Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Shamim Ansary

Pages: 1 [2] 3 4 ... 245
17
Public post but some of  are people not realize - A COVID-19 trend analysis written by Rafiuddin Ahmed Sir |

ইতিমধ্যে আমেরিকায় ৬০ লাখ বেকার। ইউকে, অস্ট্রেলিয়ায় কস্ট কাটিং প্লান আসছে সামনে। আমরাও সবার মত যে সব জায়গায় ঝামেলায় পড়বো একটা লিস্ট করি :

▪বেকার হবেন সকল পেশার মানুষ। যেহেতু অনেকে চাকরি হারাবেন উনাদের বাচ্চা কাচ্চারা ও স্কুল ফিস দিতে না পেলে ড্রপ আউট হবে। আজকে দেখলাম নেক্সট সেমিস্টারের ভর্তি বন্ধ (ইউজিসি) কাজেই ছাত্র না পেলে অনেক শিক্ষক ও চাকরি হারাবেন।

▪অনেক অফিস ভারচুয়াল হয়ে গেছে। তারাও ইতিমধ্যে কম পারফর্ম করা কর্মীদের লিস্ট বানাচ্ছে আমার মনে হয়। হয়ত অনেককে হাফ বেতনে রাখবে এবং বলবে হোম অফিস করবেন।

▪ব্যাঙ্ক গুলা বেশির ভাগ পিবি (পারসোনাল ব্যাঙ্কিং) করাবে এপের মাধ্যমে এবং ছাঁটাই ও করবে বেশির ভাগ ফ্রন্ট লাইন কর্মী আমি মনে করি। এপ বেশি করে ব্যাবহার করার জন্য ইতিমধ্যে আমাদের কে বলছে তারা।

▪টেল্কো (TELCO) গুলাতে বেশি হারে ছাটায় হবে জাস্ট দেখে নিয়েন।

18
COVID-19 lockdown - Experiences of American International University Bangladesh (AIUB)

Please find the attachment

20
Are We Witnessing The Awakening Of A New World Order - A Research by Forbes

https://drive.google.com/open?id=1JPK-hbWU0uU_TIyC2reQ_GC6Usnxi5aR

21
Covid-19 Patient Tracker

22

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি বার্তা খুব স্পষ্ট করে পৌঁছে দিয়েছেন। সেটা হচ্ছে, যদি কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাহলে সামাজিক দূরত্বের নিদান যেভাবেই হোক পুরোপুরি বাস্তবায়ন করুন।

বিশ্বের বহু সরকার তা বাস্তবায়নও করছে। ভারতে সরকার ১৩০ কোটি জনগণকে তিন সপ্তাহের জন্য ঘরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ কোথাও না কোথাও আটকা পড়েছে। বহু মানুষের ঘরবাড়িই নেই। কর্মহীন বহু মানুষের পেটে ক্ষুধার জ্বালা শুরু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারের এহেন পদক্ষেপে আর্থসামাজিক সংকট তৈরির অভিযোগ এনে অধিকারকর্মীরা সরকারের সমালোচনা করছেন।

অতি দ্রুত সংক্রমণশীল রোগটির রাশ টেনে ধরতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ একযোগে কোনো না কোনো মাত্রায় চলাচল নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নেতৃত্ব নিজ নিজ দেশের প্রাত্যহিকতার চাকা থামাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে এসব দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ চিত্র যেন উঠে আসছে। নিম্ন ও মধ্যআয়ের দেশগুলোর সরকার চীন, দক্ষিণ কোরিয়া বা জার্মানির মতো দেশে যেসব নীতি সফল হয়েছে তা নিজেদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আদৌ কাজ করবে কিনা সে বিষয়ে ক্রমেই সন্দিহান হয়ে উঠছে। জনমিতিক পার্থক্য, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সামর্থ্য এবং সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিতের ভিন্নতা এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সামাজিক দূরত্বের নীতি এসব দেশের অর্থনীতির জন্য বিরাট ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আর এ কারণেই এসব দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। রোগ ব্যবস্থাপনা মডেলিং (disease modelling) বিষয়ে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওয়াকার ও তাঁর সহযোগীদের তৈরি মডেলটি অন্যতম উদাহরণ। আমাদের পর্যবেক্ষণ ও যাচাইয়ের ওপর ভিত্তি করে বলতে পারি যে, এসব মডেলিং একদিকে গভীরভাবে, অন্যদিকে সুস্পষ্টভাবে এমন সব সূচকের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়েছে যা প্রধানত সচ্ছল দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য। সূচকগুলোর মধ্যে রয়েছে বয়সভিত্তিক জনসংখ্যার অনুপাত, বিচ্ছিন্নকরণের ক্ষেত্রে পারিবারিক সামর্থ্য, রোগ পরীক্ষার সুবিধাদি বাড়ানো, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং সামাজিক সহায়তা প্রদানের সামর্থ্য।

