Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: 1 [2] 3 4 ... 18
16
কিডনি রোগীদের অনেক শারীরিক দুর্বলতা ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা যায়। বিশেষ করে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে পা ফুলে যায়।
অসহনীয় ব্যথায় পা নাড়ানোও কষ্টকর হয়ে যায়। 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণেই রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ে। যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন পায়ের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা :
•    প্রথমেই খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রান্নায় তেল মশলা কম দিন। এছাড়া বড় মাছ, রেড মিট, দুধ, বেকন, কলিজা, চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন
•    পিনাট বাটার, ফল, শাকসবজি বেশি পরিমাণে খান। শস্যদানা, রুটি, আলু খেতে পারেন তবে পরিমিত
•    দুধ খেলে ফ্যাট ফ্রি
•   দুধ-চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি ও দুধ চায়ের পরিবর্তে গ্রিন টি পান করুন
•    ওজন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
•    খাদ্য তালিকায় কমলা, লেবু ও আঙুরের মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রাখুন
•   রাতে ঘুমানোর আগে ২ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার আধা কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়
•   পায়ের নিচে বালিশ রেখে ঘুমালেও পায়ের ব্যথায় কিছুটা আরাম পাওয়া যায়
•    নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, হৃদরোগ থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়। ফলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে। 

Source:  বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

17
জুমার নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি এমন এক নামাজ যা মহান আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি মুমিনদের পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। হজরত সাইদ ইবনে মুসায়্যাব (রহ.) থেকে বর্ণিত।

তিনি বলেন, জনৈক আনসার সাহাবির মৃত্যু আসন্ন হলে তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের কাছে কেবল সওয়াব লাভের আশায় একটি হাদিস বর্ণনা করব। আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যখন উত্তমরূপে অজু করে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন সে তার ডান পা ওঠাতেই আল্লাহ তার জন্য একটি সওয়াব লিখে দেন, এরপর বাঁ পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন। এখন তোমাদের ইচ্ছা হলে মসজিদের কাছে থাকবে অথবা দূরে। অতঃপর সে যখন মসজিদে গিয়ে জামাতে সালাত আদায় করে তখন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যদি জামাত শুরু হয়ে যাওয়ার পর মসজিদে উপস্থিত হয় এবং অবশিষ্ট সালাতে শামিল হয়ে ছুটে যাওয়া অংশ পূরণ করে তাহলে তাকেও অনুরূপ জামাতের পূর্ণ সালাত আদায়কারীর সমান সওয়াব দেওয়া হয়। আর যদি সে মসজিদে এসে জামাত সমাপ্ত দেখে একাকী সালাত আদায় করে নেয়, তবু তাকে ওইরূপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ আবু দাউদ।
হজরত আবু সুমামাহ আল হান্নাত বলেন, একদা মসজিদে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে কাব ইবনে উসরার (রা.) সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে আমার দুই হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মধ্যে ঢুকিয়ে মটকাতে দেখতে পেয়ে আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তিনি আরও বললেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ উত্তমরূপে অজু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলে সে যেন তার দুই হাতের আঙ্গুল না মটকায়। কেননা সে তখন সালাতের মধ্যেই থাকে। অর্থাৎ অজু করা অবস্থায় তাকে সালাত আদায়কারী হিসেবেই গণ্য করা হয়।

হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন যে ব্যক্তি গোসল করে এবং যথাসাধ্য উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, নিজের তেল ব্যবহার করে, কিংবা নিজের ঘর থেকে খুশবু ব্যবহার করে, এরপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং দুজনের মাঝে ফাঁক না করে তারপর নির্ধারিত নামাজ আদায় করে এবং ইমামের খুতবা পাঠের সময় চুপ থাকে, তবে তার সেই জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। বুখারি। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো মুসলমান জুমার দিনে অথবা রাতে ইন্তেকাল করলে আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা, কবরের সওয়াল-জওয়াব ও আজাব থেকে রক্ষা করবেন।’ আহমাদ, তিরমিজি, মিশকাত।

                লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

18
Namaj/Salat / তাহাজ্জুদের নামাজ
« on: August 26, 2020, 11:01:29 AM »
শেষ রাতের নামাজ অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। যাকে তাহাজ্জুদের নামাজ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এ নামাজ সুন্নত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে নিয়মিত এ নামাজ পড়তেন। এমনকি সাহাবায়ে কিরামকেও নিয়মিত পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। আল কোরআনে তাহাজ্জুদ নামাজের কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে। আল্লাহ কোরআনে বলেন, ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে থাক। এ নামাজ তোমার জন্য আল্লাহর অতিরিক্ত ফজল ও করম। শিগগিরই আল্লাহ তোমাকে উভয় জগতে বাঞ্ছিত মর্যাদায় ভূষিত করবেন।’ সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭৯। প্রকৃতপক্ষে তাহাজ্জুদ নামাজ মন ও চরিত্রকে নির্মল ও পবিত্র করে। সত্যপথে অবিচল থাকতে পথ দেখায়। আল্লাহর নৈকট্যলাভে সহযোগিতা করে। তা ছাড়া যারা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে আল্লাহ তাদের তাঁর প্রিয় বান্দা বলেছেন। পাশাপাশি তাদের নেকি ও ইমানদারির সাক্ষ্যও দিয়েছেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা যারা তাদের প্রতিপালকের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়।’ সুরা ফুরকান, আয়াত ৬৩-৬৪।

তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘ফরজ নামাজের পর অন্যান্য সুন্নত ও নফল সব নামাজের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সবচেয়ে বেশি।’ মিশকাত।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের প্রভু প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে (যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়) নেমে আসেন; যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকি থাকে। এরপর তিনি বলতে থাকেন, তোমাদের কে আমাকে ডাকবে! আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে কিছু চাইবে আমি তাকে তা দেব, কে আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ মুসলিম, মিশকাত। বৈবাহিক জীবনেও এ নামাজের অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে, যে ফজিলত আল্লাহ স্বামী ও স্ত্রীকে দান করবেন; যদি তারা তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ে একজন অন্যজনকে সহযোগিতা করে।
লেখক : মুহাদ্দিস, খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসা, ঢাকা।

19
আশুরার রোজার দ্বারা বিগত এক বছরের পাপরাশি মাফ হয়ে যায়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল।

দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হয়। আশুরা দিবসে রোজা পালনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা) নির্দেশ দিয়েছেন।

সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। (সহিহ মুসলিম ১/৩৫৮)

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার দিনে রোজা পালন করত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সে কালে রোজা পালন করতেন। মদিনায় এসেও তিনি রোজা পালন করতেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দেন। রমজানের রোজার আদেশ নাজিল হলে আশুরার রোজা শিথিল করা হয়। এখন কেউ চাইলে তা পালন করুক, আর চাইলে তা বর্জন করুক। (বুখারি ১/২৬৮)

হাদিসের প্রায় সব কিতাবে মহররম মাসের ফজিলত এবং এ মাসের ১০ তারিখ আশুরার রোজা সম্পর্কে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত একাধিক হাদিস রয়েছে।

বিশ্বনবি (সা.) বলেছেন, রমজানের রোজার পর মহররম মাসের রোজা আল্লাহতায়ালার কাছে সবচেয়ে বেশি ফজিলতময়। (বুখারি ১১৬৩; মুসলিম ১৯৮২)

নবি করিম (সা.) আশুরার দিন নিজে রোজা রাখতেন এবং সেদিন রোজা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারি ২০০৪; মুসলিম ১১৩০)

১০ মহররম আশুরার রোজার ফজিলত প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এ আশুরার দিন রোজা রাখার কারণে আল্লাহতায়ালা বান্দার বিগত এক বছরের গুনাহসমূহ মাফ করে দেন। (সহিহ মুসলিম ১১৬২)

