Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - Shamim Ansary

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 245
31
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসের বিস্তার বাড়ছে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার গভর্নর জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও হাসপাতালে নতুন ভর্তির সংখ্যা কমেছে। তবে মার্কিন সার্জন জেনারেল বলেছেন, আসছে সপ্তাহে করোনার বিস্তার বাড়তে পারে।

টাস্কফোর্সের শীর্ষ চিকিৎসক বলেছেন, এই ভাইরাসটি বারেবারে ফিরে আসতে পারে। এ জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।অ্যালার্জি এবং সংক্রামক রোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অ্যান্থনি স্টিফেন ফাউসি সতর্ক করে বলেছেন, করোনাভাইরাস 'মৌসুমি ফ্লুর প্রকৃতি' ধারণ করবে। এটি বিশ্বব্যাপী নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা খুব কম।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো গতকাল জানিয়েছেন, এখানে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শনিবারে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬৩০। গতকাল একদিনে নতুন ৫৯৪ জনের নাম যোগ হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, হাসপাতালে করোনাভাইরাস নিয়ে ভর্তি হওয়া ৭৫ শতাংশই ঘরে ফিরেছেন। দুইদিনে ভর্তির সংখ্যাও কমেছে।

তবে নিউইয়র্ক নগরীর মেয়র ডি ব্লাজিও সতর্ক করে বলেছেন, নগরীর হাসপাতালগুলোতে ৮ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ ভেন্টিলেটর দরকার পড়বে। তাদের কাছে এখন পর্যন্ত যা আছে তা ৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের মজুত থেকে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছানোর জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন।

কংগ্রেসের ইন্টেলিজেন্স কমিটির রেংকিং সদস্য ডেভিন নানস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাত দিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে আবার সচল করতে প্রেসিডেন্ট আরেকটি টাস্কফোর্স গঠন করবেন। নিউইয়র্ক থেকে নিউজার্সি ,কানেক্টিকাট , মিশিগানসহ ছড়িয়ে পড়া অঙ্গরাজ্য ও নগরীগুলোর বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্রুত উন্মুক্ত করার পক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

মার্কিন সার্জন জেনারেল জেরোম এডাম গতকাল বলেছেন, আসছে সপ্তাহটি আমেরিকার বেশির ভাগ মানুষের জন্য জটিল হবে। সময়টি হবে পার্ল হারবার বা নাইন ইলেভেনের মতো জটিল। তিনি বলেন, মৃত্যু শুধু একেক জায়গায় হবে এমন নয় , পুরো আমেরিকায় হবে। আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি, ৩০ দিনের মাথায় সুড়ঙ্গের শেষে আলো দেখার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন তিনি।


Source: https://www.prothomalo.com/northamerica/article/1649098/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87

32
পুরো পৃথিবীর রাজনীতি কিংবা অর্থনীতি দুই-ই করোনায় বুঁদ। এশিয়া থেকে আফ্রিকা কিংবা উত্তর আমেরিকা থেকে দক্ষিণ আমেরিকা-সবখানেই বিশ্ববাসী চরম অস্থিরতায় দিনাতিপাত করছেন। কোভিড-১৯ এ জেরবার বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত অর্থনীতি ধারণা মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম। সব দেশ সীমান্তে স্থিতাবস্থার আরোপ করেছে। দেশগুলো হয়ে পড়েছে কার্যত বিচ্ছিন্ন। অদৃশ্য এক ভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।

বেশ কয়েক দিন আগের আলোচনা ঝুঁকছিল ছিল পৃথিবীর ভবিতব্য সুপার পাওয়ার কে ঘিরে। এক করোনা এসে রাজনীতি আর অর্থনীতির গণ্ডিকে টেনে হিঁচড়ে সামনে এক অনিশ্চয়তার দেয়াল তুলে দিল।

আকাশচুম্বী উন্নয়ন দেখতে দেখতে পুরো পৃথিবী কখন যে গাছের মরা ডালের আগায় উঠে গেছে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে নি অনেকেই। সব সময় খুঁজেছে লাভের প্রসঙ্গ। ফলাফল-পুরো পৃথিবীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, পরিবেশ সুরক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ‘করোনা’-র প্রলয় নাচন। পরিপ্রেক্ষিতে পৃথিবীর ‘জায়ান্ট’ কিংবা আটপৌরে জনতার জীবন এখন হুমকিতে। পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিগুলো এখন পারমাণবিক অস্ত্রের লড়াইয়ের বদলে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছে। এ এক অদৃশ্য লড়াই।

ইউরোপ কিংবা তার ন্যাটো জোট এবার তার দৃশ্যমান শক্তি রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়ছে না, লড়ছে অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে।

ইউরোপের ইতালি ও স্পেন ধুঁকছে চরমভাবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেশ দুটো করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে উভয় দেশেই মৃতের সংখ্যা আলাদাভাবে ১০ হাজার করে ছাড়িয়েছে। মৃতের মুহুর্মুহু আর্ত চিৎকারে ইতালি এবং স্পেনের সঙ্গে পুরো ইউরোপের আকাশ বাতাস কাঁপছে।

যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট আত্মশ্লাগার জয় হয়েছে। তবে এই জয়রথকে ম্লান করে দিয়েছে করোনার আক্রমণ। এক কালের সুপার পাওয়ার করোনার কাছে নেহাত এখন ‘ভাইরাস প্রোডাকটিভ এরিয়া’ বৈ কিছু নয়। ব্রেক্সিটের নেপথ্য নায়ক খোদ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়েছেন। এখন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও করোনা আক্রমণ থেমে নেই। দেশগুলোতে প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শনাক্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা।

পৃথিবীর অন্যতম সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রও জেরবার করোনা ভাইরাসে। ট্রাম্প প্রশাসন করোনা মহামারি মোকাবিলায় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের ‘কাশেম সোলাইমানি’ শোকের ক্ষত এখনো দগদগে। তাদের জন্য করোনা'র উপর্যুপরি আঘাত হয়ে এসেছে। দেশটির বেশ কয়েকজন সাংসদ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।

