্গে মেধার কোনো সম্পর্ক নেই।

দ্য ইউনিভার্সিটি অব ভিয়েনার ইনস্টিটিউট অব অ্যাপলাইড সাইকোলজির গবেষক ও এ গবেষণার নেতৃত্বদানকারী জ্যাকব পিশিং তার বক্তব্যে বলেন, ১শ ৪৮টি স্বাস্থ্যবান বিভিন্ন লিঙ্গের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মাথার খুলির আকারের সঙ্গে মেধার সামান্য যোগ থাকলেও, মূলত মস্তিষ্কের কাঠামোর উপর নির্ভর করে একজন ব্যক্তি কেমন মেধাসম্পন্ন হবেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, গঠনের উপর নির্ভর করে চিন্তা শক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। পাশাপাশি আপনি কত দ্রুত চিন্তা করে কোনো বিষয়ের সমাধান বের করবেন তা নির্ধারণ করে।

অধিকাংশ মানুষ কেন মনে করেন, মাথার খুলির আকৃতি বড় হলে বুদ্ধি বেশি হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে গবেষকরা আরও বলেন, মস্তিষ্কের আকার বড় হওয়ার সঙ্গে মেধার সম্পর্ক রয়েছে এমন একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মানুষের ভিতর এ ধারণা আসতে পারে। যদিও সেটি অসমাপ্ত একটি গবেষণা ছিলো।

এ গবেষণার বিরোধিতা করে তারা বলেন, নারীর মাথার খুলির চেয়ে পুরুষের মাথার খুলি তুলনামূলক বড় এবং মস্তিষ্কের আকারও বড় হয়। কিন্তু আইকিউ পরীক্ষায় নারী ও পুরুষের মেধায় বিশেষ পার্থক্য পাওয়া যায় না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীদের মেধা পুরুষদেরও ছাড়িয়ে যায়।


source: banglanews24.com

39
প্রযুক্তিনির্ভর এ যুগে তথ্য প্রবাহের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার প্রশ্নে সবারই উদ্বেগ থাকে। এ নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্বস্ততায় সবচেয়ে এগিয়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্য তো বটেই, ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদানে প্রশাসনের চেয়েও ব্যবহারকারীরা বেশি নিরাপদ ভাবেন অ্যাপলের যে কোনো প্রযুক্তিপণ্য বা মাধ্যমকে।

এ তথ্য দিচ্ছে সম্প্রতি পরিচালিত একটি জরিপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের ওপর পরিচালিত জরিপটি বলছে, ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদানে আমরা অ্যাপলের পণ্য বা মাধ্যমকে যতটা পছন্দ করি; তার চেয়ে অনেক কম বিশ্বাস করি অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠান বা মাধ্যমকে। আর অবিশ্বাসের দিক থেকে সবচেয়ে ‘এগিয়ে’ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।

যদিও ফেসবুকের মেসেজিং অ্যাপ (হোয়াটস অ্যাপ) প্রযুক্তিপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বলে জানিয়েছে জরিপটি।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সাড়ে তিন হাজারের বেশি নারী-পুরুষের (দুই হাজার ৯১৩ জন পুরুষ, ৪৪৬ জন নারী) ওপর এ জরিপ চালায় ‘টেকরাডার’ নামে একটি প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪০ শতাংশ প্রযুক্তিপ্রেমী জানান, ব্যক্তিগত তথ্য দিতে তারা কোনো ব্র্যান্ডকে বিশ্বাস করেন না, এমনকি তাদের সরকারকেও না। যদি তথ্য আদান-প্রদান করতেই হয়, তবে সেক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ অ্যাপল। এরপর রয়েছে গুগল ও মাইক্রোসফট।

বিশ্বস্থতার এ জরিপের উল্টো অনাস্থা সংক্রান্ত আরেক জরিপের ফলাফল বলছে, প্রযুক্তির মাধ্যমের মধ্যে সবচেয়ে কম বিশ্বস্ত হচ্ছে ফেসবুক। জরিপে অংশ নেওয়া ৩২ শতাংশ প্রযুক্তিপ্রেমীই এ মত দেন।

