Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Shakil Ahmad

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 12
31
শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদেই শান্তি খুঁজে নিলেন অনিল কুম্বলে। ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ নিয়ে যে ঝামেলা হচ্ছিল, সেটির শেষ টেনে দিলেন ভারতের কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে। গতকালই নিজের পদত্যাগপত্র ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কাছে জমা দিয়েছেন কুম্বলে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরুর আগেই কোহলি-কুম্বলের বিরোধের গুঞ্জন ওঠে। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজে একাদশ সাজানো, দল ব্যবস্থাপনা, চোট বা ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে খেলোয়াড়দের প্রতি কুম্বলের দৃষ্টিভঙ্গি—এসব নিয়েই দেখা দেয় মতবিরোধ। সেটির জেরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে নতুন কোচ চেয়ে বিজ্ঞাপনও দেয় বিসিসিআই। কুম্বলের মূল চুক্তিটা শেষ হওয়ার কথা ছিল গতকালই।

অথচ কদিন আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পর্যন্ত কুম্বলেকে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিসিআই। ২৩ জুন থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ ওয়ানডে ও এক টি-টোয়েন্টির সিরিজটি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে লন্ডন থেকেই কোহলিসহ ভারতীয় দল সেখানে চলেও গেছে। তবে কুম্বলে যাননি। আইসিসির ক্রিকেট কমিটির সদস্য তিনি, গত পরশু শুরু হওয়া আইসিসির বার্ষিক সভায় থাকবেন বলেই দলের সঙ্গে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। এরই মধ্যে কাল দিয়ে দিলেন ইস্তফা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলী ও ভিভিএস লক্ষ্মণকে নিয়ে গঠিত বিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা কমিটি চেষ্টা করেছিল কোহলি ও কুম্বলের মধ্যে এই বিবাদ মেটানোর। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি চলার সময়ে দুজনের সঙ্গেই কথা বলেছে কমিটি। তবে কোহলি নাকি তখনই জানিয়ে দিয়েছিলেন, কুম্বলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা ভাঙনের ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ এসে পৌঁছেছে।

সাফল্যের হিসাবে ভারতের কোচের পদে অবশ্য দারুণ করেছেন কুম্বলে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারলেও, গত এক বছরে তাঁর অধীনে মাত্র একটি সিরিজেই হেরেছে ভারত। টাইমস অব ইন্ডিয়া, ডেকান ক্রনিকল।

32
সুনীল গাভাস্কার একটা ব্যাপার ভেবে পাচ্ছেন না। ভারতীয় ক্রিকেট দলের যে খেলোয়াড়েরা কোচের পদে অনিল কুম্বলেকে দেখতে চাননি, তাঁরা আসলে কী চান? এমন একজন কোচ, যিনি অনুশীলনের কথা না বলে খেলোয়াড়দের বলবেন শপিংয়ে যেতে? তাঁর দুঃখ কুম্বলের মতো কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাসী একজন কোচ ভারতীয় দলের দায়িত্বে থাকতে পারলেন না বলে। ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি মনে করেন, যেসব খেলোয়াড়ের কারণে কুম্বলেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে, তাঁদের দল থেকেই বাদ দেওয়া উচিত।

বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই কথাগুলো বলেছেন গাভাস্কার, ‘তাহলে তারা নরম কাউকেই চায়। এমন একজনকে তারা চায়, যে বলবে, “ঠিক আছে, আজকে অনুশীলন করতে হবে না। তোমরা হয়তো একটু ক্লান্ত। ঠিক আছে আজ তোমাদের ছুটি। দল বেঁধে শপিং করে আসতে পারো।” খেলোয়াড়েরা এমনই চাইছে। অনিল কুম্বলের মতো একজন কোচ, যিনি পরিশ্রম করতে ও করাতে পছন্দ করেন, গত এক বছরে যিনি দলকে ভালো করতে সহায়তা করেছেন, আপনি চাইবেন, এমন কেউই দলের কোচ হিসেবে থাকুক। কিন্তু যেসব খেলোয়াড়ে তাঁর বিরুদ্ধে নালিশ দিয়েছে, তাদের দল থেকে বাদই দেওয়া উচিত।’

কুম্বলেকে নিয়ে অধিনায়ক বিরাট কোহলির আপত্তি ছিল। আপত্তি ছিল দলের অনেক সিনিয়র খেলোয়াড়েরই। গাভাস্কারের বক্তব্য অনুযায়ী, দল থেকে তো সবচেয়ে আগে বাদ পড়েন কোহলি। তবে ভারতের সাবেক ওপেনার ব্যাপারটি এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি জানি না কোহলির সঙ্গে কুম্বলের কী হয়েছে! তবে কুম্বলের পদত্যাগ ভারতীয় ক্রিকেটের একটা বাজে উদাহরণ।’

অধিনায়কের সঙ্গে কোচের মতপার্থক্যের অবশ্য কোনো সমস্যা দেখেন না গাভাস্কার, ‘গত এক বছরে আমি কুম্বলের কাজে কোনো সমস্যা দেখিনি। এই সময় ভারত সম্ভব সবকিছুই জিতেছে। দলে মতের অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু যতক্ষণ দল ভালো করছে, ততক্ষণ কোনো সমস্যা আমি দেখি না।’

কুম্বলের সরে যাওয়াতে দুঃখই পেয়েছেন গাভাস্কার, ‘অনিলের নিশ্চয়ই সরে দাঁড়ানোর কারণ ছিল। আমি মনে করেছিলাম, কুম্বলে বোধ হয় থেকে যাবেন। যেখানে সিএসি তাঁর প্রতি আস্থা দেখিয়েছে, সেখানে তাঁর কোচের পদে থেকে যাওয়াই উচিত ছিল। আশা করি, তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন। এই প্রথম আমি দেখলাম, অনিল কুম্বলের মতো একজন লড়াকু সৈনিক রণে ভঙ্গ দিচ্ছেন।’ সূত্র: এনডিটিভি।

33
নিজের পদত্যাগপত্রটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করেই বিতর্কের নতুন সলতে জ্বালিয়ে দিয়েছেন অনিল কুম্বলে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও এর কারণটা তিনি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।
পদত্যাগপত্রের শুরুতেই কোচ হিসেবে তাঁর মেয়াদকালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও খেলোয়াড়দের। কৃতিত্বের তালিকায় যে কোচও থাকছে, সেটিও উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ করেছেন অন্য কোচিং স্টাফদের কথাও।
গতকালই কুম্বলে জানতে পারেন ভারতীয় দলে কোচের পদে তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যাপারে অধিনায়ক কোহলির আপত্তির কথা। একই সঙ্গে জানতে পারেন তাঁর কোচিং-স্টাইলও অধিনায়কের পছন্দ নয়। ভারতের সাবেক এই লেগ স্পিনার তাঁর পদত্যাগপত্রে ব্যাপারটি নিয়ে বিস্ময়ই প্রকাশ করেছেন। লিখেছেন, ‘আমি ব্যাপারটা শুনে খুব অবাক হয়েছি। কোচ ও অধিনায়কের সম্পর্কের সীমা আমি সব সময়ই মেনে এসেছি। বোর্ড কোচ ও অধিনায়কের মধ্যকার ভুল-বোঝাবুঝি মেটানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এটি আর হওয়ার নয়। তাই আমি ভাবলাম সরে যাওয়াই ভালো।’