যেখান থেকে ভাইরাসের আবির্ভাব সেই চীন এখন ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে ক্রমেই সেরে উঠছে। প্রথম দিকে চীনের বিরুদ্ধ শক্তিরা মনে মনে আউড়েছে যে, চীনকে এবার বাগে পেয়েছে! তবে চীন যেভাবে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে তা পুরো টালমাটাল পৃথিবীর জন্যই আশা জাগানিয়া। এ ক্ষেত্রে আরও কিছু আশা জাগানিয়া নাম হতে পারে কিউবা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। কিউবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে যারা খানিকটা খোঁজ রাখেন তারা জানেন দেশটি তার নাগরিকের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কীভাবে নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছে। নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুর সব সময় নাগরিকদের সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। তাদের বিশ্বমানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং কেজো আমলাতন্ত্রের মিশেল করোনার বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার এখন ক্রমেই নিম্নমুখী। সেখানে ব্যাপক হারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আক্রান্ত নাগরিকদের আলাদা করে ফেলা হয়েছে। ফলে সে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। জাপান করোনায় সংক্রমণ কমানোর জন্য বেশ জোরেশোরে কাজ করছে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার সব ধরনের যানবাহন চলাচল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বড় জমায়েতের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বাংলাদেশে এখনো সে অর্থে করোনার বিস্তার খুব বেশি ঘটেনি। তবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়। রোগীর বিপরীতে চিকিৎসকের আনুপাতিক হার তার ছোট্ট একটা উদাহরণ মাত্র।

জাতিসংঘের ‘সাসটেইনয়েবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’ এবার হয়তো বিশ্ব উন্নয়নকে নতুন করে ভাবাবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যে উন্নয়ন যজ্ঞের গল্প চলে তা কতটা মেকি তা বিশ্ববাসী এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

কোন ফাঁক-ফোকর গলে জিডিপি স্তূপীকৃত হচ্ছে তা করোনা দেখিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে যে উন্নয়ন হচ্ছে তার সামনে করোনা নতুন এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিল।

শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্রের ঝনঝনানিতে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালা যে অন্তঃসার তা এবার অনুমেয়। সময় হয়েছে বিশ্বকে নতুন করে ভাববার। হয়তো পরবর্তী দিনগুলোতে করোনার প্রকোপ কমবে, তবে এক কঠিন পরিস্থিতি পৃথিবীর কথিত ‘উন্নয়ন’-এ পিটিয়ে সামনের দিনগুলোর জন্য আগাম বার্তা জানিয়ে রাখল।


*লেখক: শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Source: https://www.prothomalo.com/nagorik-sangbad/article/1649099/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8

33

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিন গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় লকডাউন ঘোষণা করেছেন। গ্রামের প্রবেশপথ বন্ধ করে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছবিটি আজ সোমবার ধুলটিয়া গ্রাম থেকে তোলা। ছবি: প্রথম আলো

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিনটি গ্রামের মানুষ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁরা স্বেচ্ছায় লকডাউনে থাকছেন। গ্রাম তিনটির প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ গ্রাম থেকে বের হচ্ছেন না। আবার বাইরের কাউকেও গ্রাম তিনটিতে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।

গ্রাম তিনটি হলো ধুলটিয়া, নবধুলটিয়া ও মোহনপুর।

গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সরকারি নির্দেশনা ভেঙে আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন তাদের গ্রামগুলোতে আড্ডা দিতে আসেন। এতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। তাই তাঁরা নিজেরাই লকডাউন ঘোষণা করেছেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রণ ঠেকাতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিন গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় লকডাউন ঘোষণা করেছেন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গ্রামের প্রবেশপথ। ছবিটি আজ সোমবার ধুলটিয়া গ্রাম থেকে তোলা। ছবি: প্রথম আলোআজ সোমবার দুপুরে স্থানীয় যুবকেরা গ্রামগুলোর প্রবেশপথে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে রেখেছেন। সেখানে একটি নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছেন। নোটিশে লেখা আছে, 'প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি ছাড়া বহিরাগতদের গ্রামে প্রবেশ নিষেধ।' গ্রামের প্রবেশপথে যুবকেরা নিরাপদ দূরত্ব রেখে অবস্থান করছেন। তাঁরা বাইরের লোকদের গ্রামে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করছেন।

ধুলটিয়া গ্রামের হিমেলুর রহমান বলেন, 'আড্ডা দেওয়ার জন্য প্রতিদিন অনেক বহিরাগত গ্রামে আসেন। তাঁরা সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে অবাধে মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেন ও চলাফেরা করেন। এতে গ্রামে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি এড়াতেই সচেতন গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।'

নবধুলটিয়া গ্রামে বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, 'করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গ্রামবাসী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো। আর এটি দেখে অন্যরাও অনেক সচেতন হবেন।'

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান এ উদ্যোগের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1649139/%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A7%80-%E0%A6%A6%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4

34
নির্দেশনাসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ভোলা শহরে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহনের মালিক ও চালকদের জানানো যাচ্ছে যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অটো (বোরাক), মাহেন্দ্র, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভোলা পৌরসভার সড়ক এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ।

কেবল রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা একজন যাত্রী নিয়ে ভোলা শহরের সড়কে চলতে পারবে।

মালবাহী ট্রাক, ট্রলি, নছিমন, করিমন সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। সব চালক ও যাত্রীকে অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1649158/%E0%A6%AD%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%B6%E0%A6%B9%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9C%E0%A6%A8

35
পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওষুধের দোকান ছাড়া সারা দেশের সব দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।

সুপারশপ ও স্বীকৃত কাঁচাবাজারগুলো ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। পাড়ামহল্লার মুদি দোকানগুলো খোলা থাকবে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। চালু থাকবে শুধুমাত্র ওষুধের দোকান।

জানা গেছে, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা ইতিমধ্যে এই নির্দেশনা সম্পর্কে সুপারশপগুলোকে জানিয়ে দিয়েছেন। সরকার ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1649162/%E0%A6%93%E0%A6%B7%E0%A7%81%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AC-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7

36
করোনাভাইরাস নিয়ে ব্র্যাকের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কথা বলেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বেনজির আহমেদ।

তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সামাজিক দূরত্ব বলতে কী বোঝায়? কেন জরুরি? তিনি বলেন, ‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা এখন একটাই, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সামাজিক দূরত্ব হতে পারে ব্যক্তি পর্যায়ে, যেমন ঘরে বসে অফিস করা, বাজারে বা বাইরে না যাওয়া। পারিবারিকভাবে হতে পারে যেমন কেউ আক্রান্ত হলে ঘরে থাকা বা পরিবারের সদস্যদের থেকেও দূরত্ব বজায় রাখা। সামাজিকভাবে হতে পারে, যেমন দোকানপাট, বাজার, স্কুল-কলেজ, গণপরিবহন বন্ধ রাখা। আবার রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও হতে পারে, যেমন বিদেশে যাতায়াতের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখা, এক দেশ থেকে অন্য দেশে মানুষের যাতায়াত বন্ধ রাখা—এগুলো সবই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।’