প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (র.) হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, যাতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখ। তবে এতে যেন ইহুদিদের সঙ্গে সামঞ্জস্য না হয়ে যায়। সেজন্য এর সঙ্গে মিলিয়ে হয় আগের দিন কিংবা পরের দিনসহ রোজা পালন কর। (তিরমিজি ৭৫৫)

আশুরার রোজার বিধান প্রসঙ্গে ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, কেউ যদি শুধু মহররম মাসের ১০ তারিখ রোজা রাখেন এবং এর আগে বা পরে একটি রোজা যোগ না করেন, তবে তা মাকরুহ নয়; বরং এতে মুস্তাহাব বিঘ্নিত হবে।

প্রকৃত সুন্নাত হলো, আগের ৯ মহররম বা পরের দিনের সঙ্গে ১১ মহররম মিলিয়ে মোট ২ দিন রোজা রাখা।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, তোমরা মহররমের নবম ও দশম দিবসে রোজা রাখ। (তিরমিজি ৭৫৫)

অন্য হাদিসে নবি করিম (সা.) বলেছেন, আমি যদি আগামি বছর পর্যন্ত জীবিত থাকি তাহলে মহররম মাসের নয় তারিখের রোজাও পালন করব। (মুসলিম ১১৩৪)

তবে যে এ আশুরার দিন রোজা রাখতে পারল না, তার জন্য কোনো সমস্যা কিংবা আশাহত হওয়ার কিছু নেই। যদি কেউ ৯, ১০ এবং ১১ তারিখ মোট ৩ দিন রোজা রাখেন তবে তা সর্বোত্তম হিসেবে গণ্য হবে। ইমাম ইবনুল কাইয়ুম এ মত উল্লেখ করেছেন।

লেখক: মুহাদ্দিস, ইসলামি চিন্তাবিদ ও প্রাবন্ধিক

20
ফিরে এলো বেদনার মাস মহররম

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাতনি, মাওলা আলী (রা.) এবং মা ফাতিমা (রা.)-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা, সৈয়দা জয়নব বিনতে আলী (রা.)।

তিনি সেই মহীয়সী নারী যিনি তার ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞার কারণে হয়ে আছেন চিরস্মরণীয়। মা জয়নব (রা.) সেই নারী যিনি কারবালার দুঃসহ কষ্ট সয়ে সামলে রেখেছেন তার পরিবারের বেঁচে যাওয়া নারী-শিশুসহ শোকে মুহ্যমান প্রতিটি সদস্যকে। স্বৈরাচারী এজিদ ও ইবনে জিয়াদের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন অসুস্থ কিশোর ইমাম আলী জয়নুল আবেদীন (রা.)কে। এক অর্থে সৈয়দ বংশকে, তার বচন থেকেই পৃথিবী শুনেছে কারবালার যুদ্ধের নির্মম বর্ণনা এবং যুদ্ধের আদর্শগত সত্য-মিথ্যার প্রভেদ নারী।

তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি কারবালার যুদ্ধে তথাকথিত বিজয়ে আত্মহারা ক্ষমতাসীন এজিদকে তারই পরিষদে দাঁড়িয়ে লজ্জিত ও হেয় করেছেন। অনেকেই বলেন, নবী পরিবারের মহীয়সী নারীরা গোপন থাকতে পছন্দ করতেন, ইবাদতেই মশগুল থাকতেন। মা খাদিজা, মা আয়েশা, মা ফাতিমা (রা.) তাদের সম্পর্কেও কম তথ্য পাওয়া যায়। তবে মা জয়নব (রা.) সম্পর্কে আমরা এত কম জানি কেন? কারণ তিনি সেই নারী যিনি তার পিতার মতোই সত্য ও মিথ্যার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেছেন। আহলে বায়েত (আ.)কে ধারণ করেছেন। খারেজিদের চিহ্নিত করেছেন। দুনিয়ার সামনে কারবালার যুদ্ধের আদর্শগত ও বাস্তবিক সত্য তুলে ধরেছেন।

তার মৃত্যুর পরও ক্ষমতায় উমাইয়ারাই ছিল। যাদের মনে তিনি তখনই আতঙ্কের সঞ্চার করেছিলেন। তাই ক্ষমতাসীনদের কূটরাজনীতির খেলায় সৈয়দা জয়নব বিনতে আলী (রা.) সম্পর্কে পাওয়া তথ্য অপ্রতুল। যেহেতু তার বক্তব্যগুলো নির্ভরযোগ্য ইতিহাস থেকে পাওয়া; তাই গবেষকরা পরিবার ও কারবালা সম্পর্কে তার দেয়া বক্তব্য থেকেই তার ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছেন।

মদিনা শরিফে হিজরতের পাঁচ বা ছয় বছর পর, মা ফাতিমার (রা.) কোল আলো করে জন্ম নেন সৈয়দা জয়নব বিনতে আলি (রা.)। তারিখ ছিল মতভেদে ৫ জমাদিউল আউয়াল অথবা ১ শাবান। রাসূলুল্লাহ (সা.) সে সময় মদিনা শরিফে ছিলেন না, তাই তখনও সদ্য জন্ম নেয়া কন্যার কোনো নাম তারা রাখেননি। নবীজি (সা.) ফিরে এলে শিশু মা জয়নবকে (রা.) তাঁর সামনে আনা হল। তিনি তাকে তাঁর পবিত্র কোলে নিলেন এবং আদর করে চুমু দিলেন।

সে সময় জিবরাইল (আ.) সেখানে উপস্থিত হলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। নবীজি (সা.) কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জানালেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.)! জীবনের প্রথম থেকেই এ কন্যা কঠোর যন্ত্রণা এবং পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বড় হবে। প্রথমে সে আপনার সঙ্গে বিচ্ছেদের দুঃখ পাবে, এরপর কষ্ট পাবে একে একে তার মাতা ও পিতার মৃত্যুর, অতঃপর তার বড় ভাই হজরত হাসানের (রা.) মৃত্যুর। এসব কিছুর পরও তিনি কারবালার কঠিন যন্ত্রণার মুখোমুখি হবেন। যার ফলে তার চুল ধূসর হয়ে যাবে এবং পিঠ বেঁকে যাবে।’ এবার নবীজি (সা.) এবং অন্যান্য সবাই কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর নানাজান নবীজি (সা.) তার নাম দিলেন ‘জয়নব’, যার অর্থ ‘পিতার অলঙ্কার বা সৌন্দর্য’।

শিশু জয়নব (রা.) যখন কান্না করতেন তখন ভাই হোসাইন (রা.) কোলে নিলে তিনি শান্ত হয়ে যেতেন এবং এক দৃষ্টিতে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। বড় হওয়ার পরও প্রগাঢ় ভালোবাসার দরুন কোনো ইবাদত শুরু করার আগে তিনি ভাই হোসাইন (রা.) দিকে আগে এক পলক দেখে নিয়ে পরে নামাজ ও ইবাদত শুরু করতেন। মা জয়নবের (রা.) বয়স যখন ছয় বা সাত, তখন তার প্রিয় নানাজান রাসূলুল্লাহ (সা.) কে হারান। এর কিছুদিন পর মাতা হজরত ফাতিমা (রা.) ইন্তেকাল করেন।

দুঃখে ভারাক্রান্ত ছোট্ট শিশু জয়নব (রা.) সে বয়স থেকেই রীতিমতো সংসার সামলানো শুরু করেন। ফলে পিতা, বোন উম্মে কুলসুম (রা.) এবং ভাইদ্বয়ের সঙ্গে তার আবেগময় টানের সম্পর্ক প্রবলতর হতে থাকে। বড় হয়ে এ কাজের পাশাপাশি তিনি মদিনা শরিফের নারীদের কোরআন শিক্ষা দিতেন।

