Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: [1] 2 3 ... 18
1
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। যে যত বেশি পবিত্র এবং পরিচ্ছন্ন সে আল্লাহর তত প্রিয়। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের পরিচ্ছন্নতার চেয়ে মুখের পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব একটু বেশি। তাই প্রিয় নবী (সা.) মুখের পরিচ্ছন্নতা এবং দাঁতের যত্নের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ জন্য তিনি বেশি বেশি মেসওয়াক করার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ, মুখ মানুষের শরীরের প্রধান দরজা। মুখে দুর্গন্ধ থাকলে নিজের এবং অপরের জন্য কষ্টদায়ক হয়। মস্তিষ্ক নোংরা হয়ে যায়। কারও সঙ্গে কথা বলতে গেলে লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় দাঁতের অপরিচ্ছন্নতার কারণে। দাঁত অপরিষ্কার থাকলে পরিবেশ পরিস্থিতি অস্বস্তিকর ও  বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। নিয়মিত মেসওয়াক করলে দাঁতও পরিষ্কার থাকে পাশাপাশি সুন্নতের সওয়াবও পাওয়া যায়। মেসওয়াক করার ব্যাপারে এত বেশি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা অন্য কোনো সুন্নতের ব্যাপারে বর্ণিত হয়নি। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যদি না আমি আমার উম্মতকে কষ্টে ফেলব মনে করতাম, তাহলে তাদের আমি (ফরজ হুকুম হিসেবে) এশার নামাজ দেরিতে পড়ার এবং প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। বুখারি, মুসলিম। আরও ইরশাদ হচ্ছে, মেসওয়াক হলো মুখ পরিষ্কারকারী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়। দারেমী, নাসায়ী। তাবেয়ী হজরত শুরাইহ্ ইবনে হানী বলেন, আমি একবার হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)কে জিজ্ঞেস করলাম, বলুন, রসুল (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন কোন কাজ প্রথমে করতেন? তিনি বললেন, মেসওয়াক। মুসলিম। হজরত হোযাইফা (রা.) ইরশাদ করেন, রসুল (সা.) যখন তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য উঠতেন, প্রথমে মেসওয়াক দ্বারা নিজের মুখ পরিষ্কার করতেন। বুখারি, মুসলিম।  হজরত আয়েশা বলেন, নবী কারীম (সা.) যখনই নিদ্রা যেতেন রাতে বা দিনে, অতঃপর জাগ্রত হতেন তখনই মেসওয়াক করতেন অজু করার আগেই। মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ। হজরত আবু আইয়ূব আনসারী (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, চারটি জিনিস নবীদের সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। (১) খারাপ কাজ থেকে লজ্জা করা। অপর বর্ণনায় এসেছে, খতনা করা। (২) সুগন্ধি ব্যবহার করা। (৩) মেসওয়াক করা। (৪) বিবাহ করা। তিরমিজি। মেসওয়াক করে নামাজ আদায় করলে ৭০ গুণ বেশি সওয়াব। এ প্রসঙ্গে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে নামাজের জন্য মেসওয়াক করা হয় তার ফজিলত ওই নামাজের তুলনায় ৭০ গুণ বেশি যার জন্য মেসওয়াক করা হয় না। বায়হাকি। প্রিয় পাঠক! বর্তমানে আমরা যে ব্রাশ করি, এর দ্বারাও মেসওয়াকের আংশিক  সওয়াব পাওয়া যাবে।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।

   
   

2
রবিউল আউয়াল অর্থ প্রথম বসন্ত। হিজরি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস। আরবি  মাসগুলোর মধ্যে রবিউল আউয়াল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ মাসের সঙ্গে মানব ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িত। যার অন্যতম হচ্ছে, এ মাসেই হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ পৃথিবীর বুকে আগমন করেন। আবার এ মাসেই তিনি নিজ প্রভুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণ করেন। সুতরাং জন্মের দিক তাকালে এ মাস বিশ্ববাসীকে পুলকিত করে, আর প্রস্থানের দিকে তাকালে এ মাস মুসলিম বিশ্বকে শোকাহত করে। এসব কিছু ছাপিয়ে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ একটা উদ্দেশ্য নিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি আল্লাহ, যিনি পাঠিয়েছেন তাঁর প্রেরিত রসুলকে হিদায়াত (পথনির্দেশ) ও সত্য দীন (জীবনবিধান)-সহকারে; যাতে প্রকাশ্য বিজয়ীরূপে স্থাপন করতে পারেন দীন ইসলামকে অন্য সব দীনের (বিধান ও মতবাদ) ওপর; আর সাক্ষী ও সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।’ সুরা আল ফাতহ, আয়াত ২৮।

এ ছাড়া রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুনিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য কোরআনে বিভিন্ন সুরা ও আয়াত নাজিল হয়েছে। একটি আয়াতে আল্লাহ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সত্যসহ, সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী হিসেবে।’ সুরা আল বাকারা, আয়াত ১২৯। অন্য আয়াতে আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন, ‘হে নবী! নিশ্চয় আমি আপনাকে সাক্ষী, শুভসংবাদ প্রদানকারী ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি।’ সুরা আল আহজাব, আয়াত ৪৫। এমনিভাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর জন্য প্রেরিত হননি। এমনকি তিনি কোনো বিশেষ দেশ বা অঞ্চলের জন্যও প্রেরিত হননি; বরং তিনি প্রেরিত হয়েছেন সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য। এ প্রসঙ্গে কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সমগ্র মানবতার জন্য সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী হিসেবে; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না।’ সুরা আস সাবা, আয়াত ২৮।
এক হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই নিজের আসার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে স্বয়ং রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি প্রেরিত হয়েছি মানবজাতির চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনের নিমিত্ত।’ তিরমিজি।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে আরও বলেন, ‘আমি আসলে শিক্ষকরূপেই প্রেরিত হয়েছি।’ মুসলিম। এমনিভাবে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ শুধু সাধারণ দু-একটি ছোটখাটো উদ্দেশ্য নিয়ে দুনিয়ায় পাঠাননি; বরং বিশ্বমানবতার পরিপূর্ণ কল্যাণের উদ্দেশ্যেই তাঁকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হে নবী! আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।’ সুরা আম্বিয়া, আয়াত ১০৭।

লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা ঢাকা।

3
জানেন তো, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা যাদের বেশি, তাদের এই মহামারি করোনার সংক্রমণও  খুব একটা কাবু করে ফেলতে পারে না৷ বলা হয়, গরমের তুলনায় শীতকালে করোনা ভয়াবহ রূপ নেয়। আর এজন্যই বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ-এর(সেকেন্ড ওয়েভ) সংক্রমণের।
 

এই যখন অবস্থা তখন আমাদেরও একটু বাড়তি প্রস্তুতি নিতে শুরু করা প্রয়োজন। আর এজন্য বাড়িয়ে নিতে হবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা। আমাদের ঘরেই এমন সব খাবার আছে যেগুলো খেলেই অনেকটা বেড়ে যাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা। 

আবারও জেনে নিই যেগুলো খেলেই ঠেকানো যাবে নানা সংক্রমণের আক্রমণ: 

 •    পর্যাপ্ত পানি পান করুন
•    অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ বেদানা, পেয়ারা, আঙুর ও জাম খান। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
•    দই ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের একটি গুরুত্বপুর্ণ উৎস। নিয়মিত খেলে শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ে। হজম শক্তির উন্নতি করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে 
•    মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ওষুধ বলা হয় কালিজিরাকে। স্থুলতা, ক্যান্সার ও হৃদরোগ সব কিছুর বিরুদ্ধেই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কালিজিরা। সাধারণ সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ, গলা ব্যথা, জ্বর, যেকোনো ধরনের শারীরিক দুর্বলতা কাটাতেও কালিজিরার জুড়ি নেই 
•    অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ মধুর উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। প্রতিদিন এক চা চামচ মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন 
•    গ্রিন টিও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ, দিনে দু’ কাপ গ্রিন টি পান করুন

