Recent Posts

Pages: [1] 2 3 ... 10
2
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।এদেশের সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন সর্বক্ষেত্রেই হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্যরা সংখ্যাগুরু মুসলিম নাগরিকদের মতই সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে তারা সংখ্যাগুরু নাগরিকদের চেয়েও বেশি সুবিধা ভোগ করছেন।এখানে হিন্দু বাড়ীওয়ালারা মুসলিম নাগরিকদের কাছে বাসা ভাড়া না দিলেও মুসলিমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছেই বাসা ভাড়া দিয়ে থাকেন এবং সকল ধর্মাবল্বিদের সাথেই মিলে মিশে বাস করেন।কারণ, মুসলমানরা কোন বর্ণভেদ প্রথা এবং জাত-পাতে বিশ্বাস করেন না।এদেশে পহেলা বৈশাখে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে উৎসব পালন ছাড়াও ঈদ ও পূজা-পার্বনে হিন্দু-মুসলিমরা পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানান।

এমনি এক প্রেক্ষাপটে গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা নামের এক নারীর সংখ্যালঘু নির্যাতনের  নালিশ সোশ্যাল মিডিয়া সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রিয়া সাহা দাবি করেন, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ সংখ্যালঘু নাগরিককে গুম করা হয়েছে, যা এদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু নাগরিকদের মোট জনসংখ্যারও দ্বিগুণ। তিনি আরো দাবি করেন, তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসেছেন, কারণ তাদের বাড়ী-ঘর মুসলমানরা জ্বালিয়ে দিয়েছে মুসলমানরা, এবং সরকারের প্রশ্রয়েই এটি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিষয়ে এমন বক্তব্যকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের পায়তারা বলে আখ্যায়িত করে তার বিচার চাইছেন নেটিজেনরা।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতা বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে কথা বলেন।

এতে বাংলাদেশি পরিচয়ে প্রিয়া সাহা উপস্থিত হয়ে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।

এরপর তিনি বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।

এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীলতার স্বরূপ এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান।

এ সময় ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, ‘কারা জমি দখল করেছে, কারা বাড়ি-ঘর দখল করেছে?’

ট্রাম্পের প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘তারা মুসলিম মৌলবাদি গ্রুপ এবং তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সব সময়ই পায়।’

মার্কিন টিভি চ্যানেল এবিসি নেটওয়ার্কের চ্যানেল এবিসি ফোর ইউটাহ ট্রাম্পের সঙ্গে প্রিয়া সাহার সেই সাক্ষাতকারের ভিডিও প্রকাশ করে। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেটি। যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশিরা নানা ধরণের মন্তব্য করছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, কে এই প্রিয়া সাহা?

জানা গেছে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ -খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এ প্রিয়া সাহা।

এছাড়াও তিনি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘শারি’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্বরত ।

তার স্বামী মলয় সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক।

তার গ্রামের বাড়ী পিরোজপুর জেলার চরবানিরীর মাটিভাঙ্গা নাজিরপুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন প্রিয়া। রোকেয়া হলে থাকতেন তিনি।

সে সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ‘মহিলা ঐক্য পরিষদ’এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।

এছাড়া সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাদের ভালো যোগাযোগ রয়েছে।

কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন প্রিয়া সাহার দুই মেয়ে। কিছুদিন পূর্বে সেখানে যান প্রিয়া

বর্তমানে ‘শারি’ এনিজিও সংস্থার মাধ্যমে প্রিয়া নিজ এলাকার দলিত সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করেন।

এত সুযোগ-সুবিধা আর এত দায়িত্বপূর্ণ পদে অবস্থান করেও প্রিয়া সাহার এই দেশ বিরোধী বক্তব্য সবাইকে অবাক করলেও এটিকে হাল্কা করে দেখার উপায় নেই।

ইতিমধ্যে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রিয়া সাহার নালিশকে চক্রান্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করে বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

প্রিয়া সাহার এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেয়া ওই নারীর অভিযোগ সত্য নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে-অপরকে শ্রদ্ধা করে।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে প্রিয়া সাহার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেলে হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-ঐক্য পরিষদের সভাপতি হিউবার্ট গোমেজের সঙ্গে কথা বলেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে ফোন রেখে দেন।

তবে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা তার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত। এ বিষয়ে তিনিই ভালো ব্যাখা দিতে পারবেন।’

