Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - Md.Towhiduzzaman

Pages: 1 2 [3] 4
31


উচ্চশিক্ষায় মৌলিক গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের জন্য দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫  শিক্ষক  ‘ইউজিসি স্বর্ণপদক’  পাচ্ছেন। আগামীকাল (মঙ্গলবার) বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে  রাষ্টপতি আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তাদের হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেবেন। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইউজিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

২০১৬ খ্রিস্টাব্দের জন্য ১৮ জন এবং ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের জন্য ১৭ জন বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকে ইউজিসি স্বর্ণপদক দেয়া হচ্ছে। নির্বাচিত প্রতি শিক্ষককে সনদ ও স্বর্ণপদকসহ পুস্তকের জন্য ৫০হাজার টাকা এবং প্রবন্ধের জন্য ৩০ হাজার টাকা দেয়া হবে।
 
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম। এছাড়া জাতীয় অধ্যাপকবৃন্দ, ইউজিসি সদস্য ও সচিব, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা, বরেণ্য শিক্ষাবিদরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষায় মৌলিক গবেষণা ও প্রকাশনায় উৎসাহ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ‘ইউজিসি এওয়ার্ড’ (বর্তমানে ইউজিসি স্বর্ণপদক) প্রবর্তন করা হয়। ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড এডভাইজরি কমিটির এক সভায় ‘ইউজিসি এওয়ার্ড’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘ইউজিসি স্বর্ণপদক’ করা হয়।

32



বিশ্বে বসবাস অনুপযোগী শহরের তালিকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার দামেস্ক পর ঢাকার অবস্থান। আর বাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা।
 

বসবাসযোগ্য শহরের তালিকার একেবারে তলানিতে আছে সিরিয়ার রাজধানি দামেস্ক; তলানির দ্বিতীয় শহরটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও এর উপরে আছে নাইজেরিয়ার রাজধানী লাগোস।

বিভিন্ন দেশের ১৪০টি শহরের ওপর জরিপ চালিয়ে লন্ডনভিত্তিক ইকোনমিস্ট গ্রুপের ইকোনমিস্ট ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এ ‘গ্লোবাল লিভেবলিটি ইনডেক্স’  বার্ষিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এসব তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

ইকোনমিস্ট ইন্টিলিজেন্সের জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার বাসযোগ্য শহরের তালিকায় প্রথম হয়েছে ইউরোপের শহর ভিয়েনা। গত সাত বছর এ মর্যাদা ছিল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। মেলবোর্ন শহর এখন দ্বিতীয় স্থানে। 

এ তালিকায় গতবার চতুর্থ স্থানে থাকলেও বসবাসের মান আরও কমে যাওয়ায় এবার দ্বিতীয় স্থানে দেখা যাচ্ছে ঢাকাকে।

বসবাসযোগ্যতায় নিচের দিকে থাকা দশটি শহর নির্বাচনের ক্ষেত্রে অপরাধ, নাগরিক অস্থিরতা, সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধ ‘জোরালো ভূমিকা’ পালন করেছে বলে জানিয়েছে ইকোনমিস্ট ইন্টিলিজেন্স।

বসবাসযোগ্য শীর্ষ ১০ শহর

১. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া; ২. মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া; ৩. ওসাকা, জাপান; ৪. ক্যালগেরি, কানাডা; ৫. সিডনি, অস্ট্রেলিয়া; ৬. ভ্যাঙ্কুবার, কানাডা; ৭. টোকিও, জাপান; ৮. টরন্টো, কানাডা; ৯. কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক ও ১০, অ্যাডিলেড, অস্ট্রেলিয়া।

বসবাসযোগ্য সর্বনিম্ন ১০টি শহর

১. দামেস্ক, সিরিয়া; ২. ঢাকা, বাংলাদেশ; ৩. লগোস, নাইজেরিয়া; ৪. করাচি, পাকিস্তান; ৫. পোর্ট মরেসবি, পাপুয়া নিউ গিনি; ৬. হারারে, জিম্বাবুয়ে; ৭. ত্রিপোলি, লিবিয়া: ৮, দুয়ালা, ক্যামেরুন; ৯. আলজিয়ার্স, আলজেরিয়া ও ১০. ডাকার, সেনেগাল।


33


মন স্থির রাখার একটা ভালো উপায় কিছু পড়ামন স্থির রাখার একটা ভালো উপায় কিছু পড়াহুট করে রেগে যাওয়া কিংবা কোনো ঘটনার কথা শুনে অল্পতেই প্রতিক্রিয়া দেখাই আমরা। প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য আমরা কখনো বেছে নিই ফেসবুকের নীল দেয়াল, আবার কখনো অন্যের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ি। যেকোনো পরিস্থিতিতে সব সময় আমাদের স্থির মনোভাব প্রদর্শন করা উচিত। হুট করে রেগে গিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কখনোই ইতিবাচক আচরণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো স্কুল অব প্রফেশনাল সাইকোলজির পিএইচডি গবেষক ও মনোবিদ জেসমিন আক্তার বলেন, ‘প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন আমাদের স্বাভাবিক আচরণগুলোর একটি। ব্যক্তিত্ব ও মন কতটা প্রাণবন্ত তার ওপর নির্ভর করে আমরা কীভাবে কোন পরিস্থিতিতে কী আচরণ করব। স্থিরভাবে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন সব সময় বুদ্ধিমানের কাজ।

ধীর গতিতে এগোন

যদি সম্ভব হয় কোনো ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলুন। ধৈর্য ধরে যতটা সম্ভব সঠিক তথ্য ও ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করুন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত ও পেছনের কারণ নিয়ে নিজেকে বারবার প্রশ্ন করুন। প্রশ্ন করুন—প্রতিক্রিয়া বা মতামতের, ভবিষ্যতে প্রভাব থাকবে কতটুকু। আপনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার হয়তো আগামীকালই কোনো মূল্য থাকবে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রতিক্রিয়া না দেখালে ভবিষ্যতে তেমন ক্ষতি হয় না। প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে ভাবুন, স্থির থাকুন।Eprothomalo

ইতিবাচক থাকুন

যেকোনো ঘটনার সময়ই আমরা চাপ অনুভব করি। চাপের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়ি, বিক্ষিপ্ত হয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। এমন পরিস্থিতিতে যতই আমরা ঘটনা নিয়ে ভাবব, কারণ অনুসন্ধানে মনকে ব্যস্ত রাখব, ততই আমাদের শান্ত থাকার সম্ভাবনা কমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ে ‘এটা হলে কেমন হতো’, ‘ওটা না হলে কেমন হতো’-এমন দ্বিধায় জড়াবেন না। সব সময়ই নেতিবাচক কথা মন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। যেকোনো পরিস্থিতিতে ইতিবাচকভাবে মনকে স্থির রাখুন।

ভুল হলে, দুঃখ প্রকাশেও মন স্থির হতে পারেভুল হলে, দুঃখ প্রকাশেও মন স্থির হতে পারে

‘যদি’ এড়িয়ে চলুন

‘ইশ্‌, যদি ব্যাপারটা এমন হতো’—এমন আক্ষেপে আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। যেকোনো ঘটনা বা পরিস্থিতিতে যদি-সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এড়িয়ে চলুন। যা হয়নি, যা হবে না তা নিয়ে ভেবে ভেবে মনকে বিক্ষিপ্ত করে নিজেকে অশান্ত করবেন না। এমন প্রশ্নে আসলে নিজের ভয় আর সংশয় প্রকাশ পায়।

শরীরের যত্ন নিন

যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা এক দিনের অভ্যাসে তৈরি হবে না। শরীরের যত্ন নিতে হবে নিয়মিত। টুকটাক ও হালকা ব্যায়াম করুন প্রতিদিন। পরিমাণমতো ঘুমাতে হবে। যোগব্যায়াম করে মনে প্রশান্তি আনুন।

অভিযোগ না করে যুক্তি দিয়ে কথা বলুনঅভিযোগ না করে যুক্তি দিয়ে কথা বলুন

ক্যাফেইনকে ‘না’ বলুন

উত্তেজনাকর যেকোনো মুহূর্তে পারতপক্ষে চা-কফির মাত্রা কমিয়ে দিন। চা-কফির ক্যাফেইন আমাদের উদ্দীপ্ত করে, অ্যাড্রেনালিন হরমোনের প্রবাহ বাড়িয়ে উত্তেজিত করে দেয়। উত্তেজনাকর যেকোনো মুহূর্তে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে পারেন।

বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন

যেকোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে নিজের মতামত প্রকাশের আগে বন্ধু বা বিশেষজ্ঞ কারও পরামর্শ নিতে পারেন। আপনি হয়তো যেভাবে ভাবছেন, আপনার বন্ধুর ভাবনা অন্যরকম হতে পারে। অন্যের ভাবনা জানলে আপনার প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। আবার বিশেষজ্ঞ কারও পরামর্শ নিলে পরিস্থিতির কারণগুলো আপনি বেশ পরিষ্কার জানতে পারেন।

নিজেকে মুক্ত করুন

খুব চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনায়     আমরা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বাহবা নিতে চেষ্টা করি। এমনটা কখনোই করবেন না। চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সময় কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেকে সরিয়ে নিন অন্য কোনো কাজে। পার্কে ঘুরে আসতে পারেন কিংবা নিজের    কোনো প্রিয় বইয়ের পাতায় নিজেকে সরিয়ে নিন।

রাগ-প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে আনতে শিখুন

অন্যের ওপর রাগ প্রদর্শন আমাদের অনেকেরই বাজে অভ্যাস। রাগ নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে। রাগ সহজাত একটি আবেগ, যা নিয়ন্ত্রণ করতে কৌশলী হতে হবে। অন্যের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে অন্যদের মতামত জানতে হবে। অন্যের কথাকে সম্মান জানিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি বুঝতে হবে।

