Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Mrs.Anjuara Khanom

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 18
31
চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের আতঙ্ক বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। চীনের পর করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ইউরোপের দেশগুলোকে। আর ইউরোপকে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের মহামারীর ‘কেন্দ্রস্থল’ ঘোষণা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

শুক্রবার এ ঘোষণা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর আগে সংস্থাটি করোনাভাইরাসকে বিশ্ব মহামারী ঘোষণা দেয়।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা আশঙ্কা করে জানান, ৭০ শতাংশ ইউরোপিয়ান করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়াসিস বলেন, ইউরোপ এখন মহামারীর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাওয়া একটি করুণ মাইলফলক।

ইউরোপের দেশ গুলোর সবচেয়ে বাজে অবস্থার ইতালির। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ শুক্রবারে রেকর্ড আরও ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৬৬ জনে।

এছাড়াও সমান তালে পাল্লা দিয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৩০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে হানা দিয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৩৭৪ জনের।


বিডি-প্রতিদিন/

32
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আতঙ্ক বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এদিকে নতুন এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে তার শরীরে করোনার জীবাণু ৩৭ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

এ ব্যাপারে চীনের চিকিৎসকেরা এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন লিখেছে যা ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার ২০ দিন পরে অনেকের শ্বাসনালীতে করোনাভাইরাসের আরএনএ চীনা চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেছে।
নতুন এই গবেষণার ফলে করোনায় আক্রান্ত কোনও ব্যক্তিকে কতদিন আইসোলেশনে রাখা হবে, তা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হলে ১৪ দিন আইসোলেশনে রাখা হয়।

সূত্র: ব্লুমবার্গ


বিডি প্রতিদিন/

33
#চীন:
চীনের উইঘুর মুসলমানদেরকে বন্দি শিবিরে আটকে রেখে মেয়েদের ধর্ষণ, বন্ধাকরণ, ছেলেদের প্রতি অত‍্যাচার, লিঙ্গ কর্তন, নামাজ পড়লেই মৃত‍্যু, আজানের উপর ট‍্যাক্স বসানো, হাজার হাজার মসজিদ সরকার কর্তৃক ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ার এই বাড়াবাড়ি বিশ্বের আর কোথাও হচ্ছিলনা ।
#ইতালি:
কেন এখন ইতালীতে করোনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে?
পাশ্চাত‍্যের সভ‍্যতা বিশ্বজুড়ে লাখো তরুণ-তরুণীদের ইসলামের ছায়াতলে ভিড়তে দেখে ইসলাম ধর্মকে সেকেলে ও আধুনিকতার অন্তরায় বললে গত ১১ সেপ্টেম্বর ইতালীর প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লোসকুনি পাশ্চাত্যের সভ্যতাকে ইসলামী সভ্যতার চেয়েও মৌলিক বলে দাবী করেন এবং অপমানজনক ভাষায় মুসলমানদের সম্পর্কে কথা বলেন ।
#যুক্তরাষ্ট্র:
২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনার মাত্র এক মাস পর গার্ডিয়ান পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন চিন্তাবিদ ফুকোইয়ামা বলেন, ইসলামই পাশ্চাত্যের আধুনিকতাবাদের প্রতি একমাত্র হুমকি। তিনি পশ্চিমা আধুনিকতাবাদের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর প্রতিরোধ ভেঙ্গে দেয়ার জন্য মার্কিন সরকারকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন । সে সময় সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী উইলিয়াম কোহেনও বলেন যে, ইসলামের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধই চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশও দ্বিতীয় ক্রুসেড শুরু হয়েছে বলে দাবী করেন।
#ইরান:
ইরানের শিয়াপন্থী সরকার সুন্নীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে এখন তারা করোনা আক্রান্ত।

#ভারত: এইতো মাত্র ১৫ দিন আগের কথা -এনআরসি ও সিএএ আইন নিয়ে ভারতের দিল্লীতে মুসলমানদের উপর কত নির্যাতন চালালো উগ্রবাদী হিন্দুরা । নিহত হলো ৩৬ জন মুসলমান ! নামাজে কত বাধা, মেয়েদের হেজাব ছিড়লো পুলিশ! আজ ১৩ মার্চ ২০২০ দিল্লীতে করোনা আক্রান্ত ১ জনের মৃত‍্যুতে দিল্লীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের ট‍্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ কেন ? কেন মোদী সার্কভূক্ত দেশগুলোকে এখন একত্রে করোনা মোকাবেলার আহবান জানাচ্ছেন ? মুসলমানদের উপর অত‍্যাচারের সময় মনে ছিলনা কি পরিণতি হতে পারে।
#বিশ্ব_ইহুদী_সমপ্রদায়:
ইহুদিবাদী খৃষ্টান পাদ্রী রোড পার্সেলী এর চেয়েও বেশী নীরব থাকা ঠিক নয় শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন, "ইসলামকে পরাজিত করার জন্য স্রস্টাই যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্ব দিয়েছেন ।" কিন্তু ইরাকে ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সরকারের ব্যর্থতার কারণে ইসলাম-বিদ্বেষী তৎপরতার মোড় ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়। এখন ২০২০ সালে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা সম্পূর্ণরূপে প্রত‍্যাহার দেখে পাদ্রী রোড পার্সেলী ও বুশপন্থীদের মুখ ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেছে । ইসলাম নিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত তারা । ২০০৫ সালে ডেনমার্কের প্রকাশকরা বিশ্বনবী (সাঃ)র প্রতি অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশ করে। হল্যান্ডে প্রকাশিত হয় পবিত্র কোরআন অবমাননামূলক ছায়াছবি ফিতনা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এবং এরপর ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ায় পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনাকে এরই আলোকে বিচার করতে হবে। অর্থাৎ বর্তমানে আরো বেশী কুৎসিত পন্থায়, আরো ব্যাপকভাবে ও জটিলভাবে ইসলাম অবমাননার এবং ইসলামকে বিকৃতভাবে তুলে ধরার কৌশল প্রয়োগ করছে পাশ্চাত্য।
বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের উপর অত‍্যাচারকারীরা নমনীয় হচ্ছে ইসলামের মুজিযা দেখে । ছুটবে মানুষ ইমাম মেহেদীর কাছে বায়াত নিতে।

