Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Md. Azizul Hakim

Pages: 1 2 3 [4]
46
হঠাৎ করে পায়ের মাংসপেশিতে টান লেগে অনেকে ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠেন।  কোনোভাবেই তখন আর আরাম পাওয়া যায় না। অনেক সময় পা ভাঁজ করে রাখার পর হঠাৎ  করে সোজা করলেও পেশিতে টান লেগে যায়। এটা ঘুমের মাঝে বা জেগে থেকেও হতে  পারে।
 
 
কেন এমন হয়?
আমরা নিজেদের ইচ্ছানুসারে হাত বা পায়ের মাংসপেশী সংকুচিত বা প্রসারিত  করে নড়াচড়া করি। কিন্তু আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হঠাৎ কোনো পেশী সংকুচিত হয়ে  গেলে পেশীতে খিঁচুনি (spasm) তৈরি হয়। আর এটাকে আমরা পেশীতে খিল ধরা বা  রগে টান বলি।
সাধারণত নিম্নোক্ত কারণে এ সমস্যা দেখা যায়-
ক. পানিশূন্যতা (Dehydration)
খ. স্নায়ু বা মাংসপেশীতে আঘাত
গ. রক্তে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের অভাব
ঘ. কোনো কোনো ঔষধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় (hypertension, cholesterol)
ঙ. কিছু ভিটামিনের অভাবে- বিশেষ করে ‘বি’ ভিটামিন (B1, B5, B6)
চ. আরো কিছু কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন : ধূমপান, মদ্যপান,  হাইপোথাইরয়েডিজম, কিডনি ফেইলিওর, মেন্সট্রুয়েসন, গর্ভসঞ্চার ইত্যাদি।
- অনেক সময় বেশি পরিশ্রমের কারণে পায়ের পেশিতে এভাবে টান লাগতে পারে।  পেশিতে টান লাগা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। পা সোজা করতে গেলে ব্যথা আরও বাড়তে  থাকে।
- ধূমপায়ীদের পায়ে রক্ত চলাচল কমে যায় বলে সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই  পায়ে টান লাগে। একই কারণে ডায়াবেটিক ও কোলেস্টেরলের রোগীদেরও পায়ে ব্যথা  হয়।
- গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন স্নায়ুতে চাপ পড়ে বলে পায়ে প্রায়ই টান লাগে।
- পায়ের পেশির দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত ব্যবহার, একভাবে দীর্ঘ সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা।
 
 
পেশীতে খিল কী করবেন?
ক. আক্রান্ত পেশীকে দ্রুত Relax (শিথিলায়ন) করতে হবে। এর উপায় হচ্ছে  পেশী প্রসারিত করা। যা অতি দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে আরাম দিতে পারে।
খ. তাপ চিকিৎসা মানে গরম সেঁক দেয়া যায় যদি পেশী শক্ত হয়ে বসে য়ায়।
গ. পেশী নরম, ব্যথাযুক্ত আর ফুলে গেলে ঠাণ্ডা সেঁক ‘Ice pack’ দেয়া যায়।
ঘ. বাম বা জেল দিয়ে মালিশ করা যেতে পারে।
ঙ. ইলেক্ট্রোলাইটিক ড্রিঙ্ক, যেমন-ওরাল স্যালাইন দেয়া যেতে পারে।
চ. দীর্ঘ মেয়াদে ভালো থাকতে শাকসবজি, ফল, দুধ, মাংস এবং খেজুর খান  পর্যাপ্ত পরিমাণে। এই খাবারের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও  ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।
ছ. নেশা থাকলে তা বাদ দিতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
 
 
পেশী সম্প্রসারণের (Muscle Stretching) নিয়ম
৹ যদি হাঁটুর নিচে পায়ের পেছনে টান লাগলে : পা সোজা করে ফেলুন, হাত দিয়ে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো ধরুন আর আপনার দিকে টানুন।
৹ উরুর সামনের দিকে হলে পা ভাঁজ করে ফেলুন, হাত দিয়ে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো ধরুন আর আপনার নিতম্বের দিকে টানুন।
৹ যদি উরুর পেছনে খিল লাগে, তাহলে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা ভাঁজ করে হাটুঁ  যতটুকু পারবেন বুকের দিকে নিয়ে আসুন। ধীরে ধীরে উরুর পেছনের পেশীতে হালকা  মালিশ করুন।
ইন্টারনেট অবলম্বনে

47
হঠাৎ করে পায়ের মাংসপেশিতে টান লেগে অনেকে ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠেন।  কোনোভাবেই তখন আর আরাম পাওয়া যায় না। অনেক সময় পা ভাঁজ করে রাখার পর হঠাৎ  করে সোজা করলেও পেশিতে টান লেগে যায়। এটা ঘুমের মাঝে বা জেগে থেকেও হতে  পারে।
 
 
কেন এমন হয়?
আমরা নিজেদের ইচ্ছানুসারে হাত বা পায়ের মাংসপেশী সংকুচিত বা প্রসারিত  করে নড়াচড়া করি। কিন্তু আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হঠাৎ কোনো পেশী সংকুচিত হয়ে  গেলে পেশীতে খিঁচুনি (spasm) তৈরি হয়। আর এটাকে আমরা পেশীতে খিল ধরা বা  রগে টান বলি।
সাধারণত নিম্নোক্ত কারণে এ সমস্যা দেখা যায়-
ক. পানিশূন্যতা (Dehydration)
খ. স্নায়ু বা মাংসপেশীতে আঘাত
গ. রক্তে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের অভাব
ঘ. কোনো কোনো ঔষধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় (hypertension, cholesterol)
ঙ. কিছু ভিটামিনের অভাবে- বিশেষ করে ‘বি’ ভিটামিন (B1, B5, B6)
চ. আরো কিছু কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন : ধূমপান, মদ্যপান,  হাইপোথাইরয়েডিজম, কিডনি ফেইলিওর, মেন্সট্রুয়েসন, গর্ভসঞ্চার ইত্যাদি।
- অনেক সময় বেশি পরিশ্রমের কারণে পায়ের পেশিতে এভাবে টান লাগতে পারে।  পেশিতে টান লাগা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। পা সোজা করতে গেলে ব্যথা আরও বাড়তে  থাকে।
- ধূমপায়ীদের পায়ে রক্ত চলাচল কমে যায় বলে সামান্য হাঁটাহাঁটিতেই  পায়ে টান লাগে। একই কারণে ডায়াবেটিক ও কোলেস্টেরলের রোগীদেরও পায়ে ব্যথা  হয়।
- গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন স্নায়ুতে চাপ পড়ে বলে পায়ে প্রায়ই টান লাগে।
- পায়ের পেশির দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত ব্যবহার, একভাবে দীর্ঘ সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা।
 
 
পেশীতে খিল কী করবেন?
ক. আক্রান্ত পেশীকে দ্রুত Relax (শিথিলায়ন) করতে হবে। এর উপায় হচ্ছে  পেশী প্রসারিত করা। যা অতি দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে আরাম দিতে পারে।
খ. তাপ চিকিৎসা মানে গরম সেঁক দেয়া যায় যদি পেশী শক্ত হয়ে বসে য়ায়।
গ. পেশী নরম, ব্যথাযুক্ত আর ফুলে গেলে ঠাণ্ডা সেঁক ‘Ice pack’ দেয়া যায়।
ঘ. বাম বা জেল দিয়ে মালিশ করা যেতে পারে।
ঙ. ইলেক্ট্রোলাইটিক ড্রিঙ্ক, যেমন-ওরাল স্যালাইন দেয়া যেতে পারে।
চ. দীর্ঘ মেয়াদে ভালো থাকতে শাকসবজি, ফল, দুধ, মাংস এবং খেজুর খান  পর্যাপ্ত পরিমাণে। এই খাবারের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও  ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।
ছ. নেশা থাকলে তা বাদ দিতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
 
 
পেশী সম্প্রসারণের (Muscle Stretching) নিয়ম
৹ যদি হাঁটুর নিচে পায়ের পেছনে টান লাগলে : পা সোজা করে ফেলুন, হাত দিয়ে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো ধরুন আর আপনার দিকে টানুন।
৹ উরুর সামনের দিকে হলে পা ভাঁজ করে ফেলুন, হাত দিয়ে পায়ের আঙুলের মাথাগুলো ধরুন আর আপনার নিতম্বের দিকে টানুন।
৹ যদি উরুর পেছনে খিল লাগে, তাহলে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা ভাঁজ করে হাটুঁ  যতটুকু পারবেন বুকের দিকে নিয়ে আসুন। ধীরে ধীরে উরুর পেছনের পেশীতে হালকা  মালিশ করুন।
ইন্টারনেট অবলম্বনে

48
প্রথমে জানা যাক মানুষ–খেকো গাছের ধারণাটা প্রথম আসলো কোথা থেকে।
দ্য মাদাগাস্কার ট্রি
১৮৭৪ সালে এডমন্ড স্পেনসর নামক একজন ব্যক্তি ‘নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড’ পত্রিকার জন্য একটি বানোয়াট প্রবন্ধ লিখেন। সেখানে তিনি কার্ল লিঞ্চ নামক একজন জার্মান অভিযাত্রীর কাছ থেকে পাওয়া একটি চিঠির উল্লেখ করেন। চিঠিতে কার্ল আফ্রিকার মাদাগাস্কারে তার দেখা একটা মানুষখেকো গাছের বর্ণনা দেন। এই গল্প পরে আরও কিছু পত্রিকায় ছাপা হয়। চেজ ওজবোর্নের লেখা বই ‘Madagascar, Land of the Man-eating Tree’ প্রকাশিত হবার পর এই মানুষ-খেকো গাছ ব্যাপারটা বেশি পরিচিতি পায়। কিন্তু এসবই ছিল বানোয়াট গল্প। এই গল্পগুলোর কোন বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

