Recent Posts

Pages: [1] 2 3 ... 10
1

মানুষের ব্যক্তিগত চরিত্র বা মানবিক গুনাবলি নির্ভর করে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থান, সমাজ এবং ব্যক্তিটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা নির্ধারিত কোন বিষয়কে ঘিরে।চাইলেই আমরা করে বা বলে ফেলি অনেক কিছুই যেটা নিজস্ব মানবিক গুনাবলির বিপরীতে অবস্থান নেয়। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ এমন অদম্য গুণাবলী যা আমাদের একজন সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। প্রয়োজন সেগুলো আত্মস্থ করা।তা করতে হয় প্রত্যেকের নিজের পরিবার এবং চারপাশের পরিবেশ থেকেই। আপনি চারপাশে যা হতে দেখবেন, সেগুলো পোজেটিভ বা নেগেটিভ যাই হউক না কেন সেটা খুব করে না হলেও কিছুটা হলেও আপনার চিন্তা চেতনাকে প্রভাবিত করবে।ভাল কিছু তাই খুঁজে নেবার দায়িত্বটাও নিজেদেরই।

কার্যত আমাদের সমস্ত মানবিকতা ও মূল্যবোধ নৈতিকভাবে এক অর্থে আপেক্ষিক ই বটে। যেটি হয়তো কোন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে ভাল এবং উপকারী বলে মনে হতে পারে কিন্তু সত্যিকার অর্থে নয়। আবার ক্ষেত্রে বিশেষে একে অপরের পক্ষে কিছু বিষয় খারাপ যা অনিবার্য হতে পারে যেটা ব্যক্তির কাজ তথা প্রত্যাহিক জীবনকে ব্যহত করে। সুতরাং, মানবিকগুনাবলি হতে হবে নৈতিক যা ব্যক্তির নিজের উপরেই নির্ভর মানে ব্যক্তিনির্ভর। কোন বিক্তিগত সম্পর্ক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের উপর নয় এর ভিত্তি গড়ে উঠেনা।আমরা যা, আমরা আসলে তাই।সেটাই আমাদের স্বরুপ। জীবন যে খুব বড় তা নয়, কিংবা একেবারে সংক্ষিপ্তও নয়। তাই ছাত্রছাত্রীদেরকে এবং তাদের অভিভাবকদের এমনকি কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি দক্ষ এবং দায়িত্ববোধসম্পন্ন কর্মীকেও নিজেদের মূল্যবোধ এবং দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। চাইলেই কাওকে সাজা দেওয়া কিংবা ক্ষতি করে দেবার মানসিকতার পরিবর্তন করতেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্ট অফ লিভিং নামের বিশেষ গুরুত্বপূর্ন একটি ন বিষয় এ অধ্যায়নের সুযোগ রয়েছে।শিক্ষক কিংবা একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের অবশ্যই এটি মাথায় রাখতে হবে যে নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ এর কোনটি ই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয় নয় বরং এটি আত্মিক।নিজের ভেতরে থাকা মূল্যবোধ, যাকে যতটা আত্মস্থ করার জন্য অনুপ্রাণিত করে সে ঠিক ততখানিই নিজের ভেতরে আত্মস্থ করে নিতে পারে বা পারবে। গায়ের জোরে কিংবা মুখস্থ বিদ্যায় যদি আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা শিক্ষা দেবার চেষ্টা করি, সম্ভবত সেটা বিফলেই যাবে।

সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জরুরি যে বিষয়, সেটা হচ্ছে সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলিং।চাইল্ড সাইকলজি কিংবা ইয়াং সাইকলজি দুটি বিষয় ই বিশেষ গুরুত্বপূর্ন। কোন সুস্থ মানুষই একেবারে অপরাধী হয়ে উঠেনা, সেজন্য তার পারিবারিক পরিবেশ চারপাশের প্রতিকূলতা অনেকাংশেই দায়ী।তাই পরিবারে প্রতিটি শিশু থেকে শুরু করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলিং জরুরি। উপদেশ গ্রহন করার ক্ষেত্রে সকলেরই অবঅজারভেশনাল ওয়ে একই নাও হতে পারে। কিংবা সকল ব্যক্তিই যে কোন শিক্ষা একই ভাবে গ্রহন করবেনা সেটাই স্বাভাবিক। শিক্ষক কিংবা অভিভাবকদের ক্ষেত্রে এটি মাথায় রেখে পরিবারের যে সদস্যের কথায় শিশুটি প্রভাবিত হয় বা যে শিক্ষকের পাঠদানে সেি শিক্ষার্থী আগ্রহী হয়ে সেই বিষয়ে জ্ঞানার্জনে অনুপ্রানিত হয় তার মাধ্যমেই নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ বিষয়ক শিক্ষাটি গ্রহন করা প্রয়োজন। সম্মোহনী ভুমিকাই আর্ট অফ লিভিং বিষয়টিকে যথাযথ ভাবে আত্মস্থ করতে সহায়তা করবে ছাত্রছাত্রীদেরকে।

কারন আমরা জানি প্রকৃতির নিয়মেই সবার সব সিচুয়েশন বা অবস্থা গ্রহন করার মানুষিকতা সমান নয়। সবার পটেনশিয়ালিটি কিংবা শেখার আগ্রহও সমান নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সমাজের বিশেষ শিশুদের আচরন তাদের সর্বোপরি জীবন যাপনকে প্রত্যক্ষ করলেই বুঝতে পারবো যে, তারা কেউ কেউ শারিরীক বা বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে সম্পূর্ন পরিপূর্ণ না হলেও অনেক স্বাভাবকি শিশুদের চেয়ে সৃজনশীল বা অন্যান্য কাজে বেশি দক্ষ। এটি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত। তাই বিস্বাস এবং একই সাথে সমাজের এবং ভবিষ্যতের কর্ণধারদের এভাবেই অনুপ্রানিত করতে হবে যে প্রত্যেকেই আলাদা কিছু, বিশেষ দক্ষতা নিয়েই জন্মায়। আমাদের কেবল তা নার্চার করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীদের প্রতিভা কোন মূল্যেই যেন হারিয়ে না যায়। অভিবভাবক বা শিক্ষাগুরুর কোন রকম উদাসীনতায় যেন সত্যিকারের কোন প্রতিভা হারিয়ে না যায়। পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই দুইটি জায়গা থেকে আজ যদি কোন শিশু বা শিক্ষার্থী ভাল কোন শিক্ষা পায়, যদি সে একবার এ বিষয়টি আত্মস্থ করে নেয় যে, কাউকে না খাইয়ে খেতে নেই। ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ এবং জন্ম হউক যথা তথা কর্ম হউক ভালো। সব কাজই সমান গুরুত্বপূর্ণ,,, সর্বোপরি সবার উপর মানুষ সত্য তার উপর নাই"" তবেই অপরাধ প্রবনতা কমে যাবে, এবং সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবেই। তাই নৈতিকতা ও মূল্য প্রথম ক্ষেত্রটি আমাদের ঘর, পরিবার থেকেই শুরু হউক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা বিকশিত হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক। আমরা স্বপ্ন দেখি বিশাল, কারন আমরা জানি,,মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হয়।