এখনো পর্যন্ত আমরা এমন ধরনের কোনো রোগ ব্যবস্থাপনা মডেলিং দেখিনি যেখানে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চলের কম বয়সী জনগোষ্ঠী, বিশ্বের বিভিন্ন মহানগরের চরম জনঘনত্ব, বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে মেলামেশার রীতি, অভিবাসনের বিপরীত ¯্রােত, অথবা বিদ্যমান অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়াদি প্রধান সূচক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব দেশে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষের জন্য জীবন রক্ষাকারী সেবা প্রদানের সামর্থ্যও এসব দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নেই। বিশ্বের দুই প্রান্তের দুটি দেশের উদাহরণ দিলেই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে: বাংলাদেশের সাড়ে ষোলো কোটি মানুষের জন্য ভেন্টিলেটর রয়েছে ৫০০টি, অন্যদিকে ৪৮ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার দেশ লাইবেরিয়ার আছে তিনটি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনার উল্টো ফল দেখে রীতিমতো বিস্মিত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে সরকার যখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়ে অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করল তখন জীবিকার জন্য শহরে থাকা মানুষ বাড়িভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ থেকে বাঁচতে গ্রামের পথে যাত্রা ছুটতে শুরু করেন। জাতীয় ছুটি শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আনুমানিক প্রায় এক কোটি শহরবাসী ঢাকা ছাড়েন। একই ধরনের ঘটনা কেনিয়া ও অন্যান্য দেশেও ঘটেছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে যে, রোগতাত্ত্বিক মডেলগুলো গড়ে তোলার সময় এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কিনা যে, এ ধরনের নীতির প্রয়োগ বা পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সামাজিক সংক্রমণের আশঙ্কা হ্রাসের পরিবর্তে আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে? এসব দেশের মানুষ, সমাজ এবং আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যাঁরা ওয়াকিবহাল তাঁরা খুব ভালোভাবে জানবেন এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে ঠিক এটাই ঘটার ছিল।

বিষয়টি এমন নয় যে, বিদ্যমান রোগ ব্যবস্থাপনা মডেলে স্বল্প সংখ্যক মানুষের বিচ্ছিন্ন কিছু পরিস্থিতি উপেক্ষা করা হয়েছে। বস্তুত, বিশ্বের ১২০ কোটি মানুষ যাঁরা কার্যত বস্তিতে বাস করেন তাঁদেরকে হিসেবের বাইরে রেখে এসব মডেল প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব বস্তির মূলগত বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে, এগুলো প্রচণ্ড- ঘনবসতিপূর্ণ ও পর্যাপ্ত পানি ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাবিহীন। এর অর্থই হচ্ছে, কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নকরণ অথবা কোয়ারেন্টিন এখানে অসম্ভব। এ ধরনের পদক্ষেপ এখানে ব্যর্থ হতে বাধ্য। কোনো কোনো বস্তিতে জনঘনত্ব প্রতি বর্গমাইলে আট লাখ। নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে তুলনা করলে আরও স্পষ্ট হবে বিষয়টা, যেখানে প্রতি বর্গমাইলে ২৭ হাজার মানুষের বাস। ভাইরাসটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসব নীতি যদি গলদযুক্ত বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে এদের প্রয়োগের ফলে একেকটি দেশকে যে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো তার আর কোনো অর্থ থাকবে না। এতে করে এটাই প্রতীয়মান হবে যে, একদিকে এই সব পদক্ষেপ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে এর ফলে দেশগুলোকে অযথা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ফলে অবধারিত সেই প্রশ্নটি উঠে যায় - বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা নির্দেশনার দায়িত্বে মহলটি ঝুঁকিগুলোর ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের পরামর্শগুলোর প্রয়োজনীয় হালনাগাদ করছেন তো?

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি উপার্জন হারানো মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তাকে অত্যাবশ্যকীয় ও জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনায় আনা উচিত ছিল বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা মহলের। বিশ্বের ৬৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ চরম দরিদ্র অবস্থায় দিনাতিপাত করা সত্ত্বেও কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই বাস্তবতাকে প্রায় আমলেই নেওয়া হয়নি। এর ফলে চরম খাদ্যাভাব সামাজিক দূরত্বের নীতি বাস্তবায়নের অব্যবহিত এবং পূর্বানুমিত ফলাফল। আরও ভেবে দেখার বিষয় হচ্ছে, উপযুক্ত নীতি ও কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে চরম খাদ্যাভাব এড়ানো সম্ভব।

পরিশেষে সবচেয়ে জরুরি কথাটি বলতে চাই। বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা মহলের এখনই উচিত হবে সার্বিক পরিস্থিতির পুনর্মূল্যায়ন করার মাধ্যমে স্বল্প সম্পদের দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এমন সব সমাধান ও পরামর্শ হাজির করা গরিব মানুষের জীবিকা অর্জনের পথে যা অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হাত ধোয়া একটি উপায় যার ওপর এখনো পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে আমরা মনে করি। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চর্চার বিষয়টি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শ্বাসক্রিয়ার মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণ হ্রাসের লক্ষ্যে প্রদত্ত নির্দেশনায় ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টির সফল পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন হয়েছে বাংলাদেশে। যেসব এলাকায় বা জনগোষ্ঠীতে হাঁচি কাশির সময় টিস্যু বা কনুই দিয়ে নাকমুখ ঢাকার চল নেই সেখানকার স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চর্চার পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নে যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গেছে। এই চর্চার দ্রুত প্রসারে বিনিয়োগ করা হলে তা ইতিবাচক ফলাফল আনবে বলে মনে করি। বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে বিদ্যমান কারখানাগুলোতে বিপুল পরিমাণে মাস্ক উৎপাদন সম্ভব। এর ফলে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে সংকটে পড়ে বন্ধ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের দ্রুত কাজে ফেরানোও সম্ভব হবে। এতে করে সংক্রমণ রোধে পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত মাস্কের ব্যবহারকে আরও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। ভারত এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বাড়িতে তৈরি মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি ইতিমধ্যে বিবেচনায় নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের ব্যয়সাশ্রয়ী উদ্ভাবনমূলক সমাধানের কথা শোনা যাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য ঘরে থাকার সময়টাতে কীভাবে শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা যায় সে ব্যাপারে নানাজনের কাছ থেকে নতুন ধরনের চমৎকার সব পরামর্শ ও সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা মহলের সেদিকে খুব একটা লক্ষ নেই। তাঁরা ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতের জন্য তৈরি কিছু সমাধানের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বসে আছেন এবং চাইছেন অন্যরাও যেন এগুলো একই পরিমাণ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন।