প্রিয়া সাহা কিভাবে হোয়াইট হাউজের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন এই প্রশ্নে তিনি বলেন,‘প্রিয়া সংগঠনের ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে একজন। তাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সেখানে পাঠানো হয়নি। ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি কিভাবে সাক্ষাত করেছেন তা আমি জানি না।’

প্রিয়া সাহার বেসরকারি সংস্থা সংস্থা ‘শারি’-এর কার্যালয়ের অন্যান্য সদস্যরাও এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।
3
নওগাঁর ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার।

তিন একর জমিতে মাল্টা রোপন করে এখন তার বাগান ফলে ফলে ভরে গেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে অনেক মুনাফা লাভের স্বপ্নও দেখছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

স্নাতক পাসের পর চাকরি না পেয়েও হতাশ হননি রিনা। নেমে পড়েন ফলের বাগান করতে। উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত আঙ্গরত তেলিপাড়া গ্রামের মায়া কানন (বায়ো এগ্রি ফার্ম) নামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি।

কৃষিবিদ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিনার ছোট বেলা থেকে কৃষির প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল। বিশেষ করে ফল বাগান গড়ে তোলা তার স্বপ্ন ছিল। তাইতো তার নিজ হাতে তিনি শুরু করেন মাল্টা চাষ।

এ ব্যাপারে রিনা আক্তার বলেন, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ শতাংশ জমিতে ১ বছর বয়সী উন্নত মানের মাল্টা চাষ শুরু করি। সে সময় ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিন ও বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। 

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ১০ ফুট পর পর মোট ১৩৬টি চারা গাছ রোপন করি। পরের বছর গাছে ফুল আসলেও তা ভেঙ্গে দেয়া হয়। এবছর গাছে পর্যাপ্ত ফুল আসে এবং অসংখ্য ফল ধরে। বর্তমানে প্রতি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আশা করা যাচ্ছে প্রতি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে।

আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে ফল নামানো শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে পাইকারি মাল্টা ১শ থেকে ১শ ২০ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ১শ টাকা কেজি হলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে যার দাম হবে ১ হাজার টাকা। সে হিসেবে ১৩৬টি গাছ থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তবে এবার মাল্টা বিক্রি করে লাভের আশা করছেন রিনা।

তিনি জানান, মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি চারা গাছ তিনি ১৫০ টাকা দর হিসেবে ২০ হাজার ৪শ টাকায় কিনেছেন। এছাড়া শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য বাবদ মোট ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। এবছর ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করারও আশা করছেন তিনি। 

ধামইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ধামইরহাটের মাটি যেকোন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ অঞ্চলের মানুষ শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকে। বর্তমানে ধান চাষে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

এ কারণে এলাকার চাষিদেরকে লাভজনক ফল চাষে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। রিনা আক্তারকে মাল্টা ও ড্রাগন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তার বাগানে মাল্টার প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে।

এছাড়া উন্নতমানের মাল্টা চারা বারি-১ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ দেয়া হয়। এ অঞ্চলে মাল্টা ও ড্রাগন ফলের মিষ্টতা ও গুনাগুণ অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভালো। তাছাড়া বাজারে মাল্টা এবং ড্রাগন ফলের দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার বেকার যুবকরা ওই বাগান দেখে ইতোমধ্যে অনেকে ফল বাগান চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে এ অঞ্চল ফলের এলাকা হিসেবে পরিচিতি পাবে বলেও আশা করছেন এই কৃষিবিদ।
4
‘সব মৃত্যুই কষ্টের, সুখের মৃত্যু তো কিছু নেই’  কথাটি বলেছিলেন বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, খ্যাতিমান কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদ। আজ তার  সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী।

দূরারোগ্য ক্যান্সার রোগে ভুগে ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে কিংবদন্তী এই কথাসাহিত্যিক মৃত্যুবরণ করেন। নুহাশপল্লীতে তাকে সমাহিত করা হয়।

সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় প্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদকে স্মরণ করছেন তার অগণিত ভক্ত।

দিবসটি উপলক্ষে কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে নূহাশ পল্লীতে তার  আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের  আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলগুলিতে প্রচার করা হচ্ছে হুমায়ূনের নির্মিত বিভিন্ন নাটক ও চলচ্চিত্র।

১৯৪৮ সালে ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরপরই খ্যাতি লাভ করেন তিনি।