ফলাফলে দেখা যায়, অন্য দেশের নাগরিকদের তুলনায় কানাডার নাগরিকরা তাদের সরকারকে তথ্য প্রদানে বেশি পছন্দ করেন।
 
তবে ফেসবুকের ওপর আস্থা কম থাকলেও জরিপে অংশগ্রহণকারী অনেকেই বলেন, হোয়াটস অ্যাপ ছাড়া বেঁচে থাকা ‘অসম্ভব’।

এক্ষেত্রে মেসেজিং অ্যাপ ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি ‘আসক্ত’। আর পুরুষদের আসক্তির জায়গা গুগল ম্যাপ, ইউটিউব, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত অ্যাপে।
 
এ বিষয়ে টেকরাডারের এডিটর-ইন চিফ প্যাট্রিক গস বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানে মানুষ তার সরকারকে বিশ্বাস করেন না, এ বিষয়টি নিয়ে আমি বিস্মিত তা বলতে চাই না; তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের বিশ্বস্ততার বিষয়টি আশ্চর্যজনক।

40
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিনকে দিন বিজ্ঞানীদের ভাবিত-উদ্বিগ্ন করে তুলছে। যান্ত্রিক এই বুদ্ধিমত্তা বেড়েই চলেছে। এটা যতো বাড়বে ততোই তা মানবজাতির জন্য ভয়ের কারণ হয়ে উঠবে। আপাতত যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা, রোবট ইত্যাদি মানুষের জীবনকে আরো বর্ণাঢ্য, ঝুঁকিমুক্ত ও আরামপ্রদ করে তুলেছে ঠিক। কিন্তু এমন একটা দিন আসবে যখন মানুষের আইকিউকে ছাড়িয়ে যাবে বা টেক্কা দেবে যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা। অর্থাৎ বুদ্ধিমান যন্ত্র মানুষের কমান্ড না মেনে নিজের বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বসবে।

তখনই দেখা দেবে সমস্যা। যন্ত্রে-মানুষে শুরু হবে লড়াই। কুইনিন জ্বর সারাবে, কিন্তু কুইনিন সারাবে কে---এই প্রশ্নটাই তাই সামনেচলে আসছে। এ-সময়কার সবচেয়ে আলোচিত জ্যোতি-পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং তো বলেই দিয়েছেন, একদিন যন্ত্র বা কৃত্রিম যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা মানুষের জন্য কাল হয়ে উঠবে। এমনকি দূর ভবিষ্যতে এরা মানবজাতির ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবার নতুন এক মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছে। চার বছরের একটা মানবশিশুর আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্কের সমান বুদ্ধিমত্তা পেয়ে গেছে যন্ত্র: ‘‘Artificial Intelligence now has IQ of four-year-old child and scientists warn it'll keep learning.’’
সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, একদল গবেষক artificial intelligence (AI) system-এর ওপর গবেষণা করে এই ফল দেখতে পেয়েছেন। এই সিস্টেমটির সংক্ষিপ্ত নাম কনসেপ্টনেট (ConceptNet.)। এটি হচ্ছে একটি ওপেন সোর্স কম্পিটিং প্রকল্প। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির(এমআইটি) একটি শাখা এটি পরিচালনা করে থাকে।

তারা কম্পিউটার বা রোবটের জন্য অবিকল সেই আইকিউ টেস্টের ব্যবস্থাই করেছিলেন যেটা মানুষের বেলায় প্রয়োগ করা হয়।সেখানে তারা অবাক হয়ে দেখলেন ৪ বছরের একটা বাচ্চার বুদ্ধিমত্তার সাথে সমানতালে পাল্লা দেবার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তা।

এই ব্যাপারটা গবেষক দলটিকে মোটেই খুশি করেনি। বরং ভবিষ্যতে এই বুদ্ধিমত্তা মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে ভেবে তারা শঙ্কিত। সাধে কি আর বলা হয়, ‘দুধকলা দিয়ে পোষা সাপ’’ অথবা ‘’তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে!’’

