Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Faruq Hushain

Pages: 1 [2] 3 4 ... 6
16
Story, Article & Poetry / বিদায়...
« on: March 13, 2020, 11:26:41 AM »
দেখা হবে আবারও, দেখা হবে না হয়তো
যদি দেখা হয়ে যায় ঝলমলে কোনো দিনে

শোনাব—এক অসম যুদ্ধের গল্প!
সেদিন হয়তো থাকবে মুখে মৃদু হাসির রেখা
ক্লান্তিতে আমার হাসির মাঝে লুকিয়ে—
ফুটে উঠবে হয়তো রুক্ষতার চাপ!
আর যদি না ফিরি—
যদি আর দেখা না হয়!
দুঃখ করো না, গর্বে ভরে বলিও—
আমি তোমাদেরই একজন।
কফিনের ওপর লিখে দিয়ো লাল হরফে—
‘আমি একজন ডাক্তার
আমি পালাইনি, ভয়ে হইনি পিছপা!
নিজের সবটুকু দিয়ে উঁচু রেখেছি
নিজের নেওয়া শপথের সম্মান।’
–––
মোকাররম আলাভী: এমডি নিউরোলজি (অধ্যয়নরত), ইয়াংজো, জিয়াংসু, চীন।

17
ইউরোপ, একটি মহাদেশ। বস্তুত এখানের অধিবাসীদের কাছে সমগ্র ইউরোপ মিলে একটি দেশের মতোই। বিশেষ করে শেনজেন আওতাভুক্ত দেশগুলোর অবাধ যাতায়াতব্যবস্থা দেখে কখনোই মনে হয় না যে একটি দেশ থেকে আরেকটি দেশে কেউ যাচ্ছে! বরং মনে হয় একটি দেশেরই এক শহর থেকে অন্য শহরে কেউ যাচ্ছে।

ইউরোপে আমার প্রবাসজীবনের বয়স মাত্র দুই বছর। মধ্য ইউরোপের একটি দেশ, ইতালি। রূপেগুণে অনন্যই বলা যায় যাকে। যার প্রতিটা রাস্তা কোনো একটা ইতিহাসের কথা বলে, প্রতিটা অলিগলিতে রচিত হয়েছিল বিপ্লব, যে দেশের আনাচকানাচ ভরপুর ভিন্ন মাত্রার সংস্কৃতি, অসাধারণ রান্নার সুখ্যাতি আর অপ্রতুল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
এ দেশে দুই বছর ধরে বাস করি, মন চাইলে ছুটে চলে গিয়েছি পাশের দেশে; বেড়াতে অথবা কাজে! ইউরোপে বসবাস করার এইটাই মজা, সকালবেলা পরিকল্পনা করে ঘুরে আসা যায় লাগোয়া কোনো দেশ থেকে। যতটা লাগোয়া এক–একটা দেশ, ততটাই ভিন্ন এক–একটা দেশের ভাষা, মানুষ, সংস্কৃতি, বৈশিষ্ট্য। যার কারণে উপভোগ করা যায় বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা।

স্বপ্নেও কি কেউ ভেবেছিল, এ রকম অবাধ চলাফেরার সুবিধাসম্পন্ন একটা দেশের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করবে আশপাশের সব দেশ? শুধুই কি আশপাশের দেশ, বলা যায় সমগ্র বিশ্বের কাছ থেকে ইতালি এখন আলাদা! ইতালি এখন আতঙ্কের নাম। ইতালির রং এখন লাল।

এই আতঙ্কের নাম কোভিড–১৯ কিংবা সোজা বাংলায় করোনাভাইরাস। ছোট একটি ভাইরাস, কাবু করেছে পুরো দেশটিকে। দেশটি বাধ্য হয়েছে লকড ডাউন হতে!

পুরো একটি দেশ, পুরো দেশটির জনগন এখন বন্দী। একান্ত কোনো জরুরি অবস্থা ছাড়া কেউ যেতে পারবে না ইতালির বাইরে। কারও জরুরি অবস্থা থাকলেও সেটা খতিয়ে দেখা হবে আদতে কতটুকু জরুরি? নইলে মিলবে না ইতালির বাইরে পা দেওয়ার সুযোগ।

বেশি না, মাত্র সপ্তাহ তিনেক আগে উত্তর ইতালির কিছু শহরে পাওয়া যায় করোনা আক্রান্তের সন্ধান। বিপদ মোকাবিলা করতে মুহূর্তেই বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশটির উত্তরাঞ্চলের কিছু বড় বড় শহর। বন্ধ করে দেওয়া শহরগুলোকে বলা হতো রেড জোন।

মিলান, ইতালির বেশ ব্যয়বহুল এবং অভিজাত শহর, যা গোটা বিশ্বে পরিচিত ফ্যাশন সিটি হিসেবে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় মিলানেও। ফলাফল মিলানও রেড জোনের কবলেই পড়ে।

বছরের সবচেয়ে আলোচিত ফ্যাশন উইক চলাকালীন এমন সংবাদ সত্যিই মিলানের জন্য অভিশাপ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় ব্র্যান্ডকে প্রচার করতে বড় ফ্যাশন ডিজাইনারদের মিলনমেলার মোক্ষম সময় এটা।
কিন্তু শারীরিক সুস্থতার থেকে বড় কিছুই নয়। তাই তো ফ্যাশন উইক অসমাপ্ত অবস্থায় বন্ধ করতে হলো। বন্ধ করা হলো মিলান শহরের সবচেয়ে বড় চার্চ এবং পর্যটন এলাকাগুলো। একে একে বন্ধ হলো সব বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, শপিং মল। অফিসগুলো যতটা সম্ভব বাসায় বসে কাজ করার সুযোগ প্রদান করছে। তবু কেউ যেন অপ্রয়োজনে বের না হয়।

মিলানের অধিবাসী হয়ে এ রকম বন্দিজীবন দেখছিলাম আর ভাবছিলাম শিগগিরই হয়তো পরিস্থিতি মোকাবিলা হবে। সেই আশার গুড়ে বালি দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে জানলাম নতুন খবর, সমগ্র ইতালি লকড ডাউন, যার অর্থ ইতালি থেকে না পারবে কেউ বেরোতে, না পারবে কেউ প্রবেশ করতে।

প্রথম দিকে মিলান অর্থাৎ উত্তর ইতালির সঙ্গে সব দেশের যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ ছিল, এখন পুরো ইতালির সঙ্গেই যোগাযোগ বন্ধ। মিলানের সবচেয়ে বড় এয়ারপোর্ট মালপেনসা থেকে সব দূরবর্তী এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। আস্তে আস্তে সমগ্র ইতালির সঙ্গেই ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশটিতে অবস্থানরত সব দেশের কনস্যুলেট সেবা।

প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা হাজার পেরোচ্ছে। টিভি কিংবা নিউজে এখন আক্রান্তের সংখ্যা দেখতে ভয় করে। মৃতের সংখ্যা নাই–বা মনে করলাম। সরকার থেকে কিছু নির্দেশ জারি করা হয়েছে, যেমন আপাতত এপ্রিল মাস পর্যন্ত কোনো বিয়ে কিংবা অনুষ্ঠানের জন্য চার্চ ব্যবহার করা যাবে না। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া যে যে যার যার রেসিডেন্স এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে পারবে না। যদি কাউকে অযথা ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়, তার জন্য ধার্য আছে নির্দিষ্ট একটা জরিমানা। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে, সঠিক কোনো তথ্য নেই। হাসপাতালগুলো অক্লান্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

এ রকম পরিস্থিতিতে প্রত্যেক মানুষ আতঙ্কিত ও বিব্রত। স্বাভাবিকভাবেই স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চাদের সময় কাটছে না। অনেক রেস্তোরাঁ এবং ছোটখাটো দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে প্রচুর মানুষ।

ইউরোপে অবস্থান করে যারা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে কাজ করে, ব্যবসা করে, ঘুরে বেড়ায়, এমন বন্দী অবস্থা সত্যিই তাদের জন্য দুঃখজনক। একই সঙ্গে বিশাল একটা শঙ্কা, কবে মিলবে মুক্তি? আদৌ মিলবে কী? কবে এই ভয়ংকর পরিস্থিতির অবসান হবে?