বাংলাদেশে পাঠকপ্রিয় এই লেখক দুই শতাধিক ফিকসন ও নন-ফিকসন বই লেখেন। হিমু, মিছির আলীর মতো চরিত্র দিয়ে লাখো-কোটি পাঠক-ভক্ত তৈরি করেছেন এই কথার জাদুকর। ১৯৯০ ও ২০০০ দশকে তার বইগুলো একুশে বইমেলায় সর্বাধিক বিক্রি হয়।

তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখকদের মধ্যে অন্যতম গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক।

বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ হুমায়ুন আহমেদকে একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদক দেয়া হয়।

নব্বই দশকের শুরুতে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আবির্ভাব ঘটে তার। নিজের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে হুমায়ূনের পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, ঘেটুপুত্র কমলা। আগুনের পরশমণি, দারুচিনি দ্বীপ ও ঘেটুপুত্র কমলা চলচ্চিত্রের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
5
তিনি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্ট। অথচ অনেক কিছু সম্পর্কেই তিনি জানেন না। আর এটা নিয়েই হই বেধে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের বক্তব্যের জন্যই সবচেয়ে বেশ সমালোচিত। হুট করেই বেফাঁস কথা বলে ফেলাটা তার জন্য নতুন কিছু নয়।

কিন্তু সারা দুনিয়া যখন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে তখন এ বিষয়ে ট্রাম্প কিছুই জানেন না তা কি করে হয়? এমন কথা অনেকেই বিশ্বাস করতে চাইবেন না। কিন্তু বাস্তবে এমনটাই হয়েছে।

রোহিঙ্গারা কোথায় শরণার্থী হিসেবে রয়েছেন? তাদের সমস্যা কী নিয়ে? কোনও কিছুই যেন জানেন না এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর তাই তো ওভাল অফিসে এক রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সবার সামনেই প্রশ্ন করে বসলেন, ‘রোহিঙ্গা! কোথায় সেটা?’

ধর্মের নামে অত্যাচারিত হয়েছেন এমন বিভিন্ন দেশের মানুষদের নিয়ে তৈরি একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গত বুধবার নিজের ওভাল অফিসে দেখা করেন ট্রাম্প। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইরাকে ইয়াজিদি নারীদের হয়ে আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করা নোবেলজয়ী নাদিয়া মুরাদ। এছাড়াও ছিলেন বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরের এক রোহিঙ্গা মুসলিমও। ওই রোহিঙ্গা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে গিয়েই এই কাণ্ড ঘটান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ওই ব্যক্তি ট্রাম্পকে জানান, দু’বছর আগে মিয়ানমার সেনাদের অত্যাচারে নিজের দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে রয়েছেন বাংলাদেশের একটি শরণার্থী শিবিরে। কিন্তু তারা দেশে ফিরতে চান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

এরপর ট্রাম্প বলে ফেলেন, ‘এটা আসলে কোথায়?’ এরপরই তাকে জানানো হয়, বাংলাদেশ মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ।’ তারপরই হয়ত বুঝতে পারেন ট্রাম্প।

