Recent Posts

Pages: [1] 2 3 ... 10
1
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« Last post by Md. Zakaria Khan on July 14, 2026, 02:23:39 PM »
রব্বি লা তাযারনি ফারদাও ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিসিন

 (আরবি: رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ)

পবিত্র কোরআনের একটি অত্যন্ত বরকতময় দোয়া。
হজরত জাকারিয়া (আ.) নিঃসন্তান অবস্থায় নেক ও যোগ্য সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে এই দোয়াটি করেছিলেন (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৮৯)
2
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« Last post by Md. Zakaria Khan on July 08, 2026, 03:12:40 PM »
আল্লাহ তাআলা বলেন,
 وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
অর্থাৎ, তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক (আমার নিকট দুআ কর) আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব (আমি তোমাদের দুআ কবুল করব।) যারা অহংকারে আমার উপাসনায় (আমার কাছে দুআ করা হতে) বিমুখ, ওরা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সূরা গাফের ৬০ আয়াত)।

তিনি আরো বলেন, “আর আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে প্রশ্ন করে (তখন তুমি বল,) আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমার কাছে প্রার্থনা জানায়, তখন আমি তার প্রার্থনা মঞ্জুর করি।” (সূরা বাক্বারাহ ১৮৬

রসুল (ﷺ) বলেন, “দুআই তো ইবাদত।” (আবু দাউদ ২/৭৮; তিরমিযী ৫/২১১)

“নিশ্চয় তোমাদের প্রভু লজ্জাশীল অনুগ্রহপরায়ণ, বান্দা যখন তার দিকে দুই হাত তোলে, তখন তা শূন্য ও নিরাশভাবে ফিরিয়ে দিতে বান্দা থেকে লজ্জা করেন।” (আবু দাউদ ২/৭৮; তিরমিযী ৫/৫৫৭)

“যে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার উপর ক্রোধান্বিত হন।” (তিরমিযী ৫/৪৫৬, ইবনে মাযাহ ২/১২৫৮)

দুআ অন্যান্য ইবাদতের মত এক ইবাদত। যা আল্লাহরই জন্য নির্দিষ্ট। সুতরাং গায়রুল্লাহর নিকট দুআ ও প্রার্থনা করলে বা কিছু চাইলে অথবা গায়রুল্লাহকে ডাকলে তা অবশ্যই শির্ক হয়। তাই যাবতীয় দুআ ও প্রার্থনা কেবল আল্লাহরই নিকট করতে হয় এবং যত কিছু চাওয়া কেবল তাঁরই নিকট চাইতে হয়। সর্বপ্রকার, সর্বভাষায় এবং একই সময় অসংখ্য ডাক কেবল তিনিই শুনতে ও বুঝতে পারেন এবং সর্বপ্রকার দান কেবল তিনিই করতে পারেন।
3
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« Last post by Md. Zakaria Khan on July 01, 2026, 09:25:09 AM »
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা অচিরেই জাহান্নামে লাঞ্ছিত হয়ে প্রবেশ করবে।’ (সুরা মুমিন : ৬০)। হজরত নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই হলো ইবাদত। তারপর তিনি পাঠ করেন, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।’ (তিরমিজি : ২৯৬৯) হজরত আবদুল্লা ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে বিপদ আপতিত হয়েছে এবং যা এখনো আপতিত হয়নি, সব ক্ষেত্রেই দোয়ায় উপকার হয়। সুতরাং হে আল্লাহর বান্দারা, তোমাদের দোয়া করা উচিত।’ (তিরমিজি : ৩৫৪৮)।
4
ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই হবে ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়ার বড় মাধ্যম


প্রশ্ন: বাংলাদেশের মতো তারুণ্যনির্ভর দেশে কারিগরি শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন?
অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক: বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী। অর্থনীতির ভাষায় এটিই জনমিতিক লভ্যাংশ বা Demographic Dividend। কিন্তু এই সুযোগ চিরস্থায়ী নয়। একটি প্রজন্ম একবারই তরুণ থাকে। তাই এই সময়ে যদি আমরা আমাদের তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে না পারি, তাহলে যে সম্ভাবনা আজ আশীর্বাদ, সেটিই আগামী দিনে আমাদের জন্য চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমানে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শিক্ষা শেষ করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একদিকে বহু শিক্ষিত তরুণ উপযুক্ত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না, অন্যদিকে শিল্প খাত বলছে—তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু চাকরির নয়; সমস্যাটি দক্ষতার অমিলের।