তিনি নিজে ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়ী নারী। পাঠদানের সাবলীলতা ও পদ্ধতির কারণে তার প্রশংসা নারীমহলে ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই তাকে বলা হতো ‘ফাসিহাহ্’ (কৌশলী বক্তা) এবং ‘বালিগাহ’ (দুর্দান্ত বাকপটু); অর্থাৎ পিতার অলঙ্কার হওয়ার সব বৈশিষ্ট্যই তিনি ধারণ করেছিলেন। (চলবে)

লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক

21
মহররম মাস,১৪৪২ হিজরি সন শুরু । ইসলামী বছর শুরু ও শেষ হয়েছে ত্যাগের মাধ্যমে। মহান রাব্বুল আলামিন যেদিন আসমান জমিন সৃষ্টি করেছেন সে দিনই মাসের সংখ্যা নির্ধারণ করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে মহররম মাসে অনেক ঘটনা ঘটেছিল।

অথচ আমরা বেশিরভাগ মানুষ কখনও এ মাসটি এলে এবং এ মাসের করণীয় সম্পর্কে উদাসীন। জেনে অবাক হবেন, হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ বেদে মহররম মাসের নাম এসেছে ‘দাহাম’ নামে। তাওরাতে এসেছে ‘সুহরীয়’। জবুরে এসেছে ‘মুহিত’।

ইঞ্জিলে এসেছে ‘মহরারা’ আর আরবিতে ‘মহররম’। মহান আল্লাহ পাক ইজা আরাদা শাইআন আই ইয়াকুলা লাহু কুন ফাইয়াকুন (সূরা ইয়াসিন ৮২ নং আয়াত)। উচ্চারণ করেছিলেন। সেদিন ছিল মহররমের প্রথম দিন। তাই পৃথিবীর জন্মোৎসব পালনের প্রতি অনিহা থাকার কারণ জানা যাচ্ছে না।

বাংলা সনের শুরুর দিন থেকে যেভাবে লাল রঙের হালখাতায় মানুষ নতুন হিসাব লিখতে থাকে। একইভাবে ইসলামী বছরেরও হালখাতা আছে। তবে তা কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। এ খাতা থেকে কেয়ামতের মাঠে পড়ে শোনানো হবে। এ খাতাটি আমাদের হাতেই দেয়া হবে। আমাদের ডান হাতে মহান আল্লাহ পাক এই খাতা দিলে তবেই সৌভাগ্য আর দুর্ভাগ্য তারাই যাদের বাম হাতে দেয়া হবে। এটি হাদিস শরিফের কথা খাতাটির নাম আমলনামা।

এ মাসের তাৎপর্য খুবই গভীর। হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়েছিল। তাই এ মাস তওবা কবুলের মাস। এ মাসে হুজুর (সা.) কম কথা বলতেন এবং কোরআন তিলাওয়াত ও নফল নামাজে সময় অতিবাহিত করতেন।

এ মহররম মাসে যতগুলো ঘটনা ঘটে গেছে সব রহমতের। হজরত ইউনুস (আ.) কে মাছ যখন গিলে ফেলল তখন ইউনুস (আ.) শুধু আল্লাহকে ডেকেছেন। ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালেমিন’ এই দোয়ার বদৌলতে ইউনুস (আ.) নাজাত পেলেন। উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ সুফি সাধক কারি হাফেজ মাওলানা আওলাদে রাসূল হজরত সৈয়দ রশীদ আহমেদ জৈনপুরী (র.) এজাজত দিয়েছেন কঠিন সময়ে উক্ত দোয়া শোয়ালক্ষ, শোয়ালক্ষ ও শোয়ালক্ষ এই তিনবারে পড়ে শেষ করলে মুক্তি মিলবে। তবে শুদ্ধ উচ্চারণে।

এ মাসের ১০ তারিখে হজরত ইবরাহিম (আ.) অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। ফেরেশতার সাহায্যকে উপেক্ষা করে ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ আল্লাহ পাকের খুশিতে আগুনের কুণ্ডলি ফুলের বাগানে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এটি সূরা আল ইমরানের ১৭৩ নং আয়াত। হজরত গাউসুল আযম শেখ সৈয়দ মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জীলানী (র.) বলেছেন : ‘তোমাদের হাতের তলোয়ার হচ্ছে এ আয়া

তটি। এটা দিয়ে না হওয়া কাজ হয়ে যায়। প্রতিদিন ওই আয়াতটি পড়ার আগে ও পরে ৩১৩ বার বিজোড় সংখ্যক দরুদ শরিফ পড়তে হবে।

হুজুর জৈনপুরী (র.) মহররম মাসের চাঁদ দেখার পর কিছু আমলের এজাজত দিয়েছেন। প্রথমটি হল চাঁদ দেখার পর মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে ২ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে।

প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ৩ বার আয়াতুল কুরসি এবং ৩ বার সূরা ইখলাস দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ১ বার আয়াতুল কুরসি এবং ১ বার সূরা ইখলাস সালাম ফিরানোর পর ২১ বার সূরা মুলক। আগে পরে দরুদ শরিফ।

দ্বিতীয় আমলটি হল : চাঁদ ওঠার রাতে এশার নামাজের পর অর্থাৎ রাত ১০টা, ১১টা ১২টার দিকে ৪০ রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে। ২ রাকাত করে নিয়ত করতে হবে। এ নামাজ হজরত গাউসুল আযম পড়তেন, হজরত মঈনুউদ্দীন চিশতী (র.) হজরত যুনায়েদ বাগদাদী এবং হজরত আলী (রা.) পড়তেন। প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাফিরুন ও ফালাক, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাফিরুন ও নাস।

দুই রাকাত পর সালাম ফিরিয়ে বোতলের পানিতে ফুঁ দিয়ে বোতলের মুখ বন্ধ করতে হবে। প্রতি ২ রাকাত নামাজের পর পানিতে ফুঁ দিতে হবে এভাবে ৪০ রাকাত নামাজ পড়তে হবে। ৪০ রাকাত নামাজ পড়াকালীন কোনো কথা কারও সঙ্গে বলা যবে না।

এ নামাজ যারা পড়বে ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকবে। ফুঁ দেয়া পানিটি খুবই বরকতপূর্ণ মহৌষুধ। এ পানিটি বিশেষ করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হাইপ্রেশার, পাইলস এবং সংক্রামক রোগীকে খাওয়ালে রোগমুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। বেশি করে পানিগুলো রাখতে হবে যাতে সারা বছর চলে। নিজের এবং অন্যদের দিতে পারা যায়। যে রোগের ওষুধ নাই এ পানি তা কাজ করবে। পানি শেষ হওয়ার আগে পানি মেশানো যাবে। শুদ্ধ উচ্চারণে, বিশ্বাসের সঙ্গে এবং গভীর মনোযোগের সঙ্গে নামাজটি পড়তে হবে।

হুজুর (সা.) মহররমের ৯ এবং ১০ অথবা ১০ এবং ১১ তারিখে রোজা রাখার কথা বলে গেছেন। যারা এ রোজা রাখে তারা যেন পুরো বছরই রোগা রাখার সওয়াব পাবে। আবার অনেকে বেশি সওয়াবের আশায় প্রথম ১০ দিন রোজা রাখে।