তবু সবাই মেনে নিচ্ছি নিয়তি। তবু সবাই চাই করোনা–মুক্ত থাকুক অন্য দেশের মানুষগুলো। সুস্থ হয়ে উঠুক এ দেশের আক্রান্ত সব রোগী। নতুন করে আক্রান্ত না হোক আর একটি মানুষও।

হয়তো এক মাস, দুই মাস কিংবা আরও বেশি; পুরো বছর বন্দী থাকতে রাজি। তবু বিপদমুক্ত হতে চাই। কদিন আগে যখন চায়নায় করোনার শুরু হলো, আমরা সবাই আতঙ্কিত ও চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু আজ যখন নিজে যে দেশে বসবাস করি, সে দেশটিতে রেড অ্যালার্ট চলছে, তখন মনের ভেতরে কেমন অশান্তি চলে; সেটা হয়তো আপাতত ইতালিবাসী ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না।

চলুন সবাই সবার জন্য প্রার্থনা করি। রেড কান্ট্রির প্রতিটি মানুষের পক্ষ থেকে এটি একটি ক্ষুদ্র আকুতি।

18
সকলেরই এই ব্যাপারে সচেতনতা প্রয়োজন

19
কিডনির কোনো সমস্যা হলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। অথচ সামান্য সচেতনতায় সহজেই কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা যায়। এ ক্ষেত্রে কিডনি জটিলতার কারণগুলো প্রতিরোধ করা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী কিডনি রোগের শেষ ধাপের রোগীদের জীবনভর ডায়ালাইসিস করতে হয় অথবা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এগুলো ব্যয়সাপেক্ষ। তাই ক্রনিক কিডনি ডিজিজ প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, বিশ্বজুড়ে কিডনি বিকলের অন্যতম কারণ হলো ডায়াবেটিস। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, বিশেষত অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে কিডনির কার্যকারিতা কমে গিয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বা আমিষ যেতে শুরু করে। এ সমস্যাকে ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি বলে। এর শেষ ধাপ হলো এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ।

বংশগত কারণে আমাদের দেশে ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি হওয়ার প্রবণতা বেশি। কাজেই ডায়াবেটিস ধরা পড়ার প্রথম থেকেই কিডনির বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ৬ থেকে ১২ মাস অন্তর রক্তের ক্রিয়েটিনিন ও প্রস্রাবের আমিষ পরীক্ষা করতে হবে। এসব পরীক্ষা খুবই অল্প খরচে করা যায়। নিয়মিত এসব পরীক্ষায় ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ শুরুতেই নির্ণয় করা সম্ভব। আর শুরুতে ধরা পড়লে, আর খুব ভালো করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ প্রতিরোধ করা যায়।
উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকলের আরেকটি অন্যতম কারণ। অনেক রোগীই মনে করেন, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ঘাড়ে বা মাথায় ব্যথা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ মূলত নীরব ঘাতক। অর্থাৎ রক্তচাপ অনেক বেশি হলেও রোগী অনেক সময় উপসর্গ অনুভব করেন না। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাও একসময় কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। কাজেই উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জীবনযাপন প্রণালি, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করে যেতে হবে। বয়স হলে রক্তচাপ একটু বাড়তি থাকে—এমনটা ভেবে অনেকেই বিষয়টিকে অবহেলা করেন। অনেকে ওষুধ শুরু করেও বন্ধ করে দেন। কিন্তু উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়লে এর ওষুধ সারা জীবন খেয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া এক দিনের জন্যও ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস কিডনির একটি রোগ। এ রোগের প্রধান লক্ষণ শরীর, হাত-পা ফুলে যাওয়া। হেপাটাইটিস-বি ও সি ভাইরাস যকৃতের অসুখ। এই দুটি ভাইরাসসহ অনেক ভাইরাসই কিডনিকেও আক্রান্ত করে। এ ছাড়া মূত্রতন্ত্রের নানা বাধাজনিত কারণে, বারবার সংক্রমণে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করলে এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। কাজেই যেকোনো সমস্যায় অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে হবে।

কিডনি রোগ প্রতিরোধে কিডনি সম্পর্কে জানুন, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

ডা. শুভার্থী কর, সহকারী অধ্যাপক, নেফ্রোলজি বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ

20
"আমারে তুমি অশেষ করেছ, এমনি লীলা তব
ফুরায়ে গেলে আবার ভরেছ জীবন নব নব।" :- :'( :'(

22
গুগল এবং আইবিএমের চেয়েও শক্তিশালী কোয়ান্টম কম্পিউটার আনার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি হানিওয়েল। এই প্রতিষ্ঠানটি এতদিন থার্মোস্ট্যাটের জন্য পরিচিত ছিল।

হানিওয়েল যে ধরনের ফিচারের কথা বলছে, তাতে এই কম্পিউটার দিয়ে ১০ হাজার বছরের হিসাব এক মিনিটেরও কম সময়ে শেষ হওয়ার কথা।

গত বছর অক্টোবরে গুগল নিজেদের কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির কথা জানায়। গুগলের দাবি, তাদের কম্পিউটার ১০ হাজার বছরের হিসাব দুই মিনিটেরও কম সময়ে করতে পারে।

হানিওয়েল ঘোষণা দিয়েছে, গুগল, আইবিএমকে ছাড়িয়ে তাদের কম্পিউটার হবে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী হিসাবরক্ষণ যন্ত্র।

হানিওয়েলের ঘোষণাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রযুক্তিবিদেরা। ওয়াটারলুর কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ইনস্টিটিউটের সহপ্রতিষ্ঠাতা মিশেল মোসকা অইটিওয়ার্ল্ড কানাডা নামের একটি প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইটকে বলেন, আইবিএমকে ছাড়ানো কঠিন কাজ। কিন্তু হানিওয়েল সিরিয়াস কিছু মানুষের একটি সিরিয়াস কোম্পানি। তারা তিন বছর কিংবা তার বেশি সময় পরে আসবে এমনটি বলছে না। মাত্র তিন মাস সময় দিয়েছে। তাদের প্রতি আমার সম্মান আছে। আমার তো তর সইছে না।

হানিওয়েল কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে কাজ শুরু করে কয়েক দশক আগে। এতদিন সেভাবে কিছু জানায়নি তারা।

কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মৌলিক একককে বলা হয় কিউবিটস। এটি তৈরি করতে হানিওয়েল ট্যাপড-আয়ন বা চার্জযুক্ত পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তি আইবিএম কিংবা গুগলের তুলনায় অতটা উন্নত নয়।

কিন্তু হানিওয়েল বলছে, উন্মোচনের পর আমাদের কম্পিউটার হবে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটার। কোয়ান্টাম ভলিউম কমপক্ষে ৬৪ হবে। যা অন্য কোম্পানির দ্বিগুণ।

গত জানুয়ারিতে আইবিএম জানিয়েছিল, ৫৩-কিউবিট কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মধ্যে তাদের ভলিউম ৩২ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

তথ্যসূত্র: এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ.কম

23
খেলতে গিয়ে এবার প্রাণ হারালেন নাসারাওয়া ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার চিনেমে মার্টিন্স। তবে ফুটবল খেলতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে মাঠের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির ক্যামেরুনের মিডফিল্ডার মার্ক-ভিভিয়েন ফো।

গত রবিবার নাইজেরিয়ান প্রিমিয়ার লিগে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ইএসপিএনকে জানান ক্লাবটির চেয়ারম্যান আইসাক দানলাদি।
 
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “খেলার সময় সে মাঠে লুটিয়ে পড়ে। তখনই তাকে দালহাতু আরাফ স্পেশালিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে মারা যায়।”
 
আইসাক দানলাদি আরো বলেন, “নাইজেরিয়ান ফুটবলের জন্য এটি একটি দুঃখের দিন এবং আমরা শোকাহত।”

24
তার এই বিরল প্রতিভা ক্রিকেট বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ থেকেই। শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলতে এসেছিলেন ২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। ডান ও বাঁহাতে তার বোলিংয়ের ছবি, ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই কামিন্দু আবার এসেছেন বাংলাদেশে। এবার শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দলের হয়ে।

মাঝের এই তিন বছরে তার ক্যারিয়ার এগিয়েছে যথেষ্টই। ২০১৬ সালের পর ২০১৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও খেলেছিলেন, সেবার শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক হিসেবে। সেবছরই শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলেন ইমার্জিং এশিয়া কাপে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে যায় গত বছরই, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে।

গত মার্চে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অভিষেক হয়েছে ওয়ানডেতে। ২০ বছর বয়সী ক্রিকেটার এখনও পর্যন্ত খেলেছেন দুটি ওয়ানডে ও চারটি টি-টোয়েন্টি।

২২ গজে মনে রাখার মতো কিছুই করতে পারেননি ছোট্ট আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে। তবু ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে তার পরিচিতি আছে যথেষ্টই। সেটি দুই হাতে বোলিং সামর্থ্যের কারণেই।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই হাতেই বোলিং করা প্রথম ক্রিকেটার অবশ্য কামিন্দু নন। ১৯৫৮ সালে গ্যারি সোবার্সের ৩৬৫ রান করার ইনিংসে হানিফ মোহাম্মদ বোলিং করেছিলেন ডান ও বাঁ হাতে। গ্রাহাম গুচও দুয়েকবার করেছেন। তবে হানিফ বা গুচরা ছিলেন একদমই অনিয়মিত বোলার।

কামিন্দুর স্বদেশি একজনও করেছিলেন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পরপর দুই বল ডান ও বাঁহাতে করেছিলেন হাশান তিলকরত্নে। সেটি ছিল ম্যাচের শেষ ওভার, ফল ছিল নিশ্চিত। তাই মজা করেই অমনটি করেছিলেন তিলকরত্নে।

ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে বিদর্ভের অলরাউন্ডার অক্ষয় কার্নেওয়ার দুই হাতে বোলিং করে বেশ সাড়া জাগিয়েছেন। তবে এখনও তিনি জাতীয় দলের কাছাকাছি নেই।

১৯৯৬ সালে মালয়েশিয়ায় এসিসি ট্রফিতে জাপানের বোলার তেতসুয়ো ফুজি পরপর দুই বল ডান ও বাঁহাতে করে আউট করেছিলেন বাংলাদেশের শাহরিয়ার হোসেন ও আমিনুল ইসলামকে। তবে সেটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না।