আমরা এখনো এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারিনি, যেখানে সনদ অর্জনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ওপর তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী ডিগ্রি নিয়ে বের হলেও শিল্পের চাহিদা পূরণ করতে পারেন না।

এই বাস্তবতা থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজন হয়েছে। আমি কারিগরি শিক্ষাকে কখনোই সাধারণ শিক্ষার বিকল্প হিসেবে দেখি না; বরং এটি আধুনিক অর্থনীতির একটি অপরিহার্য ভিত্তি। জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলেই শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্ত ভিত তৈরি করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই পথই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

আমার বিশ্বাস, গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য নীতির মাধ্যমে শিক্ষা, শিল্প এবং কর্মসংস্থানকে একসুতায় গাঁথতে পারলেই আমরা এই জনমিতিক সুযোগকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে পারব। শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি ডিগ্রি নয়, দক্ষতা।

প্রশ্ন: আমরা জানি, বর্তমান শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা (TVET) নীতি প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় আপনি যুক্ত ছিলেন। আপনি কীভাবে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হলেন এবং শুরুতে সামনে কী লক্ষ্য ছিল?
অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক: একজন শিক্ষক এবং গবেষক হিসেবে বর্তমান সরকারের শিক্ষা পলিসি টিমে সম্পৃক্ত হতে পারা আমার জন্য গর্বের। দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমবাজার এবং শিল্পনীতির ওপর কাজ করতে গিয়ে একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেছি—বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা সম্পদের অভাব নয়; দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি।
নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু করার সময় আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন ছিল—কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো যায়, যাতে একজন শিক্ষার্থী শুধু সনদ নিয়ে বের না হয়ে কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেছেন। নীতি প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি নিয়মিত অগ্রগতি সম্পর্কেও অবগত থেকেছেন এবং একাধিক পর্যায়ে আমার কাছ থেকে উপস্থাপনা গ্রহণ করেছেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছে TVET বিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁকে একাধিকবার সরাসরি উপস্থাপনা করার সুযোগ পাওয়ার। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ড. মাহদী আমিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর সমন্বয়, গবেষণা এবং নীতি-প্রস্তুতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ পুরো কাজকে আরও কার্যকর করেছে।

আমরা শুরু থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে একটি বিচ্ছিন্ন খাত হিসেবে নয়; জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখেছি। কারণ, শিক্ষা, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীলতা—এই চারটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ধাপে ধাপে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। প্রয়োজনে মাঝপথে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবেন, আবার পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষায়ও ফিরে আসতে পারবেন। একই সঙ্গে শিল্প খাতও তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল পাবে।

আমার কাছে এই নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা।

আরও পড়ুন
৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল: ২ হাজারের বেশি ক্যাডার পদ কেন ফাঁকা জানাল পিএসসি
২৯ জুন ২০২৬
৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল: ২ হাজারের বেশি ক্যাডার পদ কেন ফাঁকা জানাল পিএসসি
প্রশ্ন: আপনার মতে, এই নতুন নীতির সবচেয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন কোনটি?
অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক: আমার মতে, এই নীতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন কোনো একটি নতুন কোর্স বা নতুন প্রতিষ্ঠান নয়; বরং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
দীর্ঘদিন ধরে আমরা কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার বাইরে একটি আলাদা পথ হিসেবে দেখেছি। ফলে অনেক শিক্ষার্থী মনে করতেন, কারিগরি শিক্ষা বেছে নিলে ভবিষ্যতের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে। নতুন নীতি সেই ধারণা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে।

এখানে শিক্ষা আর দুই ভাগে বিভক্ত নয়—একদিকে সাধারণ শিক্ষা, অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা। বরং একজন শিক্ষার্থী ধাপে ধাপে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন, কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবেন এবং পরে আবার উচ্চশিক্ষায় ফিরে আসার সুযোগও পাবেন। অর্থাৎ শেখার পথ আর একমুখী নয়; এটি হবে নমনীয় ও আজীবন চলমান।

আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো, শিল্প খাতকে এই ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে দেখা হয়েছে। এত দিন পাঠ্যক্রম অনেকটাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে তৈরি হতো। এখন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, নিয়োগদাতা এবং শিক্ষাবিদ—সবাই মিলে নির্ধারণ করবেন ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে কী ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন।

আমার মতে, এই নীতির অন্যতম বড় অর্জন হলো TVET-কে ইতিবাচকভাবে পুনঃব্র্যান্ডিং করা। দীর্ঘদিন আমাদের সমাজে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার বাইরে একটি বিকল্প শিক্ষা হিসেবে দেখা হতো। নতুন নীতি সেই ধারণা পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে। ইতিমধ্যে আমরা এর প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের মূলধারার পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক ও কারিগরি বিষয়গুলোকে ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করছে। এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা, যা ভবিষ্যতে সাধারণ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যকার অপ্রয়োজনীয় বিভাজন কমাতে সহায়তা করবে।

প্রশ্ন: অনেক তরুণ কারিগরি শিক্ষা শেষ করেও চাকরি পান না। এর কারণ এবং প্রতিকার কী হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক: এটি আমাদের শ্রমবাজারের একটি বাস্তব চিত্র এবং বিষয়টি নিয়ে আবেগ নয়, বাস্তবতা দিয়ে ভাবতে হবে।
আমি সমস্যাটিকে শুধু কর্মসংস্থানের সমস্যা হিসেবে দেখি না; এটি মূলত দক্ষতার অমিলের সমস্যা। অনেক তরুণ নিষ্ঠার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা সম্পন্ন করেন, কিন্তু শিল্প খাত যে ধরনের দক্ষতা প্রত্যাশা করে, অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রশিক্ষণ তার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। ফলে একদিকে চাকরিপ্রার্থী বাড়ছে, অন্যদিকে নিয়োগদাতারা বলছেন—যোগ্য কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না।

আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি, যেখানে একটি অফিস সহায়ক পদের জন্য প্রকৌশলী, এমবিএ কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা আবেদন করেছেন। এটি শুধু শিক্ষিত বেকারত্বের চিত্র নয়; এটি শিক্ষা ও শ্রমবাজারের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানেরও প্রতিফলন।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য আমি তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেব।

প্রথমত, শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে নিয়মিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। পাঠ্যক্রম তৈরি থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ এবং মূল্যায়ন—সব ক্ষেত্রেই শিল্প খাতকে যুক্ত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং অন-দ্য-জব ট্রেনিংকে শিক্ষাব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজ শেখার সুযোগ পান।

তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিতে হবে। কোন খাতে কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে এবং কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে—এসব বিষয়ে কার্যকর পরামর্শের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

আমি বিশ্বাস করি, সমস্যাটি তরুণদের নয়; সমস্যাটি ব্যবস্থার। সেই ব্যবস্থাকে যদি আমরা গবেষণাভিত্তিক, শিল্প-সংযুক্ত এবং বাস্তবমুখী করতে পারি, তাহলে কারিগরি শিক্ষা শেষ করার পর কর্মসংস্থানের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর (ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট) অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক।ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে কী করা উচিত?
অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক: আমার কাছে এটি পুরো নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি। কারণ একটি শিক্ষাব্যবস্থা তখনই সফল বলা যায়, যখন একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারেন, আর শিল্পপ্রতিষ্ঠানও তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল পায়।
আমরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও শিল্প খাতকে দুটি আলাদা জগৎ হিসেবে দেখেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে, আর শিল্প খাত নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী লোক নিয়োগ দিয়েছে। এই বিচ্ছিন্নতার ফলেই দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

আমার বিশ্বাস, এই সম্পর্কটিকে বদলাতে হবে। শিল্প খাতকে শুধু নিয়োগদাতা হিসেবে নয়, শিক্ষাব্যবস্থার অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। কোন খাতে আগামী পাঁচ বা দশ বছরে কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা তৈরি হবে, সেই তথ্য নিয়মিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছাতে হবে। একইভাবে পাঠ্যক্রমও নির্দিষ্ট সময় পরপর পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করতে হবে।