দ্য ভ্যাম্পায়ার ভাইন
বৃটিশ জার্নাল ‘রিভিউ অব রিভিউ’-এর সম্পাদক উইলিয়াম থমাস স্টেড ১৮৯১ সালে তার জার্নালে ‘দ্য ভাম্পায়ার ভাইন’ নামে একটি ছোট প্রবন্ধ লেখেন। এ প্রবন্ধে তিনি লুসিফার ম্যাগাজিনের বরাত দিয়ে বলেন, নিকারাগুয়াতে “দ্য ডেভিলস্ স্নেয়ার” নামক একটি গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। সে গাছের সংস্পর্শে কোন জীবিত প্রাণী গেলে গাছটি তার রক্ত চুষে তাকে মেরে ফেলে। পরে অবশ্য একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, লুসিফার ম্যাগাজিনে এরকম কোন গল্প ছাপা হয়নি। তাই, রিভিউ অব রিভিউয়ে ছাপা ‘দ্য ভ্যাম্পায়ার ভাইন’ সম্পূর্ণ কল্পিত ও বানোয়াট।

মাংসাশী উদ্ভিদ
মানুষ-খেকো গাছ বলে কিছু নেই পৃথিবীতে। তবে মাংসাশী গাছ বা কার্নিভোরাস প্লান্ট (Carnivorous plants) বলে একধরণের গাছ আছে যেগুলো বৈরি পরিবেশে জন্মাবার কারণে তার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন মূল দ্বারা শ্বসন করতে পারে না। শরীরে নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করার জন্য গাছগুলো বিভিন্ন ধরণের পোকামাকড় এমনকি ছোট ছোট ইঁদুরকে পর্যন্ত শিকারে পরিণত করে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। মাংসাশী উদ্ভিদগুলো এসব প্রাণীকে বিভিন্ন উপায়ে ফাঁদে ফেলে। প্রাণীগুলো যখন ফাঁদে আটকে মারা যায় তখন এদের দেহ থেকে খনিজ উপাদান সংগ্রহ করে টিকে থাকে গাছগুলো।

আসুন পরিচিত হওয়া যাক কয়েকটি মাংসাশী গাছের সাথে

নেপেন্থেস
নেপেন্থেস এক ধরণের “পিচার প্লান্ট বা কলস গাছ”। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় এ প্রজাতির উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। এ উদ্ভিদ যে পদ্ধতিতে শিকার করে তাকে “পিটফল ট্রাপ” বলে। এ উদ্ভিদের পাতাগুলো জন্মানোর সময় সাধারণ পাতার মতো দেখা গেলেও যখন এরা বড় হতে থাকে তখন পাতাগুলো কুন্ডলী পাকিয়ে কলসের আকৃতি ধারণ করে। এর প্রবেশপথ পাতার ডগা দিয়ে এমনভাবে ঢাকা থাকে যে এটা ঢাকনার কাজ করে। এই কলসের আকৃতির পাতার মধ্যে একধরণের জারক রস থাকে। এ জাতীয় উদ্ভিদ তার উজ্জল ফুল ও পাতা এবং মধু দ্বারা পোকামাকড়দের আকৃষ্ট করে। একবার যদি কোন পোকা এই ফাঁদে পা দিয়ে কলসের মধ্যে পরে যায়, তাহলে আর সেখান থেকে উঠতে পারে না। কারণ এই কলসির আকৃতির পাতাগুলোর ভেতরের দিকে মোমের মত পাতলা, পিচ্ছিল একটা আবরণ থাকে যা পোকাগুলোকে উপরে উঠতে বাধা দেয়। ভিতরের জারক রসের মধ্যে পরে গেলে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পোকাগুলো সেখানে দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং গাছের খাদ্যে পরিণত হয়।

ড্রোসেরা
ড্রোসেরা জাতীয় উদ্ভিদের শিকারের পদ্ধতিকে সক্রিয় ‘ফ্লাইপেপার ট্রাপ’ বলে। এ পদ্ধতিতে উদ্ভিদগুলো নিজেদের শরীরের চিটচিটে আঠালো একধরণের পদার্থের সাহায্যে পোকামাকড়কে ফাঁদে ফেলে। ড্রোসেরার সরু উপাঙ্গের ন্যায় পাতায় ডগায় একধরণের আঠালো লালাগ্রন্থি শিশিরবিন্দুর ন্যায় জমে থাকে। এর আশেপাশে কোন পোকামাকড় এলে এর পাতাগুলো সেই দিকে খুব দ্রুত প্রসারিত হয় এবং পোকাগুলোকে লালাগ্রন্থির সাথে আটকে ফেলে। একবার পোকাগুলোকে ফাঁদে আটকে ফেলতে পারলে খুব সহজেই খাবারে পরিণত করে। এ উদ্ভিদের আদি বাস দক্ষিণ আফ্রিকায়। এর প্রায় ২০০ টি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

ভেনাস ফ্লাইট্রাপ
ভেনাস ফ্লাইট্রাপ “স্নাপ ট্রাপ” পদ্ধতিতে শিকারকে ফাঁদে ফেলে। অর্থাৎ এ ধরণের উদ্ভিদের পাতার সংবেদনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে শিকারকে আটকে ফেলে এবং খাদ্যে পরিণত করে। এর পাতার দুইভাগের মাঝখানে যে শিরা থাকে তার সাহায্যে পাতাগুলো দ্রুত খুলতে ও বন্ধ হতে পারে। পাতার ভিতরের দিকের পৃষ্ঠে এবং প্রান্ত জুড়ে ছোট ছোট কাঁটার মতো সংবেদনশীল লোম থাকে। পোকামাকড় বা এই জাতীয় কোনো শিকার এসব লোমের সংস্পর্শে আসা মাত্র অতি দ্রুততার সাথে শিকারসহ পাতার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। পোকাগুলো পাতার মধ্যে আটকে গেলে এর ভেতরের জারক রস ধীরে ধীরে পোকার নরম অংশগুলোকে গলিয়ে খাদ্যে পরিণত করে।
পাতাগুলোর মধ্যে যদি খুব ছোট পোকা আটকে তবে পাতার মুখ বন্ধ হয় না। কারণ সেগুলো পর্যাপ্ত খাবারের যোগান দিতে পারে না। আবার পোকা ছাড়া অন্যকিছু, যেমন- ছোট পাথর বা অন্য কিছু তবে বার ঘন্টার মধ্যে ট্রাপটি পুনরায় খুলে যায় এবং সেটাকে বের করে দেয়।
ভেনাস ফ্লাইট্রাপের অনন্য সৌন্দর্যের কারণে এ উদ্ভিদ অনেকে বাড়ির টবেও চাষ করে।

49
Faculty Forum / কুয়াকাটা ভ্রমন
« on: April 20, 2017, 01:36:36 AM »
কুয়াকাটা
বরিশালে কলিগের বিয়ে থাকার সুবাদে কুয়াকাটা ভ্রমনটা ছিল অপরিহার্য । লঞ্চে যাতায়াত সুবিধাজনক এবং আরামদায়ক তাই লঞ্চই বেছে নিয়েছিলাম।
ঢাকা টু বরিশাল লঞ্চ : সিংগেল কেবিন ৮০০, ডাবল ১৬০০ , ডেক ২০০ ( পারাবত ৯) ।
তবে ঢাকা টু পটুয়াখালী অথবা ঢাকা টু আমতলী হয়ে গেলে বাসে সময় কম লাগবে ।
ঢাকা টু বরিশাল লঞ সদরঘাট থেকে রাত ৯ টায় ছেড়ে যায় । বরিশাল পৌছায় ভোর ৪:৩০ এ। আলো ফুটলে লঞ্চ থেকে নেমে নাস্তা করে চলে যেতে হবে বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে কুয়াকাটার বাস ছেড়ে যায় প্রতি এক ঘন্টা অন্তর অন্তর । ভাড়া ২৪০ টাকা । সময় লাগে প্রায় ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘন্টা ।
কুয়াকাটায় বেশ কিছু নিন্ম থেকে শুরু করে ভাল মানের হোটেল রয়েছে । সবচেয়ে ভাল হয় যদি সরকারী কুয়াকাটা পর্যটন মোটেল এ থাকা। ভাড়া ওদের ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন। ভাল হয় আগে থেকে বুকিং দিয়ে গেলে ।
আমরা কুয়াকাটা গেস্ট হাউসে ছিলাম । ১০ জন , ৩ টা রুম , প্রতি রুমে ১ টা ডাবল এবং ১ টা সিংগেল বেড , ২ রাত ছিলাম , ভাড়া টোটাল ১০০০০ (দশ হাজার) টাকা ।
প্রথমদিন যেহেতু যেতে যেতেই দুপুর তাই দুপুরের খাওয়াটা শেষ করেই সমুদ্রস্নান । রাতে বিচের পাশেই খেতে পারেন ফিশ বারবিকিউ। টুনা ফিশ বারবিকিউ , কাকড়া ফ্রাই, চিংড়ী ফ্রাই ট্রাই করতে পারেন।
পরদিন সকালে বোট ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন শুটকি পল্লী , লাল কাকড়ার চর , ফাতরার চর, লেবুর বন। ১০ জনের বোট রিজার্ভ ৩৫০০ টাকা। বোটের কন্টাক্টস প্রথম কমেন্টে।
শুটকি পল্লীতে ভাল মানের এবং সুলভ মূল্যে শুটকি পাওয়া যায় , কিনতে পারেন ।
বাইকে করেও ঘুরা যায় কিন্তু বোট জার্নিটা বেশি রোমাঞ্চকর।
ভোরবেলা সূর্যদয় দেখার জন্য যেতে পারেন গংগামতির চড়ে । বাইকে করে যাওয়া যায়। এক বাইকে ২ জন ভাড়া পরবে আপ-ডাউন ২০০ টাকা। বাইক নিজে চালাতে পারলে সেটা আরও বেশি মজার ।
সবশেষে বলব কুয়াকাটাতে গ্রুপ করে বেশি মানুষ নিয়ে ঘুরতে গেলে মজাটা বেশি। আর অবশ্যই ডাব খাবেন। ওখানে ২০/৩০ টাকায় যে ডাব পাওয়া যায় সেটা ঢাকায় ৫০/৬০ টাকাতেও পাওয়া মুশকিল। আর কোনকিছু কেনা এবং খাওয়ার আগে অবশ্যই ঠিকমত দরদাম করে নিতে ভুলবেন না ।
#happy_travelling

50
Faculty Forum / দার্জিলিং
« on: April 20, 2017, 01:34:45 AM »
দার্জিলিং, পশ্চিবঙ্গের বিখ্যাত টুরিস্ট প্লেস :)
এই পোস্টে পাবেন দার্জিলিং ঘুরার পুর্নাঙ্গ গাইডলাইন
(যাওয়ার উপায়, থাকা খাওয়া, কেনাকাটা সবকিছু)