লেখকঃ ফারহানা হক
২৯/১০/২০২০
2
মহাকাশ মানুষের জন্য অনেক আগে থেকেই খুব রহস্যের একটি বিষয়। মানুষ চাঁদ তারার দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকতো সেই আদিকাল থেকে। এই মহাকাশকে ঘিরে মানুষের জল্পনাকল্পনা এবং সেই কল্পনাগুলো থেকে তৈরি বিভিন্ন মিথ আমাদের সবারই জানা। মানুষ চাঁদকে নিয়েও কল্পনা করতো অনেক কিছু। আধুনিক বিজ্ঞান মানুষের কৌতুহলের অবসান ঘটায় এবং জানান দেয় যে চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ। মহাকাশে অনেক ধরনের স্যাটেলাইট রয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানের ছোয়ায় মানুষও মহাকাশে নিজের তৈরি স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। আমরা মূলত কৃত্রিম উপগ্রহের কিছু কাজ সম্পর্কে জানবো।
১৯৫৭ সালের চৌঠা অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের সর্বপ্রথম স্যাটেলাইট স্পুটনিক ১ স্থাপন করে। এরপর প্রায় ৪০টি দেশ থেকে সর্বমোট ৮১০০টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয়। ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী এখনো প্রায় ৪৯০০টি স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপিত আছে এবং বাকিগুলোর ধ্বংসাবশেষ কক্ষপথগুলোতে রয়েছে। প্রায় ৫০০টি অপারেশনাল স্যাটেলাইট পৃথিবীর সর্বনিম্ন কক্ষপথে আছে, ৫০টি স্যাটেলাইট মধ্যম কক্ষপথে আছে এবং ৫০টি স্যাটেলাইট আছে জিয়োস্টেশনারি অরবিটে।

যেভাবে কাজ করে

এখন আসা যাক স্যাটেলাইটের কাজ প্রসঙ্গে। স্যাটেলাইট এর কাজ নির্ভর করে মুলত সেটি কোন উদ্দেশ্যে বানানো এবং উঠক্ষেপণ করা তার উপরে। যেমনঃ স্যাটেলাইট ব্যবহৃত হতে পারে তারকাপুঞ্জির ম্যাপিং করার জন্য অথবা তারকার গতিপথ নির্ণয়ের জন্য। আবার একটি গ্রহের উপরিতলের মানচিত্র কেমন হবে তা বুঝার জন্য স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়। যে গ্রহে স্যাটেলাইট প্রেরণ করা হয় সেই গ্রহের বিভিন্ন বস্তুর বা স্থানের ছবি তুলতে এটি ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ

আর্থ রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট: এই স্যাটেলাইট মূলত অসামরিক স্যাটেলাইট যেটি তৈরির উদ্দেশ্য হচ্ছে কক্ষপথ থেকে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করা। এটি পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এর পরিবেশকে দেখে, পৃথিবীর ম্যাপিং করে। প্রথম আর্থ রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট হচ্ছে স্পুটনিক ১। স্পুটনিক ১ যে রেডিও সিগন্যাল পাঠাতো তা দিয়ে বিজ্ঞানীরা আয়নমন্ডল অধ্যয়ন করতো।

কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট: কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট হচ্ছে সেই ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে রেডিও টেলিযোগাযযোগ মাধ্যমের সিগন্যাল স্থাপন করে। এটির একটি উৎস থাকে যেটি হচ্ছে ট্রান্সমিটার এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এর বিভিন্ন গ্রাহক থাকে এবং স্যাটেলাইটটি উৎস ও গ্রাহকের মধ্যে যোগাযোগের চ্যানেল তৈরি করে দেয়। এই স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ডিশ মিডিয়া, টেলিফোন, রেডিও, ইন্টারনেট এবং সামরিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

নেভিগেশন স্যাটেলাইট: এই স্যাটেলাইট দ্বারা ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয় করা যায়। কোনো বস্তু ঠিক কোন জায়গায় রয়েছে তা খুজে বের করতেও এই স্যাটেলাইট সাহায্য করে। তাছাড়া বৈশ্বিক সময় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়, কোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ নির্ণয়ে এটি ব্যবহৃত হয়। মূলত জিপিএস এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় নেভিগেশন স্যাটেলাইট দিয়ে।

ওয়েদার স্যাটেলাইট: এটি ব্যবহৃত হয় মূলত পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণের জন্যে। এটি ধুলি ঝড়, বায়ু দুষণ, মেরু অঞ্চলের বরফের গলন, সমুদ্রে পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত,বায়ুর আদ্রতা, বৃষ্টিতে বিভিন্ন রাসায়নিকের পরিমাণ, পৃথিবীতে বিভিন্ন রাসায়নিকের পরিমাণ, বায়ুতে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ, বজ্রপাত, মেঘের অবস্থান, দেশের কোন স্থানে কখন তাপমাত্রা কেমন হতে পারে, দিনের তাপমাত্রা কেমন হতে পারে, রাতের তাপমাত্রা কেমন হতে পারে ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে। ওয়েদার স্যাটেলাইট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য দেয় সেটি হচ্ছে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত। এটি একটি আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এর ফলে যে মেঘ তৈরি হয় তার সাথে অন্যান্য আগ্নেয়গিরির উপরের মেঘের তুলনা করে তথ্য সংগ্রহ করে।

ইনভার্নমেন্ট স্যাটেলাইট: ওয়েদার স্যাটেলাইট আর ইনভার্নমেন্ট স্যাটেলাইট এর কাজ এক নয়। ইনভার্নমেন্ট স্যাটেলাইট পৃথিবীর অভ্যন্তরে যে গাছপালা আছে তার যে পরিবর্তন সেটি পর্যবেক্ষণ করে, সমুদ্রের অবস্থা, সমুদ্রের পানির রঙ পরিবর্তন, আইস ফিল্ড ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে।

স্যাটেলাইট মূলত রকেট দ্বারা মহাকাশে প্রেরণ করা হয় এবং একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথের গতির সাথে তাল মিলিয়ে একে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। এই হলো মোটা দাগে স্যাটেলাইট সমূহের কাজ।

সুতরাং বলা যায় যে, স্যাটেলাইট আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নানা কাজে বহুল ব্যবহৃত এবং আমাদের নানা কাজের সাথে যুক্ত।
3
গাড়ি হল শখের জিনিস। ধনী-গরীব সকলের মনে একটি গাড়ি কেনার স্বপ্ন থাকে, যেটি তারা তাঁদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করবেন। সেই স্বপ্ন অনেকের পূরণ হয়। আবার কারও পূরণ হয়ও না। আজকের প্রতিবেদনে আপনারা জানবেন পৃথিবীর সেরা পাঁচটি গাড়ির গল্প।

ফেরারী মিলেনিয়ো: ফেরারীর এই গাড়িটি দেখতে যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনি গাড়িটির দামও অনেক বেশি। এটি ফেরারী ব্র্যান্ডের সবচেয়ে দামি ও স্মার্ট গাড়িগুলোর মধ্যে একটি। এই মডেলের মাত্র পাঁচটি গাড়ি পৃথিবীতে আছে। যে সময় গাড়িটি তৈরী করা হয়েছে তখন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গাড়িটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম গাড়ি হিসেবে ধরা হয়। রেসিংয়ে গাড়িটি কয়েকবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।