কামিন্দুর বোলিং মজা করে নয়, অনিয়মিত বোলারও নন তিনি। বোলিং করেছেন শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটেই। মূল বোলারদের বিবেচনায় নিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সম্ভবত তিনিই প্রথম বোলিং করেছেন দুই হাতে।

পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও তিনি যথেষ্ট ভালো। চেষ্টা করছেন জেনুইন অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে।

যেভাবে শুরু দুই হাতে

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার একটিই উইকেট এখনও পর্যন্ত। সেটি নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনে। কিন্তু একটা সময় তিনি ছিলেন কেবলই ডানহাতি অফ স্পিনার। আর বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সেখান থেকে বাঁহাতি স্পিনও যোগ হলো কিভাবে? দিন কয়েক আগে মিরপুর একাডেমি মাঠে অনুশীলন শেষে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে সেই গল্প শোনালেন কামিন্দু।

“ছেলেবেলা থেকে আমি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ডানহাতি স্পিনার। বাঁহাতি স্পিন শুরু করি অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায় থেকে। একদিন ভাইয়ের সঙ্গে বসে টিভিতে ক্রিকেট দেখছিলাম। এক বাঁহাতি স্পিনারের বোলিং খুব ভালো লেগে গেল। ভাইকে বললাম, বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আমি, বাঁহাতি স্পিনও চেষ্টা করব নাকি! ভাই বলল, ‘চেষ্টা করতে ক্ষতি কী!’ সেখান থেকেই শুরু।”

সেই থেকে শুরু। তবে শেষ খুঁজে পাচ্ছিলেন না কামিন্দু। ব্যাটিং ও ডানহাতি স্পিন দুটি অনুশীলন পর্যাপ্ত করার পরই কেবল বাড়তি সময়ে চেষ্টা করতেন বাঁহাতি স্পিন শেখার। নিয়ন্ত্রণে আনতেই সময় লেগেছে অনেক।

“অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায়ে শুরু করলেও তখন নিয়ন্ত্রণ ভালো ছিল না। এমনকি অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭ পর্যায়েও আয়ত্ত করতে পারিনি পুরোপুরি। আস্তে আন্তে রপ্ত করেছি। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে গিয়ে মোটামুটি ভালোভাবে বাঁহাতি স্পিন করতে শুরু করি।”

এখন তিনি দুটোতেই সমান দক্ষ, কোনো একটিকে এগিয়ে রাখতে পারেন না।

“দুটিতেই আমার নিয়ন্ত্রণ এখন সমান। অনুশীলনে দুটিই সমান চেষ্টা করি। ম্যাচে সাধারণত ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য বাঁহাতি স্পিন, বাঁহাতির জন্য ডানহাতি স্পিন করি। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি, ব্যাটসম্যান বুঝে অন্যরকমও হতে পারে।”

বোলিং দুই হাতেই করতে পারলে ব্যাটিং কেন নয়? প্রশ্ন শুনে কামিন্দু হাসলেন, “নাহ, সেই চেষ্টাই কখনও করিনি। বাঁহাতি ব্যাটিংই ভালো লাগে।”

ব্যাটিংয়ে তিনি আদর্শ মানেন কুমার সাঙ্গাকারাকে। ভালো লাগে মাইক হাসিকেও। তবে বোলিংয়ে তেমন কাউকে অনুসরণ করেন না, “বোলিংয়ে তো আমার মতো কেউ নেই, কাকে করব অনুসরণ! তবে আকিলা দনাঞ্জয়ার মতো বোলিংয়ে বিভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করছি।”

স্বপ্নের সীমানায় টেস্ট ক্যাপ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেটুকু সুযোগ পেয়েছেন, কাজে লাগাতে পারেননি সেভাবে। জায়গা হারিয়েছেন। ইমার্জিং দল, ‘এ’ দল, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে আরও পোক্ত করার চেষ্টা করছেন। ব্যাটিং সামর্থ্য আর বোলিংয়ে ধার বাড়াতে কাজ করছেন।

শুধু দুই হাতে বোলিং করতে পারলেই যে সুযোগ মিলবে না, সেই উপলব্ধি হয়েছে। হাত একটিই হোক বা দুটি, বোলিং করতে হবে ভালো ও কার্যকর। কামিন্দু চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিজের সহজাত প্রতিভাকে ঘষেমেজে আরও শাণিত করতে।

“কোচরা আমাকে বলেন, একটি স্পেশাল উপহার আমি পেয়েছি। দুই হাতে বোলিং করতে পারার ক্ষমতা খুবই বিরল। এটি যেন কাজে লাগাই। আমিও চেষ্টা করছি যেন এই উপহার নষ্ট না হয়।”

আপাতত তার লক্ষ্য, যে কোনো সংস্করণে জাতীয় দলে ফেরা। তারপর পারফর্ম করে নিজেকে আরও ভালো করে চেনানো। জায়গা পাকা করা। আর, নিজের স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে চলা। মাথায় তুলতে চান টেস্ট ক্যাপ।

“সব ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে টেস্ট ক্রিকেট খেলার। আমিও টেস্ট খেলতে চাই। শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্যাপ মাথায় মাঠে নামতে চাই। দেশের হয়ে খেলতে চাই দীর্ঘদিন।”

25
‘এটি গোয়েবলসীয় মিথ্য’ কিংবা ‘এটি গোয়েবলসীয় মিথ্যাকেও হার মানাবে’ এমন কথা আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। বিশেষত রাজনীতি বা রাজনৈতিক নেতাদের কথায় ও নানানরকম প্রচারণার ক্ষেত্রে আমরা এসব কথা প্রায়ই বলি ও শুনি। কিন্তু এই গোয়েবলসীয় মিথ্যা ব্যাপারটা আসলে কী।

গোয়েবলস কে? যারা রাজনীতি ও দেশকাল সম্পর্কে সচেতন তাদের মধ্যে কেউ ‘গোয়েবলসীয় মিথ্যা’ কথাটা জানেন না বা শুনেননি এমন মানুষ খুব বিরল।
জার্মানির ড. পল জোসেফ গোয়েবলস একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। হিটলারের সময় নাৎসিদের প্রপাগান্ডামন্ত্রী ও প্রচারণা বিশেষজ্ঞ ছিলেন এই গোয়েবলস। ১৯৩৩ হতে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেন। একইসঙ্গে গোয়েবলস ছিলেন এডলফ হিটলারের প্রধান সহযোগী এবং তার একনিষ্ঠ অনুসারী।

বিদ্বেষপূর্ণ বক্তৃতা এবং ইহুদি বিরোধী তৎরতার জন্য তিনি কুখ্যাত ছিলেন।  বলা হয়ে থাকে, হিটলার জার্মানিতে বিপুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে যার প্রধান ভূমিকা ছিলো তিনি হলেন এই গোয়েবলস। মিথ্যাকে এমনভাবে প্রচার করে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিয়ে গোয়েবলস নাৎসিবাদ ও হিটলারকে জার্মানিতে তুমুল জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। এই গোয়েবলস এখন রীতিমতো প্রবাদ হয়ে গেছে।   

কিন্তু গোয়েবলস কেমন করে প্রচারণা চালিয়ে মিথ্যাকে ব্যাপকসংখ্যক সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিলেন তার কিন্তু কিছু পলিসি ছিলো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং তার পরবর্তী সময়ে গোয়েবলস ডিক্টেশন দিয়ে একটি ডায়রি লিখিয়েছিলেন। সম্প্রতি ওই ডায়রি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা লুইস লচনার উদ্ধার করেন। পরে ডায়রিটি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে লিওনার্দ ডব্লিউ ডুব। ওই ডায়রিটিতে গোয়েবলস তার প্রপাগান্ডার পলিসি বিস্তারিতভাবে লিখে গেছেন। একইসঙ্গে ডাইরিটিতে হিটলারেরও কয়েকটি প্রপাগান্ডা নীতি রয়েছে।
হিটলারের প্রপাগান্ডা নীতি

১. বিমূর্ত, অস্পষ্ট এবং বুঝতে কষ্ট হয় এবং আবেগকে আকর্ষণ করে এমন আবেদনময়ী যেকোনো চিন্তা ও মতাদর্শকে বর্জন করো।

২. খুব অল্প কিছু কথা ও আইডিয়া বারবার স্থায়ীভাবে প্রচার করো। গৎবাঁধা ও প্রচলিত বাক্য ও কথার ব্যবহার করো। 

৩. কোনো যুক্তি বা বক্তব্যের শুধু একটি দিকই প্রচার করো।

৪. বিরামহীনভাবে বিরোধী পক্ষের সমালোচনা চালিয়ে যাও।

৫. বিশেষ ধরনের নিন্দা ও কুৎসা রটানোর জন্য একটি বিশেষ ‘শত্রু’ ঠিক করে নাও।

26
বাংলাদেশ ঝড়ের দেশ, জলোচ্ছ্বাসের দেশ। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় এই বঙ্গ ভূখণ্ডে ঘটে গেছে ভয়ংকরতম কিছু ঘূর্ণিঝড়। বর্তমান বাংলাদেশ ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে পরিচিত থাকলেও এ ঘূর্ণিঝড়গুলো এ অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল।
১. ভোলা সাইক্লোন:
১২-১৩ নভেম্বর, ১৯৭০
মৃতের সংখ্যা: সরকারি হিসাবে ৩ লাখ। বেসরকারি হিসাবে ৫ লাখ।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় এটি। সাধারণত ১৯৭০ সালের এই ঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’ নামে পরিচিত। এটি ছিল সিম্পসন স্কেলে ‘ক্যাটাগরি ৩’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। বঙ্গোপসাগরে এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল ৮ নভেম্বর। ধীরে ধীরে এটি শক্তিশালী হয় এবং উত্তর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বা ১১৫ মাইল। জলোচ্ছ্বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল প্রায় ১০.৬ মিটার। এই গতিতেই এটি উপকূলে আঘাত করে। এই ঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়।
 