যে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই তা হচ্ছে, কার্যকর সামাজিক দূরত্ব, সংক্রমণ পরীক্ষার ব্যাপক প্রসার এবং জরুরি সেবা সহজলভ্য করা ব্যতিরেকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের সঠিক কৌশল নির্ণয় রোগ তাত্ত্বিকদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু বাস্তবে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জাতীয় নেতৃত্বকে ঠিক এই পরিস্থিতিই মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব দেশের জাতীয় নেতৃত্বের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন যাতে তাঁরা পরিস্থিতির নির্মেদ ও যথাযথ মূল্যায়ন করতে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমর্থ হন। এই সমর্থন তাঁদের ততটাই দরকার যতটা অবস্থাপন্ন দেশগুলোর নেতৃত্ব পেয়ে থাকেন। বিশ্বব্যাপী এই সংক্রমণ থেকে উদ্ধার পাওয়ার একটি সুযোগ আমাদের সামনে রয়েছে। সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে ও সমতার মাধ্যমে চেষ্টা করতে হবে আমাদের। যৌথ সেই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা আরও বেশি সংখ্যক প্রাণ বাঁচাতে সমর্থ হব।

*আসিফ সালেহ্: ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক

*রিচার্ড এ. ক্যাশ: বাংলাদেশে ডায়রিয়ায় সৃষ্ট পানিশূন্যতা রোধে মুখে খাওয়ার স্যালাইন উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বর্তমানে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর অধীনে গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি. গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর ভিজিটিং প্রফেসর।
মূল ইংরেজি লেখাটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট-এর ব্লগে ছাপা হয়েছে।


Source: https://www.prothomalo.com/opinion/article/1649224/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87-%E0%A6%95%E0%A6%AE-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%A6-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%B2

23
করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিউইয়র্কে। মৃতদেহের মর্যাদাপূর্ণ ব্যবস্থাপনা কী করে হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন তারা ভাবছে, নগরের যে পার্কগুলো রয়েছে, সেগুলোকেই অস্থায়ী সমাধিক্ষেত্রে রূপান্তর করবে। কাউন্সিলম্যান মার্ক লেভিন সোমবার এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে একটি টুইট করেছেন।

টুইট বার্তায় লেভিন লিখেছেন, ইতালিতে মৃতদেহগুলো রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সামরিক বাহিনী গির্জা থেকে, রাস্তা থেকে লাশ সংগ্রহ করেছে। এই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে জন্যই নিউইয়র্ক সিটি পার্কগুলোকে অস্থায়ী সমাধিক্ষেত্রে রূপান্তর করার চিন্তা করা হচ্ছে। যদিও এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। পার্কে সুড়ঙ্গের মতো খুঁড়ে সারিবদ্ধভাবে ১০টি কফিন রাখার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

লেভিন লিখেছেন, অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পূর্ণাঙ্গ মর্যাদায় যেন মৃতদেহগুলোর সৎকার করা যায়, সে জন্যই এই ব্যবস্থা। যদিও অনেকের পক্ষেই এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর হবে।

সিটি কাউন্সিলের স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি লেভিন আরও বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হলো—ইতালির মতো মৃতদেহের দৃশ্যগুলো এড়ানো।

তবে ঠিক কবে নাগাদ এই পার্কগুলোকে সমাধিক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, সেই দিনক্ষণ বলেননি লেভিন। এর মধ্যে যদি মৃতের হার যথেষ্ট কমিয়ে আনা যায়, তাহলে এই পরিকল্পনা থেকে হয়তো সরে আসবে কর্তৃপক্ষ।

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি মার্ক লেভিন। ছবি: নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলসিটি মেয়র ডি ব্লাজিওর এক মুখপাত্র ই-মেইলে বলেন, ‘আমরা খুবই নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে এক্ষুনি কিছু করার পরিকল্পনা আমাদের নেই।’

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় ৬৭ হাজার ৮২০ জন। মারা গেছে ৩ হাজার ১২৮ জন।

পার্ককে সমাধিক্ষেত্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা আসে ফিউনেরাল হোমগুলো ভরে যাওয়ায়। মৃতদেহ সমাহিত করার আগের প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করা হয় ফিউনেরাল হোমে। এখন ফিউনেরাল হোমেও ঠাঁই নেই। কিছু পরিবার অপেক্ষায় থেকে ফিরে গেছে। এ জন্যই গত মাসে ম্যানহাটানের বেলভিউ হাসপাতালে একটি বিশাল অস্থায়ী মর্গ নির্মাণ করা হয়।

গত ৩১ মার্চ নিউইয়র্কের ব্রুকলিন হাসপাতাল সেন্টারের বাইরে কিছু শ্রমিককে কোল্ডস্টোরেজ ট্রাকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের লাশ রাখতে দেখা গেছে। এই ছবি গণমাধ্যমে এলে সারা দুনিয়ার মানুষ দেখতে পায়। এরই প্রেক্ষাপটে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছিল কর্তৃপক্ষ।

