Recent Posts

Pages: [1] 2 3 ... 10
1
AmCham Journal (October - December 2019) can be seen from the below link:

https://drive.google.com/file/d/1jxr4ORGx79oEqdmuLg5JPqRBXHjf72hq/view?usp=sharing

2


রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বাজে মন্তব্যের শিকার হননি এমন নারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সেই সঙ্গে বাজে স্পর্শ বা ইঙ্গিত তো থাকেই। এ ছাড়া অন্যায়ভাবে কেউ গায়ে এসে পড়লে নিজেকে তো রক্ষা করা চাই।

রাস্তাঘাটে অসহায় পরিস্থিতিতে পড়ে দরজায় খিল এঁটে বসে থাকলে তো চলবে না। এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কিছু প্রস্তুতি থাকা ভালো। আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট বা কারাতে, জুডো, তায়কোয়ান্দোর মতো শারীরিক কৌশল হতে পারে নারীর সুরক্ষার শক্ত একটি হাতিয়ার।

মেয়েদের মধ্যে কারাতে প্রশিক্ষণের প্রতি উৎসাহ দিন দিন বাড়ছে। চার বছরের শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের নারীই কারাতে শিখতে পারেন। কারাতে শিখলে মানুষের সামগ্রিক জীবনধারা বদলে যাওয়ার সঙ্গে বাড়ে রোগপ্রতিরোধক্ষমতা। বিচিত্র কলাকৌশলের এই ক্রীড়া নারীকে আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী করে তোলে। মূলত আত্মরক্ষার জন্য বলা হলেও কারাতে খেলা, ব্যায়াম এমনকি চিত্তবিনোদনের মাধ্যম হিসেবেও পরিচিত। গান-নাচ, ছবি আঁকা, গল্প-কবিতার মতো কারাতেও একধরনের শিল্পমাধ্যম। তাই তো প্রযুক্তিতে আসক্তি কমিয়ে কারাতে হতে পারে সত্যিকারের বন্ধু।

শিখবেন কোথায়
বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য কারাতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারাতে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটিতে যে কেউ ভর্তি হতে পারবেন। বছরজুড়েই ভর্তি নেওয়া হয় সেখানে এবং প্রশিক্ষণ শেষে ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই মেলে সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিং ব্ল্যাক বেল্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি ও মাসিক বেতনে রয়েছে বিশেষ ছাড়।

এ ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মার্শাল আর্ট ক্লাব জিমনেসিয়াম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), স্কলাস্টিকা স্কুল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইন্টারন্যাশনাল টার্কিশ হোপ স্কুল, মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল ও কলেজ, মনিপুর স্কুলসহ ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হচ্ছে কারাতে প্রশিক্ষণ।

ধানমন্ডির সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সেও শিখতে পারেন কারাতে। এখন ঢাকার বাইরে সারা দেশেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কারাতে শেখার ব্যবস্থা রয়েছে, শুধু অপেক্ষা খুঁজে নিয়ে ভর্তি হয়ে যাওয়া।

এলাকা বুঝে বিভিন্ন এলাকায় ও প্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং মাসিক বেতনে ভিন্নতা থাকলেও ভর্তি খরচ ৫০০ থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা এবং মাসিক বেতন ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। সপ্তাহে দুই দিন থেকে শুরু করে পাঁচ দিন পর্যন্ত ক্লাস নেয় প্রতিষ্ঠানগুলো। তিন-চার মাসে এক একটা অংশে আলাদাভাবে পাস করলে তবেই মেলে পরবর্তী রঙের বেল্ট বা কোমরবন্ধ।

সাধারণত ভর্তি হলেই সাদা বেল্ট দেওয়া হয়। তারপর একে একে হলুদ, কমলা, সবুজ, নীল, বেগুনি, লাল, বাদামি ও কালো। কালো কোমরবন্ধ প্রশিক্ষণের সর্বোচ্চ ধাপ। এ ছাড়া শিশুরা বয়সভিত্তিক ও বড়রা একই ওজনের ব্যক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও জিততে পারেন সোনা, রুপা কিংবা ব্রোঞ্জ পদক।