তবে ওই সভায় আরও একটি ভুল করেন বসেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নাদিয়া মুরাদকে সরাসরি প্রশ্ন করে বসেন, ‘আপনি কেন নোবেল পেয়েছেন?’ যদিও নাদিয়া এরপর নিজের লড়াইয়ের কথা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরেন, পাশাপাশি ইয়াজিদি পরিবারদের জন্য কিছু করার আবেদনও জানান তিনি।
6
পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের মামার বাড়ি কবিতার ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ, ছোট বেলায় কবিতার এই পংক্তির সঙ্গে সকলেই পরিচিত। আর মাগুরাসহ বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে বিখ্যাত ছিল এক সময় এই কালো জাম। গ্রাম গঞ্জের বাসা বাড়ি থেকে শুরু করে পথে ঘাটে, হাটবাজারে ও সড়ক মহাসড়কে ছিল জাম বাগানের সারি।
মধুমাসের মৌসুমী বাজারে এখন প্রচুর কালো জাম দেখা যাচ্ছে। ফেরিওয়ালারা স্কুল কলেজের সামনে বাসস্ট্যান্ডে ফেরি করে বিক্রি করে কালো জাম। বড় বড় গাছ ও বাগান কেটে সাফ করে ফেলায় এখন এই কালো জামের উৎপাদন কিংবা ফলন কমে গেলেও একেবারে হারিয়ে যায়নি। মাগুরা গ্রামগঞ্জে এখনও চোখে পড়ে বড় বড় জাম গাছের সারি। অনেক এলাকায় নুতন করে জাম বাগান গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব বাগান থেকে প্রতিবছর বাণিজ্যিকভাবে কালো জাম বাজারজাত হচ্ছে।
মধুমাসের ফল কালো জাম ইংরেজী জাম্বুল থেকে এসেছে। পুষ্টিকর কালো জামের নানা গুনাগুণের কথা উল্লেখ রয়েছে চিকিৎসাশাস্ত্রে। এর নরম মাংসল অংশ ছাড়াও জামের বীজেরও উপকারিতা রয়েছে। জাম খেতে হালকা টক ও মিষ্টি স্বাদের। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, জিংক, ডেক্সট্রোজ, ফ্রুকটোজ, এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারসহ নানা উপাদান। গবেষণায় বলা হয়েছে, কালো জাম ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। প্রথম দিকে ফলটি সবুজ, পরে হালকা বেগুনি ও পাকার পর কালো রং ধারণ করে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় কালোজামের ব্যাপক কদর রয়েছে। মূলত এই জাম ফলের অনুকরণেই মিষ্টি ব্যবসায়ীরা কালো জাম তৈরি করে।
সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে জাম গাছে ফুল ধরে এবং মে-জুন মাসে ফল পাকে। অন্যসব ফলের তুলনায় জামের স্থায়িত্বকাল কম। মে মাসের শেষ দিকে জাম বাজারে নামে এবং প্রায় এক মাসেই ব্যাপক চাহিদার ফলটি শেষ হয়ে যায়। মৌসুমে কালো জামের সাথে লবন মিশিয়ে ভর্তা করে খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে ঘরে ঘরে। পাকা কালো জাম গাছের ডালে ঝাঁকুনি দিয়ে নীচে জাল পেতে সংগ্রহ করা হয়।
গাছে উঠে আলাদাভাবেও পাকা জাম সংগ্রহ করা যায়। অনেক সময় পাকা জাম গাছের নীচে ঝরে পড়লেও সেখান থেকে কুড়িয়ে নেয়া হয়। ভর দুপুরে গ্রামেগঞ্জে পাকা কালো জামের সাথে লবন আর কাঁচা মরিচ মিশিয়ে ভর্তা করে খাওয়া হয়। বর্ষায় ভারী বৃষ্টিতে পাকা জাম তেলচে কালো চকচকে রং ধারণ করে বলে এর চাহিদা বেড়ে যায়।
উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’তে ভরপুর জাম আমাদের রক্ত পরিষ্কার করে, দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। ফলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করে।
চোখের ইনফেকশনজনিত সমস্যা ও সংক্রামক (ছোঁয়াচে) রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। রাতকানা রোগ ও চোখের ছানি অপারেশন হয়েছে এমন রোগীর জন্য জাম ভীষণ উপকারী। জামে গার্লিক এসিড, ট্যানিস নামে এক ধরনের উপকরণ রয়েছে, যা ডায়রিয়া ভালো করতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস রোগ ও হরমোনজনিত রোগীদের জন্য এই ফল যথেষ্ট উপযোগী। কারণ, জাম রক্ত পরিষ্কার করে, শরীরের দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে দেয়। আমাদের নাক, কান, মুখের ছিদ্র, চোখের কোনা দিয়ে বাতাসে ভাসমান রোগ-জীবাণু দেহের ভেতর প্রবেশ করে। জামের রস এই জীবাণুকে মেরে ফেলে।
পুরোনো বাতের ব্যথা, হাড়ের সন্ধিস্থলের ব্যথা দূর করে জাম। এই ফলে নেই কোনো কোলস্টেরল বা চর্বি। তাই ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার বা রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই। টনসিল, ল্যারিনজাইটিস, ফ্যারিনজাইটিস, সোর-থ্রট (এগুলো গলার ইনফেকশনজনিত অসুখ)-এর জন্য জাম ভীষণ উপকারী।
দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, দাঁতের কোনায় খাবার জমে দাঁত ময়লা হয়ে যাওয়াসহ জিহ্বা, তালুর অসুখের জন্য মাউথওয়াশের প্রয়োজন হয়। জাম মাউথওয়াশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
7
প্রোটিন শরীরে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। শরীর-স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য নিয়মিত প্রোটিন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন।প্রোটিনের ঘাটতিতে স্বাস্থ্যহানি হয় এবং নানারকম জটিলতা দেখা দেয়। যেমন:

১) আচমকা ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ বা খসখসেহয়ে যাওয়া।

২) ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে নখের রং। নখ হয়ে যেতে পারে দুর্বল ও ভঙ্গুর।

৩) রক্তরস কমে আসে। এর ফলে অস্বাভাবিক ফুলে যেতে পারে চোখের চারপাশ।

৪) হঠাৎ প্রচুর পরিমাণে চুল ঝরে যেতে পারে ।

৫) লালাগ্রন্থি ফুলে যায়। হঠাৎ গাল, মুখ ফুলে যেতে পারে।

৬) শরীর সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে। হাঁপিয়ে যেতে পারেন সামান্য পরিশ্রমেই। এর গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ সব সময় ঘুম ঘুম ভাব বা ঝিমুনি ভাব।

৭) নতুন কোষ গঠন থেমে যায়।তাই শরীরে পানির আধিক্য দেখা দেয়। ফলে অস্বাভাবিক ফোলাভাব তৈরি হয় শরীরের বিভিন্ন অংশে।
8
পৃথিবী এখন আর আগের সেই পৃথিবীতে নেই। প্রতি মুহূর্তে পৃথিবী ছাড়িয়ে যাচ্ছে নিজেকে। ১ মিনিট আগের পৃথিবী আর ১ মিনিট পরের পৃথিবীর মধ্যে বিস্তর ফারাক। আমাদের বাসগৃহ এই পৃথিবীতে চলছে আবিষ্কার ও কর্মচাঞ্চল্যের এক মহোত্সব। ছেলে বড়ো হবে, চাকরি করে টাকা কামাবে—এই প্রথাগত ধারণা এখন বদলেছে। প্রথাগত ধারণার বাইরে এসে জাকারবার্গ, স্টিভ জবস, সের্গেই ব্রিন এবং এলন মাস্কসহ অনেকের মতো বিজ্ঞানের মানুষজন তাঁদের চমক লাগানো সব আইডিয়া দিয়ে পৃথিবীর পুরো স্ট্রাকচারই পরিবর্তন করে দিচ্ছে। এলন মাস্ক সেই ধারারই একজন মানুষ। পৃথিবীর ভাগ্য পরিবর্তনের চাবিকাঠি ক্ষমতা শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের হাতে থাকলেও নতুন দিনের এই পার্শ্ব-নায়কেরাই হয়ে উঠছেন আগামী পৃথিবীর প্রচ্ছদচিত্র। তাদের হাত ধরেই প্রযুক্তিগত উত্কর্ষতা পাচ্ছে নতুন মাত্রা। জীবন ধারণে, জীবন যাপনে আসছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া।

টেসলার প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও এলন মাস্কের স্টার্টআপ সংস্থা নিউরালিঙ্ক এবার তৈরি করছে হাই-ব্যান্ডউইথের ব্রেন মেশিন ইন্টারফেসেস। যা হয়তো এতদিন কোনো সায়েন্স ফিকশন ছবিতেই শুধু দেখা গিয়েছিল। এর মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্ক এবং কম্পিউটরকে যোগ করা সম্ভব হবে। এলন মাস্কের এই সংস্থার প্রচার খুব একটা কখনোই হয়নি। আগামী ১৬ জুলাই সান ফ্র্যানসিসকোতে একটা ইভেন্টে এ ব্যাপারে কতদূর অগ্রসর সম্ভব হয়েছে, তা সংস্থার তরফে জানানো হবে। নিউরালিঙ্ক-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমাদের আগামী মঙ্গলবার স্যান ফ্র্যানসিসকোতে একটি অনুষ্ঠান রয়েছে। যেখানে এর সম্পর্কে জানানো হবে যে গত দুই বছরে এই কাজে কতদূর এগোনো সম্ভব হয়েছে। অনলাইনেও এই অনুষ্ঠানের কিছু আসন রিজার্ভের জন্য রাখা হয়েছে।