source: banglanews24.com

41
প্রথমবারের মতো কোন ল্যাপটপ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট। ১৩.৫ ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে সমৃদ্ধ 'সারফেস বুক' নামের এই ল্যাপটপ ম্যাকবুক প্রো'র তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী, এমনটাই দাবী করেছে মাইক্রোসফট। 

ল্যাপটপটিতে আছে দুটি আলাদা প্রসেসর, ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড। এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অনেকটাই সারফেস প্রো ট্যাবের মতোই। এর ডিসপ্লে আলাদা করে ট্যাব হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া কীবোর্ডের সাথে ডক হিসেবে যুক্ত করে কাজ করা যাবে। আর আলাদা সারফেস পেন স্টাইলাস ব্যবহারের সুবিধা তো থাকছেই।  ল্যাপটপটিতে আছে ইন্টেলের স্কাইলেক গ্রুপের ষষ্ঠ প্রজন্মের কোর আই৫ ও কোর আই৭ প্রসেসর। আছে এনভিডিয়া জিফোর্স জিপিইউ, ১৬ গিগাবাইট পর্যন্ত ডিডিআর৫ র‍্যাম, ১ টেরাবাইট স্টোরেজ প্রভৃতি ফিচার। আকর্ষণীয় ডিজাইনের এই ল্যাপটপে আরও আছে দুটি ইউএসবি ৩.০ পোর্ট। একবার চার্জ দিলে টানা ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে সারফেস বুক। এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন মাইক্রোসফট কেন এই ল্যাপটপটিকে ম্যাকবুক প্রো'র তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী বলেছে।  কাল থেকেই ল্যাপটপটির অগ্রিম বুকিং নিতে শুরু করবে মাইক্রোসফট।

আর এ মাসের ২৬ তারিখ থেকেই ল্যাপটপটি হাতে পাওয়া যাবে। অত্যাধুনিক এই ল্যাপটপটি কিনতে চাইলে গুণতে হবে ১,৪৯৯ ডলার বা টাকার হিসেবে প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা।

42
প্রাচীনকালে পেঁয়াজ রোগের প্রাকৃতিক নিরাময়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তখন রক্ত চলাচল বৃদ্ধি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, জ্বর, সর্দি নিরাময়ক ও শরীরকে বিষমুক্ত করার জন্য রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে পেঁয়াজের প্রলেপ দেওয়া হতো। যে সময়টার কথা বলছি তখন শরীরকে বিষমুক্ত করা বা আরোগ্য লাভের জন্য কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি।

রাতারাতি শরীরকে বিষমুক্ত করতে, এমনকি ডায়াবেটিস রোগীদের আরামে পেঁয়াজের প্রলেপ অত্যন্ত সহজ ও সাশ্রয়ী একটি চিকিৎসা। আপনার কাজ শুধু পায়ে পেঁয়াজের প্রলেপ দিয়ে মোজায় পা গলানো পর্যন্ত। এরপর নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ুন। বাকি কাজটি পেঁয়াজ নিজেই করবে। 

জেনে নেওয়া যাক এই চিকিৎসার জন্য কী কী প্রয়োজন-
•    পেঁয়াজ- একটি (বড়)
•    স্বচ্ছ ফয়েল পেপার
•    উলের মোজা।

প্রক্রিয়া
রাতে ঘুমানোর আগে পা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। পেঁয়াজ খোসা ছাড়িয়ে পাতলা গোল গোল করে স্লাইস করুন। এভাবে কয়েক মিনিট রেখে দিন।  দেখবেন পেঁয়াজ থেকে রস বেরিয়ে আসছে। এবার পেঁয়াজের স্লাইসগুলো আঙুল বাদে সম্পূর্ণ তালুতে রেখে ফয়েল পেপার দিয়ে পায়ের সঙ্গে ভালোভাবে সংযুক্ত করুন। ফয়েল পেপার ব্যবহার করার কারণ- এতে পেঁয়াজের গন্ধ ছড়াবে না।