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের কোচ মোজাম্মেল হক জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে ৫০০ টাকা লাগে। মাসিক বেতনও ৫০০ টাকা। সপ্তাহে চার দিন ক্লাস করা যাবে। তিন মাসে এক একটি অংশ বিভক্ত। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ছোট থেকে বড় সবার কারাতে শেখা উচিত, বিশেষ করে মেয়েদের। শেখার সময় নিজেকে ব্যথার হাত থেকে বিপদমুক্ত রাখতে হাতে হ্যান্ড গ্লাভস, পায়ে শিন গার্ড, বুকে পরার জন্য চেস্ট গার্ড এবং মাথায় হেলমেট ব্যবহার করাটা নিরাপদ।

রাজধানী ও তার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় কারাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের জন্য বেশ কিছু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খোঁজ দেওয়া হলো।

ঢাকায়
বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন, ঢাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুডো ও কারাতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ফোন: ০১৭১৫৯১৪০৫৭

ঢাকা সিতোরিউ কারাতে একাডেমি। ফোন: লালমাটিয়া ০১৭৭৭৯৭৬৮৬৬, গুলশান ০১৭৯১৭১৯৪২৯

চায়নিজ কুংফু অ্যান্ড উশু স্কুল, মোহাম্মদপুর। ফোন: ০১৬৭৪৮৪২১৩২

মার্শাল আর্ট স্টারস একাডেমি, মিরপুর।

ইয়াং ড্রাগন মার্শাল আর্ট সেন্টার, মগবাজার। ফোন: ০১৭১৮২৯৩৭৮৬

ব্ল্যাকবেল্ট একাডেমি। ফোন: গুলশান ০১৮১৭৫১৯৭৬২, উত্তরা ০১৯৩২০০০০৩২

এম কে সিতেরিউ কারাতে একাডেমি, যাত্রাবাড়ী। ফোন: ০১৭১৭৩৫১৫৮৭, ০১৬৮০৮১৯৬৯৮

ঢাকার বাইরে
বাংলাদেশ ইয়াং কিং কারাতে সেন্টার, রাজশাহী। ফোন: ০১৭০৫৪৫৯২৬৮

বাংলাদেশ কিক ফাইটার কারাতে স্কুল, খুলনা।

খুলশী কারাতে ক্লাব, চট্টগ্রাম। ফোন: ০১৮১৯৬৪৮৪৫৬

চাইনিজ উশু ফাইটার স্কুল, সিলেট। ফোন: ০১৭১৯৯২৪৪৭১

ইয়াং ড্রাগন মার্শাল আর্ট সেন্টার, বগুড়া।

বাংলাদেশ সেলফ ডিফেন্স অ্যান্ড স্পোর্টস কারাতে একাডেমি, নারায়ণগঞ্জ।

Source: https://www.prothomalo.com/life-style/article/1634434/%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%96%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A7%87
3
চেক ডিজঅনার খসড়া আইনে থাকছে জেল-জরিমানা


চেক ডিজঅনারের মামলায় নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮১ সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন আইনে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা চেকে লিখিত অর্থের চারগুণ অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে।

একইসঙ্গে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট সংশোধন করে বিনিময়যোগ্য দলিল আইন ২০২০ নামে নতুন আইন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতামতের জন্য আইনটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে বিনিময়যোগ্য দলিল আইন, ২০২০ এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতামতের পর আইনটি চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন করা হবে।