 

বেঞ্জ F015: এটি মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ি। গাড়িটির মূল্য ৩০ কোটি টাকা। এই গাড়িটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যার সব জায়গায় বাটনের পরিবর্তে LCD স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটিকে পার্কিং করার কোন প্রয়োজন হয় না। গাড়িটিকে কমান্ড করলেই তা অটোমেটিক পার্ক হয়ে যাবে। কোন পথচারী রাস্তা পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলে গাড়িটি অটোমেটিক থেমে রাস্তা পার হওয়ার জন্য পথচারীকে সময় দিবে। বর্তমানে এই মডেলের ১০টি গাড়ি পৃথিবীতে রয়েছে।



 

মার্সিডিজ বেঞ্জ সিলভার: মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের এই গাড়িটিতে যে ধরনের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যা গাড়িটিকে অন্য সব সুপার কারগুলো থেকে আলাদা করেছে। গাড়িটির ডিজাইন অত্যন্ত সুন্দর হওয়ায় হলিউডের সিনেমাগুলোতে গাড়িটি ব্যবহৃত হয়। গতির ঝড় তোলা গাড়িগুলোর মধ্যে বেঞ্জ সিলভার অন্যতম। গাড়িটি কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেকে ভাড়া নিয়েও নিজের শখ মেটায়।



 

ল্যাম্বোরগিনি ফেরেসিয়ো: এই গাড়িটি মার্ক হোসলে নামের একজন ব্যক্তি ডিজাইন করেছেন। এ গাড়িটি তাঁর ডিজাইনের জন্য পুরো পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়েছে। গাড়িটির গতি বুলেট ট্রেনের চেয়েও অনেক বেশি। তাছাড়াও ডিজাইনের দিক থেকে গাড়িটিতে কোন কমতি রাখা হয়নি। গাড়িটি চালানোর স্বপ্ন অনেক মানুষেরই থাকে। কিন্তু গাড়িটির দাম অনেক বেশি হওয়ায় শুধুমাত্র উচ্চবিত্তরাই চালানোর সুযোগ পায়।



 

শেভ্রোলেট এফএনআর: এই কোম্পানির অনেক উন্নতমানের গাড়ি আছে, যেগুলো রেসিংয়ে অনেক ভালো করবে। কিন্তু কোম্পানি গাড়িটিকে রেসিংয়ের জন্য দেয়নি। বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে চলা গাড়িটির মূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

https://www.natunbarta.com/category/technology/page/4/
4
স্মার্টফোনের জগতে অতি সুপরিচিত এক নাম অ্যান্ড্রয়েড। স্মার্টফোন মানেই যেনো অ্যান্ড্রয়েড! মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছেে এটি। বর্তমানে বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ ফোনেই অ্যান্ড্রয়েড সেবা। আর অন্য সবাই মিলে বাকি ২৫ শতাংশ! একাই চার তৃতীয়াংশ বাজার দখল করে আছে; ভাবা যায়! অথচ বহুল ব্যবহৃত এই অপারেটিং সিস্টেমটি মোবাইল ফোনে ব্যবহারের কথাই ছিলো না। ব্যবহার করার কথা ছিলো ক্যামেরায়! নতুন বার্তার পাঠকদের জন্য থাকছে অ্যান্ড্রয়েড আবিষ্কারের ইতিবৃত্ত।

অ্যান্ড্রয়েড মূলত একটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম। যেটি মোডিফাইড লিনাক্স কার্নেলের উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে। অনেকের ধারণা অ্যান্ডয়েড গুগলের আবিষ্কার। কথাটি আসলে পুরো সত্য নয়। ২০০৩ সালে অ্যান্ডি রুবিন নামক মার্কিন কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও ইঞ্জিনিয়ারের হাত ধরে অ্যান্ডয়েডের গোড়াপত্তন হয়। তবে অ্যান্ডি স্মার্টফোনে ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করেননি। তার আবিষ্কারটি ছিলো মূলত ক্যামেরায় ব্যবহারের জন্য। ডেটা কপি সহজ করা-ই ছিলো মূল উদ্দেশ্য। ২০০৫ সালে টেক জায়ান্ট গুগল এটিকে কিনে নেয়। এরপর টানা তিন বছর এর ডেভেলপিংয়ের কাজ করে গুগল। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ২০০৮ সালে গুগল এটিকে বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাজারে আনার আগেই গুগল একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেয়। অ্যান্ডয়েডকে সকলের জন্য মুক্ত প্লাটফর্ম ঘোষণা করে গুগল। যে কেউ চাইলে এটিকে ব্যবহার করতে পারবে। লঞ্চ করার বছরই অ্যান্ডয়েড ব্যবহার করে এইচটিসি প্রথম স্মার্টফোন বাজারে আনে। তারপর থেকে আর অ্যান্ড্রয়েডকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম হওয়ায় দিন দিন অ্যান্ড্রয়েডের ব্যবহার দিন দিন বাড়তে থাকে। অন্যদিকে অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের জন্য লাইসেন্সের ঝামেলা থাকায় তুলনামূলক অ্যান্ডয়েডের চাহিদাই বাড়তে থাকে।

শুরু থেকেই অ্যান্ডয়েডের নজর কাড়তে শুরু করে। ২০০৮ সালে রিলিজের পর এর নাম দেয়া হয় অ্যান্ডয়েড ১.০। পরবর্তী সংস্করণের নাম ১.১ দেয়া হলেও পরবর্তী নাম গুলো বদলে যায়। মিষ্টিজাতীয় বিভিন্ন খাবারের নামে বাজারে আসতে শুরু করে অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সব সংস্করণ। কিটক্যাট, জেলিবিন,ললিলপ নামগুলো যেনো আরও বেশি জনপ্রিয় করে তুলে অ্যান্ড্রয়েডকে। তবে এই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর গুগল নিয়ে আসে অ্যান্ডয়েডের ১৭তম সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ১০। যেটি ব্যবহার করে বাড়তি স্বাচ্ছন্দ পাবেন ব্যবহারকারীরা। বেশকিছু নতুন ফিচার যুক্ত হয়েছে অ্যান্ডয়েড ১০ এ।

অ্যান্ড্রয়েড ১০- ডার্ক থিম ব্যবহার করা যাবে। এই থিমের ফলে ফোনের ইউজার ইন্টারফেসে কালো আবহ পাওয়া যাবে। যেটি চোখে আরাম দেয়ার পাশাপাশি ব্যাটারির স্থায়ীত্ব বাড়াবে। এছাড়া সাউন্ড অ্যামপ্লিফায়ার যুক্ত করা হয়েছে। পডকাস্ট শোনা, ভিডিও দেখার পাশাপাশি ফোনে কথা বলার সময়ও সুবিধা পাওয়া যাবে। ভয়েজ কলের সময় বাড়তি শব্দ কমিয়ে পরিষ্কার শব্দ শোনাবে। এছাড়া নতুন ৬৫টি ইমোজি যুক্ত হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ১০-এ। যার মধ্যে ৫৩টি লিঙ্গভেদে ব্যবহৃত হবে! তবে অ্যান্ড্রয়েড ১০- এর সেবা এখন কেবল গুগল পিক্সেল স্মার্টফোনের জন্য।
5
অর্থ উপার্জনের কতো শত মাধ্যম আছে তা হয়তো গুনে শেষ করা যাবেনা। সময়ের পরিক্রমায় নতুন নতুন সব পেশা যোগ হয়েছে মানুষের জীবনে। তথ্য প্র্রযুক্তির বিকাশের ফলে উপার্জনের মাধ্যমগুলোতে যুক্ত হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। বর্তমানে শুধু অনলাইনে-ই আয় করার হাজার হাজার মাধ্যম রয়েছে। যার মধ্যে ইউটিউব সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। কয়েকটি বিশেষ উপায় অবলম্বন করলে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং মাধ্যমকে আয়ের উৎস বানাতে পারেন আপনিও। চলুন জেনে আসি ইউটিউব থেকে আয় করার নিয়মাবলী সম্পর্কে।