বেনজির আহমেদ মাস্কের ব্যবহার সম্পর্কেও বিশদভাবে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘মাস্কের ব্যবহার সম্পর্কে নানা ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়েছে। আমাদের বুঝতে হবে কখন কোথায় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। আমরা মাস্ক ব্যবহার করি দুটো কারণে, আমাদের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে জীবাণু যেন বাতাসে ছড়িয়ে না পড়ে এবং বাতাসে থাকা জীবাণু যেন আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ভেতরে না ঢোকে। আমাদের ঘরের ভেতরে যদি কেউ আক্রান্ত ব্যক্তি না থাকে তাহলে ঘরে মাস্ক পরে থাকার দরকার নেই। কিন্তু আমরা যখন বাজারে যাচ্ছি বা বাইরে বের হচ্ছি, তখন অন্যের হাঁচি কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ানো জীবাণু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাস্ক পরতে হবে। আবার যখন রোগীর সেবা করছি, তখন অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।’

করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন। নিজে সতর্ক থাকুন এবং অন্যকেও জানান।


Source: https://www.prothomalo.com/life-style/article/1649163/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%93-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6-%E0%A7%A6%E0%A7%A9

37
বিশ্বের অনেক দেশেই গরম পড়তে শুরু করেছে। গরম আবহাওয়ায় যুক্তরাজ্যে লকডাউন রাখা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে জনসমাগম আটকানো কর্তৃপক্ষের জন্য বেশ চাপের হবে। এ অবস্থায় কী করণীয় হবে, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, গরম আবহাওয়ায় এই ভাইরাসের প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা দেখে নতুন কোনো ধারণা পাওয়া সম্ভব। অনেক সংক্রামক রোগের প্রকোপ শীত মৌসুম চলে গেলে বা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে কমে যায়। সে রকম সূর্যের আলো কি করোনভাইরাস ও এর বিস্তারকে প্রভাবিত করতে পারবে—এটিই এখন মূল প্রশ্ন। এপিডেমিওলজিস্টরা খুব কাছ থেকে এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন। অনেকে বলেন, মৌসুমি রোগের ক্ষেত্রে যা কাজ করে, মহামারির ক্ষেত্রে অনেক সময় তা প্রযোজ্য হয় না।

ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান–এর অনলাইন একাধিক বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই করোনাভাইরাসের আগে যে করোনাভাইরাসগুলো ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের মানুষদের ঠান্ডা লেগে সর্দি হয়েছে। শীতে ব্যাপক বাড়ত এর প্রকোপ। আবার বসন্ত আসতে আসতে কমে যেত। অদ্ভুতভাবে প্রায় সব ধরনের ফ্লুর ক্ষেত্রে এমনটা হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জাও শীতের মৌসুমে দেখা দেয়, গরম শুরু হলে চলে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৌসুম পাল্টালেও সামান্য পরিমাণে সংক্রমণ দেখা গেছে।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীরা সাধারণ কিছু করোনাভাইরাস যেমন: এইচসিওভি-এনএলসিক্সথ্রি, এইচসিওভি-ওসিফোরথ্রি, এইচসিওভি-টুটুনাইনই নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। বেশ কয়েক বছর আগে সংগ্রহ করা নমুনা বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখেছেন, ফেব্রুয়ারিতে করোনাভাইরাস (আগেরগুলো) সংক্রমণের হার অনেক বেশি, গ্রীষ্মে প্রকোপ খুব কম। অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে যে করোনাভাইরাসগুলো আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আচরণ পরিবর্তন করে।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞ এ ধরনের মতামতের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী জানাচ্ছেন। গবেষক রব আলড্রিজ সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমরা গ্রীষ্মে করোনাভাইরাস সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে দেখেছি, তবে খুবই কম হারে। তবে শীতে এটি আবার বেড়ে যায়। নোভেল করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে আমরা জানি না এটি মৌসুমি প্যাটার্ন ধরে রেখেছে কি না। এ জন্য বর্তমান যে স্বাস্থ্য পরামর্শ জারি আছে, তা অনুসরণ করে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিড-১৯ রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস, যার আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে সার্ক-কোভ-২, একেবারেই নতুন ধরনের একটি ভাইরাস, যেটি সম্পর্কে খুব কম তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। এটা ঋতুর সঙ্গে কতটা বদলাতে পারে তা দেখার। তবে শুধু তাপমাত্রা নয়, মানুষের আচরণ, তাদের মেলামেশা, একটি স্থানে কত মানুষ অবস্থান করছে, এ রকম আরও কিছু বিষয়ের ওপর ভাইরাসে বিস্তার নির্ভর করে।

ইমপিরিয়াল কলেজ লন্ডনের ভাইরোলজিস্ট মাইকেল স্কিনার বলেন, ‘আমি নিশ্চিত ভাইরাসের আচরণ ও এর বিস্তার মৌসুমি তারতম্য দ্বারা প্রভাবিত হবে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে যে প্রভাব ফেলবে, তার তুলনায় এটি খুব সামান্য। এটি কিছু প্রান্তিক প্রভাব ফেলতে পারে তবে স্ববিচ্ছিন্নতার (আইসোলেশন) বিকল্প হবে না।’

বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন রিডিং ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজিস্ট বেন নিউম্যান। তিনি বলেন, এই ভাইরাস শুরু হয়েছিল চীনের একদম হাড় হিম করা আবহাওয়ায়। এখন একদিকে আইসল্যান্ড অন্যদিকে ব্রাজিল, ইকুয়েডরের মতো নিরক্ষীয় অঞ্চলে তা দ্রুত বাড়ছে। শীত শেষ হয়ে বসন্ত আসতে শুরু করল, তারপরও বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসের বিস্তার অব্যাহত আছে। এটি অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের মতো নয়, মেঘ সরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো মেশিনও না, একে আমাদের, মানুষকেই মোকাবিলা করতে হবে।’

অন্য গবেষকেরা বলছেন, এটি মানবশরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনতে পারে। সারে ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজিস্ট ন্যাটালি রিডেল বলেন, ‘আমাদের ইমিউন সিস্টেম একটি দৈনিক ছন্দ প্রদর্শন করে, তবে মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এটি কেমন আচরণ করে, সে সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না।’

এ বিষয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন ইমিউনোলজিস্টরা। সারে ও কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন মৌসুমে এবং দিনের বিভিন্ন সময়ে মানুষের শরীরে প্রতিরোধের যে পরিবর্তন হয় তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। শীত, গ্রীষ্ম, বসন্ত বিভিন্ন সময়ের নমুনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইমিউন সিস্টেমে মূল ভূমিকা রাখে শ্বেত রক্তকণিকার একটি সাবসেট, যা দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বৃদ্ধি পায়। যা ইঙ্গিত করে, যে ইমিউন সিস্টেম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সাড়া দেয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বি সেল যা মানবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি করে সেটি রাতে বৃদ্ধি পায়।