কুম্বলের পদত্যাগে কোহলির আপত্তিই মূল। ফাইল ছবি।নিজের পদত্যাগপত্রটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করেই বিতর্কের নতুন সলতে জ্বালিয়ে দিয়েছেন অনিল কুম্বলে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও এর কারণটা তিনি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।
পদত্যাগপত্রের শুরুতেই কোচ হিসেবে তাঁর মেয়াদকালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও খেলোয়াড়দের। কৃতিত্বের তালিকায় যে কোচও থাকছে, সেটিও উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ করেছেন অন্য কোচিং স্টাফদের কথাও।
গতকালই কুম্বলে জানতে পারেন ভারতীয় দলে কোচের পদে তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যাপারে অধিনায়ক কোহলির আপত্তির কথা। একই সঙ্গে জানতে পারেন তাঁর কোচিং-স্টাইলও অধিনায়কের পছন্দ নয়। ভারতের সাবেক এই লেগ স্পিনার তাঁর পদত্যাগপত্রে ব্যাপারটি নিয়ে বিস্ময়ই প্রকাশ করেছেন। লিখেছেন, ‘আমি ব্যাপারটা শুনে খুব অবাক হয়েছি। কোচ ও অধিনায়কের সম্পর্কের সীমা আমি সব সময়ই মেনে এসেছি। বোর্ড কোচ ও অধিনায়কের মধ্যকার ভুল-বোঝাবুঝি মেটানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এটি আর হওয়ার নয়। তাই আমি ভাবলাম সরে যাওয়াই ভালো।’
অনিল কুম্বলের পদত্যাগপত্রআক্ষেপ করেই কুম্বলে লিখেছেন, ‘পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সততা ও চিন্তাভাবনার ভিন্নতা—আমি দলে এসবই আনতে চেয়েছি। এসবের মূল্য দেওয়া উচিত ছিল। কোচের ভূমিকাটা আসলে একটা আয়নার মতো, যাতে খেলোয়াড়েরা নিজেদের দেখতে পায়। নিজেদের দেখে উন্নতি করতে পারে।’
এদিকে পদত্যাগের আগেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) উপদেষ্টা কমিটি (সিএসি) পরিস্থিতি উন্নতির চেষ্টা চালায়। কিন্তু শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলী ও ভিভিএস লক্ষ্মণের ‘সিএসি’ তাতে ব্যর্থই হয়েছে। অধিনায়কের আপত্তির মুখে ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে কাজ করে যাওয়াটা আত্মসম্মানেই বেধেছে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও সফল এই স্পিনারের।
কুম্বলের পদত্যাগ আলোড়ন তুলেছে ভারতীয় ক্রিকেটে। সাবেক স্পিনার বিষেণ সিং বেদী অবাক নন কুম্বলের এই পদত্যাগে। তাঁর মতে, কোনো আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন ব্যক্তি এমন পরিবেশে কাজ করতে পারেন না।
সুনীল গাভাস্কার মনে করেন, কুম্বলের পদত্যাগকে ভারতীয় ক্রিকেটের কালো অধ্যায়ই। সূত্র: টুইটার, এনডিটিভি।

34
চার ম্যাচে মাত্র ১ উইকেট। স্ট্রাইক রেট ১৭৪। ইকোনমি রেট ৬.৩১। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, এটা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং পারফরম্যান্স!

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের কোনো বোলারই সফল নন। তবু মোস্তাফিজের ব্যর্থতা নিয়েই বেশি আলোচনা। কারণ, দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেই বিস্ময় জাগিয়েছিলেন এই তরুণ বাঁহাতি পেসার। সেই থেকে তাঁর কাছে প্রত্যাশাও বেশি। বাংলাদেশ দলের আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ কাল ব্যাপারটা বেশ বুঝিয়ে বললেন, ‘দর্শকদের কথা কী বলব, আমাদের খেলোয়াড়দেরই তার কাছে অনেক বেশি প্রত্যাশা। ও বিশেষ কিছু না করলেই মনে হয় খুব বুঝি খারাপ বোলিং করল।’

মোস্তাফিজের খারাপ সময়টাকে তাসকিনের মনে হচ্ছে সাময়িক। কিন্তু একটু গভীরে গেলে বিষয়টা নিয়ে একটা শঙ্কাও যে জাগছে!

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মোস্তাফিজুর রহমানের ‘স্টক বল’ কাটার দেখতে না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ সরওয়ার ইমরান। তাঁর ধারণা, মোস্তাফিজের বোলিংয়ে কিছু একটা বদলাতে গিয়েই গড়বড় হয়ে যাচ্ছে কাটারে।

মোস্তাফিজের কাটার অনেকটাই কন্ডিশন-নির্ভর। বাংলাদেশ বা উপমহাদেশের উইকেটে সেটা যে রকম হয়, ইংল্যান্ডের উইকেটে সে রকম হয়নি। কিন্তু শুধুই কি উইকেট আর কন্ডিশন? তাঁর কাটারের ধার কমে যাওয়ার আর কোনো কারণ নেই তো!

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কিন্তু উইকেটের পাশাপাশি সম্ভাব্য আরও কয়েকটা কারণের কথা বললেন কাল, ‘একটা হতে পারে তার খারাপ সময় যাচ্ছে। এটা সব ক্রিকেটারেরই যায়। অথবা অন্য দলগুলো তার বোলিং খুব ভালোভাবে পড়ে ফেলেছে। আরেকটা হলো ক্যারিয়ারের শুরুতেই ওর চোটে পড়া। হয়তো ভেতরে একটা ভয় কাজ করে। কাটারের পাশাপাশি আরও কিছু বোলিংয়ের অনুশীলন করেছে মোস্তাফিজ। সেটারও একটা প্রভাব পড়ে থাকতে পারে।’

মাশরাফির শেষ কথাটা শুনে মনে হয়, সরওয়ার ইমরানের পর্যবেক্ষণ পুরোপুরি ভুল নয়। দলের একটি সূত্রেও জানা গেছে প্রায় একই রকম তথ্য। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে থেকেই মোস্তাফিজের বোলিংয়ে নতুন কিছু অস্ত্র যোগ করার চেষ্টা করেছেন জাতীয় দলের কোচিং স্টাফরা। বিশেষ করে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে যেন বল ভেতরে ঢোকাতে পারেন, সেটা।

বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার এই চেষ্টাই মোস্তাফিজের কাটারের ধার কমিয়ে দিচ্ছে—এমন পর্যবেক্ষণ দলের ভেতরেও আছে। বল ভেতরে ঢোকাতে গিয়ে মোস্তাফিজকে উল্টোভাবে কবজি ঘোরাতে হচ্ছে। নেটে কাটারের অনুশীলন কমিয়ে এই অনুশীলনটাই বেশি বেশি করাতে ম্যাচে কাটার দিতে সমস্যায় পড়ছেন তিনি। উইকেটের সাহায্য পেলে তবু কিছু হতো। ইংল্যান্ডে তো সেটাও ছিল না! এ ছাড়া একটা মানসিক দ্বিধা-দ্বন্দ্বও তৈরি হয়েছে মোস্তাফিজের মধ্যে। নেটে যে বলটা বেশি অনুশীলন করবেন, বোলার ম্যাচে সেটাই বেশি করতে চাইবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক সদস্যের মন্তব্য, ‘ড্রেসিংরুম থেকে যখন বলে দেওয়া হয়, অমুক ডেলিভারিটা ভালো করে দেওয়ার চেষ্টা করো, তখন বোলারের মনে অদৃশ্য একটা চাপ আসে। সে তখন ওটাই করার চেষ্টা করে। মোস্তাফিজও সেটা করতে গিয়েই (বল ভেতরে ঢোকানো) সমস্যায় পড়েছে। ওর শক্তি কাটার। এই স্টক বল তাকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হতে সাহায্য করবে। তার উচিত, সেটা ঠিক রেখে অন্য কিছুর চেষ্টা করা।’

শুধু শক্তি নয়, বলা যায় মোস্তাফিজের বোলিংয়ের একমাত্র অস্ত্রই হলো কাটার। কাটার ছাড়া মোস্তাফিজ আর গুলি ছাড়া বন্দুক যেন একই কথা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে তূণে আরও তির থাকা চাই। মোস্তাফিজের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা কোচরা সে কারণেই করেছেন। কিন্তু নতুন কিছু আরোপ করতে গিয়ে বোলিংয়ের সহজাত গুণ কেন হারিয়ে যাবে? মোস্তাফিজ তা নিতে পারছেন না, নাকি কোচরাই ওষুধটা দিতে পারছেন না ঠিকভাবে?