তিনি আরও বলেছেন : এ মাসে প্রতিদিন একবার সূরা ইয়াসিন, তিনবার সূরা মুজ্জাম্মিল, একবার সূরা আর-রহমান পড়ে আল্লাহ পাকের কাছে কিছু চাইতে। হজরত সৈয়দ রশীদ আহমেদ জৈনপুরী (র.) বলেছেন : ৬১ হিজরি ১০ মহররম কারবালায় হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত সব আনন্দকে শেষ করে দিয়েছে। এ মাসে যে বর্বরতা ঘটেছিল কারবালার প্রান্তে যা নবীপ্রেমিকদের চোখে অশ্রু ঝরিয়েছিল।

তাই এ মাসে কোরআন খতম কর। ফাতেহা খানি কর। সব ফাতেহার সওয়াব হুজুর রাসূল (সা.)-এর দরবারে হাদিয়া করে দিয়ে তার উসিলায় সব নাবীঈন, সিদ্দিকীন এবং খাস করে হজরত হোসাইন (রা.)-এর প্রতি সওয়াব রেসানি করবে। তাদের উসিলায় আল্লাহ তোমাদের গুনাহ মাফ করবেন এবং জবানটা নুরানি করে দেবেন, অভাব-অনটন দূর করে দেবেন। আল্লাহ আমাদের আমলগুলো করার তৌফিক দিন।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

22

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। এই ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে সোয়া ২ কোটিরও বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষের।

এই ভাইরাসের তাণ্ডবে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন, ব্রাজিল, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও মেক্সিকোর মতো দেশ। এখনও পর্যন্ত সফল ও কার্যকরী কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় ব্যাপক হারে সংক্রমণ ছড়িয়ে যাচ্ছে এই ভাইরাস।
দিন যতই যাচ্ছে ততই চরিত্র পরিবর্তন করছে করোনাভাইরাস। একেকবার একেক রূপ ধারণ করছে এই ভাইরাস। শুধু তাই নয় বিবর্তনও হচ্ছে এর। আর তাতেই সমস্যার মুখোমুখি বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাসের নতুন একটি প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গেছে। এই প্রজাতি সাধারণ করোনাভাইরাসের তুলনায় ১০ গুণ বেশি সংক্রামক, এমনটাই দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। এই একই প্রজাতির দেখা পাওয়া গিয়েছিল ইউরোপেও।

ভাইরাসের এই বিবর্তন যা এর আগে ইউরোপের অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে তাকে বলা হয় ডি৬১৪জি। মালয়েশিয়াতে একটি ক্লাস্টারে সংক্রামিত ৪৫ জনের মধ্যে অন্তত তিনজনের শরীরে এই নতুন ভাইরাস দেখা গিয়েছে। এই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল ভারত থেকে ফেরা এক রেস্তোরাঁ মালিকের থেকে। কোয়ারেন্টিন নিয়ম ভাঙায় তাকে পাঁচ মাসের জেলের সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে। ফিলিপাইন্স থেকে ফেরা কিছু মানুষের মধ্যেও এই ভাইরাস দেখা গিয়েছে বলে খবর।

মালয়েশিয়ার ডিরেক্টর জেনারেল অফ হেলথ নুর হিশাম আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, এই নতুন প্রজাতির খোঁজ মেলার অর্থ হল এতদিন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়ে যে গবেষণা হল তা ফের নতুন ভাবে শুরু করতে হবে। এই ভাইরাস ১০ গুণ বেশি সংক্রামক বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সেক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা নিতে হবে আমাদের।

নুর হিশাম মালয়েশিয়ার মানুষদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে বলেছেন, মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে ও আরও সুরক্ষা নিতে হবে যাতে এই নতুন প্রজাতির ভাইরাস বেশি ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এই ধরনের বিবর্তনের চেনকে ভাঙার জন্য মানুষের সহযোগিতা আমাদের সবথেকে বেশি প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনাভাইরাসের এত ব্যাপক প্রভাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল ভাইরাসের এই বিবর্তন। তার ফলে বারবার গবেষণায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। যে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ চলছে, দেখা যাচ্ছে সেই ভ্যাকসিন এই নতুন ধরনের প্রজাতির ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। সেক্ষেত্রে নতুন করে গবেষণা করে সেইমতো ভ্যাকসিন তৈরি করতে হচ্ছে। এদিকে ভাইরাস নিজের চরিত্র বদলাচ্ছে।

এতদিন পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় মালয়েশিয়া করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনেকটা সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। শনিবার নতুন করে ২৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যা ২৮ জুলাইয়ের পর সর্বাধিক। রোববার আরও ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর এই নতুন আক্রান্তদের অনেকের শরীরেই বিবর্তিত ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এতেই নতুন চিন্তায় পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস

বিডি প্রতিদিন/

23
রোগ সারাতে তুলসি পাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। নানাবিধ রোগ সারাতে দারুণভাবে সাহায্য করে থাকে তুলসি পাতা। যার উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও। 

জেনে নিন নিয়ম মেনে প্রতিদিন তুলসি পাতা খেলে যেসব উপকার মিলতে পারে;
রক্ত পরিশুদ্ধ হয়
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২-৩ টি তুলসি পাতা খাওয়ার অভ্যাস করলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান এবং টক্সিন শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়।

ডায়াবেটিস দূরে থাকে
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তুলসি পাতা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতাও বাড়ে। ফলে শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। প্রসঙ্গত, মেটাবলিক ড্য়ামেজ-এর হাত থেকে লিভার এবং কিডনি-কে বাঁচাতেও তুলতি পাতা দারুণভাবে সাহায্য করে।

ক্যান্সার দূরে থাকে
তুলসি পাতায় উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট শরীরের ভেতরকার ক্যান্সার সেল যাতে কোনওভাবেই জন্ম নিতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে ক্যান্সার রোগ ধারের কাছে ঘেঁষার সুযোগই পায় না।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে
একাধিক পুষ্টিগুণে ভরপুর তুলসি পাতা, দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ছানি এবং গ্লুকোমার মতো চোখের রোগকে দূরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেই সঙ্গে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন আটকাতেও সাহায্য করে।

বিডি-প্রতিদিন/

24
কারও কারও মাথা-মুখ অতিরিক্ত ঘামে। চুলের গোড়া দিয়ে টপ টপ করে ঘাম ঝরে। এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতেও পড়েন তাঁরা। বেশি ঘামাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপারহাইড্রোসিস বলে। আর মুখ-মাথা বেশি ঘামাকে বলে ক্রেনিও ফেসিয়াল হাইপারহাইড্রোসিস। অনেকের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বংশানুক্রমিক। মাথার ত্বক ও মুখে ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা বেশি। একই কথা খাটে বগল বা কুঁচকির ক্ষেত্রেও।

মুখ-মাথা অতিরিক্ত ঘামার একটা অন্যতম কারণ হলো উদ্বেগ। উদ্বেগের কারণে কারও কারও মাথা ঘেমে একাকার হয়, হাতের তালুও ঘেমে ঠান্ডা হয়ে যায়। এ সমস্যা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের উদ্বেগ কমানোর ওষুধ বা সাইকোথেরাপি প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া হাইপার থাইরয়েডিজম রোগে ঘাম বেশি হয়, খুব গরম লাগে। মুখ সব সময় ঘেমে থাকে। তবে এর সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ যেমন ওজন কমে যাওয়া, ডায়রিয়া, বুক ধড়ফড়ানি থাকার কথা। নারীদের মেনোপজের পর যে হট ফ্লাশ হয়, তাতেও হঠাৎ করে মুখ-কান লাল হয়ে গরম লাগতে পারে, অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। ডায়াবেটিসের রোগীদেরও বিশেষ করে খাওয়ার পর হঠাৎ মাথা ঘেমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। এটা স্নায়ুর সমস্যার কারণে হয়।

জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে অতিরিক্ত ঘামের থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যেতে পারে। বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কফি পানও বন্ধ করতে হবে। এগুলো ঘর্মগ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে। ভারী জামাকাপড়, হ্যাট বা মাথা ভারী কাপড়ে মুড়ে রাখবেন না। পাতলা, সাদা বা হালকা রঙের, বাতাস চলাচল করে এমন কাপড় পরুন। একবারে বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প অল্প করে আহার করুন। প্রচুর পানি পান করুন। অফিসে বা বাড়িতে এমন জায়গায় কাজ করুন, যেখানে ফ্যানের বাতাস লাগে। সঙ্গে পাতলা কাপড় বা রুমাল রাখুন, যা দিয়ে বারবার ঘাম মোছা যায়। প্রতিদিন গোসল করুন, মাথার ত্বক ভালো করে পরিষ্কার করুন। বাইরে যাওয়ার সময় ত্বকের আর্দ্রতা কমে, এমন পাতলা ফেস পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। গরমে মুখে ভারী মেক আপ করবেন না, তৈলাক্ত ক্রিম বা ফাউন্ডেশন লাগাবেন না। ব্যায়াম বা হাঁটার পর গোসল করবেন। সমস্যা অসহনীয় হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

লেখক: চর্মবিশেষজ্ঞ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ

25
প্রত্যেক মুহূর্তে দুনিয়ার কোথাও না কোথাও একজন মুসলিম মক্কার দিকে মুখ ফিরে সালাত আদায় করে এবং প্রত্যেক সালাতে সূরা ফাতিহার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে এই দু’আ করেঃ

“আমাদেরকে সীরাতে মুস্তাক্বীমের দিকে পরিচালিত করুন”

আমরা প্রায়শই এই আয়াতের মর্মকে না বুঝেই তেলাওয়াত করি। সীরাতে মুস্তাক্বিম কোনটি? কোথা থেকে এর শুরু এবং এর যাত্রাপথ কোনদিকে? আমরা কিভাবে এপথে চলব এবং যদি পথ হারিয়ে ফেলি তবে আবার কিভাবে এপথে ফিরে আসব?

আমরা প্রায়ই এই কথাগুলো শুনে থাকি – “সফলতার পথ সহজ নয়” বা “জীবনে চলার পথে অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হয়”।

এই প্রবন্ধের আলোচনা বিষয়, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা কিভাবে আলোর পথ সম্পর্কে অবগত হয়ে এপথে চলতে পারি।

এই পথের বৈশিষ্ট্য

সমগ্র কুরআন জুড়ে, আল্লাহর কথাগুলি আমদের কাছে ভালভাবে বোধগম্য হওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন রূপক শব্দ ব্যবহার করেছেন। আল্লাহ চাইলে সুরা ফাতিহাতে নির্দিষ্ট কোনো স্থান, কাল বা ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে পারতেন।

কিন্তু আল্লাহ তাঁর অসীম প্রজ্ঞায় এটিকে পথ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।

সংজ্ঞা অনুসারে, একটি পথ কোনো একক স্পট নয়। অসংখ্য স্পট একত্রে মিলে একটি পথ তৈরি করে। আমরা যখন কোনো পথে যাত্রা শুরু করি, তখন কেবল এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকি না। আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাই। পথ সন্ধান করার অর্থ এই নয় যে আমরা আমাদের পছন্দসই গন্তব্যে পৌঁছে যাব। এর অর্থ হল আমরা এখন সেখানে যাওয়ার উপায় খুঁজে পেয়েছি।

একইভাবে আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পথে আমরা সবাই একই স্থানে নেই। আমাদের মধ্যে কেউ হয়ত সবেমাত্র শুরুর দিকে আছে , অন্যরা হয়ত আরও এগিয়ে গেছে। আমরা যখন সূরা ফাতিহা পাঠ করি, তখন আমরা সরল পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করি, তবে এর অর্থ এই নয় যে, আমরা সবাই গন্তব্যে পৌঁছে গেছি। এর অর্থ কেবল আমরা পথের সন্ধান পেয়েছি। এখন এটি আমাদের উপর নির্ভর করে যে, কে কিভাবে গন্তব্যে পৌছাবে।

কুরআনে অনেক জায়গায় এই ধারণাটি উল্লেখ করা হয়েছেঃ

“(আল্লাহ) তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও” (আল কুরআন – ৬:১৫৩)

কুরআনে যে সরল পথের উল্লেখ আছে তা ওলামায়ে কেরাম তা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলেছেন,  এটি ইসলামের পথ; আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতে বর্ণিত পথ; সত্যের পথ এবং যে পথ মুমিনের জীবন পরিচালিত করে এবং শেষ পর্যন্ত জান্নাতে পৌঁছে দেয়।

পথের সন্ধান

মানুষ স্বাভাবিকভাবে অন্ধকারে স্বস্তিবোধ করে না। আমাদের চোখ অন্ধকারের উপলব্ধি আমাদের মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং মস্তিষ্ক আমাদের অন্ধকারের অনুভূতি জাগায়। আমরা যদি কখনও রাতে বনের মধ্যে হারিয়ে যেতাম তবে আমাদের প্রত্যেকে আলাদা আলাদা প্রতিক্রিয়া অনুভব করত। কেউ হয়ত পথ খুঁজে পেতে শব্দ ব্যবহার করত আবার কেউ হয়ত আশেপাশের জিনিসকে স্পর্শ করে অনুমানের উপর নির্ভর করে পথ চলত।

তবে অবশ্যই, অন্ধকারে পথে খুঁজে পেতে সবচেয়ে বুদ্ধিমান পদক্ষেপটি হল কোনো আলোক উত্স খুঁজে বের চেষ্টা করা। যেমন হতে পারে কোনো ফ্ল্যাশলাইট বা একটি মোমবাতি বা কেবল একটি ম্যাচ। আমাদের ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভর করার চেয়ে কোনো আলোর উৎসের উপর নির্ভর করা আমাদেরকে পথ চলতে বেশি সহায়তা করবে। আলোর উৎসের সন্ধান পাওয়া কেবল যে শারীরিকভাবেই আমাদেরকে সাহায্য করবে তা নয়, বরং মানসিকিভাবেও আমাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস জন্মাবে।

পার্থিব জগত আল্লাহর সৃষ্টির অন্যতম নিদর্শন। আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেছেন, আসমান ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাতের অন্ধকার থেকে দিনের উজ্জ্বলতার প্রকাশ মানুষের জন্য অনেক বড় নিদর্শন। আমাদের পারিপার্শিক বাস্তবতা আমাদের আত্মিক বাস্তবতাকে আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করে।

আল্লাহ আমাদেরকে যেমন শারীরিকভাবে অন্ধকার অনুধাবন করার সক্ষমতা দিয়েছেন তেমনি তিনি আমাদেরকে আত্মিকভাবে অন্ধকার অনুধাবন করার সক্ষমতাও দিয়েছেন।

হৃদয় হল একটি জাহাজ যা আমাদের ঈমানকে বহন করে। এটি সেই অঙ্গ যা দিয়ে আমরা আল্লাহকে জানি এবং ভালোবাসি। আমরা হৃদয়ের মাধ্যমে সত্যকে মিথ্যা থেকে আলাদা করি। আমরা হৃদয় দিয়েই আত্মিক আলো এবং অন্ধকার উপলব্ধি করি।

আমরা জানি, অন্ধকারে পথ চলতে আলোর প্রয়োজন। আমাদের আত্মিক আলোর উৎস কি? আল্লাহ আমাদের বলেছেন, তিনি আসমান ও জমীনের নূর। তাঁর নূর আমাদেরকে পথ দেখায়, শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। আল্লাহ আমাদের জীবনে আত্মিক আলো বাড়ানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়েছেন। এগুলি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা আমাদেরকে কেবল জানতে হবে।