তবে মৌসুমের সঙ্গে ইমিউন সিস্টেমের সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক এখন গবেষণাধীন।


Source: https://www.prothomalo.com/international/article/1649138/%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%B6%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0-%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%BE

38
করোনায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও মন্দা অবস্থার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার মানুষকে কাজে নিয়োগের জন্য অফার দিচ্ছে বড় বড় করপোরেট কোম্পানিগুলো। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও লোক নিয়োগের আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে। সিটি পুলিশেও নিয়োগের জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে লোক নিয়োগের জন্য আগের থেকে দ্বিগুণ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন থেকে আবেদনপত্র অনলাইনে জমা দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত ই-মেইলে লিংক পাঠাচ্ছে।

করোনার কারণে অনেকেই চাকরি ছেড়ে বা হারিয়ে এখন বাড়িতে থাকছেন। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোর লোক নিয়োগ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রিটেইল কোম্পানিগুলোতে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। কসকো, বিজেসের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লোক নিয়োগে ব্যাপক প্রচার চলছে। আগের তুলনায় ঘণ্টায় চার বা পাঁচ ডলার করে বেশি দেওয়ার অফার দেওয়া হচ্ছে।

নিউইয়র্কে কাজ পেতে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, আমেরিকায় সব সময় চাকরির বাজার উন্মুক্ত। তবে এ সময় অনেক প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। চাকরি পেতে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাহায্য করে যাচ্ছে। অনলাইনে কীভাবে আবেদন করতে হবে সে বিষয়ে তারা সহযোগিতা করছেন। এ আবেদন ঘরে বসেই করা যাচ্ছে।


Source: https://www.prothomalo.com/northamerica/article/1649254/%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%93-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97

39
তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে লোকজন লকডাউন মানছে কি না, তা নিশ্চিত করতে একটি পুলিশ রোবট মোতায়েন করা হয়েছে। কাউকে রাস্তায় চলাফেরা করতে দেখলে এই গোয়েন্দা নজরদারির যন্ত্র তার কাছে গিয়ে বাইরে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করবে।

রোবট পুলিশের হাত থেকে নিস্তার পেতে আইডি কার্ড বা অন্যান্য কাগজপত্র দেখাতে হবে। রোবটে যুক্ত ক্যামেরায় মাধ্যমে রোবট পরিচালনাকরী পুলিশ সদস্যরা সে কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখবেন।

ভাইরাস সংক্রমণের শিকার দেশটি লকডাউনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার করছে। ইতিমধ্যে এখানে ১৪ জন করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারা গেছেন। দেশটিতে সবাইকে বাড়িতে থাকতে বলা হলেও ওষুধসহ জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাইরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের কত রোবট ‘পি-গার্ড’ মোতায়েন করেছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি। ইভোনা রোবোটিকসের তৈরি রোবটগুলোর দামও প্রকাশ করা হয়নি। এর নির্মাতারা বলছেন, রোবট মোতায়েন ও দামবিষয়ক তথ্যগুলো তাদের গোপনীয়। চারটি চাকাযুক্ত পি–গার্ড রোবটে থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা ও লাইট ডিটেকটিং অ্যান্ড রেঞ্জিং (লিডার) প্রযুক্তি রয়েছে। এতে বেতার তরঙ্গের পরিবর্তে আলোকতরঙ্গ ব্যবহার করে রাডারের মতো কাজ করে।

অনেকেই রোবট মোতায়েনের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ কেউ অবশ্য একে বাস্তবিক কাজের ক্ষেত্রে অনেক ধীরগতির বলে মন্তব্য করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওই রোবটের কার্যক্রমের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রোবটটি এক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেছে, তিনি কেন বাইরে এসেছেন? লকডাউনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন কি না? এর জবাবে ওই ব্যক্তি সিগারেট কিনতে বাইরে বের হওয়ার কথা বলেছেন। রোবটটি অবশ্য তাতে বাধা দেয়নি। দ্রুত কাজ সেরে বাসায় ফিরে যেতে বলেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইভোনার গ্রাহক ছিল। এখন চিকিৎসা খাতে প্রয়োজনীয় রোবট তৈরির কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীনে করোনাভাইরাস ছড়ানোর পর থেকে সেখানে রোবোটিক প্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের ব্যবহার বাড়তে দেখা গেছে।


Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1648692/%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B6

40
নিউইয়র্কে ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশির করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মর্মান্তিক খবরটি শুনে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ড. আবদুল্লাহকে ফোন করি। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার কথা। এর আগের কয়েক দিনেও বেশ কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে আমাদের একজন আত্মীয় পর্যন্ত আছেন। আবদুল্লাহ ভাই আইবিএমের স্টেশনপ্রধান ছিলেন। এখন অবসরে। থাকেন নিউইয়র্কেই। কেন্দ্র থেকে দেড় ঘণ্টা দূরে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, আমেরিকায় এত উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, সেখানে কেন করোনায় এত মৃত্যু সইতে হচ্ছে? অথচ খোদ বাংলাদেশে সন্দেহভাজন ১০০ থেকে ১৫০ জনকে পরীক্ষা করে অন্তত এখন পর্যন্ত দিনে দু–একজনের বেশি করোনায় আক্রন্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। কোনো কোনো দিন হয়তো একজনও করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়নি।

বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যুহার এখন পর্যন্ত কম। কত দিন কম থাকবে, বলা যায় না। দেখতে হবে। আমরা যদি সাবধান না থাকি, তাহলে তো দ্রুত করোনা ছড়িয়ে পড়বেই। কিন্তু আজ পর্যন্ত তো বলতে হয় তুলনামূলক কম। অথচ নিউইয়র্কের অবস্থা কাহিল কেন?