সাইক্লোন ফণী, ২০১৯
সাইক্লোন ফণী, ২০১৯
বাংলাদেশ ঝড়ের দেশ, জলোচ্ছ্বাসের দেশ। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় এই বঙ্গ ভূখণ্ডে ঘটে গেছে ভয়ংকরতম কিছু ঘূর্ণিঝড়। বর্তমান বাংলাদেশ ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে পরিচিত থাকলেও এ ঘূর্ণিঝড়গুলো এ অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল। মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিবেচনা করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে মৃত মানুষের সংখ্যার কিছু হেরফের হতে পারে।

ভোলা সাইক্লোন, ১৯৭০
ভোলা সাইক্লোন, ১৯৭০

১. ভোলা সাইক্লোন

১২-১৩ নভেম্বর, ১৯৭০
মৃতের সংখ্যা: সরকারি হিসাবে ৩ লাখ। বেসরকারি হিসাবে ৫ লাখ।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় এটি। সাধারণত ১৯৭০ সালের এই ঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’ নামে পরিচিত। এটি ছিল সিম্পসন স্কেলে ‘ক্যাটাগরি ৩’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। বঙ্গোপসাগরে এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল ৮ নভেম্বর। ধীরে ধীরে এটি শক্তিশালী হয় এবং উত্তর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বা ১১৫ মাইল। জলোচ্ছ্বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল প্রায় ১০.৬ মিটার। এই গতিতেই এটি উপকূলে আঘাত করে। এই ঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চট্টগ্রাম, বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, চর বোরহানউদ্দিন, চর তজুমদ্দিন, মাইজদী ও হরিণঘাটায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা। তজুমদ্দিনের তখনকার জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজারের মধ্যে ৭৭ হাজার জন প্রাণ হারায় সে ঝড়ে।

ভোলা সাইক্লোনে মৃত মানুষের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী মত পাওয়া যায়। সরকারি হিসাবমতে, এই সাইক্লোনে মারা যায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ। আর বেসরকারি মতে এ সংখ্যা আনুমানিক ৫ লাখ। এ ছাড়া ভোলা সাইক্লোনে ৩৮ হাজার সমুদ্রনির্ভর মৎস্যজীবী এবং ৭৭ হাজার অভ্যন্তরীণ মৎস্যজীবী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোট ২০ হাজারের বেশি মাছ ধরার নৌকা ধ্বংস হয়। ১০ লাখের বেশি গবাদিপশুর মৃত্যু, প্রায় ৪ লাখ ঘরবাড়ি এবং ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. ১৫৮২ সালের ঘূর্ণিঝড়
১৫৮২ সাল
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ

আইন-ই-আকবরি, রিয়াস-উস-সালাতিন এবং বিভিন্ন প্রাচীন নথিপত্রের সূত্র উল্লেখ করে সার্ক প্রকাশিত (১৯৯৮) একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ১৫৮২ সালে বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না।

৩. গ্রেট বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন
৩১ অক্টোবর-১ নভেম্বর, ১৮৭৬
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ

বর্তমান বরিশাল জেলার একটি উপজেলা হিসেবে পরিচিত হলেও বাকেরগঞ্জ ছিল ব্রিটিশ আমলের একটি জেলা। এই বাকেরগঞ্জ এবং সংলগ্ন অঞ্চলে ১৮৭৬ সালে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। বাংলাপিডিয়া এই ঝড়ের তারিখ উল্লেখ করেছে ৩১ অক্টোবর এবং সার্ক (১৯৯৮) প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই ঝড়ের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১ নভেম্বর। মানুষ ও গবাদিপশুর মৃত্যুর হার, ফসল এবং অন্যান্য সম্পদহানির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে এই ঝড়কে বলা হয় ‘গ্রেট বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন’।
 
সাইক্লোন ফণী, ২০১৯
সাইক্লোন ফণী, ২০১৯
বাংলাদেশ ঝড়ের দেশ, জলোচ্ছ্বাসের দেশ। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় এই বঙ্গ ভূখণ্ডে ঘটে গেছে ভয়ংকরতম কিছু ঘূর্ণিঝড়। বর্তমান বাংলাদেশ ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে পরিচিত থাকলেও এ ঘূর্ণিঝড়গুলো এ অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল। মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিবেচনা করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে মৃত মানুষের সংখ্যার কিছু হেরফের হতে পারে।

ভোলা সাইক্লোন, ১৯৭০
ভোলা সাইক্লোন, ১৯৭০

১. ভোলা সাইক্লোন

১২-১৩ নভেম্বর, ১৯৭০
মৃতের সংখ্যা: সরকারি হিসাবে ৩ লাখ। বেসরকারি হিসাবে ৫ লাখ।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় এটি। সাধারণত ১৯৭০ সালের এই ঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’ নামে পরিচিত। এটি ছিল সিম্পসন স্কেলে ‘ক্যাটাগরি ৩’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। বঙ্গোপসাগরে এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল ৮ নভেম্বর। ধীরে ধীরে এটি শক্তিশালী হয় এবং উত্তর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বা ১১৫ মাইল। জলোচ্ছ্বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল প্রায় ১০.৬ মিটার। এই গতিতেই এটি উপকূলে আঘাত করে। এই ঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চট্টগ্রাম, বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, চর বোরহানউদ্দিন, চর তজুমদ্দিন, মাইজদী ও হরিণঘাটায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা। তজুমদ্দিনের তখনকার জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজারের মধ্যে ৭৭ হাজার জন প্রাণ হারায় সে ঝড়ে।

ভোলা সাইক্লোনে মৃত মানুষের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী মত পাওয়া যায়। সরকারি হিসাবমতে, এই সাইক্লোনে মারা যায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ। আর বেসরকারি মতে এ সংখ্যা আনুমানিক ৫ লাখ। এ ছাড়া ভোলা সাইক্লোনে ৩৮ হাজার সমুদ্রনির্ভর মৎস্যজীবী এবং ৭৭ হাজার অভ্যন্তরীণ মৎস্যজীবী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোট ২০ হাজারের বেশি মাছ ধরার নৌকা ধ্বংস হয়। ১০ লাখের বেশি গবাদিপশুর মৃত্যু, প্রায় ৪ লাখ ঘরবাড়ি এবং ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. ১৫৮২ সালের ঘূর্ণিঝড়
১৫৮২ সাল
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ

আইন-ই-আকবরি, রিয়াস-উস-সালাতিন এবং বিভিন্ন প্রাচীন নথিপত্রের সূত্র উল্লেখ করে সার্ক প্রকাশিত (১৯৯৮) একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ১৫৮২ সালে বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না।

৩. গ্রেট বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন
৩১ অক্টোবর-১ নভেম্বর, ১৮৭৬
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ

বর্তমান বরিশাল জেলার একটি উপজেলা হিসেবে পরিচিত হলেও বাকেরগঞ্জ ছিল ব্রিটিশ আমলের একটি জেলা। এই বাকেরগঞ্জ এবং সংলগ্ন অঞ্চলে ১৮৭৬ সালে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। বাংলাপিডিয়া এই ঝড়ের তারিখ উল্লেখ করেছে ৩১ অক্টোবর এবং সার্ক (১৯৯৮) প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই ঝড়ের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১ নভেম্বর। মানুষ ও গবাদিপশুর মৃত্যুর হার, ফসল এবং অন্যান্য সম্পদহানির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে এই ঝড়কে বলা হয় ‘গ্রেট বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন’।

প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১
প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১
৪. ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঝড়
২৫-৩০ এপ্রিল, ১৯৯১
মৃতের সংখ্যা: প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার

১৯৯১ সালের ২২ এপ্রিল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ২৪ এপ্রিল নিম্নচাপটি ০২বি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এবং উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে। অগ্রসর হওয়ার সময় এটি আরও শক্তিশালী হয়। ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এটির তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং এর গতিবেগ পৌঁছায় ঘণ্টায় ১৬০ মাইলে। ২৯ এপ্রিল রাতে এটি চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘণ্টায় ১৫৫ মাইল বেগে আঘাত করে। স্থলভাগে আক্রমণের পর এর গতিবেগ ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং ৩০ এপ্রিল এটি বিলুপ্ত হয়। এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশের ১৯টি জেলার ১০২টি উপজেলা।
 
সাইক্লোন ফণী, ২০১৯
সাইক্লোন ফণী, ২০১৯
বাংলাদেশ ঝড়ের দেশ, জলোচ্ছ্বাসের দেশ। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় এই বঙ্গ ভূখণ্ডে ঘটে গেছে ভয়ংকরতম কিছু ঘূর্ণিঝড়। বর্তমান বাংলাদেশ ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে পরিচিত থাকলেও এ ঘূর্ণিঝড়গুলো এ অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল। মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিবেচনা করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে মৃত মানুষের সংখ্যার কিছু হেরফের হতে পারে।