আমি আরও মনে করি, প্রতিটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক বা একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর অংশীদারত্ব থাকা উচিত। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষে নয়, বাস্তব কর্মপরিবেশেও শেখার সুযোগ পাবেন। একজন শিক্ষার্থী যদি পড়াশোনার সময়ই শিল্পে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তাহলে কর্মজীবনে প্রবেশের সময় তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতা—দুটিই অনেক বেশি হবে।

আরেকটি বিষয় আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। শিল্প খাত শুধু দক্ষ কর্মী চায় না; তারা এমন মানুষ চায়, যারা সমস্যা সমাধান করতে পারে, নতুন প্রযুক্তি দ্রুত শিখতে পারে এবং দলগতভাবে কাজ করতে পারে। তাই কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব, কর্মনৈতিকতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

আমি মনে করি, শিক্ষা ও শিল্প খাত যখন একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে, তখন দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে আসবে।

প্রশ্ন: এই উদ্যোগ সফল করতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোথায়?
অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক: আমার মতে, এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে তিনটি পক্ষের যৌথ দায়িত্ববোধের ওপর—সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাত। এদের মধ্যে কোনো একটি অংশ দুর্বল হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।
সরকারের ভূমিকা হবে নীতি নির্ধারণ, মান নিশ্চিত করা, অর্থায়ন এবং একটি কার্যকর সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলা। শুধু নতুন নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না; সেটি বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও বড়। কারণ, দক্ষতা তৈরির কাজটি সেখান থেকেই শুরু হয়। আধুনিক ল্যাব, প্রশিক্ষিত শিক্ষক, গবেষণার পরিবেশ এবং শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

অন্যদিকে শিল্প খাতকেও দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু দক্ষ কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না—এ কথা বললে হবে না। পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলোতেও শিল্প খাতকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।

তবে আমার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থের অভাব নয়; মানসিকতার পরিবর্তন। এখনো অনেকেই মনে করেন, কারিগরি শিক্ষা মানেই কম মেধাবীদের জন্য শিক্ষা। এই ধারণার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। যেদিন আমরা কারিগরি শিক্ষাকে দ্বিতীয় সারির শিক্ষা না ভেবে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে দেখব, সেদিনই প্রকৃত পরিবর্তন শুরু হবে।

আরও পড়ুন
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন চাকরি, পদ ৪৪, বয়স ৩৫ হলেও আবেদন
২৯ জুন ২০২৬
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন চাকরি, পদ ৪৪, বয়স ৩৫ হলেও আবেদন
প্রশ্ন: নতুন কারিগরি শিক্ষা নীতির প্রয়োজন কেন অনুভূত হলো এবং এর মূল লক্ষ্য কী?
অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক: নতুন এই নীতির প্রয়োজনীয়তা এসেছে অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের বাস্তবতা থেকে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শিক্ষা শেষ করছেন, কিন্তু শিল্প খাত প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল পাচ্ছে না। একই সঙ্গে শিক্ষিত বেকারত্বও বাড়ছে। অর্থাৎ শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, উৎপাদনব্যবস্থার রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধিও এই নীতির প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।

নীতির মূল লক্ষ্য তিনটি—

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা,

শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে স্থায়ী সংযোগ তৈরি করা,

এবং বাংলাদেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত করা।

আমার কাছে এটি শুধু একটি শিক্ষানীতি নয়; ভবিষ্যতের অর্থনীতি, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

প্রশ্ন: দেশের তরুণদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক: আমি বাংলাদেশের তরুণদের খুব আশাবাদী চোখে দেখি। কারণ, আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তারাই। তবে আজকের পৃথিবীতে শুধু একটি ডিগ্রি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে না। ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে একজন মানুষ কী জানেন, কী করতে পারেন এবং কত দ্রুত নতুন কিছু শিখতে পারেন।
আমি তরুণদের তিনটি বিষয় সব সময় মনে রাখতে বলি।

প্রথমত, একটি বাস্তব দক্ষতা অর্জন করুন। সেটা প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন, ডিজাইন, নির্মাণ, কৃষি কিংবা অন্য যেকোনো ক্ষেত্র হতে পারে। দক্ষতা এমন একটি সম্পদ, যা কেউ কেড়ে নিতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিকে ভয় পাবেন না। AI কিংবা নতুন প্রযুক্তিকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করতে শিখুন।