মাশরাফি সে আলোচনায় না গিয়ে দলের সব বোলারকে দিলেন একটা বার্তা, ‘শুধু মোস্তাফিজের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। এটা ওর ওপর এবং দলের ওপরও চাপ তৈরি করে। এমন তো নয় যে ব্যাটিং উইকেটে অন্য দেশের বোলাররা কেউ ভালো বল করেনি। সত্যি কথা হলো, আমরা দল হিসেবেই ভালো বোলিং করতে পারিনি।’

অধিনায়কের কথায় মোস্তাফিজের ওপর চাপ কি একটু কমল? মাশরাফির পরামর্শ অবশ্য আছে তাঁর জন্যও, ‘খেলার মধ্যে থাকলে অনেক কিছুই বোঝা যায় না। এখন অনেকটা সময় ফাঁকা। ওর উচিত হবে বিষয়টা নিয়ে ভাবা। কোথায় তার সমস্যা, বোলিংয়ে তার আর কী যোগ করা উচিত। নিজের চেয়ে বড় কোচ আর কেউ নেই।’

35
যেভাবে অনিল কুম্বলেকে সরে যেতে বাধ্য করা হলো, তা মানতে পারছেন না ভারতের ক্রিকেট সমর্থকেরা। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে হেরে যাওয়ার ক্ষত টাটকা বলে ক্ষোভটা যেন আরও বেশি হলো। কুম্বলে খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘদিন ভারতের ক্রিকেটের সৈনিক ছিলেন। ভারতের ক্রিকেটের সবচেয়ে দুঃসময়ে অধিনায়কের ভার নিয়ে দলকে স্থিতি এনে দিয়েছিলেন। আপাদমস্তক নিপাট ভালো মানুষটি কোচ হিসেবেও এনে দিয়েছেন অবিশ্বাস্য সাফল্য। শুধু তাঁর ‘স্টাইল’ কোহলির পছন্দ নয় বলে এবার সরে যেতে বাধ্য করা হলো! ক্ষোভে-বিস্ময়ে ফেটে পড়েছেন ভারতের সমর্থকেরা।

এই ক্ষোভের লাভা স্রোতের দেখা মিলছে টুইটারে। সেখানে কেউ কোহলিকে বলছেন উদ্ধত, স্বার্থপর। কেউ বলছেন, কোহলি কি এখন ভারতের ক্রিকেটের ঈশ্বর? কারও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য, কোহলিকে ভারতের ক্রিকেটের সর্বেসর্বা করে দাও। সে-ই সব করুক। কোচ, অধিনায়ক, নির্বাচক।
কাসুকুর্তি সুরেশ নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে খেলা আর দেশ অনেক বড়। এখন কোহলিকে সরানোর দাবি তুলছি।’
হিমাদ্রি নামের একজন টুইট করেছেন, ‘কোহলি খুবই উদ্ধত। এই প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা খুবই বেয়াদব। তারা সিনিয়রদের কাউকে সম্মান করে না। সব সময় নিজের সুবিধাটা দেখে।’
কার্তিকেয়ানের মন্তব্য, ‘খেলোয়াড়ের প্রথম যোগ্যতা হলো কোচের প্রতি শ্রদ্ধা। এখন ওর অনেক টাকা, অনেক গোমড়। এসব কোহলি বলেই সম্ভব।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, কোচ হিসেবে কুম্বলে নাকি খুবই কড়া। এতটুকু ছাড় দেন না। এটাই নাকি কোহলিসহ কিছু তারকা খেলোয়াড়ের পছন্দ নয়। এ সূত্র ধরে সৈয়দ হানজলা রহমান টুইট করেছেন, ‘ব্যাপারটা দাঁড়াল এমন, আপনি আপনার টিউশন শিক্ষককে ছাঁটাই করে দিলেন, কারণ তাঁর অপরাধ তিনি খুব সকালে পড়াতে আসেন।’
কেউ কেউ বলছেন, কোহলিকে অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। অধিনায়কের পদে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ফিরিয়ে আনার পক্ষে কেউ কেউ। কেউ নতুন অধিনায়ক হিসেবে অজিঙ্কা রাহানের নামও প্রস্তাব করেছেন।
কোহলির পক্ষেও যে কেউ বলছেন না, তা নয়। অনেকে বলছেন, পুরো ঘটনার শুধু একটা দিক জেনে মন্তব্য করা ঠিক নয়। এ ব্যাপারে শুধু কুম্বলের দিকটাই সবাই দেখছে। কোহলিরও নিশ্চয়ই কোনো যুক্তি বা বক্তব্য আছে। দেবানসি নামের একজন যেমন টুইট করেছেন, ‘আমিও কারও কারও কাজের ধরনে স্বস্তিবোধ করি না। তার মানে কি আমি খারাপ হয়ে গেলাম? দুটি ভালো মানুষের নিজেদের মধ্যে কি ভিন্নমত থাকতে পারে না? এর মানে কি একজনকে এর জন্য খারাপ হতেই হবে? কুম্বলের পদত্যাগের জন্য আমি কোহলিকে ঘৃণা করি না, কিন্তু কুম্বলেকেও শ্রদ্ধা করি।’
বিষয়টি স্পর্শকাতর বলেই হয়তো ভারতের সাবেক খেলোয়াড় বা তারকারা এ নিয়ে এখনো তেমন সরব নন। তবে ভিনদেশিদের তো সেই দায় নেই। ডিন জোন্স ক্রিকেটের সেই চিরকালীন প্রশ্নটা তাই আবার করলেন, ‘তাহলে ক্রিকেটে বস কে? কোচ, নাকি অধিনায়ক?’

36
আমাদের পাহাড় তার বুকের চাপ চাপ মাটি ধসিয়ে চাপা দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে, সে দুঃখে মানুষ কাঁদে। কিন্তু পাহাড়ের দুঃখে কাঁদবার কেউ নেই। পাহাড়ের দুঃখে শুধু পাহাড় একাই কাঁদে। তবে সে কাঁদে নিঃশব্দে। সে কান্নার আওয়াজ কারও কানে যায় না। অথবা দেশের মানুষের কান নেই বলে তার কান্না শোনে না, চোখ নেই বলে পাহাড়ের দুঃখের চেহারাটি দেখতে পায় না।

মানুষ পাহাড়ের ক্ষতি করে বলে পাহাড়ও মানুষের ক্ষতি করে। তাহলে পাহাড়ও কি প্রতিহিংসাপরায়ণ মানুষের মতো? রাজনৈতিক নেতাদের মতো?

মানুষ প্রতিদিন পাহাড়ের ক্ষতি করে, পাহাড় করে বছরে এক দিন। যখন সে আঘাত ও অত্যাচার সইতে সইতে আর তিষ্ঠতে পারে না, তখন পাহাড় মানুষের ওপর তার রাগ ঝাড়ে। পাহাড়ের নির্মমতা মানুষের চোখে পড়ে, কিন্তু পাহাড়ের প্রতি মানুষের নির্মমতা মানুষের চোখে পড়ে না। এবার পাহাড়ে যে ভূমিধস হয়েছে, তার সঙ্গে শুধু রানা প্লাজা ধসেরই তুলনা চলে। রানা প্লাজা নিজে ধসে পড়েনি। মানুষ তাকে ধসে পড়তে বাধ্য করেছিল স্তম্ভ নাড়াচাড়া না করলেও। পাহাড়ও নিজে ধসতে চায়নি। মানুষ তাকে বাধ্য করেছে ধসে পড়তে।

বাংলার মাটিতে যা ঘটে, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তা ঘটে না। বাংলাদেশেই সব কটি জেলায় সিরিজ বোমা একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। এবার একক নয়, এবার সিরিজ পাহাড়ধস হলো। পাহাড় দেখিয়ে দিল—আমরাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানুষের ওপর আঘাত হানতে পারি এবং সে আঘাত খুবই নির্মম। পাহাড় জানিয়ে দিল, মানুষের মতো আমরাও নিষ্ঠুর এবং আমরাও নরঘাতক।

পাঁচটি জেলায় একযোগে পাহাড়ধসে দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা বিরল। বর্ষা মৌসুমে টানা বর্ষণ এই নতুন নয়। কমবেশি প্রতিবছরই হয় এবং তা হচ্ছে হাজার হাজার বছর ধরে। দুর্গম অঞ্চলের পাহাড় ধসে না, পাহাড় ধসে লোকালয়ের।

গত দশ বছরে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার প্রভৃতি জেলায় পাহাড়ধসে হাজারখানেক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড়ধস ঘটে ২০০৭ সালে। মাটিচাপায় ১২৭ জন মানুষ নিহত হন। পরিবেশকর্মীদের পরামর্শে গুরুত্ব না দিলেও সেবারের পাহাড়ধসের পর সেনাসমর্থিত সরকার কিঞ্চিৎ সচেতন  হয়। তারপর পাহাড় সম্পর্কে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে বলে শোনা যায়। পাহাড়ধস প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য টিম গঠনের কথাও শোনা গিয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই টিমের দেখা কেউ পেয়েছে, এমন কথা পাহাড়ে বসবাসকারীরা হলফ করে বলতে পারবেন না।