আবদুল্লাহ ভাই বললেন, নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর মানুষ আসেন। তাই সেখানে ঝুঁকি বেশি ছিল। তারপরও নিউইয়র্কের গভর্নর ফেডারেল সরকারের কাছে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভেন্টিলেটর চেয়েও পাননি। তা ছাড়া ফেডারেল সরকার এর আগে নিউমোনিয়া, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের বিস্তার যেভাবে ঘটেছে, তার অভিজ্ঞতার আলোকে করোনার প্রজেকশন করে চিকিৎসার কথা চিন্তা করেছে। এখানে হয়তো কিছু গরমিল হয়েছে।

গতকাল প্রচারিত বিভিন্ন খবরে জানা গেছে, লোকজনও এবং সেই সঙ্গে প্রবাসী বাঙালাদেশিরাও ছিল প্রথম দিকে বেশ উদাসীন। লকডাউন কড়াকড়িভাবে কার্যকর হয়নি। এ কারণে নিউইয়র্কে সংক্রমণ বেশি হয়েছে। চিকিৎসায় সামাল দেওয়াও কঠিন হয়েছে।

স্বাভাবিক অবস্থায় হাসপাতালে একটা ভেন্টিলেটর একজন রোগীর জন্য হয়তো এক দিন বা দুদিনের বেশি সময় লাগত না। কিন্তু এখন একজন রোগীর জন্য পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে একটি ভেন্টিলেটর আটকে থাকছে। এ কারণে চিকিৎসায় সমস্যাও হচ্ছে। অবশ্য এটা এখন কেটে যাচ্ছে।

এখন এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে যে এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহ খুব ক্রিটিক্যাল। করোনার প্রকোপ অনেক বাড়তে পারে। এমনকি যদি লকডাউন ঢিলেঢালাভাবে চলে, বহুল প্রচারিত স্বাস্থ্যবিধিগুলো যদি মেনে চলা না হয়, তাহলে আমেরিকায় নাকি মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখ থেকে দুই লাখও হয়ে যেতে পারে। এটা তো ভয়াবহ।

তাই নিউইয়র্কসহ আমেরিকার অন্যান্য রাজ্যে পুরো এপ্রিল মাস পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এখান থেকে আমরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেব। যদি আমাদের দেশেও কোয়ারেন্টিন বা লকডাউন মানতে না পারি বা না চাই, যদি ঢিলেঢালা ভাব আসে, তাহলে নিউইয়র্কের মতো দুর্ভাগ্য আমাদেরও হতে পারে।


* আব্দুল কাইয়ুম, মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক

Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1647907/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A7%9F%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AA-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8

41
ইম্পিরিয়াল কলেজের হ্যামারস্মিথ হসপিটাল। চারতলা ভবন। ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে চলা মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের অন্যতম একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ৩৩ জন বিজ্ঞানী নোবেল পেয়েছেন চিকিৎসা ও রসায়নে।

২০০৬ সালের এপ্রিলে প্রথম দিনে কাজে যোগ দিলাম। অধ্যাপক রিচার্ড ওয়াইস, অধ্যাপক পল গ্রাসবি আর তাঁদের সেক্রেটারি সাজি সিং আমাকে নিয়ে গিয়ে কাজের জায়গা দেখিয়ে দিলেন। রিচার্ড ওয়াইস, পল গ্রাসবি, দুনিয়াজোড়া নাম তাঁদের। ‘নেচার’, ‘নিউরোলজি’, ‘ল্যানসেট’-এর মতো নামী গবেষণা পত্রিকায় প্রতিবছর তাঁদের একাধিক গবেষণা প্রতিবেদন বের হয়। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, কিংস কলেজ থেকে চিকিৎসকেরা আসছেন তাঁদের কাছে গবেষণার জন্য।

প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুধু তাকিয়ে থাকতাম ওদের দিকে। এরা প্রত্যেকে চিকিত্সক—নিউরোলজি, ক্যানসার বা অন্য কিছুর। প্রত্যেকের সঙ্গে ২০-২৫ জনের এক-একটি গ্রুপ। কেউ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক, কেউ রেডিওলজিস্ট, কেউ গণিতবিদ, সঙ্গে আছেন রসায়নবিদ, পদার্থবিদ, শরীরতত্ত্ববিদ। আর আমার মতো দু-তিনজন যারা কম্পিউটারে প্রোগ্রাম করতে পারি। শরীরতত্ত্ব, ওষুধ কেমন করে কাজ করে, সেটা সামান্য হলেও জানি। সকাল থেকে মাঝরাত, চারতলা ভবন গমগম করছে মেধাবী মানুষে। ব্রিটিশ, জার্মান, ইতালিয়ান ও হাতে গোনা কয়েকজন এশিয়ান।

কফির ঘ্রাণের পাশ থেকে ভেসে আসছে নিত্য নতুন সব আশার কথা। মানসিক রোগ কেন হয়? মস্তিষ্কের কোন রাসায়নিক যৌগ অবসাদ, সিজোফ্রেনিয়া, পারকিনসনস বা আলঝেইমারসের মতো রোগ তৈরি করে। ক্যানসারের নতুন কোন ওষুধ দেওয়া হলো কার শরীরে? ওষুধগুলো কি ঠিকমতো কাজ করছে? টিউমারের আয়তন কি কমেছে? কীভাবে সঠিক মাপা যায়। একের পর এক ক্লিনিক্যাল স্টাডি। এমআরআই, পেইট ইমেজিং বিজ্ঞানের আধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহার। হাতে সময় কম।

৮টা-৫টার অফিস কখনো মাঝরাত অবধি গড়াত। জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী আর আমার মতো অতিসাধারণ, সবে পিএইচডি শেষ করা মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে থাকতাম ফলাফল দেখার আশায়। ধারণাটা ভুল বা সঠিক সেটি জানার আশায়। শিশুর মতো আগ্রহ নিয়ে। অধিকাংশ ট্রায়ালের ফল আমাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করত। উদ্দেশ্য একটাই, রোগের কারণ কী? প্রতিটি রোগের কারণ থাকে। শরীরে কোনো জীবাণু ঢুকলে বা শরীরের ভেতরে রোগপ্রতিরোধী ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে কাজ না করলে রোগ হয়। রোগের প্রতিষেধক তৈরি করতে হলে রোগের কারণ জানতে হয়। রোগটি কেন হচ্ছে, এটি জানা রোগের প্রতিষেধক বা ওষুধ আবিষ্কারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

রোগের কারণ জানতে চলা গবেষণার সবচেয়ে বড় অংশ হয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি, দাতব্য বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে। এসব গবেষণায় দরকার হয় একাধিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ। দরকার হয় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের। রাষ্ট্রযন্ত্রের সদিচ্ছা আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার। বন্ধু ড. গোলাম রব্বানী গবেষণাকে তালগাছের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ‘এক পুরুষ লাগালে বংশ পরম্পরায় তার ফল পাওয়া যায়। কিন্তু গাছকে পরিচর্যা করতে হয়। রাতারাতি তালগাছ বড় হয় না। ফলও দেয় না।’