•   শুকনো পুদিনাপাতা এক কাপ পানিতে দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে খানিকক্ষণ রাখুন৷ তার পর ছেঁকে পান করুন৷ কমবে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ও শ্বাস নেওয়ার সমস্যা৷
ওপরের ছোট ছোট কাজগুলো অভ্যাসে পরিণত করুন, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতায় ভয় না পেয়ে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।

বাংলাদেশ সময়:  Bd protidinঅক্টোবর ১৪, ২০২০

4
মোমিন হৃদয়ের একান্ত আশা, যদি সবকিছুর বিনিময়ে হলেও প্রিয়নবী (সা.)-কে জীবনে একনজর দেখতে পেতাম! যে নবীকে (ইমানের চোখে) একবার দেখবে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। (তিরমিজি) প্রিয় রসুল (সা.)-এর পবিত্র আকার-আকৃতি অনেক সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আলী (রা.) যখনই প্রিয়নবী (সা.)-এর দেহের বর্ণনা দিতেন, তখন বলতেন, তিনি অত্যধিক লম্বাও ছিলেন না এবং একেবারে বেঁটেও ছিলেন না; বরং ছিলেন লোকদের মধ্যে মধ্যমাকৃতির। তাঁর মাথার চুল একেবারে কোঁকড়ানো ছিল না এবং সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না; বরং মধ্যম ধরনের কোঁকড়ানো ছিল। তিনি অতি স্থূলদেহী ছিলেন না এবং তাঁর চেহারা একেবারে গোল ছিল না; বরং লম্বাটে গোল ছিল। গায়ের রং ছিল লাল-সাদা সংমিশ্রিত। চোখের বর্ণ ছিল কালো, পলক ছিল লম্বা ও চিকন। হাড়ের জোড়াগুলো ছিল মোটা। পুরো দেহ ছিল পশমহীন, অবশ্য পশমের চিকন একটি রেখা বুক থেকে নাভি পর্যন্ত লম্বা ছিল। দুই হাত ও দুই পায়ের তালু ছিল গোশতে পরিপূর্ণ। যখন তিনি হাঁটতেন তখন পা পূর্ণভাবে উঠিয়ে মাটিতে রাখতেন, যেন কোনো উঁচু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন। যখন তিনি কোনো দিকে তাকাতেন তখন ঘাড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে তাকাতেন। তাঁর উভয় কাঁধের মাঝখানে ছিল মোহরে নবুয়ত বা নবী হওয়ার মোজেজার অলৌকিক নিদর্শন। তিনি সর্বশেষ নবী। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অধিক দানশীল, সবচেয়ে বেশি সত্যভাষী। তিনি ছিলেন সবচেয়ে কোমল স্বভাবের এবং বংশের দিক থেকে সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদার অধিকারী। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত, সে ভয় পেত (গুরুগম্ভীরতার কারণে)। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পরিচিত হয়ে তাঁর সঙ্গে মিশত, সে তাঁকে অনেক ভালোবেসে ফেলত। নবী করিম (সা.)-এর গুণাবলি বর্ণনাকারী এ কথা বলতে বাধ্য হন যে, আমি তাঁর আগে ও পরে তাঁর মতো কাউকে কখনো দেখতে পাইনি। তিরমিজি।

হজরত হাসান বিন আলী বলেন, আমার মামা হিন্দ বিন আবু হালা (রা.)-কে রসুল (সা.)-এর অবয়ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি তাঁর পুরো দেহের বর্ণনা দেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, রসুল (সা.)-এর কপাল ছিল বেশ উন্নত। ভ্রু ছিল সরু ও ঘন পাপড়িবিশিষ্ট। দুই ভ্রু আলাদা ছিল। মাঝখানে একটি রগ ছিল। হুজুর (সা.) যখন রাগ হতেন, তখন তা ভেসে উঠত। নাক খাড়া ছিল। ভালোভাবে না দেখলে মনে হতো তিনি প্রকাণ্ড নাকবিশিষ্ট। নাক থেকে এক ধরনের নুর চমকাত। তিরমিজি। রসুলে করিম (সা.)-এর আকৃতি সম্পর্কে হজরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ‘একবার আমি চাঁদনি রাতে নবী (সা.)-কে দেখলাম। এরপর একবার রসুলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে তাকালাম আর একবার চাঁদের দিকে তাকালাম। তখন তিনি লাল বর্ণের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। তাঁকে আমার কাছে চাঁদের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর মনে হলো।’ তিরমিজি, দারেমি। হজরত কাব ইবনে মালেক (রা.) বলেন, রসুল (সা.) যখন কোনো ব্যাপারে আনন্দিত হতেন তখন তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠত। মনে হতো যেন তাঁর মুখমন্ডল চাঁদের টুকরা। বুখারি, মুসলিম। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রসুল (সা.)-এর সামনের দাঁত দুটির মাঝে কিছুটা ফাঁক ছিল। যখন তিনি কথাবার্তা বলতেন, তখন মনে হতো ওই দাঁত দুটির মধ্য দিয়ে যেন নুর বিচ্ছুরিত হচ্ছে।’ দারেমি।
লেখক : খতিব, মণিপুর বাইতুল আশরাফ জামে মসজিদ

5
বাংলাদেশের ক্যান্সার রোগীদের মাঝে প্রতিবছর ৮.৯% রোগী মুখগহ্বরের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং ৭.৯% রোগী এই রোগে মৃত্যুবরণ করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে এই রোগ দ্রুত নির্ণয় ও এর থেকে আরোগ্য লাভের অনেক সুযোগ সৃষ্টি হলেও ক্যান্সারের প্রতি মানুষের খানিকটা আতংক যেন সহজাত। তবে আমাদের মনে রাখা দরকার, মুখের ক্যান্সারের কোনও লক্ষণ দেখা দিলে গড়িমসি না করে দ্রুত চিকিৎসার পদক্ষেপ নিলে এর থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় অসম্ভব নয়।

চলুন জেনে নিই কী কী কারণে মুখে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়?

১) তামাক বা তামাকজাত যে কোনও পণ্য সেবন (যেমন- বিড়ি, সিগারেট, সাদা পাতা, গুল, হুঁকা, চুরুট, খইনি ইত্যাদি) এবং জর্দা, সুপারি, চুন দিয়ে পান খাওয়া।

২) অতিমাত্রায় অ্যালকোহল সেবন।

৩) ধারালো বা বাঁকা দাঁত; ত্রুটিযুক্ত ডেঞ্চার, ফিলিং, আর্টিফিসিয়াল ক্রাউন, ব্রিজ বা অ্যাপ্লায়েন্স দ্বারা মুখগহ্বরের কোনও অংশে ক্রমাগত আঘাত লাগা।

৪) সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির সরাসরি সংস্পর্শে থাকা (ঠোঁটের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়)।

৫) Human papilloma virus এর সংক্রমণ।

৬) বংশগত ইতিহাস থাকা।

৭) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা।

৮) খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস(ভিটামিন এ, সি, ই) এর ঘাটতি।

মুখের ক্যান্সারে কী কী লক্ষণ দেখা যেতে পারে?