সূত্র:https://today.salamweb.com/bn/

26
করোনা

বিশ্বজুড়ে মহামারীর রূপ পাওয়া নভেল করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে আতঙ্ক, সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে অসংখ্য গুজব। কোভিড-১৯-এর শুরুর দিকের লক্ষণগুলো হল জ্বর, ক্লান্তি ভাব, শুষ্ক কাশি, শরীর ব্যথা, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা ইত্যাদি; পাতলা পায়খানাও হতে দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণের তীব্রতা বাড়ে এবং মৃদু থেকে তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

আবার কারও কারও ক্ষেত্রে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও কোনোরকম লক্ষণ প্রকাশ পায় না বা মৃদু লক্ষণ থাকতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। অ্যাজমা রোগীর ক্ষেত্রে নভেল করোনাভাইরাস সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ; যারা ইতিমধ্যে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, তাদের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা আরও বাড়তে পারে।

ইমিউনিটি সিস্টেম যাদের দুর্বল বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম যেমন- ডায়াবেটিস, কিডনি বিকল, হৃদরোগী, শ্বাসকষ্টজনিত রোগে যারা ভুগছেন এবং বিশেষ করে বৃদ্ধরা মারাত্মক করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন। ধূমপায়ী পুরুষদের মধ্যে এই ভাইরাসের মারাত্মক প্রভাব লক্ষ করা যায়। ধূমপানের ফলে শ্বাসনালি ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কিছুটা কম থাকে বিধায় এ ভাইরাস শ্বাসনালি ও ফুসফুসকে আক্রমণ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত এ ভাইরাসের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় লাগে।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত কণার মধ্যে এই ভাইরাসটি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে তিন ফুটের মধ্যে কেউ থাকলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। বাতাসে ভাইরাসটি ছড়ায় না, বরং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত কণার মাধ্যমে ছড়ায়। কণাটি ভারি হওয়ায় এটি বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে না; তাই এটি মাটি, মেঝে বা অন্য কোনো বস্তুর ওপর পড়ে এবং দীর্ঘ সময় জীবিত থাকতে পারে।

সেখান থেকে স্পর্শের মাধ্যমে অন্য কারও করোনা সংক্রমণ হতে পারে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সময় মুখে হাত দিলে বা কফ-থুতু হাতে লেগে গেলে এবং ওই হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরা হলে, যেমন- টেবিল, চেয়ার, দরজার হাতল, কি-বোর্ড ইত্যাদিতে ভাইরাস থেকে যেতে পারে এবং এগুলো যে কেউ স্পর্শ করলে সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো বস্তুর উপরিতলে এ ভাইরাস বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এ জন্য বারবার ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

স্বাস্থ্যসেবা দানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। চিকিৎসকরা প্রায়ই মুখে মাস্ক পরে থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের বেলায় এর কার্যকারিতার তেমন কোনো প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষায় তারা কোনো ফেস মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিতে চান না। বরং নিয়মিত হাত ধুলে সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে কেউ আক্রান্ত হলে তার মাস্ক পরা উচিত, যেন তার মাধ্যমে অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়। সুস্থ সাধারণ মানুষের মাস্ক ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, এই ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না, বরং তা হাঁচি-কাশি এবং জীবাণুযুক্ত হাতের স্পর্শে বেশি ছড়ায়। তাই গণহারে রাস্তাঘাটে ঢালাও মাস্ক পরে চলাফেরার কোনো যুক্তি নেই। তবে মাস্ক তাদের জন্য পরা আবশ্যক, যারা মেডিকেল কর্মী এবং কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত এবং সংক্রমিত রোগীদের সংস্পর্শে যদি কেউ থাকে, এমনকি ফ্লুর মতো কোনো লক্ষণ দেখা দিলে। যদি কারও কাশি ও সর্দি লেগে থাকে তবে তাকে মাস্ক পরতে হবে। মাস্ককে কখনোই বাইরে থেকে হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন না। পেছন থেকে মাস্কটি খুলুন এবং অবিলম্বে এটি ঢাকনাসহ ডাস্টবিনে ফেলে দিন।

করোনা মানেই মৃত্যু নয় বা রোগটি নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই; তবে আমাদের সাবধানতাবশত কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে :

১. গণপরিবহন বা ভাড়ায়চালিত যানবাহনের ব্যবহার এড়িয়ে চলা।

২. ঘরে অবস্থানকালে পরিবারের অন্যদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

৩. আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে ওই টিস্যু ব্যবহার করবেন না এবং টিস্যুটি পুড়িয়ে ফেলতে হবে, যাতে সেখান থেকে ভাইরাস না ছড়ায়।

৪. কেউ যদি রুমাল ব্যবহার করেন, তাহলে সেই রুমাল ও হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেবেন।

৫. বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে দুই হাত ধুয়ে নেবেন অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

৬. করমর্দন, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। যথাসম্ভব ঘরে বা বাড়িতে থাকুন, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো।

৭. দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন সুষম খাবার, টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে এবং নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

৮. ধূমপান ও মদ্যপান একদম নয়।

৯. খাবার ভালোভাবে সেদ্ধ করে খাবেন এবং শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে নেবেন।

১০. ডিম পোচ করে না খেয়ে ভালোভাবে ভাজি করে খাওয়া উচিত।

১১. যেখানে সেখানে হাঁচি-কাশি দেবেন না এবং কফ-থুতু ফেলবেন না।

১২. যাদের হাঁচি-কাশি, এমনকি সর্দি হয়েছে, তারা মাস্ক ব্যবহার করবেন।



Source: ডা. রাইসুল ইসলাম রতন : মেডিকেল অফিসার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

27
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, করোনাভাইরাস ঠেকাতে সব মিলিয়ে কমপক্ষে ২০টি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আবিষ্কৃত হবে কভিড-১৯ প্রতিরোধের ভ্যাকসিন। সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে নতুন করোনাভাইরাসের ২০টি ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাকসিন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়ে গেছে। এটিও এক ধরনের রেকর্ড। এত কম সময়ে আগে কখনো কোনো রোগের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করা যায়নি। কভিড-১৯-এর জিন সিকোয়েন্স তৈরির মাত্র ৬০ দিনের মাথায় এসব ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ-ও বলে দিয়েছে, জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী ওষুধ বানাতে আরও অনেক পথ পার হতে হবে। পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গবেষণা শেষে একটি নিরাপদ ওষুধ তৈরি করতে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

রাশিয়ার ৬ ওষুধ আবিষ্কার : জাপান, চীন, কিউবার পর করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতে অনেকদূর এগিয়েছেন রুশ বিজ্ঞানীরা। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন গতকাল জানিয়েছেন, দেশটির ডাক্তাররা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনার প্রতিষেধক হিসেবে ছয়টি ওষুধ আবিষ্কার করেছেন তারা। এখন এসব ওষুধের ওপর পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দেশের গবেষকরা এগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে আবিষ্কার করেছেন। এক্ষেত্রে আধুনিক বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। নিকট ভবিষ্যতেই এ ভ্যাকসিন করোনাভাইরাস নিরাময়ে কাজ করবে।
চীনে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ : চীন করোনাভাইরাসের টিকা পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া শুরু করেছে। গত শুক্রবার চীনা স্বেচ্ছাসেবীদেরকে কভিড-১৯-এর টিকা দেওয়া হয়েছে। চীনের সামরিক বিজ্ঞানীরা এ টিকা তৈরি করেছেন বলে দেশটির সংবাদ মাধ্যম গতকাল জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, চীনা স্বেচ্ছাসেবীদের প্রথম দলের সবাই উহানের অধিবাসী এবং তাদের বয়স ১৮ থেকে ৬০। প্রথম দলকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতি ভাগে ৩৬ জন করে সদস্য রয়েছেন। টিকা দেওয়ার পর ১৪ দিন তাদের সঙ্গরুদ্ধ বা কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। এরপর টিকার জন্য তাদের শরীরে কোনো খারাপ বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় কিনা তা নির্ণয়ের জন্য গবেষকরা ছয় মাস তাদের ওপর নজর রাখবেন। উল্লেখ্য, চীনা গণমুক্তি ফৌজ সামরিক চিকিৎসা একাডেমির একটি গবেষণা দল এ টিকা বের করেছেন। গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন জৈব হুমকি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ চেন উই। ইবোলার টিকা তৈরির সফলতারভিত্তিতে কভিড-১৯-এর টিকা তৈরির কাজ করা হয়। এ জন্য স্থানীয় কয়েকটি কোম্পানির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