এবার মোজা পরে নিন। এক্ষেত্রে পরামর্শ উলের মোজা। কারণ উল বেশি উষ্ণতা দেয়। প্রাচীনকালে পেঁয়াজের প্রলেপ দেওয়ার পর সরাসরি উলের মোজা পরা হতো। মানে তখন ফয়েল পেপার ব্যবহার করা হতো না।
 

তবে এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয়, যদি পেঁয়াজ আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক হয় তাহলে তা ব্যবহার করার আগে অর্থাৎ, স্লাইস করার পর তাতে আমন্ড অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে নেবেন। তবে, এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

ভালো ফল পেতে রাতে ঘুমানোর আগে এই প্রলেপটি ব্যবহার করুন। পেঁয়াজের ভেতরের হিলিং প্রপার্টিজ ত্বকের মধ্য দিয়ে আপনার রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করবে ও রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করবে।

পেঁয়াজে রয়েছে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও শরীর থেকে টক্সিন অপসারণ করে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পেঁয়াজের প্রলেপ তুলে পা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পা মুছে আবার উলের মোজা পরে নিন।

উপকারিতা
নিয়মিত এ প্রলেপ ব্যবহার করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে ও ক্ষুদ্রতম রক্তনালীতেও সঠিকভাবে রক্ত চলাচল করবে। যাদের রক্ত সঞ্চালনে অসুবিধা রয়েছে বা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছেন তারা এত ভালো ফল পাবেন। এছাড়াও ঠাণ্ডা ও ভাইরাসের আক্রমণ, জ্বর, গলা ও ফুসফুসে প্রদাহজনিত সমস্যা সমাধানে এই চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকরী।

43
ছোট ছোট বিষয়ে আমরা সব সময়ই অন্যকে ক্ষমা করে থাকি। কিন্তু বন্ধু বা সঙ্গী যখন আমাদের বিশ্বাস ভেঙে ফেলে, তখন?

নতুন একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ক্ষমাশীলতা আমাদের বিষণ্নতা থেকে মুক্তি দেয়। বিশেষত নারীদের।

সম্প্রতি একটি জার্নালে দ্য ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি তাদের করা এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

গবেষণা পরবর্তী সময় নির্দিষ্টভাবে ক্ষমাশীলতা কীভাবে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এবং বিষণ্নতা থেকে মুক্তি দেয়, তা নিশ্চিত হতে দ্বিতীয়বারের মতো গবেষণা চালানো হয়।

এ দফায় ধর্ম, বয়স, স্বাস্থ্যগত তথ্য বিবেচনা করে ৬৭ বছরের চেয়ে বেশি বয়সী ১ হাজার জনকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে বিশেষত বেশি বয়সী নারী যারা ক্ষমাশীল, তারা অন্যদের চেয়ে বেশি লাভবান হন বলে দেখা যায়।

তবে পুরুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই ‌উপযোগী নয়। তাদের ক্ষেত্রে অন্যের কাছে দায়ী হয়ে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তির কাছে একজন পুরুষ দোষী এবং ওই ব্যক্তি তাকে ক্ষমা করছে না, এমন অবস্থা হলে পুরুষরা অতিমাত্রায় বিষণ্নতায় ভোগেন।

গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব উন্নয়ন ও পরিবার বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টিন। তিনি বলেন, যদিও এটা খুবই ছোট গবেষণা, তারপরও বিষণ্নতার চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অতীতেও দেখা গেছে, ক্ষমা শারীরিক ও মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই ভালো। ২০১৪ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, যে ব্যক্তি ক্ষমা পান তিনি পরবর্তীতে ভালো কাজের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