যাবো কিভাবে দার্জিলিং :

সহজ যাবার দুইটি রাস্তা আছে একটি বেনোপাল যশোর দিয়ে আর আরেকটি হলো পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দা বর্ডার দিয়ে ।

যদি বেনোপাল হয়ে যান তাহলে আপনাকে কলকাতা থেকে ৫৫৮ কিমি দুরে আবার শিলিগুড়ি যেতে হবে আর যদি আপনি বাংলাবান্ধা বর্ডার দিয়ে যান তাহলে ভারতে ঢুকার পরই আপনি শিলিগুড়ি পৌছে যাবেন ।। বাংলাবান্ধা বর্ডারটা নতুন চালু হয়েছে যারা দার্জিলিং যাবেন তাদের জন্য বাংলাবান্ধা বর্ডার বেস্ট আর যারা দার্জিলিং এর সাথে কলকাতাও ঘুরে যেতে চান তারা বেনোপাল যশোর বর্ডার দিয়ে যাওয়া ভালো হবে ।।
এমন চা বাগানের মাঝ দিয়ে রাস্তা আপনাকে মুগ্ধ করবে ,গাড়ী দাঁড় করিয়ে ছবি নিতে ভুলবেন না

শিলিগুড়ি শহর থেকে ৭৫ কিমি দুরে দার্জিলিং আপনি রিজার্ভ গাড়ী ১৫০০ রুপিতে পাবেন অথবা শেয়ার করেও যেতে পারেন প্রতিজন ১৫০ রুপি করে নিবে ।। যেটাতে ইচ্ছা সেটাতেই যেতে পারেন ।।

একেবেকে পাহাড়ী রাস্তার অপরুপ সব দৃশ্য উপভোগ করতে করতে কখন যে দার্জিলিং শহরে পৌছে যাবেন বুঝতেই পারবেন না :) পাহাড়ের কোলে অসম্ভব সুন্দর শহর দার্জিলিং ।।

থাকার ব্যবস্হা কোথায় ?

দার্জিলিং আসার পর আপনার প্রথম কাজ কি ? অবশ্যই আগে একটা ভদ্র সুশিল আরামদায়ক মজাদার থাকার হোটেল তাইনা ?

দার্জিলিং এ আপনি সস্তা থেকে শুরু করে লাক্সরিয়াস হোটেলও পাবেন ।। তবে আমার মতো অধিকাংশদেরই প্রথম পছন্দ মাঝারি মানের তাইনা ? বেশি দামিওনা আবার একেবারে কমদামি সস্তা হোটেলও না ।।

দার্জিলিং এ একটা ট্রাফিক মোড় আছে এটাই শহরের মধ্য পয়েন্ট এর চার দিকে চারটা রাস্তা চলে গেছে আপনি চারটা রাস্তাতেই হোটেল পেয়ে যাবেন ।। দেখে শুনে বাজেট অনুযায়ী হোটেল নিয়ে নিন ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে রাস্তাগুলো ধরে যত ভিতরে যাবেন ততই কমদামে হোটেল পাবেন ।। যদি ঠান্ডা বেশি থাকে তাহলে হোটেলে গরম পানির ব্যবস্হা আছে কিনা জেনে নিবেন । আমরা ট্রাফিক পয়েন্টের সাথেই হোটেল একটা হোটেলে পাঁচজন বড় একটা রুমে ছিলাম ১৮০০ রুপিতে ।।

ঘুরবো কোথায় দার্জিলিং

ঘুরোঘুরির জন্য অসম্ভব সুন্দর জায়গা হলো দার্জিলিং ,সবগুলো প্লেস আরাম করে দেখার জন্য দেড় / দুইদিন যথেষ্ট ।। চাইলে একদিনেও প্রধান প্রধান টুরিস্ট প্লেসগুলো কভার করা সম্ভব ।। আমরা কিন্তু একদম ভোর থেকে শুরু করে সন্দ্যার মাঝে একদিনেই শেষ করেছিলাম কারণ আমাদের সময় কম ছিলো ।।

টুরিস্ট প্লেসগুলোর অধিকাংশই শহরের আশে পাশে তাই জার্নি কমই লাগবে :) প্রধান প্রধান টুরিস্ট স্পটগুলো

টাইগার হিল -১০ হাজার ফুট উচু এখানে সবাই খুব ভোরে গাড়ীতে যায়,কান্জনজজ্ঞাতে সূর্যোদয় দেখার জন্য
অসাধারণ হিমালিয়ান মাউন্টরিং ইন্সটিটিউট এবং চিড়িয়াখানা
চা বাগান আর পাহাড়ের উপর দিয়ে ক্যাবল কারে ৪৫ মিনিটের ভ্রমণ /রুপওয়ে
চায়ের জন্য বিখ্যাত হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেন
ছবির মতো সাজানো জাপানিজ ট্যাম্পল
টয় ট্রেন যেখানে মোড় ঘুরে সেই বাতাশিয়া লুপ
প্রার্থনা কেন্দ্র ঘুম মনেস্ট্রি
দিরদাহাম টেম্পল
গঙ্গামায়া পার্ক
রক গার্ডেন
দার্জিলিং এর গোরখা স্ট্রেডিয়াম
দড়ি ধরে পাহাড় বেয়ে উঠার জন্য টেনজিং রক ও গুম রক ,এটা ট্রাই করতে পারেন মজার একটা অভিজ্ঞতা হবে
রাজভবন

এছাড়া আরও আছে টয় ট্রেনে জয় রাইড পুরো শহর টয় ট্রেনে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ তবে দামটা একটু বেশিই এক হাজার রুপি প্রতিজন ।। আমরা দাম শুনে না ঘুরেই চলে আসছি ।।
এটাকে বলে বাতাশিয়া লুপ ,এখানে টয় ট্রেন এসে ঘুরে যায়
জাপানিজ ট্যাম্পেল

এগুলোই মোটামুটি দার্জিলিং এ ঘুরে বেড়ানোর জায়গা ।। আপনি লিস্টটা ড্রাইভারকে দেখাবেন যে আপনারা প্রতিটা জায়গাতে যেতে চান ।। সে অনুযায়ী ভাড়া কত হয় । ।

যাদের হাতে বেশি সময় বা আরওএ ঘুরতে চান তারা একদিনের জন্য মিরিক লেক চলে যেতে পারেন গাড়ী রিজার্ভ করে অথবা কালিম্পংও ঘুরে আসতে পারেন ।।

প্রতিদিনের জন্য গাড়ী রিজার্ভ চারজন বসার মতো ১ থেকে দেড় হাজার আর আট/নয়জন বসার মতো ১৫০০ থেকে দুই হাজার রুপি সর্বোচ্চ ।।

ও আরেকটা কথা বলতেই ভুলে গেছি দার্জিলিং শহরের ভিতরে একটা চত্বর আছে নাম মল চত্বর /মল রোড এখানে বিশাল বসার স্হান ।। সবাই এখানে এসে আড্ডা দেয় । জায়গাটা পাহাড়ের উপরে ।। এখানে অবশ্যই ঘুরতে যাবেন রাতের বেলা ।। চমৎকার একটা জায়গা নানা ধরনের মানুষ আড্ডা দিচ্ছে গান গাচ্ছে ভালোই লাগবে ।। আমরা প্রতিদিন রাতে হোটেলে খেয়ে দেয়ে এখানে আড্ডা দিতাম ।

দার্জিলিং যাবার ভালো সময় কোনটা ?

দার্জিলিং এ একেক সময় একেক রুপ থাকে তবে দার্জিলিং ঘুরে আসার বেস্ট সময় হলো এপ্রিল টু জুন । এ সময় আবহাওয়া অনেক পরিষ্কার থাকে আর হালকা হালকা শীত অনুভুত হয় ।। বেস্ট সিজন এটাকেই বলা যায় এছাড়া বর্ষার শেষে সেপ্টেম্বর অক্টোবরেও যেতে পারেন । তারপর গেলে শীতের প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন ।। তবে কম দামে চমৎকার সব শীতের কাপড় পাবেন দার্জিলিং এ :)

খাবার দাবার
এ অংশটা লিখতে আমি মোটামুটি এক্সাইটেড কারণটা হলো দার্জিলিং এ খাবার দাবারের একটা টিপস আপনাকে আমি জানাবো ,দার্জিলিং এ সব ধরনের খাবার পাবেন তবে আমরা বাঙ্গালী মুসলিম যারা গরু ছাড়া খাবার দাবার জমেনা তাদের জন্য একটা স্প্রেশাল খাবারের দোকান আছে ।। দার্জিলিং এ মসজিদের পাশে মুসলিম হোটেল আছে নাম ইসলামিয়া হোটেল ,এখানে আপনি সস্তায় গরুর মাংশ খেতে পারবেন গরুর প্লেট মাত্র ৩০ টাকা কলিজি ২০ টাকা !!!!!! কম দামে ধুমাইয়া সুস্বাধু খেতে এর কোন বিকল্প নেই ।। আমরা সকাল সন্ধ্যা রাত সব বেলা এই হোটেলেই খেয়েছি ।। দার্জিলিং এ যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই হবে ভাই মুসলিম হোটেল কোথায় অথবা মসজিদটা কোথায় ।।

কেনাকাটা
কেনাকাটার জন্য দার্জিলিং খুব ভালো জায়গা বিশেষ করে শীতের কাপড় চোপড় জ্যাকেট ইত্যাদি কেনার জন্য ।। কম দামে খুব ভালো ভালো শীতের জ্যাকেট চাদর ইত্যাদি পাবেন । তবে দাম দর করে নিবেন এখানে প্রচুর দাম চায় । আমাকে একটা শীতের শাল দাম চেয়েছে ১২০০ রুপি আমি এনেছি ৩৫০ রুপি দিয়ে এবার বুঝুন অবস্হা ।।

ভাই সবতো বললেন এবার খরচটা বলেন ?
হুম এত ক্ষনে আসল কথা মনে পড়ছে সবতো বুঝলেন তাহলে ঘুরে আসতে কেমন খরচ হতে পারে তার একটা ছোট্র আইডিয়া দেই ।।

ঢাকা থেকে বাংলাবান্ধা বর্ডার দিয়ে শিলিগুড়ি যেতে এক হাজার টাকা।।কলকাতা দিয়ে গেলে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি ৫শ থেকে ৬শ রুপি বাসা ভাড়া নিতে পারে ।।

শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পার হেড ১৫০ রুপি ভাড়া আর রিজার্ভ ১৫০০ রুপি ।।

দার্জিলিং এ গাড়ী রিজার্ভ প্রতিদিন ১২শ থেকে দুই হাজার রুপি ।।

থাকা মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ট মানের হোটেল প্রতিজন ৫শ থেকে ছয়শ রুপি ।।

দশ থেকে ১২ হাজার টাকার ভিতরে আপনি খুব ভালোভাবে ঘুরে আসতে পারবেন ।

এবার নিজেই নিজের মতো করে বাজেটটা করে নিন :) আমি শুধু আপনার সুবিধার্থে একটা ধারনা দিলাম ।

51
ঘুরে আসুন ঢাকা - কলকাতা - আগ্রা - দিল্লি - মানালী - আম্রিতাসর ( পাঞ্জাব ) - কলকাতা - ঢাকা মাত্র ১৮৬ ডলার বা ১২,৬৬৭ হাজার রুপি  ( রুট প্লান )
 .
কি অবাক হচ্ছেন। ভাবছেন গাজা খুড়ি গল্প মারছি না হয় ফাউল একটা টুরের গল্প শুনাচ্ছি। না ! একটা পরিকল্পিত ভালো বা লাক্সরিয়াস টুরের গল্প বলছি। দালাল বা এজেন্সি বাদ দিয়ে নিজে নিজে ট্যুর করতে শিখুন :) । এবার নিচে পড়তে থাকুন। এই টুর দিতে হলে আপনাকে মিনিমাম ৩ জন হতে হবে এবং সময় লাগবে ১৫ দিন।
.
◄◄▌▌ দিন এক : ঢাকা থেকে বেনাপোল শ্যামলী , গ্রীন লাইন, সোহাগ পরিবহন ৫০০ টাকা বা ৪২০ রুপি। বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে খরছ ৫০ রুপির মত। এবার সোজা চলে আসবেন বনগাঁ রেলওয়ে স্টেশনে খরছ সি এন জি ৩০ রুপি। এখান থেকে শিয়ালদাহ ট্রেনের ভাড়া ২০ রুপি। আপনি সোজা চলে এলেন শিয়ালদহ। প্রথম দিন কলকাতায় থাকবেন না। শিয়ালদহ থেকে রাতের ট্রেন ধরে চলে যাবেন আগ্রা ফোরট রেলওয়ে স্টেশন। ভাড়া নিবে স্লিপার ক্লাস ৫৬৫ রুপি মাত্র। যারা ভাবেন স্লিপার ক্লাস খারাপ তাদের জন্য এক বালটি সমবেদনা। শিয়ালদাহ রেলস্টেশনে এসে এর পিছনের গেটে চলে যাবেন। ওখানে কম দামে ভালো খাবার পাওয়া যায়। ১০০ রুপি দিয়ে ভাত আর মাছ পাবেন আর ৭ রুপির সোডা খাবেন। সোডাটা মিস করবেন না।। অস্থির জিনিস। আল ইন্ডিয়া এয়ারটেল সিম + ১ জিবি কিনবেন ৩০০ রুপি দিয়ে । ভোডা ফোনের কভারেজ কম । এয়ারটেল বেষ্ট
.
দিন ১ এর মোট খরছ ৪২০+৫০+৩০+২০+৫৬৫+৩০+১০০+৭ +৩০০ = ২০৩৩  রুপি
.
◄◄▌▌দিন দুই : ট্রেনে খাবেন ডিম বিরিয়ানি। প্রতি প্যাকেট ১০০ রুপি মাত্র, সাথে থাকবে ২ টা ডিম আর ফ্রাইড রাইস । ২ বেলা আন্ডা বিরিয়ানি আর সকালে নাস্তা মিলে খরছ ২৫০ রুপি। আপনার যদি চা খাবার ইচ্ছে থাকে তবে খেয়ে নিন। ১০ রুপি পার কাপ। স্লিপার ক্লাসে আপার টা নিবেন। রাতে শান্তির ঘুম আর দিনে ট্রেনের জানালা দিয়ে ভারতবর্ষ কে দেখুন। আপনি এসি কামড়ায় গেলে হয়তবা আরাম বেশী পাবেন বাট ভারতবর্ষ তো আর দেখতে পারবেন না ঠিকমত। যারা ট্রেন ভ্রমন করেছেন তারা জানেন ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে বাহিরের জগত দেখার মজাটা কিরকমের।
.
দিন ২ এর মোট খরছ: ২৫০+২০= ২৭০ রুপি
.
◄◄▌▌দিন তিন: সকাল বেলা চলে আসবেন আগ্রা ফোরট স্টাশনে। সকালে ট্রেনেই নাস্তা সেরে নিবেন। খরছ হবে ৫০ রুপি। আমরা ছিলাম স্টেশনের পাশেই অজয় ইন্টান্যাশনালে। ১ রাতের জন্য ভাড়া ৯৫০ রুপি বা পার পারসন হিসেবে ৩১৭ রুপি। এবার হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিন। হোটেল থেকে বেড়িয়ে হাতের ডান দিকে একটু হাটুন। ২ মিনিট হাটলেই জামা মসজিদ পাবেন । মসজিদ এর সাথে সব মুসলিম খাবারের হোটেল পাবেন। এক প্লেট কলিজা ৪০ রুপি আর তন্দুররুটি ৫ রুপি। ৩ টে খেলেই পেট ভড়ে যাবে। খাওয়া শেষ করে মোবাইলের জিপিএস অন করুন এবং বিজালি ঘর ক্রসিং  ট্রাক করুন । ৫ মিনিটের হাটাপথ বিজালি ঘর ক্রসিং মোড়ে চলে আসুন। এখান থেকে তাজমহল গামী সি এন জি পাবেন, পার পারসন ১০ রুপি। সোজা গিয়ে নামবেন তাজমহল এর Western Gate। এখানে গিয়ে টিকিট কাটুন। টিকিট কাটার সময় অবশ্যই বলবেন SAARC COUNTRY. টিকিটের মুল্য হয়ে যাবে ৫৩০ রুপি মাত্র। আগে তাজমহল দেখবেন। কেন দেখবেন সেটা পরে বলছি :) । তাজমহল দেখার সময় সব সময় ফরেনার জোন ব্যাবহার করবেন। পুলিশ টিকিট দেখতে চাইলে দেখাবেন। ফরেনার টিকিটে অনেক সুবিধা। বাথরুম ফ্রি, সবার আগে যেতে পারবেন ইত্যাদি। ৩ থেকে ৪ ঘন্টা সময় নিয়ে তাজমহল দেখুন। এর পর একটা অটো নিয়ে চলে আসুন আগ্রা ইমতি উদ দৌউলা । দাম নিবে ৮০ রুপি, পার পারসন রুপি ২৭ রুপি । আসার পথে মিনা বাজার দেখুন। এর পর সোজা চলে জান ইমতি উদ দৌউলা দেখতে। ইমতি উদ দৌউলা এর আশে পাসেই ২ টি স্থাপনা আছে বাট আমার মতে দেখার দরকার নেই খুব একটা সুন্দর না। বিকেল বেলা বেবি তাজ বা ইমতি উদ দৌউলা থেকে যমুনা নদীর উপর সূর্যাস্ত দেখুন। অনেক সুন্দর। ইমতি উদ দৌউলা প্রবেশ ফি ১৫ রুপি ( অবশ্যই SAARC বলে নিবেন ) । এবার আপনি চাইলে হেটে হেটে আপনার হোটেলে আসতে পারেন আবার অটোতেও আসতে পারেন । আগ্রা ফোরট রেলওয়ে স্টেশনে আসতে জন প্রতি ১৫ রুপি পরবে । আমরা হেটে হেটে এসেছি, আগ্রা শহর ঘুরে ঘুরে দেখছি।  হোটেলে ফিরার সময় পেট ভরে খেয়ে নিন। পার পারসন খুব বেশি হলে ১০০ রুপি পরবে।
.
দিন ৩ এর আপনার মোট খরছ: ৫০+৩১৭+৪০+১৫+১০+৫৩০+২৭+১৫+ ১৫+১০০ = ১১১৯ রুপি
.
◄◄▌▌দিন চার: সকাল সোজা চলে যান আসুন বিজালি ঘর ক্রসিং । এখান থেকে আগ্রা ক্যান্ট রেলওয়ে স্টেশন ভাড়া ১০ রুপি । আগ্রা ক্যান্ট রেলওয়ে ষ্টেশনের সামনে দাঁড়ালে আপনার হাতের ডান পাশে সেকেন্ড ক্লাস টিকিট ও লাগেজ রুম এবং বা পাশে SL , AC এর টিকিট কাউন্টার । বাম পাশে গিয়ে রাত ১ টার দিল্লী গামী ( হযরত নিজাম উদ্দিন রেলওয়ে স্টেশন , দিল্লী ) ট্রেন্রের টিকিট কাটুন, পার পারসন ১৭০ রুপি । এবার লাগেজ রুমে গিয়ে ২০ রুপি পার পারসন আপনাদের লাগেজ রাখুন (নিরাপদ) । এবার জেনারেল ক্লাসের টিকিট ঘরে গিয়ে ফতেহ পুর সিক্রি যাবার ট্রেনের টিকিট করুন , ভাড়া ১০ রুপি । ফতেহপুর সিক্রি ঢুকার এন্ট্রি ফি ৪০ রুপি ( অবশ্যই SAARC বলে নিবেন ) । ১২ টার মধ্যে আগ্রা ক্যান্টে  রেলওয়ে স্টেশনে চলে আসুন , ভাড়া ১০ রুপি ট্রেনে । স্টেশনে নেমেই হালকা কিছু খেয়ে নিন , খরছ ৩০ রুপি  । এখান থেকে আগ্রা ফোরট পার পারসন সি এন জি তে ১৫ রুপি । আগ্রা ফোরট এ গিয়েই পুলিশকে আপনার আগের দিনের তাজমহলের টিকিট টি দেখিয়ে বলবেন আমি SAARC এর আওতায় টিকিট কাটব । পার পারসন ৩৫ রুপি , না হলে কিন্তু ৫০০ এর মত দিতে হবে :) । এবার আবার আগ্রা ক্যান্ট রেলওয়ে স্টেশনে আপনার পছন্দ মত সময়ে ফিরুন । এখানে ভারী কিছু খেয়ে নিন , খরছ ১০০ রুপি । এখানে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন আগ্রা ক্যান্ট রেলওয়ে স্টেশনে আসার পথের স্টেশনের খুব কাছে রাস্তার দুপাশে হাতের ডান  ও বামদিকে অনেক খাবারের দোকান পাবেন । বাম সাইডের গুলো কিন্তু আসলে বার আর ডান সাইডের গুলো ফ্যামেলি নিয়ে বসার জন্য :)   ।  আপনি যখন হযরত নিজাম উদ্দিন রেলওয়ে স্টেশন, দিল্লীতে পৌঁছবেন তখন আনুমানিক রাত ৫ টা বা ৪ টা বেজে যাবে । এবার সোজা এ সি ওয়েটিং রুমে গিয়ে শুয়ে পরুন :) 
.
দিন 8 এর আপনার মোট খরছঃ১০+১৭০+২০+১০+৪০+১০+৩০+১৫+৩৫+১০০ = ৪৪০ রুপি
.
▌▌◄◄ দিন পাঁচঃ সকাল ৯ টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে পরুন । এবার ফ্রেশ হয়ে মোবাইলের জিপিএস অন করে হুমায়ূনের কবর দেখতে বের হউন । যাবার পথে ছোট একটা বাস স্ট্যান্ড পরবে সেখান থেকে হালকা নাস্তা করে নিন, খরছ পার পারসন ৫০ রুপি । এবার সকালের দিল্লির রুপ দেখতে দেখতে হুমায়ূনের কবর দেখে ফেলুন , এন্টি ফি ৩০ রুপি । এবার একটা সি এন জি নিয়ে রেড ফোরট চলে আসুন ভাড়া পার পারসন ৩৫ রুপি । রেড ফোরট প্রবেশ ফি ৩৫ রুপি। রেড ফোরড দেখে ভারী কিছু খেয়ে নিন , ১০০ রুপিতেই হয়ে যাবে  । রেড ফোরট দেখেই ের সামনে অনেক টুরিস্ট বাস পাবেন পার পারসন ১৩০ থেকে ১০০ রুপি নেবে পুরো দিল্লীর সব ঐতিহাসিক স্থাপনা গুলো ঘুরে দেখাবে । বিকেল ৫ টার মধ্যেই কাশ্মীর গেট বাস স্টেশনে চলে আসুন । ষ্টেশনের সাথেই মেট্রো রেল স্টেশন ওখানেই ম্যাক ডোনাল পাবেন । পার পারসন ২৫০ রুপি খরছ করলেই পেট ভরে যাবে । এবার শীতকাল হলে মানলী যাবার জন্য ভলভো এর গরমের দিন হলে সাধারন HRTC গাড়ির টিকিট কাটুন । ভল্ভো ১৪১২ রুপি এর সাধারন ৬৭৫ রুপি । সারাদিনের ক্লান্তিদুর করার জন্য ভল্ভোর টিকিট কাটুন । মানলী যাবার সময় চান্ডিগড় সহ অনেক কিছুই দেখতে থাকুন এর বোনাস হিসেবে রাতের দিল্লী তো থাকছেই । দিল্লী জামা মসজিদের কাছেই মুসলিম কম দামের খাবারের হোটেল আছে ।