নিউইয়র্ক সিটি মেয়র ডি ব্লাজিও। ছবি: রয়টার্সব্লাজিও ব্রুকলিনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যদি সবাই মিলে সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি, তখন প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেব। সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।’

ব্লাজিও ব্রঙ্কসের হার্ট দ্বীপের কথা উল্লেখ করেন। সেখানকার লং আইল্যান্ড সাউন্ডে প্রায় ১০ লাখ নিউইয়র্কার সমাহিত হয়েছেন। ওই জায়গাটি তাঁরা ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহার করছেন বলেও জানান।

এরই মধ্যে নগরের পার্ক বিভাগে হার্ট দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ স্থানান্তর করতে এবং ব্রঙ্কসের লং আইল্যান্ড সাউন্ডের তীরে জায়গা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর পক্ষে সিটি কাউন্সিল ভোটও দিয়েছে।


Source: https://www.prothomalo.com/northamerica/article/1649270/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A7%9F%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%80-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87

24
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, যদিও তাদের রুচি কমে গেছে, চিড়িয়াখানার বিড়াল গোত্রীয় এই প্রাণীরা ভালোই আছে। তারা আগের মতোই উজ্জ্বল, সতর্ক এবং যাঁরা তাদের দেখাশোনা করছেন, তাঁদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কীভাবে এই বড় বিড়াল গোত্রীয় প্রাণীগুলো আক্রান্ত হলো, বলা যাচ্ছে না। কারণ, বিভিন্ন জাতের প্রাণী নতুন এই সংক্রমণে বিভিন্নভাবে সাড়া দিচ্ছে। আক্রান্ত বাঘকে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং দ্রুতই সেরে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, সেখানকারই একজন কর্মী ভাইরাসের বাহক ছিলেন। যদিও তাঁর মধ্যে কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ওই কর্মীই আক্রান্ত বাঘের দেখাশোনা করতেন। ব্রংস জু ১৬ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যে কাউকে পোষা প্রাণীসহ যেকোনো প্রাণীর সংস্পর্শে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইউএসডিএ।



Source: https://www.prothomalo.com/international/article/1649060/%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%98%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%A3

25
বিশ্ব যখন করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টাসহ নানাভাবে এটি মোকাবিলা করছে, তখন ভিন্ন একটি বিষয়ের প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জাতিসংঘের মহাসিচব আন্তোনিও গুতেরেস। সেটি হলো, এই দুর্যোগের সময় নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা হু হু করে বাড়ছে। যেখানে তাদের সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা এই সময়ে, সেটি নারীদের জন্য বিভীষিকাময় হয়ে ওঠছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলা কৌশলে এটিও যুক্ত করতে রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব এ আহ্বান জানিয়েছেন বলে আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে। একাধিক ভাষায় সেই ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব এই দুর্যোগকালে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিতে বিবদমান পক্ষগুলোর প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ বেড়েছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা। সরকারগুলো করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জাতীয় যে পরিকল্পনা নিচ্ছে, তাতে নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংতা রোধের বিষয়টিও যেন থাকে।

জাতিসংঘের মহাসচিব ওষুধের দোকান ও মুদিদোকানগুলোতে জরুরি সতর্ক ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেন, নারীরা যেন তাদের নির্যাতকদের এড়িয়ে রাষ্ট্রের কাছে জরুরি সেবা চাইতে পারেন। তিনি বলেন, 'করোনা মোকাবিলায় আমরা যেমন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি, যেভাবে কাজ করলে আমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে মানুষের বাড়ি পর্যন্ত সর্বত্র সহিংসতা ঠেকাতে পারব। বিশ্বব্যাপী ঘরে ঘরে শান্তির জন্য এটা আমাদের করতেই হবে।'


Source: https://www.prothomalo.com/international/article/1649062/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A7%81-%E0%A6%B9%E0%A7%81-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87

26
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে পুরো পৃথিবী এখন লড়াই করছে, কিন্তু এই লড়াইকে যেভাবে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, তা ঠিক নয় বলে মনে করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ বড় ধরনের দুর্যোগ, সন্দেহ নেই। সবার সহযোগিতা নিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে এবং সহযোগিতার পরিবেশ তৈরির জন্য গণতন্ত্র লাগবে। গণতন্ত্র সবার সহযোগিতার মধ্য দিয়েই সফল হয়।

 অমর্ত্য সেন আরও বলেন, অস্ত্রের যুদ্ধে তো একক নেতৃত্ব থাকে, তিনি নেপোলিয়ন হতে পারেন বা স্তালিন। অর্থাৎ যুদ্ধে এমন একজন থাকেন, যিনি সিদ্ধান্ত নেন, কখন কী করতে হবে। কিন্তু এটা তো আর সে ব্যাপার নয়। সে জন্য করোনাবিরোধী এই লড়াইকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা দেওয়া ভালো কাজ নয়। কারণ, একটি দেশে তো বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী থাকে। কারও লক্ষ্য থাকে মূলত এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো। কারও লক্ষ্য থাকে খাবারের সংস্থান নিশ্চিত করা। আর কোনো দেশে লকডাউন করা হলে অনেক মানুষ চাকরি হারায়। মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে দুর্ভিক্ষ হতে পারে। অনেক মানুষ ক্ষুধায় প্রাণ হারাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের সবার সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্কে যেতে হবে। কিন্তু যুদ্ধে তো আর সহযোগিতার বালাই থাকে না।