34
গ্রাম–মফস্বলের শিশুদের জন্য যত শিশুসুলভ আনন্দের সুযোগ থাকে, নগরের শিশুরা তা পায় কি? ছবি: ফারুক ওয়াসিফ
গ্রাম–মফস্বলের শিশুদের জন্য যত শিশুসুলভ আনন্দের সুযোগ থাকে, নগরের শিশুরা তা পায় কি? ছবি: ফারুক ওয়াসিফ
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৪ সালে একটি চিঠিতে অধ্যক্ষ মোহিতচন্দ্র সেনকে লিখেছেন, ‘...ছেলেদের নিয়মিত সাহিত্য চর্চা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করবেন। প্রত্যেক ছেলের সঙ্গে প্রত্যেক বিষয়েই অর্থাৎ লেখাপড়া রসচর্চা অশনবসন চরিত্রচর্চা ভক্তিসাধন সব-তাতেই আপনি ঘনিষ্ঠ যোগ রাখবেন...।’ তা ছাড়া তিনি আরও বলেছেন, সকালে ছেলেদের কায়িক শ্রম করতে হবে। বৃষ্টিতে ভিজলে ক্ষতি নেই, কিন্তু গায়ে যাতে জল না বসে, তা দেখতে হবে ইত্যাদি। জানা নেই, আজকের দিনে এমন উপদেশ আমাদের স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষরা পান কি না! অথচ এখনকার দিনে আমরা সব ভুলে প্রাণপণ চেষ্টা করছি শিশুদের থেকে শৈশবের উচ্ছ্বলতাকে দূরে সরানোর। এ এক অদ্ভুত আত্মঘাতী প্রতিযোগিতা! আমাদের ছেলেমেয়েরা আজ বেড়ে উঠছে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে আর তাদের সঙ্গে থাকছে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী, ইলেকট্রনিকস আর প্লাস্টিকের তৈরি পুতুল, খেলনা, বাঘ, হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি। তারা বেড়ে উঠছে হিতাহিত জ্ঞানশূন্যভাবে।

ছোট বয়স থেকেই হাতে তুলে নিচ্ছে ল্যাপটপ, মোবাইল। ব্যবহার করছে হরেক রকমের অ্যাপ, যা হয়তো আমরা বড়রাও এখনো অভ্যস্ত নই পরিপূর্ণভাবে। আর এভাবেই তারা ঢুকে পড়ছে একটি ভার্চুয়াল অনিয়ন্ত্রিত জগতে। হয়ে উঠছে বেপরোয়া, এমনকি অল্প বয়সে কৌতূহলবশত বীরত্ব দেখাতে গিয়ে এমন সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যার দায়ভার বহন করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে, এমনকি সমাজকে। সে কারণেই একে অপরের প্রতি বিশ্বাসের ঘাটতি সব ক্ষেত্রে। নিছক তুচ্ছ কারণে ছেলেমেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে বড় ধরনের সহিংসতায়। এসব খবরাখবর প্রতিদিনের খবরের কাগজেই আসছে।

একটু ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে, আমাদের দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ছেলেমেয়ের মধ্যে শৈশবের আনন্দময় প্রকৃতিগত অংশটুকু প্রায় অনুপস্থিত। তারা হঠাৎ করেই শৈশবকে ভুলে গিয়ে অথবা বাদ দিয়ে এক ধাপ উপরে কৈশোরে পা দিয়ে ফেলছে আচমকা। আচরণ করছে ঠিক বড়দের মতো করে। এমনকি তাদের চাহিদার জায়গাগুলোও ঠিক বড়দের মতো। হয়তো সাময়িকভাবে তাদের এই পাকনামোকে আমরা খুশিমনেই দেখছি, কিন্তু ভবিষ্যতে এর পরিণতি হচ্ছে ভয়াবহ। আর এ কারণেই সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংগঠিত হচ্ছে অনেক ধরনের সামাজিক অস্থিরতা, অপরাধ ও অপসংস্কৃতি। তারা চিনছে না শৈশবের খেলার মাঠ, ডোবা-নালা, পাখপাখালি, কাদা-মাটি, সবুজ ঘাস, গাছগাছালি, আরও কত কিছু! সারা দিন হয়তোবা মুখ বুজে পড়ে রয়েছে নম্বরভিত্তিক পাঠ্যবইয়ের পাতায় অথবা অন্য কোনো কম্পিউটার গেমে। অথচ বেশির ভাগ মানুষ, যারা শিশু উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতন, তারা শিশুদের জন্য নকশা, পরিকল্পনা ও সৃষ্টিশীল ভাবনা সম্পর্কে এখনো তেমন কিছুই জানে না। জানলেও খুব সহজে এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে ধারণা কম বৈকি!

আমাদের সবাইকে জানতে হবে, শিশুদের জন্য প্রয়োজন পানি, বালু, মাটি ও পরিবেশের অন্য অংশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ। তাদের দরকার এসবের সঙ্গে একধরনের শক্তিশালী মিথস্ক্রিয়া, যা আসতে হবে তার চারপাশের পরিবেশ থেকে খুব সাধারণভাবে, বড়দের কাছ থেকে। তাদের জন্য আসলেই বদ্ধ ঘরের মধ্যে প্রাণহীন সরঞ্জামগুলোর প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় ভালো কিছু আন্তরিক সুযোগের সমাজ ও পরিবারের কাছ থেকে। তবে বর্তমানে আমাদের দেশে যতটুকুই খেলার মাঠ আছে, সেখানে এসব মানবীয় সুযোগ নেই মোটেও। মনে রাখতে হবে, শুধু শহরে খেলার মাঠ তৈরি করলেই শিশুরা শৈশব ফিরে পাবে না। হয়তো সেখানে খেলার কিছু সরঞ্জামের ব্যবস্থা আছে ঠিকই, কিন্তু নেই সঠিক পরিবেশ ও সমন্বয়, যেখানে শিশু সুরক্ষা বর্তমান সমাজব্যবস্থায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খেলার মাঠ ছোট হোক কিংবা বড়, আসল কথা সেই মাঠগুলোকে হতে হবে অবাধ, নিরাপদ আর আনন্দময়।

একটু সুযোগ পেলেই উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা ভিড় করে শহরের বড় বড় শপিং সেন্টারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে আড্ডা দেওয়া, সিনেমা দেখা—এগুলোই এখন তাদের সময় কাটানোর প্রধান পথ। এমনকি একটু সচেতন থাকলেই শুনতে পাওয়া যাবে, অতি অল্প বয়সেই তাদের কথার মধ্যে স্থান পাচ্ছে এমন কিছু, যা তাদের বয়সের সঙ্গে অনেকটাই বেমানান। আমাদের দেশের প্রতিটি শহরকে শিশুবান্ধব করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে শহরের কাঠামোর মধ্যে শিশুবান্ধব জায়গা তৈরি করার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু নম্বরভিত্তিক শিক্ষাপদ্ধতিতে আঁকড়ে না থেকে নগর এলাকাগুলোয় আনন্দপুর শৈশবিক শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে, যেখানে স্কুলগুলো হবে মানবীয় গুণাবলি বিকাশের আঁতুড়ঘর। শিশুদের জন্য খেলার মাঠগুলোয় খুব সহজ কিন্তু সৃজনশীল উপায়ে সারা বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে। ভাবতে হবে সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুসমাজের কথাও। শিক্ষাকে করতে হবে আরও সহজ ও প্রাণবন্ত। শিশুবান্ধব স্কুল উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ, শিশুদের সৃজনশীলতা, পরিচ্ছন্নতাবোধ, স্বাস্থ্য রক্ষা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং সৃজনশীল খেলার মাঠকে সমন্বয়ের কথা আরও গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে সহজভাবে বোঝার জন্য শৈশবের শিক্ষার মধ্যে পরিবেশগত শিক্ষাকে এমনভাবে তুলে ধরতে হবে যেন ছোটবেলা থেকেই সব শিশুর মধ্যে নিজ পরিবেশ সম্পর্কে ভালোবাসা জন্মায়।

আশার কথা, এরই মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরীর ১৯টি পার্ক এবং ১২টি খেলার মাঠকে আধুনিকীকরণ করার যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যেখানে প্রায় ১৩টি প্রতিষ্ঠান এবং ৭০ জন স্থপতি একযোগে কাজ করছেন। এ ধরনের প্রকল্প অন্য শহরগুলোতেও সময় থাকতেই করা প্রয়োজন বৈকি। এসব প্রকল্পে বিভিন্ন প্রজাতির লতা-গুল্ম ও জলাধার সংরক্ষণ করার পাশাপাশি সমাজে মিলেমিশে থাকার সাধারণ সূত্রগুলোর পরিপূর্ণ বিকাশ যেন হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, নতুন প্রজন্মকে তাদের শৈশবকে অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিশুবান্ধব স্থানগুলোয় নিজেদের মধ্যে মজা করা, খেলাধুলা, গান, নাটক, কবিতা এবং পুতুল তৈরির মতো বিষয়গুলোকে একত্র করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পড়া, মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি এবং জীবনবোধের মতো বিষয়গুলোকে শেখার সুযোগ তৈরি করে দেবে। আর তখনই এই জায়গাগুলো শৈশবের সৃজনশীলতা ও মতপ্রকাশের মাধ্যমে একটি সামাজিক মঞ্চে পরিণত হবে, যা বর্তমান অস্থির সমাজের জন্য খুবই প্রয়োজন।

সজল চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক, স্থাপত্য বিভাগ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

35
Common Forum / "World Youth Skills Day 2018"
« on: July 22, 2018, 04:53:11 PM »


Youth Talk, a new initiative of Star Youth, The Daily Star, which is a dialogue programme focusing on the development of the young generation of Bangladesh, discussed issues concerning the youth of Bangladesh and how this major sector of skilled population is being evaluated in the job market in its first episode.