ইউটিউবের যাত্রা শুরু হয়েছিলো ভিডিও শেয়ার করার জন্য। শুরুর দিকে এর কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম ছিলো না। তবে শুরুতে কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য না থাকলেও বর্তমানে তা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেকেই ইউটিউব থেকে টাকা আয় করাকে হিমালয় জয় করা ভেবে থাকেন। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে তেমন নয়। বিশেষ কয়েকটি শর্ত অবলম্বন করলে ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছে। ২০১৮ সালে ইউটিউবে খেলনার ভিডিও দেখিয়ে, সাত বছরের শিশু রায়ান ইউটিউব থেকে কোটি টাকা আয় করে সর্বোচ্চ আয় করার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাহলে আপনি কেনো পারবেন না ?

 
ইউটিউব থেকে আয় করতে হলে প্রথমে আপনাকে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হবে। যার জন্য প্রথমেই দরকার হবে একটি  জিমেইল অ্যাকাউন্টের। নিজের সঠিক তথ্য, মানে নাম, বয়স ও ফোন নম্বর দিয়ে জিমেইল অ্যাকাউন্ট খোলা ইউটিউব চ্যানেল খোলার পূর্বশর্ত। এরপর ইউটিউবে ঢুকে Sign In এ ক্লিক করে জিমেইল দিয়ে ইউটিউবে লগ ইন করতে হবে। Create Channel অপশনে ক্লিক করলে চ্যানেল তৈরির জন্য সব তথ্য চাওয়া হবে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য দেয়ার পাশাপাশি একটি ভালো প্রোফাইল ফটো ও একটি কভার ফটো যুক্ত করতে পারেন। এরপর নিজের তৈরি একটি ভিডিও আপলোড করুন। ব্যস হয়ে গেলো প্রায় অর্ধেক কাজ!

ইউটিউবে আয়ের মূল উৎসই ভিডিও। আপনার আপলোড করা ভিডিও এক অর্থে আপনার পণ্য! যার বদৌলতে আপনি অর্থ উপার্জন করবেন সেটি অবশ্যই ভালো মানের হতে হবে। আপনার চ্যানেলটিতে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ভিডিও আপলোড করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আপনি যে বিষয়ে দক্ষ; সে বিষয়ের ভিডিও ধারণ করে আপলোড করতে পারেন। ধরুন, আপনি ঘুরতে পছন্দ করেন। ট্রেকিং করা আপনার শখ। তবে বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো নিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন ভিডিও। তাহলে ভ্রমণ সংক্রান্ত ভিডিও দেখার জন্য দর্শকরা আপনার চ্যানেলটিতে আসবে। আবার ধরুন, আপনি ভালো নাচ জানেন, তাহলে নাচের ভিডিও কিংবা টিউটোরিয়াল শেয়ার করতে পারেন ইউটিউবে। মজার মজার ভিডিও ধারণ করেও আপলোড করতে পারেন। আসলে যে কোন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ভিডিও নির্মাণ করলে আপনার চ্যানেলটির জন্যই ভালো।



২০১৮ সালের আগ পর্যন্ত ইউটিউবে অর্থ উপার্জনের জন্য সহজ ছিলো। ভালো মানের ভিডিও আর জনপ্রিয় চ্যানেল হলেই ইউটিউবের অ্যাডসেন্স পার্টনারশিপ পাওয়া যেতো। পার্টনার হয়ে গেলেই প্রতি মাসে ২০০ ডলার পাওয়া যেতো। কিন্তু নতুন নীতিমালা প্রনয়নের কারণে ইউটিউব থেকে অর্থ উপার্জন করতে হলে অবশ্যই চ্যানেলটিকে মনিটাইজেশন করতে হবে। ভিডিওতে অ্যাড বসানো এবং এর মাধ্যমে আয় করাকে মনিটাইজেশন বলে। ইউটিউবের আয় মূলত পরোক্ষ। ভিডিওতে বিজ্ঞাপন বাবদ যে টাকা ইউটিউব আয় করে তা থেকে একটি অংশ ভিডিও নির্মাতাকে দেয়া হয়।

এছাড়া, যেহেতু অ্যাড থেকেই সকল লভ্যাংশ আসে তাই অর্থ উপার্জনের জন্য অ্যাডসেন্স চালু করতে হবে। অ্যাডসেন্স চালুর জন্য চ্যানেলটিকে কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। চ্যানেলটির শেষ ১ বছরের মধ্যে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার ও ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচটাইম হতে হবে। যে জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করবেন সেটির ব্যাবহারীর বয়স ১৮ হতে হবে। এছাড়া চ্যানেলের চ্যানেল আইকন থাকতে হবে। সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ বেশি থাকলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে স্পন্সর জোগাড় করেও ইউটিউবে আয় করা সম্ভব।


 
সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ বাড়লে আয়ের পথ সুগম হতে থাকে। তাই এগুলো বাড়াতে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারেন। ব্যবহারকারী যেনো আপনার ভিডিওটি খুঁজে পায় সেজন্য যথাযথ ও আকর্ষণীয় শিরোনাম ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া থাম্বনেইলেও জুড়ে দিতে পারেন যথাযথ ছবি। ফেসবুক-টুইটারসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার চ্যানেলের ভিডিওটি শেয়ার করতে পারেন। আর হ্যাঁ, ইউটিউবের কপিরাইট ও কমিউনিটি আইন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। কপিরাইট কিংবা কমিউনিটি আইন বহিভূর্ত কোনো কিছু করলে আপনার আয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি ইউটিউব আপনার চ্যানেলটিও বন্ধ করে দিতে পারে!
6
আজকে থেকে কয়েক হাজার বছর আগে যখন মানুষ কৃষি কাজ শিখতে শুরু করেছে তখন থেকেই মানুষের মনে ভাবনার উদয় হয়েছে যে আমার যদি অনেক বেশি ছেলে-মেয়ে থাকে তাহলে অনেক বেশি উৎপাদন করতে পারবো, নিজেদের খাবার নিয়ে আর কোন চিন্তা করতে হবে না, ঘুরতে হবে না জঙ্গলে জঙ্গলে। তখন মানুষ বেশি করে সন্তান জন্ম দিতে লাগলো।

তারপর অনেক ধীরে ধীরে এই ধারণার পরিবর্তন আসতে শুরু করল, মানুষ বুঝতে পারলো এক মৌসুমে ফসল ফলানোর জন্য সারা বছর এতগুলা ছেলে-মেয়ের খাবার দাবার, পোশাক সহ আরো সকল সুবিধা অসুবিধা দায়ভার নেয়াটা অনেকটা খাজনার চেয়ে বাজনা বেশির মতই।