শেষকথা হলো : যে দেশেই ইসলামকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে, মুসলমান হয়েও যারা মুনাফিক। এমন মানুষ বা রাষ্ট্রপ্রধান বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা তার পরিবার অনেকেই করোনা বা ভয়াবহ আযাবের মধ‍্য নিমজ্জিত হবেন ।
কুরআন ও হাদীস মতে কেয়ামত সন্নিকটে । #ইমাম_মেহেদী এসে গেছেন । ইনশাআল্লাহ যেখানে সেখানে মুজিযা (ইসলামের চাক্ষুস প্রমাণ) প্রদর্শন করে, মুসলমানদের উপর অত‍্যাচার বন্ধ করে বিশ্বব‍্যাপী ইসলামের বিজয় ঘটাবেন আল্লাহ্ এবং তা শুরু হয়ে গেছে । ভারত অবশ‍্যই মুসলমানদের দখলে চলে যাবে । পৃথিবীর সব মানুষ ইসলাম গ্রহণ করবে। পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে। তবে সবাই মুসলমান হলেও মুমিনের সংখ‍্যা থাকবে কম। একদিন তওবার পথ বন্ধ হয়ে যাবে । সৌরজগতে বিপর্যয় ঘটবে । একটা বড় ধুমকেতু এসে পড়বে পৃথিবীর উপর । যার ব‍্যস বৃহস্পতি গ্রহের সমান ! পৃথিবী ছিটকে সূর্যের কাছাকাছি চলে যাবে। লন্ডভন্ড হবে পাহাড় পর্বতসহ সকল স্থাপনা। সেই দিন অতি নিকটবর্তী।

Source: https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=1395440660629078&id=100004894724687

34
জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, মাংসপেশি ও গাঁটে ব্যথাসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এই বিশেষ ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে দেশে–বিদেশে উদ্বেগ বাড়ছে। কিন্তু নিজেকে আর নিজের পরিবার, স্বজনদের রক্ষা করতে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনার ভূমিকা কী হওয়া উচিত এ সময়? কীভাবে আপনি পারবেন এই ভাইরাস প্রতিরোধ করতে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে কিছু উপদেশ দিচ্ছে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক।

১. বারবার হাত ধোয়া
নিয়মিত এবং ভালো করে বারবার হাত ধোবেন (অন্তত ২০ সেকেন্ড যাবৎ)। কেন? এ কথা প্রমাণিত যে সাবান–পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুলে এই ভাইরাসটি হাত থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হাতে ময়লা বা নোংরা দেখা না গেলেও বারবার হাত ধুতে পারেন। তবে বিশেষ করে হাত ধোবেন অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যার পর, হাঁচি–কাশি দেওয়ার পর, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের আগে, টয়লেট ব্যবহারের পর, পশুপাখির পরিচর্যার পর।

২. দূরে থাকুন
এই সময় যেকোনো সর্দি–কাশি, জ্বর বা অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত এক মিটার বা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন। কেন? আর সব ফ্লুর মতোই এই রোগও কাশির ক্ষুদ্র ড্রপলেট বা কণার মাধ্যমে অন্যকে সংক্রমিত করে। তাই যিনি কাশছেন, তাঁর থেকে দূরে থাকাই ভালো। ইতিমধ্যে আক্রান্ত এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। অসুস্থ পশুপাখি থেকে দূরে থাকুন।

৩. নাক–মুখ স্পর্শ নয়
হাত দিয়ে আমরা সারা দিন নানা কিছু স্পর্শ করি। সেই বস্তু থেকে ভাইরাস হাতে লেগে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন। অপরিষ্কার হাত দিয়ে কখনো নাক–মুখ–চোখ স্পর্শ করবেন না।

৪. কাশির আদবকেতা মেনে চলুন
নিজে কাশির আদবকেতা বা রেসপিরেটরি হাইজিন মেনে চলুন, অন্যকেও উৎসাহিত করুন। কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় নাক, মুখ রুমাল বা টিস্যু, কনুই দিয়ে ঢাকুন। টিস্যুটি ঠিক জায়গায় ফেলুন।

৫. প্রয়োজনে ঘরে থাকুন
অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, বাইরে যাওয়া অত্যাবশ্যক হলে নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।

৬. খাবারের ক্ষেত্রে সাবধানতা
কাঁচা মাছ–মাংস আর রান্না করা খাবারের জন্য আলাদা চপিং বোর্ড, ছুরি ব্যবহার করুন। কাঁচা মাছ–মাংস ধরার পর ভালো করে সাবান–পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। ভালো করে সেদ্ধ করে রান্না করা খাবার গ্রহণ করুন। অসুস্থ প্রাণী কোনোমতেই খাওয়া যাবে না।

৭. ভ্রমণে সতর্ক থাকুন
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন এবং অন্য দেশ থেকে প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করুন। অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

৮. অভ্যর্থনায় সতর্কতা
কারও সঙ্গে হাত মেলানো (হ্যান্ড শেক), কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন

৯. স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য নিন
এ সময়ে কোনো কারণে অসুস্থ বোধ করলে, জ্বর হলে, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য নিন। তিনি বিষয়টি গোচরে আনতে ও ভাইরাস ছড়ানো বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারবেন। অথবা আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বর: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১ এবং ০১৯৩৭১১০০১১।

১০. সঠিক তথ্য জানুন
সঠিক তথ্য-উপাত্ত পেতে নিজেকে আপডেট রাখুন। গুজবে কান দেবেন না। আপনার স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসকের কাছে তথ্য জানতে চান।

সহযোগী অধ্যাপক, গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ

35
বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়াচ্ছে নতুন করেনাভাইরাস। এরই মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজারের বেশি মানুষের।

চীনের উহান থেকে উৎপত্তি হলেও বর্তমানে গোটা বিশ্বেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস।
এমতাবস্থায় করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তারা দাবি করেছেন, এই সংক্রমণ নিম্নমাত্রার হলেও দেড় কোটি, মাঝারি মাত্রার হলে ৩ কোটি ৮০ লাখ ও বিপর্যয়কর হলে ৬ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই গবেষকরা বলছেন, একেবারে নিম্নমাত্রার মহামারী হলেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে আসতে পারে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তাদের মতে, সংক্রমণে বেশি মানুষ মারা যাবে যেসব দেশে তার মধ্যে রয়েছে, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ।

তদের মতে, নিম্নমাত্রার মহামারী হলে চীন এবং ভারতে কয়েক মিলিয়ন করে মানুষ মারা যাবে। যুক্তরাজ্যে ৬৪ হাজার, জার্মানিতে ৭৯ হাজার এবং ফ্রান্সে ৬০ হাজার মানুষ মারা যেতে পারেন।

তীব্র মহামারী হলে শুধু চীনেই মারা যাবে এক কোটি ২০ লাখ, যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ১০ লাখ, ব্রিটেনে ২ লাখ ৯০ হাজার। একইভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে জার্মানি এবং ফ্রান্সে।