The first episode featured Ejaj Ahmad, Founder and President, Bangladesh Youth Leadership Center (BYLC); Farzana Kashfi, Development Activist; and Snehal V Soneji, Chief Technical Adviser, Project-Skills 21, International Labour Organisation, and was hosted by Tanjim Ferdous from The Daily Star. The discussion session was held with regards to the World Youth Skills Day, celebrated every 15th of July.

Ejaj Ahmad drew attention to issues such as reforming the education system of the country to deliver a youth population far more skilled enough to adapt to the current job market. He also stated that, youth unemployment is a major concern and with increasing automation advancement, the scarcity in job opportunities might even increase. As a result, it is mandatory for the education system to equip the youth with problem solving and critical thinking skills to evade unemployment. 

Farzana Kashfi shed light on how people's perception regarding technical and vocational education and training needs to take a shift. She identified that improving the quality of the training institutes and increasing job placement rate can help. Also, she suggested carrying out major-scale campaigns jointly organised by the government and the development partners, aiming to draw females into taking up vocational training.

Snehal V Soneji pointed out that although there are about 8,000 institutes providing vocational training to the mass, the key issue lies in the linkage between the kind of training provided to the kind demanded by employers. “The private sector (can play) a big role to predict what kind of skills are going to be required in five years,” Snehal V Soneji expressed.

To watch the full discussion and know more opinions of these experts on World Youth Skills Day 2018 in the context of Bangladesh, readers can scan visit the following link: www.youtube.com/watch?v=ZBLYh0F12Bs

36
Common Forum / HSC results: Pass rate, GPA 5 achievers drop
« on: July 19, 2018, 02:00:33 PM »
Results of Higher Secondary Certificate (HSC) and equivalent examinations-2018 are out, and it follows through with the falling trend of last year.

Average pass rate was 66.64 per cent, down from 66.84 per cent last year, and the number of GPA 5 achievers plummeted to 29,262, reports Somoy television.

Girls continued to outperform boys with a 69.7 per cent pass rate, compared to 63.88 per cent. In total, 8,58,801 students passed the HSC and equivalent exams.

Outside the eight educational boards, the pass rate in the technical board was 75.5 per cent with total 2,456 GPA 5 achievers. The madrasa board registered a pass rate of 78.67 per cent; the number of GPA 5 achievers were 1,244.

Minister Nahid met the premier at Gono Bhaban around 10:00am this morning and handed Prime Minister Sheikh Hasina a copy of the results.

He will formally announce the results through a press conference at 1:00pm at his ministry.

Last year, the overall pass rate was 66.84 percent. The number of students having achieved the highest grade -- GPA 5 – registered at 33,242, a big drop from the previous year.

Examinees will get their results from respective examination centres or educational institutions, websites of respective centres and through internet and mobile phones.

To get the results, students can also log on to the website www.educationboardresults.gov.bd.

This year, a total of 13,11,457 examinees from 8,864 educational institutions appeared in the examinations. Of them, 6, 35,697 are male and 5,47,989 females.

A total of 11, 83,686 examinees appeared in the HSC and equivalent examinations last year.


37
স্বাধীনতার পরে ও আশির দশকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝে মাঝে যাওয়া হতো। কোনো কাজের জন্য নয়, আড্ডা ও ঘুরে বেড়ানো। বন্ধুদের আন্তরিক আতিথেয়তা। নৈসর্গিক পরিবেশ মনোরম। অল্প সময়ের জন্য নয়, গেলে থাকতাম সকাল থেকে সন্ধ্যা। সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগরের আবহ অন্য রকম। গাছপালা ঝোপঝাড় থেকে একধরনের মদির ঘ্রাণ মাদকতার সৃষ্টি করত। কত রকম পাখপাখালির কলকাকলি। তখন ঘনিষ্ঠদের মধ্যে ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক, সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায়, নাট্যকলার সেলিম আল দীন, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের আজিজুল হক। আজ তাঁরা কেউ নেই। অপেক্ষাকৃত কম বয়সেই চারজন ভালো শিক্ষক, তার চেয়ে বড় কথা ভালো মানুষ, চলে গেছেন।

বন্ধু শামসুল হকের মাধ্যমেই আরজ আলী মাতুব্বরের সঙ্গে পরিচয়। এবং সেটা জাহাঙ্গীরনগরে এক অপরাহ্ণে। হাঁটতে হাঁটতে তাঁর সঙ্গে জীবন ও জগৎ নিয়ে অনেকক্ষণ কথা হয়। ড. আজিজুল হকের সঙ্গে আলোচনা হতো সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে। তখন সামরিক স্বৈরশাসকবিরোধী গণতন্ত্রের আন্দোলন চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-শিক্ষকদের সেই সরকার ব্যবহার করছিল। রাজনৈতিক সংস্কৃতির অধঃপতন ঘটে। অধ্যাপক আজিজুল হক বিশেষ লেখালেখি করতেন না। ছাত্রদের তৈরি করতেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির তখন তিনি সভাপতি। কোথাও তাঁর একটি লেখা ছাপা হয়েছিল। তাতে শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতি নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল। লেখাটির একটি কপি আমাকে তিনি পড়তে দিয়েছিলেন। লেখাটিতে গুরুত্বপূর্ণ কথা ছিল। এক জায়গায় তিনি বলেছিলেন:

‘...সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে উপাচার্য বা ক্ষমতাসীন মহলের সদস্যরা প্রাধান্য পায়, ফাইলের গতির ধারা ও মাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গোষ্ঠী-অন্তর্ভুক্তির (ক্ষমতাসীন/বিরোধী) ওপর নির্ভরশীল-এটি বর্তমানে “ওপেন সিক্রেট” ব্যাপার না হয়ে খোলামেলা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থে নয়, উপাচার্য ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীস্বার্থে বিধিবহির্ভূতভাবে কাজ করেছেন অথবা বিশেষ/জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন এমন নজির আছে (যেমন বিভাগ/সেন্টার/ইনস্টিটিউট খোলা এবং তাদের প্রধান নিয়োগ)-নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে। দুর্ভাগ্য, ১৯৭২ সালের পর দেশের ৪-৫ জন উপাচার্য দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে কারাভোগ করেছেন। দেশের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, এলাকাপ্রীতি, গোষ্ঠীপ্রীতি, দুঃশাসন ইত্যাদির ব্যাপারে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী কর্তৃক কয়েক দফা পুস্তিকা, প্রচারপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর পরেও (দাবি সত্ত্বেও) তিনি পদত্যাগ করেননি। পদের মর্যাদার চেয়ে পদের লোভটি এখানে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এতে উপাচার্য পদটির সামাজিক মর্যাদার দারুণ অবনয়ন ঘটেছে।’

এসব কথা তিনি বলেছিলেন ৩০ বছর আগে। এই তিন দশকে অবস্থার উন্নতি হয়েছে নাকি অবনতি ঘটেছে, তা সংশ্লিষ্টরা বলতে পারবেন। সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন খবরের কাগজের পাঠকেরা। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সরকারি দপ্তর নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা নন, যদিও সরকারই তাঁকে নিয়োগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র, নতুন জ্ঞান সৃষ্টিরও জায়গা। গত পাঁচ শ বছরে পৃথিবীতে যত নতুন আবিষ্কার হয়েছে, তা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাই। তার সুবিধা জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষাভাষীনির্বিশেষে সব মানুষ ভোগ করছে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার ফলেই নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হয়েছে এবং নতুন আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক বিদগ্ধ ইতিহাসবিদ সালাউদ্দিন আহমদ ছিলেন উঁচু সংস্কৃতিমান মানুষ। দীর্ঘায়ু পেয়েছিলেন, কিন্তু আফসোস হয় আরও কয়েক বছর তাঁর বেঁচে থাকা উচিত ছিল। মারা যাওয়ার কয়েক বছর আগে থেকে তিনি বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের অবস্থা এবং তাঁদের সমস্যা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন। যেকোনো কারণেই হোক আমার মতো সাধারণ মানুষের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা করতেন। অত্যন্ত পণ্ডিত মানুষ-শান্ত, মৃদুভাষী, কিন্তু যন্ত্রণায় ভুগতেন। ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে এলে অথবা তাঁর টিএসসির ঘরে তাঁর সঙ্গে আমার কথা হতো। দেশের শিক্ষিত বেকারদের সম্পর্কে তাঁর কিছু পরিকল্পনা ছিল, তা নিয়ে কাজ করতে তিনি আমাকেও অনুগ্রহ করে যুক্ত করেন।

সরকারের অনেক কাজ। যাঁরাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বের হবেন, সবাইকে চাকরি দেওয়া সরকারের সাধ্যের বাইরে। আধা সরকারি বা বেসরকারি চাকরির বাজারও পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোবার পরে চাকরিবাকরি ও জীবিকার প্রত্যাশা অস্বাভাবিক নয়। বিশের দশকে বিশাল অখণ্ড বাংলার দুই অংশে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেরা মনে করতেন, তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অভিভাবক। তাই দেখা যায়, স্যার ফিলিপ হার্টগ হোন বা স্যার আশুতোষ মুখার্জি হোন, তাঁরা তাঁদের সমাবর্তন ভাষণে তাঁদের ছাত্ররা কোথায় কোথায় ভালো চাকরি পেল, তা উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করতেন।