.
দিন ৫ এর আপনার মোট খরছঃ ৫০+৩০+৩৫+৩৫ +১০০+১৩০+১৪১২+২৫০ = ২০৪২
.
◄◄▌▌ দিন ছয়ঃ মানলী ঢুকার সাথে সাথেই OYO , MAKE MY TRIPS এর অ্যাপ মোবাইলে নামিয়ে নিন । OYO ভালো , অনেক অফার দেয় । সবাই আপনাকে মল রোডে থাকার পরামর্শ দিবে আমি বলব না । আপনি যদি মানলীর সৌন্দর্য দেখতে চান তবে লজ হাট এরিয়া বা অল্ড মানলী বা সার্কিট হাউজ এরিয়ায় থাকবেন ।  আমরা লজ হাট এরিয়াজ মানলীর সব থেকে উঁচুতে সুন্দর একটা হোটেলে ছিলাম । OYO অ্যাপ এর মাধ্যেমে ৬৯% ডিস্কাউন্ট পাইছি ( অফ সিজেন ছিল বলে ) । মল রোড বা বাস স্ট্যান্ড থেকে লজ হাট যেতে জেকোন সি এন জি খুব বেশী পার পারসন ২৫ রুপি নেবে । আমাদের হোটেলে ৬৯% ডিস্কাউন্টে মাত্র ২ রাত ৩ দিন + ফ্রি ব্রেকফাস্ট সহ ২৫০০ নিয়ে ছিল । আমাদের ৩০০ রুপি বেশী নিয়েছে কারন আমাদের আর্লি চেক ইন ছিল , সে হিসেবে পার পারসন ৮৩৪ রুপি মাত্র  । ভুলেও মল রোডে খাবেন না । লজ হাট এরিয়ায় কিছু নেপালী থাবা পাবেন ১০০ রুপিতে মুরগীর মাংস সহ ভাত একজন খেয়ে শেষ করতে পারবেন না । লজ হাট এরিয়ার কাছেই হাডিম্বা দেবীর মন্দির । মন্দির দেখে সোজা পাহাড় দেখতে চলে যান । এলাকাটা ধুরে ঘুরে দেখুন । অনেক সুন্দর । সারাদিনের খাবার করছ মাত্র ২০০ রুপি । মল রোডে থাকলে ২০০০ এও কিছু করতে পারবেন কিনা আল্লাহ জানে । পাহড়ি এলাকা খুব তাড়াতাড়ি রাত নামে এর সব কিছু ফাকা হয়ে যায় । রাত ৭টার মধ্যে খেয়ে দেখে হোটেলে ফিরে আসুন ।
.
দিন ৬ এর আপনার মোট খরছঃ ২৫+ ৮৩৪+ ২০০ = ১০৫৯ রুপি
.
◄◄▌▌দিন সাতঃ সি এন জি ভাড়া করে শহরের সব গুলো জায়গা বা আপনার পছন্দের বাকি ভ্রমণ প্লেস গুলো দেখে নিন । সবার শেষে দিন জন্য সোলাং ভ্যালি রাখবেন । সারা দিনের সি এন জি ভাড়া ৮০০ রুপি এর বেশী হবেই না, পার পারসন ২৬৭ । ভুলেও ক্যাব নিবেন না । তা হলে ধরা । সারা দিনের খাওয়া খরছ ২০০ রুপি ।
.
দিন ৭ এর আপনার মোট খরছঃ  ২৬৭+ ২০০ = ৪৬৭ রুপি
.
◄◄▌▌দিন আটঃ সকালে হোটেল থেকে চেক আউট করে বেড়িয়ে পড়ুন । মল রোডে গিয়ে সোলাং ভ্যালী যাবার জন্য সি এন জি ঠিক করুন । ভাড়া নিবে ৭০০ এর মত সাথে ৩ থেকে ৪ টা স্থানো দেখবেন । জন প্রতি হিসেবে সি এন জি ভাড়া পরবে  ২৩৪ রুপি । ৩ টের মধ্যে মল রোডে চলে আসুন । ভারী কিছু খেয়ে নিন । পার পারসন ১০০ হলেই হবে । এবার আম্রিতাসর , পাঞ্জাব  যাবার জন্য HRTC এর সাধারন গাড়ির টিকিট কাটুন, পার পারসন ৫৫০ রুপি । গাড়ি ছাড়বে ৩.৩০ মিনিটে । ভুলেও ৬.৩০ এর ভল্ভো গাড়ির টিকিট কাটবেন না । কেন কাটবেন না ? নিচের কথা গুলো পড়লেই বুঝবেন । গাড়ি ছাড়বে ৩.৩০ মিনিটে । গাড়ি যখন পাহাড়ের গা বেয়ে কুলু বাস স্ট্যান্ডের দিকে আসতে থাকবে আপনি দুরের পাহাড় গুলো দেখে অন্য এক জগতে হাড়িয়ে যাবেন । সন্ধ্যার সময় কুলু বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে যাবেন । চারদিকে পাহাড় ঘেরা অসম্ভব সুন্দর কুলু বাস স্ট্যান্ড । এবার সারা রাত পাহাড়ের গায়ে মিট মিট করে জলতে থাকা ঘর বাড়ি দেখতে দেখতে চলে আসবেন আম্রিতাসর , পাঞ্জাব । পথে পার পারসন ১০০ রুপি দিয়ে কিছু খেয়ে নিন।
.
দিন ৮ এর আপনার মোট খরছঃ  ২৩৪+১০০+৫৫০+১০০ = ৯৮৪ রুপি
.
◄◄▌▌দিন নয়ঃ বাসে ঘুমাতে ঘুমাতে সকালে আম্রিতাসর বাস স্ট্যান্ডে চলে আসবেন । এখান থেকে ১০ রুপি ভাড়া আম্রিতাসর রেলওয়ে স্টেশন । ওখানে গিয়ে এসি বা ফার্স্ট ক্লাস ওয়েটিং রুমে গিয়ে গোসল সেরে নিন । লাগেজ রুমে ২০ রুপির বিনিময়ে আপনার লাগেজ রাখুন । স্টেশনের সামনে ১৫০ রুপি দিয়ে ভরা পেটে মুরগী বিরিয়ানি খেয়ে নিন । এবার জন প্রতি ১৫ রুপি দিয়ে গোল্ডেন টেম্পেল্ট চলে যান । গোল্ডেন টেম্পেল্টর  কাছেই জালিওয়ানওলা বাগ । সব কিছু দেখা শেষ হলে গোল্ডেন টেম্পেল্ট সংলগ্ন মার্কেটে শপিং করুন কারন এখানে অনেক কম দাম জিনিস পত্রের  । অবশ্যই লাচ্ছি আর আইস্ক্রিম খাবেন , ২৫+৩০ রুপি । অনেক কম দাম । এবার ৬.৩০ এর মধ্যে ১৫ রুপি পার পারসন আম্রিতাসর রেলওয়ে স্টেশন  চলে আসুন । ১ দিনের আম্রিতাসর দেখা শেষ, বর্ডারে যাবার দরকার নেই । অহেতুক এক দিন থাকতে হবে তাহলে । রাত ৬.৩০ মিনিটে আম্রিতাসর , পাঞ্জাব থেকে হাওড়া , কলকাতা ট্রেন । আবার মুরগী বিরিয়ানি বা অন্য কিছু খান , ১৫০ রুপিতেই হয়ে যাবে । আম্রিতাসর টু কলকাতা ট্রেন ভাড়া ৭৬৫ রুপি ।
.
দিন ৯ এর আপনার মোট খরছঃ  ১৫+১০+২০+১৫০+ ১৫+১৫০+২৫+৩০ +৭৬৫  = ১১৮০রুপি
.
◄◄▌▌দিন দশ + এগারো + বারোঃ  লক্ষ্য করুন আপনি যে পথে গেছেন সে পথে কিন্তু ফিরেন নি । ফিরেছেন অন্য পাশ দিয়ে । ফেরার পথে অনেক নতুন নতুন জায়গা পাবেন । তিন দিনে খাওয়া খরছ ৬০০ রুপির বেশী হবেই না । এই তিনদিন আপনি আম্রিতাসর থেকে কলকাতা আসার ট্রেনে থাকবেন । সো অনলি খাওয়া খরছ
.
দিন ১০ + ১১ +১২ মোট খরছঃ ৬০০ রুপি
.
◄◄▌▌দিন তেরঃ সকালে বা ১০ টার দিকেই হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে যাবেন । সেখান থেকে সাব ওয়েতে চলে আসুন । ১২৯/C বাসে করে ৬ রুপি ভাড়া দিয়ে পার্ক স্ট্রিট । আসার পথে হাওড়া ব্রিজ দেখুন । পার্ক স্ট্রিট থেকে ১৫ মিনিট হাটলেই মির্জা গালিব স্ট্রিট । ওখানে এসে ২০০০ এর মধ্যে ২ রাতের জন্য হোটেল পেয়ে যাবেন , সে হিসেবে পার পারসন ৬৬৭ রুপি । মির্জা গালীবেই হোটেল খাজা হাবিবের পাশেই ইসলামিক নামের একটা মুসলিম খাবারের হোটেল আছে , নাম মনে আসছে না । ওখানে ৬০ রুপি দিয়ে গরুর মাংশ আর ২ প্লেট ভাত পাবেন । পরিমানে অনেক বেশী দেয় ওরা আবার চাইলে এক্সট্রা ঝোলও দেয় । হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বিকেলে জি পি এস ট্রাক করে ইডেন গার্ডেন , মিলেনিয়াম পার্ক , JAMES PRINSER GHAT , দ্বিতীয় হুগলী ব্রিজ দেখুন । সন্ধ্যাটা অবশ্যই  JAMES PRINSER GHAT এর সামনের মাঠেও বসে কাটাবেন । রাতে ৬০ রুপি দিয়ে খেয়ে হোটেলে ফিরুন ।
.
দিন ১৩ মোট খরছঃ ৬+৬৬৭+৬০+৬০ = ৭৯৩ রুপি ।
.
◄◄▌▌ দিন চোদ্দঃ মোটা মুটি পার পারসন ৭০০ রুপি খরছ করলেই সায়েস সিটি , গড়ের মাঠ সহ কলকাতার সব কিছুই দেখতে পারবেন । কলকাতা সম্পর্কে বেশী কিছুই লিখছি না । বাংলা ভাষাভাষীদের জায়গা , সো কারো কোন সমস্যা হবে না । সারাদিনে তিন বেলা খেতে ১৮০ রুপি খরছ হবে । বিকেলে নিউমার্কেটে ফিরে কেনা কাটা করুন । রাতে কলকাতা শহর ঘুরে দেখুন ।
দিন ১৪ এর খরছঃ ৭০০+১৮০ = ৮৮০ রুপি
.
◄◄▌▌দিন পনেরোঃ সকালে পার পারসন ৪০রুপি দিয়ে ট্যাক্সি নিয়ে শিয়ালদাহ রেলওয়ে স্টেশনে চলে আসুন ।  এবার বনগাঁ যাবার ট্রেনের টিকিট ২০ রুপি দিয়ে কেটে ফেলুন । বনগাঁর মানুষ যশোরের ভাষায় কথা বলে । এবার ৩০ রুপি  দিয়ে হরিদাশ পুর বর্ডার বা বেনাপোলে চলে আসুন । ৫০০ টাকা বা ৪২০ রুপি দিয়ে ঢাকা । খাওয়া খরছ সারা দিনে ২৫০ রুপি
.
দিন ১৫ এর খরছঃ ৮০+ ২০ + ৩০ + ৪২০+২৫০ = ৮০০ রুপি
.
১৫ দিনের ট্যুরে মোট খরছঃ ১২,৬৬৭ বা ১৮৬ ডলার ( পার ডলার ৬৮.৩০ রুপি রেট হিসেব)
.
.
◄◄▌▌১৫ দিনে আপনি অতিক্রম করবেন ভারতের ওয়েস্ট বেঙ্গল , উত্তর প্রদেশ ( EAST ) , উত্তর প্রদেশ ( WEST ) , দিল্লী , হিমাচল প্রদেশ আর পাঞ্জাব প্রদেশ ।
.
আর যাত্রা পথে ট্রেন থেকে দিনের আলোতে দেখতে পারবেন ঝারখান্ড , বানারাস , কানপুর ( উত্তর প্রদেশ) , হারিয়ানা , চান্ডিগর , এলাহবাদ , লুডাইয়ানা , কুলু , জালান্দার , দুর্গাপুর , বারাসাত , ২৪ পরগণা , আসানসোল , লাখনো আর অতিক্রম করবেন মোটা মুটি ৫০১০ কিঃমিঃ :P
.
◄◄▌▌কিছু অভিজ্ঞতাঃ আমার একটা নেশা আছে , সেটা হলো ভ্রমনের নেশা । আমি বদ্ধ এসি কামরায় বা বিমানে উরে গিয়ে কিছু দেখে আসতে ভালো বাসি না । আমার মতে ভ্রমণ হবে নিরাপদে অনেক কিছু জানার । ভারত ভ্রমণ যদি ট্রেনে না করেন তবে ভ্রমনের ৫০% অপূর্ণ থেকে যাবে । ট্রেনের দরজার পাশে দাড়িয়ে দুরের পাহাড় , ভারতবর্ষের গ্রাম দেখা , নতুন নতুন জায়গার উপর দিয়ে যখন ট্রেন যাবে তখন উপভোগ করা এসব কিছুর মাঝেই আছে আনন্দ । আমি আমার ভ্রমনে পুরোটাই মোবাইলের জি পি এস নির্ভর ছিলাম । আমরা হেটে বেড়িয়েছি ভারতের শহরের অলিতে গলিতে ।