সূত্র: ডেইলি মেইল  https://www.bd-pratidin.com/coronavirus/2020/03/07/508781



36

চীনকে মৃত্যুপুরী বানিয়ে ভয়াবহ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখন বিশ্বের ৮৪টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে পড়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সহজেই অন্যদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে বলে ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকটিয়াস ডিজিস (এনসিআইডি) এবং ডিএসও ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ এক গবেষণায় উল্লেখ করেছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তরা চারপাশকে ব্যাপকভাবে দূষিত করে বলেও গবেষণায় দেখা গেছে।
চলতি বছরের ৪ মার্চ অ্যামেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে সেই গবেষণার ফল প্রকাশ হয়। জানা গেছে, ওই গবেষণার জন্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগীর ঘর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা ২৪ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোয়ারেনটাইনে ছিলেন।

১৪ দিনের কোয়ারেনটাইনে থাকা অবস্থায় পাঁচদিন তাদের বসবাসের ঘরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরিষ্কার করার পর দু'জনের ঘর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এদিকে তৃতীয়জনের ঘর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয় নিয়মিত পরিষ্কারের আগে।

দেখা গেছে, পরিষ্কার না করা ঘরটিতে দূষণের মাত্রা বেশি ছিল। পরিষ্কার করার আগে তৃতীয় রোগীর ঘরের ১৫টি স্থানের মধ্যে ১৩ জায়গায় করোনাভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, তার ব্যবহারের চেয়ার, বিছানা, জানালা, মেঝে, লাইটের স্যুইচ, টেবিল, গ্লাস এবং লকারে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। তৃতীয়জনের ব্যবহারের টয়লেটে পাঁচ জায়গার মধ্যে তিন জায়গায় করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে।

গবেষকরা বলছেন, অন্য দু'জনের ঘরে পরিষ্কারের পর করোনার জীবাণু পাওয়া যায়নি। দিনে অন্তত দু'বার তাদেরে ঘর জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছিল।

বিডি প্রতিদিন/

37

আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল বৃক্ক বা কিডনি। শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে কিডনির যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর কিডনি ভাল রাখতে আমাদের কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলা উচিৎ।

আমাদের শরীরের রক্ত পরিশোধনের অঙ্গ কিডনি। শরীরে জমে থাকা অনেক রকম বর্জ্যও পরিশোধিত হয় কিডনির মাধ্যমে। কিডনির নানা সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কিডনিতে পাথর হওয়া।
কিডনিতে পাথর জমার বা তৈরি হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ বলে বিবেচিত হয়। যেমন-

১। শরীরে পানির স্বল্পতা। কম পানি খাওয়া।

২। একাধিকবার কিডনিতে ইনফেকশন হওয়া এবং এর জন্য যথাযথ চিকিত্‍সার ব্যবস্থা না করা।

৩। অত্যাধিক পরিমাণে দুধ, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস।

৪। শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রাতিরিক্ত আধিক্য।

কিডনিতে পাথর হওয়ার উপসর্গ-

১। রক্তবর্ণের প্রসাব।

২। বমি বমি ভাব। অনেক সময় বমিও হতে পারে।

৩। কোমরের পিছন দিকে ব্যথা হওয়া। এই ব্যথা তীব্র তবে সাধারণত খুব বেশি ক্ষণ স্থায়ী হয় না। ব্যথা কিডনির অবস্থান থেকে তলপেটেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

বিডি প্রতিদিন/

38
অনেকেই লিভারে চর্বি জমা (ফ্যাটি লিভার) রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, বিপাক প্রক্রিয়ার  গোলমাল এবং ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ না করলে লিভারের কোষগুলোতে খুব বেশি চর্বি, বিশেষ করে ট্রাইগ্লিসারাইড জমে। এতে লিভারের ওজন হিসেবে ৫ থেকে ১০ শতাংশ চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। লিভারের এই রোগটি কেড়ে নিতে পারে প্রাণও। লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি ও কারণগুলোকে খারাপ সময় আসার আগেই দমন করা দরকার। কেননা রোগটির কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে ঠিক সময়ে যদি চিকিৎসা শুরু করা যায় তাহলে লিভারের রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা যায়। এবার জেনে নেওয়া যাক দৈনন্দিন জীবনে কি কি উপায় অবলম্বন করলে লিভার সম্পূর্ণ সুস্থ থাকবে। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ঝাল ও তেল ছাড়া রান্না লিভারকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সুস্থ রাখবে। আরও কিছু ঘরোয়া জিনিস আছে যা শরীর থেকে দূরে রাখবে এই রোগ। গ্রিন-টি : রোজ সাধারণ চায়ের বদলে গ্রীন-টি পান করার অভ্যাস করতে হবে। এতে লিভার ভালো থাকবে। সঙ্গে আরও সব সমস্যার সমাধানও হবে।

আমলার রস : আমলা খুবই উপাদেয় একটি ফল। ২৫ দিন এই রস এক চামচ করে সকালে খেলে লিভারের রোগ দূর হবে। আদা পানি : এক চা চামচ আদা গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে দুবার পান করতে হবে। এই পানীয় টানা ১৫ দিন পান করলেই সুস্থ বোধ করা যাবে। কারণ এটি লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াটি প্রায় বন্ধ করে দেয়। ফলে লিভার আস্তে আস্তে ঠিক হতে শুরু করে।
অ্যাপেল সিডার ভিনিগার : এক কাপ উষ্ণ গরম পানিতে কেয়েক ফোঁটা অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে পান করতে হবে। কয়েক মাস পান করলেই লিভারে জমে থাকা চর্বি গায়েব হয়ে যাবে।

লেবুর রস : প্রতিদিন লেবুর রস পান করতে হবে। লেবুর রসের ভিটামিন-সি লিভারকে দূষণমুক্ত করতে সাহায্য করে।