যাঁরা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে বাপের টাকায় ইংল্যান্ড, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া থেকে একটা ডিগ্রি জোগাড় করেন এবং সেসব দেশে গিয়ে সেকেন্ড হোমে আরামে থাকেন, তাঁদের কথা আলাদা। তাঁরা পরম ভাগ্যবান-ভাগ্যবতী। তাঁদের বাইরে দেশের যে লাখ লাখ যুবক-যুবতী, তাঁরা বড়ই ভাগ্যবিড়ম্বিত। তাঁরা কেউ কৃষকের সন্তান, কেউ গ্রামের বাজারের ছোট দোকানদারের সন্তান, কেউ ছোটখাটো চাকরিজীবীর ছেলেমেয়ে। কেউ পড়ালেখা শেষ করতে গিয়ে পরিবারের শেষ সম্বল ধানের জমিটুকু বিক্রি করেছেন, কেউ সকাল-সন্ধ্যায় টিউশনি করে পড়ার খরচ জোগাড় করেছেন, কেউ চড়া সুদে কোথাও থেকে টাকা ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় পার করেছেন। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মা-বাবা, ভাই-বোনের অনেক আশা। পাস করে রোজগার করবে। সবাই একটু ভালো থাকবে।

কোনো নির্বোধও বলবে না ছাত্রদের পাস করে বেরোলে তাঁকে চাকরি দেওয়ার দায়িত্ব উপাচার্যের। তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব বিরাট, কিন্তু তার চেয়ে বেশি নৈতিক দায়িত্ব। উপাচার্য শুধু তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অভিভাবক নন, তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ছাত্রদেরও তিনি অভিভাবক। এই যে লাখ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক-স্নাতকোত্তর সনদ নিয়ে বেরোচ্ছেন, তাঁরা কী অবস্থায় আছেন, কী তাঁদের ভবিষ্যৎ, তাঁদের কোনো সমস্যা আছে কি না, থাকলে তা সমাধানের উপায় কী, তা নিয়ে মাথা ঘামানো একজন উপাচার্যের নৈতিক দায়িত্ব।

আজকাল সংবাদপত্রে দেখা যায়, উপাচার্যরা নিয়োগ পেয়েই নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার জন্য ব্যাকুল। পদ আছে ১২ টি, নিয়োগ দেওয়া হলো ১৭২ জনকে। এবং তাঁরা কারা? ছেলে, মেয়ে, ভাগনে, ভাগনি, ভাতিজা, শালীর ছেলেমেয়ে। রক্ত ও বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয় হওয়ার প্রয়োজন নেই, অন্য বিশেষ কারণে চাকরি হয়। কিন্তু ওদিকে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী বেকার। তাঁদের কোনো অভিভাবক নেই। প্রবৃদ্ধি ৬ না ৭ শতাংশ, তা শুনে তাঁরা কী করবেন। উন্নয়নের গল্পেই-বা তাঁদের কী যায় আসে!

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিতরা সমাজের সবচেয়ে অগ্রসর অংশ। দেশের ভালোমন্দ তাঁরা খুব ভালো বোঝেন। তাঁরা রাজনীতিসচেতন। সমাজ ও রাষ্ট্রের যেকোনো ব্যাপারে তাঁদের মতামতের মূল্য রয়েছে। দেশকে সমৃদ্ধ, সুখী ও শান্তিপূর্ণ করতে দুই কোটি তরুণ-তরুণীকে বাদ দিয়ে হবে না। সবাই জীবিকার জন্য দলীয় ক্যাডার হতে পারেন না। সৎ ও যোগ্যদের স্বাধীন জীবিকাই প্রত্যাশিত।

যেকোনো সমস্যা নিয়ে সমাজে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। সহজ পথ তার যৌক্তিক সমাধান। দমনমূলক নীতি ফলপ্রসূ হয় না। আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে শিক্ষিতদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে, জীবনের প্রতি হতাশা থেকে তরুণ-তরুণীরা পথভ্রষ্ট হতে পারেন। মাদকাসক্ত হতে পারেন। উগ্র রাজনীতিতে ঝুঁকতে পারেন। সে উগ্র রাজনীতি ধর্মীয় হতে পারে, হঠকারী বামও হতে পারে। পুলিশ যদি জানতে পারে অমুকে সন্ত্রাসী, তাকে দমন করতে পারে, জনারণ্যে মিশে থাকা সন্ত্রাসীকে কীভাবে দমন করা সম্ভব? উন্নত দেশগুলোও তা পারছে না। কোটি কোটি তরুণের আজ যখন কোনো অভিভাবক নেই, তখন তাঁদের সমস্যার সমাধান ও অসন্তোষ দূর করতে হবে রাষ্ট্রকেই।

সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক

38
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও জাপানের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রিসোসিয়া কোম্পানি লিমিটেড এবং ‘স্কিল ডট জবস্’-এর যৌথ আয়োজনে গত শনিবার ১৪ জুলাই, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৭১ মিলনায়তনে ‘স্পট রিক্রুটমেন্ট’ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান।

কর্মসূচীতে রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান রিসোসিয়া কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাওকি ইরি, কারিগরি নিয়োগ বিভাগের ব্যবস্থাপক মাতসুবারা তোশিউকি এবং ড্যাফোডিল জাপান আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরু ওকাযাকি। সেমিনারটি পরিচালনা করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক আবু তাহের খান।

হিউম্যান রিসোসিয়া কোম্পানি লিমিটেডের বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলী পদে কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। এতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন এবং সেমিনার শেষে প্রাথমিক মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরকে পরবর্তীতে চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষার জন্য আহ্বান জানাবে হিউম্যান রিসোসিয়া কোম্পানি লিমিটেড এবং মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরকে নিয়োগ প্রদান করবে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড্যাফোডিল ফ্যামিলির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, জাপান একটি উন্নত দেশ। সেখানে প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় লোকবল নেই। তাই দক্ষ কর্মীর খোঁজে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আসছে। আমাদের এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। তিনি বলেন, আমাদের তরুণরা অসম্ভব মেধাবী। তারা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় কাজ করতে পরবে। ড্যাফোডিলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে জাপানের বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে চাকরি করছে বলে জানান মোহাম্মদ নূরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে হিউম্যান রিসোসিয়া কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাওকি ইরি বলেন, জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই মুহূর্তে প্রায় ছয় লাখ প্রকৌশলীর প্রয়োজন। কিন্তু এত সংখ্যক প্রকৌশলী বর্তমানে জাপানে নেই। তাই আমরা এসেছি বাংলাদেশের মেধাবী প্রকৌশলীদের হায়ার করতে। নওকি ইরি বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে, মেধার স্বাক্ষর রাখছে। তাদের মেধা ও যোগ্যতা ইতিমধ্যে সারাবিশ্বে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা আশা করছি, আজকের স্পট রিক্রুটমেন্টের মাধ্যমে বেশকিছু মেধাবী তরুণকে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে।

অপর রিসসোর্স পার্সন মাতসুবারা তোশিউকি বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে হিউম্যান রিসোসিয়া কোম্পানি লিমিটেড কমপক্ষে ১ হাজার প্রকৌশলী নিয়োগ করবে। আপাতত তারা সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী ও কম্পিউটার প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রদান করছেন বলে জানান মাতসুবারা তোশিউকি। দুই সপ্তাহের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে তিনি জানান। মাতসুবারা তোশিউকি আরো বলেন, নিয়োগকৃত কর্মীকে জাপানি ভাষা শেখানোসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রদান করবে হিউম্যান রিসোসিয়া কোম্পানি লিমিটেড।


39
চট্টগ্রাম শহরের খুলশী এলাকার রেলক্রসিং পার হয়ে কিছুদূর সামনে এগোতেই উত্তরে মুখ করে থাকা ছোট্ট একটা গলি। সেই গলির মুখে দাঁড়িয়ে আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরীর নামটা পুরো মুখে আনতে হলো না। নামটা বলা শুরু করতেই আশপাশের মানুষ দেখিয়ে দিলেন তার বাড়ি। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (আইএমও) বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সোনা নিয়ে আসা তরুণের বাড়িটাই যেন এখন এলাকার সবার আবেগের স্থান।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে পাওয়া গেল বাবা আহমেদ আবু জোনায়েদ চৌধুরী ও মা সৈয়দা ফারজানা খানমকে। সাজানো-গোছানো ড্রয়িংরুম।

পাঁচ তাকের আলমারিতে পরপর রাখা নানান পুরস্কার, স্মারক-এই সবকিছুর ‘মালিক’ আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী। ছেলের সেসব অর্জনের পাশে বসে সুখী মা-বাবা খুলে দিলেন স্মৃতির ঝাঁপি। সেসব স্মৃতি বলতে গিয়ে কখনো আবেগে গলা ধরে এল, কখনো চোখের কোণে চিক চিক করে ওঠে দুজনের। তার মাঝে যা বললেন-তার পুরোটাই যেন ছেলের গৌরবগাথা।

হাসিখুশি বাবা–মা। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে সোনাজয়ী ছেলে আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরীকে ফোন দিচ্ছেন বাবা ও মা। পেছনে জাওয়াদের ছোট বোন। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী গ্রিন সোসাইটি এলাকার বাড়িতে। ছবি: সৌরভ দাশহাসিখুশি বাবা–মা। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে সোনাজয়ী ছেলে আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরীকে ফোন দিচ্ছেন বাবা ও মা। পেছনে জাওয়াদের ছোট বোন। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী গ্রিন সোসাইটি এলাকার বাড়িতে। ছবি: সৌরভ দাশ

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রোমানিয়ার ৫৯ তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে আহমেদ জাওয়াদ চৌধুরী দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জয় করল, মা সৈয়দা ফারজানা খানম নিজেকে ‘হালকা’ করতে তখন আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে বাবা আহমেদ আবু জোনায়েদ চৌধুরী ব্যস্ত তাঁর কার্যালয়ে। ফারজানা খানমের কাছেই প্রথমে এল খবরটা। তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো থেকে ফোনে প্রথমে জানানো হয় আমাকে। এরপর আনন্দে কেঁদে ফেলি। এখন আমরা যেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মা-বাবা।’ এরপর থেকে আত্মীয়স্বজনের ফোন ধরেই সময় কাটছে মা-বাবার।