যদি বলা হয় লোকচক্ষুর আড়ালে অতি গোপনে সেই টিমের লোকেরা কাজ করেন, তা করতে পারেন এবং তা অবিশ্বাস্য নয়। পর্যবেক্ষণ টিমের সদস্যরা বলতে পারেন, আমরা লোক মাত্র কয়েকজন, আমাদের সাধ্য নেই হাত দিয়ে ঠেলা দিয়ে প্রবল পাহাড়ধস ঠেকাই। সে কথাও বিশ্বাসযোগ্য। কিন্তু পাহাড়ের ঢালুর বিপজ্জনক জায়গায় গাছপালা কেটে বসতি গড়ে উঠছে—সেই দৃশ্য কি তাঁদের চোখে পড়েনি? পড়ে থাকলে সে ব্যাপারে তাঁরা কাকে রিপোর্ট দিয়েছিলেন? রিপোর্ট দিয়ে থাকলে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছিল? বেতন-ভাতা দিয়ে রাষ্ট্র যখন লোক নিয়োগ দেয়, তখন তা দেয় তাঁদের দিয়ে কাজ করানোর জন্য। ঘুরে বেড়ানোর জন্য নয়।

ভূবিজ্ঞানীরা বলবেন, বাংলাদেশের পাহাড় কঠিন শিলায় গঠিত নয়। তা হতেই পারে। আমাদের পাহাড়গুলো কঠিন শিলারই হওয়া উচিত ছিল, যেখানে কোদালের কোপ বসানো সম্ভব নয়। তাহলে রাতের অন্ধকারে পাহাড়ে মাটি চুরি সম্ভব হতো না।

পাহাড়কে মানুষ আগে আঘাত হেনেছে, তারপর প্রতিশোধ নিতে পাহাড় আঘাত করছে মানুষকে। বেআইনিভাবে যথেচ্ছ পাহাড়ের মাটি কাটা রোধ করা যায় না, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। পাহাড়ের গাছপালা কেটে সাবাড় করছে যারা, তাদের শায়েস্তা করার ক্ষমতা ও দক্ষতা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নেই, তা অবিশ্বাস্য; বিশেষ করে সেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যা হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীর কোমরে দড়ি বেঁধে শ্রীঘরে ঢোকাতে সক্ষম।

২০০৭ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড়ধসে ১২৭ জন নিহত হওয়ার পর সরকার গঠন করে ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি’। পরিবেশবাদীদের পরামর্শ সরকার শুনতে বাধ্য নয়, কিন্তু উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবেশবাদীদের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পাহাড় কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু তা কার্যকর করতে পারেনি প্রশাসন। মনে হয় আমাদের উচ্চ আদালতের চেয়ে প্রভাবশালীরা বেশি ক্ষমতাবান। আইন-আদালত অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা তাঁরা রাখেন। বেআইনি কাজকর্ম করতে তাঁদের লাজলজ্জার লেশমাত্র নেই। পাহাড় নাকি এখন অনেকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।

পাহাড় রক্ষায় পরিবেশকর্মীরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে আলোচনা করেছেন, প্রখর রৌদ্রে ও প্রবল বর্ষণের মধ্যে রাস্তায় মানববন্ধন করেছেন, প্রশাসনের পায়ে ধরেছেন, কোনো কাজ হয়নি। তা যদি হতো তাহলে এক দশকে এক হাজার মানুষ বেঘোরে প্রাণ দিত না।

পরিবেশবাদীরা সরকার থেকে জামাই-আদর আশা করেন না। তাঁরা চান তাঁদের পরামর্শের যথাযথ মূল্যায়ন করুক সরকার। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, পরিবেশকর্মীরা প্রশাসন থেকে যে আচরণ পান, তা বাংলার কোনো সতিনের ছেলেও তার সৎমার কাছ থেকে পায় না। পরিবেশবাদীরা যে সরকারের শত্রু নন, সরকারকে সহায়তাকারী কর্মী মাত্র, তা বোঝার মতো বোধ নীতিনির্ধারকদের আছে বলে মনে করার কারণ নেই। তা যে নেই, তার প্রমাণ রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প। লাখো বছরের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের নিয়তি যা-ই হোক, আমরা বিদ্যুৎ চাই।

পাহাড় ও বনভূমি সব শ্রেণির মানুষের কাছে নিরাপদ নয়। পাহাড়-বনভূমি রক্ষা করতে পারে তারাই, যারা পাহাড় ও বনভূমির মর্ম বোঝে। তারাই বোঝে হাজার বছর ধরে যাদের জীবন পাহাড়ের প্রাকৃতিক জীবনধারার সঙ্গে যুক্ত। যারা পাহাড় চেনে, পাহাড় যাদের চেনে। সমতলের অচেনা মানুষ পাহাড়ে গিয়ে অনাচার শুরু করলে পাহাড়ের পক্ষে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। এবার পাহাড়গুলোতে যা ঘটেছে, তাকে স্রেফ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বললে অসত্য বলা হয়। পাহাড়কে নিরপরাধ বলব না, কিন্তু তার অপরাধের পরিমাণ যা, আমাদের অপরাধ তার চেয়ে কম নয়।

পাহাড়ি এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনাবিদদের যে দূরদর্শিতা থাকা দরকার, তা লক্ষ করা যায়নি গত চার দশকে। আশির দশক থেকে পাহাড়ি এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণে ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়নি। রাস্তাঘাট বানাতে গিয়ে পাহাড়ের কার্নিশ কাটা হয়। তাতে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখে আমাদের মতো অনভিজ্ঞ লোকেরও ধারণা হয়, সড়ক নির্মাণে পাহাড়ের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

সাধারণত সড়কের পাশেই মানুষ গৃহ নির্মাণ করে বসতি স্থাপন করে। বসতি স্থাপন করতে গিয়ে যথেচ্ছ অনাচার হয় পাহাড়ের প্রতি। দরিদ্র সহায়-সম্বলহীন মানুষদের থেকে সচেতনতা আশা করা যায় না। পাহাড়ে গর্ত করে মাটি চুরি করা হয়। মাটি চোরদের ঠেকানোর কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। স্থানীয় প্রশাসন তো কিছুই করে না, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদেরও ওসব ব্যাপারে মাথাব্যথা নেই। তাঁরা ব্যস্ত প্রকল্পের বরাদ্দ প্রভৃতি নিয়ে।

রিলিফ চোর আগেও ছিল, এখনো আছে। বরং সংখ্যায় বেড়েছে। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে বনের কাঠ চোর, নদীর বালু চোর, পাহাড়ের মাটি চোর প্রভৃতি। প্রশাসনের ঘুষখোর আর বিভিন্ন ঘরানার চোর যখন হাত মেলায়, তখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রয়োজন হয় না। মানবসৃষ্ট দুর্যোগ তখন মানুষের ক্ষতি করবেই।

বাংলাদেশ ধনী দেশ হতে যাচ্ছে। সেই লক্ষে্য সে ধাবিত ঊর্ধ্বশ্বাসে। বাংলায় এখন আর ছিঁচকে চোর নেই বললেই চলে। সিঁধেল চোরের প্রজাতিটিও বিলুপ্তপ্রায়। কিন্তু জাতীয় সম্পদ চোরের বিভিন্ন প্রজাতির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে ব্যাপকভাবে।

ভেনেজুয়েলা, মরক্কো বা গুয়াতেমালার পাহাড়ধস আর বঙ্গীয় পাহাড়ধসের পার্থক্য পর্বতসমান। ভূমিকম্পেও পাহাড়-পর্বতধস হয়। তাতে মানুষের দোষ নেই। কিন্তু যে দেশে পাহাড়ে গাছপালা ও মাটি কেটে সাবাড় করা হয়, সেখানকার পাহাড়ধসের জন্য দায়ী বিধাতাও নন, পাহাড়ও নয়। জনমানবহীন দুর্গম এলাকায় কেন পাহাড়ধস হয় না। লোকালয়ের নিকটবর্তী পাহাড়ই কেন ভেঙে পড়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর?

