• Welcome to Daffodil International University.
 

News:

Daffodil International University Forum contains information about Open Text material, which is only intended for the significant learning purposes of the university students, faculty, other members, and the knowledge seekers of the entire world and is hoped that the offerings will aide in the distribution of reliable information and data relating to the many areas of knowledge.

Main Menu

আবেগের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা দেওয়া কি উচিৎ?

Started by Nazia Nishat, July 24, 2015, 09:06:44 PM

Previous topic - Next topic

Nazia Nishat


সাধারণ পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে মানুষ একটি আবেগপূর্ণ সত্তা। আমাদের আবেগপ্রবন চিন্তায় যদি যুক্তির ভিত্তি না থাকে, তবে আমরা কি সমস্যায় পড়তে পারি? প্রশ্ন করছেন ডঃ ইউসুফ মাহাবুবুল ইসলাম।
এটা প্রায়শই বলা হয় যে মানুষ আবেগতাড়িত প্রাণী। এটা কি সত্যি? বিজ্ঞানীরা অবশ্য সেটাই মনে করেন। আমাদের মস্তিস্কে একটি অংশ আছে যেখানে আবেগ তৈরি হয়। স্নায়ুবৈজ্ঞানিক দামাসিও এটি আবিষ্কার করেছেন যে, ঐসব মানুষ যাদের মস্তিস্কের এই অংশে ক্ষতি হয়েছে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হয়। - এমনকি সিদ্ধান্তটা খুব সহজ হলেও।  এই ধরণের চিন্তার সমর্থনে, আমেরিকান লেখক কার্নেগী (১৮৮৮-১৯৫৫) বলেছিলেন,
"মানুষের সাথে লেনদেন করার সময় মনে রাখবে যে, তুমি যুক্তিবাদী প্রাণীর সাথে লেনদেন করছোনা তুমি আবেগতাড়িত প্রাণীর সাথে লেনদেন করছো।"
যদিও আবেগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল একটি ভূমিকা পালন করে তবুও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কিছু যুক্তিসম্পন্ন চিন্তা অন্তর্ভুক্ত করা দরকার, তা না হলে যখন আবেগ ফুরিয়ে যায়, ভরসা হিসাবে আর কিছুই থাকেনা –মানুষ চিন্তায় পড়ে যেতে পারে যে শুরুতে ঐ সিদ্ধান্তটা কি কারণে নেয়া হয়েছিল।  এটাও মনে রাখতে হবে যে যুক্তিহীন আবেগ পরিবর্তনশীল।   
মানব চরিত্রের এই অবস্থা বুঝার পর, উদাহরণস্বরূপ এটাও বুঝা দরকার যে আদালতের সিদ্ধান্ত আবেগ বা অনুভূতি দিয়ে নেওয়া যায়না; কারণ আবেগপূর্ণ চিন্তার উপর ভিত্তি করে আদালতের সিদ্ধান্ত হতে পারেনা।  সিদ্ধান্ত নিতে হবে যুক্তির উপর ভিত্তি করে।  যুক্তি-প্রয়োগ হচ্ছে প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে একটি  সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া।  আদালতের আইনে,একবার যখন যুক্তি প্রয়োগ করে সাক্ষ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করে একটি মামলা উপস্থাপন করা হয়ে যায়, রায় ঘোষণা দেওয়ার সময় সেখানে আবেগ থাকতে পারে। 