তৃতীয়ত, বিদেশি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিন। বিভিন্ন অঞ্চলের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যের জন্য আরবি, পূর্ব এশিয়ার জন্য জাপানি বা কোরিয়ান, ইউরোপের জন্য ইংরেজির পাশাপাশি জার্মানসহ অন্যান্য ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো দরকার।

সবশেষে একটি কথা বলতে চাই—নিজেকে শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে গড়ে তুলবেন না। নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করুন, যাতে একদিন আপনি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন।

Source: https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-interview/cu35ahdmt8







5
দ্রুত ওজন কমাতে পান করুন দারুচিনির পানি


ওজন কমাতে দারুচিনির জুড়ি মেলা ভার। তাই চটজলদি ওজন কমাতে দিনে অন্তত দু-বার করে খান দারুচিনির পানি।

এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ফ্রি ব়্যাডিকেল দ্বারা সৃষ্ট অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুচিনির পানি দারুণ কাজ দেয়।

দারুচিনি কীভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে?

আপনার বিপাক হার যদি ভালো হয়, তাহলে ওজন নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

মেদ জমলেও তা ঝরানো সহজ হয়। এই বিপাক হার বাড়ানোর কাজটাই করে দারুচিনির পানি।


দারুচিনির পানি হজমের সমস্যা দূর করে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করে দেয়। দারুচিনির মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্রনিক অসুখের ঝুঁকিও প্রতিরোধ করে। ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, পিসিওডি-এর মতো শারীরিক সমস্যায় ওজন বাড়ে। এই সব ক্ষেত্রেও দারুচিনি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।

দিনের কোন সময়ে দারুচিনির পানি খেলে দ্রুত ওজন কমবে?
১. সকালে খালি পেটে দারুচিনির পানি খেলে সারাদিন আর কোনো চিন্তা থাকবে না। এতে সকালেই পেট সাফ হয়ে যাবে এবং শরীর টক্সিনমুক্ত থাকবে। পাশাপাশি বিপাক হার ভালো থাকবে। সকালবেলা ডিটক্স ওয়াটার হিসেবে খেতে পারেন দারুচিনির পানি।

২. ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে ওজন বশে রাখতে হলে লাঞ্চ বা ডিনারের ৩০ মিনিট আগে দারুচিনির পানি খান। এতে পেট ভরবে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছেও কমবে। এ ভাবেও ওজন কমাতে পারেন।

৩. চটজলদি ওজন কমাতে জিমে গিয়ে কসরত করছেন। শরীরচর্চা শেষ করেও দারুচিনির পানি খেতে পারেন। এতে পেশির ক্ষয় দ্রুত নিরাময় হবে এবং ক্লান্তি দূর হবে।

৪. ঘুমোতে যাওয়ার আগেও দারুচিনির পানি খেতে পারেন। এতেও পেটের সমস্যা এড়াতে পারবেন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

কীভাবে দারুচিনির পানি বানাবেন?

দুই কাপ পানি গরম বসান। এতে এক চা চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। দারুচিনির গুঁড়া না থাকলেও দুটি দারুচিনির কাঠিও ফুটিয়ে নিতে পারেন। ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে চায়ের মতো পান করুন দারুচিনির পানি। আবার আগের দিন রাতেও এই পানীয় বানিয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন। পরদিন সকালে খালি পেটে খেতে পারেন।

Source: https://www.banglanews24.com/lifestyle/news/bd/1661667.details
6
কম খেলেও ওজন বাড়ে কেন


ওজন বেড়ে যাওয়া এখন অনেকেরই বড় সমস্যা। অনেকেই মনে করেন, আমি তো খুব বেশি খাই না, তবুও ওজন কেন বাড়ছে? বিশেষ করে তরুণ বয়সে এমন প্রশ্ন প্রায়ই মনে আসে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন বাড়ার কারণ সবসময় বেশি খাওয়া নয়। শরীরের ভেতরের কিছু পরিবর্তন, জীবনযাপনের ধরন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণেও বাড়তে পারে ওজন।