১) মুখগহ্বরে দীর্ঘমেয়াদী অস্বাভাবিক ফোলা/রক্তক্ষরণকারী ক্ষত।

২) সাদা বা লাল বর্ণের দীর্ঘমেয়াদী ছোপ, যা সহজে সারছে না।

৩) অস্বাভাবিক রংয়ের কোনও ছোপ যা হঠাৎ আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৪) মুখগহ্বর, চোয়াল বা তার আশেপাশে ব্যথা অনুভব করা।

৫) মাড়ি ফোলা এবং তা থেকে রক্তপাত হওয়া।

৬) মুখগহ্বরের কোনও অংশে জ্বালাপোড়া, খোঁচানোর মত অনুভূতি হওয়া।

৭) মুখগহ্বর বা তার আশেপাশে কোনও অংশে বোধশক্তি হারানো।

৮) দৃশ্যমান কোনও কারণ ছাড়াই দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া।

৯) মুখগহ্বর, চেহারা, গলা বা ঘাড়ে চাকা বা দলার উপস্থিতি।

১০) চোয়াল বা জিহ্বা স্বাভাবিকভাবে নাড়াতে না পারা বা ব্যথা অনুভব করা।

১১) চেহারায় অপ্রতিসাম্য দেখা দেওয়া এবং তা বাড়তে থাকা।

১২) গলায় কিছু আটকে আছে বলে মনে হওয়া। কথা বলতে, খাবার চিবাতে ও গিলতে কষ্ট হওয়া।

১৩) কণ্ঠস্বর পরিবর্তন।

১৪) মুখে দুর্গন্ধ।

১৫) হঠাৎ ওজন হ্রাস।

মোটা দাগে এরকম কিছু লক্ষণ মুখের ক্যান্সারে থাকতে পারে। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে নিশ্চিত ক্যান্সার হয়ে গেছে তা কিন্তু নয়, অন্যান্য রোগেও এমন লক্ষণ আমরা পেয়ে থাকি।
তাই বলে লক্ষণগুলোকে অবহেলা করারও কোনও সুযোগ নেই। কারণ আমরা জানি, যে কোনও রোগ যত দ্রুত নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা যায়, তার তত ভাল পরিণতি আশা করা যায়। মুখ-দাঁতের বাৎসরিক চেকআপ না করানো, নিয়মিত সেলফ স্ক্রিনিং (মুখগহ্বরে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায় কিনা তা নিজেনিজে দেখা) না করা, মুখগহ্বরে সমস্যা দেখা দিলে রেজিস্টার্ড ডাক্তারকে না দেখিয়ে হরেক রকম চিকিৎসা(!) আর টোটকা ব্যবহার করে সময় নষ্ট করা- এসব কারণে ক্যান্সার আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে!

সুতরাং কোনও উপসর্গ দেখা দিলে ঘাবড়ানো চলবে না। দেরি না করে একজন ন্যুনতম BDS ডিগ্রিধারী রেজিস্টার্ড ডেন্টাল সার্জনকে দেখিয়ে ফেলতে হবে। উপসর্গটি যাচাই করে, সেটি কী কারণে হচ্ছে তা নির্ণয় করে, দ্রুত চিকিৎসার পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে তিনিই আমাদেরকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।


ডেন্টাল সার্জন।

6
Namaj/Salat / ফজরের নামাজের উপকারিতা
« on: September 23, 2020, 10:37:42 AM »
ইসলামের অন্যতম একটি বিধান হচ্ছে নামাজ। ইমান আনার পর প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। এ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ ফজরের নামাজ। কোরআনে আল্লাহ ফজর নামে একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন। সেখানে বলেছেন, শপথ ফজরের। সুরা ফজর, আয়াত ১।

হাদিসে ফজরের নামাজের প্রতি বিশেষ তাগিদ এসেছে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল সে আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ মুসলিম। অন্য হাদিসে ফজরের নামাজ আদায়কারীকে জান্নাতি মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুটি শীতল সময়ে নামাজ আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ বুখারি, মুসলিম।
কিয়ামতের কঠিন সময় ফজরের নামাজ নুর হয়ে দেখা দেবে। এমনকি আদায়কারীকে মহাবিপদের দিনে পথ দেখাবে। হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যারা আঁধারে (ফজরে) মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদের কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নুর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও।’ আবু দাউদ।
ফজরের নামাজ আদায়কারীকে অর্ধেক রাত ইবাদতের সওয়াব দান করা হবে। হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত (নফল) নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে নামাজ আদায় করল।’ মুসলিম।

ফজরের নামাজ আদায়কারীর নাম মুনাফিকের তালিকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুনাফিকদের জন্য ফজর ও এশার নামাজের চেয়ে অধিক ভারী আর কোনো নামাজ নেই। কিন্তু তারা যদি এ দুই নামাজের ফজিলত জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও নামাজে উপস্থিত হতো।’ বুখারি। দুনিয়ার বুকে যত বস্তু আছে সবকিছু থেকে ফজরের নামাজ উত্তম। হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’ মুসলিম। ফেরেশতারা ফজরের নামাজ আদায়কারীর নাম আল্লাহর কাছে উল্লেখ করে। তাদের নামাজ আদায়ের সাক্ষ্য দেয়। হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফেরেশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তারা ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবু ফেরেশতাদের প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদের কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদের নামাজরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম, তখনো তারা নামাজরত ছিল।’ বুখারি।

ফজরের নামাজ দিয়ে দিনটা শুরু করলে পুরো দিনের কার্যক্রম বরকতম হয়। সবকিছুতে আল্লাহ-প্রদত্ত কল্যাণ লাভ হয়। হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য, তার সকালবেলায় বরকত দান করুন।’ তিরমিজি।

লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা, ঢাকা।

7
সুরা কাহফ পবিত্র কোরআনের একটি ফজিলতপূর্ণ আলোচিত সুরা। বিশেষ তাৎপর্যের কারণে জুমার দিন এই সুরা পড়তে হয়। এই সুরায় সূক্ষ্ম চারটি ফিতনার কথাও বর্ণিত হয়ছে।

ফিতনা চারটি হলো—এক. দ্বিনের ফিতনা অর্থাৎ কাহফ বা গুহাবাসীর ঘটনা। দুই. সম্পদের ফিতনা। এটি হলো, দুই উদ্যানের মালিকের ঘটনা। তিন. ইলম বা জ্ঞানকেন্দ্রিক ফিতনা, অর্থাৎ খিজিরের সঙ্গে মুসা (আ.)-এর ঘটনা। চার. রাজত্বের ফিতনা। এর দ্বারা জুলকারনাইনের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই চার ফিতনাই দাজ্জালের মধ্যে পাওয়া যাবে। যে ব্যক্তি পবিত্র জুমার দিন সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, মহান আল্লাহ তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করবেন।
সুরা কাহফ তিলাওয়াতে হাদিস শরিফে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ফজিলত বর্ণিত আছে—এক. রহমত ও প্রশান্তি বর্ষণ। জনৈক সাহাবি নিজ ঘরে বসে পবিত্র কোরআনে কারিম তিলাওয়াত করছিলেন, এদিকে ঘরের মধ্যে তাঁর একটি পোষা প্রাণী লাফালাফি করছিল। তখন তিনি আল্লাহর দিকে মনোযোগী হয়ে প্রাণীটির থেকে স্বস্তি পাওয়ার দোয়া করলেন। হঠাৎ আকাশ থেকে বৃষ্টি শুরু হলো। লোকটি ঘটনাটি আল্লাহর রাসুলের কাছে বর্ণনা করলেন। রাসুল (সা.) তাঁকে বললেন, কোরআন পাঠ রহমত বর্ষণের কারণ। অর্থাৎ হঠাৎ মেঘ থেকে বৃষ্টি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত  ও প্রশান্তি। এ সময় আসমান থেকে ফেরেশতারা নেমে আসেন। এটি দেখেই প্রাণীটি ছোটাছুটি করছিল। ইমাম মুসলিম (রহ.) এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তাঁর সহিহ মুসলিম শরিফে স্বতন্ত্র বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

দুই. কিয়ামতের দিন নূর (জ্যোতি) প্রাপ্ত হওয়া। মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর হবে।

তিন. দাজ্জাল থেকে মুক্তি। দাজ্জালের ফিতনা সবচেয়ে বড়। প্রত্যেক নবীই নিজ নিজ উম্মতকে দাজ্জাল থেকে সতর্ক করেছেন।

এই ফজিলত অর্জন করতে সম্পূর্ণ সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা জরুরি কি না, এ বিষয়ে একাধিক বর্ণনা এসেছে। এ বিষয়ে মূলকথা হলো, সম্ভব হলে জুমার দিন পুরো সুরা কাহফ তিলাওয়াত করবে; অন্যথায় সুরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত তিলাওয়াত করবে।