বর্তমানে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্টে চেক ডিজঅনারের মামলায় এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট যে পরিমাণ টাকা উল্লেখ করা হয় তার তিনগুণ জরিমানা করা হয়। অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি তার কোনো ব্যাংকের হিসাবে অপর কোনো ব্যক্তিকে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য চেক লিখে দিয়েছেন, কিন্তু ব্যাংক হিসাবে যে পরিমাণ টাকা আছে তা দিয়ে চেক সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, আবার উক্ত হিসাব থেকে টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংকের সঙ্গে যে পরিমাণ টাকার চুক্তি করা হয়েছে তা অতিক্রান্ত হওয়ায় কিংবা স্বেচ্ছায় ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে লেনদেন স্থগিত বা বন্ধ করার কারণে ব্যাংক কর্তৃক উক্ত চেকটি অপরিশোধিত হয়ে ফেরত এলো, তাহলে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন করেছে বলে বিবেচিত হবে। এ অপরাধে অপরাধী নতুন এ আইনে সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা চেকে লিখিত অর্থের চারগুণ অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

একইসঙ্গে দি নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮১ রহিতক্রমে তা পরিমার্জন পূর্বক সময়োপযোগী করে নতুনভাবে প্রণয়ন করা সমীচীন। একই নতুন আইনে শিরোনাম করা হয়েছে বিনিময়যোগ্য দলিল আইন, ২০২০।

বিনিময়ের উপাদন সংক্রান্ত আইন নিয়ে ১৮৮১ সালে তৈরি করা হয়েছিল হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ (দ্য নিগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮১)। এই আইনের মাধ্যমেই প্রমোজারি নোট (অঙ্গিকারপত্র), বিনিময় বিল (বিল অব এক্সচেঞ্জ) এবং চেক ডিজঅনারের ক্ষেত্রে ব্যবহারে হয়ে আসছে।

বাংলাদেশ সময়: ০৩৩৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৬, ২০২০
জিসিজি/জেডএস
4
আগামী দিনের মেয়রদের কাছে প্রত্যাশা
ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু
১৬ জানুয়ারি, ২০২০

২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১০টি স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করে। এর মধ্যে এক নম্বর ঝুঁকি হলো বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন। আর ২০১৮ সালে সংস্থাটির হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা ছিল তৃতীয়। ঢাকার বায়ুদূষণের এই চিত্র সরকারি সংস্থা পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে ঢাকার বায়ুমান মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাসযোগ্যতার একটি তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিবছরই স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা, ভৌত অবকাঠামো এবং স্থিতিশীলতা বা শৃঙ্খলা—এই পাঁচটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এ তালিকা করা হয়। তালিকায় প্রতিবছরই বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় বা তৃতীয় অবস্থানে থাকে ঢাকা শহর। অথচ একটু সচেতন হলে বায়ুদূষণ রোধ করা, জলাশয় ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ, অপরিকল্পিত ফ্যাক্টরি-কারখানা নির্মাণ করে একটি শহরের ওপর অত্যধিক চাপ সৃষ্টি করা, একটি শহরকে জ্বলন্ত চুল্লিতে পরিণত করা, এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে পুরো একটি শহরকে পানির নিচে তলিয়ে দেওয়া, একই রাস্তা অসৎ উদ্দেশে বারবার খোঁড়াখুঁড়ি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে দুর্গন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি করা, যানজট, ধুলাবালি, ধোঁয়া আর মশার উপদ্রবকে জনগণের নিত্যসঙ্গী বানানো, পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে শহরবাসীকে ভোগান্তির হাত থেকে অন্ততপক্ষে রক্ষা করা যেতে পারে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের আগামী দিনের মেয়র ও কাউন্সিলররা এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে নগরবাসীর প্রত্যাশা।