ভারতের টেলিভিশন মাধ্যম এনডিটিভির এক অনুষ্ঠানে গত শুক্রবার তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশ্ন ছিল এ থেকে কী শিক্ষা নেওয়ার আছে। জবাবে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘আমি অবশ্য অর্থনীতি নিয়ে অতটা চিন্তিত নই। অর্থনীতি আক্রান্ত হচ্ছে বা হবে, তা তো ঠিকই, আবার এটাও ঠিক, ভারতীয় অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আছে। সমস্যা হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অবহেলা। আবার এই সমস্যা বর্তমান সরকারের আমলে সৃষ্ট নয়, আগে থেকেই আছে। আমি মনে করি, আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে; বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায়। ব্যাপারটা এ রকম নয় যে আপনি সরকারি হাসপাতালে যাবেন আর সরকার আপনার খরচ দিয়ে দেবে। আমাদের দরকার হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো।Ñএই অবকাঠামো চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশে আছে। আরও অনেক দেশেই এটা আছে, এতে সেখানে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। কিন্তু ভারতে এই স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অবহেলাটা চিরকালীন ব্যাপার।’

অমর্ত্য সেন বলেন, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ভারতে শিক্ষার প্রতি অবহেলাও আছে। এই অবহেলার নমুনা হচ্ছে, শিক্ষা এখন বেসরকারি খাতনির্ভর হয়ে পড়েছে।

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অতিমাত্রায় বঞ্চিত হওয়া নিয়ে অমর্ত্য সেনের চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে, খাদ্যবঞ্চনা ও দুর্ভিক্ষের বিশ্লেষণ। দুর্ভিক্ষের বিশ্লেষণ করে অমর্ত্য সেন যে দুটি প্রস্তাব দিয়েছেন, তা হলো: ক. ক্রিয়াশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুর্ভিক্ষ হওয়ার মতো খাদ্যস্বল্পতা সাধারণত হয় না, যদিও ক্রিয়াশীল গণতান্ত্রিক দেশেও দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যস্বল্পতা হতে পারে। খ. দুর্ভিক্ষ যে কেবল খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে হয় তা নয়, বরং গরিবের ‘খাদ্য প্রাপ্তির অধিকারহীনতা’র কারণেও ঘটে। এ ছাড়া দুর্ভিক্ষ রোধে গণ-আলোচনা, গণমাধ্যমের প্রচার—এসবের গুরুত্ব আছে বলে মনে করেন তিনি। সে জন্য গণতন্ত্র তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


Source: https://www.prothomalo.com/international/article/1649063/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A8

27

কোভিড-১৯–এ বিশ্বে মানুষ মারা যাচ্ছে। মুষ্টিমেয় মহৎ মনের বিশ্বনেতা তাঁদের দেশ ও জনগণকে এ মহামারি থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করছেন নিরন্তর, হৃদয়ের অকৃত্রিম কর্তব্যপরায়ণতা আর দায়িত্ববোধ নিয়ে। ঠিক তখনো ক্ষমতার মোহে অনেক বিশ্বনেতা অপরাজনীতির দাবা চালছেন কোভিড-১৯–এর সুযোগে।

অর্থলোলুপ অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত অনেকেই সম্পদের পাহাড়কে পর্বতে রূপান্তর করার দিবা স্বপ্নে বিভোর। সময়োপযোগী যথাযথ প্রতিরোধমূলক পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে এক দেশ অন্য দেশকে, এক নেতা অন্য নেতাকে দুষছেন। প্রতিদিন শত শত অমূল্য প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে। নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতির কথা হরহামেশা ফলাও করে প্রচার করা হলেও বাস্তবে এর অনেকটাই অকার্যকর বলে প্রতীয়মান হচ্ছে দেশে দেশে। মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টার চেয়ে অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে কোভিড-১৯–এর জন্মদাতা কোন দেশ, এমন জল্পনা–কল্পনা নিয়ে। দুর্ভাগ্য মানবতার, দুর্ভাগ্য মানবজাতির। স্রষ্টার কাছে আমরা সবাই একযোগে প্রার্থনা করি মহামারি কোভিড-১৯ থেকে মানবজাতিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য।

চারদিকে মানবতার এত সব বিপর্যয়ের মধ্যেও যে সংবাদ, যে দৃষ্টান্ত মানুষের মনে বেঁচে থাকার আশা সঞ্চার করে, তেমন কিছু ত্যাগী, মানবদরদি মানুষের কথা এ মুহূর্তে না বললেই নয়। তাঁরা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন, এ পৃথিবীতে সবাই অমানুষ নয়, সবাই স্বার্থপর নয়, ক্ষমতালোভী নয়। উদাহরণস্বরূপ সগৌরব আমরা উল্লেখ করতে পারি বর্তমানে বহুল আলোচিত কোভিড-১৯ প্রতিরোধী ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের কথা। মানবদেহে পরীক্ষামূলক এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু হয়েছে ১৬ মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে ‘কাইছার পার্মানেন্তে ওয়াশিংটন রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (KPWRI)’। প্রথম দফার পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৪৫। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট (NHI) এই পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনের ওপর গবেষণার ব্যয় বহন করছেন এবং বাইও টেকনোলজি কোম্পানি ‘মডার্না থেরাপিউটিকস’–এর গবেষকেরা সরাসরি এই পরীক্ষা–নিরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