বিডি-প্রতিদিন/

8
ইসলাম মানবতার ধর্ম। ইসলামে প্রতিহিংসার কোনো স্থান নেই। কারও ভালো কিছু দেখে অসহ্যবোধ করা বা তার অকল্যাণ কামনা করা কিংবা ওই ব্যক্তির ভালো বিষয়টির ধ্বংস চাওয়াকে হিংসা-দ্বেষ ও ঈর্ষা বলে। একজন মুমিন কখনই আরেক ভাইয়ের ভালো ও কল্যাণের বিষয় দেখে অসহ্যবোধ কিংবা হিংসাতুর হতে পারে না। এতে যে নিজের ক্ষতিই সাধিত হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা নেকিকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেভাবে আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে অর্থাৎ জ্বালিয়ে দেয়।’ আবু দাউদ।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরকে হিংসা কোরো না। একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব রেখো না। একজন আরেকজন থেকে আলাদা হইও না। বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও।’ মুসলিম।
হিংসা কত বড় গুনাহ তা বোঝাতে গিয়ে ইমাম গাজ্জালি (রহ.) লেখেন, ‘পৃথিবীতে সর্বপ্রথম পাপ হলো হিংসা। বাবা আদম (আ.)-এর মর্যাদা দেখে তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত হয় ইবলিশ। ঈর্ষা ও হিংসা থেকেই ইবলিশের মনে জন্ম নেয় অহংকার। আর অহংকারের কারণেই সে আদম (আ.)-কে সিজদা করতে অস্বীকার করে। ফলে সে চিরদিনের জন্য অভিশপ্ত ও মরদুদ হয়ে যায়।’ এরপর ইমাম গাজ্জালি আরেকটি ঘটনা বর্ণনা করেন, ‘একবার মুসা (আ.) দেখলেন এক ব্যক্তি আল্লাহর আরশের ছায়ায় বসে আছেন। তিনি ভাবলেন, এ ব্যক্তি নিশ্চয় খুব বুজুর্গ হবে। তাই তাঁর এত মর্যাদা। মহান আল্লাহকে তিনি বললেন, হে আল্লাহ! এ ব্যক্তির নাম-ঠিকানা কী? আল্লাহ তাঁর পরিচয় না বলে বললেন, মুসা! এ লোক কোন আমলের দ্বারা এত মর্যাদা পেয়েছে জানো? সে কখনো কারও প্রতি ঈর্ষা ও বিদ্বেষভাব পোষণ করেনি। তাই আমার কাছে সে এত বড় মর্যাদা পেয়েছে।’ কিমিয়ায়ে সাদাত।

অন্যের ভালো দেখে অন্তর্জ্বালায় ভোগা মুনাফিকের চরিত্র। আর এমন পরিবেশে মুমিনের কর্তব্য হলো ধৈর্য অবলম্বন করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ভালো কিছু হলে তারা কষ্ট পায় আর তোমাদের কোনো বিপদ দেখলে তারা আনন্দিত হয়। (এমন পরিস্থিতিতে) তোমরা অবশ্যই ধৈর্য ও তাকওয়ার সঙ্গে কাজ করবে। তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১২০। পাশাপাশি আরেকটি কাজ করতে হবে; যা প্রিয় নবী (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী আপনি বলুন!) আমি হিংসুকের হিংসা থেকে আশ্রয় চাই যখন সে হিংসা করে।’ সুরা ফালাক, আয়াত ৫।

সব সময় আল্লাহর কাছে এভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। কারও ভালো কিছু দেখে তা নিজের জন্য কামনা করা ক্ষতির নয় যদি এতে অন্যের জন্য অমঙ্গল কামনা করা না হয়। বরং ইবাদত ও আমলের ক্ষেত্রে এমন মনোভাব খুবই প্রশংসনীয়। রসুল (সা.)-এর হাদিসে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুই ব্যক্তি ছাড়া আর কারও জন্য হিংসা জায়েজ নেই। প্রথম সে ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধনসম্পদ দান করেছেন এবং আল্লাহর পথে দান করার জন্য তাকে নিয়োজিত করেছেন।’ মিশকাত।

মহান আল্লাহ আমাদের প্রতিহিংসা থেকে হেফাজত রাখুন। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের এ মহামারী দূর করে দিন।

লেখক : খতিব, মণিপুর বাইতুল আশরাফ জামে মসজিদ

9
অস্থায়ী এ পৃথিবীতে কেউ স্থায়ী নয়। আজ জীবিত থাকলে কাল থাকবে কিনা নিশ্চয়তা নেই। শরীর থেকে আত্মা বেরিয়ে গেলেই মানুষ মৃত বলে বিবেচিত হয়। মৃত্যু সম্পর্কে আল্লাহ কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর কিয়ামতের দিন তোমাদের পরিপূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। তারপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে-ই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ধোঁকার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়।’ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫।

মৃত্যু থেকে কেউ রেহাই পাবে না। সবাইকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এ সম্পর্কে কোরআনে আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দ্বারা পরীক্ষা করি এবং তোমরা আমার কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।’ সুরা আম্বিয়া, আয়াত ৩৫। পৃথিবী ছেড়ে কেউ চলে গেলে তার জন্য জীবিতরা কিছু করবে কিনা এ সম্পর্কে ইসলামী শরিয়ত কিছু নির্দেশনা দিয়েছে; যা মেনে চলা মৃত ব্যক্তির কল্যাণকামীদের জন্য জরুরি। তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো- এক. সর্বত্র মৃত ব্যক্তির ভালো কাজের আলোচনা ছড়িয়ে দেওয়া। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মৃতদের ভালো কাজগুলোর আলোচনা কর এবং মন্দ কাজের আলোচনা থেকে বিরত থাকো।’ আবু দাউদ।
দুই. মৃত ব্যক্তির জন্য বেশি বেশি দোয়া করা। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করা। তার ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। এ সম্পর্কে কোরআনে হজরত নুহ (আ.)-এর দোয়া বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার পিতা-মাতাকেও এবং যে ইমান অবস্থায় আমার ঘরে প্রবেশ করেছে আর সমস্ত মোমিন পুরুষ ও মোমিন নারীকেও।’ সুরা নুহ, আয়াত ২৮।
তিন. মৃত ব্যক্তির সওয়াবের উদ্দেশ্যে দান-সদকা করা। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘সাদ ইবনে উবাদা (রা.)-এর অনুপস্থিতিতে তাঁর মা ইন্তেকাল করেন। তিনি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, আমার অনুপস্থিতিতে আমার মা মারা গেছেন। আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করি তবে কি তাঁর কোনো উপকারে আসবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। সাদ (রা.) বললেন, আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমার ‘মিখরাফ’ নামক বাগানটি আমার মায়ের জন্য সদকা করে দিলাম।’ বুখারি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করে, আমার পিতা ইন্তেকাল করেছেন এবং ধন-সম্পদ রেখে গেছেন কিন্তু অসিয়ত করে যাননি। এখন আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে সদকা করি, তবে কি তাঁর (গুনাহের) কাফফারা হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।’ মুসলিম।

লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা, ঢাকা

10
হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। সঠিক খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে এর থেকে দূরে থাকা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য এমন সব খাবারের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে থাকবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম।

কারণ খাদ্যের এসব উপাদান উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুধজাত খাদ্য যেমন দই ইত্যাদিতে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম।তাজা ফল যেমন আপেল, কলা আর শাকসবজি হচ্ছে পটাশিয়ামের ভালো উৎস। টমেটোতেও আছে বেশ পটাশিয়াম।

বেশি ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায় দানা শস্য বা গোটা শস্য, বিচি জাতীয় খাবার, বাদাম, শিমের বিচি, ডাল, ছোলা, লাল চালের ভাত, লাল আটা, আলু, সবুজ শাকসবজি, টমেটো, তরমুজ, দুধ ও দই ইত্যাদিতে।