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তার ব্যবস্থাপনায় আমরা অনেকটা সক্ষমতা অর্জন করেছি। সেনাবাহিনীর সদস্যরা জীবন দিয়ে ওই সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণকাজ চালান। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ঠেকানোর ক্ষমতা মানুষের নেই, তা থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা মানুষের সাধ্যের মধ্যে। আমাদের পাহাড়ধসকে ষোলো আনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা যায় না। এটা আমাদের পাপের শাস্তি। এবারের পাহাড়ধসে উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের যে প্রাণহানি ঘটেছে,
তা নতুন বিপদ। সুতরাং বড় বিপর্যয় রোধ করতে হলে পাহাড়ে মানবিক অনাচার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক।

 

37
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের অসামান্য অগ্রগতি, বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দুর্যোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলার লড়াইয়ে বাংলাদেশকে সব সময় প্রথম সারিতে দেখতে চান তিনি। তা ছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতিতেও বাংলাদেশকে সামনের কাতারে আশা করেন।

গতকাল সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকারে আন্তোনিও গুতেরেস এ আশাবাদ তুলে ধরেন। আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শান্তিরক্ষা ও শান্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তিনি জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বৃহৎ সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনের সময় অনুষ্ঠেয় ‘সার্কেল অব লিডার’ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

জাতিসংঘের মূল্যবোধ ও নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘ মহাসচিবের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মহাসচিবের অগ্রাধিকার প্রদানের প্রশংসা করেন তিনি। বিগত আট বছরে বাংলাদেশ আর্থসামাজিক উন্নয়নে যে অগ্রগতি সাধন করেছে, পররাষ্ট্রসচিব সে বিষয়ে মহাসচিবকে অবহিত করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের আগে পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তরাষ্ট্রীয় সংঘবদ্ধ অপরাধবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে অংশ নেন। পররাষ্ট্রসচিব তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম’ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। অধিকতর নজরদারি ও কার্যকর বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ অভিগমন ও মানব পাচার এবং চোরাচালানের প্রবণতা অনেকাংশে কমেছে।
শহীদুল হক বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি এবং এটিকে শক্তিশালী করেছি। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন মোকাবিলায় আমাদের টেকসই উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃত পেয়েছে।’

মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, বন্য প্রাণী ও সাংস্কৃতিক সম্পদের অবৈধ পাচার রোধে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর পররাষ্ট্রসচিব গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ‘ডার্ক ওয়েব’-এর বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা প্রায়ই সন্ত্রাসী ও সহিংস চরমপন্থীরা তাদের কাজে ব্যবহার করে থাকে।

38
১০ জুলাই থেকে ৩৮তম বিসিএসের জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদনের শেষ সময় ১০ আগস্ট। এই বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।

আজ মঙ্গলবার সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে প্রথম আলোকে জানান পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক। তিনি বলেন, আজই এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন ক্যাডারের ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ থাকছে।

পিএসসির চেয়ারম্যান প্রথম আলোকে বলেন, এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি খাতা দুজন পরীক্ষক মূল্যায়ন করবেন। তাঁদের নম্বরের ব্যবধান ২০ শতাংশের বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে খাতা পাঠানো হবে। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের মেধা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে বলে মনে করছে পিএসসি।

তা ছাড়া এই বিসিএস থেকে বাংলাদেশ বিষয়াবলির ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন রাখা হবে। কেউ চাইলে ইংরেজিতেও এই বিসিএস দিতে পারবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবর নাগাদ এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হতে পারে। সাত বিভাগের পাশাপাশি এবার নতুন বিভাগ ময়মনসিংহেও পরীক্ষা নেওয়া হবে।

39
রিচার্ডের সঙ্গে আমার দেখা হয় ফিলিপাইনে। সে কম বয়সী শুকনো শরীরের একজন আমেরিকান। মেরিল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছে, পরিবেশ আইনের উঠতি বিশেষজ্ঞও বলা যেতে পারে তাকে। বক্তৃতা শেষ করে চা খাওয়ার সময় পরিচয় হয়েছে তার সঙ্গে। তখন তেমন কথা হয়নি। দুপুরের খাবারের সময় আমার পাশের চেয়ারে বসে সে। এই খাবারের টেবিলেই হয় বিদেশের কনফারেন্সের আসল মনখোলা আলাপ।

ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেবুতে এই কনফারেন্সের আয়োজন হয় জুনের প্রথম সপ্তাহে। আইইউসিএন একাডেমির সদস্যরা এখানে জড়ো হয়েছিল পরিবেশ বিষয়ে তাদের নতুন চিন্তাভাবনা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য। জানা গেল এল সালভাদর থেকে ভারত পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের চমকপ্রদ সব অগ্রগতির খবর। আলোচনা হলো ‘ট্রাম্প’-যুগের হতাশা নিয়েও।

খাবার টেবিলে রিচার্ডের সঙ্গে আলাপ ছিল মূলত ট্রাম্প নিয়েই। অন্য অনেকের মতো রিচার্ডও বিরক্ত জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক প্যারিস চুক্তি থেকে আমেরিকার বের হয়ে আসার ঘোষণা নিয়ে। আমি তাকে বললাম: জলবায়ু চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার নজির এর আগে প্রেসিডেন্ট বুশের সময়ও হয়েছে। ১৯৯৭ সালের কিয়োটো প্রটোকল থেকেও প্রেসিডেন্ট বুশ বের হয়ে এসেছিলেন চুক্তি আন-সাইন করার ঘোষণা দিয়ে। কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করে তা না-স্বাক্ষরের ঘোষণাটি ছিল নজিরবিহীন একটি ঘটনা। তবে রিচার্ডের মতে, প্যারিস চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার প্রভাব হতে পারে আরও ভয়ংকর কিছু।

এটি তাই এখন রিচার্ডের মতো পৃথিবীর যেকোনো পরিবেশ-সচেতন মানুষের দুর্ভাবনার বিষয়। কিয়োটো প্রটোকল ছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি, প্যারিস চুক্তি মাত্র দেড় বছর আগে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি। প্যারিস চুক্তি যখন হয়েছে তখন বৈশ্বিক উষ্ণতার লক্ষণ আরও বহু গুণে স্পষ্ট হয়েছে। উদ্বিগ্ন হয়ে পৃথিবীর সব রাষ্ট্র এটি রোধে একমত হয়েছে প্যারিস চুক্তিতে। এই চুক্তি সম্পাদনে পৃথিবীর এই সময়ের সবচেয়ে বৃহৎ কার্বন নিঃসরণকারী রাষ্ট্র চীন পর্যন্ত রাজি হয়েছে। চীনকে রাজি করাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে খোদ আমেরিকাই, তার ওবামা আমলে।

প্যারিস চুক্তির ধরনও অন্যান্য পরিবেশ চুক্তি থেকে আলাদা। এতে নিকারাগুয়া ও সিরিয়া বাদে পৃথিবীর প্রতিটি দেশ নিজ থেকে কার্বনসহ বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার অঙ্গীকার করেছে। ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি) নামক প্রতিটি দেশের দলিলের এই লক্ষ্যমাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়ানোর ব্যবস্থাও রয়েছে প্যারিস চুক্তিতে। চুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা শিল্প-যুগের আগের চেয়ে কোনোভাবেই ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের চেয়ে বেশি বাড়তে না দেওয়া। অথচ জমাকৃত এনডিসিগুলোর পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রসমূহের প্রতিশ্রুত ব্যবস্থা কার্যকর করলেও তাপমাত্রা সাড়ে ৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের চেয়ে বেশি বেড়ে যাবে।

এমন তাপমাত্রায় পৃথিবীর টিকে থাকারই কথা না ঠিকমতো। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, আবাদযোগ্য ভূমির বিলুপ্তি, জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি ও নতুন নতুন রোগের প্রাদুর্ভাবে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে আমাদের এই বিশ্ব। এমন এক সময়ে এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ (বর্তমানের দ্বিতীয় বৃহৎ) গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী রাষ্ট্র আমেরিকা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এটি তাই ভয়াবহ একটি সংবাদই।

তবে যতটা বিপর্যয়কর ভাবা হচ্ছে ততটা বিপর্যয় আসলে না–ও ঘটতে পারে ট্রাম্পের ঘোষণায়। আমেরিকা চুক্তি থেকে সরে এলেও আমেরিকার বৃহৎ কোম্পানিগুলো (যেমন এক্সন মবিল, গুগল, ফেসবুক) এবং বড় রাজ্যগুলো (যেমন ক্যালিফোর্নিয়া) প্যারিস চুক্তি মেনে চলবে। আমেরিকার অনেক শহরও তা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল শাসনব্যবস্থায় স্বাধীনভাবে তা করার মতো এখতিয়ারও রয়েছে রাজ্য ও শহরগুলোর। রিচার্ডকে আরও আশাবাদী করার জন্য আমি বলি, তা ছাড়া ট্রাম্প তো অভিশংসিতও হয়ে যেতে পারেন দ্রুত। রিচার্ড হাসে। বলে, আমরা তা চাই না। সে ইমপিচ হলে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট হবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। সে আরও অনেক ধূর্ত। বরং ট্রাম্প চার বছর থাকলে দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর জেতার সম্ভাবনা খুব কম। পরিবেশবান্ধব হিসেবে পরিচিত ডেমোক্র্যাটরা সহজেই জিতে আসবে তখন।

২.