ঢাকাকে আতঙ্কিত ও অপ্রস্তুত শহর হিসেবে প্রায়ই উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে প্রায়ই রিপোর্ট প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। কিন্তু ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ ও যানজটমুক্ত করতে নানা পরিকল্পনার কথা শোনা যায়। ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নিত্যনতুন পরিকল্পনাও তৈরি হয়, সিটি করপোরেশনের মেয়র-কাউন্সিলররাও ভোটের আগে-পরে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আবার এসব নিয়ে প্রায়ই সভা-সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেসব পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কোনো উদ্যোগ তেমন একটা দেখা যায় না। ইআইইউর বিগত বছরের জরিপ থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে ঢাকাকেন্দ্রিক নগরায়ণ টেকসই নয়—যা প্রত্যেক নগরবাসীই উপলব্ধি করতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কেন এত পিছিয়ে? পাবলিক পরিবহনব্যবস্থা বলতে যা বোঝায়, তা ঢাকায় নেই। প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তার স্বল্পতা, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা, জনগণ কর্তৃক ট্রাফিক আইন না মানার পাশাপাশি সুষ্ঠু গণপরিবহন ব্যবস্থার অভাবে ঢাকার রাস্তাঘাটে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আর যানজটের কারণে মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে কার্যক্ষমতা ও মনোযোগ। ঢাকা এমন একটি শহর, যেখানে পথচারীদের চলাচলের জন্য সামান্যতম যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন সেটুকুও নেই। যতটুকু আছে, সেখানেও হকাররা পুলিশ ও ক্ষমতাসীনদের ‘ম্যানেজ’ করে বসায় দোকানপাট। এক শ্রেণির মানুষের সীমাহীন অর্থলিপ্সা রাজধানী ঢাকাকে ভয়াবহ ইট-কাঠের বস্তিতে পরিণত করছে। অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় ঢাকায় বড় আকারের অঘটন ঘটলে যে পরিমাণ ক্ষতি হবে, তা হবে অকল্পনীয়। শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির কারণে ওই অংশে টিউমার, গোদ রোগ বা মরণব্যাধি ক্যান্সারের সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে মানুষ যেমন তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়; ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ওপর নানা দিক থেকে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুলস ফর ডায়াগনসিস অব আরবান এরিয়াস-এর জরিপে ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বের ২০টি শহরের মধ্যে অন্যতম ঢাকা। ঢাকা মহানগরীর প্রায় তিন লাখ ২৬ হাজার পাকা ভবনের মধ্যে ৭২ হাজার ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে আছে। রাজধানী ঢাকায় প্রায় আড়াই কোটি মানুষের বসবাস এবং দেশের বিপুলসংখ্যক জনগণ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে রাজধানীমুখী হওয়ায় এ সংখ্যা প্রতিদিনই অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ঢাকার ওপর বর্তমানে জনসংখ্যার চাপ যে হারে বাড়ছে, তাতে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা এবং তা রিখটার স্কেলে ৭ কিংবা তার একটু ওপরের মাত্রার হলেই ঢাকা ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।

ঢাকা শহরের ওপর চাপ কমানোর জন্য ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ এখন অত্যন্ত জরুরি বিষয় হয়ে পড়েছে। দেশের বড় একটি সেক্টর হচ্ছে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টশিল্প, যা দেশের সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্প। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানি করে প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে। বিজিএমইএর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ঢাকা রিজিয়নে রয়েছে প্রায় দুই হাজার ৮৩৩টি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি। এসব গ্যার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করে। আর গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য উভয়ের চলাচল হয় চট্টগ্রাম পোর্ট ও মোংলা পোর্ট দিয়ে। অর্থনীতির পরিভাষায় উৎপাদনের উপকরণ ও উৎপাদিত পণ্য নির্বিবাদে স্থানান্তরের সুযোগ থাকলে যেকোনো স্থানের বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত সুফল সংযুক্ত অন্যান্য এলাকায় পৌঁছানো যায়। তুলনামূলকভাবে পণ্য চলাচল সহজ ও সাশ্রয়ী হলে আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোরও বিকেন্দ্রীকরণ অত্যন্ত জরুরি। এ ব্যাপারে বুয়েটসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রকৌশল সেক্টরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক সুপরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ঢাকা শহরকে পরিষ্কার রাখতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালকে পরিচ্ছন্ন বছর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা কতটুকু কার্যকর হয়েছে? আবার দুই সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। কিন্তু ঢাকাকে পরিষ্কার রাখতে, বাসযোগ্য নগরী করতে তাঁদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের আন্তরিকতাসহ সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণ আবশ্যক। পাশাপাশি আমাদের সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হয়ে প্রত্যেককে মেয়র-কাউন্সিলরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে কাজ শুরু করতে হবে এখন থেকেই, যেন ঢাকা শহর আগামীতে সত্যিকার অর্থেই একটি বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে ওঠে।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, আইন বিভাগ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সদস্য
kekbabu@yahoo.com