১. কম চর্বিযুক্ত দুধ বা চর্বিবিহীন দুধ বা দুধজাত খাবার প্রতিদিন খেতে হবে ২ থেকে ৩ সার্ভিং। এক সার্ভিং দুধ বা দুধজাত খাবার মানে আধা পাউন্ড বা এক গ্লাস দুধ অথবা এক কাপ দই।

৩. ফল ৪ থেকে ৫ সার্ভিং প্রতিদিন। টুকরো টুকরো করে কাটা আধা কাপ ফল কিংবা মাঝারি সাইজের একটা আপেল বা অর্ধেকটা কলা অথবা আধা কাপ ফলের রস এতে হবে ফলের এক সার্ভিং। ফলের রসের চেয়ে আস্ত ফলই ভালো।

৪. শাকসবজি প্রতিদিন প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। শাকসবজির এক সার্ভিং মানে এক কাপ কাঁচা শাক বা আধা কাপ রান্না করা শাক।

৫. দানা শস্য প্রতিদিন দরকার ৭ থেকে ৮ সার্ভিং। দানা শস্যের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক স্লাইস রুটি অথবা আধাকাপ ভাত বা এক কাপ পরিমাণ গোটা দানা শস্য।

৬. বিচি জাতীয় খাবার প্রতি সপ্তাহে প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ সার্ভিং। বিচি জাতীয় খাবারের এক সার্ভিংয়ের উদাহরণ হলো এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ বাদাম বা আধাকাপ রান্না করা শিম বা মটরশুঁটি।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। মানবদেহে রক্তচাপের একটি স্বাভাবিক মাত্রা আছে। তার ওপর ভিত্তি করেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার ও নিম্ন রক্তচাপ বা লো ব্লাড প্রেসার পরিমাপ করা হয়।

উচ্চ রক্তচাপের মতোই নিম্ন রক্তচাপও কিন্তু শরীরের জন্য ক্ষতিকর। লো ব্লাড প্রেসারের আরেক নাম হাইপোটেনশন।চিকিৎসকের মতে, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০। অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ বা এর আশপাশে থাকে তাহলে লো ব্লাড প্রেসার হিসেবে ধরা হয়।

প্রেসার যদি অতিরিক্ত নেমে যায় তাহলে মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদপিণ্ডে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না তখন এ রোগ দেখা দেয়। আবার অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

লক্ষণ:

সাধারণত প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরানো, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা ও স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া বা অত্যধিক বমি হওয়া, দেহের ভেতরে কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে যেমন: রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে,

শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা দুর্ঘটনার ফলে রক্তপাত ঘটলে এবং অপুষ্টিজনিত কারণেও লো ব্লাড প্রেসার দেখা দিতে পারে।আবার গর্ভবতী মায়েদের গর্ভের প্রথম ৬ মাস হরমোনের প্রভাবে লো প্রেসার হতে পারে।

এ সময় মাথা ঘোরানো বা মাথা হালকা অনুভূত হওয়া, মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা, চোখে অন্ধকার দেখা, ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, খুব বেশি তৃষ্ণা অনুভূত হওয়া, অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদকম্পন, নাড়ি বা পালসের গড়ি বেড়ে যায়।

প্রাথমিক চিকিৎসা:

লো ব্লাড প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপ নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। তবে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ এটা উচ্চ রক্তচাপের চেয়ে কম ক্ষতিকর ও স্বল্পমেয়াদী সমস্যা। আর প্রেসার লো হলে বাড়িতেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

এক্ষেত্রে হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে যা করবেন-লবণ-পানি লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। কারণ এতে সোডিয়াম আছে। তবে পানিতে বেশি লবণ না দেওয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করাই ভালো।

কফি-হট চকলেট
হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেতে পারেন। স্ট্রং কফি, হট চকোলেট, কমল পানীয়সহ যে কোনো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। আর যারা অনেক দিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকালে ভারী নাশতার পর এক কাপ কফি খেতে পারেন।

বিটের রস
বিটের রস হাই ও লো প্রেসার দুটোর জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

বাদাম
লো-প্রেসার হলে পাঁচটি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন। এটা পেসার বাড়াতে সহায়তা করে।

পুদিনা
ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে পুদিনা পাতা। এর পাতা বেটে নিয়ে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

যষ্টিমধু
আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে রেখে দিন। ২-৩ ঘণ্টা পর পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

স্যালাইন

শরীরে পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ হলে শুধু খাবার স্যালাইন মুখে খেলেই প্রেসার বেড়ে যায়। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইন সবচেয়ে উপযোগী এবং তাৎক্ষণিক ফলদায়ক।তবে যেসব ওষুধে রক্তচাপ কমে বা লো প্রেসার হতে পারে, সেসব ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন। যাদের দীর্ঘমেয়াদি নিম্ন রক্তচাপে ভুগছেন তারা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকরা নিম্ন রক্তচাপের কারণ শনাক্ত করে তারপর ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। লো ব্লাড প্রাসারে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট এবং গ্লুকোজ খেলেও কিন্তু ভালো উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সময় মতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত
 
Source:  https://m.offtalkbangla.com/1109/?fbclid=

11
প্রশ্ন : কোনো কারণে ফজরের নামাজ কাজা হয়ে গেলে। ঘুম থেকে উঠার পর কাজা আদায় করার সময় সুন্নতসহ পড়তে হবে কি না?

উত্তর : ফজরের সুন্নত সীমাহীন গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটিরও কাজা করতে হয়। জাগ্রহ হওয়ার পর যখনই ফজর পড়বে তখন সুন্নতসহই পড়বে। ঘুমের কারণে ফজর ছুটে গেলে যখনই সজাগ হবে, তখনই পড়ে নিতে হয়।
উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী
সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতওয়া বিশ্বকোষ।

12
মাসআলাঃ সম্পদের ৪০ ভাগের একভাগ যাকাত আদায় করা ফরজ। অর্থাৎ শতকরা আড়াই টাকা। কাজেই কারো ৮০,০০০( আশি হাজার) টাকা যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকলে সে ২,০০০ ( দুই হাজার ) টাকা যাকাত দিবে।

মাসআলাঃ যাকাতের অর্থবছর চান্দ্র মাস হিসেবে নির্ধারণ হবে। ধরা যাক কেউ রজব মাসের ৫ তারিখে নেসাবের মালিক হল। তাহলে আগামী বছর রজবের ৪ তারিখে তার বছর পূর্ণ হবে। ঐ দিন তার নিকট যে সম্পদ থাকবে তার যাকাত আদায় করবে।

মাসআলাঃ যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হল বছরের শুরু ও শেষে নেসাব পরিমান সম্পদ থাকতে হবে। উপরে উল্লেখিত তারিখ অনুযায়ী রজবের ৫ তারিখে তো তার নিকট নেসাব পরিমান সম্পদ থাকবেই। যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য পরের বছর রজবের চার তারিখে তার নিকট কমপক্ষে নেসাব পরিমান সম্পদ থাকতে হবে। যদি না থাকে তবে তার উপরে যাকাত ফরজ হবে না। নতুন ভাবে যেদিন নেসাবের মালিক হবে সেদিন থেকে নতুন করে বছর শুরু হবে।

মাসআলাঃ যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য বছরের শুরু ও শেষে নেসাব পরিমান মাল থাকা যথেষ্ট। মাঝখানে যদি মাল কমে যায় এমনকি নেসাব থেকে কমে গেলেও যাকাত ফরজ থাকবে। তবে যদি মাঝখানে পুরো সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়, তার কাছে কোন সম্পদ না থাকে তাহলে পূর্বের হিসাব বাতিল হবে। আবার যখন নেসাবের মালিক হবে নতুন করে হিসাব ধরা হবে।