এই মাত্র যে গবেষণার কথা বলছিলাম, সেখানে কোটি কোটি টাকার অর্থায়ন ছিল। অধিকাংশই ব্রিটিশ সরকারের। ২০০৮ সালে শুরু হয় আর্থিক মন্দা। কমতে থাকে সরকারি, দাতব্য বা বেসরকারি অর্থায়ন। ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানসহ সব দেশে। ছোট একটা উদাহরণ দিই—২০১৪ সালে ব্রিটেনে স্বাস্থ্য খাতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ করা হয় ৮৫০ কোটি পাউন্ড—যা কিনা ২০০৯-এর চেয়ে ৭৮ কোটি পাউন্ড কম। ২০০৮ থেকে ২০১০। ব্রিটেনের সরকারি সংস্থায় কর্মরত সব বিজ্ঞানীকে বলা হলো বছরে বেতন এক টাকাও বাড়বে না।

অধিকাংশ বিজ্ঞানী ও গবেষক খ্যাতনামা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের একটা বড় অংশ আসে বিজ্ঞানীদের গবেষণা বরাদ্দ থেকে। বরাদ্দ অর্থ থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ফেলো, পিএইচডি স্টুডেন্ট, কেনা হয় গবেষণার জন্য ব্যবহার করার সব সরঞ্জাম। আর একটা বড় অংশ যায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোর খরচে। বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং নির্ধারিত হয় গবেষকদের সাফল্যের নিরিখে। বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে বলা হয়—গবেষণার টাকা আনো, নামী জার্নালে লেখা প্রকাশ করো, পেটেন্ট আনো। বরাদ্দ কমতে থাকলে ছোট প্রকল্পের জন্যও অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়। ক্রমে টাকা জোগাড় করা প্রায় অসাধ্য হয়ে ওঠে। আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায় গবেষণাগারগুলো।

করোনার মতো মরণব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করতে দরকার বছরের পর বছর নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা। দরকার সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গবেষণা বরাদ্দে যুক্তরাষ্ট্র ছিল বিশ্বে সবার আগে। ১৯৯০ সাল থেকে প্রতিবছর বরাদ্দের পরিমাণ কমছে। ২০১৮ সালে যা বরাদ্দ ছিল, তা দেশটির জিডিপির মাত্র ০.৬১ শতাংশ। আজ থেকে ৬০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণার বরাদ্দ তাদের সামগ্রিক অর্থনীতির নিরিখে ২০১৮ থেকে বেশি ছিল। ২০০৮ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের গবেষণা ব্যয় কমাতে শুরু করে।

করোনার প্রকোপ মোকাবিলায় ইউরোপ, আমেরিকা সপ্তাহের ব্যবধানে হাজার হাজার কোটি পাউন্ড বরাদ্দ করছে। সপ্তাহের মধ্যেই গড়ে উঠছে হাসপাতাল। বিশ্ববাসী অপেক্ষার প্রহর গুনছে প্রতিষেধকের। ২০০৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে গেছেন—করোনাজনিত মহামারির। ভ্যাকসিনের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোর বরাদ্দ ছিল প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ধনী দেশগুলো কেউই বড় অঙ্কের গবেষণা বরাদ্দ দেয়নি। সবাই ভেবেছে, আমি গবেষণা না করলেও অন্য কেউ করছে। তার পরও আশার কথা, ভ্যাকসিন আসছে। কিন্তু ইতিমধ্যে হাজার হাজার প্রাণ চলে গেল।

রোগের প্রতিষেধক না থাকলে কী হয়—বুঝতে বাকি নেই কারও। গোটা বিশ্ব থমকে আছে। থমকে আছে হাজার বছরের সভ্যতার চাকা। করোনা-পরবর্তী বিশ্বে ধনী দেশগুলো স্বাস্থ্য খাতের গবেষণায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেবে নিশ্চয়। অদম্য মেধাবীরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন বিজ্ঞান সাধনায়। অধ্যাপক রিচার্ড ওয়াইসের মতো বিজ্ঞানীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিজ্ঞান সাধনায় মগ্ন হবেন। ছোট ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে ফুটবলার নয়, চিকিত্সক বা বিজ্ঞানী হতে চাইবে। পাঠকের প্রতি ছোট একটা প্রশ্ন রেখে লেখাটি শেষ করি। আপনার বা আপনার অত্যন্ত কাছের মানুষের ইনফেকশন হলে যে অ্যান্টিবায়োটিক খান সেটি কে আবিষ্কার করেছিল, জানেন?

স্যার আলেকজেন্ডার ফ্লেমিং। সেই আবিষ্কারের গল্প না হয় আরেক দিন বলব। সেই পর্যন্ত নিরাপদে থাকুন। বিজ্ঞানকে ভালোবাসতে শুরু করুন। ছোটদের বিজ্ঞানমনস্ক করুন।


ড. সুব্রত বোস: লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি ও বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ক্লিনিক্যাল ট্র্যায়ালস অ্যানালিটিকসের গ্লোবাল প্রধান।

Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1648057/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A7%80-%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B2

42
নতুন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে জিততে তিন দফা পরিকল্পনা দিয়েছেন টেকজায়ান্ট মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে গত মঙ্গলবার লেখা এক নিবন্ধে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। গেটস ওই লেখায় জানিয়েছেন, তিন দফা পরিকল্পনায় এগোলেই যুক্তরাষ্ট্র নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে।

ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত ওই নিবন্ধটির চুম্বক অংশ প্রকাশ করেছে বিজনেস ইনসাইডার। বিল গেটস বলেছেন, বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতেই এই তিন দফা পরিকল্পনা তৈরি করেছেন তিনি। মূলত বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে কাজ করতে গিয়েই বিশেষজ্ঞদের মতামত জানার সুযোগ হয় তাঁর। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই তিন দফা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন তিনি।

বিল গেটস বলেছেন, প্রথম দফায় পুরো আমেরিকাজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় নতুন করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের শনাক্ত করার পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন বিল গেটস। তাঁর মতে, শনাক্তকরণ পরীক্ষা কর্মসূচি আরও বেগবান করা প্রয়োজন। এ জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। বিল গেটস বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোন কোন ব্যক্তির পরীক্ষা আগে করাতে হবে, কাদের ক্ষেত্রে গুরুত্ব বেশি দিতে হবে—সেটি আগে ঠিক করতে হবে। একই সঙ্গে সব স্বাস্থ্যকর্মীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছেন বিল গেটস। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীরাই সর্বাধিক ঝুঁকিতে রয়েছেন।

তৃতীয় দফায় নতুন করোনাভাইরাসের চিকিৎসাপদ্ধতি নিরূপণের ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিল গেটস। তিনি বলেছেন, সঠিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিরূপণ ও ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক উপাত্ত কাজে লাগাতে হবে। বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিল গেটস বলেছেন, এ ক্ষেত্রে গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানো প্রতিহত করতে হবে।