Source:  https://www.bd-pratidin.com/last-page/2020/03/07/508712

39
মহান রব্বুল আলামিন যাকে পছন্দ করেন, তাকে বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করেন। এ কথাটি খুবই সহজ। আল্লাহর নেক বান্দাদের কাছে নেক আমল অনেক বড় নেয়ামত। তিনি তাঁর  নেয়ামত বহুল জান্নাত নেক বান্দাদের জন্যই তৈরি করে রেখেছেন। প্রিয় পাঠক! চলুন দেখি এ সম্পর্কে পবিত্র হাদিসে কী বলা আছে,  এক সাহাবি বললেন যে, আমি হজরত আবু যর (রা.)-এর কাছে আবেদন জানালাম, আমাকে এমন আমল বলে দিন, যেই আমল করলে বান্দা জান্নাতে যাবে। তিনি বললেন, এ বিষয়টি আমিও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আবেদন করেছিলাম, তিনি জওয়াব দিয়েছেন, যে আল্লাহর প্রতি ইমান রাখবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, নিশ্চয় ইমানের সঙ্গে কোনো আমল আছে? তিনি বললেন, আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তা থেকে কিছু পরিমাণে দান করবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, যদি এমন নিঃস্ব হয় যে, তার কিছুই নেই? তিনি বললেন, মুখে সুন্দর কথা বলবে। আমি বললাম, যদি কথা বলতে না পারে? তিনি বললেন, তাহলে বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করবে। আমি বললাম, যদি সে এমন দুর্বল হয় যে, তার কোনো ক্ষমতা নেই? তিনি বললেন, তাহলে কর্মহীনকে কর্ম জুগিয়ে দেবে। আমি বললাম, সে নিজেই যদি কর্মহীন হয়? তখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে তাকালেন, বললেন, তুমি যদি বলতে চাও যে, তোমার সঙ্গীর মধ্যে ভালো কোনো যোগ্যতাই নেই, তবে সে যেন অন্তত তার কষ্ট দেওয়া থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখে। তখন আমি বললাম, ইয়া রসুলাল্লাহ! এ তো অনেক সহজ কথা! আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, যে বান্দাই আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাওয়ার উদ্দেশ্যে এসবের কোনো একটার ওপর আমল করবে, কেয়ামতের দিন উক্ত আমল তাকে হাত ধরে নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবে। সুবহানআল্লাহ। -(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস ৩৭৩)। এখানে আমরা দেখতে পেলাম, নেক আমল ইমানের শাখা। নেক আমলের অঙ্গন অতি বিস্তৃত। এক আমল সম্ভব না হলে অন্য আমলের দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন কতই না সহজ। তবে কখনো যদি কোনো  মুমিন বান্দা কোনো ধরনের গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়, এবং একপর্যায় সে কৃত গুনাহ হতে তওবা করতে চায় তার দরজাও মহান রব্বুল আলামিন খোলা রেখেছেন। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিনের গুনাহ হয়ে গেলে তাতে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। তখন সে যদি তওবা করে, গুনাহ ছেড়ে দেয় এবং ইস্তেগফার করে তাহলে তার অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু যদি আরও গুনাহ করে, তাহলে কালো দাগ বাড়তে থাকে, একসময় তার অন্তর কালো দাগে ছেয়ে যায়। এটাই সেই জং, যা আল্লাহতায়ালা কোরআনে উল্লেখ করেছেন, ‘না, কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্ম তাদের অন্তরে জং ধরিয়ে দিয়েছে। (সূরা মুতাফফিফিন আয়াত : ৮৩)। অপর হাদিসে মুমিনের সৎ গুণাবলি এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিন কটুভাষী হতে পারে না, লানতকারী হতে পারে না এবং অশ্লীল ও অশালীন কথা বলতে পারে না। (আলআদাবুল মুফরাদ, হাদিস ৩১২)। এসব কর্ম ইমানের ও মুুমিনের শানের পরিপন্থী। মুমিনের কর্তব্য, এগুলো থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা।  মুমিনের নামাজ কেমন হবে এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুমিন যখন নামাজে থাকে তখন সে আসলে তার রবের সঙ্গে ‘আলাপে’ থাকে। সুতরাং সে যেন তার সামনে ও ডান পাশে থুথু না ফেলে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৪১)।  কোরআনের সঙ্গে মুমিনের সম্পর্কে হজরত আবু মূসা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে মুমিন কোরআন তেলওয়াত করে এবং কোরআন অনুযায়ী আমল করে সে হলো কমলা লেবুর মতো। এর স্বাদও উত্তম, ঘ্রাণও উত্তম। আর যে মুমিন কোরআন তেলাওয়াত করে না, তবে কোরআন অনুযায়ী আমল করে, সে হলো খেজুরের মতো। স্বাদ ভালো, তবে এর কোনো ঘ্রাণ নেই। আর মোনাফিক, যে কোরআন পাঠ করে সে হলো রায়হান ঘাসের মতো, এর ঘ্রাণ ভালো, তবে স্বাদ তিক্ত। আর যে মোনাফিক কোরআন তেলওয়াত করে না, সে হলো মাকাল ফলের মতো, স্বাদও তিক্ত, আবার দুর্গন্ধযুক্ত। -(সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০২০)।

প্রিয় পাঠক! আমরা বুঝতে পারলাম যে, মুমিন ব্যক্তি সব গুনাহ  থেকে বিরত থাকবে। বিশেষ করে গিবত শেকায়েত থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত রাখবে। এ সম্পর্কে হাদিসে  বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হে ঐসব লোক, যারা মুখে ইমান এনেছে, অথচ ইমান এখনো তাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলমানদের গিবত কর না, তাদের অপ্রকাশিত দোষ-ত্রুটির অনুসন্ধান কর না, কেননা যে ব্যক্তি তাদের দোষ অনুসন্ধান করবে, আল্লাহ তার দোষ অনুসন্ধান করবেন। আর আল্লাহ যার দোষ অনুসন্ধান করবেন তাকে তো তিনি তার ঘরে লাঞ্ছিত করবেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ১৯৭৭৬)।
এ হাদিস থেকে জানা গেল যে, কোনো মুসলমানের গিবত করা, তার দোষ-দুর্বলতা প্রকাশে উৎসুক হওয়া প্রকৃতপক্ষে এমন এক নিন্দনীয় কাজ যা শুধু ওই লোকদের থেকেই প্রকাশিত হতে পারে যারা মুখে তো মুসলমান কিন্তু ইমান এখনো তাদের অন্তরে স্থান করে নিতে পারেনি। (মাআরিফুল হাদিস)।
মহান রব্বুল আলামিনের কাছে আমরা সবাই কামনা করি তিনি যেন আমাদের সব মুসলমানকে প্রকৃত ইমানদার হয়ে জান্নাতের মালিক বানান। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস, মুফাসসির, খতিব ও ইসলামী প্রোগ্রাম উপস্থাপক নিউজ২৪।