আমেরিকায় যাই ঘটুক, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ঘটছে আশাবাদী হওয়ার মতো বহু কিছু। বড় দেশ চীন আর ইউরোপ দৃঢ়ভাবে প্যারিস চুক্তির পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়েছে, এটা সবারই জানা। চীন তার নতুন আইনি ব্যবস্থায় একটি ‘ইকোলজিক্যাল সিভিলাইজেশন’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তার পরিবেশ ও দেওয়ানি আইনে পরিবেশ রক্ষাকে সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম কর্তব্য হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং উন্নয়নকাজে জনগণের মতামত প্রদানের ব্যাপক স্বীকৃতি প্রদান করেছে।

সেবুর কনফারেন্সে উঠে এল পরিবেশ রক্ষা ও বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে অন্যান্য দেশের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও। এর মধ্যে বিশেষভাবে বলতে হয় এল সালভাদরের কথা। দেশটি সম্প্রতি সোনা ও অন্য সব ধাতব খনিজ পদার্থ আহরণ নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করেছে। এই আইন প্রণীত হয়েছে প্যাসিফিক রিম নামের একটি জায়ান্ট করপোরেশনের আনীত মামলায় এল সালভাদর সরকারের একটি ঐতিহাসিক বিজয়ের পর। প্যাসিফিক রিম এল সালভাদরে এক্সপ্লোরেশনের বা খুঁজে দেখার চুক্তি করেছিল। সোনার খনির সন্ধান লাভের পর তা আহরণের চুক্তি করতে গেলে এল সালভাদরের জনগণ ও পরিবেশবাদীরা আপত্তি জানায়। পার্শ্ববর্তী হন্ডুরাসে সোনা উত্তোলনের কারণে মৎস্য, কৃষি ও বনভূমির ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এল সালভাদরের এই আপত্তি। বিষয়টি আরবিট্রেশন আদালতে গেলে প্যাসিফিক রিম-এর পরিবেশ সমীক্ষার দুর্বলতার কথা তুলে ধরে এল সালভাদর সরকার মামলাটি জিতে যায়। এই মামলায় জেতার পরপরই এল সালভাদর সরকার সোনা ও কঠিন খনিজ দ্রব্যাদি আহরণ নিষিদ্ধ করে একটি নজিরবিহীন আইন প্রণয়ন করে গত বছর।

প্যাসিফিক রিম-এর সোনা উত্তোলনের পরিকল্পনার চাবিকাঠি ছিল মুক্ত বাণিজ্য নীতিমালার আওতায় করা একটি দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি। দেশে দেশে এ ধরনের চুক্তি করে বড় দেশ ও তার ছত্রচ্ছায়ায় থাকা কোম্পানিগুলো গরিব দেশে মুনাফাভিত্তিক প্রকল্প করে পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে আসে। প্যাসিফিক রিমের এই পরাজয় তাই আমেরিকা মহাদেশের ছোট ছোট দেশে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।

আশাবাদী হওয়ার মতো ভূমিকা পালন করেছেন ইন্দোনেশিয়ার সুপ্রিম কোর্টও। ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েলের জন্য আগুন দিয়ে বন উজাড় করা বহুজাতিক প্লান্টেশন কোম্পানিগুলো কার্বন নিঃসরণের জন্য বিশ্বব্যাপী কুখ্যাত। এ রকম একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো একটি বড় মামলায় জয় পেয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার ২০১৫ সালের নভেম্বরে। এই মামলায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণসহ কিছু কড়াকড়ি নির্দেশের পর ২০১৬ সাল থেকে ফরেস্ট ফায়ার কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে।

পরিবেশ রক্ষায় ফিলিপাইন ও ভারতের আদালতও বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে সম্প্রতি। ২০১৫ সালে ফিলিপাইনের সুপ্রিম কোর্ট একটি ঐতিহাসিক মামলায় সেবু ও নেগ্রোসের মধ্যবর্তী ফিলিপাইন সাগরে একটি জাপানি পেট্রোলিয়াম কোম্পানির চুক্তি বাতিল করে দিয়েছেন। ২০০৭ সালে এই মামলাটি আনা হয়েছিল চুক্তির কারণে জীবন বিপন্ন হওয়া ডলফিন ও অন্যান্য সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর পক্ষে, এই রায়ের মাধ্যমে তাদের পক্ষে মামলা করার অধিকার স্বীকৃতি পেয়েছে। এই রায় সারা পৃথিবীর বিচারব্যবস্থার জন্য নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ভারতের ঘটনাটি মাত্র কয়েক মাস আগের। এ বছর মার্চ মাসে উত্তরাখন্ড হাইকোর্ট গঙ্গা, যমুনাসহ অন্যান্য নদীকে লিগ্যাল পারসন ও জীবিত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে এর সংরক্ষণের জন্য অভিভাবকের দায়িত্ব প্রদান করেছেন। ‘গঙ্গা ও যমুনার জীবন রয়েছে এবং এরা পর্বত থেকে সমুদ্র পর্যন্ত জীববৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে’—আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নদীদূষণে বিপর্যস্ত ভারতে নতুন আশাবাদের সৃষ্টি করেছে।

৩.

সেবু কনফারেন্সের বিষয়ই ছিল আশাবাদী প্রবণতাগুলো তুলে ধরা। ইকুয়েডর নতুন সংবিধানে পরিবেশবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে, সংবিধান পরিবেশের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সে অনুযায়ী বিভিন্ন নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। বলিভিয়ার সংবিধানে পরিবেশগত ভারসাম্যের অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীতে তথ্য অধিকারকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর গত বছর প্রণীত তথ্য অধিকার আইনকে পরিবেশ রক্ষার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফিলিপাইন মেরিন আইল্যান্ড রক্ষার জন্য একটি চমৎকার আইন প্রণয়ন করেছে, মালয়েশিয়া ২০১৫ সালে পরিবেশ সমীক্ষা করার জন্য কঠোর বিধিমালা করেছে। থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট গ্রিন বিচ গড়ে তোলার জন্য ২০১৫ সালে নতুন নির্দেশনামা দিয়েছে। মিয়ানমারে নতুন পরিবেশবান্ধব বন ও খনিজ সম্পদ আহরণ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ইউরোপে বিভিন্ন আদালতে পরিবেশ রক্ষায় নন-রিগ্রেশন ও ইন্টার-জেনারেশনাল রাইটস নীতিগুলো দৃঢ়ভাবে স্বীকৃত হয়েছে।

আমার পালা আসে বাংলাদেশের কথা বলার জন্য। আমি বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে বাংলাদেশের এনডিসি দলিলের কথা বলি, এই দলিল বাস্তবায়নে একটি খসড়া রোডম্যাপ হয়েছে, সবিস্তারে এটিও বলি। অনেকে প্রশংসাও করে এর।

কিন্তু বিপত্তি ঘটে অন্যখানে। কনফারেন্সে প্রতি পর্বেই ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। সেখানে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজসংক্রান্ত একটি সেশনে বাংলাদেশের রামপাল প্রকল্পের প্রসঙ্গ ওঠে। এই প্রকল্পের মারাত্মক পরিবেশগত প্রভাবের আশঙ্কার কথা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির কল্যাণে পৃথিবীর পরিবেশবাদীরা জেনে গেছে। তারা বিস্মিত কীভাবে এমন একটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প হতে পারে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের পাশেই!

আমার এর উত্তর জানা ছিল না, নেইও। শুধু স্বপ্ন দেখি ফিলিপাইনের আদালত, ভারতের পরিবেশবাদী, এল সালভাদরের সরকারের মতো আমার দেশেরও কেউ একদিন ঠেকিয়ে দেবে রামপালের মতো সর্বনাশা সব প্রকল্প! পরিবেশ রক্ষায় বড় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে বাংলাদেশেও।

আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

40
মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে ধন্যবাদ জানাই যে তিনি অবশেষে বুঝতে পেরেছেন, ব্যাংকে জমা টাকার ওপর গ্রাহকদের কাছ থেকে আবগারি কর নেওয়া সমীচীন হয়নি। সংসদ বাংলা অভিধান অনুযায়ী ‘আবকারি’ বা ‘আবগারি’ শব্দের অর্থ লেখা আছে, ‘মাদকদ্রব্যের ব্যবসায়, মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত রাজস্ব।’ মাদকের সঙ্গে তামাকও না হয় যোগ করা যায়। আমরা এত দিন মাদক ও তামাকের ওপরই আবগারি কর বসানোর কথা জেনে এসেছি। এখন দেখছি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেরামতিতে ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থের ওপরও আবগারি কর বসল।