ভারতের রেলওয়ে স্টেশন গুলোতে গোসল , বাথ্রুমের ভালো ব্যাবস্থা আছে । শুধুমাত্র নিশ্চিত টিকিটের PNR নাম্বার দিয়ে আপনি এগুলোতে আক্সেস নিতে পারবেন । স্টেশনে আছে গুগলের হাই স্পিড ফ্রি WiFi ( মোবাইল নাম্বার না হলে কাজ করবে না ) । ট্রেনে মোবাইল চার্জ দেওয়ার ব্যাবস্থা আছে । কিছু অ্যাপ এর ঠিকানা দিচ্ছি এগুলো মোবাইলে অবশ্যই রাখবেন । অনেক গুলো বাংলাদেশের আইপি দিয়ে আক্সেস পাবেন না ইন্ডিয়া গিয়েই মোবাইলে ইন্সটল দিয়ে নিবেন । এগুলো দিয়ে হোটেল , ট্রেনের স্থান, কোন স্টেশনে থেকে কোন স্টেশনে ট্রেন যাবে তার তথ্য পাবেন ।

১.  OYO (Best)
২. Make My Trips
৩. Goibibo
৪. Ixigo Train
৫. Uber / Ola Cabs
৬. enquiry.indianrail.gov.in এর অ্যাপ
৭. Google Map
.
দালাল এড়িয়ে চলবেন । পাসপোর্ট কাউকে দিবেন না । নিজের পাসপোর্ট + ভিসা + কয়েক কপি ছবি নিজের কাছে বাংলদেশে থেকে নিয়ে যাবেন । ওখানে ফটোকপি বলে না যেরকক্স বলে । ডলার ভাঙাবেন কলকাতায় । বেনাপোলে বা হরিদাশপুরে ৫০০ টাকার মত ভাঙিয়ে নিবেন ।
.
ইন্ডিয়াতে SAARC COUNTRY ( বাংলাদেশ + পাকিস্তান + শ্রীলংকা + নেপাল + ভুটান + আফগানিস্তান + মালদ্বীপ ) এর ফরেনারদের জন্য অন্য  ফরেনারদের তুলুনায় কম টিকিটের দাম রাখা হয় । অনেক ক্ষেত্রে ঈন্ডিয়ান্দের টিকিটের মুল্যে   SAARC COUNTRY এর লোকেরা টিকিট কাটতে পারে । আপনাকে শুধু মেনশন করতে হবে আপনি SAARC COUNTRYএর লোক ।
.
◄◄▌▌ কিছু চিকন পিনের কথা ( ভালো না লাগলে এড়িয়ে যান )ঃ কলকাতা বাদে যেখানেই যাবেন হোটেল বুকিং বা ভ্রমনের স্থান ছাড়া সকল ক্ষেত্রে বলবেন আপনি কালকাতা থেকে এসেছেন । হিন্দি বলতে পারলে ভালো , অনেক ঝামেলা থেকে বেচে যাবেন । হিন্দি ভালো পারলে কলকাতায় হিন্দিতে কথা বলবেন এতে আপনি সঠিক দামে জিনিস কিনতে পারবেন । বর্ডার পার হবার সময় ডলারের সাথে শুধু মাত্র ২০ টাকার ৮ + ১০ টাকার ৪  টি নোট রাখবেন । কোথাও চাইলে ২০ টাকা দিবেন খুব বেশী হলে ৩০ টাকা দিবেন । অবশ্যই মোবাইলে ইন্টারনেট আর জি পি এস অন রাখবেন । কারন আপনার জি পি এস আপনাকে কখনোই ভুল তথ্য দিবে না :)  । আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা " মানুষ শক্তের ভক্ত নরমের যম " কথাটা ইন্ডিয়ায় গেলে মাথায় রাখবেন :)
.
.
NOTE: আমার এই ভ্রমনে ট্যুর প্লানে শুধুমাত্র ভারত ভ্রমনের কথাই বলা আছে । ভিসা ফি , ট্র্যাভেল ট্যাক্স বা অন্যান্য কিছু নিয়ে লিখি নাই যেটার জন্য আপনাদের খুব বেশী হলে ১২০০ টাকা খরছ হবে ।  আমি যে রুট প্লান দিয়েছি সেটা ভারতে গিয়ে অনেক ধাক্কা খেয়ে খুঁজে বের করা :) আশা করছি আপনাদের হেল্প হবে । তবে আপনারা অবশ্যই কিছু টাকা এক্সট্রা ব্যাকআপ নিয়ে যাবেন , কারন সবার ভ্রমনের অভিজ্ঞতাটা সবার থেকে আলাদা । অনেক বড় লিখা সময় নিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ :)
.
.
কিভাবে বাংলাদেশে বসে দালাল ছাড়া নিজে নিজেই ইন্ডিয়ান রেলওয়ের টিকিট কাটবেনঃ https://www.facebook.com/groups/mail.tob/permalink/10154048594591790/
.