40
স্বার্থের মোহে, অর্থের দ্বন্দ্বে, স্বজনের মায়ায়, প্রিয়জনের ছলনায় মানুষ ভুলে যায় নিজেকে। ভুলে যায় তার পরমপ্রিয় প্রভুকে। মানুষ যখন নিজেকে ভুলে যায়, তখন তার ভিতর-জগৎ অন্ধকারে ছেয়ে যায়। পৃথিবীর জটিল সমুদ্রে জীবন নামক সহজ ডিঙিটি হেলেদুলে ভেসেডুবে চলতে থাকে। এই চলায় ছন্দ থাকে না। থাকে না সহজ ঢং। মানুষ চায় একরকম হয় আরেক। চায় আনন্দ, পায় দুঃখ। এভাবেই চোখের জলে, দুঃখের আগুনে পুড়তে থাকে জীবন। ভাসতে থাকে দেহডিঙি। স্বার্থ নামক মোহের আগুন থেকে মানুষকে বাঁচাবে কে? কে তাকে ডেকে বলবে, মানুষ! এই নর্দমাক্ত জীবন তোমার নয়। অর্থের নোংরা ডোবায় ডুবে মরার জন্য তোমাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়নি। স্বজনের মায়ায় হন্যে হয়ে ঘুরে মরাই তোমার একমাত্র কাজ নয়। প্রিয়জনের ছলনায় জীবনভর ভুলে থাকা তোমার সাজে না। তোমার উদ্দেশ্য আরও বড়। তোমার কাজ আরও মহৎ। মানুষের মনে এই মহানের ডাক দিয়ে যায় আজান। তাই তো আজানের প্রথম বাক্য, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। আল্লাহই বড়, আল্লাহই মহীয়ান। তুমি যার পেছনে ছুটে জীবন শেষ করছ, সবই মিছে, সবই মায়া, সবই ক্ষুদ্র, সবই অলীক। আসল লক্ষ্য হলো সেই মহান আল্লাহ। তোমার একমাত্র আপন হলেন সেই আল্লাহ, যিনি এক মুহূর্তের জন্য তোমার ওপর থেকে দয়ার চাদর তুলে নেননি। তুমি যতই তাকে ভুলে থাকো, তিনি কিন্তু তোমাকে ভোলেন না। আল্লাহু আকবার! সবকিছুর চেয়ে আল্লাহ বড়। আল্লাহ মহান। তিনি সর্বশক্তিমান। জীবনের কঠিন আঘাতে জর্জরিত একজন মানুষ যখন শান্তির খোঁজে ক্লান্ত হয়ে হতাশার চোরাবালিতে হারিয়ে যেতে থাকে, এমন সময় তার হৃদয়কানে আজানের মধুর বাণী ‘আল্লাহু আকবার’ ভেসে আসে, তখন সে যেন জীবনযুদ্ধে সফলতার নতুন মন্ত্র শুনতে পাওয়ার মতো জেগে ওঠে। সে উপলব্ধি করে, হতাশার চোরাবালি থেকে কে যেন তাকে আশার সবুজ মাঠে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সে দেখতে পায়, এখন ভিতর-জগতে এক আল্লাহর নূরের রওশন ঝলমল করছে। এমন সময় সে শুনতে পায় মুয়াজ্জিন বলছে- আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তখন সেও মন-প্রাণ উজাড় করে ঘোষণা করে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া জীবনের আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। আল্লাহ ছাড়া সাধনার আর কেউ নেই। আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসুলুল্লাহ। আল্লাহকে পাওয়ার এই সাধনায় একমাত্র পথপ্রদর্শক যিনি তিনি আর কেউ নন, আল্লাহর প্রেরিত রসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁকে মেনে, তাঁকে ভালোবেসেই আল্লাহকে পাওয়ার সাধনা করতে হবে। তাই মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে মুমিন বান্দাও বলে ওঠে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি প্রেমময় প্রভুকে পেতে চাইলে মহাপ্রেমিক হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ণ অনুসরণ করে তাঁর খাঁটি প্রেমিক হতে হবে। তবেই আল্লাহকে পাওয়া যাবে। এ যেন কোরআনের সেই বাণীর প্রতিধ্বনি, আল্লাহকে ভালোবাসতে চাইলে হজরতকে ভালোবাসো আগে। হাইয়া আলাস সালাহ। কল্যাণের পথে এসো। সালাতি জিন্দেগির পথে হাঁটো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনভর মানুষকে সালাতি জিন্দেগির সবক দিয়ে গেছেন। সালাতের এক অর্থ হলো, জীবনের প্রতিটি কাজ প্রভুর প্রেমে তম্ময় থেকে প্রভুর বলে দেওয়া পথে সম্পন্ন করা। পাঁচ বেলা ওঠা-বসার যে সালাত আমরা আদায় করি, তা আসলে চব্বিশ ঘণ্টা প্রভুর প্রেমে তম্ময় থাকার এক উচ্চতর প্রশিক্ষণ মাত্র। এ প্রশিক্ষণ যে যত সচেতন মন নিয়ে করবে, বাকি সময় সে তত বেশি প্রভুর প্রেমে ডুবে দুনিয়ার জীবন সালাতি হালে কাটাতে পারবে। যখন মানুষ দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রভুর প্রেমে তম্ময় থাকার সাধনায় সফল হয়, তখনই সে পরিপূর্ণ মুমিন হয়ে ওঠে। এদের সম্পর্কেই কোরআনে বলা হয়েছে, ‘মুমিনরা সার্থক হয়ে গেছে। কারণ তারা সর্বক্ষণ সালাতি জিন্দেগির চর্চায় ব্রত রয়েছে।’ আল্লাহু আকবার। তারপর আবার শুরুর মতো শেষেও বান্দাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, জীবনের প্রতি মুহূর্তে প্রভুর সাধনায় তম্ময় থাকতে হবে এজন্যই যে, প্রভুর চেয়ে বড়, তাঁর চেয়ে মহান আর কেউ নেই। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। তিনি ছাড়া সাধনা করার, প্রেম করার, মেনে চলার আর কেউ নেই, কিচ্ছু নেই। হায়! কেউ কি এখন হৃদয়ের কানে আজান উপলব্ধি করে? হজরত বিলালের মতো হৃদয়ছোঁয়া আজান কি আর ভেসে আসবে না!