শুধু খাবারের পরিমাণ কমালেই ওজন নিয়ন্ত্রণে আসবে—এমন ধারণা সবসময় ঠিক নয়। কারণ অনেক সময় কম খেলেও খাবারের গুণগত মান, ঘুম, মানসিক চাপ, হরমোন ও শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ার কারণে ওজন বাড়তে পারে।

বিপাকের গতি কমে গেলেও বাড়ে ওজন

শরীর খাবার থেকে পাওয়া শক্তি কত দ্রুত ব্যবহার করে, সেটিই মূলত বিপাক প্রক্রিয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের শরীরে এই প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা কমে যায়। ফলে আগের মতো একই পরিমাণ খাবার খেলেও শরীর কম শক্তি খরচ করে। অতিরিক্ত শক্তি তখন চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে।

এছাড়া মানুষের শরীরের গঠনও অনেকাংশে জিনগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কারও শরীর দ্রুত ক্যালরি খরচ করে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা ধীর গতিতে হয়।

ঘুম কম হলে বাড়ে ক্ষুধা

ওজন বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হলো পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। ঘুম কম হলে শরীরের কিছু হরমোনের ভারসাম্য বদলে যায়। ফলে ক্ষুধা বাড়তে পারে এবং বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

বিশেষ করে ঘুমের অভাবে মিষ্টি, তেলেভাজা বা বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এসব খাবার অল্প খেলেও শরীরে অতিরিক্ত শক্তি জমা হতে পারে।

মানসিক চাপও বাড়াতে পারে ওজন

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ শরীরে এক ধরনের হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পেটে চর্বি জমার প্রবণতা তৈরি করতে পারে। অনেকেই মানসিক চাপের সময় মন ভালো করার জন্য বেশি খেয়ে ফেলেন। এই অভ্যাসও ধীরে ধীরে ওজন বাড়াতে পারে।

ওষুধ ও হরমোনের সমস্যাও হতে পারে কারণ

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ওজন বাড়তে পারে। বিষণ্নতা কমানোর ওষুধ, অ্যালার্জির ওষুধ বা কিছু বিশেষ ওষুধ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

এছাড়া থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি, নারীদের হরমোনজনিত সমস্যা বা পিসিওএস-এর মতো সমস্যাও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন অস্বাভাবিকভাবে ওজন বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

খাবারের ধরনেও লুকিয়ে থাকে কারণ

অনেকে কম খান, কিন্তু খাবারের তালিকায় যদি বেশি চিনি, মিষ্টি পানীয়, তেলেভাজা বা প্রক্রিয়াজাত খাবার থাকে, তাহলে ওজন বাড়তে পারে। কারণ এসব খাবারে ক্যালরি বেশি থাকলেও পুষ্টি কম থাকে।

এর পরিবর্তে ফল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, মাংস ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?

স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখতে শুধু কম খাওয়া নয়, জীবনযাপনে পরিবর্তন আনাও জরুরি।

১. প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।
২. নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে।
৩. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৪. স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে হবে।
৫. দীর্ঘদিন ওজন বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে আনা কোনো একদিনের কাজ নয়। ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে চললেই ধীরে ধীরে পরিবর্তন সম্ভব।

তাই কম খেলেও যদি ওজন বাড়ে, শুধু খাবারকে দায়ী না করে শরীরের ভেতরের কারণগুলোও খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

Source://rtvonline.com/
7
ধীরে ধীরে সরু হচ্ছে রক্তনালি, ঝুঁকিতে হার্ট থেকে মস্তিষ্ক


গত এক দশকে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অসংক্রামক রোগের (NCDs) প্রকোপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সাধারণত মানুষ জানেন, এসব রোগ হার্ট, লিভার, চোখ এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এর আরেকটি গুরুতর পরিণতি ক্রমেই সামনে আসছে—রক্তনালির রোগ বা ভ্যাসকুলার ডিজ়িজের দ্রুত বৃদ্ধি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রক্তনালিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভ্যাসকুলার রোগের ঘটনা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি।

ভ্যাসকুলার রোগ আসলে কী?