ভোলা সাইক্লোন, ১৯৭০
ভোলা সাইক্লোন, ১৯৭০

১. ভোলা সাইক্লোন

১২-১৩ নভেম্বর, ১৯৭০
মৃতের সংখ্যা: সরকারি হিসাবে ৩ লাখ। বেসরকারি হিসাবে ৫ লাখ।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় এটি। সাধারণত ১৯৭০ সালের এই ঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’ নামে পরিচিত। এটি ছিল সিম্পসন স্কেলে ‘ক্যাটাগরি ৩’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। বঙ্গোপসাগরে এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল ৮ নভেম্বর। ধীরে ধীরে এটি শক্তিশালী হয় এবং উত্তর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বা ১১৫ মাইল। জলোচ্ছ্বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল প্রায় ১০.৬ মিটার। এই গতিতেই এটি উপকূলে আঘাত করে। এই ঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চট্টগ্রাম, বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, চর বোরহানউদ্দিন, চর তজুমদ্দিন, মাইজদী ও হরিণঘাটায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা। তজুমদ্দিনের তখনকার জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজারের মধ্যে ৭৭ হাজার জন প্রাণ হারায় সে ঝড়ে।

ভোলা সাইক্লোনে মৃত মানুষের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী মত পাওয়া যায়। সরকারি হিসাবমতে, এই সাইক্লোনে মারা যায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ। আর বেসরকারি মতে এ সংখ্যা আনুমানিক ৫ লাখ। এ ছাড়া ভোলা সাইক্লোনে ৩৮ হাজার সমুদ্রনির্ভর মৎস্যজীবী এবং ৭৭ হাজার অভ্যন্তরীণ মৎস্যজীবী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোট ২০ হাজারের বেশি মাছ ধরার নৌকা ধ্বংস হয়। ১০ লাখের বেশি গবাদিপশুর মৃত্যু, প্রায় ৪ লাখ ঘরবাড়ি এবং ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. ১৫৮২ সালের ঘূর্ণিঝড়
১৫৮২ সাল
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ

আইন-ই-আকবরি, রিয়াস-উস-সালাতিন এবং বিভিন্ন প্রাচীন নথিপত্রের সূত্র উল্লেখ করে সার্ক প্রকাশিত (১৯৯৮) একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ১৫৮২ সালে বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না।

৩. গ্রেট বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন
৩১ অক্টোবর-১ নভেম্বর, ১৮৭৬
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ

বর্তমান বরিশাল জেলার একটি উপজেলা হিসেবে পরিচিত হলেও বাকেরগঞ্জ ছিল ব্রিটিশ আমলের একটি জেলা। এই বাকেরগঞ্জ এবং সংলগ্ন অঞ্চলে ১৮৭৬ সালে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। বাংলাপিডিয়া এই ঝড়ের তারিখ উল্লেখ করেছে ৩১ অক্টোবর এবং সার্ক (১৯৯৮) প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই ঝড়ের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১ নভেম্বর। মানুষ ও গবাদিপশুর মৃত্যুর হার, ফসল এবং অন্যান্য সম্পদহানির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে এই ঝড়কে বলা হয় ‘গ্রেট বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন’।

প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১
প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১
৪. ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঝড়
২৫-৩০ এপ্রিল, ১৯৯১
মৃতের সংখ্যা: প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার

১৯৯১ সালের ২২ এপ্রিল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ২৪ এপ্রিল নিম্নচাপটি ০২বি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এবং উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে। অগ্রসর হওয়ার সময় এটি আরও শক্তিশালী হয়। ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এটির তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং এর গতিবেগ পৌঁছায় ঘণ্টায় ১৬০ মাইলে। ২৯ এপ্রিল রাতে এটি চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘণ্টায় ১৫৫ মাইল বেগে আঘাত করে। স্থলভাগে আক্রমণের পর এর গতিবেগ ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং ৩০ এপ্রিল এটি বিলুপ্ত হয়। এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশের ১৯টি জেলার ১০২টি উপজেলা। তবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, খেপুপাড়া, ভোলা, টেকনাফ। ১৯৯১ সালের এই ঝড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন মৃত্যুবরণ করে এবং প্রায় সমপরিমাণ মানুষ আহত হয়।

৫. ১৮২২ সালের ঘূর্ণিঝড়
জুন, ১৮২২
মৃতের সংখ্যা: ৫০ হাজার

ঘূর্ণিঝড়টি সংঘটিত হয়েছিল ১৮২২ সালের জুন মাসে। বরিশাল-বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে হয়ে যাওয়া এ ঘূর্ণিঝড়ে ৫০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ গবাদিপশু মারা যায় এ ঝড়ে।

৬. ১৭৬৭ সালের ঘূর্ণিঝড়
মৃতের সংখ্যা: ৩০ হাজার

বরিশাল-বাকেরগঞ্জের উপকূলীয় অঞ্চলে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল বলে জানা যায়। এ ঝড়ে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৩ মিটার বা ৪৩ ফুট।

৭. ১৮৩১ সালের ঘূর্ণিঝড়
৩১ অক্টোবর, ১৮৩১
মৃতের সংখ্যা: ২২ হাজার

এ ঝড়ে ভারতের ওডিশা উপকূলও প্লাবিত হয়। জলোচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হওয়া ঢেউয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৫ ফুট। বাংলা ও ভারতের উপকূলবর্তী এলাকায় এ ঝড়ে মৃত্যুবরণ করে ২২ হাজার মানুষ। এ ছাড়া এতে ৫০ হাজার গবাদিপশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।

৮. ১৯৬৩ সালের ঘূর্ণিঝড়
২৮-২৯ মে, ১৯৬৩
মৃতের সংখ্যা: সরকারি হিসাবে ১১ হাজার ৫২০। বেসরকারি হিসাবে ২২ হাজার

এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ এবং নোয়াখালী জেলায়। এর উৎপত্তি হয়েছিল উত্তর আন্দামান সাগরে। এটি ২৮ মে রাতে সীতাকুণ্ড দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড করা হয় ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার। ঢেউয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ২০ ফুট।

৯. ১৯৬৫ সালের ঘূর্ণিঝড়
৯-১২ মে, ১৯৬৫
মৃতের সংখ্যা: ১৯ হাজার ২৭৯

এ ঝড় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে ১১ মে মধ্যরাতে বরিশাল ও নোয়াখালী দিয়ে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করে। এ ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার। জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১২ ফুট। এতে বরিশাল, নোয়াখালী, খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১০. ১৯৮৮ সালের ঘূর্ণিঝড়
১৪-৩০ নভেম্বর, ১৯৮৮
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার ৬৮৩ জন

এ ঝড় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে খুলনার কাছে রায়মঙ্গল নদের কাছ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এটি যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশালের বিভিন্ন চর এবং উপকূলবর্তী দ্বীপগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। বাতাসের বেগ ছিল সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল সাড়ে ১৪ ফুট।

১১. ১৯৬১ সালের ঘূর্ণিঝড়
৫-৯ মে, ১৯৬১
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার ৪৬৮

এ ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল মূলত ঢাকা, কুমিল্লা ও সংলগ্ন এলাকায়। এ ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার। এটি মেঘনার পশ্চিম মোহনা অতিক্রম করে সকাল নয়টায়। এ ঝড়ে ঢাকা শহরের বেশির ভাগ কাঁচা ঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

১২. উড়িরচর সাইক্লোন
২২-২৫ মে, ১৯৮৫
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার ৬৯

এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী এবং উপকূলবর্তী দ্বীপ সন্দ্বীপ, হাতিয়া এবং উড়িরচরে। বাতাসের গতিবেগ ছিল চট্টগ্রামে ঘণ্টায় ১৫৪ কিলোমিটার, সন্দ্বীপে ১৩৯ কিলোমিটার, কক্সবাজারে ১০৪ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস সংঘটিত হয়। এতে ১১ হাজার ৬৯ জন নিহত হয় এবং ৯৪ হাজার ৩৭৯টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩টি পশুসম্পদ বিনষ্ট হয়। মোট ৭৪ কিলোমিটার সড়ক ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
 
সাইক্লোন ফণী, ২০১৯
সাইক্লোন ফণী, ২০১৯
বাংলাদেশ ঝড়ের দেশ, জলোচ্ছ্বাসের দেশ। ইতিহাসের বিভিন্ন সময় এই বঙ্গ ভূখণ্ডে ঘটে গেছে ভয়ংকরতম কিছু ঘূর্ণিঝড়। বর্তমান বাংলাদেশ ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে পরিচিত থাকলেও এ ঘূর্ণিঝড়গুলো এ অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল। মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিবেচনা করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে মৃত মানুষের সংখ্যার কিছু হেরফের হতে পারে।