লেখক : মুফাসসিরে কোরআন।

41
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের আগের সময়টাকে বলা হয় আইয়ামে জাহেলিয়া তথা মূর্খতার যুগ। ইতিহাসবিদরা বলেন, ওই সময়ে মানুষ ও পশুর জীবনপদ্ধতির মাঝে কোনো পার্থক্য ছিল না। মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে ফেললে মানুষ পশু হয়ে যায়। আর নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেললে মনুষ্যত্ব চলে যায়।

ওই সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল রক্তের হোলি খেলা আর উদ্দাম যৌনতা। মাদক ছিল তাদের নিয়মিত খাবারের অংশ। শিশু ও নারীর প্রতি চলত চরম নিষ্ঠুরতা। হেন নির্মমতা নেই যা মানুষ মানুষের সঙ্গে করত না। এমন ঘোর মূর্খতার যুগ থেকে মানুষকে জ্ঞানের দিকে আলোকিত যুগে নিয়ে আসে কোরআন।
কোরআনের প্রথম নাজিল হওয়া শব্দটি নিয়ে একটু চিন্তা করা দরকার। কোরআন প্রথমেই মানুষকে বলেনি, ইবাদত কর, ভালো হও, মন্দ ছাড়...। কোরআন বলেছে ‘ইকরা’- পড়। পৃথিবীর জ্ঞানীরা ভেবে ভেবে হয়রান হয়ে যাচ্ছে, এত এত বিষয় থাকতে কোরআন ইকরা দিয়ে নাজিল হলো কেন? এর উত্তর একটাই- মানুষকে মানুষ হতে হলে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। পড়া হলো আলোকিত জগতে, শান্তির জগতে প্রবেশের প্রথম পদক্ষেপ।

‘ইকরা’- পড়। এ পড়া মানে শুধু কোরআন কিংবা ইসলামী জ্ঞানার্জন নয়। ইকরা মানে হলো পৃথিবী ও পৃথিবীর বাইরে পড়া বলতে যত বিষয় আছে সেসব পড়ে ফেলা। তবে সুফিরা বলেন, পড়া মানে কোনো গ্রন্থ পড়া নয়। পড়া হলো প্রভুর সৃষ্টিরাজি পড়ে, দেখে, বিশ্লেষণ করে প্রভুকে চেনার পথে হেঁটে চলা। এটা হলো সর্বোচ্চ স্তরের পড়া। এ স্তরে আসার আগে নিচের স্তরের অর্থাৎ কাগজের বই পড়ে নিজেকে কিছুটা প্রস্তুত করে নিতে হয়। তবেই প্রভুকে চেনার পাঠশালায় ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যাবে।

খুব আফসোসের সঙ্গেই বলতে হয়, ‘ইকরা’র ধারক-বাহক মুসলমান আজ আসমানি পড়া থেকে বহু দূরে সরে আছে। প্রভুকে চেনার পড়া তো এখন আর হয় না বললেই চলে। আজকালকার পড়া হয়ে গেছে সার্টিফিকেটের পড়া। পরীক্ষায় পাস করে ‘এ প্লাস’ পাওয়ার ধান্ধায় ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সবাই এখন পাগল। শিক্ষার্থী কতটুকু জ্ঞান অর্জন করল, কাগুজে পড়া কতটুকু হজম করল সেই ধান্ধা।

প্রভুকে চেনার বিশ্বজোড়া পাঠশালায় ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা কতটুকু অর্জন করল সে খবর না শিক্ষক রাখেন, না অভিভাবক তলিয়ে দেখেন। ফলে আজকের বাংলাদেশে সার্টিফিকেটধারীর প্রাধান্য। যে কারণে দেশের সেরা মেধাবীরাই সেরা অন্যায় করে যাচ্ছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। ভাষার মাসে অক্ষরের উৎসবে মেতে ওঠার এই বর্ণিল আনন্দে শরিক হওয়া নিঃসন্দেহে ইবাদত।

বই পড়তে, বই কিনতে, বইয়ে প্রচার-প্রসারে মানুষকে উৎসাহ দেওয়া অর্থাৎ বইসংক্রান্ত যে কোনো পদক্ষেপ ‘ইকরার’ প্রথম স্তরের কাজের অন্তর্ভুক্ত। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কর্তব্য বইমেলায় আসা। পুঁজিবাদী বিশ্বে বইকে বাঁচিয়ে রাখা ও জ্ঞানচর্চার প্রবাহিত স্রোতের স্বাভাবিক গতি ধরে রাখার জন্যও বইয়ের ব্যপক প্রচার-প্রসার প্রয়োজন।

প্রতিদিন কত বাজে কাজেই তো অফুরন্ত সময় নষ্ট করি আমরা। একটি ভালো বইয়ের এক পৃষ্ঠা করেও যদি দৈনিক পড়ি, মাস শেষে বইটি শেষ হয়ে যাবে। দৈনিক ১০ পৃষ্ঠা করে যদি পড়ি, বছর শেষে বিরাটসংখ্যক বই পড়ে ফেলতে পারব। ১০ বছরের কয়েকটি লাইব্রেরির জ্ঞান আমাদের মাথায় থাকবে। আমাদের আত্মার জগৎ জ্ঞানের আলোয় চমকাতে থাকবে। আল্লাহ আমাদের আত্মায় জ্ঞানের আলো দান করুন।

লেখক : মুফাস্সিরে কোরআন।

42
আল্লাহ চান বান্দা তাঁর কাছে দোয়া করুক। আল্লাহ বান্দার মনোবাঞ্ছা পূরণে উন্মুখ থাকেন। তবে সে দোয়ার সঙ্গে পবিত্রতার সম্পর্ক থাকতে হবে। বান্দার কোনো অপবিত্র দোয়া আল্লাহর কাছে কাম্য নয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ পূতপবিত্র এবং তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই কবুল করেন। আর আল্লাহ মুমিনদের ওই বিষয়েরই হুকুম দিয়েছেন, নবী রসুলদের তিনি যে বিষয়গুলো সম্পর্কে হুকুম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হে রসুলগণ! পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং নেক কাজ করুন। তিনি বলেছেন, হে মুমিনগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদের রিজিক হিসেবে দান করেছি। তারপর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফর করেছে, তার মাথার কেশ অবিন্যস্ত, শরীরও ধূলিমলিন। সে আকাশের দিকে হাত উঠিয়ে বলছে, হে আমার রব! হে আমার রব! কিন্তু তার আহার্য হচ্ছে হারাম, পানীয় হারাম, পোশাকও হারাম। হারাম খেয়েই তার বয়োবৃদ্ধি ঘটেছে। তাই তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে? মুসলিম। কোন কোন বান্দার দোয়া কবুল হয় এ বিষয়ে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বর্ণনা পাওয়া যায়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ‘পাঁচটি দোয়া রয়েছে, যেগুলো কবুল হয়- ১. মজলুমের দোয়া, যে পর্যন্ত সে প্রতিশোধ গ্রহণ না করে ২. হাজীর দোয়া, যে পর্যন্ত সে বাড়িতে ফিরে না আসে ৩. আল্লাহর পথের মুজাহিদের দোয়া, যে পর্যন্ত সে জিহাদ থেকে বসে না পড়ে ৪. অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া, যে পর্যন্ত সে সেরে না ওঠে ৫. কোনো মুসলমান ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে অন্য মুসলমান ভাইয়ের দোয়া। তারপর তিনি বললেন, এগুলোর মধ্যে আবার সবচেয়ে দ্রুত কবুল হয় কোনো মুসলমান ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে কৃত দোয়াটি।’ বায়হাকি। এ হাদিসে এক মুসলমান যাতে অন্য মুসলমানের অনুপস্থিতিতে দোয়া করে সে ব্যাপারে উৎসাহ জোগানো হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ধরনের লোকের দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না- ১. রোজাদার যখন ইফতার করে ২. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া ৩. মজলুমের দোয়া। মজলুম ব্যক্তির দোয়াকে আল্লাহ মেঘমালার ওপর উঠিয়ে নেন এবং এজন্য আসমানের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। আল্লাহ বলেন, আমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমাকে অবশ্যই সাহায্য করব, যদিও তা কিছুকাল পরে হয়।’ তিরমিজি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দোয়া করার তৌফিক দিন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