গবেষণাক দলের প্রধান চিকিৎসক লিসা জ্যাকসন বলেছেন, ‘পরীক্ষা–নিরীক্ষা শুরু হয়েছে মাত্র, পরবর্তী ধাপে আমরা এর মূল্যায়ন করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই চেষ্টা করছি এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কার্যকরী একটা কিছু জরুরি ভিত্তিতে করার জন্য।’

আমার এই লেখায়, কে গবেষণায় অর্থায়ন করছেন বা কারা গবেষণা পরিচালনা করছেন, সেটি মুখ্য বিষয় নয়। বরং আমি অধিক গুরুত্ব দিতে চাই মানবতার সেবায় সাধারণ মানুষ যারা এই গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন পরীক্ষা–নিরীক্ষা চালানোর জন্য। আমরা সবাই এ মহামারি থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছি, আতঙ্কিত হয়ে আছে সারা দুনিয়ার মানুষ, তখন স্বেচ্ছাসেবীরা নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানবতার কল্যাণে নিজেকে এগিয়ে দিয়েছেন পরীক্ষা চালানোর জন্য। কয়জনার মন আছে এমন করে অন্যের জন্য, মানবজাতির জন্য ত্যাগ স্বীকার করার উদাহরণ?

পরীক্ষার জন্য যদিও আসল করোনাভাইরাসের জীবাণু স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে ঢোকানো হবে না, পরীক্ষাটি মানবদেহে কৃত্রিম জীবাণুর ওপর প্রয়োগ করলে তার কী কী প্রতিক্রিয়া হয় এবং এর কার্যকারিতা কতটা গ্রহণীয়, তা যাচাই করা। তা সত্ত্বেও গবেষকেরা নিশ্চিত নন মানবদেহে এর দীর্ঘমেয়াদি ফল কী হতে পারে। এর অর্থ স্বেচ্ছাসেবকেরা কিছুটা হলেও জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেই এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন নিজ সন্তানসন্ততি, পরিবার–পরিজনের মায়া–মমতা ত্যাগ করে। এই স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে আমরা চিরকৃতজ্ঞ। তাঁদের সহায়তায় পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে কোভিড-১৯–কে পরাস্ত করার কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিজ্ঞানীরা যেন সফল হন এবং সুস্বাস্থ্যে স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁদের পরিবারে ফিরতে পারেন, সে কামনা রইল আমাদের সবার পক্ষ থেকে।

নিল ব্রাউনিং মাইক্রোসফট নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার। ছবি: সংগৃহীতপ্রথম দফার প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক সিয়াটলের ৪৩ বছর বয়সী জেনিফার হলার। তিনি পেশায় একটি টেক কোম্পানির ম্যানেজার এবং দুই সন্তানের মা, ছেলের বয়স ১৬ এবং মেয়ের বয়স ১৩ বছর। ১৬ মার্চ তার শরীরে পরীক্ষার জন্য ভ্যাকসিন দেওয়ার পর তিনি বলেছেন, ‘আমরা সবাই অসহায় অনুভব করছি এ মহামারির জীবাণুর কাছে। তবে এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আমি আমার জীবনে অত্যন্ত ভালো কিছু করার সুযোগ পেয়েছি বলে মনে করি।’ তাঁর সন্তানেরা বলেছে তাদের মা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নিল ব্রাউনিং নামের ৪৬ বছর বয়সের ওয়াশিংটন নিবাসী মাইক্রোসফট নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার। তিনিও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ১৬ মার্চ তাঁর দেহে পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তাঁর তিন মেয়ের বয়স ৮, ৯ ও ১১ বছর। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক মা–বাবাই চান তাঁদের সন্তানেরা তাঁদের দেখভাল করবেন কিন্তু এটি কেবল মা–বাবার মধ্যেই সীমিত নয়, আরও মানুষ রয়েছে সেবা পাওয়ার জন্য।

দেখুন কী মানবীয় গুণের মহামূল্যবান উক্তি এই স্বেচ্ছাসেবক নিল ব্রাউনিংয়ের কণ্ঠে। তাঁদের মহৎ ত্যাগের বিনিময়ে হাজারো মানুষের প্রাণ রক্ষা পাবে কোভিড-১৯–এর মৃত্যুর হাতছানি থেকে, এ কামনা রইল নিরন্তর।


Source: https://www.prothomalo.com/durporobash/article/1649084/%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1-%E0%A7%A7%E0%A7%AF-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87

28

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বিভিন্ন পাড়ামহল্লা, মসজিদ, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট, যানবাহন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন তরুণ ব্যবসায়ী আশিকুল আলম। ৩ মার্চ, পূর্ব পাইকপাড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর। প্রথম আলোকখনো পাড়ামহল্লা, বাড়িঘর, রাস্তাঘাটে। আবার কখনো হাসপাতাল, ক্লিনিক, মসজিদ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন তিনি। বাদ যায় না রাস্তার রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলও। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন আশিকুল আলম (৩০)। গত ১০-১২ দিন ধরে পানির সঙ্গে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে কাঁধে ১৮ লিটারের জীবাণুনাশক যন্ত্র নিয়ে আশিকুল কাজ করে যাচ্ছেন। এখন সবাই তাঁকে ‘স্প্রে আশিক’ বলে ডাকে।

আশিকুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মুন্সেফপাড়া মৃত মো. হাবিব আলমের ছেলে। তাঁর পেশা ব্যবসা। ২০১২ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। পরে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় সম্পৃক্ত হন।