মাসআলাঃ প্রতিটি মালের উপর বছর পুরা হওয়া জরুরী নয়। বরং যেদিন সে নেসাবের মালিক হবে ঐ দিন থেকে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পরই তার নিকট থাকা সকল সম্পদের যাকাত দিতে হবে। যদি বছর পূর্ণ হওয়ার মাত্র দুদিন আগে তার নিকট দশ লক্ষ টাকা আসে তবে ঐ দশ লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে। অথচ ঐ টাকা তার নিকট এক বছর থাকেনি। বরং মাত্র দুই দিন ছিল। অনুরুপভাবে নেসাবের বছর পূর্ণ হওয়ার দু দিন আগে যদি তার থেকে দশ লক্ষ টাকা খোয়া যায় তবে ঐ দশ লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে না। মোটকথা বছরের মাঝে যা আসে ও চলে যায় তা ধর্তব্য হবে না। বরং বছরের শেষের সম্পদ হিসাব করা হবে।

মাসআলাঃ যাকাত হিসাব করে আদায় করা জরুরী। যে দিন বছর পূর্ণ হবে সেদিন তার যাকাতযোগ্য সকল সম্পদ হিসাব করবে। ব্যবসা থাকলে তার সকল স্টক মিলাবে। অতঃপর শতকরা আড়াই পার্সেন্ট হারে যাকাত আদায় করবে। ধারনা বা আন্দাজ করে যাকাত দিবে না।

মাসআলাঃ সোনা-রুপার যাকাত হিসাব করার ক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্য ধর্তব্য হবে। চাই ক্রয়মূল্য কম বা বেশী হোক। যেমন সোনার ভরি ৬০,০০০ টাকা হলে বিক্রি করতে গেলে স্বর্ণকার সাধারণত ৪৫ থেকে ৪৮ হাজার টাকা দেয়। কাজেই এই ৪৫ বা ৪৮ হাজার টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। ক্রয়মূল্যের নয়।

মাসআলাঃ ব্যবসার পন্যের যাকাত বাজারদর হিসেবে আদায় করতে হবে। চাই তার ক্রয়মূল্য বেশি বা কম হোক। ব্যবসার পন্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনটি সুরত হতে পারে। এক. খুচরা মুল্য দুই. পাইকারি মূল্য বা হোল সেল প্রাইস তিন. সমস্ত স্টক একত্রে একবারে বিক্রি করলে যত টাকা হয়। ব্যবসায়ীরা এই তৃতীয় সুরতটি এখতিয়ার করতে পারে। তবে দ্বিতীয় সুরত তথা হোল সেল প্রাইস গ্রহন করার মধ্যই সতর্কতা।

মাসআলাঃ সোনা-রুপা ও ব্যবসার পন্য এর যাকাত হিসাবের ক্ষেত্রে যেদিন বছর পূর্ণ হবে এবং যাকাত হিসাব করা হবে সেদিনের বাজার দর হিসাব করতে হবে। ঐ দিন উক্ত জিনিসগুলো বিক্রি করতে গেলে যত টাকা পাওয়া যাবে তার উপর যাকাত আসবে।

মাসআলাঃ যে জিনিসের যাকাত আদায় করা হবে তা যে স্থানে রয়েছে সেখানকার বাজারদর হিসেবে যাকাত আদায় করতে হবে। যাকাতদাতার স্থান ধর্তব্য নয়।

মাসআলাঃ যাকাত যেমন টাকা-পয়সা দ্বারা আদায় করা যায় তেমনিভাবে কোন পন্য দ্বারাও আদায় করা যায়। যেমন- পরিধেয় বস্ত্র, খাবার, কিতাবাদি ইত্যাদি। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হল তা প্রাপককে মালিক বানিয়ে দিতে হবে। কাজেই ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়ীক পন্য মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি যাকাত বাবদ দিতে পারবে। তবে যদি পন্যটি এমন হয় যে, গ্রহনকারীর তা দ্বারা কোন ফায়েদা হবে না সেক্ষেত্রে মূল্য দিয়ে দিবে।

মাসআলাঃমানুষ তার দৈনন্দিন প্রয়োজনে যে ঋণ নিয়ে থাকে তা যাকাতের হিসাব থেকে বিয়োগ করতে হয়। বিয়োগ করার পর যদি নেসাব পরিমান সম্পদ না থাকে তবে যাকাত ফরজ হবে না।তবে প্রবৃদ্ধির জন্য যে ঋণ নিয়ে থাকে তা যাকাতের হিসাব থেকে বিয়োগ হবে না।আর বর্তমানে যে বড় বড় শিল্প ঋণ বা উন্নয়নমূলক ঋণ নেওয়া হয়ে থাকে তার হুকুম পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

মাসআলাঃযাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে চান্দ্রমাস অনুযায়ী হিসাব করতে হবে। প্রথম যে দিন সে নেসাবের মালিক হবে তা লিখে রাখবে। যেমন কেউ রজবের ৫ তারিখে নেসাবের মালিক হলে পরের বছর রজবের ৪ তারিখে যাকাত আদায় করবে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই সে কোনদিন নেসাবের মালিক হয়েছে তার হিসাব রাখে না। বরং খেয়াল খুশী মত আদায় করতে থাকে। এভাবে যাকাত আদায় করা জায়েয নয়। বরং যে নেসাবের মালিক কবে হয়েছিল তা জানে না, সে এখন থেকে তার হিসাব করা সহজ হয় এমন একটি আরবী তারিখ নির্ধারণ করে নিবে। এরপর থেকে সে ঐ তারিখেই যাকাত হিসাব করবে। ইচ্ছা করলে রমযানেও সে তারিখটি নির্ধারণ করতে পারে। এমতবস্থায় সে এস্তেগফার করবে এবং সতর্কতামূলক কিছু বেশি আদায় করবে। আর নেসাবের মালিক হওয়ার দিনটি স্পষ্ট জানা থাকলে ঐ তারিখ পরিবর্তন করা জায়েয নেই।

মাসআলাঃ অনেকে ৭০ গুন সওয়াবের আশায় তার তারিখ জানা সত্ত্বেও রমযানে যাকাত আদায় করে। এবং বিনা কারনে যাকাতকে রমযান পর্যন্ত বিলম্বিত করে। অথচ বিনা কারনে এমনটি করা গুনাহের কাজ। তবে সে এমনটি করতে পারে, যেহেতু যাকাত অগ্রিম আদায় করা যায় তাই যখন সে নেসাবের মালিক হবে তখন বছর পূর্ণ হবার পূর্বে যে রমযান আসবে সেই রমযানে একটি অংশ আদায় করবে যাকাতের নিয়তে। পরবর্তীতে বছর পূর্ণ হওয়ার পর হিসাব করে দেখবে যদি বেশি দেয়া হয় তবে তা নফল দান হবে। আর কম হলে বাকিটুকু আদায় করবে। আর যদি রমযানে বছর পূর্ণ হয় তাহলে তো রমযানেই আদায় করবে।

মাসআলাঃ ব্যবসায়ীদের আদায়যোগ্য বকেয়া টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। অর্থাৎ বাকিতে যে সকল পন্য বিক্রি করে থাকে তার মূল্যের উপরও যাকাত আসবে। এক্ষেত্রে ঐ টাকা হস্তগত হওয়ার পর যাকাত আদায় এর সুযোগ রয়েছে। তখন বিগত বছরগুলোর যাকাত হিসাব করে আদায় করেবে। তবে হিসাব করে প্রতি বছর নিয়মমত যাকাত আদায় করাই উত্তম। কেননা পরিমান বেশি হলে একসাথে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আর যদি ঐ টাকা পাবার কোন আশা না থাকে তবে যাকাত দিতে হবে না। তবে পেয়ে গেলে বিগত বছরগুলো সহ আদায় করে দিতে হবে।

মাসআলাঃ যে ঋন ফেরত পাওয়ার আশা নেই তার উপর যাকাত ফরজ নয়। তবে পেয়ে গেলে বিগত বছরের যাকাত হিসাব করে আদায় করে দিতে হবে।

মাসআলাঃ স্ত্রীকে মালিক বানিয়ে সে অলংকার বা সম্পদ স্বামী বা পিতা দিয়ে থাকে তার মালিক উক্ত স্ত্রী বা মেয়ে। কাজেই সেই তার যাকাত আদায় করবে। স্বামী বা পিতা তার অনুমতিক্রমে সইচ্ছায় আদায় করলে সেটা ভিন্ন কথা।