43
Zakat / ব্যবহৃত অলংকারের যাকাত
« on: February 23, 2020, 01:18:29 PM »
ব্যবহৃত অলংকারের যাকাত

ব্যবসায়িক স্বর্ণ অর্থাৎ যে স্বর্ণ ব্যবসার উদ্দেশ্যে গচ্ছিত রাখা হয়েছে সে স্বর্ণের যাকাত ফরয এবং হারাম কাজে ব্যবহৃত স্বর্ণ যেমন পুরুষের ব্যবহৃত স্বর্ণ এবং কোন প্রাণীর আকৃতিতে বানানো নারীর অলংকার যা ব্যবহার করা হারাম, এরূপ ব্যবহৃত স্বর্ণেরও যাকাত ফরয। এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। কারণ স্বর্ণের এরূপ ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়।

পক্ষান্তরে বৈধ পন্থায় নারীর ব্যবহৃত অলংকারের যাকাত ফরয কি-না? এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। তবে ছহীহ মত হল, নারীর ব্যবহৃত অলংকারে যাকাত ফরয। নারীর ব্যবহারিক অলংকারের যাকাত সম্পর্কে হাদীছে এসেছে,

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ أَنَّ امْرَأَةً أَتَتْ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهَا ابْنَةٌ لَهَا وَفِيْ يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيْظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَهَا أَتُعْطِيْنَ زَكَاةَ هَذَا قَالَتْ لاَ قَالَ أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ اللهُ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ قَالَ فَخَلَعَتْهُمَا فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَتْ هُمَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلِرَسُوْلِهِ-

আমর ইবনু শু‘আইব (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক মহিলা তার কন্যাসহ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে আসলেন। তার কন্যার হাতে মোটা দু’টি স্বর্ণের বালা ছিল। তিনি তাকে বললেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? মহিলাটি বললেন, না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তুমি কি পসন্দ কর যে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা এর পরিবর্তে তোমাকে এক জোড়া আগুনের বালা পরিধান করান? রাবী বলেন, একথা শুনে মেয়েটি তার হাত থেকে তা খুলে নবী (ছাঃ)-এর সামনে রেখে দিয়ে বলল, এ দু’টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।[1]

অন্য হাদীছে বর্ণিত আছে, মা আয়েশা (রাঃ) বলেন,

دَخَلَ عَلَىَّ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى فِيْ يَدِيْ فَتَخَاتٍ مِنْ وَرِقٍ فَقَالَ مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ فَقُلْتُ صَنَعْتُهُنَّ أَتَزَيَّنُ لَكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ أَتُؤَدِّيْنَ زَكَاتَهُنَّ قُلْتُ لاَ أَوْ مَا شَاءَ اللهُ قَالَ هُوَ حَسْبُكِ مِنَ النَّارِ-

‘একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমার নিকট উপস্থিত হয়ে আমার হাতে রূপার বড় বড় আংটি দেখতে পান এবং বলেন, হে আয়েশা! এটা কি? আমি বললাম, হে রাসূল (ছাঃ)! আপনার উদ্দেশ্যে সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য তা তৈরী করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? আমি বললাম, না অথবা আল্লাহর যা ইচ্ছা ছিল। তিনি বললেন, তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট।[2]  অন্য হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيْدَ قَالَتْ دَخَلْتُ أَنَا وَخَالَتِيْ عَلَى النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهَا أَسْوِرَةٌ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَنَا أَتُعْطِيَانِ زَكَاتَهُ قَالَتْ فَقُلْنَا لاَ قَالَ أَمَا تَخَافَانِ أَنْ يُسَوِّرَكُمَا اللهُ أَسْوِرَةً مِنْ نَارٍ أَدِّيَا زَكَاتَهُ-

আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আমার খালা হাতে স্বর্ণের বালা পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দরবারে প্রবেশ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে বললেন, তোমরা এর যাকাত দাও কি? তিনি বলেন, তখন আমরা বললাম, না। তখন তিনি (ছাঃ) বললেন, ‘তোমরা কি ভয় কর না যে, এর পরিবর্তে আল্লাহ তা‘আলা আগুনের বালা পরিধান করাবেন। সুতরাং তোমরা যাকাত আদায় কর’।[3]

ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন,

سَأَلَتْهُ امْرَأَةٌ عَنْ حُلِيٍّ لَهَا أَفِيْهِ زَكَاةٌ؟ قَالَ إِذَا بَلَغَ مِائَتَيْ دِرْهَمٍ فَزَكِّيْهِ، قَالَتْ إِنَّ فِيْ حِجْرِيْ أَيْتَامًا فَأَدْفُعُهُ إِلَيْهِمْ؟ قَالَ نَعَمْ-

‘এক মহিলা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন যে, অলংকারের যাকাত দিতে হবে কি? তিনি বললেন, যদি তা দুইশত দিরহামে পৌঁছে, তাহলে তার যাকাত আদায় করবে। মহিলাটি বললেন, আমার ঘরে কতিপয় ইয়াতীম রয়েছে, তাদেরকে কি (যাকাত) প্রদান করতে পারব? তিনি বললেন, হ্যাঁ’।[4]

আয়েশা (রাঃ) বলেন, لاَ بَأْسَ بِلُبْسِ الْحُلِيِّ إِذَا أَعْطَى زَكَاتَهُ ‘অলংকার পরিধানে কোন সমস্যা নেই, যদি তার যাকাত দেওয়া হয়’।[5]