ভ্যাসকুলার রোগ বলতে ধমনী ও শিরার এমন সব সমস্যাকে বোঝায়, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত সঞ্চালনকে বাধাগ্রস্ত করে। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক এর সবচেয়ে পরিচিত জটিলতা হলেও, এই রোগ কিডনি, চোখ, মস্তিষ্ক এবং পায়ের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

রক্তনালি সংকুচিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছায় না। এর ফলে শরীরজুড়ে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ভ্যাসকুলার রোগীদের বড় একটি অংশের এক বা একাধিক অসংক্রামক রোগ থাকে। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালির ক্ষতি করে, রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস কিংবা পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?

ভ্যাসকুলার রোগের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা, পা ফুলে যাওয়া, অবশ ভাব, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া, মাথা ঘোরা কিংবা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের মতো উপসর্গকে অনেকেই সাধারণ বার্ধক্যের লক্ষণ ভেবে এড়িয়ে যান।

ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়।

কেন বাড়ছে এই সমস্যা?

চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার নানা অভ্যাসও রক্তনালির ক্ষতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।


কীভাবে কমবে ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে অধিকাংশ ভ্যাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, ধূমপান ত্যাগ, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো—এসব অভ্যাস ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

সময়মতো সতর্কতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রক্তনালির রোগের মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Source:
8
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« Last post by Md. Zakaria Khan on June 28, 2026, 03:28:26 PM »

[হাদীস শরীফে এসেছে,
 ‘আদদুআউ হুয়াল ইবাদাহ’। দুআই ইবাদত।

আরেক হাদীসে এসেছে-
‘আদদুআউ মুখখুল ইবাদাহ’।
অর্থাৎ দুআ ইবাদতের মগজ বা সারবস্ত্ত।
9
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« Last post by Md. Zakaria Khan on June 27, 2026, 08:25:41 AM »

আবু হুরাইরার মায়ের হেদায়াত
আবু হুরাইরা (রা.)-এর মা মুশরিক ছিলেন। তিনি তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন, কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন এবং নবীজির বিরুদ্ধে কটু কথা বলতেন। একদিন আবু হুরাইরা কাঁদতে কাঁদতে নবীজির কাছে গেলেন।

বললেন, ‘আমি মাকে দাওয়াত দিই, তিনি আপনার বিরুদ্ধে খারাপ বলেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তিনি হেদায়াত পান।’ নবীজি বললেন, ‘আল্লাহুম্মাহদি উম্মা আবি হুরাইরাহ’ (হে আল্লাহ, আবু হুরাইরার মাকে হেদায়াত দান করো)।

আবু হুরাইরা আনন্দে বাড়ি ফিরলেন। দরজায় পৌঁছে শুনলেন, দরজা বন্ধ। মা বললেন, ‘অপেক্ষা করো।’ তিনি পানির শব্দ শুনলেন। তারপর মা গোসল করে দরজা খুলে বললেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’

আবু হুরাইরা আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে নবীজির কাছে গেলেন। বললেন, ‘সুসংবাদ, আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৯১)।
10
Various Sura & Dua / Re: দোয়ার অলৌকিকতা
« Last post by Md. Zakaria Khan on June 25, 2026, 11:35:56 AM »
দোয়া হলো মুমিনের আত্মার নিঃশ্বাস, বিশ্বাসের প্রমাণ এবং নিরাশার অন্ধকারে আশার আলোকবর্তিকা। আল্লাহ তার বান্দাকে যে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন, তার মধ্যে দোয়া এমন এক অনন্য দান,যার মাধ্যমে বান্দা সরাসরি তার রবের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
মানুষের শক্তি সীমাবদ্ধ, কিন্তু দোয়ার শক্তি অসীম, কারণ দোয়া সরাসরি আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়। তাই দোয়া মুমিনের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, বিজয়ের প্রধান অস্ত্র ও শক্তির কেন্দ্রবিন্দু।
তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। (সুরা গাফির: ৬০)
এ আয়াত দ্বারা প্রমানিত,আল্লাহ শুধু দোয়া করতে আদেশই করেননি, বরং তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে বান্দা যখন আন্তরিক মনে তার দিকে হাত বাড়াবে, তখন তিনি নিজ অনুগ্রহে সেই দোয়াকে গ্রহণ কবুল করবেন। অর্থাৎ দোয়া মুমিনের জন্য এমন এক হাতিয়ার, যার ও পাশে আল্লাহর দয়া, করুণা প্রস্তুত।

Pages: [1] 2 3 ... 10