আশিকুল বলেন, ‘মানুষ করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কিত। আমরা কখনো এ রকম পরিস্থিতি দেখিনি, অভিজ্ঞতাও নেই। আতঙ্ক দিনদিন বাড়ছে। শহর জুড়ে চলছে মাইকিং। যে যেভাবে পারছেন, এগিয়ে আসছেন। তাই মানুষের নিরাপত্তার চিন্তা থেকেই জীবাণুনাশক ছিটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করি। পরিবেশ, রাস্তাঘাট, সরকারি দপ্তর, পাড়া মহল্লা, হাসপাতাল ও মসজিদসহ সবকিছু যেন জীবাণুমুক্ত থাকে এই জন্যই আমি এই কাজ করছি। আর মানুষকে সচেতন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এটা নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব।’

আশিকুল জানান, তিনি গত ২৪ মার্চ ওই জীবাণুনাশক ছিটানোর যন্ত্রটি কিনেছেন। ওইদিন দুপুরে যন্ত্রটি নিয়ে তিনি নিজের ঘর, এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটে জীবাণুনাশক ছিটিয়েছেন। ৩১ মার্চ দুপুরে নিজের টাকায় ৫০টি মাস্ক কিনে রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও ভিক্ষুকদের মধ্যে বিতরণ করেছেন।

গতকাল রোববার জেলা শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ার বিভিন্ন বাড়িঘর কীটনাশক ছিটিয়েছেন আশিকুল। এর আগের দিন জেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জামে মসজিদ, নার্সদের ডরমিটরি, বাগানবাড়ি এলাকা ও জেলা শহরের জুবিলি রোড জামে মসজিদে জীবাণুনাশক ছিটিয়েছেন। তিনি বলেন, নিজ এলাকা মুন্সেফপাড়া ছাড়াও তিনি জেলা শহরের পাইকপাড়া, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল, পশ্চিমঘেঁষা এলাকার আলিয়া মাদ্রাসা মোড়, ফুলবাড়িয়া, সদর উপজেলার বড় হরণ এলাকার রাস্তাঘাট এবং কিছু বাড়ি ঘরে কাঁধে করে এই যন্ত্র নিয়ে জীবাণুনাশক ছিটিয়েছেন। এমনকি রাস্তাঘাটে চলাচলকারী রিকশা, ইজিবাইকই, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও বাদ পড়েনি।

আশিকুল আলম বলেন, সমাজের মানুষের জন্য কাজ করতে তাঁর যেমন ভালো লাগে, তেমনি ঘুরে-বেড়াতেও ভালো লাগে তাঁর। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মিশর ঘুরে বাংলাদেশে আসেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, গ্রিস, তুরস্ক, জর্ডান ভ্রমণ করেছেন। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, পেরু, বলিভিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত, ইতালি, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, কোরিয়া, জাপান, সুইজারল্যান্ড, ভ্যাটিক্যান সিটিসহ ৩০ টির বেশি দেশ ঘুরেছেন। আশিকুল জানান, ২০১০ সালে বিদেশ ভ্রমণ শুরু করেন তিনি। এ পর্যন্ত পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে ছয়টি দেখেছেন। মেক্সিকোর চিচেন ইৎজা দেখার বাকি আছে। আর ইতালির কলোসিয়াম ও জর্ডানের পেত্রায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন তিনি।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1649091/%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%95-%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E2%80%98%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E2%80%99

29

‘হ্যান্ডবুক অব কোভিড-১৯ প্রিভেনসন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট’ নির্দেশিকার প্রচ্ছদ।এটি একটি নজিরবিহীন যুদ্ধ। সমগ্র মানবজাতির শত্রু একটাই, নতুন করোনাভাইরাস। যুদ্ধক্ষেত্র হচ্ছে হাসপাতাল। স্বাস্থ্যকর্মীরাই এখানে সৈনিক। তাঁদের জন্য নির্দেশিকা। শিরোনাম ‘হ্যান্ডবুক অব কোভিড-১৯ প্রিভেনসন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট’। চীনে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও শুশ্রূষায় অংশ নেওয়া চিকিৎসকেরা এই নির্দেশিকা তৈরি করেছেন।

শুরুতে অধ্যাপক টিংবো লিয়ান সম্পাদকীয় নোটে বলেছেন, একটি অপরিচিত ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে প্রতিকারের উপায় হচ্ছে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা। টিংবো লিয়ান জেজিয়াং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের দ্য ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটালের চেয়ারপারসন। এই হাসপাতালে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ১০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ৭৯ জনের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। কিন্তু কোনো রোগী মারা যাননি। চীনের ও এই হাসপাতালের চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ৬৪ পৃষ্ঠার নির্দেশিকা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৈশ্বিক চেহারা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। তার ভিত্তিতে বাংলাদেশেও প্রতিরোধ ও চিকিৎসার নির্দেশনা তৈরি হয়েছে।

Lifebuoy Soap

আইসোলেশন নিয়ে এ দেশে এখন বিস্তর কথা হচ্ছে। চীনের নির্দেশিকাটির শুরুতেই আছে আইসোলেশন এলাকা ব্যবস্থাপনার কথা। এলাকাটির একটি বিস্তারিত নকশার বর্ণনা নির্দেশিকায় আছে। সংক্রমিত, সম্ভাব্য সংক্রমিত ও সংক্রমণহীন মানুষের জন্য কোন ধরনের এলাকা হবে, তা পরিষ্কার করে বলা আছে। এখানেই পরীক্ষার বিস্তর আয়োজন। এখানেই ঠিক হবে কাকে হাসপাতালে রাখতে হবে, কাকে ভর্তি না করে আলাদা করে রাখতে হবে। আর কাকে বাড়ি যেতে বলা হবে।