মাসআলাঃ মহিলাকে তার স্বামী বা পিতা ব্যবহারের জন্য অলংকার দিলে তার মালিক স্বামী বা পিতাই থাকবেন। কাজেই যাকাত তাদের জিম্মায় থাকবে।

মাসআলাঃ নাবালেগ সন্তানের নামে যে সম্পদ সংরক্ষণ করে রাখা হয় বা নাবালেগ মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য তার নামে যে অলংকারদী বানিয়ে রাখা হয় বা তাদের নামে ব্যাংক একাউন্টে যে টাকা রাখা হয় বা তাদের নামে ব্যবসায় যে টাকা খাটানো হয় তার মালিক নাবালেগ সন্তানেরা। এগুলোর যাকাত পিতামাতার উপর আসবে না।

মাসআলাঃ আর বালেগ সন্তানের নামে যে অলংকার বানানো হয় বা টাকা ব্যবসায় লাগানো হয় বা তাদের নামে যে সম্পদ সংরক্ষণ করে রাখা হয় তার মালিক পিতা/মাতা। তাদেরকে এগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার পূর্বে তারা মালিক হবে না।

মাসআলাঃ যাকাত আদায়ের জন্য নিয়ত জরুরি। নিয়ত ব্যতীত যাকাত আদায় হবে না। এই নিয়ত যাকাত দেওয়ার সময় করা যায়। আবার যাকাতের নিয়তে সম্পদ আলাদা করে রাখলেও নিয়তের জন্য যথেষ্ট। যদিও দেওয়ার সময় নিয়ত না থাকে।

মাসআলাঃ কেউ ফকীরকে মাল দেওয়ার সময় যাকাতের নিয়ত করেনি। এখন যদি ঐ মাল ফকিরের হাতে থাকা অবস্থায় নিয়ত করে তবে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। আর যদি ফকীর খরচ করে ফেলে তবে যাকাত আদায় হবে না।

মাসআলাঃ যাকাত যেমনিভাবে নিজে দেওয়া যায় তেমনিভাবে কাউকে উকীল বানিয়ে তার দ্বারা দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে মুআক্কিলের(যাকাত দাতার)নিয়তই যথেষ্ট। উকিলের নিয়ত না থাকলেও সমস্যা নেই।

মাসআলাঃ উকীল যদি মুআক্কিলের (যাকাত দাতার) যাকাত বাবদ প্রদেয় টাকা না দিয়ে নিজের টাকা দেয় তবে যাকাত আদায়ের জন্য শর্ত হল উক্ত যাকাতের টাকা উকিলের নিকট মউজুদ থাকতে হবে। উকীল যদি উক্ত টাকা খরচ করে ফেলে বা নিজের টাকার সাথে মিশিয়ে ফেলে অতঃপর নিজের টাকা থেকে যাকাত আদায় করে তবে যাকাত আদায় হবে না। অনুরূপভাবে নিজের টাকা থেকে দেবার সময় উকীল নিয়ত না করলে যাকাত আদায় হবে না।

মাসআলাঃকেউ কাউকে না জানিয়ে তার যাকাত আদায় করলে যাকাত আদায় হবে না। অনুমতিসাপেক্ষে আদায় করলে আদায় হয়ে যাবে।

মাসআলাঃ একজন ফকীরকে কমপক্ষে এতটুকু যাকাত দেওয়া উত্তম যাতে সে অন্তত ঐ দিন কারো নিকট মুখাপেক্ষী না হয়। অবশ্য এর কম দিলেও আদায় হয়ে যাবে।

মাসআলাঃ কাউকে এই পরিমান যাকাত দেওয়া মাকরূহ যার দ্বারা সে নেসাবের মালিক হয়ে যায় এবং যাকাত ওয়াজিব হয়ে যায়। তবে দিলে আদায় হয়ে যায়।

মাসআলাঃ এক শহরের যাকাত অন্য শহরে পাঠান মাকরূহ তবে যদি অন্য শহরে তার গরীব আত্মীয় থাকে বা অন্য শহরের লোক বেশি অভাবগ্রস্ত হয় বা দ্বীনী কোন উপকারীতা থাকে তবে পাঠান জায়েয।

মাসআলাঃ যাকাতের অর্থ দেবার সময় যাকাতের কথা বলে দেওয়া জরুরী নয়। বরং না বলাই উত্তম। কারন এর দ্বারা অনেকে কষ্ট পেতে পারে। যাকাতের নিয়তে হাদিয়া, পুরষ্কার বা ব্খশিশ এর নামে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে যদি এমন কোন গরীব মানুষকে যাকাতের নামে ঋন দেয় যে, সে উক্ত ঋন পরিশোধ করতে পারবে না তবে এর দ্বারাও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তার এ নিয়তও থাকতে হবে যে, সে কখনও ঋন পরিশোধ করলে তা গ্রহন করবে না।

মাসআলাঃ যাকাত অগ্রিম প্রদান করা যায়। অর্থাৎ নেসাবের উপর বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে আদায় করা যায় তবে শর্ত হল নেসাবের মালিক হতে হবে। কেউ যদি নেসাবের মালিক হবার পূর্বেই যাকাতের নিয়েতে কিছু দেয় তবে পরবর্তীতে নেসাবের মালিক হলে এবং যাকাত ফরজ হলে উক্ত দান নফল হিসেবে গন্য হবে। যাকাত আদায় হবে না।

মাসআলাঃ কারো যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর সমস্ত সম্পদ ছদকাহ করে দিলে তার যাকাত মাফ হয়ে যাবে।

মাসআলাঃ কারো যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর যদি সমস্ত মাল বা কিছু অংশ খোয়া যায় বা নষ্ট হয়ে হয় তবে তার পুরো বা আংশিক অংশের যাকাত মাফ হয়ে যাবে। তবে যদি সে ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করে তবে তার মাফ হবে না। যাকাত আদায় করতে হবে।

মাসআলাঃ যাকাতের উপযুক্ত মনে করে কাউকে যাকাত দেওয়ার পর জানা গেল সে মালদার বা সাইয়্যেদ বংশ অথবা রাতের অন্ধকারে যাকাত দেওয়ার পর জানতে পারল সে তার উসুল বা ফুরুর অন্তর্ভুক্ত অথবা যাকাতের উপযুক্ত নয় তবে তার যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে মুসলমান মনে করে কোন কাফেরকে যাকাত দিলে আদায় হবে না। পুনরায় উপযুক্ত ব্যক্তিকে দিতে হবে।

মাসআলাঃ কেউ কারো নিকট টাকা পাবে। এখন যাকাতের নিয়তে উক্ত ঋন মাফ করে দিলে যাকাত আদায় হবে না বরং তাকে যাকাত দিয়ে তার থেকে পাওনা উসূল করে নিবে।

মাসআলাঃ দ্বীনী ইলম চর্চারত আলেম-তালেবে এলম যাকাতের উপযুক্ত হলে তাদেরকে দেওয়া সবচেয়ে উত্তম। এক্ষেত্রে দিগুন ছওয়াব পাওয়া যাবে। অতঃপর নিকট আত্মীয়কে দেওয়া উত্তম।

Source:  http://old.imam.gov.bd/node/6936

13
মানুষ হতাশায় থাকলে তার মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট একটি অংশ সংকুচিত হয়ে যায়। কিন্তু এসময় তার উদ্বেগ বৃদ্ধি পেলে মস্তিষ্কের আকার ‘অনেকখানি’ বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। দ্য জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমন দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্রেইন ভলিউমের ওপর হতাশা এবং উদ্বেগের প্রভাব বুঝতে ১০ হাজার মানুষকে নিয়ে কাজ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
তারা জানান, হিপোক্যাম্পাসের ওপর হতাশা স্পষ্ট একটা প্রভাব ফেলে, সংকুচিত হয়ে যায়। মস্তিষ্কের এই স্থানটি শেখা এবং স্মৃতি বিষয়ক কার্যক্রমের অংশ।