আহমেদ জাওয়াদের গণিতের প্রতি ভালো লাগা শুরু হয়েছিল সেই ২০০৯ সালে। সে তখন সবে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। সে সময় তার মা ফারজানা খানম ছেলেকে ব্রেন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ইউসিমাস-এ ভর্তি করিয়ে দেন। পাশাপাশি ছেলেকে কিনে দেন গণিতসংক্রান্ত বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বইও। মায়ের সেই উৎসাহ থেকেই শুরু। পরে যখন সে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা শেষ করে তখন তার বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ফারজানা খানমকে পরামর্শ দেন জাওয়াদকে আঞ্চলিক গণিত অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় পাঠানোর। সেবারই প্রাথমিক ক্যাটাগরিতে সারা দেশের মধ্যে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়ন’ হয় জাওয়াদ। আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পরের আটটি প্রতিযোগিতাতেই কোনো না কোনো পদক নিয়ে এসেছে সে। আর আইএমওতে ২০১৬ সালে ব্রোঞ্জ ও ২০১৭ সালে রৌপ্যপদক পেয়েছিল সে। এবার ছাড়িয়ে গেল সব অর্জনই।

আহমেদ জাওয়াদআহমেদ জাওয়াদচট্টগ্রামের ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে জাওয়াদ। কয়েক দিন পরেই ফল বেরোবে। কিন্তু ছেলের আসন্ন ফল নিয়ে বাবা-মা দুজনই চাপমুক্ত। তাঁদের কথা, ‘জিপিএ-৫ পাওয়ার দৌড়ে আমরা ছেলেকে রাখিনি। এসএসসি পরীক্ষায় ওর সব বিষয়ে জিপিএ-৫ আসেনি। কিন্তু আমরা এ নিয়ে একেবারেই মন খারাপ করিনি। কারণ আমরা ছেলেকে তার মতো বড় হতে বলেছি। সে নানা বই পড়ার মধ্যে দিয়েই আনন্দ খুঁজে নিচ্ছে, নিজেকে গড়ে তুলছে। এতেই আমরা খুশি।’

ছেলেকে নিয়ে এবার আরও বড় স্বপ্ন দেখছেন বাবা-মা। তাঁদের চাওয়া, এইচএসসির পর ছেলে বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নেবে। তবে তাঁদের শেষ চাওয়া একটাই-পড়াশোনা শেষে জাওয়াদ দেশে ফিরে আসবে। তারপর দেশের জন্য কাজ করবে। মা ফারজানা জানালেন, জাওয়াদের অবসর কাটে বই পড়ে। তবে প্রতি শুক্রবারে তার একটাই শিডিউল। চিটাগং ম্যাথ ক্লাবে নানা বয়সের শিক্ষার্থীদের গণিত প্রশিক্ষণ দেওয়া।

40
বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলে ‘৮তম আন্তর্জাতিক বিশ্ব অর্থনীতির পুনর্গঠন সম্মেলন’-এ প্রধান আলোচক হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।

গত ৯-১০ জুলাই লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনটির সহআয়োজক একাডেমি অব বিজনেস অ্যান্ড রিটেইল ম্যানেজমেন্ট (এবিআরএম) ও জার্নাল অব বিজনেস অ্যান্ড রিটেইল ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ।

ড. মো. সবুর খান এই সম্মেলনে ‘বৈশ্বিক উদ্যোক্তাবৃত্তির দ্রুত উন্নয়ন ও উদ্ভাবন এবং বাংলাদেশের বিশেষ উদাহরণ’ শীর্ষক এক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এসময় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন একাডেমি অব বিজনেস অ্যান্ড রিটেইল ম্যানেজমেন্ট (এবিআরএম)-এর নির্বাহী চেয়ার ড. পি পি দত্ত। সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের  সেন্টার ফর  ইনোভেটিভ লিডরিশীপ নেভিগেশন এর পরিচালক ও ইন্টারন্যাশনানাল জার্নাল অব হায়ার এডুকেশন ম্যানেজমেন্টএর এডিটর ইন-চীফ ড. মার্ক টি জোনস্ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মোঃ সবুর খানকে ফেলোশীপ প্রদান করেন।

ড. মো. সবুর খান তাঁর প্রবন্ধে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের শেষ পর্যায় ‘ডিজিটাল বিপ্লব’ এর উপর জোর দিয়েছেন। তিনি উদীয়মান প্রযুক্তি যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, ইন্টারনেট অব থিংকস (আইওটি), থ্রি ডি প্রিন্টিং, স্বনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ইত্যাদিকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব হিসেবে বর্ণনা করেন। তথ্যপ্রযুক্তির এই সমন্বয়ভিত্তিক সৃজনশীলতা এবং উদ্যোক্তাবৃত্তি বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধির অনুঘটকে পরিণত হয়েছে।

এজন্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো উদ্যোক্তাবৃত্তির কর্মকৌশকে আরও শক্তিশালী করছে। সাম্প্রতিক সময়ে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলো উদ্ভাবনকে তাদের প্রতিষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। আর নতুন নতুন উদ্ভাবনগুলোই তাদের প্রতিষ্ঠানে সাফল্য এনে দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ড. মো. সবুর খান বাংলাদেশের উদাহরল টানেন এবং কিছু সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ যেমন ‘বিকল্প বিনিয়োগ নীতিমালা-২০১৫’, এটুআই প্রকল্পের ‘ইনোভেশন ফান্ড’ এর মাধ্যমে ছোট ছোট উদ্যোগকে সহায়তা প্রদান,  উচ্চ পর্যায়ের উদ্যোক্তা প্রোগ্রাম, ইনোভেশন হাব ও বিজনেস ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদির উল্লেখ করেন।

41


সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত তিন জাতীয় অধ্যাপককে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ তিন অধ্যাপক হলেন, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।

সোমবার (৯ জুলাই) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

সম্মাননা অনুষ্ঠানে ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লা, প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগম, প্রফেসর ড. মোঃ আখতার হোসেন ও প্রফেসর ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি উপস্থিত ছিলেন। ইউজিসি সচিব ড. মো. খালেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহলা খাতুন, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার এম. জমির, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধিত তিন বরেণ্য শিক্ষাবিদ জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে সম্মানিত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ প্রদান করেন। তারা বলেন, দেশকে আজীবন তারা যা দিয়েছেন, দেশ তার অনেক বেশি তাদেরকে দিয়েছে। এই সম্মাননা দেশের প্রতি তাদের দায় ও দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আজ আমরা সবচেয়ে বেশি আনন্দিত। এই তিন বরেণ্য শিক্ষকদের সম্মানিত করে দেশ ও জাতি সম্মানিত হলো। তিনি বলেন, এ তিন অধ্যাপক হচ্ছেন জ্ঞানের বাতিঘর। তাদের জ্ঞানের মশালে গোটা দেশ ও জাতি আলোকিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞানের সূতিকাগার। আর এই শিক্ষকরা সেই সূতিকাগারের উজ্বল নক্ষত্র। যেই দেশ শিক্ষায় যত উন্নত সে দেশ অর্থনৈতিকভাবে তত সমৃদ্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সকল সূচকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।দেশের উচ্চশিক্ষায় বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান উচ্চশিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে এই তিন জাতীয় অধ্যাপককে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন এই সম্মাননা উচ্চশিক্ষা পরিবারের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিবে। এ তিন জাতীয় অধ্যাপক নিজ নিজ ক্ষেত্রে সমাধৃত এবং দেশকে আলোকিত করেছেন। আমরা এমন শিক্ষকের জন্য গৌরবান্বিত। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে এসব শিক্ষাব্যক্তিত্বদের জীবন দর্শন অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।

42


‘এস’ আকৃতির নকশায় বানানো দংগাই সেতু। ছবি: সংগৃহীত‘এস’ আকৃতির নকশায় বানানো দংগাই সেতু। ছবি: সংগৃহীতছয় লেনের প্রশস্ত সেতু-সড়ক। মাইলের পর মাইল। মধ্যম গতিতে চলছে বাস। যতই এগোচ্ছে রোমাঞ্চকর অনুভূতি আর বিস্ময় মিলেমিশে একাকার। সেই পারদ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের সহযাত্রীদের মধ্যেও। সামনে, ডানে-বামে ঘুরছে সবার দৃষ্টি। অস্ফুট স্বরে ঝরে পড়ছে কারও কারও বিস্ময়—এত্ত বিশাল!