ভোলা সাইক্লোন, ১৯৭০
ভোলা সাইক্লোন, ১৯৭০

১. ভোলা সাইক্লোন

১২-১৩ নভেম্বর, ১৯৭০
মৃতের সংখ্যা: সরকারি হিসাবে ৩ লাখ। বেসরকারি হিসাবে ৫ লাখ।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় এটি। সাধারণত ১৯৭০ সালের এই ঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’ নামে পরিচিত। এটি ছিল সিম্পসন স্কেলে ‘ক্যাটাগরি ৩’ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। বঙ্গোপসাগরে এই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল ৮ নভেম্বর। ধীরে ধীরে এটি শক্তিশালী হয় এবং উত্তর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ১১ নভেম্বর এটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার বা ১১৫ মাইল। জলোচ্ছ্বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল প্রায় ১০.৬ মিটার। এই গতিতেই এটি উপকূলে আঘাত করে। এই ঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপগুলো প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় চট্টগ্রাম, বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, চর বোরহানউদ্দিন, চর তজুমদ্দিন, মাইজদী ও হরিণঘাটায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ছিল ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা। তজুমদ্দিনের তখনকার জনসংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজারের মধ্যে ৭৭ হাজার জন প্রাণ হারায় সে ঝড়ে।

ভোলা সাইক্লোনে মৃত মানুষের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী মত পাওয়া যায়। সরকারি হিসাবমতে, এই সাইক্লোনে মারা যায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ। আর বেসরকারি মতে এ সংখ্যা আনুমানিক ৫ লাখ। এ ছাড়া ভোলা সাইক্লোনে ৩৮ হাজার সমুদ্রনির্ভর মৎস্যজীবী এবং ৭৭ হাজার অভ্যন্তরীণ মৎস্যজীবী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মোট ২০ হাজারের বেশি মাছ ধরার নৌকা ধ্বংস হয়। ১০ লাখের বেশি গবাদিপশুর মৃত্যু, প্রায় ৪ লাখ ঘরবাড়ি এবং ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. ১৫৮২ সালের ঘূর্ণিঝড়
১৫৮২ সাল
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ

আইন-ই-আকবরি, রিয়াস-উস-সালাতিন এবং বিভিন্ন প্রাচীন নথিপত্রের সূত্র উল্লেখ করে সার্ক প্রকাশিত (১৯৯৮) একটি গবেষণা জানাচ্ছে, ১৫৮২ সালে বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। এই ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না।

৩. গ্রেট বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন
৩১ অক্টোবর-১ নভেম্বর, ১৮৭৬
মৃতের সংখ্যা: ২ লাখ

বর্তমান বরিশাল জেলার একটি উপজেলা হিসেবে পরিচিত হলেও বাকেরগঞ্জ ছিল ব্রিটিশ আমলের একটি জেলা। এই বাকেরগঞ্জ এবং সংলগ্ন অঞ্চলে ১৮৭৬ সালে একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল। বাংলাপিডিয়া এই ঝড়ের তারিখ উল্লেখ করেছে ৩১ অক্টোবর এবং সার্ক (১৯৯৮) প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই ঝড়ের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১ নভেম্বর। মানুষ ও গবাদিপশুর মৃত্যুর হার, ফসল এবং অন্যান্য সম্পদহানির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করে এই ঝড়কে বলা হয় ‘গ্রেট বাকেরগঞ্জ সাইক্লোন’।

প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১
প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১
৪. ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঝড়
২৫-৩০ এপ্রিল, ১৯৯১
মৃতের সংখ্যা: প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার

১৯৯১ সালের ২২ এপ্রিল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। ২৪ এপ্রিল নিম্নচাপটি ০২বি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এবং উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে। অগ্রসর হওয়ার সময় এটি আরও শক্তিশালী হয়। ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এটির তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং এর গতিবেগ পৌঁছায় ঘণ্টায় ১৬০ মাইলে। ২৯ এপ্রিল রাতে এটি চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘণ্টায় ১৫৫ মাইল বেগে আঘাত করে। স্থলভাগে আক্রমণের পর এর গতিবেগ ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং ৩০ এপ্রিল এটি বিলুপ্ত হয়। এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশের ১৯টি জেলার ১০২টি উপজেলা। তবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, খেপুপাড়া, ভোলা, টেকনাফ। ১৯৯১ সালের এই ঝড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন মৃত্যুবরণ করে এবং প্রায় সমপরিমাণ মানুষ আহত হয়।

৫. ১৮২২ সালের ঘূর্ণিঝড়
জুন, ১৮২২
মৃতের সংখ্যা: ৫০ হাজার

ঘূর্ণিঝড়টি সংঘটিত হয়েছিল ১৮২২ সালের জুন মাসে। বরিশাল-বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে হয়ে যাওয়া এ ঘূর্ণিঝড়ে ৫০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ গবাদিপশু মারা যায় এ ঝড়ে।

৬. ১৭৬৭ সালের ঘূর্ণিঝড়
মৃতের সংখ্যা: ৩০ হাজার

বরিশাল-বাকেরগঞ্জের উপকূলীয় অঞ্চলে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল বলে জানা যায়। এ ঝড়ে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৩ মিটার বা ৪৩ ফুট।

৭. ১৮৩১ সালের ঘূর্ণিঝড়
৩১ অক্টোবর, ১৮৩১
মৃতের সংখ্যা: ২২ হাজার

এ ঝড়ে ভারতের ওডিশা উপকূলও প্লাবিত হয়। জলোচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হওয়া ঢেউয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৫ ফুট। বাংলা ও ভারতের উপকূলবর্তী এলাকায় এ ঝড়ে মৃত্যুবরণ করে ২২ হাজার মানুষ। এ ছাড়া এতে ৫০ হাজার গবাদিপশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়।

৮. ১৯৬৩ সালের ঘূর্ণিঝড়
২৮-২৯ মে, ১৯৬৩
মৃতের সংখ্যা: সরকারি হিসাবে ১১ হাজার ৫২০। বেসরকারি হিসাবে ২২ হাজার

এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ এবং নোয়াখালী জেলায়। এর উৎপত্তি হয়েছিল উত্তর আন্দামান সাগরে। এটি ২৮ মে রাতে সীতাকুণ্ড দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড করা হয় ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার। ঢেউয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ২০ ফুট।

৯. ১৯৬৫ সালের ঘূর্ণিঝড়
৯-১২ মে, ১৯৬৫
মৃতের সংখ্যা: ১৯ হাজার ২৭৯

এ ঝড় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে ১১ মে মধ্যরাতে বরিশাল ও নোয়াখালী দিয়ে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করে। এ ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার। জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১২ ফুট। এতে বরিশাল, নোয়াখালী, খুলনা, যশোর, ফরিদপুর, ঢাকা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১০. ১৯৮৮ সালের ঘূর্ণিঝড়
১৪-৩০ নভেম্বর, ১৯৮৮
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার ৬৮৩ জন

এ ঝড় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়ে খুলনার কাছে রায়মঙ্গল নদের কাছ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এটি যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশালের বিভিন্ন চর এবং উপকূলবর্তী দ্বীপগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। বাতাসের বেগ ছিল সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার। জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল সাড়ে ১৪ ফুট।

১১. ১৯৬১ সালের ঘূর্ণিঝড়
৫-৯ মে, ১৯৬১
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার ৪৬৮

এ ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল মূলত ঢাকা, কুমিল্লা ও সংলগ্ন এলাকায়। এ ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার। এটি মেঘনার পশ্চিম মোহনা অতিক্রম করে সকাল নয়টায়। এ ঝড়ে ঢাকা শহরের বেশির ভাগ কাঁচা ঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

১২. উড়িরচর সাইক্লোন
২২-২৫ মে, ১৯৮৫
মৃতের সংখ্যা: ১১ হাজার ৬৯

এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী এবং উপকূলবর্তী দ্বীপ সন্দ্বীপ, হাতিয়া এবং উড়িরচরে। বাতাসের গতিবেগ ছিল চট্টগ্রামে ঘণ্টায় ১৫৪ কিলোমিটার, সন্দ্বীপে ১৩৯ কিলোমিটার, কক্সবাজারে ১০৪ কিলোমিটার। সেই সঙ্গে ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস সংঘটিত হয়। এতে ১১ হাজার ৬৯ জন নিহত হয় এবং ৯৪ হাজার ৩৭৯টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩টি পশুসম্পদ বিনষ্ট হয়। মোট ৭৪ কিলোমিটার সড়ক ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিডর,২০০৭
সিডর, ২০০৭
১৩. সিডর
১৫ নভেম্বর, ২০০৭
মৃতের সংখ্যা: ১০ হাজার (রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি)
সরকারি হিসাব: ৬ হাজার

বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় সিডর। এটি ০৬বি টাইপ ঘূর্ণিঝড়। এ ঝড়ে বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। এ কারণে সাফির-সিম্পসন স্কেল অনুযায়ী এটি ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে চিহ্নিত। খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড করে দেওয়া ঘূর্ণিঝড়টির সময় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১৫ থেকে ২০ ফুট।

১৪. ১৯৬০ সালের ঘূর্ণিঝড়
৩০-৩১ অক্টোবর, ১৯৬০
মৃতের সংখ্যা: ৫,১৪৯

চট্টগ্রামে এ ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯৩ কিলোমিটার। তবে চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে থাকা এস এস বালি নামে সুইডেনের একটি জাহাজ প্রতি ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ২০৯ কিলোমিটার রেকর্ড করেছিল বলে জানা যায়। ৩১ তারিখ এই ঝড় বরিশাল অতিক্রম করে ১৪৮ কিলোমিটার গতিবেগে। এ ঝড়ের কারণে সৃষ্ট ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ২২ ফুট।