একটি মেডিক্যাল রিসার্চ সংস্থা হিসেবেই ২০১৬তে আত্মপ্রকাশ হয়েছিল নিউরালিঙ্কের। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক হাই-প্রোফাইল নিউরোসায়েনটিস্টকেই এই সংস্থায় নিয়োগ করা হয়েছিল।
9
অনেকের ধারণা স্ট্রোক শুধু বয়স্কদের হয়। এই ধারণা ভুল। স্ট্রোক বয়স্কদের বেশী হয়। তবে বর্তমানে কম বয়সীদেরও অনেক স্ট্রোক হচ্ছে। প্রতি বছর স্ট্রোকের কারণে অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করে। অনেকে অসুস্থ হয়ে কর্মক্ষমতা হারায়। অথচ দেখা গেছে স্ট্রোক অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়। স্ট্রোক হয়ে গেলে সে ব্যক্তির এবং পরিবারের অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়। তাই প্রতিরোধের দিকে সবার নজর দেয়া উচিত। অল্প বয়সে স্ট্রোক হলে সমস্যা বেশি। রোগীর যে সময় কর্মক্ষম থাকার সময় সেই সময় কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং সব সময় আতংকের মধ্যে থাকতে হয়।

মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে গিয়ে বা হঠাৎ রক্ত বের হয়ে কোন এলাকা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার নাম হলো স্ট্রোক। ফলে শরীরের এক দিক বা কোন অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় কথা জড়িয়ে যেতে পারে বা একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। স্ট্রোক হলে খাবার গ্রহণে অসুবিধা হয় এবং অনেক সময় প্রস্রাব ও পায়খানার উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তবে সবার একই লক্ষণ থাকবে তা নয়। একেক জনের ক্ষেত্রে একেক লক্ষণ থাকে। ব্রেনের কোন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে সমস্যা দেখা দেয়।

অল্প বয়সে স্ট্রোকের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। বয়স্কদের স্ট্রোকের কারণ আর অল্প বয়সে স্ট্রোকের কারণের মধ্যে পার্থক্য আছে। অল্প বয়সে যে সব কারণে স্ট্রোক হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে-

১. বিভিন্ন ধরণের হূদরোগ। অল্প বয়সে স্ট্রোকের ২৫ শতাংশের কারণ নানা ধরনের হূদরোগ।

২. জন্মগত ত্রুটির জন্য মস্তিষ্কের রক্তনালী হঠাত্ ছিড়ে যায়। এই ধরণের ঘটনা অল্প বয়সেই সাধারণত: বেশি ঘটে।

৩. বিভিন্ন ধরণের ভাস্কুলাইটিস। কম বয়সে এই সব সমস্যা বেশি হয়।

৪. জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি স্ট্রোকের অন্যতম একটি কারণ। ৪৫ বছর পর মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। তখন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আর ব্যবহার করতে হয়না। অল্প বয়সে স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি।

৫. যারা নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করেন, তাদেরও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক। অল্প বয়সীদের মধ্যে নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণের প্রবণতা বেশি।

৬. কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস বর্তমানে এক বিরাট সমস্যা। আর অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ।

৭. বর্তমানে ফাস্টফুড গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। বাড়ছে রক্তে চর্বি। রক্তে চর্বির আধিক্যও অল্প বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

৮. বর্তমানে কায়িক পরিশ্রমে প্রতি প্রায় সবারই অনীহা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে স্থূলতা। গবেষণায় দেখা গেছে স্থূলদের স্ট্রোক বেশি হচ্ছে।

৯. মানসিক চাপ, মাইগ্রেন অল্প বয়সীদের বেশি হয়। এসব স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অল্প বয়সে স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্যে সচেতন হতে হবে। সাবধান হয়ে চললে অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। ডায়াবেটিস, স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগ সৃষ্টি করে। কম বয়সে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস বর্তমানে এক বিরাট সমস্যা। আর অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। আবার নিয়ম মেনে চললে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্ট্রোকসহ নানা রোগের ঝুঁকিও অনেক কমে আসে। পরিশ্রম না করলে বা বেশি তেল-চর্বি খেলে রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ে। ফলে ওজন বাড়ে। এর ফলে স্ট্রোক হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক আসে। বর্তমানে তরুণদের ব্যায়ামের প্রতি আগ্রহ অনেক কম। তরুণদের এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শাক সবজি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। এর ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, চর্বি নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে স্ট্রোকও কম হবে। খাবারে কাচা লবণ কম খেতে হবে। লবণ কম খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্ট্রোকের ঝুকিও কমে আসে। হার্টের সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে। ওষুধ গ্রহণ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করা যাবে না। তাই খাবার গ্রহণে নিয়মানুবর্তীতা ও নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করলে এবং যে সব কারণে স্ট্রোক হয় সে কারণগুলো এড়িয়ে চললেই স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব।
Pages: [1] 2 3 ... 10