কিন্তু হতাশা এবং উদ্বেগ যখন একসঙ্গে মনকে ঘিরে ধরে, তখন মস্তিষ্কের আবেগ-অনুভূতি কার্যক্রমের অংশ যাকে এমিগডালা বলা হয়, সেটি আকারে বড় হয়ে যায়। মানুষের সামাজিক ও আবেগনির্ভর আচরণ নিয়ন্ত্রণে এমিগডালার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং প্রধান গবেষক ড্যানিয়েলা এস্পিনোজা ওয়ার্স বলেন, ‘হতাশা থেকে প্রায়ই মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এই দুটি সমস্যার প্রভাব একসঙ্গে বিবেচনা করে অনেক মানসিক রোগের সমাধান পাওয়া যেতে পারে।’

যারা হতাশা এবং উদ্বেগের সমস্যায় ভোগেন তাদের মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট অংশ বড় হওয়ায় আগের ধারণা অনুযায়ী মস্তিষ্ক পরীক্ষা করলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে হতাশা থেকে মস্তিষ্কের কী ক্ষতি হয়েছে, তার সম্পর্কে ভুল ধারণা আসবে।

উদ্বেগ কীভাবে মস্তিষ্কে হতাশার প্রভাব কমিয়ে দেয়, সেটি ভালো করে বুঝতে আরও গবেষণা দরকার। তবে এমিগডালার ক্ষেত্রে উদ্বেগ হয়তো ওভার-অ্যাক্টিভিটির দিকে নিয়ে যায়।

বিডি প্রতিদিন/

14
শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাব এখন প্রায় মানুষেরই দেখা যায়। পৃথিবীর প্রায় এক বিলিয়ন মানুষের মধ্যে ভিটামিন-ডি এর অভাব রয়েছে। ভিটামিন-ডি শরীরের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান। আমাদের শরীরের হাড় ও মাংসপেশির জন্য ভিটামিন-ডি অপরিহার্য।

সূর্যের উপস্থিতিতে শরীরে ভিটামিন সংশ্লেষিত হয়। শরীরে স্ফূর্তি বজায় রাখার জন্য ভিটামিন-ডি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।ভিটামিন-ডি এর অভাব আপনার শরীরে বয়ে আনতে পারে বিভিন্ন রোগের জ্বালা।   
যখনই বুঝবেন আপনার শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি ঘটছে, সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে তা পূরণ করা যায় সেদিকে মনোযোগ দিন। রোদ থেকে যে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়, তা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। ভিটামিন-ডি এর অভাবে শরীরে কী কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, তা জানলে অবাক হবেন আপনিও।

কীভাবে বুঝবেন আপনার শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাব ঘটেছে

১. প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়া
ভিটামিন-ডি আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতির সংকেত হতে পারে।

২. হাড় এবং পিঠে ব্যথা
ভিটামিন-ডি শরীরে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যদি নিয়মিত শরীরে হাড় বা পিঠে ব্যথা বোধ করেন, তাহলে বুঝবেন এটা ভিটামিন-ডি এর অভাবের কারণে ঘটতে পারে।

৩. শরীরের ঘা শুকাতে দেরি হলে
গবেষণায় দেখা গেছে  ভিটামিন-ডি আপনার শরীরে নতুন চামড়া গজাতে সাহায্য করে। শরীরের যেকোনও অংশে হওয়া ঘা শুকানোর ব্যাপারে বিশেষভাবে সাহায্য করে এই ভিটামিন।

৪. হাড় ক্ষয় হতে শুরু করলে
ক্যালসিয়ামের এভাবে শরীরে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে। ক্যালসিয়াম সংশ্লেষণের ক্ষেত্রে ভিটামিন-ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বৃদ্ধ বয়সে যারা হাড়ের সমস্যায় ভোগেন, তাদের ক্যালসিয়াম-সহ বেশ কিছু খনিজের অভাব পূরণ করতে বলা হয়, সেই সঙ্গে ভিটামিন-ডি এর দিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়।

৫. মাংসপেশিতে ব্যথা
 ভিটামিন-ডি এর অভাবে আপনার শরীরের মাংসপেশি গুলোতে ব্যথা যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়। ভিটামিন-ডি শরীরের মাংসপেশিকে দৃঢ়তা প্রদান করে, যার ফলে ব্যথা যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৬. ক্লান্তবোধ করা
সুস্থ জীবন শৈলী ও পরিষ্কার ঘুম হওয়ার পরও যদি আপনি ক্লান্ত বোধ করেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনার শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি হচ্ছে।এই বিষয়টি কখনই এড়িয়ে যাবেন না, সেক্ষেত্রে কীভাবে এই ঘাটতি পূরণ করা যায়, সেদিকে নজর দিন। 

৭. অবসাদ
ভিটামিন-ডি এর এভাবে আপনার মনে অবসাদের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, অবসাদগ্রস্থ ব্যক্তিকে সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার পর সে অনেকটাই সুস্থ বোধ করে।

৮. চুল পড়া
অতিরিক্ত চুল ঝরা মানে, অবশ্যই আপনার শরীরে পুষ্টির অভাব আছে।শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাবে আপনার চুল বেশি মাত্রায় ঝরতে পারে।   

কীভাবে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণ করবেন কীভাবে?
নির্ধারিত মাত্রায়, ভিটামিন-ডি এর ওষুধ নিতে পারলে, আপনার শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণ হতে পারে।আপনি যদি প্রতিদিন ১০ মিনিট সূর্যের আলোর নিচে বসতে পারেন তাহেলও ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণ হবে। 

ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণের জন্য যা খেতে পারেন
১. ছোট মাছ
২. পনির
৩. ডিমের কুসুম
৪. মাশরুম
৫. দুধ
৬. চিজ

তবে ভিটামিন-ডি এর প্রধান উৎস সূর্যের আলো। মূলত ৮০ শতাংশ ভিটামিন-ডি সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল।

বিডি প্রতিদিন/

15
করোনার তো যাওয়ার নাম নেই, এবার আমাদেরই বাইরে বের হতে হয়েছে। এমন সব ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে যেন মহামারি থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়।
আর এজন্য আমাদের মানব জাতির প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে মাস্ক। 

কোন মাস্ক ব্যবহারে সর্বোচ্চ সুরক্ষা পাওয়া যাবে মহামারি করোনা থেকে এটা নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। আর এরই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হয়েছে ফেস শিল্ড। 
এবার অনেকেই ভেবে পান না মাস্ক পরবেন না ফেস শিল্ড? অনেকে আবার সুরক্ষার জন্য দু’টিই ব্যবহার করতে চান। তবে দু’টি একসঙ্গে ব্যবহার করা বেশ ঝামেলার। তাহলে উপায়? এই সমস্যারই সমাধান বের করেছেন ভারতে গোয়ার দীপক পাঠানিয়া নামে এক ডিজাইনার। তার তৈরি মাল্টি মাস্কটি, মাস্ক ও ফেস শিল্ডকে এক করেছে। 
এটি একটা মাত্র স্ট্র্যাপ দিয়ে বাঁধা। ফলে ব্যবহারেরও সুবিধাজনক। এই মাস্ক করোনার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেবে বলেও দাবি দীপকের। 

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের দীপকের তৈরি এই ফেস শিল্ডটি মাস্কে সংযুক্ত করা, সঙ্গে রয়েছে স্ট্র্যাপটি। ফেস শিল্ডটি চাইলে খুলেও রাখা যেতে পারে প্রয়োজনমতো। মাল্টি মাস্ক পরলে কথা বলার সমস্যা হবে না। এছাড়া মাস্কটি ধুয়ে বারবার ব্যবহার করা যাবে।

মাল্টি মাস্ক প্রসঙ্গে মেডিসিনের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, এই মাস্কটির ভাবনা ভালো এতে সন্দেহ নেই। তবে করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য এন-৯৫ অথবা সার্জিকাল তিন স্তরের মাস্ক ব্যবহার করলেই চলে।

Source: https://www.banglanews24.com/lifestyle/news/bd/808050.details

Pages: [1] 2 3 ... 18