অনেক সময় চিকিৎসক যখন নিজেকে ক্ষমা করতে বলেন, এর অর্থ কেবল ক্ষমা করাই না, বিষণ্নতা দূর করার একটি মাধ্যমও বটে।

source: banglanews24.com

44
ইসলাম ধর্মমতে সব ধরনের ইবাদত-বন্দেগি কবুল হওয়ার জন্য রিজিক হালাল হওয়া জরুরি। হালাল রিজিকের প্রভাব শুধু নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্যের জন্যই যে জরুরি তা নয়, নিজের সন্তানের ওপরও এর প্রভাব থাকে। রুজি-রোজগারে খুব সামান্য, এমনকি বিন্দু পরিমাণ হারামের প্রভাব সন্তানের মাঝে প্রকাশ পায়।

মানুষ হিসেবে আমরা ভুল-ক্রুটির ঊর্ধ্বে নই। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, জেনে না জেনে আমাদের থেকে ভুল আচরণ প্রকাশ পেতেই পারে। আমাদের জীবনে যদি এ জাতীয় ঘটনা ঘটে থাকে। অর্থাৎ আমরা যদি অন্যের কোনো কিছু ভোগ করে থাকি বিনা অনুমতিতে এবং এ জন্য পরে মালিকের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা না করি- তাহলে অবিলম্বে ক্ষমা বা তার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। যদি মালিক মারা গিয়ে থাকেন তাহলে তার সন্তানদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আর যদি তাদের কাউকেই পাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে ওই পরিমাণ সম্পদ তাদের নামে সদকা দেয়া উচিত। সেই সঙ্গে তওবাও করতে হবে, ভবিষ্যতে এ কাজ আর না করার।

বস্তুত আল্লাহর প্রতি দৃঢ়-বিশ্বাস ও ভরসা করাই হচ্ছে খাঁটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘তোমরা মন-ভাঙ্গা হয়ো না, হীনবল হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।’ আল্লাহতায়ালা সূরা ইবরাহিমে আরও বলেছেন, ‘যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’

তাই সর্বাগ্রে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আমাদের প্রচেষ্টা যদি আন্তরিক হয়, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়- তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহতায়ালা আমাদের সমস্ত বৈধ বাসনা পূরণ করবেন, আমাদের দোয়াসমূহ কবুল করবেন।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারেন এই দৃঢ়-বিশ্বাস আমাদের রাখা উচিত। আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে পথ-নির্দেশনা কামনা করলে, আল্লাহ অবশ্যই তা কবুল করবেন। আল্লাহর মর্জি হলে, যা ঘটা আপাত দৃষ্টিতে অসাধ্য বলে মনে হয় তাও সাধন সম্ভব।

অনেক খোদাভীরু ব্যক্তির কথা জানা যায়, যারা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে নদীর পানির ওপর দিয়ে এমনভাবে হেঁটে নদী পার হয়েছেন যেভাবে আমরা পার হই মাটির রাস্তা। আল্লাহর প্রিয়পাত্রদের জন্য এসব খুবই সাধারণ ঘটনা। তার মানে এটা নয় যে, সবাইকে পানির ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে। বিষয়টি শুধুমাত্র শিক্ষা অর্জনের জন্য উল্লেখ করা হলো।

আমাদের সন্তানরা ভালো থাকুক, এটা সবারই কাম্য। কিন্তু তাদের ভালো রাখতে যেয়ে, শান্তি নিশ্চিত করতে তাদের মুখে হারাম খাবার, গায়ে হারাম পোষাক দেওয়া ঠিক হবে না। এটা তাদের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করারই নামান্তর।

source: banglanews24.com

45
আগামী দিনের জাতি গঠনে শিশু অধিকার সুরক্ষা ও শিশু কল্যাণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শিশু আইনের বাস্তবায়ন ছাড়া শিশু অধিকার রক্ষা করা যাবে না। শিশু অধিকার বিষয়ক যে পুরনো আইন আমাদের ছিল তা সময়ের চাহিদা পূরণে যথার্থ ছিল না। তাই ১৯৭৪ সালের আইনটি বাতিল করে ২০১৩ সালে প্রণীত হয় নতুন শিশু আইন।
 
দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণে এরকম একটি আইন জরুরি ছিল। তবে, শুধু আইন থাকলেই হবে না আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকতে হবে।