অহেতুক ঝামেলা ছাড়াই বাংলাদেশে বসে নিজেরাই ইন্ডিয়ার ট্রেনের টিকিট কেটে ফেলুন কোনরুপ দালাল বা এজেন্সির বা Apps এর সাহায্য ছাড়াই :)
.
২০ দিনের এক ভয়াবহ :)  প্লান নিয়ে ঢাকা > কলকাতা > আগ্রা > দিল্লী > মানালী > ডালহউসি ( কাশ্মীর বিদেশীদের জন্য বন্ধ তাই কাশ্মিরের খুব কাছের এই জায়গা নির্বাচন ) > আম্রিতাসর ( পাঞ্জাব ) > কলকাতা  এর প্লান করা । ফেব্রুয়ারিতে যাচ্ছি । শুরু থেকে চিন্তায়  আছি । আমাদের গ্রুপ মেম্বার ৪ জন থেকে কমে শেষে তিনে গিয়ে ঠেকেছে । এটা আমাদের প্রথম ইন্ডিয়া ভ্রমণ । তারুপর আমরা প্রথম দিন কলকাতায় থাকব না । সবার শেষে কলকাতা ঘুরা ঘুরি । ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে অনেক টেনশনে ছিলাম । দালাল , এজেন্সি এসব থেকে সব সময় দূরে থাকার চেষ্টা করেছি । অনেক খুজা খুজির পর অবশেষে আল্লাহর রহমতে পেয়ে গেলাম সুযোগ :)
.
এবার শুনুন কিভাবে ইন্ডিয়ার যেকোন ট্রেনের টিকিট দালাল ছাড়া বাংলাদেশ থেকেই কিনবেন কোন রুপ Extra চার্জ ছাড়াই  ।
.
STEP 1:
======
প্রথমে আপনাকে www.irctc.co.in একটা আকাউন্ট খুলতে হবে । এখানে অ্যাকাউন্ট করাটা ঝামেলার আবার বুদ্ধি থাকলে সোজা । এখানে অ্যাকাউন্ট করতে হলে একটা Indian নাম্বার লাগবে ।  Sign Up করার সময় জাতীয়তা বাংলাদেশ দিবেন । আর  Residential Address এর ওখানে *Pin বলতে আপনার এলাকার কোড , যেমন ধানমণ্ডি ১২০৯ বা লালমনিরহাট ৫৫০০ এটা । যাদের Indian নাম্বার নেই তারা 9999999999 দিতে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। । এক ছোট ভাই বর্তমানে India তে অবস্থান করার কারনে এই ঝামেলা খুব সহজে পার পেয়ে গেলাম ।
.
STEP ২:
======
এর পর নিজের অ্যাকাউন্ট এ লগ ইন করুন । ফোন আর Email ভেরিফাই করুন । আর সব শেষে  care@irctc.co.in  এর ঠিকানায় আপনার Passport এর একটা স্ক্যান বা ছবি পাঠায় দিন আপনার User Name সহ ( না দিলেও কিছু হবে না , বাট চেষ্টা করবেন দিতে ) । এর পর স্বাভাবিক নিয়মেই টিকিট কাটুন ( দেখলেই বুঝে যাবেন । সোজা প্রসেস ) । এখানে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন টিকিট কেনার সময় অবশ্যই জাতীয়তা বাংলাদেশী দিবেন । এর পর পাসপোর্ট নাম্বার দিবেন আর অবশ্যই E-Ticket
.
STEP 3:
======
ট্রেন ও টিকিট নিশ্চিত করার পর আপনি যখন পেমেন্ট অপশনে যাবেন । তখন আপনার ট্রাভেল কার্ড বা ইন্ডিয়ান কোন ব্যাংক বা American Express বা International Card ( Master বা ভিসা ) দিয়ে পেমেন্ট দিতে হবে । আমার International Master Card আছে সেটা দিয়েই পেমেন্ট করেছি  । এখানে টিকিট আপনাকে PDF আকারে দিবে ।
.
যাত্রার সময় টিকিট প্রিন্ট + নিজের পাসপোর্ট এর ফটোকপি একসাথে করে টিটিকে দেখাতে হবে ।
.
আমাদের টিকিট করা আছে শিয়ালদাহ থেকে আগ্রা ফোরট AJMER EXPRESS আর আম্রিতাসর থেকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত HWH MAIL  ।
.
ভাড়াঃ
====
শিয়ালদাহ থেকে আগ্রা ফোরট = ৫৬৫ রুপি বা ৮.৯৪ ডলার । SL
আম্রিতাসর থেকে হাওড়া স্টেশন = ৬৯৫ রুপি বা ১০.৯৯ ডলার । SL
.
সাবধানতাঃ
=========
১. IRCTC সরকারি Website সো কোন ২ নাম্বারি নাই
২. এক অ্যাকাউন্ট দিয়ে এক সাথে সর্বাধিক ৬ জনের টিকিট কাটতে পারেন
৩. ভ্রমণের সময় অবশ্যই টিকিটের কপির সাথে পাসপোর্ট এর ফটোকপি দিবেন । না হলে জরিমানা নিশ্চিত
৪. অবশ্যই ভ্রমনের ১০ দিন আগে টিকিট বুক করবেন । না হলে টিকিট পাবার সম্ভাবনা কম ।
৫.  যার অ্যাকাউন্ট তাকে অবশ্যই ভ্রমন করতে হবে । সো নিজের অ্যাকাউন্ট করে অপরিচিত কাউকে বা ব্যাবসা শুরু করে দিবেন সে রকমের কোন সুযোগ নেই ।
.
IRCTC কিছু সাধারন সুবিধাঃ
=====================
IRCTC সম্পূর্ণ ভাবে ইন্ডিয়ান সরকার নিয়ন্ত্রিত । এখান থেকে শুধু যে ট্রেন টিকিট কাটতে পারবেন তা কিন্তু না । এখানে রয়েছে সরকার নিয়ন্ত্রিত বাস , ক্যাব ও  বিমানের টিকিট কাটার সুবিধা ।

.
কিছু সাধারন জিজ্ঞাসাঃ
=================
১. আমার ইন্ডিয়ান মোবাইল নাম্বার নেই আমি কি ভাবে Account করব ?
উত্তরঃ ইন্ডিয়া যাবার পরপরেই একটা Indian সিম কিনে এখানে অ্যাকাউন্ট করে ফেলুন । আর বাকি ভ্রমণটা নিশ্চিন্তে থাকুন
২. আমার ইন্টারন্যাশনাল , ট্র্যাভেল , ভিসা বা মাস্টারকার্ড নেই । আমি কি করব ?
উত্তরঃ পরিচিত কারো সাহায্য নিন।
.

আমাদের Adventure আর Original India কেমন সেটা দেখার অদ্ভুত শখ জেগেছে । তাই কম দামের SL ( Sleeper ) এ টিকিট কেটেছি , সাথে বোনাস হিসেবে বার্থ ও আছে । ভালো থাকবেন সবাই :)

52
Faculty Forum / নাফাকুম ভ্রমন
« on: April 20, 2017, 01:28:30 AM »
নাফাকুম জলপ্রপাত
বান্দরবান জেলার থানচী উপজেলায় অবস্থিত এই প্রাকৃতিক জলপ্রপাত টি।.২৫-৩০ ফুট এই জলপ্রপাত টি রেমাক্রী হয়ে সাঙ্গু নদীতে মিলেছে যেখানে মিলনস্থলে প্রাকৃতিক ভাবেই কয়েকধাপ সিঁড়ির মত করে হেলে দুলে নৃত্যের ছন্দে সাঙ্গু তে মিশে গেছে। আর এই নৃত্যের দলে এখানে সৃষ্টি হয়েছে আরেকটি ফলস যার নাম রেমাক্রী খুম।

পরিচ্ছেদসমূহ [আড়ালে রাখো] 
*       ১ কখন যাবেন
*       ২ কিভাবে যাবেন
*       ৩ কোথায় থাকবেন
*       ৪ কোথায় খাবেন
*       ৫ কি কি দেখবেন
*       ৬ ভ্রমন পরিকল্পনা
*       ৭ টিপস ও পরামর্শ
কখন যাবেন
বর্ষার সময় এই জলপ্রপাত টি ভয়াবহ রুপ ধারন করে আর তখন যাতায়াত খুব ই রিস্কি। তাছাড়া বর্ষায় সাঙ্গুর স্রোত অনেক বেশী থাকে ফলে রিস্ক অনেকটা বেড়ে যায়। তাই বর্ষার শেষ দিকে শীতের শুরুতে অথবা শীতের শেষ দিকে বর্ষার শুরুতে যাওয়াই ভালো। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর অথবা মে-জুলাই মাসে যাওয়া যেতে পারে।

কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বান্দরবান যাবেন এসি নন এসি অনেক বাস আছে ভাড়া নন এসি- ৬৫০ আর এসি ৮৫০ টাকা নিবে। বান্দরবান এর থানচী বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাসে থানচী বাজার যেতে হবে, ভাড়া নিবে জনপ্রতি ২০০ টাকা। এছাড়া বান্দরবান শহর থেকে থানচী রিসার্ভ চান্দের গাড়ি নিয়েও যেতে পারেন ভাড়া নিবে ৪০০০-৫০০০ টাকা। থানচী বাজার এর গাইড সমিতি থেকে এবার আপনাকে গাইড ঠিক করতে হবে এবং সাথে রিসার্ভ ট্রলার নিতে হবে। এখানে ট্রলার আর গাইডের এক ধরনের সিন্ডিক্যাট চলে যেখানে তাদের হাতে পর্যটক রা জিম্মি। নাফাকুম পর্যন্ত মোট দুইজন গাইড লাগে যার একজন থানচী বাজার থেকে নিবেন অন্যজন রেমাক্রী বাজার থেকে (এটা নিয়ম সেখানের)। গাইড এখন প্যাকেজ আকারে নিতে হয় থানচী থেকে নাফাকুম পর্যন্ত যাওয়া আসা ২০০০ টাকা এবং রেমাক্রী থেকে যে গাইড নিবেন তাকে দিতে হবে ১০০০ টাকা। আর ট্রলার ভাড়া করবেন ৪০০০-৫০০০/- টাকা দিয়ে। যেদিন যাবেন সেদিন ও পরদিন নিয়ে আসা পর্যন্ত এই কন্টাক্ট। এক বোটে ৬-৭ জনের বেশি যেতে পারবেন না, বলতে গেলে এটাও এক ধরনের সিন্ডিকেট। তবে লোকাল ট্রলার ও আছে যদি ভাগ্য ভালো হয় মিলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে খরচ অনেক কম পড়বে । থানচী বাজার থেকে রেমাক্রী বাজার পর্যন্ত ভাড়া ১৫০-১৮০ টাকা জনপ্রতি। রেমাক্রী বাজার থেকে প্রায় ২-৩ ঘন্টা ঝিরি পথ পায়ে হেটে পাড়ি দিলেই পেয়ে যাবেন এই অপূর্ব সুন্দর জলপ্রপাত টি। এই দুই থেকে তিন ঘন্টার ঝিরি পথের প্রথমেই ছোট দুটি পাহাড় পাড়ি দিয়ে নেমে যেতে হবে ঝিরি পথে। এর পর পুরোটাই ঝিরি পথ কোথাও পাথুরে কোথাও মাটির কোঠাও কাদা কোথাও পানির। দু তিন জায়গায় হয়ত হাটু অথবা কোমর পানি পাড়ি দিতে হবে এই পথে এ পাড় থেকে ওপাড় যেতে। তাই সাথে দড়ি নিয়ে যেতে পারেন চলার সুবিদারথে। থানচী বাজারে গাইড ঠিক করার পর সবার নাম একটা কাগজে লিপিবদ্ধ করে থানচী থানা ও আর্মি ক্যাম্পে জমা দিয়ে আসতে হবে আপনাকে।

কোথায় থাকবেন
থানচী বাজারে কিছু গেস্ট হাউজ আছে সেখানে রাত্রী যাপন করা যাবে ভাড়া জনপ্রতি ১৫০-২০০ টাকার মত। এছাড়া রেমাক্রী বাজারে আদিবাসীদের বাসায় থাকার ব্যবস্থা আছে জনপ্রতি ১২০-১৫০ টাকা করে রাত্রী যাপন করতে পারবেন। এছাড়াও যারা ক্যাম্পিং করতে চান তারা বাজারের আশেপাশে কোথাও ক্যাম্প করতে পারবেন তবে তেমন ভালো মনপুত জায়গা নেই ক্যাম্পিং এর জন্য। শীতকাল হলে বাজারের ঘাটে শুকনা জায়গায় ক্যাম্প করতে পারেন।

কোথায় খাবেন
যদি থানচী বাজারে থাকেন তাহলে থানচী বাজারেই খাওয়া দাওয়া করার জন্য বেশ কিছু হোটেল পাবেন মোটামুটি মানের খাবার। রেমাক্রী বাজারে থাকলে খাবারের কথা আগেই বলে দিতে হবে তাহলে তারা খাবার রান্না করে রাখবে।পাহাড়ি মুরগি খেতে চাইলে গাইড কে বললে সে ব্যবস্থা করে দিবে, তবে দাম একটু বেশি হবে এবং দামাদামি অবশ্যই করে নিবেন। সবচেয়ে ভালো হয় নিরামিষ খেলে, এতে খরচ অনেক কমে যাবে। কারন সেখানে মুরগির দাম অনেক বেশি।


নাফাকুম জলপ্রপাতের উপরের দৃশ্য
কি কি দেখবেন
বান্দরবানের এমন কোন স্থান নাই যা আসলে না দেখার মত। বান্দরবান শহর থেকে থানচী যেতে পথে পড়বে শৈল্প্রপাত, চিম্বুক পাহাড়, পিক৬৯, নীলগিরি সহ আরো অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা। থানচী থেকে ট্রালারে করে যেতে হবে পাহাড়ি খরস্রোতা সাঙ্গু নদীর উপড় দিয়ে স্রোতের বিপরীতে। এই বিপরীতে চলতে পথে দেখবেন কোথাও শান্ত সৃষ্ট ভদ্র সাঙ্গু আবার কোথাও দেখবেন বিকট ভয়ংকর খরস্রোতা সাঙ্গুর রূপ। যেতে পথে পড়বে রাজা পাথর এলাকা। এই রাজাপাথর এলাকায় দেখবেন বিশাল আকৃতির বহু পাথর যা আদিবাসীদের কাছে দেবতা এবং তাদের কাছে পূজনীয়। ছোট এক বাজার দেখবেন রাজা পাথর এলাকা পাড় হয়ে নাম তার তিন্দু। এরপর ই চোখে পড়বে নাফাকুম জলপ্রপাত এর বয়ে চলা জল আর সাঙ্গুর মিলনস্থল রেমাক্রীকুম। এছাড়া আশেপাশের বিশাল বিশাল পাহাড়, পাহাড়ের গায়ে লেগে থাকা মেঘ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তো আছেই।

ভ্রমন পরিকল্পনা
রাতের বাসে ঢাকা থেকে বান্দরবান। সেখান থেকে লোকাল বাসে করে থানচী যাওয়া। রিসার্ভ নৌকা সম্ভব হলে লোকাল নৌকা করে রেমাক্রী বাজার যেয়ে সে রাতে রেমাক্রী থাকা। পরদিন সকালে রওয়ানা হয়ে নাফাকুম ঘুরে দুপুরের মাঝে রেমাক্রী বাজারে ফেরত আসা। দুপুরে রওয়ানা দিয়ে থানচী বাজার সেখান থেকে বিকালের বাসে বান্দরবান শহর। রাতের বাসে ঢাকা। এভাবে পরিকল্পনা করলে কম খরচ এবং কম সময় নাফাকুম ঘুরে আসা সম্ভব।

টিপস ও পরামর্শ
* গ্রুপ করে যাওয়া ভালো, এতে করে খরচ কমে যাবে।
* আদিবাসী সভ্যতা, সংস্কৃতি নিয়ে ব্যাঙ্গ করা থেকে বিরত থাকুন ও তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
* অতিরিক্ত নিরাপত্তার স্বার্থে সাঙ্গু নদী পাড়ি দেওয়ার সময় ও নাফাকুম এ যাওয়ার সময় লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখুন।
* সাঙ্গু নদী একটি খরস্রোতা পাহাড়ি নদী, তাই অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়ে নদীতে নামুন। পাহাড়ের খাদ গুলো ভালো করে লক্ষ করে পা ফেলুন নদীতে।
* ভারী জামা কাপড় না নেওয়াই ভালো।
* ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে যথাস্থানে ফেলুন, প্রকৃতি কে আপন অবস্থায় ছেড়ে দিন। প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ থেকে বিরত থাকুন।
* চিপস, চানাচুর, বিস্কুটের প্যাকেট পথে না ফেলে ব্যাগে ভরে নিয়ে আসুন ও যথাস্থানে ফেলুন।
* চলার সময় নিরবতার সাথে পথ চলুন। হৈ হুল্লুর থেকে বিরত থাকুন।
* ছোট বাচ্চা নিয়ে এই ট্রেইলে না যাওয়াই ভালো। তবে মহিলা/মেয়েরা অনায়াসে এই ট্রেইলে যেতে পারেন কোন সমস্যা নাই, ভয়ের ও কিছু নাই। তেমন কঠিন কোন ট্রেইল নয় এটা।
* নৌকা নেওয়ার সময় দামাদামি করে নিবেন, ওরা অনেক বেশি ভাড়া চেয়ে বসবে, তাই দর কষাকষি করে যতটুকু কমানো যায়।
* ঝিরি পথে হাটার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন যেন পা পিছলে পাথরে পরে কি কোন দুর্ঘটনা না ঘটে।
* নাফাকুমের জলপ্রপাতে সাতার না জানলে ঝাপ দিবেন না। পাথর ও খাদে আটকে গেলে মারাত্নক বিপদে পড়বেন।
* একা একা কোথাও যাবেন না দল ছেড়ে, পাহাড়ে হারিয়ে গেলে রাস্তা খুজে পাওয়া দুস্কর, তাছাড়া আপনার একার জন্য দলের বাকী সদস্যরা বিপদে পড়বেন।
* ব্যাকপ্যাক নিবেন সাথে, হাতের কোন ব্যাগ নিবেন না, পানির বোতল ও শুকনা খাবার রাখুন ট্রেইলে হাটার সময়।
* মশার কামোড় থেকে বাচতে অডোমস ক্রীম রাখুন সাথে, এছাড়া প্রাইমারী ওষুধ সাথে রাখুন।
* থানচীর পর তেমন মোবাইল নেটওয়ার্ক পাবেন না। রেমাক্রী বাজারে একটি মাত্র ফোনের দোকান পাবেন যেখানে ৫ টাকা মিনিট কথা বলা যাবে।
* থানচীর পর বিদ্যুত নেই তাই সাথে এক্সট্রা পাওয়ার ব্যাংক রাখুন।
* রেমাক্রী থেকে নাফাকুম যেতে ঝিরিপথে দু তিন জায়গায় হাটু অথবা কোমর পানি পাড়ি দিতে হতে পারে, নিরাপত্তার জন্য দড়ি রাখতে পারেন সাথে।
* জলপ্রপাত এর মুখে বসে ছবি উঠানোর সময় অতিরিকত সাবধানতা অবলবন করুন যেন পা পিছলে পড়ে না যান।
* ট্রেকিং এর সময় সাথে লাঠি,পুল বা বাঁশ জাতীয় কিছু রাখুন, যার সাহায্য নিয়ে পথ চলতে সুবিধা হবে।

Pages: 1 2 3 [4]