১৫. ১৯৪১ সালের ঘূর্ণিঝড়
২২-২৬ মে, ১৯৪১
মৃতের সংখ্যা: ৫,০০০

ভোলা, বরিশাল ও নোয়াখালীর ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল এ ঘূর্ণিঝড়। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভোলা অঞ্চল। এ ঝড়ে সৃষ্টি হওয়া জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ছিল ১০-১২ ফুট।

সূত্র: ১. দ্য ইমপ্যাক্ট অব ট্রপিক্যাল সাইক্লোনস অন দ্য কোস্টাল রিজিয়ন অব সার্ক কান্ট্রিজ অ্যান্ড দেয়ার ইনফ্লুয়েন্স ইন দ্য রিজিয়ন, সার্ক মেটেরোলজিক্যাল রিসার্চ সেন্টার (এসএমআরসি), ১৯৯৮, আগারগাঁও, ঢাকা।

27
বিশ্ব ফ্যাশন বললেই কিছু জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম চলে আসে। ব্র্যান্ডগুলো যাঁরা দাঁড় করান, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সেরা ছিলেন কার্ল লাগারফেল্ড। ছিল বলতেই হচ্ছে, কারণ ১৯ ফেব্রুয়ারি মারা গেছেন ফ্যাশনের এই মহান কারিগর।

১৯৩৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কার্ল। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। প্যারিসভিত্তিক অভিজাত ব্র্যান্ড শ্যানেলের সৃজনশীল পরিচালক পদে কাজ করতেন। সেট ডিজাইন করা, অভিজাত পোশাক ও সান্ধ্য পোশাক তৈরি, ব্যাগের নিত্যনতুন ডিজাইন আর গয়নার নকশা করায় তাঁর সমকক্ষ ছিল না আর কেউ। ইতালীয় ব্র্যান্ড ফেন্দির পশমি পোশাকগুলো নকশার দিকনির্দেশনাও দিতেন তিনি। ছবি তুলতেন, শিল্পের সমঝদার ছিলেন ও ক্যারিকেচার আঁকতেন দক্ষ হাতে। আরও ভালোবাসতেন ফ্যাশনের ওপরে চলচ্চিত্র তৈরি করতে। মাথাভরা সাদা চুল, কালো রোদচশমা, আঙুলবিহীন দস্তানা আর কড়া মাড় দেওয়া উঁচু সাদা কলার তোলা কালো স্যুট—নিজের জন্য এই ফ্যাশনই নির্ধারিত করে নিয়েছিলেন কার্ল। কালে কালে এই সজ্জাই হয়ে উঠেছে তাঁর আইকনিক ইমেজ বা চিরচেনা রূপ।
 
ফ্যাশন মঞ্চে সবসময় চমক তৈরি করতেন লাগারফেল্ড
ফ্যাশন মঞ্চে সবসময় চমক তৈরি করতেন লাগারফেল্ড
বিশ্ব ফ্যাশন বললেই কিছু জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম চলে আসে। ব্র্যান্ডগুলো যাঁরা দাঁড় করান, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সেরা ছিলেন কার্ল লাগারফেল্ড। ছিল বলতেই হচ্ছে, কারণ ১৯ ফেব্রুয়ারি মারা গেছেন ফ্যাশনের এই মহান কারিগর।

১৯৩৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কার্ল। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। প্যারিসভিত্তিক অভিজাত ব্র্যান্ড শ্যানেলের সৃজনশীল পরিচালক পদে কাজ করতেন। সেট ডিজাইন করা, অভিজাত পোশাক ও সান্ধ্য পোশাক তৈরি, ব্যাগের নিত্যনতুন ডিজাইন আর গয়নার নকশা করায় তাঁর সমকক্ষ ছিল না আর কেউ। ইতালীয় ব্র্যান্ড ফেন্দির পশমি পোশাকগুলো নকশার দিকনির্দেশনাও দিতেন তিনি। ছবি তুলতেন, শিল্পের সমঝদার ছিলেন ও ক্যারিকেচার আঁকতেন দক্ষ হাতে। আরও ভালোবাসতেন ফ্যাশনের ওপরে চলচ্চিত্র তৈরি করতে। মাথাভরা সাদা চুল, কালো রোদচশমা, আঙুলবিহীন দস্তানা আর কড়া মাড় দেওয়া উঁচু সাদা কলার তোলা কালো স্যুট—নিজের জন্য এই ফ্যাশনই নির্ধারিত করে নিয়েছিলেন কার্ল। কালে কালে এই সজ্জাই হয়ে উঠেছে তাঁর আইকনিক ইমেজ বা চিরচেনা রূপ।
লাগারফেল্ড পোশাক নকশায় যেমন ছিলেন দক্ষ তেমনি ফ্যাশন শোর মঞ্চ তৈরিতেও দেখাতেন চমক
লাগারফেল্ড পোশাক নকশায় যেমন ছিলেন দক্ষ তেমনি ফ্যাশন শোর মঞ্চ তৈরিতেও দেখাতেন চমক

RFL Gas Stoveদারুণ যত সৃষ্টি

বিভিন্ন ফ্যাশন উইকে শ্যানেলের জন্য চিরস্মরণীয় কিছু সেট তৈরি করে গেছেন তিনি। ২০০৬ সালে রানওয়ের মধ্যে পুঁতে দিলেন বিশাল এক টাওয়ার। তার সিঁড়ি বেয়ে ঘুরে ঘুরে সাদাকালো পোশাক পরে নামলেন মডেলরা। বছর তিন পরে টাওয়ার সরিয়ে বসালেন বাচ্চাদের খেলার মাঠের ক্যারোসেল, তাতে মুক্তো দিয়ে তৈরি খেলনা ঘোড়া আর শ্যানেলের ব্যাগের সমাহার। কার্ল কখনো র‌্যাম্পে ক্যাসিনো বসিয়েছেন, কখনো সুপারমার্কেট। একবার বিমানের খোলে র‌্যাম্প বানালেন, তো পরেরবার সাগরতলে ডুব দিলেন। ২০১৫ সালে শো শেষে সব মডেল সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে মুখে স্লোগান, হাতে প্ল্যাকার্ড হাতে নেমে পড়ল র‌্যাম্পে, পুরোধা ছিলেন কার্ল। সবচেয়ে সাড়া জাগিয়েছিলেন এই বছরেই, হোটেলের ভেতরেই তৈরি করেছিলেন সমুদ্র। মডেলরা জুতো হাতে, হেসেখেলে হেঁটে বেড়িয়েছেন ঘরোয়া সমুদ্রসৈকতে।

ফ্যাশনে দৃঢ়তা:
সাদাকালো রং, প্যাস্টেল রঙের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল লাগারফেল্ডের। চলতি ধারা মেনে চলতেন। শেষ র‌্যাম্পে লেগোর ছাঁটে তৈরি টপ ও জিনস এনেছিলেন। পোশাকে জ্যামিতিক রেখা ও পাইপিং খুব পছন্দ করতেন। ভবিষ্যতের পোশাক নিয়ে ভাবতেন, পুনরায় উৎপাদন করা যায় এমন প্লাস্টিকের পোশাক বানিয়েছিলেন। গোলাপি র‌্যাফেল মোড়ানো সেই গোলাপি গাউনটি আরও অনেক দিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে মানুষের মনে। টুইডকে জ্যাকেট থেকে বের করে নতুন রূপ দিয়েছিলেন ব্যাগ, জিনস এবং পোশাকে ব্যবহার করার মাধ্যমে।
অনুষঙ্গের সাধনা
পোশাকের সঙ্গে অনুষঙ্গ মেলাতে ভারী পছন্দ করতেন কার্ল। আজকাল যে চেইনযুক্ত ব্যাগ দেখি হাতে হাতে, তার আধুনিক নকশা কার্লের হাতে করা। মুক্তোর মালার সঙ্গে মানানসই স্ট্রিং বসিয়ে তাতে যেকোনো পোশাকের সঙ্গে মানানসই করার ভাবনার জনক তিনি। ডেভিল অয়্যারস প্রাডা সিনেমায় অ্যানা হাতওয়ের গলায় ঝোলা মুক্তোর মালাটি তাঁর সম্মানেই পরানো হয়েছিল। শ্যানেলের লোগোটিকে গয়নায় রূপ দেওয়ার সাহসটিও তিনিই প্রথম করেছিলেন।

কার্লের স্মরণে
৫৪ বছর ধরে ইতালীয় ব্র্যান্ড ফেন্দির সঙ্গে কাজ করেছেন কার্ল লাগারফেল্ড। মিলান ফ্যাশন উইকে রানওয়ের পুরোটা সময় জুড়ে ফেন্দি স্মরণ করল কার্ল লাগারফেল্ডকে। প্রথম পনেরো মিনিটজুড়ে প্রদর্শিত হয়েছে কার্লের ডিজাইন করা পোশাকগুলো, পরের সময়জুড়ে ছিল কার্লের পছন্দের ফ্যাশন ও ডিজাইনের অনুপ্রেরণায় তৈরি পোশাকসমূহ। রানওয়ের কার্পেটজুড়ে ছিল কার্লের উদ্ভাবিত ক্যালিগ্রাফির মনোগ্রাম। সবশেষে একা রানওয়েতে হাঁটলেন ফেন্দির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন, সিলভিয়া ফেন্দি, যাঁর সঙ্গে কার্লের সখ্য ছিল বহুকালের। ফ্যাশন শো এমন শোকাবহও হতে হয়!