তাই, সুস্থ সিদ্ধান্তে অবশ্যই যুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে যেটা ফলপ্রসূ করার সময় অনুভুতির আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে।  উপরোক্ত আলোচনায় আমরা জানলাম যে, মানুষ কিভাবে চিন্তা করে; এখন পবিত্র কুরআন থেকে নবী ইউসুফ (আঃ) এর গল্পের একটি অংশ পর্যবেক্ষণ করা যাক।  আমরা গল্পের ঐ অংশ উল্লেখ করছি যেখানে ইউসুফ (আঃ) সৃষ্টিকর্তার অনুপ্রেরণায় তাঁর নিজ ভাই বেনইয়ামিনের জন্য পরিকল্পনা করলেন যে কিভাবে তাঁকে নিজের সাথে রাখা যায়।  নিচের গল্পে কে কি ধরণের চিন্তা করলো তা পরীক্ষা করা যাক, অর্থাৎ ইউসুফ (আঃ) ও তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইদের নেওয়া সিদ্ধান্ত আবেগপূর্ণ ছিল, নাকি যুক্তিযুক্ত? যখন শাস্তির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হল, তারা নিজেদেরকে সৎ ও ন্যায়পরায়ন দেখানোর জন্য অহংকার ও আবেগে পরিপূর্ণ এক উত্তর দিলো, এতে তাদের যেকোন ভাই যে বিপদে পড়তে পারে, এটা সম্পর্কে কোন চিন্তাই করলোনা।   
"তারা(ভাইরা) বললঃ এর শাস্তি এই যে, যার মালামাল থেকে মাপন পাত্র পাওয়া যাবে, শাস্তিস্বরূপ সে দাসত্বে যাবে। আমরা অন্যায়কারীদের এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।" [১২.৭৫]
ইউসুফ ১০ জন বৈমাত্রেয় ভাইদের ব্যাগ অনুসন্ধান করলেন এবং শেষে বেনইয়ামিনের ঘোড়ার সাথে আটকানো ব্যাগ অনুসন্ধান করলেন। 
১২.৭৬ "অতঃপর ইউসুফ তাদের(বৈমাত্রেয় ভাইদের) ব্যাগ অনুসন্ধান শুরু করলেন আপন ভাই বেনইয়ামিনের ব্যাগ অনুসন্ধানের পূর্বে।  অবশেষে সেই মাপন পাত্র আপন ভাইয়ের ব্যাগের মধ্য থেকে বের করলেন। এমনিভাবে আমি ইউসুফের জন্য পরিকল্পনা করেছিলাম।  সে বাদশাহর আইনে আপন ভাইকে কখনও সাথে রাখতে পারত না,  আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত।  আমি যাকে ইচ্ছা (জ্ঞানে) উন্নীত করি এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে আছেন সর্বজ্ঞানী একজন।" 
আল্লাহ্‌র অনুপ্রেরণায় ইউসুফ (আঃ) তাঁর ভাই বেনইয়ামিনের ব্যাগে মাপন পাত্র গোপনে রেখেছিলেন যাতে সেই অজুহাতে আপন ভাইকে নিজের সাথে রেখে দিতে পারেন। বেনইয়ামিনের উপর দয়া দেখাতে গিয়ে তিনি এ কাজ করেছিলেন।  এখানে চিন্তার প্রক্রিয়া ছিল যুক্তিসম্পন্ন - কিভাবে বেনইয়ামিনকে তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইদের থেকে রক্ষা করা যায় - সৃষ্টিকর্তা হযরত ইউসুফ (আঃ) কে এই পরিকল্পনা  দিলেন।
১২.৭৭ "তারা বলতে লাগলঃ "যদি সে চুরি করে থাকে - তবে তার আরেক আপন ভাইও ইতিপূর্বে চুরি করেছিল।" তখন ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে গোপন করে রাখলেন এবং তাদেরকে জানালেন না।  তিনি মনে মনে বললেনঃ "তোমরা এই ব্যাপারে মন্দ ব্যাখ্যা করছো এবং আল্লাহ এই সম্বন্ধে সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখেন যা তোমরা বর্ণনা করছ!""
ভাইদের আবেগের তাৎক্ষনিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে দেখুন।  মাপন পাত্রটা বেনইয়ামিনের ব্যাগ থেকে বের করতে দেখে ভাইরা আবেগের বশবর্তী হয়ে বেনইয়ামিনের আপন মায়ের উপর দোষারোপ আরম্ভ করলো – বলল, বেনইয়ামিনের আপন ভাইও ইতিপূর্বে চুরি করেছে!  অপরপক্ষে ইউসুফ (আঃ) আবেগতাড়িত হয়ে বৈমাত্রেয় ভাইদের এই নিষ্ঠুর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে উদ্যত হলেন না।  তিনি যুক্তি দিয়ে চিন্তা করলেন যে আল্লাহ্‌ তো সব গোপন কথাই জানেন; তাই ভাবলেন যে, আবেগের আশ্রয় নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে ভাইদের কথার উত্তর দেওয়ার দরকার নেই।   