এরপর আইসোলেশন ওয়ার্ডের বর্ণনা। ওয়ার্ডে তিনটি ভাগ—পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড, মূল ওয়ার্ড ও আইসিইউ এলাকা। ওয়ার্ডের প্রয়োজনীয়
সামগ্রীর বর্ণনা আছে। রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে: আত্মীয়স্বজনের আসা-যাওয়া ও নার্সিং সেবা কমাতে হবে। রোগীরা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আরও সংক্রমণ যাতে না ছড়ায়, সে বিষয়ে রোগীদের শিক্ষিত করে তুলতে হবে। সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা, থুতু ফেলা, ঠিকভাবে হাত ধোয়া—এসব ব্যাপারে রোগীদের সঠিক নির্দেশনা দিতে হবে।

‘হ্যান্ডবুক অব কোভিড-১৯ প্রিভেনসন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট’ শিরোনামের এই নির্দেশিকায় রয়েছে চীনের অভিজ্ঞতা।

নির্দেশিকাটি তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা আলোচনা করা হয়েছে। এখানে পৃথক পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় অংশে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা বিষয়ে। এখানে ১৭টি পৃথক বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়াংশে নার্সিং বিষয়ে বর্ণনা আছে। এখানে ছয়টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

নির্দেশিকায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা পোশাক পরা ও পোশাক খুলে রাখার ব্যাপারে সচিত্র বর্ণনা আছে। ভাইরাসটির সংক্রমণক্ষমতা খুবই বেশি এবং যেকোনো সামান্যতম অসতর্কতার কারণে সংক্রমণ ঘটে যেতে পারে—সেই কারণে পোশাকের ব্যাপারে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের দেয়াল, মেঝে ও কক্ষের বায়ু জীবাণু ও দূষণমুক্ত করার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগীর এবং সন্দেহভাজন রোগীর পোশাক পরিষ্কার করার জন্য পৃথক নির্দেশনা আছে।

নির্দেশিকার শেষ অংশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত মৃদু, মাঝারি, তীব্র ও জটিল উপসর্গের রোগীকে কী চিকিৎসা দিতে হবে, তার বর্ণনা দেওয়া আছে।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1649093/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE

30
করোনার ভ্যাকসিন তৈরির জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো । ছবি: রয়টার্সবিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাকসিন ও ওষুধের খোঁজ চলছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ছোট বায়োটেক কোম্পানি ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যাল করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার অনুমোদন পাওয়ার পর সুস্থ স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইনোভিও তাদের ভ্যাকসিন তৈরির প্রচেষ্টায় বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন ও কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা বিষয়ক ওয়েবসাইট বিজনেস ইনসাইডার এক প্রতিবেদনে বলেছেন, করোনাভাইরাসের চিকিৎসা বা ভ্যাকসিনের জন্য দ্রুত চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে দেশটির শীর্ষ ১২টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এ মহামারি রোধে প্রচেষ্টা শুরু করেছে। এর মধ্যে ইনোভিওর তৈরি ‘আইএনএ-৪৮০০’ ভ্যাকসিনটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানব পরীক্ষা শুরু করার জন্য দ্বিতীয় সম্ভাব্য করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাসাচুসেটসের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান মর্ডানা তাদের ভ্যাকসিন নিরাপদ কিনা তা পরীক্ষা শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজেসের পরিচালক অ্যান্থনি এস ফাউসি বলেছেন, ভাইরাসটির বিরুদ্ধে কোনো ভ্যাকসিন নিরাপদ এবং কার্যকর কিনা তা জানতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার হওয়ার ভ্যাকসিন খুঁজে পাওয়ার জন্য গবেষকদের ওপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান মর্ডানা গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য সরকারি গবেষকদের কাছে পাঠিয়েছিল। এ মাসের শুরুর দিকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ডোজ স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের জেনিফার হলারের ওপর করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। সিয়াটলের কায়সার পার্মানেন্তে ওয়াশিংটন রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে প্রথম ইনজেকশনের মাধ্যমে টিকা নেন হলার।

ইনোভিও ভ্যাকসিন পরীক্ষার ক্ষেত্রে ফিলাডেলফিয়ার ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া মেডিকেল স্কুল ও মিসৌরির কানসাস সিটির সেন্টার ফর ফার্মাসিউটিক্যাল রিসার্চে ৪০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অংশ নিচ্ছেন। প্রতিজন স্বেচ্ছাসেবক চার সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ডোজ ভ্যাকসিন পাবেন। ইনোভিও পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা দ্রুত পরীক্ষা শেষে গ্রীষ্মের শেষের ফলাফল প্রত্যাশা করছে। যদি ফলাফল ইতিবাচক আসে তবে তারা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা মূল্যায়নের দিকে লক্ষ্য রেখে আরও একটি গবেষণা শুরু করবে।

অভূতপূর্ব বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় কোনো ভ্যাকসিন নিরাপদ এবং কার্যকর হিসাবে প্রমাণিত হলে তা উৎপাদন ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। ইনোভিও বলছে, তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে যাতে ২০২০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ডোজ তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা যায়। জরুরি প্রয়োজনের সময় বাড়তি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় এসব ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যেতে পারে।


Source: https://www.prothomalo.com/northamerica/article/1649305/%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%B8-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0

Pages: 1 [2] 3 4 ... 245