রোমাঞ্চকর অনুভূতি হবেই না কেন? পুরো সড়ক-সেতুটি যে উত্তাল সাগরের ওপর। নদ-নদী, সমতল এমনকি দুর্গম পাহাড়ের ওপর সেতু তো অহরহ দেখা যায়। কিন্তু সাগরের বুক চিরে সেতু, তা-ও আবার সাড়ে ৩২ কিলোমিটার লম্বা! বিস্ময়করই বটেই।

দঙ্গাই সেতু। আরেক নাম পূর্ব সাগর সেতু। এটি চীনের সেতুবিপ্লব ইতিহাসের মাইলফলক। ১৩ বছর আগে সাগরের চোখরাঙানি বশে এনে এই সেতু বানিয়ে সারা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেয় চীন।

রূঢ় পরিবেশ, বিশাল ঢেউ, টাইফুন আর লবণাক্ততার মতো প্রতিকূলতার মুখে সাগরের ওপর দীর্ঘ সেতু বানানোর ‘অসাধ্যসাধন’ করে চীন এই দঙ্গাই দিয়েই। সে সময় এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র-সেতু। বাইরের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এখন চারটি সমুদ্রসেতুসহ বিশ্বের দীর্ঘতম ১১টি সেতুর রেকর্ডও চীনের দখলে।

পূর্ব চীন সাগরের হ্যাংজহু উপসাগরের ওপর দঙ্গাই সেতু। ছবি: লেখকপূর্ব চীন সাগরের হ্যাংজহু উপসাগরের ওপর দঙ্গাই সেতু। ছবি: লেখকপূর্ব চীন সাগরের হ্যাংজহু উপসাগরের ওপরে এই দঙ্গাই সেতু। এটি পেরিয়েই চীনের আরেক বিস্ময় ইয়াংশান গভীর সমুদ্রবন্দর। সেতুটি এই বন্দরের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক রাজধানী সাংহাইকে যুক্ত করেছে। স্থলভূমি থেকে গভীর সমুদ্রবন্দরে পণ্য পরিবহন হয় এই সেতুটি দিয়ে। ২০০৫ সালে সেতুর সঙ্গেই চালু হয়েছিল বন্দরটি।

গত সেপ্টেম্বরে গিয়েছিলাম সাংহাই। দলে ছিলেন ২৮ জন। সবাই চট্টগ্রামের। বুলেট ট্রেনে রাজধানী বেইজিং থেকে সাংহাই আসার সময় ১ হাজার ৩১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলাম বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম দানইয়াং-কুনশান গ্র্যান্ড সেতু (১৬৪ কিলোমিটার) ও দ্বিতীয় দীর্ঘতম তিয়ানজিন সেতুসহ (১১৪ কিলোমিটার) কয়েকটি দীর্ঘতম সেতু। ট্রেনের ৩০০ কিলোমিটারের দ্রুতগতিতে মজাটা তেমন নিতে পারিনি। তাই দঙ্গাই ছিল শেষ ভরসা। সফরের শেষ দিনে রোমাঞ্চকর সেই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পাঠকের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।

দঙ্গাই সেতুর আরেক নাম পূর্ব সাগর সেতু। ছবি: লেখকদঙ্গাই সেতুর আরেক নাম পূর্ব সাগর সেতু। ছবি: লেখকভ্রমণ গাইডের বর্ণনা আর ইন্টারনেট থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, তারে বাঁধা প্রধান স্প্যানসহ বিম কাঠামোর দঙ্গাই সেতুর নির্মাণ শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে। ৬ হাজারের বিশাল কর্মীবাহিনী মাত্র তিন বছরেই বানিয়ে ফেলেন বিশাল এই স্থাপত্য। খরচ হয় ১ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ‘এস’ আকৃতির নকশায় বানানো এই সেতু টিকে থাকবে ১০০ বছর। সাংহাই শহরের পুডং হারবার থেকে সেতুর শুরু। শেষ ইয়াংশান দ্বীপে।

নির্ধারিত গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। আমাদের দেখার সুবিধায় বাস চলছে কম গতিতে। কিছু দূর এগোতে চোখে পড়ল সেতুর দুপাশে সাগরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা উইন্ড মিলের (বায়ু বিদ্যুতের পাখা) সারি। বাতাসে ঘুরছে বিশাল পাখা। এর ছন্দের সঙ্গেই যেন চলছে আমাদের বাস। সে এক দারুণ অনুভূতি। মনোযোগী হলাম আমাদের গাইড সুদর্শন জেফরির বর্ণনায়। একেবারে চোস্ত ইংরেজিতে জানিয়ে দিলেন বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের চুম্বক অংশ।

বাতাসকে ধরে উৎপন্ন হচ্ছে বিদ্যুৎ। নাম দঙ্গাই সেতু বায়ু খামার। চীনের প্রথম বাণিজ্যিক অফশোর বায়ু খামার। চালু হয় ২০১০ সালে। সাগরের ১৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো ৩৪টি টারবাইনের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১০২ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে মূল ভূখণ্ড সাংহাইয়ের ২ লাখ পরিবারকে। উৎপাদন বাড়াতে নাকি আরও টারবাইন বসানোর কাজ চলছে।

একপর্যায়ে পথ বাঁক নিতে শুরু করে। বেশ ঘোরানো। বুঝলাম ‘এস’ আকৃতিতে ঢুকেছি। সমুদ্রসেতু প্রকৌশলবিষয়ক গবেষণা থেকে জানতে পারি, এই নকশা গড়ার ক্ষেত্রে নান্দনিক সৌন্দর্যের চেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে নিরাপত্তার বিষয়টি। সহজ কারণ, সোজা কাঠামোতে সামুদ্রিক ঢেউয়ের ধাক্কা অনেক জোরে এসে লাগে। আর দীর্ঘ সোজা পথে যাতায়াতে চালকদের চোখের ক্লান্তিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বাঁকানো আকৃতিতে সেই ঝুঁকি কম। তা ছাড়া এই আকৃতি সেতুর পাশ দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচলও নিশ্চিত করে।

বাঁক শেষে আবার সোজা পথ। কিছু পরই ওপরের দিকে উঠতে থাকে বাস। চোখে পড়ল দূরে মাথা উঁচু করা তারে বাঁধা বিশাল পিলার। সেতুর প্রধান স্প্যান। পাঁচ কিলোমিটার ব্যবধানে ওয়াই আকৃতির বড় দুটি পাইলনে (থাম) মোটা ইস্পাত তারের গুচ্ছে আটকা। এর নিচ দিয়ে পার হয় সমুদ্রগামী বড় বড় জাহাজ। চ্যানেলটি ৪২০ মিটার চওড়া ও ৪০ মিটার উঁচু বলে জানালেন গাইড।

প্রধান স্প্যান পার হয়েই আবার ঢুকে পড়ি ‘এস’ আকৃতির শেষ বাঁকে। এবার নজর পড়ল সেতুর রূপ-লাবণ্যে। এই সাগরের রং বাদামি। গভীর জলের প্রাকৃতিক রঙের মধ্যে সেতুর গাঢ় ধূসর রূপটি বেশ সুন্দর লাগে। রাতে আলোকসজ্জায় নাকি আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। নীল রঙের বাতিতে আলোকিত থাকে প্রধান স্প্যান ও দুটি পাইলন। সঙ্গে সেতু সড়কের মাঝখানে দুই সারি ল্যাম্প পোস্টের আলো। দূরে থেকে ডঙ্গাই সেতুকে মনে হবে সাগরে ভাসমান একটি ড্রাগন, বললেন গাইড।

সেতুর পাশে সাগরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা উইন্ড মিলের সারি। ছবি: লেখকসেতুর পাশে সাগরের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা উইন্ড মিলের সারি। ছবি: লেখকএরপর সোজা ঢুকে পড়ি ইয়াংশন গভীর সমুদ্রবন্দর এলাকায়। সে এক এলাহী কারবার। যেদিকে চোখ যায়—মাথা উঁচু করা বিশাল বিশাল গ্যান্ট্রি ক্রেন। নোঙর করা বড় বড় জাহাজ আর হাজার হাজার কনটেইনারের স্তূপ। বিশ্বের ব্যস্ততম ও বৃহত্তম এই গভীর সমুদ্রবন্দরটির বর্ণনা দিতে গেলে আরেকটি ভ্রমণ গল্প হয়ে যাবে। অল্প কথায় বলা যায়, সাংহাই বন্দরের অংশ ইয়াংশন গভীর সমুদ্রবন্দরে ১৫ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারে। গত বছরের ডিসেম্বরে এখানে বিশ্বের বৃহত্তম স্বয়ংক্রিয় কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে সাংহাই বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং ক্ষমতা ৪০ মিলিয়ন টিইইউস অতিক্রম করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়ে বলে ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম নিউজ বলছে।

ফেরার পথে আরেক মজা। হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে সামুদ্রিক ঝড়। দুশ্চিন্তা হলো। টাইফুনে পড়লাম নাকি? চীন সাগর টাইফুনপ্রবণ অঞ্চল। প্রায় বয়ে যায় শক্তিশালী টাইফুন। গাইডের আশ্বাসে শঙ্কা কাটল। আরও নিশ্চিন্ত হলাম এটা জেনে যে, সাগরের বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকতে টাইফুন ও উচ্চ তরঙ্গপ্রতিরোধী শক্তি দিয়েই সেতুটি গড়া। ১২ বল শক্তির টাইফুন আর ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে এই সেতু। সামলাতে পারবে টাইফুন বা অন্য কোনো কারণে ধেয়ে আসা বড় জাহাজের ধাক্কাও।

ঝড়ের কারণে সেতুর দুপাশের সাগর ঢেকে যায় ঘন কুয়াশায়। তবে সেতুর পথ মোটামুটি পরিষ্কার। বৃষ্টির ঝাপটা কাটিয়ে সামনে এগোতে তেমন সমস্যা হচ্ছিল না চালকের। হবে কীভাবে? সেতু খুলে দেওয়ার আগে কয়েক মাস চালকদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে গাড়ি চালানো যায় কি না, জানালেন চালক।

প্রয়োজনে বানানো বলে সেতুতে দর্শনার্থী সমাবেশের তেমন সুযোগ রাখা হয়নি। পথের মাঝে গাড়ি থামানো একেবারেই নিষেধ। তাই রোমাঞ্চকর স্মৃতির স্থিরচিত্র তোলা যায়নি। সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাস থেকে তোলা ভিডিওতে।

চালুর পর ৩ বছর ডঙ্গাই ছিল ‘বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসেতু’। ২০০৮ সালে একই উপসাগরে গড়া ৩৬ কিলোমিটারের হ্যাংজহু বে সেতু সেই মর্যাদা কেড়ে নেয়। তবে বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি। ২০১১ সালে খেতাব দখল করে নেয় ৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কিংদাও হাওয়ান সেতু। গিনেস বুকের রেকর্ড অনুযায়ী, জিয়াওঝু উপসাগরের ওপর ৮ লেনের সেতুটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র–সেতু। তবে আগামী জুলাই মাসে চালু হলে ৫৫ কিলোমিটার লম্বা হংকং-ঝুহাই-ম্যাকাউ সেতু গড়বে নতুন রেকর্ড। সেতুতে ব্যবহার করা ৪ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইস্পাত দিয়ে নাকি ৬০টি আইফেল টাওয়ার বানানো সম্ভব—এমন তথ্য চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার।

রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মধ্যে চীনের প্রথম সমুদ্র–সেতুর মর্যাদাটি কিন্তু দঙ্গাইয়েরই রয়ে গেছে!