Link: https://www.kalerkantho.com/print-edition/muktadhara/2020/01/16/862988

6
নানা পুষ্টিগুণ ও  স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য পেয়ারা ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমের ফল হলেও এখন সারাবছর বাজারে পাওয়া যায়। অন্যান্য ফলের চেয়ে পেয়ারার পুষ্টিগুণ বেশি। বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’ এর পরিমাণ এত বেশি যে আমলকী বাদে অন্য কোনো ফলে এত ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায় না।

তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে।
১. পেয়ারাতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ আছে। ১০০ গ্রাম পেয়ারায় ১৮০ মি.গ্রাম ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। ফলটি ঠাণ্ডা কাশির পথ্য। তাছাড়া শ্বাসতন্ত্র, গলা ও ফুসফুসকে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা করে। রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে তাই হার্টের রোগীরা পেয়ারা খেতে পারেন।
২. পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে। যা দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রয়েছে তারা পাকা পেয়ারা খেতে পারেন।

৩. পেয়ারায় যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ থাকে তা শরীরে গেলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।

৪. যেকোনো ব্যকটেরিয়া সংক্রমণ বা পেটের গোলযোগে কার্যকরী। এই ফলটিতে অ্যাস্ট্রিজেন্ট ও অ্যান্টি-মাইক্রোবাল উপাদান থাকে যা পাকস্থলির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া ত্বক ভালো রাখার সঙ্গে সঙ্গে ত্বককে টানটান রাখে।

৫. পেয়ারা ডায়বেটিস, ক্যানসার, প্রস্টেট ক্যানসার মতো রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। পেয়ারা ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পারে। তাই নিয়মিত পেয়ারা খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে অনেকটা। পেয়ারার আছে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা।

বিডি-প্রতিদিন/
7
Common Forum / গবেষণা নিয়ে ৫ প্রশ্ন
« Last post by Md.Towhiduzzaman on January 15, 2020, 10:11:41 AM »

গবেষণা নিয়ে ৫ প্রশ্ন

আমাদের দেশের বহু তরুণ এখন দেশ-বিদেশে গবেষণা করছেন। নামী জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে অনেকের গবেষণাপ্রবন্ধ। গবেষণায় আগ্রহ আছে অনেকের। কিন্তু নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খায় শিক্ষার্থীদের মনে। এমনই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর থাকছে এবারের মূল রচনায়।

গবেষণা নিয়ে ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ৫ জন বাংলাদেশি গবেষক।

১.

রাগিব হাসান
সহযোগী অধ্যাপক, কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগ, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব অ্যালাবামা অ্যাট বার্মিংহাম
গবেষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্নাতকে যাঁরা গবেষণা করছেন, গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন, তাঁদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনেক বেশি। বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ, পোস্টার উপস্থাপনকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা বিদেশে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়। দেশে গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে অনুদান, ফেলোশিপ, অ্যাসিস্ট্যান্সি, বৃত্তির মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ থাকে।

গবেষণা শুধু উচ্চশিক্ষার সুযোগকে বিস্তৃত করে না, ভবিষ্যতের কর্মবাজারেও দারুণ কার্যকর। যে বিষয়ে গবেষণা করছেন, সে বিষয় নিয়ে কাজ করা কোনো না কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আপনার কর্মস্থল হতে পারে। গবেষণারত অবস্থায় অনেক প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারে কাজের সুযোগ পান গবেষকেরা। গবেষণাকালীন সময়ে বিভিন্ন দেশে পেপার উপস্থাপন ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে।

যাঁরা ভবিষ্যতে শুধু শিক্ষক বা গবেষক হতে চান, তাঁদের জন্যই শুধু গবেষণা নয়, গবেষণা আসলে উচ্চশিক্ষার একটি অংশ। স্নাতক-স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গবেষণায় আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন।

২.