বিল গেটস ২০১৫ সালেই এক সম্মেলনে মহামারি আসার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। ওই সময় তিনি সঠিক প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছিলেন।

ওয়াশিংটন পোস্টে গতকাল প্রকাশিত হওয়া নিবন্ধে বিল গেটস আরও লিখেছেন, ‘নভেল করোনাভাইরাসের চেয়ে এগিয়ে থাকার সুযোগ এরই মধ্যে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো পার হয়ে যায়নি।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ লাখ মানুষ কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে চার হাজারের বেশি মারা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য বলছে, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত করোনা কেড়ে নিয়েছে ৪১ হাজার ২৬১ জনের প্রাণ। ১৮০টি দেশে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৬১ জন। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস তিন থেকে চার মাসেই গোটা বিশ্বে ভয়াবহ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।


Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1648234/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A6%AB%E0%A6%BE

43
লাখ টাকার প্রশ্ন। বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানী গবেষণা করে এখনো এর কূলকিনারা খুঁজে পাননি। তবে অনেক গবেষক দাবি করছেন, তাঁরা ওষুধ বের করে ফেলেছেন। প্রাথমিক পরীক্ষায়ও পাস। এখন কোনো কোনো রোগীর ওপর পরীক্ষা চলছে। ওষুধ বা টিকা এসে গেল বলে। আর টিকা আবিষ্কার হলেই তো করোনার দিন শেষ। অবশ্য কিছু সময় লাগবে। এই ধরুন এক-দেড় বছর! এটাই নিয়ম। কারণ মানুষের ওপর কোনো ওষুধ বা টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাই না করে তো বাজারে ছাড়া যায় না।

ওদিকে চীনে শেষ হয়ে আবার নতুন করে সংক্রমণ শুরু হয়েছে। সে জন্য এখন বাইরের দেশ থেকে কারও চীনে প্রবেশ এক মাসের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ ওরা বলছে, নতুন করে বাইরের কারও থেকে না এলে নতুন করে চীনে করোনা ছড়ানোর কথা না। অবশ্য কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলছেন, করোনা এমন ভয়াবহ রোগ, যার একবার হয়েছে, তার যে আবার হবে না, সে ব্যাপারে কোনো গ্যারান্টি নেই। তাহলে কি সারা বছরই চলতে থাকবে করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণ?

তবে সুসংবাদও আসছে। চীনেরই একজন বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, এপ্রিলের শেষ দিকে করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসবে। আমরা আশাবাদী হতে চাই। কারণ ব্রিটেন-আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশ করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। করোনা কোণঠাসা হয়ে পড়বে। এটাই স্বাভাবিক।

রোগের বিস্তার

এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ দেশ কমবেশি করোনায় আক্রান্ত। প্রতিদিন রোগের বিস্তার ঘটছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্যে এই ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। আবার হঠাৎ করে হংকং, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, জাপানের রাজধানী টোকিওতে রোগের সংক্রমণ বাড়ছে বলেও খবর এসেছে।

গতকাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১ লাখেরও বেশি। মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সব দেশই কি আক্রান্ত?

না, সব দেশে কিন্তু করোনা বিস্তার লাভ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত দেখা গেছে করোনামুক্ত দেশের সংখ্যা ১৮। কারণটা কী? সেখানে কেন নেই? প্রধান কারণ হলো, দেশগুলোর বেশির ভাগই বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র। আবার কয়েকটি দেশে করোনা না থাকলেও ওরা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

তাহলে এটা পরিষ্কার যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। এই ১৮টা দেশ আমাদের এ শিক্ষাই দেয়। এবং আজ যে সারা বিশ্বের করোনা-আক্রান্ত সব দেশ লকডাউনে যাচ্ছে, তার সুফল নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। চীনের বিশেষজ্ঞ যে বলেছেন, এপ্রিলের শেষ দিকে প্রকোপ কমে আসতে পারে, তার সূত্র এখানেই।

জুতা ফ্ল্যাটের বাইরে রাখুন

দূরত্ব বাজায় রাখা, বারবার হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় হাতের কনুই ভাঁজ করে ঢেকে রাখা ইত্যাদি তো আমরা জানিই। এর সঙ্গে বিশেষভাবে যোগ করতে চাই, যদি বাধ্য হয়ে বাইরে যেতেই হয়, তাহলে বাইরে থেকে এসে জুতা ফ্ল্যাটের বাইরে রাখুন এবং ঘরের ভেতরে স্যান্ডেল ব্যবহার করুন। এটা আমাদের অনেকে খেয়াল করি না। কিন্তু যখন স্বপ্ন, মীনা বাজার, বিগ বাজার বা এ ধরনের শপিং সেন্টার যাই, ওরা প্রথমে জুতার নিচের অংশ স্প্রে করে এবং হাতে স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে দেয়। এর আগে দোকানে ঢোকা যায় না। আমরা ভাবতে পারি কেন শুধু জুতার তলায় স্প্রে করে, পুরো জুতা কেন নয়? কারণ পাকা রাস্তার অ্যাসফেল্ট বা আলকাতরায় করোনা ভাইরাস পাঁচ-সাত দিন পর্যন্ত টিকে থাকে। এই জন্যই আমরা দেখতাম, চীনে বড় রাস্তাগুলো গাড়ি থেকে স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করছে। রাস্তার পাশের দেয়ালগুলোতে স্প্রে করছে। আমাদের দেশেও এটা ভালোভাবে চালানো দরকার। না হলে করোনার জীবাণু সহজে ধ্বংস হবে না।

তা ছাড়া লকডাউন তো সবাইকে কঠোরভাবে মানতে হবেই। আর যে বলা হয় গরম পানিতে দু বেলা গড়গড়া করা, ভাপ নেওয়া, দিনে তিন-চার বার রং চা পান করা, বেশি বেশি পানি পান, ভিটামিন সি, ডি-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া—এগুলো তো করতেই হবে। গরম পানির চিকিৎসা তো আমরা সাধারণ সর্দি-কাশিতেও চালাই। এর ওপর যদি করোনাতেও কাজে লাগে, সমস্যা কী?

কিন্তু যদি শুকনা কাশি বা জ্বর ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৯.৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি থাকে, তাহলে অবশ্যই বাসার ভেতর আইসোলেশনে থাকবেন। সমস্যা বাড়লে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

শেষ কোথায়?