 
অতপর মানুষ বিকল্প উপায়ের সন্ধানে ভাবতে লাগল তারপর প্রথমদিকে একই ধরনে কাজ যাদের আছে এরকম লোক খুঁজে তাদের সাথে এক সাথে কাজ করা শুরু করল। যেমন কারো ৫ জন ছেলে আছে আর ঐ একই রকম আছে এরকম অন্য কারো ৫ জন ছেলে আছে সবাই এক সাথে একই বাড়ির কাজ কয়েকদিন করে করতে লাগল। না এভাবেও মানুষের পুষল না। অতপর নতুন চিন্তার উদয় হল, মানুষ ভাড়া করে কাজ করানো, মানে আজকে যাকে দিন শ্রমিক বলে আর এর আপডেটেট নাম হল চাকুরীজীবি।

এরকম হাজার হাজার উদাহরণ আছে সেই প্রাচীন কাল থেকেই। আর এই সব ধারণার উপর ভিত্তি করেই আজকের দিনের “ক্লাউড কম্পিউটিং” এর জন্ম। কী বিষয়টা পরিষ্কার হল না? তাহলে আসুন প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক যুগে ফিরে আসি। এ যুগের উদাহারণের মধ্যে “উবার” বা “পাঠাও” উৎকৃষ্ট উদাহরণ। নিজের গাড়ী নেই তো কি হয়েছে! তাই কি গাড়ীর স্বাদ নিব না? ধরুন, আপনার দু’চারটা গাড়ীর প্রতিদিন দরকার হয় না তাই এত টাকা খরচ করে লাভ কি, যখন খুশি যতগুলো খুশি ডেকে নেন উবার বা পাঠাও এর গাড়ী।


 
হ্যাঁ! ক্লাউড কম্পিউটিং ও এই ধারণার প্রোটোটাইপ। ধরুন,গেম ডেভেলপমেন্ট করার জন্য আপনার অনেক ভা্লো কনফিগারেশনের পিসি দরকার, অনেক বড় বড় প্রিমিয়াম সফটওয়্যার দরকার যেগুলা আপনার পরবর্তীতে আর কাজে লাগবে না, তাহলে এত টাকা ব্যয় করে পিসি আর সফটওয়্যার না কিনে আপনি চাইলেই এখন অনলাইন থেকে যত খুশি, যত ভাল রিসোর্স(হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার) দরকার ভাড়া নিতে পারেন, আর এটাই হল ক্লাউড কম্পিউটিং। তবে হ্যাঁ! সবাইকে যে রিসোর্স ভাড়া করেই নিতে হবে বিষয়টা এমনও নয় আপনি চাইলে আপনার নিজস্ব ক্লাউডও সেট-আপ করে নিতে পারেন এবং চাইলে নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে অন্যদের কাছে আপনিও ভাড়া দিতে পারেন। যেমনটা করছে গুগল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মত কোম্পানি।

বিষয়টা এখনো পরিষ্কার না হলে আরো একটা উদাহারণ দিচ্ছি। “হুয়াওয়ে টেকনোলোজি” পৃথিবীর অনেক দেশে তাদের টেলিকম সার্ভিস (ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক) দিয়ে থাকে যেমন বাংলাদেশেও রবি, বাংলালিংক, গ্রামীণফোন এদের সার্ভিস দিয়ে থাকে। ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক এর কাজে(৩জি ও ৪জি) প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের নেটওয়ার্ক এনালাইসিস করতে হয় যাদের সবার কাছেই আলাদা আলাদা লাইসেন্সড সফটওয়ার থাকতে হয় এবং এতে কাজও হয় অনেক ধীর গতিতে। তাই সময় ও খরচ বাচানোর জন্য হুয়াওয়ে এখন ক্লাউড বেইসড এমন সব ওয়েব এপ্লিকেশন বানিয়েছে যেগুলো দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হুয়াওয়ের কর্মকর্তারা একই সময়ে একই এপ্লিকেশন ব্যাবহার করে খুব অল্প সময়ে অনেক বেশি নেটওয়ার্ক এনালাইসিস এর কাজ করতে পারে। যার জন্য তাদের প্রতিবছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সেইভ হচ্ছে- এটাও ক্লাউড কম্পিউটিং এর একটা বড় উদাহরণ। তাই সহজ কথায় ক্লাউড কম্পিউটিং বলতে বুঝায়- ইন্টারনেট ভিত্তিক কোন হ্যার্ডওয়ার বা সফটওয়ার সেবা ব্যবহার করা।


 
এর আরো সহজ একটা উদাহরণ হচ্ছে- ‘গুগলের জিমেইল’। সারা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ গুগলের ইন্টারনেট ভিত্তিক এই সফটওয়ার বা এপ্লিকেশন সেবা ভোগ করছে ইন্টারনেট ব্যবহারযোগ্য যে কোন ডিভাইস থেকে।
7
বাতায়নাসন
কীভাবে করবেন?

বাম পা সামনে এগিয়ে ডান পা পেছনে রেখে ডান হাঁটু গেড়ে বসুন।

ডান পা মুড়ে বাম ঊরুমূলের ওপরে এমনভাবে রাখুন, যাতে পায়ের পাতা ঊরুর ওপরে এবং গোড়ালি ঊরুসন্ধিতে লেগে থাকে।

ডান পায়ের হাঁটু মাটির সঙ্গে ঠেকিয়ে স্থির করে রাখুন।

দুটি হাত সামনের দিকে নমস্কারে মুদ্রায় থাকবে।

ডান পায়ে করার পর বাম পায়েও ঠিক একইভাবে করুন।

প্রথম অবস্থায় ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হলে দেয়ালের সহায়তা নিন।

সময়কাল

প্রতি পায়ে ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড থাকুন।

৩-৫ বার করুন।

প্রথম দিকে হাঁটুর নিচে নরম গদি দিয়ে নিতে পারেন।

উপকারিতা

হাঁটুব্যথাসহ হাঁটুর বিভিন্ন রোগে আরাম পাওয়া যায়।

শরীরে হালকাভাব আসে।

হার্নিয়ার রোগীদের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী

গোমুখাসন
কীভাবে করবেন?

দণ্ডাসনে বসে বাঁ পা মুড়ে গোড়ালি ডান নিতম্বের কাছে রাখুন বা গোড়ালির ওপর বসতেও পারেন।

ডান পা বাঁ পায়ের ওপরে এমনভাবে রাখুন, যাতে দুটি হাঁটু একই সরলরেখা বরাবর থাকে।

শ্বাস নিতে নিতে ডান হাত ওপরে তুলুন। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পিঠের দিকে মুড়ুন। বাঁ হাত পিঠের পেছনের দিক থেকে এনে ডান হাতকে ধরুন। ঘাড় ও কোমর যেন সোজা থাকে।

একদিকে ১ মিনিট করার পর অন্য দিকে একইভাবে করুন। যে দিকের হাঁটু ওপরের দিকে থাকবে, সেই দিকের হাতও ওপরে থাকবে।

উপকারিতা

হাঁটুর যন্ত্রণায় উপকারী।

সন্ধি ও গেঁটেবাত দূর করে।

বহুমূত্র এবং স্ত্রীরোগে এই আসন উপকারী।

মকরাসন–২
কীভাবে করবেন?

উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন।

দুই হাতের কনুই একসঙ্গে মিলিয়ে স্ট্যান্ডের মতো বানিয়ে হাতের পাতা দুটি থুতনির নিচে লাগান। বুক ওপরে তুলে ধরুন, কনুই এবং পা দুটি একসঙ্গে মিলে থাকবে।

এবার শ্বাস টেনে ডান পা এমনভাবে ভাঁজ করুন, যেন গোড়ালি নিতম্ব স্পর্শ করে। শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আবার আগের অবস্থায় নিয়ে যান। এভাবে একবার ডান পা, অন্যবার বাঁ পা দিয়ে করুন। দুই পায়ে ১৫-১৬ বার করুন।

পা দুটি জোড় করে একইভাবে আরও ১৫ বার করুন। শ্বাস–প্রশ্বাসের নিয়মে যেন ভুল না হয়।

উপকারিতা

হাঁটুর যন্ত্রণা উপশম করে।

স্লিপ ডিস্ক, সাইয়াটিকা নার্ভের যন্ত্রণায় লাঘবে অত্যন্ত ভালো।

ফুসফুসের রোগ ও হাঁপানির সমস্যাও এই আসন অনেক ভালো কাজ করে।
Ref: https://www.prothomalo.com/feature/adhuna/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9F%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%A8
8
পৃথিবীতে প্রটিটি সফল মানুষের কিছু ব্যর্থতার গল্প আছে।  একবারে চেষ্ঠায় কেউ সফল হননি। সফল উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, লেখক, বিজ্ঞানী – যার কথাই বলা যাক, সবাইকেই ব্যর্থতার কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে সফল হতে হয়েছে। আবার এই সাফল্য পাওয়ার পরও অনেকে তা ধরে রাখতে পারেন নাই বরং আবার ব্যর্থ হয়েছেন।  আবারও তাঁরা উঠে দাঁড়িয়েছেন, এবং নবশেষে সফল হয়েছেন। এইসব সফল মানুষের সবার মধ্যেই একটা আশ্চর্যরকম মানসিক শক্তি আর আত্মবিশ্বাস আছে। যত বড় ব্যর্থতার মুখেই তাঁরা পড়েন না কেন – কখনওই কাজ করা বন্ধ করেন না। কখনওই তাঁরা বিশ্বাস হারান না।  তাঁদের এইসব ব্যর্থতার গল্প থেকে অনেক কিছু শেখার আছে আমাদের।  প্রতিটি গল্প থেকেই অনুপ্রেরণা নেয়ার মত কিছু না কিছু আছে।

আপনি যে ধরনের বিপদ বা খারাপ পরিস্থিতিতেই পড়েন না কেন, এইসব অসাধারণ সফল মানুষদের ব্যর্থতার গল্প এবং ব্যর্থতাকে জয় করার গল্প যদি মাথায় রাখেন – তবে কোনও অবস্থাতেই সাহস আর বিশ্বাস হারাবেন না।  কোনও বড় লক্ষ্যকেই আর অসম্ভব মনে হবে না।  যে কোনও ব্যর্থতা থেকেই আপনি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পাবেন।  চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক আরো ৪ জন বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গের জীবনইতিহাস।


চার্লি চ্যাপলিন


১৮৮৯ সালে জন্ম নেয়া বিশ্ব বিখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক চার্লি চ্যাপলিনকে তো সবাই চেনে।  সিনেমার শুরুর সময় থেকে আজ পর্যন্ত সব সিনেমা পাগল তাঁকে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে।  পৃথিবীর সফলতম অভিনেতা ও পরিচালকদের একজন তিনি।  কমেডির রাজা বলা হয় তাঁকে। – এসব কথাও সবাই জানে।  তাহলে চলুন আজ জেনে নেয়া যাক এমন কিছু কথা যা সবাই জানে না:

চ্যাপলিনের বাবা ছিলেন একজন পাঁড় মাতাল।  কোনও কাজ করতেন না, দিন-রাত মদ খেয়ে পড়ে থাকতেন।  চ্যাপলিনের ২ বছর বয়সে তাঁর বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান।  মা নামেমাত্র একটি কাজ করতেন যাতে সংসারের খরচ কোনওভাবেই মিটতো না। ৭ বছর বয়সে চার্লি “ওয়ার্কহাউজ” এ যেতে বাধ্য হন।  সেই সময়ে বৃটেনে গরিবদের জন্য একটি ব্যবস্থা চালু ছিল, যেখানে পরিশ্রমের বিনিময়ে খাবার ও শোয়ার জায়গা দেয়া হত।

কিছুদিন পর আবার চার্লি সেখান থেকে ফিরে আসেন এবং আবার তাঁর ৯ বছর বয়সে তাঁর মা পাগল হয়ে যান, এবং তাকে মানসিক হাসপাতালে যেতে হয়।  মায়ের মানসিক হাসপাতালে যাওয়ার কারণে চ্যাপলিনকে আবারও ওয়ার্কহাউজে ফিরে যেতে হয়।  কিছুদিন পর তাঁর বাবা লিভার নষ্ট হয়ে মারা যান।

এরপর তাঁর মায়ের পাগলামি এতই বেড়ে যায় যে তাকে সব সময়ের জন্য পাগলা গারদে বন্দী করে রাখার প্রয়োজন পড়ে।  চ্যাপলিন ও তাঁর ভাই সিডনি একদম পথে বসে পড়েন।  দিনের পর দিন না খেয়ে রাস্তায় ঘুরে কাটান। এভাবে চলতে চলতেই এক সময়ে তিনি মঞ্চে কাজ নেন।  বিভিন্ন মঞ্চ নাটকে অভিনয় করতে করতে নিজের কমেডি প্রতিভাকে শক্তিশালী করেন।  পরে হলিউডে পাড়ি জমিয়ে সর্বকালের সেরা নির্বাক অভিনেতা হয়ে ওঠেন।

০৬. কনোনেল স্যান্ডার্স


কেএফসির লোগো নিশ্চই দেখেছেন।  লোগোর ফ্রেঞ্চকাট দাড়িওয়ালা হাসিমুখের লোকটিই কনোনেল স্যান্ডার্স।  তিনি কেএফসি নামক বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইনের প্রতিষ্ঠাতা।  আপনি যদি আপনার এলাকায় কেএফসির একটি শাখা খুলতে চান, তবে আপনাকে শুধু তাদের ফ্রেঞ্চাইজি ব্যবহারের জন্য ৪৫ হাজার ডলার বা প্রায় ৩৮ লাখ টাকা দিতে হবে।  এতবড় কোম্পানী যাঁর রেসিপি থেকে শুরু, সেই রেসিপি বিক্রী করতে তাঁকে ১০০৯ বার ব্যর্থ হতে হয়েছিল।