সাইফুল ইসলাম
পিএইচডি গবেষক, কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া
গবেষণার কাজ কোন সময়ে শুরু করা উচিত?

আমাদের দেশে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই স্নাতক পর্যায়ে গবেষণার দিকে তেমন মনোযোগী নন। কিন্তু গবেষণা নিয়ে ভাবনা আসলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই করা উচিত। যে বিষয়েই পড়ুন না কেন, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই ভবিষ্যতে কোন বিষয়ে গবেষণা করতে চান, তা খুঁজতে থাকুন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষ গবেষণার মনন বিকাশের দারুণ সময়। হুট করে তো একদিন গবেষক হয়ে ওঠা যায় না, তাই এই সময়কে গোছানোর জন্য কাজে লাগানো প্রয়োজন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অনেকে তাড়াহুড়া করে গবেষণা শুরু করেন। তখন একটু বেশি চাপ হয়ে যায়। যত আগে শুরু করা যায়, যত আগে গবেষণার কৌশল সম্পর্কে শেখা যায়, আর্টিকেল লেখার চর্চা করা যায়, ততই নিজেকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। বিভিন্ন জার্নাল পেপারে আর্টিকেল জমা দেওয়ার নিয়ম জানতে হবে। বিভিন্ন সেমিনার ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোন কোন ক্ষেত্রে নিজেকে গবেষক হিসেবে তৈরি করবেন, তা জানার সুযোগ আছে। যে বিষয়ে গবেষণা করতে চান, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইমেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করতে পারেন। গবেষক হিসেবে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাও জরুরি।বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই গবেষণার বিষয়ের খোঁজ করতে হবে। আর সে জন্য বেশি বেশি পড়তে হবে, জানতে হবে। ছবি: খালেদ সরকারবিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই গবেষণার বিষয়ের খোঁজ করতে হবে। আর সে জন্য বেশি বেশি পড়তে হবে, জানতে হবে। ছবি: খালেদ সরকার

৩.

শরিফা সুলতানা
পিএইচডি ইন ইনফরমেশন সায়েন্স, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
কীভাবে বেছে নেব গবেষণার বিষয়?

গবেষণার দুনিয়া অনেক বড়, উন্মুক্ত। নানা বিষয়ে গবেষণার সুযোগ আছে। যাঁরা গবেষণার অ আ ক খ মোটামুটি জানেন, তাঁদের জন্য পুরো প্রক্রিয়া বোঝা সহজ। যে বিষয়ে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে, তা নিয়ে যেমন গবেষণার সুযোগ আছে, তেমনি নিত্যনতুন অসংখ্য বিষয় আছে। আমি যেমন মানুষ ও কম্পিউটারে মিথস্ক্রিয়া ও ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসের মতো বিষয় নিয়ে গবেষণা করছি। নিজের বিষয়ের বাইরেও আমাকে জানতে হচ্ছে, শিখতে হচ্ছে। প্রকৌশলের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও কবিরাজি চিকিৎসা নিয়ে আমার একটি গবেষণাপত্র ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়।

গবেষণার ক্ষেত্রে আসলে নিজের পছন্দের বিষয়কে যেমন গুরুত্ব দিতে হয়, তেমনি যে বিষয় নিয়ে কাজের সুযোগ আছে, তা ভাবা জরুরি। প্রকৌশল কিংবা জীববিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে পড়েও সামাজিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো গবেষণাপত্র তৈরি করতে পারেন। স্নাতকে যে বিষয়ে পড়ছেন, বা যে কোর্সে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই শুরু করুন। ধীরে ধীরে জানার দুনিয়া বড় করতে হবে, গবেষণাকে বিস্তৃত করতে হবে। গবেষণায় তাত্ত্বিক পড়াশোনার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন গবেষণা কৌশল, তথ্য বিশ্লেষণ, তথ্য সংগ্রহের মতো বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। ধীরে ধীরে আপনার গবেষণার বিষয় ও আগ্রহ সম্পর্কে জেনে যাবেন।

৪.