Source: https://www.bd-pratidin.com/first-page/2020/03/22/513028

28
Islam / পবিত্র শবেমেরাজ আজ
« on: March 22, 2020, 10:27:42 AM »
আজ ২২ মার্চ দিবাগত রাত পবিত্র শবেমেরাজ। আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে এই মহিমান্বিত রাতে তাঁর প্রিয়নবী ও রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরশে আজিমে পৌঁছার ও আল্লাহতায়ালার দিদার লাভ করার পরম সৌভাগ্য অর্জন করেন। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়ত লাভের একাদশ বর্ষে ২৬ রজব দিবাগত রাতে সৃষ্টিজগতের আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনা সংঘটিত হয়। আরবি ভাষায় মেরাজ অর্থ হচ্ছে সিঁড়ি। আর ফার্সি  ভাষায় এর অর্থ ঊর্ধ্ব জগতে আরোহণ। পবিত্র কুরআনে মক্কা মোয়াজ্জমা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত ভ্রমণকে পবিত্র ‘ইসরা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র হাদিসে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত উপনীত হওয়া ও আরশে আজিমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মহিমান্বিত ঘটনাকে মিরাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সময়ে মিরাজে মহানবী (সা.) সৃষ্টিজগতের সব কিছুর রহস্য অবলোকন করেন। মিরাজ থেকে আল্লাহর রসুল উম্মতে মোহাম্মদির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে ফিরে পৃথিবীতে আসেন। অন্য কোনো নবী এমন সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র এ রাতটি ‘শবেমিরাজ’ হিসেবে পালন করে থাকেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির আজকার, নফল নামাজ, মসজিদ, মাদ্রাসা-খানকা ও বাড়িতে মিলাদ এবং গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করে থাকেন। প্রতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পবিত্র শবেমিরাজ উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘লাইলাতুল মিরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এবার ওয়াজ মাহফিল বা আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না। তবে নামাজের পর উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত হবে। কেউ চাইলে ইবাদতও করতে পারবেন। মসজিদ খোলা থাকবে।

Source: https://www.bd-pratidin.com/last-page/2020/03/22/513069

29
কোরআন ও সুন্নাহর শাশ্বত বিধান ও নীতির আলোকে একথা স্পষ্টতই বলা যায় যে, কবর আযাব সত্য। অপরাধীদের কবর আযাব ভোগ করতেই হবে। এর কোনো অন্যথা হবার নয়। তবে, কবর আযাব হতে মুক্তি লাভের উপায় আছে, সুযোগ রয়েছে। মুমিন-মুসলমান বান্দাহগণ যদি এ সকল উপায় অবলম্বন করেন, তাহলে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত কবর আযাব মাফ করে দেবেন এমন আশ্বাস কোরআন ও হাদিসে পাওয়া যায়। আসুন এবার এদিকে তাকানো যাক।

কবর আযাব বিষয়টিকে দু’টি পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা যায়। যথা: ক. স্থায়ী কবর আযাব এবং খ. অস্থায়ী বা সাময়িক কবর আযাব। এই দু’টি দিককে এভাবেও বলা যায় যে, কবরের আযাব কারো জন্য স্থায়ী এবং কারো জন্য অস্থায়ী বা সাময়িক হতে পারে। স্থায়ী হওয়ার অর্থ হলো মৃত্যুর পর হতে কিয়ামত পর্যন্ত কবর আযাব হতেই থাকবে। এ ধরনের শাস্তি কাফির, মুশরিক ও বিশেষ অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত। এ প্রসঙ্গে আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ক. আল্লাহ শিরেকী গোনাহ ক্ষমা করবেন না, এছাড়া অন্য গোনাহ তিনি ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন, আর যে আল্লাহর শরীক স্থাপন করল সে মহাপাপে লিপ্ত হলো। (সূরা নিসা : ৪৮)।

খ. ফলে, আল্লাহপাক মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীগণকে এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীগণকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীগণকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, অবশ্যই আল্লাহপাক ক্ষমাকারী ও দয়াময়। (সূরা আহযাব : ৭৩)। গ. আল্লাহপাক বলবেন: আগুনই তোমাদের বাসস্থান সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে, কিন্তু যদি আল্লাহপাক অন্য কিছু ইচ্ছা করেন, নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক ন্যায় বিচারক এবং সর্বজ্ঞানী। (সূরা আনয়াম : ১২৮)।

বস্তুত কবরে প্রত্যেক ব্যক্তিকে ফিরিশতাগণ প্রশ্ন করবে। মুমিন বান্দাহগণ প্রশ্নের সঠিক উত্তর প্রদান করবে। ফলে তারা সুখের ও আনন্দের জীবন লাভ করবে। কাফির, মুনাফিক, মুশরিক ও বিশেষ শ্রেণীর গোনাহগারগণ সঠিক উত্তর দিতে পারবে না। পরিণামে তারা কঠিন শাস্তিতে নিপতিত হবে।

হযরত আনাস বিন মালিক রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যখন বান্দাহকে মৃত্যুর পর কবরে শায়িত করা হয়, তখন দু’জন ফিরিশতা তার নিকট এসে প্রশ্ন করে, ‘এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার ধারণা কি ছিল? নেক বান্দাহ বলবে, আমি সাক্ষ্য দেই যে, তিনি আল্লাহপাকের বান্দাহ ও তার রাসূল। তাকে বলা হবে তোমার সঠিক উত্তরের জন্য আল্লাহপাক জান্নাতে তোমার আসন উন্নতর করে দিয়েছেন।

আর কাফির, মুনাফিককে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি দুনিয়াতে এ ব্যক্তি (হযরত মোহাম্মাদ মোস্তফা সা.) সম্পর্কে কী বলতে? সে উত্তর দিবে, অন্য লোকেরা (ইহুদি, খ্রিস্টান, মূর্তিপূজারী, অবিশ্বাসী) যা বলত, আমি তা-ই বলতাম। তখন ফিরিশতাগণ তার দুই কানের মাঝখানে লোহার হাতুড়ী দ্বারা আঘাত করবে, ফলে সে এমন বিকটভাবে চিৎকার করবে যে, মানুষ-জ্বিন ছাড়া সকল সৃষ্টি তা শ্রবণ করবে। (মুসনাদ আহমাদ : খন্ড ৩, পৃ. ১৫৫)।