৫ বছর বয়সে বাবা হারানোর পর থেকে তাঁর সংগ্রাম শুরু হয়েছিল।  নিজের রান্নার দক্ষতার কারণে কাজ পেতে কখনও অসুবিধা হয়নি।  কিন্তু যখনই নিজে কিছু করতে গেছেন – তখনই ব্যর্থ হয়েছেন।  ১৯৩৯ সালে ৪৯ বছর বয়সে অনেক কষ্টে একটি মোটেল শুরু করেন।  মোটেলটি ৪ মাস চলার পরই আগুন ধরে ধ্বংস হয়ে যায়।  ৫০ বছর বয়সে তিনি তাঁর সিক্রেট চিকেন ফ্রাই রেসিপি নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন।

১৯৫৫ সালে তাঁর আরও একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।  তিনি একটি চার রাস্তার মোড়ে রেস্টুরেন্ট খুলেছিলেন।  ভালোই চলছিল সেটি।  কিন্তু নতুন রাস্তা হওয়ার ফলে সেই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রেস্টুরেন্টও বন্ধ করতে হয়।  সেই বছর ৬৫ বছর বয়সী কনোনেলের হাতে মাত্র ১৬৫ ডলার ছিল।  এরপর তিনি তাঁর চিকেন রেসিপি বিক্রী করার চেষ্টা করেন।  ১০০৯টি রেস্টুরেন্ট তাঁকে ফিরিয়ে দেয়ার পর একটি রেস্টুরেন্ট তাঁর রেসিপি নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়।  বাকিটা তো বুঝতেই পারছেন।

০৭. হেনরি ফোর্ড


১৮৬৩ সালে আমেরিকার মিশিগানে জন্ম নেয়া হেনরি ফোর্ড হলেন বিশ্ব বিখ্যাত গাড়ির কোম্পানী ফোর্ড মোটরস এর প্রতিষ্ঠাতা।  এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো এবং সবচেয়ে লাভজনক গাড়ি নির্মান প্রতিষ্ঠানের একটি।  বেঁচে থাকতেই হেনরি ফোর্ড তাঁর কোম্পানীকে সফল করে গেছেন, এবং নিজেও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এবং সফল মানুষদের একজন হয়েছেন।  যদিও তাঁকে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল উদ্যোক্তাদের একজন ধরা হয় – প্রথম দিকে তিনি আসলে একজন ব্যর্থ মানুষ ছিলেন।

সত্যি কথা বলতে, ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি অন্যের চাকরি করেছেন।  ১৮৯৮ সালে তিনি একটি স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ইঞ্জিন বানিয়ে সবাইকে দেখান এবং উইলিয়াম এইচ. মার্ফি নামে একজন ধনী ব্যক্তির বিনিয়োগ পান। পরের বছর ফোর্ড তাঁর প্রথম গাড়ির কোম্পানী “ডিট্রয়েড অটোমোবাইল কোম্পানী” প্রতিষ্ঠা করেন (ফোর্ড মোটরস নয়)।

১৯০১ সালে কোম্পানীটি ব্যর্থ হয়।  লোনের টাকা শোধ করতে না পারা এবং গাড়ির ডিজাইনে ঝামেলা থাকায় প্রজেক্টটি সফল হয়নি।  কোম্পানী তাদের কাজ বন্ধ করার কিছুদিন পর ফোর্ড একজন বিনিয়োগকারীকে আর একবার চেষ্টা করতে রাজি করাতে পারেন।  কিন্তু এটাও অল্প কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়।  কারণ বিনিয়োগকারীরা কোনও বিষয়েই একমত হতে পারছিলেন না।

অবশেষে ১৯০৩ সালে ৪০ বছর বয়সী ফোর্ড তাঁর নিজের নামে কোম্পানী শুরু করেন।  এবার তিনি নতুন বিনিয়োগকারী স্কটিশ কয়লা ব্যবসায়ী ম্যালকমসনকে রাজি করান যে সে ব্যবসায়ে নাক গলাবে না।  শুধু তার লাভের টাকা বুঝে নেবে।  এবং এরপর ফোর্ড তাঁর নিজের মত কাজ করতে শুরু করেন।  বাকিটা তো শুধুই সাফল্যের গল্প।

৮. টমাস আলভা এডিসন


আজকের পৃথিবীতে এমন কোনও শিক্ষিত মানুষ নেই যে টমাস আলভা এডিসন এর নাম জানে না।  বৈদ্যুতিক বাতি, চলচ্চিত্র, অডিও রেকর্ডিং, এনক্রিপটেড টেলিগ্রাফ সিস্টেম, আধুনিক ব্যাটারী – এধরনের হাজারের ওপর আবিষ্কার করে তিনি পৃথিবীকে ঋণী করে গেছেন।

১৮৪৭ সালে আমেরিকার ওহাইওতে জন্ম নেয়া এই জিনিয়াসের ছোটবেলায় ‘স্কারলেট ফিভার’ নামে একটি জটিল অসুখ হয়, যার ফলে তিনি কানে প্রায় শুনতেনই না। তাঁর স্কুল জীবন ছিল মাত্র ১২ সপ্তাহের।  কারণ তাঁর পড়াশুনার পারফরমেন্স এতই খারাপ ছিল যে স্কুলে আর তাঁকে রাখতে চাইছিল না।  স্কুল থেকে দেয়া চিঠিতে লেখা ছিল যে টমাস পড়াশুনায় খুবই অমনযোগী ও তার মেধাও ভালো নয়, এই ধরনের দুর্বল ছাত্রকে স্কুলে রাখা যাবে না।  কিন্তু টমাসের মা চিঠি খুলে ছেলেকে শুনিয়ে পড়েছিলেন যে, টমাসের মেধা সাধারণ ছাত্রদের চেয়ে অনেক বেশি, এত বেশি মেধাবী ছাত্রকে পড়ানোর ক্ষমতা সাধারণ স্কুলের নেই।  কাজেই তাকে যেন বাসায় রেখে পড়ানো হয়।  মায়ের থেকে পাওয়া এই আত্মবিশ্বাস থেকেই টমাস পরে জটিল জটিল সব বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করতে থাকেন।  এবং এই আত্মবিশ্বাসের কারণেই তিনি কোনও কিছুতেই ব্যর্থতাকে মেনে নিতেন না।  বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের সময়ে ১০ হাজার বার তাঁর এক্সপেরিমেন্ট ব্যর্থ হয়েছিল।  কিন্তু তিনি তবুও চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।  কারণ ছোটবেলায় তাঁর মা তাঁর মনে এই বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যে, কিছুই অসম্ভব নয়।

কটু ভাষায় লেখা সেই চিঠিটি এডিসন অনেক বছর পরে খুঁজে পেয়েছিলেন, তাঁর মা সেটি লুকিয়ে রেখেছিলেন।  ততদিনে মা মারা গেছেন।  টমাস হয়ে উঠেছেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও ধনী উদ্যোক্তা।  চিঠিটি পড়ে টমাস সব বুঝতে পারেন।  এবং নিজের ডায়েরীতে লেখেন, “টমাস আলভা এডিসন একজন  ছিল এক মেধাহীন  শিশু। একজন অসাধারণ মায়ের প্রেরণায় সে হয়ে উঠে যুগের সেরা মেধাবী।“
9
জীবন জুড়ে আমাদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। অপছন্দের পরিস্থিতি ও লোকেদের মাঝে বাস করতে হয়। আমরা সেই সমস্ত পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি। আসুন জেনে আসি প্রতিকূলতা অতিক্রম করে কিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারি।