আলিয়া নাহিদ
প্রধান, ইনিশিয়েটিভ ফর নন কমিউনিকেবল ডিজিজেস, আইসিডিডিআরবি ও ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ
একজন গবেষকের মধ্যে কী কী দক্ষতা বা গুণ থাকা উচিত?

আগ্রহ আর ধৈর্যশক্তির জোরে যেকোনো শিক্ষার্থীই গবেষক হয়ে উঠতে পারেন। বুদ্ধিমত্তা ও কৌতূহল গবেষক হওয়ার জন্য ভীষণ জরুরি। অন্যদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ, নেতৃত্বদান, অন্য গবেষকের অধীনে কিংবা দলের সঙ্গে কাজ করার কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। নিজেকে যেমন বুঝতে হবে, তেমনি নিজের যোগ্যতাকে বিকাশে সময় দিতে হবে। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সক্ষমতা থাকতে হবে।

গবেষণায় শেষ বলে কিছু নেই, তাই সব সময় পর্যবেক্ষণ মনোভাবে থাকতে হবে। অনুসন্ধিৎসু হতে হবে।

গবেষকদের আরেকটি গুণ থাকা ভীষণ জরুরি—তা হচ্ছে সততা ও নৈতিকতা। মানসিকভাবে সৎ ও নৈতিক হওয়া প্রত্যেক গবেষকের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কাজের ক্ষেত্রেও নৈতিক থাকতে হবে। গবেষক হিসেবে গবেষণা নিয়ে অনেক সমালোচনা কিংবা নেতিবাচক ফল আসতে পারে, তাই বলে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।

শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীদের সঙ্গে গবেষণার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বর্তমান সময়ে গবেষণার ক্ষেত্রে যেসব টুলস বা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, যেমন এসপিএসএস, ম্যাটল্যাব—এগুলোর ব্যবহার শিখতে হবে।

৫.

নিগার সুলতানা
পিএইচডি, ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা
গবেষণার মাঝপথে এসে থমকে গেলে কী করব?

গবেষণা অনেক সময়ের বিষয়। হুট করে শুরু করা যায় না। তবে বাস্তবতার কারণে গবেষণায় বাধা আসতেই পারে, থেমে যেতে হতে পারে। গবেষণায় হয়তো ফান্ড কমে গেল কিংবা বন্ধ হয়ে গেল। হয়তো
গবেষণা করছেন, কিন্তু ফল পাচ্ছেন না। গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক, সহগবেষকদের সঙ্গে অনেক বিষয়ে তর্ক ও বিতর্কের অবকাশ থাকে।

একজন গবেষককে সব পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। প্রয়োজনে সুপারভাইজার ও অন্যান্য গবেষকদের সহায়তা নিতে হবে। গবেষণা আসলে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা। কাজটাকে ছোট ছোট ভাগ করে নিতে হবে। অনেকেই গবেষণা শুরুর পরে হাল ছেড়ে দেন। তরুণ গবেষকদের মধ্যে এই প্রবণতা খুব বেশি। প্রয়োজনে শিক্ষক ও মনোবিদদের পরামর্শ নিতে হবে।

গবেষক হিসেবে আপনার জীবনের চাপ অন্যরা গুরুত্ব না–ও দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রয়োজনে একটু বিরতির পর আবার জেদ নিয়ে ফিরে আসুন। কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা তরুণ গবেষকদের সাধারণ সংকট বলা যায়। এ ক্ষেত্রে জীবনের অন্যান্য বিষয় আর শখকেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণাকাজ ও জীবনের মধ্যে ‘সামঞ্জস্য’ এনে নিজেকে উজ্জীবিত করতে হবে।
9
Biochemistry and Molecular Biology / Re: Nucleic acids - DNA and RNA structure
« Last post by mithi on January 15, 2020, 08:40:57 AM »
Thank you for sharing
Pages: [1] 2 3 ... 10