আর কবরে সাময়িক শাস্তির অর্থ হলো, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শাস্তিদানের পর তা মওকুফ করা হবে। শাস্তি মওকুফ করার কারণ এও হতে পারে যে, তার গোনাহ ছিল স্বাভাবিক ও সাধারণ পর্যায়ের। কাজেই কিছু শাস্তির পর তা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। অথবা মৃত ব্যক্তির জীবিত আত্মীয়-স্বজনদের দোয়া, দান-সদকাহ, ইস্তিগফার ও ইসালে সওয়াবের বদেওলতে কবরবাসীর আযাব মওকুফ বা ক্ষমা করে দেয়া হবে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত সায়াদ বিন উবাদাহ রা.-এর মাতার ইন্তেকালের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। দীনের খেদমতের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সা. এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সা. আমার আম্মাজান ইন্তেকাল করেছেন। আমি ওই সময় উপস্থিত ছিলাম না। যদি আমি তার পক্ষ হতে সদকাহ করি তবে কি তার কোনো উপকার হবে? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, হ্যাঁ। তখন হযরত সায়াদ রা. বললেন, আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি আমার মেখরাফ নামের খেজুর বাগানটি আমার আম্মাকে সওয়াব রেসানীর জন্য সদকাহ করলাম। (সহীহ বুখারী : খন্ড ১, পৃ. ২৮৬)।

এই নিরিখে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে, অস্থায়ী কবর আযাব যা হবে ওই সকল গোনাহগার মুমিনদের জন্য যাদের অপরাধ লঘু ও মার্জনাযোগ্য। এ জাতীয় লোকদের তাদের গোনাহের অনুপাতে শাস্তি দেয়া হবে। তারপর একটা নির্দিষ্ট সময় পর তা তুলে নেয়া হবে। আল্লাহপাক সকল জীবিত মুমিন মুসলমানদের মৃত ব্যক্তিদের প্রতি অধিক হারে সওয়াব রেসানী করার তাওফিক এনায়েত করুন, এটাই আজকের একান্ত প্রার্থনা।

Source: http://www.allbanglanewspapersbd.com/dailyinqilab/

30
আজ ১৪ই যিলহজ্জ, এই দিনেই রাসূলের আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়েছিলো

নবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক হাতের মুবারক আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখন্ডিত হয়েছিলো আজকের এই দিনেই ১৪৪২ চন্দ্রবছর আগে। যখন চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয় তখন দ্বিখণ্ডিত হওয়া তো বহু দূর চাঁদ সম্পর্কে কারো কোন ধারণাই ছিলো না ঠিকমতো। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিলো এরূপ যে, তখনকার মক্কার কাফেররা হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নবুওয়াতকে অস্বীকার করে। তারা উনার কাছে নবুওয়াতের নিদর্শন চায়। তখন নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার হাতের আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ কে দু’ টুকরো করে তাদের দেখিয়েছিলেন কিন্তু তাও অনেক বড় বড় জাহেল ঈমান আনেনি।

এই মুবারক বিষয়টি পবিত্র কুরআনুল কারীমেও উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, কেয়ামত আসন্ন এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে (তা থেকে তারা) মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাচরিত যাদু (বৈ কিছু নয়)। (সুরা কামার শরীফঃ আয়াত শরীফ ১-৩) চাঁদ দিখন্ডিত হওয়ার বিষয়টি সহীহ হাদীসেও রয়েছে। আল্লামা ইবনে কাসীর রহমতুল্লাহি আলাইহি এ সম্পর্কিত হাদীস শরীফকে মুতাওয়াতির বলেছেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/২৭৬)

নিম্নে কয়েকটি হাদীস শরীফ উদ্ধৃত করা হল।

০১) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমরা মিনায় নবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ছিলাম। তিনি চন্দ্রকে দিখন্ডিত করলেন এবং এক খন্ড পাহাড়ের পশ্চাতে চলে গেল ও এক খন্ড পাহাড়ের উপরে রইল। তখন রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সাক্ষী থেকো। (সহীহ বুখারী শরীফ ১/৫৪৬; সহীহ মুসলিম শরীফ ২/৩৭৩)

০২) হযরত আনাস ইবনে মালেক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, মক্কা শরীফ বাসীরা রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে (নবুওয়্যাতের) কোনো নিদর্শন দেখতে চাইল। তখন রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ তায়ালা উনার হুকুমে চন্দ্রকে দিখন্ডিত করে দেখিয়ে দিলেন। তারা (সাহাবায়ের কিরাম ও কাফেররা) দেখতে পেল যে, চাঁদের দুই খন্ড হেরা পাহাড়ের দুই পার্শ্বে চলে গিয়েছে।

সূত্রঃ সহীহ বুখারী শরীফ ১/৫৪৫; সহীহ মুসলিম শরীফ ২/৩৭৩; জামে তিরমিযী শরীফ ৩২৮৫; মুসনাদে আহমদ শরীফ ৩/১৬৫; দালাইলুন নুবুওয়াহ ২/২৬২-২৬৮; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/৩৫৪, ৩৬১; ফাতহুল বারী ৭/২২১; আততাহরীর ওয়াত তানবীর ২৭/১৬৩; আদ্দুররুল মানসুর ৬/১৩২-১৩৪; তাফসীরে কুরতুবী ১৭/১২৫-১২৮; তাফসীরে মাযহারী ৯/১৩৫)

আমরা মুসলিম হিসেবে ইসলামকে বিশ্বাস করব কোরআন ও হাদিস অনুসারে। ইসলামের যে কোন কথা আজকের কথিত বিজ্ঞান সমর্থন করুক বা না করুক এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। বিজ্ঞানের উপরে নির্ভর করে ইসলামে বিশ্বাস করাটা আসলে একটা প্রতারনা ও মূর্খতা ছাড়া কিছু না, এক ধরণের ভন্ডামী। নিজেকে একজন মুসলিম দাবী করে, এদিকে ওদিকে বিজ্ঞানে সমর্থিত হলে ইসলামের কথা বিশ্বাস করে এমন ভন্ডকে ইংরেজীতে hypocrite বলে যেটার আরবী সমার্থক শব্দ হল মুনাফেক। ইসলামের তথ্যমতে মুনাফেকের স্থান ৭ম জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে যেখানে কোন কাফের ও প্রবেশ করবেনা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সঠিক ঈমান অর্জন করার ক্ষমতা দিন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

এছাড়াও ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মালাবার রাজ্যের (বর্তমান কেরালা অঞ্চল) তৎকালীন রাজা চক্রবর্তী ফারমাস (চেরামান পিরুমেল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) আকাশে চাঁদ দুই টুকরো হয়ে যাওয়ার ওই অলৌকিক ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখেছিলেন। যখন তিনি জানতে পারেন যে, আরব দেশে শেষ নবীর আবির্ভাব ঘটেছে এবং রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই চাঁদ কে দ্বিখণ্ডিত করেছেন, তখন তিনি মক্কায় গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

আজ থেকে ১৪৪১ চন্দ্রবছরেরও আগে ১৪ই জিলহজ্জ নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মোজেযার প্রকাশ হিসেবে উনারই পাক পবিত্র আঙ্গুল মুবারকের ইশারায় পূর্ণ চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

আবু জেহেল লানাতুল্লাহি আলাল কাজিবিনের নেতৃত্বে একদল মূর্তিপূজারী ও ইহুদি জানায় যে, রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল তা তারা মেনে নেবে, যদি তিনি চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করে দেখাতে পারেন। তখন রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে মোনাজাত করে চাঁদের দিকে উনার মুবারক পবিত্র আঙ্গুলের ইশারা করলে ওই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে।

ওই আরব মুশরিকরা এই মোজেজা অস্বীকার করে একে যাদু বলে অভিহিত করে। কিন্তু উপস্থিত ইহুদিরা চাঁদ দুই ভাগ হওয়ার ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। কারণ, ওই ইহুদিরা তাওরাতে পড়েছিল যে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার উত্তরসূরী হযরত ইউশা আলাইহিস সালাম উনার জন্য মহান আল্লাহ পাক চাঁদ ও সূর্যকে স্থির করে রেখেছিলেন।

Source: https://www.facebook.com/groups

Pages: 1 [2] 3 4 ... 18