28
 
চিম্বুক পাহাড়ের বাগান রাজা তোয়ো ম্রো
চিম্বুক পাহাড়ের বাগান রাজা তোয়ো ম্রো
লোকটির নাম তোয়ো ম্রো। তবে বান্দরবানে চিম্বুক পাহাড়, রুমা, থানচি থেকে ত্রিপুরা ও বম সম্প্রদায়ের মানুষেরা সবাই তাঁকে চেনে একনামে—তোয়ো মাস্টার। পাহাড়ের জুমচাষিদের যাযাবর চাষের জীবন থেকে বাগানের চাষে আসার পথপ্রদর্শক তিনি। নিজে তো বাগান করে ভাগ্য বদল করেছেনই, অন্যদেরও শিখিয়েছেন বাগান করার কৌশল।

বদলে গেছে পুরো জনপদটার চিত্র। একদিন এই জনপদে ছিল খাদ্যাভাব। ম্রোদের মতে, চিম্বুক পাহাড়ে ম্রোলংপাড়া থেকে ডিম পাহাড় ও রংরাং পাহাড় হয়ে মিয়ানমার সীমানা পর্যন্ত শুধু ম্রো জনগোষ্ঠী বসবাস করে। এখানে মারমাদের পরে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ম্রো সম্প্রদায়। কিন্তু শিক্ষায়-সংস্কৃতিতে অনগ্রসর হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও শতভাগ জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

তোয়ো তখন ছোট। আবাসিক এক স্কুলে যেতেন। একদিন স্কুলের পাট সাঙ্গ করে তাঁকে নামতে হয় জুম চাষে। এক বছরের খোরপোশের জুম চাষ, প্রতিবছর জমি বদল। জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জুমের জমির ওপর চাপ পড়ছে। আগের মতো আর ফসল হয় না। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিল। এক বেলা খাবার জোটে তো আরেক বেলা জোটে না। সেই সময়ে একদিন ওয়ার্ল্ড ভিশনের কৃষক প্রশিক্ষণে জেলা শহরে এসেছিলেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উচ্চ ফলনশীল রেড লেডি পেঁপে চাষ দেখানোর জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়। রেড লেডির উচ্চ ফলন দেখে তোয়ো ঠিক করেন, এ কাজটাতে ভাগ্য যাচাই করবেন তিনি।
২০০৫ সালে বিএডিসি থেকে রেড লেডির চারা নিয়ে বাগান শুরু করেন। শুরুতেই তিন লাখ টাকা আয় করে এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি নিজেও অবাক হয়েছেন বাগানে এত লাভ দেখে। ২০০৭ সালে আমবাগান শুরু করেন। আম্রপালি, মল্লিকাসহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান। লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় জাতের রাংগোয়াই চাষ করেছেন বেশি। তিনি নিজে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএডিসি ও ওয়ার্ল্ড ভিশনে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এবং অন্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। চিম্বুক পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম। তিনি নিজেও চিম্বুক ফলচাষি সমবায় সমিতি গঠন করে সড়কের আশপাশে বসবাসরত লোকজনকে বাগান চাষে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

বান্দরবানের পাহাড়ের গল্প এখন অন্য কিছুই। চাষিরা এখানে ড্রাগন, আম, আপেল, কুল, সফেদা বাগান করেন। বাগানে সেচের জন্য স্তরে স্তরে উঁচু জায়গায় পানির ট্যাংক বসানো হয়েছে। দারুণ এ বাগান দেখতে দল বেঁধে মানুষ আসে।

সম্প্রতি সেরা কৃষি উদ্যোগ (ব্যক্তি) ক্যাটাগরিতে তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার ২০১৮ পেয়েছেন তোয়ো মাস্টার।

29
 রাজধানী ঢাকায় অনঅনুমোদিত পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্ট যানজট কমাতে ‘ইয়েস পার্কিং’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বাংলা ট্র্যাক গ্রুপ। বাংলা ট্র্যাক গ্রুপ মূলত বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং আইসিটি খাতের পণ্য ও সেবার জন্য খুবই পরিচিত। ইয়েস পার্কিং অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি এবং ব্যক্তি ঘণ্টা ভিত্তিতে পার্কিং স্পেস ভাড়া নিতে পারবেন।

ইয়েস পার্কিং মূলত ডিজিটাল পার্কিং প্লেস হিসেবে সেবা দেবে, যার মাধ্যমে মানুষকে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য উন্মুক্ত স্পেস খুঁজে পেতে সহায়তা করবে এবং মালিকরা তাদের পার্কিং স্পেস ভাড়া দিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন। এই প্ল্যাটফর্মটি নগরবাসীর জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে পার্কিং স্পেস শনাক্ত ও রিজার্ভ করতে সহায়তা করবে, যা রাজধানীতে পিক আওয়ারে গাড়ির যানজট কমাবে। এছাড়াও যদি কোনো পার্কিং স্পেস খালি বা অব্যবহৃত থাকে তাহলে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মালিকরা সেটা ভাড়া দিতে পারবেন।

বাংলা ট্র্যাক গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা মানুষের প্রয়োজন বিবেচনা করি এবং সচেতনতার সঙ্গে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো (যেমন: নেভিগেশন ও পার্কিং স্পেস খুঁজে পেতে) সমাধান করতে পরিকল্পনা করি। আমরা স্বীকার করি যে, এসব বিষয়ে আরো অগ্রগতি হতে পারে এবং আমরা এর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। এখন পার্কিং স্পেস কোনো সমস্যাই না।’

‘ইয়েস পার্কিং অ্যাপটি প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাবে। এ ধরনের উদ্ভাবনী কাজের জন্য বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের তালিকাভুক্ত হয়েছে বাংলা ট্র্যাক।

30
মূলত দ্বীপের নাম অনুসারে তাদের সেন্টিনেলিজ বলে ডাকা হয়। দ্বীপের বাসিন্দারা সভ্যতার দীপ্ত আলো এখনো দেখতে পারেননি৷ তাদের মধ্যে কৃষিকাজ করা বা আগুন ব্যবহারে প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তারা খুবই রক্ষণশীল ও বাইরের জগতকে এড়িয়ে চলে।

আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে সেন্টিনেলিজসহ গ্রেট আন্দামানিজ, অনেজ, জারাওয়া চারটি উপজাতি গোত্র বাস করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা বন্দীদের আটকে রাখার জন্য আন্দামানের স্ট্রেইট দ্বীপে কারা কলোনি স্থাপন করে। দুই বছর পর স্থানীয় গ্রেটার আন্দামালিজদের সাথে ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। তবে সেন্টিনেলিজরা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা হওয়ায় বিট্রিশদের ঔপনিবেশিক শাসনের আওতার বাইরে থেকে যায়।

২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী সেন্টিনেলিজদের জনসংখ্যা প্রায় ৪০ জন। কাপড়বিহীন হওয়ায় বন্য লতাপাতা দিয়ে শরীর ঢেকে রাখে। তারা শিকার নির্ভর জাতি। সমুদ্র থেকে তীর দিয়ে মাছ শিকার করে। এছাড়াও বুনো শূকর, কলা আর মধু তাদের প্রধান খাবার।

বহিরাগতদের ওপর আক্রমণাত্মক মনোভাব ও বর্হিবিশ্বের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ প্রতিরোধ করার জন্য তারা বিশেষভাবে পরিচিত।

১৯৭৪ সালে নৃতত্ববিদ ত্রিলোকনাথ পণ্ডিত দ্বীপে গিয়ে তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের জন্য সমুদ্র সৈকতে খাবার ছড়িয়ে উপহার হিসাবে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করেন।কিন্তু তাদের কাছ থেকে নতুন রোগের বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় অভিযানগুলো বন্ধ করে দেন।

১৯৮১ সালের হংকং এর জাহাজ প্রাইমরস সেন্টিনেল দ্বীপের কাছে নোংগর করলে সেন্টিনেলিজরা আক্রমণের প্রস্তুতি নেয়। এমন অবস্থায় এক সপ্তাহ পর ভারতীয় নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার জাহাজে থাকা নাবিককে উদ্ধার করে। ২০০৪ সালের ভয়াবহ সুনামির পর ভারতীয় কর্মকর্তারা দ্বীপটির ওপর আকাশ থেকে জরিপের সময় দ্বীপের বাসিন্দারা হেলিকপ্টারটি তীর ছুড়ে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা চালায়। ২০০৬ সালে দুই জন জেলে মাছ ধরতে দ্বীপের কাছাকাছি গেলে নির্মম ভাবে হত্যা করে।

সম্প্রতি এই বছরের নভেম্বরে এক মার্কিন পর্যটক তাদের সাথে দেখা করতে গেলে হত্যা করে তারা।

উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপটি ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের একটি শাসিত অংশ। ভারত সরকার অনিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে দ্বীপটিতে পরিদর্শন অভিযান এবং সাধারণ জনগণকে দ্বীপটিতে যেতে নিরুৎসাহিত করে। বাস্তবে সেন্টিনেলিজরা সর্ব প্রকার নিজস্ব স্বাধীনতা ভোগ করে৷ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে সেন্টিনেলিজ জাতি ছাড়া অন্য জাতিগোষ্ঠীর সাথে বাইরের মানুষের অনেক ভালো যোগাযোগ রয়েছে।

Pages: 1 [2] 3 4 ... 6