সাংবাদিক কামাল আহমেদ বাজেট প্রস্তাবের পরপরই প্রথম আলোতে লিখেছিলেন, ‘...এবারের বাজেটে “পাপ কর”-এর হারটা বাড়িয়ে দিয়ে তিনি (অর্থমন্ত্রী) আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে আমরা যেহেতু “পাপ করে”ই চলেছি, সেহেতু আমাদের “পাপ কর”-এর হার বাড়বে।’
গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে সোনালী, অগ্রণী, জনতাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ১৬টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) সই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘আবগারি শুল্ক নামটা কোনোমতেই হওয়া উচিত নয়। এটা আয়করেরই অংশ। একে কীভাবে বর্ণনা করা যায়, সেটা পরে চিন্তা করা যাবে।’
জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব পেশের পর যখন চারদিক থেকে ব্যাংকে জমা অর্থের ওপর আবগারি কর নিয়ে সমালোচনা হতে থাকল, তখনো অর্থমন্ত্রী বিষয়টি আমলে নিতে চাইলেন না। সিলেটে এক সমাবেশে তিনি জানিয়ে দিলেন, ‘আবগারি কর কমানো হবে না।’ পরে জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সাংসদেরা এ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করলেন। একজন সাংসদ অর্থমন্ত্রীকে জেদ বজায় না রেখে আবগারি কর প্রত্যাহারের দাবি জানালেন। কেবল সাংসদ নন, খোদ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য আবগারি কর কমানোর কথা বলেছেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংক হিসাবে বাড়তি আবগারি কর আরোপের প্রস্তাবকে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি যথার্থই প্রশ্ন রেখেছেন, ‘বাড়তি আবগারি শুল্ক থেকে সরকার কত পাবে? আয় আসবে ২০০ কোটি টাকার মতো। এ জন্য বিপুল লোকের আয় কমিয়ে দেব? অর্থমন্ত্রী কি আমাদের যক্ষের ধনের পাহারাদার বানাচ্ছেন? পুরো প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিলে ক্ষতি হবে বড়জোর ৩৫৫ কোটি টাকা। এটা বাজেটের খুবই ক্ষুদ্র অংশ।’

সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর বিরোধিতা করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ১০ শতাংশ সুদ ধরলেও হবে এক হাজার কোটি টাকা। এর সুবিধা পাবে লাখ লাখ লোক। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর প্রস্তাব বাজেটে নেই। তবে অর্থমন্ত্রী দুই মাসের মধ্যে কমাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘আমরা অনেক শ্রেণির মানুষকে ভর্তুকি দিই, যাঁরা প্রাপ্য নন। তার চেয়ে বড় কথা, ঋণখেলাপিদের বিশাল বোঝা নিয়ে তোয়াজ করতে পারি, তাহলে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তের সামান্য বোঝা নেব না কেন?’ জনগণের মনের কথাই বলেছেন কৃষিমন্ত্রী।

গতকাল অর্থমন্ত্রী ব্যাংক সঞ্চয়ের ওপর আবগারি কর কমানোর আভাস দিলেও নিজের অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরে এসেছেন, তা বলা যাবে না। সমালোচনাকারীদের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমার ধারণা, যখন কোনো কিছু খুঁজে না পাওয়া যায়, তখন কিছু একটা তো বের করতে হয়। এবার এটা (আবগারি শুল্ক) খুব বেশিভাবে হয়েছে।’ তাঁর যুক্তি, যাঁদেরই ব্যাংক হিসাব আছে, বহু বছর ধরেই তাঁরা এটা (আবগারি শুল্ক) দিয়ে যাচ্ছে। এটা নতুন কিছু নয়। এ বছর হারটা একটু বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সুযোগও কিন্তু বাড়ানো হয়েছে। ২০ হাজার টাকা থাকলেই শুল্ক দিতে হতো, এখন এক লাখ টাকা পর্যন্ত কিছুই দিতে হবে না। ...এ নিয়ে এত চিৎকার যখন বাজারে আছে, তাই একটু পরিবর্তন হবে।’ এই যে আগে থেকে সরকার ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থের ওপর কর নিত, সেটাই ছিল বেআইনি। সরকার সুদ বা লাভের ওপর কর দিতে পারে, মূলধনের ওপর নয়।

এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী ব্যাংক হিসাবে ১ থেকে ১০ লাখ টাকা জমা হলে ৮০০ টাকা আবগারি কর কাটার প্রস্তাব করেছেন। আর ১০ লাখ টাকার ওপর থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত জমা থাকলে আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সপ্তাহ দুই আগে ‘ব্যাংকে জমা রাখলে টাকা কমে যাবে’ শিরোনামে প্রথম আলোর অনলাইনে যে লেখাটি লিখেছিলাম, অর্থমন্ত্রীকে তার প্রতিক্রিয়াগুলো পড়ে দেখার অনুরোধ জানাই। একজন পাঠক লিখেছেন, ‘সকল খেলাপি ঋণ উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। প্রয়োজনে সম্পত্তি ক্রোকের আইন/ধারা যুগোপযোগী করুন। সাধারণ জনগণের কাছ থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত আবগারি বা ট্যাক্স দিয়ে খেলাপি ঋণের দায় শোধ করা উচিত হবে না।’ আরেকজন পাঠক লিখেছেন, ‘অর্থমন্ত্রী মহোদয় যেহেতু অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হোতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না, তাই দায়টা চাপিয়েছেন নিরীহ মধ্যবিত্তের ওপরই।’
কৃষিমন্ত্রীও একই কথা বলেছেন, তাই মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাব, ব্যাংকে সঞ্চিত টাকার ওপর আবগারি কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করুন। এই আবগারি কর থেকে যা আয় হবে, তা চার লাখ কোটি টাকার বাজেটে কিছুই না।
অতএব, নিরীহ মধ্যবিত্তকে না মেরে, যারা ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা লোপাট করছে, তাদের ধরুন।

41
রাষ্ট্রমালিকানাধীন টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ৩ হাজার ১০০ টেলিফোন সংযোগ বিকল হয়ে পড়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে রাস্তা খুঁড়ে রাখায় এসব টেলিফোন সংযোগ বিকল হয়েছে। এর মধ্যে খিলগাঁও চৌরাস্তা এলাকায় ৫০টি, বনশ্রীতে ৬৫টি, গোড়ান ও নন্দীপাড়ায় ২১০টি, খিলগাঁও বি-ব্লকে ১৫০টি, কাকরাইলে ৭৬০টি, শান্তিনগরে ৬৮০টি, ফকিরাপুলে ৪৮০টি, সিদ্ধেশ্বরীতে ৩০০টি, মগবাজারে ২৯৫টি ও সায়েদাবাদ এলাকায় ১২২টি টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিকল রয়েছে। টেলিফোন সংযোগগুলো চালু করতে বিটিসিএল কাজ করছে

42
ক্রেডিট কার্ড নীতিমালা বাস্তবায়নের আগেই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কার্ড ব্যবসা করে এমন শীর্ষ ব্যাংকগুলোর দাবির মুখেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এক সভায় এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ১১ মে ক্রেডিট কার্ড সেবাসংক্রান্ত এক নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরই ব্যাংকগুলো নীতিমালাটি পর্যালোচনার দাবি জানায়। এ নিয়ে গতকাল ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নীতিমালা অনুযায়ী কার্ডে সুদ হার হবে ভোক্তা ঋণের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ সুদের হার হবে ১৫-১৭ শতাংশ। এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে কার্ড ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হবে। এতে ব্যাংকগুলোর কয়েক শ কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকা পড়বে। নগদ টাকার লেনদেনবিহীন সমাজে যাওয়ার যে উদ্যোগ ছিল, তা থমকে যাবে।

ব্যাংকগুলো বলেছে, ক্রেডিট কার্ডে তহবিল ব্যয় ৫ শতাংশ, সাধারণ সঞ্চিতি ৫ শতাংশ, মন্দ ঋণ ব্যয় ৪ শতাংশ ও অন্যান্য খরচ ৯ শতাংশ। অর্থাৎ কার্ড ব্যবসায় কমপক্ষে সুদের হার ২৩ শতাংশ। এ জন্য ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডে সাধারণ সঞ্চিতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণের মতো দশমিক ২৫ শতাংশ রাখার সুযোগ চেয়েছে। এ ছাড়া ভোক্তা ঋণের পরিবর্তে সর্বোচ্চ সুদের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি হবে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার। বাংলাদেশ ব্যাংক তাতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।

সভায় ব্যাংকগুলোর পক্ষ নীতিমালাটি ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। ব্যাংকগুলো জানায়, চলতি বছরে গ্রাহকদের সেবা দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। এ কারণে নীতিমালাটি এখনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