১. শরীরের যত্ন নিন

শারীরিক সুস্থতার সাথে মানসিক সুস্থতার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এর জন্যে আপনি পুষ্টিকর খাবার খান, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, এবং শরীরের যত্ন নিন। এর ফলে আপনার শরীর রোজকার ধকলের সাথে যুঝে উঠতে পারবে। ভিটামিন বি-১২ ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার আপনার মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলিকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত বিশ্রামও খুবই প্রয়োজনীয়; কারণ ঘুমের সময় আমাদের শরীর সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে সারিয়ে তোলে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে আপনি ক্লান্ত ও খিটখিটে হয়ে পড়বেন।

২.শারীরিক ব্যায়াম করুন

কায়িক পরিশ্রম সুস্থ মনের জন্যে জরুরি। ব্যায়ামের ফলে শরীরে স্ফূর্তি আসে, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়। মনকে চাঙ্গা রাখতে নিজের পছন্দের কোনও কাজ করুন। নিয়মিত ব্যায়াম আপনার খিদে বাড়াতে সাহায্য করবে; ফলে আপনার ভাল ঘুম হবে, এবং সব মিলিয়ে আপনি মানসিক ভাবে সুস্থ থাকবেন।

৩. নিজের যত্ন নিন

মানসিকভাবে সুস্থতা থাকতে নিজের যত্ন নেওয়া দরকার। মনের মধ্যে আবেগ চেপে রাখবেন না। অবদমিত আবেগ প্রকাশের ফলে মানসিক চাপ ও জটিলতা কমে যায়। নিজের জন্যে কিছুটা সময় আলাদা রাখুন; নিজের মনের কথা শুনুন, বই পড়ুন, ব্যক্তিগত শখ-আহ্লাদ মেটান, বা এমনি হাত-পা ছড়িয়ে সব কাজ ভুলে একটু আরাম করুন।

৪. পছন্দের লোকজনের সাথে সময় কাটান

পছন্দের লোকের সাথে সময় কাটালে নিজের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জন্মায়। বন্ধুবান্ধব, পরিবার, সহকর্মী এবং প্রতিবেশীদের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখুন। এর ফলে আপনি সবার সাথে নিজেকে যুক্ত অনুভব করবেন। সহকর্মীদের সাথে একদিন খেতে যান, বা অনেকদিন বাদে কোনও পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা করুন। একটি মিষ্টি হাসি ও স্নেহের আলিঙ্গনের বিকল্প কোনও প্রযুক্তি হতে পারে না।

৫. কোনও শখ গড়ে তুলুন বা নতুন কিছু করুন

পছন্দ অনুযায়ী কাজ করলে পরে মনও ভাল থাকে। এর ফলে মাথায় দুশ্চিন্তা আসে না এবং অবদমিত আবেগগুলিও প্রকাশ পায়। তাছাড়া শখের কাজকর্ম করলে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়। নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি হয়, ফলে বাইরের জগতে আপনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে মেলে ধরতে শেখেন। নতুন জিনিস শিখলে মনের একঘেয়ে চিন্তা কেটে যায়, মনঃসংযোগ বাড়ে, এবং নতুন কিছু শেখার আনন্দে মন ভাল থাকে।

৬. দুশ্চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন

আমাদের সবারই বিভিন্ন লোকজন বা পরিস্থিতির কারণে দুশ্চিন্তা হয়। এই কারণগুলিকে প্রথমে চিহ্নিত করুন, তারপর সেগুলির উপর পুনরায় বিচার করুন। আপনি সেগুলি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করতে পারেন, যদি তা সম্ভব হয়। অনেক সময় সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আপনি সেই ব্যক্তিদের বা পরিস্থিগুলিকে সামলাতে পারেন না। এই জন্যেই স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট শেখা জরুরি।

৭. নিজের উপরে ভরসা হারাবেন না

আমরা সকলেই আলাদা, এবং আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই নিজস্ব ক্ষমতা এবং দুর্বলতা ররেছে। নিজের দুর্বলতাকে মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার উপরে ভরসা রাখলে জীবনে এগিয়ে চলার সাহস পাওয়া যায়। সবারই কোনও না কোনও দুর্বলতা থাকে, আপনারও আছে; কেউই নিখুঁত নয়। আপনি নিজের দুর্বলতাকে দূর করার প্রয়াস করতে পারেন, অথবা সেগুলোকে নীরবে মেনে নিতে পারেন। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মত আপনিও নিখুঁত নন, এটা মেনে নেওয়াটাই কিন্তু সুস্থ মানসিকতার পরিচয়। নিজের ক্ষমতা বুঝে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য তৈরি করুন। সর্বপরি না বলতে শিখুন। এটা কোনও অন্যায় নয়।

৮. নিজেকে মেলে ধরুন

অনেক সময়ই আমরা নিজের আবেগ মেলে ধরতে লজ্জা পাই। নিজের মনোভাব মেলে ধরতে পারা, মনকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই নিজের ইচ্ছা বা ভাবনা চেপে রাখেন, যা খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে সেই মানসিকতা আরও বেড়ে যায়। ফলে দুশ্চিন্তাও পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ফলে অন্য কোনও দিকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবেগ চেপে রাখার ফলে গুরুতর রকম ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার দেখা দিতে পারে। সামান্য রাগ বা দুঃখও চেপে রাখা উচিত নয়। শুধু জানতে হবে যে সবদিক বজায় রেখে আবেগের বহিঃপ্রকাশের উপায় কী।

৯.সাহায্য চান

এই দুনিয়াতে আক্ষরিক অর্থে সুখী ও নিশ্চিন্ত জীবন কেউ কাটান না। কাজেই মন খারাপ হলে, বিপদে পড়লে, হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়লে, বিচলিত হলে, রেগে গেলে, অথবা পরিস্থিতির সাথে খাপ না খাওয়াতে পারলে, বিশ্বাসযোগ্য কোনও ব্যক্তি যেমন – আপনার জীবনসঙ্গী, বন্ধু, অভিভাবক, ভাই-বোন বা আত্মীয়ের সাথে কথা বলুন। তাতেও না হলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। দেরি করবেন না। এতে লজ্জার কিছুই নেই; বরং একে আশার আলো হিসেবে দেখুন। জীবনের বাঁধা বিপত্তিতে একলা চলতে হবে না। প্রাণোচ্ছল জীবনের এটাই একমাত্র রাস্তা।
10
‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নাল সম্প্রতি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি ভ্যাক্সিন সম্পূর্ণ নিরাপদ, এক ডোজেই ৯০% মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। প্রায় ১,০৭৭ মানুষের ওপর পরীক্ষার পর দেখা গেছে ৯০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারার অবস্থায় আছে অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন ।

অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এপ্রিল থেকেই। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছিল অক্সফোর্ড। প্রথম পর্যায়ের রিপোর্ট প্রকাশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল ও সন্তোষজনক। ২০১৩ সালে যখন আফ্রিকা থেকে ইবোলা ভাইরাসের যাত্রা! মহামারী আকার ধারণ করে। সেসময় আলোর দিশারী হিসেবে, ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন অক্সফোর্ড বিজ্ঞানী অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট।
Pages: [1] 2 3 ... 10