১২.৭৮ "তারা বলতে লাগলঃ "হে আযীয(ইউসুফের দিকে সম্বোধন করে যিনি এখন এই পদে অধিষ্ঠিত), তার পিতা আছেন, যিনি খুবই বৃদ্ধ (যিনি ছেলের জন্য দুঃখ করবেন), সুতরাং আপনি আমাদের একজনকে তার বদলে রেখে দিন; আমরা আপনাকে অনুগ্রহশীল ব্যক্তিদের একজন হিসেবে জানি।""
আবেগের আশ্রয় নিয়ে ভাইকে দোষারোপ করার পর বৈমাত্রেয় ভাইরা তাদের পিতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করলো-যে ঘটনাটি ছিল যুক্তিযুক্ত। 
এখন তারা ইউসুফ (আঃ) কে মানবীয় দিক থেকে(আবেগের অংশে) আবেদন করলো যে- আমরা জানি যে আপনি অনুগ্রহশীল ব্যক্তি।
১২.৭৯ "তিনি বললেনঃ "যার কাছে আমরা আমাদের চুরি যাওয়া জিনিস পেয়েছি, তাকে ছাড়া আর কাউকে গ্রেফতার করা আল্লাহর বিধান পরিপন্থী।  (যদি এটা করি) তাহলে তো আমরা নিশ্চয়ই অন্যায়কারী হয়ে যাব।"" 
কিভাবে একজন ব্যক্তিকে অন্য কারো অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা যাবে? – ইউসুফ(আঃ) যুক্তির সঙ্গে উত্তর দিলেন।  ১০ ভাই এর আবেদন ইউসুফ (আঃ) এর দেওয়া যুক্তির মোকাবেলায় টিকতে পারলোনা।
১২.৮০ "অতঃপর যখন তারা নিরাশ হয়ে গেল,  তখন তারা আড়ালে পরামর্শ করলো।  তাদের জ্যেষ্ঠ ভাই বললঃ তোমরা কি জানোনা যে, পিতা তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার নিয়েছেন এবং পূর্বে ইউসুফের ব্যাপারেও তোমরা অন্যায় করেছো?  অতএব, আমি তো কিছুতেই এদেশ ত্যাগ করব না, যে পর্যন্ত না পিতা আমাকে আদেশ দেন অথবা আল্লাহ আমার পক্ষে কোন ব্যবস্থা করে দেন-তিনিই সর্বোত্তম বিচারক।"
অনেক বছর আগে করা একই ধরণের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হবে এটা ভাইদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ভাই আর সহ্য করতে পারেনি।  এখানে যে তর্কবিতর্ক উপস্থাপিত হয়েছে তা যুক্তিসম্মত - তারা শপথ নিয়েছিল যে তারা বেনইয়ামিনের কোন ক্ষতি হতে দিবেনা।
১২.৮১ "তোমরা তোমাদের পিতার কাছে ফিরে যাও এবং বলঃ "হে পিতা! প্রকৃতই আপনার ছেলে চুরি করেছে, আমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছি যা আমরা জানি এবং আমরা তো অদৃষ্টকে বাধা দিতে পারিনা!""  যেহেতু তারা নির্ণয় করতে পারলো না যে, বেনইয়ামিনের এর ব্যাগে কিভাবে মাপন পাত্র পাওয়া গেলো ; তাই তাদেরকে এটাই সত্য বলে মেনে নিতে হল যে, বেনইয়ামিন চুরি করেছে।  পিতার সামনে অন্যদের সাক্ষী হিসাবে এনে বলল যে-   
১২.৮২ "জিজ্ঞেস করুন ঐ জনপদের লোকদেরকে যেখানে আমরা ছিলাম এবং ঐ কাফেলাদের যাদের সাথে আমরা এসেছি। তাহলে আপনি নিশ্চিত হবেন যে, আমরা সত্য বলছি।"
এখন বাবাকে সন্তুষ্ট করার জন্য, ভাইরা চাইলো যে - বেনইয়ামিন প্রকৃতপক্ষেই চুরি করেছে; তাদের এ দাবির সমর্থনে অন্যরা তাদের পিতার সামনে যুক্তি আর প্রমাণ উপস্থাপন করুক।  গল্প জুড়ে আমরা দেখতে পাই যে, ভাইরা তাদের এলোপাথাড়ি আবেগ ব্যবহার করে চিন্তা করার কারণে কিভাবে সমস্যায় পড়ে।  তবে দেখা যাচ্ছে যে, এপর্যন্ত ইউসুফ (আঃ) এর চিন্তাই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক কারণ আল্লাহর প্রতি তাঁর ভরসা ছিল সর্বাধিক।

nujhat.eng

Nujhat Afrin
Senior Lecturer
Department of English