গতকালের সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে গভর্নর ফজলে কবির, ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, এস এম মুনিরুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ব্যাংকগুলো বেশ কিছু দাবি করেছে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ব্যাংকগুলোর পক্ষে ছিলেন ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান আনিস এ খান, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ইস্টার্ণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার, ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হুসেইন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এ দেশীয় প্রধান আবরার এ আনোয়ার ও সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন।

43


বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়ে অ্যান্ড্রু ওর্ড প্রথম অনুশীলন ক্যাম্পটা করছেন বিকেএসপিতে। তবে জাতীয় দল নয়, তাঁর হাতে শুরুতে তুলে দেওয়া হয়েছে অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

আগামী ১৯-২৩ জুলাই ফিলিস্তিনে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ টুর্নামেন্টে খেলতে যাবে বাংলাদেশ। জাতীয় দলের ভুটান বিপর্যয়ের পর এটিই ফুটবলে বাংলাদেশে প্রথম কোনো পরীক্ষা। যদিও তা জাতীয় দলের লড়াই নয়, তবু জাতীয় দলের ঠিক পরের ধাপ বলে সবারই চোখে থাকবে ফিলিস্তিনের দিকে।

টুর্নামেন্টের জন্য দল গড়তে ট্রায়াল ডেকেছিল বাফুফে। পাইপলাইন ঠিকঠাক নেই বলেই জাতীয় দলের ঠিক পরের স্তরেই ট্রায়াল ডেকে খেলোয়াড় নিতে হয়েছে। অথচ ধারাবাহিক প্রক্রিয়াতেই খেলোয়াড় পাওয়ার কথা। এভাবে ট্রায়াল ডেকে নয়। কিন্তু এবার দল গড়তে ৫৪ জন ফুটবলার তুলে দেওয়া হয়েছিল ওর্ডের হাতে। ওর্ড সেখান থেকে ৩৬-৩৭ জনকে নিয়ে বিকেএসপি যাবেন ক্যাম্প করতে।

বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, ট্রায়াল শেষে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ক্যাম্পে পরিচিত সব ফুটবলারই ডাক পাচ্ছেন। যেমন হেমন্ত, জুয়েল রানা, রুবেল মিয়া, তকলিচ, সাদ উদ্দিন, টুটুল হোসেন, মাসুক মিয়া, কৌশিক বড়ুয়া, মেহবুব হোসেন, ফজলে রাব্বি, খালেকুজ্জামান, ইব্রাহিম, মান্নাফ রাব্বিসহ আরও অনেকেই আছেন।

আগামীকাল বিকেএসপিতে ক্যাম্প শুরু। তিন-চার দিনের অনুশীলনের পরই পড়বে ঈদের ছুটি। ছুটি শেষে ফিলিস্তিন যাওয়ার আগে দু-একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হতে পারে। উপমহাদেশের যে দেশগুলো এই চ্যাম্পিয়নশিপের অন্য গ্রুপে আছে তাদের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার চেষ্টা চলছে বলে জানালেন এক কর্মকর্তা। ম্যাচ হতে পারে ঢাকায় বা বাংলাদেশ অন্য দেশে গিয়েও খেলতে পারে।

‘ই’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে তাজিকিস্তান, জর্ডান ও স্বাগতিক দল। প্রতিপক্ষ দলগুলো বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাই বাংলাদেশের পক্ষ মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো কঠিন এক চ্যালেঞ্জই। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৯ জুন জর্ডানের সঙ্গে। দ্বিতীয় ম্যাচ ২১ জুলাই, প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তান এবং ২৩ জুলাই ফিলিস্তিন।

44
স্প্যানিশ লিগের পর ইউরোপ-সেরার মুকুটও মাথায় পরেছেন। দারুণ এক ভালো লাগা নিয়ে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন জিনেদিন জিদান। ইতালির নানা সৈকতে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আর রিয়াল মাদ্রিদে থাকতে না চাওয়ার খবরটি সেখানেই শুনেছেন। রিয়ালের কোচের আনন্দ এরপর পরিণত হয়েছে বিষাদে! খবরটি শুনে তাঁর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।

কনফেডারেশনস কাপে খেলতে রোনালদো রয়েছেন রাশিয়ায়। জিদান ইতালিতে। উপায় নেই যে রোনালদোকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করবেন হয়েছেটা কী! স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার খবর, ছুটি সংক্ষিপ্ত করে ফিরে আসছেন জিদান। রোনালদোর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বোঝাবেন। এর আগে অস্থির জিদান দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে জানিয়েছেন অনুরোধ—রিয়াল ছেড়ে যেয়ো না ক্রিস, তোমাকে খুব প্রয়োজন আমাদের!’ রিয়ালের অধিনায়ক সার্জিও রামোসও রোনালদোকে একই অনুরোধ করেছেন।

রোনালদো রিয়াল ছাড়তে পারেন, এই বোমাটি ফাটিয়েছে পর্তুগিজ দৈনিক আ বোলা। সাত মাস আগেই রিয়ালের সঙ্গে পাঁচ বছরের নতুন চুক্তি করেছেন রোনালদো। কিন্তু স্পেনের কর কর্তৃপক্ষ রোনালদোর বিরুদ্ধে ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ১৪.৭ মিলিয়ন ইউরো কর ফাঁকি দেওয়ার মামলা করেছে! কেউ কেউ এটিকেই দেখছেন তাঁর চলে যেতে চাওয়ার কারণ হিসেব। জিদান আর রামোসের অনুরোধও পর্তুগিজ অধিনায়ক রাখবেন বলে মনে হয় না। মার্কার খবর, জাতীয় দলের সতীর্থদের রোনালদো বলেছেন সিদ্ধান্ত বদলাবেন না। রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের ভাবনা জিদান-রামোসের মতো নয়। তাঁর কথা একটাই, ‘যেতে চাইলে যাও, তবে আমাদের ব্ল্যাকমেল করো না।’ মার্কা।

45
Football / জয় দিয়ে শুরু রাশিয়ার
« on: June 20, 2017, 01:39:46 AM »
ফিফা কনফেডারেশনস কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে নিজেদের জয় দিয়ে শুভসূচনা করেছে রাশিয়া। সেন্ট পিটার্সবার্গে গতকাল শনিবার নিউজিল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক রাশিয়া।

গ্রুপ ‘এ’ পর্বের এ ম্যাচ সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জাতীয় ফুটবল দল খুব একটা ফর্মে নেই। তাই ঘরের মাঠে অপেক্ষাকৃত দুর্বল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কনফেডারেশনস কাপের প্রথম ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবেনি স্বাগতিকেরা। অন্তত ম্যাচের আগে গণমাধ্যমকে এমনটি জানিয়েছিলেন রাশিয়ার ফুটবল দলের কোচ এস্তানিসলাভ চেরচেসোভ।

ম্যাচের শুরু থেকে একই সঙ্গে রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছে রাশিয়া। প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ প্রতিরোধ করে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালালেও তাতে সফল হয়নি নিউজিল্যান্ড। খেলার ৩১ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল পায় এস্তানিসলাভ চেরচেসোভের শিষ্যরা। দেনিস গ্লুশাকভের করা একটি শট নিউজিল্যান্ডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মাইকেল বকসোল্লার পায়ে লেগে জালে জড়ালে আত্মঘাতী গোলটি হজম করতে হয় কিউয়িদের।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও তা গোলে পরিণত করতে পারেনি রাশিয়া। খেলার ৬৯ মিনিটে নিজেদের নামের পাশে প্রথম গোলের নাম লেখান রাশিয়ার স্ট্রাইকার ফেওদার স্মলোভ।

ম্যাচ শুরুর আগে ফিফা কনফেডারেশনস কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সংক্ষিপ্ত ওই অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, ‘কনফেডারেশনস কাপ মানের দিক থেকে সর্বোচ্চ স্তরে আয়োজন করা আমাদের দায়িত্ব। আমার বিশ্বাস, বিদেশি অতিথিরা আমাদের অতিথিপরায়ণতা, আন্তরিকতা ও বিশ্বের জন্য এক উন্মুক্ত রাশিয়া দেখতে পাবেন।’

অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের রাশিয়ায় আসার আমন্ত্রণ জানান। খানিকটা রুশ এবং ইংরেজি ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, রাশিয়ায় শুরু হওয়া এ কনফেডারেশনস কাপ ফিফার সেরা টুর্নামেন্টের খেতাব পাবে।

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 12