সাম্প্রতিককালে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কয়েকটি শিশু নির্যাতনের ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তা উদ্বেগজনক। মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। এধরনের পৈশাচিক ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি। দোষীদের যেকোনো মূল্যে বিচার করতে হবে।

শুধু আইন থাকাই যথেষ্ট নয়। শিশুদের জন্য একটি মানবিক রাষ্ট্র ও বিশ্ব গড়তে হলে সবাইকেই সচেতন হতে হবে। সব ধরণের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে শিশুদের প্রতি। বাস্তবতার নিরিখে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক আইনের আলোকেই আমাদের শিশু আইনটি করা হয়। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে শিশুদের বিশেষ অধিকারের কথা বলা আছে। এ বিশেষ অধিকারগুলো শিশুর বেড়ে ওঠা ও নিরাপদ শৈশবের জন্য অপরিহার্য। এগুলো আমাদের আইনেও স্থান পেয়েছে। কাজেই, আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ জাতীয় আইনের প্রয়োগ করে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শিশুদের জবরদস্তিমূলক বা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আজকের নিরাপদ শৈশব আগামী দিনের নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের নিয়ামক। অসহায় শিশুদের জন্য নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও উদ্যোগ নিতে হবে। সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। 

শিশুদের শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরতই নয়, সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার বিধানও আছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার গুরুতর অপরাধ। এটি কোনোভাবেই নৈতিক ও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে রাজনীতিবীদ, জনগণ তথা আইন-শৃংখলা বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হবে।

শিশু বিষয়ক অপরাধগুলোর বিচার করার জন্য পৃথক আদালত প্রতিষ্ঠার বিধান আইনে আছে। কাজেই শিশু আদালতের মাধ্যমেই শিশু অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি। শিশু বা কিশোর অপরাধীদের দ্রুত সংশোধন কেন্দ্রে প্রেরণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। শিশু বা কিশোর অপরাধীদের শাস্তি দেয়া আইনের উদ্দেশ্য নয়, তাদেরকে সংশোধন করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আইনের উদ্দেশ্য।
 
এছাড়া এ আইনের আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক আছে। যার যথাযথ প্রয়োগ করতে পারলে শিশু অধিকার রক্ষা ও তাদের সংশোধনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। এ আইনে প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান আছে। আগের আইনেও ছিল। মেট্রোপলিটন, জেলা ও উপজেলা এলাকায় একাধিক প্রবেশন কর্মকর্তা নিয়োগ করার বিধান বর্তমান আইনে আছে। এর বাস্তবায়ন করতে হবে।

আছে শিশুকল্যাণ বোর্ড স্থাপনের বিধানও। আইনানুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুকল্যাণ বোর্ড গঠন করার কথা বলা আছে। কিন্তু বাস্তবে এ বোর্ড আদৌ কাজ করছে কিনা সন্দেহ। থানায় শিশুবিষয়ক ডেস্ক স্থাপনের বিধান আছে। এর প্রয়োগ করতে হবে। শিশু সংশ্লিষ্ট বিষয়ক পৃথকভাবেই দেখতে হবে। 
 
কিশোর অপরাধের বিচার কেবল শিশু বা কিশোর আদালতে করার বিধান আছে। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া অভিযোগপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রও শিশু ও  প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের পৃথকভাবে বিবচেনা করতে হবে। এসব আইন ও বিধান কাগজে সীমাবদ্ধ রাখলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।

শিশুর প্রতি কোনো অপরাধ করা হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির যে বিধানগুলো আছে তার প্রয়োগ করতে হবে। কেউ যদি কোনো শিশুকে কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত করে তবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান আছে। এছাড়া রাজনৈতিক কাজে শিশুদের ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধানও আছে।

কিন্তু এতো কঠোর আইন থাকার পরও শিশু নির্যাতন কমছে না। ক্রমাগত তার সাথে যেনো নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। তাই বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

source: banglanews24.com

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 7