43


২০১৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র সাজিদ আখতার পেয়েছিলেন জিপিএ-৪.৫০। আর এ বছর সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসিফ-ই-এলাহীর অর্জন ৪.৬৭। ছেলে জিপিএ-৫ পায়নি বলে মা-বাবা আশাহত হয়েছিলেন, মন খারাপ হয়েছিল সাজিদ আর আসিফেরও। অথচ কী আশ্চর্য! গত ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যগামী একটি বিমানে চড়ে বসলেন দুজন। কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে তাঁরা ‘পিওর ম্যাথমেটিকসে’ স্নাতক পড়তে গেছেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। কেমন করে যুক্তরাজ্যের এই স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ হলো?
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আসিফ-ই-এলাহী (বাঁয়ে) ও সাজিদ আখতার

কলেজে পড়ার সময় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো জিপিএ অর্জন করাই থাকে শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য। অথচ সাজিদ-আসিফ নাকি বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির চেয়ে ক্যামব্রিজ  যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন! ক্যামব্রিজ  বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে গণিত নিয়ে পড়ার জন্য এসটিইপি বা সিক্সথ টার্ম এক্সামিনেশন পেপার্স ইন ম্যাথমেটিকস নামের একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সঙ্গে প্রয়োজন হয় আইইএলটিএসের ভালো স্কোর। আবেদনের আরও বেশ কয়েকটি ধাপ আছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নয়, এসবই ছিল আসিফ ও সাজিদের ভাবনায়। তাঁদের মনে এই আত্মবিশ্বাস গড়ে দিয়েছে গণিত অলিম্পিয়াড। স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছেন দুজন। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আসিফ-ই-এলাহী দুবার রৌপ্য, একবার ব্রোঞ্জ ও একবার ‘অনারেবল মেনশন’ পেয়েছেন। সাজিদ আখতার অংশ নিয়েছেন তিনবার। তাঁর ফলাফল দুটি ব্রোঞ্জ ও একটি অনারেবল মেনশন। গণিত যাঁদের শক্তি, রুখবে তাঁদের কে!

এর আগে গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ থেকে যেই শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন, তাঁরাই পথ দেখিয়েছেন আসিফ-সাজিদদের। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়ে সামিন রিয়াসাত ক্যামব্রিজ  থেকে গণিতে স্নাতক হয়েছেন, নাজিয়া চৌধুরী এমআইটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে সিঙ্গাপুরে মেডিসিনে উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছেন। তারিক আদনান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তামান্না ইসলাম, সৌরভ দাশ, বৃষ্টি শিকদার, শিঞ্জিনি সাহা, নূর মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, সানজিদ আনোয়ার সুযোগ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি)। হক মোহাম্মদ ইশফাক স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন। আদিব হাসান এমআইটিতে পড়ার আগে ছয় মাস সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

সাজিদ আর আসিফও বেশ কয়েক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। গত বছর উচ্চমাধ্যমিক পাস করে সাজিদ ভর্তি হয়েছিলেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে, তবে ক্যামব্রিজ  যাওয়ার চেষ্টাও চলছিল। সাজিদের মা রাকিবা আফরোজ বলেন, ‘এইচএসসিতে এ প্লাস পায়নি বলে আমার ছেলের একটু মন খারাপ হয়েছিল। তবে সে ভেঙে পড়েনি। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে গেছে, অন্যদিকে বাইরে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছে।’ বাবা সোহেল আখতারের বক্তব্য, ‘এ প্লাস নিয়ে এখন আর দুঃখ নেই। শেষটা ভালো হলো, এতেই আমি খুশি।’ আর সাজিদ? তাঁর কাছে জানতে চাই, কীভাবে পেলেন এই আত্মবিশ্বাস? আকাশে ওড়ার আগে মুঠোফোনে সাজিদ বলেন, ‘গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার কারণে একটা সমস্যার পেছনে লেগে থাকা শিখেছি। হাল ছাড়িনি। নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে ভর্তির জন্য লেগে ছিলাম, শেষ পর্যন্ত সেখানেই যাচ্ছি।’

আসিফ-ই-এলাহী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মধ্যেই মালয়েশিয়ায় ক্যামব্রিজ  বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর বাবা আজিজুর রহমান বললেন, ‘উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আসিফ খুব একটা পড়েনি। ওর মায়েরও ক্যামব্রিজের প্রতিই বেশি আগ্রহ ছিল।’ আর মা হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘এ প্লাস না পাওয়ায় মন একটু তো খারাপ হয়েছিলই। ছেলে যখন এইচএসসির ফলাফল ভুলে বিদেশে যাওয়ার জন্য পরিশ্রম শুরু করল, তখন আমিও ভরসা পেয়েছি।’ ক্যামব্রিজে পৌঁছে আসিফ ই-মেইলে জানিয়েছেন, ‘গণিত অলিম্পিয়াডের সুযোগে অনেক বড় ভাই-আপুদের দেখেছি, যাঁরা উচ্চশিক্ষার জন্য হার্ভার্ড, এমআইটি আর স্ট্যানফোর্ডে পড়ছেন। তাঁদের দেখেই ক্যামব্রিজে পড়ার স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছি।’ কিন্তু যদি ক্যামব্রিজে সুযোগ না হতো, তখন? এমন প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আসিফের উত্তর, ‘তাহলে আমেরিকার কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যেতাম।’
শেষ পর্যন্ত তাঁকে বিকল্প খুঁজতে হয়নি। আসিফ-ই-এলাহী ও সাজিদ আখতার তাঁদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বপ্নের বিষয় নিয়েই পড়ছেন। তাঁরা যে শুধু নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন, তা নয়। দেশে জিপিএ-৫ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের যাঁরা ‘খারাপ ছাত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, তাঁদের জন্য একটা বার্তাও দিলেন এই দুই তরুণ।

44


• গবেষকেরা বলছেন, আম খাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রক্তনালি শিথিল হয়ে যায়
• এটি রক্তচাপ কমায়

বাংলাদেশে আমের মৌসুম মে থেকে আগস্ট-এই তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি মানুষ গড়ে তিন কেজি করে আম খায়। পাকা-মিষ্টি আমের পুষ্টিগুণ অনেক, এটি কমবেশি সবার জানা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রথমবারের মতো জানা গেল, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের জন্য কতটা উপকারী আম। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা বলছেন, আম রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া (পোস্ট মেনুপোসাল) ২৪ জন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী নারীকে নিয়ে করা এক গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষকেরা বলছেন, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও কার্যকর এই ফল।

আম নিয়ে এই গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিভাগের গবেষকেরা। তাঁরা দেখেছেন, আম খাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রক্তনালি শিথিল হয়ে যায়। এটাই রক্তচাপ কমার কারণ। আমের আরও একটি উপকারের কথা বলেছেন গবেষকেরা। তা হলো, আম খাওয়ার পর অন্ত্র বেশি সক্রিয় হয়।

হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে আমের কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বে এটিই প্রথম কোনো গবেষণা। চলতি জুন মাসেই আমেরিকান সোসাইটি ফর নিউট্রিশনের বার্ষিক সম্মেলনে (নিউট্রিশন-২০১৮) গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এই গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ম্যাঙ্গো বোর্ড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

গবেষকেরা বলছেন, আমে কার্বলিক অ্যাসিডের মিশ্রণ থাকে। যা স্বাস্থ্য সুরক্ষার সম্ভাব্য উপকরণ। গবেষকেরা মনে করেন, আমে থাকা সক্রিয় যৌগ স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আম নিয়ে করা গবেষণার ফলাফল নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছেন, বয়স বেশি হওয়ার কারণে যেসব নারীর মাসিক স্বাভাবিক কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তাঁদের শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে। মাসিক বন্ধ হওয়া নারীদের রক্তচাপ বেশি হওয়ার প্রবণতা থাকে।

বিভিন্ন শস্য, সবজি ও ফলের পুষ্টিগুণ নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাজমা শাহীন। তিনি বলেন, আমের রাসায়নিকের হরমোনজনিত প্রভাব আছে, যা গ্রন্থিবাত, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

পদ্ধতি ও ফলাফল
মাসিক বন্ধ হওয়া ২৪ জন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী নারীকে দৈনিক ৩৩০ গ্রাম মিষ্টি আম খেতে দেওয়া হতো। গবেষণার জন্য পরপর ১৪ দিন তাঁদের ওই পরিমাণ আম থেকে খাওয়ানো হয়। আম খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর এসব নারীর হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, রক্তের নমুনা ও শ্বাসপ্রশ্বাস পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, সিস্টোলিক রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। হৃৎস্পন্দনের সময় রক্তনালির দেয়ালে প্রবহমান রক্ত যে চাপ প্রয়োগ করে, সেটাই সিস্টোলিক রক্তচাপ (রক্তচাপ মাপার সময় ওপরের সংখ্যা)।

গবেষকেরা দেখেছেন, আম খাওয়ার পর পালস প্রেশার বা ধমনি স্পন্দন চাপও কমে। স্পন্দন চাপ হচ্ছে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক (রক্তচাপ মাপার সময় নিচের সংখ্যা) রক্তচাপের মধ্যকার সংখ্যার পার্থক্য। আম খেলে এই পার্থক্য কম হয়। গবেষকেরা শ্বাসপ্রশ্বাসে হাইড্রোজেন ও মিথেনের পরিমাণও মেপে দেখেন। অন্ত্রে অণুজীবের সক্রিয়তায় এসব গ্যাস তৈরি হয়। ২৪ জন নারীর মধ্যে ৬ জনের নিশ্বাসে মিথেন পাওয়া যায়। এই ছয়জনের মধ্যে তিনজনের আম খাওয়ার পর মিথেনের পরিমাণ কমে। এর অর্থ তাঁদের অন্ত্র ভালো ছিল।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বলছে, বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম আম উৎপাদনকারী দেশ। চিকিৎসকেরা বলছেন, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া প্রয়োজন।