যদি আবারও বলি, যদি সব দেশ লকডাউন কঠোরভাবে মানে, আর আমরা যদি বহুল প্রচারিত সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, তাহলে হয়তো এ মাসের মধ্যেই করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। আর ইতিমধ্যে যদি ওষুধ বের হয়ে যায়, সবার জন্য সহজলভ্য করা হয়, তাহলে তো কথাই নেই।


আব্দুল কাইয়ুম, মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক

Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1648825/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%82%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87

44
রোবাস্ট ল্যাব নামের একটি সফটওয়্যার কোম্পানির সহপ্রতিষ্ঠাতা আবু হায়দার সিদ্দিক। তাঁদের গ্রাহক যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ধাক্কা লেগেছে তাঁদের প্রতিষ্ঠানটিতে। গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে নতুন কাজ পাচ্ছেন না। যেসব অর্ডার (সফটওয়্যার তৈরির কাজ) পেয়েছিলেন, তা-ও স্থগিত হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে রোবাস্ট ল্যাবের ১২ কর্মীর বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আগামী মে মাস পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এ খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এ শিল্পকে বাঁচাতে বিশেষ উদ্যোগ না নিলে আগামী দুই মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে। এখনই দেশের বাইরের অনেক গ্রাহক সফটওয়্যারের কাজ বাতিল করছেন, বিল দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন। বিভিন্ন কোম্পানির প্রকৌশলী ও কর্মীরা বসে আছেন। এ অবস্থায় বেসিসের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সহায়তা দিতে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদের কাছে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।

শুধু সফটওয়্যার কোম্পানি নয়, তথ্যপ্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট (আইটি) খাতের সব সংগঠনও এখন আর্থিক সংকটে পড়েছে। কারওয়ান বাজারের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বন্ধ। ফিফোটেক নামে একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের (কল সেন্টার) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ হোসেন বলেন, ১৫০ জন কর্মী কাজ করেন তাঁর প্রতিষ্ঠানে। আতঙ্কে অনেকে ছুটি নিয়েছেন। এখন কাজ করছেন ৫০ জনের মতো। আবার যাঁরা কাজ করছেন, প্রতিষ্ঠানের খরচে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। অনেককে বাসায় রেখে কাজ করানো হচ্ছে। সংকটের এই সময়ে একদিকে ব্যয় বেড়ে গেছে, অন্যদিকে নতুন কাজের অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় ১০ লাখ

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ প্রথম আলোকে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত মানুষের সংখ্যা এখন প্রায় ১০ লাখ। এই খাতের বাজার হিস্যা ২১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় বাজার ১১ হাজার ৫০ কোটি টাকা। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বছরে রপ্তানির পরিমাণ ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিপদে পড়েছে মোবাইল, কম্পিউটারসহ হার্ডওয়্যার খাতও। এই খাতে দেশে মাসে বিক্রির পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা বলে জানান বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি শাহিদ–উল–মুনীর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হার্ডওয়্যার খাতের ছোট–বড় সব ব্যবসায়ী সংকটে পড়েছেন।

আগামী দুই মাস এমন পরিস্থিতি থাকলে দেশের ৮০ শতাংশ কল সেন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্কো) সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে জানান, দেশে ১৫০টি কল সেন্টার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ খাতে প্রায় ৫০ হাজার জনবল কাজ করে। সরকারের বিশেষ প্রণোদনা ছাড়া এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

অনলাইনে বিভিন্ন পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা ই-কমার্স খাতও সংকটে পড়েছে। গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর মানুষ এ খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে বেশি। কিন্তু পণ্য সরবরাহের জন্য লোকবলের (ডেলিভারিম্যান) সংকটে পড়েছে খাতটি। যে কারণে অর্ডার পেলেও পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতি শমী কায়সার।

তবে আইটি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ফ্রিল্যান্সাররা (যাঁরা কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করেন)। এর কারণ, সরকার কোনো প্রণোদনা দিলেও সেটি বেসিস, বাক্কো, ই-ক্যাবসহ সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে দেবে বলে শোনা যাচ্ছে। বিলাস সিদ্দিকী নামের একজন ফ্রিল্যান্সার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ইউরোপ-আমেরিকা যেহেতু লকড ডাউন, তাই আগামী ছয় মাস কোনো প্রজেক্ট (কাজ) পাব কি না, জানি না। বিগত বছরগুলোতে সরকারকে ন্যায্য ট্যাক্স দিয়েছি। এখন কি সরকারের উচিত না আমার মতো ক্ষুদ্র লোকেদের প্রণোদনা দেওয়া?...’


Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1648900/%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%9C-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%B6%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE

45
করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্ব যখন লড়াই করছে, তখন অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্মুখ লড়াইয়ে থাকা পেশাদার চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই কিট) অভাব। বিশ্বের কিছু অংশ থেকে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে মাস্কের ঘাটতির বিষয়গুলো সামনে আসছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অন্যান্য সরঞ্জামের সঙ্গে মাস্ক অনুদান দিচ্ছেন। এবারে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ মুখের শিল্ডের (ফেস শিল্ড) নকশা ও সরবরাহের কথা জানিয়েছে।

টুইটারে এক ভিডিও পোস্ট করে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বলেছেন, ‘আমরা কোম্পানি থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ফেস শিল্ড নকশা, উত্পাদন ও সরবরাহের জন্য আমাদের পণ্য নকশাবিদ, ইঞ্জিনিয়ারিং অপারেশন, প্যাকেজিং দল এবং আমাদের সরবরাহকারীদের একত্র করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা শুরু করেছি।’

টিম কুক বলেছেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে যাবে অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এসব ফেস শিল্ডের সরবরাহ বিস্তৃত করা হবে। প্রথম শিপমেন্ট পাবে যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারা ভ্যালির হাসপাতাল।



এসব শিল্ডের উৎপাদন হবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে। ভিডিওতে একটি ফেস শিল্ড দেখিয়ে তিনি বলেন, এটি ইতিমধ্যে চিকিৎসকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। এটি সহজে প্যাক ও সংযোজন করা যাবে। প্রতিটি শিল্ড দুই মিনিটেরও কম সময়ে একত্র করা যায় এবং পুরোপুরি সামঞ্জস্যযোগ্য।

এ সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখ ফেস শিল্ড উন্মুক্ত করবে অ্যাপল। এরপর থেকে প্রতি সপ্তাহে ১০ লাখ ফেস শিল্ড বাজারে আনতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার চিকিৎসক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে যেসব অঞ্চলে জরুরি প্রয়োজন সেখানে এ শিল্ড দেওয়ার কথা ভাবছে প্রতিষ্ঠানটি।


Source: https://www.prothomalo.com/technology/article/1649292/%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%A0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E2%80%98%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B8-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E2%80%99-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%B2

Pages: 1 2 [3] 4 5 ... 245