উপরোল্লিখিত হাদীছ ও আছার সমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নারীর ব্যবহৃত অলংকার নিছাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে।

Source: https://www.hadithbd.com/showqa.php?pageNum_RsQA=4&btype=3&b=23&s=278

44
Zakat / স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিছাব
« on: February 23, 2020, 01:13:47 PM »
কারো নিকটে ইসলামী শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত নিছাব পরিমাণ স্বর্ণ ও রৌপ্য থাকলেই কেবল তার উপর যাকাত ফরয। এ দু’টি ধাতুর নিছাব নিম্নে উল্লেখ করা হল,

স্বর্ণের নিছাব : এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

وَلَيْسَ عَلَيْكَ شَىْءٌ يَعْنِيْ فِيْ الذَّهَبِ حَتَّى يَكُوْنَ لَكَ عِشْرُوْنَ دِيْنَارًا فَإِذَا كَانَ لَكَ عِشْرُوْنَ دِيْنَارًا وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيْهَا نِصْفُ دِيْنَارٍ فَمَا زَادَ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ-

‘বিশ দ্বীনারের কম স্বর্ণে যাকাত ফরয নয়। যদি কোন ব্যক্তির নিকট ২০ দ্বীনার পরিমাণ স্বর্ণ এক বছর যাবৎ থাকে তবে এর জন্য অর্ধ দ্বীনার যাকাত দিতে হবে। এরপরে যা বৃদ্ধি পাবে তার হিসাব ঐভাবেই হবে’।[1]

উল্লেখ্য যে, হাদীছে বর্ণিত ১ দ্বীনার সমান ৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ। অতএব ২০ দ্বীনার সমান ২০ × ৪.২৫ = ৮৫ গ্রাম স্বর্ণ। ১ ভরি সমান ১১.৬৬ গ্রাম হলে, ৮৫ ÷১১.৬৬ = ৭.২৯ ভরি বা ৭ ভরী ৫ আনা ৫ রতী স্বর্ণ। অর্থাৎ কারো নিকটে উল্লিখিত পরিমাণ স্বর্ণ এক বছর যাবৎ থাকলে তার উপর উক্ত স্বর্ণের বর্তমান বিক্রয় মূল্যের হিসাবে মোট সম্পদের ২.৫০% যাকাত দেওয়া ফরয।

রৌপ্যের নিছাব : রৌপ্যের নিছাব উল্লেখ করে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

وَلاَ فِيْ أَقَلَّ مِنْ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنَ الْوَرِقِ صَدَقَةٌ-

‘পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ রৌপ্যে যাকাত নেই’।[2]

উল্লেখ্য, ১ উকিয়া সমান ৪০ দিরহাম। অতএব ৫ উকিয়া সমান ৪০×৫=২০০ দিরহাম।

অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

هَاتُوْا رُبْعَ الْعُشُوْرِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِيْنَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ شَىْءٌ حَتَّى تَتِمَّ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَإِذَا كَانَتْ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَفِيْهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ فَمَا زَادَ فَعَلَى حِسَابِ ذَلِكَ-

‘তোমরা প্রতি ৪০ দিরহামে ১ দিরহাম যাকাত আদায় করবে। ২০০ দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের প্রতি কিছুই ফরয নয়। ২০০ দিরহাম পূর্ণ হলে এর যাকাত হবে পাঁচ দিরহাম এবং এর অতিরিক্ত হলে তার যাকাত উপরোক্ত হিসাব অনুযায়ী প্রদান করতে হবে’।[3]

অত্র হাদীছে বর্ণিত ২০০ দিরহাম সমান ৫৯৫ গ্রাম রৌপ্য। ১ ভরি সমান ১১.৬৬ গ্রাম হলে ৫৯৫ গ্রাম সমান ৫৯৫ ÷ ১১.৬৬ = ৫১.০২ ভরি রৌপ্য হয়। উক্ত পরিমাণ রৌপ্য কারো নিকটে এক বছর যাবৎ থাকলে তার উপর বর্তমান বিক্রয় মূল্যের হিসাবে মোট সম্পদের ২.৫০% যাকাত আদায় করা ফরয।

Source: https://www.hadithbd.com/showqa.php?pageNum_RsQA=1&btype=3&b=23&s=278

45
স্বর্ণ ও রৌপ্য খনিজ সম্পদের অন্যতম। এ সম্পদের অপ্রতুলতা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই বহু জাতি এ দু’টি ধাতু দ্বারা মুদ্রা তৈরী করেছে ও দ্রব্যমূল্যের মান হিসাবে গ্রহণ করেছে। এ কারণে ইসলামী শরী‘আত স্বর্ণ ও রৌপ্যের উপর বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তার উপর যাকাত ফরয করেছে। আর যাকাত অনাদায়ে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَالَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُوْنَهَا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيْمٍ- يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِيْ نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوْبُهُمْ وَظُهُوْرُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوْقُوْا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُوْنَ-

‘যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সুসংবাদ দাও। সেদিন জাহান্নামের অগ্নিতে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেওয়া হবে আর বলা হবে, এটাই তা, যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। সুতরাং তোমরা যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তা আস্বাদন কর’ (তওবা ৯/৩৪-৩৫)।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

مَا مِنْ صَاحِبِ ذَهَبٍ وَلاَ فِضَّةٍ لاَ يُؤَدِّى مِنْهَا حَقَّهَا إِلاَّ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ صُفِّحَتْ لَهُ صَفَائِحَ مِنْ نَارٍ فَأُحْمِىَ عَلَيْهَا فِىْ نَارِ جَهَنَّمَ فَيُكْوَى بِهَا جَنْبُهُ وَجَبِيْنُهُ وَظَهْرُهُ كُلَّمَا بَرَدَتْ أُعِيْدَتْ لَهُ فِىْ يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِيْنَ أَلْفَ سَنَةٍ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ فَيُرَى سَبِيْلُهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ-

‘প্রত্যেক স্বর্ণ ও রৌপ্যের মালিক যে তার হক (যাকাত) আদায় করে না, ক্বিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের বহু পাত তৈরী করা হবে এবং সে সমুদয়কে জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তার পাঁজর, কপাল ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। যখনই তা ঠান্ডা হয়ে যাবে তখন পুনরায় তাকে গরম করা হবে। (তার সাথে এরূপ করা হবে) সেদিন, যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাযার বছরের সমান। (তার এ শাস্তি চলতে থাকবে) যতদিন না বান্দাদের বিচার নিষ্পত্তি হয়। অতঃপর সে তার পথ ধরবে, হয় জান্নাতের দিকে, না হয় জাহান্নামের দিকে’।

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 18