45
জিমি ফ্যালন একজন মার্কিন কমেডিয়ান ও উপস্থাপক। ‘দ্য টুনাইট শো স্টারিং জিমি ফ্যালন’অনুষ্ঠানটির জন্য তুমুল জনপ্রিয় তিনি। অভিনয়, গান আর প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত আছেন। ৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মার্জরি স্টোনম্যান ডগলাস হাইস্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তা ছিলেন তিনি।

সমাবর্তন বক্তা বললে আমাদের চোখে ভাসে একজন অনুপ্রেরণাদায়ী, বাগ্মী, পৃথিবী বদলে দেওয়া মানুষের মুখ। আবার হাইস্কুলের শিক্ষার্থী বলতে আমরা বুঝি অপরিপক্ব তরুণদের, যারা এখনো বড় হতে শিখছে, যারা একটু অদ্ভুত। আজ এমন এক অনুষ্ঠানে তোমাদের স্বাগত জানাচ্ছি, যেখানে ঠিক উল্টোটা ঘটছে!

আজ হাইস্কুলের দিন শেষ হচ্ছে, তোমরা নিশ্চয়ই গর্বিত। ২০১৮ সালের হাইস্কুল পেরোনো শিক্ষার্থীরা, আজ থেকে ক্লাসে আর তোমাদের দেখা হবে না। জানি, আগামী ১০ বছর তোমরা একে অন্যকে দেখার জন্য রাত দুটোর সময় ফেসবুক সার্চ করবে।

প্রথম কথা হলো: যখন সামনে এগোনো কঠিন মনে হবে, বুঝে নিয়ো তোমার জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। এগিয়ে যাও। গত মার্চ মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ‘মার্চ ফর আওয়ার লাইভস’ (গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মার্জরি স্টোনম্যান ডগলাস হাইস্কুল প্রাঙ্গণে গুলি করে ১৭ জনকে হত্যা করেছিল নিকোলাস ক্রুজ নামে এক তরুণ। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বন্দুকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের দাবিতে মার্চ মাসে একটি পদযাত্রা আয়োজন করেছিল শিক্ষার্থীরা—বি.স.) আন্দোলনে তোমাদের অনেকের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। অসাধারণ একটা দিন ছিল। ধন্যবাদ তোমাদের সাহস আর মনোবলের জন্য। সেদিন তোমাদের অসাধারণ কিছু বক্তৃতা শুনেছি, যা আমি কখনোই দিতে পারতাম না। আমি আর আমার স্ত্রী আমাদের দুই মেয়েকে সেদিন সঙ্গে এনেছিলাম। আমরা ওদের দেখাতে চেয়েছিলাম, আশা আর আলোর মিশ্রণ দেখতে কেমন! আমার খুব সৌভাগ্য, তোমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আমি তোমাদের দেখছিলাম। তোমরা কি জানো, শিক্ষকেরা তোমাদের নিয়ে কতখানি গর্বিত! সত্যি বলছি। তাঁরা রীতিমতো কাঁপছিলেন আর বলছিলেন, ‘ওই ছেলেটা আমার ছাত্র! ওই মেয়েটা আমার ছাত্রী! আমি ওদের ইতিহাস পড়িয়েছি!’ আর এখন? তোমরাই ইতিহাস তৈরি করছ। কী দারুণ, তাই না!

আমার শিক্ষকেরা আমাকে নিয়ে এভাবে কখনো গর্ব করেননি। আমি সেরা ছাত্র ছিলাম না। বলছি না আমি বোকা ছিলাম। আমি ছিলাম স্রেফ আর দশজনের মতো। সব সময় পড়তে ভালো লাগত না। তাই আমাকে ‘সামার স্কুল’-এ যেতে হয়েছে। মা-বাবা তখন বলেছেন, ‘কী হে বুদ্ধিমান, এবার নিজের দিকে তাকাও। সামার স্কুলে যাচ্ছ। এখন কেমন লাগে? গ্রীষ্মের পুরো ছুটিটা বরবাদ করলে। খুব মজা, তাই না?’ আমার ভীষণ মন খারাপ হয়েছিল। শোবার ঘরে গিয়ে আমি একা একা কেঁদেছিলাম। কিন্তু মজার ব্যাপার কী জানো, সামার স্কুল আমি উপভোগ করেছি। সেখানে আরও ১৫টা ‘আমি’র সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। সেখানে অন্য মানুষগুলো বেশ মজার আর কেমন যেন একটু বোকা বোকা। সামার স্কুল আমি ভালোবেসে ফেলেছি। এখানেই আমি আমার মনের মতো কিছু বন্ধু পেয়েছি।

অতএব আমি যেটা বলতে চাইছি—প্রতিটি খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে একটা না-একটা ভালো কিছু বেরিয়ে আসতে পারে। কখনো কখনো ব্যর্থতা আমাদের সম্পূর্ণ নতুন একটা পথের সন্ধান দেয়, যে পথে যাওয়ার কথা হয়তো তুমি কখনো কল্পনাও করোনি, কিন্তু এই পথই তোমাকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করে। তোমরা এরই মধ্যে সেটা প্রমাণ করেছ। তোমাদের একটা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু সেটা তোমাদের থামিয়ে দিতে পারেনি। তোমরা একটা আন্দোলন শুরু করেছ। সেই আন্দোলন শুধু ফ্লোরিডায় না, শুধু আমেরিকায় না, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে। সারা পৃথিবী তোমার কণ্ঠস্বর শুনেছে, এই সিদ্ধান্ত তুমি নিয়েছ। একটা খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজ তুমিই করেছ। ভয়কে ছাপিয়ে আশার হাত ধরেছ তুমিই!

আমরা জানি না ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। এটাই স্বাভাবিক। আমার পরামর্শ হলো, তুমি কী করতে চাও সেটা নিয়ে ভেবো না। বরং ভাবো, তুমি এটা কেন করতে চাও? বাকি সমস্যাগুলোর সমাধান এমনিই হয়ে যাবে। আমি আমার কাজটা ভালোবাসি। আমি কৌতুক বলে মানুষকে হাসাই এবং এটা একটা দারুণ কাজ। মানুষ সব সময় আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তোমার কাজের সবচেয়ে ভালো দিক কোনটা?’ আমি বলি, ‘আমি মানুষকে আনন্দ দিই। এটাই সবচেয়ে ভালো দিক।’

ছয়-সাত মাস আগে একটা মেয়ে আমার দিকে ছুটে এল। বলল, ‘জানো, আমি খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। খুব হতাশ লাগছিল। এমন সময় আমি ইউটিউবে তোমার সবগুলো ভিডিও দেখলাম, আর আমার মন ভালো হয়ে গেল। আমি শুধু তোমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’ এরপর আমরা প্রায় ২০ মিনিট কথা বললাম। সে বলল, ‘আমি কি একটা সেলফি তুলতে পারি?’ বললাম, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’ সে বলল, ‘আমি কি স্ন্যাপচ্যাটের জন্য তোমার সঙ্গে আরেকটা সেলফি তুলতে পারি?’ আমি বললাম, ‘নিশ্চয়ই পারো।’ দুটো সেলফি তোলার পর সে রীতিমতো চিৎকার করে বলল, ‘কী সৌভাগ্য, বিশ্বাস হচ্ছে না আমি জিমি কিমেলের সঙ্গে দেখা করেছি!’

কথা হলো: আমি আমার কাজটা ভালোবাসি। মেয়েটা যদি জানত আমি কে, তাহলে তার সত্যিই হাসি পেত।

আরেকটা প্রশ্ন প্রায়ই লোকে আমাকে জিজ্ঞেস করে। ‘ছোটবেলার আমার সঙ্গে এখনকার আমার দেখা হলে আমি তাকে কী বলতাম?’ অনেক কথাই বলতাম। প্রথমটা হলো: বাছাধন, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার একটু কম খেয়ো। ছোটবেলার আমার জন্য বড়বেলার আমার দ্বিতীয় পরামর্শ হতো: শোনো। আশপাশে সবার কথা মন দিয়ে শোনো। পৃথিবীতে হাজারো রকমের কণ্ঠস্বর আছে। প্রত্যেকের কথায় ভিন্ন সুর, ভিন্ন স্বাদ, ভিন্ন রং। কিন্তু আমরা সবাই একই রংধনুর অংশ। আর এই রংধনুতে যতখানি হলুদ লাগবে, ততখানিই লাগবে লাল, নীল, সবুজ, বেগুনি...। সবার মধ্যেই কিছু না কিছু ভালো আছে। মানুষের ভালোটা খুঁজে বের করো। আমরা যদি একে অপরের কথা শুনি, তাহলে আমরা সেটা পাব।

নতুন কিছু চেষ্টা করো। অতীতকে মনে রাখো, কিন্তু সেখানে পড়ে থেকো না। আশপাশের মানুষকে সম্মান করো। হাসো। চিঠি লেখো। মানুষকে ‘হ্যালো’ বলো। যত পারো হাসো। নাচো, মন খুলে।

বেশির ভাগ সমাবর্তন বক্তা বলেন, ‘তোমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।’ আমি সে কথা বলব না। বরং বলব, তোমরাই আমাদের বর্তমান। তোমরা ভালো করছ। সফল হচ্ছ। পৃথিবী বদলে দিচ্ছ। চালিয়ে যাও। আমাদের আরও গর্বিত করো। ধন্যবাদ।

Pages: 1 2 [3] 4